অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৪/১. ‘উশায়রাহ বা ‘উসাইরাহর যুদ্ধ।
মোট ৫২৫ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪১৯৪ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا حاتم عن يزيد بن ابي عبيد قال سمعت سلمة بن الاكوع يقول خرجت قبل ان يوذن بالاولى وكانت لقاح رسول الله صلى الله عليه وسلم ترعى بذي قرد قال فلقيني غلام لعبد الرحمن بن عوف فقال اخذت لقاح رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت من اخذها قال غطفان قال فصرخت ثلاث صرخات يا صباحاه قال فاسمعت ما بين لابتي المدينة ثم اندفعت على وجهي حتى ادركتهم وقد اخذوا يستقون من الماء فجعلت ارميهم بنبلي وكنت راميا واقول :
انــا ابـن الاكــوع والـيـوم يـوم الـرضـع
وارتجز حتى استنقذت اللقاح منهم واستلبت منهم ثلاثين بردة قال وجاء النبي صلى الله عليه وسلم والناس فقلت يا نبي الله قد حميت القوم الماء وهم عطاش فابعث اليهم الساعة فقال يا ابن الاكوع ملكت فاسجح قال ثم رجعنا ويردفني رسول الله صلى الله عليه وسلم على ناقته حتى دخلنا المدينة.
وَهِيَ  الْغَزْوَةُ الَّتِيْ أَغَارُوْا عَلَى لِقَاحِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ خَيْبَرَ بِثَلَاثٍ

খাইবার যুদ্ধের তিনদিন আগে মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুধেল উটগুলো লুট করে নেয়ার সময়ে এ যুদ্ধ হয়েছিল।


৪১৯৪. সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ) থেকে বণিত, তিনি বলেন, (একদা) আমি ফজরের সালাতের আযানের আগে বাইরে বের হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুধেল উটগুলোকে যি-কারাদ জায়গায় চরানো হতো। সালামাহ (রাঃ) বলেন, তখন আমার সঙ্গে ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-এর গোলামের দেখা হলো। সে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুধেল উটগুলো লুট করা হয়েছে। জিজ্ঞেস করলাম, কে ওগুলো লুট করেছে? সে বলল, গাতফানের লোকেরা। তিনি বলেন, তখন আমি ইয়া সাবাহা বলে তিনবার উচ্চস্বরে চীৎকার করলাম। আর মদিনার দুই পর্বতের মাঝে অবস্থিত মানুষদের কানে আমার আওয়াজ শুনিয়ে দিলাম। তারপর দ্রুত অগ্রসর হয়ে তাদেরকে পেয়ে গেলাম। এ সময়ে তারা উটগুলোকে পানি পান করাতে শুরু করেছিল। তখন তাদের দিকে তীর নিক্ষেপ করলাম, আমি ছিলাম একজন দক্ষ তীরন্দাজ আর বললাম, আমি হলাম আকওয়া‘-এর পুত্র, আজকের দিনটি তোমাদের সবচেয়ে খারাপ দিন। এভাবে আমি তাদের নিকট হতে উটগুলোকে কেড়ে নিলাম এবং তাদের ত্রিশখানা চাদরও কেড়ে নিলাম। তিনি বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য লোক সেখানে আসলে আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! লোক কটি পিপাসার্ত ছিল, আমি তাদেরকে পানি পান করতেও দেইনি। আপনি এখনই এদের পিছু ধাওয়া করার জন্য সৈন্য পাঠিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

 

হে ইবনুল আকওয়া‘!

তুমি (হারানো উট দখল করতে) সক্ষম হয়েছ, এখন একটু বিশ্রাম নাও।

সালামাহ (রাঃ) বলেন, এরপর আমরা ফিরে আসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর উটনীর পেছনে বসিয়ে নিলেন, এভাবে মদিনা্য় প্রবেশ করলাম। [৩০৪১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৭৭)
হাদিস নং: ৪১৯৫ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن يحيى بن سعيد عن بشير بن يسار ان سويد بن النعمان اخبره انه خرج مع النبي صلى الله عليه وسلم عام خيبر حتى اذا كنا بالصهباء وهي من ادنى خيبر صلى العصر ثم دعا بالازواد فلم يوت الا بالسويق فامر به فثري فاكل واكلنا ثم قام الى المغرب فمضمض ومضمضنا ثم صلى ولم يتوضا.
৪১৯৫. সুওয়াইদ ইবনু নু’মান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (সুওয়াইদ ইবনু নু’মান) খাইবার অভিযানের বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বেরিয়েছিলেন। [তিনি বলেন] যখন আমরা খাইবারের নীচু এলাকায় ‘সাহ্বা’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি পাথেয় পরিবেশন করতে হুকুম দিলেন। কিন্তু ছাতু ব্যতীত আর কিছুই দেয়া গেল না। তিনি ছাতু গুলতে বললেন। ছাতু গুলা হলো। তখন তিনিও খেলেন, আমরাও খেলাম। তারপর তিনি মাগরিবের সালাতের জন্য উঠে পড়লেন এবং কুল্লি করলেন। আমরাও কুল্লি করলাম। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন আর সেজন্য নতুনভাবে ‘উযূ করলেন না। [২০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৭৮)
নোট: ** খাইবার-এর যুদ্ধ।

সপ্তম হিজরী, মুহাররম মাস। খাইবার ছিল সিরিয়া প্রান্তরে এক বিশাল শ্যামল ভূখন্ডের নাম। এটা মদীনাহ হতে তিন মঞ্জিলের (প্রায় এক শ’ মাইল) পথ। ক্ষুদ্র বৃহৎ বহু দূর্গ দ্বারা এই স্থানটি সুরক্ষিত ছিল। মদীনার বানু কাইনুকা ও বানু নাযীর গোত্রের ইয়াহূদীরা এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। নাবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুদাইবিয়াত্ম সফর হতে ফিরে আসা অল্প দিন মাত্র (এক মাসেরও কম) গত হয়েছে। এমন সময় শোনা গেল যে, খাইবারের ইয়াহূদীরা মদীনার উপর আক্রমণ চালাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- (তবকাতে কাবীর, ইবনু সাদ, ৭ পৃষ্ঠা)। তারা আহযাবের যুদ্ধে অকৃতকার্যতার প্রতিশোধ গ্রহণ এবং নিজেদের হারানো সামরিক মর্যাদা ও শক্তিকে গোটা রাজ্যে পুর্নবহাল করার জন্য এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের প্রস্ত্ততি গ্রহণ করছে।

তারা বানু গাতফান গোত্রের চার হাজার জঙ্গী বীর পুরুষকেও নিজেদের সাথে যুক্ত করে নিয়েছে। তারা এ চুক্তি করেছে যে, যদি মদীনাহ বিজিত হয় তাহলে খাইবারের উৎপাদিত শস্যের অর্ধাংশ তারা বানু গাতফানকে চিরস্থায়ীভাবে দিতে থাকবে।

ইতোপূর্বে আহযাবের যুদ্ধে মুসলিমদেরকে খাইবারের দূর্গ অবরোধ করতে যে কঠিন বেগ পেতে হয়েছিল তা তারা ভুলেনি। সুতরাং সবাই এ ব্যাপারে এক মত হলেন যে, এই আক্রমণেচ্ছুক শত্রুদেরকে সামনে অগ্রসর হয়ে প্রতিরোধ করতে হবে।

নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু মাত্র ঐ সাহাবীদেরকে এই যুদ্ধে গমনের অনুমতি দান করেছিলেন যাদেরকে শুভ সংবাদ দিতে গিয়ে আল্লাহ রাববুল আলামীন নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল করেন ঃلقد رضي الله عن المؤمنين اذ يبايعونك تحت الشجرة فعلم ما في قلوبهم (سورة الفتح :১৮)

‘‘আল্লাহ অবশ্যই মু’মিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নীচে তোমার কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেছে, তাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ তা জানেন।’’ (সুরা ফাত্হ ৪৮/১৮)

আর যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃوعدكم الله مغانم كثيرة تاخذونها (سورة الفتح :২০)

‘‘আল্লাহ তোমাদের সাথে বড় বড় বিজয়ের ও গানীমাতের ওয়াদা করেছেন যা তোমরা লাভ করবে।’’ (সুরা ফাত্হ ৪৮/২০)

তারা সংখ্যায় চৌদ্দ’শ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে দু’শজন ছিলেন আশ্বারোহী।

সেনাবাহিনীর সম্মুখ ভাগের নেতা বা সেনাপতি ছিলেন উকাশাহ্ ইবনু মুহসিন আসাদী (রাঃ) [উকাশাহ্ ইবনু মুহসিন (রাঃ) মর্যাদা সম্পন্ন সাহাবীদের অন্যতম ছিলেন। তার সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুসংবাদ দান করেছিলেন যে, তিনি বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন। বাদর, উহূদ, খন্দক এবং অন্যান্য যুদ্ধে তিনি হাযির হন। সিদ্দীকে আকবার (রাঃ)-এর খিলাফাত কালে ৪৫ বছর বয়সে তিনি শহীদ হন।]। ডান দিকের সেনাবাহিনীর সরদার ছিলেন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)- (মাদারিজুন নুবুওয়াহ, ২৯০ পৃষ্ঠা।) বাম দিকের সেনাবহিনীর নেতা অন্য একজন সাহাবী (রাঃ) ছিলেন। বিশজন মহিলাও (রাযিয়াল্লাহু আনহুন্না) সেনাবাহিনীর মধ্যে ছিলেন যারা রুগ্ন ও আহতদের দেখাশুনা ও সেবা শশ্রুষা করার জন্য সাথে এসেছিলেন।

ইসলামের সেনাবাহিনী রাত্রিকালে খাইবারের বসতি সংলগ্ন জায়গায় পৌঁছে গেল। কিন্তু নাবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কল্যাণময় অভ্যাস এই ছিল যে, তিনি রাত্রে যুদ্ধ শুরু করতেন না- [বুখারী, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত]। এজন্যে ইসলামের সেনাবাহিনী ময়দানে শিবির স্থাপন করে। যুদ্ধের জন্য এ স্থানটি যুদ্ধ অভিজ্ঞ ব্যক্তি হাববাব ইবনুল মুনযির (রাঃ) নির্বাচন করেছিলেন। এ জায়গাটি খাইবারবাসী ও বানু গাতফান গোত্রের মধ্যস্থলে ছিল। এই কৌশল অবলম্বনের উপকার এই ছিল যে, বানু গাতফান গোত্র যখন খাইবারের ইয়াহূদীদের সাহায্যের জন্য বের হয় তখন তারা ইসলামের সেনাবাহিনীকে প্রতিবন্ধকরূপে পায়। এ কারণে তারা চুপচাপ নিজেদের বাড়ীতে ফিরে যায়।

রসূল সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম দেন যে, সেনাবাহিনীর বড় ক্যাম্প এখানেই থাকবে এবং আক্রমণমুখী সৈন্যদের দল এই ক্যাম্প থেকে যেতে থাকবে। সৈন্যদের মাঝে তৎক্ষণাৎ মাসজিদ নির্মাণ করে নেয়া হয়। আর যুদ্ধের ফাঁকে ফাঁকে ইসলামের তাবলীগের ধারাও জারী রাখা হয়।

‘উসমান (রাঃ) ঐ ক্যাম্পের প্রধান দায়িত্বশীল নির্বাচিত হন।

খাইবারের জন বসতির ডানে-বামে যে দূর্গ অবস্থিত ছিল ঐগুলি সংখ্যায় ছিল দশটি। ঐ দূর্গগুলোর মধ্যে দশ হাজার করে বীর যোদ্ধা অবস্থান করতো।

খায়বারের জনবসতি ডানে ও বামে দু’টি ভাগে বিভক্ত ছিল। একভাগে ছিল নিতাত দূর্গ নামে পরিচিত চারটি দূর্গ- (১) নায়িম (২) নিতাত (৩) সা‘আব ইবনু মু‘আয (৪) কিল‘আতুয যুবায়র এবং শান্না দূর্গ নামে পরিচিত তিনটি দূর্গ- (১) শান্না (২) বার (৩) উবাই। অপর পাশে ছিল আরও তিনটি দূর্গ যা কুতাইবাহ দূর্গ নামে পরিচিত ছিল। তা হচ্ছে- (১) কামূস তাবারী (২) অতীহ (৩) সালিম বা নাবউইন হাকীক।

মাহমুদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) পাঁচ দিন পর্যন্ত ক্রমাগত আক্রমণ চালাতে থাকেন। কিন্তু দূর্গ বিজিত হলো না। পঞ্চম বা ষষ্ঠ দিনের বর্ণনা এই যে, মাহমুদ (রাঃ) যুদ্ধ ক্ষেত্রের গরমের প্রখরতায় ক্লান্ত হয়ে দূর্গ প্রাচীরের ছায়ায় কিছু সময় বিশ্রাম গ্রহণের জন্য শুয়ে পড়েন। ইত্যবসরে কিনানাহ্ ইবনু হাকীক নামক এক ইয়াহূদী তাকে গাফেল দেখে তার মাথায় এক পাথর মেরে দেয়। এতেই তিনি শহীদ হয়ে যান। সেনাবাহিনীর পতাকা মাহমুদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ)-এর ভাই মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) ধারণ করেন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত অত্যন্ত বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করতে থাকেন। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) এই মত প্রদান করেন যে, ইয়াহূদীদের খেজুর বাগানের খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলা হোক। কেননা, তাদের নিকট এক একটি খেজুর গাছ এক একটি ছেলের মতই প্রিয়। এই কৌশল অবলম্বন করলে দূর্গবাসীর উপর প্রভাÿ ফেলা যাবে। এই কৌশলের উপর কাজ শুরু হয়েই গিয়েছিল। এমন সময় আবু বাক্র (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে হাযির হয়ে আরয করলেনঃ‘‘এ এলাকা নিশ্চিতরূপে মুসলিমদের হাতে বিজিত হতে যাচ্ছে। সুতরাং আমরা এটাকে নিজেদের হাত নষ্ট করবো কেন? রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বাক্রের (রাঃ) এই মতকে পছন্দ করলেন এবং ইবনু মাসলামাহ (রাঃ)-এর নিকট খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা পাঠিয়ে দিলেন। সন্ধ্যার সময় মুহাম্মাদ ইবনু মাসলা্মাহ (রাঃ) স্বীয় ভ্রাতার নিষ্ঠুরভাবে শহীদ হওয়ার ঘটনাটি নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে এসে বর্ণনা করেন।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলেনঃ لا عطين (اولياتين)الراية غدا رجلا بحبهالله ورسوله يفتح الله عليه

‘‘আগামী দিন পতাকা ঐ ব্যক্তিকে প্রদান করা হবে (অথবা ঐ ব্যক্তি পতাকা গ্রহণ করবে) যাকে আল্লাহ ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালবাসেন এবং তার হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন।’’

