অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৭/১. বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। শ্রবণ করিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ (আন-নিসা ৪:৩)
মোট ১৮৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫১৭১
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا حماد بن زيد عن ثابت قال ذكر تزويج زينب بنت جحش عند انس فقال ما رايت النبي صلى الله عليه وسلم اولم على احد من نساىه„ ما اولم عليها اولم بشاة.
৫১৭১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যায়নাবের বিয়ের আলোচনায় আনাস (রাঃ) উপস্থিত হয়ে তিনি বললেন, যায়নাব বিনতে জাহাশের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিয়ের সময় যে ওয়ালীমার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তার চেয়ে বড় ওয়ালীমার ব্যবস্থা তাঁর অন্য কোন স্ত্রীর বিয়েতে আমি দেখিনি। এতে তিনি একটি ছাগল দ্বারা ওয়ালীমা করেন। [৪৭৯১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৩)
হাদিস নং: ৫১৭২
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن منصور بن صفية عن امه„ صفية بنت شيبة قالت اولم النبي صلى الله عليه وسلم على بعض نساىه„ بمدين من شعير.
৫১৭২. সফীয়্যাহ বিনতে শাইবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামতাঁর কোন এক স্ত্রীর বিয়েতে দুই মুদ (চার সের) যব দ্বারা ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৪)
হাদিস নং: ৫১৭৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اذا دعي احدكم الى الوليمة فلياتها.
وَلَمْ يُوَقَّتِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا وَلاَ يَوْمَيْنِ.
কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালীমার সময় এক বা দু’ দিন ধার্য করেননি
৫১৭৩. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাউকে ওয়ালীমার দাওয়াত করা হলে তা অবশ্যই গ্রহণ করবে। [৫১৭৯; মুসলিম ১৬/১৫, হাঃ ১৪২৯, আহমাদ ৪৯৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৫)
কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালীমার সময় এক বা দু’ দিন ধার্য করেননি
৫১৭৩. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাউকে ওয়ালীমার দাওয়াত করা হলে তা অবশ্যই গ্রহণ করবে। [৫১৭৯; মুসলিম ১৬/১৫, হাঃ ১৪২৯, আহমাদ ৪৯৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৫)
হাদিস নং: ৫১৭৪
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن سفيان قال حدثني منصور عن ابي واىل عن ابي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فكوا العاني واجيبوا الداعي وعودوا المريض.
৫১৭৪. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বন্দীদেরকে মুক্তি দাও, দাওয়াত কবূল কর এবং রোগীদের সেবা কর। [৩০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৬)
হাদিস নং: ৫১৭৫
সহিহ (Sahih)
الحسن بن الربيع حدثنا ابو الاحوص عن الاشعث عن معاوية بن سويد قال البراء بن عازب امرنا النبي صلى الله عليه وسلم بسبع ونهانا عن سبع امرنا بعيادة المريض واتباع الجنازة وتشميت العاطس وابرار القسم ونصر المظلوم وافشاء السلام واجابة الداعي ونهانا عن خواتيم الذهب وعن انية الفضة وعن المياثر والقسية والاستبرق والديباج تابعه“ ابو عوانة والشيباني عن اشعث في افشاء السلام.
৫১৭৫. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি কাজ করতে বলেছেন এবং সাতটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদেরকে রোগীর সেবা করার, জানাযায় অংশগ্রহণ করার, হাঁচি দিলে তার জবাব দেয়ার, কসম পুরা করায় সহযোগিতা করার, মযলুমকে সাহায্য করার, সালামের বিস্তার করার এবং কেউ দাওয়াত দিলে তা কবূল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন স্বর্ণের আংটি পরতে, রুপার পাত্র ব্যবহার করতে, ঘোড়ার পিঠের ওপরে রেশমী গদি ব্যবহার করতে এবং ’কাসসিয়া’ বা পাতলা রেশমী কাপড় এবং দ্বীবাজ ব্যবহার করতে। আবূ ’আওয়ানাহ এবং শায়বানী আশ্আস সূত্রে সালামের বিস্তারের কথা সমর্থন করে বর্ণনা করেন। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৭)
হাদিস নং: ৫১৭৬
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا عبد العزيز بن ابي حازم عن ابي حازم عن سهل بن سعد قال دعا ابو اسيد الساعدي رسول الله صلى الله عليه وسلم في عرسه„ وكانت امراته“ يومىذ خادمهم وهي العروس قال سهل تدرون ما سقت رسول الله صلى الله عليه وسلم انقعت له“ تمرات من الليل فلما اكل سقته“ اياه.
৫১৭৬. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ উসায়দ আস্ সা’ঈদী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার বিয়ে উপলক্ষে ওয়ালীমায় দাওয়াত করলেন। তাঁর নববধু সেদিন খাদ্য পরিবেশন করছিলেন। সাহল বলেন, তোমরা কি জান, সে দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কী পানীয় দেয়া হয়েছিল? সারারাত ধরে কিছু খেজুর পানির মধ্যে ভিজিয়ে রেখে তা থেকে তৈরি পানীয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাওয়া শেষ করলেন, তখন তাঁকে ঐ পানীয়ই পান করতে দেয়া হল। [৫১৮২, ৫১৮৩, ৫৫৯১, ৫৫৯৭, ৬৬৮৫; মুসলিম ৩৬/৯, হাঃ ২০০৬, আহমাদ ৭২৮৩](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৮)
হাদিস নং: ৫১৭৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابن شهاب عنالاعرج عن ابي هريرة انه“ كان يقول شر الطعام طعام الوليمة يدعى لها الاغنياء ويترك الفقراء ومن ترك الدعوة فقد عصى الله ورسوله“ صلى الله عليه وسلم.
৫১৭৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ওয়ালীমায় কেবল ধনীদেরকে দাওয়াত করা হয় এবং গরীবদেরকে দাওয়াত করা হয় না সেই ওয়ালীমা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে অবাধ্যতা করে। [মুসলিম ১৬/১৪, হাঃ ১৪৩২, আহমাদ ৭২৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৯৯)
হাদিস নং: ৫১৭৮
সহিহ (Sahih)
عبدان عن ابي حمزة عنالاعمش عن ابي حازم عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لو دعيت الى كراع لاجبت ولو اهدي الي كراع لقبلت.
৫১৭৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাকে পায়া খেতে দাওয়াত দেয়া হলে আমি তা কবুল করব এবং আমাকে যদি কেউ পায়া হাদীয়া দেয়, তবে আমি তা অবশ্যই গ্রহণ করব। [২৫৬৮](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০০)
হাদিস নং: ৫১৭৯
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله بن ابراهيم حدثنا الحجاج بن محمد قال قال ابن جريج اخبرني موسى بن عقبة عن نافع قال سمعت عبد الله بن عمر يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اجيبوا هذه„ الدعوة اذا دعيتم لها قال وكان عبد الله ياتي الدعوة في العرس وغير العرس وهو صاىم.
৫১৭৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি তোমাদেরকে বিয়ে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়, তবে তা রক্ষা কর। নাফি’ বলেন, ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর নিয়ম ছিল, তিনি সওমরত অবস্থাতেও বিয়ের বা অন্য কোন দাওয়াত রক্ষা করতেন। [৫১৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০১)
হাদিস নং: ৫১৮০
সহিহ (Sahih)
عبد الرحمن بن المبارك حدثنا عبد الوارث حدثنا عبد العزيز بن صهيب عن انس بن مالك قال ابصر النبي صلى الله عليه وسلم نساء وصبيانا مقبلين من عرس فقام ممتنا فقال اللهم انتم من احب الناس الي.
৫১৮০. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক মহিলা এবং শিশুকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফিরতে দেখলেন। তিনি আনন্দে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, আমি আল্লাহর নামে বলছি, তোমরা সকল মানুষের চেয়ে আমার কাছে প্রিয়। [৩৭৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০২)
হাদিস নং: ৫১৮১
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن نافع عن القاسم بن محمد عن عاىشة زوج النبيصلى الله عليه وسلم انها اخبرته“ انها اشترت نمرقة فيها تصاوير فلما راها رسول الله صلى الله عليه وسلم قام على الباب فلم يدخل فعرفت في وجهه الكراهية فقلت يا رسول الله اتوب الى الله والى رسوله„ ماذا اذنبت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بال هذه النمرقة قالت فقلت اشتريتها لك لتقعد عليها وتوسدها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اصحاب هذه„ الصور يعذبون يوم القيامة ويقال لهم احيوا ما خلقتم وقال ان البيت الذي فيه الصور لا تدخله الملاىكة.
وَرَأٰى أَبُو مَسْعُودٍ صُورَةً فِي الْبَيْتِ فَرَجَعَ.
وَدَعَا ابْنُ عُمَرَ أَبَا أَيُّوبَ فَرَأٰى فِي الْبَيْتِ سِتْرًا عَلَى الْجِدَارِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ غَلَبَنَا عَلَيْهِ النِّسَاءُ فَقَالَ مَنْ كُنْتُ أَخْشٰى عَلَيْهِ فَلَمْ أَكُنْ أَخْشٰى عَلَيْكَ وَاللهِ لاَ أَطْعَمُ لَكُمْ طَعَامًا فَرَجَع.َ
ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) কোন এক বাড়িতে (প্রাণীর) ছবি দেখে ফিরে এলেন।
ইবনু ’উমার (রাঃ) আবূ আইয়ুব (রাঃ)-কে দাওয়াত করে বাড়িতে আনলেন। তিনি এসে ঘরের দেয়ালের পর্দায় ছবি দেখতে পেলেন। এরপর ইবনু ’উমার (রাঃ) এ ব্যাপারে বললেন, মহিলাদের সঙ্গে পেরে উঠিনি। আবূ আইয়ুব (রাঃ) বললেন, আমি যাদের সম্পর্কে আশংকা করেছিলাম, তাতে আপনার ব্যাপারে আশঙ্কা করিনি। আল্লাহর কসম, আমি আপনার ঘরে কোন খাদ্য খাব না। এরপর তিনি চলে গেলেন।
৫১৮১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি বালিশ বা গদি কিনে এনেছিলাম, যার মধ্যে ছবি ছিল। যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ছবিটি দেখলেন, তিনি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে গেলেন; ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর চোখে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় ব্যাপার। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং তাঁর রাসূলের কাছে ফিরে আসছি। আমি কী অন্যায় করেছি? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বালিশ কিসের জন্য? আমি বললাম, এটা আপনার জন্য খরিদ করে এনেছি, যাতে আপনি বসতে পারেন এবং হেলান দিতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ছবি নির্মাতাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি প্রদান করা হবে এবং বলা হবে, যা তুমি সৃষ্টি করেছ তার প্রাণ দাও এবং তিনি আরও বলেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। [২১০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৩)
وَدَعَا ابْنُ عُمَرَ أَبَا أَيُّوبَ فَرَأٰى فِي الْبَيْتِ سِتْرًا عَلَى الْجِدَارِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ غَلَبَنَا عَلَيْهِ النِّسَاءُ فَقَالَ مَنْ كُنْتُ أَخْشٰى عَلَيْهِ فَلَمْ أَكُنْ أَخْشٰى عَلَيْكَ وَاللهِ لاَ أَطْعَمُ لَكُمْ طَعَامًا فَرَجَع.َ
ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) কোন এক বাড়িতে (প্রাণীর) ছবি দেখে ফিরে এলেন।
ইবনু ’উমার (রাঃ) আবূ আইয়ুব (রাঃ)-কে দাওয়াত করে বাড়িতে আনলেন। তিনি এসে ঘরের দেয়ালের পর্দায় ছবি দেখতে পেলেন। এরপর ইবনু ’উমার (রাঃ) এ ব্যাপারে বললেন, মহিলাদের সঙ্গে পেরে উঠিনি। আবূ আইয়ুব (রাঃ) বললেন, আমি যাদের সম্পর্কে আশংকা করেছিলাম, তাতে আপনার ব্যাপারে আশঙ্কা করিনি। আল্লাহর কসম, আমি আপনার ঘরে কোন খাদ্য খাব না। এরপর তিনি চলে গেলেন।
৫১৮১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি বালিশ বা গদি কিনে এনেছিলাম, যার মধ্যে ছবি ছিল। যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ছবিটি দেখলেন, তিনি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে গেলেন; ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর চোখে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় ব্যাপার। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং তাঁর রাসূলের কাছে ফিরে আসছি। আমি কী অন্যায় করেছি? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বালিশ কিসের জন্য? আমি বললাম, এটা আপনার জন্য খরিদ করে এনেছি, যাতে আপনি বসতে পারেন এবং হেলান দিতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ছবি নির্মাতাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি প্রদান করা হবে এবং বলা হবে, যা তুমি সৃষ্টি করেছ তার প্রাণ দাও এবং তিনি আরও বলেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। [২১০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৩)
হাদিস নং: ৫১৮২
সহিহ (Sahih)
سعيد بن ابي مريم حدثنا ابو غسان قال حدثني ابو حازم عن سهل قال لما عرس ابو اسيد الساعدي دعا النبي صلى الله عليه وسلم واصحابه“ فما صنع لهم طعاما ولا قربه“ اليهم الا امراته“ ام اسيد بلت تمرات في تور من حجارة من الليل فلما فرغ النبي صلى الله عليه وسلممن الطعام اماثته“ له“ فسقته“ تتحفه“ بذلك.
৫১৮২. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ উসায়দ আস্ সা’ঈদী (রাঃ) তাঁর ওয়ালীমায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণকে দাওয়াত দিলেন, তখন তাঁর নববধূ উম্মু উসায়দ ব্যতীত আর কেউ সে খাদ্য প্রস্তুত এবং পরিবেশন করেননি। তিনি একটি পাথরের পাত্রে সারা রাত পানির মধ্যে খেজুর ভিজিয়ে রাখেন। যখন খাওয়া-দাওয়া শেষ করেন, তখন সেই তোহফা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পান করান। [৫১৭৬](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৪)
হাদিস নং: ৫১৮৩
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن القاري عن ابي حازم قال سمعت سهل بن سعد ان ابا اسيد الساعدي دعا النبي صلى الله عليه وسلم لعرسه„ فكانت امراته“ خادمهم يومىذ وهي العروس فقالت او قال اتدرون ما انقعت لرسول الله صلى الله عليه وسلم انقعت له“ تمرات من الليل في تور.
৫১৮৩. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ উসায়দ আসসা’ঈদী (রাঃ) তাঁর ওয়ালীমায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত দেন। তাঁর নববধূ সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খাদ্য এবং পানীয় পরিবেশন করেন। সাহল (রাঃ) বলেন, তোমরা কি জান সেই নববধূ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কী পান করিয়েছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি পানপাত্রে কিছু খেজুর সারারাত ধরে ভিজিয়ে রেখেছিলেন। [৫১৭৬](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৫)
হাদিস নং: ৫১৮৪
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله قال حدثني مالك عن ابي الزناد عنالاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال المراة كالضلع ان اقمتها كسرتها وان استمتعت بها استمتعت بها وفيها عوج.
وَقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا الْمَرْأَةُ كَالضِّلَعِ.
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী, নারীরা পাঁজরের হাড়ের মত।
৫১৮৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে উপকার লাভ করতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভ করতে হবে। [1] [৩৩৩১; মুসলিম ১৭/১৭, হাঃ ১৪৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৬)
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী, নারীরা পাঁজরের হাড়ের মত।
৫১৮৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে উপকার লাভ করতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভ করতে হবে। [1] [৩৩৩১; মুসলিম ১৭/১৭, হাঃ ১৪৬৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৬)
নোট: এ প্রসঙ্গে রসূল ﷺ এর একটি হাদীস উল্লেখ করা হচ্ছে। এ হাদীসে তিনি স্ত্রীলোকদের প্রকৃতিগত এক মৌলিক দুর্বলতার প্রতি বিশেষ খেয়াল রেখে চলার জন্যে স্বামীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। রসূল ﷺ বলেছেন- মেয়েলোক সাধারণত স্বামীদের অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকে এবং তাদের অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। তুমি যদি জীবন ভরেও কোন স্ত্রীর প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন কর আর কোন এক সময় যদি সে তার মর্জি মেজাজের বিপরীত কোন ব্যবহার তোমার মাঝে দেখতে পায় তাহলে তখনি বলে উঠবে- আমি তোমার কাছে কোনদিনই সামান্য কল্যাণও দেখতে পাইনি-বুখারী। রসূল ﷺ এর এ কথা থেকে একদিকে যেমন নারীদের এ মৌলিক প্রকৃতিগত দোষের কথা জানা গেল, তেমনি এ হাদীস স্বামীদের জন্যে এক বিশেষ সাবধান বাণী। স্বামীরা যদি নারীদের এ প্রকৃতিগত দোষের কথা স্মরণ না রাখে, তাহলে পারিবারিক জীবনে অতি তাড়াতাড়ি ভাঙ্গন ও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এ জন্য পুরুষদের অবিচল নিষ্ঠা ও অপরিসীম ধৈর্য ধারণের প্রয়োজন রয়েছে এবং এ ধরনের নাজুক পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করে পারিবারিক জীবনের মাধুর্য ও মিলমিশকে অক্ষুণ্ণ রাখতে পুরুষদেরকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে।
হাদিস নং: ৫১৮৫
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن نصر حدثنا حسين الجعفي عن زاىدة عن ميسرة عن ابي حازم عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من كان يومن بالله واليوم الاخر فلا يوذي جاره“
৫১৮৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন, যে আল্লাহ্ এবং আখিরাতের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন আপন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। [৬০১৮, ৬১৩৬, ৬১৩৮, ৬৪৭৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৭)
হাদিস নং: ৫১৮৬
সহিহ (Sahih)
واستوصوا بالنساء خيرا فانهن خلقن من ضلع وان اعوج شيء في الضلع اعلاه“ فان ذهبت تقيمه“ كسرته“ وان تركته“ لم يزل اعوج فاستوصوا بالنساء خيرا
৫১৮৬. আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরার হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরার ওপরের হাড়। যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। আর যদি তা যেভাবে আছে সেভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে। অতএব, তোমাদেরকে ওসীয়ত করা হলো নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার জন্য। [৩৩৩১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৭)
হাদিস নং: ৫১৮৭
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر قال كنا نتقي الكلام والانبساط الى نساىنا على عهد النبي صلى الله عليه وسلم هيبة ان ينزل فينا شيء فلما توفي النبي صلى الله عليه وسلم تكلمنا وانبسطنا.
৫১৮৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় আমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে কথা-বার্তা ও হাসি-তামাশা করা থেকে দূরে থাকতাম এই ভয়ে যে, এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক করে কোন ওয়াহী অবতীর্ণ হয়ে যায় নাকি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর আমরা তাদের সঙ্গে নির্ভয়ে কথাবার্তা বলতাম ও হাসি-তামাশা করতাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৮)
হাদিস নং: ৫১৮৮
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن نافع عن عبد الله قال النبي صلى الله عليه وسلم كلكم راع وكلكم مسىول فالامام راع وهو مسىول والرجل راع على اهله„ وهو مسىول والمراة راعية على بيت زوجها وهي مسىولة والعبد راع على مال سيده„ وهو مسىول الا فكلكم راع وكلكم مسىول.
৫১৮৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে। একজন শাসক সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের রক্ষক, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন স্ত্রী তার স্বামীর গৃহের রক্ষক, সে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন গোলাম তার মনিবের সম্পদের রক্ষক, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব সাবধান, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে। [৮৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮০৯)
হাদিস নং: ৫১৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن عبد الرحمن، وعلي بن حجر، قالا اخبرنا عيسى بن يونس، حدثنا هشام بن عروة، عن عبد الله بن عروة، عن عروة، عن عاىشة، قالت جلس احدى عشرة امراة، فتعاهدن وتعاقدن ان لا يكتمن من اخبار ازواجهن شيىا. قالت الاولى زوجي لحم جمل، غث على راس جبل، لا سهل فيرتقى، ولا سمين فينتقل. قالت الثانية زوجي لا ابث خبره، اني اخاف ان لا اذره، ان اذكره اذكر عجره وبجره. قالت الثالثة زوجي العشنق، ان انطق اطلق وان اسكت اعلق. قالت الرابعة زوجي كليل تهامة، لا حر، ولا قر، ولا مخافة، ولا سامة. قالت الخامسة زوجي ان دخل فهد، وان خرج اسد، ولا يسال عما عهد. قالت السادسة زوجي ان اكل لف، وان شرب اشتف، وان اضطجع التف، ولا يولج الكف ليعلم البث، قالت السابعة زوجي غياياء او عياياء طباقاء، كل داء له داء، شجك او فلك او جمع كلا لك. قالت الثامنة زوجي المس مس ارنب، والريح ريح زرنب. قالت التاسعة زوجي رفيع العماد، طويل النجاد، عظيم الرماد، قريب البيت من الناد. قالت العاشرة زوجي مالك وما مالك، مالك خير من ذلك، له ابل كثيرات المبارك قليلات المسارح، واذا سمعن صوت المزهر ايقن انهن هوالك. قالت الحادية عشرة زوجي ابو زرع فما ابو زرع اناس من حلي اذنى، وملا من شحم عضدى، وبجحني فبجحت الى نفسي، وجدني في اهل غنيمة بشق، فجعلني في اهل صهيل واطيط وداىس ومنق، فعنده اقول فلا اقبح وارقد فاتصبح، واشرب فاتقنح، ام ابي زرع فما ام ابي زرع عكومها رداح، وبيتها فساح، ابن ابي زرع، فما ابن ابي زرع مضجعه كمسل شطبة، ويشبعه ذراع الجفرة، بنت ابي زرع فما بنت ابي زرع طوع ابيها، وطوع امها، وملء كساىها، وغيظ جارتها، جارية ابي زرع، فما جارية ابي زرع لا تبث حديثنا تبثيثا، ولا تنقث ميرتنا تنقيثا، ولا تملا بيتنا تعشيشا، قالت خرج ابو زرع والاوطاب تمخض، فلقي امراة معها ولدان لها كالفهدين يلعبان من تحت خصرها برمانتين، فطلقني ونكحها، فنكحت بعده رجلا سريا، ركب شريا واخذ خطيا واراح على نعما ثريا، واعطاني من كل راىحة زوجا وقال كلي ام زرع، وميري اهلك. قالت فلو جمعت كل شىء اعطانيه ما بلغ اصغر انية ابي زرع. قالت عاىشة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كنت لك كابي زرع لام زرع ". قال ابو عبد الله قال سعيد بن سلمة عن هشام ولا تعشش بيتنا تعشيشا. قال ابو عبد الله قال بعضهم فاتقمح. بالميم، وهذا اصح.
৫১৮৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ১১ জন মহিলা এক স্থানে একত্রিত বসল এবং সকলে মিলে এ কথার ওপর একমত হল যে, তারা নিজেদের স্বামীর ব্যাপারে কোন কিছুই গোপন রাখবে না।
প্রথম মহিলা বলল, আমার স্বামী হচ্ছে অত্যন্ত হাল্কা-পাতলা দুর্বল উটের মাংসের মত যেন কোন পর্বতের চুড়ায় রাখা হয়েছে এবং সেখানে উঠা সহজ কাজ নয় এবং মাংসের মধ্যে এত চর্বিও নেই, যে কারণে সেখানে উঠার জন্য কেউ কষ্ট স্বীকার করবে।
দ্বিতীয় জন বলল, আমি আমার স্বামী সম্পর্কে কিছু বলব না, কারণ আমি ভয় করছি যে, তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে শেষ করা যাবে না। কেননা, যদি আমি তার সম্পর্কে বলতে যাই, তা হলে আমাকে তার সকল দুর্বলতা এবং মন্দ দিকগুলো সম্পর্কেও বলতে হবে।
তৃতীয় মহিলা বলল, আমার স্বামী একজন দীর্ঘদেহী ব্যক্তি। আমি যদি তার বর্ণনা দেই (আর সে যদি তা শোনে) তাহলে সে আমাকে তালাক দিবে। আর যদি আমি কিছু না বলি, তাহলে সে আমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখবে। অর্থাৎ তালাকও দেবে না, স্ত্রীর মত ব্যবহারও করবে না।
চতুর্থ মহিলা বলল, আমার স্বামী হচ্ছে তিহামার রাতের মত মাঝামাঝি- অতি গরমও না, অতি ঠান্ডাও না, আর আমি তাকে ভয়ও করি না, আবার তার প্রতি অসন্তুষ্টও নই।
পঞ্চম মহিলা বলল, যখন আমার স্বামী ঘরে ঢুকে তখন চিতা বাঘের মত থাকে। যখন বাইরে যায় তখন সিংহের মত তার স্বভাব থাকে এবং ঘরের কোন কাজের ব্যাপারে কোন প্রশ্ন তোলে না।
৬ষ্ঠ মহিলা বলল, আমার স্বামী যখন খেতে বসে, তখন সব খেয়ে ফেলে। যখন পান করে, তখন সব শেষ করে। যখন নিদ্রা যায়, তখন একাই চাদর বা কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকে। এমনকি হাত বের করেও আমার খবর নেয় না।
সপ্তম মহিলা বলল, আমার স্বামী হচ্ছে পথভ্রষ্ট অথবা দুর্বল মানসিকতা সম্পন্ন এবং চরম বোকা, সব রকমের দোষ তার আছে। সে তোমার মাথায় বা শরীরে অথবা উভয় স্থানে আঘাত করতে পারে।
অষ্টম মহিলা বলল, আমার স্বামীর স্পর্শ হচ্ছে খরগোশের মত এবং তার দেহের সুগন্ধ হচ্ছে যারনাব (এক প্রকার বনফুল)-এর মত।
নবম মহিলা বলল, আমার স্বামী হচ্ছে অতি উচ্চ অট্টালিকার মত এবং তার তরবারি ঝুলিয়ে রাখার জন্য সে চামড়ার লম্বা ফালি পরিধান করে (অর্থাৎ সে দানশীল ও সাহসী)। তার ছাইভষ্ম প্রচুর পরিমাণের (অর্থাৎ প্রচুর মেহমান আছে এবং মেহমানদারীও হয়) এবং মানুষের জন্য তার গৃহ অবারিত। এলাকার জনগণ তার সঙ্গে সহজেই পরামর্শ করতে পারে।
দশম মহিলা বলল, আমার স্বামীর নাম হল মালিক। মালিকের কী প্রশংসা আমি করব। যা প্রশংসা করব সে তার চেয়ে ঊর্ধ্বে। তার অনেক মঙ্গলময় উট আছে, তার অধিকাংশ উটকেই ঘরে রাখা হয় (অর্থাৎ মেহমানদের যবাই করে খাওয়ানোর জন্য) এবং অল্প সংখ্যক মাঠে চরার জন্য রাখা হয়। বাঁশির শব্দ শুনলেই উটগুলো বুঝতে পারে যে, তাদেরকে মেহমানদের জন্য যবাই করা হবে।
একাদশতম মহিলা বলল, আমার স্বামী আবূ যার’আ। তার কথা আমি কী বলব। সে আমাকে এত অধিক গহনা দিয়েছে যে, আমার কান ভারী হয়ে গেছে, আমার বাজুতে মেদ জমেছে এবং আমি এত সন্তুষ্ট হয়েছি যে, আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি। সে আমাকে এনেছে অত্যন্ত গরীব পরিবার থেকে, যে পরিবার ছিল মাত্র কয়েকটি বকরীর মালিক। সে আমাকে অত্যন্ত ধনী পরিবারে নিয়ে আসে, যেখানে ঘোড়ার হরেষাধ্বনি এবং উটের হাওদার আওয়াজ এবং শস্য মাড়াইয়ের খসখসানি শব্দ শোনা যায়। সে আমাকে ধন-সম্পদের মধ্যে রেখেছে। আমি যা কিছু বলতাম, সে বিদ্রূপ করত না এবং আমি নিদ্রা যেতাম এবং সকালে দেরী করে উঠতাম এবং যখন আমি পান করতাম, অত্যন্ত তৃপ্তি সহকারে পান করতাম। আর আবূ যার’আর আম্মার কথা কী বলব! তার পাত্র ছিল সর্বদা পরিপূর্ণ এবং তার ঘর ছিল প্রশস্ত। আবূ জার’আর পুত্রের কথা কী বলব! সেও খুব ভাল ছিল। তার শয্যা এত সংকীর্ণ ছিল যে, মনে হত যেন কোষবদ্ধ তরবারি অর্থাৎ সে অত্যন্ত হালকা-পাতলা দেহের অধিকারী। তার খাদ্য হচ্ছে ছাগলের একখানা পা।
আর আবূ যার’আর কন্যা সম্পর্কে বলতে হয় যে, সে কতই না ভাল। সে বাপ-মায়ের সম্পূর্ণ বাধ্য সন্তান। সে অত্যন্ত সুস্বাস্থ্যের অধিকারিণী, যে কারণে সতীনরা তাকে হিংসা করে। আবূ যার’আর ক্রীতদাসীরও অনেক গুণ। সে আমাদের গোপন কথা কখনো প্রকাশ করত না, সে আমাদের সম্পদকে কমাত না এবং আমাদের বাসস্থানকে আবর্জনা দিয়ে ভরে রাখত না। সে মহিলা আরও বলল, একদিন দুধ দোহন করার সময় আবূ যার’আ বাইরে বেরিয়ে এমন একজন মহিলাকে দেখতে পেল, যার দু’টি পুত্র-সন্তান রয়েছে। ওরা মায়ের স্তন্য নিয়ে চিতা বাঘের মত খেলছিল (দুধ পান করছিল)। সে ঐ মহিলাকে দেখে আকৃষ্ট হল এবং আমাকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করল। এরপর আমি এক সম্মানিত ব্যক্তিকে বিয়ে করলাম। সে দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়ত এবং হাতে বর্শা রাখত। সে আমাকে অনেক সম্পদ দিয়েছে এবং প্রত্যেক প্রকারের গৃহপালিত জন্তু থেকে এক এক জোড়া আমাকে দিয়েছে এবং বলেছে, হে উম্মু যার’আ! তুমি এ সম্পদ থেকে খাও, পরিধান কর এবং উপহার দাও। মহিলা আরও বলল, সে আমাকে যা কিছু দিয়েছে, তা আবূ যার’আর একটি ক্ষুদ্র পাত্রও পূর্ণ করতে পারবে না (অর্থাৎ আবূ যার’আর সম্পদের তুলনায় তা খুবই সামান্য ছিল)। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ’’আবূ যার’আ তার স্ত্রী উম্মু যার’আর জন্য যেমন আমিও তোমার প্রতি তেমন (তবে আমি কক্ষনো তোমাকে তালাক দিব না)। [মুসলিম ৪৪/১৪, হাঃ ২৪৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮১০)
প্রথম মহিলা বলল, আমার স্বামী হচ্ছে অত্যন্ত হাল্কা-পাতলা দুর্বল উটের মাংসের মত যেন কোন পর্বতের চুড়ায় রাখা হয়েছে এবং সেখানে উঠা সহজ কাজ নয় এবং মাংসের মধ্যে এত চর্বিও নেই, যে কারণে সেখানে উঠার জন্য কেউ কষ্ট স্বীকার করবে।
দ্বিতীয় জন বলল, আমি আমার স্বামী সম্পর্কে কিছু বলব না, কারণ আমি ভয় করছি যে, তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে শেষ করা যাবে না। কেননা, যদি আমি তার সম্পর্কে বলতে যাই, তা হলে আমাকে তার সকল দুর্বলতা এবং মন্দ দিকগুলো সম্পর্কেও বলতে হবে।
তৃতীয় মহিলা বলল, আমার স্বামী একজন দীর্ঘদেহী ব্যক্তি। আমি যদি তার বর্ণনা দেই (আর সে যদি তা শোনে) তাহলে সে আমাকে তালাক দিবে। আর যদি আমি কিছু না বলি, তাহলে সে আমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখবে। অর্থাৎ তালাকও দেবে না, স্ত্রীর মত ব্যবহারও করবে না।
চতুর্থ মহিলা বলল, আমার স্বামী হচ্ছে তিহামার রাতের মত মাঝামাঝি- অতি গরমও না, অতি ঠান্ডাও না, আর আমি তাকে ভয়ও করি না, আবার তার প্রতি অসন্তুষ্টও নই।
পঞ্চম মহিলা বলল, যখন আমার স্বামী ঘরে ঢুকে তখন চিতা বাঘের মত থাকে। যখন বাইরে যায় তখন সিংহের মত তার স্বভাব থাকে এবং ঘরের কোন কাজের ব্যাপারে কোন প্রশ্ন তোলে না।
৬ষ্ঠ মহিলা বলল, আমার স্বামী যখন খেতে বসে, তখন সব খেয়ে ফেলে। যখন পান করে, তখন সব শেষ করে। যখন নিদ্রা যায়, তখন একাই চাদর বা কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকে। এমনকি হাত বের করেও আমার খবর নেয় না।
সপ্তম মহিলা বলল, আমার স্বামী হচ্ছে পথভ্রষ্ট অথবা দুর্বল মানসিকতা সম্পন্ন এবং চরম বোকা, সব রকমের দোষ তার আছে। সে তোমার মাথায় বা শরীরে অথবা উভয় স্থানে আঘাত করতে পারে।
অষ্টম মহিলা বলল, আমার স্বামীর স্পর্শ হচ্ছে খরগোশের মত এবং তার দেহের সুগন্ধ হচ্ছে যারনাব (এক প্রকার বনফুল)-এর মত।
নবম মহিলা বলল, আমার স্বামী হচ্ছে অতি উচ্চ অট্টালিকার মত এবং তার তরবারি ঝুলিয়ে রাখার জন্য সে চামড়ার লম্বা ফালি পরিধান করে (অর্থাৎ সে দানশীল ও সাহসী)। তার ছাইভষ্ম প্রচুর পরিমাণের (অর্থাৎ প্রচুর মেহমান আছে এবং মেহমানদারীও হয়) এবং মানুষের জন্য তার গৃহ অবারিত। এলাকার জনগণ তার সঙ্গে সহজেই পরামর্শ করতে পারে।
দশম মহিলা বলল, আমার স্বামীর নাম হল মালিক। মালিকের কী প্রশংসা আমি করব। যা প্রশংসা করব সে তার চেয়ে ঊর্ধ্বে। তার অনেক মঙ্গলময় উট আছে, তার অধিকাংশ উটকেই ঘরে রাখা হয় (অর্থাৎ মেহমানদের যবাই করে খাওয়ানোর জন্য) এবং অল্প সংখ্যক মাঠে চরার জন্য রাখা হয়। বাঁশির শব্দ শুনলেই উটগুলো বুঝতে পারে যে, তাদেরকে মেহমানদের জন্য যবাই করা হবে।
একাদশতম মহিলা বলল, আমার স্বামী আবূ যার’আ। তার কথা আমি কী বলব। সে আমাকে এত অধিক গহনা দিয়েছে যে, আমার কান ভারী হয়ে গেছে, আমার বাজুতে মেদ জমেছে এবং আমি এত সন্তুষ্ট হয়েছি যে, আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি। সে আমাকে এনেছে অত্যন্ত গরীব পরিবার থেকে, যে পরিবার ছিল মাত্র কয়েকটি বকরীর মালিক। সে আমাকে অত্যন্ত ধনী পরিবারে নিয়ে আসে, যেখানে ঘোড়ার হরেষাধ্বনি এবং উটের হাওদার আওয়াজ এবং শস্য মাড়াইয়ের খসখসানি শব্দ শোনা যায়। সে আমাকে ধন-সম্পদের মধ্যে রেখেছে। আমি যা কিছু বলতাম, সে বিদ্রূপ করত না এবং আমি নিদ্রা যেতাম এবং সকালে দেরী করে উঠতাম এবং যখন আমি পান করতাম, অত্যন্ত তৃপ্তি সহকারে পান করতাম। আর আবূ যার’আর আম্মার কথা কী বলব! তার পাত্র ছিল সর্বদা পরিপূর্ণ এবং তার ঘর ছিল প্রশস্ত। আবূ জার’আর পুত্রের কথা কী বলব! সেও খুব ভাল ছিল। তার শয্যা এত সংকীর্ণ ছিল যে, মনে হত যেন কোষবদ্ধ তরবারি অর্থাৎ সে অত্যন্ত হালকা-পাতলা দেহের অধিকারী। তার খাদ্য হচ্ছে ছাগলের একখানা পা।
আর আবূ যার’আর কন্যা সম্পর্কে বলতে হয় যে, সে কতই না ভাল। সে বাপ-মায়ের সম্পূর্ণ বাধ্য সন্তান। সে অত্যন্ত সুস্বাস্থ্যের অধিকারিণী, যে কারণে সতীনরা তাকে হিংসা করে। আবূ যার’আর ক্রীতদাসীরও অনেক গুণ। সে আমাদের গোপন কথা কখনো প্রকাশ করত না, সে আমাদের সম্পদকে কমাত না এবং আমাদের বাসস্থানকে আবর্জনা দিয়ে ভরে রাখত না। সে মহিলা আরও বলল, একদিন দুধ দোহন করার সময় আবূ যার’আ বাইরে বেরিয়ে এমন একজন মহিলাকে দেখতে পেল, যার দু’টি পুত্র-সন্তান রয়েছে। ওরা মায়ের স্তন্য নিয়ে চিতা বাঘের মত খেলছিল (দুধ পান করছিল)। সে ঐ মহিলাকে দেখে আকৃষ্ট হল এবং আমাকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করল। এরপর আমি এক সম্মানিত ব্যক্তিকে বিয়ে করলাম। সে দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়ত এবং হাতে বর্শা রাখত। সে আমাকে অনেক সম্পদ দিয়েছে এবং প্রত্যেক প্রকারের গৃহপালিত জন্তু থেকে এক এক জোড়া আমাকে দিয়েছে এবং বলেছে, হে উম্মু যার’আ! তুমি এ সম্পদ থেকে খাও, পরিধান কর এবং উপহার দাও। মহিলা আরও বলল, সে আমাকে যা কিছু দিয়েছে, তা আবূ যার’আর একটি ক্ষুদ্র পাত্রও পূর্ণ করতে পারবে না (অর্থাৎ আবূ যার’আর সম্পদের তুলনায় তা খুবই সামান্য ছিল)। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ’’আবূ যার’আ তার স্ত্রী উম্মু যার’আর জন্য যেমন আমিও তোমার প্রতি তেমন (তবে আমি কক্ষনো তোমাকে তালাক দিব না)। [মুসলিম ৪৪/১৪, হাঃ ২৪৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮১০)
হাদিস নং: ৫১৯০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا هشام اخبرنا معمر عن الزهري عن عروة عن عاىشة قالت كان الحبش يلعبون بحرابهم فسترني رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا انظر فما زلت انظر حتى كنت انا انصرف فاقدروا قدر الجارية الحديثة السن تسمع اللهو.
৫১৯০. ’উরওয়াহ, ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন হাবশীরা তাদের বর্শা নিয়ে খেলা করছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিয়ে পর্দা করে তার পেছনে দাঁড় করিয়ে ছিলেন এবং আমি সেই খেলা দেখছিলাম। যতক্ষণ আমার ভাল লাগছিল ততক্ষণ আমি দেখছিলাম। এরপর আমি স্বেচ্ছায় সে স্থান ত্যাগ করলাম। সুতরাং তোমরা অনুমান করতে পার কোন্ বয়সের মেয়েরা আমোদ-প্রমোদ পছন্দ করে। [৪৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮১১)