অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৪/১. ‘উশায়রাহ বা ‘উসাইরাহর যুদ্ধ।
মোট ৫২৫ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৩৩৪ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة قال سمعت قتادة عن انس بن مالك رضي الله عنه قال جمع النبي صلى الله عليه وسلم ناسا من الانصار فقال ان قريشا حديث عهد بجاهلية ومصيبة واني اردت ان اجبرهم واتالفهم اما ترضون ان يرجع الناس بالدنيا وترجعون برسول الله صلى الله عليه وسلم الى بيوتكم قالوا بلى قال لو سلك الناس واديا وسلكت الانصار شعبا لسلكت وادي الانصار او شعب الانصار.
৪৩৩৪. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের লোকজনকে জমায়েত করে বললেন, কুরাইশরা সবেমাত্র জাহিলীয়্যাত ছেড়েছে আর তারা দুর্দশাগ্রস্ত। তাই আমি তাদেরকে অনুদান দিয়ে তাদের মন জয় করার ইচ্ছা করেছি। তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা পার্থিব সম্পদ নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা তোমাদের ঘরে ফিরে যাবে আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে। তারা বললেন, অবশ্যই আমরা সন্তুষ্ট। তিনি আরো বললেন, যদি লোকজন উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসাররা গিরিপথ দিয়ে চলে, তা হলে আনসারদের গিরিপথ অথবা তিনি বলেছেন, আনসারদের উপত্যকা দিয়েই চলব। [৩১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯৫)
হাদিস নং: ৪৩৩৫ সহিহ (Sahih)
قبيصة حدثنا سفيان عن الاعمش عن ابي واىل عن عبد الله قال لما قسم النبي صلى الله عليه وسلم قسمة حنين قال رجل من الانصار ما اراد بها وجه الله فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فاخبرته فتغير وجهه ثم قال رحمة الله على موسى لقد اوذي باكثر من هذا فصبر.
৪৩৩৫. ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের গানীমাত বণ্টন করলেন, তখন আনসারদের এক ব্যক্তি বলে ফেলল যে, এই বণ্টনের ব্যাপারে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেননি। কথাটি শুনে আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম এবং তাঁকে কথাটি জানিয়ে দিলাম। তখন তাঁর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ, মূসা (আঃ)-এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। তাঁকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছিল। তাতে তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। [৩১৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯৬)
হাদিস নং: ৪৩৩৬ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن منصور عن ابي واىل عن عبد الله رضي الله عنه قال لما كان يوم حنين اثر النبي صلى الله عليه وسلم ناسا اعطى الاقرع ماىة من الابل واعطى عيينة مثل ذلك واعطى ناسا فقال رجل ما اريد بهذه القسمة وجه الله فقلت لاخبرن النبي صلى الله عليه وسلم قال رحم الله موسى قد اوذي باكثر من هذا فصبر.
৪৩৩৬. ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনাইনের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন লোককে (গানীমাতের মাল) প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেন। যেমন আকরা’কে একশ’ উট দিয়েছিলেন। ‘উয়াইনাহ্কে ততই দিয়েছিলেন। অন্যদেরও দিয়েছিলেন। এতে এক ব্যক্তি বলে উঠল, এ বণ্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়নি। (রাবী বলেন) তখন আমি বললাম, অবশ্যই আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা জানিয়ে দিব। [এ কথা জানানো হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর উপর রহম করুন। তাঁকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছিল। তাতে তিনি ধৈর্য ধারণ করেন। [৩১৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯৭)
হাদিস নং: ৪৩৩৭ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا معاذ بن معاذ حدثنا ابن عون عن هشام بن زيد بن انس بن مالك عن انس بن مالك رضي الله عنه قال لما كان يوم حنين اقبلت هوازن وغطفان وغيرهم بنعمهم وذراريهم ومع النبي صلى الله عليه وسلم عشرة الاف ومن الطلقاء فادبروا عنه حتى بقي وحده فنادى يومىذ نداءين لم يخلط بينهما التفت عن يمينه فقال يا معشر الانصار قالوا لبيك يا رسول الله ابشر نحن معك ثم التفت عن يساره فقال يا معشر الانصار قالوا لبيك يا رسول الله ابشر نحن معك وهو على بغلة بيضاء فنزل فقال انا عبد الله ورسوله فانهزم المشركون فاصاب يومىذ غناىم كثيرة فقسم في المهاجرين والطلقاء ولم يعط الانصار شيىا فقالت الانصار اذا كانت شديدة فنحن ندعى ويعطى الغنيمة غيرنا فبلغه ذلك فجمعهم في قبة فقال يا معشر الانصار ما حديث بلغني عنكم فسكتوا فقال يا معشر الانصار الا ترضون ان يذهب الناس بالدنيا وتذهبون برسول الله تحوزونه الى بيوتكم قالوا بلى فقال النبي صلى الله عليه وسلم لو سلك الناس واديا وسلكت الانصار شعبا لاخذت شعب الانصار وقال هشام قلت يا ابا حمزة وانت شاهد ذاك قال واين اغيب عنه.
৪৩৩৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনাইনের দিন হাওয়াযিন, গাতফান ও অন্যান্য গোত্রগুলো নিজেদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিসহ যুদ্ধক্ষেত্রে এল। আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-

এর সঙ্গে ছিল দশ হাজার (ও কিছু সংখ্যক) তুলাকা [1] সৈনিক। যুদ্ধে তারা সবাই তাঁর পাশ থেকে পিছনে সরে গেল। ফলে তিনি একাকী রয়ে গেলেন। সেই সময়ে তিনি আলাদা আলাদাভাবে দু’টি ডাক দিয়েছিলেন, তিনি ডান দিক ফিরে বলেছিলেন, ওহে আনসারগণ! তাঁরা সবাই উত্তর করলেন, আমরা উপস্থিত হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সুসংবাদ নিন, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। এরপর তিনি বাম দিকে ফিরে বলেছিলেন, ওহে আনসারগণ! তাঁরা সবাই উত্তরে বললেন, আমরা উপস্থিত হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সুসংবাদ নিন। আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাদা রঙের খচ্চরটির পিঠে ছিলেন। তিনি নিচে নেমে পড়লেন এবং বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। (শেষে) মুশরিকরাই পরাজিত হল। সে যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ গানীমাত হস্তগত হল। তিনি সেসব সম্পদ মুহাজির এবং নও-মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আর আনসারদেরকে কিছুই দেননি। তখন আনসারদের (কেউ কেউ) বললেন, কঠিন মুহূর্ত আসলে ডাকা হয় আমাদেরকে আর গানীমাত দেয়া হয় অন্যদেরকে।  কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তাই তিনি তাদেরকে একটি তাঁবুতে জমায়েত করে বললেন, ওহে আনসারগণ! একী কথা আমার কাছে পৌঁছল? তাঁরা চুপ করে থাকলেন। তিনি বললেন, হে আনসারগণ! তোমরা কি খুশি থাকবে না যে, লোকজন দুনিয়ার ধন-সম্পদ নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা (বাড়ি ফিরে যাবে আল্লাহর রাসূলকে সঙ্গে নিয়ে? তাঁরা বললেনঃ অবশ্যই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি লোকজন একটি উপত্যকা দিয়ে চলে আর আনসারগণ একটি গিরিপথ দিয়ে চলে তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথকেই গ্রহণ করে নেব। বর্ণনাকারী হিশাম (রহ.) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ হামযাহ (আনাস ইবনু মালিক) আপনি কি এ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, আমি তাঁর নিকট হতে কখন বা অনুপস্থিত থাকতাম? [৩১৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯৮)
নোট: [1] ইবনু হাজার আসকালানী ও কিরমানী প্রভৃতি হাদীসবেত্তাগণের মতে তুলাকা শব্দের পূর্বে একটি ওয়াও উহ্য রয়েছে। অর্থাৎ দশ হাজার মুহাজির ও আনসার এবং মুক্তিপ্রাপ্ত লোকজন।
হাদিস নং: ৪৩৩৮ সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد حدثنا ايوب عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم سرية قبل نجد فكنت فيها فبلغت سهامنا اثني عشر بعيرا ونفلنا بعيرا بعيرا فرجعنا بثلاثة عشر بعيرا.
৪৩৩৮. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাজদের দিকে একটি সৈন্যদল প্রেরিত হয়েছিল, তাতে আমিও ছিলাম। আমাদের সবার ভাগে (গানীমাতের) বারোটি করে উট পৌঁছল। আর একটি একটি করে উট অধিকও দেয়া হল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে পাঠিয়েছিলেন আর আমরা তেরোটি করে উট নিয়ে ফিরে আসলাম। [৩১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৯৯)
হাদিস নং: ৪৩৩৯ সহিহ (Sahih)
محمود حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر ح و حدثني نعيم اخبرنا عبد الله اخبرنا معمر عن الزهري عن سالم عن ابيه قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم خالد بن الوليد الى بني جذيمة فدعاهم الى الاسلام فلم يحسنوا ان يقولوا اسلمنا فجعلوا يقولون صبانا صبانا فجعل خالد يقتل منهم وياسر ودفع الى كل رجل منا اسيره حتى اذا كان يوم امر خالد ان يقتل كل رجل منا اسيره فقلت والله لا اقتل اسيري ولا يقتل رجل من اصحابي اسيره حتى قدمنا على النبي صلى الله عليه وسلم فذكرناه فرفع النبي صلى الله عليه وسلم يده فقال اللهم اني ابرا اليك مما صنع خالد مرتين.
৪৩৩৯. সালিমের পিতা [‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক অভিযানে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)-কে বানী জাযিমার বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। (সেখানে পৌঁছে) খালিদ (রাঃ) তাদেরকে ইসলামের দা‘ওয়াত দিলেন। কিন্তু ‘আমরা ইসলাম কবূল করলাম’, এ কথাটি তারা ভালভাবে বুঝিয়ে বলতে পারছিল না। তাই তারা বলতে লাগল, আমরা স্বধর্ম ত্যাগ করলাম, আমরা স্বধর্ম ত্যাগ করলাম। খালিদ তাদেরকে হত্যা ও বন্দী করতে থাকলেন এবং আমাদের প্রত্যেকের কাছে বন্দীদেরকে সোপর্দ করতে থাকলেন। অবশেষে একদিন তিনি আদেশ দিলেন আমাদের সবাই যেন নিজ নিজ বন্দীকে হত্যা করে ফেলি। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি আমার বন্দীকে হত্যা করব না। আর আমার সঙ্গীদের কেউই তার বন্দীকে হত্যা করবে না। অবশেষে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলাম। আমরা তাঁর কাছে এ ব্যাপারটি উল্লেখ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দু’হাত তুলে বললেন, হে আল্লাহ! খালিদ যা করেছে আমি তার দায় থেকে মুক্ত  হওয়ার কথা তোমার নিকট জ্ঞাপন করছি। এ কথাটি তিনি দু’বার বললেন। [৭১৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০০)
হাদিস নং: ৪৩৪০ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا عبد الواحد حدثنا الاعمش قال حدثني سعد بن عبيدة عن ابي عبد الرحمن عن علي رضي الله عنه قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم سرية فاستعمل رجلا من الانصار وامرهم ان يطيعوه فغضب فقال اليس امركم النبي صلى الله عليه وسلم ان تطيعوني قالوا بلى قال فاجمعوا لي حطبا فجمعوا فقال اوقدوا نارا فاوقدوها فقال ادخلوها فهموا وجعل بعضهم يمسك بعضا ويقولون فررنا الى النبي صلى الله عليه وسلم من النار فما زالوا حتى خمدت النار فسكن غضبه فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال لو دخلوها ما خرجوا منها الى يوم القيامة الطاعة في المعروف.
