হাদিস নং: ৫৪৩
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان قال حدثنا حماد هو ابن زيد عن عمرو بن دينار عن جابر بن زيد عن ابن عباس ان النبي صلى بالمدينة سبعا وثمانيا الظهر والعصر والمغرب والعشاء فقال ايوب لعله في ليلة مطيرة قال عسى.
৫৪৩. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় অবস্থানকালে (একবার) যুহর ও ‘আসরের আট রাক‘আত এবং মাগরিব ও ‘ইশার সাত রাক‘আত একত্রে মিলিত আদায় করেন। আইয়ূব (রহ.) বলেন, সম্ভবত এটা বৃষ্টির রাতে হয়েছিল। জাবির (রহ.) বললেন, সম্ভবত তাই।* (৫৬২, ১১৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৬)
নোট: *ঝড় বৃষ্টি কিংবা শঙ্কা থাকলে যুহর-আসর এবং মাগরিব-ইশা একসাথে পরপর আদায় করা জায়িয। সফর অবস্থাতেও যুহর ও আসর কসর করে যুহরের ওয়াক্তে কিংবা আসরের ওয়াক্তে আদায় করা জায়িয। অনুরূপ অবস্থায় মাগরিবের তিন রাক'আত ও পরখনেই ইশার দু'রাক'আত একসঙ্গে আদায় করা সুন্নাত।
হাদিস নং: ৫৪৪
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر قال حدثنا انس بن عياض عن هشام عن ابيه ان عاىشة قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي العصر والشمس لم تخرج من حجرتها وقال ابو اسامة عن هشام من قعر حجرتها.
৫৪৪. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় ‘আসরের সালাত আদায় করতেন যে, তখনো সূর্যরশ্মি ঘরের বাইরে যায়নি। (৫২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৭)
হাদিস নং: ৫৪৫
সহিহ (Sahih)
قتيبة قال حدثنا الليث عن ابن شهاب عن عروة عن عاىشة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى العصر والشمس في حجرتها لم يظهر الفيء من حجرتها.
৫৪৫. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় ‘আসরের সালাত আদায় করেছেন যে, সূর্যরশ্মি তখনো তাঁর ঘরের মধ্যে ছিল, আর ছায়া তখনো তাঁর ঘর হতে বেরিয়ে পড়েনি। (৫২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৮)
হাদিস নং: ৫৪৬
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم قال اخبرنا ابن عيينة عن الزهري عن عروة عن عاىشة قالت كان النبي يصلي صلاة العصر والشمس طالعة في حجرتي لم يظهر الفيء بعد وقال مالك ويحيى بن سعيد وشعيب وابن ابي حفصة والشمس قبل ان تظهر.
৫৪৬. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের সালাত আদায় করতেন, আর সূর্যকিরণ তখনো আমার ঘরে থাকতো। সালাত আদায় করার পরও ছায়া (ঘরে) দৃষ্টিগোচর হতো না। আবু ‘আবদুল্লাহ্ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, ইমাম মালিক, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ, শুআইব ও ইবনু আবূ হাফস্ (রহ.) উক্ত সনদে এ হাদীসটির বর্ণনায়, ‘সূর্যরশ্মি আমার ঘরের ভিতরে থাকতো, ঘরের মেঝেতে ছায়া নেমে আসেনি’ এমন বলেছেন। (৫২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৯)
হাদিস নং: ৫৪৭
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل قال اخبرنا عبد الله قال اخبرنا عوف عن سيار بن سلامة قال دخلت انا وابي على ابي برزة الاسلمي فقال له ابي كيف كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي المكتوبة فقال كان يصلي الهجير التي تدعونها الاولى حين تدحض الشمس ويصلي العصر ثم يرجع احدنا الى رحله في اقصى المدينة والشمس حية ونسيت ما قال في المغرب وكان يستحب ان يوخر العشاء التي تدعونها العتمة وكان يكره النوم قبلها والحديث بعدها وكان ينفتل من صلاة الغداة حين يعرف الرجل جليسه ويقرا بالستين الى الماىة.
৫৪৭. সায়্যার ইবনু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ও আমার পিতা আবূ বারযা আসলামী (রাযি.)-এর নিকট গেলাম। আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরজ সালাতসমূহ কীভাবে আদায় করতেন? তিনি বললেন, আল-হাজীর, যাকে তোমরা আল-উলা বা যুহর বলে থাকো, তা তিনি আদায় করতেন যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়তো। আর ‘আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, অতঃপর আমাদের কেউ মাদ্বীনার শেষ প্রান্তে তার ঘরে ফিরে যেতো আর সূর্য তখনও সতেজ থাকতো। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কী বলেছিলেন তা আমি ভুলে গেছি। আর ‘ইশার সালাত যাকে তোমরা ‘আতামা’ বলে থাকো, তা তিনি বিলম্বে আদায় করা পছন্দ করতেন। আর তিনি ‘ইশার সালাতের পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। তিনি ফজরের সালাত এমন সময় সমাপ্ত করতেন যখন প্রত্যেকে তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারতো। এ সালাতে তিনি ষাট হতে একশ’ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। (৫৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২০)
হাদিস নং: ৫৪৮
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة عن انس بن مالك قال كنا نصلي العصر ثم يخرج الانسان الى بني عمرو بن عوف فنجدهم يصلون العصر.
৫৪৮. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ‘আসরের সালাত আদায় করতাম। সালাতের পর লোকেরা ‘আমর ইবনু আওফ গোত্রের মহল্লায় গিয়ে তাদেরকে সালাত আদায় করা অবস্থায় পেতো।* (৫৫০, ৫৫১, ৭৩২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২১)
নোট: *আধুনিক প্রকাশনীর ৫১৫ নং হাদীসের টীকায় কি একথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, তারা ‘আসরের সালাত দেরী করে আদায় করতেন বলেই আমাদের দেশে ‘আসরের সালাত দেরীতে আদায় করা হয়। অথচ এটা উত্তম সময় ছিল না। কারণ উত্তম সময় হল দু’মাইল হাঁটার পূর্বে আদায়কৃত সালাতের সময়। আর ‘আসরের ওয়াক্ত সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত বহাল থাকে, তাই বলে তা উত্তম সময় নয়।
হাদিস নং: ৫৪৯
সহিহ (Sahih)
ابن مقاتل قال اخبرنا عبد الله قال اخبرنا ابو بكر بن عثمان بن سهل بن حنيف قال سمعت ابا امامة بن سهل يقول صلينا مع عمر بن عبد العزيز الظهر ثم خرجنا حتى دخلنا على انس بن مالك فوجدناه يصلي العصر فقلت يا عم ما هذه الصلاة التي صليت قال العصر وهذه صلاة رسول الله التي كنا نصلي معه.
৫৪৯. আবূ উমামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা ‘উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহ.)-এর সঙ্গে যুহরের সালাত আদায় করলাম। অতঃপর সেখান হতে বেরিয়ে আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-এর নিকট গেলাম। আমরা গিয়ে তাঁকে ‘আসরের সালাত আদায়ে রত পেলাম। আমি তাঁকে বললাম চাচা! এ কোন্ সালাত যা আপনি আদায় করলেন? তিনি বললেন, ‘আসরের সালাত আর এ হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত, যা আমরা তাঁর সাথে আদায় করতাম। (মুসলিম ৫/৩৪, হাঃ ৬২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২২)
হাদিস নং: ৫৫০
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان قال اخبرنا شعيب عن الزهري قال حدثني انس بن مالك قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي العصر والشمس مرتفعة حية فيذهب الذاهب الى العوالي فياتيهم والشمس مرتفعة وبعض العوالي من المدينة على اربعة اميال او نحوه.
৫৫০. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের সালাত আদায় করতেন, আর সূর্য তখনও যথেষ্ট উপরে উজ্জ্বল অবস্থায় বিরাজমান থাকতো। সালাতের পর কোনো গমনকারী ‘আওয়ালী’র দিকে রওয়ানা হয়ে তাদের নিকট পৌঁছে যেতো, আর তখনও সূর্য উপরে থাকতো। আওয়ালীর কোন কোন অংশ ছিল মদিনা হতে চার মাইল বা তার কাছাকাছি দূরত্বে। (৫৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৪)
হাদিস নং: ৫৫১
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن ابن شهاب عن انس بن مالك قال كنا نصلي العصر ثم يذهب الذاهب منا الى قباء فياتيهم والشمس مرتفعة.
৫৫১. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ‘আসরের সালাত আদায় করতাম, অতঃপর আমাদের কোনো গমনকারী কুবার দিকে যেতো এবং সূর্য যথেষ্ট উপরে থাকতেই সে তাদের নিকট পৌঁছে যেতো। (৫৪৮; মুসলিম ৫/৩৪, হাঃ ৬২১, আহমাদ ১২৬৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৩)
হাদিস নং: ৫৫২
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الذي تفوته صلاة العصر كانما وتر اهله وماله
قال ابو عبد الله يتركم وترت الرجل اذا قتلت له قتيلا او اخذت له مالا.
قال ابو عبد الله يتركم وترت الرجل اذا قتلت له قتيلا او اخذت له مالا.
৫৫২. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তির ’আসরের সালাত ছুটে যায়, তাহলে যেন তার পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদ সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গেল।
আবূ ’আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, (আরবী পরিভাষায়) يَتِرَكُمْ وَتَرْتُ الرَّجُلَ বাক্যটি ব্যবহার করা হয় যখন কেউ কাউকে হত্যা করে অথবা মাল-সম্পদ ছিনিয়ে নেয়। (মুসলিম ৫/৩৫, হাঃ ৬২৬, আহমাদ ৫৭৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৫)
আবূ ’আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, (আরবী পরিভাষায়) يَتِرَكُمْ وَتَرْتُ الرَّجُلَ বাক্যটি ব্যবহার করা হয় যখন কেউ কাউকে হত্যা করে অথবা মাল-সম্পদ ছিনিয়ে নেয়। (মুসলিম ৫/৩৫, হাঃ ৬২৬, আহমাদ ৫৭৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৫)
হাদিস নং: ৫৫৩
সহিহ (Sahih)
مسلم بن ابراهيم قال حدثنا هشام قال حدثنا يحيى بن ابي كثير عن ابي قلابة عن ابي المليح قال كنا مع بريدة في غزوة في يوم ذي غيم فقال بكروا بصلاة العصر فان النبي قال من ترك صلاة العصر فقد حبط عمله.
৫৫৩. আবূ মালীহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা বুরাইদা (রাযি.)-এর সঙ্গে ছিলাম। দিনটি ছিলো মেঘলা। তাই বুরাইদাহ (রাযি.) বলেন, শীঘ্র ‘আসরের সালাত আদায় করে নাও। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ‘আসরের সালাত ছেড়ে দেয় তার ‘আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। (৫৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৬)
হাদিস নং: ৫৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحميدي، قال حدثنا مروان بن معاوية، قال حدثنا اسماعيل، عن قيس، عن جرير، قال كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فنظر الى القمر ليلة ـ يعني البدر ـ فقال " انكم سترون ربكم كما ترون هذا القمر لا تضامون في رويته، فان استطعتم ان لا تغلبوا على صلاة قبل طلوع الشمس وقبل غروبها فافعلوا ". ثم قرا (وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل الغروب). قال اسماعيل افعلوا لا تفوتنكم.
৫৫৪. জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি রাতে (পূর্ণিমার) চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ ঐ চাঁদকে তোমরা যেমন দেখছ, ঠিক তেমনি অচিরেই তোমাদের প্রতিপালককে তোমরা দেখতে পাবে। তাঁকে দেখতে তোমরা কোন ভীড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই সূর্য উদয়ের এবং অস্ত যাওয়ার পূর্বের সালাত (শয়তানের প্রভাবমুক্ত হয়ে) আদায় করতে পারলে তোমরা তাই করবে। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন, ‘‘কাজেই তোমার প্রতিপালকের প্রশংসার তাসবীহ্ পাঠ কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে’’- (সূরাহ্ ক্বাফ ৫০/৩৯)। ইসমাঈল (রহ.) বলেন, এর অর্থ হল- এমনভাবে আদায় করার চেষ্টা করবে যেন কখনো ছুটে না যায়। (৫৭৩, ৪৮৫১, ৭৪৩৪, ৭৪৩৫,৭৪৩৬; মুসলিম ৫/৩৬, হাঃ ৬৩৩, আহমাদ ১৯২১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৭)
হাদিস নং: ৫৫৫
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال حدثنا مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال يتعاقبون فيكم ملاىكة بالليل وملاىكة بالنهار ويجتمعون في صلاة الفجر وصلاة العصر ثم يعرج الذين باتوا فيكم فيسالهم وهو اعلم بهم كيف تركتم عبادي فيقولون تركناهم وهم يصلون واتيناهم وهم يصلون.
৫৫৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মালাকগণ পালা বদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। ‘আসর ও ফজরের সালাতে উভয় দল একত্র হন। অতঃপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞেস করেন, আমার বান্দাদের কোন্ অবস্থায় রেখে আসলে? অবশ্য তিনি নিজেই তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক অবত। উত্তরে তাঁরা বলেন, আমরা তাদের সালাতে রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের নিকট গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায়রত অবস্থায় ছিলেন। (৩২২৩, ৭৪২৯, ৭৪৮৬; মুসলিম ৫/৩৬, হাঃ ৬৩২, আহমাদ ১০৩১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৮)
হাদিস নং: ৫৫৬
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم قال حدثنا شيبان عن يحيى بن ابي كثير عن ابي سلمة عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا ادرك احدكم سجدة من صلاة العصر قبل ان تغرب الشمس فليتم صلاته واذا ادرك سجدة من صلاة الصبح قبل ان تطلع الشمس فليتم صلاته.
৫৫৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে ‘আসরের সালাতের এক সাজদা পায়, তাহলে সে যেন সালাত পূর্ণ করে নেয়। আর যদি সূর্য উদিত হবার পূর্বে ফজরের সালাতের এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন সালাত পূর্ণ করে নেয়। (৫৭৯, ৫৮০; মুসলিম ৫/৩০, হাঃ ৬০৮, আহমাদ ৯৯৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৯)
হাদিস নং: ৫৫৭
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله الاويسي قال حدثني ابراهيم بن سعد عن ابن شهاب عن سالم بن عبد الله عن ابيه انه اخبره انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول انما بقاوكم فيما سلف قبلكم من الامم كما بين صلاة العصر الى غروب الشمس اوتي اهل التوراة التوراة فعملوا حتى اذا انتصف النهار عجزوا فاعطوا قيراطا قيراطا ثم اوتي اهل الانجيل الانجيل فعملوا الى صلاة العصر ثم عجزوا فاعطوا قيراطا قيراطا ثم اوتينا القران فعملنا الى غروب الشمس فاعطينا قيراطين قيراطين فقال اهل الكتابين اي ربنا اعطيت هولاء قيراطين قيراطين واعطيتنا قيراطا قيراطا ونحن كنا اكثر عملا قال قال الله عز وجل هل ظلمتكم من اجركم من شيء قالوا لا قال فهو فضلي اوتيه من اشاء.
৫৫৭. সালিম ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন, আগেকার উম্মাতের স্থায়িত্বের তুলনায় তোমাদের স্থায়িত্ব হলো ’আসর হতে নিয়ে সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের ন্যায়। তাওরাত অনুসারীদেরকে তাওরাত দেয়া হয়েছিল। তারা তদনুযায়ী কাজ করতে লাগলো; যখন দুপুর হলো, তখন তারা অপারগ হয়ে পড়লো। তাদের এক এক ’কীরাত’ করে পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। আর ইঞ্জিল অনুসারীদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলো। তারা ’আসরের সালাত পর্যন্ত কাজ করে অপরাগ হয়ে পড়লো। তাদেরকে এক এক ’কীরাত’ করে পারিশ্রমিক দেয়া হলো। অতঃপর আমাদেরকে কুরআন দেয়া হলো। আমরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করলাম। আমাদের দু’ দু’ ’কীরাত’ করে দেয়া হলো। এতে উভয় কিতাবী সম্প্রদায় বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের দু’ দু’ ’কীরাত’ করে দান করেছেন, আর আমাদের দিয়েছেন এক এক কীরাত করে; অথচ আমলের দিক দিয়ে আমরাই বেশি। আল্লাহ্ তা’আলা বললেনঃ তোমাদের পারিশ্রমিকের ব্যাপারে আমি কি তোমাদের প্রতি কোনোরূপ যুলুম করেছি? তারা বললো, না। তখন আল্লাহ তা’আলা বললেনঃ এ হলো, আমার অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছা তাকে দেই। (২২৬৮, ২২৬৯, ৩৪৫৯, ৫০২১, ৭৪৬৭, ৭৫৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩০)
হাদিস নং: ৫৫৮
সহিহ (Sahih)
ابو كريب قال حدثنا ابو اسامة عن بريد عن ابي بردة عن ابي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل المسلمين واليهود والنصارى كمثل رجل استاجر قوما يعملون له عملا الى الليل فعملوا الى نصف النهار فقالوا لا حاجة لنا الى اجرك فاستاجر اخرين فقال اكملوا بقية يومكم ولكم الذي شرطت فعملوا حتى اذا كان حين صلاة العصر قالوا لك ما عملنا فاستاجر قوما فعملوا بقية يومهم حتى غابت الشمس واستكملوا اجر الفريقين.
৫৫৮. আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন; মুসলিম, ইয়াহূদী ও নাসারাদের উদাহরণ হলো এমন, এক ব্যক্তি একদল লোককে নিয়োগ করলো, তারা তার জন্য রাত পর্যন্ত কাজ করবে। কিন্তু অর্ধদিবস পর্যন্ত কাজ করার পর তারা বললো, আপনার পারিশ্রমিকের আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। সে ব্যক্তি অন্য আরেক দল লোককে কাজে নিয়োগ করলো এবং বলল, তোমরা দিনের বাকী অংশ কাজ কর, তোমরা আমার নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাবে। তারা কাজ করতে শুরু করলো। যখন ‘আসরের সালাতের সময় হলো, তখন তারা বললো, আমরা যা কাজ করেছি তা আপনার জন্য রেখে গেলাম। অতঃপর সে ব্যক্তি আরেক দল লোককে কাজে নিয়োগ করলো। তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের বাকী অংশে কাজ করলো এবং সে দু’ দলের পূর্ণ পারিশ্রমিক অর্জন করলো। (২২৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩১)
হাদিস নং: ৫৫৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن مهران قال حدثنا الوليد قال حدثنا الاوزاعي قال حدثنا ابو النجاشي صهيب مولى رافع بن خديج قال سمعت رافع بن خديج يقول كنا نصلي المغرب مع النبي صلى الله عليه وسلم فينصرف احدنا وانه ليبصر مواقع نبله.
وَقَالَ عَطَاءٌ يَجْمَعُ الْمَرِيضُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ.
আত্বা (রহ.) বলেন, অসুস্থ ব্যক্তি মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করতে পারবে।
৫৫৯. রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত আদায় করে এমন সময় ফিরে আসতাম যে, আমাদের কেউ (তীর নিক্ষেপ করলে) নিক্ষিপ্ত তীর পড়ার জায়গা দেখতে পেতো। (মুসলিম ৫/৩৮, হাঃ ৬৩৭, আহমাদ ১৭২৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩২)
আত্বা (রহ.) বলেন, অসুস্থ ব্যক্তি মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করতে পারবে।
৫৫৯. রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত আদায় করে এমন সময় ফিরে আসতাম যে, আমাদের কেউ (তীর নিক্ষেপ করলে) নিক্ষিপ্ত তীর পড়ার জায়গা দেখতে পেতো। (মুসলিম ৫/৩৮, হাঃ ৬৩৭, আহমাদ ১৭২৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩২)
হাদিস নং: ৫৬০
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار قال حدثنا محمد بن جعفر قال حدثنا شعبة عن سعد بن ابراهيم عن محمد بن عمرو بن الحسن بن علي قال قدم الحجاج فسالنا جابر بن عبد الله فقال كان النبي يصلي الظهر بالهاجرة والعصر والشمس نقية والمغرب اذا وجبت والعشاء احيانا واحيانا اذا راهم اجتمعوا عجل واذا راهم ابطوا اخر والصبح كانوا او كان النبي صلى الله عليه وسلم يصليها بغلس.
৫৬০. মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনু হাসান ইবনু ‘আলী (রহ.) হতে বর্ণিত। মুহাম্মাদ ইবনু আমার (রহ.) বলেন, হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) (মদ্বীনায়) এলে আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)-কে সালাতের ওয়াক্ত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম, (কেননা, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ বিলম্ব করে সালাত আদায় করতেন)। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত প্রচন্ড গরমের সময় আদায় করতেন। আর ‘আসরের সালাত সূর্য উজ্জ্বল থাকতে আদায় করতেন, মাগরিবের সালাত সূর্য অস্ত যেতেই আর ‘ইশার সালাত বিভিন্ন সময়ে আদায় করতেন। যদি দেখতেন, সকলেই সমবেত হয়েছেন, তাহলে সকাল সকাল আদায় করতেন। আর যদি দেখতেন, লোকজন আসতে দেরী করছে, তাহলে বিলম্বে আদায় করতেন। আর ফজরের সালাত তাঁরা কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্ধকার থাকতে আদায় করতেন। (৫৬৫; মুসলিম ৫/৪০, হাঃ ৬৪৬, আহমাদ ১৪৯৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩৩)
হাদিস নং: ৫৬১
সহিহ (Sahih)
المكي بن ابراهيم قال حدثنا يزيد بن ابي عبيد عن سلمة قال كنا نصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم المغرب اذا توارت بالحجاب.
৫৬১. সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত আদায় করতাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩৪)
হাদিস নং: ৫৬২
সহিহ (Sahih)
ادم قال حدثنا شعبة قال حدثنا عمرو بن دينار قال سمعت جابر بن زيد عن عبد الله بن عباس قال صلى النبي سبعا جميعا وثمانيا جميعا.
৫৬২. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাগরিব ও ‘ইশার) সাত রাক‘আত ও (যুহর ও ‘আসরের) আট রাক‘আত একত্রে আদায় করেছেন। (৫৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৩৫)