এটা এমন এক প্রশংসা ছিল,যা শুনে বড় বড় বীর পুরুষ আগামী দিনের পতাকা লাভের আশায় আশান্বিত হয়ে থাকলেন।

ঐ রাত্রে সেনাবাহিনীর পাহারা দেয়ার দায়িত্ব ‘উমার ইবনুল খাত্তাবের (রাঃ) উপর অর্পিত হয়েছিল। তিনি চক্কর দিতে দিতে একজন ইয়াহূদীকে গ্রেফতার করেন। তৎক্ষণাৎ তিনি তাকে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে আনয়ন করেন। ঐ সময় রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের সালাতে ছিলেন। সালাত শেষে তিনি ইয়াহূদীর সাথে কথোপকথন করেন। ইয়াহূদী বললঃ ‘‘যদি আমাকে এবং দূর্গে অবস্থানরত আমার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিরাপত্তা দান করা হয় তাহলে আমি সামরিক গোপন বিষয়ের বহু কিছু প্রকাশ করে দিতে পারি।’’ ঐ ইয়াহূদীর সাথে নিরাপত্তার ওয়াদা করা হলে সে বলতে শুরু করেঃ ‘‘নিতাত দূর্গের ইয়াহূদীরা আজ রাত্রে তাদের স্ত্রী ও শিশু সন্তানদেরকে শান দূর্গে পাঠাচ্ছে এবং তাদের মালধন ও টাকা পয়সা নিতাত দূর্গের মধ্যে প্রোথিত করছে। ঐ জায়গা আমার জানা আছে। যখন মুসলিমরা নিতাত দূর্গদখল করে নিবেন তখন আমি ঐ জায়গাটি দেখিয়ে দিবো। শান্না দূর্গের নীচে ভুগর্ভে নির্মিত কুঠরিতে বহু মূল্যবান অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। যখন মুসলিমরা শান্না দূর্গ জয় করে নিবেন তখন আমি তাদের কে ভূগর্ভে নির্মিত ঐ কুঠরিটিও দেখিয়ে দিবো।’’

‘আলী (রাঃ) নায়েম দূর্গের উপর আক্রমণের সূত্রপাত করলেন। মুকাবালার জন্যে দূর্গের বিখ্যাত সরদার মুরাহ্হাব ময়দানে বেরিয়ে এলো। সে নিজেকে হাজার বীরের সমান মনে করতো।

মুরাহ্হাব তাকে তরবারী দ্বারা আঘাত করে। আ‘মির (রাঃ) ওটাকে ঢাল দ্বারা প্রতিহত করেন এবং মুরাহ্হাবের দেহের নিম্নভাগে আঘাত করেন। কিন্তু তার তরবারিটি যা দৈর্ঘে ছোট ছিল, তার নিজেরই হাঁটুতে লেগে যায়, যার ফলে অবশেষে তিনি শহীদ হয়ে যান। অতঃপর ‘আলী (রাঃ) বেরিয়ে আসেন।

আলী মুরতযা (রাঃ) এক হাতেই এমন জোরে তরবারীর আঘাত করেন যে, মুরাহ্হাবের শিরস্ত্রাণ কেটে পাগড়ী কর্তন করতঃ মাথাকে দু টুকরো করে গর্দান পর্যন্ত পৌছে যায়। মুরাহ্হাবের ভাই বেরিয়ে আসলে যুবায়ের ইবনুল আওয়া্ম (রাঃ) তাকে মাটিতে শুইয়ে দেন। এরপর ‘আলী (রাঃ)-এর সাধারণ আক্রমণের মাধ্যমে নায়েম দূর্গটি বিজিত হয়।

ঐ দিনই সাআব দূর্গটি হাববাব ইবনুল মুনযির (রাঃ) অবরোধ করে তৃতীয় দিনে জয় করে নেন। সাআব দূর্গটি জয় করার ফলে মুসলিমরা প্রচুর পরিমাণে যব, খেজুর, মাখন, রওগণ, যায়তুন এবং চর্বি লাভ করেন। এর ফলে মুসলিমদের ঐ কষ্ট দূরীভূত হয় যে কষ্ট তারা রসদের স্বল্পতার কারণে ভোগ করছিলেন। এই দূর্গ হতেই তারা বড় বড় গুপ্ত অস্ত্র লাভ করেন যার খবর ইয়াহূদী গুপ্তচর তাদের কে প্রদান করেছিল। এর পূর্বদিন নিতাত দূর্গ বিজিত হয়েছিল। এখন যুবায়ের দূর্গ, যা একটি পাহাড়ী টিলার উপর অবস্থিত ছিল এবং যুবায়েরের নামে যার নামকরণ করা হয়েছিল, ওর উপর আক্রমণ করা হয়। দু‘দিন পর একজন ইয়াহূদী ইসলামের সৈন্যদের মধ্যে আসে। সে বলেঃ ‘‘এ দূর্গটি তো এক মাস পর্যন্ত চেষ্টা চালালেও জয় করতে পারবেন না। আমি একটি গোপন কথা বলে দিচ্ছি। ‘‘এ দূর্গের মাটির নিচের নালা পথে পানি এসে থাকে। যদি পানির পথ বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে বিজয় সম্ভব।’’ তার এ কথা শুনে মুসলিমরা পানির উপর অধিকার লাভ করে নেন। তখন দূর্গবাসী দূর্গ হতে বের হয়ে খোলা ময়দানে এসে যুদ্ধ করে এবং মুসলিমরা তাদেরকে পরাজিত করেন।

তারপর উবাই দূর্গের উপর আক্রমণ করা শুরু হয়। এই দূর্গবাসীরা কঠিন ভাবে প্রতিরোধ করে। তাদের মধ্যে গাযওয়ান নামক একটি লোক ছিল। সে দ্বন্দ্ব যুদ্ধের জন্যে বেরিয়ে আসে। হাববাব (রাঃ) তার সাথে মুকাবালার জন্য এগিয়ে যান। গায্ওয়ানের বাহু কেটে যায়। সে দূর্গের দিকে পালাতে থাকে। হাববাব (রাঃ) তার পশ্চাদ্ধাবন করেন। সে পড়ে যায় এবং তাকে হত্যা করা হয়।

দূর্গ হতে আর একজন যোদ্ধা বেরিয়ে আসে। একজন মুসলিম তার মুকাবালা করেন। কিন্তু মুসলিমটি তার হাতে শহীদ হয়ে যান। অতঃপর আবূ দাজনা (রাঃ) বেরিয়ে আসেন। তিনি এসেই তার পা কেটে দেন এবং পরে তাকে হত্যা করে ফেলেন।

ইয়াহূদীরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং বাইরে বের হওয়া হতে বিরত থাকে। আবূ দাজনা (রাঃ) সামনে অগ্রসর হন। মুসলিমরা তার সঙ্গী হন। তারা তাকবীর পাঠ করতে করতে দূর্গের প্রাচীরের উপর চড়ে যান এবং দূর্গ জয় করে নেন। দূর্গবাসীরা পালিয়ে যায়। এই দূর্গ হতে প্রচুর বকরী, কাপড় এবং আসবাবপত্র পাওয়া যায়।

এবার মুসলিমরা বার দূর্গ আক্রমণ করেন। এখানে দূর্গরক্ষীরা মুসলিমদের উপর এতো তীর ও পাথর বর্ষণ করে যে, তাদের মুকাবালা করার জন্য মুসলিমদেরকেও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করতে হয় যে অস্ত্র তারা সাআব দূর্গ হতে গানীমাত স্বরূপ লাভ করেছিলেন। এই ভারী অস্ত্র দ্বারা এ দূর্গের প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে তা জয় করা হয়। (রহমাতুল লিল ‘আলামীন-আল্লামা কাযী মুহাম্মাদ সুলাইমনা মানসূর পূরী)
হাদিস নং: ৪১৯৬ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة حدثنا حاتم بن اسماعيل عن يزيد بن ابي عبيد عن سلمة بن الاكوع رضي الله عنه قال خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم الى خيبر فسرنا ليلا فقال رجل من القوم لعامر يا عامر الا تسمعنا من هنيهاتك وكان عامر رجلا شاعرا فنزل يحدو بالقوم يقول :
اللهم لولا انـت ما اهتدينـا ولا تصدقنا ولا صلينـا
فاغفر فداء لـك ما ابقيـنا والقين سكينـة علـيـنا
وثبت الاقـدام ان لاقـيـنا انا اذا صيح بنـا ابـينـا
وبالصياح عولوا علينا
فقال رسول الله من هذا الساىق قالوا عامر بن الاكوع قال يرحمه الله قال رجل من القوم وجبت يا نبي الله لولا امتعتنا به فاتينا خيبر فحاصرناهم حتى اصابتنا مخمصة شديدة ثم ان الله تعالى فتحها عليهم فلما امسى الناس مساء اليوم الذي فتحت عليهم اوقدوا نيرانا كثيرة فقال النبي ما هذه النيران على اي شيء توقدون قالوا على لحم قال على اي لحم قالوا لحم حمر الانسية قال النبي اهريقوها واكسروها فقال رجل يا رسول الله او نهريقها ونغسلها قال او ذاك فلما تصاف القوم كان سيف عامر قصيرا فتناول به ساق يهودي ليضربه ويرجع ذباب سيفه فاصاب عين ركبة عامر فمات منه قال فلما قفلوا قال سلمة راني رسول الله وهو اخذ بيدي قال ما لك قلت له فداك ابي وامي زعموا ان عامرا حبط عمله قال النبي كذب من قاله ان له لاجرين وجمع بين اصبعيه انه لجاهد مجاهد قل عربي مشى بها مثله حدثنا قتيبة حدثنا حاتم قال نشا بها.
৪১৯৬. সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খাইবার অভিযানে বেরোলাম। আমরা রাতের বেলা চলছিলাম, তখন দলের এক ব্যক্তি ‘আমির (রাঃ)-কে বলল, হে ‘আমির! তোমার সমর সঙ্গীত থেকে আমাদেরকে কিছু শোনাবে না কি? ‘আমির (রাঃ) ছিলেন একজন কবি। তখন তিনি সওয়ারী থেকে নামলেন এবং সঙ্গীতের তালে তালে কাফেলাকে এগিয়ে নিয়ে চললেন। তিনি গাইলেনঃ

হে আল্লাহ! তুমি না হলে আমরা হিদায়াত লাভ করতাম না,

সাদাকা দিতাম না আর সালাত আদায় করতাম না।

তাই আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন, যতদিন আপনার প্রতি সমর্পিত হয়ে থাকব।

আমাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন এবং শত্রুর মুকাবালায় আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখুন।

আমাদেরকে যখন (কুফরের দিকে) ডাকা হয় আমরা তখন তা প্রত্যাখ্যান করি।

আর এ কারণে তারা চীৎকার করে আমাদের বিরুদ্ধে লোক-লস্কর জমা করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ সঙ্গীতের গায়ক কে? তাঁরা বললেন, ‘আমির ইবনুল আকওয়া‘। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন। কাফেলার একজন বললঃ হে আল্লাহর নবী! তার (শাহাদাত) নিশ্চিত হয়ে গেল। (হায়) আমাদেরকে যদি তার নিকট হতে আরো উপকার লাভের সুযোগ দিতেন! অতঃপর আমরা খাইবারে পৌঁছলাম এবং তাদেরকে অবরোধ করলাম। এক সময় আমরা ভীষণ ক্ষুধায় আক্রান্ত হলাম। কিন্তু পরেই মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করলেন। বিজয়ের দিন সন্ধ্যায় মুসলিমগণ (রান্নার জন্য) অনেক আগুন জ্বালালেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ এ সব কিসের আগুন? তোমরা কী রান্না করছ? তারা জানালেন, মাংস। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ কিসের মাংস? লোকেরা বললেন, গৃহপালিত গাধার মাংস। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলি ঢেলে দাও এবং ডেকচিগুলো ভেঙ্গে ফেল। একজন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গোশ্তগুলো ঢেলে দিয়ে যদি পাত্রগুলো ধুয়ে নেই? তিনি বললেন, তাও করতে পার। এরপর যখন সবাই যুদ্ধের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িলে গেলেন, আর ‘আমির ইবনুল আকওয়া‘ (রাঃ)-এর তলোয়ারটা ছিল ছোট, তা দিয়ে তিনি জনৈক ইয়াহূদীর পায়ের গোছায় আঘাত করলে তরবারির তীক্ষ্ণ ভাগ ঘুরে এসে তাঁর নিজের হাঁটুতে লেগে যায়। এতে তিনি মারা যান। সালামাহ ইবনুল আকওয়া‘ (রাঃ) বলেনঃ তারপর লোকেরা খাইবার থেকে ফিরতে শুরু করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখে আমার হাত ধরে বললেন, কী খবর? আমি বললামঃ আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। লোকজন ধারণা করছে, (নিজ আঘাতে মারা যাওয়ায়) ‘আমির (রাঃ)-এর ‘আমল নষ্ট হয়ে গেছে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ কথা যে বলেছে সে মিথ্যা বলেছে। বরং ‘আমিরের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু’টি আঙ্গুল একত্রিত করে দেখালেন। অবশ্যই সে একজন সচেষ্ট ব্যক্তি ও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী। তাঁর মত গুণের অধিকারী আরাব খুব কমই আছে। আমাদের নিকট হাতিম কুতাইবাহর মাধ্যমে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৭৯)
হাদিস নং: ৪১৯৭ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن حميد الطويل عن انس رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اتى خيبر ليلا وكان اذا اتى قوما بليل لم يغر بهم حتى يصبح فلما اصبح خرجت اليهود بمساحيهم ومكاتلهم فلما راوه قالوا محمد والله محمد والخميس فقال النبي صلى الله عليه وسلم خربت خيبر انا اذا نزلنا بساحة قوم فساء صباح المنذرين.
৪১৯৭. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রিকালে খাইবারে পৌঁছলেন। আর তিনি (কোন অভিযানে) কোন গোত্রের এলাকায় রাত্রিকালে গিয়ে পৌঁছলে, সকাল না হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর আক্রমণ চালাতেন না। সকাল হলে ইয়াহূদীরা তাদের কৃষি সরঞ্জাম ও টুকরি নিয়ে বাইরে আসল, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেল, তখন তারা (ভয়ে) বলতে লাগল, মুহাম্মাদ, আল্লাহর কসম, মুহাম্মাদ তার দলবল নিয়ে এসে পড়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খাইবার ধ্বংস হয়েছে। আমরা যখনই কোন গোত্রের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হই তখন সেই সতর্ক করা গোত্রের সকাল হয় মন্দভাবে। [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮০)
হাদিস নং: ৪১৯৮ সহিহ (Sahih)
اخبرنا صدقة بن الفضل اخبرنا ابن عيينة حدثنا ايوب عن محمد بن سيرين عن انس بن مالك رضي الله عنه قال صبحنا خيبر بكرة فخرج اهلها بالمساحي فلما بصروا بالنبي صلى الله عليه وسلم قالوا محمد والله محمد والخميس فقال النبي صلى الله عليه وسلم الله اكبر خربت خيبر انا اذا نزلنا بساحة قوم فساء صباح المنذرين فاصبنا من لحوم الحمر فنادى منادي النبي صلى الله عليه وسلم ان الله ورسوله ينهيانكم عن لحوم الحمر فانها رجس.
৪১৯৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খুব সকালে খাইবারে গিয়ে পৌঁছলাম। তখন সেখানকার লোকেরা কৃষির সরঞ্জাম নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেল তখন বলল, মুহাম্মাদ, আল্লাহর কসম, মুহাম্মাদ তার দলবল নিয়ে এসে পড়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহু আকবার) ধ্বনি উচ্চারণ করে বললেন, খাইবার ধ্বংস হয়েছে। আমরা যখনই কোন গোত্রের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হই, তখন সেই সতর্ক করা গোত্রের সকাল হয় মন্দভাবে। [আনাস (রাঃ) বলেন] এ যুদ্ধে আমরা গাধার মাংস লাভ করেছিলাম (আর তা পাক করা হচ্ছিল)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষণাকারী ঘোষণা করলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন। কারণ তা নাপাক। [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮১)
হাদিস নং: ৪১৯৯ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن عبد الوهاب حدثنا عبد الوهاب حدثنا ايوب عن محمد عن انس بن مالك رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم جاءه جاء فقال اكلت الحمر فسكت ثم اتاه الثانية فقال اكلت الحمر فسكت ثم اتاه الثالثة فقال افنيت الحمر فامر مناديا فنادى في الناس ان الله ورسوله ينهيانكم عن لحوم الحمر الاهلية فاكفىت القدور وانها لتفور باللحم.
৪১৯৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একজন আগন্তুক এসে বলল, (গানীমাতের) গাধাগুলো খেয়ে ফেলা হচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন। এরপর লোকটি দ্বিতীয়বার এসে বলল, গাধাগুলো খেয়ে ফেলা হচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনো চুপ থাকলেন। লোকটি তৃতীয়বার এসে বলল, গাধাগুলো খতম করে দেয়া হচ্ছে। তখন তিনি একজন ঘোষণাকারীকে হুকুম দিলেন। সে লোকজনের সামনে গিয়ে ঘোষণা দিলঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশ্ত খেতে নিষেধ করেছেন। তখন ডেকচিগুলো উল্টে দেয়া হল। অথচ ডেকচিগুলোতে গোশ্ত তখন টগবগ করে ফুটছিল। [৩৭১০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮২)
হাদিস নং: ৪২০০ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ثابت عن انس رضي الله عنه قال صلى النبي صلى الله عليه وسلم الصبح قريبا من خيبر بغلس ثم قال الله اكبر خربت خيبر انا اذا نزلنا بساحة قوم فساء صباح المنذرين فخرجوا يسعون في السكك فقتل النبي صلى الله عليه وسلم المقاتلة وسبى الذرية وكان في السبي صفية فصارت الى دحية الكلبي ثم صارت الى النبي صلى الله عليه وسلم فجعل عتقها صداقها فقال عبد العزيز بن صهيب لثابت يا ابا محمد انت قلت لانس ما اصدقها فحرك ثابت راسه تصديقا له.
৪২০০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের নিকটে সকালে কিছু অন্ধকার থাকতেই ফজরের সালাত আদায় করলেন। তারপর আল্লাহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করে বললেন, খাইবার ধ্বংস হয়েছে। আমরা যখনই কোন গোত্রের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হই তখনই সতর্ক করা গোত্রের সকালটি হয় মন্দরূপে। এ সময়ে খাইবারের অধিবাসীরা অলি-গলিতে গিয়ে আশ্রয় নিতে আরম্ভ করল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্যকার যোদ্ধাদেরকে হত্যা করলেন। আর শিশু ও নারীদেরকে বন্দী করলেন। বন্দীদের মধ্যে ছিলেন সফিয়্যাহ। প্রথমে তিনি দাহ্ইয়াতুল কালবীর অংশে এবং পরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অংশে বণ্টিত হন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুক্তিদানকে (বিবাহের) মাহর হিসেবে গণ্য করেন। ‘আবদুল ‘আযীয ইবনু সুহাইব (রহ.) সাবিত (রহ.)-কে বললেন, হে আবূ মুহাম্মাদ! আপনি কি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর [সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর] মোহর কী ধার্য করেছিলেন? তখন সাবিত (রহ.) ‘হ্যাঁ’ বুঝানোর জন্য মাথা নাড়লেন। [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮৩)
হাদিস নং: ৪২০১ সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة عن عبد العزيز بن صهيب قال سمعت انس بن مالك رضي الله عنه يقول سبى النبي صلى الله عليه وسلم صفية فاعتقها وتزوجها فقال ثابت لانس ما اصدقها قال اصدقها نفسها فاعتقها.
৪২০১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যা (রাঃ)-কে বন্দী করেছিলেন। পরে তিনি তাঁকে আযাদ করে বিয়ে করেছিলেন। সাবিত (রহ.) আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মোহর কত নির্দিষ্ট করেছিলেন? আনাস (রাঃ) বললেনঃ স্বয়ং সাফিয়্যা (রাঃ)-কেই মোহর ধার্য করেছিলেন এবং তাঁকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮৪)
হাদিস নং: ৪২০২ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا عبد الواحد عن عاصم عن ابي عثمان عن ابي موسى الاشعري رضي الله عنه قال لما غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم خيبر او قال لما توجه رسول الله صلى الله عليه وسلم اشرف الناس على واد فرفعوا اصواتهم بالتكبير الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اربعوا على انفسكم انكم لا تدعون اصم ولا غاىبا انكم تدعون سميعا قريبا وهو معكم وانا خلف دابة رسول الله صلى الله عليه وسلم فسمعني وانا اقول لا حول ولا قوة الا بالله فقال لي يا عبد الله بن قيس قلت لبيك يا رسول الله قال الا ادلك على كلمة من كنز من كنوز الجنة قلت بلى يا رسول الله فداك ابي وامي قال لا حول ولا قوة الا بالله.
৪২০২. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাইবার যুদ্ধের জন্য বের হলেন কিংবা রাবী বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাইবারের দিকে যাত্রা করলেন, তখন সাথী লোকজন একটি উপত্যকায় পৌঁছে এই বলে উচ্চস্বরে তাকবীর দিতে শুরু করল-আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। (আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ব্যতীত কোন প্রকৃত ইলাহ নেই)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা নিজেদের প্রতি দয়া কর। কারণ তোমরা এমন কোন সত্তাকে ডাকছ না যিনি বধির বা অনুপস্থিত। বরং তোমরা তো ডাকছ সেই সত্তাকে যিনি শ্রবণকারী ও অতি নিকটে অবস্থানকারী, যিনি তোমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। [আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) বলেন] আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাওয়ারীর পেছনে ছিলাম। তিনি আমাকে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলতে শুনে বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স! আমি বললাম, আমি উপস্থিত হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, আমি তোমাকে এমন একটি কথা শিখিয়ে দেব কি যা জান্নাতের ভান্ডারসমূহের মধ্যে একটি ভান্ডার? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হল ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’। [২৯৯২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮৭)
হাদিস নং: ৪২০৩ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا يعقوب عن ابي حازم عن سهل بن سعد الساعدي رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم التقى هو والمشركون فاقتتلوا فلما مال رسول الله صلى الله عليه وسلم الى عسكره ومال الاخرون الى عسكرهم وفي اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم رجل لا يدع لهم شاذة ولا فاذة الا اتبعها يضربها بسيفه فقيل ما اجزا منا اليوم احد كما اجزا فلان فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اما انه من اهل النار فقال رجل من القوم انا صاحبه قال فخرج معه كلما وقف وقف معه واذا اسرع اسرع معه قال فجرح الرجل جرحا شديدا فاستعجل الموت فوضع سيفه بالارض وذبابه بين ثدييه ثم تحامل على سيفه فقتل نفسه فخرج الرجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اشهد انك رسول الله قال وما ذاك قال الرجل الذي ذكرت انفا انه من اهل النار فاعظم الناس ذلك فقلت انا لكم به فخرجت في طلبه ثم جرح جرحا شديدا فاستعجل الموت فوضع نصل سيفه في الارض وذبابه بين ثدييه ثم تحامل عليه فقتل نفسه فقال رسول الله عند ذلك ان الرجل ليعمل عمل اهل الجنة فيما يبدو للناس وهو من اهل النار وان الرجل ليعمل عمل اهل النار فيما يبدو للناس وهو من اهل الجنة.
৪২০৩. সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। (খাইবারের যুদ্ধে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুশরিকরা মুখোমুখী হলেন। পরস্পরের মধ্যে তুমুল লড়াই হল। (দিনের শেষে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেনা ছাউনিতে ফিরে আসলেন আর অন্যপক্ষও তাদের ছাউনিতে ফিরে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিলেন, যিনি তার তরবারি থেকে একাকী কিংবা দলবদ্ধ কোন শত্রু সৈন্যকেই রেহাই দেননি। বরং পিছু ধাওয়া করে তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করেছেন। তাদের কেউ বললেন, অমুক ব্যক্তি আজ যা করেছে আমাদের মধ্যে আর অন্য কেউ তা করতে সক্ষম হয়নি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিন্তু সে তো জাহান্নামী। সাহাবীগণের একজন বললেন, (ব্যাপারটা দেখার জন্য) আমি তার সঙ্গী হব। সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) বলেন, পরে তিনি ঐ লোকটির সঙ্গে বের হলেন, লোকটি থামলে তিনিও থামতেন, লোকটি দ্রুত চললে তিনিও দ্রুত চলতেন। বর্ণনাকারী বলেন, এক সময়ে লোকটি ভীষণভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হল এবং (যন্ত্রণার চোটে) শীঘ্র মৃত্যু কামনা করল। তাই সে তার তরবারির গোড়ার অংশ মাটিতে রেখে এর ধারালো দিক বুকের মাঝে রাখল। এরপর সে তরবারির উপর নিজেকে জোরে চেপে ধরে আত্মহত্যা করল। তখন লোকটি (অনুসরণকারী সাহাবী) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ব্যাপার কী? তিনি বললেন, একটু আগে আপনি যে লোকটির কথা বলেছিলেন যে, লোকটি জাহান্নামী, তাতে লোকেরা আশ্চর্যান্বিত হয়েছিল। তখন আমি তাদেরকে বলেছিলাম, আমি লোকটির পিছু নিয়ে দেখব। কাজেই আমি ব্যাপারটির খোঁজে বেরিয়ে পড়ি। এক সময় লোকটি মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হল এবং শীঘ্র মৃত্যু কামনা করল, তাই সে তার তরবারির হাতলের দিক মাটিতে বসিয়ে এর তীক্ষ্ণ ভাগ নিজের বুকের মাঝে রাখল। এরপর নিজেকে তার উপর জোরে চেপে ধরে আত্মহত্যা করল। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অনেক সময় মানুষ জান্নাতীদের মত ‘আমল করতে থাকে, যা দেখে অন্যরা তাকে জান্নাতীই মনে করে। অথচ সে জাহান্নামী। আবার অনেক সময় মানুষ জাহান্নামীদের মতো ‘আমল করতে থাকে যা দেখে লোকজনও সেরূপই মনে করে থাকে, অথচ সে জান্নাতী। [২৯০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮৫)
হাদিস নং: ৪২০৪ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني سعيد بن المسيب ان ابا هريرة رضي الله عنه قال شهدنا خيبر فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لرجل ممن معه يدعي الاسلام هذا من اهل النار فلما حضر القتال قاتل الرجل اشد القتال حتى كثرت به الجراحة فكاد بعض الناس يرتاب فوجد الرجل الم الجراحة فاهوى بيده الى كنانته فاستخرج منها اسهما فنحر بها نفسه فاشتد رجال من المسلمين فقالوا يا رسول الله صدق الله حديثك انتحر فلان فقتل نفسه فقال قم يا فلان فاذن انه لا يدخل الجنة الا مومن ان الله يويد الدين بالرجل الفاجر تابعه معمر عن الزهري
৪২০৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাইবার যুদ্ধে গিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর সঙ্গীদের মধ্য থেকে মুসলিম হওয়ার দাবীদার এক ব্যক্তি সম্পর্কে বললেন, লোকটি জাহান্নামী। এরপর যুদ্ধ আরম্ভ হলে লোকটি ভীষণভাবে যুদ্ধ চালিয়ে গেল, এমন কি তার দেহ বিক্ষত হয়ে গেল। এতে কারো কারো [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভবিষ্যদ্বাণীর উপর] সন্দেহ সৃষ্টি হল। অতঃপর লোকটি আঘাতের যন্ত্রণায় অসহ্য হয়ে তূণীরের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে সেখান থেকে তীর বের করে আনল। আর তীরটি নিজের বক্ষদেশে ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করল। তা দেখে কতিপয় মুসলিম দ্রুত ছুটে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনার কথাকে সত্য প্রমাণিত করেছেন। ঐ লোকটি নিজেই নিজের বক্ষে আঘাত করে আত্মহত্যা করেছে। তখন তিনি বললেন, হে অমুক! দাঁড়াও এবং ঘোষণা দাও যে, মু’মিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। অবশ্য আল্লাহ ফাসিক ব্যক্তি দ্বারাও দ্বীনের সাহায্য করে থাকেন। মা‘মার (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনায় শু‘আয়ব (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। [২৮৯৮, ৩০৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮৬)
হাদিস নং: ৪২০৫ সহিহ (Sahih)
وقال شبيب عن يونس عن ابن شهاب اخبرني ابن المسيب وعبد الرحمن بن عبد الله بن كعب ان ابا هريرة قال شهدنا مع النبي صلى الله عليه وسلم حنينا وقال ابن المبارك عن يونس عن الزهري عن سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم تابعه صالح عن الزهري وقال الزبيدي اخبرني الزهري ان عبد الرحمن بن كعب اخبره ان عبيد الله بن كعب قال اخبرني من شهد مع النبي صلى الله عليه وسلم خيبر قال الزهري واخبرني عبيد الله بن عبد الله وسعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৪২০৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খাইবার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলাম ......। (‘আবদুল্লাহ) ইবনু মুবারাক হাদীসটি ইউনুস-‘যুহরী-সা‘ঈদ [ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহ.)] সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। সালিহ (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকে ইবনু মুবারাক (রাঃ)-এর মতোই বর্ণনা করেছেন। আর যুবাইদী (রহ.) হাদীসটি যুহরী, ‘আবদুর রহমান ইবনু কা‘ব, ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু কা‘ব (রহ.) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খাইবারে অংশগ্রহণকারী জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। (যুবাইদী আরো বলেন) যুহরী (রহ.) এ হাদীসটিকে ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ এবং সা‘ঈদ (ইবনুল মুসাইয়্যাব) (রহ.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [৩০৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮৬)
হাদিস নং: ৪২০৬ সহিহ (Sahih)
المكي بن ابراهيم حدثنا يزيد بن ابي عبيد قال رايت اثر ضربة في ساق سلمة فقلت يا ابا مسلم ما هذه الضربة فقال هذه ضربة اصابتني يوم خيبر فقال الناس اصيب سلمة فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فنفث فيه ثلاث نفثات فما اشتكيتها حتى الساعة.
৪২০৬. ইয়াযীদ ইবনু আবূ ‘উবায়দ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালামাহ (ইবনু আকওয়া) (রাঃ)-এর পায়ের নলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ মুসলিম! এ আঘাতটি কিসের? তিনি বললেন, এ আঘাত আমি খাইবার যুদ্ধে পেয়েছিলাম। লোকজন বলাবলি করল, সালামাহ মারা যাবে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। তিনি ক্ষতটিতে তিনবার ফুঁ দিলেন। ফলে আজ পর্যন্ত এতে কোন ব্যথা অনুভব করিনি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮৮)
হাদিস নং: ৪২০৭ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة حدثنا ابن ابي حازم عن ابيه عن سهل قال التقى النبي صلى الله عليه وسلم والمشركون في بعض مغازيه فاقتتلوا فمال كل قوم الى عسكرهم وفي المسلمين رجل لا يدع من المشركين شاذة ولا فاذة الا اتبعها فضربها بسيفه فقيل يا رسول الله ما اجزا احد ما اجزا فلان فقال انه من اهل النار فقالوا اينا من اهل الجنة ان كان هذا من اهل النار فقال رجل من القوم لاتبعنه فاذا اسرع وابطا كنت معه حتى جرح فاستعجل الموت فوضع نصاب سيفه بالارض وذبابه بين ثدييه ثم تحامل عليه فقتل نفسه فجاء الرجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال اشهد انك رسول الله فقال وما ذاك فاخبره فقال ان الرجل ليعمل بعمل اهل الجنة فيما يبدو للناس وانه لمن اهل النار ويعمل بعمل اهل النار فيما يبدو للناس وهو من اهل الجنة.
৪২০৭. সাহল (ইবনু সা‘দ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুশরিকরা মুখোমুখী হলেন। তাদের মধ্যে তুমুল লড়াই হল। (শেষে) সকলেই আপন আপন সেনা ছাউনীতে ফিরে গেল। মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল, যে মুশরিকদের কোন একাকী কিংবা দলবদ্ধ কোন শত্রুকেই রেহাই দেয়নি বরং তাড়িয়ে নিয়ে তরবারি দ্বারা হত্যা করেছে। তখন বলা হল! হে আল্লাহর রাসূল! অমুক লোক আজ যতটা ‘আমল করেছে অন্য কেউ ততটা করতে পারেনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে ব্যক্তি জাহান্নামী। তারা বলল, তা হলে আমাদের মধ্যে আর কে জান্নাতী হবে যদি এ ব্যক্তিই জাহান্নামী হয়? তখন কাফেলার মধ্য থেকে একজন বলল, অবশ্যই আমি তাকে অনুসরণ করে দেখব (তিনি বলেন) লোকটির দ্রুত গতিতে বা ধীর গতিতে আমি তার সঙ্গে থাকতাম। শেষে, লোকটি আঘাতপ্রাপ্ত হলে যন্ত্রণার চোটে সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করে তার তরবারির বাঁট মাটিতে রাখলো এবং ধারালো দিক নিজের বুকের মাঝে রেখে এর উপর সজোরে চেপে ধরে আত্মহত্যা করল। তখন (অনুসরণকারী) সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? তিনি তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সব ঘটনা জানালেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কেউ কেউ জান্নাতবাসীদের মতো ‘আমল করতে থাকে আর লোকজন তাকে তেমনই মনে করে থাকে অথচ সে জাহান্নামী। আবার কেউ কেউ জাহান্নামীর মতো ‘আমল করে থাকে আর লোকজনও তাকে তাই মনে করে অথচ সে জান্নাতী। [২৮৯৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৮৯)
হাদিস নং: ৪২০৮ সহিহ (Sahih)
محمد بن سعيد الخزاعي حدثنا زياد بن الربيع عن ابي عمران قال نظر انس الى الناس يوم الجمعة فراى طيالسة فقال كانهم الساعة يهود خيبر
৪২০৮. আবূ ‘ইমরান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক জুমু‘আহর দিনে আনাস (রাঃ) লোকজনের দিকে তাকিয়ে দেখলেন তাদের (মাথায়) তায়ালিসাহ[1] চাদর। তখন তিনি বললেন, এ মুহূর্তে এদেরকে খাইবারের ইয়াহূদীদের মতো দেখাচ্ছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯০
নোট: [1] এক প্রকারের চাদরকে ত্বয়ালিসাহ বলা হয়। খায়বারে ইয়াহূদ সম্প্রদায় এগুলো অধিক ব্যবহার করতো। তাই আনাস (রাঃ) বসরায় আগমনের পর খুতবায় দাঁড়িয়ে মুসল্লীগণকে তয়ালিসাহ চাদর পরা অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্বীয় অনুভূতি ব্যক্ত করলেন।
হাদিস নং: ৪২০৯ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة حدثنا حاتم عن يزيد بن ابي عبيد عن سلمة رضي الله عنه قال كان علي بن ابي طالب رضي الله عنه تخلف عن النبي صلى الله عليه وسلم في خيبر وكان رمدا فقال انا اتخلف عن النبي صلى الله عليه وسلم فلحق به فلما بتنا الليلة التي فتحت قال لاعطين الراية غدا او لياخذن الراية غدا رجل يحبه الله ورسوله يفتح عليه فنحن نرجوها فقيل هذا علي فاعطاه ففتح عليه.
৪২০৯. সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, চক্ষু রোগ হওয়ায় ‘আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থেকে খাইবার অভিযানে পেছনে পড়ে গিয়েছিলেন। [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা থেকে রওয়ানা হয়ে এসে পড়লে] ‘আলী (রাঃ) বলেন, আমি পেছনে বসে থাকব। সুতরাং তিনি গিয়ে তাঁর সঙ্গে মিলিত হলেন। [সালামাহ (রাঃ) বলেন] খাইবার বিজিত হওয়ার আগের রাতে তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আগামীকাল সকালে আমি এমন ব্যক্তির হাতে পতাকা তুলে দেব অথবা তিনি বলেছেন, আগামীকাল সকালে এমন এক ব্যক্তি পতাকা গ্রহণ করবে যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালবাসেন। আর তার হাতেই খাইবার বিজিত হবে। কাজেই আমরা সবাই সেটি কামনা করছিলাম। তখন বলা হল, এই তো ‘আলী। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পতাকা প্রদান করলেন এবং তাঁর হাতেই খাইবার বিজিত হল। [২৯৭৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯১)
হাদিস নং: ৪২১০ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن ابي حازم قال اخبرني سهل بن سعد رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال يوم خيبر لاعطين هذه الراية غدا رجلا يفتح الله على يديه يحب الله ورسوله ويحبه الله ورسوله قال فبات الناس يدوكون ليلتهم ايهم يعطاها فلما اصبح الناس غدوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم كلهم يرجو ان يعطاها فقال اين علي بن ابي طالب فقيل هو يا رسول الله يشتكي عينيه قال فارسلوا اليه فاتي به فبصق رسول الله صلى الله عليه وسلم في عينيه ودعا له فبرا حتى كان لم يكن به وجع فاعطاه الراية فقال علي يا رسول الله اقاتلهم حتى يكونوا مثلنا فقال انفذ على رسلك حتى تنزل بساحتهم ثم ادعهم الى الاسلام واخبرهم بما يجب عليهم من حق الله فيه فوالله لان يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من ان يكون لك حمر النعم.
৪২১০. সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। খাইবারের যুদ্ধে একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আগামীকাল সকালে আমি এমন এক লোকের হাতে ঝান্ডা তুলে দেব যার হাতে আল্লাহ খাইবারে বিজয় দান করবেন যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসে এবং যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালবাসেন। সাহল (রাঃ) বলেন, মুসলিমগণ এ জল্পনায় রাত কাটালো যে, তাদের মধ্যে কাকে দেয়া হবে এ ঝান্ডা। সকালে সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন, আর প্রত্যেকেই তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) কোথায়? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো চক্ষুরোগে আক্রান্ত। তিনি বললেন, তার কাছে লোক পাঠাও। সে মতে তাঁকে আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উভয় চোখে থুথু লাগিয়ে তার জন্য দু‘আ করলেন। ফলে চোখ এমন ভাল হয়ে গেল যেন কখনো চোখে কোন রোগই ছিল না। এরপর তিনি তার হাতে ঝান্ডা প্রদান করলেন। তখন ‘আলী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা আমাদের মতো (মুসলিম) না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বর্তমান অবস্থায়ই তাদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে হাজির হও, এরপর তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহবান করো, আল্লাহর অধিকার প্রদানে তাদের প্রতি যে দায়িত্ব বর্তায় সে সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত কর। কারণ আল্লাহর কসম! তোমার দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ যদি মাত্র একজন মানুষকেও হিদায়াত দেন তাহলে তা তোমার জন্য লাল রঙের (মূল্যবান) উটের[1] মালিক হওয়ার চেয়ে উত্তম। [২৯৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯২)
নোট: [1] আরবীয় উটের যত প্রকার আছে তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, অভিজাত, আকর্ষণীয় ও মূল্যবান উট হচ্ছে লাল রঙ্গের উট।
হাদিস নং: ৪২১১ সহিহ (Sahih)
عبد الغفار بن داود حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن ح و حدثني احمد حدثنا ابن وهب قال اخبرني يعقوب بن عبد الرحمن الزهري عن عمرو مولى المطلب عن انس بن مالك رضي الله عنه قال قدمنا خيبر فلما فتح الله عليه الحصن ذكر له جمال صفية بنت حيي بن اخطب وقد قتل زوجها وكانت عروسا فاصطفاها النبي لنفسه فخرج بها حتى بلغنا سد الصهباء حلت فبنى بها رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم صنع حيسا في نطع صغير ثم قال لي اذن من حولك فكانت تلك وليمته على صفية ثم خرجنا الى المدينة فرايت النبي صلى الله عليه وسلم يحوي لها وراءه بعباءة ثم يجلس عند بعيره فيضع ركبته وتضع صفية رجلها على ركبته حتى تركب.
৪২১১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাইবারে এসে পৌঁছলাম। এরপর যখন আল্লাহ তাঁকে খাইবার দূর্গের বিজয় দান করলেন তখন তাঁর কাছে (ইয়াহূদী দলপতি) হুয়াঈ ইবনু আখতাবের কন্যা সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর সৌন্দর্যের ব্যাপারে আলোচনা করা হল। তার স্বামী (এ যুদ্ধে) নিহত হয়। সে ছিল নববধূ। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের জন্য মনোনীত করেন এবং তাকে সঙ্গে করে (খাইবার থেকে) যাত্রা করেন। এরপর আমরা যখন সাদ্দুস সাহবা নামক স্থান পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছলাম তখন সফিয়্যাহ (রাঃ) তাঁর মাসিক ঋতুস্রাব থেকে মুক্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে বাসর করলেন। তারপর একটি ছোট দস্তরখানে (খেজুর-ঘি ও ছাতু মিশ্রিত) হায়স নামক খানা সাজিয়ে আমাকে বললেন, তোমার আশেপাশে যারা আছে সবাইকে ডাক। আর এটিই ছিল সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে বিয়ের ওয়ালীমা। তারপর আমরা মদিনার দিকে রওয়ানা হলাম, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সাওয়ারীর পেছনে সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর জন্য একটি চাদর বিছাতে দেখেছি। এরপর তিনি তাঁর সাওয়ারীর ওপর হাঁটুদ্বয় মেলে বসতেন এবং সফিয়্যাহ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাঁটুর উপর পা রেখে সাওয়ারীতে উঠতেন। [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৩)
হাদিস নং: ৪২১২ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني اخي عن سليمان عن يحيى عن حميد الطويل سمع انس بن مالك رضي الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم اقام على صفية بنت حيي بطريق خيبر ثلاثة ايام حتى اعرس بها وكانت فيمن ضرب عليها الحجاب.
৪২১২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার থেকে ফেরার পথে সফিয়্যাহ (রাঃ) বিন্তে হুয়াঈ-এর কাছে তিনদিন অবস্থান করে তার সঙ্গে বাসর যাপন করেছেন। আর (রাঃ) ছিলেন তাদের একজন যাদের জন্য পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।[1] [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৪)
নোট: [1] ইসলামী শরী‘আহ্তে ক্রীতদাসীর জন্য পর্দার হুকুম পালন করতে হতো না। কিন্তু স্বাধীন নারীদের জন্য পর্দা করতে হতো। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়া (রাঃ)-এর জন্য পর্দার ব্যবস্থা করায় বুঝা গেল তিনি তাকে ক্রীতদাসী নয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
হাদিস নং: ৪২১৩ সহিহ (Sahih)
سعيد بن ابي مريم اخبرنا محمد بن جعفر بن ابي كثير قال اخبرني حميد انه سمع انسا رضي الله عنه يقول اقام النبي صلى الله عليه وسلم بين خيبر والمدينة ثلاث ليال يبنى عليه بصفية فدعوت المسلمين الى وليمته وما كان فيها من خبز ولا لحم وما كان فيها الا ان امر بلالا بالانطاع فبسطت فالقى عليها التمر والاقط والسمن فقال المسلمون احدى امهات المومنين او ما ملكت يمينه قالوا ان حجبها فهي احدى امهات المومنين وان لم يحجبها فهي مما ملكت يمينه فلما ارتحل وطا لها خلفه ومد الحجاب.
৪২১৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার ও মদিনার মাঝে একস্থানে তিনদিন অবস্থান করেছিলেন যাতে তিনি সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে বাসর করেছেন। আমি মুসলিমদেরকে ওয়ালীমার জন্য দাওয়াত দিলাম। অবশ্য এ ওয়ালীমাতে মাংসও ছিল না, রুটিও ছিল না। কেবল এতটুকু ছিল যে, তিনি বিলাল (রাঃ)-কে দস্তরখান বিছাতে বললেন। তা বিছানো হল। এরপর তাতে কিছু খেজুর, পনির ও ঘি রাখা হল। এ অবস্থা দেখে মুসলিমগণ পরস্পর বলাবলি করতে লাগল যে, তিনি [সফিয়্যাহ (রাঃ)] কি উম্মাহাতুল মু’মিনীনের একজন, না ক্রীতদাসীদের একজন? তাঁরা (আরো) বললেন, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেন তাহলে তিনি উম্মাহাতুল মু’মিনীনেরই একজন বোঝা যাবে। আর পর্দার ব্যবস্থা না করলে তিনি দাসীদের অন্তর্ভুক্ত। এরপর যখন তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] রওয়ানা হলেন তখন তিনি নিজের পেছনে সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর জন্য বসার জায়গা করে দিয়ে পর্দা খাটিয়ে দিলেন। [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৫)
অধ্যায় তালিকা