অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৫৬/১. জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার
মোট ৩০৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ৩০৭১ সহিহ (Sahih)
حدثنا حبان بن موسى اخبرنا عبد الله عن خالد بن سعيد عن ابيه عن ام خالد بنت خالد بن سعيد قالت اتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم مع ابي وعلي قميص اصفر قال رسول الله صلى الله عليه وسلم سنه سنه قال عبد الله وهي بالحبشية حسنة قالت فذهبت العب بخاتم النبوة فزبرني ابي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم دعها ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ابلي واخلقي ثم ابلي واخلقي ثم ابلي واخلقي قال عبد الله فبقيت حتى ذكر
৩০৭১. উম্মু খালিদ বিনতে খালিদ ইবনু সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে হলুদ বর্ণের জামা পরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সান্না-সান্না। (রাবী) ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, হাবশী ভাষায় তা ‘সুন্দর’ অর্থ বুঝায়। উম্মু খালিদ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাঁর মহরে নবুয়্যতের স্থান নিয়ে কৌতুক করতে লাগলাম। আমার পিতা আমাকে ধমক দিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘ছোট মেয়ে তাকে করতে দাও।’ অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, এ কাপড় পর আর পুরানো কর, আবার পর, পুরানো কর, আবার পর, পুরানো কর। ‘আবদুল্লাহ্ (ইবনু মুবারক) (রহ.) বলেন, উম্মু খালিদ (রাঃ) যতদিন জীবিত থাকেন, তাঁর আলোচনা চলতে থাকে। (৩৮৭৪, ৫৮২৩, ৫৮৪৫, ৫৯৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৫১)
হাদিস নং: ৩০৭২ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن محمد بن زياد، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ان الحسن بن علي، اخذ تمرة من تمر الصدقة، فجعلها في فيه، فقال النبي صلى الله عليه وسلم بالفارسية ‏ "‏ كخ كخ، اما تعرف انا لا ناكل الصدقة ‏"‏‏.‏
৩০৭২. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হাসান ইবনু ’আলী (রাঃ) সাদাকার খেজুর হতে একটি খেজুর নিয়ে তা তাঁর মুখে দেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাখ্-খাখ্ বললেন, তুমি কি জানো না যে, আমরা সদা্কাহ খাই না। (১৪৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৫২)
হাদিস নং: ৩০৭৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن ابي حيان قال حدثني ابو زرعة قال حدثني ابو هريرة قال قام فينا النبي صلى الله عليه وسلم فذكر الغلول فعظمه وعظم امره قال لا الفين احدكم يوم القيامة على رقبته شاة لها ثغاء على رقبته فرس له حمحمة يقول يا رسول الله اغثني فاقول لا املك لك شيىا قد ابلغتك وعلى رقبته بعير له رغاء يقول يا رسول الله اغثني فاقول لا املك لك شيىا قد ابلغتك وعلى رقبته صامت فيقول يا رسول الله اغثني فاقول لا املك لك شيىا قد ابلغتك او على رقبته رقاع تخفق فيقول يا رسول الله اغثني فاقول لا املك لك شيىا قد ابلغتك وقال ايوب عن ابي حيان فرس له حمحمة
وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى )وَمَنْ يَّغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ( ( آل عمران : 161)

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘কেউ কোন কিছু অন্যায়ভাবে গোপন করে রাখলে সে তা কিয়ামতের দিন নিয়ে আসবে।’’ (আলে ‘ইমরান ১৬১)


৩০৭৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ান এবং গানীমাতের মাল আত্মসাৎ প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। আর তিনি তা মারাত্মক অপরাধ ও তার ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের কাউকে যেন এ অবস্থায় কিয়ামতের দিন না পাই যে, তাঁর কাঁধে বকরি বয়ে বেড়াচ্ছে আর তা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে চিৎকার দিচ্ছে। অথবা তাঁর কাঁধে রয়েছে ঘোড়া আর তা হি হি করে আওয়াজ দিচ্ছে। ঐ ব্যক্তি আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো (দুনিয়ায়) তোমার নিকট পৌছে দিয়েছি। অথবা কেউ তার কাঁধে বয়ে বেড়াবে উট যা চিৎকার করছে, সে আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! একটু সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো তোমার নিকট পৌঁছে দিয়েছি। অথবা কেউ তার কাঁধে বয়ে বেড়াবে ধন-দৌলত এবং আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো তোমার নিকট পৌঁছে দিয়েছি। অথবা কেউ তার কাঁধে বয়ে বেড়াবে কাপড়ের টুকরাসমূহ যা দুলতে থাকবে। সে আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না; আমি তো তোমার নিকট পৌঁছে দিয়েছি। (১৪০২) (মুসলিম ৩৩/৬ হাঃ ১৮৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৫৩)
হাদিস নং: ৩০৭৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن عمرو عن سالم بن ابي الجعد عن عبد الله بن عمرو قال كان على ثقل النبي صلى الله عليه وسلم رجل يقال له كركرة فمات فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هو في النار فذهبوا ينظرون اليه فوجدوا عباءة قد غلها قال ابو عبد الله قال ابن سلام كركرة يعني بفتح الكاف وهو مضبوط كذا
وَلَمْ يَذْكُرْ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ حَرَّقَ مَتَاعَهُ وَهَذَا أَصَحُّ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ বর্ণনায় তিনি আত্মসাৎকারীর মালপত্র জ্বালিয়ে দিয়েছেন- কথাটি উল্লেখ করেননি। এটাই বিশুদ্ধ।


৩০৭৪. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাহারা দেয়ার জন্য এক ব্যক্তি নিযুক্ত ছিল। তাকে কার্কারা নামে ডাকা হত। সে মারা গেল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে জাহান্নামী! লোকেরা তাকে দেখতে গেল আর তারা একটি আবা পেল যা সে আত্মসাত করেছিল। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইবনু সালাম (রহ.) বলেছেন, কারকারা। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৫৪)

 
হাদিস নং: ৩০৭৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا ابو عوانة عن سعيد بن مسروق عن عباية بن رفاعة عن جده رافع قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم بذي الحليفة فاصاب الناس جوع واصبنا ابلا وغنما وكان النبي صلى الله عليه وسلم في اخريات الناس فعجلوا فنصبوا القدور فامر بالقدور فاكفىت ثم قسم فعدل عشرة من الغنم ببعير فند منها بعير وفي القوم خيل يسيرة فطلبوه فاعياهم فاهوى اليه رجل بسهم فحبسه الله فقال هذه البهاىم لها اوابد كاوابد الوحش فما ند عليكم فاصنعوا به هكذا فقال جدي انا نرجو او نخاف ان نلقى العدو غدا وليس معنا مدى افنذبح بالقصب فقال ما انهر الدم وذكر اسم الله عليه فكل ليس السن والظفر وساحدثكم عن ذلك اما السن فعظم واما الظفر فمدى الحبشة
৩০৭৫. রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যুল-হুলাইফায় অবস্থান করছিলাম। লোকেরা ক্ষুধার্ত হয়েছিল। আর আমরা গানীমাত স্বরূপ কিছু উট ও বকরী লাভ করেছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের পেছনে সারিতে ছিলেন। লোকেরা তাড়াতাড়ি করে পাতিল চড়িয়ে দিয়েছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন এবং পাতিলগুলো উপুড় করে ফেলে দেয়া হল। অতঃপর তিনি দশটি বকরীকে একটি উটের সমান ধরে তা বণ্টন করে দিলেন। তার নিকট হতে একটি উট পালিয়ে গেল। লোকদের নিকট ঘোড়া কম ছিল। তাঁরা তা অনুসন্ধানে বেরিয়ে গেল এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। অতঃপর এক ব্যক্তি উটটির প্রতি তীর নিক্ষেপ করল, আল্লাহ তা‘আলা তার গতিরোধ করে দিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এ সকল গৃহপালিত জন্তুর মধ্যেও কতক বন্য পশুর মত অবাধ্য হয়ে যায়। সুতরাং যা তোমাদের নিকট হতে পলায়ন করে তার সঙ্গে এরূপ আচরণ করবে।’ রাবী বলেন, আমার দাদা রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) বলেছেন, আমরা আশা করি কিংবা বলেছেন আশঙ্কা করি যে, আমরা আগামীকাল শত্রুর মুখোমুখী হব। আর আমাদের সঙ্গে ছুরি নেই। আমরা কি বাঁশের ধারালো চোকলা দ্বারা যবেহ করব? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে তা আহার কর। কিন্তু দাঁত ও নখ দিয়ে নয়। কারণ আমি বলে দিচ্ছিঃ তা এই যে, দাঁত হল হাড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।’ (২৪৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৫৫)
হাদিস নং: ৩০৭৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى حدثنا يحيى حدثنا اسماعيل قال حدثني قيس قال قال لي جرير بن عبد الله قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم الا تريحني من ذي الخلصة وكان بيتا فيه خثعم يسمى كعبة اليمانية فانطلقت في خمسين وماىة من احمس وكانوا اصحاب خيل فاخبرت النبي صلى الله عليه وسلم اني لا اثبت على الخيل فضرب في صدري حتى رايت اثر اصابعه في صدري فقال اللهم ثبته واجعله هاديا مهديا فانطلق اليها فكسرها وحرقها فارسل الى النبي صلى الله عليه وسلم يبشره فقال رسول جرير لرسول الله يا رسول الله والذي بعثك بالحق ما جىتك حتى تركتها كانها جمل اجرب فبارك على خيل احمس ورجالها خمس مرات قال مسدد بيت في خثعم
৩০৭৬. জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘তুমি কি যুলখালাসা মন্দিরটিকে ধ্বংস করে আমাকে সান্ত্বনা দিবে না?’ এ ঘরটি খাস‘আম গোত্রের একটি মন্দির ছিল। যাকে ইয়ামানের কা‘বা বলা হতো। অতঃপর আমি আহমাস গোত্রের দেড়শ’ লোক নিয়ে রওয়ানা হলাম। তাঁরা সবাই দক্ষ ঘোড় সওয়ার ছিলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম যে, আমি ঘোড়ার উপর স্থির থাকতে পারি না। তখন তিনি আমার বুকে হাত দ্বারা আঘাত করলেন। এমন কি আমি আমার বুকে তাঁর আঙ্গুলের ছাপ দেখতে পেলাম এবং তিনি আমার জন্য দু‘আ করে বললেন, ‘হে আল্লাহ! তাকে ঘোড়ার পিঠে স্থির রাখ এবং তাকে পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত করুন।’ অবশেষে জারীর (রাঃ) তথায় গমন করলেন। ঐ মন্দিরটি ভেঙ্গে দিলেন ও জ্বালিয়ে দিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুসংবাদ প্রদানের জন্য দূত পাঠালেন। জারীর (রাঃ)-এর দূত রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, সে সত্তার কসম! আমি ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার নিকট আসিনি, যতক্ষণ না আমি তাকে জ্বালিয়ে কাল উটের মত করে ছেড়েছি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিক লোকদের জন্য পাঁচবার বরকতের দু’আ করলেন। মুসাদ্দাদ (রহ.) বলেন, হাদীসে উল্লেখিত যুলখালাস অর্থ খাস‘আম গোত্রের একটি ঘর। (৩০২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৫৬)
হাদিস নং: ৩০৭৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم بن ابي اياس حدثنا شيبان عن منصور عن مجاهد عن طاوس عن ابن عباس رضي الله عنهما قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة لا هجرة ولكن جهاد ونية واذا استنفرتم فانفروا
৫৬/১৯৩. بَابُ مَا يُعْطَى الْبَشِيْرُ

৫৬/১৯৩. অধ্যায় : সুসংবাদ বহনকারীকে পুরস্কৃত করা।

وَأَعْطَى كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ ثَوْبَيْنِ حِيْنَ بُشِّرَ بِالتَّوْبَةِ

কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে যখন তওবা কবুলের সুসংবাদ দান করা হয়, তখন তিনি সংবাদদাতাকে পুরস্কার স্বরূপ দু’খানা কাপড় দান করেছিলেন।


৩০৭৭. ‘আবদুল্লাহ্ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেন, ‘মক্কা বিজয়ের পর হতে (মক্কা থেকে) হিজরতের প্রয়োজন নেই। কিন্তু জিহাদ ও নেক কাজের নিয়্যাত বাকী আছে আর যখন তোমাদের জিহাদের ডাক দেয়া হবে তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে।’ (১৩৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৫৭)

 
হাদিস নং: ৩০৭৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى اخبرنا يزيد بن زريع عن خالد عن ابي عثمان النهدي عن مجاشع بن مسعود قال جاء مجاشع باخيه مجالد بن مسعود الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال هذا مجالد يبايعك على الهجرة فقال لا هجرة بعد فتح مكة ولكن ابايعه على الاسلام
৩০৭৮-৩০৭৯. মুজাশি‘ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুজাশি‘ তাঁর ভাই মুজালিদ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-কে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ‘এ মুজালিদ আপনার নিকট হিজরত করার জন্য বাই‘আত করতে চায়। ‘তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘মক্কা জয়ের পর আর হিজরতের দরকার নেই। কাজেই আমি তার নিকট হতে ইসলামের বাই‘আত নিচ্ছি।’ (২৯৬২, ২৯৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৫৮)
হাদিস নং: ৩০৭৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى اخبرنا يزيد بن زريع عن خالد عن ابي عثمان النهدي عن مجاشع بن مسعود قال جاء مجاشع باخيه مجالد بن مسعود الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال هذا مجالد يبايعك على الهجرة فقال لا هجرة بعد فتح مكة ولكن ابايعه على الاسلام
৩০৭৮-৩০৭৯. মুজাশি‘ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুজাশি‘ তাঁর ভাই মুজালিদ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-কে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ‘এ মুজালিদ আপনার নিকট হিজরত করার জন্য বাই‘আত করতে চায়। ‘তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘মক্কা জয়ের পর আর হিজরতের দরকার নেই। কাজেই আমি তার নিকট হতে ইসলামের বাই‘আত নিচ্ছি।’ (২৯৬২, ২৯৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৫৮)
হাদিস নং: ৩০৮০ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال عمرو وابن جريج سمعت عطاء يقول ذهبت مع عبيد بن عمير الى عاىشة رضي الله عنها وهي مجاورة بثبير فقالت لنا انقطعت الهجرة منذ فتح الله على نبيه صلى الله عليه وسلم مكة
৩০৮০. ‘আত্বা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উবাইদ ইবনু ‘উমাইর (রাঃ) সহ ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি সাবীর পাহাড়ের উপর অবস্থান করছিলেন। তিনি আমাদেরকে বললেন, ‘যখন হতে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা বিজয় দান করেছেন, তখন থেকে হিজরত বন্ধ হয়ে গেছে। (৩৯০০, ৪৩১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৫৯)
হাদিস নং: ৩০৮১ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن عبد الله بن حوشب الطاىفي حدثنا هشيم اخبرنا حصين عن سعد بن عبيدة عن ابي عبد الرحمن وكان عثمانيا فقال لابن عطية وكان علويا اني لاعلم ما الذي جرا صاحبك على الدماء سمعته يقول بعثني النبي صلى الله عليه وسلم والزبير فقال اىتوا روضة كذا وتجدون بها امراة اعطاها حاطب كتابا فاتينا الروضة فقلنا الكتاب قالت لم يعطني فقلنا لتخرجن او لاجردنك فاخرجت من حجزتها فارسل الى حاطب فقال لا تعجل والله ما كفرت ولا ازددت للاسلام الا حبا ولم يكن احد من اصحابك الا وله بمكة من يدفع الله به عن اهله وماله ولم يكن لي احد فاحببت ان اتخذ عندهم يدا فصدقه النبي صلى الله عليه وسلم قال عمر دعني اضرب عنقه فانه قد نافق فقال ما يدريك لعل الله اطلع على اهل بدر فقال اعملوا ما شىتم فهذا الذي جراه
৩০৮১. আবূ ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। আর তিনি ছিলেন ‘উসমান (রাঃ)-এর সমর্থক। তিনি ইবনু আতিয়্যাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যিনি ‘আলী (রাঃ)-এর সমর্থক ছিলেন, কোন্ বস্তু তোমাদের সাথী (আলী (রাঃ)-কে রক্তপাতে সাহস যুগিয়েছে, তা আমি জানি। আমি তাঁর নিকট শুনেছি, তিনি বলতেন, ‘রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এবং যুবাইর (ইবনু আওয়াম) (রাঃ)-কে প্রেরণ করেছেন, আর বলেছেন, তোমরা খাক বাগানের দিকে চলে যাও, সেখানে তোমরা একজন মহিলাকে পাবে, হাতিব তাকে একটি পত্র দিয়েছে।’ আমরা সে বাগানে পৌঁছলাম এবং মহিলাটিকে বললাম, পত্রখানি দাও, সে বলল, আমাকে কোন পত্র দেয়নি। তখন আমরা বললাম, ‘হয় তুমি পত্র বের করে দাও, নচেৎ আমরা তোমাকে বিবস্ত্র করব।’ তখন সে মহিলা তার কেশের ভাঁজ থেকে পত্রখানা বের করে দিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতিবকে ডেকে পাঠান। তখন সে বলল, ‘আমার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবেন না। আল্লাহর কসম! আমি কুফরী করিনি, আমার হৃদয়ে ইসলামের প্রতি অনুরাগই বর্ধিত হয়েছে। আপনার সাহাবীগণের মধ্যে কেউই এমন নেই, মক্কা্য় যার সাহায্যকারী আত্মীয়-স্বজন না আছে। যদ্দবারা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পরিবার-পরিজন ধন-সম্পদ রক্ষা করেছেন। আর আমার এমন কেউ নেই। তাই আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে চেয়েছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সত্যবাদী হিসেবে স্বীকার করে নিলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, ‘লোকটিকে আমার হাতে ছেড়ে দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই, সে তো মুনাফিকী করেছে। তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি জান কি? অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা আহলে বাদার সম্পর্কে ভালভাবে জানেন এবং তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘তোমরা যেমন ইচ্ছা ‘আমল কর।’ একথাই তাঁকে (আলী (রাঃ) দুঃসাহসী করেছে। (৩০০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬০)
হাদিস নং: ৩০৮২ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن ابي الاسود حدثنا يزيد بن زريع وحميد بن الاسود عن حبيب بن الشهيد عن ابن ابي مليكة قال ابن الزبير لابن جعفر اتذكر اذ تلقينا رسول الله صلى الله عليه وسلم انا وانت وابن عباس قال نعم فحملنا وتركك
৩০৮২. ইবনু আবূ মুলাইকা (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু যুবাইর (রাঃ), ইবনু জা‘ফর (রাঃ)-কে বললেন, তোমার কি মনে আছে, যখন আমি ও তুমি এবং ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম? ইবনু জা‘ফর (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, স্মরণ আছে। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বাহনে তুলে নিলেন আর তোমাকে ছেড়ে আসলেন। (মুসলিম ৪৪/১১ হাঃ ২৪২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬১)
হাদিস নং: ৩০৮৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا مالك بن اسماعيل حدثنا ابن عيينة عن الزهري قال قال الساىب بن يزيد ذهبنا نتلقى رسول الله صلى الله عليه وسلم مع الصبيان الى ثنية الوداع
৩০৮৩. সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অন্যান্য শিশুদের সাথে আমরাও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশে সানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত গিয়েছিলাম। (৪৪২৬, ৪৪২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬২)
হাদিস নং: ৩০৮৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا جويرية عن نافع عن عبد الله ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا قفل كبر ثلاثا قال ايبون ان شاء الله تاىبون عابدون حامدون لربنا ساجدون صدق الله وعده ونصر عبده وهزم الاحزاب وحده
৩০৮৪. ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদ হতে ফিরতেন, তখন তিনবার তাকবীর বলতেন। অতঃপর বলতেন, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, গুনাহ হতে তাওবাকারী, তাঁরই ‘ইবাদাতকারী, প্রশংসাকারী, আমাদের প্রতিপালককে সিজ্দাকারী। আল্লাহ তাআলা তাঁর অঙ্গীকার সত্য প্রমাণিত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রু দলকে পরাভূত করেছেন। (১৭৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬৩)
হাদিস নং: ৩০৮৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر حدثنا عبد الوارث قال حدثني يحيى بن ابي اسحاق عن انس بن مالك قال كنا مع النبي مقفله من عسفان ورسول الله صلى الله عليه وسلم على راحلته وقد اردف صفية بنت حيي فعثرت ناقته فصرعا جميعا فاقتحم ابو طلحة فقال يا رسول الله جعلني الله فداءك قال عليك المراة فقلب ثوبا على وجهه واتاها فالقاه عليها واصلح لهما مركبهما فركبا واكتنفنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما اشرفنا على المدينة قال ايبون تاىبون عابدون لربنا حامدون فلم يزل يقول ذلك حتى دخل المدينة
৩০৮৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসফান হতে প্রত্যাবর্তনের সময় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম, আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাওয়ারীর উপর আরোহী ছিলেন। তিনি সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাঃ)-কে তাঁর পেছনে সাওয়ারীর উপর বসিয়েছিলেন। এ সময় উট পিছলিয়ে গেল এবং তাঁরা উভয়ে ছিটকে পড়েন। এ দেখে আবূ ত্বলহা (রাঃ) দ্রুত এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আগে মহিলার খোঁজ নাও। আবূ ত্বলহা (রাঃ) তখন একটা কাপড়ে নিজ মুখমণ্ডল
ঢেকে তাঁর নিকট আসলেন এবং সে কাপড়টা দিয়ে তাকে ঢেকে দিলেন। অতঃপর তাঁদের দু’জনের জন্য সাওয়ারীকে ঠিক করলেন। তাঁরা উভয়ে আরোহণ করলেন, আর আমরা সবাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারপাশে বেষ্টন করে চললাম। যখন আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএ দু‘আ পড়লেন آيِبُوْنَ تَائِبُوْنَ عَابِدُوْنَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ  আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তাওবাকারী, আমরা ‘ইবাদাতকারী, আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আর মদিনা্য় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু‘আ পড়তে থাকলেন। (৩৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬৪)
হাদিস নং: ৩০৮৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي حدثنا بشر بن المفضل حدثنا يحيى بن ابي اسحاق عن انس بن مالك انه اقبل هو وابو طلحة مع النبي صلى الله عليه وسلم ومع النبي صلى الله عليه وسلم صفية مردفها على راحلته فلما كانوا ببعض الطريق عثرت الناقة فصرع النبي والمراة وان ابا طلحة قال احسب قال اقتحم عن بعيره فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا نبي الله جعلني الله فداءك هل اصابك من شيء قال لا ولكن عليك بالمراة فالقى ابو طلحة ثوبه على وجهه فقصد قصدها فالقى ثوبه عليها فقامت المراة فشد لهما على راحلتهما فركبا فساروا حتى اذا كانوا بظهر المدينة او قال اشرفوا على المدينة قال النبي ايبون تاىبون عابدون لربنا حامدون فلم يزل يقولها حتى دخل المدينة
৩০৮৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি ও আবূ ত্বলহা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে চলছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাফিয়্যাহ (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাঁকে নিজ সাওয়ারীতে তাঁর পেছনে বসিয়ে ছিলেন। পথিমধ্যে এক জায়গায় উটনীটির পা পিছলে গেল। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাফিয়্যাহ (রাঃ) ছিটকে পড়ে গেলেন। আর আবূ ত্বলহা (রাঃ) তার উট হতে তাড়াতাড়ি নেমে রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আপনার কি কোন আঘাত লেগেছে?’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘না। তবে তুমি মহিলাটির খোঁজ নাও।’ আবূ ত্বলহা (রাঃ) একখানা কাপড় দিয়ে মুখমণ্ডল
ঢেকে তাঁর নিকট গেলেন আর সেই কাপড় দিয়ে তাঁকে ঢেকে দিলেন। তখন সাফিয়্যাহ (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি আবূ ত্বলহা (রাঃ) তাঁদের উভয়ের জন্য সাওয়ারীটি উত্তমরূপে বাঁধলেন। আর তাঁরা উভয়ে (তার উপর) আরোহণ করে চলতে শুরু করেন। অবশেষে যখন তাঁরা মদিনার উপকন্ঠে পৌঁছলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেন, যখন মদিনার নিকটবর্তী হলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু‘আ পড়লেন, ‘‘আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী, ‘ইবাদাতকারী এবং আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী।’ আর মদিনা্য় প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি এ দু‘আ পড়তে থাকেন। (৩৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬৫)
হাদিস নং: ৩০৮৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن محارب بن دثار قال سمعت جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فلما قدمنا المدينة قال لي ادخل المسجد فصل ركعتين
৩০৮৭. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন মদিনা্য় উপস্থিত হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘মসজিদে প্রবেশ কর এবং দু’ রাক‘আত সালাত আদায় কর।’ (৪৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬৬)
হাদিস নং: ৩০৮৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو عاصم عن ابن جريج عن ابن شهاب عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب عن ابيه وعمه عبيد الله بن كعب عن كعب ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا قدم من سفر ضحى دخل المسجد فصلى ركعتين قبل ان يجلس
৩০৮৮. কা’ব (ইবনু মালিক) (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চাশতের সময় সফর হতে ফিরতেন, তখন মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে নিতেন। (২৭৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬৭)
হাদিস নং: ৩০৮৯ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد اخبرنا وكيع عن شعبة عن محارب بن دثار عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قدم المدينة نحر جزورا او بقرة زاد معاذ عن شعبة عن محارب سمع جابر بن عبد الله اشترى مني النبي صلى الله عليه وسلم بعيرا بوقيتين ودرهم او درهمين فلما قدم صرارا امر ببقرة فذبحت فاكلوا منها فلما قدم المدينة امرني ان اتي المسجد فاصلي ركعتين ووزن لي ثمن البعير
৩০৮৯. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনা্য় ফিরতেন, তখন তিনি একটি উট অথবা একটি গাভী যবেহ করতেন। আর মু‘আয (রাঃ)....জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, [জাবির (রাঃ) বলেন] আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট হতে এক উট দু’ উকিয়া ও একটি দিরহাম কিংবা দু’ দিরহাম দ্বারা কিনে নেন এবং তিনি যখন সিরার নামক স্থানে পৌঁছেন, তখন একটি গাভী যবেহ করার নির্দেশ দেন। অতঃপর তা যবেহ করা হয় এবং সকলে তার গোশ্ত আহার করে। আর যখন তিনি মদিনা্য় উপস্থিত হলেন তখন আমাকে মসজিদে প্রবেশ করে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতে আদেশ করলেন এবং আমাকে উটের মূল্য পরিশোধ করে দিলেন। (৪৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬৮)
হাদিস নং: ৩০৯০ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد حدثنا شعبة عن محارب بن دثار عن جابر قال قدمت من سفر فقال النبي صلى الله عليه وسلم صل ركعتين صرار موضع ناحية بالمدينة
৩০৯০. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক সফর হতে  ফিরে এলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে নাও।’ সিরার হচ্ছে মদিনার সন্নিকটে একটি স্থানের নাম। (৪৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮৬৯)
অধ্যায় তালিকা