হাদিস নং: ৫০১
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب قال حدثنا شعبة عن الحكم عن ابي جحيفة قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم بالهاجرة فصلى بالبطحاء الظهر والعصر ركعتين ونصب بين يديه عنزة وتوضا فجعل الناس يتمسحون بوضوىه.
৫০১. আবূ জুহাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা দুপুরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে তাশরীফ আনলেন। তিনি ‘বাতহা’ নামক স্থানে যোহর ও ‘আসরের সালাত দু’-দু’রাক‘আত করে আদায় করলেন। তখন তাঁর সামনে একটা লৌহযুক্ত ছড়ি পুঁতে রাখা হয়েছিল। তিনি যখন উযূ করছিলেন, তখন সাহাবীগণ তাঁর উযূর পানি নিজেদের শরীরে (বরকতের জন্য) মাসেহ করতে লাগলো। (১৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৭)
হাদিস নং: ৫০২
সহিহ (Sahih)
المكي بن ابراهيم قال حدثنا يزيد بن ابي عبيد قال كنت اتي مع سلمة بن الاكوع فيصلي عند الاسطوانة التي عند المصحف فقلت يا ابا مسلم اراك تتحرى الصلاة عند هذه الاسطوانة قال فاني رايت النبي يتحرى الصلاة عندها.
وَقَالَ عُمَرُ الْمُصَلُّونَ أَحَقُّ بِالسَّوَارِي مِنَ الْمُتَحَدِّثِينَ إِلَيْهَا وَرَأَى عُمَرُ رَجُلاً يُصَلِّي بَيْنَ أُسْطُوَانَتَيْنِ فَأَدْنَاهُ إِلَى سَارِيَةٍ فَقَالَ صَلِّ إِلَيْهَا.
‘উমার (রাযি.) বলেনঃ বাক্যালাপে রত ব্যক্তিদের চেয়ে মুসল্লীরাই স্তম্ভ সামনে রাখার অধিক হকদার। এক সময় ইবনু ‘উমার (রাযি.) দেখলেন, এক ব্যক্তি দু’টো স্তম্ভের মাঝখানে সালাত আদায় করছে। তখন তিনি তাকে একটি খুঁটির নিকট এনে বললেনঃ এটি সামনে রেখে সালাত আদায় কর।
৫০২. ইয়াযীদ ইবনু আবূ ‘উবায়দ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সালামাহ ইবনুল আকওয়া’ (রাযি.)-এর নিকট আসতাম। তিনি সর্বদা মসজিদে নাববীর সেই স্তম্ভের নিকট সালাত আদায় করতেন যা ছিল মাসহাফের নিকটবর্তী। আমি তাঁকে বললামঃ হে আবূ মুসলিম! আমি আপনাকে সর্বদা এই স্তম্ভ খুঁজে বের করে সামনে রেখে সালাত আদায় করতে দেখি (এর কারণ কী?) তিনি বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এটি খুঁজে বের করে এর নিকট সালাত আদায় করতে দেখেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৮)
‘উমার (রাযি.) বলেনঃ বাক্যালাপে রত ব্যক্তিদের চেয়ে মুসল্লীরাই স্তম্ভ সামনে রাখার অধিক হকদার। এক সময় ইবনু ‘উমার (রাযি.) দেখলেন, এক ব্যক্তি দু’টো স্তম্ভের মাঝখানে সালাত আদায় করছে। তখন তিনি তাকে একটি খুঁটির নিকট এনে বললেনঃ এটি সামনে রেখে সালাত আদায় কর।
৫০২. ইয়াযীদ ইবনু আবূ ‘উবায়দ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সালামাহ ইবনুল আকওয়া’ (রাযি.)-এর নিকট আসতাম। তিনি সর্বদা মসজিদে নাববীর সেই স্তম্ভের নিকট সালাত আদায় করতেন যা ছিল মাসহাফের নিকটবর্তী। আমি তাঁকে বললামঃ হে আবূ মুসলিম! আমি আপনাকে সর্বদা এই স্তম্ভ খুঁজে বের করে সামনে রেখে সালাত আদায় করতে দেখি (এর কারণ কী?) তিনি বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এটি খুঁজে বের করে এর নিকট সালাত আদায় করতে দেখেছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৮)
হাদিস নং: ৫০৩
সহিহ (Sahih)
قبيصة قال حدثنا سفيان عن عمرو بن عامر عن انس بن مالك قال لقد رايت كبار اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم يبتدرون السواري عند المغرب وزاد شعبة عن عمرو عن انس حتى يخرج النبي صلى الله عليه وسلم .
৫০৩. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিশিষ্ট সাহাবীদের পেয়েছি। তাঁরা মাগরিবের সময় দ্রুত স্তম্ভের নিকট যেতেন। শু’বাহ (রাযি.) ‘আমর (রহ.) সূত্রে আনাস (রাযি.) হতে (এ হাদীসে) অতিরিক্ত বলেছেনঃ ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে আসা পর্যন্ত। (৬২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৯)
হাদিস নং: ৫০৪
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل قال حدثنا جويرية عن نافع عن ابن عمر قال دخل النبي البيت واسامة بن زيد وعثمان بن طلحة وبلال فاطال ثم خرج وكنت اول الناس دخل على اثره فسالت بلالا اين صلى قال بين العمودين المقدمين.
৫০৪. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহ-এ প্রবেশ করেছিলেন। আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন উসামা ইবনু যায়দ (রাযি.), ‘উসমান ইবনু ত্বলহা (রাযি.) এবং বিলাল (রাযি.)। তিনি অনেকক্ষণ ভিতরে ছিলেন। অতঃপর বের হলেন। আর আমিই প্রথম ব্যক্তি যে তাঁর পরে প্রবেশ করেছে। আমি বিলাল (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেনঃ সামনের দুই খুঁটির মধ্যখানে। (৩৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮০)
হাদিস নং: ৫০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم دخل الكعبة واسامة بن زيد وبلال وعثمان بن طلحة الحجبي فاغلقها عليه ومكث فيها فسالت بلالا حين خرج ما صنع النبي صلى الله عليه وسلم قال جعل عمودا عن يساره وعمودا عن يمينه وثلاثة اعمدة وراءه وكان البيت يومىذ على ستة اعمدة ثم صلى
وقال لنا اسماعيل حدثني مالك وقال عمودين عن يمينه.
وقال لنا اسماعيل حدثني مالك وقال عمودين عن يمينه.
৫০৫. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর উসামা ইবনু যায়দ, বিলাল এবং ’উসমান ইবনু তালহা হাজাবী (রাযি.) কা’বায় প্রবেশ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রবেশের সাথে সাথে ’উসমান (রাযি.) কা’বার দরজা বন্ধ করে দিলেন। তাঁরা কিছুক্ষণ ভিতরে ছিলেন। বিলাল (রাযি.) বের হলে আমি তাঁকে বললামঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করলেন? তিনি বললেনঃ একটা খুঁটি বাম দিকে, একটা খুঁটি ডান দিকে আর তিনটা খুঁটি পেছনে রাখলেন। আর তখন বায়তুল্লাহ ছিল ছয়টি খুঁটি বিশিষ্ট। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন।
[ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] ইসমাঈল (রহ.) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন যে, তাঁর (নবীর) ডান পাশে দু’টো স্তম্ভ ছিল। (৩৯৭; মুসলিম ১৫/৬৮, হাঃ ১৩২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮১)
[ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] ইসমাঈল (রহ.) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন যে, তাঁর (নবীর) ডান পাশে দু’টো স্তম্ভ ছিল। (৩৯৭; মুসলিম ১৫/৬৮, হাঃ ১৩২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮১)
হাদিস নং: ৫০৬
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر قال حدثنا ابو ضمرة قال حدثنا موسى بن عقبة عن نافع ان عبد الله بن عمر كان اذا دخل الكعبة مشى قبل وجهه حين يدخل وجعل الباب قبل ظهره فمشى حتى يكون بينه وبين الجدار الذي قبل وجهه قريبا من ثلاثة اذرع صلى يتوخى المكان الذي اخبره به بلال ان النبي صلى فيه قال وليس على احدنا باس ان صلى في اي نواحي البيت شاء.
৫০৬. নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) যখন কা‘বা শরীফে প্রবেশ করতেন তখন সামনের দিকে চলতে থাকতেন এবং দরজা পেছনে রাখতেন। এভাবে এগিয়ে গিয়ে যেখানে তাঁর ও দেওয়ালের মাঝে প্রায় তিন হাত পরিমাণ ব্যবধান থাকতো, সেখানে তিনি সালাত আদায় করতেন। তিনি সে স্থানেই সালাত আদায় করতে চাইতেন, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছিলেন বলে বিলাল (রাযি.) তাঁকে খবর দিয়েছিলেন। তিনি বলেনঃ কা’বা ঘরে যে-কোন প্রান্তে ইচ্ছা, সালাত আদায় করাতে আমাদের কারো কোন দোষ নেই। (৩৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮২)
হাদিস নং: ৫০৭
সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي بكر المقدمي حدثنا معتمر عن عبيد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان يعرض راحلته فيصلي اليها قلت افرايت اذا هبت الركاب قال كان ياخذ هذا الرحل فيعدله فيصلي الى اخرته او قال موخره وكان ابن عمريفعله.
৫০৭. ইবনু ’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটনীকে সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন। [রাবী নাফি’ (রহ.) বলেন] আমি [’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাযি.) কে] জিজ্ঞেস করলামঃ যখন সওয়ারী নড়াচড়া করতো তখন (তিনি কী করতেন?) তিনি বলেনঃ তিনি তখন হাওদা নিয়ে সোজা করে নিজের সামনে রাখতেন, আর তার শেষাংশের দিকে সালাত আদায় করতেন।
[নাফি’ (রহ.) বলেন]: ইবনু ’উমার (রাযি.)-ও তা করতেন। (৪৩০; মুসলিম ৪/৪৭, হাঃ ৫০২, আহমাদ ৪৪৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৩)
[নাফি’ (রহ.) বলেন]: ইবনু ’উমার (রাযি.)-ও তা করতেন। (৪৩০; মুসলিম ৪/৪৭, হাঃ ৫০২, আহমাদ ৪৪৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৩)
হাদিস নং: ৫০৮
সহিহ (Sahih)
عثمان بن ابي شيبة قال حدثنا جرير عن منصور عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة قالت اعدلتمونا بالكلب والحمار لقد رايتني مضطجعة على السرير فيجيء النبي فيتوسط السرير فيصلي فاكره ان اسنحه فانسل من قبل رجلي السرير حتى انسل من لحافي.
৫০৮. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুর, গাধার সমান করে ফেলেছ! আমি নিজে এ অবস্থায় ছিলাম যে, আমি চৌকির উপর শুয়ে থাকতাম আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে চৌকির মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন। এভাবে আমি সামনে থাকা পছন্দ করতাম না। তাই আমি চৌকির পায়ের দিকে সরে গিয়ে চুপি চুপি নিজের লেপ হতে বেরিয়ে পড়তাম। (৩৮০/৩৮২; মুসলিম ৪/৫১, হাঃ ৫১২, আহমাদ ২৫৯৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৪)
হাদিস নং: ৫০৯
সহিহ (Sahih)
ابو معمر قال حدثنا عبد الوارث قال حدثنا يونس عن حميد بن هلال عن ابي صالح ان ابا سعيد قال قال النبي ح و حدثنا ادم بن ابي اياس قال حدثنا سليمان بن المغيرة قال حدثنا حميد بن هلال العدوي قال حدثنا ابو صالح السمان قال رايت ابا سعيد الخدري في يوم جمعة يصلي الى شيء يستره من الناس فاراد شاب من بني ابي معيط ان يجتاز بين يديه فدفع ابو سعيد في صدره فنظر الشاب فلم يجد مساغا الا بين يديه فعاد ليجتاز فدفعه ابو سعيد اشد من الاولى فنال من ابي سعيد ثم دخل على مروان فشكا اليه ما لقي من ابي سعيد ودخل ابو سعيد خلفه على مروان فقال ما لك ولابن اخيك يا ابا سعيد قال سمعت النبي يقول اذا صلى احدكم الى شيء يستره من الناس فاراد احد ان يجتاز بين يديه فليدفعه فان ابى فليقاتله فانما هو شيطان.
وَرَدَّ ابْنُ عُمَرَ فِي التَّشَهُّدِ وَفِي الْكَعْبَةِ وَقَالَ إِنْ أَبَى إِلاَّ أَنْ تُقَاتِلَهُ فَقَاتِلْهُ.
ইবনু ‘উমার (রাযি.) তাশাহহুদে বসা অবস্থায় এবং কা‘বা শরীফেও (অতিক্রমকারীকে) বাধা দিয়েছেন এবং তিনি বলেন, সে অতিক্রম করা হতে বিরত থাকতে অস্বীকার করে লড়তে চাইলে মুসল্লী তার সাথে লড়বে।
৫০৯, আবূ মা‘মার (রহ.) ও আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহ.) .... আবূ সালেহ সাম্মান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)-কে দেখেছি। তিনি জুমু‘আর দিন লোকদের জন্য সুতরা হিসেবে কোন কিছু সামনে রেখে সালাত আদায় করছিলেন। আবু মু‘আইত গোত্রের এক যুবক তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) তার বুকে ধাক্কা মারলেন। যুবকটি লক্ষ্য করে দেখলো যে, তাঁর সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। এজন্যে সে পুনরায় তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। এবারে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) প্রথমবারের চেয়ে জোরে ধাক্কা দিলেন। ফলে আবূ সা‘ঈদ (রাযি.)-কে তিরস্কার করে সে মারওয়ানের নিকট গিয়ে আবূ সা‘ঈদ (রাযি.)-এর ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করল। এদিকে তার পরপরই আবূ সা‘ঈদ (রাযি.)-ও মারওয়ানের নিকট গেলেন। মারওয়ান তাঁকে বললেনঃ হে আবূ সা‘ঈদ! তোমার এই ভাতিজার কী ঘটেছে? তিনি জবাব দিলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যদি লোকদের জন্য সামনে সুতরা রেখে সালাত আদায় করে, আর কেউ যদি তার সামনে দিয়ে যেতে চায়, তাহলে যেন সে তাকে বাধা দেয়। সে যদি না মানে, তবে সে ব্যক্তি (মুসল্লী) যেন তার সাথে লড়াই করে, কেননা সে শয়তান। (৩২৭৪; মুসলিম ৪/৪৮, হাঃ ৫০৫, আহমাদ ১১২৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৫)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) তাশাহহুদে বসা অবস্থায় এবং কা‘বা শরীফেও (অতিক্রমকারীকে) বাধা দিয়েছেন এবং তিনি বলেন, সে অতিক্রম করা হতে বিরত থাকতে অস্বীকার করে লড়তে চাইলে মুসল্লী তার সাথে লড়বে।
৫০৯, আবূ মা‘মার (রহ.) ও আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহ.) .... আবূ সালেহ সাম্মান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)-কে দেখেছি। তিনি জুমু‘আর দিন লোকদের জন্য সুতরা হিসেবে কোন কিছু সামনে রেখে সালাত আদায় করছিলেন। আবু মু‘আইত গোত্রের এক যুবক তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) তার বুকে ধাক্কা মারলেন। যুবকটি লক্ষ্য করে দেখলো যে, তাঁর সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। এজন্যে সে পুনরায় তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। এবারে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) প্রথমবারের চেয়ে জোরে ধাক্কা দিলেন। ফলে আবূ সা‘ঈদ (রাযি.)-কে তিরস্কার করে সে মারওয়ানের নিকট গিয়ে আবূ সা‘ঈদ (রাযি.)-এর ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করল। এদিকে তার পরপরই আবূ সা‘ঈদ (রাযি.)-ও মারওয়ানের নিকট গেলেন। মারওয়ান তাঁকে বললেনঃ হে আবূ সা‘ঈদ! তোমার এই ভাতিজার কী ঘটেছে? তিনি জবাব দিলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যদি লোকদের জন্য সামনে সুতরা রেখে সালাত আদায় করে, আর কেউ যদি তার সামনে দিয়ে যেতে চায়, তাহলে যেন সে তাকে বাধা দেয়। সে যদি না মানে, তবে সে ব্যক্তি (মুসল্লী) যেন তার সাথে লড়াই করে, কেননা সে শয়তান। (৩২৭৪; মুসলিম ৪/৪৮, হাঃ ৫০৫, আহমাদ ১১২৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৫)
হাদিস নং: ৫১০
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن ابي النضر مولى عمر بن عبيد الله عن بسر بن سعيد ان زيد بن خالد ارسله الى ابي جهيم يساله ماذا سمع من رسول الله في المار بين يدي المصلي فقال ابو جهيم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لو يعلم المار بين يدي المصلي ماذا عليه لكان ان يقف اربعين خيرا له من ان يمر بين يديه قال ابو النضر لا ادري اقال اربعين يوما او شهرا او سنة.
৫১০. বুসর ইবনু সা’ঈদ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, যায়দ ইবনু খালিদ (রাযি.) তাঁকে আবূ জুহায়ম (রাযি.)-এর নিকট পাঠালেন, যেন তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন যে, মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীর সম্পর্কে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কী শুনেছেন। তখন আবূ জুহায়ম (রাযি.) বললেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী জানতো এটা তার কত বড় অপরাধ, তাহলে সে মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করতো।
আবুন-নাযর (রহ.) বলেনঃ আমার জানা নেই তিনি কি চল্লিশ দিন বা মাস কিংবা চল্লিশ বছর বলেছেন। (মুসলিম ৪/৪৮, হাঃ ৭৫০৭, আহমাদ ১৭৫৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৬)
আবুন-নাযর (রহ.) বলেনঃ আমার জানা নেই তিনি কি চল্লিশ দিন বা মাস কিংবা চল্লিশ বছর বলেছেন। (মুসলিম ৪/৪৮, হাঃ ৭৫০৭, আহমাদ ১৭৫৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৬)
হাদিস নং: ৫১১
সহিহ (Sahih)
اسماعيل بن خليل حدثنا علي بن مسهر عن الاعمش عن مسلم يعني ابن صبيح عن مسروق عن عاىشة انه ذكر عندها ما يقطع الصلاة فقالوا يقطعها الكلب والحمار والمراة قالت لقد جعلتمونا كلابا لقد رايت النبي يصلي واني لبينه وبين القبلة وانا مضطجعة على السرير فتكون لي الحاجة فاكره ان استقبله فانسل انسلالا وعن الاعمش عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة نحوه.
وَكَرِهَ عُثْمَانُ أَنْ يُسْتَقْبَلَ الرَّجُلُ وَهُوَ يُصَلِّي وَإِنَّمَا هَذَا إِذَا اشْتَغَلَ بِهِ فَأَمَّا إِذَا لَمْ يَشْتَغِلْ فَقَدْ قَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ مَا بَالَيْتُ إِنَّ الرَّجُلَ لاَ يَقْطَعُ صَلاَةَ الرَّجُلِ.
’উসমান (রাযি.) সালাতরত অবস্থায় কাউকে সামনে রাখা মাকরূহ মনে করতেন। এ হুকুম তখনই প্রযোজ্য যখন তা মুসল্লীকে অন্যমনস্ক করে দেয়। কিন্তু যখন অন্যমনস্ক করে না, তখনই যায়দ ইব্নু সাবিত (রাযি.)-এর মতানুসারে কোন ক্ষতি নেই। তিনি বলেনঃ একজন আরেকজনের সালাত নষ্ট করতে পারে না।
৫১১. ’আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একবার তাঁর সামনে সালাত নষ্টকারী জিনিসের আলোচনা করা হল। লোকেরা বললোঃ কুকুর, গাধা ও মহিলা সালাত নষ্ট করে দেয়। ’আয়িশাহ (রাযি.) বললেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুরের সমান করে দিয়েছ! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, সালাত আদায় করছেন আর আমি তাঁর ও কিবলাহর মাঝে চৌকির উপর কাত হয়ে শুয়ে থাকতাম। কোন কোন সময় আমার বের হবার দরকার হতো এবং তাঁর সামনের দিকে যাওয়া অপছন্দ করতাম। এজন্যে আমি চুপে চুপে সরে পড়তাম। আ’মাশ (রহ.) ’আয়িশাহ (রাযি.) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৭)
’উসমান (রাযি.) সালাতরত অবস্থায় কাউকে সামনে রাখা মাকরূহ মনে করতেন। এ হুকুম তখনই প্রযোজ্য যখন তা মুসল্লীকে অন্যমনস্ক করে দেয়। কিন্তু যখন অন্যমনস্ক করে না, তখনই যায়দ ইব্নু সাবিত (রাযি.)-এর মতানুসারে কোন ক্ষতি নেই। তিনি বলেনঃ একজন আরেকজনের সালাত নষ্ট করতে পারে না।
৫১১. ’আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একবার তাঁর সামনে সালাত নষ্টকারী জিনিসের আলোচনা করা হল। লোকেরা বললোঃ কুকুর, গাধা ও মহিলা সালাত নষ্ট করে দেয়। ’আয়িশাহ (রাযি.) বললেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুরের সমান করে দিয়েছ! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, সালাত আদায় করছেন আর আমি তাঁর ও কিবলাহর মাঝে চৌকির উপর কাত হয়ে শুয়ে থাকতাম। কোন কোন সময় আমার বের হবার দরকার হতো এবং তাঁর সামনের দিকে যাওয়া অপছন্দ করতাম। এজন্যে আমি চুপে চুপে সরে পড়তাম। আ’মাশ (রহ.) ’আয়িশাহ (রাযি.) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৭)
হাদিস নং: ৫১২
সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا يحيى قال حدثنا هشام قال حدثني ابي عن عاىشة قالت كان النبي يصلي وانا راقدة معترضة على فراشه فاذا اراد ان يوتر ايقظني فاوترت.
৫১২. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন আর আমি তখন তাঁর বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। বিত্র পড়ার সময় তিনি আমাকেও জাগাতেন, তখন আমিও বিত্র পড়তাম। (৩৮২; মুসলিম ৪/৫১, হাঃ ৫১২, আহমাদ ২৫৭৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৮)
হাদিস নং: ৫১৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن ابي النضر مولى عمر بن عبيد الله عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت كنت انام بين يدي رسول الله ورجلاي في قبلته فاذا سجد غمزني فقبضت رجلي فاذا قام بسطتهما قالت والبيوت يومىذ ليس فيها مصابيح.
৫১৩. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে শুয়ে থাকতাম আর আমার পা দু’টো থাকত তাঁর কিবলার দিকে। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন আমাকে টোকা দিতেন, আর আমি আমার পা সরিয়ে নিতাম। তিনি দাঁড়িয়ে গেলে পুনরায় পা দু’টো প্রসারিত করে দিতাম।‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেনঃ তখন ঘরে কোন বাতি ছিল না। (৩৮২/৫৮২; মুসলিম ৪/৫১, হাঃ ৫১২, আহমাদ ২৫৭৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৮৯)
হাদিস নং: ৫১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص بن غياث قال حدثنا ابي قال حدثنا الاعمش قال حدثنا ابراهيم عن الاسود عن عاىشة ح قال الاعمش وحدثني مسلم عن مسروق عن عاىشة ذكر عندها ما يقطع الصلاة الكلب والحمار والمراة فقالت شبهتمونا بالحمر والكلاب والله لقد رايت النبي يصلي واني على السرير بينه وبين القبلة مضطجعة فتبدو لي الحاجة فاكره ان اجلس فاوذي النبي فانسل من عند رجليه
৫১৪. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তাঁর সামনে সালাত নষ্টকারী কুকুর, গাধা ও নারী সম্বন্ধে আলোচনা চলছিল।‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেনঃ তোমরা আমাদেরকে গাধা ও কুকুরের সাথে তুলনা করছ? আল্লাহর কসম! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তখন আমি চৌকির উপরে তাঁর ও কিবলাহর মাঝখানে শুয়ে ছিলাম। আমার প্রয়োজন হলে আমি তার সামনে বসা খারাপ মনে করতাম। তাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কষ্ট হতে পারে। আমি তাঁর পায়ের পাশ দিয়ে চুপিসারে বের হয়ে যেতাম। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯০)
হাদিস নং: ৫১৫
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابراهيم قال اخبرنا يعقوب بن ابراهيم بن سعد قال حدثني ابن اخي ابن شهاب انه سال عمه عن الصلاة يقطعها شيء فقال لا يقطعها شيء اخبرني عروة بن الزبير ان عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت لقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوم فيصلي من الليل واني لمعترضة بينه وبين القبلة على فراش اهله.
৫১৫. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে উঠে সালাতে দাঁড়াতেন আর আমি তাঁর ও কিবলাহর মাঝখানে আড়াআড়িভাবে তাঁর পরিজনদের বিছানায় শুয়ে থাকতাম। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯১)
হাদিস নং: ৫১৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن عامر بن عبد الله بن الزبير عن عمرو بن سليم الزرقي عن ابي قتادة الانصاري ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي وهو حامل امامة بنت زينب بنت رسول الله ولابي العاص بن ربيعة بن عبد شمس فاذا سجد وضعها واذا قام حملها.
৫১৬. আবূ কাতাদাহ্ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মেয়ে যয়নবের গর্ভজাত ও আবুল আস ইবনু রাবী‘আহ ইবনু ‘আবদ শামস (রহ.)-এর ঔরসজাত কন্যা উমামাহ (রাযি.)-কে কাঁধে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যখন সিজদায় যেতেন তখন তাকে রেখে দিতেন আর যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে তুলে নিতেন। (৫৯৯৬; মুসলিম ৫/৯, হাঃ ৫৪৩, আহমাদ ২২৬৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯২)
হাদিস নং: ৫১৭
সহিহ (Sahih)
عمرو بن زرارة قال اخبرنا هشيم عن الشيباني عن عبد الله بن شداد بن الهاد قال اخبرتني خالتي ميمونة بنت الحارث قالت كان فراشي حيال مصلى النبي صلى الله عليه وسلم فربما وقع ثوبه علي وانا على فراشي.
৫১৭. মাইমূনাহ বিনতু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার বিছানা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুসাল্লার বরাবর ছিল। আর আমি আমার বিছানায় থাকা অবস্থায় কোন কোন সময় তাঁর কাপড় আমার গায়ের উপর এসে পড়তো। (৩৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৩)
হাদিস নং: ৫১৮
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان قال حدثنا عبد الواحد بن زياد قال حدثنا الشيباني سليمان حدثنا عبد الله بن شداد قال سمعت ميمونة تقول كان النبي يصلي وانا الى جنبه ناىمة فاذا سجد اصابني ثوبه وانا حاىض وزاد مسدد عن خالد قال حدثنا سليمان الشيباني وانا حاىض.
৫১৮. মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন আর আমি তাঁর পাশে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন তাঁর কাপড় আমার গায়ের উপর পড়তো। সে সময় আমি ঋতুমতী ছিলাম। (৩৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৪)
হাদিস নং: ৫১৯
সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي قال حدثنا يحيى قال حدثنا عبيد الله قال حدثنا القاسم عن عاىشة رضي الله عنها قالت بىسما عدلتمونا بالكلب والحمار لقد رايتني ورسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي وانا مضطجعة بينه وبين القبلة فاذا اراد ان يسجد غمز رجلي فقبضتهما.
৫১৯. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুর ও গাধার সমান করে বড়ই খারাপ করেছ। অথচ আমি নিজেকে এ অবস্থায় দেখেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ের সময় আমি তাঁর ও কিবলাহর মাঝখানে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন সিজদা করার ইচ্ছা করতেন তখন আমার পা দু’টোতে টোকা মারতেন আর আমি আমার পা গুটিয়ে নিতাম। (৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৫)
হাদিস নং: ৫২০
সহিহ (Sahih)
احمد بن اسحاق السورماري قال حدثنا عبيد الله بن موسى قال حدثنا اسراىيل عن ابي اسحاق عن عمرو بن ميمون عن عبد الله قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم قاىم يصلي عند الكعبة وجمع قريش في مجالسهم اذ قال قاىل منهم الا تنظرون الى هذا المراىي ايكم يقوم الى جزور ال فلان فيعمد الى فرثها ودمها وسلاها فيجيء به ثم يمهله حتى اذا سجد وضعه بين كتفيه فانبعث اشقاهم فلما سجد رسول الله صلى الله عليه وسلم وضعه بين كتفيه وثبت النبي ساجدا فضحكوا حتى مال بعضهم الى بعض من الضحك فانطلق منطلق الى فاطمة عليها السلام وهي جويرية فاقبلت تسعى وثبت النبي ساجدا حتى القته عنه واقبلت عليهم تسبهم فلما قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم الصلاة قال اللهم عليك بقريش اللهم عليك بقريش اللهم عليك بقريش ثم سمى اللهم عليك بعمرو بن هشام وعتبة بن ربيعة وشيبة بن ربيعة والوليد بن عتبة وامية بن خلف وعقبة بن ابي معيط وعمارة بن الوليد قال عبد الله فوالله لقد رايتهم صرعى يوم بدر ثم سحبوا الى القليب قليب بدر ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم واتبع اصحاب القليب لعنة.
৫২০. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার নিকটে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর কুরাইশের একদল তাদের মাজলিসে উপবিষ্ট ছিল। তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বললঃ তোমরা কি এই রিয়াকারকে লক্ষ করছ না? তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে অমুক গোত্রের উট যবেহ করার স্থান পর্যন্ত যেতে পার? সেখান হতে গোবর, রক্ত ও নাড়িভুড়ি নিয়ে এসে অপেক্ষা করবে। যখন তিনি সাজদায় যাবেন, তখন এগুলো তার দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে দিবে। এ কাজের জন্য তাদের চরম দুর্ভাগা ব্যক্তি (’উক্ববাহ ইবনু আবূ মু’আইত) উঠে দাঁড়াল (এবং তা নিয়ে আসলো)। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাজদায় গেলেন তখন সে তাঁর দু’কাঁধের মাঝখানে সেগুলো রেখে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্য় স্থির রয়ে গেলেন। এতে তারা পরস্পর হাসাহাসি করতে লাগলো। এমনকি হাসতে হাসতে একজন আরেকজনের গায়ের উপর লুটোপুটি করতে লাগল। (এ অবস্থা দেখে) এক ব্যক্তি ফাতিমাহ (রাযি.)-এর নিকট গেলেন।
তখন তিনি ছিলেন ছোট বালিকা। তিনি দৌড়ে চলে এলেন। তখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্য় স্থির ছিলেন। অবশেষে তিনি [ফাতিমাহ (রাযি.)] সেগুলো তাঁর উপর হতে ফেলে দিলেন এবং মুশরিকদের লক্ষ্য করে তিরস্কার করতে লাগলেন। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন তখন তিনি বললেনঃ ’’হে আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর। ’’ হে আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর।’’ ’’আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর।’’ অতঃপর তিনি নাম নিয়ে বললেন, ’’হে আল্লাহ! তুমি ’আমার ইবনু হিশাম, ’উত্বাহ ইবনু রাবী’আহ, শায়বাহ ইবনু রাবী’আহ, ওয়ালীদ ইবনু ’উত্বাহ, উমায়্যাহ ইবনু খালাফ, ’উকবাহ ইবনু আবূ মু’আইত এবং ’উমারাহ ইবনু ওয়ালীদকে ধ্বংস কর।’’ ’আবদুল্লাহ [ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.)] বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি এদের সকলকেই বদরের দিন নিহত লাশ হয়ে পড়ে থাকতে দেখেছি। অতঃপর তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে বাদ্র কূপে নিক্ষেপ করা হয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ এই কুয়াবাসীদের উপর চিরস্থায়ী অভিসম্পাত। (২৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৬)
তখন তিনি ছিলেন ছোট বালিকা। তিনি দৌড়ে চলে এলেন। তখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্য় স্থির ছিলেন। অবশেষে তিনি [ফাতিমাহ (রাযি.)] সেগুলো তাঁর উপর হতে ফেলে দিলেন এবং মুশরিকদের লক্ষ্য করে তিরস্কার করতে লাগলেন। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন তখন তিনি বললেনঃ ’’হে আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর। ’’ হে আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর।’’ ’’আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর।’’ অতঃপর তিনি নাম নিয়ে বললেন, ’’হে আল্লাহ! তুমি ’আমার ইবনু হিশাম, ’উত্বাহ ইবনু রাবী’আহ, শায়বাহ ইবনু রাবী’আহ, ওয়ালীদ ইবনু ’উত্বাহ, উমায়্যাহ ইবনু খালাফ, ’উকবাহ ইবনু আবূ মু’আইত এবং ’উমারাহ ইবনু ওয়ালীদকে ধ্বংস কর।’’ ’আবদুল্লাহ [ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.)] বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি এদের সকলকেই বদরের দিন নিহত লাশ হয়ে পড়ে থাকতে দেখেছি। অতঃপর তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে বাদ্র কূপে নিক্ষেপ করা হয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ এই কুয়াবাসীদের উপর চিরস্থায়ী অভিসম্পাত। (২৪০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯৬)