হাদিস নং: ৬৩১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا قبيصة، حدثنا سفيان، عن عبد الملك، عن ربعي بن حراش، عن حذيفة، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اوى الى فراشه قال " باسمك اموت واحيا ". واذا قام قال " الحمد لله الذي احيانا بعد ما اماتنا واليه النشور ".
৬৩১২. হুযাইফাহ ইবনু ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করতে যেতেন, তখন তিনি এ দু’আ পড়তেনঃ
"বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া"
হে আল্লাহ! আপনারই নাম নিয়ে মরি আর আপনার নাম নিয়েই বাঁচি। আর তিনি জেগে উঠতেন তখন পড়তেনঃ
"আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্ নুশূর"
যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুদানের পর আবার আমাদের পুনর্জীবিত করেছেন। আর প্রত্যাবর্তন তাঁর পানেই। [৬৩১৪, ৬৩২৪, ৭৩৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬০)
"বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া"
হে আল্লাহ! আপনারই নাম নিয়ে মরি আর আপনার নাম নিয়েই বাঁচি। আর তিনি জেগে উঠতেন তখন পড়তেনঃ
"আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্ নুশূর"
যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুদানের পর আবার আমাদের পুনর্জীবিত করেছেন। আর প্রত্যাবর্তন তাঁর পানেই। [৬৩১৪, ৬৩২৪, ৭৩৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬০)
হাদিস নং: ৬৩১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن الربيع، ومحمد بن عرعرة، قالا حدثنا شعبة، عن ابي اسحاق، سمع البراء بن عازب، ان النبي صلى الله عليه وسلم امر رجلا. وحدثنا ادم حدثنا شعبة حدثنا ابو اسحاق الهمداني عن البراء بن عازب ان النبي صلى الله عليه وسلم اوصى رجلا فقال " اذا اردت مضجعك فقل اللهم اسلمت نفسي اليك، وفوضت امري اليك، ووجهت وجهي اليك، والجات ظهري اليك، رغبة ورهبة اليك، لا ملجا ولا منجا منك الا اليك، امنت بكتابك الذي انزلت، وبنبيك الذي ارسلت. فان مت مت على الفطرة ".
৬৩১৩. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোককে নির্দেশ দিলেন। অন্য সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে অসিয়ত করলেন যে, যখন তুমি বিছানায় ঘুমাতে যাবে, তখন তুমি এ দু’আ পড়বেঃ
(আল্লা-হুম্মা আস্লামতু নাফ্সী ইলাইকা, ওয়া ফাউওয়াদ্বতু আমরী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহিয়া ইলাইকা, ওয়াআলজা’তু যাহ্রী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা। লা মালজা’আ ওয়ালা মান্জা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা)
’হে আল্লাহ! আমি আমার প্রাণকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আর আমার বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে এবং আমার চেহারা আপনার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আপনার রহমতের আশায় এবং আপনার গযবের ভয়ে। আপনার নিকট ব্যতীত আপনার গযব থেকে পালিয়ে যাবার এবং আপনার আযাব থেকে বাঁচার আর কোন স্থান নেই। আপনি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার উপর দৃঢ় বিশ্বাস করছি এবং আপনি যে নবী পাঠিয়েছেন, আমি তাঁর উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেছি। যদি তুমি এ অবস্থায়ই মরে যাও, তবে তুমি স্বভাবধর্ম ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে। [২৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬১)
(আল্লা-হুম্মা আস্লামতু নাফ্সী ইলাইকা, ওয়া ফাউওয়াদ্বতু আমরী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহিয়া ইলাইকা, ওয়াআলজা’তু যাহ্রী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা। লা মালজা’আ ওয়ালা মান্জা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা)
’হে আল্লাহ! আমি আমার প্রাণকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আর আমার বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে এবং আমার চেহারা আপনার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আপনার রহমতের আশায় এবং আপনার গযবের ভয়ে। আপনার নিকট ব্যতীত আপনার গযব থেকে পালিয়ে যাবার এবং আপনার আযাব থেকে বাঁচার আর কোন স্থান নেই। আপনি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার উপর দৃঢ় বিশ্বাস করছি এবং আপনি যে নবী পাঠিয়েছেন, আমি তাঁর উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেছি। যদি তুমি এ অবস্থায়ই মরে যাও, তবে তুমি স্বভাবধর্ম ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে। [২৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬১)
হাদিস নং: ৬৩১৪
সহিহ (Sahih)
حدثني موسى بن اسماعيل، حدثنا ابو عوانة، عن عبد الملك، عن ربعي، عن حذيفة ـ رضى الله عنه قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اخذ مضجعه من الليل وضع يده تحت خده ثم يقول " اللهم باسمك اموت واحيا ". واذا استيقظ قال " الحمد لله الذي احيانا بعد ما اماتنا واليه النشور ".
