হাদিস নং: ৬৮০১
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد الجعفي حدثنا هشام بن يوسف اخبرنا معمر عن الزهري عن ابي ادريس عن عبادة بن الصامت قال بايعت رسول الله صلى الله عليه وسلم في رهط فقال ابايعكم على ان لا تشركوا بالله شيىا ولا تسرقوا ولا تزنوا ولا تقتلوا اولادكم ولا تاتوا ببهتان تفترونه بين ايديكم وارجلكم ولا تعصوني في معروف فمن وفى منكم فاجره على الله ومن اصاب من ذلك شيىا فاخذ به في الدنيا فهو كفارة له وطهور ومن ستره الله فذلك الى الله ان شاء عذبه وان شاء غفر له قال ابو عبد الله اذا تاب السارق بعد ما قطع يده قبلت شهادته وكل محدود كذلك اذا تاب قبلت شهادته.
৬৮০১. ’উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি দলের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বায়’আত করেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের এ মর্মে বায়’আত করছি যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, তোমাদের সন্তান হত্যা করবে না, সামনে বা পিছনে কারো অপবাদ দিবে না, শারীয়াত সম্মত কাজে আমার অবাধ্যতা করবে না, তোমাদের মধ্যে যে আপন ওয়াদাগুলো মেনে চলবে তার বিনিময় আল্লাহর নিকট। আর যে এগুলো থেকে কিছু করে ফেলবে আর সে জন্য দুনিয়াতে যদি তার শাস্তি হয়ে যায়, তাহলে এটি হবে তার জন্য গুনাহর কাফ্ফারা এবং গুনাহর পবিত্রতা। আর যার (দোষ) আল্লাহ্ গোপন রেখেছেন তার ব্যাপারটি আল্লাহর উপর। (আল্লাহ্) ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন।
আবূ ’আবদুল্লাহ্ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, চোর যদি হাত কেটে দেয়ার পর তওবা করে তবে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে। তেমনি শরীয়াতের শাস্তিপ্রাপ্ত প্রত্যেকটি লোকের ব্যাপারেই এ বিধান প্রযোজ্য যখন সে তওবা করবে, তখন তার সাক্ষ্য গ্রহণীয় হবে। [১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৪৫)
আবূ ’আবদুল্লাহ্ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, চোর যদি হাত কেটে দেয়ার পর তওবা করে তবে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে। তেমনি শরীয়াতের শাস্তিপ্রাপ্ত প্রত্যেকটি লোকের ব্যাপারেই এ বিধান প্রযোজ্য যখন সে তওবা করবে, তখন তার সাক্ষ্য গ্রহণীয় হবে। [১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৪৫)
হাদিস নং: ৬৮০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا الوليد بن مسلم، حدثنا الاوزاعي، حدثني يحيى بن ابي كثير، قال حدثني ابو قلابة الجرمي، عن انس ـ رضى الله عنه ـ قال قدم على النبي صلى الله عليه وسلم نفر من عكل، فاسلموا فاجتووا المدينة، فامرهم ان ياتوا ابل الصدقة، فيشربوا من ابوالها والبانها، ففعلوا فصحوا، فارتدوا وقتلوا رعاتها واستاقوا، فبعث في اثارهم فاتي بهم، فقطع ايديهم وارجلهم وسمل اعينهم، ثم لم يحسمهم حتى ماتوا.
