হাদিস নং: ৪৩৭৪
সহিহ (Sahih)
قال ابن عباس فسالت عن قول رسول الله صلى الله عليه وسلم انك ارى الذي اريت فيه ما اريت فاخبرني ابو هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينا انا ناىم رايت في يدي سوارين من ذهب فاهمني شانهما فاوحي الي في المنام ان انفخهما فنفختهما فطارا فاولتهما كذابين يخرجان بعدي احدهما العنسي والاخر مسيلمة.
৪৩৭৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি ‘‘আমি তোমাকে তেমনই দেখতে পাচ্ছি যেমন আমাকে দেখানো হয়েছিল’’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) আমাকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদিন আমি ঘুমাচ্ছিলাম তখন স্বপ্নে দেখলাম, আমার দু’হাতে স্বর্ণের দু’টি কঙ্কন। কঙ্কন দু’টি আমাকে চিন্তিত করল। তখন ঘুমের মধ্যেই আমার প্রতি ওয়াহী করা হল, কাঁকন দু’টিতে ফুঁ দাও। আমি সে দু’টিতে ফুঁ দিলে তা উড়ে গেল। আমি এর ব্যাখ্যা করেছি দু’জন মিথ্যাচারী (নবী) যারা আমার পরে বের হবে। তাদের একজন ‘আনসী, অন্যজন মুসাইলামাহ। [৩৬২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩১)
হাদিস নং: ৪৩৭৫
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن نصر حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن همام انه سمع ابا هريرة رضي الله عنه يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينا انا ناىم اتيت بخزاىن الارض فوضع في كفي سواران من ذهب فكبرا علي فاوحى الله الي ان انفخهما فنفختهما فذهبا فاولتهما الكذابين اللذين انا بينهما صاحب صنعاء وصاحب اليمامة.
৪৩৭৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ঘুমাচ্ছিলাম এমতাবস্থায় (স্বপ্নে) আমাকে পৃথিবীর সকল দেয়া হল এবং আমার হাতে দু’টি স্বর্ণ কঙ্কন রাখা হল। এ দু’টি আমার কাছে গুরুতর মনে হল। তখন ওয়াহী যোগে আমাকে জানানো হল যে, ও দু’টিতে ফুঁ দাও। আমি ফুঁ দিলাম, তখনও দু’টি উধাও হয়ে গেল। আমি এ দু’টির ব্যাখ্যা করলাম যে, এরা সেই দু’ মিথ্যাচারী (নবী) যাদের মাঝখানে আমি অবস্থান করছি। অর্থাৎ সান‘আর অধিবাসী (আসওয়াদ আনসী) এবং ইয়ামামার অধিবাসী (মুসাইলামাতুল কায্যাব)। [৩৬২১; মুসলিম ৪২/৪, হাঃ ২২৭৪, আহমাদ ১১৮১৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩২)
হাদিস নং: ৪৩৭৬
সহিহ (Sahih)
الصلت بن محمد قال سمعت مهدي بن ميمون قال سمعت ابا رجاء العطاردي يقول كنا نعبد الحجر فاذا وجدنا حجرا هو اخير منه القيناه واخذنا الاخر فاذا لم نجد حجرا جمعنا جثوة من تراب ثم جىنا بالشاة فحلبناه عليه ثم طفنا به فاذا دخل شهر رجب قلنا منصل الاسنة فلا ندع رمحا فيه حديدة ولا سهما فيه حديدة الا نزعناه والقيناه شهر رجب.
৪৩৭৬. আবূ রাজা উতারিদী (রহ.) বলেন যে, (ইসলাম পূর্ব যুগে) আমরা একটি পাথরের পূজা করতাম। যখন এ অপেক্ষা উত্তম কোন পাথর পেতাম তখন এটিকে নিক্ষেপ করে দিয়ে অপরটির পূজা আরম্ভ করতাম। কোন পাথর না পেলে কিছু মাটি একত্রিত করে স্তুপ বানিয়ে নিতাম। তারপর একটি বাকরী এনে সেই স্তুপের উপর দোহন করতাম তারপর এর চারপাশে তাওয়াফ করতাম। আর রজব মাস এলে আমরা বলতাম, এটা তীর থেকে ফলা বিচ্ছিন্ন করার মাস। কাজেই আমরা রজব মাসে সব ক’টি তীর ও বর্শা থেকে এর তীক্ষ্ণাংশ খুলে রেখে দিতাম। রজব মাসব্যাপী আমরা এগুলো খুলে নিক্ষেপ করতাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩৩)
হাদিস নং: ৪৩৭৭
সহিহ (Sahih)
وسمعت ابا رجاء يقول كنت يوم بعث النبي صلى الله عليه وسلم غلاما ارعى الابل على اهلي فلما سمعنا بخروجه فررنا الى النار الى مسيلمة الكذاب.
৪৩৭৭. রাবী মাহদী (রহ.) বলেন, আমি আবূ রাজা (রহ.)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত লাভের সময় আমি ছিলাম অল্প বয়স্ক বালক। আমি আমাদের উট চরাতাম। যখন আমরা তাঁর অভিযানের কথা শুনলাম তখন আমরা পালিয়ে এলাম জাহান্নামের দিকে অর্থাৎ মিথ্যাচারী (নবী) মুসাইলামাহর দিকে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩৩)
হাদিস নং: ৪৩৭৮
সহিহ (Sahih)
سعيد بن محمد الجرمي حدثنا يعقوب بن ابراهيم حدثنا ابي عن صالح عن ابن عبيدة بن نشيط وكان في موضع اخر اسمه عبد الله ان عبيد الله بن عبد الله بن عتبة قال بلغنا ان مسيلمة الكذاب قدم المدينة فنزل في دار بنت الحارث وكان تحته بنت الحارث بن كريز وهي ام عبد الله بن عامر فاتاه رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعه ثابت بن قيس بن شماس وهو الذي يقال له خطيب رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي يد رسول الله صلى الله عليه وسلم قضيب فوقف عليه فكلمه فقال له مسيلمة ان شىت خليت بيننا وبين الامر ثم جعلته لنا بعدك فقال النبي صلى الله عليه وسلم لو سالتني هذا القضيب ما اعطيتكه واني لاراك الذي اريت فيه ما اريت وهذا ثابت بن قيس وسيجيبك عني فانصرف النبي صلى الله عليه وسلم .
৪৩৭৮. ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ (রহ.) বলেন, আমাদের কাছে এ খবর পৌঁছে যে, [রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায়] মিথ্যাচারী মুসাইলামাহ একবার মদিনা্য় এসে হারিসের কন্যার ঘরে অবস্থান করেছিল। হারিস ইবনু কুরাইযের কন্যা তথা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমিরের মা ছিল তার (মুসাইলামাহর) স্ত্রী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাবিত ইবনু কায়স ইবনু শাম্মাস (রাঃ) আর তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খতীব বলা হত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে ছিল একটি খেজুরের ডাল। তিনি তার কাছে গিয়ে তার সঙ্গে কথাবার্তা বললেন। মুসাইলামাহ তাঁকে [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে] বলল, আপনি ইচ্ছা করলে আমার এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের মাঝে বাধা এভাবে তুলে দিতে পারেন যে, আপনার পরে তা আমার জন্য নির্দিষ্ট করে দিবেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি যদি এ ডালটিও আমার কাছে চাও, তাও আমি তোমাকে দেব না। আমি তোমাকে ঠিক তেমনই দেখছি যেমনটি আমাকে (স্বপ্নযোগে) দেখানো হয়েছে। এই সাবিত ইবনু কায়স আমার পক্ষ থেকে তোমার জবাব দেবে। এ কথা বলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলেন। [৩৬২০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩৪)
হাদিস নং: ৪৩৭৯
সহিহ (Sahih)
قال عبيد الله بن عبد الله سالت عبد الله بن عباس عن رويا رسول الله صلى الله عليه وسلم التي ذكر فقال ابن عباس ذكر لي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينا انا ناىم اريت انه وضع في يدي سواران من ذهب ففظعتهما وكرهتهما فاذن لي فنفختهما فطارا فاولتهما كذابين يخرجان فقال عبيد الله احدهما العنسي الذي قتله فيروز باليمن والاخر مسيلمة الكذاب.
