অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৭/১. বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। শ্রবণ করিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ (আন-নিসা ৪:৩)
মোট ১৮৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫১১১ সহিহ (Sahih)
لان عروة حدثني عن عاىشة قالت حرموا من الرضاعة ما يحرم من النسب.
৫১১১. ’উরওয়াহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, রক্তের সম্পর্কের কারণে যা হারাম, দুধ পানের কারণেও এসব তোমরা হারাম মনে করো। [২৬৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৩৮)
হাদিস নং: ৫১১২ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن نافع، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الشغار، والشغار ان يزوج الرجل ابنته على ان يزوجه الاخر ابنته، ليس بينهما صداق‏.‏
৫১১২. ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশশিগার নিষিদ্ধ করেছেন। ’আশ্-শিগার’ হলোঃ কোন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে অন্য এক ব্যক্তির পুত্রের সঙ্গে বিবাহ দিবে এবং তার কন্যা নিজের পুত্রের জন্য আনবে এবং দু কন্যাই মাহর পাবে না। [৬৯৬০; মুসলিম ১৬/৬, হাঃ ১৪১৫, আহমাদ ৪৫২৬] ](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৩৯)
হাদিস নং: ৫১১৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سلام، حدثنا ابن فضيل، حدثنا هشام، عن ابيه، قال كانت خولة بنت حكيم من اللاىي وهبن انفسهن للنبي صلى الله عليه وسلم فقالت عاىشة اما تستحي المراة ان تهب نفسها للرجل فلما نزلت ‏(‏ترجى من تشاء منهن‏)‏ قلت يا رسول الله ما ارى ربك الا يسارع في هواك‏.‏ رواه ابو سعيد المودب ومحمد بن بشر وعبدة عن هشام عن ابيه عن عاىشة يزيد بعضهم على بعض‏.‏
৫১১৩. হিশামের পিতা ’উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, যে সব মহিলা নিজেদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সমর্পণ করেছিলেন, খাওলা বিনতে হাকীম তাদেরই একজন ছিলেন। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, মহিলাদের কি লজ্জা হয় না যে, নিজেদেরকে পুরুষের কাছে সমর্পণ করছে? কিন্তু যখন কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হল- ’’হে মুহাম্মাদ! তোমাকে অধিকার দেয়া হল যে, নিজ স্ত্রীগণের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছে আলাদা রাখতে পার....।’’ (আল-আহযাবঃ ৫১) ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মনে হয়, আপনার রব আপনার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করার ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিচ্ছেন। উক্ত হাদীসটি আবূ সা’ঈদ মুয়াদ্দিব, মুহাম্মাদ ইবনু বিশর এবং ’আবদাহ্ হিশাম থেকে আর হিশাম তার পিতা হতে একে অপরের চেয়ে কিছু বর্ধিতভাবে ’আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। [৪৭৮৮](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪০)
হাদিস নং: ৫১১৪ সহিহ (Sahih)
مالك بن اسماعيل اخبرنا ابن عيينة اخبرنا عمرو حدثنا جابر بن زيد قال انبانا ابن عباس تزوج النبي صلى الله عليه وسلم وهو محرم
৫১১৪. জাবির ইবনু যায়দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, ইহরাম অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করেছেন। [১৮৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪১)
হাদিস নং: ৫১১৫ সহিহ (Sahih)
مالك بن اسماعيل حدثنا ابن عيينة انه“ سمع الزهري يقول اخبرني الحسن بن محمد بن علي واخوه“ عبد الله بن محمد عن ابيهما ان عليا قال لابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن المتعة وعن لحوم الحمر الاهلية زمن خيبر.
৫১১৫. হাসান ইব্নু মুহাম্মাদ ইব্নু ’আলী ও তাঁর ভাই ’আবদুল্লাহ্ তাঁদের পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, ’আলী (রাঃ) ইব্নু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর যুদ্ধে মুত’আহ বিয়ে এবং গৃহপালিত গাধার গোশ্ত খাওয়া নিষেধ করেছেন। [৪২১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪২)
হাদিস নং: ৫১১৬ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن ابي جمرة قال سمعت ابن عباس سىل عن متعة النساء فرخص فقال له مولى له انما ذ‘لك في الحال الشديد وفي النساء قلة او نحوه“ فقال ابن عباس نعم.
৫১১৬. আবূ জামরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আমি মহিলাদের মুত’আহ বিয়ে সম্পর্কে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করতে শুনেছি, তখন তিনি তার অনুমতি দেন। তাঁর আযাদকৃত গোলাম তাঁকে বললেন যে, এরূপ হুকুম নিতান্ত প্রয়োজন ও মহিলাদের স্বল্পতা ইত্যাদির কারণেই ছিল? ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বললেন, হাঁ। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৩)
হাদিস নং: ৫১১৭ সহিহ (Sahih)
علي حدثنا سفيان قال عمرو عن الحسن بن محمد عن جابر بن عبد الله وسلمة بن الاكوع قالا كنا في جيش فاتانا رسول رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال انه“ قد اذن لكم ان تستمتعوا فاستمتعوا
৫১১৭-৫১১৮. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ এবং সালাম আকওয়া’ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আমরা কোন এক সেনাবাহিনীতে ছিলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, তোমাদেরকে মুত’আহ বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা মুত’আহ করতে পার। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৪)
হাদিস নং: ৫১১৮ সহিহ (Sahih)
علي حدثنا سفيان قال عمرو عن الحسن بن محمد عن جابر بن عبد الله وسلمة بن الاكوع قالا كنا في جيش فاتانا رسول رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال انه“ قد اذن لكم ان تستمتعوا فاستمتعوا.
৫১১৭-৫১১৮. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ এবং সালাম আকওয়া’ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আমরা কোন এক সেনাবাহিনীতে ছিলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, তোমাদেরকে মুত’আহ বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা মুত’আহ করতে পার। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৪)
হাদিস নং: ৫১১৯ সহিহ (Sahih)
وقال ابن ابي ذىب حدثني اياس بن سلمة بن الاكوع عن ابيه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ايما رجل وامراة توافقا فعشرة ما بينهما ثلاث ليال فان احبا ان يتزايدا او يتتاركا تتاركا فما ادري اشيء كان لنا خاصة ام للناس عام.
قال ابو عبد الله وبينه“ علي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه“ منسوخ.
৫১১৯. ইবনু আবূ যিব বলেন, আয়াস ইবনু সালামাহ ইবনু আকওয়া’ তার পিতা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যে কোন পুরুষ এবং মহিলা উভয়ে (মুত’আহ করতে) একমত হলে তাদের পরস্পরের এ সম্পর্ক তিন রাতের জন্য গণ্য হবে। এরপর তারা ইচ্ছে করলে এর চেয়ে অধিক সময় স্থায়ী করতে পারে অথবা বিচ্ছিন্ন হতে চাইলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা জানি না এ ব্যবস্থা শুধু আমাদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, না সকল মানুষের জন্য ছিল।

আবূ ’আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) বলেন, ’আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটা পরিষ্কার করে ব’লে দিয়েছেন, মুতা’আ বিবাহ প্রথা রহিত হয়ে গেছে। [মুসলিম ১৬/২, হাঃ ১৪০৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৪)
হাদিস নং: ৫১২০ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا مرحوم بن عبد العزيز بن مهران قال سمعت ثابتا البناني قال كنت عند انس وعنده“ ابنة له“ قال انس جاءت امراة الى رسول الله صلى الله عليه وسلم تعرض عليه نفسها قالت يا رسول الله الك بي حاجة فقالت بنت انس ما اقل حياءها وا سواتاه وا سواتاه قال هي خير منك رغبت في النبي صلى الله عليه وسلم فعرضت عليه نفسها.
৫১২০. সাবিত আল বুনানী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তখন তাঁর কাছে তাঁর কন্যাও ছিলেন। আনাস (রাঃ) বললেন, একজন মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কি আমার প্রয়োজন আছে? এ কথা শুনে আনাস (রাঃ)-এর কন্যা বললেন, সেই মহিলা কতই না নির্লজ্জ, ছিঃ লজ্জার কথা। আনাস (রাঃ) বললেন, সে মহিলা তোমার চেয়ে উত্তম, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য পেতে অনুরাগী হয়েছিল। এ কারণেই সে নিজেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পেশ করেছে। [৬১২৩](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৫)
হাদিস নং: ৫১২১ সহিহ (Sahih)
سعيد بن ابي مريم حدثنا ابو غسان قال حدثني ابو حازم عن سهل بن سعد ان امراة عرضت نفسها على النبيصلى الله عليه وسلم فقال له“ رجل يا رسول الله زوجنيها فقال ما عندك قال ما عندي شيء قال اذهب فالتمس ولو خاتما من حديد فذهب ثم رجع فقال لا والله ما وجدت شيىا ولا خاتما من حديد ولكن هذا ازاري ولها نصفه“ قال سهل وما له“ رداء فقال النبي صلى الله عليه وسلم وما تصنع بازارك ان لبسته“ لم يكن عليها منه“ شيء وان لبسته“ لم يكن عليك منه“ شيء فجلس الرجل حتى اذا طال مجلسه“ قام فراه النبي صلى الله عليه وسلمفدعاه“او دعي له“ فقال له“ ماذا معك من القران فقال معي سورة كذا وسورة كذا لسور يعددها فقال النبي صلى الله عليه وسلم املكناكها بما معك من القران.
৫১২১. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একজন মহিলা এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিজেকে পেশ করলেন। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে আমার সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করিয়ে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কী আছে? সে উত্তর দিল, আমার কাছে কিছুই নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাও, তালাশ কর, কোন কিছু পাও কিনা? দেখ যদি একটি লোহার আংটিও পাও। লোকটি চলে গেল এবং ফিরে এসে বলল, কিছুই পেলাম না এমনকি একটি লোহার আংটিও না; কিন্তু আমার এ তহবন্দখানা আছে। এর অর্ধেকাংশ তার জন্য। সাহল (রাঃ) বলেন, তার দেহে কোন চাদর ছিল না।

অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার তহবন্দ দিয়ে সে কী করবে? যদি তুমি এটা পর, মহিলার শরীরে কিছুই থাকবে না, আর যদি এটা সে পরে তবে তোমার শরীরে কিছুই থাকবে না। এরপর লোকটি অনেকক্ষণ বসে রইল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চলে যেতে দেখে ডাকলেন বা তাকে ডাকানো হল এবং বললেন, তুমি কুরআন কতটুকু জান? সে বলল, আমার অমুক অমুক সূরা মুখস্থ আছে এবং সে সূরাগুলোর উল্লেখ করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে পরিমাণ কুরআন জান, তার বিনিময়ে তোমাকে এর সঙ্গে বিয়ে দিলাম। [২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৬)
হাদিস নং: ৫১২২ সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن صالح بن كيسان عن ابن شهاب قال اخبرني سالم بن عبد الله انه“ سمع عبد الله بن عم ر يحدث ان عمر بن الخطاب حين تايمت حفصة بنت عمر من خنيس بن حذافة السهمي وكان من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فتوفي بالمدينة فقال عمر بن الخطاب اتيت عثمان بن عفان فعرضت عليه حفصة فقال سانظر في امري فلبثت ليالي ثم لقيني فقال قد بدا لي ان لا اتزوج يومي هذا قال عمر فلقيت ابا بكر الصديق فقلت ان شىت زوجتك حفصة بنت عمر فصمت ابو بكر فلم يرجع الي شيىا وكنت اوجد عليه مني على عثمان فلبثت ليالي ثم خطبها رسول الله صلى الله عليه وسلم فانكحتها اياه“ فلقيني ابو بكر فقال لعلك وجدت علي حين عرضت علي حفصة فلم ارجع اليك شيىا قال عمر قلت نعم قال ابو بكر فانه“ لم يمنعني ان ارجع اليك فيما عرضت علي الا اني كنت علمت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد ذكرها فلم اكن لافشي سر رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو تركها رسول الله صلى الله عليه وسلم قبلتها.
৫১২২. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন ’উমার (রাঃ)-এর কন্যা হাফসাহ (রাঃ) খুনায়স ইবনু হুযাইফাহ সাহমীর মৃত্যুতে বিধবা হলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী ছিলেন এবং মদিনায় ইন্তিকাল করেন। ’উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আমি ’উসমান ইবনু ’আফফান (রাঃ)-এর কাছে গেলাম এবং হাফসাহকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দিলাম; তখন তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করে দেখি। এরপর আমি কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম, তারপর আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমার কাছে এটা প্রকাশ পেয়েছে যে, যেন এখন আমি তাকে বিয়ে না করি। ’উমার (রাঃ) বলেন, তারপর আমি আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, যদি আপনি চান তাহলে আপনার সঙ্গে ’উমারের কন্যা হাফসাহকে বিয়ে দেই।

আবূ বকর (রাঃ) নীরব থাকলেন এবং প্রতি-উত্তরে আমাকে কিছুই বললেন না। এতে আমি ’উসমান (রাঃ)-এর চেয়ে অধিক অসন্তুষ্ট হলাম, তারপর আমি কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাহকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠালেন এবং হাফসাহ্কে আমি তার সঙ্গে বিয়ে দিলাম। এরপর আবূ বকর (রাঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, সম্ভবত আপনি আমার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আপনি যখন হাফসাহকে আমার জন্য পেশ করেন তখন আমি কোন উত্তর দেইনি। ’উমার (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হাঁ। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আপনার প্রস্তাবে সাড়া দিতে কোন কিছুই আমাকে বিরত করেনি; এ ছাড়া যে, আমি জানি, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাহর বিষয় উল্লেখ করেছেন আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন ভেদ প্রকাশ আমার পক্ষে কখনও সম্ভব নয়। যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা ত্যাগ করতেন তাহলে আমি হাফসাহকে গ্রহণ করতাম। [৪০০৫](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৭)
হাদিস নং: ৫১২৩ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا الليث عن يزيد بن ابي حبيب عن عراك بن مالك ان زينب بنت ابي سلمة اخبرته“ ان ام حبيبة قالت لرسول الله صلى الله عليه وسلم انا قد تحدثنا انك ناكح درة بنت ابي سلمة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اعلى ام سلمة لو لم انكح ام سلمة ما حلت لي ان اباها اخي من الرضاعة.
৫১২৩. ইরাক ইবনু মালিক (রহ.) হতে বর্ণিত যে, যাইনাব বিন্তে আবূ সালামাহ (রাঃ) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলেছেন, আপনি দুররাহ্ বিন্তে আবূ সালামাহ্কে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। এ কথা আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উম্মু সালামাহ থাকতে আমি তাকে বিয়ে করব? যদি আমি উম্মু সালামাহকে বিয়ে না-ও করতাম, তবুও সে আমার জন্য হালাল হত না। কেননা তার পিতা আমার দুধভাই। [৫১০১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৮)
হাদিস নং: ৫১২৪ সহিহ (Sahih)
وقال لي طلق حدثنا زاىدة، عن منصور، عن مجاهد، عن ابن عباس، ‏(‏فيما عرضتم‏)‏ يقول اني اريد التزويج، ولوددت انه تيسر لي امراة صالحة‏.‏ وقال القاسم يقول انك على كريمة، واني فيك لراغب، وان الله لساىق اليك خيرا‏.‏ او نحو هذا‏.‏ وقال عطاء يعرض ولا يبوح يقول ان لي حاجة وابشري، وانت بحمد الله نافقة‏.‏ وتقول هي قد اسمع ما تقول‏.‏ ولا تعد شيىا ولا يواعد وليها بغير علمها، وان واعدت رجلا في عدتها ثم نكحها بعد لم يفرق بينهما‏.‏ وقال الحسن ‏(‏لا تواعدوهن سرا‏)‏ الزنا‏.‏ ويذكر عن ابن عباس ‏(‏الكتاب اجله‏)‏ تنقضي العدة‏.‏
أَكْنَنْتُمْ أَضْمَرْتُمْ وَكُلُّ شَيْءٍ صُنْتَه“ وَأَضْمَرْتَه“ فَهُوَ مَكْنُونٌ. أَكْنَنْتُمْ

আরবী অর্থ- তোমরা গোপনে মনে পোষণ কর, প্রত্যেক বস্তু যা তুমি গোপনে রাখ তা হলো ’মাকনূন’।


৫১২৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ’’যদি কোন ব্যক্তি ইদ্দাত পালনকারী কোন মহিলাকে বলে যে, আমার বিয়ে করার ইচ্ছে আছে। আমি কোন নেককার মহিলাকে পেতে ইচ্ছে পোষণ করি।’’ কাসিম (রহ.) বলেন, এ আয়াতের ব্যাখ্যা হচ্ছে, যেন কোন ব্যক্তি বলল, তুমি আমার কাছে খুবই সম্মানিতা এবং আমি তোমাকে পছন্দ করি। আল্লাহ্ তোমার জন্য কল্যাণ বর্ষণ করুন। অথবা এ ধরনের উক্তি। ’আত্বা (রহ.) বলেন, বিয়ের ইচ্ছে ইশারায় ব্যক্ত করা উচিত, খোলাখুলি এ ধরনের কোন কথা বলা ঠিক নয়। কেউ এ ধরনের বলতে পারে, আমার এ সকল গুণের প্রয়োজন আছে। আর তোমার জন্য সুখবর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য আপনি পুনঃ বিয়ের উপযুক্ত। সে মহিলাও বলতে পারে- আপনি যা বলেছেন, তা আমি শুনেছি কিন্তু এর অধিক ওয়াদা করা ঠিক নয়। তার অভিভাবকদেরও তার অজ্ঞাতে কোন প্রকার ওয়াদা দেয়া ঠিক নয়। কিন্তু যদি কেউ ইদ্দাতের মাঝে কাউকে বিয়ের কোন প্রকার ওয়াদা করে এবং ইদ্দাত শেষে সে ব্যক্তি যদি তাকে বিয়ে করে তবে সেই বিয়ে বিচ্ছেদ করতে হবে না। হাসান (রহ.) বলেছে‏ন لاَ تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا এর অর্থ হলঃ ব্যভিচার।

ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা বলা হয় যে, ‏الْكِتَابُ أَجَلَهُ‏‏ অর্থ হল- ’ইদ্দাত পূর্ণ হওয়া। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৫১২৫ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا حماد بن زيد عن هشام عن ابيه عن عاىشة قالت قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم رايتك في المنام يجيء بك الملك في سرقة من حرير فقال ليهذه„ امراتك فكشفت عن وجهك الثوب فاذا انت هي فقلت ان يك هذا من عند الله يمضه„.
৫১২৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, আমি তোমাকে স্বপ্নের মধ্যে দেখেছি, একজন ফেরেশতা তোমাকে রেশমী চাদরে জড়িয়ে আমার কাছে নিয়ে এসে বলল, এ হচ্ছে আপনার স্ত্রী। এরপর আমি তোমার মুখমণ্ডল
থেকে চাদর খুলে ফেলে তোমাকে দেখতে পেলাম। তখন আমি বললাম, যদি স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তা বাস্তবায়িত হবে।[1][৩৮৯৫](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৯)
নোট: [1] দাম্পত্য জীবনকে সুখময় ও স্থায়ী করার মানসে ও সুখ সমৃদ্ধির জন্য বিয়ের পূর্বে কনেকে দেখে নেয়া উচিত বলে ইসলামে স্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ পর্যায়ে সর্বপ্রথম দলীল হচ্ছে কুরআন মাজীদের নিম্নোক্ত বাণী-

‘তোমরা বিয়ে কর সেই স্ত্রীলোক যাকে তোমাদের ভাল লাগে।’ (সূরা আন-নিসা : ৩)

ইমাম সুয়ূতী এ আয়াতের ভিত্তিতে দাবী করে বলেছেন- এ আয়াতে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে বিয়ের পূর্বে কনেকে দেখে নেয়া সম্পূর্ণ হালাল। কেননা কোন্ মেয়ে পছন্দ কিংবা কোন্ মেয়ে ভাল হবে তা নিজের চোখে দেখেই আন্দাজ করা যেতে পারে। (রুহুল মা‘আনী ১৯৬ পৃঃ)

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেনঃ নাবী ﷺ বলেছেন-

إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمْ الْمَرْأَةَ فَإِنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ)) قَالَ فَخَطَبْتُ جَارِيَةً فَكُنْتُ أَتَخَبَّأُ لَهَا حَتَّى رَأَيْتُ مِنْهَا مَا دَعَانِي إِلَى نِكَاحِهَا وَتَزَوُّجِهَا فَتَزَوَّجْتُهَا.

‘‘তোমাদের কেউ যখন কোন মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেবে তখন নিজ চোখে তা দেখে নেয়ার অবশ্যই চেষ্টা করবে যা তাকে বিয়ে করতে আকর্ষিত করে। জাবির ইবনে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন- [রসূলের উক্ত কথা শুনে] আমি একটি মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলাম। তারপর তাকে গোপনে দেখে নেয়ার জন্য আমি চেষ্টা চালাতে শুরু করি। শেষ পর্যন্ত আমি তার মধ্যে এমন কিছু দেখতে পাই যা আমাকে আকৃষ্ট ও উদ্বুদ্ধ করে তাকে বিয়ে করে স্ত্রী হিসেবে বরণ করে নিতে। অতঃপর আমি তাকে বিয়ে করি। [আবূ দাঊদ (২০৮২) (হাদীসটিকে শাইখ আলবানী হাসান আখ্যা দিয়েছেন। নাবী -এর বাণী পর্যন্ত হাদীসটি ইমাম আহমাদও (১৪১৭৬, ১৪৪৫৫) বর্ণনা করেছেন]।

ইমাম আহমাদের বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায় যে, জাবির (রাঃ) একটি গাছেরডালে গোপনে বসে থেকে প্রস্তাবিত কনেকে দেখে নিয়েছিলেন। (মুসনাদে আহমাদ)

মুহাম্মাদ বিন মাসলামা (রাঃ)হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেনঃ

خَطَبْتُ امْرَأَةً فَجَعَلْتُ أَتَخَبَّأُ لَهَا حَتَّى نَظَرْتُ إِلَيْهَا فِي نَخْلٍ لَهَا فَقِيلَ لَهُ أَتَفْعَلُ هٰذَا وَأَنْتَ صَاحِبُ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ إِذَا أَلْقَى اللهُ فِي قَلْبِ امْرِئٍ خِطْبَةَ امْرَأَةٍ فَلَا بَأْسَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا.

আমি এক মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, অতঃপর আমি তাকে গোপনে দেখার চেষ্টা শুরু করলাম। আমি তার (মেয়ের) একটি গাছের মধ্য থেকে তাকে দেখলাম। তাকে [মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাকে -কে] বলা হলঃ আপনি এরূপ কর্ম করছেন অথচ আপনি রসূল -এর একজন সাহাবী! তখন তিনি বললেনঃ আমি রসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি- যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন পুরুষের মনে কোন বিশেষ মেয়েকে বিয়ে করার বাসনা জাগাবেন, তখন তাকে নিজ চোখে দেখে নেয়ায় কোনই দোষ নেই। [হাদীসটি ইবনু মাজাহ্ বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সহীহ্, দেখুন ‘‘সিলসিলাহ্ সহীহাহ্’’ (৯৮, ১ম খন্ড) ও ‘‘সহীহ্ ইবনু মাজাহ্’’ (১৮৬৪)]।

হাদীসের মধ্যে রসূল আরো বলেছেনঃ

(إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمْ امْرَأَةً فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَّنْظُرَ إِلَيْهَا إِذَا كَانَ إِنَّمَا يَنْظُرُ إِلَيْهَا لِخِطْبَتِهِ وَإِنْ كاَنَتْ لاَ تَعْلَمُ) .

‘‘যখন তোমাদের কেউ কোন মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিবে তখন তাকে দেখতে কোন সমস্যা নেই, যদি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার উদ্দেশ্যে দেখে, যদিও তা সে মেয়ে না জানে।’’ [হাদীসটি ইমাম ত্বহাবী, আহমাদ ও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। হাদীসটিকে শাইখ আলবানী সহীহ্ আখ্যা দিয়েছেন, দেখুন ‘‘সিলসিলাহ্ সহীহাহ্’’ (৯৭)]।

এ হাদীসগুলোর কারণে বিয়ের পূর্বেই কনে দেখে নেয়া বাঞ্ছনীয়। তাতে করে তার ভাবী স্ত্রী সম্পর্কে মনে খুঁৎখুঁতে ভাব ও সন্দেহ দূর হয়ে যাবে। থাকবে না কোন দ্বিধা দ্বন্দ্বের অবকাশ। শুধু তাই-ই নয়, এর ফলে ভাবী বধূর প্রতি আকর্ষণ জাগবে এবং সেই স্ত্রীকে পেয়ে সে সুখী হতে পারবে।

এ হাদীসগুলোর দিকে গভীরভাবে দৃষ্টি দিলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, শুধুমাত্র চেহারা ও হাত দেখাকে বুঝানো হয়নি, বরং মেয়ের আরো কিছু অঙ্গ যেমন হাঁটুর নিম্নের পায়ের নলার গোস্তের অংশ, কাঁধ, চুল, বা অনুরূপ কিছু অংশও দেখা যাবে এরূপ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ মতটিই সঠিক। এ সম্পর্কে সুবিখ্যাত মুহাদ্দিস শাইখ আলবানী তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘‘সিলসিলাহ্ সহীহাহ্’’ এর প্রথম খন্ডের (৯৯) নম্বর হাদীসের ব্যাখ্যার মধ্যে একটি চমৎকার পর্যালোচনা সহকারে ফাকীহ্গণের মতামতগুলো তুলে ধরে উক্ত সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে দেখাটা যেন একমাত্র বিয়ের উদ্দেশ্যে হয়। অন্যকোন কুরুচিপূর্ণ মানসিকতা নিয়ে যেন না হয়।
হাদিস নং: ৫১২৬ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا يعقوب عن ابي حازم عن سهل بن سعد ان امراة جاءت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله جىت لاهب لك نفسي فنظر اليها رسول الله صلى الله عليه وسلم فصعد النظر اليها وصوبه“ ثم طاطا راسه“ فلما رات المراة انه“ لم يقض فيها شيىا جلست فقام رجل من اصحابه„ فقال اي رسول الله ان لم تكن لك بها حاجة فزوجنيها فقال هل عندك من شيء قال لا والله يا رسول الله قال اذهب الى اهلك فانظر هل تجد شيىا فذهب ثم رجع فقال لا والله يا رسول الله ما وجدت شيىا قال انظر ولو خاتما من حديد فذهب ثم رجع فقال لا والله يا رسول الله ولا خاتما من حديد ولكن هذا ازاري قال سهل ما له“ رداء فلها نصفه“ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما تصنع بازارك ان لبسته“ لم يكن عليها منه“ شيء وان لبسته“ لم يكن عليك منه“ شيء فجلس الرجل حتى طال مجلسه“ ثم قام فراه“ رسول الله صلى الله عليه وسلم موليا فامر به„ فدعي فلما جاء قال ماذا معك من القران قال معي سورة كذا وسورة كذا وسورة كذا عددها قال اتقروهن عن ظهر قلبك قال نعم قال اذهب فقد ملكتكها بما معك من القران.
৫১২৬. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ করতে এসেছি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে দেখলেন এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দৃষ্টি দিলেন। আপাদমস্তক দেখা শেষ করে তিনি মাথা নিচু করলেন। যখন মহিলা দেখতে পেল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে কোন ফয়সালা দিচ্ছেন না, তখন সে বসে পড়ল। তারপর একজন সাহাবী দাঁড়িয়ে অনুরোধ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনার এ মহিলার কোন প্রয়োজন না থাকে, তাহলে আমার সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কোন সম্পদ আছে কি? সে বলল- না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে কোন সম্পদ নেই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পরিবারের কাছে গিয়ে দেখ, কোন কিছু পাও কিনা?

তারপর সে চলে গেল, ফিরে এসে বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কিছুই পেলাম না। তখন তিনি বললেন, দেখ, একটি লোহার আংটি পাও কিনা! এরপর সে চলে গেল। ফিরে এসে বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম, একটি লোহার আংটিও পেলাম না; কিন্তু এই আমার তহবন্দ আছে। [বর্ণনাকারী সাহল (রাঃ) বলেন, তার কোন চাদর ছিল না] এর অর্ধেক তাকে দিয়ে দেব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার এ তহবন্দ দ্বারা কী হবে? যদি তুমি পর তবে তার জন্য কিছুই থাকবে না, আর যদি সে পরে তাহলে তোমার জন্য কিছুই থাকবে না। এরপর লোকটি বসে পড়ল। দীর্ঘক্ষণ পরে সে চলে যাবার জন্য উদ্যত হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেন এবং ডেকে এনে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কুরআন কতটুকু জানা আছে? সে বলল, হ্যাঁ, আমার অমুক, অমুক, অমুক সূরা জানা আছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এগুলো মুখস্থ পড়তে পার? সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, যাও, যে পরিমাণ কুরআন মাজীদ মুখস্থ জান, এর বিনিময়ে এই মহিলাকে তোমার সঙ্গে বিয়ে করিয়ে দিলাম। [২৩১০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫০)
হাদিস নং: ৫১২৭ সহিহ (Sahih)
قال يحيى بن سليمان حدثنا ابن وهب عن يونس ح و حدثنا احمد بن صالح حدثنا عنبسة حدثنا يونس عن ابن شهاب قال اخبرني عروة بن الزبير ان عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته“ ان النكاح في الجاهلية كان على اربعة انحاء فنكاح منها نكاح الناس اليوم يخطب الرجل الى الرجل وليته“ او ابنته“ فيصدقها ثم ينكحها ونكاح اخر كان الرجل يقول لامراته„ اذا طهرت من طمثها ارسلي الى فلان فاستبضعي منه“ ويعتزلها زوجها ولا يمسها ابدا حتى يتبين حملها من ذ‘لك الرجل الذي تستبضع منه“ فاذا تبين حملها اصابها زوجها اذا احب وانما يفعل ذ‘لك رغبة في نجابة الولد فكان هذا النكاح نكاح الاستبضاع ونكاح اخر يجتمع الرهط ما دون العشرة فيدخلون على المراة كلهم يصيبها فاذا حملت ووضعت ومر عليها ليال بعد ان تضع حملها ارسلت اليهم فلم يستطع رجل منهم ان يمتنع حتى يجتمعوا عندها تقول لهم قد عرفتم الذي كان من امركم وقد ولدت فهو ابنك يا فلان تسمي من احبت باسمه„ فيلحق به„ ولدها لا يستطيع ان يمتنع به„ الرجل ونكاح الرابع يجتمع الناس الكثير فيدخلون على المراة لا تمتنع ممن جاءها وهن البغايا كن ينصبن على ابوابهن رايات تكون علما فمن ارادهن دخل عليهن فاذا حملت احداهن ووضعت حملها جمعوا لها ودعوا لهم القافة ثم الحقوا ولدها بالذي يرون فالتاط به„ ودعي ابنه“ لا يمتنع من ذ‘لك فلما بعث محمد صلى الله عليه وسلم بالحق هدم نكاح الجاهلية كله“ الا نكاح الناس اليوم.
(فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ) فَدَخَلَ فِيهِ الثَّيِّبُ وَكَذَلِكَ الْبِكْرُ.
وَقَالَ: (وَلاَ تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا) وَقَالَ: (وَأَنْكِحُوا الأَيَامَى مِنْكُمْ)

’’যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, তারপর তাদের ইদ্দৎ পূর্ণ হয়ে যায়, সে অবস্থায় তারা স্বামীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইলে তাদেরকে বাধা দিও না’’- সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/২৩২)-এনির্দেশের আওতায় বয়স্কা বিবাহিতা মহিলারা যেমন, তেমনি কুমারী মেয়েরাও এসে গেছে। মহান আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ’’তোমরা মুশরিক মহিলাদেরকে কখনও বিয়ে করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ঈমান না আনবে’’- সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/২২১)।আল্লাহ্ তা’আলা আরও বলেন, ’’তোমাদের ভিতরে যারা অবিবাহিতা আছে তাদের বিয়ে দিয়ে দাও’’- সূরাহ আন-নূর ২৪/৩২)।


৫১২৭. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, জাহিলী যুগে চার প্রকারের বিয়ে প্রচলিত ছিল। এক প্রকার হচ্ছে, বর্তমান যে ব্যবস্থা চলছে অর্থাৎ কোন ব্যক্তি কোন মহিলার অভিভাবকের নিকট তার অধীনস্থ মহিলা অথবা তার কন্যার জন্য বিবাহের প্রস্তাব দিবে এবং তার মাহর নির্ধারণের পর বিবাহ করবে। দ্বিতীয় হচ্ছে, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে মাসিকঋতু থেকে মুক্ত হবার পর এ কথা বলত যে, তুমি অমুক ব্যক্তির কাছে যাও এবং তার সঙ্গে যৌন মিলন কর। এরপর স্ত্রী তার স্বামীর থেকে পৃথক থাকত এবং কখনও এক বিছানায় ঘুমাত না, যতক্ষণ না সে অন্য ব্যক্তির দ্বারা গর্ভবতী হত, যার সঙ্গে স্ত্রীর যৌন মিলন হত।

যখন তার গর্ভ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ হত তখন ইচ্ছে করলে স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করত। এটা ছিল তার স্বামীর অভ্যাস। এতে উদ্দেশ্য ছিল যাতে করে সে একটি উন্নত জাতের সন্তান লাভ করতে পারে। এ ধরনের বিয়েকে ’নিকাহুল ইস্তিবদা’ বলা হত। তৃতীয় প্রথা ছিল যে, দশ জনের কম কয়েক ব্যক্তি একত্রিত হয়ে পালাক্রমে একই মহিলার সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হত। যদি মহিলা এর ফলে গর্ভবতী হত এবং কোন সন্তান ভূমিষ্ট হবার পর কিছুদিন অতিবাহিত হত, সেই মহিলা এ সকল ব্যক্তিকে ডেকে পাঠাত এবং কেউই আসতে অস্বীকৃতি জানাতে পারত না।

যখন সকলেই সেই মহিলার সামনে একত্রিত হত, তখন সে তাদেরকে বলত, তোমরা সকলেই জান- তোমরা কী করেছ! এখন আমি সন্তান প্রসব করেছি, সুতরাং হে অমুক! এটা তোমারই সন্তান। ঐ মহিলা যাকে খুশি তার নাম ধরে ডাকত, তখন এ ব্যক্তি উক্ত শিশুটিকে গ্রহণ করতে বাধ্য থাকত এবং ঐ মহিলা তার স্ত্রীরূপে গণ্য হত। চতুর্থ প্রকারের বিবাহ হচ্ছে, বহু পুরুষ একই মহিলার সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হত এবং ঐ মহিলা তার কাছে যত পুরুষ আসত, কাউকে শয্যা-সঙ্গী করতে অস্বীকার করত না। এরা ছিল পতিতা, যার চিহ্ন হিসেবে নিজ ঘরের সামনে পতাকা উড়িয়ে রাখত। যে কেউ ইচ্ছে করলে অবাধে এদের সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হতে পারত।

যদি এ সকল মহিলাদের মধ্য থেকে কেউ গর্ভবতী হত এবং কোন সন্তান প্রসব করত তাহলে যৌন মিলনে লিপ্ত হওয়া সকল কাফাহ্ পুরুষ এবং একজন ’কাফাহ্’ (এমন একজন বিশেষজ্ঞ, যারা সন্তানের মুখ অথবা শরীরের কোন অঙ্গ দেখে বলতে পারত- অমুকের ঔরসজাত সন্তান)-কে ডেকে আনা হত। সে সন্তানটির যে লোকটির সঙ্গে সাদৃশ্য দেখতে পেত তাকে বলত, এটি তোমার সন্তান। তখন ঐ লোকটি ঐ সন্তানকে নিজের হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হত এবং লোকে ঐ সন্তানকে তার সন্তান হিসাবে আখ্যা দিত এবং সে এই সন্তানকে অস্বীকার করতে পারত না। যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্য দ্বীনসহ পাঠানো হল তখন তিনি বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থা ছাড়া জাহিলী যুগের সমস্ত বিবাহের রীতি বাতিল করে দিলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ ৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫১)
হাদিস নং: ৫১২৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى، حدثنا وكيع، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة، ‏(‏وما يتلى عليكم في الكتاب في يتامى النساء اللاتي لا توتونهن ما كتب لهن وترغبون ان تنكحوهن‏)‏‏.‏ قالت هذا في اليتيمة التي تكون عند الرجل، لعلها ان تكون شريكته في ماله، وهو اولى بها، فيرغب ان ينكحها، فيعضلها لمالها، ولا ينكحها غيره، كراهية ان يشركه احد في مالها‏.‏
৫১২৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ’’আল্লাহ তাদের সম্বন্ধে তোমাদেরকে বিধান জানিয়ে দিচ্ছেন সেসব নারী সম্পর্কে যাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান কর না অথচ তাদেরকে বিয়ে করতে চাও’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ১২৭) তিনি বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ঐ ইয়াতীম নারীদের সম্পর্কে, যারা কোন অভিভাবকের আওতাধীন রয়েছে এবং তার ধন-সম্পদে সে মালিকানা রাখে কিন্তু তাকে বিয়ে করা পছন্দ করে না এবং তার সম্পদের জন্য অন্যের কাছে বিয়ে দিতে আগ্রহীও নয়, যাতে করে অন্য লোক এ সম্পত্তিতে তাদের সঙ্গে অংশীদার হয়ে না বসে (উক্ত আয়াতে অভিভাবকদেরকে এরূপ অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫২)
হাদিস নং: ৫১২৯ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا هشام اخبرنا معمر حدثنا الزهري قال اخبرني سالم ان ابن عمر اخبره“ ان عمر حين تايمت حفصة بنت عمر من ابن حذافة السهمي وكان من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم من اهل بدر توفي بالمدينة فقال عمر لقيت عثمان بن عفان فعرضت عليه فقلت ان شىت انكحتك حفصة فقال سانظر في امري فلبثت ليالي ثم لقيني فقال بدا لي ان لا اتزوج يومي هذا قال عمر فلقيت ابا بكر فقلت ان شىت انكحتك حفصة.
৫১২৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার (রাঃ)-এর কন্যা হাফসাহ (রাঃ) যখন তার স্বামী খুনায়স ইবনু হুযাফাহ আস সাহমীর মৃত্যুর ফলে বিধবা হল, ইনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ছিলেন এবং বদরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন এবং মদিনায় ইন্তিকাল করেন। ’উমার (রাঃ) বলেন, আমি ’উসমান ইবনু ’আফফান (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর কাছে হাফসাহর বিয়ের প্রস্তাব করলাম এই বলে যে, যদি আপনি ইচ্ছা করেন, তবে হাফসাকে আপনার সঙ্গে বিয়ে দিব। তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করে দেখি। আমি কয়েকদিন অপেক্ষা করলাম। তারপর তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমি বর্তমানে বিয়ে না করার জন্য মনস্থির করেছি। ’উমার (রাঃ) আরো বলেন, আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, আপনি যদি চান, তাহলে হাফসাকে আপনার সঙ্গে বিয়ে দেব। [৪০০৫](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৩)
হাদিস নং: ৫১৩০ সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن ابي عمرو، قال حدثني ابي قال، حدثني ابراهيم، عن يونس، عن الحسن، ‏(‏فلا تعضلوهن‏)‏ قال حدثني معقل بن يسار، انها نزلت فيه قال زوجت اختا لي من رجل فطلقها، حتى اذا انقضت عدتها جاء يخطبها، فقلت له زوجتك وفرشتك واكرمتك، فطلقتها، ثم جىت تخطبها، لا والله لا تعود اليك ابدا، وكان رجلا لا باس به وكانت المراة تريد ان ترجع اليه فانزل الله هذه الاية ‏(‏فلا تعضلوهن‏)‏ فقلت الان افعل يا رسول الله‏.‏ قال فزوجها اياه‏.‏
৫১৩০. আল হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ’’তোমরা তাদেরকে আটকে রেখো না’’-এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) বলেছেন যে, উক্ত আয়াত তার সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আমার বোনকে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেই, সে তাকে তালাক দিয়ে দেয়। যখন তার ইদ্দাতকাল অতিক্রান্ত হয় তখন সেই ব্যক্তি আমার কাছে আসে এবং তাকে পুনরায় বিয়ের পয়গাম দেয়। কিন্তু আমি তাকে বলে দিই, আমি তাকে তোমার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম এবং তোমরা মেলামেশা করেছ এবং আমি তোমাকে মর্যাদা দিয়েছি। তারপরেও তুমি তাকে তালাক দিলে? পুনরায় তুমি তাকে চাওয়ার জন্য এসেছ? আল্লাহর কসম, সে আবারও কখনও তোমার কাছে ফিরে যাবে না। মা’কিল বলেন, সে লোকটি অবশ্য খারাপ ছিল না এবং তার স্ত্রীও তার কাছে ফিরে যেতে আগ্রহী ছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ’’তাদেরকে বাধা দিও না,’’ এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার বোনকে তার কাছে বিয়ে দেব। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে তার সঙ্গে পুনরায় বিয়ে দিলেন। [৪৫২৯](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৪)
অধ্যায় তালিকা