হাদিস নং: ২৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا يوسف بن عيسى، قال اخبرنا الفضل بن موسى، قال اخبرنا الاعمش، عن سالم، عن كريب، مولى ابن عباس عن ابن عباس، عن ميمونة، قالت وضع رسول الله صلى الله عليه وسلم وضوءا لجنابة فاكفا بيمينه على شماله مرتين، او ثلاثا، ثم غسل فرجه، ثم ضرب يده بالارض ـ او الحاىط ـ مرتين او ثلاثا، ثم مضمض واستنشق، وغسل وجهه وذراعيه، ثم افاض على راسه الماء، ثم غسل جسده، ثم تنحى فغسل رجليه. قالت فاتيته بخرقة، فلم يردها، فجعل ينفض بيده.
২৭৪. মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাতের গোসলের জন্য পানি রাখলেন। তারপর দু’বার বা তিনবার ডান হাত দিয়ে বাম হাতের উপর পানি ঢাললেন এবং তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। তারপর তাঁর হাত মাটিতে বা দেয়ালে দু’বার বা তিনবার ঘষলেন। পরে তিনি কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং চেহারা ও দু’হাত ধৌত করলেন। তারপর তাঁর মাথায় পানি ঢাললেন এবং তাঁর শরীর ধুলেন। অতঃপর একটু সরে গিয়ে তাঁর দু’ পা ধৌত করলেন। মাইমূনাহ (রাযি.) বলেনঃ অতঃপর আমি একখন্ড কাপড় দিলে তিনি তা নিলেন না, বরং নিজ হাতে পানি ঝেড়ে ফেলতে থাকলেন। (২৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭১)
হাদিস নং: ২৭৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، قال حدثنا عثمان بن عمر، قال اخبرنا يونس، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال اقيمت الصلاة، وعدلت الصفوف قياما، فخرج الينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما قام في مصلاه ذكر انه جنب فقال لنا : " مكانكم ". ثم رجع فاغتسل، ثم خرج الينا وراسه يقطر، فكبر فصلينا معه. تابعه عبد الاعلى عن معمر عن الزهري. ورواه الاوزاعي عن الزهري
২৭৫. আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলে সবাই দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করছিলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে বেরিয়ে আসলেন। তিনি মুসাল্লায় দাঁড়ালে তাঁর মনে হলো যে, তিনি জানাবাত অবস্থায় আছেন। তখন তিনি আমাদের বললেনঃ স্ব স্ব স্থানে দাঁড়িয়ে থাক। তিনি ফিরে গিয়ে গোসল করে আবার আমাদের সামনে আসলেন এবং তাঁর মাথা হতে পানি ঝরছিল। তিনি তাকবীর (তাহরীমাহ) বাঁধলেন, আর আমরাও তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭২)
’আবদুল আ’লা (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে এবং আওযা’ঈ (রহ.)-ও যুহরী (রহ.) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (৬৩৯, ৬৪০; মুসলিম ৫/২৯, হাঃ ৬০৫, আহমাদ ১০৭২৪)
’আবদুল আ’লা (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে এবং আওযা’ঈ (রহ.)-ও যুহরী (রহ.) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (৬৩৯, ৬৪০; মুসলিম ৫/২৯, হাঃ ৬০৫, আহমাদ ১০৭২৪)
হাদিস নং: ২৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان، قال اخبرنا ابو حمزة، قال سمعت الاعمش، عن سالم، عن كريب، عن ابن عباس، قال قالت ميمونة وضعت للنبي صلى الله عليه وسلم غسلا، فسترته بثوب، وصب على يديه فغسلهما، ثم صب بيمينه على شماله، فغسل فرجه، فضرب بيده الارض فمسحها، ثم غسلها فمضمض، واستنشق، وغسل وجهه وذراعيه، ثم صب على راسه، وافاض على جسده، ثم تنحى فغسل قدميه، فناولته ثوبا فلم ياخذه، فانطلق وهو ينفض يديه.
২৭৬. মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম এবং কাপড় দিয়ে পর্দা করে দিলাম। তিনি দু’হাতের উপর পানি ঢেলে উভয় হাত ধুয়ে নিলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। পরে হাতে মাটি লাগিয়ে ঘষে নিলেন এবং ধুয়ে ফেললেন। অতঃপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, চেহারা ও দু’ হাত (কনুই পর্যন্ত) ধৌত করলেন। তারপর মাথায় পানি ঢাললেন ও সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছালেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর আমি তাঁকে একটা কাপড় দিলাম কিন্তু তা নিলেন না। তিনি দু‘হাত ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলেন। (২৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭৩)
হাদিস নং: ২৭৭
সহিহ (Sahih)
دثنا خلاد بن يحيى، قال حدثنا ابراهيم بن نافع، عن الحسن بن مسلم، عن صفية بنت شيبة، عن عاىشة، قالت كنا اذا اصابت احدانا جنابة، اخذت بيديها ثلاثا فوق راسها، ثم تاخذ بيدها على شقها الايمن، وبيدها الاخرى على شقها الايسر.
২৭৭. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের কারও জানাবাতের গোসলের প্রয়োজন হলে সে দু’হাতে পানি নিয়ে তিনবার মাথায় ঢালত। পরে হাতে পানি নিয়ে ডান পাশে তিনবার এবং আবার অপর হাতে পানি নিয়ে বাম পাশে তিনবার ঢালত। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৭৪)
হাদিস নং: ২৭৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن نصر، قال حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن همام بن منبه، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " كانت بنو اسراىيل يغتسلون عراة، ينظر بعضهم الى بعض، وكان موسى يغتسل وحده، فقالوا والله ما يمنع موسى ان يغتسل معنا الا انه ادر، فذهب مرة يغتسل، فوضع ثوبه على حجر، ففر الحجر بثوبه، فخرج موسى في اثره يقول ثوبي يا حجر. حتى نظرت بنو اسراىيل الى موسى، فقالوا والله ما بموسى من باس. واخذ ثوبه، فطفق بالحجر ضربا ". فقال ابو هريرة والله انه لندب بالحجر ستة او سبعة ضربا بالحجر.
২৭৮। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বনী ইসরাঈলের লোকেরা নগ্ন হয়ে একে অপরকে দেখা অবস্থায় গোসল করতো। কিন্তু মূসা (‘আঃ) একাকী গোসল করতেন। এতে বনী ইসরাঈলের লোকেরা বলাবলি করছিল, আল্লাহর কসম, মূসা (‘আঃ) ‘কোষবৃদ্ধি’ রোগের কারণেই আমাদের সাথে গোসল করেন না। একবার মূসা (‘আঃ) একটা পাথরের উপর কাপড় রেখে গোসল করছিলেন। পাথরটা তাঁর কাপড় নিয়ে পালাতে লাগল। তখন মূসা (‘আঃ) “পাথর! আমার কাপড় দাও,” “পাথর! আমার কাপড় দাও”, বলে পেছনে পেছনে ছুটলেন। এদিকে বাণী ইসরাঈল মূসার দিকে তাকাল। তখন তারা বলল, আল্লাহর কসম মূসার কোন রোগ নেই। মূসা (‘আঃ) পাথর থেকে কাপড় নিয়ে পরলেন এবং পাথরটাকে পিটাতে লাগলেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, পাথরটিতে ছয় কিংবা সাতটা পিটুনীর দাগ পড়ে গেল।
নোট:
وَقَالَ بَهْزٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ مِنَ النَّاسِ».
বাহায (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, লজ্জা করার ব্যাপারে মানুষের চেয়ে আল্লাহ্ তা’আলাই হকদার।
وَقَالَ بَهْزٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ مِنَ النَّاسِ».
বাহায (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, লজ্জা করার ব্যাপারে মানুষের চেয়ে আল্লাহ্ তা’আলাই হকদার।
হাদিস নং: ২৭৯
সহিহ (Sahih)
وعن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " بينا ايوب يغتسل عريانا فخر عليه جراد من ذهب، فجعل ايوب يحتثي في ثوبه، فناداه ربه يا ايوب، الم اكن اغنيتك عما ترى قال بلى وعزتك ولكن لا غنى بي عن بركتك ". ورواه ابراهيم عن موسى بن عقبة عن صفوان عن عطاء بن يسار عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " بينا ايوب يغتسل عريانا
২৭৯। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি আরো বলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক সময় আইয়ুব (‘আঃ) বিবস্ত্রাবস্থায় গোসল করছিলেন। তখন তাঁর উপর সোনার পঙ্গপাল বর্ষিত হচ্ছিল। আইয়ুব (‘আঃ) তাঁর কাপড়ে সেগুলো কুড়িয়ে নিচ্ছিলেন। তখন তাঁর রব তাঁকে বললেনঃ হে আইয়ুব! আমি কি তোমাকে এগুলো হতে অমুখাপেক্ষী করিনি? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, আপনার ইয্যতের কসম। অবশ্যই করেছেন। তবে আমি আপনার বরকত হতে বেনিয়ায নই। এভাবে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ একদা আইয়ুব (‘আঃ) বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করেছিলেন।
হাদিস নং: ২৮০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن ابي النضر، مولى عمر بن عبيد الله ان ابا مرة، مولى ام هانى بنت ابي طالب اخبره انه، سمع ام هانى بنت ابي طالب، تقول ذهبت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفتح، فوجدته يغتسل وفاطمة تستره فقال " من هذه ". فقلت انا ام هانى.
২৮০। উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি মক্কা বিজয়ের বছর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট গিয়ে তাঁকে গোসলরত অবস্থায় দেখলাম, ফাতিমাহ (রাঃ) তাঁকে পর্দা করে রেখেছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন ইনি কে? আমি বললামঃ আমি উম্মু হানী।
হাদিস নং: ২৮১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان، قال اخبرنا عبد الله، قال اخبرنا سفيان، عن الاعمش، عن سالم بن ابي الجعد، عن كريب، عن ابن عباس، عن ميمونة، قالت سترت النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وهو يغتسل من الجنابة، فغسل يديه ثم صب بيمينه على شماله، فغسل فرجه، وما اصابه، ثم مسح بيده على الحاىط او الارض، ثم توضا وضوءه للصلاة، غير رجليه، ثم افاض على جسده الماء، ثم تنحى فغسل قدميه. تابعه ابو عوانة وابن فضيل في الستر.
২৮১। মাইমূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য পর্দা করেছিলাম আর তিনি জানাবাতের গোসল করছিলেন। তিনি দু’হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি নিয়ে লজ্জাস্থান এবং যেখানে কিছু লেগেছিল তা ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে বা দেয়ালে হাত ঘষলেন এবং দু’পা ছাড়া সালাতের উযূর মতই উযূ করলেন। তারপর তাঁর সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছালেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুলেন। আবূ ’আওয়ানাহ (রহঃ) ও [سِتَرَ] (পর্দা করা) এর ব্যাপারটি এই হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ২৮২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن زينب بنت ابي سلمة، عن ام سلمة ام المومنين، انها قالت جاءت ام سليم امراة ابي طلحة الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله، ان الله لا يستحيي من الحق، هل على المراة من غسل اذا هي احتلمت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " نعم اذا رات الماء
২৮২। উম্মুল মু‘মিনীন উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আবূ তালহা (রাঃ) এর স্ত্রী উম্মু সুলায়ম (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর খিদমাতে এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্ তা‘আলা হকের ব্যাপারে লজ্জা করেন না। স্ত্রীলোকের ইহ্তিলাম (স্বপ্নদোষ) হলে কি ফরয গোসল করবে? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হাঁ, যদি তারা বীর্য দেখে।
হাদিস নং: ২৮৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، قال حدثنا يحيى، قال حدثنا حميد، قال حدثنا بكر، عن ابي رافع، عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لقيه في بعض طريق المدينة وهو جنب، فانخنست منه، فذهب فاغتسل، ثم جاء فقال " اين كنت يا ابا هريرة ". قال كنت جنبا، فكرهت ان اجالسك وانا على غير طهارة. فقال " سبحان الله، ان المومن لا ينجس
২৮৩। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ তাঁর সাথে মদ্বীনার কোন এক পথে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দেখা হলো। আবূ হুরায়রা (রাঃ) তখন জানাবাত অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলেন, আমি নিজেকে অপবিত্র মনে করে সরে পড়লাম। পরে আবূ হুরায়রা (রাঃ) গোসল করে এলেন। পুনরায় সাক্ষাৎ হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ ওহে আবূ হুরাইরা! কোথায় ছিলে? আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ আমি জানাবাতের অবস্থায় আপনার সঙ্গে বসা সমীচীন মনে করিনি। তিনি বললেনঃ সুবহানাল্লাহ্! মু’মিন অপবিত্র হয় না।
হাদিস নং: ২৮৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الاعلى بن حماد، قال حدثنا يزيد بن زريع، قال حدثنا سعيد، عن قتادة، ان انس بن مالك، حدثهم ان نبي الله صلى الله عليه وسلم كان يطوف على نساىه في الليلة الواحدة، وله يومىذ تسع نسوة.
وَقَالَ عَطَاءٌ يَحْتَجِمُ الْجُنُبُ وَيُقَلِّمُ أَظْفَارَهُ وَيَحْلِقُ رَأْسَهُ وَإِنْ لَمْ يَتَوَضَّأْ.
’আত্বা (রহ.) বলেছেন, অপবিত্র ব্যক্তি উযূ না করেও শিঙ্গা লাগাতে, নখ কাটতে এবং মাথা মুন্ডন করতে পারে।
২৮৪। আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই রাতে পর্যায়ক্রমে তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হতেন। তখন তাঁর নয়জন স্ত্রী ছিলেন।
’আত্বা (রহ.) বলেছেন, অপবিত্র ব্যক্তি উযূ না করেও শিঙ্গা লাগাতে, নখ কাটতে এবং মাথা মুন্ডন করতে পারে।
২৮৪। আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই রাতে পর্যায়ক্রমে তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হতেন। তখন তাঁর নয়জন স্ত্রী ছিলেন।
হাদিস নং: ২৮৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عياش، قال حدثنا عبد الاعلى، حدثنا حميد، عن بكر، عن ابي رافع، عن ابي هريرة، قال لقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا جنب، فاخذ بيدي، فمشيت معه حتى قعد فانسللت، فاتيت الرحل، فاغتسلت ثم جىت وهو قاعد فقال " اين كنت يا ابا هر " فقلت له. فقال " سبحان الله يا ابا هر ان المومن لا ينجس ".
২৮৫। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমার সাথে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাক্ষাৎ হলো, তখন আমি জুনুবী ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন, আমি তাঁর সাথে চললাম। এক স্থানে তিনি বসে পড়লেন। তখন আমি সরে পড়ে বাসস্থানে এসে গোসল করলাম। আবার তাঁর নিকট গিয়ে তাঁকে বসা অবস্থায় পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন আবূ হুরায়রা! কোথায় ছিলে? আমি তাঁকে (ঘটনা) বললাম। তখন তিনি বললেনঃ ‘সুবহানাল্লাহ্! মু’মিন অপবিত্র হয় না’।
হাদিস নং: ২৮৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا هشام، وشيبان، عن يحيى، عن ابي سلمة، قال سالت عاىشة اكان النبي صلى الله عليه وسلم يرقد وهو جنب قالت نعم ويتوضا.
২৮৬। আবূ সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি ‘আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতেন? তিনি বললেনঃ হাঁ, তবে তিনি উযূ করে নিতেন।
হাদিস নং: ২৮৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، قال حدثنا الليث، عن نافع، عن ابن عمر، ان عمر بن الخطاب، سال رسول الله صلى الله عليه وسلم ايرقد احدنا وهو جنب قال " نعم اذا توضا احدكم فليرقد وهو جنب ".
২৮৭। উমার ইব্নুল-খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাদের কেউ জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতে পারবে কি? তিনি বললেনঃ হাঁ, উযূ করে নিয়ে জানাবাতের অবস্থায়ও ঘুমাতে পারে।
হাদিস নং: ২৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير، قال حدثنا الليث، عن عبيد الله بن ابي جعفر، عن محمد بن عبد الرحمن، عن عروة، عن عاىشة، قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اذا اراد ان ينام وهو جنب، غسل فرجه، وتوضا للصلاة.
২৮৮। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন জানাবাতের অবস্থায় ঘুমাতে ইচ্ছা করতেন তখন তিনি লজ্জাস্থান ধুয়ে সালাতের উযূর মত উযূ করতেন।
হাদিস নং: ২৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، قال حدثنا جويرية، عن نافع، عن عبد الله، قال استفتى عمر النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اينام احدنا وهو جنب قال " نعم، اذا توضا
২৮৯। আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ ‘উমার (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমাদের কেউ জুনুবী অবস্থায় ঘুমাতে পারবে কি? তিনি বললেনঃ হাঁ, যদি উযূ করে নেয়।
হাদিস নং: ২৯০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، قال اخبرنا مالك، عن عبد الله بن دينار، عن عبد الله بن عمر، انه قال ذكر عمر بن الخطاب لرسول الله صلى الله عليه وسلم انه تصيبه الجنابة من الليل، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " توضا واغسل ذكرك ثم نم ".
২৯০। আবদুল্লাহ ইব্নু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ উমর ইব্নুল খাত্তাব (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, রাতে কোন সময় তাঁর গোসল ফরয হয় (তখন কী করতে হবে?) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ উযূ করবে, লজ্জাস্থান ধুয়ে নিবে তারপর ঘুমাবে।
হাদিস নং: ২৯১
সহিহ (Sahih)
حدثنا معاذ بن فضالة، قال حدثنا هشام، ح وحدثنا ابو نعيم، عن هشام، عن قتادة، عن الحسن، عن ابي رافع، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا جلس بين شعبها الاربع ثم جهدها، فقد وجب الغسل ". تابعه عمرو بن مرزوق عن شعبة مثله. وقال موسى حدثنا ابان قال حدثنا قتادة اخبرنا الحسن مثله.
২৯১। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি স্ত্রীর চার শাখার মাঝে বসে তার সাথে সঙ্গত হলে, তার উপর গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। ’আমর (রহঃ) শু’বাহ্র সূত্রে এই হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর মূসা (রাঃ) হাসান [বাসরী (রহঃ)]-এর সূত্রেও অনুরূপ বলেছেন।
আবূ ’আবদুল্লাহ্ (রহঃ) বলেনঃ এটা উত্তম ও অধিকতর মযবুত। মতভেদের কারণে আমরা অন্য হাদিসটিও বর্ণনা করেছি, গোসল করাই অধিকতর সাবধানতা।
আবূ ’আবদুল্লাহ্ (রহঃ) বলেনঃ এটা উত্তম ও অধিকতর মযবুত। মতভেদের কারণে আমরা অন্য হাদিসটিও বর্ণনা করেছি, গোসল করাই অধিকতর সাবধানতা।
হাদিস নং: ২৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر، حدثنا عبد الوارث، عن الحسين، قال يحيى واخبرني ابو سلمة، ان عطاء بن يسار، اخبره ان زيد بن خالد الجهني اخبره انه، سال عثمان بن عفان فقال ارايت اذا جامع الرجل امراته فلم يمن. قال عثمان يتوضا كما يتوضا للصلاة، ويغسل ذكره. قال عثمان سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم. فسالت عن ذلك علي بن ابي طالب والزبير بن العوام وطلحة بن عبيد الله وابى بن كعب ـ رضى الله عنهم ـ فامروه بذلك. قال يحيى واخبرني ابو سلمة ان عروة بن الزبير اخبره ان ابا ايوب اخبره انه سمع ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم.
২৯২। যায়দ ইব্নু খালিদ আল-জুহানী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি ‘উসমান ইব্নু ‘আফফান (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ স্বামী-স্ত্রী সঙ্গত হলে যদি মনি বের না হয় (তখন কী করবে)? উসমান (রাঃ) বললেনঃ সালাতের উযূর মত উযূ করবে এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। ‘উসমান (রাঃ) বলেনঃ আমি এটা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে শুনেছি। অতঃপর আলী ইব্নু আবূ তালিব, যুবায়র ইব্নুল-আও্ওয়াম, ত্বলহা ইব্নু ‘উবাইদুল্লাহ ও উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তারা সবাই ঐ একই জবাব দিয়েছেন। আবূ সালামা (রহঃ) আবূ আইয়ুব (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি [আবূ আইয়ুব (রাঃ)] এ কথা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে শুনেছেন।
হাদিস নং: ২৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن هشام بن عروة، قال اخبرني ابي قال، اخبرني ابو ايوب، قال اخبرني ابى بن كعب، انه قال يا رسول الله اذا جامع الرجل المراة فلم ينزل قال " يغسل ما مس المراة منه، ثم يتوضا ويصلي ".
قال ابو عبد الله الغسل احوط، وذاك الاخر، وانما بينا لاختلافهم.
قال ابو عبد الله الغسل احوط، وذاك الاخر، وانما بينا لاختلافهم.
২৯৩। উবাই ইব্নু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হলে যদি বীর্য বের না হয় (তার হুকুম কী?) তিনি বললেনঃ স্ত্রী থেকে যা লেগেছে তা ধুয়ে উযূ করবে ও সালাত আদায় করবে।
আবূ ’আবদুল্লাহ [বুখারী (রহঃ)] বলেনঃ গোসল করাই শ্রেয়। আর তা-ই সর্বশেষ হুকুম। আমি এই শেষের হাদিসটি বর্ণনা করেছি মতভেদ থাকার কারণে। কিন্তু পানি (গোসল) অধিক পবিত্রকারী। [*]
আবূ ’আবদুল্লাহ [বুখারী (রহঃ)] বলেনঃ গোসল করাই শ্রেয়। আর তা-ই সর্বশেষ হুকুম। আমি এই শেষের হাদিসটি বর্ণনা করেছি মতভেদ থাকার কারণে। কিন্তু পানি (গোসল) অধিক পবিত্রকারী। [*]
নোট: [*] এ বিধান পরে রহিত হয়েছে। স্ত্রী সঙ্গম হবার কারণে গোসল ফরয হয়। এটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।