হাদিস নং: ২৭৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام بن يوسف، ان ابن جريج، اخبرهم قال اخبرني يعلى، انه سمع عكرمة، مولى ابن عباس يقول انبانا ابن عباس، ان سعد بن عبادة ـ رضى الله عنهم ـ اخا بني ساعدة توفيت امه وهو غاىب، فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ان امي توفيت وانا غاىب عنها، فهل ينفعها شىء ان تصدقت به عنها قال " نعم ". قال فاني اشهدك ان حاىطي المخراف صدقة عليها.
২৭৬২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, বানু সা‘ঈদাহ’র নেতা সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ)-এর মা মারা গেলেন। তখন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। অতঃপর নবী (সা) এর নিকট এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা আমার অনুপস্থিতিতে মারা গেছেন। এখন আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে সাদাকা্ করি, তবে তা কি তাঁর কোন উপকারে আসবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। সা‘দ (রাঃ) বললেন, ‘তাহলে আপনাকে সাক্ষী করে আমি আমার মিখরাফের বাগানটি তাঁর উদ্দেশ্যে সাদাকা করলাম। (২৭৫৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭১)
হাদিস নং: ২৭৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال كان عروة بن الزبير يحدث انه سال عاىشة ـ رضى الله عنها – (وان خفتم ان لا تقسطوا في اليتامى فانكحوا ما طاب لكم من النساء) قالت هي اليتيمة في حجر وليها، فيرغب في جمالها ومالها، ويريد ان يتزوجها بادنى من سنة نساىها، فنهوا عن نكاحهن، الا ان يقسطوا لهن في اكمال الصداق، وامروا بنكاح من سواهن من النساء قالت عاىشة ثم استفتى الناس رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد فانزل الله عز وجل (ويستفتونك في النساء قل الله يفتيكم فيهن) قالت فبين الله في هذه ان اليتيمة اذا كانت ذات جمال ومال رغبوا في نكاحها، ولم يلحقوها بسنتها باكمال الصداق، فاذا كانت مرغوبة عنها في قلة المال والجمال تركوها والتمسوا غيرها من النساء، قال فكما يتركونها حين يرغبون عنها فليس لهم ان ينكحوها اذا رغبوا فيها الا ان يقسطوا لها الاوفى من الصداق ويعطوها حقها.
২৭৬৩. ‘উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لَّا تُقْسِطُوْا فِي الْيَتٰمٰى فَانْكِحُوْا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنْ النِّسَآءِ
‘‘যদি আশংকা কর যে, তাদের মধ্যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের স্বত্বাধীন ক্রীতদাসীকে’’- (আন-নিসা ৩)। আয়াতটির অর্থ কী? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, এখানে সেই ইয়াতীম মেয়েদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যে তার অভিভাবকের লালন-পালনে থাকে। অতঃপর সে অভিভাবক তার রূপ-লাবণ্য ও ধন-সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে, তার সম মানের মেয়েদের প্রচলিত মাহর থেকে কম দিয়ে তাকে বিয়ে করতে চায়। অতএব যদি মাহর পূর্ণ করার ব্যাপারে এদের প্রতি ইনসাফ করতে না পারে তবে ঐ অভিভাবকদেরকে নিষেধ করা হয়েছে এদের বিবাহ করতে এবং নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের ব্যতীত অন্য মেয়েদের তোমরা বিবাহ করবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর লোকেরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আল্লাহ্ তা‘আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ
وَيَسْتَفْتُوْنَكَ فِي النِّسَآءِ قُلِ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِيْهِنَّ
‘‘আর লোকেরা আপনার কাছে নারীদের সম্বন্ধে বিধান জানতে চায়। বলুনঃ আল্লাহ্ তাদের সম্বন্ধে তোমাদের ব্যবস্থা দিচ্ছেন’’- (আন-নিসা ১২৭)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াতে বর্ণনা করেন যে, ইয়াতীম মেয়েরা সুন্দরী ও সম্পদশালীনী হলে অভিভাবকরা তাদের বিয়ে করতে আগ্রহী হয়, কিন্তু পূর্ণ মাহর প্রদান করে না। আবার ইয়াতীম মেয়েরা গরীব হলে এবং সুশ্রী না হলে তাদের বিয়ে করতে চায় না বরং অন্য মেয়ে তালাশ করে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন যে, আকর্ষণীয়া না হলে তারা যেমন ইয়াতীম মেয়েদের পরিত্যাগ করে, তেমনি আকর্ষণীয়া মেয়েদেরও তারা বিয়ে করতে পারবে না, যদি তাদের ইনসাফের ভিত্তিতে পূর্ণ মাহর প্রদান এবং তাদের হক ন্যায়সঙ্গতভাবে আদায় না করে। (২৪৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭২)
‘‘যদি আশংকা কর যে, তাদের মধ্যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের স্বত্বাধীন ক্রীতদাসীকে’’- (আন-নিসা ৩)। আয়াতটির অর্থ কী? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, এখানে সেই ইয়াতীম মেয়েদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যে তার অভিভাবকের লালন-পালনে থাকে। অতঃপর সে অভিভাবক তার রূপ-লাবণ্য ও ধন-সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে, তার সম মানের মেয়েদের প্রচলিত মাহর থেকে কম দিয়ে তাকে বিয়ে করতে চায়। অতএব যদি মাহর পূর্ণ করার ব্যাপারে এদের প্রতি ইনসাফ করতে না পারে তবে ঐ অভিভাবকদেরকে নিষেধ করা হয়েছে এদের বিবাহ করতে এবং নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের ব্যতীত অন্য মেয়েদের তোমরা বিবাহ করবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর লোকেরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আল্লাহ্ তা‘আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ
وَيَسْتَفْتُوْنَكَ فِي النِّسَآءِ قُلِ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِيْهِنَّ
‘‘আর লোকেরা আপনার কাছে নারীদের সম্বন্ধে বিধান জানতে চায়। বলুনঃ আল্লাহ্ তাদের সম্বন্ধে তোমাদের ব্যবস্থা দিচ্ছেন’’- (আন-নিসা ১২৭)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াতে বর্ণনা করেন যে, ইয়াতীম মেয়েরা সুন্দরী ও সম্পদশালীনী হলে অভিভাবকরা তাদের বিয়ে করতে আগ্রহী হয়, কিন্তু পূর্ণ মাহর প্রদান করে না। আবার ইয়াতীম মেয়েরা গরীব হলে এবং সুশ্রী না হলে তাদের বিয়ে করতে চায় না বরং অন্য মেয়ে তালাশ করে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন যে, আকর্ষণীয়া না হলে তারা যেমন ইয়াতীম মেয়েদের পরিত্যাগ করে, তেমনি আকর্ষণীয়া মেয়েদেরও তারা বিয়ে করতে পারবে না, যদি তাদের ইনসাফের ভিত্তিতে পূর্ণ মাহর প্রদান এবং তাদের হক ন্যায়সঙ্গতভাবে আদায় না করে। (২৪৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭২)
হাদিস নং: ২৭৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا هارون بن الاشعث حدثنا ابو سعيد مولى بني هاشم حدثنا صخر بن جويرية عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما ان عمر تصدق بمال له على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان يقال له ثمغ وكان نخلا فقال عمر يا رسول الله اني استفدت مالا وهو عندي نفيس فاردت ان اتصدق به فقال النبي صلى الله عليه وسلم تصدق باصله لا يباع ولا يوهب ولا يورث ولكن ينفق ثمره فتصدق به عمر فصدقته تلك في سبيل الله وفي الرقاب والمساكين والضيف وابن السبيل ولذي القربى ولا جناح على من وليه ان ياكل منه بالمعروف او يوكل صديقه غير متمول به
২৭৬৪. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময়ে ‘উমার (রাঃ) নিজের কিছু সম্পত্তি সাদাকা করেছিলেন, তা ছিল, ছামাগ নামে একটি খেজুর বাগান। ‘উমার (রাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি সম্পদ পেয়েছি, যা আমার নিকট খুবই পছন্দনীয়। আমি সেটি সাদাকা করতে চাই।’ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘মূল সম্পদটি এ শর্তে সাদাকা কর যে তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং কেউ ওয়ারিস হবে না, বরং তার ফল দান করা হবে। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) সেটি এভাবেই সাদাকা করলেন। তার এ সাদাকা ব্যয় হবে আল্লাহর রাস্তায়, দাস মুক্তির ব্যাপারে, মিসকীন, মেহমান, মুসাফির ও আত্মীয়দের জন্য। এর যে মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য তা থেকে সঙ্গত পরিমাণ আহার করলে কিংবা বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ালে কোন দোষ নেই। তবে তা সঞ্চয় করা যাবে না। (২৩১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭৩)
হাদিস নং: ২৭৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد بن اسماعيل، حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها – (ومن كان غنيا فليستعفف ومن كان فقيرا فلياكل بالمعروف). قالت انزلت في والي اليتيم ان يصيب من ماله اذا كان محتاجا بقدر ماله بالمعروف.
২৭৬৫. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ) যে বিত্তবান সে যেন বিরত থাকে আর যে বিত্তহীন সে যেন সংগত পরিমাণ ভোগ করে (৪ঃ ৬)। আয়াতটি ইয়াতীমের অভিভাবক সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। অভিভাবক যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তাহলে ন্যায়সঙ্গতভাবে ইয়াতীমের সম্পত্তি থেকে খেতে পারবে। (২২১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭৪)
হাদিস নং: ২৭৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله قال حدثني سليمان بن بلال عن ثور بن زيد المدني عن ابي الغيث عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اجتنبوا السبع الموبقات قالوا يا رسول الله وما هن قال الشرك بالله والسحر وقتل النفس التي حرم الله الا بالحق واكل الربا واكل مال اليتيم والتولي يوم الزحف وقذف المحصنات المومنات الغافلات
২৭৬৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেন, (১) আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা (২) যাদু (৩) আল্লাহ্ তা‘আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়ত সম্মত কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা (৪) সুদ খাওয়া (৫) ইয়াতীমের মাল গ্রাস করা (৬) রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং (৭) সরল স্বভাবা সতী-সাধ্বী মু’মিনাদের অপবাদ দেয়া। (৫৭৬৪, ৬৮৫৭) (মুসলিম ১/৩৮ হাঃ ৮৯, ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭৫)
হাদিস নং: ২৭৬৭
সহিহ (Sahih)
وقال لنا سليمان حدثنا حماد، عن ايوب، عن نافع، قال ما رد ابن عمر على احد وصية. وكان ابن سيرين احب الاشياء اليه في مال اليتيم ان يجتمع اليه نصحاوه واولياوه فينظروا الذي هو خير له. وكان طاوس اذا سىل عن شىء من امر اليتامى قرا (والله يعلم المفسد من المصلح). وقال عطاء في يتامى الصغير والكبير ينفق الولي على كل انسان بقدره من حصته.
لَاعْنَتَكُمْ এর অর্থ তোমাদের ক্ষতিগ্রস্ত এবং কষ্টে ফেলতে পারতেন। وَعَنَتِ ( طه : ১১১) শব্দের অর্থঃ নত হল।
২৭৬৭. নাফি (রহ.) হতে বর্ণিত। ইবনু ‘উমার (রাঃ) কখনো কারো অসীয়াত প্রত্যাখ্যান করেননি। ইবনু সীরীন (রহ.)-এর নিকট ইয়াতীমের মাল সম্পর্কে সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল, অভিভাবক ও শুভাকাঙক্ষীদের একত্রিত হওয়া, যাতে তারা তার কল্যাণের কথা বিবেচনা করে। তাউস (রহ.)-এর নিকট ইয়াতীমের ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করা হলে তিনি পাঠ করতেনঃ ‘‘আল্লাহ্ জানেন কে হিতকারী আর কে অনিষ্টকারী।’’ (আল-বাকারাহঃ ২২০) ‘আত্বা (রহ.) বলেন, ইয়াতীম ছোট হোক কিংবা বড়, অভিভাবক তার অংশ থেকে প্রত্যেকের জন্য পরিমাণ মত ব্যয় করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২৮ পরিচ্ছেদ)
২৭৬৭. নাফি (রহ.) হতে বর্ণিত। ইবনু ‘উমার (রাঃ) কখনো কারো অসীয়াত প্রত্যাখ্যান করেননি। ইবনু সীরীন (রহ.)-এর নিকট ইয়াতীমের মাল সম্পর্কে সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল, অভিভাবক ও শুভাকাঙক্ষীদের একত্রিত হওয়া, যাতে তারা তার কল্যাণের কথা বিবেচনা করে। তাউস (রহ.)-এর নিকট ইয়াতীমের ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করা হলে তিনি পাঠ করতেনঃ ‘‘আল্লাহ্ জানেন কে হিতকারী আর কে অনিষ্টকারী।’’ (আল-বাকারাহঃ ২২০) ‘আত্বা (রহ.) বলেন, ইয়াতীম ছোট হোক কিংবা বড়, অভিভাবক তার অংশ থেকে প্রত্যেকের জন্য পরিমাণ মত ব্যয় করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭২৮ পরিচ্ছেদ)
হাদিস নং: ২৭৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا يعقوب بن ابراهيم بن كثير حدثنا ابن علية حدثنا عبد العزيز عن انس قال قدم رسول الله المدينة ليس له خادم فاخذ ابو طلحة بيدي فانطلق بي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله ان انسا غلام كيس فليخدمك قال فخدمته في السفر والحضر ما قال لي لشيء صنعته لم صنعت هذا هكذا ولا لشيء لم اصنعه لم لم تصنع هذا هكذا
২৭৬৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনা্য় এলেন, তখন তাঁর কোন খাদিম ছিল না। আবূ ত্বলহা (রাঃ) আমার হাত ধরে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আমাকে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আনাস একজন বুদ্ধিমান ছেলে। সে আপনার খেদমত করবে।’ অতঃপর সফরে ও আবাসে আমি তাঁর খেদমত করেছি। আমার কোন কাজ সম্পর্কে তিনি কখনো বলেননি, তুমি এরূপ কেন করলে? কোন কাজ না করলে তিনি বলেননি, তুমি এটি এরকম কেন করলে না? (৬০৩৮,৬৯১১) (মুসলিম ৪৩/১৩ হাঃ ২৩০৯, ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭৬)
হাদিস নং: ২৭৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة، انه سمع انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ يقول كان ابو طلحة اكثر انصاري بالمدينة مالا من نخل، وكان احب ماله اليه بيرحاء مستقبلة المسجد، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يدخلها ويشرب من ماء فيها طيب. قال انس فلما نزلت (لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون) قام ابو طلحة فقال يا رسول الله ان الله يقول (لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون) وان احب اموالي الى بيرحاء، وانها صدقة لله ارجو برها وذخرها عند الله، فضعها حيث اراك الله. فقال " بخ، ذلك مال رابح ـ او رايح ـ شك ابن مسلمة وقد سمعت ما قلت، واني ارى ان تجعلها في الاقربين ". قال ابو طلحة افعل ذلك يا رسول الله. فقسمها ابو طلحة في اقاربه وفي بني عمه. وقال اسماعيل وعبد الله بن يوسف ويحيى بن يحيى عن مالك " رايح ".
২৭৬৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মদিনা্য় আনসারদের মধ্যে আবূ ত্বলহার খেজুর বাগান-সম্পদ সবচেয়ে অধিক ছিল। আর সকল সম্পদের মধ্যে তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ ছিল মসজিদের সামনে অবস্থিত বায়রুহা বাগানটি। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে বাগানে যেতেন এবং এর সুস্বাদু পানি পান করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, যখন নাযিল হলঃ ‘‘তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা নেকী হাসিল করতে পারবে না।’’ আবূ ত্বলহা (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ্ বলেছেনঃ ‘‘তোমরা যা ভালবাস, তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো নেকী হাসিল করতে পারবে না।’’ আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো বায়রুহা। সেটি আল্লাহর নামে সাদাকা। আমি আল্লাহর নিকট এর সওয়াব ও কিয়ামতের সঞ্চয়ের আশা করি। আল্লাহর মর্জি অনুযায়ী আপনি তা ব্যয় করুন।’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘ভাল কথা! এটি লাভজনক সম্পদ অথবা (বললেন), অস্থায়ী সম্পদ।’ ইবনু মাসলামা সন্দেহ পোষণ করেন। [রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন] তুমি যা বলেছ, আমি তা শুনেছি। আমার মতে তুমি তা তোমার আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করে দাও। আবূ ত্বলহা (রাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা-ই করব।’ অতঃপর তিনি তা তার আত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। ইসমাঈল, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ইউসুফ, ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রাঃ) মালিক (রাঃ)-এর (সন্দেহ ব্যতীতই) رَايَحِ (অস্থায়ী) বর্ণনা করেছেন। (১৪৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭৭)
হাদিস নং: ২৭৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الرحيم اخبرنا روح بن عبادة حدثنا زكرياء بن اسحاق قال حدثني عمرو بن دينار عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما ان رجلا قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم ان امه توفيت اينفعها ان تصدقت عنها قال نعم قال فان لي مخرافا واشهدك اني قد تصدقت به عنها
২৭৭০. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক সাহাবী আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন যে, তার মা মারা গেছেন। তার পক্ষ থেকে যদি আমি সাদাকা করি তাহলে তা কি তার উপকারে আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সাহাবী বললেন, আমার একটি বাগান আছে, আপনাকে সাক্ষী রেখে আমি তার পক্ষ থেকে সাদাকা করলাম। (২৭৫৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭৮)
হাদিস নং: ২৭৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا عبد الوارث عن ابي التياح عن انس قال امر النبي صلى الله عليه وسلم ببناء المسجد فقال يا بني النجار ثامنوني بحاىطكم هذا قالوا لا والله لا نطلب ثمنه الا الى الله
২৭৭১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাসজিদ তৈরির নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বললেন, হে বানূ নাজ্জার! তোমরা এই বাগানটির মূল্য নির্ধারণ করে আমার নিকট বিক্রি কর। তারা বলল, না। আল্লাহর কসম! আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে এর মূল্য চাই না। (২৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭৯)
হাদিস নং: ২৭৭২
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا ابن عون عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال اصاب عمر بخيبر ارضا فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال اصبت ارضا لم اصب مالا قط انفس منه فكيف تامرني به قال ان شىت حبست اصلها وتصدقت بها فتصدق عمر انه لا يباع اصلها ولا يوهب ولا يورث في الفقراء والقربى والرقاب وفي سبيل الله والضيف وابن السبيل لا جناح على من وليها ان ياكل منها بالمعروف او يطعم صديقا غير متمول فيه
২৭৭২. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) খায়বারের কিছু জমি লাভ করেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, আমি এমন ভাল একটি জমি পেয়েছি, যা ইতোপূর্বে কখনো পাইনি। আপনি এ সম্পর্কে আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি বলেন, তুমি ইচ্ছা করলে আসল জমিটি ওয়াক্ফ করে তার উৎপন্ন সাদাকা করতে পার। ‘উমার (রাঃ) এটি গরীব, আত্মীয়-স্বজন, গোলাম আযাদ, আল্লাহর পথে, মেহমান ও মুসাফিরদের জন্য এ শর্তে সাদাকা করলেন যে, আসল জমি বিক্রি করা যাবে না, কাউকে দান করা যাবে না, কেউ এর ওয়ারিস হবে না। তবে যে এর মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য তা থেকে সঙ্গত পরিমাণ খেতে বা বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ানোতে কোন দোষ নেই। তবে এ থেকে সঞ্চয় করা যাবে না। (২৩১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮০)
হাদিস নং: ২৭৭৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو عاصم حدثنا ابن عون عن نافع عن ابن عمر ان عمر وجد مالا بخيبر فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فاخبره قال ان شىت تصدقت بها فتصدق بها في الفقراء والمساكين وذي القربى والضيف
২৭৭৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার (রাঃ) খায়বারে কিছু সম্পদ লাভ করেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে অবহিত করেন। তিনি বললেন, তুমি ইচ্ছা করলে সেটি সাদাকা করতে পার। অতঃপর তিনি সেটি অভাবগ্রস্ত, মিসকীন, আত্মীয়-স্বজন ও মেহমানদের মধ্যে সাদাকা করে দিলেন। (২৩১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮১)
হাদিস নং: ২৭৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق حدثنا عبد الصمد قال سمعت ابي حدثنا ابو التياح قال حدثني انس بن مالك لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة امر ببناء المسجد وقال يا بني النجار ثامنوني بحاىطكم هذا قالوا لا والله لا نطلب ثمنه الا الى الله
২৭৭৪. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনা্য় এলেন তখন মাসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিলেন এবং তিনি বললেন, ‘হে বানূ নাজ্জার! মূল্য নির্ধারিত করে তোমাদের এ বাগানটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও।’ তারা বলল, না, আল্লাহর কসম! মহান আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে আমরা এর মূল্য চাই না।’ (২৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮২)
হাদিস নং: ২৭৭৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى حدثنا عبيد الله قال حدثني نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما ان عمر حمل على فرس له في سبيل الله اعطاها رسول الله صلى الله عليه وسلم ليحمل عليها رجلا فاخبر عمر انه قد وقفها يبيعها فسال رسول الله ان يبتاعها فقال لا تبتعها ولا ترجعن في صدقتك
وَقَالَ الزُّهْرِيُّ فِيْمَنْ جَعَلَ أَلْفَ دِيْنَارٍ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَدَفَعَهَا إِلَى غُلَامٍ لَهُ تَاجِرٍ يَتْجِرُ بِهَا وَجَعَلَ رِبْحَهُ صَدَقَةً لِلْمَسَاكِيْنِ وَالأَقْرَبِيْنَ هَلْ لِلرَّجُلِ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ رِبْحِ ذَلِكَ الأَلْفِ شَيْئًا وَإِنْ لَمْ يَكُنْ جَعَلَ رِبْحَهَا صَدَقَةً فِي الْمَسَاكِيْنِ قَالَ لَيْسَ لَهُ أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا
যুহরী (রহ.) এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন, যে আল্লাহর পথে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা দান করল এবং তার এক ব্যবসায়ী গোলামকে তা দিল, সে যেন তা দিয়ে ব্যবসা করে আর লভ্যাংশটি মিসকীন ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে সাদাকা করে দিল। লোকটি সেই এক হাজার মুদ্রার লভ্যাংশ থেকে খেতে পারবে কি? যদিও সে এর লভ্যাংশ মিসকীনদের জন্য সাদাকা করেনি। যুহরী (রহ.) বলেন, তা থেকে সে নিজে খেতে পারবে না
২৭৭৫. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’উমার (রাঃ) এক ব্যক্তিকে তার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দেন, যেটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে আরোহণ করার জন্য দিয়েছিলেন, তিনি এক ব্যক্তিকে তা আরোহণ করার জন্য দিলেন। ’উমার (রাঃ)-কে জানান হলো যে, ঘোড়াটি সে ব্যক্তি বিক্রির জন্য রেখে দিয়েছে। তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সেটি ক্রয় করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, ’তুমি তা ক্রয় করবে না এবং যা সাদাকা করে দিয়েছ তা আর ফিরিয়ে নিও না।’ (১৪৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮৩)
যুহরী (রহ.) এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন, যে আল্লাহর পথে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা দান করল এবং তার এক ব্যবসায়ী গোলামকে তা দিল, সে যেন তা দিয়ে ব্যবসা করে আর লভ্যাংশটি মিসকীন ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে সাদাকা করে দিল। লোকটি সেই এক হাজার মুদ্রার লভ্যাংশ থেকে খেতে পারবে কি? যদিও সে এর লভ্যাংশ মিসকীনদের জন্য সাদাকা করেনি। যুহরী (রহ.) বলেন, তা থেকে সে নিজে খেতে পারবে না
২৭৭৫. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’উমার (রাঃ) এক ব্যক্তিকে তার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দেন, যেটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে আরোহণ করার জন্য দিয়েছিলেন, তিনি এক ব্যক্তিকে তা আরোহণ করার জন্য দিলেন। ’উমার (রাঃ)-কে জানান হলো যে, ঘোড়াটি সে ব্যক্তি বিক্রির জন্য রেখে দিয়েছে। তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সেটি ক্রয় করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, ’তুমি তা ক্রয় করবে না এবং যা সাদাকা করে দিয়েছ তা আর ফিরিয়ে নিও না।’ (১৪৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮৩)
হাদিস নং: ২৭৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا يقتسم ورثتي دينارا ولا درهما ما تركت بعد نفقة نساىي ومىونة عاملي فهو صدقة
২৭৭৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘আমার উত্তরাধিকারীরা কোন স্বর্ণ মুদ্রা এবং রৌপ্য মুদ্রা ভাগাভাগি করবে না, বরং আমি যা কিছু রেখে গেলাম তা থেকে আমার স্ত্রীদের খরচ এবং কর্মচারীদের পারিশ্রমিক দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সাদাকা।’ (৬৭২৯) (মুসলিম ৩২/১৬ হাঃ ১৭৬০, আহমাদ ৮৯০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮৪)
হাদিস নং: ২৭৭৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا حماد عن ايوب عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما ان عمر اشترط في وقفه ان ياكل من وليه ويوكل صديقه غير متمول مالا
২৭৭৭. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার (রাঃ) তাঁর ওয়াক্ফে এই শর্তারোপ করেন যে, মুতাওয়াল্লী তা থেকে নিজে খেতে পারবে এবং বন্ধু-বান্ধবকেও খাওয়াতে পারবে, তবে সম্পদ জমা করতে পারবে না। (২৩১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮৫)
হাদিস নং: ২৭৭৮
সহিহ (Sahih)
وقال عبدان اخبرني ابي عن شعبة عن ابي اسحاق عن ابي عبد الرحمن ان عثمان حين حوصر اشرف عليهم وقال انشدكم الله ولا انشد الا اصحاب النبي الستم تعلمون ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من حفر رومة فله الجنة فحفرتها الستم تعلمون انه قال من جهز جيش العسرة فله الجنة فجهزتهم قال فصدقوه بما قال وقال عمر في وقفه لا جناح على من وليه ان ياكل وقد يليه الواقف وغيره فهو واسع لكل
وَأَوْقَفَ أَنَسٌ دَارًا فَكَانَ إِذَا قَدِمَهَا نَزَلَهَا وَتَصَدَّقَ الزُّبَيْرُ بِدُوْرِهِ وَقَالَ لِلْمَرْدُوْدَةِ مِنْ بَنَاتِهِ أَنْ تَسْكُنَ غَيْرَ مُضِرَّةٍ وَلَا مُضَرٍّ بِهَا فَإِنْ اسْتَغْنَتْ بِزَوْجٍ فَلَيْسَ لَهَا حَقٌّ وَجَعَلَ ابْنُ عُمَرَ نَصِيْبَهُ مِنْ دَارِ عُمَرَ سُكْنَى لِذَوِي الْحَاجَةِ مِنْ آلِ عَبْدِ اللهِ
আনাস (রাঃ) একটি ঘর ওয়াকফ করেন। যখন তিনি সেখানে আসতেন, তখন তাতে অবস্থান করতেন। যুবায়র (রাঃ) তার ঘর সাদাকা করে তার কন্যাদের মধ্যে যারা তালাক প্রাপ্তা তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন যে, কোন প্রকার ক্ষতিসাধন না করে তারা এখানে বসবাস করতে পারবে; এবং তাদেরও যেন কোন কষ্ট দেয়া না হয়। তবে তারা যদি স্বামী গ্রহণ করে অভাবমুক্ত হয়ে যায় তাহলে সেখানে তাদের হক থাকবে না। ইবনু ’উমার (রাঃ) তার পিতা ’উমার (রাঃ)-এর ওয়ারিস হিসেবে যে ঘরটি পেয়েছিলেন সেটি তার অভাবগ্রস্ত বংশধরদের বসবাসের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছিলেন।
২৭৭৮. ’আবদুর রহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ’উসমান (রাঃ) অবরুদ্ধ হলে তিনি উপর থেকে সাহাবীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বললেন, আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদেরকেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনারা কি জানেন না যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন, যে ব্যক্তি রূমার কুপটি খনন করে দিবে সে জান্নাতী এবং আমি তা খনন করে দিয়েছি। আপনারা কি জানেন না যে, তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি তাবূকের যুদ্ধে সেনাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেবে, সে জান্নাতী এবং আমি তা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবীগণ তাঁর কথা সত্য বলে স্বীকার করলেন। ’উমার (রাঃ) তাঁর কথা সম্পর্কে বলেছিলেন, মুতওয়াল্লীর জন্য তা থেকে আহার করতে কোন দোষ নেই। ওয়াক্ফকারী কখনো নিজে মুতওয়াল্লী হয় আবার কখনো অপর ব্যক্তি হয়। এ ব্যাপারে সকলের জন্য প্রশস্ততা রয়েছে (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুঃ ৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ ১৭৩৮ শেষাংশ)
আনাস (রাঃ) একটি ঘর ওয়াকফ করেন। যখন তিনি সেখানে আসতেন, তখন তাতে অবস্থান করতেন। যুবায়র (রাঃ) তার ঘর সাদাকা করে তার কন্যাদের মধ্যে যারা তালাক প্রাপ্তা তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন যে, কোন প্রকার ক্ষতিসাধন না করে তারা এখানে বসবাস করতে পারবে; এবং তাদেরও যেন কোন কষ্ট দেয়া না হয়। তবে তারা যদি স্বামী গ্রহণ করে অভাবমুক্ত হয়ে যায় তাহলে সেখানে তাদের হক থাকবে না। ইবনু ’উমার (রাঃ) তার পিতা ’উমার (রাঃ)-এর ওয়ারিস হিসেবে যে ঘরটি পেয়েছিলেন সেটি তার অভাবগ্রস্ত বংশধরদের বসবাসের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছিলেন।
২৭৭৮. ’আবদুর রহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ’উসমান (রাঃ) অবরুদ্ধ হলে তিনি উপর থেকে সাহাবীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বললেন, আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদেরকেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনারা কি জানেন না যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন, যে ব্যক্তি রূমার কুপটি খনন করে দিবে সে জান্নাতী এবং আমি তা খনন করে দিয়েছি। আপনারা কি জানেন না যে, তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি তাবূকের যুদ্ধে সেনাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেবে, সে জান্নাতী এবং আমি তা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবীগণ তাঁর কথা সত্য বলে স্বীকার করলেন। ’উমার (রাঃ) তাঁর কথা সম্পর্কে বলেছিলেন, মুতওয়াল্লীর জন্য তা থেকে আহার করতে কোন দোষ নেই। ওয়াক্ফকারী কখনো নিজে মুতওয়াল্লী হয় আবার কখনো অপর ব্যক্তি হয়। এ ব্যাপারে সকলের জন্য প্রশস্ততা রয়েছে (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুঃ ৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ ১৭৩৮ শেষাংশ)
হাদিস নং: ২৭৭৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا عبد الوارث عن ابي التياح عن انس قال النبي صلى الله عليه وسلم يا بني النجار ثامنوني بحاىطكم قالوا لا نطلب ثمنه الا الى الله
২৭৭৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে বানূ নাজ্জার! তোমাদের বাগানটি মূল্য নির্ধারণ করে আমার নিকট বিক্রি করে দাও। তারা বলল, আমরা এর মূল্য একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে চাই না। (২৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮৬)
হাদিস নং: ২৭৮০
সহিহ (Sahih)
وقال لي علي بن عبد الله حدثنا يحيى بن ادم، حدثنا ابن ابي زاىدة، عن محمد بن ابي القاسم، عن عبد الملك بن سعيد بن جبير، عن ابيه، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قال خرج رجل من بني سهم مع تميم الداري وعدي بن بداء فمات السهمي بارض ليس بها مسلم، فلما قدما بتركته فقدوا جاما من فضة مخوصا من ذهب، فاحلفهما رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم وجد الجام بمكة فقالوا ابتعناه من تميم وعدي. فقام رجلان من اولياىه، فحلفا لشهادتنا احق من شهادتهما، وان الجام لصاحبهم. قال وفيهم نزلت هذه الاية (يا ايها الذين امنوا شهادة بينكم اذا حضر احدكم الموت)
يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِيْنَ الْوَصِيَّةِ اثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنْكُمْ أَوْ اٰخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ إِنْ أَنْتُمْ ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَأَصٰبَتْكُمْ مُصِيْبَةُ الْمَوْتِ تَحْبِسُوْنَهُمَا مِنْم بَعْدِ الصَّلَاةِ فَيُقْسِمَانِ بِاللهِ إِنِ ارْتَبْتُمْ لَا نَشْتَرِيْ بِهِ ثَمَنًا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبٰى وَلَاَ نَكْتُمُ شَهَادَةَ اللهِ إِنَّآ إِذًا لَّمِنَ الْآثِمِيْنَ فَإِنْ عُثِرَ عَلٰى أَنَّهُمَا اسْتَحَقَّا إِثْمًا فَاٰخَرَانِ يَقُوْمَانِ مَقَامَهُمَا مِنَ الَّذِيْنَ اسْتُحِقَّ عَلَيْهِمْ الْأَوْلَيَانِ فَيُقْسِمَانِ بِاللهِ لَشَهَادَتُنَا أَحَقُّ مِنْ شَهَادَتِهِمَا وَمَا اعْتَدَيْنَآ إِنَّآ إِذًا لَّمِنْ الظّٰلِمِيْنَ ذٰلِكَ أَدْنٰىٓ أَنْ يَّأْتُوْا بِالشَّهَادَةِ عَلٰى وَجْهِهَا أَوْ يَخَافُوْآ أَنْ تُرَدَّ أَيْمَانٌم بَعْدَ أَيْمٰنِهِمْ وَاتَّقُوا اللهَ وَاسْمَعُوْا وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفٰسِقِيْنَ
الأَوْلَيَانِ وَاحِدُهُمَا أَوْلَى وَمِنْهُ أَوْلَى بِهِ عُثِرَ أُظْهِرَ أَعْثَرْنَا أَظْهَرْنَا
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের মধ্যে যখন কোন ব্যক্তির মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে অসিয়াত করার সময় সাক্ষী রাখবে। . .আল্লাহ ফাসিক লোকদের সৎ পথে পরিচালিত করেন না। (আল মায়িদাহ্ ১০৬-১০৮)
২৭৮০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহম গোত্রের এক ব্যক্তি তামীম দারী ও আদী ইবনু বাদ্দা (রহ.)-এর সঙ্গে সফরে বের হন এবং সাহম গোত্রের ব্যক্তিটি এমন এক স্থানে মারা যান, যেখানে কোন মুসলিম ছিল না। তারা দু’জন তার পরিত্যক্ত জিনিস পত্র নিয়ে ফিরে আসলে মৃতের আত্মীয়-স্বজন তার মধ্যে স্বর্ণ খচিত একটি রূপার পেয়ালা পেলেন না। এ সম্পর্কে তাদের দু’জনকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কসম করালেন। অতঃপর পেয়ালাটি মক্কা্য় পাওয়া গেল। (যাদের নিকট পাওয়া গেল) তারা বলল, আমরা এটি তামীম ও আদী (রহ.)-এর নিকট থেকে খরিদ করেছি। অতঃপর মৃতের আত্মীয়দের মধ্য থেকে দু’ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কসম করে বলে, এ দু’জনের সাক্ষ্য থেকে আমাদের সাক্ষ্য অধিক গ্রহণীয়। নিশ্চয়ই এ পেয়ালাটি তাদের আত্মীয়ের। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের সম্বন্ধে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়ঃ يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ ( المائدة : 106) (আল-মায়িদাহঃ ১০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুঃ ৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ ১৭৪০ শেষাংশ)
الأَوْلَيَانِ وَاحِدُهُمَا أَوْلَى وَمِنْهُ أَوْلَى بِهِ عُثِرَ أُظْهِرَ أَعْثَرْنَا أَظْهَرْنَا
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের মধ্যে যখন কোন ব্যক্তির মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে অসিয়াত করার সময় সাক্ষী রাখবে। . .আল্লাহ ফাসিক লোকদের সৎ পথে পরিচালিত করেন না। (আল মায়িদাহ্ ১০৬-১০৮)
২৭৮০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহম গোত্রের এক ব্যক্তি তামীম দারী ও আদী ইবনু বাদ্দা (রহ.)-এর সঙ্গে সফরে বের হন এবং সাহম গোত্রের ব্যক্তিটি এমন এক স্থানে মারা যান, যেখানে কোন মুসলিম ছিল না। তারা দু’জন তার পরিত্যক্ত জিনিস পত্র নিয়ে ফিরে আসলে মৃতের আত্মীয়-স্বজন তার মধ্যে স্বর্ণ খচিত একটি রূপার পেয়ালা পেলেন না। এ সম্পর্কে তাদের দু’জনকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কসম করালেন। অতঃপর পেয়ালাটি মক্কা্য় পাওয়া গেল। (যাদের নিকট পাওয়া গেল) তারা বলল, আমরা এটি তামীম ও আদী (রহ.)-এর নিকট থেকে খরিদ করেছি। অতঃপর মৃতের আত্মীয়দের মধ্য থেকে দু’ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কসম করে বলে, এ দু’জনের সাক্ষ্য থেকে আমাদের সাক্ষ্য অধিক গ্রহণীয়। নিশ্চয়ই এ পেয়ালাটি তাদের আত্মীয়ের। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের সম্বন্ধে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়ঃ يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ ( المائدة : 106) (আল-মায়িদাহঃ ১০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুঃ ৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ পরিচ্ছেদ ১৭৪০ শেষাংশ)
হাদিস নং: ২৭৮১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سابق، او الفضل بن يعقوب عنه حدثنا شيبان ابو معاوية، عن فراس، قال قال الشعبي حدثني جابر بن عبد الله الانصاري ـ رضى الله عنهما ـ ان اباه استشهد يوم احد، وترك ست بنات، وترك عليه دينا، فلما حضر جداد النخل اتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله قد علمت ان والدي استشهد يوم احد وترك عليه دينا كثيرا، واني احب ان يراك الغرماء قال " اذهب فبيدر كل تمر على ناحيته ". ففعلت ثم دعوته، فلما نظروا اليه اغروا بي تلك الساعة، فلما راى ما يصنعون اطاف حول اعظمها بيدرا ثلاث مرات ثم جلس عليه ثم قال " ادع اصحابك ". فما زال يكيل لهم حتى ادى الله امانة والدي، وانا والله راض ان يودي الله امانة والدي ولا ارجع الى اخواتي بتمرة، فسلم والله البيادر كلها حتى اني انظر الى البيدر الذي عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم كانه لم ينقص تمرة واحدة.
২৭৮১. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তার পিতাকে উহুদের যুদ্ধে শহীদ করা হয়। তিনি ছ’টি কন্যা সন্তান রেখে যান আর তাঁর উপর ঋণও রেখে যান। খেজুর কাটার সময় হলে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি জানেন যে, আমার পিতাকে উহুদের যুদ্ধে শহীদ করা হয়েছে আর তিনি অনেক ঋণ রেখে গেছেন। আমার মনে চায় যে, পাওনাদাররা আপনার সঙ্গে দেখা করুক। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি যাও। এক এক রকম খেজুর এক এক স্থানে জমা কর। আমি তা-ই করলাম। অতঃপর তাঁকে অনুরোধ করে নিয়ে এলাম। পাওনাদাররা যখন তাঁকে দেখল, তখন তারা আমার নিকট জোর তাগাদা করতে লাগল। তিনি তাদের এরূপ করতে দেখে খেজুরের বড় স্তুপটির চারদিকে তিনবার ঘুরলেন, অতঃপর তার উপর বসে পড়লেন। অতঃপর বললেন, তোমার পাওনাদারদের ডাক। তিনি মেপে মেপে তাদের পাওনা আদায় করতে লাগলেন এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ আমার পিতার সমস্ত ঋণ আদায় করে দিলেন। আর আল্লাহর কসম, আমি এতেই সন্তুষ্ট যে, আমার পিতার ঋণ আল্লাহ্ পরিশোধ করে দেন এবং আমি আমার বোনদের নিকট একটি খেজুরও নিয়ে না ফিরি। কিন্তু আল্লাহর কসম! সমস্ত স্ত্তপই যেমন ছিল তেমন রয়ে গেল। আমি সেই স্তুপটির দিকে বিশেষভাবে তাকিয়ে ছিলাম, যার উপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসেছিলেন। মনে হলো যে, তা থেকে একটি খেজুরও কমেনি।
আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, أُغْرُوْا بِيْ এর অর্থ হলো। هِيْجُوْا بِيْ অর্থাৎ আমার নিকট জোর তাগাদা করতে লাগল। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আমি কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ তাদের মধ্যে সঞ্চারিত করে দিয়েছি।’’
(আল-মায়িদাহ ১৪) (২১২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮৭)
আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, أُغْرُوْا بِيْ এর অর্থ হলো। هِيْجُوْا بِيْ অর্থাৎ আমার নিকট জোর তাগাদা করতে লাগল। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আমি কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ তাদের মধ্যে সঞ্চারিত করে দিয়েছি।’’
(আল-মায়িদাহ ১৪) (২১২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮৭)