হাদিস নং: ৩৯৫৪
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام ان ابن جريج اخبرهم قال اخبرني عبد الكريم انه سمع مقسما مولى عبد الله بن الحارث يحدث عن ابن عباس انه سمعه يقول (لا يستوي القاعدون من المومنين) عن بدر والخارجون الى بدر.
৩৯৫৪. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘‘মু’মিনদের মধ্যে তারা সমান নয় যারা (বদরে না গিয়ে) বসে ছিল’’- (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৫)। এবং যারা বদরে হাজির হয়েছিল মর্মে (আয়াতটি) বাদর এবং তদুদ্দেশে ঘর ছেড়ে বের হওয়া সাহাবীদের ব্যাপারে (নাযিল হয়)। [৪৫৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৬৬)
হাদিস নং: ৩৯৫৫
সহিহ (Sahih)
مسلم بن ابراهيم حدثنا شعبة عن ابي اسحاق عن البراء قال استصغرت انا وابن عمر حدثني محمود حدثنا وهب عن شعبة عن ابي اسحاق عن البراء قال استصغرت انا وابن عمر يوم بدر وكان المهاجرون يوم بدر نيفا على ستين والانصار نيفا واربعين وماىتين.
৩৯৫৫. বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের দিন আমাকে ও ইবনু ‘উমারকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক গণ্য করা হয়েছিল। [1] [৩৯৫৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নেই)
নোট: [1] অর্থাৎ বারা ইবনু ‘আযিব ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অল্প বয়স্ক গণ্য করায় তারা বাদর যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি।
হাদিস নং: ৩৯৫৬
সহিহ (Sahih)
مسلم بن ابراهيم حدثنا شعبة عن ابي اسحاق عن البراء قال استصغرت انا وابن عمر حدثني محمود حدثنا وهب عن شعبة عن ابي اسحاق عن البراء قال استصغرت انا وابن عمر يوم بدر وكان المهاجرون يوم بدر نيفا على ستين والانصار نيفا واربعين وماىتين.
৩৯৫৬. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের দিন আমাকে ও ইবনু ‘উমারকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক গণ্য করা হয়েছিল, এ যুদ্ধে মুহাজিরদের সংখ্যা ছিল ষাটের বেশী এবং আনসারদের সংখ্যা ছিল দুশ’ চল্লিশেরও অধিক। [1] [৩৯৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৬৭)
নোট: [1] মুসলিম হবার কারণে যারা অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করে আশ্রয়ের জন্য মদীনা গমন করেছিলেন তারা মুহাজির হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মদীনাবাসীদের মধ্য হতে যারা মুহাজিরদের বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তারা আনসার নামে পরিচিত ছিলেন।
হাদিস নং: ৩৯৫৭
সহিহ (Sahih)
عمرو بن خالد حدثنا زهير حدثنا ابو اسحاق قال سمعت البراء يقول حدثني اصحاب محمد ممن شهد بدرا انهم كانوا عدة اصحاب طالوت الذين جازوا معه النهر بضعة عشر وثلاث ماىة قال البراء لا والله ما جاوز معه النهر الا مومن.
৩৯৫৭. বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে সব সাহাবী বদরে উপস্থিত ছিলেন তারা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তাদের সংখ্যা তালুতের যে সব সঙ্গী নদী পার হয়েছিলেন তাদের সমান ছিল। তাদের সংখ্যা ছিল তিনশ’ দশেরও কিছু বেশী। বারা’ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, ঈমানদার ব্যতীত আর কেউই তাঁর সঙ্গে নদী পার হতে পারেনি। [৩৯৫৮-৩৯৫৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৬৮)
হাদিস নং: ৩৯৫৮
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن رجاء حدثنا اسراىيل عن ابي اسحاق عن البراء قال كنا اصحاب محمد نتحدث ان عدة اصحاب بدر على عدة اصحاب طالوت الذين جاوزوا معه النهر ولم يجاوز معه الا مومن بضعة عشر وثلاث ماىة.
