অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬০/১ক. আম্বিয়া কিরাম ('আঃ)
মোট ১৪৩ টি হাদিস
হাদিস নং: ৩৩৪৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن كثير اخبرنا سفيان حدثنا المغيرة بن النعمان قال حدثني سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال انكم محشورون حفاة عراة غرلا ثم قرا كما بدانا اول خلق نعيده وعدا علينآ انا كنا فاعلين (الانبياء : 104) واول من يكسى يوم القيامة ابراهيم وان اناسا من اصحابي يوخذ بهم ذات الشمال فاقول اصحابي اصحابي فيقول انهم لم يزالوا مرتدين على اعقابهم منذ فارقتهم فاقول كما قال العبد الصالح وكنت عليهم شهيدا ما دمت فيهم فلما توفيتني الى قوله العزيز الحكيم (الماىدة : 117)
وَقَوْلِهِ إِنَّ إِبْرَاهِيْمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِّلّٰـهِ (النحل : 120) وَقَوْلِهِ إِنَّ إِبْرٰهِيْمَ لَاَوَّاهٌ حَلِيْمٌ (التوبة : 114) وَقَالَ أَبُوْ مَيْسَرَةَ الرَّحِيْمُ بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ

মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিলেন এক উম্মাত, আল্লাহর অনুগত- (আশশুয়ারাঃ ১২০)। মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই ইবরাহীম নরম হৃদয় ও সহনশীল- (আত্-তওবাঃ ১১৪)। আর আবূ মাইসারাহ (রহ.) বলেন, হাবশী ভাষায় اواه শব্দটি رَّحِيْم অর্থে ব্যবহৃত হয়।


৩৩৪৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে হাশর ময়দানে খালি পা, বস্ত্রহীন এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ যেভাবে আমি প্রথমে সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। এটি আমার প্রতিশ্রুতি। এর বাস্তবায়ন আমি করবই- (আম্বিয়াঃ ১০৪)। আর কিয়ামতের দিন সবার আগে যাকে কাপড় পরানো হবে তিনি হবেন ইবরাহীম (আঃ)। আর আমার অনুসারীদের মধ্য হতে কয়েকজনকে পাকড়াও করে বাম দিকে অর্থাৎ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, এরা তো আমার অনুসারী, এরা তো আমার অনুসারী। এ সময় আল্লাহ বললেন, যখন আপনি এদের নিকট হতে বিদায় নেন, তখন তারা পূর্ব ধর্মে ফিরে যায়। কাজেই তারা আপনার সাহাবী নয়। তখন আল্লাহর নেক বান্দা [ঈসা (আঃ)] যেমন বলেছিলেন; তেমন আমি বলব, হে আল্লাহ! আমি যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের অবস্থার পর্যবেক্ষক। আপনি ক্ষমতাধর হিকমতওয়ালা-(আল-মায়িদাহ ১১৭-১১৮)। (৪৩৩৭, ৪৬২৫, ৪৬২৬, ৪৬৪০, ৬৫২৪, ৬৫২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১০৯)

 
হাদিস নং: ৩৩৫০ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن عبد الله قال اخبرني اخي عبد الحميد عن ابن ابي ذىب عن سعيد المقبري عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يلقى ابراهيم اباه ازر يوم القيامة وعلى وجه ازر قترة وغبرة فيقول له ابراهيم الم اقل لك لا تعصني فيقول ابوه فاليوم لا اعصيك فيقول ابراهيم يا رب انك وعدتني ان لا تخزيني يوم يبعثون فاي خزي اخزى من ابي الابعد فيقول الله تعالى اني حرمت الجنة على الكافرين ثم يقال يا ابراهيم ما تحت رجليك فينظر فاذا هو بذيخ ملتطخ فيوخذ بقواىمه فيلقى في النار
৩৩৫০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন ইবরাহীম (আঃ) তার পিতা আযরের দেখা পাবেন। আযরের মুখমণ্ডল
ে কালি এবং ধূলাবালি থাকবে। তখন ইবরাহীম (আঃ) তাকে বললেন, আমি কি পৃথিবীতে আপনাকে বলিনি যে, আমার অবাধ্যতা করবেন না? তখন তাঁর পিতা বলবে, আজ আর তোমার অবাধ্যতা করব না। অতঃপর ইবরাহীম (আঃ) আবেদন করবেন, হে আমার রব! আপনি আমার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন যে, হাশরের দিন আপনি আমাকে লজ্জিত করবেন না। আমার পিতা রহম হতে বঞ্চিত হবার চেয়ে বেশী অপমান আমার জন্য আর কী হতে পারে? তখন আল্লাহ বলবেন, আমি কাফিরদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। পুনরায় বলা হবে, হে ইবরাহীম! তোমার পদতলে কী? তখন তিনি নীচের দিকে তাকাবেন। হঠাৎ দেখতে পাবেন তাঁর পিতার জায়গায় সর্বাঙ্গে রক্তমাখা একটি জানোয়ার পড়ে রয়েছে। এর চার পা বেঁধে জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলা হবে।* (৪৭৬৮, ৪৭৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১০)
নোট: * আল্লাহ্‌ তা’আলা ইবরাহীম (‘আঃ)-এর কাফির পিতার চেহারার পরিবর্তন ঘটিয়ে ইবরাহীম (‘আঃ)-কে অপমান থেকে বাঁচাবেন।
হাদিস নং: ৩৩৫১ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال اخبرني عمرو ان بكيرا حدثه عن كريب مولى ابن عباس عن ابن عباس رضي الله عنهما قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم البيت فوجد فيه صورة ابراهيم وصورة مريم فقال اما لهم فقد سمعوا ان الملاىكة لا تدخل بيتا فيه صورة هذا ابراهيم مصور فما له يستقسم
৩৩৫১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কা‘বা ঘরে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি ইবরাহীম (আঃ) ও মারইয়ামের ছবি দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, তাদের কী হল? অথচ তারা তো শুনতে পেয়েছে, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকবে, সে ঘরে ফেরেশতামন্ডলী প্রবেশ করেন না। এ যে ইবরাহীমের ছবি বানানো হয়েছে, (ভাগ্য নির্ধারক অবস্থায়) তিনি কেন ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করবেন! (৩৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১১)
হাদিস নং: ৩৩৫২ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام عن معمر عن ايوب عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم لما راى الصور في البيت لم يدخل حتى امر بها فمحيت وراى ابراهيم واسماعيل عليهما السلام بايديهما الازلام فقال قاتلهم الله والله ان استقسما بالازلام قط
৩৩৫২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কা‘বা ঘরে ছবিগুলো দেখতে পেলেন, তখন যে পর্যন্ত তাঁর নির্দেশে তা মিটিয়ে ফেলা না হলো, সে পর্যন্ত তিনি তাতে প্রবেশ করলেন না। আর তিনি দেখতে পেলেন, ইবরাহীম এবং ইসমাঈল (আঃ)-এর হাতে ভাগ্য নির্ধারণের তীর। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তাদের (কুরাইশদের) উপর লা‘নত করুন। আল্লাহর কসম, এরা দু’জন কক্ষনোও ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করেননি। (৩৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১২)
হাদিস নং: ৩৩৫৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا يحيى بن سعيد حدثنا عبيد الله قال حدثني سعيد بن ابي سعيد عن ابيه عن ابي هريرة قيل يا رسول الله من اكرم الناس قال اتقاهم فقالوا ليس عن هذا نسالك قال فيوسف نبي الله ابن نبي الله ابن نبي الله ابن خليل الله قالوا ليس عن هذا نسالك قال فعن معادن العرب تسالون خيارهم في الجاهلية خيارهم في الاسلام اذا فقهوا قال ابو اسامة ومعتمر عن عبيد الله عن سعيد عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم
৩৩৫৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে অধিক মুত্তাকী। তখন তারা বলল, আমরা তো আপনাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, তা হলে আল্লাহর নবী ইউসুফ, যিনি আল্লাহর নবী’র পুত্র, আল্লাহর নবী’র পৌত্র এবং আল্লাহর খলীল-এর প্রপৌত্র। তারা বলল, আমরা আপনাকে এ ব্যাপারেও জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, তা হলে কি তোমরা আরবের মূল্যবান গোত্রসমূহ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছ? জাহিলী যুগে তাদের মধ্যে যারা সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন, ইসলামেও তাঁরা সর্বোত্তম ব্যক্তি যদি তাঁরা ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞানার্জন করেন। আবূ উসামাহ ও মু‘তামির (রহ.) ......... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। (৩৩৭৪, ৩৩৮৩, ৩৪৯০, ৪৬৮৯) (মুসলিম ৪৩/৪৪ হাঃ ২৩৭৮, আহমাদ ৯৫৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১৩)
হাদিস নং: ৩৩৫৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا مومل حدثنا اسماعيل حدثنا عوف حدثنا ابو رجاء حدثنا سمرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اتاني الليلة اتيان فاتينا على رجل طويل لا اكاد ارى راسه طولا وانه ابراهيم
৩৩৫৪. সামূরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আজ রাতে (স্বপ্নে) আমার নিকট দু’জন লোক আসলেন। অতঃপর আমরা এক দীর্ঘদেহ বিশিষ্ট লোকের নিকট আসলাম। তাঁর দেহ দীর্ঘ হবার দরুন আমি তাঁর মাথা দেখতে পাচ্ছিলাম না। আসলে তিনি হলেন ইবরাহীম (আঃ)। (৮৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১৪)
হাদিস নং: ৩৩৫৫ সহিহ (Sahih)
حدثني بيان بن عمرو حدثنا النضر اخبرنا ابن عون عن مجاهد انه سمع ابن عباس رضي الله عنهما وذكروا له الدجال بين عينيه مكتوب كافر او ك ف ر قال لم اسمعه ولكنه قال اما ابراهيم فانظروا الى صاحبكم واما موسى فجعد ادم على جمل احمر مخطوم بخلبة كاني انظر اليه انحدر في الوادي
৩৩৫৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, লোকজন তাঁর সামনে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেছেন। তার দু’ চোখের মাঝখানে অর্থাৎ কপালে লেখা থাকবে কাফির বা কাফ, ফা, রা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেনি। বরং তিনি বলেছেন, যদি তোমরা ইবরাহীম (আঃ)-কে দেখতে চাও তবে তোমাদের সাথীর দিকে তাকাও। আর মূসা (আঃ) হলেন কোঁকড়ানো চুল, তামাটে রং-এর দেহ বিশিষ্ট। তিনি এমন একটি লাল উটের উপর বসে আছেন, যার নাকের দড়ি খেজুর গাছের ছাল দিয়ে তৈরী। আমি যেন তাকে দেখতে পাচ্ছি, তিনি আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে দিতে উপত্যকায় নামছেন। (১৫৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১৫)
হাদিস নং: ৩৩৫৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا مغيرة بن عبد الرحمن القرشي عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اختتن ابراهيم عليه السلام وهو ابن ثمانين سنة بالقدوم حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد وقال بالقدوم مخففة تابعه عبد الرحمن بن اسحاق عن ابي الزناد تابعه عجلان عن ابي هريرة ورواه محمد بن عمرو عن ابي سلمة
৩৩৫৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নবী ইবরাহীম (আঃ) সূত্রধরদের অস্ত্র দিয়ে নিজের খাতনা করেছিলেন যখন তার বয়স ছিল আশি বছর। আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক (রহ.) আবূ যিনাদ (রহ.) থেকে হাদীস বর্ণনায় মুগীরাহ ইবনু ‘আব্দুর রহমান (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। ‘আজলান (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় আরজ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আর মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর (রহ.) আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। (৬২৯৮) (মুসলিম ৪৩/৪১ হাঃ ২৩৭০, আহমাদ ৯৪১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১৬)
হাদিস নং: ৩৩৫৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن تليد الرعيني اخبرنا ابن وهب قال اخبرني جرير بن حازم عن ايوب عن محمد عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكذب ابراهيم الا ثلاثا
৩৩৫৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবরাহীম (আঃ) তিনবার ব্যতীত কখনও মিথ্যা বলেননি। (২২১৭)
হাদিস নং: ৩৩৫৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن محبوب حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن محمد عن ابي هريرة قال لم يكذب ابراهيم عليه السلام الا ثلاث كذبات ثنتين منهن في ذات الله عز وجل قوله اني سقيم (الصفات : 89) وقوله بل فعله كبيرهم هذا (الانبياء : 63) وقال بينا هو ذات يوم وسارة اذ اتى على جبار من الجبابرة فقيل له ان ها هنا رجلا معه امراة من احسن الناس فارسل اليه فساله عنها فقال من هذه قال اختي فاتى سارة قال يا سارة ليس على وجه الارض مومن غيري وغيرك وان هذا سالني فاخبرته انك اختي فلا تكذبيني فارسل اليها فلما دخلت عليه ذهب يتناولها بيده فاخذ فقال ادعي الله لي ولا اضرك فدعت الله فاطلق ثم تناولها الثانية فاخذ مثلها او اشد فقال ادعي الله لي ولا اضرك فدعت فاطلق فدعا بعض حجبته فقال انكم لم تاتوني بانسان انما اتيتموني بشيطان فاخدمها هاجر فاتته وهو قاىم يصلي فاوما بيده مهيا قالت رد الله كيد الكافر او الفاجر في نحره واخدم هاجر قال ابو هريرة تلك امكم يا بني ماء السماء
৩৩৫৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবরাহীম (আঃ) তিনবার ছাড়া কখনও মিথ্যা বলেননি। তন্মধ্যে দু’বার ছিল আল্লাহর ব্যাপারে। তার উক্তি ‘‘আমি অসুস্থ’’- (আস্সাফফাতঃ ৮৯) এবং তাঁর অন্য এক উক্তি ‘‘বরং এ কাজ করেছে, এই তো তাদের বড়টি- (আম্বিয়াঃ ৬৩)। বর্ণনাকারী বলেন, একদা তিনি [ইবরাহীম (আঃ)] এবং সারা অত্যাচারী শাসকগণের কোন এক শাসকের এলাকায় এসে পৌঁছলেন। তখন তাকে খবর দেয়া হল যে, এ এলাকায় জনৈক ব্যক্তি এসেছে। তার সঙ্গে একজন সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা আছে। তখন সে তাঁর নিকট লোক পাঠাল। সে তাঁকে নারীটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল, এ নারীটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, মহিলাটি আমার বোন। অতঃপর তিনি সারার নিকট আসলেন এবং বললেন, হে সারা! তুমি আর আমি ব্যতীত পৃথিবীর উপর আর কোন মু’মিন নেই। এ লোকটি আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল। তখন আমি তাকে জানিয়েছি যে, তুমি আমার বোন। কাজেই তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। অতঃপর সারাকে আনার জন্য লোক পাঠালো। তিনি যখন তার নিকট প্রবেশ করলেন এবং রাজা তাঁর দিকে হাত বাড়ালো তখনই সে পাকড়াও হল। তখন অত্যাচারী রাজা সারাকে বলল, আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ কর, আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। তখন সারা আল্লাহর নিকট দু‘আ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। অতঃপর দ্বিতীয়বার তাঁকে ধরতে চাইল। এবার সে পূর্বের মত বা তার চেয়ে কঠিনভাবে পাকড়াও হলে। এবারও সে বলল, আল্লাহর নিকট আমার জন্য দু‘আ কর। আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। আবারও তিনি দু‘আ করলেন, ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। অতঃপর রাজা তার এক দারোয়ানকে ডাকল। সে তাকে বলল, তুমি তো আমার নিকট কোন মানুষ আননি। বরং এনেছ এক শয়তান। অতঃপর রাজা সারার খিদমতের জন্য হাযেরাকে দান করল। অতঃপর তিনি (সারা) তাঁর (ইবরাহীম) নিকট আসলেন, তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তখন তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে সারাকে বললেন, কী ঘটেছে? তখন সারা বললেন, আল্লাহ কাফির বা ফাসিকের চক্রান্ত তারই বুকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর সে হাযেরাকে খিদমতের জন্য দান করেছে। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, হে আকাশের পানির ছেলেরা *! হাযেরাই তোমাদের আদি মাতা। (২২১৭) (মুসলিম ৪৩/৪১ হাঃ ২৩৭১, আহমাদ ৯০৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১৭)
নোট: * ماء السماء দ্বারা যমযমের পানিকে বুঝানো হয়েছে। কেননা আল্লাহ এই পানি হাযেরার জন্য ঝর্ণা হিসেবে বের করেছিলেন। এ পানির দ্বারাই তার সন্তান জীবন ধারণ করেছিল। ফলে আরবরা তার সন্তান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ইবনু হিব্বান তার সহীহার মধ্যে বলেন لأن أسماعيل ولد هاجر وقد ربي بماء زمزم وهي ما السماء তাই ইসমাঈলের সকল সন্তানই ماء السماء এর সন্তান।
হাদিস নং: ৩৩৫৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد الله بن موسى او ابن سلام عنه اخبرنا ابن جريج عن عبد الحميد بن جبير عن سعيد بن المسيب عن ام شريك رضي الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم امر بقتل الوزغ وقال كان ينفخ على ابراهيم عليه السلام
৩৩৫৯. উম্মু শারীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিরগিটি মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, ওটা ইবরাহীম (আঃ) যে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তাতে এ গিরগিটি ফুঁ দিয়েছিল। (৩৩০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১৮)
হাদিস নং: ৩৩৬০ সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي حدثنا الاعمش قال حدثني ابراهيم عن علقمة عن عبد الله قال لما نزلت الذين امنوا ولم يلبسوا ايمانهم بظلم (الانعام : 82) قلنا يا رسول الله اينا لا يظلم نفسه قال ليس كما تقولون لم يلبسوا ايمانهم بظلم بشرك اولم تسمعوا الى قول لقمان لابنه يبني لا تشرك بالله ان الشرك لظلم عظيم (لقمان : 13)
৩৩৬০. ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলূষিত করেনি- (আল-আন্‘আম ৮২)। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর জুলুম করেনি? তিনি বললেন, তোমরা যা বলছ ব্যাপারটি তা নয়। বরং তাদের ঈমানকে ‘জুলুম’ অর্থাৎ শির্ক দ্বারা কলূষিত করেনি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি? তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, ‘‘হে বৎস! আল্লাহর সঙ্গে কোন রকম শির্ক করো না। নিশ্চয় শির্ক একটা বিরাট জুলুম।’’ (লুকমানঃ ১৩) (৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১১৯)
হাদিস নং: ৩৩৬১ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم بن نصر حدثنا ابو اسامة عن ابي حيان عن ابي زرعة عن ابي هريرة قال اتي النبي صلى الله عليه وسلم يوما بلحم فقال ان الله يجمع يوم القيامة الاولين والاخرين في صعيد واحد فيسمعهم الداعي وينفذهم البصر وتدنو الشمس منهم فذكر حديث الشفاعة فياتون ابراهيم فيقولون انت نبي الله وخليله من الارض اشفع لنا الى ربك فيقول فذكر كذباته نفسي نفسي اذهبوا الى موسى تابعه انس عن النبي صلى الله عليه وسلم
৩৩৬১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে কিছু গোশ্ত আনা হল। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে একই সমতল ময়দানে সমবেত করবেন। তখন আহবানকারী তাদের সকলকে তার ডাক সমানভাবে শুনাতে পারবে এবং তাদের সকলের উপর সমানভাবে দর্শকের দৃষ্টি পড়বে আর সূর্য তাদের অতি নিকটবর্তী হবে। অতঃপর তিনি শাফা‘আতের হাদীস বর্ণনা করলেন যে, সকল মানুষ ইবরাহীম (আঃ)-এর নিকট আসবে এবং বলবে, পৃথিবীতে আপনি আল্লাহর নবী এবং তাঁর খলীল। অতএব আমাদের জন্য আপনি আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন। তখন তিনি ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলা কথা স্মরণ করে বলবেন, নাফসী! নাফসী! তোমরা মূসার নিকট যাও। এ রকম হাদীস আনাস (রাঃ)ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। (৩৩৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২০)
হাদিস নং: ৩৩৬২ সহিহ (Sahih)
حدثني احمد بن سعيد ابو عبد الله حدثنا وهب بن جرير عن ابيه عن ايوب عن عبد الله بن سعيد بن جبير عن ابيه عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يرحم الله ام اسماعيل لولا انها عجلت لكان زمزم عينا معينا
৩৩৬২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইসমাঈলের মায়ের প্রতি আল্লাহর রহম করুন। যদি তিনি তাড়াহুড়া না করতেন, তবে যমযম একটি প্রবহমান ঝরণায় পরিণত হত। (২৩৬৮)
হাদিস নং: ৩৩৬৩ সহিহ (Sahih)
قال الانصاري حدثنا ابن جريج قال اما كثير بن كثير فحدثني قال اني وعثمان بن ابي سليمان جلوس مع سعيد بن جبير فقال ما هكذا حدثني ابن عباس ولكنه قال اقبل ابراهيم باسماعيل وامه عليهم السلام وهي ترضعه معها شنة لم يرفعه ثم جاء بها ابراهيم وبابنها اسماعيل
৩৩৬৩. আনসারী (রহ.) ইবনু জুরাইজ (রহ.) সূত্রে বলেন যে, কাসীর ইবনু কাসীর বলেছেন যে, আমি ও ‘উসমান ইবনু আবূ সুলাইমান (রহ.) সা‘ঈদ ইবনু জুবাইর (রহ.)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে এরূপ বলেননি বরং তিনি বলেছেন, ইবরাহীম (আঃ), ইসমাঈল (আঃ) এবং তাঁর মাকে নিয়ে আসলেন। মা তখন তাঁকে দুধ পান করাতেন এবং তাঁর সঙ্গে একটি মশক ছিল। এ অংশটি মারফুরূপে বর্ণনা করেননি। (২৩৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২১)
হাদিস নং: ৩৩৬৪ সহিহ (Sahih)
وحدثني عبد الله بن محمد حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن ايوب السختياني وكثير بن كثير بن المطلب بن ابي وداعة يزيد احدهما على الاخر عن سعيد بن جبير قال ابن عباس اول ما اتخذ النساء المنطق من قبل ام اسماعيل اتخذت منطقا لتعفي اثرها على سارة ثم جاء بها ابراهيم وبابنها اسماعيل وهي ترضعه حتى وضعهما عند البيت عند دوحة فوق زمزم في اعلى المسجد وليس بمكة يومىذ احد وليس بها ماء فوضعهما هنالك ووضع عندهما جرابا فيه تمر وسقاء فيه ماء ثم قفى ابراهيم منطلقا فتبعته ام اسماعيل فقالت يا ابراهيم اين تذهب وتتركنا بهذا الوادي الذي ليس فيه انس ولا شيء فقالت له ذلك مرارا وجعل لا يلتفت اليها فقالت له االله الذي امرك بهذا قال نعم قالت اذن لا يضيعنا ثم رجعت فانطلق ابراهيم حتى اذا كان عند الثنية حيث لا يرونه استقبل بوجهه البيت ثم دعا بهولاء الكلمات ورفع يديه فقال ربنا اني اسكنت من ذريتي بواد غير ذي زرع عند بيتك المحرم حتى بلغ يشكرون (ابراهيم : 37) وجعلت ام اسماعيل ترضع اسماعيل وتشرب من ذلك الماء حتى اذا نفد ما في السقاء عطشت وعطش ابنها وجعلت تنظر اليه يتلوى او قال يتلبط فانطلقت كراهية ان تنظر اليه فوجدت الصفا اقرب جبل في الارض يليها فقامت عليه ثم استقبلت الوادي تنظر هل ترى احدا فلم تر احدا فهبطت من الصفا حتى اذا بلغت الوادي رفعت طرف درعها ثم سعت سعي الانسان المجهود حتى جاوزت الوادي ثم اتت المروة فقامت عليها ونظرت هل ترى احدا فلم تر احدا ففعلت ذلك سبع مرات
قال ابن عباس قال النبي صلى الله عليه وسلم فذلك سعي الناس بينهما فلما اشرفت على المروة سمعت صوتا فقالت صه تريد نفسها ثم تسمعت فسمعت ايضا فقالت قد اسمعت ان كان عندك غواث فاذا هي بالملك عند موضع زمزم فبحث بعقبه او قال بجناحه حتى ظهر الماء فجعلت تحوضه وتقول بيدها هكذا وجعلت تغرف من الماء في سقاىها وهو يفور بعد ما تغرف قال ابن عباس قال النبي صلى الله عليه وسلم يرحم الله ام اسماعيل لو تركت زمزم او قال لو لم تغرف من الماء لكانت زمزم عينا معينا قال فشربت وارضعت ولدها فقال لها الملك لا تخافوا الضيعة فان ها هنا بيت الله يبني هذا الغلام وابوه وان الله لا يضيع اهله وكان البيت مرتفعا من الارض كالرابية تاتيه السيول فتاخذ عن يمينه وشماله فكانت كذلك حتى مرت بهم رفقة من جرهم او اهل بيت من جرهم مقبلين من طريق كداء فنزلوا في اسفل مكة فراوا طاىرا عاىفا فقالوا ان هذا الطاىر ليدور على ماء لعهدنا بهذا الوادي وما فيه ماء فارسلوا جريا او جريين فاذا هم بالماء فرجعوا فاخبروهم بالماء فاقبلوا قال وام اسماعيل عند الماء فقالوا اتاذنين لنا ان ننزل عندك فقالت نعم ولكن لا حق لكم في الماء قالوا نعم
قال ابن عباس قال النبي صلى الله عليه وسلم فالفى ذلك ام اسماعيل وهي تحب الانس فنزلوا وارسلوا الى اهليهم فنزلوا معهم حتى اذا كان بها اهل ابيات منهم وشب الغلام وتعلم العربية منهم وانفسهم واعجبهم حين شب فلما ادرك زوجوه امراة منهم وماتت ام اسماعيل فجاء ابراهيم بعدما تزوج اسماعيل يطالع تركته فلم يجد اسماعيل فسال امراته عنه فقالت خرج يبتغي لنا ثم سالها عن عيشهم وهيىتهم فقالت نحن بشر نحن في ضيق وشدة فشكت اليه
قال فاذا جاء زوجك فاقرىي عليه السلام وقولي له يغير عتبة بابه فلما جاء اسماعيل كانه انس شيىا فقال هل جاءكم من احد قالت نعم جاءنا شيخ كذا وكذا فسالنا عنك فاخبرته وسالني كيف عيشنا فاخبرته انا في جهد وشدة قال فهل اوصاك بشيء قالت نعم امرني ان اقرا عليك السلام ويقول غير عتبة بابك قال ذاك ابي وقد امرني ان افارقك الحقي باهلك فطلقها وتزوج منهم اخرى فلبث عنهم ابراهيم ما شاء الله ثم اتاهم بعد فلم يجده فدخل على امراته فسالها عنه فقالت خرج يبتغي لنا قال كيف انتم وسالها عن عيشهم وهيىتهم فقالت نحن بخير وسعة واثنت على الله فقال ما طعامكم قالت اللحم قال فما شرابكم قالت الماء قال اللهم بارك لهم في اللحم والماء قال النبي صلى الله عليه وسلم ولم يكن لهم يومىذ حب ولو كان لهم دعا لهم فيه قال فهما لا يخلو عليهما احد بغير مكة الا لم يوافقاه
قال فاذا جاء زوجك فاقرىي عليه السلام ومريه يثبت عتبة بابه فلما جاء اسماعيل قال هل اتاكم من احد قالت نعم اتانا شيخ حسن الهيىة واثنت عليه فسالني عنك فاخبرته فسالني كيف عيشنا فاخبرته انا بخير قال فاوصاك بشيء قالت نعم هو يقرا عليك السلام ويامرك ان تثبت عتبة بابك قال ذاك ابي وانت العتبة امرني ان امسكك ثم لبث عنهم ما شاء الله ثم جاء بعد ذلك واسماعيل يبري نبلا له تحت دوحة قريبا من زمزم فلما راه قام اليه فصنعا كما يصنع الوالد بالولد والولد بالوالد ثم قال يا اسماعيل ان الله امرني بامر قال فاصنع ما امرك ربك قال وتعينني قال واعينك قال فان الله امرني ان ابني ها هنا بيتا واشار الى اكمة مرتفعة على ما حولها قال فعند ذلك رفعا القواعد من البيت فجعل اسماعيل ياتي بالحجارة وابراهيم يبني حتى اذا ارتفع البناء جاء بهذا الحجر فوضعه له فقام عليه وهو يبني واسماعيل يناوله الحجارة وهما يقولان ربنا تقبل منآ انك انت السميع العليم قال فجعلا يبنيان حتى يدورا حول البيت وهما يقولان ربنا تقبل منآ انك انت السميع العليم (البقرة : 127)
৩৩৬৪. সা’ঈদ ইবনু জুবাইর (রহ.) হতে বর্ণিত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, নারী জাতি সর্বপ্রথম কোমরবন্দ বানানো শিখেছে ইসমাঈল (আঃ)-এর মায়ের নিকট থেকে। হাযেরা (আঃ) কোমরবন্দ লাগাতেন সারাহ (আঃ) থেকে নিজের মর্যাদা গোপন রাখার জন্য। অতঃপর ইবরাহীম (আঃ) হাযেরা (আঃ) এবং তাঁর শিশু ছেলে ইসমাঈল (আঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন এ অবস্থায় যে, হাযেরা (আঃ) শিশুকে দুধ পান করাতেন। অবশেষে যেখানে কা’বার ঘর অবস্থিত, ইবরাহীম (আঃ) তাঁদের উভয়কে সেখানে নিয়ে এসে মসজিদের উঁচু অংশে যমযম কূপের উপরে অবস্থিত একটি বিরাট গাছের নীচে তাদেরকে রাখলেন। তখন মক্কা্য় না ছিল কোন মানুষ, না ছিল কোনরূপ পানির ব্যবস্থা। পরে তিনি তাদেরকে সেখানেই রেখে গেলেন। আর এছাড়া তিনি তাদের নিকট রেখে গেলেন একটি থলের মধ্যে কিছু খেজুর আর একটি মশকে কিছু পরিমাণ পানি। অতঃপর ইবরাহীম (আঃ) ফিরে চললেন। তখন ইসমাঈল (আঃ)-এর মা পিছু পিছু আসলেন এবং বলতে লাগলেন, হে ইবরাহীম! আপনি কোথায় চলে যাচ্ছেন? আমাদেরকে এমন এক ময়দানে রেখে যাচ্ছেন, যেখানে না আছে কোন সাহায্যকারী আর না আছে কোন ব্যবস্থা। তিনি এ কথা তাকে বারবার বললেন। কিন্তু ইবরাহীম (আঃ) তাঁর দিকে তাকালেন না। তখন হাযেরা (আঃ) তাঁকে বললেন, এর আদেশ কি আপনাকে আল্লাহ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হাঁ। হাযেরা (আঃ) বললেন, তাহলে আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করবেন না। অতঃপর তিনি ফিরে আসলেন। আর ইবরাহীম (আঃ)-ও সামনে চললেন। চলতে চলতে যখন তিনি গিরিপথের বাঁকে পৌঁছলেন, যেখানে স্ত্রী ও সন্তান তাঁকে আর দেখতে পাচ্ছে না, তখন তিনি কা’বা ঘরের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি দু’হাত তুলে এ দু’আ করলেন, আর বললেন, ’’হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার পরিবারের কতককে আপনার সম্মানিত ঘরের নিকট এক অনুর্বর উপত্যকায় ...... যাতে আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে- (ইবরাহীম ৩৭)। আর ইসমাঈলের মা ইসমাঈলকে স্বীয় স্তন্যের দুধ পান করাতেন এবং নিজে ঐ মশক থেকে পানি পান করতেন। অবশেষে মশকে যা পানি ছিল তা ফুরিয়ে গেল। তিনি নিজে তৃষ্ণার্ত হলেন এবং তাঁর শিশু পুত্রটিও তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়ল। তিনি শিশুটির দিকে দেখতে লাগলেন। তৃষ্ণায় তার বুক ধড়ফড় করছে অথবা রাবী বলেন, সে মাটিতে পড়ে ছটফট করছে। শিশু পুত্রের এ করুণ অবস্থার প্রতি তাকানো অসহনীয় হয়ে পড়ায় তিনি সরে গেলেন আর তাঁর অবস্থানের নিকটবর্তী পর্বত ’সাফা’-কে একমাত্র তাঁর নিকটতম পর্বত হিসাবে পেলেন। অতঃপর তিনি তার উপর উঠে দাঁড়ালেন এবং ময়দানের দিকে তাকালেন। এদিকে সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন, কোথায়ও কাউকে দেখা যায় কিনা? কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। তখন ’সাফা’ পর্বত থেকে নেমে পড়লেন। এমন কি যখন তিনি নিচু ময়দান পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন তিনি তাঁর কামিজের এক প্রান্ত তুলে ধরে একজন ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষের মত ছুটে চললেন। অবশেষে ময়দান অতিক্রম করে ’মারওয়া’ পাহাড়ের নিকট এসে তার উপর উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর এদিকে সেদিকে তাকালেন, কাউকে দেখতে পান কিনা? কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলেন না। এমনিভাবে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করলেন।

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এজন্যই মানুষ এ পর্বতদ্বয়ের মধ্যে সায়ী করে থাকে। অতঃপর তিনি যখন মারওয়া পাহাড়ে উঠলেন, তখন একটি শব্দ শুনতে পেলেন এবং তিনি নিজেকেই নিজে বললেন, একটু অপেক্ষা কর। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি তো তোমার শব্দ শুনিয়েছ। যদি তোমার নিকট কোন সাহায্যকারী থাকে। হঠাৎ যেখানে যমযম কূপ অবস্থিত সেখানে তিনি একজন ফেরেশতা দেখতে পেলেন। সেই ফেরেশতা আপন পায়ের গোড়ালি দ্বারা আঘাত করলেন অথবা তিনি বলেছেন, আপন ডানা দ্বারা আঘাত করলেন। ফলে পানি বের হতে লাগল। তখন হাযেরা (আঃ)-এর চারপাশে নিজ হাতে বাঁধ দিয়ে এক হাউজের মত করে দিলেন এবং হাতের কোষভরে তাঁর মশকটিতে পানি ভরতে লাগলেন। তখনো পানি উপচে উঠছিল। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসমাঈলের মাকে আল্লাহ রহম করুন। যদি তিনি বাঁধ না দিয়ে যমযমকে এভাবে ছেড়ে দিতেন কিংবা বলেছেন, যদি কোষে ভরে পানি মশকে জমা না করতেন, তাহলে যমযম একটি কূপ না হয়ে একটি প্রবহমান ঝর্ণায় পরিণত হতো। রাবী বলেন, অতঃপর হাযেরা (আঃ) পানি পান করলেন, আর শিশু পুত্রকেও দুধ পান করালেন, তখন ফেরেশতা তাঁকে বললেন, আপনি ধ্বংসের কোন আশঙ্কা করবেন না। কেননা এখানেই আল্লাহর ঘর রয়েছে। এ শিশুটি এবং তাঁর পিতা দু’জনে মিলে এখানে ঘর নির্মাণ করবে এবং আল্লাহ তাঁর আপনজনকে কখনও ধ্বংস করেন না। ঐ সময় আল্লাহর ঘরের স্থানটি যমীন থেকে টিলার মত উঁচু ছিল। বন্যা আসার ফলে তার ডানে বামে ভেঙ্গে যাচ্ছিল। অতঃপর হাযেরা (আঃ) এভাবেই দিন যাপন করছিলেন। অবশেষে জুরহুম গোত্রের একদল লোক তাদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিল। অথবা রাবী বলেন, জুরহুম পরিবারের কিছু লোক কাদা নামক উঁচু ভূমির পথ ধরে এদিকে আসছিল। তারা মক্কা্য় নীচু ভূমিতে অবতরণ করল এবং তারা দেখতে পেল একঝাঁক পাখি চক্রাকারে উড়ছে। তখন তারা বলল, নিশ্চয় এ পাখিগুলো পানির উপর উড়ছে। আমরা এ ময়দানের পথ হয়ে বহুবার অতিক্রম করেছি। কিন্তু এখানে কোন পানি ছিল না। তখন তারা একজন কি দু’জন লোক সেখানে পাঠালো। তারা সেখানে গিয়েই পানি দেখতে পেল। তারা সেখান থেকে ফিরে এসে সকলকে পানির সংবাদ দিল। সংবাদ শুনে সবাই সেদিকে অগ্রসর হল। রাবী বলেন, ইসমাঈল (আঃ)-এর মা পানির নিকট ছিলেন। তারা তাঁকে বলল, আমরা আপনার নিকটবর্তী স্থানে বসবাস করতে চাই। আপনি আমাদেরকে অনুমতি দিবেন কি? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। তবে, এ পানির উপর তোমাদের কোন অধিকার থাকবে না। তারা হ্যাঁ, বলে তাদের মত প্রকাশ করল।

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ ঘটনা ইসমাঈলের মাকে একটি সুযোগ এনে দিল। আর তিনিও মানুষের সাহচর্য চেয়েছিলেন। অতঃপর তারা সেখানে বসতি স্থাপন করল এবং তাদের পরিবার-পরিজনের নিকটও সংবাদ পাঠাল। তারপর তারাও এসে তাদেরও সাথে বসবাস করতে লাগল। পরিশেষে সেখানে তাদেরও কয়েকটি পরিবারের বসতি স্থাপিত হল। আর ইসমাঈলও যৌবনে উপনীত হলেন এবং তাদের থেকে আরবী ভাষা শিখলেন। যৌবনে পৌঁছে তিনি তাদের নিকট অধিক আকর্ষণীয় ও প্রিয়পাত্র হয়ে উঠলেন। অতঃপর যখন তিনি পূর্ণ যৌবন লাভ করলেন, তখন তারা তাঁর সঙ্গে তাদেরই একটি মেয়েকে বিবাহ দিল। এরই মধ্যে ইসমাঈলের মা হাযেরা (আঃ) ইন্তিকাল করেন। ইসমাঈলের বিবাহের পর ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পরিত্যক্ত পরিজনের অবস্থা দেখার জন্য এখানে আসলেন। কিন্তু তিনি ইসমাঈলকে পেলেন না। তিনি তাঁর স্ত্রীকে তাঁর সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। স্ত্রী বলল, তিনি আমাদের জীবিকার খোঁজে বেরিয়ে গেছেন। অতঃপর তিনি পুত্রবধূকে তাদের জীবন যাত্রা এবং অবস্থা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, আমরা অতি দূরবস্থায়, অতি টানাটানি ও খুব কষ্টে আছি। সে ইবরাহীম (আঃ)-এর নিকট তাদের দুর্দশার অভিযোগ করল। তিনি বললেন, তোমার স্বামী বাড়ী আসলে, তাকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, সে যেন তার ঘরের দরজার চৌকাঠ বদলিয়ে নেয়। অতঃপর যখন ইসমাঈল বাড়ী আসলেন, তখন তিনি যেন কিছুটা আভাস পেলেন। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের নিকট কেউ কি এসেছিল? স্ত্রী বলল, হাঁ। এমন এমন আকৃতির একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন এবং আমাকে আপনার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি তাঁকে আপনার সংবাদ দিলাম। তিনি আমাকে আমাদের জীবন যাত্রা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, আমি তাঁকে জানালাম, আমরা খুব কষ্ট ও অভাবে আছি। ইসমাঈল (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি তোমাকে কোন নাসীহাত করেছেন? স্ত্রী বলল, হাঁ। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন আপনাকে তাঁর সালাম পৌঁছাই এবং তিনি আরো বলেছেন, আপনি যেন আপনার ঘরের দরজার চৌকাঠ বদলিয়ে ফেলেন। ইসমাঈল (আঃ) বললেন, ইনি আমার পিতা। এ কথা দ্বারা তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, আমি যেন তোমাকে পৃথক করে দেই। অতএব তুমি তোমার আপন জনদের নিকট চলে যাও। এ কথা বলে, ইসমাঈল (আঃ) তাকে তালাক দিয়ে দিলেন এবং ঐ লোকদের থেকে অন্য একটি মেয়েকে বিবাহ করলেন। অতঃপর ইবরাহীম (আঃ) এদের থেকে দূরে রইলেন, আল্লাহ যতদিন চাইলেন। অতঃপর তিনি আবার এদের দেখতে আসলেন। কিন্তু এবারও তিনি ইসমাঈল (আঃ)-এর দেখা পেলেন না। তিনি পুত্রবধূর নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে ইসমাঈল (আঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, তিনি আমাদের খাবারের খোঁজে বেরিয়ে গেছেন। ইবরাহীম (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কেমন আছ? তিনি তাদের জীবন যাপন ও অবস্থা জানতে চাইলেন। তখন সে বলল, আমরা ভাল এবং স্বচ্ছল অবস্থায় আছি। আর সে আল্লাহর প্রশংসাও করল। ইবরাহীম (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের প্রধান খাদ্য কী? সে বলল, গোশ্ত। তিনি আবার জানতে চাইলেন, তোমাদের পানীয় কী? সে বলল, পানি। ইবরাহীম (আঃ) দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তাদের গোশ্ত ও পানিতে বরকত দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ সময় তাদের সেখানে খাদ্যশস্য উৎপাদন হতো না। যদি হতো তাহলে ইবরাহীম (আঃ) সে বিষয়েও তাদের জন্য দু’আ করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, মক্কা ছাড়া অন্য কোথাও কেউ শুধু গোশ্ত ও পানি দ্বারা জীবন ধারণ করতে পারে না। কেননা, শুধু গোশ্ত ও পানি জীবন যাপনের অনুকূল হতে পারে না।

ইবরাহীম (আঃ) বললেন, যখন তোমার স্বামী ফিরে আসবে, তখন তাঁকে সালাম বলবে, আর তাঁকে আমার পক্ষ থেকে হুকুম করবে যে, সে যেন তার ঘরের দরজার চৌকাঠ ঠিক রাখে। অতঃপর ইসমাঈল (আঃ) যখন ফিরে আসলেন, তখন তিনি বললেন, তোমাদের নিকট কেউ এসেছিলেন কি? সে বলল, হাঁ। একজন সুন্দর চেহারার বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন এবং সে তাঁর প্রশংসা করল, তিনি আমাকে আপনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছেন। আমি তাঁকে আপনার সংবাদ জানিয়েছি। অতঃপর তিনি আমার নিকট আমাদের জীবন যাপন সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমি তাঁকে জানিয়েছি যে, আমরা ভাল আছি। ইসমাঈল (আঃ) বললেন, তিনি কি তোমাকে আর কোন কিছুর জন্য আদেশ করেছেন? সে বলল, হাঁ। তিনি আপনার প্রতি সালাম জানিয়ে আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার ঘরের চৌকাঠ ঠিক রাখেন। ইসমাঈল (আঃ) বললেন, ইনিই আমার পিতা। আর তুমি হলে আমার ঘরের দরজার চৌকাঠ। এ কথার দ্বারা তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন তোমাকে স্ত্রী হিসাবে বহাল রাখি। অতঃপর ইবরাহীম (আঃ) এদের থেকে দূরে রইলেন, যদ্দিন আল্লাহ চাইলেন। অতঃপর তিনি আবার আসলেন। (দেখতে পেলেন) যমযম কূপের নিকটস্থ একটি বিরাট বৃক্ষের নীচে বসে ইসমাঈল (আঃ) তাঁর একটি তীর মেরামত করছেন। যখন তিনি তাঁর পিতাকে দেখতে পেলেন, তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন। অতঃপর একজন বাপ-বেটার সঙ্গে, একজন বেটা-বাপের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে যেমন করে থাকে তাঁরা উভয়ে তাই করলেন। অতঃপর ইবরাহীম (আঃ) বললেন, হে ইসমাঈল! আল্লাহ আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসমাঈল (আঃ) বললেন, আপনার রব! আপনাকে যা আদেশ করেছেন, তা করুন। ইবরাহীম (&আ) বললেন, তুমি আমার সাহায্য করবে কি? ইসমাঈল (আঃ) বললেন, আমি আপনার সাহায্য করব। ইবরাহীম (আঃ) বললেন, আল্লাহ আমাকে এখানে একটি ঘর বানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই বলে তিনি উঁচু টিলাটির দিকে ইশারা করলেন যে, এর চারপাশে ঘেরাও দিয়ে। তখনি তাঁরা উভয়ে কা’বা ঘরের দেয়াল তুলতে লেগে গেলেন। ইসমাঈল (আঃ) পাথর আনতেন, আর ইবরাহীম (আঃ) নির্মাণ করতেন। পরিশেষে যখন দেয়াল উঁচু হয়ে গেল, তখন ইসমাঈল (আঃ) (মাকামে ইবরাহীম নামে খ্যাত) পাথরটি আনলেন এবং ইবরাহীম (আঃ)-এর জন্য তা যথাস্থানে রাখলেন। ইবরাহীম (আঃ) তার উপর দাঁড়িয়ে নির্মাণ কাজ করতে লাগলেন। আর ইসমাঈল (আঃ) তাঁকে পাথর যোগান দিতে থাকেন। তখন তারা উভয়ে এ দু’আ করতে থাকলেন, হে আমাদে রব! আমাদের থেকে কবূল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছু শুনেন ও জানেন। তাঁরা উভয়ে আবার কা’বা ঘর তৈরী করতে থাকেন এবং কা’বা ঘরের চারদিকে ঘুরে ঘুরে এ দু’আ করতে থাকেন। ’’হে আমাদের রব! আমাদের থেকে কবূল করে নিন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছু শুনেন ও জানেন।’’ (আল-বাকারাহঃ ১২৭) (২৩৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২২)
হাদিস নং: ৩৩৬৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا ابو عامر عبد الملك بن عمرو قال حدثنا ابراهيم بن نافع عن كثير بن كثير عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما قال لما كان بين ابراهيم وبين اهله ما كان خرج باسماعيل وام اسماعيل ومعهم شنة فيها ماء فجعلت ام اسماعيل تشرب من الشنة فيدر لبنها على صبيها حتى قدم مكة فوضعها تحت دوحة ثم رجع ابراهيم الى اهله فاتبعته ام اسماعيل حتى لما بلغوا كداء نادته من وراىه يا ابراهيم الى من تتركنا قال الى الله قالت رضيت بالله قال فرجعت فجعلت تشرب من الشنة ويدر لبنها على صبيها حتى لما فني الماء قالت لو ذهبت فنظرت لعلي احس احدا قال فذهبت فصعدت الصفا فنظرت ونظرت هل تحس احدا فلم تحس احدا فلما بلغت الوادي سعت واتت المروة ففعلت ذلك اشواطا ثم قالت لو ذهبت فنظرت ما فعل تعني الصبي فذهبت فنظرت فاذا هو على حاله كانه ينشغ للموت فلم تقرها نفسها فقالت لو ذهبت فنظرت لعلي احس احدا فذهبت فصعدت الصفا فنظرت ونظرت فلم تحس احدا حتى اتمت سبعا ثم قالت لو ذهبت فنظرت ما فعل فاذا هي بصوت فقالت اغث ان كان عندك خير فاذا جبريل قال فقال بعقبه هكذا وغمز عقبه على الارض قال فانبثق الماء فدهشت ام اسماعيل فجعلت تحفز قال فقال ابو القاسم صلى الله عليه وسلم لو تركته كان الماء ظاهرا قال فجعلت تشرب من الماء ويدر لبنها على صبيها قال فمر ناس من جرهم ببطن الوادي فاذا هم بطير كانهم انكروا ذاك وقالوا ما يكون الطير الا على ماء فبعثوا رسولهم فنظر فاذا هم بالماء فاتاهم فاخبرهم فاتوا اليها فقالوا يا ام اسماعيل اتاذنين لنا ان نكون معك او نسكن معك فبلغ ابنها فنكح فيهم امراة قال ثم انه بدا لابراهيم فقال لاهله اني مطلع تركتي قال فجاء فسلم فقال اين اسماعيل فقالت امراته ذهب يصيد قال قولي له اذا جاء غير عتبة بابك فلما جاء اخبرته قال انت ذاك فاذهبي الى اهلك قال ثم انه بدا لابراهيم فقال لاهله اني مطلع تركتي قال فجاء فقال اين اسماعيل فقالت امراته ذهب يصيد فقالت الا تنزل فتطعم وتشرب فقال وما طعامكم وما شرابكم قالت طعامنا اللحم وشرابنا الماء قال اللهم بارك لهم في طعامهم وشرابهم قال فقال ابو القاسم صلى الله عليه وسلم بركة بدعوة ابراهيم صلى الله عليهما وسلم قال ثم انه بدا لابراهيم فقال لاهله اني مطلع تركتي فجاء فوافق اسماعيل من وراء زمزم يصلح نبلا له فقال يا اسماعيل ان ربك امرني ان ابني له بيتا قال اطع ربك قال انه قد امرني ان تعينني عليه قال اذن افعل او كما قال قال فقاما فجعل ابراهيم يبني واسماعيل يناوله الحجارة ويقولان ربنا تقبل منا انك انت السميع العليم (البقرة : 127) قال حتى ارتفع البناء وضعف الشيخ عن نقل الحجارة فقام على حجر المقام فجعل يناوله الحجارة ويقولان ربنا تقبل منا انك انت السميع العليم (البقرة : 127)
৩৩৬৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর স্ত্রী (সারার) মাঝে যা হবার হয়ে গেল, তখন ইবরাহীম (আঃ) (শিশুপুত্র) ইসমাঈল এবং তার মাকে নিয়ে বের হলেন। তাদের সঙ্গে একটি থলে ছিল, যাতে পানি ছিল। ইসমাঈল (আঃ)-এর মা মশক হতে পানি পান করতেন। ফলে শিশুর জন্য তাঁর স্তনে দুধ বাড়তে থাকে। অবশেষে ইবরাহীম (আঃ) মক্কায় পৌঁছে হাযেরাকে একটি বিরাট গাছের নীচে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। অতঃপর ইবরাহীম (আঃ) আপন পরিবারের (সারার) নিকট ফিরে চললেন। তখন ইসমাঈল (আঃ)-এর মা কিছু দূর পর্যন্ত তাঁর অনুসরণ করলেন। অবশেষে যখন কাদা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন তিনি পিছন হতে ডেকে বললেন, হে ইবরাহীম! আপনি আমাদেরকে কার নিকট রেখে যাচ্ছেন?

ইবরাহীম (আঃ) বললেন, আল্লাহর কাছে। হাযেরা (আঃ) বললেন, আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। রাবী বলেন, অতঃপর হাযেরা (আঃ) ফিরে আসলেন, তিনি মশক হতে পানি পান করতেন আর শিশুর জন্য দুধ বাড়ত। অবশেষে যখন পানি শেষ হয়ে গেল। তখন ইসমাঈল (আঃ)-এর মা বললেন, আমি যদি গিয়ে এদিকে সেদিকে তাকাতাম! তাহলে হয়ত কোন মানুষ দেখতে পেতাম। রাবী বলেন, অতঃপর ইসমাঈল (আঃ)-এর মা গেলেন এবং সাফা পাহাড়ে উঠলেন আর এদিকে ওদিকে তাকালেন এবং কাউকে দেখেন কিনা এজন্য বিশেষভাবে তাকিয়ে দেখলেন। কিন্তু কাউকেও দেখতে পেলেন না। তখন দ্রুত বেগে মারওয়া পাহাড়ে এসে গেলেন এবং এভাবে তিনি কয়েক চক্কর দিলেন। পুনরায় তিনি বললেন, যদি গিয়ে দেখতাম যে, শিশুটি কী করছে। অতঃপর তিনি গেলেন এবং দেখতে পেলেন যে, সে তার অবস্থায়ই আছে। সে যেন মরণাপন্ন হয়ে গেছে। এতে তাঁর মন স্বস্তি পাচ্ছিল না। তখন তিনি বললেন, যদি সেখানে যেতাম এবং এদিকে সেদিকে তাকিয়ে দেখতাম। সম্ভবতঃ কাউকে দেখতে পেতাম।

অতঃপর তিনি গেলেন, সাফা পাহাড়ের উপর উঠলেন এবং এদিকে সেদিক দেখলেন এবং গভীরভাবে তাকিয়ে দেখলেন। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। এমনকি তিনি সাতটি চক্কর পূর্ণ করলেন। তখন তিনি বললেন, যদি যেতাম তখন দেখতাম যে সে কী করছে। হঠাৎ তিনি একটি শব্দ শুনতে পেলেন। অতঃপর তিনি মনে মনে বললেন, যদি আপনার কোন সাহায্য করার থাকে তবে আমাকে সাহায্য করুন। হঠাৎ তিনি জিবরাঈল (আঃ)-কে দেখতে পেলেন। রাবী বলেন, তখন তিনি (জিবরাঈল) তাঁর পায়ের গোড়ালি দ্বারা এরূপ করলেন অর্থাৎ গোড়ালি দ্বারা জমিনের উপর আঘাত করলেন। রাবী বলেন, তখনই পানি বেরিয়ে আসল। এ দেখে ইসমাঈল (আঃ)-এর মা অস্থির হয়ে গেলেন এবং গর্ত খুঁড়তে লাগলেন। রাবী বলেন, এ প্রসঙ্গে আবুল কাসিম [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন, হাযেরা (আঃ) যদি একে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দিতেন তাহলে পানি বিস্তৃত হয়ে যেত।

রাবী বলেন, তখন হাযেরা (আঃ) পানি পান করতে লাগলেন এবং তাঁর সন্তানের জন্য তাঁর দুধ বাড়তে থাকে। রাবী বলেন, অতঃপর জুরহুম গোত্রের একদল লোক উপত্যকার নীচু ভূমি দিয়ে অতিক্রম করছিল। হঠাৎ তারা দেখল কিছু পাখি উড়ছে। তারা যেন তা বিশ্বাসই করতে পারছিল না আর তারা বলতে লাগল এসব পাখি তো পানি ব্যতীত কোথাও থাকতে পারে না। তখন তারা সেখানে তাদের একজন দূত পাঠাল। সে সেখানে গিয়ে দেখল, সেখানে পানি মাওজুদ আছে। তখন সে তার দলের লোকদের নিকট ফিরে আসল এবং তাদেরকে সংবাদ দিল। অতঃপর তারা হাযেরা (আঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে ইসমাঈলের মা। আপনি কি আমাদেরকে আপনার নিকট থাকা অথবা (রাবী বলেছেন), আপনার নিকট বসবাস করার অনুমতি দিবেন? [হাযেরা (আঃ) তাদেরকে বসবাসের অনুমতি দিলেন এবং এভাবে অনেক দিন কেটে গেল]। অতঃপর তাঁর ছেলে বয়ঃপ্রাপ্ত হল। তখন তিনি (ইসমাঈল) জুরহুম গোত্রেরই একটি মেয়েকে বিয়ে করলেন। রাবী বলেন, পুনরায় ইবরাহীম (আঃ)-এর মনে জাগল তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে (সারাহ) বললেন, আমি আমার পরিত্যক্ত পরিজনের অবস্থা সম্পর্কে খবর নিতে চাই। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি আসলেন এবং সালাম দিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইসমাঈল কোথায়? ইসমাঈল (আঃ)-এর স্ত্রী বলল, তিনি শিকারে গিয়েছেন। ইবরাহীম (আঃ) বললেন, সে যখন আসবে তখন তুমি তাকে আমার এ নির্দেশের কথা বলবে, ‘‘তুমি তোমার ঘরের চৌকাঠখানা বদলিয়ে ফেলবে’’। ইসমাঈল (আঃ) যখন আসলেন, তখন স্ত্রী তাঁকে খবরটি জানালেন, তখন তিনি স্ত্রীকে বললেন, তুমি সেই চৌকাঠ। অতএব তুমি তোমার পিতামাতার নিকট চলে যাও। রাবী বলেন, অতঃপর ইবরাহীম (আঃ)-এর আবার মনে পড়ল। তখন তিনি তাঁর স্ত্রী (সারাহ)-কে বললেন, আমি আমার নির্বাসিত পরিবারের খবর নিতে চাই। অতঃপর তিনি সেখানে আসলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, ইসমাঈল কোথায়? ইসমাঈল (আঃ)-এর স্ত্রী বলল, তিনি শিকারে গিয়েছেন। পুত্রবধু তাঁকে বললেন, আপনি কি আমাদের এখানে অবস্থান করবেন না? কিছু পানাহার করবেন না? তখন ইবরাহীম (আঃ) বললেন, তোমাদের খাদ্য এবং পানীয় কি? স্ত্রী বলল, আমাদের খাদ্য হল গোশ্ত আর পানীয় হল পানি। তখন ইবরাহীম (আঃ) দু‘আ করলেন, ‘‘হে আল্লাহ! তাদের খাদ্য এবং পানীয় দ্রব্যের মধ্যে বরকত দিন’’। রাবী বলেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইবরাহীম (আঃ)-এর দু‘আর কারণেই বরকত রয়েছে। রাবী বলেন, আবার কিছুদিন পর ইবরাহীম (আঃ)-এর মনে তাঁর নির্বাসিত পরিজনের কথা জাগল। তখন তিনি তাঁর স্ত্রী (সারাহ)-কে বললেন, আমি আমার পরিত্যক্ত পরিজনের খবর নিতে চাই। অতঃপর তিনি এলেন এবং ইসমাঈলের দেখা পেলেন, তিনি যমযম কূপের পিছনে বসে তাঁর একটি তীর মেরামত করছেন। তখন ইবরাহীম (আঃ) ডেকে বললেন, হে ইসমাঈল! তোমার রব তাঁর জন্য একখানা ঘর নির্মাণ করতে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। ইসমাঈল (আঃ) বললেন, আপনার রবের নির্দেশ পালন করুন। ইবরাহীম (আঃ) বললেন, তিনি আমাকে এও নির্দেশ দিয়েছেন যে, তুমি যেন আমাকে এ বিষয়ে সহায়তা কর। ইসমাঈল (আঃ) বললেন, তাহলে আমি তা করব অথবা তিনি অনুরূপ কিছু বলেছিলেন। অতঃপর উভয়ে উঠে দাঁড়ালেন। ইবরাহীম (আঃ) ইমারত বানাতে লাগলেন আর ইসমাঈল (আঃ) তাঁকে পাথর এনে দিতে লাগলেন আর তাঁরা উভয়ে এ দু‘আ করছিলেন, হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এ কাজ কবূল করুন। আপনি তো সব কিছু শুনেন এবং জানেন। রাবী বলেন, এরই মধ্যে প্রাচীর উঁচু হয়ে গেল আর বৃদ্ধ ইবরাহীম (আঃ) এতটা উঠতে দুর্বল হয়ে পড়লেন। তখন তিনি (মাকামে ইবরাহীমের) পাথরের উপর দাঁড়ালেন। ইসমাঈল তাঁকে পাথর এগিয়ে দিতে লাগলেন আর উভয়ে এ দু‘আ পড়তে লাগলেন, হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এ কাজটুকু কবূল করুন। সিঃসন্দেহে আপনি সবকিছু শুনেন ও জানেন- (আল-বাকারাহঃ ১২৭)। (২৩৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২৩)
হাদিস নং: ৩৩৬৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا عبد الواحد حدثنا الاعمش حدثنا ابراهيم التيمي عن ابيه قال سمعت ابا ذر قال قلت يا رسول الله اي مسجد وضع في الارض اول قال المسجد الحرام قال قلت ثم اي قال المسجد الاقصى قلت كم كان بينهما قال اربعون سنة ثم اينما ادركتك الصلاة بعد فصله فان الفضل فيه
৩৩৬৬. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মাসজিদ তৈরী করা হয়েছে? তিনি বললেন, মসজিদে হারাম। আমি বললাম, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, মসজিদে আকসা। আমি বললাম, উভয় মসজিদের (তৈরীর) মাঝে কত ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। অতঃপর তোমার যেখানেই সালাতের সময় হবে, সেখানেই সালাত আদায় করে নিবে। কেননা এর মধ্যে ফযীলত নিহিত রয়েছে। (৩৪২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২৪)
হাদিস নং: ৩৩৬৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن عمرو بن ابي عمرو مولى المطلب عن انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم طلع له احد فقال هذا جبل يحبنا ونحبه اللهم ان ابراهيم حرم مكة واني احرم ما بين لابتيها ورواه عبد الله بن زيد عن النبي صلى الله عليه وسلم
৩৩৬৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। ওহুদ পর্বত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৃষ্টিগোচর হলো। তিনি বললেন, এ পর্বত আমাদের ভালবাসে আর আমরাও তাকে ভালবাসি। হে আল্লাহ! ইবরাহীম (আঃ) মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন আর আমি হারাম ঘোষণা করছি এর দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থানকে (মদিনাকে)। এ হাদীসটি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। (৩৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২৫)
হাদিস নং: ৩৩৬৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابن شهاب عن سالم بن عبد الله ان ابن ابي بكر اخبر عبد الله بن عمر عن عاىشةزوج النبي صلى الله عليه وسلم ان رسول الله قال الم تري ان قومك لما بنوا الكعبة اقتصروا عن قواعد ابراهيم فقلت يا رسول الله الا تردها على قواعد ابراهيم فقال لولا حدثان قومك بالكفر فقال عبد الله بن عمر لىن كانت عاىشة سمعت هذا من رسول الله ما ارى ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ترك استلام الركنين اللذين يليان الحجر الا ان البيت لم يتمم على قواعد ابراهيم وقال اسماعيل عبد الله بن محمد بن ابي بكر
৩৩৬৮. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [আয়িশা (রাঃ)-কে বলেছেন, তুমি কি জানো তোমার কাউম যখন কা’বা ঘর নির্মাণ করেছে, তখন তারা ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত্তি হতে তা ছোট করেছে? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তা ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত্তির উপর পুনর্নির্মাণ করবেন না? তিনি বললেন, যদি তোমার কাওম কুফরী হতে অল্পকাল আগে আগত না হতো। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, যদি ‘আয়িশাহ (রাঃ) এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনে থাকেন, তবে আমি মনে করি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতীমে কা’বার সংলগ্ন দু’টি কোণকে চুমু দেয়া একমাত্র এ কারণে পরিহার করেছেন যে, কা’বার ঘর ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত্তির উপর পুরাপুরি নির্মাণ করা হয়নি। রাবী ইসমাঈল (রহ.) বলেন, ইবনু আবূ বকর হলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বকর। (১২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১২৬)
অধ্যায় তালিকা