[كتاب الْمُحَارِبِينَ مِنْ أَهْلِ الْكُفْرِ وَالرِّدَّةِ]
[কাফির ও ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের বিবরণ]
وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى (إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلاَفٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنْ الأَرْضٍِ)
আল্লাহর বাণীঃ যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের শাস্তি.....। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৩৩)
৬৮০২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উক্ল গোত্রের একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাজির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করল। কিন্তু মদিনার আবহাওয়া তাদের অনুকূল হল না। তাই তিনি তাদেরকে সাদাকার উটপালের কাছে গিয়ে সেগুলোর প্রস্রাব ও দুধপান করার আদেশ করলেন। তারা তা-ই করল। ফলে তারা সুস্থ হয়ে গেল। শেষে তারা দ্বীন ত্যাগ করে উটপালের রাখালদেরকে হত্যা করে সেগুলো নিয়ে চলল। এদিকে তিনি তাদের পিছনে লোক পাঠালেন। তাদেরকে (ধরে) আনা হল। আর তাদের হাত-পা কাটলেন ও লোহার শলাকা দিয়ে তাদের চোখগুলো ফুঁড়ে দিলেন। কিন্তু তাদের ক্ষতস্থানে লোহা পুড়ে দাগ দিলেন না। শেষতক তারা মারা গেল।[1] [২৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৪৬)
[কাফির ও ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের বিবরণ]
وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى (إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلاَفٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنْ الأَرْضٍِ)
আল্লাহর বাণীঃ যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের শাস্তি.....। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৩৩)
৬৮০২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উক্ল গোত্রের একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাজির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করল। কিন্তু মদিনার আবহাওয়া তাদের অনুকূল হল না। তাই তিনি তাদেরকে সাদাকার উটপালের কাছে গিয়ে সেগুলোর প্রস্রাব ও দুধপান করার আদেশ করলেন। তারা তা-ই করল। ফলে তারা সুস্থ হয়ে গেল। শেষে তারা দ্বীন ত্যাগ করে উটপালের রাখালদেরকে হত্যা করে সেগুলো নিয়ে চলল। এদিকে তিনি তাদের পিছনে লোক পাঠালেন। তাদেরকে (ধরে) আনা হল। আর তাদের হাত-পা কাটলেন ও লোহার শলাকা দিয়ে তাদের চোখগুলো ফুঁড়ে দিলেন। কিন্তু তাদের ক্ষতস্থানে লোহা পুড়ে দাগ দিলেন না। শেষতক তারা মারা গেল।[1] [২৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৪৬)
নোট: [1] উকল গোত্রের দলটিকে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী কঠিন শাস্তি দেয়া হয়েছিল, কারণ তারা ছিল (১) ধর্মত্যাগী, (২) হত্যাকারী, (৩) ডাকাত ও (৪) খিয়ানাতকারী।
হাদিস নং: ৬৮০৩
সহিহ (Sahih)
محمد بن الصلت ابو يعلى حدثنا الوليد حدثني الاوزاعي عن يحيى عن ابي قلابة عن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم قطع العرنيين ولم يحسمهم حتى ماتوا.
৬৮০৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উরাইনা গোত্রীয় লোকদের (হাত, পা) কাটলেন, অথচ তাদের ক্ষতস্থানে লোহা পুড়ে দাগ দেননি। শেষতক তারা মারা গেল। [২৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৪৭)
হাদিস নং: ৬৮০৪
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل عن وهيب عن ايوب عن ابي قلابة عن انس قال قدم رهط من عكل على النبي صلى الله عليه وسلم كانوا في الصفة فاجتووا المدينة فقالوا يا رسول الله ابغنا رسلا فقال ما اجد لكم الا ان تلحقوا بابل رسول الله فاتوها فشربوا من البانها وابوالها حتى صحوا وسمنوا وقتلوا الراعي واستاقوا الذود فاتى النبي صلى الله عليه وسلم الصريخ فبعث الطلب في اثارهم فما ترجل النهار حتى اتي بهم فامر بمسامير فاحميت فكحلهم وقطع ايديهم وارجلهم وما حسمهم ثم القوا في الحرة يستسقون فما سقوا حتى ماتوا قال ابو قلابة سرقوا وقتلوا وحاربوا الله ورسوله.
৬৮০৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উক্ল গোত্রের একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসল। তারা সুফ্ফায় থাকত। মদিনার আবহাওয়া তাদের অনুকূলে না হওয়ার করণে তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য দুধের ব্যবস্থা করুন। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ ব্যতীত কিছু পাচ্ছি না যে, তোমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উটপালের কাছে যাবে। তারা সেগুলোর কাছে আসল। আর সেগুলোর দুধ প্রস্রাব পান করল। ফলে তারা সুস্থ ও মোটা তাজা হয়ে উঠল ও রাখালকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে খবর আসলে তাদের খোঁজে লোক পাঠালেন। রোদ প্রখর হবার আগেই তাদেরকে আনা হল। তখন তিনি লৌহশলাকা আনার আদেশ দিলেন। তা গরম করে তা দিয়ে তাদের চোখ ফুঁড়ে দিলেন এবং তাদের হাত-পা কেটে দেয়া হল। অথচ লোহা গরম করে দাগ লাগাননি। এরপর তাদেরকে তপ্ত মরুভূমিতে ফেলে দেয়া হল। তারা পানি পান করতে চাইল কিন্তু পান করানো হল না। অবশেষে তারা মারা গেল।
আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.) বলেন, তারা চুরি করেছিল, হত্যাও করেছিল, আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। [২৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৪৮)
আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.) বলেন, তারা চুরি করেছিল, হত্যাও করেছিল, আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। [২৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৪৮)
হাদিস নং: ৬৮০৫
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا حماد عن ايوب عن ابي قلابة عن انس بن مالك ان رهطا من عكل او قال عرينة ولا اعلمه الا قال من عكل قدموا المدينة فامر لهم النبي صلى الله عليه وسلم بلقاح وامرهم ان يخرجوا فيشربوا من ابوالها والبانها فشربوا حتى اذا برىوا قتلوا الراعي واستاقوا النعم فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم غدوة فبعث الطلب في اثرهم فما ارتفع النهار حتى جيء بهم فامر بهم فقطع ايديهم وارجلهم وسمر اعينهم فالقوا بالحرة يستسقون فلا يسقون قال ابو قلابة هولاء قوم سرقوا وقتلوا وكفروا بعد ايمانهم وحاربوا الله ورسوله.
