অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৭/১. বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। শ্রবণ করিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ (আন-নিসা ৪:৩)
মোট ১৮৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫০৭১
সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا يحيى حدثنا اسماعيل قال حدثني قيس عن ابن مسعود قال كنا نغزو مع النبي صلى الله عليه وسلم ليس لنا نساء فقلنا يا رسول الله الا نستخصي فنهانا عن ذلك.
فِيهِ سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
সাহল ইবনু সা’দ নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৫০৭১. ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর সঙ্গে জিহাদে অংশ গ্রহণ করতাম। আমাদের সঙ্গে আমাদের বিবিগণ থাকত না। তাই আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি খাসি হয়ে যাব? তিনি আমাদেরকে তা করতে নিষেধ করলেন। [৪৬১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০১)
সাহল ইবনু সা’দ নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৫০৭১. ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর সঙ্গে জিহাদে অংশ গ্রহণ করতাম। আমাদের সঙ্গে আমাদের বিবিগণ থাকত না। তাই আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি খাসি হয়ে যাব? তিনি আমাদেরকে তা করতে নিষেধ করলেন। [৪৬১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০১)
হাদিস নং: ৫০৭২
সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير عن سفيان عن حميد الطويل قال سمعت انس بن مالك قال قدم عبد الرحمن بن عوف فاخى النبي صلى الله عليه وسلم بينه“ وبين سعد بن الربيع الانصاري وعند الانصاري امراتان فعرض عليه ان يناصفه“ اهله“ وماله“ فقال بارك الله لك في اهلك ومالك دلوني على السوق فاتى السوق فربح شيىا من اقط وشيىا من سمن فراه النبي صلى الله عليه وسلم بعد ايام وعليه وضر من صفرة فقال مهيم يا عبد الرحمن فقال تزوجت انصارية قال فما سقت اليها قال وزن نواة من ذهب قال اولم ولو بشاة.
৫০৭২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) মদিনায় আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামতাঁর এবং সা’দ ইবনু রাবী’ আল আনসারী (রাঃ)-এর মধ্যে ভ্রাতৃ বন্ধন গড়ে দিলেন। এ আনসারীর দু’জন স্ত্রী ছিল। সা’দ (রাঃ) ’আবদুর রহমান (রাঃ)-কে নিবেদন করলেন, আপনি আমার স্ত্রী এবং সম্পদের অর্ধেক নিন। তিনি উত্তরে বললেন, আল্লাহ্ আপনার স্ত্রী ও সম্পদে বারাকাত দিন। আপনি আমাকে বাজার দেখিয়ে দিন। এরপর তিনি বাজারে গিয়ে পনির ও মাখনের ব্যবসা করে লাভবান হলেন। কিছুদিন পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শরীরে হলুদ রং-এর দাগ দেখতে পেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, হে ’আবদুর রহমান। তোমার কী হয়েছে? তিনি উত্তরে বললেন, আমি এক আনসারী মেয়েকে বিয়ে করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কত মাহর দিয়েছ। তিনি উত্তরে বললেন, খেজুরের আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর, একটি বকরী দিয়ে হলেও।[1] [২০৪৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০২)
নোট: [1] হাদীসটিতে আনসার মুহাজিরদের আন্তরিকতা, দ্বীনের কাজে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা, পরমুখাপেক্ষী না হওয়া, ব্যবসার গুরুত্ব, তাড়াতাড়ি বিবাহ করা, সহজ ও সুলভে বিবাহ করা, মাহর পরিশোধ করা ও বিবাহের সময় হলুদ ব্যবহার করার বৈধতা ও ওয়ালীমা খাওয়ানো ইত্যাদির প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিয়েতে ‘মাহর’ অবশ্য দেয় হিসেবে ধার্য করার এবং তা যথারীতি আদায় করার জন্য ইসলামে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেনঃ {فَمَااسْتَمْتَعْتُمْبِهِمِنْهُنَّفَآتُوهُنَّأُجُورَهُنَّفَرِيضَةً} ‘‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের কাছ থেকে যে যৌন স্বাদ গ্রহণ কর, তার বিনিময়ে তাদের মাহর ফরয হিসেবেই আদায় কর’’- (সূরা আন্-নিসা ৪ঃ ২৪)।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিয়ের সময় অবশ্য পূরণীয় শর্ত হচ্ছে তা, যার বিনিময়ে তোমরা স্ত্রীর যৌন অঙ্গ নিজের জন্য হালাল করে নাও। আর তা হচ্ছে মাহর- (মুসনাদে আহমাদ)। উল্লেখ্য ইসলামী শারী‘আত অনুযায়ী মাহর আদায় করা আবশ্যকীয়। কিন্তু বিয়ের দিনেই আদায় করতে হবে এমনটি অপরিহার্য নয়। বিয়ের দিনে স্ত্রীর নিকট যাবার পূর্বে কিছু আদায় করতে হবে মর্মে ইমাম আবূ দাঊদ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন কিন্তু হাদীসটি দুর্বল, এতে তিনি বিয়ের পর আলী (রাযি.)-কে স্ত্রী ফাতিমা (রাযি.)-এর কাছে মাহরের কিছু না দিয়ে যেতে নিষেধ করেছেন। ... [হাদীসটি দুর্বল, দেখুন ‘‘য‘ঈফ আবী দাঊদ’’ (২১২৬)]।
মাহরের পরিমাণ কী হওয়া উচিত ইসলামী শারীআতে এ সম্পর্কে বিশেষভাবে কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি, কোন সুস্পষ্ট পরিমাণ ঠিক করে দেয়া হয়নি। তবে এ কথা স্পষ্ট যে, প্রত্যেক স্বামীরই কর্তব্য হচ্ছে তার আর্থিক সামর্থ্য ও স্ত্রীর মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে উভয় পক্ষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন পরিমাণ নির্দিষ্ট করে বেঁধে দেয়া। আর মেয়ে পক্ষেরও তাতে সহজেই রাযী হয়ে যাওয়া উচিত। আল্লাহর রসূলের যুগের অতি দরিদ্রতার কারণে মাহর হিসেবে এমনকি একটি লোহার আংটি দিতে, কিংবা পুরুষটির যা কিছু কুরআনের জানা আছে তা স্ত্রীকে শিখিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। অপরদিকে কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে- {وَآتَيْتُمْإِحْدَاهُنَّقِنْطَاراً}
‘‘এবং তোমরা মেয়েদের এক একজনকে ‘বিপুল পরিমাণ’ ধন-সম্পদ মাহর বাবদ দিয়েছ’’- (সূরা আন্-নিসা ৪ঃ ২০)। এ আয়াতের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ মাহর বাবদ দেয়া জায়িয প্রমাণিত হচ্ছে।
আমাদের ভারতবর্ষে ‘মাহরে ফাতেমী’ নামে একটি কথা শুনা যায়। এরূপ কথা মূল্যহীন কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী এর সামর্থ্যের দিকে দৃষ্টি রেখেই তাঁর মেয়ে ফাতিমার জন্য মাহর নির্দিষ্ট করেছিলেন। আর ‘মাহরে ফাতেমী’ বলে ইসলামী শারী‘আতের মধ্যে কোন বিধান নেই। অতএব ‘মাহরে ফাতেমী’ অনুসরণ করার কোনই যৌক্তিকতা নেই।
দুঃখজনক হলেও সত্য বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে একটি কুসংস্কার চালু হয়েছে, তা হচ্ছে এই যে, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয় মাহরের পরিমাণ যেভাবেই হোক না কেন বেশী করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলতে পারি যেখানে ছেলের পাঁচ হাজার প্রদান করার সামর্থ্য রয়েছে সেখানে দু’লক্ষ/ তিন লক্ষ যেভাবেই হোক লিখে নিতে হবে। এ ভাবনায় যে, স্বামী যদি কোন সময় মেয়েকে ত্বলাক দিতে চায়, উভয়ের মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় তাহলে অতি সহজেই স্বামীকে যেন কাবূ করা যায়। অনেক সময় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় মাহর তো আদায় করতে হয় না অতএব বেশী লিখতে অসুবিধা কী। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, আমাদের সমাজের এক শ্রেণীর লোক মাহর আদায় করে না এবং এটিকে তুচ্ছ ব্যাপার মনে করে প্রকারান্তরে বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী শারী‘আতের একটি অন্যতম বিধানকে অগ্রাহ্য করে এবং নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করার চেষ্টা চালায়। এটাকে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের নির্দেশের বিরুদ্ধে এক প্রকারের ধৃষ্টতা বললে অত্যুক্তি করা হবে না।
বিয়েতে ‘মাহর’ অবশ্য দেয় হিসেবে ধার্য করার এবং তা যথারীতি আদায় করার জন্য ইসলামে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেনঃ {فَمَااسْتَمْتَعْتُمْبِهِمِنْهُنَّفَآتُوهُنَّأُجُورَهُنَّفَرِيضَةً} ‘‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের কাছ থেকে যে যৌন স্বাদ গ্রহণ কর, তার বিনিময়ে তাদের মাহর ফরয হিসেবেই আদায় কর’’- (সূরা আন্-নিসা ৪ঃ ২৪)।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিয়ের সময় অবশ্য পূরণীয় শর্ত হচ্ছে তা, যার বিনিময়ে তোমরা স্ত্রীর যৌন অঙ্গ নিজের জন্য হালাল করে নাও। আর তা হচ্ছে মাহর- (মুসনাদে আহমাদ)। উল্লেখ্য ইসলামী শারী‘আত অনুযায়ী মাহর আদায় করা আবশ্যকীয়। কিন্তু বিয়ের দিনেই আদায় করতে হবে এমনটি অপরিহার্য নয়। বিয়ের দিনে স্ত্রীর নিকট যাবার পূর্বে কিছু আদায় করতে হবে মর্মে ইমাম আবূ দাঊদ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন কিন্তু হাদীসটি দুর্বল, এতে তিনি বিয়ের পর আলী (রাযি.)-কে স্ত্রী ফাতিমা (রাযি.)-এর কাছে মাহরের কিছু না দিয়ে যেতে নিষেধ করেছেন। ... [হাদীসটি দুর্বল, দেখুন ‘‘য‘ঈফ আবী দাঊদ’’ (২১২৬)]।
মাহরের পরিমাণ কী হওয়া উচিত ইসলামী শারীআতে এ সম্পর্কে বিশেষভাবে কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি, কোন সুস্পষ্ট পরিমাণ ঠিক করে দেয়া হয়নি। তবে এ কথা স্পষ্ট যে, প্রত্যেক স্বামীরই কর্তব্য হচ্ছে তার আর্থিক সামর্থ্য ও স্ত্রীর মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে উভয় পক্ষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন পরিমাণ নির্দিষ্ট করে বেঁধে দেয়া। আর মেয়ে পক্ষেরও তাতে সহজেই রাযী হয়ে যাওয়া উচিত। আল্লাহর রসূলের যুগের অতি দরিদ্রতার কারণে মাহর হিসেবে এমনকি একটি লোহার আংটি দিতে, কিংবা পুরুষটির যা কিছু কুরআনের জানা আছে তা স্ত্রীকে শিখিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। অপরদিকে কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে- {وَآتَيْتُمْإِحْدَاهُنَّقِنْطَاراً}
‘‘এবং তোমরা মেয়েদের এক একজনকে ‘বিপুল পরিমাণ’ ধন-সম্পদ মাহর বাবদ দিয়েছ’’- (সূরা আন্-নিসা ৪ঃ ২০)। এ আয়াতের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ মাহর বাবদ দেয়া জায়িয প্রমাণিত হচ্ছে।
আমাদের ভারতবর্ষে ‘মাহরে ফাতেমী’ নামে একটি কথা শুনা যায়। এরূপ কথা মূল্যহীন কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী এর সামর্থ্যের দিকে দৃষ্টি রেখেই তাঁর মেয়ে ফাতিমার জন্য মাহর নির্দিষ্ট করেছিলেন। আর ‘মাহরে ফাতেমী’ বলে ইসলামী শারী‘আতের মধ্যে কোন বিধান নেই। অতএব ‘মাহরে ফাতেমী’ অনুসরণ করার কোনই যৌক্তিকতা নেই।
দুঃখজনক হলেও সত্য বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে একটি কুসংস্কার চালু হয়েছে, তা হচ্ছে এই যে, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয় মাহরের পরিমাণ যেভাবেই হোক না কেন বেশী করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলতে পারি যেখানে ছেলের পাঁচ হাজার প্রদান করার সামর্থ্য রয়েছে সেখানে দু’লক্ষ/ তিন লক্ষ যেভাবেই হোক লিখে নিতে হবে। এ ভাবনায় যে, স্বামী যদি কোন সময় মেয়েকে ত্বলাক দিতে চায়, উভয়ের মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় তাহলে অতি সহজেই স্বামীকে যেন কাবূ করা যায়। অনেক সময় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় মাহর তো আদায় করতে হয় না অতএব বেশী লিখতে অসুবিধা কী। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, আমাদের সমাজের এক শ্রেণীর লোক মাহর আদায় করে না এবং এটিকে তুচ্ছ ব্যাপার মনে করে প্রকারান্তরে বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী শারী‘আতের একটি অন্যতম বিধানকে অগ্রাহ্য করে এবং নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করার চেষ্টা চালায়। এটাকে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের নির্দেশের বিরুদ্ধে এক প্রকারের ধৃষ্টতা বললে অত্যুক্তি করা হবে না।
হাদিস নং: ৫০৭৩
সহিহ (Sahih)
احمد بن يونس حدثنا ابراهيم بن سعد اخبرنا ابن شهاب سمع سعيد بن المسيب يقول سمعت سعد بن ابي وقاص يقول رد رسول الله صلى الله عليه وسلم على عثمان بن مظعون التبتل ولو اذن له“ لاختصينا
৫০৭৩. সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উসমান ইবনু মাজ’উনকে বিয়ে করা থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে যদি অনুমতি দিতেন, তাহলে আমরাও খাসি হয়ে যেতাম। [৫০৭৪; মুসলিম ১৬/১, হাঃ ১৪০২, আহমাদ ১৫১৬] ] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০৩)
হাদিস নং: ৫০৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني سعيد بن المسيب انه“ سمع سعد بن ابي وقاص يقول لقد رد ذ‘لك يعني النبي صلى الله عليه وسلم على عثمان بن مظعون ولو اجاز له التبتل لاختصينا.
৫০৭৪. (ভিন্ন একটি সনদে) সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উসমান ইবনু মাজ’উনকে বিয়ে করা থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলে, আমরাও খাসি হয়ে যেতাম। [৫০৭৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০৪)
হাদিস নং: ৫০৭৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا جرير، عن اسماعيل، عن قيس، قال قال عبد الله كنا نغزو مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وليس لنا شىء فقلنا الا نستخصي فنهانا عن ذلك ثم رخص لنا ان ننكح المراة بالثوب، ثم قرا علينا (يا ايها الذين امنوا لا تحرموا طيبات ما احل الله لكم ولا تعتدوا ان الله لا يحب المعتدين).
৫০৭৫. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর সঙ্গে জিহাদে অংশ নিতাম; কিন্তু আমাদের কোন কিছু ছিল না। সুতরাং আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বললাম, আমরা কি খাসি হয়ে যাব? তিনি আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করলেন এবং কোন মহিলার সঙ্গে একটি কাপড়ের বদলে হলেও বিয়ে করার অনুমতি দিলেন এবং আমাদেরকে এই আয়াত পাঠ করে শোনালেনঃ অর্থাৎ, ’’ওহে ঈমানদারগণ! পবিত্র বস্তুরাজি যা আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন সেগুলোকে হারাম করে নিও না আর সীমালঙ্ঘন করো না, অবশ্যই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালবাসেন না।’’ (আল-মায়িদাহ ৫:৮৭)[৪৬১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০৫ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৫০৭৬
সহিহ (Sahih)
وقال اصبغ اخبرني ابن وهب عن يونس بن يزيد عن ابن شهاب عن ابي سلمة عن ابي هريرة قال قلت يا رسول الله اني رجل شاب وانا اخاف على نفسي العنت ولا اجد ما اتزوج به„ النساء فسكت عني ثم قلت مثل ذ‘لك فسكت عني ثم قلت مثل ذ‘لك فسكت عني ثم قلت مثل ذ‘لك فقال النبي صلى الله عليه وسلم يا ابا هريرة جف القلم بما انت لاق فاختص على ذ‘لك او ذر.
৫০৭৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন যুবক। আমার ভয় হয় যে, আমার দ্বারা না জানি কোন গুনাহর কাজ সংঘটিত হয়ে যায়; অথচ আমার কাছে নারীদেরকে বিয়ে করার মতো কিছু নেই। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন। আমি আবার ও কথা বললাম। তিনি চুপ থাকলেন। আমি আবারও ও কথা বললাম। তিনি চুপ থাকলেন। আবারও ও কথা বললে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, হে আবূ হুরাইরাহ! তোমার ভাগ্যলিপি লেখা হয়ে গেছে আর কলমের কালি শুকিয়ে গেছে। তুমি খাসি হও বা না হও, তাতে কিছু আসে যায় না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০৫ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৫০৭৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن عبد الله، قال حدثني اخي، عن سليمان، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت قلت يا رسول الله ارايت لو نزلت واديا وفيه شجرة قد اكل منها، ووجدت شجرا لم يوكل منها، في ايها كنت ترتع بعيرك قال " في الذي لم يرتع منها ". تعني ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يتزوج بكرا غيرها.
وَقَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِعَائِشَةَ لَمْ يَنْكِحِ النَّبِيُّصلى الله عليه وسلم بِكْرًا غَيْرَكِ.
ইবনু আবী মুলাইকাহ (রহ.) বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললেন, আপনাকে ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআর কোন কুমারীকে বিয়ে করেননি।
৫০৭৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মনে করুন আপনি একটি ময়দানে পৌঁছেছেন, সেখানে একটি গাছ আছে যার কিছু অংশ খাওয়া হয়ে গেছে। আর এমন আর একটি গাছ পেলেন, যার কিছুই খাওয়া হয়নি। এর মধ্যে কোন্ গাছের পাতা আপনার উটকে খাওয়াবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, যে গাছ থেকে কিছুই খাওয়া হয়নি। এ কথার উদ্দেশ্য হল- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ব্যতীত অন্য কোন কুমারীকে বিয়ে করেননি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০৬)
ইবনু আবী মুলাইকাহ (রহ.) বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললেন, আপনাকে ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআর কোন কুমারীকে বিয়ে করেননি।
৫০৭৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মনে করুন আপনি একটি ময়দানে পৌঁছেছেন, সেখানে একটি গাছ আছে যার কিছু অংশ খাওয়া হয়ে গেছে। আর এমন আর একটি গাছ পেলেন, যার কিছুই খাওয়া হয়নি। এর মধ্যে কোন্ গাছের পাতা আপনার উটকে খাওয়াবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, যে গাছ থেকে কিছুই খাওয়া হয়নি। এ কথার উদ্দেশ্য হল- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ব্যতীত অন্য কোন কুমারীকে বিয়ে করেননি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০৬)
হাদিস নং: ৫০৭৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد بن اسماعيل، حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اريتك في المنام مرتين، اذا رجل يحملك في سرقة حرير فيقول هذه امراتك، فاكشفها فاذا هي انت، فاقول ان يكن هذا من عند الله يمضه ".
৫০৭৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’বার আমাকে স্বপ্নযোগে তোমাকে দেখানো হয়েছে। এক ব্যক্তি রেশমী কাপড়ে জড়িয়ে তোমাকে নিয়ে যাচ্ছিল, আমাকে দেখে বলল, এ হচ্ছে তোমার স্ত্রী। তখন আমি তার পর্দা খুললাম, আর সেটা হলে তুমি। তখন আমি বললাম, এ স্বপ্ন যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তবে তিনি বাস্তবে তা-ই করবেন। [৩৮৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০৭)
হাদিস নং: ৫০৭৯
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا هشيم حدثنا سيار عن الشعبي عن جابر بن عبد الله قال قفلنا مع النبي صلى الله عليه وسلم من غزوة فتعجلت على بعير لي قطوف فلحقني راكب من خلفي فنخس بعيري بعنزة كانت معه“ فانطلق بعيري كاجود ما انت راء من الابل فاذا النبي صلى الله عليه وسلم فقال ما يعجلك قلت كنت حديث عهد بعرس قال ابكرا ام ثيبا قلت ثيبا قال فهلا جارية تلاعبها وتلاعبك قال فلما ذهبنا لندخل قال امهلوا حتى تدخلوا ليلا اي عشاء لكي تمتشط الشعثة وتستحد المغيبة.
وَقَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ قَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ تَعْرِضْنَ عَلَيَّ بَنَاتِكُنَّ وَلاَ أَخَوَاتِكُنَّ».
উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমাকে তোমাদের কন্যাদেরকে বা বোনদেরকে আমার সঙ্গে (বিয়ের) প্রস্তাব দিও না।
৫০৭৯. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জিহাদ থেকে ফিরছিলাম। আমি আমার দুর্বল উটটি দ্রুত চালাতে চেষ্টা করছিলাম। এমন সময় এক আরোহী আমার পিছন থেকে আমার উটটিকে ছড়ি দিয়ে খোঁচা দিলে উটটি দ্রুত চলতে লাগল যেমন ভাল ভাল উটকে তুমি চলতে দেখ। ফিরে দেখি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, জাবির, তোমার এত তাড়াতাড়ি করার কারণ কী? আমি উত্তর দিলাম, আমি নতুন বিয়ে করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কুমারী, না বিধবা? আমি উত্তর দিলাম, বিধবা। তিনি বললেন, তুমি কুমারী মেয়ে বিয়ে করলে না? যার সঙ্গে খেলা-কৌতুক করতে আর সেও তোমার সঙ্গে খেলা-কৌতুক করত। বর্ণনাকারী বলেন, যখন আমরা মদিনা্য় প্রবেশ করব, এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি অপেক্ষা কর এবং রাতে প্রবেশ কর, যেন অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রী নিজের অবিন্যস্ত কেশরাশি বিন্যাস করতে পারে এবং লোম পরিষ্কার করতে পারে। [৪৪৩; মুসলিম ৩৩/৫৬, হাঃ ১৯২৮, আহমাদ ১৩১১৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০৮)
উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমাকে তোমাদের কন্যাদেরকে বা বোনদেরকে আমার সঙ্গে (বিয়ের) প্রস্তাব দিও না।
৫০৭৯. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে জিহাদ থেকে ফিরছিলাম। আমি আমার দুর্বল উটটি দ্রুত চালাতে চেষ্টা করছিলাম। এমন সময় এক আরোহী আমার পিছন থেকে আমার উটটিকে ছড়ি দিয়ে খোঁচা দিলে উটটি দ্রুত চলতে লাগল যেমন ভাল ভাল উটকে তুমি চলতে দেখ। ফিরে দেখি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, জাবির, তোমার এত তাড়াতাড়ি করার কারণ কী? আমি উত্তর দিলাম, আমি নতুন বিয়ে করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কুমারী, না বিধবা? আমি উত্তর দিলাম, বিধবা। তিনি বললেন, তুমি কুমারী মেয়ে বিয়ে করলে না? যার সঙ্গে খেলা-কৌতুক করতে আর সেও তোমার সঙ্গে খেলা-কৌতুক করত। বর্ণনাকারী বলেন, যখন আমরা মদিনা্য় প্রবেশ করব, এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি অপেক্ষা কর এবং রাতে প্রবেশ কর, যেন অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রী নিজের অবিন্যস্ত কেশরাশি বিন্যাস করতে পারে এবং লোম পরিষ্কার করতে পারে। [৪৪৩; মুসলিম ৩৩/৫৬, হাঃ ১৯২৮, আহমাদ ১৩১১৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০৮)
হাদিস নং: ৫০৮০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، حدثنا محارب، قال سمعت جابر بن عبد الله، رضى الله عنهما يقول تزوجت فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما تزوجت ". فقلت تزوجت ثيبا. فقال " ما لك وللعذارى ولعابها ". فذكرت ذلك لعمرو بن دينار فقال عمرو سمعت جابر بن عبد الله يقول قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " هلا جارية تلاعبها وتلاعبك ".
৫০৮০. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিয়ে করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেমন মেয়ে বিয়ে করেছ? আমি বললাম, পূর্ব বিবাহিতা মেয়েকে বিয়ে করেছি। তিনি বললেন, কুমারী মেয়ে এবং তাদের কৌতুক তুমি চাও না? (রাবী মুহাজির বলেন) আমি এ ঘটনা ’আমর ইবনু দ্বীনার (রাঃ)-কে জানালে তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, তুমি কেন কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে না, যার সাথে তুমি খেলা-কৌতুক করতে এবং সে তোমার সাথে খেলা-কৌতুক করত? [৪৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০৯)
হাদিস নং: ৫০৮১
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث عن يزيد عن عراك عن عروة ان النبي صلى الله عليه وسلم خطب عاىشة الى ابي بكر فقال له“ ابو بكر انما انا اخوك فقال انت اخي في دين الله وكتابه„ وهي لي حلال.
৫০৮১. ’উরওয়াহ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর বিয়ের পয়গাম দিলেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি আপনার ভাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আমার আল্লাহর দ্বীনের এবং কিতাবের ভাই। কিন্তু সে আমার জন্য হালাল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১০)
হাদিস নং: ৫০৮২
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال خير نساء ركبن الابل صالح نساء قريش احناه“ على ولد في صغره„ وارعاه“ على زوج في ذات يده„.
৫০৮২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উষ্ট্রারোহী মহিলাদের মধ্যে কুরাইশ বংশীয়া মহিলারা সর্বোত্তম। তারা শিশু সন্তানদের প্রতি স্নেহশীল এবং স্বামীর মর্যাদার উত্তম রক্ষাকারিণী। [৩৪৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১১)
হাদিস নং: ৫০৮৩
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا عبد الواحد حدثنا صالح بن صالح الهمداني حدثنا الشعبي قال حدثني ابو بردة عن ابيه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ايما رجل كانت عنده“ وليدة فعلمها فاحسن تعليمها وادبها فاحسن تاديبها ثم اعتقها وتزوجها فله“ اجران وايما رجل من اهل الكتاب امن بنبيه„ وامن بي فله“ اجران وايما مملوك اد‘ى حق مواليه وحق ربه„ فله“ اجران قال الشعبي خذها بغير شيء قد كان الرجل يرحل فيما دونها الى المدينة وقال ابو بكر عن ابي حصين عن ابي بردة عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم اعتقها ثم اصدقها.
৫০৮৩. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে আপন ক্রীতদাসীকে শিক্ষা দেয় এবং উত্তম শিক্ষা দান করে এবং শিষ্টাচার শিক্ষা দেয় এবং উত্তমভাবে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয় এরপর তাকে মুক্ত করে বিয়ে করে তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব। [1] ঐ আহলে কিতাব, যে তার নবীর ওপর ঈমান আনে এবং আমার ওপরে ঈমান এনেছে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। আর ঐ গোলাম, যে তার প্রভুর হক আদায় করে এবং আল্লাহরও হাক্ব আদায় করে তার জন্যে দ্বিগুণ সাওয়াব।
হাদীসটি বর্ণনা করার সময় এর অন্যতম বর্ণনাকারী ইমাম শা’বী (রহ.) (স্বীয় ছাত্র সালিহ বিন সালিহ হামদানীর লক্ষ্য করে) বলেন, হাদীসটি গ্রহণ কর বিনা পরিশ্রমে অথচ এমন এক সময় ছিল যখন এর চেয়ে ছোট হাদীস সংগ্রহ করার জন্যে কোন লোক মদিনা পর্যন্ত সফর করতো। .... অন্য বর্ণনায় আছে, ’’মুক্ত করে মাহর নির্ধারণ করে বিয়ে করে’’। [৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১২)
হাদীসটি বর্ণনা করার সময় এর অন্যতম বর্ণনাকারী ইমাম শা’বী (রহ.) (স্বীয় ছাত্র সালিহ বিন সালিহ হামদানীর লক্ষ্য করে) বলেন, হাদীসটি গ্রহণ কর বিনা পরিশ্রমে অথচ এমন এক সময় ছিল যখন এর চেয়ে ছোট হাদীস সংগ্রহ করার জন্যে কোন লোক মদিনা পর্যন্ত সফর করতো। .... অন্য বর্ণনায় আছে, ’’মুক্ত করে মাহর নির্ধারণ করে বিয়ে করে’’। [৯৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১২)
নোট: [1] ইসলামের আবির্ভাবকালে দেশে দেশে দাস প্রথা চালু ছিল। কিন্তু মানুষের সাম্য ও স্বাধীনতার প্রবক্তা মহান ধর্ম ইসলাম দাসপ্রথাকে মোটেই সমর্থন করেনি। বরং এ প্রথা উচ্ছেদের জন্য ইসলাম এমন সব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে যাতে দাসদাসীরা মানসিক, নৈতিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে প্রকৃতই সাম্য ও স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারে। বিশ্বনাবী বলেছেন- তোমাদের দাসরা তোমাদের ভাই, কাজেই তোমাদের মধ্যে যার অধীনে তার কোন ভাই থাকবে সে যেন তার জন্য সেরূপ খাওয়া পরার ব্যবস্থা করে যেরূপ সে নিজের জন্য করবে। যে কাজ করার মত শক্তি তার নেই সে কাজ করার হুকুম যেন তাকে না দেয়। আর যদি এমন কাজের হুকুম দিতেই হয় তাহলে সে নিজে যেন তার সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। নাবী ﷺ বলেছেন- তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে যে, এ আমার দাস ও এ আমার দাসী। তার পরিবর্তে বলতে হবে, এ আমার সেবক, এ আমার সেবিকা। জাহিলী যুগে দাসীদেরকে অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জনের কাজে নিয়োগ করা হত, ইসলাম এই অবৈধ ও অনৈতিক কাজে দাসীদেরকে নিয়োগ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। ইসলামের আবির্ভাবের পর দাসদাসীরা আর বাজারের পণ্য সামগ্রী হয়ে রইল না, তারা স্বাধীন মানুষের মর্যাদা ও অধিকার লাভের সৌভাগ্য অর্জন করল। এ পর্যায়ে ইসলাম এতদূর পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে যে, কোন দাসের চেহারার উপর চড় মারাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ইসলাম এতটুকু করেই ক্ষান্ত হয়নি। তাই দাসদাসীদেরকে পুরোপুরি স্বাধীন করে দেয়ার উদ্দেশে দু’টি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথমটি হল সরাসরি মুক্তিদান আর দ্বিতীয়টি হল মুক্তির লিখিত চুক্তি (বা মুকাতাবাত)। নাবী ﷺ নিজে তাঁর দাসদের মুক্ত করে দেন এবং সাহাবীবৃন্দও নিজ নিজ দাসদেরকে আযাদ করে দেন। নাবী ﷺ শিখিয়েছেন- কতক গোনাহর কাফফারা হচ্ছে গোলামদেরকে আযাদ করে দেয়া। ফলে অনেক গোলাম আযাদী লাভ করে ধন্য হয়। আল্লাহ তা‘আলা দাসদাসীদের মুক্তির জন্য বায়তুল মালে একটি অংশ নির্দিষ্ট করে দিলেন- (সূরা আত- তাওবাহ ৯ঃ ৬০)। বিশ্বনাবী ﷺ দাসদাসীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য স্বীয় মুক্ত দাস যায়দ ﷺ-এর সঙ্গে মহা সম্ভ্রান্ত কোরেশ কুল নন্দিনী যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ)-এর বিয়ে দিয়েছিলেন। যায়দ ও তৎপুত্র উসামা (রাযি.)-কে নেতৃস্থানীয় সাহাবীদের উপর যুদ্ধাভিযানের সিপাহসালার নিযুক্ত করেছিলেন। আলোচ্য হাদীসটিতে একই উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে দাসীদেরকে শিক্ষা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়ে বিয়ে করার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব দানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যেই তাদের আযাদী দাসীকে বিয়ের মাহর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর পাক কালামে আদম সন্তানের [স্বাধীন নারী-পুরুষ আর দাস দাসীদের] মাঝে বেশী সম্মানের অধিকারী কে তার মাপকাঠি হিসেবে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ {إن أكرمكم عند الله أتقاكم} ‘‘তোমাদের মধ্যে যে বেশী পরহেযগার আল্লাহর নিকট সেই বেশী সম্মানিত।’’ (সূরা হুজরাত ৪৯ঃ ১৩)। আল্লাহ্ তা‘আলা যে তাকওয়া ব্যতীত কাউকে কারো উপর মর্যাদা প্রদান করেননি এ আয়াতটি তারই প্রমাণ বহন করছে। বরং সকল মানুষ সমান, পার্থক্য ঘটবে শুধুমাত্র তাক্বওয়া দ্বারা।
উল্লেখ্য দাস প্রথা ইসলামে রহিত হয়ে যায়নি। কেননা, মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধে বন্দী নারী-পুরুষ দাস দাসীরূপে ব্যবহার হতে পারে। এবং এদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে কেবল তাদেরকেই ইসলাম স্বাধীন করার প্রতি উৎসাহিত করেছে। পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনবে না বেদীন অবস্থায় থাকবে, তাদেরকে মুক্ত না করে দাস দাসীরূপেই ব্যবহৃত হবে। এটিই তাদের উপযু্ক্ত প্রাপ্য।
আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর পাক কালামে আদম সন্তানের [স্বাধীন নারী-পুরুষ আর দাস দাসীদের] মাঝে বেশী সম্মানের অধিকারী কে তার মাপকাঠি হিসেবে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ {إن أكرمكم عند الله أتقاكم} ‘‘তোমাদের মধ্যে যে বেশী পরহেযগার আল্লাহর নিকট সেই বেশী সম্মানিত।’’ (সূরা হুজরাত ৪৯ঃ ১৩)। আল্লাহ্ তা‘আলা যে তাকওয়া ব্যতীত কাউকে কারো উপর মর্যাদা প্রদান করেননি এ আয়াতটি তারই প্রমাণ বহন করছে। বরং সকল মানুষ সমান, পার্থক্য ঘটবে শুধুমাত্র তাক্বওয়া দ্বারা।
উল্লেখ্য দাস প্রথা ইসলামে রহিত হয়ে যায়নি। কেননা, মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধে বন্দী নারী-পুরুষ দাস দাসীরূপে ব্যবহার হতে পারে। এবং এদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে কেবল তাদেরকেই ইসলাম স্বাধীন করার প্রতি উৎসাহিত করেছে। পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনবে না বেদীন অবস্থায় থাকবে, তাদেরকে মুক্ত না করে দাস দাসীরূপেই ব্যবহৃত হবে। এটিই তাদের উপযু্ক্ত প্রাপ্য।
হাদিস নং: ৫০৮৪
সহিহ (Sahih)
سعيد بن تليد قال اخبرني ابن وهب قال اخبرني جرير بن حازم عن ايوب عن محمد عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم حدثنا سليمان عن حماد بن زيد عن ايوب عن محمد عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لم يكذب ابراهيم الا ثلاث كذبات بينما ابراهيم مر بجبار ومعه“ سارة فذكر الحديث فاعطاها هاجر قالت كف الله يد الكافر واخدمني اجر قال ابو هريرة فتلك امكم يا بني ماء السماء.
৫০৮৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইব্রাহীম (আঃ) তিনবার ব্যতীত কোন মিথ্যা কথা বলেননি। অত্যাচারী বাদশাহর দেশে তাকে যেতে হয়েছিল এবং তারসঙ্গে ’সারা’ (রাঃ) ছিলেন। এরপর রাবী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। (সেই বাদশাহ) হাজেরাকে তাঁর সেবার জন্য তাঁকে দান করেন। তিনি ফিরে এসে বললেন, আল্লাহ্ কাফির থেকে আমাকে নিরাপত্তা দান করেছেন এবং আমার খিদমাতের জন্য আজারা (হাজেরা)-কে দিয়েছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, ’’হে আকাশের পানির সন্তানগণ (কুরাইশ)! এ আজারাই তোমাদের মা।’’ [২২১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৩)
হাদিস নং: ৫০৮৫
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا اسماعيل بن جعفر عن حميد عن انس قال اقام النبي صلى الله عليه وسلم بين خيبر والمدينة ثلاثا يبنى عليه بصفية بنت حيي فدعوت المسلمين الى وليمته„ فما كان فيها من خبز ولا لحم امر بالانطاع فالقى فيها من التمر والاقط والسمن فكانت وليمته“ فقال المسلمون احد‘ى امهات المومنين او مما ملكت يمينه“ فقالوا ان حجبها فهي من امهات المومنين وان لم يحجبها فهي مما ملكت يمينه“ فلما ارتحل وطى لها خلفه“ ومد الحجاب بينها وبين الناس.
৫০৮৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার এবং মদিনা্র মাঝে তিন দিন অবস্থান করলেন এবং হুয়ায়্যার কন্যা সাফীয়ার সঙ্গে রাতে বাসর যাপনের ব্যবস্থা করলেন। আমি মুসলিমদেরকে তাঁর ওয়ালীমার দাওয়াত দিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামদস্তরখানা বিছানোর নির্দেশ দিলেন এবং সেখানে মাংস ও রুটি ছিল না। খেজুর, পনির, মাখন ও ঘি রাখা হল। এটাই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়ালীমা। উপস্থিত মুসলিমরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল- তিনি (সফীয়্যাহ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীদের মধ্যে গণ্য হবেন, ক্রীতদাসীদের মধ্যে গণ্য হবেন। তাঁরা বলাবলি করলেন যে, যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফীয়ার জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেন, তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হিসাবে গণ্য করা হবে। আর যদি পর্দা না করা হয়, তাহলে তাঁকে ক্রীতদাসী হিসেবে মনে করা হবে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে অন্যত্র যাবার ব্যবস্থা করলেন, তখন সাফীয়ার জন্য উটের পিছনে জায়গা করলেন এবং তাঁর ও লোকদের মাঝে পর্দার ব্যবস্থা করলেন। [1][৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৪)
নোট: [1] জিন্ন-ইনসানের মহান নেতার ওয়ালীমাহ এর বিবরণে যা পাওয়া গেল তাত্থেকে মুসলিম জাতি শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের বিলাসিতা, অপচয় এবং অহংকার-প্রতিযোগিতা বন্ধ করবেন কি?
হাদিস নং: ৫০৮৬
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا حماد عن ثابت وشعيب بن الحبحاب عن انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اعتق صفية وجعل عتقها صداقها.
৫০৮৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফীয়াকে আযাদ করলেন এবং এই আযাদীকে তার বিয়ের মাহর ধার্য করলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৫)
হাদিস নং: ৫০৮৭
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا عبد العزيز بن ابي حازم عن ابيه عن سهل بن سعد الساعدي قال جاءت امراة الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله جىت اهب لك نفسي قال فنظر اليها رسول الله صلى الله عليه وسلمفصعد النظر فيها وصوبه“ ثم طاطا رسول الله صلى الله عليه وسلم راسه“ فلما رات المراة انه“ لم يقض فيها شيىا جلست فقام رجل من اصحابه„ فقال يا رسول الله ان لم يكن لك بها حاجة فزوجنيها فقال وهل عندك من شيء قال لا والله يا رسول الله فقال اذهب الى اهلك فانظر هل تجد شيىا فذهب ثم رجع فقال لا والله ما وجدت شيىا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم انظر ولو خاتما من حديد فذهب ثم رجع فقال لا والله يا رسول الله ولا خاتما من حديد ولكن هذا ازاري قال سهل ما له“ رداء فلها نصفه“ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما تصنع بازارك ان لبسته“ لم يكن عليها منه“ شيء وان لبسته“ لم يكن عليك منه“ شيء فجلس الرجل حتى اذا طال مجلسه“ قام فراه“ رسول الله صلى الله عليه وسلم موليا فامر به„ فدعي فلما جاء قال ماذا معك من القران قال معي سورة كذا وسورة كذا عددها فقال تقروهن عن ظهر قلبك قال نعم قال اذهب فقد ملكتكها بما معك من القران.
৫০৮৭. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার জীবনকে আপনার হাতে সমর্পণ করতে এসেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং সতর্ক দৃষ্টিতে তার আপাদমস্তক লক্ষ্য করলেন। তারপর তিনি মাথা নিচু করলেন। যখন মহিলাটি দেখল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে কোন ফয়সালা দিচ্ছেন না, তখন সে বসে পড়ল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে একজন দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনার বিয়ের প্রয়োজন না থাকে, তবে আমার সঙ্গে এর বিয়ে দিয়ে দিন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? সে উত্তর করলো- না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে কিছুই নেই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে দেখ, কিছু পাও কিনা। এরপর লোকটি চলে গেল। ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম! আমি কিছুই পাইনি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবার দেখ, লোহার একটি আংটিও যদি পাও।
তারপর লোকটি আবার ফিরে গেল। এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাও পেলাম না, কিন্তু এই আমার লুঙ্গি (শুধু এটাই আছে)। (রাবী) সাহল (রাঃ) বলেন, তার কাছে কোন চাদর ছিল না। লোকটি এর অর্ধেক তাকে দিতে চাইল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমার লুঙ্গি দিয়ে কী করবে? তুমি যদি পরিধান কর, তাহলে তার কোন কাজে আসবে না, আর সে যদি পরিধান করে, তবে তোমার কোন কাজে আসবে না। তারপর বেশ কিছুক্ষণ লোকটি নীরবে বসে থাকল। তারপর উঠে দাঁড়াল।
সে যেতে উদ্যত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে আনলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী পরিমাণ কুরআন মাজীদ মুখস্থ আছে? সে বলল, আমার অমুক অমুক সূরা মুখস্থ আছে এবং সে গণনা করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কি তোমার মুখস্থ আছে। সে বলল, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে পরিমাণ কুরআন তোমার মুখস্থ আছে তার বিনিময়ে তোমার কাছে এ মহিলাটিকে তোমার অধীনস্থ করে (বিয়ে) দিলাম।[1][২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৬)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? সে উত্তর করলো- না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে কিছুই নেই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে দেখ, কিছু পাও কিনা। এরপর লোকটি চলে গেল। ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম! আমি কিছুই পাইনি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবার দেখ, লোহার একটি আংটিও যদি পাও।
তারপর লোকটি আবার ফিরে গেল। এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাও পেলাম না, কিন্তু এই আমার লুঙ্গি (শুধু এটাই আছে)। (রাবী) সাহল (রাঃ) বলেন, তার কাছে কোন চাদর ছিল না। লোকটি এর অর্ধেক তাকে দিতে চাইল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমার লুঙ্গি দিয়ে কী করবে? তুমি যদি পরিধান কর, তাহলে তার কোন কাজে আসবে না, আর সে যদি পরিধান করে, তবে তোমার কোন কাজে আসবে না। তারপর বেশ কিছুক্ষণ লোকটি নীরবে বসে থাকল। তারপর উঠে দাঁড়াল।
সে যেতে উদ্যত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে আনলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী পরিমাণ কুরআন মাজীদ মুখস্থ আছে? সে বলল, আমার অমুক অমুক সূরা মুখস্থ আছে এবং সে গণনা করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কি তোমার মুখস্থ আছে। সে বলল, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে পরিমাণ কুরআন তোমার মুখস্থ আছে তার বিনিময়ে তোমার কাছে এ মহিলাটিকে তোমার অধীনস্থ করে (বিয়ে) দিলাম।[1][২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৬)
নোট: [1] ইসলাম সকল স্ত্রী-পুরুষকেই বিধি সঙ্গত নিয়মে বিয়ে করার জন্য উৎসাহ দিয়েছে। আর যৌন উত্তেজনা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলে তখন বিয়ে করা ফরযের পর্যায়ে পৌঁছে যায় বলে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু অনেক সময় যুবক-যুবতীরা কেবলমাত্র অর্থাভাব বা দরিদ্রতার কারণে বিয়ে করতে প্রস্ত্তত হয় না। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এ মনোভাব মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ মানুষের রুজি রোজগার কোন স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় ব্যাপার নয়। আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন-
{إِنْيَكُونُوافُقَرَاءَيُغْنِهِمُاللهُمِنْفَضْلِه„وَاللهُوَاسِعٌعَلِيمٌ} (النور: منالآية32)
‘‘যদি তারা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাদের ধনী করে দেবেন। বস্ত্ততঃ আল্লাহ প্রশস্ততাসম্পন্ন সর্বজ্ঞ’’- (সূরা আন্-নূর ২৪ঃ ৩২)। অর্থাৎ আল্লাহ বললেন- বিয়ে করলেই মানুষ আর্থিক দায়িত্বভারে পর্যুদস্ত হবে- এমন কোন কথা নেই, বরং উল্টোটারই সম্ভাবনা বেশি। আর তা হচ্ছে অধিক সন্তান হলে অনেক সময় আল্লাহ তা‘আলা তার ধনমাল বাড়িয়ে দেন। আবূ বাকর (রাযি.) বলেছেন- তোমরা বিয়ের ব্যাপারে আল্লাহর আদেশ পালনে তাঁর আনুগত্য করো। তাহলে ধন-সম্পত্তি দানের যে ওয়া‘দা তিনি করেছেন তা তোমাদের জন্য পূরণ করবেন- (ইবনে কাসীর)। আলোচ্য হাদীসের ঘটনার উল্লেখ করে ইবনে কাসীর লিখেছেন- আল্লাহ তা‘আলার অপরিসীম দয়া-অনুগ্রহ সর্বজনবিদিত। তিনি তাঁকে (আনাস বিন মালিককে) এত পরিমাণ রিয্ক্ব দান করলেন যে, তা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে গেল।
অতএব কোন মুসলিম যুবকেরই আর্থিক অসচ্ছলতার দরুণ অবিবাহিত কুমার জীবন যাপনে প্রস্তত হওয়া উচিত নয়। বরং আল্লাহর রিয্ক্বদাতা হওয়া- আল্লাহর অফুরন্ত দয়া ও দানের উপর অবিচল বিশ্বাস থাকা উচিত। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন-
{وَمَامِنْدَابَّةٍفِيالأرْضِإِلاَّعَلَىاللهِرِزْقُهَا} (هود: منالآية6)
‘‘যমীনের উপর বিচরণশীল সব প্রাণীরই রিয্ক্বের ভার একান্তভাবে আল্লাহর উপর’’ (সূরা হূদ ১১ঃ ৬)।
{وَيَرْزُقْهُمِنْحَيْثُلايَحْتَسِبُوَمَنْيَتَوَكَّلْعَلَىاللهِفَهُوَحَسْبُهُ} (الطلاق: 3)
‘‘আল্লাহ তাকে রিয্ক্ব দান করবেন এমন সব উপায়ে যা সে ধারণা পর্যন্ত করতে পারেনি। আর বস্ত্ততই যে লোক আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজ করবে, সে লোকের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন’’ (সূরা আত্-তালাক ৬৫ঃ ৩)
{وَإِنْخِفْتُمْعَيْلَةًفَسَوْفَيُغْنِيكُمُاللهُمِنْفَضْلِهৃإِنْشَاূءَإِنَّاللهَعَلِيمٌحَكِيمٌ} (التوبة
‘‘তোমরা যদি দারিদ্রের ভয় কর তাহলে জেনে রেখো, আল্লাহ অবশ্যই তাঁর অনুগ্রহে তোমাদের ধনী করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই জ্ঞানী ও সুবিবেচক।’’ (সূরা আত্-তাওবাহ ৯ঃ ২৮)
বস্ত্তত কোন গরীব লোক যদি বিয়ে করে, তবে কামাই রোজগারে তার বিপুল উৎসাহ ও উদ্যম সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। আর এ ব্যাপারে তার স্ত্রী তার উপর বোঝা না হয়ে বরং দরদী সাহায্যকারিণী হয়। আর সন্তান হলে অর্থোপার্জনের কাজে সাহায্যকারী হতে পারে। অনেক সময় স্ত্রীর ধনী নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে যথেষ্ট আর্থিক সাহায্য লাভও হতে পারে। সদিচ্ছার উপর ফলাফল নির্ভর করে। আল্লাহ তা‘আলার কথার প্রতি যার বিশ্বাস ও আস্থার অভাব থাকে সে ছাড়া অপর কেউ দুর্ভোগে পড়তে পারে না। দৃঢ় বিশ্বাসই তাকে সফলতার পথে আল্লাহর সাহায্য লাভের উপযুক্ত করে দেবে।
{إِنْيَكُونُوافُقَرَاءَيُغْنِهِمُاللهُمِنْفَضْلِه„وَاللهُوَاسِعٌعَلِيمٌ} (النور: منالآية32)
‘‘যদি তারা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাদের ধনী করে দেবেন। বস্ত্ততঃ আল্লাহ প্রশস্ততাসম্পন্ন সর্বজ্ঞ’’- (সূরা আন্-নূর ২৪ঃ ৩২)। অর্থাৎ আল্লাহ বললেন- বিয়ে করলেই মানুষ আর্থিক দায়িত্বভারে পর্যুদস্ত হবে- এমন কোন কথা নেই, বরং উল্টোটারই সম্ভাবনা বেশি। আর তা হচ্ছে অধিক সন্তান হলে অনেক সময় আল্লাহ তা‘আলা তার ধনমাল বাড়িয়ে দেন। আবূ বাকর (রাযি.) বলেছেন- তোমরা বিয়ের ব্যাপারে আল্লাহর আদেশ পালনে তাঁর আনুগত্য করো। তাহলে ধন-সম্পত্তি দানের যে ওয়া‘দা তিনি করেছেন তা তোমাদের জন্য পূরণ করবেন- (ইবনে কাসীর)। আলোচ্য হাদীসের ঘটনার উল্লেখ করে ইবনে কাসীর লিখেছেন- আল্লাহ তা‘আলার অপরিসীম দয়া-অনুগ্রহ সর্বজনবিদিত। তিনি তাঁকে (আনাস বিন মালিককে) এত পরিমাণ রিয্ক্ব দান করলেন যে, তা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে গেল।
অতএব কোন মুসলিম যুবকেরই আর্থিক অসচ্ছলতার দরুণ অবিবাহিত কুমার জীবন যাপনে প্রস্তত হওয়া উচিত নয়। বরং আল্লাহর রিয্ক্বদাতা হওয়া- আল্লাহর অফুরন্ত দয়া ও দানের উপর অবিচল বিশ্বাস থাকা উচিত। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন-
{وَمَامِنْدَابَّةٍفِيالأرْضِإِلاَّعَلَىاللهِرِزْقُهَا} (هود: منالآية6)
‘‘যমীনের উপর বিচরণশীল সব প্রাণীরই রিয্ক্বের ভার একান্তভাবে আল্লাহর উপর’’ (সূরা হূদ ১১ঃ ৬)।
{وَيَرْزُقْهُمِنْحَيْثُلايَحْتَسِبُوَمَنْيَتَوَكَّلْعَلَىاللهِفَهُوَحَسْبُهُ} (الطلاق: 3)
‘‘আল্লাহ তাকে রিয্ক্ব দান করবেন এমন সব উপায়ে যা সে ধারণা পর্যন্ত করতে পারেনি। আর বস্ত্ততই যে লোক আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজ করবে, সে লোকের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন’’ (সূরা আত্-তালাক ৬৫ঃ ৩)
{وَإِنْخِفْتُمْعَيْلَةًفَسَوْفَيُغْنِيكُمُاللهُمِنْفَضْلِهৃإِنْشَاূءَإِنَّاللهَعَلِيمٌحَكِيمٌ} (التوبة
‘‘তোমরা যদি দারিদ্রের ভয় কর তাহলে জেনে রেখো, আল্লাহ অবশ্যই তাঁর অনুগ্রহে তোমাদের ধনী করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই জ্ঞানী ও সুবিবেচক।’’ (সূরা আত্-তাওবাহ ৯ঃ ২৮)
বস্ত্তত কোন গরীব লোক যদি বিয়ে করে, তবে কামাই রোজগারে তার বিপুল উৎসাহ ও উদ্যম সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। আর এ ব্যাপারে তার স্ত্রী তার উপর বোঝা না হয়ে বরং দরদী সাহায্যকারিণী হয়। আর সন্তান হলে অর্থোপার্জনের কাজে সাহায্যকারী হতে পারে। অনেক সময় স্ত্রীর ধনী নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে যথেষ্ট আর্থিক সাহায্য লাভও হতে পারে। সদিচ্ছার উপর ফলাফল নির্ভর করে। আল্লাহ তা‘আলার কথার প্রতি যার বিশ্বাস ও আস্থার অভাব থাকে সে ছাড়া অপর কেউ দুর্ভোগে পড়তে পারে না। দৃঢ় বিশ্বাসই তাকে সফলতার পথে আল্লাহর সাহায্য লাভের উপযুক্ত করে দেবে।
হাদিস নং: ৫০৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني عروة بن الزبير، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ان ابا حذيفة بن عتبة بن ربيعة بن عبد شمس،، وكان، ممن شهد بدرا مع النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم تبنى سالما، وانكحه بنت اخيه هند بنت الوليد بن عتبة بن ربيعة وهو مولى لامراة من الانصار، كما تبنى النبي صلى الله عليه وسلم زيدا، وكان من تبنى رجلا في الجاهلية دعاه الناس اليه وورث من ميراثه حتى انزل الله (ادعوهم لاباىهم) الى قوله (ومواليكم) فردوا الى اباىهم، فمن لم يعلم له اب كان مولى واخا في الدين، فجاءت سهلة بنت سهيل بن عمرو القرشي ثم العامري ـ وهى امراة ابي حذيفة ـ النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله انا كنا نرى سالما ولدا وقد انزل الله فيه ما قد علمت فذكر الحديث.
৫০৮৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুযাইফাহ (রাঃ) ইবনু উতবাহ ইবনু রাবিয়া ইবনু আবদে শাম্স, যিনি বদরের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, তিনি সালিমকে পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তার সঙ্গে তিনি তাঁর ভাতিজী ওয়ালীদ ইব্নু উত্বাহ ইব্নু রাবিয়ার কন্যা হিন্দাকে বিয়ে দেন। সে ছিল এক আনসারী মহিলার আযাদকৃত দাস যেমন যায়দকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালক-পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। জাহিলী যুগের রীতি ছিল যে, কেউ যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে পালক-পুত্র হিসেবে গ্রহণ করত, তবে লোকেরা তাকে ঐ ব্যক্তির পুত্র হিসেবে ডাকত এবং মুত্যুর পর ঐ ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হত।
যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ অর্থাৎ, ’’তাদেরকে (পালক পুত্রদেরকে) তাদের জন্মদাতা পিতার নামে ডাক.....তারা তোমাদের মুক্ত করা গোলাম।’’ (সূরা আহযাবঃ ৫) এরপর থেকে তাদেরকে পিতার নামেই শুধু ডাকা হত। যদি তাদের পিতা সম্পর্কে জানা না যেত, তাহলে তাকে মাওলা বা দ্বীনী ভাই হিসেবে ডাকা হত। তারপর [আবূ হুযাইফাহ ইবনু ’উতবাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী] সাহলাবিনতে সুহায়ল ইবনু ’আমর আল কুরাইশী আল আমিরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সালিমকে আমাদের পুত্র হিসেবে মনে করতাম; অথচ এখন আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন তা তো আপনিই ভাল জানেন। এরপর তিনি পুরো হাদীস বর্ণনা করলেন। [৪০০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৭)
যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ অর্থাৎ, ’’তাদেরকে (পালক পুত্রদেরকে) তাদের জন্মদাতা পিতার নামে ডাক.....তারা তোমাদের মুক্ত করা গোলাম।’’ (সূরা আহযাবঃ ৫) এরপর থেকে তাদেরকে পিতার নামেই শুধু ডাকা হত। যদি তাদের পিতা সম্পর্কে জানা না যেত, তাহলে তাকে মাওলা বা দ্বীনী ভাই হিসেবে ডাকা হত। তারপর [আবূ হুযাইফাহ ইবনু ’উতবাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী] সাহলাবিনতে সুহায়ল ইবনু ’আমর আল কুরাইশী আল আমিরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সালিমকে আমাদের পুত্র হিসেবে মনে করতাম; অথচ এখন আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন তা তো আপনিই ভাল জানেন। এরপর তিনি পুরো হাদীস বর্ণনা করলেন। [৪০০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৭)
হাদিস নং: ৫০৮৯
সহিহ (Sahih)
عبيد بن اسماعيل حدثنا ابو اسامة عن هشام عن ابيه عن عاىشة قالت دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على ضباعة بنت الزبير فقال لها لعلك اردت الحج قالت والله لا اجدني الا وجعة فقال لها حجي واشترطي وقولي اللهم محلي حيث حبستني وكانت تحت المقداد بن الاسود.
৫০৮৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবা’আ বিনতে যুবায়র-এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন তোমার হাজ্জে যাবার ইচ্ছে আছে কি? সে উত্তর দিল, আল্লাহর কসম! আমি খুবই অসুস্থবোধ করছি (তবে হাজ্জে যাবার ইচ্ছে আছে)। তার উত্তরে বললেন, তুমি হাজ্জের নিয়্যতে বেরিয়ে যাও এবং আল্লাহর কাছে এই শর্তারোপ করে বল, হে আল্লাহ্! যেখানেই আমি বাধাগ্রস্ত হব, সেখানেই আমি আমার ইহরাম শেষ করে হালাল হয়ে যাব। সে ছিল মিকদাদ ইবনু আসওয়াদের সহধর্মিণী। [মুসলিম ১৫/১৫, হাঃ ১২০৭, আহমাদ ২৫৩৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৮)
হাদিস নং: ৫০৯০
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن عبيد الله قال حدثني سعيد بن ابي سعيد عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال تنكح المراة لاربع لمالها ولحسبها وجمالها ولدينها فاظفر بذات الدين تربت يداك
৫০৯০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়ঃ তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [1] [মুসলিম ১৭/১৫, হাঃ ১৪৬৬, আহমাদ ৯৫২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৯)
নোট: [1] যে সব কারণে একজন পুরুষ বিশেষ একটি মেয়েকে স্ত্রীরূপে বরণ করার জন্য উৎসাহিত ও আগ্রহান্বিত হতে পারে তা হচ্ছে চারটি। (১) সৌন্দর্য (২) সম্পদ (৩) বংশ (৪) দীনদারী। এ গুণ চতুষ্টয়ের মধ্যে সর্বশেষে উল্লেখ করা হয়েছে দীনদারী ও আদর্শবাদিতার গুণ। আর এ গুণটিই ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বাগ্রগণ্য ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আলোচ্য নির্দেশের সার কথা হল- দীনদারীর গুণসম্পন্না কনে পাওয়া গেলে তাকেই যেন স্ত্রীরূপে বরণ করা হয়, তাকে বাদ দিয়ে অপর কোন গুণসম্পন্না মহিলাকে বিয়ে করতে আগ্রহী হওয়া উচিত নয়- (সুবুলুস সালাম)। চারটি গুণের মধ্যে দ্বীনদার হওয়ার গুণটি কেবল যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তা-ই নয়, এ গুণ যার নেই তার মধ্যে অন্যান্য গুণ যতই থাক না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে সে অগ্রাধিকার যোগ্য কনে নয়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ী তো দ্বীনদারীর গুণ বঞ্চিতা নারী বিয়ে করাই উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন- তোমরা স্ত্রীদের কেবল তাদের রূপ-সৌন্দর্য দেখেই বিয়ে করো না- কেননা এরূপ সৌন্দর্যই অনেক সময় তাদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। তাদের ধন-মালের লোভে পড়েও বিয়ে করবে না, কেননা এ ধনমাল তাদের বিদ্রোহী ও অনমনীয় বানাতে পারে। বরং তাদের দ্বীনদারীর গুণ দেখেই তবে বিয়ে করবে। বস্ত্তত একজন দীনদার কৃষ্ণাঙ্গ দাসীও কিন্তু অনেক ভাল- (ইবনে মাজাহ, বাযযার, বাইহাকী)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- বিয়ের জন্য কোন্ ধরনের মেয়ে উত্তম? জবাবে তিনি বলেছিলেন- যে স্ত্রীকে দেখলে সে তার স্বামীকে আনন্দ দেয়, তাকে যে কাজের আদেশ করা হয় তা সে যথাযথ পালন করে এবং তার নিজের স্বামীর ধন মালের ব্যাপারে স্বামীর পছন্দের বিপরীত কোন কাজই করে না- (মুসনাদে আহমাদ)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন- দুনিয়ার সব জিনিসই ভোগ সামগ্রী আর সবচেয়ে উত্তম সামগ্রী হচ্ছে নেক চরিত্রের স্ত্রী- (মুসনাদে আহমাদ)।
উপরে উদ্ধৃত হাদীসগুলো থেকে সে কথাটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে তা এই যে, ইসলামের দৃষ্টিতে তাকওয়া, পরহেযগারী, দীনদারী ও উন্নত চরিত্রই হচ্ছে জীবন সঙ্গিনী পছন্দ করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
উপরে উদ্ধৃত হাদীসগুলো থেকে সে কথাটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে তা এই যে, ইসলামের দৃষ্টিতে তাকওয়া, পরহেযগারী, দীনদারী ও উন্নত চরিত্রই হচ্ছে জীবন সঙ্গিনী পছন্দ করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।