৪৩৭৯. ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উল্লেখিত স্বপ্ন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, [আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কর্তৃক] আমাকে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ঘুমাচ্ছিলাম এমতাবস্থায় আমাকে দেখানো হল যে, আমার দু’হাতে দু’টি সোনার কাঁকন রাখা হয়েছে। ও দু’টি আমার কাছে বীভৎস ঠেকল এবং তা অপছন্দ করলাম। আমাকে (ফুঁ দিতে) বলা হলে আমি ও দু’টিতে ফুঁ দিলাম। সে দু’টি উড়ে গেল। আমি এ দু’টির ব্যাখ্যা করলাম যে, দু’টি মিথ্যাচারী (নবী) আবির্ভূত হবে। ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) বলেন, এ দু’জনের একজন হল আসওয়াদ আল‘আনসী, যাকে ফাইরুয নামক এক ব্যক্তি ইয়ামানে হত্যা করে আর অপরজন হল মুসাইলামাহ। [৩৬২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩৪)
হাদিস নং: ৪৩৮০
সহিহ (Sahih)
عباس بن الحسين حدثنا يحيى بن ادم عن اسراىيل عن ابي اسحاق عن صلة بن زفر عن حذيفة قال جاء العاقب والسيد صاحبا نجران الى رسول الله صلى الله عليه وسلم يريدان ان يلاعناه قال فقال احدهما لصاحبه لا تفعل فوالله لىن كان نبيا فلاعنا لا نفلح نحن ولا عقبنا من بعدنا قالا انا نعطيك ما سالتنا وابعث معنا رجلا امينا ولا تبعث معنا الا امينا فقال لابعثن معكم رجلا امينا حق امين فاستشرف له اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال قم يا ابا عبيدة بن الجراح فلما قام قال رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا امين هذه الامة.
৪৩৮০. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাজরান এলাকার দু’জন সরদার আকিব এবং সাইয়িদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাঁর সঙ্গে মুবাহালা করতে চেয়েছিল। বর্ণনাকারী হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, তখন তাদের একজন তার সঙ্গীকে বলল, এরূপ করো না। কারণ আল্লাহর কসম! তিনি যদি নবী হয়ে থাকেন আর আমরা তাঁর সঙ্গে মুবাহালা[1] করি তাহলে আমরা এবং আমাদের পরবর্তী সন্তান-সন্ততি (কেউ) রক্ষা পাবে না। তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আপনি আমাদের নিকট হতে যা চাবেন আপনাকে আমরা তা-ই দেব। তবে এর জন্য আপনি আমাদের সঙ্গে একজন আমানতদার ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দিন। আমানতদার ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তিকে আমাদের সঙ্গে পাঠাবেন না। তিনি বললেন, আমি তোমাদের সঙ্গে অবশ্যই এমন একজন আমানতদার পাঠাবো যে প্রকৃতই আমানতদার এবং পাক্কা আমানতদার। এ পদে ভূষিত হওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ আগ্রহান্বিত হলেন। তখন তিনি বললেন, হে আবূ ‘উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্! তুমি উঠে দাঁড়াও। তিনি যখন দাঁড়ালেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ হচ্ছে এই উম্মতের সত্যিকার আমানতদার। [৩৭৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩৫)
নোট: [1] পরস্পর পরস্পরকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অভিসম্পাত করাকে মুবাহালা বলা হয়ে থাকে। পদ্ধতিটি হলোঃ উভয় পক্ষ স্বীয় পরিবার পরিজনসহ লোকালয় ত্যাগ করে জঙ্গলে চলে যাবে এবং সেখানে এ বলে আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে যে, আমাদের মধ্যে যে মিথ্যাবাদী তার প্রতি ধ্বংস নেমে আসুক।
হাদিস নং: ৪৩৮১
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا محمد بن جعفر حدثنا شعبة قال سمعت ابا اسحاق عن صلة بن زفر عن حذيفة رضي الله عنه قال جاء اهل نجران الى النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا ابعث لنا رجلا امينا فقال لابعثن اليكم رجلا امينا حق امين فاستشرف له الناس فبعث ابا عبيدة بن الجراح.
