অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৫/১/১. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে।
মোট ৫০৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৬৫৮
সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا يحيى حدثنا اسماعيل حدثنا زيد بن وهب قال كنا عند حذيفة فقال ما بقي من اصحاب هذه الاية الا ثلاثة ولا من المنافقين الا اربعة فقال اعرابي انكم اصحاب محمد صلى الله عليه وسلم تخبرونا فلا ندري فما بال هولاء الذين يبقرون بيوتنا ويسرقون اعلاقنا قال اولىك الفساق اجل لم يبق منهم الا اربعة احدهم شيخ كبير لو شرب الماء البارد لما وجد برده
৪৬৫৮. যায়দ ইবনু ওয়াহ্ব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা হুযাইফাহ (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম, তখন তিনি বলেন, এ আয়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের মধ্যে শুধু তিনজন মুসলিম এবং চারজন মুনাফিক বেঁচে আছে। এমন সময় একজন বেদুঈন বলেন, আপনারা সকলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী। আমাদের এমন লোকদের অবস্থা সম্পর্কে খবর দিন যারা আমাদের ঘরে সিঁদ কেটে ঘরের অতি মূল্যবান জিনিসগুলো চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, কেননা তাদের অবস্থা সম্পর্কে আমরা জানি না। হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, তারা সবাই ফাসিক। হ্যাঁ, তাদের মধ্য হতে চার ব্যক্তি এখনও জীবিত-তাদের মধ্যে একজন এতই বৃদ্ধ যে, শীতল পানি পান করার পর তার শীতলতা অনুভব করতে পারে না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৯৯)
হাদিস নং: ৪৬৫৯
সহিহ (Sahih)
الحكم بن نافع اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد ان عبد الرحمن الاعرج حدثه انه قال حدثني ابو هريرة رضي الله عنه انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يكون كنز احدكم يوم القيامة شجاعا اقرع.
(وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُوْنَهَا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيْمٍ).
আর যারা জমা করে রাখে স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে আপনি শুনিয়ে দিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ। (সূরাহ বারাআত ৯/৩৪)
৪৬৫৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, তোমাদের মধ্যে কারো জমাকৃত সম্পদ (যার যাকাত আদায় করা হয় না) কিয়ামতের দিন বিষাক্ত সর্পের রূপ ধারণ করবে। [১৪০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০০)
আর যারা জমা করে রাখে স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে আপনি শুনিয়ে দিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ। (সূরাহ বারাআত ৯/৩৪)
৪৬৫৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, তোমাদের মধ্যে কারো জমাকৃত সম্পদ (যার যাকাত আদায় করা হয় না) কিয়ামতের দিন বিষাক্ত সর্পের রূপ ধারণ করবে। [১৪০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০০)
হাদিস নং: ৪৬৬০
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن حصين عن زيد بن وهب قال مررت على ابي ذر بالربذة فقلت ما انزلك بهذه الارض قال كنا بالشام فقرات (والذين يكنزون الذهب والفضة ولا ينفقونها في سبيل الله فبشرهم بعذاب اليم) قال معاوية ما هذه فينا ما هذه الا في اهل الكتاب قال قلت انها لفينا وفيهم
৪৬৬০. যায়দ ইবনু ওয়াহ্ব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা রাবাযা নামক স্থানে আবূ যার (রাঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি (তাকে) জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কেন এ ভূমিতে এসেছেন? তিনি বললেন, আমি সিরিয়ায় ছিলাম, তখন আমি [মু’আবিয়াহ (রাঃ)-এর সামনে] এ আয়াত পাঠ করে শোনালাম। وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُوْنَهَا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيْمٍ ’’আর যারা জমা করে রাখে স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে আপনি শুনিয়ে দিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ।’’ (সূরাহ বারাআত ৯/৩৪)
মু’আবিয়াহ (রাঃ) এ আয়াত শুনে বললেন, এ আয়াত আমাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়নি। বরং আহলে কিতাবদের (ইয়াহূদী ও নাসারাদের) ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, এ আয়াত আমাদের ও তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। (এ তর্কবিতর্কের কারণে চলে এসেছি।) [১৪০৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০১)
মু’আবিয়াহ (রাঃ) এ আয়াত শুনে বললেন, এ আয়াত আমাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়নি। বরং আহলে কিতাবদের (ইয়াহূদী ও নাসারাদের) ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, এ আয়াত আমাদের ও তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। (এ তর্কবিতর্কের কারণে চলে এসেছি।) [১৪০৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০১)
হাদিস নং: ৪৬৬১
সহিহ (Sahih)
وقال احمد بن شبيب بن سعيد ابي عن يونس عن ابن شهاب عن خالد بن اسلم قال خرجنا مع عبد الله بن عمر فقال هذا قبل ان تنزل الزكاة فلما انزلت جعلها الله طهرا للاموال.
(يَّوْمَ يُحْمٰى عَلَيْهَا فِيْ نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوٰى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوْبُهُمْ وَظُهُوْرُهُمْ طهٰذَا مَا كَنَزْتُمْ لِاَنْفُسِكُمْ فَذُوْقُوْا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُوْنَ).
সে দিন যখন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে দাগিয়ে দেয়া হবে তাদের কপাল, তাদের পাঁজর এবং তাদের পৃষ্ঠদেশ, বলা হবেঃ এগুলো হল তা, যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং যা তোমরা জমা করে রাখতে তার স্বাদ গ্রহণ কর। (সূরাহ বারাআত ৯/৩৫)
৪৬৬১. খালিদ ইবনু আসলাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ’আবদুল্লাহ ইবন ’উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে বের হলাম। তখন তিনি বললেন, এ আয়াতটি যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের। এরপর যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হলে আল্লাহ তা সম্পদের পরিশুদ্ধকারী করেন। [১৪০৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০২)
সে দিন যখন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে দাগিয়ে দেয়া হবে তাদের কপাল, তাদের পাঁজর এবং তাদের পৃষ্ঠদেশ, বলা হবেঃ এগুলো হল তা, যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং যা তোমরা জমা করে রাখতে তার স্বাদ গ্রহণ কর। (সূরাহ বারাআত ৯/৩৫)
৪৬৬১. খালিদ ইবনু আসলাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ’আবদুল্লাহ ইবন ’উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে বের হলাম। তখন তিনি বললেন, এ আয়াতটি যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের। এরপর যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হলে আল্লাহ তা সম্পদের পরিশুদ্ধকারী করেন। [১৪০৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০২)
হাদিস নং: ৪৬৬২
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن عبد الوهاب حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن محمد عن ابن ابي بكرة عن ابي بكرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان الزمان قد استدار كهيىته يوم خلق الله السموات والارض السنة اثنا عشر شهرا منها اربعة حرم ثلاث متواليات ذو القعدة وذو الحجة والمحرم ورجب مضر الذي بين جمادى وشعبان.
(ذٰلِكَ الدِّيْنُ الْقَيِّمُ هُوَ الْقَائِمُ) القَيِّمُ : هُوَ القائمُ. [فَلَا تَظْلِمُوْا فِيْهِنَّ أَنْفُسَكُمْ].
القَيِّمُ শব্দটি القائمُ (প্রতিষ্ঠিত) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
৪৬৬২. আবূ বকর (রাঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেন সেদিন যেভাবে যামানা ছিল তা আজও তেমনি আছে। বারমাসে এক বছর, তার মধ্যে চার মাস পবিত্র। যার তিন মাস ধারাবাহিক যথা যিলকাদ, যিলহাজ্জ ও মুহার্রম আর মুযার গোত্রের রাজব যা জামাদিউসসানী ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী। [৬৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০২)
القَيِّمُ শব্দটি القائمُ (প্রতিষ্ঠিত) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
৪৬৬২. আবূ বকর (রাঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেন সেদিন যেভাবে যামানা ছিল তা আজও তেমনি আছে। বারমাসে এক বছর, তার মধ্যে চার মাস পবিত্র। যার তিন মাস ধারাবাহিক যথা যিলকাদ, যিলহাজ্জ ও মুহার্রম আর মুযার গোত্রের রাজব যা জামাদিউসসানী ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী। [৬৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০২)
হাদিস নং: ৪৬৬৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا حبان حدثنا همام حدثنا ثابت حدثنا انس قال حدثني ابو بكر رضي الله عنه قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في الغار فرايت اثار المشركين قلت يا رسول الله لو ان احدهم رفع قدمه رانا قال ما ظنك باثنين الله ثالثهما.
(ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُوْلُ لِصَاحِبِهٰلَا تَحْزَنْ إِنَّ اللهَ مَعَنَا)
তিনি ছিলেন দু’জনের মধ্যে দ্বিতীয় জন, যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন যখন তিনি তার সাথীকে বললেন, চিন্তা কর না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। (সূরাহ বারাআত ৯/৪০)
أَيْ نَاصِرُنَا السَّكِيْنَةُ فَعِيْلَةٌ مِنْ السُّكُوْنِ.
مَعَنَا আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী فَعِيْلَةٌ السَّكِيْنَةُ-এর সম ওযনে سَكُوْن থেকে, অর্থ প্রশান্তি।
৪৬৬৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমার কাছে বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (সওর) গুহায় ছিলাম। তখন আমি মুশরিকদের পদচিহ্ন দেখতে পেয়ে [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে] বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি তাদের কেউ পা উঠায় তাহলে আমাদের দেখে ফেলবে। তখন তিনি বললেন, এমন দু’জন সম্পর্কে তোমার কী ধারণা, যাদের তৃতীয় জন হলেন আল্লাহ। [৩৬৫৩] (আ. প্র. ৪৩০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৩)
তিনি ছিলেন দু’জনের মধ্যে দ্বিতীয় জন, যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন যখন তিনি তার সাথীকে বললেন, চিন্তা কর না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। (সূরাহ বারাআত ৯/৪০)
أَيْ نَاصِرُنَا السَّكِيْنَةُ فَعِيْلَةٌ مِنْ السُّكُوْنِ.
مَعَنَا আল্লাহ আমাদের সাহায্যকারী فَعِيْلَةٌ السَّكِيْنَةُ-এর সম ওযনে سَكُوْن থেকে, অর্থ প্রশান্তি।
৪৬৬৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমার কাছে বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (সওর) গুহায় ছিলাম। তখন আমি মুশরিকদের পদচিহ্ন দেখতে পেয়ে [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে] বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি তাদের কেউ পা উঠায় তাহলে আমাদের দেখে ফেলবে। তখন তিনি বললেন, এমন দু’জন সম্পর্কে তোমার কী ধারণা, যাদের তৃতীয় জন হলেন আল্লাহ। [৩৬৫৩] (আ. প্র. ৪৩০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৩)
হাদিস নং: ৪৬৬৪
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا ابن عيينة عن ابن جريج عن ابن ابي مليكة عن ابن عباس رضي الله عنهما انه قال حين وقع بينه وبين ابن الزبير قلت ابوه الزبير وامه اسماء وخالته عاىشة وجده ابو بكر وجدته صفية فقلت لسفيان اسناده فقال حدثنا فشغله انسان ولم يقل ابن جريج
৪৬৬৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তার ও ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর মধ্যে (বাইআত নিয়ে) মতভেদ ঘটল, তখন আমি বললাম, তার পিতা যুবায়র, তার মাতা আসমা (রাঃ) ও তার খালা ’আয়িশাহ (রাঃ), তার নানা আবূ বকর (রাঃ) ও তার নানী সুফিয়া (রাঃ)। আমি সুফ্ইয়ানকে বললাম, এর সানাদ বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, حَدَّثَنَا এবং ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলার আগেই অন্য এক ব্যক্তি তাকে ব্যস্ত করে ফেললেন। [৪৬৬৫, ৪৬৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৪)
হাদিস নং: ৪৬৬৫
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد قال حدثني يحيى بن معين حدثنا حجاج قال ابن جريج قال ابن ابي مليكة وكان بينهما شيء فغدوت على ابن عباس فقلت اتريد ان تقاتل ابن الزبير فتحل حرم الله فقال معاذ الله ان الله كتب ابن الزبير وبني امية محلين واني والله لا احله ابدا قال قال الناس بايع لابن الزبير فقلت واين بهذا الامر عنه اما ابوه فحواري النبي صلى الله عليه وسلم يريد الزبير واما جده فصاحب الغار يريد ابا بكر وامه فذات النطاق يريد اسماء واما خالته فام المومنين يريد عاىشة واما عمته فزوج النبي صلى الله عليه وسلم يريد خديجة واما عمة النبي صلى الله عليه وسلم فجدته يريد صفية ثم عفيف في الاسلام قارى للقران والله ان وصلوني وصلوني من قريب وان ربوني ربوني اكفاء كرام فاثر التويتات والاسامات والحميدات يريد ابطنا من بني اسد بني تويت وبني اسامة وبني اسد ان ابن ابي العاص برز يمشي القدمية يعني عبد الملك بن مروان وانه لوى ذنبه يعني ابن الزبير.
৪৬৬৫. ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) ও ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর মধ্যে বাই’আত নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হল, তখন আমি ইবনু ’আব্বাসের কাছে গিয়ে বললাম, আপনি কি আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তা হালাল করে ইবনু যুবায়রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান? তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে পানাহ্ চাচ্ছি, এ কাজ তো ইবনু যুবায়র ও বানী ’উমাইয়াহর জন্যই আল্লাহ লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আল্লাহর কসম! কখনও তা আমি হালাল মনে করব না, (আবূ মুলাইকাহ বলেন) তখন লোকজন ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বলল, আপনি ইবনু যুবায়রের পক্ষে বাই’আত গ্রহণ করুন। তখন ইবনু ’আব্বাস বললেন, তাতে ক্ষতির কী আছে? তিনি এটার জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি। তাঁর পিতা যুবায়র তো নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহায্যকারী ছিলেন, তার নানা আবূ বকর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সওর গুহার সঙ্গী ছিলেন।
তার মা আসমা, যার উপাধি ছিল যাতুন নেতাক। তার খালা ’আয়িশাহ (রাঃ) উম্মুল মু’মিনীন ছিলেন, তার ফুফু খাদীজাহ (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ছিলেন, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফু সফীয়্যাহ ছিলেন তাঁর দাদী। এ ব্যতীত তিনি (ইবনু যুবায়র) তো ইসলামী জগতে নিষ্কলুষ ব্যক্তি ও কুরআনের ক্বারী। আল্লাহর কসম! যদি তারা (বানী ’উমাইয়াহ) আমার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখে তবে তারা আমার নিকটাত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখল। আর যদি তারা আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করে তবে তারা সমকক্ষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরই রক্ষণাবেক্ষণ করল। ইবনু যুবায়র, বানী আসাদ, বানী তুয়াইত, বানী উসামা-এসব গোত্রকে আমার চেয়ে নিকটতম করে নিয়েছেন। নিশ্চয়ই আবিল আস্-এর পুত্র অর্থাৎ ’আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান অহঙ্কারী চালচলন আরম্ভ করেছে। নিশ্চয়ই তিনি অর্থাৎ ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তার লেজ গুটিয়ে নিয়েছেন। [৪৬৬৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৫)
তার মা আসমা, যার উপাধি ছিল যাতুন নেতাক। তার খালা ’আয়িশাহ (রাঃ) উম্মুল মু’মিনীন ছিলেন, তার ফুফু খাদীজাহ (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ছিলেন, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফু সফীয়্যাহ ছিলেন তাঁর দাদী। এ ব্যতীত তিনি (ইবনু যুবায়র) তো ইসলামী জগতে নিষ্কলুষ ব্যক্তি ও কুরআনের ক্বারী। আল্লাহর কসম! যদি তারা (বানী ’উমাইয়াহ) আমার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখে তবে তারা আমার নিকটাত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখল। আর যদি তারা আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করে তবে তারা সমকক্ষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরই রক্ষণাবেক্ষণ করল। ইবনু যুবায়র, বানী আসাদ, বানী তুয়াইত, বানী উসামা-এসব গোত্রকে আমার চেয়ে নিকটতম করে নিয়েছেন। নিশ্চয়ই আবিল আস্-এর পুত্র অর্থাৎ ’আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান অহঙ্কারী চালচলন আরম্ভ করেছে। নিশ্চয়ই তিনি অর্থাৎ ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তার লেজ গুটিয়ে নিয়েছেন। [৪৬৬৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৫)
হাদিস নং: ৪৬৬৬
সহিহ (Sahih)
محمد بن عبيد بن ميمون حدثنا عيسى بن يونس عن عمر بن سعيد قال اخبرني ابن ابي مليكة دخلنا على ابن عباس فقال الا تعجبون لابن الزبير قام في امره هذا فقلت لاحاسبن نفسي له ما حاسبتها لابي بكر ولا لعمر ولهما كانا اولى بكل خير منه وقلت ابن عمة النبي صلى الله عليه وسلم وابن الزبير وابن ابي بكر وابن اخي خديجة وابن اخت عاىشة فاذا هو يتعلى عني ولا يريد ذلك فقلت ما كنت اظن اني اعرض هذا من نفسي فيدعه وما اراه يريد خيرا وان كان لا بد لان يربني بنو عمي احب الي من ان يربني غيرهم.
৪৬৬৬. ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.) বলেন, আমরা ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি ইবনু যুবায়রের বিষয়ে বিস্মিত হবে না? তিনি তো তার এ কাজে (খিলাফতের কাজে) দাঁড়িয়েছেন। [ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন] আমি বললাম, আমি অবশ্য মনে মনে তার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করি, কিন্তু আবূ বকর (রাঃ) কিংবা ’উমার (রাঃ)-এর ব্যাপারে এতটুকু চিন্তা-ভাবনা করিনি। সব দিক থেকে তাঁর চেয়ে তারা উভয়ে উত্তম ছিলেন। আমি বললাম, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফু সফীয়্যাহ (রাঃ)-এর সন্তান, যুবায়রের ছেলে, আবূ বকর (রাঃ)-এর নাতি। খাদীজাহ (রাঃ)-এর ভাতিজা, ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর বোন আসমার ছেলে। কিন্তু তিনি (নিজেকে বড় মনে করে) আমার থেকে দূরে সরে থাকেন এবং তিনি আমার সহযোগিতা কামনা করেন না। আমি বললাম, আমি নিজে থেকে এজন্য তা প্রকাশ করি না যে, হয়ত তিনি তা প্রত্যাখ্যান করবেন এবং আমি মনে করি না যে, তিনি এটা ভাল করছেন। কারণ অন্য কোন ব্যক্তি দেশের শাসক হওয়ার চেয়ে আমার চাচার ছেলে অর্থাৎ আমার আপনজন শাসক হওয়া আমার নিকট উত্তম। [৪৬৬৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৬)
হাদিস নং: ৪৬৬৭
সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير اخبرنا سفيان عن ابيه عن ابن ابي نعم عن ابي سعيد رضي الله عنه قال بعث الى النبي صلى الله عليه وسلم بشيء فقسمه بين اربعة وقال اتالفهم فقال رجل ما عدلت فقال يخرج من ضىضى هذا قوم يمرقون من الدين.
قَالَ مُجَاهِدٌ يَتَأَلَّفُهُمْ بِالْعَطِيَّةِ.
মুজাহিদ বলেছেন, তাদেরকে দানের মাধ্যমে আকৃষ্ট করতেন।
৪৬৬৭. আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু জিনিস প্রেরণ করা হল। এরপর তিনি সেগুলো চারজনের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আর বললেন, তাদেরকে (এর দ্বারা) আকৃষ্ট করছি। তখন এক ব্যক্তি বলল, আপনি সুবিচার করেননি। (এটা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন সব লোক জন্ম নেবে যারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে। [৩৩৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৭)
মুজাহিদ বলেছেন, তাদেরকে দানের মাধ্যমে আকৃষ্ট করতেন।
৪৬৬৭. আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু জিনিস প্রেরণ করা হল। এরপর তিনি সেগুলো চারজনের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আর বললেন, তাদেরকে (এর দ্বারা) আকৃষ্ট করছি। তখন এক ব্যক্তি বলল, আপনি সুবিচার করেননি। (এটা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন সব লোক জন্ম নেবে যারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে। [৩৩৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৭)
হাদিস নং: ৪৬৬৮
সহিহ (Sahih)
بشر بن خالد ابو محمد اخبرنا محمد بن جعفر عن شعبة عن سليمان عن ابي واىل عن ابي مسعود قال لما امرنا بالصدقة كنا نتحامل فجاء ابو عقيل بنصف صاع وجاء انسان باكثر منه فقال المنافقون ان الله لغني عن صدقة هذا وما فعل هذا الاخر الا رىاء فنزلت (الذين يلمزون المطوعين من المومنين في الصدقات والذين لا يجدون الا جهدهم) الاية
(الَّذِيْنَ يَلْمِزُوْنَ الْمُطَّوِّعِيْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ فِي الصَّدَقَاتِ)
মু’মিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদাকা দেয় এবং যারা নিজেদের পরিশ্রমলব্ধ বস্তু ব্যতীত ব্যয় করার কিছুই পায় না, তাদেরকে যারা দোষারোপ করে ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, আল্লাহ তাদের বিদ্রূপ করেন। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরাহ বারাআত ৯/৭৯)
يَلْمِزُوْنَ يَعِيْبُوْنَ (وَجُهْدَهُمْ) وَجَهْدَهُمْ طَاقَتَهُمْ.
يَلْمِزُوْنَ-তাদের পরিশ্রমে ত্রুটি ধরে, وَجُهْدَهُمْ -তাদের সাধ্যমত, وَجَهْدَهُمْ তাদের ক্ষমতা।
৪৬৬৮. আবূ মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমাদের সাদাকা দানের আদেশ দেয়া হল, তখন আমরা মজুরীর বিনিময়ে বোঝা বহন করতাম। একদিন আবূ ’আকীল (রাঃ) অর্ধ সা’ খেজুর (দান করার উদ্দেশে) নিয়ে আসলেন এবং অন্য এক ব্যক্তি (’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ) তার চেয়ে অধিক মালামাল নিয়ে উপস্থিত হলেন। মুনাফিকরা বলতে লাগল, আল্লাহ এ ব্যক্তির সাদাকার মুখাপেক্ষী নন। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি [’আবদুর রহমান ইবন ’আওফ (রাঃ)] শুধু মানুষ দেখানোর জন্য অধিক মালামাল দান করেছে। এ সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়- ’’মু’মিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদাকা দেয় এবং যারা নিজেদের পরিশ্রমলব্ধ বস্তু ব্যতীত ব্যয় করার কিছুই পায় না, তাদেরকে যারা দোষারোপ করে ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, আল্লাহ তাদের বিদ্রূপ করেন। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’’- (সূরাহ বারাআত ৯/৭৯)।[১৪১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৮)
মু’মিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদাকা দেয় এবং যারা নিজেদের পরিশ্রমলব্ধ বস্তু ব্যতীত ব্যয় করার কিছুই পায় না, তাদেরকে যারা দোষারোপ করে ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, আল্লাহ তাদের বিদ্রূপ করেন। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরাহ বারাআত ৯/৭৯)
يَلْمِزُوْنَ يَعِيْبُوْنَ (وَجُهْدَهُمْ) وَجَهْدَهُمْ طَاقَتَهُمْ.
يَلْمِزُوْنَ-তাদের পরিশ্রমে ত্রুটি ধরে, وَجُهْدَهُمْ -তাদের সাধ্যমত, وَجَهْدَهُمْ তাদের ক্ষমতা।
৪৬৬৮. আবূ মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমাদের সাদাকা দানের আদেশ দেয়া হল, তখন আমরা মজুরীর বিনিময়ে বোঝা বহন করতাম। একদিন আবূ ’আকীল (রাঃ) অর্ধ সা’ খেজুর (দান করার উদ্দেশে) নিয়ে আসলেন এবং অন্য এক ব্যক্তি (’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ) তার চেয়ে অধিক মালামাল নিয়ে উপস্থিত হলেন। মুনাফিকরা বলতে লাগল, আল্লাহ এ ব্যক্তির সাদাকার মুখাপেক্ষী নন। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি [’আবদুর রহমান ইবন ’আওফ (রাঃ)] শুধু মানুষ দেখানোর জন্য অধিক মালামাল দান করেছে। এ সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়- ’’মু’মিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাদাকা দেয় এবং যারা নিজেদের পরিশ্রমলব্ধ বস্তু ব্যতীত ব্যয় করার কিছুই পায় না, তাদেরকে যারা দোষারোপ করে ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, আল্লাহ তাদের বিদ্রূপ করেন। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’’- (সূরাহ বারাআত ৯/৭৯)।[১৪১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৮)
হাদিস নং: ৪৬৬৯
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم قال قلت لابي اسامة احدثكم زاىدة عن سليمان عن شقيق عن ابي مسعود الانصاري قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يامر بالصدقة فيحتال احدنا حتى يجيء بالمد وان لاحدهم اليوم ماىة الف كانه يعرض بنفسه.
৪৬৬৯. আবূ মাস’ঊদ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকা করার নির্দেশ দিলে আমাদের মধ্য হতে কেউ কেউ অত্যন্ত পরিশ্রম করে, (গম অথবা খেজুর ইত্যাদি) এক মুদ্দ আনতে পারত কিন্তু এখন আমাদের মধ্যে কারো কারো এক লাখ পরিমাণ (দিরহাম) রয়েছে। আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) যেন (এ কথা বলে) নিজের দিকে ইশারা করলেন। [১৪১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০৯)
হাদিস নং: ৪৬৭০
সহিহ (Sahih)
عبيد بن اسماعيل عن ابي اسامة عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال لما توفي عبد الله بن ابي جاء ابنه عبد الله بن عبد الله الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فساله ان يعطيه قميصه يكفن فيه اباه فاعطاه ثم ساله ان يصلي عليه فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم ليصلي عليه فقام عمر فاخذ بثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله تصلي عليه وقد نهاك ربك ان تصلي عليه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انما خيرني الله فقال (استغفر لهم او لا تستغفر لهم ان تستغفر لهم سبعين مرة) وسازيده على السبعين قال انه منافق قال فصلى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فانزل الله (ولا تصل علٓى احد منهم مات ابدا ولا تقم على قبره).
(اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِيْنَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللهُ لَهُمْ).
আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন অথবা নাই করেন (উভয়ই সমান)। যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা তো কুফরী করেছে আল্লাহর সঙ্গে এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গেও। আল্লাহ ফাসিক লোকদেরকে হিদায়াত দান করেন না। (সূরাহ বারাআত ৯/৮০)
৪৬৭০. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে আসলেন এবং তার পিতাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামাটি দিয়ে কাফন দেবার আবেদন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামা প্রদান করলেন, এরপর তিনি জানাযার সালাত আদায়ের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আবেদন জানালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাত পড়ানোর জন্য (বসা থেকে) উঠে দাঁড়ালেন, ইত্যবসরে ’উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড় টেনে ধরে আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তার জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ আপনার রব আপনাকে তার জন্য দু’আ করতে নিষেধ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা’আলা এ ব্যাপারে আমাকে (দু’আ) করা বা না করার সুযোগ দিয়েছেন। আর আল্লাহ তো ইরশাদ করেছেন, ’’তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর; যদি সত্তরবারও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর তবু আমি তাদের ক্ষমা করব না’’। সুতরাং আমি তার জন্য সত্তরবারের চেয়েও বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করব। ’উমার (রাঃ) বললেন, সে তো মুনাফিক, শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করলেন, এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। ’’তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে আপনি কক্ষনো তাদের জানাযার সালাত আদায় করবেন না এবং তাদের কবরের কাছেও দাঁড়াবেন না। [১২৬৯; মুসলিম ৪৪/২, হাঃ ২৪০০, আহমাদ ৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১০)
আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন অথবা নাই করেন (উভয়ই সমান)। যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা তো কুফরী করেছে আল্লাহর সঙ্গে এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গেও। আল্লাহ ফাসিক লোকদেরকে হিদায়াত দান করেন না। (সূরাহ বারাআত ৯/৮০)
৪৬৭০. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে আসলেন এবং তার পিতাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামাটি দিয়ে কাফন দেবার আবেদন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামা প্রদান করলেন, এরপর তিনি জানাযার সালাত আদায়ের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আবেদন জানালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাত পড়ানোর জন্য (বসা থেকে) উঠে দাঁড়ালেন, ইত্যবসরে ’উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড় টেনে ধরে আবেদন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তার জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ আপনার রব আপনাকে তার জন্য দু’আ করতে নিষেধ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা’আলা এ ব্যাপারে আমাকে (দু’আ) করা বা না করার সুযোগ দিয়েছেন। আর আল্লাহ তো ইরশাদ করেছেন, ’’তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর; যদি সত্তরবারও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর তবু আমি তাদের ক্ষমা করব না’’। সুতরাং আমি তার জন্য সত্তরবারের চেয়েও বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করব। ’উমার (রাঃ) বললেন, সে তো মুনাফিক, শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করলেন, এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। ’’তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে আপনি কক্ষনো তাদের জানাযার সালাত আদায় করবেন না এবং তাদের কবরের কাছেও দাঁড়াবেন না। [১২৬৯; মুসলিম ৪৪/২, হাঃ ২৪০০, আহমাদ ৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১০)
হাদিস নং: ৪৬৭১
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل و قال غيره حدثني الليث حدثني عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه انه قال لما مات عبد الله بن ابي ابن سلول دعي له رسول الله صلى الله عليه وسلم ليصلي عليه فلما قام رسول الله صلى الله عليه وسلم وثبت اليه فقلت يا رسول الله اتصلي على ابن ابي وقد قال يوم كذا كذا وكذا قال اعدد عليه قوله فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال اخر عني يا عمر فلما اكثرت عليه قال اني خيرت فاخترت لو اعلم اني ان زدت على السبعين يغفر له لزدت عليها قال فصلى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم انصرف فلم يمكث الا يسيرا حتى نزلت الايتان من براءة(ولا تصل على احد منهم مات ابد)ا الى قوله(وهم فاسقون) قال فعجبت بعد من جراتي على رسول الله صلى الله عليه وسلم والله ورسوله اعلم
৪৬৭১. ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল মারা গেল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার জানাযাহর সালাত আদায়ের জন্য আহবান করা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (জানাযার জন্য) উঠে দাঁড়ালেন, আমি তাঁর কাছে গিয়ে আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ইবনু উবাই-এর জানাযার সালাত পড়াবেন? অথচ সে লোক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছে। ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আমি তার কথাগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এক একটি করে উল্লেখ করছিলাম।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিয়ে আমাকে বললেন, হে ’উমার! আমাকে যেতে দাও। আমি বারবার বলাতে তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে করা বা না করার অবকাশ দিয়েছেন। আমি তা গ্রহণ করেছি। আমি যদি জানতে পারি যে, সত্তরবারের চেয়েও বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে আল্লাহ তা’আলা ক্ষমা করে দেবেন, তবে আমি সত্তরবারের অধিক ক্ষমা প্রার্থনা করব। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করলেন এবং (জানাযাহ) থেকে ফিরে আসার পরই সূরাহ বারাআতের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়, ’’তাদের কেউ মারা গেলে কখনও তার জানাযাহর সালাত আদায় করবে না। এরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অবিশ্বাস করেছে এবং ফাসিক অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। (সূরাহ বারাআত ৯/৮৪)
’উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে আমার এ দুঃসাহসের জন্য পরে আমি আশ্চর্য হতাম। বস্তুতঃ আল্লাহ ও তার রাসূল অধিক জ্ঞাত। [১৩৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১১)
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিয়ে আমাকে বললেন, হে ’উমার! আমাকে যেতে দাও। আমি বারবার বলাতে তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে করা বা না করার অবকাশ দিয়েছেন। আমি তা গ্রহণ করেছি। আমি যদি জানতে পারি যে, সত্তরবারের চেয়েও বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে আল্লাহ তা’আলা ক্ষমা করে দেবেন, তবে আমি সত্তরবারের অধিক ক্ষমা প্রার্থনা করব। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করলেন এবং (জানাযাহ) থেকে ফিরে আসার পরই সূরাহ বারাআতের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়, ’’তাদের কেউ মারা গেলে কখনও তার জানাযাহর সালাত আদায় করবে না। এরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অবিশ্বাস করেছে এবং ফাসিক অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। (সূরাহ বারাআত ৯/৮৪)
’উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে আমার এ দুঃসাহসের জন্য পরে আমি আশ্চর্য হতাম। বস্তুতঃ আল্লাহ ও তার রাসূল অধিক জ্ঞাত। [১৩৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১১)
হাদিস নং: ৪৬৭২
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر حدثنا انس بن عياض عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما انه قال لما توفي عبد الله بن ابي جاء ابنه عبد الله بن عبد الله الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعطاه قميصه وامره ان يكفنه فيه ثم قام يصلي عليه فاخذ عمر بن الخطاب بثوبه فقال تصلي عليه وهو منافق وقد نهاك الله ان تستغفر لهم قال انما خيرني الله او اخبرني الله فقال (استغفر لهم او لا تستغفر لهم ان تستغفر لهم سبعين مرة فلن يغفر الله) فقال سازيده على سبعين قال فصلى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وصلينا معه ثم انزل الله عليه (ولا تصل علٓى احد منهم مات ابدا ولا تقم على قبرهانهم كفروا بالله ورسوله وماتوا وهم فاسقون).
৪৬৭২. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (মুনাফিক) ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আবদুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার নিজ জামাটি তাকে দিয়ে দিলেন এবং এর দ্বারা তার পিতার কাফনের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায়ের জন্য উঠে দাঁড়ালেন। তখন ’উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড় ধরে নিবেদন করলেন, [হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আপনি কি তার (’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই)-এর জানাযাহর সালাত আদায় করবেন? সে তো মুনাফিক, অথচ আল্লাহ তা’আলা তাদের (মুনাফিকদের) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে আপনাকে নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (হে ’উমার!) আল্লাহ আমাকে করা বা না করার অবকাশ দিয়েছেন, অথবা বলেছেন, আল্লাহ আমাকে অবহিত করেছেন এবং বলেছেন, ’’আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন অথবা নাই করেন (উভয়ই সমান)। যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না।’’ (সূরাহ বারাআত ৯/৮০)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি সত্তরবারের চেয়েও অধিকবার ক্ষমা প্রার্থনা করব। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযাহর সালাত আদায় করলেন। আমরাও তার সঙ্গে জানাযাহর সালাত আদায় করলাম। এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হল, ’’তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে আপনি তার জানাযাহর সালাত কখনও আদায় করবেন না এবং তার কবরের পার্শ্বে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহ ও তার রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং ফাসিক অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করেছে’’- (সূরাহ বারাআত ৯/৮৪)।[১২৬৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১২)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি সত্তরবারের চেয়েও অধিকবার ক্ষমা প্রার্থনা করব। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযাহর সালাত আদায় করলেন। আমরাও তার সঙ্গে জানাযাহর সালাত আদায় করলাম। এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হল, ’’তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে আপনি তার জানাযাহর সালাত কখনও আদায় করবেন না এবং তার কবরের পার্শ্বে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহ ও তার রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং ফাসিক অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করেছে’’- (সূরাহ বারাআত ৯/৮৪)।[১২৬৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১২)
হাদিস নং: ৪৬৭৩
সহিহ (Sahih)
يحيى حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عبد الرحمن بن عبد الله ان عبد الله بن كعب بن مالك قال سمعت كعب بن مالك حين تخلف عن تبوك والله ما انعم الله علي من نعمة بعد اذ هداني اعظم من صدقي رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لا اكون كذبته فاهلك كما هلك الذين كذبوا حين انزل الوحي (سيحلفون بالله لكم اذا انقلبتم اليهم) الى قوله (الفاسقين).
(سَيَحْلِفُوْنَ بِاللهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوْا عَنْهُمْ طفَأَعْرِضُوْا عَنْهُمْ جإِنَّهُمْ رِجْسٌ زوَّمَأْوٰﯨهُمْ جَهَنَّمُ ججَزَآءًم بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ).
যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন তারা তোমাদের সামনে আল্লাহর নামে কসম করবে যাতে তোমরা তাদেরকে তাদের অবস্থার উপর ছেড়ে দাও; সুতরাং তোমরা তাদের থেকে বিরত থাক। তারা তো অপবিত্র। আর তাদের বাসস্থান হল জাহান্নাম। (সূরাহ বারাআত ৯/৯৫)
৪৬৭৩. ’আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব ইবনু মালিক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি যখন তাবূকের যুদ্ধে পিছনে রয়ে গেলেন, আল্লাহর কসম! তখন আল্লাহ আমাকে এমন এক নিয়ামত দান করেন যে মুসলিম হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এত বড় নিয়ামত পাইনি। তা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সত্য কথা প্রকাশ করা। আমি তাঁর কাছে মিথ্যা বলিনি। যদি মিথ্যা বলতাম, তবে অন্যান্য (মুনাফিক ও) মিথ্যাচারী যেভাবে ধ্বংস হয়েছে, আমিও সেভাবে ধ্বংস হয়ে যেতাম। যে সময় ওয়াহী অবতীর্ণ হল- ’’তারা তোমাদের সামনে কসম করবে যাতে তোমরা তাদের প্রতি রাজি হও। যদি তোমরা তাদের প্রতি রাজি হয়ে যাও তবুও আল্লাহ এসব ফাসিক লোকদের প্রতি রাজি হবেন না’’- (সূরাহ বারাআত ৯/৯৬)।[২৭৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৩)
যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন তারা তোমাদের সামনে আল্লাহর নামে কসম করবে যাতে তোমরা তাদেরকে তাদের অবস্থার উপর ছেড়ে দাও; সুতরাং তোমরা তাদের থেকে বিরত থাক। তারা তো অপবিত্র। আর তাদের বাসস্থান হল জাহান্নাম। (সূরাহ বারাআত ৯/৯৫)
৪৬৭৩. ’আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব ইবনু মালিক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি যখন তাবূকের যুদ্ধে পিছনে রয়ে গেলেন, আল্লাহর কসম! তখন আল্লাহ আমাকে এমন এক নিয়ামত দান করেন যে মুসলিম হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এত বড় নিয়ামত পাইনি। তা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সত্য কথা প্রকাশ করা। আমি তাঁর কাছে মিথ্যা বলিনি। যদি মিথ্যা বলতাম, তবে অন্যান্য (মুনাফিক ও) মিথ্যাচারী যেভাবে ধ্বংস হয়েছে, আমিও সেভাবে ধ্বংস হয়ে যেতাম। যে সময় ওয়াহী অবতীর্ণ হল- ’’তারা তোমাদের সামনে কসম করবে যাতে তোমরা তাদের প্রতি রাজি হও। যদি তোমরা তাদের প্রতি রাজি হয়ে যাও তবুও আল্লাহ এসব ফাসিক লোকদের প্রতি রাজি হবেন না’’- (সূরাহ বারাআত ৯/৯৬)।[২৭৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৩)
হাদিস নং: ৪৬৭৪
সহিহ (Sahih)
مومل هو ابن هشام حدثنا اسماعيل بن ابراهيم حدثنا عوف حدثنا ابو رجاء حدثنا سمرة بن جندب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لنا اتاني الليلة اتيان فابتعثاني فانتهينا الى مدينة مبنية بلبن ذهب ولبن فضة فتلقانا رجال شطر من خلقهم كاحسن ما انت راء وشطر كاقبح ما انت راء قالا لهم اذهبوا فقعوا في ذلك النهر فوقعوا فيه ثم رجعوا الينا قد ذهب ذلك السوء عنهم فصاروا في احسن صورة قالا لي هذه جنة عدن وهذاك منزلك قالا اما القوم الذين كانوا شطر منهم حسن وشطر منهم قبيح فانهم خلطوا عملا صالحا واخر سيىا تجاوز الله عنهم
৬৫৯/১৫. بَاب قَوْلِهِ : (يَحْلِفُوْنَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ جفَإِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللهَ لَا يَرْضٰى عَنِ الْقَوْمِ الْفٰسِقِيْنَ)
৬৫/৯/১৫. অধ্যায়: আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ তারা তোমাদের সামনে কসম করবে যাতে তোমরা তাদের প্রতি রাজি হও। যদি তোমরা তাদের প্রতি রাজি হয়ে যাও তবুও আল্লাহ এসব ফাসিক লোকদের প্রতি রাজি হবেন না। (সূরাহ বারাআত ৯/৯৬)
(وَاٰخَرُوْنَ اعْتَرَفُوْا بِذُنُوْبِهِمْ خَلَطُوْا عَمَلًا صَالِحًا وَّاٰخَرَ سَيِّئًا طعَسَى اللهُ أَنْ يَّتُوْبَ عَلَيْهِمْ طإِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ).
আরও কিছু লোক আছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা এক নেক কাজের সঙ্গে অন্য বদ-কাজ মিশ্রিত করেছে। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরাহ বারাআত ১০২)
৪৬৭৪. সামূরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন, রাতে দু’জন মালাক এসে আমাকে নিদ্রা থেকে জাগ্রত করলেন। এরপর আমরা এমন এক শহরে পৌঁছলাম, যা স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইট দ্বারা নির্মিত। সেখানে এমন কিছু সংখ্যক লোকের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ ঘটল, যাদের শরীরের অর্ধেক খুবই সুশ্রী যা তোমরা কখনও দেখনি এবং আর এক অর্ধেক এত কুৎসিত যা তোমরা কখনও দেখনি। মালাক দু’জন তাদেরকে বললেন, তোমরা ঐ নহরে গিয়ে ডুব দাও। তারা সেখানে গিয়ে ডুব দিয়ে আমাদের নিকট ফিরে আসল। তখন তাদের বিশ্রী চেহারা সম্পূর্ণ দূর হয়ে গেল এবং তারা সুশ্রী চেহারা লাভ করল। মালাকদ্বয় আমাকে বললেন, এটা হল ’জান্নাতে আদন’ এটাই হল আপনার আসল ঠিকানা। মালাকদ্বয় বললেন, (আপনি) যেসব লোকের দেহের অর্ধেক সুশ্রী এবং অর্ধেক বিশ্রী (দেখেছেন), তারা ঐ সকল লোক যারা দুনিয়াতে সৎকর্মের সঙ্গে অসৎকর্ম মিশিয়ে ফেলেছে। আল্লাহ তা’আলা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। [৮৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৪)
৬৫/৯/১৫. অধ্যায়: আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ তারা তোমাদের সামনে কসম করবে যাতে তোমরা তাদের প্রতি রাজি হও। যদি তোমরা তাদের প্রতি রাজি হয়ে যাও তবুও আল্লাহ এসব ফাসিক লোকদের প্রতি রাজি হবেন না। (সূরাহ বারাআত ৯/৯৬)
(وَاٰخَرُوْنَ اعْتَرَفُوْا بِذُنُوْبِهِمْ خَلَطُوْا عَمَلًا صَالِحًا وَّاٰخَرَ سَيِّئًا طعَسَى اللهُ أَنْ يَّتُوْبَ عَلَيْهِمْ طإِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ).
আরও কিছু লোক আছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা এক নেক কাজের সঙ্গে অন্য বদ-কাজ মিশ্রিত করেছে। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরাহ বারাআত ১০২)
৪৬৭৪. সামূরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন, রাতে দু’জন মালাক এসে আমাকে নিদ্রা থেকে জাগ্রত করলেন। এরপর আমরা এমন এক শহরে পৌঁছলাম, যা স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইট দ্বারা নির্মিত। সেখানে এমন কিছু সংখ্যক লোকের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ ঘটল, যাদের শরীরের অর্ধেক খুবই সুশ্রী যা তোমরা কখনও দেখনি এবং আর এক অর্ধেক এত কুৎসিত যা তোমরা কখনও দেখনি। মালাক দু’জন তাদেরকে বললেন, তোমরা ঐ নহরে গিয়ে ডুব দাও। তারা সেখানে গিয়ে ডুব দিয়ে আমাদের নিকট ফিরে আসল। তখন তাদের বিশ্রী চেহারা সম্পূর্ণ দূর হয়ে গেল এবং তারা সুশ্রী চেহারা লাভ করল। মালাকদ্বয় আমাকে বললেন, এটা হল ’জান্নাতে আদন’ এটাই হল আপনার আসল ঠিকানা। মালাকদ্বয় বললেন, (আপনি) যেসব লোকের দেহের অর্ধেক সুশ্রী এবং অর্ধেক বিশ্রী (দেখেছেন), তারা ঐ সকল লোক যারা দুনিয়াতে সৎকর্মের সঙ্গে অসৎকর্ম মিশিয়ে ফেলেছে। আল্লাহ তা’আলা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। [৮৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৪)
হাদিস নং: ৪৬৭৫
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن ابيه قال لما حضرت ابا طالب الوفاة دخل عليه النبي صلى الله عليه وسلم وعنده ابو جهل وعبد الله بن ابي امية فقال النبي صلى الله عليه وسلم اي عم قل لا اله الا الله احاج لك بها عند الله فقال ابو جهل وعبد الله بن ابي امية يا ابا طالب اترغب عن ملة عبد المطلب فقال النبي صلى الله عليه وسلم لاستغفرن لك ما لم انه عنك فنزلت (ما كان للنبي والذين امنوا ان يستغفروا للمشركين ولو كانوا اولي قربى من بعد ما تبين لهم انهم اصحاب الجحيم).
৪৬৭৫. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) তাঁর পিতা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবূ তালিবের মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে গেলেন। এ সময় আবূ জাহল এবং ’আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়াহ্ও সেখানে বসা ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচা! আপনি পড়ুন ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। আপনার মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট এটা দলীল হিসেবে পেশ করব। এ কথা শুনে আবূ জাহল ও ’আবদুল্লাহ ইবনু উমাইয়াহ বলল, হে আবূ তালিব! তুমি কি ’আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করে দিবে? নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচা! আমি আপনার জন্য আল্লাহর তরফ থেকে যতক্ষণ আমাকে নিষেধ না করা হবে ততক্ষণ ক্ষমা চাইতে থাকব। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়- ’’নবী ও মুমিনদের পক্ষে উচিত নয় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুশরিকদের জন্য যদি তারা নিকটাত্মীয়ও হয় যখন তাদের কাছে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী।’’ (সূরাহ বারাআত ৯/১১৩) [১৩৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৫)
হাদিস নং: ৪৬৭৬
সহিহ (Sahih)
احمد بن صالح قال حدثني ابن وهب قال اخبرني يونس ح قال احمد وحدثنا عنبسة حدثنا يونس عن ابن شهاب قال اخبرني عبد الرحمن بن كعب بن مالك قال اخبرني عبد الله بن كعب وكان قاىد كعب من بنيه حين عمي قال سمعت كعب بن مالك في حديثه وعلى الثلاثة الذين خلفوا قال في اخر حديثه ان من توبتي ان انخلع من مالي صدقة الى الله والى رسوله فقال النبي صلى الله عليه وسلم امسك بعض مالك فهو خير لك
৪৬৭৬. ’আবদুর রহমান ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। কা’ব (রাঃ) যখন অন্ধ হয়ে পড়লেন, তখন তার ছেলেদের মধ্যে যার সাহায্যে তিনি চলাফেরা করতেন, সেই ’আবদুল্লাহ বিন কা’ব বলেন, আমি (আমার পিতা) কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)-এর কাছে وَعَلَى الثَلَاثَةِ এ আয়াত- সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি তার ঘটনা বর্ণনার সর্বশেষে বলতেন, আমি আমার তওবা কবূল হওয়ার খুশীতে আমার সকল মাল আল্লাহ ও তার রাসূলের পথে দান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিছু মাল নিজের জন্য রেখে দাও। এটাই তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। [২৭৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৬)
হাদিস নং: ৪৬৭৭
সহিহ (Sahih)
محمد حدثنا احمد ابن ابي شعيب حدثنا موسى بن اعين حدثنا اسحاق بن راشد ان الزهري حدثه قال اخبرني عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب بن مالك عن ابيه قال سمعت ابي كعب بن مالك وهو احد الثلاثة الذين تيب عليهم انه لم يتخلف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة غزاها قط غير غزوتين غزوة العسرة وغزوة بدر قال فاجمعت صدقي رسول الله صلى الله عليه وسلم ضحى وكان قلما يقدم من سفر سافره الا ضحى وكان يبدا بالمسجد فيركع ركعتين ونهى النبي صلى الله عليه وسلم عن كلامي وكلام صاحبي ولم ينه عن كلام احد من المتخلفين غيرنا فاجتنب الناس كلامنا فلبثت كذلك حتى طال علي الامر وما من شيء اهم الي من ان اموت فلا يصلي علي النبي صلى الله عليه وسلم او يموت رسول الله صلى الله عليه وسلم فاكون من الناس بتلك المنزلة فلا يكلمني احد منهم ولا يصلي ولا يسلم علي فانزل الله توبتنا على نبيه صلى الله عليه وسلم حين بقي الثلث الاخر من الليل ورسول الله صلى الله عليه وسلم عند ام سلمة وكانت ام سلمة محسنة في شاني معنية في امري فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا ام سلمة تيب على كعب قالت افلا ارسل اليه فابشره قال اذا يحطمكم الناس فيمنعونكم النوم ساىر الليلة حتى اذا صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الفجر اذن بتوبة الله علينا وكان اذا استبشر استنار وجهه حتى كانه قطعة من القمر وكنا ايها الثلاثة الذين خلفوا عن الامر الذي قبل من هولاء الذين اعتذروا حين انزل الله لنا التوبة فلما ذكر الذين كذبوا رسول الله صلى الله عليه وسلم من المتخلفين واعتذروا بالباطل ذكروا بشر ما ذكر به احد قال الله سبحانه (يعتذرون اليكم اذا رجعتم اليهم طقل لا تعتذروا لن نومن لكم قد نبانا الله من اخباركم طوسيرى الله عملكم ورسوله”) الاية.
৪৬৭৭. ’আবদুর রহমান ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব ইবনু মালিক (রহ.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে শুনেছি, যে তিনজনের তওবা কবূল হয়েছিল, তার মধ্যে তিনি একজন। তিনি বদরের যুদ্ধ ও তাবূকের যুদ্ধ এ দু’টি ব্যতীত অন্য কোন যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থেকে পশ্চাতে থাকেননি। কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূক যুদ্ধ হতে সূর্যোদয়ের সময় মদিনা্য় ফিরে আসলে আমি (মিথ্যার পরিবর্তে) সত্য প্রকাশের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করলাম। তিনি [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যে কোন সফর হতে সাধারণত সূর্যোদয়ের সময় ফিরে আসতেন এবং সর্বপ্রথম মসজিদে গিয়ে দু’রাক’আত নফল সালাত আদায় করতেন। (তাবূকের যুদ্ধ থেকে এসে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সঙ্গে এবং আমার সঙ্গীদের সঙ্গে কথা বলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন, অথচ আমাদের ব্যতীত অন্য যারা যুদ্ধে যাওয়া থেকে বিরত ছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলায় কোন প্রকার বাধা প্রদান করলেন না।
সুতরাং লোকেরা আমাদের সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে লাগলেন। আমার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল যে, যদি এ অবস্থায় আমার মৃত্যু এসে যায়, আর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জানাযাহর সালাত আদায় না করেন, অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হলে আমি মানুষের কাছে এই অবস্থায় থেকে যাব তারা কেউ আমার সঙ্গে কথাও বলবে না, আর আমার জানাযার সালাতও আদায় করবে না। এরপর (পঞ্চাশ দিন পর) আল্লাহ তা’আলা আমার তওবা কবূল করে তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর] প্রতি আয়াত অবতীর্ণ করেন। তখন রাতের শেষ-তৃতীয়াংশ বাকী ছিল।
সে রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর কাছে ছিলেন, উম্মু সালামাহ (রাঃ) আমার প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উম্মু সালামাহ! কা’বের তওবা কবূল করা হয়েছে। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, তাকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য কাউকে তার কাছে পাঠাব? নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখন খবর পেলে সব লোক এসে জমা হয়ে যাবে। তারা তোমাদের ঘুম নষ্ট করে দিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায়ের পর আমাদের তওবা কবূল হওয়ার কথা ঘোষণা করে দিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা খুশীতে এমন চমকাচ্ছিল যেন চাঁদের টুকরা।
যেসব মুনাফিক মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসন্তুষ্টি থেকে] রেহাই পেয়েছিল, তাদের চেয়ে তওবা কবূলের ব্যাপারে আমরা তিনজন পিছনে পড়ে গিয়েছিলাম, এরপর আল্লাহ তা’আলা আমাদের তওবা কবূল করে আয়াত অবতীর্ণ করেন।
(তাবূকের যুদ্ধে) অনুপস্থিতদের মধ্যে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে এবং যারা মিথ্যা অজুহাত দেখিয়েছে তাদের জঘন্যভাবে নিন্দাবাদ করা হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ’’তারা তোমাদের কাছে ওযর পেশ করবে যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসবে। আপনি বলে দিনঃ তোমরা ওযর পেশ করো না, আমরা কখনও তোমাদের বিশ্বাস করব না; আল্লাহ তো আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন তোমাদের খবর; আর ভবিষ্যতেও আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য রাখবেন এবং তাঁর রাসূলও’’- (সূরাহ বারাআত ৯/৯৪)।[২৭৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৭)
সুতরাং লোকেরা আমাদের সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে লাগলেন। আমার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল যে, যদি এ অবস্থায় আমার মৃত্যু এসে যায়, আর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জানাযাহর সালাত আদায় না করেন, অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হলে আমি মানুষের কাছে এই অবস্থায় থেকে যাব তারা কেউ আমার সঙ্গে কথাও বলবে না, আর আমার জানাযার সালাতও আদায় করবে না। এরপর (পঞ্চাশ দিন পর) আল্লাহ তা’আলা আমার তওবা কবূল করে তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর] প্রতি আয়াত অবতীর্ণ করেন। তখন রাতের শেষ-তৃতীয়াংশ বাকী ছিল।
সে রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর কাছে ছিলেন, উম্মু সালামাহ (রাঃ) আমার প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উম্মু সালামাহ! কা’বের তওবা কবূল করা হয়েছে। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, তাকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য কাউকে তার কাছে পাঠাব? নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখন খবর পেলে সব লোক এসে জমা হয়ে যাবে। তারা তোমাদের ঘুম নষ্ট করে দিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায়ের পর আমাদের তওবা কবূল হওয়ার কথা ঘোষণা করে দিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা খুশীতে এমন চমকাচ্ছিল যেন চাঁদের টুকরা।
যেসব মুনাফিক মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসন্তুষ্টি থেকে] রেহাই পেয়েছিল, তাদের চেয়ে তওবা কবূলের ব্যাপারে আমরা তিনজন পিছনে পড়ে গিয়েছিলাম, এরপর আল্লাহ তা’আলা আমাদের তওবা কবূল করে আয়াত অবতীর্ণ করেন।
(তাবূকের যুদ্ধে) অনুপস্থিতদের মধ্যে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে এবং যারা মিথ্যা অজুহাত দেখিয়েছে তাদের জঘন্যভাবে নিন্দাবাদ করা হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ’’তারা তোমাদের কাছে ওযর পেশ করবে যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসবে। আপনি বলে দিনঃ তোমরা ওযর পেশ করো না, আমরা কখনও তোমাদের বিশ্বাস করব না; আল্লাহ তো আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন তোমাদের খবর; আর ভবিষ্যতেও আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য রাখবেন এবং তাঁর রাসূলও’’- (সূরাহ বারাআত ৯/৯৪)।[২৭৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৭)