৩৯৫৮. বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ পরস্পর আলোচনা করতাম যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের সংখ্যা তালুতের সঙ্গে যারা নদী পার হয়েছিলেন তাদের সমানই ছিল এবং তিনশ’ দশ জনের অধিক ঈমানদার ব্যতীত কেউ তাঁর সঙ্গে নদী পার হতে পারেনি। [৩৯৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৬৯)
হাদিস নং: ৩৯৫৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن ابي شيبة حدثنا يحيى عن سفيان عن ابي اسحاق عن البراء ح و حدثنا محمد بن كثير اخبرنا سفيان عن ابي اسحاق عن البراء قال كنا نتحدث ان اصحاب بدر. ثلاث ماىة وبضعة عشر بعدة اصحاب طالوت الذين جاوزوا معه النهر وما جاوز معه الا مومن.
৩৯৫৯. বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা পরস্পর আলোচনা করতাম যে, বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সাহাবীগণের সংখ্যা তিনশ’ দশ জনেরও কিছু অধিক ছিল, তালুতের যে সংখ্যক সাথী তাঁর সঙ্গে নদী পার হয়েছিল; মু’মিন ব্যতীত কেউ তার সঙ্গে নদী পার হতে পারেনি। [৩৯৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭০)
হাদিস নং: ৩৯৬০
সহিহ (Sahih)
عمرو بن خالد حدثنا زهير حدثنا ابو اسحاق عن عمرو بن ميمون عن عبد الله بن مسعود قال استقبل النبي صلى الله عليه وسلم الكعبة فدعا على نفر من قريش على شيبة بن ربيعة وعتبة بن ربيعة والوليد بن عتبة وابي جهل بن هشام فاشهد بالله لقد رايتهم صرعى قد غيرتهم الشمس وكان يوما حارا.
৩৯৬০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার দিকে মুখ করে কুরাইশের কতিপয় লোকের তথা- শায়বাহ্ ইবনু রাবী’আহ, ‘উত্বাহ ইবনু রাবী‘আ, ওয়ালীদ ইবনু ‘উত্বাহ এবং আবূ জাহ্ল ইবনু হিশামের বিরুদ্ধে দু’আ করেন। আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি, অবশ্যই আমি এ সমস্ত লোকদেরকে (বদরের ময়দানে) নিহত হয়ে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখেছি। প্রচন্ড রোদ তাদের দেহগুলোকে বিকৃত করে দিয়েছিল। দিনটি ছিল প্রচন্ড গরম। [২৪০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭১)
হাদিস নং: ৩৯৬১
সহিহ (Sahih)
ابن نمير حدثنا ابو اسامة حدثنا اسماعيل اخبرنا قيس عن عبد الله انه اتى ابا جهل وبه رمق يوم بدر فقال ابو جهل هل اعمد من رجل قتلتموه.
৩৯৬১. ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, বদর যুদ্ধের দিন আবূ জাহ্ল যখন মৃত্যুর মুখোমুখী তখন তিনি (‘আবদুল্লাহ) তার কাছে গেলেন। তখন আবূ জাহ্ল বলল, (আজ) তোমরা যাকে হত্যা করলে তার চেয়ে নির্ভরযোগ্য লোক আর আছে কি? (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭২)
হাদিস নং: ৩৯৬২
সহিহ (Sahih)
احمد بن يونس حدثنا زهير حدثنا سليمان التيمي ان انسا حدثهم قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ح و عمرو بن خالد حدثنا زهير عن سليمان التيمي عن انس قال قال النبي صلى الله عليه وسلم من ينظر ما صنع ابو جهل فانطلق ابن مسعود فوجده قد ضربه ابنا عفراء حتى برد قال اانت ابو جهل قال فاخذ بلحيته قال وهل فوق رجل قتلتموه او رجل قتله قومه قال احمد بن يونس انت ابو جهل.
৩৯৬২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বদরের দিন) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ জাহলের কী অবস্থা হল কেউ তা দেখতে পার কি? তখন ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বের হলেন এবং দেখতে পেলেন যে, ‘আফ্রার দুই পুত্র তাকে এমনিভাবে মেরেছে যে, মুমূর্ষু অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বললেন, তুমিই কি আবূ জাহ্ল? রাবী বলেনঃ আবূ জাহ্ল বললঃ সেই লোকটির চেয়ে উত্তম আর কেউ আছে কি যাকে তার গোত্রের লোকেরা হত্যা করল অথবা বলল তোমরা যাকে হত্যা করলে? আহমাদ বিন ইউনুসের বর্ণনায় এসেছে, তুমি আবূ জাহ্ল। [৩৯৬৩, ৪০২০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭৩)
হাদিস নং: ৩৯৬৩
সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا ابن ابي عدي عن سليمان التيمي عن انس قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يوم بدر من ينظر ما فعل ابو جهل فانطلق ابن مسعود فوجده قد ضربه ابنا عفراء حتى برد فاخذ بلحيته فقال انت ابا جهل قال وهل فوق رجل قتله قومه او قال قتلتموه
حدثني ابن المثنى اخبرنا معاذ بن معاذ حدثنا سليمان اخبرنا انس بن مالك نحوه
حدثني ابن المثنى اخبرنا معاذ بن معاذ حدثنا سليمان اخبرنا انس بن مالك نحوه
৩৯৬৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, বদরের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ জাহ্ল কী করল, তোমাদের মধ্যে কে তা জেনে আসবে? তখন ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) চলে গেলেন এবং তিনি দেখতে পেলেন, ‘আফরার দুই পুত্র তাকে এমনিভাবে পিটিয়েছে যে, সে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছে। তখন তিনি তার দাড়ি ধরে বললেন,তুমি কি আবূ জাহ্ল? উত্তরে সে বলল, সেই লোকটির চেয়ে উত্তম আর কেউ আছে কি যাকে তার গোত্রের লোকেরা হত্যা করল অথবা বলল তোমরা যাকে হত্যা করলে? [1]
ইবনু মুসান্না (রহ.).....আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। [৩৯৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭৪)
ইবনু মুসান্না (রহ.).....আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে অনুরূপ একটি রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। [৩৯৬২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭৪)
নোট: [1] কুরায়শদের এতবড় একজন প্রভাবশালী সেনাপতি যে কিনা অল্প বয়স্ক দুজন সহদোর মু‘আয ও মু‘আওয়িয এর হাতে নিহত হলো। এটি আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ নিদর্শন। কারণ এটা কাফিরদের জন্য ছিল একটি লজ্জাজনক ও বিরাট ক্ষতির ব্যাপার। দ্বিতীয়ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নেতৃত্বে সংঘটিত প্রথম যুদ্ধে কাফিররা এক হাজার থাকলেও মুসলিমদের সংখ্যা ছিল মাত্র তিনশত তেরজন। তথাপি আল্লাহর অশেষ রাহমাতে মুসলিমগণ এ যুদ্ধে জয়লাভ করে এবং তাদের মনোবল অনেকগুণ বেড়ে যায়। হাদীসে আবূ জাহালের মৃত্যুপূর্ব অবস্থা বর্ণিত হয়েছে।
হাদিস নং: ৩৯৬৪
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله قال كتبت عن يوسف بن الماجشون عن صالح بن ابراهيم عن ابيه عن جده في بدر يعني حديث ابني عفراء.
৩৯৬৪. ইব্রাহীমের দাদা থেকে বাদর তথা ‘আফরার দুই ছেলের সম্পর্কে এক রেওয়ায়ত বর্ণনা করেছেন। [৩১৪১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ নেই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭৫)
হাদিস নং: ৩৯৬৫
সহিহ (Sahih)
محمد بن عبد الله الرقاشي حدثنا معتمر قال سمعت ابي يقول حدثنا ابو مجلز عن قيس بن عباد عن علي بن ابي طالب انه قال انا اول من يجثو بين يدي الرحمن للخصومة يوم القيامة وقال قيس بن عباد وفيهم انزلت (هذان خصمان اختصموا في ربهم) قال هم الذين تبارزوا يوم بدر حمزة وعلي وعبيدة او ابو عبيدة بن الحارث وشيبة بن ربيعة وعتبة بن ربيعة والوليد بن عتبة.
৩৯৬৫. ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম আমিই কিয়ামতের দিন দয়াময়ের সামনে বিবাদ মীমাংসার জন্য হাঁটু গেড়ে বসব। ক্বায়স ইবনু ‘উবাদ (রাঃ) বলেন, এদের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়েছেঃ هٰذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوْا فِيْ رَبِّهِمْ ‘‘এরা দু’টি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করে’’- (সূরাহ হাজ্জ ২২/১৯)। তিনি বলেন, (মুসলিম পক্ষের) তারা হলেন হাম্যা, ‘আলী ও ‘উবাইদাহ অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) আবূ ‘উবাইদাহ ইবনুল হারিস (রাঃ) (অপরপক্ষে) শায়বা বিন রাবী‘আহ, ‘উত্বাহ বিন রাবী‘আহ এবং ওয়ালীদ ইবনু ‘উত্বাহ যারা বদর যুদ্ধের দিন পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। [1] [৩৯৬৭, ৪৭৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭৬)
নোট: [1] বদরের যুদ্ধের দিন মল্ল যুদ্ধের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। হামযাহ (রাঃ) শাইবাহ ইবনু রাবী‘আহ্কে, ‘আলী (রাঃ) ওয়ালিদ ইবনু ‘উত্বাহ্কে মল্ল যুদ্ধে পরাজিত করে তাদেরকে হত্যা করেন। কিন্তু ‘উবাইদাহ (রাঃ) ‘উত্বাহ ইবনু রাবী‘আহ্কে মারাত্মকভাবে আহত করলেও তিনিও মারাত্মক আহত হন এবং পরে তিনি শহীদ হন। হামযাহ (রাঃ) ও আলী (রাঃ) ‘উতবাহ ইবনু রাবী‘আহকে হত্যার ব্যাপারে ‘উবাইদাহকে সহযোগিতা করেছিলেন।
হাদিস নং: ৩৯৬৬
সহিহ (Sahih)
قبيصة حدثنا سفيان عن ابي هاشم عن ابي مجلز عن قيس بن عباد عن ابي ذر قال نزلت (هذان خصمان اختصموا في ربهم) في ستة من قريش علي وحمزة وعبيدة بن الحارث وشيبة بن ربيعة وعتبة بن ربيعة والوليد بن عتبة.
৩৯৬৬. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ ‘‘এরা দু’টি বিবদমান দল তারা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে’’- (সূরাহ হাজ্জ ২২/১৯) আয়াতটি কুরাইশ গোত্রীয় ছয়জন লোক সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তারা হলেন, (মুসলিম পক্ষ) ‘আলী, হামযাহ, ‘উবাইদাহ ইবনুল হারিস (রাঃ) ও (কাফির পক্ষে) শায়বা ইবনু রাবী‘আহ, ‘উত্বাহ ইবনু রাবী‘আহ এবং ওয়ালীদ ইবনু ‘উত্বাহ। [৩৯৬৮, ৩৯৬৯, ৪৭৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭৭)
হাদিস নং: ৩৯৬৭
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم الصواف حدثنا يوسف بن يعقوب كان ينزل في بني ضبيعة وهو مولى لبني سدوس حدثنا سليمان التيمي عن ابي مجلز عن قيس بن عباد قال قال علي فينا نزلت هذه الاية (هذان خصمان اختصموا في ربهم).
৩৯৬৭. কায়স ইবনু উবাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাঃ) বলেছেনঃ ‘‘এরা দু’টি বিবদমান পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করে’’- (সূরাহ হাজ্জ ২২/১৯) আয়াতটি আমাদের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়েছে। [৩৯৬৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭৮)
হাদিস নং: ৩৯৬৮
সহিহ (Sahih)
يحيى بن جعفر اخبرنا وكيع عن سفيان عن ابي هاشم عن ابي مجلز عن قيس بن عباد سمعت ابا ذر يقسم لنزلت هولاء الايات في هولاء الرهط الستة يوم بدر نحوه.
৩৯৬৮. কায়স ইবনু উবাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন) আমি আবূ যার (রাঃ)-কে কসম করে বলতে শুনেছি যে, উপর্যুক্ত আয়াতগুলো উল্লিখিত বদরের দিন ঐ ছয় ব্যক্তি সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল। [৩৯৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৭৯)
হাদিস নং: ৩৯৬৯
সহিহ (Sahih)
يعقوب بن ابراهيم الدورقي حدثنا هشيم اخبرنا ابو هاشم عن ابي مجلز عن قيس بن عباد قال سمعت ابا ذر يقسم قسما ان هذه الاية (هذان خصمان اختصموا في ربهم) نزلت في الذين برزوا يوم بدر حمزة وعلي وعبيدة بن الحارث وعتبة وشيبة ابني ربيعة والوليد بن عتب.
৩৯৬৯. ক্বায়স (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আবূ যার (রাঃ)-কে কসম করে বলতে শুনেছি যে, ‘‘এরা দু’টি বিবদমান পক্ষ তারা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে’’ আয়াতটি বদরের দিন পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হামযা, ‘আলী, ‘উবাইদাহ ইবনুল হারিস, রাবী‘আহর দুই পুত্র ‘উত্বাহ ও শায়বাহ এবং ওয়ালীদ ইবনু ‘উত্বাহর সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। [৩৯৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৮০)
হাদিস নং: ৩৯৭০
সহিহ (Sahih)
احمد بن سعيد ابو عبد الله حدثنا اسحاق بن منصور السلولي حدثنا ابراهيم بن يوسف عن ابيه عن ابي اسحاق سال رجل البراء وانا اسمع قال اشهد علي بدرا قال بارز وظاهر.
৩৯৭০. আবূ ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আমি শুনলাম, এক ব্যক্তি বারা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করল, ‘আলী (রাঃ) কি বদর যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন? তিনি বললেন, ‘আলী ঐ যুদ্ধে মুকাবালা করেছিলেন এবং হাক্কে বিজয়ী করেছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৮১)
হাদিস নং: ৩৯৭১
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله قال حدثني يوسف بن الماجشون عن صالح بن ابراهيم بن عبد الرحمن بن عوف عن ابيه عن جده عبد الرحمن قال كاتبت امية بن خلف فلما كان يوم بدر فذكر قتله وقتل ابنه فقال بلال لا نجوت ان نجا امية.
৩৯৭১. ‘আবদুর রাহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমাইয়াহ ইবনু খালফে্র সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলাম। বদর যুদ্ধের দিন তিনি ‘উমাইয়াহ ইবনু খালাফ ও তার পুত্রের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করলে বিলাল (রাঃ) বললেন, যদি ‘উমাইয়াহ ইবনু খালাফ প্রাণে বেঁচে যেত তাহলে আমি সফল হতাম না। [1] [২৩০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৮২)
নোট: [1] বিলাল (রাঃ) উমাইয়াহ বিন খালাফের ক্রীতদাস ছিলেন। বিলাল (রাঃ) ইসলাম কবূল করলে এই ইসলামের ঘোর শত্রু তা মেনে নিতে পারলো না। ফলে তাকে অসহনীয় নির্যাতন স্বীকার করতে হয় এমনকি দুপুর রোদের উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে বুকের উপর বিশাল আকৃতির পাথর চাপা দিয়ে তাকে ইসলাম ত্যাগে বাধ্য করতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাকে ধৈর্য প্রদান করেছিলেন এবং তিনি ইসলাম ত্যাগ করেননি। অতঃপর আবূ বাক্র (রাঃ) তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দিয়েছিলেন। বাদর যুদ্ধে উমাইয়াহ ও তার পুত্র নিহত হওয়ার কথা শুনে বিলাল (রাঃ) এভাবেই তার অভিব্যক্তি বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং: ৩৯৭২
সহিহ (Sahih)
عبدان بن عثمان قال اخبرني ابي عن شعبة عن ابي اسحاق عن الاسود عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قرا (والنجم) فسجد بها وسجد من معه غير ان شيخا اخذ كفا من تراب فرفعه الى جبهته فقال يكفيني هذا قال عبد الله فلقد رايته بعد قتل كافرا.
৩৯৭২. ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে, তিনি সূরাহ নাজ্ম তিলাওয়াত করলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সাজ্দাহ করলেন। এক বৃদ্ধ ব্যতীত নবীজীর নিকট যারা উপস্থিত ছিলেন তারা সকলেই সাজ্দাহ করলেন। সে বৃদ্ধ একমুষ্ঠি মাটি উঠিয়ে কপালে লাগিয়ে বলল, আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কিছু দিন পর আমি তাকে কাফির অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি।[1] [১০৬৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৮৩ প্রথমাংশ)
নোট: [1] বৃদ্ধটি ছিল ইসলামের ঘোরতর শত্রু উমাইয়াহ বিন খালাফ।
হাদিস নং: ৩৯৭৩
সহিহ (Sahih)
اخبرني ابراهيم بن موسى حدثنا هشام بن يوسف عن معمر اخبرنا هشام عن عروة قال كان في الزبير ثلاث ضربات بالسيف احداهن في عاتقه قال ان كنت لادخل اصابعي فيها قال ضرب ثنتين يوم بدر وواحدة يوم اليرموك قال عروة وقال لي عبد الملك بن مروان حين قتل عبد الله بن الزبير يا عروة هل تعرف سيف الزبير قلت نعم قال فما فيه قلت فيه فلة فلها يوم بدر قال صدقت :
بـهـن فـلول مـن قـراع الـكـتـاىـب
ثم رده على عروة قال هشام فاقمناه بيننا ثلاثة الاف واخذه بعضنا ولوددت اني كنت اخذته.
بـهـن فـلول مـن قـراع الـكـتـاىـب
ثم رده على عروة قال هشام فاقمناه بيننا ثلاثة الاف واخذه بعضنا ولوددت اني كنت اخذته.
৩৯৭৩. ইব্রাহীম ইবনু মূসা ..... হিশামের পিতা (‘উরওয়াহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (তার পিতা) যুবায়রের শরীরে তিনটি মারাত্মক জখমের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। এর একটি ছিল তার স্কন্ধে। ‘উরওয়াহ বলেন, আমি আমার আঙ্গুলগুলো ঐ ক্ষতস্থানে ঢুকিয়ে দিতাম, বর্ণনাকারী ‘উরওয়াহ বলেন, ঐ আঘাত তিনটির দু’টি ছিল বদর যুদ্ধের এবং একটি ছিল ইয়ারমুক যুদ্ধের। ‘উরওয়াহ বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র শহীদ হলেন তখন ‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান আমাকে বললেন, হে ‘উরওয়াহ, যুবায়রের তরবারি তুমি কি চিন? আমি বললাম হাঁ চিনি। ‘আবদুল মালিক বললেন, এর কি কোন নিশানা আছে? আমি বললাম, এর ধারে এক জায়গায় ভাঙ্গা আছে যা বদর যুদ্ধের দিন ভেঙ্গে ছিল। তখন তিনি বললেন, হাঁ তুমি ঠিক বলেছ, (তারপর তিনি একটি কবিতাংশ আবৃত্তি করলেন)
بِـهِـنَّ فُـلُوْلٌ مِـنْ قِـرَاعِ الْـكَـتَـائِـبِ
সে তরবারির ভাঙ্গন ছিল শত্রু সেনাদের আঘাত করার কারণে। এরপর ‘আবদুল মালিক তরবারি খানা ‘উরওয়ার নিকট ফিরিয়ে দিলেন। হিশাম বলেন, আমরা নিজেরা এর মূল্য স্থির করেছিলাম তিন হাজার দিরহাম। এরপর আমাদের এক ব্যক্তি সেটা নিল। আমার ইচ্ছে হয়েছিল যদি আমি তরবারিটি নিয়ে নিতাম। [৩৭২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৮৩ শেষাংশ)
بِـهِـنَّ فُـلُوْلٌ مِـنْ قِـرَاعِ الْـكَـتَـائِـبِ
সে তরবারির ভাঙ্গন ছিল শত্রু সেনাদের আঘাত করার কারণে। এরপর ‘আবদুল মালিক তরবারি খানা ‘উরওয়ার নিকট ফিরিয়ে দিলেন। হিশাম বলেন, আমরা নিজেরা এর মূল্য স্থির করেছিলাম তিন হাজার দিরহাম। এরপর আমাদের এক ব্যক্তি সেটা নিল। আমার ইচ্ছে হয়েছিল যদি আমি তরবারিটি নিয়ে নিতাম। [৩৭২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৮৩ শেষাংশ)