৪৩৮১. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাজরান অধিবাসীরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমাদের জন্য একজন আমানতদার ব্যক্তি পাঠিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তোমাদের কাছে আমি একজন আমানতদার ব্যক্তিকেই পাঠাব যিনি সত্যিই আমানতদার। লোকের এ সম্মান অর্জনের জন্য আগ্রহান্বিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্ (রাঃ)-কে পাঠালেন। [৩৭৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩৬)
হাদিস নং: ৪৩৮২
সহিহ (Sahih)
ابو الوليد حدثنا شعبة عن خالد عن ابي قلابة عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لكل امة امين وامين هذه الامة ابو عبيدة بن الجراح.
৪৩৮২. আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ প্রত্যেক উম্মতের জন্য একজন আমানতদার রয়েছে। আর এ উম্মাতের আমানতদার হল আবূ ‘উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্। [৩৭৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩৭)
হাদিস নং: ৪৩৮৩
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان سمع ابن المنكدر جابر بن عبد الله رضي الله عنهما يقول قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم لو قد جاء مال البحرين لقد اعطيتك هكذا وهكذا ثلاثا فلم يقدم مال البحرين حتى قبض رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما قدم على ابي بكر امر مناديا فنادى من كان له عند النبي صلى الله عليه وسلم دين او عدة فلياتني قال جابر فجىت ابا بكر فاخبرته ان النبي صلى الله عليه وسلم قال لو جاء مال البحرين اعطيتك هكذا وهكذا ثلاثا قال فاعطاني قال جابر فلقيت ابا بكر بعد ذلك فسالته فلم يعطني ثم اتيته فلم يعطني ثم اتيته الثالثة فلم يعطني فقلت له قد اتيتك فلم تعطني ثم اتيتك فلم تعطني ثم اتيتك فلم تعطني فاما ان تعطيني واما ان تبخل عني فقال اقلت تبخل عني واي داء ادوا من البخل قالها ثلاثا ما منعتك من مرة الا وانا اريد ان اعطيك وعن عمرو عن محمد بن علي سمعت جابر بن عبد الله يقول جىته فقال لي ابو بكر عدها فعددتها فوجدتها خمس ماىة فقال خذ مثلها مرتين.
৪৩৮৩. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, বাহরাইনের অর্থ-সম্পদ (জিযিয়া) আসলে তোমাকে এত দেব, এত দেব এত দেব। তিনবার বললেন। এরপর বাহরাইন থেকে আর কোন অর্থ-সম্পদ আসেনি। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়ে গেল। এরপর আবূ বকরের যুগে যখন সেই অর্থ সম্পদ আসল তখন তিনি একজন ঘোষণাকারীকে নির্দেশ দিলেন। সে ঘোষণা করলঃ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যার প্রাপ্য ঋণ আছে কিংবা কোন ওয়াদা অপূর্ণ আছে সে যেন আমার কাছে আসে। জাবির (রাঃ) বলেনঃ আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে এসে তাঁকে জানালাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন, যদি বাহরাইন থেকে অর্থ-সম্পদ আসে তা হলে তোমাকে আমি এত দেব, এত দেব, এত দেব। তিনবার বললেন। জাবির (রাঃ) বলেনঃ তখন আবূ বকর (রাঃ) আমাকে অর্থ-সম্পদ দিলেন। জাবির (রাঃ) বলেন, এরপর (আবার) আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তার কাছে মাল চাইলাম। কিন্তু তিনি আমাকে কিছুই দিলেন না। এরপর আমি তাঁর কাছে দ্বিতীয়বার আসি, তিনি আমাকে কিছুই দেননি। এরপর আমি তাঁর কাছে তৃতীয়বার এলাম। তখনো তিনি আমাকে কিছুই দিলেন না। কাজেই আমি তাঁকে বললামঃ আমি আপনার কাছে এসেছিলাম কিন্তু আপনি আমাকে দেননি। তারপর (আবার) এসেছিলাম তখনো দেননি। এরপরেও এসেছিলাম তখনো আমাকে আপনি দেননি। কাজেই এখন হয় আপনি আমাকে সম্পদ দিবেন নয়তো আমি মনে করবঃ আপনি আমার ব্যাপারে কৃপণতা করছেন। তখন তিনি বললেনঃ এ কী বলছ ‘আমার ব্যাপারে কৃপণতা করছেন।’ কৃপণতা থেকে মারাত্মক ব্যাধি আর কী হতে পারে। কথাটি তিনি তিনবার বললেন। (এরপর তিনি বললেন) যতবারই আমি তোমাকে সম্পদ দেয়া থেকে বিরত রয়েছি ততবারই আমার ইচ্ছা ছিল যে, তোমাকে দেব। ‘আমর [ইবনু দ্বীনার (রহ.)] মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী (রাঃ)-এর কাছে আসলে তিনি আমাকে বললেন, এ (আশরাফী)গুলো গুণো, আমি এগুলো গুণে দেখলাম এখানে পাঁচশ’ (আশরাফী) রয়েছে। তিনি বললেন, এ পরিমাণ আরো দু’বার উঠিয়ে নাও। [২২৯৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩৮)
হাদিস নং: ৪৩৮৪
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد واسحاق بن نصر قالا حدثنا يحيى بن ادم حدثنا ابن ابي زاىدة عن ابيه عن ابي اسحاق عن الاسود بن يزيد عن ابي موسى رضي الله عنه قال قدمت انا واخي من اليمن فمكثنا حينا ما نرى ابن مسعود وامه الا من اهل البيت من كثرة دخولهم ولزومهم له.
وَقَالَ أَبُوْ مُوْسَى عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هُمْ مِنِّيْ وَأَنَا مِنْهُمْ.
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আশ‘আরীগণ আমার অন্তর্ভুক্ত আর আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত।
৪৩৮৪. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং আমার ভাই ইয়ামান থেকে এসে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত অবস্থান করেছি। এ সময়ে ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) ও তাঁর মায়ের অধিক আসা-যাওয়া ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আমরা তাঁদেরকে আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত মনে করেছিলাম। [৩৭৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩৯)
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আশ‘আরীগণ আমার অন্তর্ভুক্ত আর আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত।
৪৩৮৪. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি এবং আমার ভাই ইয়ামান থেকে এসে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত অবস্থান করেছি। এ সময়ে ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) ও তাঁর মায়ের অধিক আসা-যাওয়া ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আমরা তাঁদেরকে আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত মনে করেছিলাম। [৩৭৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৩৯)
হাদিস নং: ৪৩৮৫
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا عبد السلام عن ايوب عن ابي قلابة عن زهدم قال لما قدم ابو موسى اكرم هذا الحي من جرم وانا لجلوس عنده وهو يتغدى دجاجا وفي القوم رجل جالس فدعاه الى الغداء فقال اني رايته ياكل شيىا فقذرته فقال هلم فاني رايت النبي صلى الله عليه وسلم ياكله فقال اني حلفت لا اكله فقال هلم اخبرك عن يمينك انا اتينا النبي صلى الله عليه وسلم نفر من الاشعريين فاستحملناه فابى ان يحملنا فاستحملناه فحلف ان لا يحملنا ثم لم يلبث النبي صلى الله عليه وسلم ان اتي بنهب ابل فامر لنا بخمس ذود فلما قبضناها قلنا تغفلنا النبي صلى الله عليه وسلم يمينه لا نفلح بعدها ابدا فاتيته فقلت يا رسول الله انك حلفت ان لا تحملنا وقد حملتنا قال اجل ولكن لا احلف على يمين فارى غيرها خيرا منها الا اتيت الذي هو خير منها.
৪৩৮৫. যাহদাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা (রাঃ) এ এলাকায় এসে জারম গোত্রের লোকদেরকে সম্মানিত করেছেন। একদা আমরা তাঁর কাছে বসা ছিলাম। এ সময়ে তিনি মুরগীর গোশ্ত দিয়ে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। লোকদের মধ্যে এক ব্যক্তি বসা ছিল। তিনি তাকে খানা খেতে ডাকলেন। সে বলল, আমি মুরগীটিকে এমন জিনিস খেতে দেখেছি যার জন্য খেতে আমার অরুচি লাগছে। তিনি বললেন, এসো। কেননা আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মুরগী খেতে দেখেছি। সে বলল, আমি শপথ করে ফেলছি যে, এটি খাব না। তিনি বললেন, এসে পড়। তোমার শপথ সম্বন্ধে আমি তোমাকে জানাচ্ছি যে, আমরা আশ‘আরীদের একটি দল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে তাঁর কাছে সাওয়ারী চেয়েছিলাম। তিনি আমাদেরকে সওয়ারী দিতে অস্বীকার করলেন। এরপর আমরা (আবার) তাঁর কাছে সাওয়ারী চাইলাম। তিনি তখন শপথ করে বললেন যে, আমাদেরকে তিনি সওয়ারী দেবেন না। কিছুক্ষণ পরেই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গানীমাতের কিছু উট আনা হল। তিনি আমাদেরকে পাঁচটি করে উট দেয়ার আদেশ দিলেন। উটগুলো হাতে নেয়ার পর আমরা পরস্পর বললাম, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর শপথ থেকে অমনোযোগী করে ফেলছি এমন অবস্থায় আর কখনো আমরা কামিয়াব হতে পারব না। কাজেই আমি তাঁর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি শপথ করেছিলেন যে, আমাদের সাওয়ারী দেবেন না। এখন তো আপনি আমাদের সাওয়ারী দিলেন। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই। তবে আমার নিয়ম হল, আমি যদি কোন ব্যাপারে শপথ করি আর এর বিপরীত কোনটিকে এ অপেক্ষা উত্তম মনে করি তাহলে উত্তমটিকেই গ্রহণ করে নেই। [৩১৩৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪০)
হাদিস নং: ৪৩৮৬
সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي حدثنا ابو عاصم حدثنا سفيان حدثنا ابو صخرة جامع بن شداد حدثنا صفوان بن محرز المازني حدثنا عمران بن حصين قال جاءت بنو تميم الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ابشروا يا بني تميم قالوا اما اذ بشرتنا فاعطنا فتغير وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء ناس من اهل اليمن فقال النبي صلى الله عليه وسلم اقبلوا البشرى اذ لم يقبلها بنو تميم قالوا قد قبلنا يا رسول الله.
৪৩৮৬. ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানী তামীমের লোকজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলে তিনি তাদেরকে বললেন, হে বানী তামীম! সুসংবাদ গ্রহণ কর। তারা বলল, আপনি সুসংবাদ তো দিলেন, কিন্তু আমাদেরকে (কিছু অর্থ-সম্পদ) দান করুন। কথাটি শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। এমন সময়ে ইয়ামানী কিছু লোক আসল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বানী তামীম যখন সুসংবাদ গ্রহণ করল না, তাহলে তোমরাই তা গ্রহণ কর। তাঁরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তা গ্রহণ করলাম। [৩১৯০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪১)
হাদিস নং: ৪৩৮৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد الجعفي حدثنا وهب بن جرير حدثنا شعبة عن اسماعيل بن ابي خالد عن قيس بن ابي حازم عن ابي مسعود ان النبي صلى الله عليه وسلم قال الايمان ها هنا واشار بيده الى اليمن والجفاء وغلظ القلوب في الفدادين عند اصول اذناب الابل من حيث يطلع قرنا الشيطان ربيعة ومضر.
৪৩৮৭. আবূ মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানের দিকে তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে বলেছেন, ঈমান হল ওখানে।[1] আর কঠোরতা ও হৃদয়হীনতা হল রাবী‘আহ ও মুযার গোত্রদ্বয়ের সেসব মানুষের মধ্যে যারা উটের লেজের কাছে দাঁড়িয়ে চীৎকার দেয়, যেখান থেকে শয়তানের দু’ শিং উদিত হয়।[2] [৩৩০২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪২)
নোট: [1] ইয়ামানের দিকে ইংগিত করার কোন গভীর অর্থও থাকতে পারে। তবে আপাত দৃষ্টিতে যা মনে হয়,এখানে ইয়ামানবাসীদের দ্রুত ও সুন্দরভাবে ঈমান আনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে ইয়ামানবাসীদের ঈমানের প্রতি কোন নেতিবাচক ইঙ্গিত নেই।
[2] বিভিন্ন হাদীসে ইয়ামান থেকে ফিতনার আবির্ভাবের কথা বলা হয়েছে।
[2] বিভিন্ন হাদীসে ইয়ামান থেকে ফিতনার আবির্ভাবের কথা বলা হয়েছে।
হাদিস নং: ৪৩৮৮
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا ابن ابي عدي عن شعبة عن سليمان عن ذكوان عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم اتاكم اهل اليمن هم ارق افىدة والين قلوبا الايمان يمان والحكمة يمانية والفخر والخيلاء في اصحاب الابل والسكينة والوقار في اهل الغنم.