৪৩৪০. ‘আলী (ইবনু আবূ তালিব) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন এবং আনসারদের এক ব্যক্তিকে তার সেনাপতি নিযুক্ত করে তিনি তাদেরকে তাঁর (সেনাপতির) আনুগত্য করার নির্দেশ দেন। (কোন কারণে) আমীর রাগান্বিত হয়ে যান। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করতে নির্দেশ দেননি? তাঁরা বললেন, অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে তোমরা কিছু কাঠ সংগ্রহ করে আনো। তাঁরা কাঠ সংগ্রহ করলেন। তিনি বললেন, এগুলোতে আগুন লাগিয়ে দাও। তাঁরা ওতে আগুন লাগালেন। তখন তিনি বললেন, এবার তোমরা সকলে এ আগুনে প্রবেশ কর। তারা আগুনে প্রবেশ করতে সংকল্প করে ফেললেন। কিন্তু তাদের কয়েকজন অন্যদের বাধা দিয়ে বলতে লাগলেন, আগুন থেকেই তো আমরা পালিয়ে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এভাবে ইতস্তত করতে করতে আগুন নিভে গেল এবং তার ক্রোধও ঠান্ডা হল। এরপর এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, যদি তারা আগুনে ঝাঁপ দিত তা হলে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আর এ আগুন থেকে বের হতে পারত না। আনুগত্য (করতে হবে) কেবল সৎ কাজের। [৭১৪৫, ৭২৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০১)
হাদিস নং: ৪৩৪১ সহিহ (Sahih)
موسى حدثنا ابو عوانة حدثنا عبد الملك عن ابي بردة قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم ابا موسى ومعاذ بن جبل الى اليمن قال وبعث كل واحد منهما على مخلاف قال واليمن مخلافان ثم قال يسرا ولا تعسرا وبشرا ولا تنفرا فانطلق كل واحد منهما الى عمله وكان كل واحد منهما اذا سار في ارضه كان قريبا من صاحبه احدث به عهدا فسلم عليه فسار معاذ في ارضه قريبا من صاحبه ابي موسى فجاء يسير على بغلته حتى انتهى اليه واذا هو جالس وقد اجتمع اليه الناس واذا رجل عنده قد جمعت يداه الى عنقه فقال له معاذ يا عبد الله بن قيس ايم هذا قال هذا رجل كفر بعد اسلامه قال لا انزل حتى يقتل قال انما جيء به لذلك فانزل قال ما انزل حتى يقتل فامر به فقتل ثم نزل فقال يا عبد الله كيف تقرا القران قال اتفوقه تفوقا قال فكيف تقرا انت يا معاذ قال انام اول الليل فاقوم وقد قضيت جزىي من النوم فاقرا ما كتب الله لي فاحتسب نومتي كما احتسب قومتي.
৪৩৪১-৪৩৪২. আবূ বুরদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মূসা এবং মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠালেন। বর্ণনাকারী বলেন, তৎকালে ইয়ামানে দু’টি প্রদেশ ছিল। তিনি তাদের প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে বলে দিলেন, তোমরা কোমল হবে, কঠোর হবে না। অনীহা সৃষ্টি হতে দেবে না। এরপর তাঁরা দু’জনে নিজ নিজ কর্ম এলাকায় চলে গেলেন। আবূ বুরদা (রাঃ) বললেন, তাঁদের প্রত্যেকেই যখন নিজ নিজ এলাকায় সফর করতেন এবং অন্যজনের কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে যেতেন তখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে সালাম বিনিময় করতেন। এভাবে মু‘আয (রাঃ) একবার তাঁর এলাকায় এমন স্থানে সফর করছিলেন, যে স্থানটি তাঁর সাথী আবূ মূসা (রাঃ)-এর এলাকার নিকটবর্তী ছিল। সুযোগ পেয়ে তিনি খচ্চরের পিঠে চড়ে (আবূ মূসার এলাকায়) পৌঁছে গেলেন। তখন তিনি দেখলেন যে, আবূ মূসা (রাঃ) বসে আছেন আর তাঁর চারপাশে অনেক লোক জমায়েত হয়ে আছে। আরো দেখলেন, পাশে এক লোককে তার গলার সঙ্গে উভয় হাত বেঁধে রাখা হয়েছে। মু‘আয (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (আবূ মূসা)। এ লোকটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, এ লোকটি ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মু‘আয (রাঃ) বললেন, তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি সাওয়ারী থেকে নামব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, এ উদ্দেশেই তাকে আনা হয়েছে, কাজেই আপনি নামুন। তিনি বললেন, না তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি নামব না। ফলে আবূ মূসা (রাঃ) হুকুম করলেন এবং লোকটিকে হত্যা করা হল। এরপর মু‘আয (রাঃ) নামলেন। মু‘আয (রাঃ) বললেন, ওহে ‘আবদুল্লাহ! আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন, আমি (দিবা-রাত্রি) কিছুক্ষণ পরপর কিছু অংশ করে তিলাওয়াত করে থাকি। তিনি বললেন, আর আপনি কীভাবে তিলাওয়াত করেন, হে মু‘আয? উত্তরে তিনি বললেন, আমি রাতের প্রথমাংশে শুয়ে পড়ি এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘুমিয়ে আমি উঠে পড়ি। এরপর আল্লাহ আমাকে যতটুকু তাওফীক দান করেন তিলাওয়াত করতে থাকি। এতে আমি আমার নিদ্রার অংশকেও (সওয়াবের বিষয় বলে) মনে করি, আমি আমার দাঁড়িয়ে তিলাওয়াতকে যেমনি (সাওয়াবের বিষয় বলে) মনে করি। [৪৩৪৫; মুসলিম ৩২/৩, হাঃ ১৭৩৩, আহমাদ ১৯৭৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০২)
হাদিস নং: ৪৩৪২ সহিহ (Sahih)
موسى حدثنا ابو عوانة حدثنا عبد الملك عن ابي بردة قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم ابا موسى ومعاذ بن جبل الى اليمن قال وبعث كل واحد منهما على مخلاف قال واليمن مخلافان ثم قال يسرا ولا تعسرا وبشرا ولا تنفرا فانطلق كل واحد منهما الى عمله وكان كل واحد منهما اذا سار في ارضه كان قريبا من صاحبه احدث به عهدا فسلم عليه فسار معاذ في ارضه قريبا من صاحبه ابي موسى فجاء يسير على بغلته حتى انتهى اليه واذا هو جالس وقد اجتمع اليه الناس واذا رجل عنده قد جمعت يداه الى عنقه فقال له معاذ يا عبد الله بن قيس ايم هذا قال هذا رجل كفر بعد اسلامه قال لا انزل حتى يقتل قال انما جيء به لذلك فانزل قال ما انزل حتى يقتل فامر به فقتل ثم نزل فقال يا عبد الله كيف تقرا القران قال اتفوقه تفوقا قال فكيف تقرا انت يا معاذ قال انام اول الليل فاقوم وقد قضيت جزىي من النوم فاقرا ما كتب الله لي فاحتسب نومتي كما احتسب قومتي.
৪৩৪১-৪৩৪২. আবূ বুরদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মূসা এবং মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠালেন। বর্ণনাকারী বলেন, তৎকালে ইয়ামানে দু’টি প্রদেশ ছিল। তিনি তাদের প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়ে বলে দিলেন, তোমরা কোমল হবে, কঠোর হবে না। অনীহা সৃষ্টি হতে দেবে না। এরপর তাঁরা দু’জনে নিজ নিজ কর্ম এলাকায় চলে গেলেন। আবূ বুরদা (রাঃ) বললেন, তাঁদের প্রত্যেকেই যখন নিজ নিজ এলাকায় সফর করতেন এবং অন্যজনের কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে যেতেন তখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে সালাম বিনিময় করতেন। এভাবে মু‘আয (রাঃ) একবার তাঁর এলাকায় এমন স্থানে সফর করছিলেন, যে স্থানটি তাঁর সাথী আবূ মূসা (রাঃ)-এর এলাকার নিকটবর্তী ছিল। সুযোগ পেয়ে তিনি খচ্চরের পিঠে চড়ে (আবূ মূসার এলাকায়) পৌঁছে গেলেন। তখন তিনি দেখলেন যে, আবূ মূসা (রাঃ) বসে আছেন আর তাঁর চারপাশে অনেক লোক জমায়েত হয়ে আছে। আরো দেখলেন, পাশে এক লোককে তার গলার সঙ্গে উভয় হাত বেঁধে রাখা হয়েছে। মু‘আয (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (আবূ মূসা)। এ লোকটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, এ লোকটি ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মু‘আয (রাঃ) বললেন, তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি সাওয়ারী থেকে নামব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, এ উদ্দেশেই তাকে আনা হয়েছে, কাজেই আপনি নামুন। তিনি বললেন, না তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি নামব না। ফলে আবূ মূসা (রাঃ) হুকুম করলেন এবং লোকটিকে হত্যা করা হল। এরপর মু‘আয (রাঃ) নামলেন। মু‘আয (রাঃ) বললেন, ওহে ‘আবদুল্লাহ! আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন, আমি (দিবা-রাত্রি) কিছুক্ষণ পরপর কিছু অংশ করে তিলাওয়াত করে থাকি। তিনি বললেন, আর আপনি কীভাবে তিলাওয়াত করেন, হে মু‘আয? উত্তরে তিনি বললেন, আমি রাতের প্রথমাংশে শুয়ে পড়ি এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘুমিয়ে আমি উঠে পড়ি। এরপর আল্লাহ আমাকে যতটুকু তাওফীক দান করেন তিলাওয়াত করতে থাকি। এতে আমি আমার নিদ্রার অংশকেও (সওয়াবের বিষয় বলে) মনে করি, আমি আমার দাঁড়িয়ে তিলাওয়াতকে যেমনি (সাওয়াবের বিষয় বলে) মনে করি। [৪৩৪৫; মুসলিম ৩২/৩, হাঃ ১৭৩৩, আহমাদ ১৯৭৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০২)
হাদিস নং: ৪৩৪৩ সহিহ (Sahih)
اسحاق حدثنا خالد عن الشيباني عن سعيد بن ابي بردة عن ابيه عن ابي موسى الاشعري رضي الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم بعثه الى اليمن فساله عن اشربة تصنع بها فقال وما هي قال البتع والمزر فقلت لابي بردة ما البتع قال نبيذ العسل والمزر نبيذ الشعير فقال كل مسكر حرام رواه جرير وعبد الواحد عن الشيباني عن ابي بردة.
৪৩৪৩. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (আবূ মূসাকে গভর্নর নিযুক্ত করে) ইয়ামানে পাঠিয়েছেন। তখন তিনি ইয়ামানে তৈরি করা হয় এমন কতিপয় শরাব সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐগুলো কী কী? আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, তা হল বিত্উ ও মিয্র শরাব। বর্ণনাকারী সা‘ঈদ (রহ.) বলেন, আমি আবূ বুরদাহকে জিজ্ঞেস করলাম বিত্উ কী? তিনি বললেন, বিত্উ হল মধু থেকে গ্যাজানো রস আর মিয্র হল যবের গ্যাঁজানো রস। (সা‘ঈদ বলেন) তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সকল নেশা উৎপাদক বস্তুই হারাম। হাদীসটি জারীর এবং ‘আবদুল ওয়াহিদ শাইবানী (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ বুরদা (রাঃ) সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। [২২৬১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৩)
হাদিস নং: ৪৩৪৪ সহিহ (Sahih)
مسلم حدثنا شعبة حدثنا سعيد بن ابي بردة عن ابيه قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم جده ابا موسى ومعاذا الى اليمن فقال يسرا ولا تعسرا وبشرا ولا تنفرا وتطاوعا فقال ابو موسى يا نبي الله ان ارضنا بها شراب من الشعير المزر وشراب من العسل البتع فقال كل مسكر حرام فانطلقا فقال معاذ لابي موسى كيف تقرا القران قال قاىما وقاعدا وعلى راحلتي واتفوقه تفوقا قال اما انا فانام واقوم فاحتسب نومتي كما احتسب قومتي وضرب فسطاطا فجعلا يتزاوران فزار معاذ ابا موسى فاذا رجل موثق فقال ما هذا فقال ابو موسى يهودي اسلم ثم ارتد فقال معاذ لاضربن عنقه تابعه العقدي ووهب عن شعبة وقال وكيع والنضر وابو داود عن شعبة عن سعيد عن ابيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم رواه جرير بن عبد الحميد عن الشيباني عن ابي بردة.
৪৩৪৪-৪৩৪৫. আবূ বুরদা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার দাদা আবূ মূসা ও মু‘আয (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (শাসক হিসেবে) ইয়ামানে পাঠালেন। এ সময় তিনি বললেন, তোমরা লোকজনের সঙ্গে সহজ আচরণ করবে। কখনো কঠিন আচরণ করবে না। মানুষের মনে সুসংবাদের মাধ্যমে উৎসাহ সৃষ্টি করবে। কখনো তাদের মনে অনীহা সৃষ্টি করবে না এবং একে অপরকে মেনে চলবে। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমাদের এলাকায় মিয্র নামের এক প্রকার শরাব যব থেকে তৈরি করা হয় আর বিত্উ নামের এক প্রকার শরাব মধু থেকে তৈরি করা হয় (এগুলো সম্পর্কে হুকুম দিন)। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নেশা সৃষ্টিকারী সকল বস্তুই হারাম। এরপর দু’জনেই চলে গেলেন। মু‘আয আবূ মূসাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি উত্তর দিলেন, দাঁড়িয়ে, বসে, সাওয়ারীর পিঠে সাওয়ার অবস্থায় এবং কিছুক্ষণ পরপরই তিলাওয়াত করি। তিনি বললেন, আর আমি রাতের প্রথমদিকে ঘুমিয়ে পড়ি তারপর (শেষ ভাগে তিলাওয়াতের জন্য সালাতে) দাঁড়িয়ে যাই। এভাবে আমি আমার নিদ্রার সময়কেও আমার সালাতে দাঁড়ানোর মতই সওয়াবের বিষয় মনে করে থাকি। এরপর (উভয়েই নিজ শাসন এলাকায়) তাঁবু খাটালেন এবং পরস্পরের সাক্ষাৎ বজায় রেখে চললেন। (এক সময়) মু‘আয (রাঃ) আবূ মূসা (রাঃ)-এর সাক্ষাতে এসে দেখলেন, সেখানে এক ব্যক্তি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ লোকটি কে? আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, লোকটি ইয়াহূদী ছিল, ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মু‘আয (রাঃ) বললেন, আমি ওর গর্দান উড়িয়ে দেবো। শু‘বাহ থেকে আকাদী এবং ওয়াহ্ব এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর ওকী (রহ.) নযর ও আবূ দাঊদ (রহ.) এ হাদীসের সানাদে শু’বাহ (রহ.) সা‘ঈদ-সাঈদের পিতা-সাঈদের দাদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি জারীর ইবনু ‘আবদুল হামীদ (রহ.) শাইবানী (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ বুরদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। [২২৬১, ৪৩৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৪)
হাদিস নং: ৪৩৪৫ সহিহ (Sahih)
مسلم حدثنا شعبة حدثنا سعيد بن ابي بردة عن ابيه قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم جده ابا موسى ومعاذا الى اليمن فقال يسرا ولا تعسرا وبشرا ولا تنفرا وتطاوعا فقال ابو موسى يا نبي الله ان ارضنا بها شراب من الشعير المزر وشراب من العسل البتع فقال كل مسكر حرام فانطلقا فقال معاذ لابي موسى كيف تقرا القران قال قاىما وقاعدا وعلى راحلتي واتفوقه تفوقا قال اما انا فانام واقوم فاحتسب نومتي كما احتسب قومتي وضرب فسطاطا فجعلا يتزاوران فزار معاذ ابا موسى فاذا رجل موثق فقال ما هذا فقال ابو موسى يهودي اسلم ثم ارتد فقال معاذ لاضربن عنقه تابعه العقدي ووهب عن شعبة وقال وكيع والنضر وابو داود عن شعبة عن سعيد عن ابيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم رواه جرير بن عبد الحميد عن الشيباني عن ابي بردة.
৪৩৪৪-৪৩৪৫. আবূ বুরদা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার দাদা আবূ মূসা ও মু‘আয (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (শাসক হিসেবে) ইয়ামানে পাঠালেন। এ সময় তিনি বললেন, তোমরা লোকজনের সঙ্গে সহজ আচরণ করবে। কখনো কঠিন আচরণ করবে না। মানুষের মনে সুসংবাদের মাধ্যমে উৎসাহ সৃষ্টি করবে। কখনো তাদের মনে অনীহা সৃষ্টি করবে না এবং একে অপরকে মেনে চলবে। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমাদের এলাকায় মিয্র নামের এক প্রকার শরাব যব থেকে তৈরি করা হয় আর বিত্উ নামের এক প্রকার শরাব মধু থেকে তৈরি করা হয় (এগুলো সম্পর্কে হুকুম দিন)। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নেশা সৃষ্টিকারী সকল বস্তুই হারাম। এরপর দু’জনেই চলে গেলেন। মু‘আয আবূ মূসাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি উত্তর দিলেন, দাঁড়িয়ে, বসে, সাওয়ারীর পিঠে সাওয়ার অবস্থায় এবং কিছুক্ষণ পরপরই তিলাওয়াত করি। তিনি বললেন, আর আমি রাতের প্রথমদিকে ঘুমিয়ে পড়ি তারপর (শেষ ভাগে তিলাওয়াতের জন্য সালাতে) দাঁড়িয়ে যাই। এভাবে আমি আমার নিদ্রার সময়কেও আমার সালাতে দাঁড়ানোর মতই সওয়াবের বিষয় মনে করে থাকি। এরপর (উভয়েই নিজ শাসন এলাকায়) তাঁবু খাটালেন এবং পরস্পরের সাক্ষাৎ বজায় রেখে চললেন। (এক সময়) মু‘আয (রাঃ) আবূ মূসা (রাঃ)-এর সাক্ষাতে এসে দেখলেন, সেখানে এক ব্যক্তি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ লোকটি কে? আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, লোকটি ইয়াহূদী ছিল, ইসলাম গ্রহণ করার পর মুরতাদ হয়ে গেছে। মু‘আয (রাঃ) বললেন, আমি ওর গর্দান উড়িয়ে দেবো। শু‘বাহ থেকে আকাদী এবং ওয়াহ্ব এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর ওকী (রহ.) নযর ও আবূ দাঊদ (রহ.) এ হাদীসের সানাদে শু’বাহ (রহ.) সা‘ঈদ-সাঈদের পিতা-সাঈদের দাদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি জারীর ইবনু ‘আবদুল হামীদ (রহ.) শাইবানী (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ বুরদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। [২২৬১, ৪৩৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৪)
হাদিস নং: ৪৩৪৬ সহিহ (Sahih)
عباس بن الوليد هو النرسي حدثنا عبد الواحد عن ايوب بن عاىذ حدثنا قيس بن مسلم قال سمعت طارق بن شهاب يقول حدثني ابو موسى الاشعري رضي الله عنه قال بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم الى ارض قومي فجىت ورسول الله صلى الله عليه وسلم منيخ بالابطح فقال احججت يا عبد الله بن قيس قلت نعم يا رسول الله قال كيف قلت قال قلت لبيك اهلالا كاهلالك قال فهل سقت معك هديا قلت لم اسق قال فطف بالبيت واسع بين الصفا والمروة ثم حل ففعلت حتى مشطت لي امراة من نساء بني قيس ومكثنا بذلك حتى استخلف عمر
৪৩৪৬. আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আমার গোত্রের এলাকায় (শাসক করে) পাঠালেন। (বিদায় হাজ্জের বছর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবতাহ নামক স্থানে অবস্থান করার সময় আমি তাঁর সাক্ষাতে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স! তুমি ইহরাম বেঁধেছ কি? আমি বললাম, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, (তালবিয়া) কীভাবে বলেছিলে? আমি উত্তর দিলাম, আমি এরূপ বলেছি যে, হে আল্লাহ! আমি হাযির হয়েছি এবং আপনার [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর] ইহরামের মতো ইহরাম বাঁধলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তোমার সাথে হাদি (কুরবানির পশু) এনেছ? আমি বললাম, না, কোন হাদি আনি নাই । তিনি বললেন, বাইতুল্লাহ তাওয়াফ কর এবং সাফা ও মারওয়ার সায়ী আদায় কর, তারপর হালাল হয়ে যাও। আমি সে রকমই করলাম। এমনকি বনী কাইসের জনৈকা মহিলা আমার চুল পর্যন্ত আঁচড়িয়ে দিয়েছিল। আর আমরা ‘উমার (রাঃ)-এর খিলাফত কাল পর্যন্ত এভাবেই ‘আমল করতে থাকলাম। [১৫৫৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৫)
হাদিস নং: ৪৩৪৭ সহিহ (Sahih)
حبان اخبرنا عبد الله عن زكرياء بن اسحاق عن يحيى بن عبد الله بن صيفي عن ابي معبد مولى ابن عباس عن ابن عباس رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل حين بعثه الى اليمن انك ستاتي قوما من اهل الكتاب فاذا جىتهم فادعهم الى ان يشهدوا ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله فان هم طاعوا لك بذلك فاخبرهم ان الله قد فرض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة فان هم طاعوا لك بذلك فاخبرهم ان الله قد فرض عليهم صدقة توخذ من اغنياىهم فترد على فقراىهم فان هم طاعوا لك بذلك فاياك وكراىم اموالهم واتق دعوة المظلوم فانه ليس بينه وبين الله حجاب.
قال ابو عبد الله طوعت طاعت واطاعت لغة طعت وطعت واطعت.
৪৩৪৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয ইবনু জাবালকে ইয়ামানে পাঠানোর সময় তাঁকে বললেন, অচিরেই তুমি আহলে কিতাবদের এক গোত্রের কাছে যাচ্ছ। যখন তুমি তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছবে তখন তাদেরকে এ দা‘ওয়াত দেবে তারা যেন সাক্ষ্য দেয় যে ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’, এরপর তারা যদি তোমার এ কথা মেনে নেয়, তখন তাদেরকে এ কথা জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তোমাদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচবার সালাত ফরয করে দিয়েছেন। তারা তোমার এ কথা মেনে নিলে তুমি তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তোমাদের উপর যাকাত ফরয করে দিয়েছেন, যা তাদের বিত্তশালীদের নিকট হতে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের অভাবগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তা হলে (যাকাত গ্রহণ কালে) তাদের মালের উৎকৃষ্টতম অংশ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। মাযলুমদের বদদু‘আকে ভয় করবে, কেননা মাযলুমের বদদু‘আ এবং আল্লাহর মাঝখানে কোন আড়াল থাকে না। [১৩৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৬)

আবূ ‘আবদুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, طَوَّعَتْ، طَاعَتْ এবং أَطَاعَتْ সমার্থবোধক শব্দ, طِعْتُ، طُعْتُ এবং أَطَعْتُ -এগুলোর একই অর্থ।
হাদিস নং: ৪৩৪৮ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن حبيب بن ابي ثابت عن سعيد بن جبير عن عمرو بن ميمون ان معاذا رضي الله عنه لما قدم اليمن صلى بهم الصبح فقرا (واتخذ الله ابراهيم خليلا) فقال رجل من القوم لقد قرت عين ام ابراهيم.
زاد معاذ عن شعبة عن حبيب عن سعيد عن عمرو ان النبي صلى الله عليه وسلم بعث معاذا الى اليمن فقرا معاذ في صلاة الصبح سورة النساء فلما قال (واتخذ الله ابراهيم خليلا) قال رجل خلفه قرت عين ام ابراهيم.
৪৩৪৮. ‘আমর ইবনু মাইমূন (রহ.) হতে বর্ণিত যে, মু‘আয (ইবনু জাবাল) (রাঃ) ইয়ামানে পৌঁছার পর লোকজনকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তাতে তিনি وَاتَّخَذَ اللهُ إِبْرَاهِيْمَ خَلِيْلًا অর্থাৎ আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু বানিয়ে নিলেন- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১২৫) আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। তখন কাওমের এক ব্যক্তি বলে উঠল, ইবরাহীমের মায়ের চোখ ঠান্ডা হয়ে গেছে।

মু‘আয (রাঃ) আরও অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন ‘আমর (রাঃ) থেকে। নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয (ইবনু জাবাল) (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠালেন। সেখানে মু‘আয (রাঃ) ফজরের সালাতে সূরাহ নিসা তিলাওয়াত করলেন। যখন তিনি পড়লেন وَاتَّخَذَ اللهُ إِبْرَاهِيْمَ خَلِيْلًا তখন তাঁর পেছনে এক ব্যক্তি বলে উঠল, ইবরাহীমের মায়ের চোখ ঠান্ডা হয়ে গেছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৭)
হাদিস নং: ৪৩৪৯ সহিহ (Sahih)
احمد بن عثمان حدثنا شريح بن مسلمة حدثنا ابراهيم بن يوسف بن اسحاق بن ابي اسحاق حدثني ابي عن ابي اسحاق سمعت البراء رضي الله عنه بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم مع خالد بن الوليد الى اليمن قال ثم بعث عليا بعد ذلك مكانه فقال مر اصحاب خالد من شاء منهم ان يعقب معك فليعقب ومن شاء فليقبل فكنت فيمن عقب معه قال فغنمت اواق ذوات عدد.
৪৩৪৯. আহমাদ ইবনু ‘উসমান (রহ.) ........ বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)-এর সঙ্গে ইয়ামানে পাঠালেন। বারাআ (রাঃ) বলেন, তিনি খালিদ (রাঃ)-এর স্থলে ‘আলী (রাঃ)-কে পাঠিয়ে বলে দিলেন যে, খালিদ (রাঃ)-এর সাথীদেরকে বলবে, তাদের মধ্যে যে তোমার সঙ্গে (ইয়ামানের দিকে) যেতে ইচ্ছা করে সে যেন তোমার সাথে চলে যায়, আর যে (মদিনা্য়) ফিরে যেতে চায় সে যেন ফিরে যায়। (রাবী বলেন) তখন আমি ‘আলী (রাঃ)-এর অনুগামীদের মধ্যে থাকলাম। ফলে আমি গানীমাত হিসেবে অনেক পরিমাণ উকিয়া[1] লাভ করলাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০০৮)
নোট: [1] এক উকিয়া = ৪০ দিরহাম সমপরিমাণ।
হাদিস নং: ৪৩৫০ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا روح بن عبادة حدثنا علي بن سويد بن منجوف عن عبد الله بن بريدة عن ابيه رضي الله عنه قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم عليا الى خالد ليقبض الخمس وكنت ابغض عليا وقد اغتسل فقلت لخالد الا ترى الى هذا فلما قدمنا على النبي صلى الله عليه وسلم ذكرت ذلك له فقال يا بريدة اتبغض عليا فقلت نعم قال لا تبغضه فان له في الخمس اكثر من ذلك.
৪৩৫০. বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে খুমুস (গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ) নিয়ে আসার জন্য খালিদ (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন। (রাবী বুরাইদাহ বলেন,) আমি ‘আলী (রাঃ)-এর প্রতি অসন্তুষ্ট, আর তিনি গোসলও করেছেন। (রাবী বলেন) তাই আমি খালিদ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি কি তার দিকে দেখছেন না? এরপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলে আমি তাঁর কাছে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন, হে বুরাইদাহ! তুমি কি ‘আলীর প্রতি অসন্তুষ্ট? আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার উপর অসন্তুষ্ট থেক না। কারণ খুমুসে তার প্রাপ্য এর চেয়েও অধিক আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১২)
হাদিস নং: ৪৩৫১ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا عبد الواحد عن عمارة بن القعقاع بن شبرمة حدثنا عبد الرحمن بن ابي نعم قال سمعت ابا سعيد الخدري يقول بعث علي بن ابي طالب رضي الله عنه الى رسول الله صلى الله عليه وسلم من اليمن بذهيبة في اديم مقروظ لم تحصل من ترابها قال فقسمها بين اربعة نفر بين عيينة بن بدر واقرع بن حابس وزيد الخيل والرابع اما علقمة واما عامر بن الطفيل فقال رجل من اصحابه كنا نحن احق بهذا من هولاء قال فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال الا تامنوني وانا امين من في السماء ياتيني خبر السماء صباحا ومساء قال فقام رجل غاىر العينين مشرف الوجنتين ناشز الجبهة كث اللحية محلوق الراس مشمر الازار فقال يا رسول الله اتق الله قال ويلك اولست احق اهل الارض ان يتقي الله قال ثم ولى الرجل قال خالد بن الوليد يا رسول الله الا اضرب عنقه قال لا لعله ان يكون يصلي فقال خالد وكم من مصل يقول بلسانه ما ليس في قلبه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اني لم اومر ان انقب عن قلوب الناس ولا اشق بطونهم قال ثم نظر اليه وهو مقف فقال انه يخرج من ضىضى هذا قوم يتلون كتاب الله رطبا لا يجاوز حناجرهم يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية واظنه قال لىن ادركتهم لاقتلنهم قتل ثمود.
৪৩৫১. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) ইয়ামান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক প্রকার (রঙিণ) চামড়ার থলে করে সামান্য কিছু স্বর্ণ পাঠিয়েছিলেন। তখনও এগুলো থেকে সংযুক্ত মাটি পরিষ্কার করা হয়নি। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার জনের মাঝে স্বর্ণখন্ডটি বণ্টন করে দিলেন। তারা হলেন, ‘উয়াইনাহ ইবনু বাদর, আকরা ইবনু হাবিস, যায়দ আল-খায়ল এবং চতুর্থ জন ‘আলক্বামাহ কিংবা ‘আমির ইবনু তুফায়ল (রাঃ)। তখন সাহাবীগণের মধ্য থেকে একজন বললেন, এটা পাওয়ার ব্যাপারে তাঁদের অপেক্ষা আমরাই অধিক হাকদার ছিলাম। (রাবী) বলেন, কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি আমার উপর আস্থা রাখ না অথচ আমি আসমানের অধিবাসীদের আস্থাভাজন, সকাল-বিকাল আমার কাছে আসমানের সংবাদ আসছে। রাবী বলেন, এমন সময়ে এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল। লোকটির চোখ দু’টি ছিল কোটরাগত, চোয়ালের হাড় যেন বেরিয়ে পড়ছে, উঁচু কপাল বিশিষ্ট, দাড়ি অতি ঘন, মাথাটি ন্যাড়া, পরনের লুঙ্গী উপরে উত্থিত। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহকে ভয় করুন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার জন্য আফসোস! আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে দুনিয়াবাসীদের মধ্যে আমি কি অধিক হাকদার নই? রাবী আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, লোকটি চলে গেলে খালিদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি লোকটির গর্দান উড়িয়ে দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, হতে পারে সে সালাত আদায় করে। খালিদ (রাঃ) বললেন, অনেক সালাত আদায়কারী এমন আছে যারা মুখে এমন এমন কথা উচ্চারণ করে যা তাদের অন্তরে নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে মানুষের দিল ছিদ্র করে, পেট ফেড়ে দেখার জন্য বলা হয়নি। তারপর তিনি লোকটির দিকে তাকিয়ে দেখলেন। তখন লোকটি পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বললেন, এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন এক জাতির উদ্ভব হবে যারা শ্রুতিমধুর কণ্ঠে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করবে অথচ আল্লাহর বাণী তাদের গলদেশের নিচে নামবে না। তারা দ্বীন থেকে এভাবে বেরিয়ে যাবে যেভাবে লক্ষ্যবস্তুর দেহ ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন, যদি আমি তাদেরকে পাই তাহলে অবশ্যই আমি তাদেরকে সামূদ জাতির মতো হত্যা করে দেব। [৩৩৪৪; মুসলিম ১২/৪৭, হাঃ ১০৬৪, আহমাদ ১১৬৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১০)
হাদিস নং: ৪৩৫২ সহিহ (Sahih)
المكي بن ابراهيم عن ابن جريج قال عطاء قال جابر امر النبي صلى الله عليه وسلم عليا ان يقيم على احرامه زاد محمد بن بكر عن ابن جريج قال عطاء قال جابر فقدم علي بن ابي طالب رضي الله عنه بسعايته قال له النبي صلى الله عليه وسلم بم اهللت يا علي قال بما اهل به النبي صلى الله عليه وسلم قال فاهد وامكث حراما كما انت قال واهدى له علي هديا.
৪৩৫২. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে তাঁর কৃত ইহরামের উপর স্থির থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাকর ইবনু জুরায়জ-‘আত্বা (রহ.)-জাবির (রাঃ) সূত্রে আরও বর্ণনা করেন যে, জাবির (রাঃ) বলেছেনঃ ‘আলী ইবনু আবূ তালিব তাঁর আদায়কৃত কর খুমুস নিয়ে (মক্কা্য়) আসলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে ‘আলী! তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেটির ইহরাম বেঁধেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হলে তুমি কুরবানীর পশু পাঠিয়ে দাও এবং ইহরাম বাঁধা এ অবস্থায় অবস্থান করতে থাক। বর্ণনাকারী [জাবির (রাঃ)] বলেন, সে সময় ‘আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কুরবানীর পশু পাঠিয়েছিলেন। [১৫৫৭; মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১১)
হাদিস নং: ৪৩৫৩ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا بشر بن المفضل عن حميد الطويل حدثنا بكر انه ذكر لابن عمر ان انسا حدثهم ان النبي صلى الله عليه وسلم اهل بعمرة وحجة فقال اهل النبي صلى الله عليه وسلم بالحج واهللنا به معه فلما قدمنا مكة قال من لم يكن معه هدي فليجعلها عمرة وكان مع النبي صلى الله عليه وسلم هدي فقدم علينا علي بن ابي طالب من اليمن حاجا فقال النبي صلى الله عليه وسلم بم اهللت فان معنا اهلك قال اهللت بما اهل به النبي صلى الله عليه وسلم قال فامسك فان معنا هديا.
৪৩৫৩-৪৩৫৪. বাকর (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে এ কথা উল্লেখ করা হল, ‘আনাস (রাঃ) লোকেদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহর জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের জন্য ইহরাম বেঁধেছেন, তাঁর সঙ্গে আমরাও হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধি। যখন আমরা মক্কা্য় পৌঁছলাম তিনি বললেন, তোমাদের যার সঙ্গে কুরবানীর পশু নেই সে যেন তার হাজ্জের ইহরাম ‘উমরাহর ইহরামে পরিণত করে। অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। অতঃপর ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হাজ্জের উদ্দেশে ইয়ামান থেকে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁকে) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? কারণ আমাদের সঙ্গে তোমার স্ত্রী পরিবার আছে। তিনি উত্তর দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেটির ইহরাম বেঁধেছেন আমি সেটিরই ইহরাম বেঁধেছি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে (এ অবস্থায়ই) থাক, কেননা আমাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে। [মুসলিম ১৫/২৭, হাঃ ১২৩১, ১২৩২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১২)

 
অধ্যায় তালিকা