৬৮০৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, উক্ল গোত্রের একদল (অথবা তিনি বলেন উরাইনা গোত্রের- জানামতে তিনি উক্ল গোত্রেরই বলেছেন) মদিনা্য় এলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দুধেল উটের কাছে যাবার হুকুম দিলেন। তাদেরকে আরো নির্দেশ করলেন যেন তারা সে সব উটের কাছে গিয়ে সেগুলোর দুধ ও পেশাব পান করে। তারা তা পান করল। শেষে যখন তারা সুস্থ হয়ে গেল,তখন রাখালকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলল। ভোরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ খবর পৌঁছল। তিনি তাদের খোঁজে লোক পাঠালেন। রোদ বাড়ার আগেই তাদেরকে নিয়ে আসা হল। তাদের ব্যাপারে তিনি আদেশ করলেন,তাদের হাত-পা কাটা হল। লোহার শলাকা দিয়ে তাদের চোখগুলো ফুঁড়া হল। এরপর প্রখর রোদে ফেলে রাখা হল। তারা পানি পান করতে চাইল। কিন্তু পান করানো হল না। [২৩৩]
আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.) বলেন, ঐ লোকগুলো এমন একটি দল যারা চুরি করেছিল, হত্যাও করেছিল, ঈমান আনার পর কুফরী করেছিল আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৪৯)
আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.) বলেন, ঐ লোকগুলো এমন একটি দল যারা চুরি করেছিল, হত্যাও করেছিল, ঈমান আনার পর কুফরী করেছিল আর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৪৯)
হাদিস নং: ৬৮০৬
সহিহ (Sahih)
محمد بن سلام اخبرنا عبد الله عن عبيد الله بن عمر عن خبيب بن عبد الرحمن عن حفص بن عاصم عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال سبعة يظلهم الله يوم القيامة في ظله يوم لا ظل الا ظله امام عادل وشاب نشا في عبادة الله ورجل ذكر الله في خلاء ففاضت عيناه ورجل قلبه معلق في المسجد ورجلان تحابا في الله ورجل دعته امراة ذات منصب وجمال الى نفسها قال اني اخاف الله ورجل تصدق بصدقة فاخفاها حتى لا تعلم شماله ما صنعت يمينه.
৬৮০৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাত রকমের লোক, যাদেরকে আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া হবে না। ১. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ্; ২. আল্লাহর ’ইবাদাতে লিপ্ত যুবক; ৩. এমন যে ব্যক্তি আল্লাহকে নির্জনে স্মরণ করে আর তার চোখ দু’টি অশ্রুসিক্ত হয়; ৪. এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে; ৫. এমন দু’ব্যক্তি যারা আল্লাহর উদ্দেশে পরস্পর ভালোবাসা রাখে; ৬. এমন ব্যক্তি যাকে কোন সম্ভ্রান্ত রূপসী নারী নিজের দিকে ডাকল আর সে বলল, আমি আল্লাহকে ভয় করি; ৭. এমন ব্যক্তি যে সাদাকা করল আর এমনভাবে করল যে, তার বাম হাত জানে না যে তার ডান হাত কী করে। [৬৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫০)
হাদিস নং: ৬৮০৭
সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي بكر حدثنا عمر بن علي ح و حدثني خليفة حدثنا عمر بن علي حدثنا ابو حازم عن سهل بن سعد الساعدي قال النبي صلى الله عليه وسلم من توكل لي ما بين رجليه وما بين لحييه توكلت له بالجنة.
৬৮০৭. সাহল ইবনু সা’দ সা’ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কেউ আমার জন্য তার দু’পা ও দু’চোয়ালের মাঝের স্থানের দায়িত্ব নেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব নেব।[1] [৬৪৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫১)
নোট: [1] অর্থাৎ যিনা ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবে এবং জিহবা সংযত রাখবে।
হাদিস নং: ৬৮০৮
সহিহ (Sahih)
اخبرنا داود بن شبيب حدثنا همام عن قتادة اخبرنا انس قال لاحدثنكم حديثا لا يحدثكموه احد بعدي سمعته من النبي صلى الله عليه وسلم سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول لا تقوم الساعة واما قال من اشراط الساعة ان يرفع العلم ويظهر الجهل ويشرب الخمر ويظهر الزنا ويقل الرجال ويكثر النساء حتى يكون للخمسين امراة القيم الواحد.
(وَلاَ يَزْنُونَ) ( وَلاَ تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلاً)
আল্লাহর বাণীঃ আর তারা যিনা করে না- (সূরাহ আল-ফুরক্বান ২৫/৬৮) এবং তোমরা যিনার নিকটেও যেয়ো না। এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ- (সূরাহ ইসরা ১৭/৩২)।
৬৮০৮. ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে আনাস (রাঃ) বলেছেন যে, আমি তোমাদেরকে এমন এক হাদীস বর্ণনা করব যা আমার পরে তোমাদেরকে কেউ বর্ণনা করবে না। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে না অথবা তিনি বলেছেন, কিয়ামতের আগের নিদর্শনগুলোর মধ্যে হল এই যে, ইল্ম উঠিয়ে নেয়া হবে, মূর্খতার বিস্তার ঘটবে, মদ পান করা হবে, ব্যাপকভাবে যিনা হবে, পুরুষের সংখ্যা কমবে, নারীর সংখ্যা এমনভাবে বৃদ্ধি পাবে যে, পঞ্চাশ জন নারীর কর্তৃত্বে থাকবে একজন পুরুষ। [৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫২)
আল্লাহর বাণীঃ আর তারা যিনা করে না- (সূরাহ আল-ফুরক্বান ২৫/৬৮) এবং তোমরা যিনার নিকটেও যেয়ো না। এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ- (সূরাহ ইসরা ১৭/৩২)।
৬৮০৮. ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে আনাস (রাঃ) বলেছেন যে, আমি তোমাদেরকে এমন এক হাদীস বর্ণনা করব যা আমার পরে তোমাদেরকে কেউ বর্ণনা করবে না। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে না অথবা তিনি বলেছেন, কিয়ামতের আগের নিদর্শনগুলোর মধ্যে হল এই যে, ইল্ম উঠিয়ে নেয়া হবে, মূর্খতার বিস্তার ঘটবে, মদ পান করা হবে, ব্যাপকভাবে যিনা হবে, পুরুষের সংখ্যা কমবে, নারীর সংখ্যা এমনভাবে বৃদ্ধি পাবে যে, পঞ্চাশ জন নারীর কর্তৃত্বে থাকবে একজন পুরুষ। [৮০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫২)
হাদিস নং: ৬৮০৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى اخبرنا اسحاق بن يوسف اخبرنا الفضيل بن غزوان عن عكرمة عن ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يزني العبد حين يزني وهو مومن ولا يسرق حين يسرق وهو مومن ولا يشرب حين يشرب وهو مومن ولا يقتل وهو مومن.
قال عكرمة قلت لابن عباس كيف ينزع الايمان منه قال هكذا وشبك بين اصابعه ثم اخرجها فان تاب عاد اليه هكذا وشبك بين اصابعه.
قال عكرمة قلت لابن عباس كيف ينزع الايمان منه قال هكذا وشبك بين اصابعه ثم اخرجها فان تاب عاد اليه هكذا وشبك بين اصابعه.
৬৮০৯. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না। মু’মিন থাকা অবস্থায় কোন চোর চুরি করে না। মু’মিন থাকা অবস্থায় কেউ মদ্য পান করে না। মু’মিন থাকা অবস্থায় কেউ হত্যা করে না।
’ইক্বরিমাহ (রহ.) বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তার থেকে ইমান কিভাবে ছিনিয়ে নেয়া হয়? তিনি বললেনঃ এভাবে। আর অঙ্গুলিগুলো পরস্পর জড়ালেন, এরপর অঙ্গুলিগুলো বের করলেন। যদি সে তওবা করে তবে আগের অবস্থায় এভাবে ফিরে আসে। এ ব’লে অঙ্গুলিগুলো আবার পরস্পর জড়ালেন। [৬৭৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫৩)
’ইক্বরিমাহ (রহ.) বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তার থেকে ইমান কিভাবে ছিনিয়ে নেয়া হয়? তিনি বললেনঃ এভাবে। আর অঙ্গুলিগুলো পরস্পর জড়ালেন, এরপর অঙ্গুলিগুলো বের করলেন। যদি সে তওবা করে তবে আগের অবস্থায় এভাবে ফিরে আসে। এ ব’লে অঙ্গুলিগুলো আবার পরস্পর জড়ালেন। [৬৭৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫৩)
হাদিস নং: ৬৮১০
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة عن الاعمش عن ذكوان عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لا يزني الزاني حين يزني وهو مومن ولا يسرق حين يسرق وهو مومن ولا يشرب حين يشربها وهو مومن والتوبة معروضة بعد.
৬৮১০ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যিনাকারী যিনা করার সময় মু’মিন থাকে না। চোর চুরি করার সময় মু’মিন থাকে না। মদপানকারী মদ পানের সময় মু’মিন থাকে না। তবে তারপরও তওবা উন্মুক্ত। [২৪৭৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫৪)
হাদিস নং: ৬৮১১
সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي حدثنا يحيى حدثنا سفيان قال حدثني منصور وسليمان عن ابي واىل عن ابي ميسرة عن عبد الله قال قلت يا رسول الله اي الذنب اعظم قال ان تجعل لله ندا وهو خلقك قلت ثم اي قال ان تقتل ولدك من اجل ان يطعم معك قلت ثم اي قال ان تزاني حليلة جارك قال يحيى وحدثنا سفيان حدثني واصل عن ابي واىل عن عبد الله قلت يا رسول الله...مثله قال عمرو فذكرته لعبد الرحمن وكان حدثنا عن سفيان عن الاعمش ومنصور وواصل عن ابي واىل عن ابي ميسرة قال دعه دعه.
৬৮১১. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ পাপটি সব থেকে বড়? তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহর কোন সমকক্ষ স্থির করবে। অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ তোমার সঙ্গে আহার করবে এ ভয়ে তোমার সন্তানকে হত্যা করা। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশির স্ত্রীর সাথে যিনা করা। [৪৪৭৭]
ইয়াহ্ইয়া (র.)- ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল!... এরকম বর্ণনা করেছেন। আমর (রহ.)- আবূ মায়সারা (রহ.) বলেন, ছাড় এটাকে, ছাড় এটাকে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫৫)
ইয়াহ্ইয়া (র.)- ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল!... এরকম বর্ণনা করেছেন। আমর (রহ.)- আবূ মায়সারা (রহ.) বলেন, ছাড় এটাকে, ছাড় এটাকে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫৫)
হাদিস নং: ৬৮১২
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة حدثنا سلمة بن كهيل قال سمعت الشعبي يحدث عن علي حين رجم المراة يوم الجمعة وقال قد رجمتها بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وَقَالَ الْحَسَنُ مَنْ زَنَى بِأُخْتِهِ حَدُّهُ حَدُّ الزَّانِي
হাসান (রহ.) বলেন, যে নিজের বোনের সাথে যিনা করে তার উপর যিনার হদ জারি হবে।
৬৮১২. শা’বী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ’আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, ’আলী (রাঃ) জুম’আর দিন এক মহিলাকে যখন পাথর মেরে হত্যা করেন তখন বলেন, আমি তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত অনুযায়ী পাথর মেরে হত্যা করলাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬৫)
হাসান (রহ.) বলেন, যে নিজের বোনের সাথে যিনা করে তার উপর যিনার হদ জারি হবে।
৬৮১২. শা’বী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ’আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, ’আলী (রাঃ) জুম’আর দিন এক মহিলাকে যখন পাথর মেরে হত্যা করেন তখন বলেন, আমি তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত অনুযায়ী পাথর মেরে হত্যা করলাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬৫)
হাদিস নং: ৬৮১৩
সহিহ (Sahih)
اسحاق حدثنا خالد عن الشيباني سالت عبد الله بن ابي اوفى هل رجم رسول الله صلى الله عليه وسلم قال نعم قلت قبل سورة النور ام بعد قال لا ادري.
৬৮১৩. শায়বানী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর মেরে হত্যা করেছেন কি? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, সূরায়ে নূর-এর আগে না পরে? তিনি বললেন, আমি জানি না। [৬৮৪০; মুসলিম ২৯/৬, হাঃ ১৭০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫৭)
হাদিস নং: ৬৮১৪
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل اخبرنا عبد الله اخبرنا يونس عن ابن شهاب قال حدثني ابو سلمة بن عبد الرحمن عن جابر بن عبد الله الانصاري ان رجلا من اسلم اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فحدثه انه قد زنى فشهد على نفسه اربع شهادات فامر به رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجم وكان قد احصن.
৬৮১৪. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আসলাম গোত্রের এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল। এসে বলল, সে যিনা করেছে এবং নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দিল। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে আদেশ দিলেন, তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হলো। সে ছিল বিবাহিত।[1] [৫২৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫৮)
নোট: [1] এ যিনাকারীরা ছিলেন পূর্ণ ঈমানদার। অপরাধ করে তারা ক্ষমা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে যেতেন। তাঁরা চাইতেন যত শাস্তি দুনিয়াতেই হয়ে যাক। আখেরাতের আদালতে যেন লজ্জিত, ঘৃণিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত হতে না হয়।
হাদিস নং: ৬৮১৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن ابي سلمة، وسعيد بن المسيب، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال اتى رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في المسجد فناداه فقال يا رسول الله اني زنيت. فاعرض عنه، حتى ردد عليه اربع مرات، فلما شهد على نفسه اربع شهادات، دعاه النبي صلى الله عليه وسلم فقال " ابك جنون ". قال لا. قال " فهل احصنت ". قال نعم. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اذهبوا به فارجموه ".
وَقَالَ عَلِيٌّ لِعُمَرَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْقَلَمَ رُفِعَ عَنْ الْمَجْنُونِ حَتَّى يُفِيقَ وَعَنْ الصَّبِيِّ حَتَّى يُدْرِكَ وَعَنْ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ
’আলী (রাঃ) ’উমার (রাঃ)-কে বললেন, আপনি কি জানেন না যে, পাগল থেকে জ্ঞান ফিরে না আসা পর্যন্ত, বালক থেকে সাবালক না হওয়া পর্যন্ত, ঘুমন্ত লোক না জাগা পর্যন্ত কলম তুলে নেয়া হয়েছে?
৬৮১৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। সে তাঁকে ডেকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যিনা করেছি। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে কথাটি সে চারবার বলল। যখন সে নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দিল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মধ্যে কি পাগলামীর দোষ আছে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তুমি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে যাও আর পাথর মেরে হত্যা করো।[1] [৫২৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫৯)
’আলী (রাঃ) ’উমার (রাঃ)-কে বললেন, আপনি কি জানেন না যে, পাগল থেকে জ্ঞান ফিরে না আসা পর্যন্ত, বালক থেকে সাবালক না হওয়া পর্যন্ত, ঘুমন্ত লোক না জাগা পর্যন্ত কলম তুলে নেয়া হয়েছে?
৬৮১৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। সে তাঁকে ডেকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যিনা করেছি। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে কথাটি সে চারবার বলল। যখন সে নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দিল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মধ্যে কি পাগলামীর দোষ আছে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তুমি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে যাও আর পাথর মেরে হত্যা করো।[1] [৫২৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫৯)
নোট: * এ যিনাকারীরা ছিলেন পূর্ণ ঈমানদার। অপরাধ করে তারা ক্ষমা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে যেতেন। তাঁরা চাইতেন যত শাস্তি দুনিয়াতেই হয়ে যাক। আখেরাতের আদালতে যেন লজ্জিত, ঘৃণিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত হতে না হয়।
[1] হাদীসটি হতে জানা যায় :
(১) একজন মুসলিম ব্যক্তির জীবন শেষ করার ব্যাপারে দৃঢ়ীকরণ।
(২) মসজিদের অভ্যন্তরে ইমামের নিকট খারাপ কাজের স্বীকারোক্তির বৈধতা এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন রকম অশ্লীল কথা যা মুখে উচ্চারণ করা লজ্জাকর তার বর্ণনা দেয়া।
(৩) ঊচ্চ আওয়াজে বয়োজ্যেষ্ঠের আহবান করা।
(৪) হাদ্দ কায়েমের জন্য কোন محتمل বা সম্ভাব্য বিষয়ের স্বীকারকারীকে পরিত্যাগ করা। কারণ সে যা বর্ণনা করবে তা সম্ভবত হাদ্দকে আবশ্যক করবে না অথবা সে ফিরে আসবে।
(৫) যে ব্যক্তি কোন গুনাহের কাজ করে লজ্জিত হবে তার দ্রুতগতিতে তাওবা করা মুস্তাহাব। তা কাউকে না জানানো।
(৬) গুনাহের কাজ সম্পাদনকারী যদি তার গুনাহের কথা কাউকে জানায় তাহলে শ্রবণকারীর জন্য মুস্তাহাব পন্থা হল যে, সে তাকে তাওবা করতে বলবে এবং ব্যাপারটি গোপন রাখবে।
(৭) হাদীসে উল্লেখিত فلما شهد على نفسه أربع شهادات বাহ্যিক ভাষ্য থেকে চারবার যেনার স্বীকারোক্তির পুনরাবৃত্তি করা শর্ত-এর প্রমাণ গ্রহণ করা হয়েছে।
(৮) হাদ্দ কায়েমের জন্য নেতার অন্যকে দায়িত্ব প্রদান জায়েয।
(৯) উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করা হয়েছে যে, রজম করার জন্য গর্ত খনন করা শর্ত নয়।
(১০) মাতালের স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। (ফাতহুল বারী)
[1] হাদীসটি হতে জানা যায় :
(১) একজন মুসলিম ব্যক্তির জীবন শেষ করার ব্যাপারে দৃঢ়ীকরণ।
(২) মসজিদের অভ্যন্তরে ইমামের নিকট খারাপ কাজের স্বীকারোক্তির বৈধতা এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন রকম অশ্লীল কথা যা মুখে উচ্চারণ করা লজ্জাকর তার বর্ণনা দেয়া।
(৩) ঊচ্চ আওয়াজে বয়োজ্যেষ্ঠের আহবান করা।
(৪) হাদ্দ কায়েমের জন্য কোন محتمل বা সম্ভাব্য বিষয়ের স্বীকারকারীকে পরিত্যাগ করা। কারণ সে যা বর্ণনা করবে তা সম্ভবত হাদ্দকে আবশ্যক করবে না অথবা সে ফিরে আসবে।
(৫) যে ব্যক্তি কোন গুনাহের কাজ করে লজ্জিত হবে তার দ্রুতগতিতে তাওবা করা মুস্তাহাব। তা কাউকে না জানানো।
(৬) গুনাহের কাজ সম্পাদনকারী যদি তার গুনাহের কথা কাউকে জানায় তাহলে শ্রবণকারীর জন্য মুস্তাহাব পন্থা হল যে, সে তাকে তাওবা করতে বলবে এবং ব্যাপারটি গোপন রাখবে।
(৭) হাদীসে উল্লেখিত فلما شهد على نفسه أربع شهادات বাহ্যিক ভাষ্য থেকে চারবার যেনার স্বীকারোক্তির পুনরাবৃত্তি করা শর্ত-এর প্রমাণ গ্রহণ করা হয়েছে।
(৮) হাদ্দ কায়েমের জন্য নেতার অন্যকে দায়িত্ব প্রদান জায়েয।
(৯) উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করা হয়েছে যে, রজম করার জন্য গর্ত খনন করা শর্ত নয়।
(১০) মাতালের স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৮১৬
সহিহ (Sahih)
قال ابن شهاب فاخبرني من سمع جابر بن عبد الله قال فكنت فيمن رجمه فرجمناه بالمصلى فلما اذلقته الحجارة هرب فادركناه بالحرة فرجمناه.
৬৮১৬. ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আমাকে এমন এক লোক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যিনি জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, তাকে পাথর মেরে হত্যাকারীদের মধ্যে আমি একজন ছিলাম। আমরা তাকে জানাযা আদায়ের স্থানে রজম করি। পাথরের আঘাত যখন তার অসহ্য হচ্ছিল তখন সে পালাতে লাগল। আমরা হার্রা নামক স্থানে তাকে ধরলাম। আর সেখানে তাকে পাথর মেরে হত্যা করলাম। [৫২৭০; মুসলিম ২৯/৫, হাঃ ১৬৯১, আহমাদ ১৪৪৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫৯)
হাদিস নং: ৬৮১৭
সহিহ (Sahih)
ابو الوليد حدثنا الليث عن ابن شهاب عن عروة عن عاىشة قالت اختصم سعد وابن زمعة فقال النبي صلى الله عليه وسلم هو لك يا عبد بن زمعة الولد للفراش واحتجبي منه يا سودة زاد لنا قتيبة عن الليث وللعاهر الحجر.
৬৮১৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ও ইবনু যাম’আহ (রাঃ) ঝগড়া করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আব্দ ইবনু যাম’আহ! এ সন্তান তোমারই। সন্তান বিছানার মালিকের। আর হে সাওদা! তুমি তার থেকে পর্দা কর।
কুতাইবাহ (রহ.) লায়স (রহ.) থেকে আমাদেরকে এ বাক্যটি অধিক বলেছেন যে, যেনাকারীর জন্য পাথর। [২০৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬০)
কুতাইবাহ (রহ.) লায়স (রহ.) থেকে আমাদেরকে এ বাক্যটি অধিক বলেছেন যে, যেনাকারীর জন্য পাথর। [২০৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬০)
হাদিস নং: ৬৮১৮
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة حدثنا محمد بن زياد قال سمعت ابا هريرة قال النبي صلى الله عليه وسلم الولد للفراش وللعاهر الحجر.
৬৮১৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিছানা যার সন্তান তার আর যেনাকারীর জন্য পাথর। [৬৭৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬১)
হাদিস নং: ৬৮১৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن عثمان بن كرامة حدثنا خالد بن مخلد عن سليمان حدثني عبد الله بن دينار عن ابن عمر قال اتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بيهودي ويهودية قد احدثا جميعا فقال لهم ما تجدون في كتابكم قالوا ان احبارنا احدثوا تحميم الوجه والتجبيه قال عبد الله بن سلام ادعهم يا رسول الله بالتوراة فاتي بها فوضع احدهم يده على اية الرجم وجعل يقرا ما قبلها وما بعدها فقال له ابن سلام ارفع يدك فاذا اية الرجم تحت يده فامر بهما رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجما قال ابن عمر فرجما عند البلاط فرايت اليهودي اجنا عليها.
৬৮১৯. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক ইয়াহূদী পুরুষ ও এক ইয়াহূদী নারীকে আনা হল। তারা দু’জনেই যিনা করেছে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ সম্পর্কে তোমরা তোমাদের কিতাবে কী পাচ্ছ? তারা বলল, আমাদের পাদ্রীরা চেহারা কালো করার ও দু’জনকে গাধার পিঠে উল্টো বসিয়ে প্রদক্ষিণ করার নিয়ম চালু করেছেন। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে তাওরাত নিয়ে আসতে বলুন। এরপর তা নিয়ে আসা হল। তাদের একজন রজমের আয়াতের উপর নিজের হাত রেখে দিল এবং এর আগে-পিছে পড়তে লাগল।
তখন ইবনু সালাম (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার হাত উঠাও। দেখা গেল তার হাতের নিচে রয়েছে রজমের আয়াত। তারপর রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’জনের ব্যপারে আদেশ দিলেন, উভয়কে পাথর মেরে হত্যা করা হল। ইবনু ’উমার বলেন, তাদের উভয়কে সমতল স্থানে রজম করা হয়েছে। তখন ইয়াহূদী পুরুষটাকে দেখেছি ইয়াহূদী স্ত্রীলোকটির উপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে। [১৩২৯; মুসলিম ৬/৬, হাঃ ১৬৯৯, আহমাদ ৪৪৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬২)
তখন ইবনু সালাম (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার হাত উঠাও। দেখা গেল তার হাতের নিচে রয়েছে রজমের আয়াত। তারপর রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’জনের ব্যপারে আদেশ দিলেন, উভয়কে পাথর মেরে হত্যা করা হল। ইবনু ’উমার বলেন, তাদের উভয়কে সমতল স্থানে রজম করা হয়েছে। তখন ইয়াহূদী পুরুষটাকে দেখেছি ইয়াহূদী স্ত্রীলোকটির উপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে। [১৩২৯; মুসলিম ৬/৬, হাঃ ১৬৯৯, আহমাদ ৪৪৯৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬২)
হাদিস নং: ৬৮২০
সহিহ (Sahih)
محمود حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن الزهري عن ابي سلمة عن جابر ان رجلا من اسلم جاء النبي صلى الله عليه وسلم فاعترف بالزنا فاعرض عنه النبي صلى الله عليه وسلم حتى شهد على نفسه اربع مرات قال له النبي صلى الله عليه وسلم ابك جنون قال لا قال احصنت قال نعم فامر به فرجم بالمصلى فلما اذلقته الحجارة فر فادرك فرجم حتى مات فقال له النبي صلى الله عليه وسلم خيرا وصلى عليه لم يقل يونس وابن جريج عن الزهري فصلى عليه سىل ابو عبد الله فصلى عليه يصح قال رواه معمر قيل له رواه غير معمر قال لا.
৬৮২০. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। আসলামা গোত্রের এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে যিনার কথা স্বীকার করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে সে নিজের বিপক্ষে চারবার সাক্ষ্য দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি পাগল? সে বলল, না। তিনি তার সম্পর্কে আদেশ দিলেন। তখন তাকে ঈদগাহে পাথর মেরে হত্যা করা হল। পাথর যখন তাকে অসহনীয় যন্ত্রণা দিচ্ছিল, তখন সে পালাতে লাগল। তারপর তাকে ধরা হল ও পাথর মেরে হত্যা করা হল। অবশেষে সে মারা গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করলেন ও তার সালাতে জানাযা আদায় করলেন।
ইউনুস ও ইবনু জুরাইজ (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকে فَصَلَّى عَلَيْهِ বাক্যটি বলেননি। [৫২৭০]
আবূ ’আবদুল্লাহ্ বুখারী (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছে صَلَّى عَلَيْهِ বর্ণনাটি কি বিশুদ্ধ? তিনি বললেন, এটিকে মা’মার বর্ণনা করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো এটিকে মা’মার ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেছে কি? তিনি বললেন, না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬৩)
ইউনুস ও ইবনু জুরাইজ (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকে فَصَلَّى عَلَيْهِ বাক্যটি বলেননি। [৫২৭০]
আবূ ’আবদুল্লাহ্ বুখারী (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হয়েছে صَلَّى عَلَيْهِ বর্ণনাটি কি বিশুদ্ধ? তিনি বললেন, এটিকে মা’মার বর্ণনা করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো এটিকে মা’মার ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেছে কি? তিনি বললেন, না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬৩)