হাদিস নং: ২৩৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن ابي مريم حدثنا ابو غسان قال حدثني ابو حازم عن سهل بن سعد قال اتي النبي صلى الله عليه وسلم بقدح فشرب منه وعن يمينه غلام اصغر القوم والاشياخ عن يساره فقال يا غلام اتاذن لي ان اعطيه الاشياخ قال ما كنت لاوثر بفضلي منك احدا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعطاه اياه
42/1. بَاب فِي الشُّرْبِ
৪২/১. পানি পান সম্পর্কে।
وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى ( وَجَعَلْنَا مِنْ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلاَ يُؤْمِنُونَ ) وَقَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ ( أَفَرَأَيْتُمْ الْمَاءَ الَّذِي تَشْرَبُونَ أَأَنْتُمْ أَنْزَلْتُمُوهُ مِنْ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنْزِلُونَ لَوْ نَشَاءُ جَعَلْنَاهُ أُجَاجًا فَلَوْلاَ تَشْكُرُونَ ) ﴿الأُجَاجُ﴾ الْمُرُّ ﴿الْمُزْنُ﴾ السَّحَابُ
মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর আমি প্রাণবান সবকিছু সৃষ্টি করলাম পানি হতে, তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?’’ (আম্বিয়া ৩০)। আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেছেন, ‘‘তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করেছ? তোমরাই কি তা মেঘ হতে নামিয়ে আন, না আমি তা বর্ষণ করি? আমি ইচ্ছা করলে তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?’’ (ওয়াক্বিয়াহ ৬৮-৭০)। কিছু লোকের মতে পানি খায়রাত করা ও ওসীয়াত করা জায়িয, তা বণ্টন করা হোক বা না হোক।﴿الأُجَاجُ﴾ লবণাক্ত ﴿الْمُزْنُ﴾ মেঘ।
وَمَنْ رَأَى صَدَقَةَ الْمَاءِ وَهِبَتَهُ وَوَصِيَّتَهُ جَائِزَةً مَقْسُومًا كَانَ أَوْ غَيْرَ مَقْسُومٍ وَقَالَ عُثْمَانُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ يَشْتَرِي بِئْرَ رُومَةَ فَيَكُونُ دَلْوُهُ فِيهَا كَدِلاَءِ الْمُسْلِمِينَ فَاشْتَرَاهَا عُثْمَانُ
কতক লোক মত প্রকাশ করেন যে, পানি বণ্টিত হোক বা না হোক তা সাদাকা, দান ও ওসীয়াত করা জায়িয। ‘উসমান (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রূমার কূপটি কে কিনবে? তারপর তাতে বালতি দ্বারা পানি তোলার অধিকার তার ততটুকু থাকবে, যতটুকু সাধারণ মুসলিমের থাকবে (অর্থাৎ কূপটি কিনে জনসাধারণের জন্য ওয়াক্ফ করে দিবে)। এ কথার পর উসমান (রাঃ) কূপটি কিনে নেন (এবং ওয়াকফ করে দেন)।
২৩৫১. সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একটি পিয়ালা আনা হল। তিনি তা হতে পান করলেন। তখন তাঁর ডান দিকে ছিল একজন বয়ঃকনিষ্ঠ বালক আর বয়স্ক লোকেরা ছিলেন তাঁর বাম দিকে। তিনি বললেন, হে বালক! তুমি কি আমাকে অবশিষ্ট (পানিটুকু) বয়স্কদেরকে দেয়ার অনুমতি দিবে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট থেকে ফাযীলাত পাওয়ার ব্যাপারে আমি আমার চেয়ে অন্য কাউকে প্রাধান্য দিব না। অতঃপর তিনি তা তাকে প্রদান করলেন। (২৩৬৬, ২৪৫১, ২৬০২, ২৬০৫, ৫৬২০, মুসলিম ৩৬/১৭, হাঃ ২০৩০, আহমাদ ২২৮৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৯৭)
৪২/১. পানি পান সম্পর্কে।
وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى ( وَجَعَلْنَا مِنْ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلاَ يُؤْمِنُونَ ) وَقَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ ( أَفَرَأَيْتُمْ الْمَاءَ الَّذِي تَشْرَبُونَ أَأَنْتُمْ أَنْزَلْتُمُوهُ مِنْ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنْزِلُونَ لَوْ نَشَاءُ جَعَلْنَاهُ أُجَاجًا فَلَوْلاَ تَشْكُرُونَ ) ﴿الأُجَاجُ﴾ الْمُرُّ ﴿الْمُزْنُ﴾ السَّحَابُ
মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর আমি প্রাণবান সবকিছু সৃষ্টি করলাম পানি হতে, তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?’’ (আম্বিয়া ৩০)। আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেছেন, ‘‘তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করেছ? তোমরাই কি তা মেঘ হতে নামিয়ে আন, না আমি তা বর্ষণ করি? আমি ইচ্ছা করলে তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?’’ (ওয়াক্বিয়াহ ৬৮-৭০)। কিছু লোকের মতে পানি খায়রাত করা ও ওসীয়াত করা জায়িয, তা বণ্টন করা হোক বা না হোক।﴿الأُجَاجُ﴾ লবণাক্ত ﴿الْمُزْنُ﴾ মেঘ।
وَمَنْ رَأَى صَدَقَةَ الْمَاءِ وَهِبَتَهُ وَوَصِيَّتَهُ جَائِزَةً مَقْسُومًا كَانَ أَوْ غَيْرَ مَقْسُومٍ وَقَالَ عُثْمَانُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ يَشْتَرِي بِئْرَ رُومَةَ فَيَكُونُ دَلْوُهُ فِيهَا كَدِلاَءِ الْمُسْلِمِينَ فَاشْتَرَاهَا عُثْمَانُ
কতক লোক মত প্রকাশ করেন যে, পানি বণ্টিত হোক বা না হোক তা সাদাকা, দান ও ওসীয়াত করা জায়িয। ‘উসমান (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রূমার কূপটি কে কিনবে? তারপর তাতে বালতি দ্বারা পানি তোলার অধিকার তার ততটুকু থাকবে, যতটুকু সাধারণ মুসলিমের থাকবে (অর্থাৎ কূপটি কিনে জনসাধারণের জন্য ওয়াক্ফ করে দিবে)। এ কথার পর উসমান (রাঃ) কূপটি কিনে নেন (এবং ওয়াকফ করে দেন)।
২৩৫১. সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একটি পিয়ালা আনা হল। তিনি তা হতে পান করলেন। তখন তাঁর ডান দিকে ছিল একজন বয়ঃকনিষ্ঠ বালক আর বয়স্ক লোকেরা ছিলেন তাঁর বাম দিকে। তিনি বললেন, হে বালক! তুমি কি আমাকে অবশিষ্ট (পানিটুকু) বয়স্কদেরকে দেয়ার অনুমতি দিবে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট থেকে ফাযীলাত পাওয়ার ব্যাপারে আমি আমার চেয়ে অন্য কাউকে প্রাধান্য দিব না। অতঃপর তিনি তা তাকে প্রদান করলেন। (২৩৬৬, ২৪৫১, ২৬০২, ২৬০৫, ৫৬২০, মুসলিম ৩৬/১৭, হাঃ ২০৩০, আহমাদ ২২৮৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৯৭)
হাদিস নং: ২৩৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال حدثني انس بن مالك انها حلبت لرسول الله صلى الله عليه وسلم شاة داجن وهي في دار انس بن مالك وشيب لبنها بماء من البىر التي في دار انس فاعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم القدح فشرب منه حتى اذا نزع القدح من فيه وعلى يساره ابو بكر وعن يمينه اعرابي فقال عمر وخاف ان يعطيه الاعرابي اعط ابا بكر يا رسول الله صلى الله عليه وسلم عندك فاعطاه الاعرابي الذي على يمينه ثم قال الايمن فالايمن
২৩৫২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য একটি বকরীর দুধ দোহন করা হল। তখন তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর ঘরে অবস্থান করছিলেন এবং সেই দুধের সঙ্গে আনাস ইবনু মালিকের বাড়ীর কূয়ার পানি মেশানো হল। তারপর পাত্রটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেয়া হল। তিনি তা হতে পান করলেন। পাত্রটি তাঁর মুখ হতে আলাদা করার পর তিনি দেখলেন যে, তাঁর বাঁ দিকে আবূ বকর ও ডান দিকে একজন বেদুঈন রয়েছে। পাত্রটি তিনি হয়ত বেদুঈনকে দিয়ে দেবেন এ আশঙ্কায় ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বকর (রাঃ) আপনারই পাশে, তাকে পাত্রটি দিন। তিনি বেদুঈনকে পাত্রটি দিলেন, যে তাঁর ডান পাশে ছিল। অতঃপর তিনি বললেন, ডান দিকের লোক বেশী হাক্বদার। (২৫৭১, ৫৬১২, ৫৬১৯, মুসলিম ৩৬/৭, হাঃ ২০২৯, আহমাদ ১২১২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৯৮)
হাদিস নং: ২৩৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا يمنع فضل الماء ليمنع به الكلا
لِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ يُمْنَعُ فَضْلُ الْمَاءِ
কেননা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে যেন কাউকে নিষেধ করা না হয়।
২৩৫৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘাস উৎপাদন হতে বিরত রাখার উদ্দেশে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি রুখে রাখা যাবে না। (২৩৫৪, ৬৯৬২, মুসলিম ২২/৮, হাঃ ১৫৬৬, আহমাদ ৮৩২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৯৯)
কেননা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে যেন কাউকে নিষেধ করা না হয়।
২৩৫৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘাস উৎপাদন হতে বিরত রাখার উদ্দেশে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি রুখে রাখা যাবে না। (২৩৫৪, ৬৯৬২, মুসলিম ২২/৮, হাঃ ১৫৬৬, আহমাদ ৮৩২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৯৯)
হাদিস নং: ২৩৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن ابن المسيب وابي سلمة عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا تمنعوا فضل الماء لتمنعوا به فضل الكلا
২৩৫৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অতিরিক্ত ঘাসে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশে অতিরিক্ত পানি রুখে রাখবে না। (২৩৫৩, মুসলিম ২২/৮, হাঃ ১৫৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০০)
হাদিস নং: ২৩৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمود اخبرنا عبيد الله عن اسراىيل عن ابي حصين عن ابي صالح عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم المعدن جبار والبىر جبار والعجماء جبار وفي الركاز الخمس
২৩৫৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খনি ও কূপে কাজ করা অবস্থায় অথবা জন্তু-জানোয়ারের আঘাতে মারা গেলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না এবং রিকায (খনিজ দ্রব্যে) পঞ্চমাংশ দিতে হবে। (১৪৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০১)
হাদিস নং: ২৩৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش عن شقيق عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من حلف على يمين يقتطع بها مال امرى مسلم هو عليها فاجر لقي الله وهو عليه غضبان فانزل الله تعالى ( ان الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا ) الاية فجاء الاشعث فقال ما حدثكم ابو عبد الرحمن في انزلت هذه الاية كانت لي بىر في ارض ابن عم لي فقال لي شهودك قلت ما لي شهود قال فيمينه قلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا يحلف فذكر النبي هذا الحديث فانزل الله ذلك تصديقا له
২৩৫৬-২৩৫৭. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলিমদের অর্থ সম্পদ (যা তার জিম্মায় আছে) আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা কসম খায়, সে আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেনঃ ‘‘যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে ---- এর শেষ পর্যন্ত’’- (আলে ‘ইমরান : ৭৭)। এরপর আশ‘আস (রাঃ) এসে বলেন, আবূ ‘আবদুর রহমান (রাঃ) তোমার নিকট যে হাদীস বর্ণনা করছিলেন (সে হাদীসে বর্ণিত) এ আয়াতটি তো আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমার চাচাতো ভাইয়ের জায়গায় আমার একটি কূপ ছিল। (এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে বিবাদ হওয়ায়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তোমার সাক্ষী পেশ কর। আমি বললাম, আমার সাক্ষী নেই। তিনি বললেন, তাহলে তাকে কসম খেতে হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কসম করবে। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীস বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ তা‘আলা তাকে সত্যায়িত করে এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (২৪১৬, ২৫১৫, ২৬৬৬, ২৬৬৯, ২৬৭৩, ২৬৭৬, ৪৫৪৯, ৬৬৫৯, ৬৬৭৬, ৭১৮৩, ৭৪৪৫, ২৩৫৩, ২৪১৭, ২৫১৬, ২৬৬৭, ২৬৭০, ২৬৭৭, ৪৫৫০, ৬৬৬০, ৬৬৭৭, ৭১৮৪, মুসলিম ১/৬১, হাঃ ১৩৮, আহমাদ ৩৫৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০২)
হাদিস নং: ২৩৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش عن شقيق عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من حلف على يمين يقتطع بها مال امرى مسلم هو عليها فاجر لقي الله وهو عليه غضبان فانزل الله تعالى ( ان الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا ) الاية فجاء الاشعث فقال ما حدثكم ابو عبد الرحمن في انزلت هذه الاية كانت لي بىر في ارض ابن عم لي فقال لي شهودك قلت ما لي شهود قال فيمينه قلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا يحلف فذكر النبي هذا الحديث فانزل الله ذلك تصديقا له
২৩৫৬-২৩৫৭. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলিমদের অর্থ সম্পদ (যা তার জিম্মায় আছে) আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা কসম খায়, সে আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেনঃ ‘‘যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে ---- এর শেষ পর্যন্ত’’- (আলে ‘ইমরান : ৭৭)। এরপর আশ‘আস (রাঃ) এসে বলেন, আবূ ‘আবদুর রহমান (রাঃ) তোমার নিকট যে হাদীস বর্ণনা করছিলেন (সে হাদীসে বর্ণিত) এ আয়াতটি তো আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমার চাচাতো ভাইয়ের জায়গায় আমার একটি কূপ ছিল। (এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে বিবাদ হওয়ায়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তোমার সাক্ষী পেশ কর। আমি বললাম, আমার সাক্ষী নেই। তিনি বললেন, তাহলে তাকে কসম খেতে হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কসম করবে। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীস বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ তা‘আলা তাকে সত্যায়িত করে এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (২৪১৬, ২৫১৫, ২৬৬৬, ২৬৬৯, ২৬৭৩, ২৬৭৬, ৪৫৪৯, ৬৬৫৯, ৬৬৭৬, ৭১৮৩, ৭৪৪৫, ২৩৫৩, ২৪১৭, ২৫১৬, ২৬৬৭, ২৬৭০, ২৬৭৭, ৪৫৫০, ৬৬৬০, ৬৬৭৭, ৭১৮৪, মুসলিম ১/৬১, হাঃ ১৩৮, আহমাদ ৩৫৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০২)
হাদিস নং: ২৩৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا عبد الواحد بن زياد عن الاعمش قال سمعت ابا صالح يقول سمعت ابا هريرة يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة لا ينظر الله اليهم يوم القيامة ولا يزكيهم ولهم عذاب اليم رجل كان له فضل ماء بالطريق فمنعه من ابن السبيل ورجل بايع اماما لا يبايعه الا لدنيا فان اعطاه منها رضي وان لم يعطه منها سخط ورجل اقام سلعته بعد العصر فقال والله الذي لا اله غيره لقد اعطيت بها كذا وكذا فصدقه رجل ثم قرا هذه الاية ( ان الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا )
২৩৫৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোকের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এক ব্যক্তি- যার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে, অথচ সে মুসাফিরকে তা দিতে অস্বীকার করে। অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে ইমামের হাতে একমাত্র দুনিয়ার স্বার্থে বায়‘আত হয়। যদি ইমাম তাকে কিছু দুনিয়াবী সুযোগ দেন, তাহলে সে খুশী হয়, আর যদি না দেন তবে সে অসন্তুষ্ট হয়। অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে আসরের সালাত আদায়ের পর তার জিনিসপত্র (বিক্রয়ের উদ্দেশে) তুলে ধরে আর বলে যে, আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া অন্য কোন মাবূদ নেই, আমার এই দ্রব্যের মূল্য এত এত দিতে আগ্রহ করা হয়েছে। (কিন্তু আমি বিক্রি করিনি) এতে এক ব্যক্তি তাকে বিশ্বাস করে (তা ক্রয় করে নেয়)। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন:
(إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً)
‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে’’- (আলে ইমরান ৭৭)। (২৩৬৯,৭২১২, ২৬৭২,৭৪৪৬, মুসলিম ৪৩/৩৬, হাঃ ২৩৫৭, আহমাদ ১৪১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০৩)
(إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً)
‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে’’- (আলে ইমরান ৭৭)। (২৩৬৯,৭২১২, ২৬৭২,৭৪৪৬, মুসলিম ৪৩/৩৬, হাঃ ২৩৫৭, আহমাদ ১৪১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০৩)
হাদিস নং: ২৩৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف حدثنا الليث قال حدثني ابن شهاب عن عروة عن عبد الله بن الزبير انه حدثه ان رجلا من الانصار خاصم الزبير عند النبي صلى الله عليه وسلم في شراج الحرة التي يسقون بها النخل فقال الانصاري سرح الماء يمر فابى عليه فاختصما عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للزبير اسق يا زبير ثم ارسل الماء الى جارك فغضب الانصاري فقال ان كان ابن عمتك فتلون وجه رسول الله ثم قال اسق يا زبير ثم احبس الماء حتى يرجع الى الجدر فقال الزبير والله اني لاحسب هذه الاية نزلت في ذلك ( فلا وربك لا يومنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم )
২৩৫৯-২৩৬০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আনসারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে হাররার নালার পানির ব্যাপারে ঝগড়া করল যে পানি দ্বারা খেজুর বাগান সিঞ্চন করত। আনসারী বলল, নালার পানি ছেড়ে দিন, যাতে তা (প্রবাহিত থাকে) কিন্তু যুবাইর (রাঃ) তা দিতে অস্বীকার করেন। তারা দু’জনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর (রাঃ)-কে বললেন, হে যুবাইর! তোমার যমীনে (প্রথমে) সিঞ্চন করে নাও। এরপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দাও। এতে আনসারী অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেল। এরপর তিনি বললেন, হে যুবাইর! তুমি নিজের জমি সিঞ্চন কর। এরপর পানি আটকিয়ে রাখ, যাতে তা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে। যুবাইর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমার মনে হয়, এ আয়াতটি এ সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ ‘‘তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু’মিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর পত্যার্পণ না করে’’- (আন-নিসাঃ ৬৫)। (২৩৬১, ২৩৬২, ২৭০৮, ৪৫৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০৪)
হাদিস নং: ২৩৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف حدثنا الليث قال حدثني ابن شهاب عن عروة عن عبد الله بن الزبير انه حدثه ان رجلا من الانصار خاصم الزبير عند النبي صلى الله عليه وسلم في شراج الحرة التي يسقون بها النخل فقال الانصاري سرح الماء يمر فابى عليه فاختصما عند النبي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للزبير اسق يا زبير ثم ارسل الماء الى جارك فغضب الانصاري فقال ان كان ابن عمتك فتلون وجه رسول الله ثم قال اسق يا زبير ثم احبس الماء حتى يرجع الى الجدر فقال الزبير والله اني لا×حسب هذه الاية نزلت في ذلك ( فلا وربك لا يومنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم )
২৩৫৯-২৩৬০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আনসারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে হাররার নালার পানির ব্যাপারে ঝগড়া করল যে পানি দ্বারা খেজুর বাগান সিঞ্চন করত। আনসারী বলল, নালার পানি ছেড়ে দিন, যাতে তা (প্রবাহিত থাকে) কিন্তু যুবাইর (রাঃ) তা দিতে অস্বীকার করেন। তারা দু’জনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর (রাঃ)-কে বললেন, হে যুবাইর! তোমার যমীনে (প্রথমে) সিঞ্চন করে নাও। এরপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দাও। এতে আনসারী অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেল। এরপর তিনি বললেন, হে যুবাইর! তুমি নিজের জমি সিঞ্চন কর। এরপর পানি আটকিয়ে রাখ, যাতে তা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে। যুবাইর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমার মনে হয়, এ আয়াতটি এ সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ ‘‘তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু’মিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর পত্যার্পণ না করে’’- (আন-নিসাঃ ৬৫)। (২৩৬১, ২৩৬২, ২৭০৮, ৪৫৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০৪)
হাদিস নং: ২৩৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان اخبرنا عبد الله اخبرنا معمر عن الزهري عن عروة قال خاصم الزبير رجل من الانصار فقال النبي صلى الله عليه وسلم يا زبير اسق ثم ارسل فقال الانصاري انه ابن عمتك فقال عليه السلام اسق يا زبير ثم يبلغ الماء الجدر ثم امسك فقال الزبير فاحسب هذه الاية نزلت في ذلك ( فلا وربك لا يومنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم )
২৩৬১. ‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুবাইর (রাঃ) এক আনসারীর সঙ্গে ঝগড়া করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে যুবাইর! জমিতে পানি সেচের পর তা ছেড়ে দাও। এতে আনসারী বলল, সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। এ কথা শুনে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে যুবাইর! পানি বাঁধে পৌঁছা পর্যন্ত সেচ দিতে থাক। তারপর বন্ধ করে দাও। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আমার ধারণা এ আয়াতটি এ সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ ‘‘তোমার রবের কসম, তারা মু’মিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার-ভার আপনার উপর অর্পণ না করে’’- (আন-নিসা ৬৫)। (২৩৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০৫)
হাদিস নং: ২৩৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد هو ابن سلام اخبرنا مخلد بن يزيد الحراني قال اخبرني ابن جريج قال حدثني ابن شهاب عن عروة بن الزبير انه حدثه ان رجلا من الانصار خاصم الزبير في شراج من الحرة يسقي بها النخل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اسق يا زبير فامره بالمعروف ثم ارسل الى جارك فقال الانصاري ان كان ابن عمتك فتلون وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال اسق ثم احبس يرجع الماء الى الجدر واستوعى له حقه فقال الزبير والله ان هذه الاية انزلت في ذلك ( فلا وربك لا يومنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ) قال لي ابن شهاب فقدرت الانصار والناس قول النبي صلى الله عليه وسلم اسق ثم احبس حتى يرجع الى الجدر وكان ذلك الى الكعبين
২৩৬২. ‘উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন আনসারী হার্রার নালার পানি নিয়ে যুবাইরের সাথে ঝগড়া করল, যে পানি দিয়ে তিনি খেজুর বাগান সেচ দিতেন। এ বিষয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে যুবাইর! সেচ দিতে থাক। তারপর নিয়ম-নীতি অনুযায়ী তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন, তারপর তা তোমার প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। এতে আনসারী বলল, সে আপনার ফুফাতো ভাই তাই। এ কথায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন, সেচ দাও। পানি ক্ষেতের বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে গেলে বন্ধ করে দাও। যুবাইরকে তিনি তার পুরা হক দিলেন। যুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, এ আয়াত এ সম্পর্কে নাযিল হয়ঃ ‘‘তোমার প্রতিপালকের কসম, তারা মু’মিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার-ভার আপনার উপর অর্পণ না করে’’। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু শিহাবের বর্ণনা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ কথা ‘পানি নেয়ার পর বাঁধ অবধি পৌঁছার পর তা বন্ধ রাখ’। আনসার এবং অন্যান্য লোকেরা এর পরিমাণ করে দেখেছেন যে, তা টাখনু পর্যন্ত পৌঁছে। (২৩৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০৬)
হাদিস নং: ২৩৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن سمي عن ابي صالح عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينا رجل يمشي فاشتد عليه العطش فنزل بىرا فشرب منها ثم خرج فاذا هو بكلب يلهث ياكل الثرى من العطش فقال لقد بلغ هذا مثل الذي بلغ بي فملاخفه ثم امسكه بفيه ثم رقي فسقى الكلب فشكر الله له فغفر له قالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم وان لنا في البهاىم اجرا قال في كل كبد رطبة اجر تابعه حماد بن سلمة والربيع بن مسلم عن محمد بن زياد
২৩৬৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একজন লোক রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে তার ভীষণ পিপাসা লাগল। সে কূপে নেমে পানি পান করল। এরপর সে বের হয়ে দেখতে পেল যে, একটা কুকুর হাঁপাচ্ছে এবং পিপাসায় কাতর হয়ে মাটি চাটছে। সে ভাবল, কুকুরটারও আমার মতো পিপাসা লেগেছে। সে কূপের মধ্যে নামল এবং নিজের মোজা ভরে পানি নিয়ে মুখ দিয়ে সেটি ধরে উপরে উঠে এসে কুকুরটিকে পানি পান করাল। আল্লাহ তা‘আলা তার আমল কবূল করলেন এবং আল্লাহ তার গোনাহ মাফ করে দেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! চতুষ্পদ জন্তুর উপকার করলেও কি আমাদের সাওয়াব হবে? তিনি বললেন, প্রত্যেক প্রাণীর উপকার করাতেই পুণ্য রয়েছে। (১৭৩, মুসলিম ৩৯/৪১, হাঃ ২২৪৪, আহমাদ ৮৮৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০৭)
হাদিস নং: ২৩৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي مريم حدثنا نافع بن عمر عن ابن ابي مليكة عن اسماء بنت ابي بكر ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الكسوف فقال دنت مني النار حتى قلت اي رب وانا معهم فاذا امراة حسبت انه قال تخدشها هرة قال ما شان هذه قالوا حبستها حتى ماتت جوعا
২৩৬৪. আসমা বিনতু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য গ্রহণের সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেন, জাহান্নাম আমার নিকটবর্তী করা হলে আমি বললাম, হে রব! আমিও কি এই জাহান্নামীর সাথী হব? এমতাবস্থায় একজন মহিলা আমার নযরে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা, তিনি বলেছেন, বিড়াল তাকে (মহিলা খামছাচ্ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ মহিলার কী হল? ফেরেশতারা জবাব দিলেন, সে একটি বিড়াল বেঁধে রেখেছিল, যার কারণে বিড়ালটি ক্ষুধায় মারা যায়। (৭৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০৮)
হাদিস নং: ২৩৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل قال حدثني مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال عذبت امراة في هرة حبستها حتى ماتت جوعا فدخلت فيها النار قال فقال والله اعلم لا انت اطعمتها ولا سقيتها حين حبستيها ولا انت ارسلتها فاكلت من خشاش الارض
২৩৬৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেয়া হয়। সে বিড়ালটি বেঁধে রেখেছিল, অবশেষে বিড়ালটি ক্ষুধায় মারা যায়। এ কারণে মহিলা জাহান্নামে প্রবেশ করল। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] বলেন, আল্লাহ ভালো জানেন, বাঁধা থাকাকালীন তুমি তাকে না খেতে দিয়েছিলে, না পান করতে দিয়েছিলে এবং না তুমি তাকে ছেড়ে দিয়েছিলে, তা হলে সে জমিনের পোকা-কামড় খেয়ে বেঁচে থাকত। (৩৩১৮, ৩৪৮২, মুসলিম ৩৯/৪০, হাঃ ২২৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২০৯)
হাদিস নং: ২৩৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة حدثنا عبد العزيز عن ابي حازم عن سهل بن سعد قال اتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بقدح فشرب وعن يمينه غلام هو احدث القوم والاشياخ عن يساره قال يا غلام اتاذن لي ان اعطي الاشياخ فقال ما كنت لاوثر بنصيبي منك احدا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعطاه اياه
২৩৬৬. সাহল ইবনু সা‘দ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একটি পানির পেয়ালা আনা হল। তিনি তা হতে পানি পান করলেন। তাঁর ডানদিকে একজন বালক ছিল, সে ছিল লোকদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়স্ক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ লোকেরা তাঁর বাঁ দিকে ছিল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে বৎস! তুমি কি আমাকে জ্যেষ্ঠদের এটি দিতে অনুমতি দিবে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে নিজের উপর কাউকে প্রাধান্য দিতে চাই না। এরপর তিনি তাকেই সেটি দিলেন। (২৩৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২১০)
হাদিস নং: ২৩৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن محمد بن زياد سمعت ابا هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال والذي نفسي بيده لاذودن رجالا عن حوضي كما تذاد الغريبة من الابل عن الحوض
২৩৬৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি নিশ্চয়ই (কিয়ামতের দিন) আমার হাউজ (কাউসার) হতে কিছু লোকদেরকে এমনভাবে তাড়াব, যেমন অপরিচিত উট হাউজ হতে তাড়ানো হয়। (মুসলিম ৪৩/৯, হাঃ ২৩০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২১১)
হাদিস নং: ২৩৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد اخبرنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن ايوب وكثير بن كثير يزيد احدهما على الاخر عن سعيد بن جبير قال قال ابن عباس قال النبي صلى الله عليه وسلم يرحم الله ام اسماعيل لو تركت زمزم او قال لو لم تغرف من الماء لكانت عينا معينا واقبل جرهم فقالوا اتاذنين ان ننزل عندك قالت نعم ولا حق لكم في الماء قالوا نعم
২৩৬৮. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসমাঈল (আঃ)-এর মা হাজিরা (আ.)-এর উপর আল্লাহ রহম করুন। কেননা, যদি তিনি যামযামকে স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দিতেন অথবা তিনি বলেছেন, যদি তা হতে অঞ্চলে পানি না নিতেন, তা হলে তা একটি প্রবাহিত ঝরণায় পরিণত হত। জুরহাম গোত্র তাঁর নিকট এসে বলল, আপনি কি আমাদেরকে আপনার নিকট অবস্থান করার অনুমতি দিবেন? তিনি (হাজিরা) বললেন, হ্যাঁ। তবে পানির উপর তোমাদের কোন অধিকার থাকবে না। তারা বলল, ঠিক আছে। (৩৩৬২, ৩৩৬৩, ৩৩৬৪, ৩৩৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২১২)
হাদিস নং: ২৩৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا سفيان عن عمرو عن ابي صالح السمان عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ثلاثة لا يكلمهم الله يوم القيامة ولا ينظر اليهم رجل حلف على سلعة لقد اعطى بها اكثر مما اعطى وهو كاذب ورجل حلف على يمين كاذبة بعد العصر ليقتطع بها مال رجل مسلم ورجل منع فضل ماء فيقول الله اليوم امنعك فضلي كما منعت فضل ما لم تعمل يداك قال علي حدثنا سفيان غير مرة عن عمرو سمع ابا صالح يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم
২৩৬৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন শ্রেণীর লোকের সাথে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি তাকাবেনও না। (এক) যে ব্যক্তি কোন মাল সামানের ব্যাপারে মিথ্যা কসম খেয়ে বলে যে, এর দাম এর চেয়ে বেশী বলেছিল কিন্তু তা সত্ত্বেও সে তা বিক্রি করেনি। (দুই) যে ব্যক্তি আসরের সালাতের পর একজন মুসলিমের মাল-সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা কসম করে। (তিন) যে ব্যক্তি তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি মানুষকে দেয় না। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন (কিয়ামতের দিন) আজ আমি আমার অনুগ্রহ হতে তোমাকে বঞ্চিত রাখব যেরূপ তুমি তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি হতে বঞ্চিত রেখেছিলে অথচ তা তোমার হাতের তৈরী নয়। ‘আলী (রহ.) আর সালিহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তিনি হাদীসের সনদটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। (২৩৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২১৩)
হাদিস নং: ২৩৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن يونس عن ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة عن ابن عباس ان الصعب بن جثامة قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا حمى الا لله ولرسوله يحيى وقال بلغنا ان النبي صلى الله عليه وسلم حمى النقيع وان عمر حمى السرف والربذة
২৩৭০. সা‘ব ইবনু জাসসামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, চারণভূমি সংরক্ষিত করা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া আর কারো অধিকারে নেই। তিনি (রাবী) বলেন, আমাদের নিকট রিওয়ায়াত পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাকী‘র চারণভূমি (নিজের জন্য) সংরক্ষিত করেছিলেন, আর ‘উমার (রাঃ) সারাফ ও রাবাযার চারণভূমি সংরক্ষণ করেছিলেন। (৩০১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২১৪)