৬৩১৪. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নিজ বিছানায় শোয়ার সময় নিজ হাত গালের নীচে রাখতেন, তারপর বলতেনঃ
"আল্লাহুম্মা বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া" হে আল্লাহ! আপনার নামেই মরি, আপনার নামেই জীবিত হই। আর যখন জাগতেন তখন বলতেনঃ "আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্ নুশূর" সে আল্লাহর জন্য প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তাঁরই দিকে আমাদের পুনরুত্থান। [৬৩১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬২)
"আল্লাহুম্মা বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া" হে আল্লাহ! আপনার নামেই মরি, আপনার নামেই জীবিত হই। আর যখন জাগতেন তখন বলতেনঃ "আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্ নুশূর" সে আল্লাহর জন্য প্রশংসা, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তাঁরই দিকে আমাদের পুনরুত্থান। [৬৩১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬২)
হাদিস নং: ৬৩১৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا عبد الواحد بن زياد، حدثنا العلاء بن المسيب، قال حدثني ابي، عن البراء بن عازب، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اوى الى فراشه نام على شقه الايمن ثم قال " اللهم اسلمت نفسي اليك، ووجهت وجهي اليك، وفوضت امري اليك، والجات ظهري اليك، رغبة ورهبة اليك، لا ملجا ولا منجا منك الا اليك، امنت بكتابك الذي انزلت، ونبيك الذي ارسلت. وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من قالهن ثم مات تحت ليلته مات على الفطرة ". (استرهبوهم) من الرهبة، ملكوت ملك مثل رهبوت خير من رحموت، تقول ترهب خير من ان ترحم.
৬৩১৫. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজ বিছানায় বিশ্রাম নিতে যেতেন, তখন তিনি ডান পাশের উপর নিদ্রা যেতেন এবং বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আমার সত্তাকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আর আমার বিষয় ন্যস্ত করলাম আপনার দিকে এবং আমার চেহারা আপনারই দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আপনার রহমতের আশায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি শয়নকালে এ দু’আগুলো পড়বে, আর এ রাতেই তার মৃত্যু হবে সে স্বভাব ধর্ম ইসলামের উপরই মরবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৩)
হাদিস নং: ৬৩১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا ابن مهدي، عن سفيان، عن سلمة، عن كريب، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قال بت عند ميمونة فقام النبي صلى الله عليه وسلم فاتى حاجته، غسل وجهه ويديه، ثم نام، ثم قام فاتى القربة فاطلق شناقها، ثم توضا وضوءا بين وضوءين لم يكثر، وقد ابلغ، فصلى، فقمت فتمطيت كراهية ان يرى اني كنت اتقيه، فتوضات، فقام يصلي، فقمت عن يساره، فاخذ باذني فادارني عن يمينه، فتتامت صلاته ثلاث عشرة ركعة ثم اضطجع فنام حتى نفخ ـ وكان اذا نام نفخ ـ فاذنه بلال بالصلاة، فصلى ولم يتوضا، وكان يقول في دعاىه " اللهم اجعل في قلبي نورا، وفي بصري نورا، وفي سمعي نورا، وعن يميني نورا، وعن يساري نورا، وفوقي نورا، وتحتي نورا، وامامي نورا، وخلفي نورا، واجعل لي نورا ". قال كريب وسبع في التابوت. فلقيت رجلا من ولد العباس فحدثني بهن، فذكر عصبي ولحمي ودمي وشعري وبشري، وذكر خصلتين.
