অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৫৪/১. শর্তাবলী
মোট ২৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ২৭১৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا زكرياء قال سمعت عامرا يقول حدثني جابر انه كان يسير على جمل له قد اعيا فمر النبي صلى الله عليه وسلم فضربه فدعا له فسار بسير ليس يسير مثله ثم قال بعنيه بوقية قلت لا ثم قال بعنيه بوقية فبعته فاستثنيت حملانه الى اهلي فلما قدمنا اتيته بالجمل ونقدني ثمنه ثم انصرفت فارسل على اثري قال ما كنت لاخذ جملك فخذ جملك ذلك فهو مالك قال شعبة عن مغيرة عن عامر عن جابر افقرني رسول الله صلى الله عليه وسلم ظهره الى المدينة وقال اسحاق عن جرير عن مغيرة فبعته على ان لي فقار ظهره حتى ابلغ المدينة وقال عطاء وغيره لك ظهره الى المدينة وقال محمد بن المنكدر عن جابر شرط ظهره الى المدينة وقال زيد بن اسلم عن جابر ولك ظهره حتى ترجع وقال ابو الزبير عن جابر افقرناك ظهره الى المدينة وقال الاعمش عن سالم عن جابر تبلغ عليه الى اهلك
وقال عبيد الله وابن اسحاق عن وهب عن جابر اشتراه النبي صلى الله عليه وسلم بوقية وتابعه زيد بن اسلم عن جابر وقال ابن جريج عن عطاء وغيره عن جابر اخذته باربعة دنانير وهذا يكون وقية على حساب الدينار بعشرة دراهم ولم يبين الثمن مغيرة عن الشعبي عن جابر وابن المنكدر وابو الزبير عن جابر وقال الاعمش عن سالم عن جابر وقية ذهب وقال ابو اسحاق عن سالم عن جابر بماىتي درهم وقال داود بن قيس عن عبيد الله بن مقسم عن جابر اشتراه بطريق تبوك احسبه قال باربع اواق وقال ابو نضرة عن جابر اشتراه بعشرين دينارا وقول الشعبي بوقية اكثر الاشتراط اكثر واصح عندي قاله ابو عبد الله
২৭১৮. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর এক উটের উপর সওয়ার হয়ে সফর করছিলেন, সেটি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং উটটিকে (চলার জন্য) প্রহার করে সেটির জন্য দু‘আ করলেন। ফলে উটটি এত জোরে চলতে লাগলো যে, কখনো তেমন জোরে চলেনি। অতঃপর তিনি বললেন, ‘এক উকিয়ার বিনিময়ে এটি আমার নিকট বিক্রি কর।’ আমি বললাম, না। তিনি বললেন, ‘এটি আমার নিকট এক উকিয়ার বিনিময়ে বিক্রি কর।’ তখন আমি সেটি বিক্রি করলাম। কিন্তু আমার পরিজনের নিকট পৌঁছা পর্যন্ত সওয়ার হবার অধিকার রেখে দিলাম। অতঃপর উট নিয়ে আমি তাঁর নিকট গেলাম। তিনি আমাকে এর নগদ মূল্য দিলেন। অতঃপর আমি চলে গেলাম। তখন আমার পেছনে লোক পাঠালেন। পরে বললেন, ‘তোমার উট নেয়ার ইচ্ছা আমার ছিল না। তোমার এ উট তুমি নিয়ে যাও এটি তোমারই মাল।’

শু‘বা (রহ.) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উটটির পেছনে মদিনা্ পর্যন্ত আমাকে সওয়ার হতে দিলেন। ইসহাক (রহ.) জারীর (রহ.) সূত্রে মুগীরাহ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, আমি সেটি এ শর্তে বিক্রি করলাম যে, ‘মদিনা্য় পৌঁছা পর্যন্ত তার পিঠে সাওয়ার হবার অধিকার আমার থাকবে। ‘আতা (রহ.) প্রমুখ বলেন, (রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন) মদিনা্ পর্যন্ত তোমার তাতে সওয়ার হবার অধিকার থাকবে। ইবনু মুনকাদির (রহ.) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মদিনা্ পর্যন্ত এর পিঠে সওয়ার হবার শর্ত করেছেন। যায়দ ইবনু আসলাম (রহ.) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তোমার প্রত্যাবর্তন করা পর্যন্ত এর পিঠে সওয়ার হতে পারবে। আবূ যুবাইর (রহ.) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তোমাকে মদিনা্ পর্যন্ত এর পিঠে সওয়ার হতে দিলাম। আ‘মাশ (রহ.) সালিম (রহ.) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, এর উপর সওয়ার হয়ে তুমি পরিজনের নিকট পৌঁছবে। ‘উবাইদুল্লাহ্ ও ইবনু ইসহাক (রহ.) ওয়াহাব (রহ.) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক উকিয়ার বিনিময়ে সেটি খরিদ করেছিলেন। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে যায়দ ইবনু আসলাম (রহ.) ওয়াহাব (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। ইবনু জুরাইজ (রহ.) ‘আত্বা (রহ.) প্রমুখ সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বণৃনা করেন যে, (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন,) আমি এটাকে বার দ্বীনারের বিনিময়ে নিলাম। দশ দিরহামে এক দ্বীনার হিসেবে তাতে এক উকিয়াই হয়। মুগীরাহ (রহ.) শাবী (রহ.) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে এবং ইবনু মুনকাদির ও আবু যুবাইর (রহ.) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনায় মূল্য উল্লেখ করেননি। আ’মাশ (রহ.) সালিম (রহ.) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনায় এক উকিয়া স্বর্ণ উল্লেখ করেছেন। সালিম (রহ.) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে দাউদ ইবনু কায়স (রহ.)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি সেটি তাবুকের পথে খরিদ করেন। রাবী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেন, চার উকিয়ার বিনিময়ে। আবূ নাযরা (রহ.) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি সেটি বিশ দ্বীনারে খরিদ করেছেন। তবে শাবী (রহ.) কর্তৃক বর্ণিত এক উকিয়াই অধিক বর্ণিত। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, (রিওয়ায়াতে বিভিন্ন রকমের হলেও) শর্ত আরোপ কৃত রিওয়ায়াতই অধিক সূত্রে বর্ণিত এবং আমার মতে এটাই অধিক সহীহ। (মুসলিম ২২/২১ হাঃ ১৫৯৯, আহমাদ ১৪১৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৩২)
হাদিস নং: ২৭১৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة قال قالت الانصار للنبي صلى الله عليه وسلم اقسم بيننا وبين اخواننا النخيل قال لا فقال تكفونا المىونة ونشرككم في الثمرة قالوا سمعنا واطعنا
২৭১৯. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন, ‘আমাদের ও আমাদের (মুহাজির) ভাইদের মধ্যে খেজুর গাছ বণ্টন করে দিন।’ তিনি বললেন, না। তখন তাঁরা বললেন, ‘তোমরা আমাদের শ্রমে সাহায্য করবে আর তোমাদের আমরা ফলের অংশ দিব।’ তারা [মুহাজিরগণ (রাঃ)] বললেন, আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম।’ (২৩২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৩৩)
হাদিস নং: ২৭২০ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا جويرية بن اسماء عن نافع عن عبد الله بن عمر قال اعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم خيبر اليهود ان يعملوها ويزرعوها ولهم شطر ما يخرج منها
২৭২০. ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা) খায়বার ইয়াহূদীদেরকে দিলেন এ শর্তে যে, তারা তাতে কাজ করবে এবং তাতে ফসল ফলাবে, তাতে যা উৎপন্ন হবে তার অর্ধেক তারা পাবে। (২২৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৩৪)
হাদিস নং: ২৭২১ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف حدثنا الليث قال حدثني يزيد بن ابي حبيب عن ابي الخير عن عقبة بن عامر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احق الشروط ان توفوا به ما استحللتم به الفروج
وَقَالَ عُمَرُ إِنَّ مَقَاطِعَ الْحُقُوقِ عِنْدَ الشُّرُوطِ وَلَكَ مَا شَرَطْتَ وَقَالَ الْمِسْوَرُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ صِهْرًا لَهُ فَأَثْنَى عَلَيْهِ فِيْ مُصَاهَرَتِهِ فَأَحْسَنَ قَالَ حَدَّثَنِيْ وَصَدَقَنِيْ وَوَعَدَنِيْ فَوَفَى لِي

উমর (রাঃ)....বলেন, দাবী দাওয়া নির্ধারণ শর্তারোপের সময়। আর তুমি যে শর্ত করেছ, তাই তোমার প্রাপ্য। মিসওয়ার (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর এক জামাতার১ সম্পর্কে বলতে শুনেছি, তিনি জামাতা হিসেবে তাঁর বহু প্রশংসা করলেন। বললেন, সে আমার সঙ্গে যে কথা বলেছে তা সত্য বলে প্রমাণ করেছে। আর আমার সঙ্গে যে অঙ্গীকার করেছে তা পূরণ করেছে।


২৭২১. ’উকবাহ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, শর্তসমূহের মধ্যে যা পূর্ণ করার সর্বাধিক দাবী রাখে তা হল সেই শর্ত যার দ্বারা তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছ। (৫১৫১) (মুসলিম ১৬/৭ হাঃ ১৪১৮, আহমাদ ১৭৩০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৩৫)
নোট: [১] নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই জামাতার নাম ছিল আবুল ‘আস ইবনুর রবী’ (আরবী)
হাদিস নং: ২৭২২ সহিহ (Sahih)
حدثنا مالك بن اسماعيل حدثنا ابن عيينة حدثنا يحيى بن سعيد قال سمعت حنظلة الزرقي قال سمعت رافع بن خديج يقول كنا اكثر الانصار حقلا فكنا نكري الارض فربما اخرجت هذه ولم تخرج ذه فنهينا عن ذلك ولم ننه عن الورق
২৭২২. রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারদের মধ্যে আমরা অধিক শস্য ক্ষেত্রের মালিক ছিলাম। তাই আমরা জমি বর্গা দিতাম। কখনো এ অংশে ফসল হতো, আর ঐ অংশে ফসল হতো না। তখন আমাদের তা করতে নিষেধ করে দেয়া হলো। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে চাষ করতে দিতে নিষেধ করা হয়নি। (২২৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৩৬)
হাদিস নং: ২৭২৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا معمر عن الزهري عن سعيد عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا يبع حاضر لباد ولا تناجشوا ولا يزيدن على بيع اخيه ولا يخطبن على خطبته ولا تسال المراة طلاق اختها لتستكفى اناءها
২৭২৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, শহরবাসী গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রয় করবে না। আর তোমরা (মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশে) দালালী করবে না। কেউ যেন তার ভাইয়ের ক্রয়ের উপরে দাম না বাড়ায় এবং কেউ যেন তার ভাইয়ের (বিবাহের) প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। আর কোন স্ত্রীলোক যেন তার বোনের (সতীনের) পাত্রের অধিকারী হওয়ার উদ্দেশে তার তালাকের চেষ্টা না করে। (২১৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৩৭)
হাদিস নং: ২৭২৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا ليث عن ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود عن ابي هريرة وزيد بن خالد الجهني رضي الله عنهما انهما قالا ان رجلا من الاعراب اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله انشدك الله الا قضيت لي بكتاب الله فقال الخصم الاخر وهو افقه منه نعم فاقض بيننا بكتاب الله واذن لي فقال رسول الله قل قال ان ابني كان عسيفا على هذا فزنى بامراته واني اخبرت ان على ابني الرجم فافتديت منه بماىة شاة ووليدة فسالت اهل العلم فاخبروني انما على ابني جلد ماىة وتغريب عام وان على امراة هذا الرجم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم والذي نفسي بيده لاقضين بينكما بكتاب الله الوليدة والغنم رد وعلى ابنك جلد ماىة وتغريب عام اغد يا انيس الى امراة هذا فان اعترفت فارجمها قال فغدا عليها فاعترفت فامر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجمت
২৭২৪-২৭২৫. আবূ হুরাইরাহ্ ও যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, এক বেদুঈন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আমার বাপারে আল্লাহর কিতাব মত ফয়সালা করুন।’ তখন তার প্রতিপক্ষ, যে তার তুলনায় বেশি জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন সে বলল, ‘হ্যাঁ, আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মত ফয়সালা করুন এবং আমাকে বলার অনুমতি দিন।’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘বল’। সে বলল, আমার ছেলে এর নিকট মজুর ছিলো। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করেছে। আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, আমার ছেলের প্রাপ্য দন্ড হল রাজম। তখন আমি তাকে (ছেলেকে) একশ’ বকরী এবং একটি বাঁদীর বিনিময়ে তার নিকট হতে ছাড়িয়ে এনেছি। পরে আমি আলিমদের জিজ্ঞেস করলাম। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার ছেলের দন্ড হল একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। আর এই লোকের স্ত্রীর দন্ড হল রাজম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, অবশ্যই আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করব। বাঁদী এবং একশ’ বকরী তোমাকে ফেরত দেয়া হবে। আর তোমার ছেলের শাস্তি একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। হে উনায়স! আগামীকাল সকালে এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাবে। যদি সে স্বীকার করে তাহলে তাকে রাজম করবে। রাবী বলেন, উনায়স (রাঃ) পরদিন সকালে সে স্ত্রীলোকের নিকট গেলেন। সে অপরাধ স্বীকার করল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশে তাকে রাজম করা হল। (২৩১৪-২৩১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৩৮)
হাদিস নং: ২৭২৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا ليث عن ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود عن ابي هريرة وزيد بن خالد الجهني رضي الله عنهما انهما قالا ان رجلا من الاعراب اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله انشدك الله الا قضيت لي بكتاب الله فقال الخصم الاخر وهو افقه منه نعم فاقض بيننا بكتاب الله واذن لي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم قل قال ان ابني كان عسيفا على هذا فزنى بامراته واني اخبرت ان على ابني الرجم فافتديت منه بماىة شاة ووليدة فسالت اهل العلم فاخبروني انما على ابني جلد ماىة وتغريب عام وان على امراة هذا الرجم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم والذي نفسي بيده لاقضين بينكما بكتاب الله الوليدة والغنم رد وعلى ابنك جلد ماىة وتغريب عام اغد يا انيس الى امراة هذا فان اعترفت فارجمها قال فغدا عليها فاعترفت فامر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجمت
২৭২৪-২৭২৫. আবূ হুরাইরাহ্ ও যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, এক বেদুঈন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আমার বাপারে আল্লাহর কিতাব মত ফয়সালা করুন।’ তখন তার প্রতিপক্ষ, যে তার তুলনায় বেশি জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন সে বলল, ‘হ্যাঁ, আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মত ফয়সালা করুন এবং আমাকে বলার অনুমতি দিন।’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘বল’। সে বলল, আমার ছেলে এর নিকট মজুর ছিলো। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করেছে। আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, আমার ছেলের প্রাপ্য দন্ড হল রাজম। তখন আমি তাকে (ছেলেকে) একশ’ বকরী এবং একটি বাঁদীর বিনিময়ে তার নিকট হতে ছাড়িয়ে এনেছি। পরে আমি আলিমদের জিজ্ঞেস করলাম। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার ছেলের দন্ড হল একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। আর এই লোকের স্ত্রীর দন্ড হল রাজম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, অবশ্যই আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করব। বাঁদী এবং একশ’ বকরী তোমাকে ফেরত দেয়া হবে। আর তোমার ছেলের শাস্তি একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। হে উনায়স! আগামীকাল সকালে এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাবে। যদি সে স্বীকার করে তাহলে তাকে রাজম করবে। রাবী বলেন, উনায়স (রাঃ) পরদিন সকালে সে স্ত্রীলোকের নিকট গেলেন। সে অপরাধ স্বীকার করল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশে তাকে রাজম করা হল। (২৩১৪-২৩১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৩৮)
হাদিস নং: ২৭২৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا خلاد بن يحيى حدثنا عبد الواحد بن ايمن المكي عن ابيه قال دخلت على عاىشة رضي الله عنها قالت دخلت علي بريرة وهي مكاتبة فقالت يا ام المومنين اشتريني فان اهلي يبيعوني فاعتقيني قالت نعم قالت ان اهلي لا يبيعوني حتى يشترطوا ولاىي قالت لا حاجة لي فيك فسمع ذلك النبي صلى الله عليه وسلم او بلغه فقال ما شان بريرة فقال اشتريها فاعتقيها وليشترطوا ما شاءوا قالت فاشتريتها فاعتقتها واشترط اهلها ولاءها فقال النبي صلى الله عليه وسلم الولاء لمن اعتق وان اشترطوا ماىة شرط
২৭২৬. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুকাতাবা অবস্থায় বারীরা আমার নিকট এসে বলল, হে উম্মুল মুমিনীন! আপনি আমাকে কিনে নিন। কারণ আমার মালিক আমাকে বিক্রি করে ফেলবে। অতঃপর আমাকে আযাদ করে দিন। তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে, বারীরাহ বলল, ‘ওয়ালা’র অধিকার মালিকের থাকবে- এ শর্ত না রেখে তারা আমাকে বিক্রি করবে না।’ তিনি বললেন, তবে তোমাকে দিয়ে আমার কোন দরকার নেই। পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা শুনলেন কিংবা তাঁর নিকট সে সংবাদ পৌঁছল। তখন তিনি বললেন, বারীরার খবর কী? এবং বললেন, তাকে কিনে নাও। অতঃপর তাকে আযাদ করে দাও। তারা যত ইচ্ছা শর্তারোপ করুক। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাকে কিনে নিলাম এবং আযাদ করে দিলাম। তার মালিক পক্ষ ‘ওয়ালা’র শর্তারোপ করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘ওয়ালা’ তারই হবে, যে আযাদ করবে, তারা শত শর্তারোপ করলেও। (৪৫৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৩৯)
হাদিস নং: ২৭২৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عرعرة حدثنا شعبة عن عدي بن ثابت عن ابي حازم عن ابي هريرة قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن التلقي وان يبتاع المهاجر للاعرابي وان تشترط المراة طلاق اختها وان يستام الرجل على سوم اخيه ونهى عن النجش وعن التصرية تابعه معاذ وعبد الصمد عن شعبة وقال غندر وعبد الرحمن نهي وقال ادم نهينا وقال النضر وحجاج بن منهال نهى
وَقَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ وَالْحَسَنُ وَعَطَاءٌ إِنْ بَدَا بِالطَّلَاقِ أَوْ أَخَّرَ فَهُوَ أَحَقُّ بِشَرْطِهِ

ইবনু মুসাইয়ব, হাসান ও ‘আত্বা (রহ.) বলেন, তালাক প্রথমে বলুক বা শেষে বলুক, তা শর্তানুযায়ী প্রযুক্ত হবে।


২৭২৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাউকে শহরের বাইরে গিয়ে বাণিজ্য বহরের কাফেলা থেকে মাল কিনতে নিষেধ করেছেন। আর বেদুঈনের পক্ষ হয়ে মুহাজিরদেরকে কোন কিছু বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আর কোন স্ত্রীলোক যেন তার বোনের (অপর স্ত্রীলোকের) তালাকের শর্তারোপ না করে আর কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের দামের উপর দাম না করে এবং নিষেধ করেছেন দালালী করতে, (মূল্য বাড়ানোর উদ্দেশে) এবং স্তন্যে দুধ জমা করতে (ধোঁকা দেয়ার উদ্দেশে)। মুআয ও ‘আবদুস সমদ (রহ.) শু‘বাহ (রহ.) থেকে হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মদ ইবনু আরআরা (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। গুনদার ও ‘আবদুর রহমান (রহ.) نُهِيَ বলেছেন এবং আদম (রহ.) বলেছেন, نُهِيْنَا আর নাযর ও হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল বলেছেন, نَهَى। (২১৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৪০)

 
হাদিস নং: ২৭২৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام، ان ابن جريج، اخبره قال اخبرني يعلى بن مسلم، وعمرو بن دينار، عن سعيد بن جبير، يزيد احدهما على صاحبه وغيرهما قد سمعته يحدثه عن سعيد بن جبير قال انا لعند ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قال حدثني ابى بن كعب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ موسى رسول الله ‏"‏ فذكر الحديث ‏(‏قال الم اقل انك لن تستطيع معي صبرا‏)‏ كانت الاولى نسيانا، والوسطى شرطا، والثالثة عمدا ‏(‏قال لا تواخذني بما نسيت ولا ترهقني من امري عسرا‏)‏‏.‏ ‏(‏لقيا غلاما فقتله‏)‏ فانطلقا فوجدا جدارا يريد ان ينقض فاقامه‏.‏ قراها ابن عباس امامهم ملك‏.‏
২৭২৮. উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল মূসা (আঃ) বলেন। অতঃপর তিনি পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করেন। (এ ব্যাপারে খিয্র (আঃ)-এর এ কথাটি উল্লেখ করেন যা তিনি মূসা (আঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন), আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে পারবে না? [মূসা (আঃ)-এর আপত্তি] প্রথমটি ছিল ভুলক্রমে, দ্বিতীয়টি শর্ত মুতাবিক, তৃতীয়টি ইচ্ছাকৃত। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার ব্যাপারে অত্যধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না। তাঁরা উভয়ে এক বালকের সাক্ষাৎ পেলেন এবং খিয্র (আঃ) তাকে হত্যা করলেন। অতঃপর তাঁরা উভয়ে পথ চলতে লাগলেন। কিছু দূর এগিয়ে তাঁরা পতনোন্মুখ একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন। খিয্র (আঃ) প্রাচীরটি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আয়াতের وَرَاءَهُمْ مَلِكٌ এর স্থলে أَمَامَهُمْ مَلِكٌ পড়েছেন। (৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৪১)
হাদিস নং: ২৭২৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل حدثنا مالك عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة قالت جاءتني بريرة فقالت كاتبت اهلي على تسع اواق في كل عام اوقية فاعينيني فقالت ان احبوا ان اعدها لهم ويكون ولاوك لي فعلت فذهبت بريرة الى اهلها فقالت لهم فابوا عليها فجاءت من عندهم ورسول الله جالس فقالت اني قد عرضت ذلك عليهم فابوا الا ان يكون الولاء لهم فسمع النبي فاخبرت عاىشة النبي صلى الله عليه وسلم فقال خذيها واشترطي لهم الولاء فانما الولاء لمن اعتق ففعلت عاىشة ثم قام رسول الله صلى الله عليه وسلم في الناس فحمد الله واثنى عليه ثم قال ما بال رجال يشترطون شروطا ليست في كتاب الله ما كان من شرط ليس في كتاب الله فهو باطل وان كان ماىة شرط قضاء الله احق وشرط الله اوثق وانما الولاء لمن اعتق
২৭২৯. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ আমার নিকট এসে বলল, আমি আমার মালিকের সঙ্গে নয় উকিয়ার বিনিময়ে আমাকে স্বাধীন করার এক চুক্তি করেছি। প্রতি বছর এক উকিয়া করে পরিশোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তারা যদি এ শর্তে রাযী হয় যে, আমি তাদের সমস্ত প্রাপ্য একবারে দিয়ে দিই এবং তোমার ‘ওয়ালা’ আমার জন্য থাকবে, তাহলে আমি তা করব। বারীরাহ তার মালিকের নিকট গিয়ে এ কথা বলল; কিন্তু তারা তাতে অস্বীকৃতি জানাল। অতঃপর বারীরাহ তাদের নিকট হতে ফিরে এল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপবিষ্ট ছিলেন। বারীরাহ বলল, আমি তাদের নিকট প্রস্তাবটি পেশ করেছি, ‘ওয়ালা’র অধিকার তাদের জন্য না হলে, এতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুনলেন এবং ‘আয়িশাহ (রাঃ)-ও তাঁকে জানালেন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি বারীরাহ্কে নিয়ে নাও এবং তাদের জন্য ‘ওয়ালা’র অধিকারের শর্ত কর। কারণ ‘ওয়ালা’র অধিকার তো তারই যে মুক্ত করবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাই করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি করে বললেন, ‘লোকদের কী হল যে, তারা এমন সব শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই? আল্লাহর কিতাবের বহির্ভুত যে কোন শর্ত বাতিল, যদিও শত শর্তারোপ করা হয়। আল্লাহর হুকুম যথার্থ ও তাঁর শর্ত সুদৃঢ়। ওয়ালা তো তারই যে মুক্ত করে।’ (৪৫৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫২৯ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৪২)
হাদিস নং: ২৭৩০ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو احمد مرار بن حمويه حدثنا محمد بن يحيى ابو غسان الكناني اخبرنا مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال لما فدع اهل خيبر عبد الله بن عمر قام عمر خطيبا فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان عامل يهود خيبر على اموالهم وقال نقركم ما اقركم الله وان عبد الله بن عمر خرج الى ماله هناك فعدي عليه من الليل ففدعت يداه ورجلاه وليس لنا هناك عدو غيرهم هم عدونا وتهمتنا وقد رايت اجلاءهم فلما اجمع عمر على ذلك اتاه احد بني ابي الحقيق فقال يا امير المومنين اتخرجنا وقد اقرنا محمد وعاملنا على الاموال وشرط ذلك لنا فقال عمر اظننت اني نسيت قول رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف بك اذا اخرجت من خيبر تعدو بك قلوصك ليلة بعد ليلة فقال كانت هذه هزيلة من ابي القاسم قال كذبت يا عدو الله فاجلاهم عمر واعطاهم قيمة ما كان لهم من الثمر مالا وابلا وعروضا من اقتاب وحبال وغير ذلك رواه حماد بن سلمة عن عبيد الله احسبه عن نافع عن ابن عمر عن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم اختصره
২৭৩০. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন খায়বারবাসীরা ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর হাত পা ভেঙ্গে দিল, তখন ‘উমার (রাঃ) ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন এবং বললেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারের ইয়াহূদীদের সঙ্গে তাদের মাল সম্পত্তি সম্পর্কে চুক্তি করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আল্লাহ্ তাআলা যতদিন তোমাদের রাখেন, ততদিন আমরাও তোমাদের রাখব। এই অবস্থায় ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাঁর নিজ সম্পত্তি দেখাশুনা করার জন্য খায়বার গমন করলে রাতে তাঁর উপর আক্রমণ করা হয় এবং তাঁর দু’টি হাত পা ভেঙ্গে দেয়া হয়। সেখানে ইয়াহূদীরা ব্যতীত আমাদের আর কোন শত্রু নেই। তারাই আমাদের দুশমন। তাদের উপর আমাদের সন্দেহ হয়। অতএব আমি তাদের নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ‘উমার (রাঃ) যখন এ ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় মত প্রকাশ করলেন, তখন আবূ হুকায়ক গোত্রের এক ব্যক্তি এসে বলল, ‘হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি কি আমাদেরকে খায়বার থেকে বের করে দিবেন? অথচ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে এখানে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর উক্ত সম্পত্তির ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে বর্গাচাষের ব্যবস্থা করেন এবং আমাদের এ শর্তে দেন।’ ‘উমার (রাঃ) বললেন, ‘তুমি কি মনে করেছ যে, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সে উক্তি ভুলে গিয়েছি, ‘তোমার কী অবস্থা হবে, যখন তোমাকে খায়বার থেকে বের করে দেয়া হবে এবং তোমার উটগুলো রাতের পর রাত তোমাকে নিয়ে ছুটবে।’ সে বলল, ‘এটাতো আবুল কাসিমের বিদ্রূপাত্মক উক্তি ছিল’। ‘উমার (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর দুশমন! তুমি মিথ্যা বলছ।’ অতঃপর ‘উমার (রাঃ) তাদের নির্বাসিত করেন এবং তাদের ফল-ফসল, মালামাল, উট, লাগাম রজ্জু ইত্যাদি দ্রব্যের মূল্য দিয়ে দেন। রিওয়ায়াতটি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ (রহ.)..... ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৪৩)
হাদিস নং: ২৭৩১ সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن محمد، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، قال اخبرني الزهري، قال اخبرني عروة بن الزبير، عن المسور بن مخرمة، ومروان، يصدق كل واحد منهما حديث صاحبه قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم زمن الحديبية، حتى كانوا ببعض الطريق قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ان خالد بن الوليد بالغميم في خيل لقريش طليعة فخذوا ذات اليمين ‏"‏‏.‏ فوالله ما شعر بهم خالد حتى اذا هم بقترة الجيش، فانطلق يركض نذيرا لقريش، وسار النبي صلى الله عليه وسلم حتى اذا كان بالثنية التي يهبط عليهم منها، بركت به راحلته‏.‏ فقال الناس حل حل‏.‏ فالحت، فقالوا خلات القصواء، خلات القصواء‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ما خلات القصواء، وما ذاك لها بخلق، ولكن حبسها حابس الفيل، ثم قال والذي نفسي بيده لا يسالوني خطة يعظمون فيها حرمات الله الا اعطيتهم اياها ‏"‏‏.‏ ثم زجرها فوثبت، قال فعدل عنهم حتى نزل باقصى الحديبية، على ثمد قليل الماء يتبرضه الناس تبرضا، فلم يلبثه الناس حتى نزحوه، وشكي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم العطش، فانتزع سهما من كنانته، ثم امرهم ان يجعلوه فيه، فوالله ما زال يجيش لهم بالري حتى صدروا عنه، فبينما هم كذلك، اذ جاء بديل بن ورقاء الخزاعي في نفر من قومه من خزاعة، وكانوا عيبة نصح رسول الله صلى الله عليه وسلم من اهل تهامة، فقال اني تركت كعب بن لوى وعامر بن لوى نزلوا اعداد مياه الحديبية، ومعهم العوذ المطافيل، وهم مقاتلوك وصادوك عن البيت‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ انا لم نجى لقتال احد، ولكنا جىنا معتمرين، وان قريشا قد نهكتهم الحرب، واضرت بهم، فان شاءوا ماددتهم مدة، ويخلوا بيني وبين الناس، فان اظهر فان شاءوا ان يدخلوا فيما دخل فيه الناس فعلوا، والا فقد جموا، وان هم ابوا فوالذي نفسي بيده، لاقاتلنهم على امري هذا حتى تنفرد سالفتي، ولينفذن الله امره ‏"‏‏.‏ فقال بديل سابلغهم ما تقول‏.‏ قال فانطلق حتى اتى قريشا قال انا قد جىناكم من هذا الرجل، وسمعناه يقول قولا، فان شىتم ان نعرضه عليكم فعلنا، فقال سفهاوهم لا حاجة لنا ان تخبرنا عنه بشىء‏.‏ وقال ذوو الراى منهم هات ما سمعته يقول‏.‏ قال سمعته يقول كذا وكذا، فحدثهم بما قال النبي صلى الله عليه وسلم‏.‏ فقام عروة بن مسعود فقال اى قوم الستم بالوالد قالوا بلى‏.‏ قال اولست بالولد قالوا بلى‏.‏ قال فهل تتهموني‏.‏ قالوا لا‏.‏ قال الستم تعلمون اني استنفرت اهل عكاظ، فلما بلحوا على جىتكم باهلي وولدي ومن اطاعني قالوا بلى‏.‏ قال فان هذا قد عرض لكم خطة رشد، اقبلوها ودعوني اته‏.‏ قالوا اىته‏.‏ فاتاه فجعل يكلم النبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم نحوا من قوله لبديل، فقال عروة عند ذلك اى محمد، ارايت ان استاصلت امر قومك هل سمعت باحد من العرب اجتاح اهله قبلك وان تكن الاخرى، فاني والله لارى وجوها، واني لارى اوشابا من الناس خليقا ان يفروا ويدعوك‏.‏ فقال له ابو بكر امصص بظر اللات، انحن نفر عنه وندعه فقال من ذا قالوا ابو بكر‏.‏ قال اما والذي نفسي بيده لولا يد كانت لك عندي لم اجزك بها لاجبتك‏.‏ قال وجعل يكلم النبي صلى الله عليه وسلم فكلما تكلم اخذ بلحيته، والمغيرة بن شعبة قاىم على راس النبي صلى الله عليه وسلم ومعه السيف وعليه المغفر، فكلما اهوى عروة بيده الى لحية النبي صلى الله عليه وسلم ضرب يده بنعل السيف، وقال له اخر يدك عن لحية رسول الله صلى الله عليه وسلم‏.‏ فرفع عروة راسه فقال من هذا قالوا المغيرة بن شعبة‏.‏ فقال اى غدر، الست اسعى في غدرتك وكان المغيرة صحب قوما في الجاهلية، فقتلهم، واخذ اموالهم، ثم جاء فاسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اما الاسلام فاقبل، واما المال فلست منه في شىء ‏"‏‏.‏ ثم ان عروة جعل يرمق اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم بعينيه‏.‏ قال فوالله ما تنخم رسول الله صلى الله عليه وسلم نخامة الا وقعت في كف رجل منهم فدلك بها وجهه وجلده، واذا امرهم ابتدروا امره، واذا توضا كادوا يقتتلون على وضوىه، واذا تكلم خفضوا اصواتهم عنده، وما يحدون اليه النظر تعظيما له، فرجع عروة الى اصحابه، فقال اى قوم، والله لقد وفدت على الملوك، ووفدت على قيصر وكسرى والنجاشي والله ان رايت ملكا قط، يعظمه اصحابه ما يعظم اصحاب محمد صلى الله عليه وسلم محمدا، والله ان تنخم نخامة الا وقعت في كف رجل منهم، فدلك بها وجهه وجلده، واذا امرهم ابتدروا امره واذا توضا كادوا يقتتلون على وضوىه، واذا تكلم خفضوا اصواتهم عنده، وما يحدون اليه النظر تعظيما له، وانه قد عرض عليكم خطة رشد، فاقبلوها‏.‏ فقال رجل من بني كنانة دعوني اته‏.‏ فقالوا اىته‏.‏ فلما اشرف على النبي صلى الله عليه وسلم واصحابه، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هذا فلان، وهو من قوم يعظمون البدن فابعثوها له ‏"‏‏.‏ فبعثت له واستقبله الناس يلبون، فلما راى ذلك قال سبحان الله ما ينبغي لهولاء ان يصدوا عن البيت، فلما رجع الى اصحابه قال رايت البدن قد قلدت واشعرت، فما ارى ان يصدوا عن البيت‏.‏ فقام رجل منهم يقال له مكرز بن حفص‏.‏ فقال دعوني اته‏.‏ فقالوا اىته‏.‏ فلما اشرف عليهم قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هذا مكرز وهو رجل فاجر ‏"‏‏.‏ فجعل يكلم النبي صلى الله عليه وسلم، فبينما هو يكلمه اذ جاء سهيل بن عمرو‏.‏ قال معمر فاخبرني ايوب عن عكرمة، انه لما جاء سهيل بن عمرو قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لقد سهل لكم من امركم ‏"‏‏.‏ قال معمر قال الزهري في حديثه فجاء سهيل بن عمرو فقال هات، اكتب بيننا وبينكم كتابا، فدعا النبي صلى الله عليه وسلم الكاتب، فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ بسم الله الرحمن الرحيم ‏"‏‏.‏ قال سهيل اما الرحمن فوالله ما ادري ما هو ولكن اكتب باسمك اللهم‏.‏ كما كنت تكتب‏.‏ فقال المسلمون والله لا نكتبها الا بسم الله الرحمن الرحيم‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اكتب باسمك اللهم ‏"‏‏.‏ ثم قال ‏"‏ هذا ما قاضى عليه محمد رسول الله ‏"‏‏.‏ فقال سهيل والله لو كنا نعلم انك رسول الله ما صددناك عن البيت ولا قاتلناك، ولكن اكتب محمد بن عبد الله‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ والله اني لرسول الله وان كذبتموني‏.‏ اكتب محمد بن عبد الله ‏"‏‏.‏ قال الزهري وذلك لقوله ‏"‏ لا يسالوني خطة يعظمون فيها حرمات الله الا اعطيتهم اياها ‏"‏‏.‏ فقال له النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ على ان تخلوا بيننا وبين البيت فنطوف به ‏"‏‏.‏ فقال سهيل والله لا تتحدث العرب انا اخذنا ضغطة ولكن ذلك من العام المقبل فكتب‏.‏ فقال سهيل وعلى انه لا ياتيك منا رجل، وان كان على دينك، الا رددته الينا‏.‏ قال المسلمون سبحان الله كيف يرد الى المشركين وقد جاء مسلما فبينما هم كذلك اذ دخل ابو جندل بن سهيل بن عمرو يرسف في قيوده، وقد خرج من اسفل مكة، حتى رمى بنفسه بين اظهر المسلمين‏.‏ فقال سهيل هذا يا محمد اول ما اقاضيك عليه ان ترده الى‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ انا لم نقض الكتاب بعد ‏"‏‏.‏ قال فوالله اذا لم اصالحك على شىء ابدا‏.‏ قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فاجزه لي ‏"‏‏.‏ قال ما انا بمجيزه لك‏.‏ قال ‏"‏ بلى، فافعل ‏"‏‏.‏ قال ما انا بفاعل‏.‏ قال مكرز بل قد اجزناه لك‏.‏ قال ابو جندل اى معشر المسلمين، ارد الى المشركين وقد جىت مسلما الا ترون ما قد لقيت وكان قد عذب عذابا شديدا في الله‏.‏ قال فقال عمر بن الخطاب فاتيت نبي الله صلى الله عليه وسلم فقلت الست نبي الله حقا قال ‏"‏ بلى ‏"‏‏.‏ قلت السنا على الحق وعدونا على الباطل قال ‏"‏ بلى ‏"‏‏.‏ قلت فلم نعطي الدنية في ديننا اذا قال ‏"‏ اني رسول الله، ولست اعصيه وهو ناصري ‏"‏‏.‏ قلت اوليس كنت تحدثنا انا سناتي البيت فنطوف به قال ‏"‏ بلى، فاخبرتك انا ناتيه العام ‏"‏‏.‏ قال قلت لا‏.‏ قال ‏"‏ فانك اتيه ومطوف به ‏"‏‏.‏ قال فاتيت ابا بكر فقلت يا ابا بكر، اليس هذا نبي الله حقا قال بلى‏.‏ قلت السنا على الحق وعدونا على الباطل قال بلى‏.‏ قلت فلم نعطي الدنية في ديننا اذا قال ايها الرجل، انه لرسول الله صلى الله عليه وسلم وليس يعصي ربه وهو ناصره، فاستمسك بغرزه، فوالله انه على الحق‏.‏ قلت اليس كان يحدثنا انا سناتي البيت ونطوف به قال بلى، افاخبرك انك تاتيه العام قلت لا‏.‏ قال فانك اتيه ومطوف به‏.‏ قال الزهري قال عمر فعملت لذلك اعمالا‏.‏ قال فلما فرغ من قضية الكتاب قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لاصحابه ‏"‏ قوموا فانحروا، ثم احلقوا ‏"‏‏.‏ قال فوالله ما قام منهم رجل حتى قال ذلك ثلاث مرات، فلما لم يقم منهم احد دخل على ام سلمة، فذكر لها ما لقي من الناس‏.‏ فقالت ام سلمة يا نبي الله، اتحب ذلك اخرج ثم لا تكلم احدا منهم كلمة حتى تنحر بدنك، وتدعو حالقك فيحلقك‏.‏ فخرج فلم يكلم احدا منهم، حتى فعل ذلك نحر بدنه، ودعا حالقه فحلقه‏.‏ فلما راوا ذلك، قاموا فنحروا، وجعل بعضهم يحلق بعضا، حتى كاد بعضهم يقتل بعضا غما، ثم جاءه نسوة مومنات فانزل الله تعالى ‏(‏يا ايها الذين امنوا اذا جاءكم المومنات مهاجرات فامتحنوهن‏)‏ حتى بلغ ‏(‏بعصم الكوافر‏)‏ فطلق عمر يومىذ امراتين كانتا له في الشرك، فتزوج احداهما معاوية بن ابي سفيان، والاخرى صفوان بن امية، ثم رجع النبي صلى الله عليه وسلم الى المدينة، فجاءه ابو بصير ـ رجل من قريش ـ وهو مسلم فارسلوا في طلبه رجلين، فقالوا العهد الذي جعلت لنا‏.‏ فدفعه الى الرجلين، فخرجا به حتى بلغا ذا الحليفة، فنزلوا ياكلون من تمر لهم، فقال ابو بصير لاحد الرجلين والله اني لارى سيفك هذا يا فلان جيدا‏.‏ فاستله الاخر فقال اجل، والله انه لجيد، لقد جربت به ثم جربت‏.‏ فقال ابو بصير ارني انظر اليه، فامكنه منه، فضربه حتى برد، وفر الاخر، حتى اتى المدينة، فدخل المسجد يعدو‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين راه ‏"‏ لقد راى هذا ذعرا ‏"‏‏.‏ فلما انتهى الى النبي صلى الله عليه وسلم قال قتل والله صاحبي واني لمقتول، فجاء ابو بصير فقال يا نبي الله، قد والله اوفى الله ذمتك، قد رددتني اليهم ثم انجاني الله منهم‏.‏ قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ويل امه مسعر حرب، لو كان له احد ‏"‏‏.‏ فلما سمع ذلك عرف انه سيرده اليهم، فخرج حتى اتى سيف البحر‏.‏ قال وينفلت منهم ابو جندل بن سهيل، فلحق بابي بصير، فجعل لا يخرج من قريش رجل قد اسلم الا لحق بابي بصير، حتى اجتمعت منهم عصابة، فوالله ما يسمعون بعير خرجت لقريش الى الشام الا اعترضوا لها، فقتلوهم، واخذوا اموالهم، فارسلت قريش الى النبي صلى الله عليه وسلم تناشده بالله والرحم لما ارسل، فمن اتاه فهو امن، فارسل النبي صلى الله عليه وسلم اليهم، فانزل الله تعالى ‏(‏وهو الذي كف ايديهم عنكم وايديكم عنهم ببطن مكة من بعد ان اظفركم عليهم‏)‏ حتى بلغ ‏(‏الحمية حمية الجاهلية‏)‏ وكانت حميتهم انهم لم يقروا انه نبي الله، ولم يقروا ببسم الله الرحمن الرحيم، وحالوا بينهم وبين البيت‏.‏
২৭৩১-২৭৩২. মিস্ওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) ও মারওয়ান (রহ.) হতে বর্ণিত। তাদের উভয়ের একজনের বর্ণনা অপরজনের বর্ণনার সমর্থন করে তাঁরা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুদাইবিয়ার সময় বের হলেন। যখন সাহাবীগণ রাস্তার এক জায়গায় এসে পৌঁছলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘খালিদ ইবনু ওয়ালিদ কুরাইশদের অশ্বারোহী অগ্রবর্তী বাহিনী নিয়ে গোমায়ম নামক স্থানে অবস্থান করছে। তোমরা ডান দিকের রাস্তা ধর।’ আল্লাহর কসম! খালিদ মুসলিমদের উপস্থিতি টেরও পেলো না, এমনকি যখন তারা মুসলিম সেনাবাহিনীর পশ্চাতে ধূলিরাশি দেখতে পেল, তখন সে কুরাইশদের সাবধান করার জন্য ঘোড়া দৌঁড়িয়ে চলে গেল।

এদিকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অগ্রসর হয়ে যখন সেই গিরিপথে উপস্থিত হলেন, যেখান থেকে মক্কার সোজা পথ চলে গিয়েছে, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উটনী বসে পড়ল। লোকজন (তাকে উঠাবার জন্য) ‘হাল-হাল’ বলল, কাস্ওয়া ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, কাসওয়া ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘কাসওয়া ক্লান্ত হয়নি এবং তা তার স্বভাবও নয় বরং তাকে তিনিই আটকিয়েছেন যিনি হস্তি বাহিনীকে আটকিয়ে ছিলেন।’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! কুরাইশরা আল্লাহর সম্মানিত বিষয় সমূহের মধ্যে যে কোন বিষয়ের সম্মান দেখানোর জন্য কিছু চাইলে আমি তা পূরণ করব।’ অতঃপর তিনি তাঁর উষ্ট্রীকে ধমক দিলে সে উঠে দাঁড়াল। রাবী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের পথ ত্যাগ করে হুদায়বিয়ার শেষ সীমায় অল্প পানি বিশিষ্ট কুপের নিকট অবতরণ করেন। লোকজন সেখান থেকে অল্প অল্প করে পানি নিচ্ছিল। এভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন পানি শেষ করে ফেলল এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পিপাসার অভিযোগ পেশ করা হলো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কোষ থেকে একটি তীর বের করলেন এবং সে তীরটি সেই কূপে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। আল্লাহর কসম, তখন পানি উথলে উঠতে লাগল, এমনকি সকলেই তৃপ্তি সহকারে তা থেকে পানি পান করলেন। এমন সময় বুদায়ল ইবনু ওয়ারকা খুযাঈ তার খুযাআ গোত্রের কতিপয় ব্যক্তিদের নিয়ে আসল। তারা তিহামাবাসীদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী ছিল। বুদাইল বলল, আমি কা‘ব ইবনু লুওয়াই ও আমির ইবনু লুওয়াইকে রেখে এসেছি। তারা হুদাইবিয়ার প্রচুর পানির নিকট অবস্থান করছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে বাচ্চাসহ দুগ্ধবতী অনেক উষ্ট্রী। তারা আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ও বাইতুল্লাহ্ যিয়ারতে বাধা দেয়ার জন্য প্রস্তুত।

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘আমি তো কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসিনি; বরং ‘উমরাহ করতে এসেছি। যুদ্ধ অবশ্যই কুরাইশদের দুর্বল করে দিয়েছে, কাজেই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের সঙ্গে সন্ধি করতে পারি আর তারা আমার ও কাফিরদের মধ্যকার বাধা তুলে নিবে। যদি আমি তাদের উপর বিজয় লাভ করি তাহলে অন্যান্য ব্যক্তি ইসলামে যেভাবে প্রবেশ করেছে, তারাও ইচ্ছে করলে তা করতে পারবে। আর না হয়, তারা এ সময়ে শান্তিতে থাকবে। কিন্তু তারা যদি আমার প্রস্তাব অস্বীকার করে, তাহলে সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমার গর্দান আলাদা না হওয়া পর্যন্ত আমরা এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। আর অবশ্যই আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’ বুদায়ল বলল, ‘আমি আপনার কথা তাদের নিকট পৌঁছিয়ে দিব। অতঃপর বুদায়ল কুরাইশদের নিকট এসে বলল, আমি সেই ব্যক্তিটির কাছ থেকে এসেছি এবং তাঁর নিকট কিছু কথা শুনে এসেছি। তোমরা যদি চাও, তাহলে তোমাদের তা শোনাতে পারি।’ তাদের মধ্যে নির্বোধ লোকেরা বলল, ‘তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট তোমার কিছু বলার দরকার নাই।’ কিন্তু তাদের জ্ঞানসম্পন্ন লোকেরা বলল, ‘তুমি তাঁকে যা বলতে শুনেছ, তা বল।’ তারপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা যা বলেছিলেন, বুদায়ল সব তাদের শুনাল। অতঃপর ‘উরওয়াহ ইবনু মাস‘ঊদ উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে লোকেরা! আমি কি তোমাদের পিতৃতুল্য নই?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।’ ‘উরওয়াহ বলল, ‘তোমরা কি আমার সন্তান তুল্য নও?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ অবশ্যই।’ ‘উরওয়াহ বলল, ‘আমার ব্যাপারে তোমাদের কি কোন অভিযোগ আছে?’ তারা বলল, না। ‘উরওয়াহ বলল, তোমরা কি জান না যে, আমি তোমাদের সাহায্যের জন্য উকাযবাসীদের নিকট আবেদন করেছিলাম এবং তারা আমাদের ডাকে সাড়া দিতে অস্বীকার করলে আমি আমার আত্মীয়-স্বজন, সন্তান-সন্ততি ও আমার অনুগত লোকদের নিয়ে তোমাদের নিকট এসেছিলাম? তারা বলল, হ্যাঁ, জানি। ‘উরওয়াহ বলল, এই ব্যক্তিটি তোমাদের নিকট একটি ভাল প্রস্তাব পেশ করেছেন। তোমরা তা গ্রহণ কর এবং আমাকে তার নিকট যেতে দাও। তারা বলল, আপনি তাঁর নিকট যান।

অতঃপর ‘উরওয়াহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এল এবং তাঁর সঙ্গে কথা শুরু করল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সঙ্গে কথা বললেন, যেমনিভাবে বুদায়লের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ‘উরওয়াহ তখন বলল, হে মুহাম্মদ, আপনি কি চান যে, আপনার কওমকে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন, আপনি কি আপনার পূর্বে আরববাসীদের এমন কারো কথা শুনেছেন যে, সে নিজ কওমের মূলোৎপাটন করতে উদ্যত হয়েছিল? আর যদি অন্য রকম হয়, (তখন আপনার কি অবস্থা হবে?) আল্লাহর কসম! আমি কিছু চেহারা দেখছি এবং বিভিন্ন ধরনের লোক দেখতে পাচ্ছি যাঁরা পালিয়ে যাবে এবং আপনাকে পরিত্যাগ করবে। তখন আবূ বকর (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি লাত দেবীর লজ্জাস্থান চেটে খাও। আমরা কি তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যাব। ‘উরওয়াহ বলল, সে কে? লোকজন বললেন, আবূ বকর। ‘উরওয়াহ বলল, যার হাতে আমার প্রাণ, আমি তাঁর কসম করে বলছি, আমার উপর যদি আপনার ইহসান না থাকত, যার প্রতিদান আমি দিতে পারিনি, তাহলে নিশ্চয়ই আপনার কথার জবাব দিতাম।

রাবী বলেন, ‘উরওয়াহ পুনরায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল। কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়িতে হাত দিত। তখন মুগীরাহ ইবনু শুবা (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শিয়রে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ছিল একটি তরবারী ও মাথায় ছিল লৌহ শিরস্ত্রাণ। ‘উরওয়াহ যখনই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ির দিকে তার হাত বাড়াতো মুগীরাহ (রাঃ) তাঁর তরবারীর হাতল দিয়ে তার হাতে আঘাত করতেন এবং বলতেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ি থেকে তোমার হাত হটাও। ‘উরওয়াহ মাথা তুলে বলল, এ কে? লোকজন বললেন, মুগীরাহ ইবনু শুবাহ। ‘উরওয়াহ বলল, হে গাদ্দার! আমি কি তোমার গাদ্দারীর পরিণতি থেকে তোমাকে উদ্ধারের চেষ্টা করিনি? মুগীরাহ (রাঃ) জাহেলী যুগে কিছু লোকদের সঙ্গে ছিলেন। একদা তাদের হত্যা করে তাদের সহায় সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি তোমার ইসলাম মেনে নিলাম, কিন্তু যে মাল তুমি নিয়েছ, তার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। অতঃপর ‘উরওয়াহ চোখের কোণ দিয়ে সাহাবীদের দিকে তাকাতে লাগল। সে বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো থুথু ফেললে তা সাহাবীদের হাতে পড়তো এবং তা তারা গায়ে মুখে মেখে ফেলতেন। তিনি তাঁদের কোন আদেশ দিলে তা তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে পালন করতেন। তিনি ওযু করলে তাঁর ওযুর পানির জন্য তাঁর সাহাবীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হত। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন তাঁরা নীরবে তা শুনতেন এবং তাঁর সম্মানার্থে সাহাবীগণ তাঁর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতেন না। অতঃপর ‘উরওয়াহ তার সঙ্গীদের নিকট ফিরে গেল এবং বলল, হে আমার কওম, আল্লাহর কসম! আমি অনেক রাজা-বাদশাহর নিকটে প্রতিনিধিত্ব করেছি। কায়সার, কিসরা ও নাজাশী সম্রাটের নিকটে দূত হিসেবে গিয়েছি; কিন্তু আল্লাহর কসম করে বলতে পারি যে, কোন রাজা বাদশাহকেই তার অনুসারীদের মত এত সম্মান করতে দেখিনি, যেমন মুহাম্মাদের অনুসারীরা তাঁকে করে থাকে। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি থুথু ফেলেন, তখন তা কোন সাহাবীর হাতে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে তারা তা তাদের গায়ে মুখে মেখে ফেলেন। তিনি কোন আদেশ দিলে তারা তা সঙ্গে পালন করেন; তিনি ওযু করলে তাঁর ওযুর পানি নিয়ে সাহাবীগণের মধ্যে প্রতিযোগতিা শুরু হয়; তিনি কথা বললে, সাহাবীগণ নিশ্চুপ হয়ে শুনেন। এমনকি তাঁর সম্মার্থে তারা তাঁর চেহারার দিকেও তাকান না। তিনি তোমাদের নিকট একটি ভালো প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, তোমরা তা মেনে নাও। তা শুনে কিনানা গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, আমাকে তাঁর নিকট যেতে দাও। লোকেরা বলল, যাও।

সে যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবীগণের নিকট এল তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ হলো অমুক ব্যক্তি এবং এমন গোত্রের লোক, যারা কুরবানীর পশুকে সম্মান করে থাকে। তোমরা তার নিকট কুরবানীর পশু নিয়ে আস। অতঃপর তার নিকট তা নিয়ে আসা হলো এবং লোকজন তালবিয়া পাঠ করতে করতে তার সামনে এলেন। তা দেখে ব্যক্তিটি বলল, সুবহানাল্লাহ্! এমন সব লোকদেরকে কা‘বা যিয়ারত থেকে বাধা দেয়া সঙ্গত নয়। অতঃপর সে তার সঙ্গীদের নিকট ফিরে গিয়ে বলল, আমি কুরবানীর পশু দেখে এসেছি, সেগুলোকে কিলাদা পরানো হয়েছে ও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই তাদের কা‘বা যিয়ারতে বাধা প্রদান সঙ্গত মনে করি না। তখন তাদের মধ্য থেকে মিকরায ইবনু হাফ্স নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, আমাকে তাঁর নিকট যেতে দাও। তারা বলল, তাঁর নিকট যাও। অতঃপর সে যখন মুসলিমদের নিকটবর্তী হল, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ হল মিকরায আর সে দুষ্ট ব্যক্তি। সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে কথা বলছিল, এমন সময় সুহায়ল ইবনু আমর এল। মা‘মার বলেন, ‘ইকরিমাহ (রহ.) সূত্রে আইয়ুব (রহ.) আমাকে বলেছেন যে, যখন সুহায়ল এল তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ সহজ হয়ে গেল।’

মা‘মার (রহ.) বলেন, যুহরী (রহ.) তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, সুহায়ল ইবনু আমর এসে বলল, আসুন আমাদের ও আপনাদের মধ্যে একটি চুক্তিপত্র লিখি। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন লেখককে ডাকলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (লিখ) بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ  এতে সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! রাহমান কে-? আমরা তা জানি না, বরং পূর্বে আপনি যেমন লিখতেন, লিখুন بِاسْمِكَ اَللَّهُمَّ  মুসলিমগণ বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ব্যতীত আর কিছু লিখব না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, লিখ, بِاسْمِكَ اَللّٰهُمَّ   অতঃপর বললেন, এটা যার উপর চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তখন সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রাসূল বলেই বিশ্বাস করতাম, তাহলে আপনাকে কা‘বা যিয়ারত থেকে বাধা দিতাম না এবং আপনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে উদ্যত হতাম না। বরং আপনি লিখুন, ‘আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদ (এর তরফ থেকে)। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল; যদিও তোমরা আমাকে মিথ্যাবাদী মনে কর। (হে ফাতির!) লিখ, ‘আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ।’ যুহরী (রহ.) বলেন, এটি এজন্য যে, তিনি বলেছিলেন, তারা যদি আল্লাহর পবিত্র বস্তুগুলোর সম্মান করার কোন কথা দাবী করে তাহলে আমি তাদের সে দাবী মেনে নিব। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ চুক্তি কর যে, তারা আমাদের ও কা‘বা শরীফের মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে না, যাতে আমরা (নির্বিঘ্নে) তাওয়াফ করতে পারি। সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! আরববাসীরা যেন একথা বলার সুযোগ না পায় যে, এ প্রস্তাব গ্রহণে আমাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে। বরং আগামী বছর তা হতে পারে। অতঃপর লেখা হলো। সুহায়ল বলল, এও লিখা হউক যে, আমাদের কোন ব্যক্তি যদি আপনার নিকট চলে আসে এবং সে যদিও আপনার দ্বীন গ্রহণ করে থাকে, তবুও তাকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিবেন। মুসলিমগণ বললেন, সুবহানাল্লাহ্! যে ইসলাম গ্রহণ করে আমাদের নিকট এসেছে, তাকে কেমন করে মুশরিকদের নিকট ফেরত দেয়া হতে পারে? এমন সময় আবূ জানদাল ইবনু সুহায়ল ইবনু আমর সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি বেড়ী পরিহিত অবস্থায় ধীরে ধীরে চলছিলেন। তিনি মক্কার নিম্নাঞ্চল থেকে বের হয়ে এসে মুসলিমদের সামনে নিজেকে পেশ করলেন। সুহায়ল বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনার সঙ্গে আমার চুক্তি হয়েছে, সে অনুযায়ী প্রথম কাজ হলো তাকে আমার নিকট ফিরিয়ে দিবেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এখনো তো চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! তাহলে আমি আপনাদের সঙ্গে আর কখনো সন্ধি করব না। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কেবল এ ব্যক্তিটিকে আমার নিকট থাকার অনুমতি দাও। সে বলল, না, এ অনুমতি আমি দেব না। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, তুমি এটা কর। সে বলল, আমি তা করব না। মিকরায বলল, আমরা তাকে আপনার নিকট থাকার অনুমতি দিলাম।

আবূ জানদাল (রাঃ) বলেন, হে মুসলিম সমাজ, আমাকে মুশরিকদের নিকট ফিরিয়ে দেয়া হবে, অথচ আমি মুসলিম হয়ে এসেছি। আপনারা কি দেখছেন না, আমি কত কষ্ট পাচ্ছি। আল্লাহর পথে তাকে অনেক নির্যাতিত করা হয়েছে। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলাম এবং বললাম, আপনি কি আল্লাহর সত্য নবী নন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তা হলে দ্বীনের ব্যাপারে কেন আমরা এত হেয় হবো? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘আমি অবশ্যই রাসূল; অতএব আমি তাঁর অবাধ্য হতে পারি না, অথচ তিনিই আমার সাহায্যকারী।’ আমি বললাম, আপনি কি আমাদের বলেন নাই যে, আমরা শীঘ্রই বায়তুল্লাহ্ যাব এবং তাওয়াফ করব। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি কি এ বছরই আসার কথা বলেছি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই কা‘বা গৃহে যাবে এবং তাওয়াফ করবে। ‘উমার (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বললাম, ‘হে আবূ বকর। তিনি কি আল্লাহর সত্য নবী নন?’ আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ‘অবশ্যই।’ আমি বললাম, আমরা কি সত্যের উপর নই এবং আমাদের দুশমনরা কি বাতিলের উপর নয়? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, নিশ্চয়ই। আমি বললাম, তবে কেন এখন আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে এত হীনতা স্বীকার করব? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ‘ওহে! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রাসূল এবং তিনি তাঁর রবের নাফরমানী করতে পারেন না। তিনিই তাঁর সাহায্যকারী। তুমি তাঁর অনুসরণকে আঁকড়ে ধরো। আল্লাহর কসম! তিনি সত্যের উপর আছেন।’ আমি বললাম, তিনি কি বলেননি যে, আমরা অচিরেই বায়তুল্লাহ্ যাব এবং তার তাওয়াফ করব? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, অবশ্যই। কিন্তু তুমি এবারই যে যাবে একথা কি তিনি বলেছিলেন? আমি বললাম, না। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ‘তবে নিশ্চয়ই তুমি সেখানে যাবে এবং তার তাওয়াফ করবে।’ যুহরী (রহ.) বলেন যে, ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, আমি এর জন্য (অর্থাৎ ধৈর্যহীনতার কাফ্ফারা হিসেবে) অনেক নেক আমল করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, সন্ধিপত্র লেখা শেষ হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবাদেরকে বললেন, ‘তোমরা উঠ এবং কুরবানী কর ও মাথা কামিয়ে ফেল।’ রাবী বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল তিনবার তা বলার পরও কেউ উঠলেন না।’ তাদের কাউকে উঠতে না দেখে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে লোকদের এই আচরণের কথা বলেন। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী, আপনি যদি তাই চান, তাহলে আপনি বাইরে যান ও তাদের সঙ্গে কোন কথা না বলে আপনার উট আপনি কুরবানী করুন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুড়িয়ে নিন।’ সেই অনুযায়ী আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেরিয়ে গেলেন এবং কারো সঙ্গে কোন কথা না বলে নিজের পশু কুরবানী দিলেন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুড়ালেন। তা দেখে সাহাবীগণ উঠে দাঁড়ালেন ও নিজ নিজ পশু কুরবানী দিলেন এবং একে অপরের মাথা কামিয়ে দিলেন। অবস্থা এমন হল যে, ভীড়ের কারণে একে অপরের উপর পড়তে লাগলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কয়েকজন মুসলিম মহিলা এলেন।

তখন আল্লাহ্ তাআলা নাযিল করলেনঃ ‘‘হে মুমিনগণ! মুমিন মহিলারা তোমাদের নিকট হিজরত করে আসলে,...........কাফির নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না।’’ (আল-মুমতাহিনাহঃ ১০)। সেদিন ‘উমার (রাঃ) দু’জন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিলেন, তারা ছিল মুশরিক থাকাকালে তাঁর স্ত্রী। তাদের একজনকে মু‘আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান এবং অপরজনকে সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া বিয়ে করেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনা্য় ফিরে আসলেন। তখন আবূ বাসীর (রাঃ) নামক কুরাইশ গোত্রের এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলেন। মক্কার কুরাইশরা তাঁর তালাশে দু’জন লোক পাঠাল। তারা (রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে) বলল, আপনি আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছেন (তা পূর্ণ করুন)। তিনি তাঁকে ঐ দুই ব্যক্তির হাওয়ালা করে দিলেন। তাঁরা তাঁকে নিয়ে বেরিয়ে গেল এবং যুল-হুলায়ফায় পৌঁছে অবতরণ করল আর তাদের সঙ্গে যে খেজুর ছিল তা খেতে লাগল। আবূ বাসীর (রাঃ) তাদের একজনকে বললেন, আল্লাহর কসম! হে অমুক, তোমার তরবারিটি খুবই চমৎকার দেখছি। সে ব্যক্তিটি তরবারীটি বের করে বলল, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! এটি একটি উৎকৃষ্ট তরবারী। আমি একাধিক বার তার পরীক্ষা করেছি। আবূ বাসীর (রাঃ) বললেন, তলোয়ারটি আমি দেখতে চাই আমাকে তা দেখাও। অতঃপর ব্যক্তিটি আবূ বাসীরকে তলোয়ারটি দিল। আবূ বাসীর (রাঃ) সেটি দ্বারা তাকে এমন আঘাত করলেন যে, তাতে সে মরে গেল। অতঃপর অপর সঙ্গী পালিয়ে মদিনা্য় এসে পৌঁছল এবং দৌড়িয়ে মসজিদে প্রবেশ করল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে দেখে বললেন, এই ব্যক্তিটি ভীতিজনক কিছু দেখে এসেছে। ইতোমধ্যে ব্যক্তিটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছে বলল, আল্লাহর কসম! আমার সঙ্গীকে হত্যা করা হয়েছে, আমিও নিহত হতাম। এমন সময় আবূ বাসীর (রাঃ)-ও সেখানে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আল্লাহ্ আপনার দায়িত্ব সম্পূর্ণ করে দিয়েছেন। আমাকে তার নিকট ফেরত দিয়েছেন; এ ব্যাপারে আল্লাহ্ আমাকে তাদের কবল থেকে নাজাত দিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সর্বনাশ! এতো যুদ্ধের আগুন প্রজ্জ্বলিতকারী, কেউ যদি তাকে বিরত রাখত। আবূ বাসীর (রাঃ) যখন এ কথা শুনলেন, তখন বুঝতে পারলেন যে, তাকে আবার তিনি কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাবেন। তাই তিনি বেরিয়ে নদীর তীরে এসে পড়লেন। রাবী বলেন, এ দিকে আবূ জানদাল ইবনু সুহায়ল কাফিরদের কবল থেকে পালিয়ে এসে আবূ বাসীরের সঙ্গে মিলিত হলেন। অতঃপর থেকে কুরাইশ গোত্রের যে-ই ইসলাম গ্রহণ করতো, সে-ই আবূ বাসীরের সঙ্গে এসে মিলিত হতো। এভাবে তাদের একটি দল হয়ে গেল। আল্লাহর কসম! তাঁরা যখনই শুনতে যে, কুরাইশদের কোন বাণিজ্য কাফিলা সিরিয়া যাবে, তখনই তাঁরা তাদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেন আর তাদের হত্যা করতেন ও তাদের মাল সামান কেড়ে নিতেন। তখন কুরাইশরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট লোক পাঠাল। আল্লাহ্ ও আত্মীয়তার ওয়াসীলাহ দিয়ে আবেদন করল যে, আপনি আবূ বাসীরের নিকট এত্থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ পাঠান। এখন থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কেউ এলে সে নিরাপদ থাকবে (কুরাইশদের নিকট ফেরত পাঠাতে হবে না)। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিকট নির্দেশ পাঠালেন। এ সময় আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করেনঃ وَهُوَ الَّذِيْ كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْم بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ থেকে الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ পর্যন্ত। ‘‘তিনি তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে বিরত রেখেছেন ..... জাহিলী যুগের অহমিকা পর্যন্ত’’  (আল-ফাত্হঃ ২৬)। তাদের অহমিকা এই ছিল যে, তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আল্লাহর নবী বলে স্বীকার করেনি এবং بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ  মেনে নেইনি; বরং বায়তুল্লাহ্ ও মুসলিমদের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।

(১৬৯৪-১৬৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৩১ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৪৪)
হাদিস নং: ২৭৩২ সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن محمد، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، قال اخبرني الزهري، قال اخبرني عروة بن الزبير، عن المسور بن مخرمة، ومروان، يصدق كل واحد منهما حديث صاحبه قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم زمن الحديبية، حتى كانوا ببعض الطريق قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ان خالد بن الوليد بالغميم في خيل لقريش طليعة فخذوا ذات اليمين ‏"‏‏.‏ فوالله ما شعر بهم خالد حتى اذا هم بقترة الجيش، فانطلق يركض نذيرا لقريش، وسار النبي صلى الله عليه وسلم حتى اذا كان بالثنية التي يهبط عليهم منها، بركت به راحلته‏.‏ فقال الناس حل حل‏.‏ فالحت، فقالوا خلات القصواء، خلات القصواء‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ما خلات القصواء، وما ذاك لها بخلق، ولكن حبسها حابس الفيل، ثم قال والذي نفسي بيده لا يسالوني خطة يعظمون فيها حرمات الله الا اعطيتهم اياها ‏"‏‏.‏ ثم زجرها فوثبت، قال فعدل عنهم حتى نزل باقصى الحديبية، على ثمد قليل الماء يتبرضه الناس تبرضا، فلم يلبثه الناس حتى نزحوه، وشكي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم العطش، فانتزع سهما من كنانته، ثم امرهم ان يجعلوه فيه، فوالله ما زال يجيش لهم بالري حتى صدروا عنه، فبينما هم كذلك، اذ جاء بديل بن ورقاء الخزاعي في نفر من قومه من خزاعة، وكانوا عيبة نصح رسول الله صلى الله عليه وسلم من اهل تهامة، فقال اني تركت كعب بن لوى وعامر بن لوى نزلوا اعداد مياه الحديبية، ومعهم العوذ المطافيل، وهم مقاتلوك وصادوك عن البيت‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ انا لم نجى لقتال احد، ولكنا جىنا معتمرين، وان قريشا قد نهكتهم الحرب، واضرت بهم، فان شاءوا ماددتهم مدة، ويخلوا بيني وبين الناس، فان اظهر فان شاءوا ان يدخلوا فيما دخل فيه الناس فعلوا، والا فقد جموا، وان هم ابوا فوالذي نفسي بيده، لاقاتلنهم على امري هذا حتى تنفرد سالفتي، ولينفذن الله امره ‏"‏‏.‏ فقال بديل سابلغهم ما تقول‏.‏ قال فانطلق حتى اتى قريشا قال انا قد جىناكم من هذا الرجل، وسمعناه يقول قولا، فان شىتم ان نعرضه عليكم فعلنا، فقال سفهاوهم لا حاجة لنا ان تخبرنا عنه بشىء‏.‏ وقال ذوو الراى منهم هات ما سمعته يقول‏.‏ قال سمعته يقول كذا وكذا، فحدثهم بما قال النبي صلى الله عليه وسلم‏.‏ فقام عروة بن مسعود فقال اى قوم الستم بالوالد قالوا بلى‏.‏ قال اولست بالولد قالوا بلى‏.‏ قال فهل تتهموني‏.‏ قالوا لا‏.‏ قال الستم تعلمون اني استنفرت اهل عكاظ، فلما بلحوا على جىتكم باهلي وولدي ومن اطاعني قالوا بلى‏.‏ قال فان هذا قد عرض لكم خطة رشد، اقبلوها ودعوني اته‏.‏ قالوا اىته‏.‏ فاتاه فجعل يكلم النبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم نحوا من قوله لبديل، فقال عروة عند ذلك اى محمد، ارايت ان استاصلت امر قومك هل سمعت باحد من العرب اجتاح اهله قبلك وان تكن الاخرى، فاني والله لارى وجوها، واني لارى اوشابا من الناس خليقا ان يفروا ويدعوك‏.‏ فقال له ابو بكر امصص بظر اللات، انحن نفر عنه وندعه فقال من ذا قالوا ابو بكر‏.‏ قال اما والذي نفسي بيده لولا يد كانت لك عندي لم اجزك بها لاجبتك‏.‏ قال وجعل يكلم النبي صلى الله عليه وسلم فكلما تكلم اخذ بلحيته، والمغيرة بن شعبة قاىم على راس النبي صلى الله عليه وسلم ومعه السيف وعليه المغفر، فكلما اهوى عروة بيده الى لحية النبي صلى الله عليه وسلم ضرب يده بنعل السيف، وقال له اخر يدك عن لحية رسول الله صلى الله عليه وسلم‏.‏ فرفع عروة راسه فقال من هذا قالوا المغيرة بن شعبة‏.‏ فقال اى غدر، الست اسعى في غدرتك وكان المغيرة صحب قوما في الجاهلية، فقتلهم، واخذ اموالهم، ثم جاء فاسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اما الاسلام فاقبل، واما المال فلست منه في شىء ‏"‏‏.‏ ثم ان عروة جعل يرمق اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم بعينيه‏.‏ قال فوالله ما تنخم رسول الله صلى الله عليه وسلم نخامة الا وقعت في كف رجل منهم فدلك بها وجهه وجلده، واذا امرهم ابتدروا امره، واذا توضا كادوا يقتتلون على وضوىه، واذا تكلم خفضوا اصواتهم عنده، وما يحدون اليه النظر تعظيما له، فرجع عروة الى اصحابه، فقال اى قوم، والله لقد وفدت على الملوك، ووفدت على قيصر وكسرى والنجاشي والله ان رايت ملكا قط، يعظمه اصحابه ما يعظم اصحاب محمد صلى الله عليه وسلم محمدا، والله ان تنخم نخامة الا وقعت في كف رجل منهم، فدلك بها وجهه وجلده، واذا امرهم ابتدروا امره واذا توضا كادوا يقتتلون على وضوىه، واذا تكلم خفضوا اصواتهم عنده، وما يحدون اليه النظر تعظيما له، وانه قد عرض عليكم خطة رشد، فاقبلوها‏.‏ فقال رجل من بني كنانة دعوني اته‏.‏ فقالوا اىته‏.‏ فلما اشرف على النبي صلى الله عليه وسلم واصحابه، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هذا فلان، وهو من قوم يعظمون البدن فابعثوها له ‏"‏‏.‏ فبعثت له واستقبله الناس يلبون، فلما راى ذلك قال سبحان الله ما ينبغي لهولاء ان يصدوا عن البيت، فلما رجع الى اصحابه قال رايت البدن قد قلدت واشعرت، فما ارى ان يصدوا عن البيت‏.‏ فقام رجل منهم يقال له مكرز بن حفص‏.‏ فقال دعوني اته‏.‏ فقالوا اىته‏.‏ فلما اشرف عليهم قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هذا مكرز وهو رجل فاجر ‏"‏‏.‏ فجعل يكلم النبي صلى الله عليه وسلم، فبينما هو يكلمه اذ جاء سهيل بن عمرو‏.‏ قال معمر فاخبرني ايوب عن عكرمة، انه لما جاء سهيل بن عمرو قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لقد سهل لكم من امركم ‏"‏‏.‏ قال معمر قال الزهري في حديثه فجاء سهيل بن عمرو فقال هات، اكتب بيننا وبينكم كتابا، فدعا النبي صلى الله عليه وسلم الكاتب، فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ بسم الله الرحمن الرحيم ‏"‏‏.‏ قال سهيل اما الرحمن فوالله ما ادري ما هو ولكن اكتب باسمك اللهم‏.‏ كما كنت تكتب‏.‏ فقال المسلمون والله لا نكتبها الا بسم الله الرحمن الرحيم‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اكتب باسمك اللهم ‏"‏‏.‏ ثم قال ‏"‏ هذا ما قاضى عليه محمد رسول الله ‏"‏‏.‏ فقال سهيل والله لو كنا نعلم انك رسول الله ما صددناك عن البيت ولا قاتلناك، ولكن اكتب محمد بن عبد الله‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ والله اني لرسول الله وان كذبتموني‏.‏ اكتب محمد بن عبد الله ‏"‏‏.‏ قال الزهري وذلك لقوله ‏"‏ لا يسالوني خطة يعظمون فيها حرمات الله الا اعطيتهم اياها ‏"‏‏.‏ فقال له النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ على ان تخلوا بيننا وبين البيت فنطوف به ‏"‏‏.‏ فقال سهيل والله لا تتحدث العرب انا اخذنا ضغطة ولكن ذلك من العام المقبل فكتب‏.‏ فقال سهيل وعلى انه لا ياتيك منا رجل، وان كان على دينك، الا رددته الينا‏.‏ قال المسلمون سبحان الله كيف يرد الى المشركين وقد جاء مسلما فبينما هم كذلك اذ دخل ابو جندل بن سهيل بن عمرو يرسف في قيوده، وقد خرج من اسفل مكة، حتى رمى بنفسه بين اظهر المسلمين‏.‏ فقال سهيل هذا يا محمد اول ما اقاضيك عليه ان ترده الى‏.‏ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ انا لم نقض الكتاب بعد ‏"‏‏.‏ قال فوالله اذا لم اصالحك على شىء ابدا‏.‏ قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فاجزه لي ‏"‏‏.‏ قال ما انا بمجيزه لك‏.‏ قال ‏"‏ بلى، فافعل ‏"‏‏.‏ قال ما انا بفاعل‏.‏ قال مكرز بل قد اجزناه لك‏.‏ قال ابو جندل اى معشر المسلمين، ارد الى المشركين وقد جىت مسلما الا ترون ما قد لقيت وكان قد عذب عذابا شديدا في الله‏.‏ قال فقال عمر بن الخطاب فاتيت نبي الله صلى الله عليه وسلم فقلت الست نبي الله حقا قال ‏"‏ بلى ‏"‏‏.‏ قلت السنا على الحق وعدونا على الباطل قال ‏"‏ بلى ‏"‏‏.‏ قلت فلم نعطي الدنية في ديننا اذا قال ‏"‏ اني رسول الله، ولست اعصيه وهو ناصري ‏"‏‏.‏ قلت اوليس كنت تحدثنا انا سناتي البيت فنطوف به قال ‏"‏ بلى، فاخبرتك انا ناتيه العام ‏"‏‏.‏ قال قلت لا‏.‏ قال ‏"‏ فانك اتيه ومطوف به ‏"‏‏.‏ قال فاتيت ابا بكر فقلت يا ابا بكر، اليس هذا نبي الله حقا قال بلى‏.‏ قلت السنا على الحق وعدونا على الباطل قال بلى‏.‏ قلت فلم نعطي الدنية في ديننا اذا قال ايها الرجل، انه لرسول الله صلى الله عليه وسلم وليس يعصي ربه وهو ناصره، فاستمسك بغرزه، فوالله انه على الحق‏.‏ قلت اليس كان يحدثنا انا سناتي البيت ونطوف به قال بلى، افاخبرك انك تاتيه العام قلت لا‏.‏ قال فانك اتيه ومطوف به‏.‏ قال الزهري قال عمر فعملت لذلك اعمالا‏.‏ قال فلما فرغ من قضية الكتاب قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لاصحابه ‏"‏ قوموا فانحروا، ثم احلقوا ‏"‏‏.‏ قال فوالله ما قام منهم رجل حتى قال ذلك ثلاث مرات، فلما لم يقم منهم احد دخل على ام سلمة، فذكر لها ما لقي من الناس‏.‏ فقالت ام سلمة يا نبي الله، اتحب ذلك اخرج ثم لا تكلم احدا منهم كلمة حتى تنحر بدنك، وتدعو حالقك فيحلقك‏.‏ فخرج فلم يكلم احدا منهم، حتى فعل ذلك نحر بدنه، ودعا حالقه فحلقه‏.‏ فلما راوا ذلك، قاموا فنحروا، وجعل بعضهم يحلق بعضا، حتى كاد بعضهم يقتل بعضا غما، ثم جاءه نسوة مومنات فانزل الله تعالى ‏(‏يا ايها الذين امنوا اذا جاءكم المومنات مهاجرات فامتحنوهن‏)‏ حتى بلغ ‏(‏بعصم الكوافر‏)‏ فطلق عمر يومىذ امراتين كانتا له في الشرك، فتزوج احداهما معاوية بن ابي سفيان، والاخرى صفوان بن امية، ثم رجع النبي صلى الله عليه وسلم الى المدينة، فجاءه ابو بصير ـ رجل من قريش ـ وهو مسلم فارسلوا في طلبه رجلين، فقالوا العهد الذي جعلت لنا‏.‏ فدفعه الى الرجلين، فخرجا به حتى بلغا ذا الحليفة، فنزلوا ياكلون من تمر لهم، فقال ابو بصير لاحد الرجلين والله اني لارى سيفك هذا يا فلان جيدا‏.‏ فاستله الاخر فقال اجل، والله انه لجيد، لقد جربت به ثم جربت‏.‏ فقال ابو بصير ارني انظر اليه، فامكنه منه، فضربه حتى برد، وفر الاخر، حتى اتى المدينة، فدخل المسجد يعدو‏.‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين راه ‏"‏ لقد راى هذا ذعرا ‏"‏‏.‏ فلما انتهى الى النبي صلى الله عليه وسلم قال قتل والله صاحبي واني لمقتول، فجاء ابو بصير فقال يا نبي الله، قد والله اوفى الله ذمتك، قد رددتني اليهم ثم انجاني الله منهم‏.‏ قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ويل امه مسعر حرب، لو كان له احد ‏"‏‏.‏ فلما سمع ذلك عرف انه سيرده اليهم، فخرج حتى اتى سيف البحر‏.‏ قال وينفلت منهم ابو جندل بن سهيل، فلحق بابي بصير، فجعل لا يخرج من قريش رجل قد اسلم الا لحق بابي بصير، حتى اجتمعت منهم عصابة، فوالله ما يسمعون بعير خرجت لقريش الى الشام الا اعترضوا لها، فقتلوهم، واخذوا اموالهم، فارسلت قريش الى النبي صلى الله عليه وسلم تناشده بالله والرحم لما ارسل، فمن اتاه فهو امن، فارسل النبي صلى الله عليه وسلم اليهم، فانزل الله تعالى ‏(‏وهو الذي كف ايديهم عنكم وايديكم عنهم ببطن مكة من بعد ان اظفركم عليهم‏)‏ حتى بلغ ‏(‏الحمية حمية الجاهلية‏)‏ وكانت حميتهم انهم لم يقروا انه نبي الله، ولم يقروا ببسم الله الرحمن الرحيم، وحالوا بينهم وبين البيت‏.‏
২৭৩১-২৭৩২. মিস্ওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) ও মারওয়ান (রহ.) হতে বর্ণিত। তাদের উভয়ের একজনের বর্ণনা অপরজনের বর্ণনার সমর্থন করে তাঁরা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুদাইবিয়ার সময় বের হলেন। যখন সাহাবীগণ রাস্তার এক জায়গায় এসে পৌঁছলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘খালিদ ইবনু ওয়ালিদ কুরাইশদের অশ্বারোহী অগ্রবর্তী বাহিনী নিয়ে গোমায়ম নামক স্থানে অবস্থান করছে। তোমরা ডান দিকের রাস্তা ধর।’ আল্লাহর কসম! খালিদ মুসলিমদের উপস্থিতি টেরও পেলো না, এমনকি যখন তারা মুসলিম সেনাবাহিনীর পশ্চাতে ধূলিরাশি দেখতে পেল, তখন সে কুরাইশদের সাবধান করার জন্য ঘোড়া দৌঁড়িয়ে চলে গেল।

এদিকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অগ্রসর হয়ে যখন সেই গিরিপথে উপস্থিত হলেন, যেখান থেকে মক্কার সোজা পথ চলে গিয়েছে, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উটনী বসে পড়ল। লোকজন (তাকে উঠাবার জন্য) ‘হাল-হাল’ বলল, কাস্ওয়া ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, কাসওয়া ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘কাসওয়া ক্লান্ত হয়নি এবং তা তার স্বভাবও নয় বরং তাকে তিনিই আটকিয়েছেন যিনি হস্তি বাহিনীকে আটকিয়ে ছিলেন।’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! কুরাইশরা আল্লাহর সম্মানিত বিষয় সমূহের মধ্যে যে কোন বিষয়ের সম্মান দেখানোর জন্য কিছু চাইলে আমি তা পূরণ করব।’ অতঃপর তিনি তাঁর উষ্ট্রীকে ধমক দিলে সে উঠে দাঁড়াল। রাবী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের পথ ত্যাগ করে হুদায়বিয়ার শেষ সীমায় অল্প পানি বিশিষ্ট কুপের নিকট অবতরণ করেন। লোকজন সেখান থেকে অল্প অল্প করে পানি নিচ্ছিল। এভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন পানি শেষ করে ফেলল এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পিপাসার অভিযোগ পেশ করা হলো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কোষ থেকে একটি তীর বের করলেন এবং সে তীরটি সেই কূপে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। আল্লাহর কসম, তখন পানি উথলে উঠতে লাগল, এমনকি সকলেই তৃপ্তি সহকারে তা থেকে পানি পান করলেন। এমন সময় বুদায়ল ইবনু ওয়ারকা খুযাঈ তার খুযাআ গোত্রের কতিপয় ব্যক্তিদের নিয়ে আসল। তারা তিহামাবাসীদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী ছিল। বুদাইল বলল, আমি কা‘ব ইবনু লুওয়াই ও আমির ইবনু লুওয়াইকে রেখে এসেছি। তারা হুদাইবিয়ার প্রচুর পানির নিকট অবস্থান করছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে বাচ্চাসহ দুগ্ধবতী অনেক উষ্ট্রী। তারা আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ও বাইতুল্লাহ্ যিয়ারতে বাধা দেয়ার জন্য প্রস্তুত।

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘আমি তো কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসিনি; বরং ‘উমরাহ করতে এসেছি। যুদ্ধ অবশ্যই কুরাইশদের দুর্বল করে দিয়েছে, কাজেই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের সঙ্গে সন্ধি করতে পারি আর তারা আমার ও কাফিরদের মধ্যকার বাধা তুলে নিবে। যদি আমি তাদের উপর বিজয় লাভ করি তাহলে অন্যান্য ব্যক্তি ইসলামে যেভাবে প্রবেশ করেছে, তারাও ইচ্ছে করলে তা করতে পারবে। আর না হয়, তারা এ সময়ে শান্তিতে থাকবে। কিন্তু তারা যদি আমার প্রস্তাব অস্বীকার করে, তাহলে সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমার গর্দান আলাদা না হওয়া পর্যন্ত আমরা এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। আর অবশ্যই আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।’ বুদায়ল বলল, ‘আমি আপনার কথা তাদের নিকট পৌঁছিয়ে দিব। অতঃপর বুদায়ল কুরাইশদের নিকট এসে বলল, আমি সেই ব্যক্তিটির কাছ থেকে এসেছি এবং তাঁর নিকট কিছু কথা শুনে এসেছি। তোমরা যদি চাও, তাহলে তোমাদের তা শোনাতে পারি।’ তাদের মধ্যে নির্বোধ লোকেরা বলল, ‘তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট তোমার কিছু বলার দরকার নাই।’ কিন্তু তাদের জ্ঞানসম্পন্ন লোকেরা বলল, ‘তুমি তাঁকে যা বলতে শুনেছ, তা বল।’ তারপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা যা বলেছিলেন, বুদায়ল সব তাদের শুনাল। অতঃপর ‘উরওয়াহ ইবনু মাস‘ঊদ উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে লোকেরা! আমি কি তোমাদের পিতৃতুল্য নই?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।’ ‘উরওয়াহ বলল, ‘তোমরা কি আমার সন্তান তুল্য নও?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ অবশ্যই।’ ‘উরওয়াহ বলল, ‘আমার ব্যাপারে তোমাদের কি কোন অভিযোগ আছে?’ তারা বলল, না। ‘উরওয়াহ বলল, তোমরা কি জান না যে, আমি তোমাদের সাহায্যের জন্য উকাযবাসীদের নিকট আবেদন করেছিলাম এবং তারা আমাদের ডাকে সাড়া দিতে অস্বীকার করলে আমি আমার আত্মীয়-স্বজন, সন্তান-সন্ততি ও আমার অনুগত লোকদের নিয়ে তোমাদের নিকট এসেছিলাম? তারা বলল, হ্যাঁ, জানি। ‘উরওয়াহ বলল, এই ব্যক্তিটি তোমাদের নিকট একটি ভাল প্রস্তাব পেশ করেছেন। তোমরা তা গ্রহণ কর এবং আমাকে তার নিকট যেতে দাও। তারা বলল, আপনি তাঁর নিকট যান।

অতঃপর ‘উরওয়াহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এল এবং তাঁর সঙ্গে কথা শুরু করল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সঙ্গে কথা বললেন, যেমনিভাবে বুদায়লের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ‘উরওয়াহ তখন বলল, হে মুহাম্মদ, আপনি কি চান যে, আপনার কওমকে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন, আপনি কি আপনার পূর্বে আরববাসীদের এমন কারো কথা শুনেছেন যে, সে নিজ কওমের মূলোৎপাটন করতে উদ্যত হয়েছিল? আর যদি অন্য রকম হয়, (তখন আপনার কি অবস্থা হবে?) আল্লাহর কসম! আমি কিছু চেহারা দেখছি এবং বিভিন্ন ধরনের লোক দেখতে পাচ্ছি যাঁরা পালিয়ে যাবে এবং আপনাকে পরিত্যাগ করবে। তখন আবূ বকর (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি লাত দেবীর লজ্জাস্থান চেটে খাও। আমরা কি তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যাব। ‘উরওয়াহ বলল, সে কে? লোকজন বললেন, আবূ বকর। ‘উরওয়াহ বলল, যার হাতে আমার প্রাণ, আমি তাঁর কসম করে বলছি, আমার উপর যদি আপনার ইহসান না থাকত, যার প্রতিদান আমি দিতে পারিনি, তাহলে নিশ্চয়ই আপনার কথার জবাব দিতাম।

রাবী বলেন, ‘উরওয়াহ পুনরায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল। কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়িতে হাত দিত। তখন মুগীরাহ ইবনু শুবা (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শিয়রে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ছিল একটি তরবারী ও মাথায় ছিল লৌহ শিরস্ত্রাণ। ‘উরওয়াহ যখনই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ির দিকে তার হাত বাড়াতো মুগীরাহ (রাঃ) তাঁর তরবারীর হাতল দিয়ে তার হাতে আঘাত করতেন এবং বলতেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ি থেকে তোমার হাত হটাও। ‘উরওয়াহ মাথা তুলে বলল, এ কে? লোকজন বললেন, মুগীরাহ ইবনু শুবাহ। ‘উরওয়াহ বলল, হে গাদ্দার! আমি কি তোমার গাদ্দারীর পরিণতি থেকে তোমাকে উদ্ধারের চেষ্টা করিনি? মুগীরাহ (রাঃ) জাহেলী যুগে কিছু লোকদের সঙ্গে ছিলেন। একদা তাদের হত্যা করে তাদের সহায় সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি তোমার ইসলাম মেনে নিলাম, কিন্তু যে মাল তুমি নিয়েছ, তার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। অতঃপর ‘উরওয়াহ চোখের কোণ দিয়ে সাহাবীদের দিকে তাকাতে লাগল। সে বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো থুথু ফেললে তা সাহাবীদের হাতে পড়তো এবং তা তারা গায়ে মুখে মেখে ফেলতেন। তিনি তাঁদের কোন আদেশ দিলে তা তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে পালন করতেন। তিনি ওযু করলে তাঁর ওযুর পানির জন্য তাঁর সাহাবীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হত। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন তাঁরা নীরবে তা শুনতেন এবং তাঁর সম্মানার্থে সাহাবীগণ তাঁর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতেন না। অতঃপর ‘উরওয়াহ তার সঙ্গীদের নিকট ফিরে গেল এবং বলল, হে আমার কওম, আল্লাহর কসম! আমি অনেক রাজা-বাদশাহর নিকটে প্রতিনিধিত্ব করেছি। কায়সার, কিসরা ও নাজাশী সম্রাটের নিকটে দূত হিসেবে গিয়েছি; কিন্তু আল্লাহর কসম করে বলতে পারি যে, কোন রাজা বাদশাহকেই তার অনুসারীদের মত এত সম্মান করতে দেখিনি, যেমন মুহাম্মাদের অনুসারীরা তাঁকে করে থাকে। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি থুথু ফেলেন, তখন তা কোন সাহাবীর হাতে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে তারা তা তাদের গায়ে মুখে মেখে ফেলেন। তিনি কোন আদেশ দিলে তারা তা সঙ্গে পালন করেন; তিনি ওযু করলে তাঁর ওযুর পানি নিয়ে সাহাবীগণের মধ্যে প্রতিযোগতিা শুরু হয়; তিনি কথা বললে, সাহাবীগণ নিশ্চুপ হয়ে শুনেন। এমনকি তাঁর সম্মার্থে তারা তাঁর চেহারার দিকেও তাকান না। তিনি তোমাদের নিকট একটি ভালো প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, তোমরা তা মেনে নাও। তা শুনে কিনানা গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, আমাকে তাঁর নিকট যেতে দাও। লোকেরা বলল, যাও।

সে যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবীগণের নিকট এল তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ হলো অমুক ব্যক্তি এবং এমন গোত্রের লোক, যারা কুরবানীর পশুকে সম্মান করে থাকে। তোমরা তার নিকট কুরবানীর পশু নিয়ে আস। অতঃপর তার নিকট তা নিয়ে আসা হলো এবং লোকজন তালবিয়া পাঠ করতে করতে তার সামনে এলেন। তা দেখে ব্যক্তিটি বলল, সুবহানাল্লাহ্! এমন সব লোকদেরকে কা‘বা যিয়ারত থেকে বাধা দেয়া সঙ্গত নয়। অতঃপর সে তার সঙ্গীদের নিকট ফিরে গিয়ে বলল, আমি কুরবানীর পশু দেখে এসেছি, সেগুলোকে কিলাদা পরানো হয়েছে ও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই তাদের কা‘বা যিয়ারতে বাধা প্রদান সঙ্গত মনে করি না। তখন তাদের মধ্য থেকে মিকরায ইবনু হাফ্স নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, আমাকে তাঁর নিকট যেতে দাও। তারা বলল, তাঁর নিকট যাও। অতঃপর সে যখন মুসলিমদের নিকটবর্তী হল, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ হল মিকরায আর সে দুষ্ট ব্যক্তি। সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে কথা বলছিল, এমন সময় সুহায়ল ইবনু আমর এল। মা‘মার বলেন, ‘ইকরিমাহ (রহ.) সূত্রে আইয়ুব (রহ.) আমাকে বলেছেন যে, যখন সুহায়ল এল তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ সহজ হয়ে গেল।’

মা‘মার (রহ.) বলেন, যুহরী (রহ.) তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, সুহায়ল ইবনু আমর এসে বলল, আসুন আমাদের ও আপনাদের মধ্যে একটি চুক্তিপত্র লিখি। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন লেখককে ডাকলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (লিখ) بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ  এতে সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! রাহমান কে-? আমরা তা জানি না, বরং পূর্বে আপনি যেমন লিখতেন, লিখুন بِاسْمِكَ اَللَّهُمَّ  মুসলিমগণ বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ব্যতীত আর কিছু লিখব না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, লিখ, بِاسْمِكَ اَللّٰهُمَّ   অতঃপর বললেন, এটা যার উপর চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তখন সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রাসূল বলেই বিশ্বাস করতাম, তাহলে আপনাকে কা‘বা যিয়ারত থেকে বাধা দিতাম না এবং আপনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে উদ্যত হতাম না। বরং আপনি লিখুন, ‘আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদ (এর তরফ থেকে)। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল; যদিও তোমরা আমাকে মিথ্যাবাদী মনে কর। (হে ফাতির!) লিখ, ‘আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ।’ যুহরী (রহ.) বলেন, এটি এজন্য যে, তিনি বলেছিলেন, তারা যদি আল্লাহর পবিত্র বস্তুগুলোর সম্মান করার কোন কথা দাবী করে তাহলে আমি তাদের সে দাবী মেনে নিব। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ চুক্তি কর যে, তারা আমাদের ও কা‘বা শরীফের মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে না, যাতে আমরা (নির্বিঘ্নে) তাওয়াফ করতে পারি। সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! আরববাসীরা যেন একথা বলার সুযোগ না পায় যে, এ প্রস্তাব গ্রহণে আমাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে। বরং আগামী বছর তা হতে পারে। অতঃপর লেখা হলো। সুহায়ল বলল, এও লিখা হউক যে, আমাদের কোন ব্যক্তি যদি আপনার নিকট চলে আসে এবং সে যদিও আপনার দ্বীন গ্রহণ করে থাকে, তবুও তাকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিবেন। মুসলিমগণ বললেন, সুবহানাল্লাহ্! যে ইসলাম গ্রহণ করে আমাদের নিকট এসেছে, তাকে কেমন করে মুশরিকদের নিকট ফেরত দেয়া হতে পারে? এমন সময় আবূ জানদাল ইবনু সুহায়ল ইবনু আমর সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি বেড়ী পরিহিত অবস্থায় ধীরে ধীরে চলছিলেন। তিনি মক্কার নিম্নাঞ্চল থেকে বের হয়ে এসে মুসলিমদের সামনে নিজেকে পেশ করলেন। সুহায়ল বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনার সঙ্গে আমার চুক্তি হয়েছে, সে অনুযায়ী প্রথম কাজ হলো তাকে আমার নিকট ফিরিয়ে দিবেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এখনো তো চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। সুহায়ল বলল, আল্লাহর কসম! তাহলে আমি আপনাদের সঙ্গে আর কখনো সন্ধি করব না। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কেবল এ ব্যক্তিটিকে আমার নিকট থাকার অনুমতি দাও। সে বলল, না, এ অনুমতি আমি দেব না। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, তুমি এটা কর। সে বলল, আমি তা করব না। মিকরায বলল, আমরা তাকে আপনার নিকট থাকার অনুমতি দিলাম।

আবূ জানদাল (রাঃ) বলেন, হে মুসলিম সমাজ, আমাকে মুশরিকদের নিকট ফিরিয়ে দেয়া হবে, অথচ আমি মুসলিম হয়ে এসেছি। আপনারা কি দেখছেন না, আমি কত কষ্ট পাচ্ছি। আল্লাহর পথে তাকে অনেক নির্যাতিত করা হয়েছে। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলাম এবং বললাম, আপনি কি আল্লাহর সত্য নবী নন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তা হলে দ্বীনের ব্যাপারে কেন আমরা এত হেয় হবো? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘আমি অবশ্যই রাসূল; অতএব আমি তাঁর অবাধ্য হতে পারি না, অথচ তিনিই আমার সাহায্যকারী।’ আমি বললাম, আপনি কি আমাদের বলেন নাই যে, আমরা শীঘ্রই বায়তুল্লাহ্ যাব এবং তাওয়াফ করব। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি কি এ বছরই আসার কথা বলেছি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই কা‘বা গৃহে যাবে এবং তাওয়াফ করবে। ‘উমার (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বললাম, ‘হে আবূ বকর। তিনি কি আল্লাহর সত্য নবী নন?’ আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ‘অবশ্যই।’ আমি বললাম, আমরা কি সত্যের উপর নই এবং আমাদের দুশমনরা কি বাতিলের উপর নয়? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, নিশ্চয়ই। আমি বললাম, তবে কেন এখন আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে এত হীনতা স্বীকার করব? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ‘ওহে! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রাসূল এবং তিনি তাঁর রবের নাফরমানী করতে পারেন না। তিনিই তাঁর সাহায্যকারী। তুমি তাঁর অনুসরণকে আঁকড়ে ধরো। আল্লাহর কসম! তিনি সত্যের উপর আছেন।’ আমি বললাম, তিনি কি বলেননি যে, আমরা অচিরেই বায়তুল্লাহ্ যাব এবং তার তাওয়াফ করব? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, অবশ্যই। কিন্তু তুমি এবারই যে যাবে একথা কি তিনি বলেছিলেন? আমি বললাম, না। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ‘তবে নিশ্চয়ই তুমি সেখানে যাবে এবং তার তাওয়াফ করবে।’ যুহরী (রহ.) বলেন যে, ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, আমি এর জন্য (অর্থাৎ ধৈর্যহীনতার কাফ্ফারা হিসেবে) অনেক নেক আমল করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, সন্ধিপত্র লেখা শেষ হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবাদেরকে বললেন, ‘তোমরা উঠ এবং কুরবানী কর ও মাথা কামিয়ে ফেল।’ রাবী বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল তিনবার তা বলার পরও কেউ উঠলেন না।’ তাদের কাউকে উঠতে না দেখে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে লোকদের এই আচরণের কথা বলেন। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী, আপনি যদি তাই চান, তাহলে আপনি বাইরে যান ও তাদের সঙ্গে কোন কথা না বলে আপনার উট আপনি কুরবানী করুন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুড়িয়ে নিন।’ সেই অনুযায়ী আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেরিয়ে গেলেন এবং কারো সঙ্গে কোন কথা না বলে নিজের পশু কুরবানী দিলেন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুড়ালেন। তা দেখে সাহাবীগণ উঠে দাঁড়ালেন ও নিজ নিজ পশু কুরবানী দিলেন এবং একে অপরের মাথা কামিয়ে দিলেন। অবস্থা এমন হল যে, ভীড়ের কারণে একে অপরের উপর পড়তে লাগলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কয়েকজন মুসলিম মহিলা এলেন।

তখন আল্লাহ্ তাআলা নাযিল করলেনঃ ‘‘হে মুমিনগণ! মুমিন মহিলারা তোমাদের নিকট হিজরত করে আসলে,...........কাফির নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না।’’ (আল-মুমতাহিনাহঃ ১০)। সেদিন ‘উমার (রাঃ) দু’জন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিলেন, তারা ছিল মুশরিক থাকাকালে তাঁর স্ত্রী। তাদের একজনকে মু‘আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান এবং অপরজনকে সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া বিয়ে করেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনা্য় ফিরে আসলেন। তখন আবূ বাসীর (রাঃ) নামক কুরাইশ গোত্রের এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলেন। মক্কার কুরাইশরা তাঁর তালাশে দু’জন লোক পাঠাল। তারা (রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে) বলল, আপনি আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছেন (তা পূর্ণ করুন)। তিনি তাঁকে ঐ দুই ব্যক্তির হাওয়ালা করে দিলেন। তাঁরা তাঁকে নিয়ে বেরিয়ে গেল এবং যুল-হুলায়ফায় পৌঁছে অবতরণ করল আর তাদের সঙ্গে যে খেজুর ছিল তা খেতে লাগল। আবূ বাসীর (রাঃ) তাদের একজনকে বললেন, আল্লাহর কসম! হে অমুক, তোমার তরবারিটি খুবই চমৎকার দেখছি। সে ব্যক্তিটি তরবারীটি বের করে বলল, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! এটি একটি উৎকৃষ্ট তরবারী। আমি একাধিক বার তার পরীক্ষা করেছি। আবূ বাসীর (রাঃ) বললেন, তলোয়ারটি আমি দেখতে চাই আমাকে তা দেখাও। অতঃপর ব্যক্তিটি আবূ বাসীরকে তলোয়ারটি দিল। আবূ বাসীর (রাঃ) সেটি দ্বারা তাকে এমন আঘাত করলেন যে, তাতে সে মরে গেল। অতঃপর অপর সঙ্গী পালিয়ে মদিনা্য় এসে পৌঁছল এবং দৌড়িয়ে মসজিদে প্রবেশ করল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে দেখে বললেন, এই ব্যক্তিটি ভীতিজনক কিছু দেখে এসেছে। ইতোমধ্যে ব্যক্তিটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছে বলল, আল্লাহর কসম! আমার সঙ্গীকে হত্যা করা হয়েছে, আমিও নিহত হতাম। এমন সময় আবূ বাসীর (রাঃ)-ও সেখানে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর! আল্লাহর কসম! আল্লাহ্ আপনার দায়িত্ব সম্পূর্ণ করে দিয়েছেন। আমাকে তার নিকট ফেরত দিয়েছেন; এ ব্যাপারে আল্লাহ্ আমাকে তাদের কবল থেকে নাজাত দিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সর্বনাশ! এতো যুদ্ধের আগুন প্রজ্জ্বলিতকারী, কেউ যদি তাকে বিরত রাখত। আবূ বাসীর (রাঃ) যখন এ কথা শুনলেন, তখন বুঝতে পারলেন যে, তাকে আবার তিনি কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাবেন। তাই তিনি বেরিয়ে নদীর তীরে এসে পড়লেন। রাবী বলেন, এ দিকে আবূ জানদাল ইবনু সুহায়ল কাফিরদের কবল থেকে পালিয়ে এসে আবূ বাসীরের সঙ্গে মিলিত হলেন। অতঃপর থেকে কুরাইশ গোত্রের যে-ই ইসলাম গ্রহণ করতো, সে-ই আবূ বাসীরের সঙ্গে এসে মিলিত হতো। এভাবে তাদের একটি দল হয়ে গেল। আল্লাহর কসম! তাঁরা যখনই শুনতে যে, কুরাইশদের কোন বাণিজ্য কাফিলা সিরিয়া যাবে, তখনই তাঁরা তাদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেন আর তাদের হত্যা করতেন ও তাদের মাল সামান কেড়ে নিতেন। তখন কুরাইশরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট লোক পাঠাল। আল্লাহ্ ও আত্মীয়তার ওয়াসীলাহ দিয়ে আবেদন করল যে, আপনি আবূ বাসীরের নিকট এত্থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ পাঠান। এখন থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কেউ এলে সে নিরাপদ থাকবে (কুরাইশদের নিকট ফেরত পাঠাতে হবে না)। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিকট নির্দেশ পাঠালেন। এ সময় আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করেনঃ وَهُوَ الَّذِيْ كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْم بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ থেকে الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ পর্যন্ত। ‘‘তিনি তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে বিরত রেখেছেন ..... জাহিলী যুগের অহমিকা পর্যন্ত’’  (আল-ফাত্হঃ ২৬)। তাদের অহমিকা এই ছিল যে, তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আল্লাহর নবী বলে স্বীকার করেনি এবং بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ  মেনে নেইনি; বরং বায়তুল্লাহ্ ও মুসলিমদের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।

(১৬৯৪-১৬৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৩১ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৪৪)
হাদিস নং: ২৭৩৩ সহিহ (Sahih)
وقال عقيل عن الزهري، قال عروة فاخبرتني عاىشة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يمتحنهن، وبلغنا انه لما انزل الله تعالى ان يردوا الى المشركين ما انفقوا على من هاجر من ازواجهم، وحكم على المسلمين، ان لا يمسكوا بعصم الكوافر، ان عمر طلق امراتين قريبة بنت ابي امية، وابنة جرول الخزاعي، فتزوج قريبة معاوية، وتزوج الاخرى ابو جهم، فلما ابى الكفار ان يقروا باداء ما انفق المسلمون على ازواجهم، انزل الله تعالى ‏(‏وان فاتكم شىء من ازواجكم الى الكفار فعاقبتم‏)‏ والعقب ما يودي المسلمون الى من هاجرت امراته من الكفار، فامر ان يعطى من ذهب له زوج من المسلمين ما انفق من صداق نساء الكفار اللاىي هاجرن، وما نعلم احدا من المهاجرات ارتدت بعد ايمانها‏.‏ وبلغنا ان ابا بصير بن اسيد الثقفي قدم على النبي صلى الله عليه وسلم مومنا مهاجرا في المدة، فكتب الاخنس بن شريق الى النبي صلى الله عليه وسلم يساله ابا بصير، فذكر الحديث‏.‏
২৭৩৩. ‘উকাইল (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন যে, আমার নিকট ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলিম নারীদের পরীক্ষা করতেন এবং আমাদের নিকট এ বর্ণনা পৌঁছেছে যে, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করেন, মুসলিমগণ যেন মুশরিক স্বামীদের সে সব খরচ আদায় করে দেয়, যা তারা তাদের হিজরতকারী স্ত্রীদের জন্য ব্যয় করেছে এবং মুসলিমদের নির্দেশ দেন যেন তারা কাফির স্ত্রীদের আটকিয়ে না রাখে। তখন ‘উমার (রাঃ) তাঁর দুই স্ত্রী কুরাইবাহ বিন্তু আবূ উমায়্যাহ ও বিনতে জারওয়াল খুযায়ীকে তালাক দিয়ে দেন। অতঃপর কুরাইবাহকে মু‘আবিয়াহ ও অপরজনকে আবূ জাহাম বিয়ে করে নেয়। অতঃপর কাফিররা যখন মুসলিমদের তাদের স্ত্রীদের জন্য খরচকৃত অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকার করল, তখন নাযিল হলঃ  ‘‘তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাত ছাড়া হয়ে কাফিরদের কাছে চলে যায়, তবে তোমরা তার বদলা নিবে’’- (আল-মুমতাহিনাহঃ ১১)। বদলা হলঃ কাফিরদের স্ত্রী যারা হিজরত করে চলে আসে, তাদের কাফির স্বামীকে মাহর মুসলিমদের যা দিতে হয়, এ সম্বন্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দেন যে, তারা যেন মুসলিমদের যে সব স্ত্রী চলে গেছে ঐ অর্থ তাদের মুসলিম স্বামীদেরকে দিয়ে দেয়। [যুহরী (রহ.) আরো বলেন] এমন কোন মুহাজির নারীর কথা আমাদের জানা নেই, যে ঈমান আনার পর মুরতাদ হয়ে চলে গেছে। আমাদের কাছে এ বর্ণনা পৌঁছেছে যে, আবূ বাসীর ইবনু আসীদ সাকাফী (রাঃ) ঈমান এনে চুক্তির মেয়াদের মধ্যে নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হিজরত করে চলে আসলেন। তখন আখনাস ইবনু শারীক আবূ বাসীর (রাঃ)-কে ফেরত চেয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পত্র লিখল। অতঃপর তিনি হাদীসের বাকি অংশ বর্ণনা করেছেন। (২৭১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৩১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৪৪ শেষাংশ)
হাদিস নং: ২৭৩৪ সহিহ (Sahih)
وقال الليث حدثني جعفر بن ربيعة عن عبد الرحمن بن هرمز عن ابي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه ذكر رجلا سال بعض بني اسراىيل ان يسلفه الف دينار فدفعها اليه الى اجل مسمى وقال ابن عمر رضي الله عنهما وعطاء اذا اجله في القرض جاز
২৭৩৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তির উল্লেখ করে বলেন যে, সে বানূ ইসরাঈলের এক ব্যক্তির নিকট এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা ধার চাইলে সে তাকে নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধের শর্তে তা দিল। ইবনে ‘উমার (রাঃ) এবং ‘আত্বা (রহ.) বলেন, ঋণের ব্যাপারে সময় নির্ধারিত করা হলে তা জায়িয। (১৪৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭০২ পরিচ্ছেদ)
হাদিস নং: ২৭৩৫ সহিহ (Sahih)
.حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن يحيى عن عمرة عن عاىشة رضي الله عنها قالت اتتها بريرة تسالها في كتابتها فقالت ان شىت اعطيت اهلك ويكون الولاء لي فلما جاء رسول الله ذكرته ذلك قال النبي صلى الله عليه وسلم ابتاعيها فاعتقيها فانما الولاء لمن اعتق ثم قام رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر فقال ما بال اقوام يشترطون شروطا ليست في كتاب الله من اشترط شرطا ليس في كتاب الله فليس له وان اشترط ماىة شرط
وَقَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِي الْمُكَاتَبِ شُرُوطُهُمْ بَيْنَهُمْ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ أَوْ عُمَرُ كُلُّ شَرْطٍ خَالَفَ كِتَابَ اللهِ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ اشْتَرَطَ مِائَةَ شَرْطٍ قَالَ أَبُوْ عَبْد اللهِ وَيُقَالُ عَنْ كِلَيْهِمَا عَنْ عُمَرَ وَابْنِ عُمَرَ

জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) মুকাতাব সম্পর্কে বলেন, গোলাম ও মালিকের মধ্যে সম্পাদিত শর্তই কার্যকর হবে। ইবনু ’উমার অথবা ’উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কিতাবের বিরোধী সকল শর্ত বাতিল তা শত শর্ত হলেও। আবূ ’আবদুল্লাহ [বুখারী (রহ.)] বলেন, কথাটি ’উমার ও ইবনু ’উমার (রাঃ) উভয় থেকেই বর্ণিত আছে।


২৭৩৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা তার কিতাবাতের ব্যাপারে তাঁর নিকট সাহায্যের আবেদন নিয়ে এল। তিনি বললেন, তুমি চাইলে আমি (কিতাবাতের সমুদয় প্রাপ্য) তোমার মালিককে দিয়ে দিতে পারি এবং ’ওয়ালা’র অধিকার হবে আমার। অতঃপর যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এলেন, তিনি তাঁর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাকে কিনে মুক্ত করে দাও। কেননা ’ওয়ালা’র অধিকার তারই, যে মুক্ত করে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেন, ’লোকদের কী হয়েছে যে, তারা এমন সব শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই! যে এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, সে তার অধিকারী হবে না যদিও শত শর্তারোপ করে।’ (৪৫৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৪৫)
হাদিস নং: ২৭৩৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان لله تسعة وتسعين اسما ماىة الا واحدا من احصاها دخل الجنة
وَقَالَ ابْنُ عَوْنٍ عَنْ ابْنِ سِيْرِيْنَ قَالَ رَجُلٌ لِكَرِيِّهِ أَرْحِلْ رِكَابَكَ فَإِنْ لَمْ أَرْحَلْ مَعَكَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا فَلَكَ مِائَةُ دِرْهَمٍ فَلَمْ يَخْرُجْ فَقَالَ شُرَيْحٌ مَنْ شَرَطَ عَلَى نَفْسِهِ طَائِعًا غَيْرَ مُكْرَهٍ فَهُوَ عَلَيْهِ وَقَالَ أَيُّوْبُ عَنْ ابْنِ سِيْرِيْنَ إِنَّ رَجُلًا بَاعَ طَعَامًا وَقَالَ إِنْ لَمْ آتِكَ الأَرْبِعَاءَ فَلَيْسَ بَيْنِيْ وَبَيْنَكَ بَيْعٌ فَلَمْ يَجِئْ فَقَالَ شُرَيْحٌ لِلْمُشْتَرِيْ أَنْتَ أَخْلَفْتَ فَقَضَى عَلَيْهِ

ইবনু ’আওন (রহ.) ইবনু সীরীন (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি তার (সওয়ারীর) কেরায়াদারকে বলল, তুমি তোমার সওয়ারী রাখ আমি যদি অমুক দিন তোমার সঙ্গে না যাই, তাহলে তুমি একশ’ দিরহাম পাবে, কিন্তু সে গেলো না। কাযী শুরাইহ (রহ.) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বিনা চাপে নিজের উপর কোন শর্তারোপ করে, তাহলে তা তার উপর বর্তায়। ইবনু সীরীন (রহ.) থেকে আইয়ুব (রহ.) বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কিছু খাদ্য-দ্রব্য বিক্রি করল এবং (ক্রেতা) তাকে বলল, আমি যদি বুধবার তোমার নিকট না আসি তবে তোমার আমার মধ্যে কোন বেচা-কেনা নেই। অতঃপর সে এল না। তাতে কাযী শুরাইহ (রহ.) ক্রেতাকে বললেন, তুমি ওয়াদা খেলাফ করেছ। তাই তিনি ক্রেতার বিপক্ষে ফায়সালা দিলেন।


২৭৩৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর নিরানব্বই অর্থাৎ এক কম একশ’টি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি তা মনে রাখবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (৬৪১০, ৭৩৯২) (মুসলিম ৪৮/২ হাঃ ২৬৭৭, আহমাদ ৭৫০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৪৬)
হাদিস নং: ২৭৩৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري حدثنا ابن عون قال انباني نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما ان عمر بن الخطاب اصاب ارضا بخيبر فاتى النبي صلى الله عليه وسلم يستامره فيها فقال يا رسول الله اني اصبت ارضا بخيبر لم اصب مالا قط انفس عندي منه فما تامر به قال ان شىت حبست اصلها وتصدقت بها قال فتصدق بها عمر انه لا يباع ولا يوهب ولا يورث وتصدق بها في الفقراء وفي القربى وفي الرقاب وفي سبيل الله وابن السبيل والضيف لا جناح على من وليها ان ياكل منها بالمعروف ويطعم غير متمول قال فحدثت به ابن سيرين فقال غير متاثل مالا
২৭৩৭. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) খায়বারে কিছু জমি লাভ করেন। তিনি এ জমির ব্যাপারে পরামর্শের জন্য আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলেন এবং বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি খায়বারে এমন উৎকৃষ্ট কিছু জমি লাভ করেছি যা ইতিপূর্বে আর কখনো পাইনি। আপনি আমাকে এ ব্যাপারে কী আদেশ দেন? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তুমি ইচ্ছা করলে জমির মূলসত্ত্ব ওয়াক্ফে রাখতে এবং উৎপন্ন বস্তু সাদাকা করতে পার।’ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) এ শর্তে তা সাদাকা (ওয়াক্ফ) করেন যে, তা বিক্রি করা যাবে না, তা দান করা যাবে না এবং কেউ এর উত্তরাধিকারী হবে না।’ তিনি সাদাকা করে দেন এর উৎপন্ন বস্তু অভাবগ্রস্ত, আত্মীয়-স্বজন, দাসমুক্তি, আল্লাহর রাস্তায়, মুসাফির ও মেহমানদের জন্য। (রাবী আরও বললেন) যে এর মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য সম্পদ সঞ্চয় না করে ন্যায়সঙ্গতভাবে খাওয়া ও খাওয়ানোতে কোন দোষ নেই। অতঃপর আমি ইবনু সীরীন (রহ.)-এর নিকট হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বলেন, অর্থাৎ মাল জমা না করে। (২৩১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৪৮)
অধ্যায় তালিকা