অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৬/১. ওয়াহী কীভাবে অবতীর্ণ হয় এবং সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছিল।
মোট ৮৫ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫০৪৩
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا مهدي بن ميمون حدثنا واصل عن ابي واىل عن عبد الله قال غدونا على عبد الله فقال رجل قرات المفصل البارحة فقال هذا كهذ الشعر انا قد سمعنا القراءة واني لاحفظ القرناء التي كان يقرا بهن النبي صلى الله عليه وسلم ثماني عشرة سورة من المفصل وسورتين من ال حم
وَقَوْلِهِ تَعَالَى (وَرَتِّلِ الْقُرْاٰنَ تَرْتِيْلًا)وَقَوْلِهِ (وَقُرْاٰنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَه” عَلَى النَّاسِ عَلٰى مُكْثٍ) وَمَا يُكْرَهُ أَنْ يُهَذَّ كَهَذِّ الشِّعْرِ فِيْهَا يُفْرَقُ يُفَصَّلُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (فَرَقْنَاه”) فَصَّلْنَاهُ.
এ সম্পর্কে আল্লাহর বাণীঃ কুরআন তিলাওয়াত কর ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে। আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি তা মানুষের নিকট পাঠ করতে পার ক্রমে ক্রমে। কবিতা পাঠের মতো দ্রুতগতিতে কুরআন পাঠ করা অপছন্দনীয়। আল্লাহর বাণী فِيْهَايُفْرَقُ ’তাতে পৃথক করা হয়’ এর অর্থ স্পষ্ট করা হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর বাণী فَرَقْنَاهُ ’আমরা পৃথক করেছি’ এর অর্থ আমরা স্পষ্ট করেছি।
৫০৪৩. আবূ ওয়ায়িল (রহ.) সূত্রে ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ ওয়ায়িল (রহ.) বলেন, আমরা একদিন সকালে ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। একজন লোক বলল, গতকাল রাতে আমি মুফাস্সাল সূরাসমূহ পাঠ করেছি। এ কথা শুনে ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেন, এত শীঘ্র পাঠ করা যেন কবিতা পাঠের মতো; অথচ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাঠ শুনেছি এবং তা আমার ভালভাবে মনে আছে। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে সমস্ত সূরাহ পাঠ করতে আমি শুনেছি, তার সংখ্যা মুফাস্সাল হতে আঠারটি এবং ’আলিফ-লাম হামিম’ হতে দু’টি। [৭৭৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৭৪)
এ সম্পর্কে আল্লাহর বাণীঃ কুরআন তিলাওয়াত কর ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে। আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি তা মানুষের নিকট পাঠ করতে পার ক্রমে ক্রমে। কবিতা পাঠের মতো দ্রুতগতিতে কুরআন পাঠ করা অপছন্দনীয়। আল্লাহর বাণী فِيْهَايُفْرَقُ ’তাতে পৃথক করা হয়’ এর অর্থ স্পষ্ট করা হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর বাণী فَرَقْنَاهُ ’আমরা পৃথক করেছি’ এর অর্থ আমরা স্পষ্ট করেছি।
৫০৪৩. আবূ ওয়ায়িল (রহ.) সূত্রে ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ ওয়ায়িল (রহ.) বলেন, আমরা একদিন সকালে ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। একজন লোক বলল, গতকাল রাতে আমি মুফাস্সাল সূরাসমূহ পাঠ করেছি। এ কথা শুনে ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেন, এত শীঘ্র পাঠ করা যেন কবিতা পাঠের মতো; অথচ আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাঠ শুনেছি এবং তা আমার ভালভাবে মনে আছে। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে সমস্ত সূরাহ পাঠ করতে আমি শুনেছি, তার সংখ্যা মুফাস্সাল হতে আঠারটি এবং ’আলিফ-লাম হামিম’ হতে দু’টি। [৭৭৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৭৪)
হাদিস নং: ৫০৪৪
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا جرير عن موسى بن ابي عاىشة عن سعيد بن جبير عن ابن عباس في قوله (لا تحرك به لسانك لتعجل به) قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا نزل جبريل بالوحي وكان مما يحرك به لسانه وشفتيه فيشتد عليه وكان يعرف منه فانزل الله الاية التي في (لآ اقسم بيوم القيامة)(لا تحرك به لسانك لتعجل بهان علينا جمعه فان علينا ان نجمعه في صدرك وقرانه فاذا قراناه فاتبع قرانه فاذا انزلناه فاستمع ثم ان علينا بيانه) قال ان علينا ان نبينه بلسانك قال وكان اذا اتاه جبريل اطرق فاذا ذهب قراه كما وعده الله.
৫০৪৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ ’’হে নবী! আপনার জিহবাকে তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য নাড়াবেন না।’’ আল্লাহর এই কালাম সম্পর্কে তিনি বলেন, যখনই জিব্রীল (আঃ) ওয়াহী নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসতেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব তাড়াতাড়ি জিহবা এবং ঠোঁট নাড়াতেন এবং এটা তার জন্য খুব কঠিন হত। আর এ অবস্থা সহজেই অন্যজনে আঁচ করতে পারত। এ অবস্থার প্রেক্ষাপটে আল্লাহ্ তা’আলা সূরাহ ক্বিয়ামাহ এর এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ’’হে নবী! তাড়াতাড়ি ওয়াহী মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়াবেন না। এ মুখস্থ করিয়ে দেয়া ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই। যখন আমি তা পাঠ করতে থাকি, তখন আপনি সে পাঠকে মনোযোগ সহকারে শুনতে থাকুন। পরে এর অর্থ বুঝিয়ে দেয়াও আমার দায়িত্ব।’’ সুতরাং যখন জিব্রীল (আঃ) পাঠ করেন আপনি তার অনুসরণ করুন। এরপর থেকে যখন জিবরীল (আঃ) বলে যেতেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকতেন। যখন তিনি চলে যেতেন, আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী তিনি তা পাঠ করতেন। [৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৭৫)
হাদিস নং: ৫০৪৫
সহিহ (Sahih)
مسلم بن ابراهيم حدثنا جرير بن حازم الازدي حدثنا قتادة قال سالت انس بن مالك عن قراءة النبي صلى الله عليه وسلم فقال كان يمد مدا.
৫০৪৫. ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ’কিরাআত’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কোন কোন ক্ষেত্রে শব্দকে) দীর্ঘায়িত করে পাঠ করতেন। [৫০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৭৬)
হাদিস নং: ৫০৪৬
সহিহ (Sahih)
عمرو بن عاصم حدثنا همام عن قتادة قال سىل انس كيف كانت قراءة النبي صلى الله عليه وسلم فقال كانت مدا ثم قرا بسم الله الرحمن الرحيم يمد ببسم الله ويمد بالرحمن ويمد بالرحيم.
৫০৪৬. ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ’কিরাআত’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ’কিরাআত’ কেমন ছিল? উত্তরে তিনি বললেন, কোন কোন ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ করতেন। এরপর তিনি ’বিস্মিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’ তিলাওয়াত করে শোনালেন এবং তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’বিস্মিল্লাহ্’’ ’আর রহমান’, ’আর রহীম’ পড়ার সময় দীর্ঘায়িত করতেন। [৫০৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৭৭)
হাদিস নং: ৫০৪৭
সহিহ (Sahih)
ادم بن ابي اياس حدثنا شعبة حدثنا ابو اياس قال سمعت عبد الله بن مغفل قال رايت النبي صلى الله عليه وسلم يقرا وهو على ناقته او جمله وهي تسير به وهو يقرا سورة الفتح او من سورة الفتح قراءة لينة يقرا وهو يرجع.
৫০৪৭. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম উষ্ট্রির পিঠে অথবা উটের পিঠে আরোহিত অবস্থায় যখন উষ্ট্রটি চলছিল, তখন আমি তিলাওয়াত করতে দেখেছি। তিনি ’সূরাহ ফাত্হ’ বা ’সূরাহ ফাত্হ’র অংশ বিশেষ অত্যন্ত নরম এবং মধুর ছন্দোময় সুরে পাঠ করছিলেন। [৪২৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৭৮)
হাদিস নং: ৫০৪৮
সহিহ (Sahih)
محمد بن خلف ابو بكر حدثنا ابو يحيى الحماني حدثنا بريد بن عبد الله بن ابي بردة عن جده ابي بردة عن ابي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال له يا ابا موسى لقد اوتيت مزمارا من مزامير ال داود.
৫০৪৮. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবূ মূসা! তোমাকে দাঊদ (আঃ)-এর সুমধুর কন্ঠ দান করা হয়েছে। [মুসলিম ৬/৩৪, হাঃ ৭৯৩, আহমাদ ২৩০৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৭৯)
হাদিস নং: ৫০৪৯
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي عن الاعمش قال حدثني ابراهيم عن عبيدة عن عبد الله قال قال لي النبي صلى الله عليه وسلم اقرا علي القران قلت اقرا عليك وعليك انزل قال اني احب ان اسمعه من غيري.
৫০৪৯. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ’’আমার কাছে কুরআন পাঠ কর।’’ ’আবদুল্লাহ্ বললেন, আমি আপনার কাছে কুরআন পাঠ করব; অথচ আপনার ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, আমি অন্যের নিকট থেকে তা শুনতে ভালবাসি। [৪৫৮২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮০)
হাদিস নং: ৫০৫০
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن الاعمش عن ابراهيم عن عبيدة عن عبد الله بن مسعود قال قال لي النبي صلى الله عليه وسلم اقرا علي قلت يا رسول الله اقرا عليك وعليك انزل قال نعم فقرات سورة النساء حتى اتيت الى هذه الاية (فكيف اذا جىنا من كل امة بشهيد وجىنا بك على هولاء شهيدا) قال حسبك الان فالتفت اليه فاذا عيناه تذرفان.
৫০৫০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি কুরআন পাঠ কর। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছে কুরআন পাঠ করব? অথচ তা তো আপনার ওপরই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর আমি ’সূরাহ নিসা’ পাঠ করলাম। যখন আমি এই আয়াত পর্যন্ত আসলাম ’চিন্তা করো আমি যখন প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী উপস্থিত করব এবং সকলের ওপরে তোমাকে সাক্ষী হিসাবে হাযির করব তখন তারা কী করবে।’ নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আপাততঃ যথেষ্ট হয়েছে। আমি তাঁর চেহারার দিকে তাকালাম, দেখলাম, তাঁর চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে। [৪৫৮২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮১)
হাদিস নং: ৫০৫১
সহিহ (Sahih)
علي حدثنا سفيان قال لي ابن شبرمة نظرت كم يكفي الرجل من القران فلم اجد سورة اقل من ثلاث ايات فقلت لا ينبغي لاحد ان يقرا اقل من ثلاث ايات قال علي حدثنا سفيان اخبرنا منصور عن ابراهيم عن عبد الرحمن بن يزيد اخبره علقمة عن ابي مسعود ولقيته وهو يطوف بالبيت فذكر قول النبي صلى الله عليه وسلم انه من قرا بالايتين من اخر سورة البقرة في ليلة كفتاه.
وَقَوْلُ اللهِ تَعَالَى (فَاقْرَءُوْا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ).
এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলার কালামঃ ’’যতটা কুরআন তোমার সহজসাধ্য হয়, ততটাই পড়।’’
৫০৫১. সুফ্ইয়ান ইবনু ’উয়াইনাহ (রহ.) বলেন, আমাকে ইবনু সুবরুমা (রহ.) বললেন, আমি দেখতে চাইলাম, সালাতে কী পরিমাণ আয়াত পাঠ করা যথেষ্ট এবং আমি তিন আয়াত বিশিষ্ট সূরার চেয়ে ছোট কোন সূরাহ পেলাম না। সুতরাং আমি বললাম, কারো জন্য তিন আয়াতের কম সালাতে পড়া উচিত নয়। আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম, তখন তিনি বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি কেউ সুরা বাকারার শেষ দু’ আয়াত রাতে পাঠ করে, তাহলে তা তার জন্য যথেষ্ট। [৪০০৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮২)
এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলার কালামঃ ’’যতটা কুরআন তোমার সহজসাধ্য হয়, ততটাই পড়।’’
৫০৫১. সুফ্ইয়ান ইবনু ’উয়াইনাহ (রহ.) বলেন, আমাকে ইবনু সুবরুমা (রহ.) বললেন, আমি দেখতে চাইলাম, সালাতে কী পরিমাণ আয়াত পাঠ করা যথেষ্ট এবং আমি তিন আয়াত বিশিষ্ট সূরার চেয়ে ছোট কোন সূরাহ পেলাম না। সুতরাং আমি বললাম, কারো জন্য তিন আয়াতের কম সালাতে পড়া উচিত নয়। আবূ মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম, তখন তিনি বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি কেউ সুরা বাকারার শেষ দু’ আয়াত রাতে পাঠ করে, তাহলে তা তার জন্য যথেষ্ট। [৪০০৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮২)
হাদিস নং: ৫০৫২
সহিহ (Sahih)
موسى حدثنا ابو عوانة عن مغيرة عن مجاهد عن عبد الله بن عمرو قال انكحني ابي امراة ذات حسب فكان يتعاهد كنته فيسالها عن بعلها فتقول نعم الرجل من رجل لم يطا لنا فراشا ولم يفتش لنا كنفا منذ اتيناه فلما طال ذلك عليه ذكر للنبي صلى الله عليه وسلم فقال القني به فلقيته بعد فقال كيف تصوم قال كل يوم قال وكيف تختم قال كل ليلة قال صم في كل شهر ثلاثة واقرا القران في كل شهر قال قلت اطيق اكثر من ذلك قال صم ثلاثة ايام في الجمعة قلت اطيق اكثر من ذلك قال افطر يومين وصم يوما قال قلت اطيق اكثر من ذلك قال صم افضل الصوم صوم داود صيام يوم وافطار يوم واقرا في كل سبع ليال مرة فليتني قبلت رخصة رسول الله صلى الله عليه وسلم وذاك اني كبرت وضعفت فكان يقرا على بعض اهله السبع من القران بالنهار والذي يقروه يعرضه من النهار ليكون اخف عليه بالليل واذا اراد ان يتقوى افطر اياما واحصى وصام مثلهن كراهية ان يترك شيىا فارق النبي صلى الله عليه وسلم عليه قال ابو عبد الله وقال بعضهم في ثلاث وفي خمس واكثرهم على سبع
৫০৫২. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে এক সম্ভ্রান্ত বংশীয় মহিলার সঙ্গে শাদী দেন এবং প্রায়ই তিনি আমার সম্পর্কে আমার স্ত্রীর কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। আমার স্ত্রী বলত, সে কতইনা ভাল মানুষ যে, সে কখনও আমার বিছানায় আসেনি এবং শাদীর পর থেকে আমার সম্পর্কে খোঁজ খবরও নেয়নি। এ অবস্থা যখন দীর্ঘদিন পর্যন্ত চলতে থাকল তখন আমার পিতা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার সম্পর্কে জানালেন।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতাকে বললেন, তাকে আমার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করুন। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেমন সওম পালন কর? আমি উত্তর দিলাম, প্রতিদিন সওম পালন করি। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, এ অবস্থায় পূর্ণ কুরআন মাজীদ খতম করতে তোমার কত সময় লাগে? আমি উত্তর দিলাম, প্রত্যেক রাতেই এক খতম করি। তিনি বললেন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন সওম পালন করবে এবং কুরআন এক মাসে এক খতম দেবে।’’ আমি বললাম, আমি এর চেয়ে অধিক করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে প্রতি সপ্তাহে তিনদিন সওম পালন করবে।
আমি বললাম, আমি এর চেয়ে অধিক করার শক্তি রাখি। তিনি বললেন, দু’দিন পর একদিন সওম পালন কর। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে অধিক সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে সব চেয়ে উত্তম পদ্ধতির সওম পালন কর। তা হল, দাঊদ (আঃ)-এর সওম। তিনি এক দিন অন্তর একদিন সওম পালন করতেন এবং তুমি প্রতি সাত দিনে একবার কুরআন খতম করো। হায়! আমি যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেয়া সুবিধা গ্রহণ করতাম! এখন আমি দুর্বল বৃদ্ধ হয়ে গেছি।
’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) প্রত্যেক দিন তার পরিবারের একজন সদস্যের সামনে কুরআনের সপ্তমাংশ পাঠ করে শোনাতেন। দিবা ভাগে পাঠ করে দেখতেন, তার স্মরণশক্তি সঠিক আছে কিনা? যা তিনি রাতে পাঠ করবেন তা যেন সহজ হয় এবং যখনই তিনি শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ইচ্ছা করতেন তখন কয়েক দিন সওম পালন বন্ধ রাখতেন এবং পরবর্তীতে ঐ ক’দিনের হিসাব করে সওম পালন করতেন। কেননা, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় যে নিয়ম পালন করতেন পরে সে নিয়ম ত্যাগ করা অপছন্দ মনে করতেন। আবূ ’আবদুল্লাহ্ বলেন কেউ তিন দিনে, কেউ পাঁচ দিনে এবং অধিকাংশ লোক সাত দিনে কুরআন খতম করতেন। [১১৩১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮৩)
তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতাকে বললেন, তাকে আমার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করুন। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেমন সওম পালন কর? আমি উত্তর দিলাম, প্রতিদিন সওম পালন করি। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, এ অবস্থায় পূর্ণ কুরআন মাজীদ খতম করতে তোমার কত সময় লাগে? আমি উত্তর দিলাম, প্রত্যেক রাতেই এক খতম করি। তিনি বললেন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন সওম পালন করবে এবং কুরআন এক মাসে এক খতম দেবে।’’ আমি বললাম, আমি এর চেয়ে অধিক করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে প্রতি সপ্তাহে তিনদিন সওম পালন করবে।
আমি বললাম, আমি এর চেয়ে অধিক করার শক্তি রাখি। তিনি বললেন, দু’দিন পর একদিন সওম পালন কর। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে অধিক সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে সব চেয়ে উত্তম পদ্ধতির সওম পালন কর। তা হল, দাঊদ (আঃ)-এর সওম। তিনি এক দিন অন্তর একদিন সওম পালন করতেন এবং তুমি প্রতি সাত দিনে একবার কুরআন খতম করো। হায়! আমি যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেয়া সুবিধা গ্রহণ করতাম! এখন আমি দুর্বল বৃদ্ধ হয়ে গেছি।
’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) প্রত্যেক দিন তার পরিবারের একজন সদস্যের সামনে কুরআনের সপ্তমাংশ পাঠ করে শোনাতেন। দিবা ভাগে পাঠ করে দেখতেন, তার স্মরণশক্তি সঠিক আছে কিনা? যা তিনি রাতে পাঠ করবেন তা যেন সহজ হয় এবং যখনই তিনি শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ইচ্ছা করতেন তখন কয়েক দিন সওম পালন বন্ধ রাখতেন এবং পরবর্তীতে ঐ ক’দিনের হিসাব করে সওম পালন করতেন। কেননা, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় যে নিয়ম পালন করতেন পরে সে নিয়ম ত্যাগ করা অপছন্দ মনে করতেন। আবূ ’আবদুল্লাহ্ বলেন কেউ তিন দিনে, কেউ পাঁচ দিনে এবং অধিকাংশ লোক সাত দিনে কুরআন খতম করতেন। [১১৩১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮৩)
হাদিস নং: ৫০৫৩
সহিহ (Sahih)
سعد بن حفص حدثنا شيبان عن يحيى عن محمد بن عبد الرحمن عن ابي سلمة عن عبد الله بن عمرو قال لي النبي صلى الله عليه وسلم في كم تقرا القران.
৫০৫৩. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কত দিনে তুমি কুরআন খতম কর? [১১৩১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮৪)
হাদিস নং: ৫০৫৪
সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا عبيد الله بن موسى عن شيبان عن يحيى عن محمد بن عبد الرحمن مولى بني زهرة عن ابي سلمة قال واحسبني قال سمعت انا من ابي سلمة عن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اقرا القران في شهر قلت اني اجد قوة حتى قال فاقراه في سبع ولا تزد على ذلك.
৫০৫৪. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ’’এক মাসে কুরআন পাঠ সমাপ্ত কর।’’ আমি বললাম, ’’আমি এর চেয়ে অধিক করার শক্তি রাখি।’’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’তাহলে সাত দিনে তার পাঠ শেষ করো এবং এর চেয়ে কম সময়ে পাঠ শেষ করো না।’’ [১১৩১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮৫)
হাদিস নং: ৫০৫৫
সহিহ (Sahih)
صدقة اخبرنا يحيى عن سفيان عن سليمان عن ابراهيم عن عبيدة عن عبد الله قال يحيى بعض الحديث عن عمرو بن مرة قال لي النبي صلى الله عليه وسلم حدثنا مسدد عن يحيى عن سفيان عن الاعمش عن ابراهيم عن عبيدة عن عبد الله قال الاعمش وبعض الحديث حدثني عمرو بن مرة عن ابراهيم وعن ابيه عن ابي الضحى عن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اقرا علي قال قلت اقرا عليك وعليك انزل قال اني اشتهي ان اسمعه من غيري قال فقرات النساء حتى اذا بلغت (فكيف اذا جىنا من كل امةمبشهيد وجىنا بك على هولآء شهيدا)قال لي كف او امسك فرايت عينيه تذرفان
৫০৫৫. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি আমার কাছে কুরআন পাঠ করো। আমি উত্তরে বললাম, আমি আপনার কাছে কুরআন পাঠ করবো,অথচ আপনারই ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, আমি অন্যের নিকট হতে কুরআন পাঠ শোনা পছন্দ করি। আমি তখন সূরাহ নিসা পাঠ করলাম যখন আমি এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলামঃ ’’তারপর চিন্তা করো, আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্যে একজন করে সাক্ষী হাযির করব এবং এ সকলের ওপরে তোমাকে সাক্ষী হিসেবে হাযির করব তখন তারা কী করবে।’’ তখন তিনি আমাকে বললেন, ’’থাম!’’ আমি লক্ষ্য করলাম, তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর] দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে। [৪৫৮২; মুসলিম ৬/৩৯, হাঃ ৮০০, আহমাদ ৩৫৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮৬)
হাদিস নং: ৫০৫৬
সহিহ (Sahih)
قيس بن حفص حدثنا عبد الواحد حدثنا الاعمش عن ابراهيم عن عبيدة السلماني عن عبد الله بن مسعود قال قال لي النبي صلى الله عليه وسلم اقرا علي قلت اقرا عليك وعليك انزل قال اني احب ان اسمعه من غيري.
৫০৫৬. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে কুরআন পাঠ করো। আমি বললাম, আমি আপনার নিকট কুরআন পাঠ করব, অথচ আপনারই ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, আমি অন্যের তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি। [৪৫৮২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮৭)
হাদিস নং: ৫০৫৭
সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير اخبرنا سفيان حدثنا الاعمش عن خيثمة عن سويد بن غفلة قال علي سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول ياتي في اخر الزمان قوم حدثاء الاسنان سفهاء الاحلام يقولون من خير قول البرية يمرقون من الاسلام كما يمرق السهم من الرمية لا يجاوز ايمانهم حناجرهم فاينما لقيتموهم فاقتلوهم فان قتلهم اجر لمن قتلهم يوم القيامة.
৫০৫৭. ’আলী (রাঃ) বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, শেষ যামানায় এমন একদল মানুষের আবির্ভাব হবে, যারা হবে কমবয়স্ক এবং যাদের বুদ্ধি হবে স্বল্প। ভাল ভাল কথা বলবে, কিন্তু তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন তীর ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান গলার নীচে পৌঁছবে না। সুতরাং তোমরা তাদেরকে যেখানে পাও, হত্যা কর। এদের হত্যাকারীর জন্য কিয়ামতে পুরস্কার রয়েছে। [৩৬১১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮৮)
হাদিস নং: ৫০৫৮
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن يحيى بن سعيد عن محمد بن ابراهيم بن الحارث التيمي عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن ابي سعيد الخدري انه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يخرج فيكم قوم تحقرون صلاتكم مع صلاتهم وصيامكم مع صيامهم وعملكم مع عملهم ويقرءون القران لا يجاوز حناجرهم يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية ينظر في النصل فلا يرى شيىا وينظر في القدح فلا يرى شيىا وينظر في الريش فلا يرى شيىا ويتمارى في الفوق.
৫০৫৮. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ভবিষ্যতে এমন সব লোকের আগমন ঘটবে, যাদের সালাতের তুলনায় তোমাদের সালাতকে, তাদের সওমের তুলনায় তোমাদের সওমকে এবং তাদের ’আমলের তুলনায় তোমাদের ’আমলকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে (অর্থাৎ অন্তরে) প্রবেশ করবে না। এরা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে নিক্ষিপ্ত তীর ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়। আর শিকারী সেই তীরের আগা পরীক্ষা করে দেখতে পায়, তাতে কোন চিহ্ন নেই। সে তীরের ফলার পার্শ্বদেশে নযর করে; অথচ সেখানে কিছু দেখতে পায় না। শেষে ঐ ব্যক্তি কোন কিছু পাওয়ার জন্য তীরের নিম্নভাগে সন্দেহ পোষণ করে। [৩৩৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৮৯)
হাদিস নং: ৫০৫৯
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن شعبة عن قتادة عن انس بن مالك عن ابي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال المومن الذي يقرا القران ويعمل به كالاترجة طعمها طيب وريحها طيب والمومن الذي لا يقرا القران ويعمل به كالتمرة طعمها طيب ولا ريح لها ومثل المنافق الذي يقرا القران كالريحانة ريحها طيب وطعمها مر ومثل المنافق الذي لا يقرا القران كالحنظلة طعمها مر او خبيث وريحها مر.
৫০৫৯. আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঐ মু’মিন যে কুরআন পাঠ করে এবং সে অনুযায়ী ’আমল করে, তাঁর দৃষ্টান্ত ঐ লেবুর মত যা খেতে সুস্বাদু এবং গন্ধে চমৎকার। আর ঐ মু’মিন যে কুরআন পাঠ করে না; কিন্তু এর অনুসারে ’আমল করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ খেজুরের মত যা খেতে সুস্বাদু কিন্তু সুগন্ধ নেই। আর মুনাফিক যে কুরআন পাঠ করে; তার উদাহরণ হচ্ছে, ঐ রায়হানের মত, যার মন মাতানো খুশবু আছে, অথচ খেতে একেবারে বিস্বাদ। আর ঐ মুনাফিক যে কুরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ মাকাল ফলের মত, যা খেতে বিস্বাদ এবং গন্ধে দুর্গন্ধময়। [৫০২০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯০)
হাদিস নং: ৫০৬০
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد عن ابي عمران الجوني عن جندب بن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اقرءوا القران ما اىتلفت قلوبكم فاذا اختلفتم فقوموا عنه.
৫০৬০. জুনদুব ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইবাদাত মনের চাহিদার অনুকূল হয় তিলাওয়াত করতে থাক এবং (তাতে) মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটলে পড়া ত্যাগ কর। [৫০৬১, ৭৩৬৪, ৭৩৬৫; মুসলিম ৪৭/১, হাঃ ২৬৬৭, আহমাদ ১৮৮৩৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯১)
হাদিস নং: ৫০৬১
সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي حدثنا عبد الرحمن بن مهدي حدثنا سلام بن ابي مطيع عن ابي عمران الجوني عن جندب قال النبي صلى الله عليه وسلم اقرءوا القران ما اىتلفت عليه قلوبكم فاذا اختلفتم فقوموا عنه
تابعه الحارث بن عبيد وسعيد بن زيد عن ابي عمران ولم يرفعه حماد بن سلمة وابان وقال غندر عن شعبة عن ابي عمران سمعت جندبا قوله وقال ابن عون عن ابي عمران عن عبد الله بن الصامت عن عمر قوله وجندب اصح واكثر.
تابعه الحارث بن عبيد وسعيد بن زيد عن ابي عمران ولم يرفعه حماد بن سلمة وابان وقال غندر عن شعبة عن ابي عمران سمعت جندبا قوله وقال ابن عون عن ابي عمران عن عبد الله بن الصامت عن عمر قوله وجندب اصح واكثر.
৫০৬১. জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইবাদাত মনের চাহিদার অনুকূল হয় তিলাওয়াত করতে থাক এবং তাতে মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটলে পড়া ত্যাগ কর।
হারিস ইবনু ’উবায়দ ও সা’ঈদ ইবনু যায়দ আবূ ’ইমরান এর মাধ্যেমে জুনদাবের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হাম্মাদ ইবনু সালামাহ ও আবান এটিকে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেননি। ..... তবে জুনদাবের বর্ণনাটি অধিক বিশুদ্ধ ও অধিক বর্ণিত।
হারিস ইবনু ’উবায়দ ও সা’ঈদ ইবনু যায়দ আবূ ’ইমরান এর মাধ্যেমে জুনদাবের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হাম্মাদ ইবনু সালামাহ ও আবান এটিকে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেননি। ..... তবে জুনদাবের বর্ণনাটি অধিক বিশুদ্ধ ও অধিক বর্ণিত।
হাদিস নং: ৫০৬২
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن عبد الملك بن ميسرة عن النزال بن سبرة عن عبد الله انه سمع رجلا يقرا اية سمع النبي صلى الله عليه وسلم خلافها فاخذت بيده فانطلقت به الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال كلاكما محسن فاقراا اكبر علمي قال فان من كان قبلكم اختلفوا فاهلكهم.
৫০৬২. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি এক ব্যক্তিকে আয়াত পড়তে শুনলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যেভাবে পড়তে শুনতেন, তার থেকে সে অন্য রকম করে পড়ছিল। তখন ঐ ব্যক্তিকে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা উভয়ই সঠিকভাবে পাঠ করেছ। সুতরাং এভাবে কুরআন পাঠ করতে থাক। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন, তোমাদের পূর্বেকার জাতিগুলো তাদের পারস্পরিক বিভেদের জন্যই ধ্বংস হয়ে গেছে। [২৪১০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯২)