وقال غندر عن شعبة عن سليمان سمعت ذكوان عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
وقال غندر عن شعبة عن سليمان سمعت ذكوان عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৪৩৮৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামানবাসীরা তোমাদের কাছে এসেছে। তাঁরা অন্তরের দিক থেকে অত্যন্ত কোমল ও দরদী। ঈমান হল ইয়ামানীদের, হিকমাত হল ইয়ামানীদের, গরিমা ও অহঙ্কার রয়েছে উট-ওয়ালাদের মধ্যে, বাকরী পালকদের মধ্যে আছে প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য।
গুনদার (রহ.) এ হাদীসটি শু’বাহ-সুলাইমান-যাকওয়ান (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [৩৩০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪৩)
গুনদার (রহ.) এ হাদীসটি শু’বাহ-সুলাইমান-যাকওয়ান (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [৩৩০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪৩)
হাদিস নং: ৪৩৮৯
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني اخي عن سليمان عن ثور بن زيد عن ابي الغيث عن ابي هريرة ان النبي صلى الله عليه وسلم قال الايمان يمان والفتنة ها هنا ها هنا يطلع قرن الشيطان.
৪৩৮৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমান হল ইয়ামানীদের। আর ফিতনা হল ওখানে, যেখানে উদিত হল শয়তানের শিং। [৩৩০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪৪)
হাদিস নং: ৪৩৯০
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اتاكم اهل اليمن اضعف قلوبا وارق افىدة الفقه يمان والحكمة يمانية.
৪৩৯০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামানবাসীরা তোমাদের কাছে এসেছে। তাঁরা অন্তরের দিক থেকে অত্যন্ত কোমল। আর মনের দিক থেকে অত্যন্ত দয়ার্দ্র। ফিকহ্ হল ইয়ামানীদের আর হিকমাত হল ইয়ামানীদের। [৩৩০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪৫)
হাদিস নং: ৪৩৯১
সহিহ (Sahih)
عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش عن ابراهيم عن علقمة قال كنا جلوسا مع ابن مسعود فجاء خباب فقال يا ابا عبد الرحمن ايستطيع هولاء الشباب ان يقرءوا كما تقرا قال اما انك لو شىت امرت بعضهم يقرا عليك قال اجل قال اقرا يا علقمة فقال زيد بن حدير اخو زياد بن حدير اتامر علقمة ان يقرا وليس باقرىنا قال اما انك ان شىت اخبرتك بما قال النبي صلى الله عليه وسلم في قومك وقومه فقرات خمسين اية من سورة مريم فقال عبد الله كيف ترى قال قد احسن قال عبد الله ما اقرا شيىا الا وهو يقروه ثم التفت الى خباب وعليه خاتم من ذهب فقال الم يان لهذا الخاتم ان يلقى قال اما انك لن تراه علي بعد اليوم فالقاه.
رواه غندر عن شعبة.
رواه غندر عن شعبة.
৪৩৯১. ‘আলক্বামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন সেখানে ‘আব্বাস (রাঃ) এসে বললেন, হে আবূ ‘আবদুর রহমান (‘আবদুর রহমানের পিতা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ [1])! এসব তরুণ কি আপনার তিলাওয়াতের মতো তিলাওয়াত করতে পারে? তিনি বললেনঃ আপনি যদি চান তাহলে একজনকে হুকুম দেই যে, সে আপনাকে তিলাওয়াত করে শুনাবে। তিনি বললেন, অবশ্যই। ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বললেন, ওহে ‘আলকামাহ, পড়। তখন যিয়াদ ইবনু হুদাইরের ভাই যায়দ ইবনু হুদাইর বলল, আপনি আলকামাহ্কে পড়তে হুকুম করেছেন, অথচ সে তো আমাদের মধ্যে ভাল তিলাওয়াতকারী নয়। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বললেন, যদি তুমি চাও তাহলে আমি তোমার গোত্র ও তার গোত্র সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন তা জানিয়ে দিতে পারি। (আলকামাহ বলেন) এরপর আমি সূরায়ে মারইয়াম থেকে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করলাম। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আপনার কেমন মনে হয়? তিনি বললেন, বেশ ভালই পড়েছে। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আমি যা কিছু পড়ি তার সবই সে পড়ে। এরপর তিনি খাববাবের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন, তার হাতে একটি সোনার আংটি। তিনি বললেন, এখনো কি এ আংটি খুলে ফেলার সময় হয়নি? খাববাব (রাঃ) বললেন, আজকের পর আর এটি আমার হাতে দেখতে পাবেন না। অতঃপর তিনি আংটিটি ফেলে দিলেন।
হাদীসটি গুনদার (রহ.) শু’বাহ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪৬)
হাদীসটি গুনদার (রহ.) শু’বাহ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪৬)
নোট: [1] তিনি অত্যন্ত সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারতেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল সাহাবী থেকে কুরআন শিখার জন্য বলেছিলেন তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম।
হাদিস নং: ৪৩৯২
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن ابن ذكوان عن عبد الرحمن الاعرج عن ابي هريرة رضي الله عنه قال جاء الطفيل بن عمرو الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ان دوسا قد هلكت عصت وابت فادع الله عليهم فقال اللهم اهد دوسا وات بهم.
৪৩৯২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুফায়ল ইবনু ‘আমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, দাওস গোত্র হালাক হয়ে গেছে। তারা নাফরমানী করেছে এবং (দ্বীনের দাওয়াত) গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সুতরাং আপনি তাদের প্রতি বদদু‘আ করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! দাওস গোত্রকে হিদায়াত দান করুন এবং দ্বীনের পথে নিয়ে আসুন। [২৯৩৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪৭)
হাদিস নং: ৪৩৯৩
সহিহ (Sahih)
محمد بن العلاء حدثنا ابو اسامة حدثنا اسماعيل عن قيس عن ابي هريرة قال لما قدمت على النبي صلى الله عليه وسلم قلت في الطريق:
يا ليـلـة مـن طولـهـا وعناىها على انها من دارة الكفر نجت
وابق غلام لي في الطريق فلما قدمت على النبي فبايعته فبينا انا عنده اذ طلع الغلام فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم يا ابا هريرة هذا غلامك فقلت هو لوجه الله فاعتقته.
يا ليـلـة مـن طولـهـا وعناىها على انها من دارة الكفر نجت
وابق غلام لي في الطريق فلما قدمت على النبي فبايعته فبينا انا عنده اذ طلع الغلام فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم يا ابا هريرة هذا غلامك فقلت هو لوجه الله فاعتقته.
৪৩৯৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসার জন্য রওয়ানা হয়ে রাস্তার মধ্যে বলেছিলাম-
হে সুদীর্ঘ ও চরম পরিশ্রমের রাত!
এ রাত আমাকে দারুল কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছে।
আমার একটি গোলাম ছিল। পথে সে পালিয়ে গেল। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বাই‘আত করলাম। অতঃপর একদিন আমি তাঁর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় গোলামটি এসে হাযির। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ! এই যে তোমার গোলাম। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে সে আযাদ-এ কথা বলে আমি তাকে আযাদ করে দিলাম। [২৫৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪৮)
হে সুদীর্ঘ ও চরম পরিশ্রমের রাত!
এ রাত আমাকে দারুল কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছে।
আমার একটি গোলাম ছিল। পথে সে পালিয়ে গেল। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বাই‘আত করলাম। অতঃপর একদিন আমি তাঁর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় গোলামটি এসে হাযির। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ! এই যে তোমার গোলাম। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে সে আযাদ-এ কথা বলে আমি তাকে আযাদ করে দিলাম। [২৫৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৪৮)