৬৩১৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি মাইমূনাহ (রাঃ) এর ঘরে রাত্রি অতিবাহিত করলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে তাঁর প্রয়োজনাদি সেরে মুখ-হাত ধুয়ে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে আবার জাগ্রত হয়ে পানির মশকের নিকট গিয়ে এর মুখ খুললেন। এরপর মাঝারি রকমের এমন অযূ করলেন যে, তাতে অধিক পানি লাগালেন না। অথচ পুরা ’উযূই করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন আমিও জেগে উঠলাম। তবে আমি কিছু বিলম্বে উঠলাম। এজন্য যে, আমি এটা পছন্দ করলাম না যে, তিনি আমার অনুসরণকে দেখে ফেলেন। যা হোক, আমি অযূ করলাম। তখনও তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন।
সুতরাং আমি গিয়ে তাঁর বাম পার্শ্বে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমার কান ধরে তাঁর ডান দিকে আমাকে ঘুরিয়ে নিলেন। এরপর তাঁর তেরো রাক’আত সালাত পূর্ণ হলো। তারপর তিনি আবার কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডাকাতেও লাগলেন। তাঁর অভ্যাস ছিল যে, তিনি ঘুমালে নাক ডাকাতেন। এরপর বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে জাগালেন। তখন তিনি নতুন অযূ না করেই সালাত আদায় করলেন। তাঁর দু’আর মধ্যে এ দু’আও ছিলঃ ’’হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে, আমার চোখে, আমার কানে, আমার ডানে-বামে, আমার উপর-নীচে, আমার সামনে-পেছনে, আমার জন্য নূর দান করুন।’’
কুরায়ব (রহ.) বলেন, এ সাতটি আমার তাবূতের মত। এরপর আমি ’আব্বাসের জনৈক পুত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম, তিনি আমাকে এ সাতটি অঙ্গের কথা বর্ণনা করলেন এবং রগ, মাংস, চুল ও চামড়ার উল্লেখ করলেন এবং আরো দু’টির কথা উল্লেখ করেন। [১১৭; মুসলিম ৬/২৬, হাঃ ৭৬৩, আহমাদ ২০৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭১ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৪)
সুতরাং আমি গিয়ে তাঁর বাম পার্শ্বে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমার কান ধরে তাঁর ডান দিকে আমাকে ঘুরিয়ে নিলেন। এরপর তাঁর তেরো রাক’আত সালাত পূর্ণ হলো। তারপর তিনি আবার কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডাকাতেও লাগলেন। তাঁর অভ্যাস ছিল যে, তিনি ঘুমালে নাক ডাকাতেন। এরপর বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে জাগালেন। তখন তিনি নতুন অযূ না করেই সালাত আদায় করলেন। তাঁর দু’আর মধ্যে এ দু’আও ছিলঃ ’’হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে, আমার চোখে, আমার কানে, আমার ডানে-বামে, আমার উপর-নীচে, আমার সামনে-পেছনে, আমার জন্য নূর দান করুন।’’
কুরায়ব (রহ.) বলেন, এ সাতটি আমার তাবূতের মত। এরপর আমি ’আব্বাসের জনৈক পুত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম, তিনি আমাকে এ সাতটি অঙ্গের কথা বর্ণনা করলেন এবং রগ, মাংস, চুল ও চামড়ার উল্লেখ করলেন এবং আরো দু’টির কথা উল্লেখ করেন। [১১৭; মুসলিম ৬/২৬, হাঃ ৭৬৩, আহমাদ ২০৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭১ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৪)
হাদিস নং: ৬৩১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا سفيان، سمعت سليمان بن ابي مسلم، عن طاوس، عن ابن عباس، كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا قام من الليل يتهجد قال " اللهم لك الحمد، انت نور السموات والارض ومن فيهن، ولك الحمد انت قيم السموات والارض ومن فيهن، ولك الحمد، انت الحق ووعدك حق، وقولك حق، ولقاوك حق، والجنة حق، والنار حق، والساعة حق، والنبيون حق، ومحمد حق، اللهم لك اسلمت وعليك توكلت وبك امنت، واليك انبت، وبك خاصمت، واليك حاكمت، فاغفر لي ما قدمت وما اخرت، وما اسررت، وما اعلنت، انت المقدم وانت الموخر لا اله الا انت ـ او ـ لا اله غيرك ".
৬৩১৭. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের সালাতে দাঁড়াতেন, তখন বলতেনঃ হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি রক্ষক আসমান ও যমীনের এবং যা কিছু এগুলোর মধ্যে আছে, আপনিই তাদের নূর। আর যাবতীয় প্রশংসা শুধু আপনারই। আসমান যমীন এবং এ দু’এর মধ্যে যা আছে, এসব কিছুকে সুদৃঢ় ও কায়িম রাখার একমাত্র মালিক আপনিই। আর সমূহ প্রশংসা একমাত্র আপনারই। আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আখিরাতে আপনার সাক্ষাৎ লাভ করা সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সত্য, পয়গাম্বরগণ সত্য এবং মুহাম্মাদ সত্য। হে আল্লাহ! আপনারই কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমি একমাত্র আপনারই উপর ভরসা রাখি। একমাত্র আপনারই উপর ঈমান এনেছি। আপনারই দিকে ফিরে চলছি। শত্রুদের সঙ্গে আপনারই সন্তুষ্টির জন্য শত্রুতা করি। আপনারই নিকট বিচার চাই। অতএব আমার আগের পরের এবং লুক্কায়িত প্রকাশ্য গুনাহসমূহ আপনি ক্ষমা করে দিন। আপনি কোন ব্যক্তিকে অগ্রসরমান করেন, আর কোন ব্যক্তিকে পশ্চাদপদ করেন, আপনি ব্যতীত সত্যিকারের কোন মাবূদ নেই। [১১২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৫)
হাদিস নং: ৬৩১৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب، حدثنا شعبة، عن الحكم، عن ابن ابي ليلى، عن علي، ان فاطمة ـ عليهما السلام ـ شكت ما تلقى في يدها من الرحى، فاتت النبي صلى الله عليه وسلم تساله خادما، فلم تجده، فذكرت ذلك لعاىشة، فلما جاء اخبرته. قال فجاءنا وقد اخذنا مضاجعنا، فذهبت اقوم فقال " مكانك ". فجلس بيننا حتى وجدت برد قدميه على صدري فقال " الا ادلكما على ما هو خير لكما من خادم، اذا اويتما الى فراشكما، او اخذتما مضاجعكما، فكبرا ثلاثا وثلاثين، وسبحا ثلاثا وثلاثين، واحمدا ثلاثا وثلاثين، فهذا خير لكما من خادم ". وعن شعبة عن خالد عن ابن سيرين قال التسبيح اربع وثلاثون.
৬৩১৮. ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার গম পেষার যাঁতা ঘুরানোর কারণে ফাতেমাহ ’র হাতে ফোস্কা পড়ে গেল। তখন তিনি একটি খাদিম চেয়ে নেয়ার উদ্দেশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে পেলেন না। তখন তিনি আসার উদ্দেশ্যটি ’আয়িশাহ (রাঃ) এর নিকট ব্যক্ত করে গেলেন। এরপর তিনি যখন গৃহে ফিরলেন তখন ’আয়িশাহ (রাঃ) এ বিষয়টি তাঁকে জানালেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এমন সময় আগমন করলেন যখন আমরা বিছানায় বিশ্রাম গ্রহণ করেছি। তখন আমি উঠতে চাইলে তিনি বললেনঃ নিজ স্থানেই অবস্থান কর। তারপর আমাদের মাঝখানেই তিনি এমনিভাবে বসে গেলেন যে, আমি তার দু’পায়ের শীতল স্পর্শ আমার বুকে অনুভব করলাম। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের এমন একটি ’আমল বলে দেব না, যা তোমাদের জন্য একটি খাদিমের চেয়েও অনেক অধিক উত্তম। যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করতে যাবে, তখন তোমরা আল্লাহু আকবার ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আল্হামদুলিল্লাহ ৩৩ বার পড়বে। এটা তোমাদের জন্য একটি খাদিমের চেয়েও অনেক অধিক কল্যাণকর। ইবনু সীরীন (রহ.) বলেনঃ তাসবীহ হলো ৩৪ বার। [৩১১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৩,ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৬)
হাদিস নং: ৬৩১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا الليث، قال حدثني عقيل، عن ابن شهاب، اخبرني عروة، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا اخذ مضجعه نفث في يديه، وقرا بالمعوذات، ومسح بهما جسده.
৬৩১৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় যেতেন, তখন মুয়াওব্বিত (সূরা ফালাক ও নাস) পাঠ করতঃ তাঁর দু’ হাতে ফুঁক দিয়ে তা শরীরে মাসহ(মাসেহ) করতেন। [৫০১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৭)
হাদিস নং: ৬৩২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يونس، حدثنا زهير، حدثنا عبيد الله بن عمر، حدثني سعيد بن ابي سعيد المقبري، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم" اذا اوى احدكم الى فراشه فلينفض فراشه بداخلة ازاره، فانه لا يدري ما خلفه عليه، ثم يقول باسمك رب وضعت جنبي، وبك ارفعه، ان امسكت نفسي فارحمها، وان ارسلتها فاحفظها بما تحفظ به عبادك الصالحين ". تابعه ابو ضمرة واسماعيل بن زكرياء عن عبيد الله. وقال يحيى وبشر عن عبيد الله عن سعيد عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم. ورواه مالك وابن عجلان عن سعيد عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم.
৬৩২০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি তোমাদের কোন ব্যক্তি শয্যা গ্রহণ করতে যায়, তখন সে যেন তার লুঙ্গির ভেতর দিক দিয়ে নিজ বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না যে, বিছানার উপর তার অনুপস্থিতিতে পীড়াদায়ক কোন কিছু আছে কিনা। তারপর পড়বেঃ হে আমার রবব! আপনারই নামে আমার শরীরটা বিছানায় রাখলাম এবং আপনারই নামে আবার উঠবো। যদি আপনি ইতোমধ্যে আমার জান কবয করে নেন তা হলে, তার উপর রহম করবেন। আর যদি তা আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে তাকে এমনভাবে হিফাযত করবেন, যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের হিফাযাত করে থাকেন। [৭৩৯৩; মুসলিম ৪৮/১৭, হাঃ ২৭১৪, আহমাদ ৯৫৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৮)
হাদিস নং: ৬৩২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، حدثنا مالك، عن ابن شهاب، عن ابي عبد الله الاغر، وابي، سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " يتنزل ربنا تبارك وتعالى كل ليلة الى السماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الاخر يقول من يدعوني فاستجيب له، من يسالني فاعطيه، ومن يستغفرني فاغفر له?"
৬৩২১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ আমার নিকট দু’আ করবে কে? আমি তার দু’আ কবূল করবো। আমার নিকট কে চাবে? আমি তাকে দান করবো। আমার কাছে কে তার গুনাহ ক্ষমা চাবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো। [১১৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৬৯)
হাদিস নং: ৬৩২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عرعرة، حدثنا شعبة، عن عبد العزيز بن صهيب، عن انس بن مالك ـ رضى الله عنه ـ قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا دخل الخلاء قال " اللهم اني اعوذ بك من الخبث والخباىث ".
৬৩২২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন, তখন তিনি বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবায়িছ” হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে যাবতীয় পুরুষ ও স্ত্রী শয়তানদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [১৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭০)
হাদিস নং: ৬৩২৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا حسين، حدثنا عبد الله بن بريدة، عن بشير بن كعب، عن شداد بن اوس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " سيد الاستغفار اللهم انت ربي لا اله الا انت، خلقتني وانا عبدك، وانا على عهدك ووعدك ما استطعت، ابوء لك بنعمتك، وابوء لك بذنبي، فاغفر لي، فانه لا يغفر الذنوب الا انت، اعوذ بك من شر ما صنعت. اذا قال حين يمسي فمات دخل الجنة ـ او كان من اهل الجنة ـ واذا قال حين يصبح فمات من يومه ". مثله.
৬৩২৩. শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলোঃ ’’হে আল্লাহ! আপনিই আমার রব্ব। আপনি ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমি আপনারই গোলাম। আর আমি আমার সাধ্য মত আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর সুদৃঢ়ভাবে কায়িম আছি। আমি আমার প্রতি আপনার নি’য়ামত স্বীকার করছি এবং কৃতগুনাহসমূহকে স্বীকার করছি। সুতরাং আমাকে মাফ করে দিন। কারণ আপনি ব্যতীত মাফ করার আর কেউ নেই। আমি আমার কৃতগুনাহের মন্দ ফলাফল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।’’
যে লোক সন্ধ্যা বেলায় এ দু’আ পড়বে, আর এ রাতেই মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। রাবী বলেন, অথবা তিনি বলেছেনঃ সে হবে জান্নাতী। আর যে লোক সকালে এ দু’আ পড়বে, আর এ দিনেই মারা যাবে সেও তেমনি জান্নাতী হবে। [৬৩০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭১)
যে লোক সন্ধ্যা বেলায় এ দু’আ পড়বে, আর এ রাতেই মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। রাবী বলেন, অথবা তিনি বলেছেনঃ সে হবে জান্নাতী। আর যে লোক সকালে এ দু’আ পড়বে, আর এ দিনেই মারা যাবে সেও তেমনি জান্নাতী হবে। [৬৩০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭১)
হাদিস নং: ৬৩২৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا سفيان، عن عبد الملك بن عمير، عن ربعي بن حراش، عن حذيفة، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اراد ان ينام قال " باسمك اللهم اموت واحيا ". واذا استيقظ من منامه قال " الحمد لله الذي احيانا بعد ما اماتنا، واليه النشور ".
৬৩২৪. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমাতে চাইতেন, তখন বলতেনঃ ’’হে আল্লাহ! আমি আপনার নামেই মরি এবং জীবিত হই।’’ আর তিনি যখন নিদ্রা থেকে জেগে উঠতেন তখন বলতেনঃ ’’আল্লাহ তা’আলারই সকল প্রশংসা যিনি আমাদের (নিদ্রা জাতীয়) ওফাত দেয়ার পর আবার নতুন জীবন দান করেছেন। আর সর্বশেষে তাঁরই কাছে আমাদের পুনরুত্থান হবে। [৬৩১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭২)
হাদিস নং: ৬৩২৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان، عن ابي حمزة، عن منصور، عن ربعي بن حراش، عن خرشة بن الحر، عن ابي ذر ـ رضى الله عنه ـ قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اخذ مضجعه من الليل قال " اللهم باسمك اموت واحيا ". فاذا استيقظ قال " الحمد لله الذي احيانا بعد ما اماتنا واليه النشور ".
৬৩২৫. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে বিছানায় যেতেন তখন দু’আ পড়তেনঃ ’’হে আল্লাহ! আমি আপনারই নামে মরি এবং জীবিত হই।’’ আর যখন তিনি সজাগ হতেন তখন বলতেনঃ ’’সকল প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমাদের জীবিত করেছেন, নিদ্রা স্বরূপ) মৃত্যুর পর এবং তাঁরই কাছে অবশ্যই পুনরুত্থান সুনিশ্চিত।’’ [৭৩৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৩)
হাদিস নং: ৬৩২৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا الليث، قال حدثني يزيد، عن ابي الخير، عن عبد الله بن عمرو، عن ابي بكر الصديق ـ رضى الله عنه ـ انه قال للنبي صلى الله عليه وسلم علمني دعاء ادعو به في صلاتي. قال " قل اللهم اني ظلمت نفسي ظلما كثيرا، ولا يغفر الذنوب الا انت، فاغفر لي مغفرة من عندك، وارحمني، انك انت الغفور الرحيم ". وقال عمرو عن يزيد، عن ابي الخير، انه سمع عبد الله بن عمرو، قال ابو بكر ـ رضى الله عنه ـ للنبي صلى الله عليه وسلم.
৬৩২৬. আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বললেন, আপনি আমাকে এমন একটি দু’আ শিখিয়ে দিন, যা দিয়ে আমি সালাতে দু’আ করব। তিনি বললেন, তুমি সালাতে পড়বেঃ ’’হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অনেক অধিক যুল্ম করেছি। আপনি ছাড়া আমার গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই। অতএব আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আর আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু।’’ [৮৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৪)
হাদিস নং: ৬৩২৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي، حدثنا مالك بن سعير، حدثنا هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة، (ولا تجهر بصلاتك ولا تخافت بها) انزلت في الدعاء.
৬৩২৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর বাণী)- ’’..... সালাতে স্বর উঁচু করবে না আর অতি ক্ষীণও করবে না .....।’’ (সূরা আল-ইসরাঃ ১১০) এ আয়াতটি দু’আ সম্পর্কেই অবতীর্ণ করা হয়েছে। [৪৭২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৫)
হাদিস নং: ৬৩২৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا جرير، عن منصور، عن ابي واىل، عن عبد الله ـ رضى الله عنه ـ قال كنا نقول في الصلاة السلام على الله، السلام على فلان. فقال لنا النبي صلى الله عليه وسلم ذات يوم " ان الله هو السلام، فاذا قعد احدكم في الصلاة فليقل التحيات لله الى قوله الصالحين. فاذا قالها اصاب كل عبد لله في السماء والارض صالح، اشهد ان لا اله الا الله، واشهد ان محمدا عبده ورسوله. ثم يتخير من الثناء ما شاء ".
৬৩২৮. ’আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমরা সালাতে বলতামঃ ’’আস্সালামু আলাল্লাহ, আস্সালামু আলা ফুলানিন্।’’ তখন একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা নিজেই সালাম। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন সালাতে বসবে, তখন সে যেন التَّحِيَّاتُ للهِ إِلٰى قَوْلِهِ الصَّالِحِينَ পর্যন্ত পড়ে। সে যখন এতটুকু পড়বে তখন আসমান যমীনের আল্লাহর সব নেক বান্দাদের নিকট তা পৌঁছে যাবে। তারপর বলবে, أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدٍا عَبْدُه” وَرَسُوْلُه তারপর হাম্দ সানা যা ,ইচ্ছে পড়তে পারবে। [৮৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৬)
হাদিস নং: ৬৩২৯
সহিহ (Sahih)
حدثني اسحاق، اخبرنا يزيد، اخبرنا ورقاء، عن سمى، عن ابي صالح، عن ابي هريرة،. قالوا يا رسول الله ذهب اهل الدثور بالدرجات والنعيم المقيم. قال " كيف ذاك ". قال صلوا كما صلينا، وجاهدوا كما جاهدنا، وانفقوا من فضول اموالهم، وليست لنا اموال. قال " افلا اخبركم بامر تدركون من كان قبلكم، وتسبقون من جاء بعدكم، ولا ياتي احد بمثل ما جىتم، الا من جاء بمثله، تسبحون في دبر كل صلاة عشرا، وتحمدون عشرا، وتكبرون عشرا ". تابعه عبيد الله بن عمر عن سمى ورواه ابن عجلان عن سمى ورجاء بن حيوة. ورواه جرير عن عبد العزيز بن رفيع عن ابي صالح عن ابي الدرداء. ورواه سهيل عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم.
৬৩২৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। গরীব সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! ধনী লোকেরা তো উচ্চমর্যাদা ও চিরস্থায়ী নি’য়ামত নিয়ে আমাদের থেকে এগিয়ে গেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তা কেমন করে? তাঁরা বললেনঃ আমরা যে রকম সালাত আদায় করি, তাঁরাও সে রকম সালাত আদায় করেন। আমরা যেমন জিহাদ করি, তাঁরাও তেমন জিহাদ করেন এবং তাঁরা তাদের অতিরিক্ত মাল দিয়ে সাদাকা-খয়রাত করেন; কিন্তু আমাদের কাছে সম্পদ নেই। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের একটি ’আমল বাতলে দেব না, যে ’আমল দ্বারা তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের মর্যাদা লাভ করতে পারবে, আর তোমাদের পরবর্তীদের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারবে, আর তোমাদের মত ’আমল কেউ করতে পারবে না, কেবলমাত্র যারা তোমাদের মত ’আমল করবে তারা ব্যতীত। সে ’আমল হলো তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর ১০ বার ’সুবহানাল্লাহ’, ১০ বার ’আলহামদু লিল্লাহ’ এবং ১০ বার ’আল্লাহু আকবার’ পাঠ করবে। [৮৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৭)
নোট: *[1] ফরয সালাতের পর পঠিতব্য দু‘আ ও যিকরগুলো একাকী পড়তে হবে, দলবদ্ধাবে নয়। কারণ, হাদীসে এ ক্ষেত্রে পঠিতব্য দু‘আগুলো প্রায়ই সবই এক বচনের শব্দে এসেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ভারত বর্ষের প্রায় সকল মুসলিম জনগণ আলিম ও সাধারণ) নাবী (ﷺ) কর্তৃক সালাতের পর পঠিতব্য দু‘আর তালিকাটি আংশিক বা পুরোপুরি বাদ দিয়ে নিজেরাই বিভিন্ন দু‘আ নির্বাচন ও সংযুক্ত করেছে। এর সাথে আরো যোগ করেছে দলবদ্ধ ও সম্মিলিত রূপ। ফলে সালাতের পরে দু‘আর নামে সম্মিলিত মুনাজাতের মাধ্যমে অনেকগুলো সুন্নাত উৎখাত হয়েছে। প্রথমতঃ যে সুন্নাতটি উঠেছে সেটা হলো, ফরয সালাতের পর যে নির্দিষ্ট কিছু দু‘আ ও যিকর রয়েছে এটার জ্ঞানই অধিকাংশ লোকের নেই। যার জন্য ওগুলো কণ্ঠস্থ করার তাদের সুযোগ হয়নি। ঐ সকল দু‘আ ও যিকর সম্বলিত হাদীসগুলো পড়ার কিংবা ইমাম সাহেবের মাধ্যমে শোনার অবকাশ হয়নি বা নেই। এ সকল দু‘আ প্রাপ্তির জন্য কয়েকটি রিফারেন্স দেয়া হলোঃ সহীহুল বুখারী, আযান পর্ব, অধ্যায়ঃ যিকর বা‘দাস সালাত, মুসলিম সালাত পর্ব, অধ্যায়ঃ যিকর বা‘দাস সালাত, আবূ দাউদ, অধ্যায়ঃ মা ইয়াকূলুর রাজুলু ইযা সাল্লামা, ইত্যাদি।
হাদিস নং: ৬৩৩০
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا جرير، عن منصور، عن المسيب بن رافع، عن وراد، مولى المغيرة بن شعبة قال كتب المغيرة الى معاوية بن ابي سفيان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول في دبر كل صلاة اذا سلم " لا اله الا الله، وحده لا شريك له، له الملك، وله الحمد، وهو على كل شىء قدير، اللهم لا مانع لما اعطيت، ولا معطي لما منعت، ولا ينفع ذا الجد منك الجد ". وقال شعبة عن منصور قال سمعت المسيب.
৬৩৩০. মুগীরাহ (রহঃ) আবূ সুফ্ইয়ানের পুত্র মু’আবিয়াহ (রাঃ)-এর নিকট এক পত্রে লিখেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতেনঃ আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মা’বূদ নেই। তিনি একক। তাঁর কোন শরীক নেই। মূলক্ তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই। তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ! আপনি কাউকে যা দান করেন তাতে বাধা দেয়ার কেউ নেই। আর আপনি যাকে কোন কিছু দিতে বিরত থাকেন তাকে তা দেয়ার মতো কেউ নেই। ধনীর ধন তাকে তোমা হতে উপকার দিতে পারে না। [৮৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৮)
হাদিস নং: ৬৩৩১
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن يزيد بن ابي عبيد، مولى سلمة حدثنا سلمة بن الاكوع، قال خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم الى خيبر، قال رجل من القوم ايا عامر لو اسمعتنا من هنيهاتك. فنزل يحدو بهم يذكر. تالله لولا الله ما اهتدينا. وذكر شعرا غير هذا، ولكني لم احفظه. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من هذا الساىق ". قالوا عامر بن الاكوع. قال " يرحمه الله ". وقال رجل من القوم يا رسول الله لولا متعتنا به، فلما صاف القوم قاتلوهم، فاصيب عامر بقاىمة سيف نفسه فمات، فلما امسوا اوقدوا نارا كثيرة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما هذه النار على اى شىء توقدون ". قالوا على حمر انسية. فقال " اهريقوا ما فيها، وكسروها ". قال رجل يا رسول الله الا نهريق ما فيها ونغسلها قال " او ذاك ".
وَمَنْ خَصَّ أَخَاهُ بِالدُّعَاءِ دُونَ نَفْسِهِ.
وَقَالَ أَبُو مُوسَى قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعُبَيْدٍ أَبِي عَامِرٍ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ ذَنْبَهُ
আর যিনি নিজেকে বাদ দিয়ে কেবল নিজের ভাই-এর জন্য দু’আ করেন
আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করেন, হে আল্লাহ! আপনি ’উবায়দ আবূ ’আমিরকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি ’আবদুল্লাহ ইবনু ক্বায়সের গুনাহক্ষমা করে দিন।
৬৩৩১. সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বার অভিযানে বের হলাম। সেনাবাহিনীর এক ব্যক্তি বললেনঃ ওহে ’আমির! যদি আপনি আপনার ছোট ছোট কবিতা থেকে কিছুটা আমাদের শুনাতেন? তখন তিনি সওয়ারী থেকে নেমে হুদী গাইতে গাইতে বাহন হাঁকিয়ে নিতে শুরু করলেন। তাতে উল্লেখ করলেনঃ আল্লাহ তা’আলা না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না। (রাবী বলেন) এছাড়া আরও কিছু কবিতা তিনি আবৃত্তি করলেন, যা আমি স্মরণ রাখতে পারিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ এ উট চালক লোকটি কে? সাথীরা বললেনঃ উনি ’আমির ইবনু আকওয়া। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার উপর রহম করুন। তখন দলের একজন বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার দু’আয় আমাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করলে ভাল হতো না?
এরপর যখন মুজাহিদগণ কাতারবন্দী হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন, এ সময় ’আমির তাঁর নিজের তলোয়ারের অগ্রভাগের আঘাতে আহত হলেন এবং এ আঘাতের ফলে তিনি মারা গেলেন। এদিন লোকেরা সন্ধ্যার পর (পাকের জন্য) বিভিন্নভাবে অনেক আগুন জ্বালালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ এ সব আগুন কিসের? এসব আগুন দিয়ে তোমরা কী জ্বাল দিচ্ছ। তারা বললেনঃ আমরা গৃহপালিত গাধার মাংস জ্বাল দিচ্ছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হাঁড়িতে যা আছে, তা সব ফেলে দাও এবং হাঁড়িগুলোও ভেঙ্গে ফেল। এক ব্যক্তি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! হাঁড়িতে যা আছে তা ফেলে দিলে এবং পাত্রগুলো ধুয়ে নিলে চলবে না? তিনি বললেনঃ তবে তাই কর। [২৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৯)
وَقَالَ أَبُو مُوسَى قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعُبَيْدٍ أَبِي عَامِرٍ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ ذَنْبَهُ
আর যিনি নিজেকে বাদ দিয়ে কেবল নিজের ভাই-এর জন্য দু’আ করেন
আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করেন, হে আল্লাহ! আপনি ’উবায়দ আবূ ’আমিরকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি ’আবদুল্লাহ ইবনু ক্বায়সের গুনাহক্ষমা করে দিন।
৬৩৩১. সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বার অভিযানে বের হলাম। সেনাবাহিনীর এক ব্যক্তি বললেনঃ ওহে ’আমির! যদি আপনি আপনার ছোট ছোট কবিতা থেকে কিছুটা আমাদের শুনাতেন? তখন তিনি সওয়ারী থেকে নেমে হুদী গাইতে গাইতে বাহন হাঁকিয়ে নিতে শুরু করলেন। তাতে উল্লেখ করলেনঃ আল্লাহ তা’আলা না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না। (রাবী বলেন) এছাড়া আরও কিছু কবিতা তিনি আবৃত্তি করলেন, যা আমি স্মরণ রাখতে পারিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ এ উট চালক লোকটি কে? সাথীরা বললেনঃ উনি ’আমির ইবনু আকওয়া। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার উপর রহম করুন। তখন দলের একজন বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার দু’আয় আমাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করলে ভাল হতো না?
এরপর যখন মুজাহিদগণ কাতারবন্দী হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন, এ সময় ’আমির তাঁর নিজের তলোয়ারের অগ্রভাগের আঘাতে আহত হলেন এবং এ আঘাতের ফলে তিনি মারা গেলেন। এদিন লোকেরা সন্ধ্যার পর (পাকের জন্য) বিভিন্নভাবে অনেক আগুন জ্বালালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ এ সব আগুন কিসের? এসব আগুন দিয়ে তোমরা কী জ্বাল দিচ্ছ। তারা বললেনঃ আমরা গৃহপালিত গাধার মাংস জ্বাল দিচ্ছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হাঁড়িতে যা আছে, তা সব ফেলে দাও এবং হাঁড়িগুলোও ভেঙ্গে ফেল। এক ব্যক্তি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! হাঁড়িতে যা আছে তা ফেলে দিলে এবং পাত্রগুলো ধুয়ে নিলে চলবে না? তিনি বললেনঃ তবে তাই কর। [২৪৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৯)