অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৯১/১. রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওয়াহীর শুরু হয় ভালো স্বপ্নের মাধ্যমে।
মোট ৬৬ টি হাদিস
হাদিস নং: ৬৯৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن قزعة، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " رويا المومن جزء من ستة واربعين جزءا من النبوة ". رواه ثابت وحميد واسحاق بن عبد الله وشعيب عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم.
৬৯৮৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। [৭০১৭; মুসলিম পর্ব ৪২/হাঃ ২২৬৩, আহমাদ ৭১৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫১৭)
হাদিস নং: ৬৯৮৯
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن حمزة حدثني ابن ابي حازم والدراوردي عن يزيد عن عبد الله بن خباب عن ابي سعيد الخدري انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول الرويا الصالحة جزء من ستة واربعين جزءا من النبوة
৬৯৮৯. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, ভাল স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫১৮)
হাদিস নং: ৬৯৯০
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري حدثني سعيد بن المسيب ان ابا هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لم يبق من النبوة الا المبشرات قالوا وما المبشرات قال الرويا الصالحة
৬৯৯০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। সু-সংবাদ বহনকারী বিষয়াদি ব্যতীত নবুয়তের আর কিছু অবশিষ্ট নেই। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, সু-সংবাদ বহনকারী বিষয়াদি কী? তিনি বললেন, ভাল স্বপ্ন।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫১৯)
নোট: [1] মুত্তাকী মু‘মিনদের অনেক স্বপ্ন সত্য হলেও তার উপর ভিত্তি করে কোন শার’য়ী বিধান পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন বৈধ নয়। সুতরাং কারো কোন বিষয়ে স্বপ্ন দেখা শার’য়ী দলীল হিসাবে যেমন বিবেচিত হবে না, তেমনি কোন কর্মের মূল উৎস স্বপ্ন হলেও তা ইসলামী বিধান হিসাবে বিবেচিত হবে না। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৬৯৯১
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن سالم بن عبد الله عن ابن عمر ان اناسا اروا ليلة القدر في السبع الاواخر وان اناسا اروا انها في العشر الاواخر فقال النبي صلى الله عليه وسلم التمسوها في السبع الاواخر
بَاب رُؤْيَا يُوسُفَ
৯১/৬. অধ্যায়: ইউসুফ (আঃ)-এর স্বপ্ন।
وَقَوْلِهِ تَعَالَى : (إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ إِنِّي رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي سَاجِدِينَ قَالَ يَا بُنَيَّ لاَ تَقْصُصْ رُؤْيَاكَ عَلٰى إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا إِنَّ الشَّيْطَانَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوٌّ مُبِينٌ وَكَذٰلِكَ يَجْتَبِيكَ رَبُّكَ وَيُعَلِّمُكَ مِنْ تَأْوِيلِ الأَحَادِيثِ وَيُتِمُّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكَ وَعَلٰى آلِ يَعْقُوبَ كَمَا أَتَمَّهَا عَلَى أَبَوَيْكَ مِنْ قَبْلُ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ إِنَّ رَبَّكَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ وَقَوْلِهِ تَعَالٰى يَا أَبَتِ هٰذَا تَأْوِيلُ رُؤْيَايَ مِنْ قَبْلُ قَدْ جَعَلَهَا رَبِّي حَقًّا وَقَدْ أَحْسَنَ بِي إِذْ أَخْرَجَنِي مِنْ السِّجْنِ وَجَاءَ بِكُمْ مِنْ الْبَدْوِ مِنْ بَعْدِ أَنْ نَزَغَ الشَّيْطَانُ بَيْنِي وَبَيْنَ إِخْوَتِي إِنَّ رَبِّي لَطِيفٌ لِمَا يَشَآءُ إِنَّه” هُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ رَبِّ قَدْ آتَيْتَنِي مِنْ الْمُلْكِ وَعَلَّمْتَنِي مِنْ تَأْوِيلِ الأَحَادِيثِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ أَنْتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ) قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ فَاطِرٌ وَالْبَدِيعُ وَالْمُبْدِعُ وَالْبَارِئُ وَالْخَالِقُ وَاحِدٌ (مِنَ الْبَدْو)ِ بَادِيَةٍ.
এবং আল্লাহর বাণীঃ স্মরণ কর, ইউসুফ যখন তার পিতাকে বলেছিল, ’হে আববাজান! আমি (স্বপ্নে) দেখেছি এগারটি তারকা আর সূর্য ও চন্দ্র; দেখলাম তারা আমাকে সিজদা করছে।’ তার পিতা বললেন, ’হে আমার পুত্র! তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা করো না। যদি কর তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য দুশমন। (স্বপ্নে যেমন দেখেছ) এভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন, তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন এবং তিনি তাঁর অনুগ্রহ তোমার প্রতি আর ইয়া’কূব পরিবারের প্রতি পূর্ণ করবেন যেভাবে তিনি তা পূর্বে তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি পূর্ণ করেছিলেন, নিশ্চয়ই তোমার রব্ব সর্বজ্ঞ, বড়ই প্রজ্ঞাবান।- (সূরাহ ইউসুফ ১২/৪-৬)।
এবং আল্লাহর বাণীঃ ’সে তার পিতামাতাকে সিংহাসনে উঠিয়ে নিল আর সকলে তার সম্মানে সিজদা্য় ঝুঁকে পড়ল। ইউসুফ বলল, ’হে পিতা! এ-ই হচ্ছে আমার সে আগের দেখা স্বপ্নের ব্যাখ্যা। আমার রবব একে সত্যে পরিণত করেছেন, তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি আমাকে কয়েদখানা থেকে বের করে এনেছেন। আর শয়তান আমার আর আমার ভাইদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার পরও তিনি আপনাদেরকে মরু অঞ্চল থেকে এখানে (মিশরে) এনে দিয়েছেন। আমার রবব যা করতে ইচ্ছে করেন তা সূক্ষ্ম উপায়ে বাস্তবায়িত করে থাকেন, তিনি বড়ই বিজ্ঞ, বড়ই প্রজ্ঞাময়। হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে রাজত্ব দান করেছ, আর আমাকে বিভিন্ন কথার ব্যাখ্যা বিদ্যা শিখিয়েছ। আসমান যমীনের সৃষ্টিকর্তা! তুমিই দুনিয়া আর আখিরাতে আমার অভিভাবক, তুমি মুসলিম অবস্থায় আমার মৃত্যু দান করো এবং সৎকর্মশীলদের মধ্যে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করো।’- (সূরাহ ইউসুফ ১২/১০০-১০১)।
আবূ আবদুল্লাহ বলেন, فَاطِرٌ وَالْبَدِيعُ وَالْمُبْدِعُ وَالْبَارِئُ وَالْخَالِقُ وَاحِدٌ সবগুলোর অর্থ একই। (مِنَ الْبَدْو) অর্থ পল্লী হতে।
بَاب رُؤْيَا إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلاَم
৯১/৭. অধ্যায়: ইব্রাহীম (আঃ)-এর স্বপ্ন
وَقَوْلُهُ تَعَالَى : (فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرٰى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرٰى قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَآءَ اللهُ مِنْ الصَّابِرِينَ فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ)
এবং আল্লাহর বাণীঃ ’’অতঃপর সে যখন তার পিতার সাথে চলাফিরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন ইব্রাহীম বলল, ’বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, এখন বল, তোমার অভিমত কী? সে বলল, ’হে পিতঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন, আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলই পাবেন। দু’জনেই যখন আনুগত্যে মাথা নুইয়ে দিল। আর ইব্রাহীম তাকে উপুড় ক’রে শুইয়ে দিল। তখন আমি তাকে ডাক দিলাম, ’হে ইব্রাহীম! স্বপ্নে দেয়া আদেশ তুমি সত্যে পরিণত করেই ছাড়লে। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।’’ (সূরাহ আস্-সাফফাত ৩৭/১০২-১০৫)
قَالَ مُجَاهِدٌ أَسْلَمَا سَلَّمَا مَا أُمِرَا بِهِ (وَتَلَّهُ) وَضَعَ وَجْهَهُ بِالأَرْضِ
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ’আসলামা’ শব্দের অর্থ তাদেরকে যে বিষয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তা তারা মেনে নিল। আর ’তাল্লাহু’ শব্দের অর্থ তার চেহারা মাটিতে রাখল।
৬৯৯১. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদল লোককে শবে কদর (রমাযানের) শেষ সাত রাতের মধ্যে রয়েছে বলে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আর কিছু সংখ্যক লোককে তা শেষ দশ রাতের মাঝে আছে দেখানো হয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা শবে কদর শেষ সাত রাতের মধ্যেই খোঁজ কর। [১১৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৬৫০৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২০)
৯১/৬. অধ্যায়: ইউসুফ (আঃ)-এর স্বপ্ন।
وَقَوْلِهِ تَعَالَى : (إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ إِنِّي رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي سَاجِدِينَ قَالَ يَا بُنَيَّ لاَ تَقْصُصْ رُؤْيَاكَ عَلٰى إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا إِنَّ الشَّيْطَانَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوٌّ مُبِينٌ وَكَذٰلِكَ يَجْتَبِيكَ رَبُّكَ وَيُعَلِّمُكَ مِنْ تَأْوِيلِ الأَحَادِيثِ وَيُتِمُّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكَ وَعَلٰى آلِ يَعْقُوبَ كَمَا أَتَمَّهَا عَلَى أَبَوَيْكَ مِنْ قَبْلُ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ إِنَّ رَبَّكَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ وَقَوْلِهِ تَعَالٰى يَا أَبَتِ هٰذَا تَأْوِيلُ رُؤْيَايَ مِنْ قَبْلُ قَدْ جَعَلَهَا رَبِّي حَقًّا وَقَدْ أَحْسَنَ بِي إِذْ أَخْرَجَنِي مِنْ السِّجْنِ وَجَاءَ بِكُمْ مِنْ الْبَدْوِ مِنْ بَعْدِ أَنْ نَزَغَ الشَّيْطَانُ بَيْنِي وَبَيْنَ إِخْوَتِي إِنَّ رَبِّي لَطِيفٌ لِمَا يَشَآءُ إِنَّه” هُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ رَبِّ قَدْ آتَيْتَنِي مِنْ الْمُلْكِ وَعَلَّمْتَنِي مِنْ تَأْوِيلِ الأَحَادِيثِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ أَنْتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ) قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ فَاطِرٌ وَالْبَدِيعُ وَالْمُبْدِعُ وَالْبَارِئُ وَالْخَالِقُ وَاحِدٌ (مِنَ الْبَدْو)ِ بَادِيَةٍ.
এবং আল্লাহর বাণীঃ স্মরণ কর, ইউসুফ যখন তার পিতাকে বলেছিল, ’হে আববাজান! আমি (স্বপ্নে) দেখেছি এগারটি তারকা আর সূর্য ও চন্দ্র; দেখলাম তারা আমাকে সিজদা করছে।’ তার পিতা বললেন, ’হে আমার পুত্র! তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা করো না। যদি কর তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য দুশমন। (স্বপ্নে যেমন দেখেছ) এভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন, তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন এবং তিনি তাঁর অনুগ্রহ তোমার প্রতি আর ইয়া’কূব পরিবারের প্রতি পূর্ণ করবেন যেভাবে তিনি তা পূর্বে তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি পূর্ণ করেছিলেন, নিশ্চয়ই তোমার রব্ব সর্বজ্ঞ, বড়ই প্রজ্ঞাবান।- (সূরাহ ইউসুফ ১২/৪-৬)।
এবং আল্লাহর বাণীঃ ’সে তার পিতামাতাকে সিংহাসনে উঠিয়ে নিল আর সকলে তার সম্মানে সিজদা্য় ঝুঁকে পড়ল। ইউসুফ বলল, ’হে পিতা! এ-ই হচ্ছে আমার সে আগের দেখা স্বপ্নের ব্যাখ্যা। আমার রবব একে সত্যে পরিণত করেছেন, তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি আমাকে কয়েদখানা থেকে বের করে এনেছেন। আর শয়তান আমার আর আমার ভাইদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার পরও তিনি আপনাদেরকে মরু অঞ্চল থেকে এখানে (মিশরে) এনে দিয়েছেন। আমার রবব যা করতে ইচ্ছে করেন তা সূক্ষ্ম উপায়ে বাস্তবায়িত করে থাকেন, তিনি বড়ই বিজ্ঞ, বড়ই প্রজ্ঞাময়। হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে রাজত্ব দান করেছ, আর আমাকে বিভিন্ন কথার ব্যাখ্যা বিদ্যা শিখিয়েছ। আসমান যমীনের সৃষ্টিকর্তা! তুমিই দুনিয়া আর আখিরাতে আমার অভিভাবক, তুমি মুসলিম অবস্থায় আমার মৃত্যু দান করো এবং সৎকর্মশীলদের মধ্যে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করো।’- (সূরাহ ইউসুফ ১২/১০০-১০১)।
আবূ আবদুল্লাহ বলেন, فَاطِرٌ وَالْبَدِيعُ وَالْمُبْدِعُ وَالْبَارِئُ وَالْخَالِقُ وَاحِدٌ সবগুলোর অর্থ একই। (مِنَ الْبَدْو) অর্থ পল্লী হতে।
بَاب رُؤْيَا إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلاَم
৯১/৭. অধ্যায়: ইব্রাহীম (আঃ)-এর স্বপ্ন
وَقَوْلُهُ تَعَالَى : (فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرٰى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرٰى قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَآءَ اللهُ مِنْ الصَّابِرِينَ فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ)
এবং আল্লাহর বাণীঃ ’’অতঃপর সে যখন তার পিতার সাথে চলাফিরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন ইব্রাহীম বলল, ’বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, এখন বল, তোমার অভিমত কী? সে বলল, ’হে পিতঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন, আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলই পাবেন। দু’জনেই যখন আনুগত্যে মাথা নুইয়ে দিল। আর ইব্রাহীম তাকে উপুড় ক’রে শুইয়ে দিল। তখন আমি তাকে ডাক দিলাম, ’হে ইব্রাহীম! স্বপ্নে দেয়া আদেশ তুমি সত্যে পরিণত করেই ছাড়লে। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।’’ (সূরাহ আস্-সাফফাত ৩৭/১০২-১০৫)
قَالَ مُجَاهِدٌ أَسْلَمَا سَلَّمَا مَا أُمِرَا بِهِ (وَتَلَّهُ) وَضَعَ وَجْهَهُ بِالأَرْضِ
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ’আসলামা’ শব্দের অর্থ তাদেরকে যে বিষয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তা তারা মেনে নিল। আর ’তাল্লাহু’ শব্দের অর্থ তার চেহারা মাটিতে রাখল।
৬৯৯১. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদল লোককে শবে কদর (রমাযানের) শেষ সাত রাতের মধ্যে রয়েছে বলে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আর কিছু সংখ্যক লোককে তা শেষ দশ রাতের মাঝে আছে দেখানো হয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা শবে কদর শেষ সাত রাতের মধ্যেই খোঁজ কর। [১১৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৬৫০৭ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২০)
হাদিস নং: ৬৯৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله، حدثنا جويرية، عن مالك، عن الزهري، ان سعيد بن المسيب، وابا، عبيد اخبراه عن ابي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لو لبثت في السجن ما لبث يوسف، ثم اتاني الداعي لاجبته ".
لِقَوْلِهِ تَعَالَى : (وَدَخَلَ مَعَهُ السِّجْنَ فَتَيَانِ قَالَ أَحَدُهُمَا إِنِّي أَرَانِي أَعْصِرُ خَمْرًا وَقَالَ الْاٰخَرُ إِنِّي أَرَانِيْ أَحْمِلُ فَوْقَ رَأْسِي خُبْزًا تَأْكُلُ الطَّيْرُ مِنْهُ نَبِّئْنَا بِتَأْوِيلِهِ إِنَّا نَرَاكَ مِنْ الْمُحْسِنِينَ قَالَ لاَ يَأْتِيكُمَا طَعَامٌ تُرْزَقَانِهِ إِلاَّ نَبَّأْتُكُمَا بِتَأْوِيلِهِ قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَكُمَا ذَلِكُمَا مِمَّا عَلَّمَنِي رَبِّي إِنِّي تَرَكْتُ مِلَّةَ قَوْمٍ لاَ يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَهُمْ بِالْاٰخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ وَاتَّبَعْتُ مِلَّةَ آبَائِي إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ مَا كَانَ لَنَا أَنْ نُشْرِكَ بِاللهِ مِنْ شَيْءٍ ذَلِكَ مِنْ فَضْلِ اللهِ عَلَيْنَا وَعَلَى النَّاسِ وَلٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لاَ يَشْكُرُونَ يَا صَاحِبَيْ السِّجْنِ أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ) (يوسف) وَقَالَ الْفُضَيْلُ عِنْدَ قَوْلِهٖ (يَا صَاحِبَيْ السِّجْنِ) ( أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمْ اللهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِهٖ إِلاَّ أَسْمَآءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ إِنْ الْحُكْمُ إِلاَّ لِلَّهِ أَمَرَ أَنْ لاَ تَعْبُدُوا إِلاَّ إِيَّاهُ ذٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لاَ يَعْلَمُونَ يَا صَاحِبَيْ السِّجْنِ أَمَّا أَحَدُكُمَا فَيَسْقِي رَبَّه” خَمْرًا وَأَمَّا الْاٰخَرُ فَيُصْلَبُ فَتَأْكُلُ الطَّيْرُ مِنْ رَأْسِهِ قُضِيَ الْأَمْرُ الَّذِي فِيهِ تَسْتَفْتِيَانِ وَقَالَ لِلَّذِي ظَنَّ أَنَّهُ نَاجٍ مِنْهُمَا اذْكُرْنِي عِنْدَ رَبِّكَ فَأَنْسَاهُ الشَّيْطَانُ ذِكْرَ رَبِّهِ فَلَبِثَ فِي السِّجْنِ بِضْعَ سِنِينَ وَقَالَ الْمَلِكُ إِنِّي أَرٰى سَبْعَ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعَ سُنْبُلاَتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ يَا أَيُّهَا الْمَلاَ أَفْتُونِي فِي رُؤْيَايَ إِنْ كُنْتُمْ لِلرُّؤْيَا تَعْبُرُونَ قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلاَمٍ وَمَا نَحْنُ بِتَأْوِيلِ الْأَحْلاَمِ بِعَالِمِينَ وَقَالَ الَّذِي نَجَا مِنْهُمَا وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ أَنَا أُنَبِّئُكُمْ بِتَأْوِيلِهِ فَأَرْسِلُونِ يُوسُفُ أَيُّهَا الصِّدِّيقُ أَفْتِنَا فِي سَبْعِ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعِ سُنْبُلاَتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ لَعَلِّي أَرْجِعُ إِلَى النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَعْلَمُونَ قَالَ تَزْرَعُونَ سَبْعَ سِنِينَ دَأْبًا فَمَا حَصَدْتُمْ فَذَرُوهُ فِي سُنْبُلِهٖ إِلاَّ قَلِيلاً مِمَّا تَأْكُلُونَ ثُمَّ يَأْتِي مِنْ بَعْدِ ذٰلِكَ سَبْعٌ شِدَادٌ يَأْكُلْنَ مَا قَدَّمْتُمْ لَهُنَّ إِلاَّ قَلِيلاً مِمَّا تُحْصِنُونَ ثُمَّ يَأْتِي مِنْ بَعْدِ ذٰلِكَ عَامٌ فِيهِ يُغَاثُ النَّاسُ وَفِيهِ يَعْصِرُونَ وَقَالَ الْمَلِكُ ائْتُونِي بِهٖ فَلَمَّا جَآءَهُ الرَّسُولُ قَالَ ارْجِعْ إِلٰى رَبِّكَ) (وَادَّكَرَ) : افْتَعَلَ مِنْ ذَكَرَ (أُمَّةٍ) قَرْنٍ وَتُقْرَأُ أَمَهٍ نِسْيَانٍ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (يَعْصِرُونَ) الأَعْنَابَ وَالدُّهْنَ (تُحْصِنُونَ) تَحْرُسُونَ
আল্লাহ্ বলেনঃ তার সঙ্গে দু’যুবকও কারাগারে প্রবেশ করেছিল। তাদের একজন বলল, ’আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি মদ তৈরি করছি।’ অন্যজন বলল, ’আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি মাথায় রুটি বহন করছি আর পাখী তাত্থেকে খাচ্ছে। আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলে দাও, আমরা দেখছি তুমি একজন সৎকর্মশীল লোক।’ সে (ইউসুফ) বলল, ’তোমাদেরকে যে খাবার দেয়া হয় তা আসার আগেই আমি তোমাদেরকে তার ব্যাখ্যা জানিয়ে দেব। আমার প্রতিপালক আমাকে যে জ্ঞান দান করেছেন এটা সেই জ্ঞানেরই অংশ। যে সম্প্রদায় আল্লাহ্তে বিশ্বাস করে না আর আখিরাতে অবিশ্বাসী, আমি তাদের নিয়ম নীতি পরিত্যাগ করেছি। আমি আমার পূর্বপুরুষ ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়া’কূবের আদর্শের অনুসরণ করি।
আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করা আমার কাজ নয়। এটা আমাদের প্রতি ও মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ, কিন্তু অধিকাংশ লোকই শোকর করে না। হে আমার জেলের সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপালক ভালো, না মহাপরাক্রমশালী এক আল্লাহ? তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যার ’ইবাদাত করছ তা কতকগুলো নাম ছাড়া আর কিছুই নয়, যে নামগুলো তোমরা আর তোমাদের পিতৃ পুরুষরা রেখেছ। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। আল্লাহ ছাড়া কোন বিধান দাতা নেই। তিনি আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ’ইবাদাত করবে না, এটাই সঠিক দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। হে আমার জেলের সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের দু’জনের একজন তার প্রভুকে মদ পান করাবে আর অন্যজনকে শূলে দেয়া হবে, আর পাখী তার মস্তক ঠুকরে খাবে। তোমরা দু’জন যে সম্পর্কে জানতে চেয়েছ তার ফায়সালা হয়ে গেছে।
তাদের দু’জনের মধ্যে যে জন মুক্তি পাবে ব’লে সে (ইউসুফ) মনে করল তাকে বলল, ’তোমার প্রভুর কাছে আমার সম্পর্কে বলিও।’ কিন্তু শয়তান তাকে তার প্রভুর কাছে ইউসুফের কথা উল্লেখ করতে ভুলিয়ে দিল। ফলে ইউসুফ বেশ কয়েক বছর কারাগারে আটক থেকে গেল। রাজা বললেন, ’আমি স্বপ্নে দেখলাম সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গাভী, সাতটি জীর্ণশীর্ণ গাভী তাদেরকে খাচ্ছে। (আর দেখলাম) সাতটি সবুজ সতেজ শীষ আর অন্য সাতটি শুকনো। ওহে সভাষদগণ! আমার কাছে তোমরা আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা কর যদি তোমরা ব্যাখ্যা করতে পার।’ তারা বলল, ’এতো অস্পষ্ট স্বপ্নের কথা, আর আমরা এ ধরনের স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই।’
দু’জনের মধ্যে যে জন জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিল আর দীর্ঘকাল পর যার স্মরণ হল সে বলল, ’আমি তোমাদেরকে তার ব্যাখ্যা বলে দেব, তবে তোমরা আমাকে (জেলখানায় ইউসুফের কাছে) পাঠাও। সে বলল, ’হে সত্যবাদী ইউসুফ! সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গাভী, যাদেরকে খাচ্ছে জীর্ণশীর্ণ সাতটি গাভী আর সাতটি সবুজ সতেজ শীষ আর অন্যগুলো শুকনো। (আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা জানিয়ে দাও) যাতে আমি তাদের কাছে ফিরে যেতে পারি আর তারা জেনে নিতে পারে।’ সে (ইউসুফ) বলল, ’সাত বছর তোমরা এক নাগাড়ে চাষ করবে, অতঃপর যখন ফসল কাটবে তখন তোমরা যে সামান্য পরিমাণ খাবে তা বাদে শিষ সমেত সংরক্ষণ করবে। এরপর আসবে সাতটি কঠিন বছর।
এ সময়ের জন্য পূর্বে যা তোমরা সঞ্চয় করেছিলে তা লোকে খাবে, কেবল সেই অল্পটুকু বাদে যা তোমরা সঞ্চয় করবে। এর পর আসবে একটা বছর যখন মানুষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে আর মানুষ প্রচুর ভোগবিলাস করবে।’ রাজা বলল, ’তোমরা তাকে (ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে এসো।’ দূত যখন তার কাছে আসলো তখন ইউসুফ বলল, ’তোমার প্রভুর কাছে ফিরে যাও। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৩৬-৫০)
ادَّكَرَ-এর আসল রূপ ذَكَرَ শব্দ থেকে ’ইয়্তাকারা’। أُمَّةٍ অর্থ যুগ। أُمَّةٍ ও পড়া যায়, অর্থ ভুলে যাওয়া। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন يَعْصِرُونَ আঙুর ও তেল নিংড়িয়ে রস বের করবে। تَحْرُسُونَ তোমরা সংরক্ষণ করবে।
৬৯৯২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইউসুফ (আঃ) যতদিন জেলে কাটিয়েছেন, যদি আমি ততদিন কাটাতাম, আর আমার কাছে (বাদশাহর) আহবানকারী আসত, সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই তার ডাকে সাড়া দিতাম।[1] [৩৩৭২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২১)
আল্লাহ্ বলেনঃ তার সঙ্গে দু’যুবকও কারাগারে প্রবেশ করেছিল। তাদের একজন বলল, ’আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি মদ তৈরি করছি।’ অন্যজন বলল, ’আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি মাথায় রুটি বহন করছি আর পাখী তাত্থেকে খাচ্ছে। আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলে দাও, আমরা দেখছি তুমি একজন সৎকর্মশীল লোক।’ সে (ইউসুফ) বলল, ’তোমাদেরকে যে খাবার দেয়া হয় তা আসার আগেই আমি তোমাদেরকে তার ব্যাখ্যা জানিয়ে দেব। আমার প্রতিপালক আমাকে যে জ্ঞান দান করেছেন এটা সেই জ্ঞানেরই অংশ। যে সম্প্রদায় আল্লাহ্তে বিশ্বাস করে না আর আখিরাতে অবিশ্বাসী, আমি তাদের নিয়ম নীতি পরিত্যাগ করেছি। আমি আমার পূর্বপুরুষ ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়া’কূবের আদর্শের অনুসরণ করি।
আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করা আমার কাজ নয়। এটা আমাদের প্রতি ও মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ, কিন্তু অধিকাংশ লোকই শোকর করে না। হে আমার জেলের সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপালক ভালো, না মহাপরাক্রমশালী এক আল্লাহ? তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যার ’ইবাদাত করছ তা কতকগুলো নাম ছাড়া আর কিছুই নয়, যে নামগুলো তোমরা আর তোমাদের পিতৃ পুরুষরা রেখেছ। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। আল্লাহ ছাড়া কোন বিধান দাতা নেই। তিনি আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ’ইবাদাত করবে না, এটাই সঠিক দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। হে আমার জেলের সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের দু’জনের একজন তার প্রভুকে মদ পান করাবে আর অন্যজনকে শূলে দেয়া হবে, আর পাখী তার মস্তক ঠুকরে খাবে। তোমরা দু’জন যে সম্পর্কে জানতে চেয়েছ তার ফায়সালা হয়ে গেছে।
তাদের দু’জনের মধ্যে যে জন মুক্তি পাবে ব’লে সে (ইউসুফ) মনে করল তাকে বলল, ’তোমার প্রভুর কাছে আমার সম্পর্কে বলিও।’ কিন্তু শয়তান তাকে তার প্রভুর কাছে ইউসুফের কথা উল্লেখ করতে ভুলিয়ে দিল। ফলে ইউসুফ বেশ কয়েক বছর কারাগারে আটক থেকে গেল। রাজা বললেন, ’আমি স্বপ্নে দেখলাম সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গাভী, সাতটি জীর্ণশীর্ণ গাভী তাদেরকে খাচ্ছে। (আর দেখলাম) সাতটি সবুজ সতেজ শীষ আর অন্য সাতটি শুকনো। ওহে সভাষদগণ! আমার কাছে তোমরা আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা কর যদি তোমরা ব্যাখ্যা করতে পার।’ তারা বলল, ’এতো অস্পষ্ট স্বপ্নের কথা, আর আমরা এ ধরনের স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই।’
দু’জনের মধ্যে যে জন জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিল আর দীর্ঘকাল পর যার স্মরণ হল সে বলল, ’আমি তোমাদেরকে তার ব্যাখ্যা বলে দেব, তবে তোমরা আমাকে (জেলখানায় ইউসুফের কাছে) পাঠাও। সে বলল, ’হে সত্যবাদী ইউসুফ! সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গাভী, যাদেরকে খাচ্ছে জীর্ণশীর্ণ সাতটি গাভী আর সাতটি সবুজ সতেজ শীষ আর অন্যগুলো শুকনো। (আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা জানিয়ে দাও) যাতে আমি তাদের কাছে ফিরে যেতে পারি আর তারা জেনে নিতে পারে।’ সে (ইউসুফ) বলল, ’সাত বছর তোমরা এক নাগাড়ে চাষ করবে, অতঃপর যখন ফসল কাটবে তখন তোমরা যে সামান্য পরিমাণ খাবে তা বাদে শিষ সমেত সংরক্ষণ করবে। এরপর আসবে সাতটি কঠিন বছর।
এ সময়ের জন্য পূর্বে যা তোমরা সঞ্চয় করেছিলে তা লোকে খাবে, কেবল সেই অল্পটুকু বাদে যা তোমরা সঞ্চয় করবে। এর পর আসবে একটা বছর যখন মানুষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে আর মানুষ প্রচুর ভোগবিলাস করবে।’ রাজা বলল, ’তোমরা তাকে (ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে এসো।’ দূত যখন তার কাছে আসলো তখন ইউসুফ বলল, ’তোমার প্রভুর কাছে ফিরে যাও। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৩৬-৫০)
ادَّكَرَ-এর আসল রূপ ذَكَرَ শব্দ থেকে ’ইয়্তাকারা’। أُمَّةٍ অর্থ যুগ। أُمَّةٍ ও পড়া যায়, অর্থ ভুলে যাওয়া। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন يَعْصِرُونَ আঙুর ও তেল নিংড়িয়ে রস বের করবে। تَحْرُسُونَ তোমরা সংরক্ষণ করবে।
৬৯৯২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইউসুফ (আঃ) যতদিন জেলে কাটিয়েছেন, যদি আমি ততদিন কাটাতাম, আর আমার কাছে (বাদশাহর) আহবানকারী আসত, সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই তার ডাকে সাড়া দিতাম।[1] [৩৩৭২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২১)
নোট: [1] রসূলুল্লাহ (সাঃ) যা বলেছেন, তাঁর সে কথা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ ছাড়া আর কিছুই নয়।
হাদিস নং: ৬৯৯৩
সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرنا عبد الله عن يونس عن الزهري حدثني ابو سلمة ان ابا هريرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول من راني في المنام فسيراني في اليقظة ولا يتمثل الشيطان بي قال ابو عبد الله قال ابن سيرين اذا راه في صورته.
৬৯৯৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে লোক আমাকে স্বপ্নে দেখে সে শীঘ্রই জাগ্রত অবস্থাতেও আমাকে দেখবে। কেননা শয়তান আমার আকৃতি ধরতে পারে না। [১১০; মুসলিম ৪২/১, হাঃ ২২৬৬, আহমাদ ৮৫১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২২)
হাদিস নং: ৬৯৯৪
সহিহ (Sahih)
معلى بن اسد حدثنا عبد العزيز بن مختار حدثنا ثابت البناني عن انس قال قال النبي صلى الله عليه وسلم من راني في المنام فقد راني فان الشيطان لا يتخيل بي ورويا المومن جزء من ستة واربعين جزءا من النبوة.
৬৯৯৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে আমাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখল সে আমাকেই দেখল। কারণ শয়তান আমার আকৃতি ধরতে পারে না। আর মু’মিনের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। [৬৯৮৩; মুসলিম পর্ব ৪২/হাঃ ২২৬৪, আহমাদ ১২০৩৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২৩)
হাদিস নং: ৬৯৯৫
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عبيد الله بن ابي جعفر اخبرني ابو سلمة عن ابي قتادة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم الرويا الصالحة من الله والحلم من الشيطان فمن راى شيىا يكرهه فلينفث عن شماله ثلاثا وليتعوذ من الشيطان فانها لا تضره وان الشيطان لا يتراءى بي
৬৯৯৫. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ভালো স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে ও খারাপ স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে হয়ে থাকে। কেউ এমন কিছু দেখল, যা সে অপছন্দ করে, সে যেন বামদিকে তিনবার থুথু ফেলে এবং শয়তান থেকে আশ্রয় চায়। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করবে না। আর শয়তান আমার আকৃতি ধরতে পারে না। [৩২৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২৪)
হাদিস নং: ৬৯৯৬
সহিহ (Sahih)
خالد بن خلي حدثنا محمد بن حرب حدثني الزبيدي عن الزهري قال ابو سلمة قال ابو قتادة قال النبي صلى الله عليه وسلم من راني فقد راى الحق تابعه يونس وابن اخي الزهري.
৬৯৯৬. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে আমাকে স্বপ্নে দেখে সে প্রকৃতই দেখে। ইউনুস ও ইবনু আখীয্ যুহরী (রহ.) যুবায়দীর অনুসরণ করেছেন। [৩২৯২]কাফ (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২৫)
হাদিস নং: ৬৯৯৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث حدثني ابن الهاد عن عبد الله بن خباب عن ابي سعيد الخدري سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول من راني فقد راى الحق فان الشيطان لا يتكونني.
৬৯৯৭. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যে আমাকে স্বপ্ন দেখে সে প্রকৃতই দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতি ধরতে পারে না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২৬)
হাদিস নং: ৬৯৯৮
সহিহ (Sahih)
احمد بن المقدام العجلي حدثنا محمد بن عبد الرحمن الطفاوي حدثنا ايوب عن محمد عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم اعطيت مفاتيح الكلم ونصرت بالرعب وبينما انا ناىم البارحة اذ اتيت بمفاتيح خزاىن الارض حتى وضعت في يدي قال ابو هريرة فذهب رسول الله صلى الله عليه وسلم وانتم تنتقلونها.
সামুরাহ (রাঃ) এ সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৬৯৯৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ বিস্তারিত অর্থবহ বাক্য দান করা হয়েছে। এবং আমাকে ভীতি সঞ্চারক প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। এক রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। সে সময় ভূপৃষ্ঠের সকল ভান্ডারের চাবি আমার কাছে এনে আমার হাতে রাখা হলো। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেছেন। আর তোমরা ঐ ভান্ডারগুলো সংগ্রহ করে চলেছ।[1] [২৯৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২৭)
৬৯৯৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ বিস্তারিত অর্থবহ বাক্য দান করা হয়েছে। এবং আমাকে ভীতি সঞ্চারক প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। এক রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। সে সময় ভূপৃষ্ঠের সকল ভান্ডারের চাবি আমার কাছে এনে আমার হাতে রাখা হলো। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেছেন। আর তোমরা ঐ ভান্ডারগুলো সংগ্রহ করে চলেছ।[1] [২৯৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২৭)
নোট: [1] আল্লাহ তা‘আলা তাঁর শেষ নাবীকে অল্প কথায় বিস্তারিত অর্থবোধক কথা বলার যে শক্তি দিয়েছিলেন, কোন মানুষের পক্ষেই তা আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। এক মাসের দূরত্বে থেকেও শত্রুরা তাঁর ভয়ে ভীত হয়ে পড়ত। নাবী (সাঃ)’র হাতে ভান্ডারসমূহের চাবি দেয়া হয়েছিল যার ফলশ্রুতিতে ওমর (রাঃ)’র আমলেই অবস্থা এমন হয়েছিল যে যাকাত গ্রহণ করার লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি।
হাদিস নং: ৬৯৯৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اراني الليلة عند الكعبة فرايت رجلا ادم كاحسن ما انت راء من ادم الرجال له لمة كاحسن ما انت راء من اللمم قد رجلها تقطر ماء متكىا على رجلين او على عواتق رجلين يطوف بالبيت فسالت من هذا فقيل المسيح ابن مريم ثم اذا انا برجل جعد قطط اعور العين اليمنى كانها عنبة طافية فسالت من هذا فقيل المسيح الدجال.
৬৯৯৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক রাতে আমাকে কা’বার নিকট স্বপ্ন দেখানো হল। তখন আমি গৌর বর্ণের সুন্দর এক পুরুষকে দেখলাম। তার মাথায় খুবই সুন্দর লম্বা লম্বা চুল ছিল, যেগুলো আঁচড়ে রাখা হয়েছে। চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছিল। তিনি দু’জনের ওপর অথবা বলেছেন, দু’জনের কাঁধের ওপর ভর করে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হলঃ মাসীহ্ ইবনু মারইয়াম। এরপর আরেক লোকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটল। সে ছিল কোঁকড়ানো চুলওয়ালা, ডান চোখ কানা, চোখটি যেন (পানির ওপর) ভাসমান আঙুর। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হল মাসীহ্ দাজ্জাল। [৪৩৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২৮)
হাদিস নং: ৭০০০
সহিহ (Sahih)
يحيى حدثنا الليث عن يونس عن ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله ان ابن عباس كان يحدث ان رجلا اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اني اريت الليلة في المنام وساق الحديث وتابعه سليمان بن كثير وابن اخي الزهري وسفيان بن حسين عن الزهري عن عبيد الله عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم
وقال الزبيدي عن الزهري عن عبيد الله ان ابن عباس او ابا هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم وقال شعيب واسحاق بن يحيى عن الزهري كان ابو هريرة يحدث عن النبي صلى الله عليه وسلم
وكان معمر لا يسنده حتى كان بعد.
وقال الزبيدي عن الزهري عن عبيد الله ان ابن عباس او ابا هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم وقال شعيب واسحاق بن يحيى عن الزهري كان ابو هريرة يحدث عن النبي صلى الله عليه وسلم
وكان معمر لا يسنده حتى كان بعد.
৭০০০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমি রাতে স্বপ্ন দেখেছি। এরপর পুরো হাদীসটি বর্ণনা করেন। সুলায়মান ইবনু কাসীর, ইবনু আখীয যুহরী ও সুফ্ইয়ান ইবনু হুসায়ন (রহ.).....ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী ..... থেকে ইউনুস (রহ.) এর অনুসরণ করেছেন।
যুবায়দী (রহ.) ..... ইবনু ’আব্বাস অথবা আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন শু’আয়ব, ইসহাক ইবনু ইয়াহ্ইয়া, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন। মা’মার (রহ.) প্রথম এ হাদীসের সনদ বর্ণনা করতেন না। কিন্তু পরবর্তীতে করতেন। [৭০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২৯)
যুবায়দী (রহ.) ..... ইবনু ’আব্বাস অথবা আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন শু’আয়ব, ইসহাক ইবনু ইয়াহ্ইয়া, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন। মা’মার (রহ.) প্রথম এ হাদীসের সনদ বর্ণনা করতেন না। কিন্তু পরবর্তীতে করতেন। [৭০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫২৯)
হাদিস নং: ৭০০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة، انه سمع انس بن مالك، يقول كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخل على ام حرام بنت ملحان، وكانت تحت عبادة بن الصامت، فدخل عليها يوما فاطعمته، وجعلت تفلي راسه، فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم استيقظ وهو يضحك.
وَقَالَ ابْنُ عَوْنٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ رُؤْيَا النَّهَارِ مِثْلُ رُؤْيَا اللَّيْلِ
ইবনু ’আউন (রহ.) ইবনু সীরীন (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, দিনের স্বপ্ন রাতের স্বপ্নের মত।
৭০০১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই উম্মু হারাম বিনত মিলহান (রাঃ)-এর গৃহে যেতেন। আর সে ছিল ’উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ)-এর স্ত্রী। একদা তিনি তার কাছে এলেন। সে তাঁকে খানা খাওয়াল। তারপর তাঁর মাথার উকুন বাছতে শুরু করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর হেসে হেসে জেগে উঠলেন। [৬৭৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩০)
ইবনু ’আউন (রহ.) ইবনু সীরীন (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, দিনের স্বপ্ন রাতের স্বপ্নের মত।
৭০০১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই উম্মু হারাম বিনত মিলহান (রাঃ)-এর গৃহে যেতেন। আর সে ছিল ’উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ)-এর স্ত্রী। একদা তিনি তার কাছে এলেন। সে তাঁকে খানা খাওয়াল। তারপর তাঁর মাথার উকুন বাছতে শুরু করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর হেসে হেসে জেগে উঠলেন। [৬৭৮৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩০)
হাদিস নং: ৭০০২
সহিহ (Sahih)
قالت فقلت ما يضحكك يا رسول الله قال " ناس من امتي عرضوا على، غزاة في سبيل الله، يركبون ثبج هذا البحر، ملوكا على الاسرة او مثل الملوك على الاسرة ". شك اسحاق. قالت فقلت يا رسول الله ادع الله ان يجعلني منهم، فدعا لها رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم وضع راسه ثم استيقظ وهو يضحك. فقلت ما يضحكك يا رسول الله قال " ناس من امتي عرضوا على، غزاة في سبيل الله ". كما قال في الاولى. قالت فقلت يا رسول الله ادع الله ان يجعلني منهم. قال " انت من الاولين ". فركبت البحر في زمان معاوية بن ابي سفيان فصرعت عن دابتها حين خرجت من البحر، فهلكت.
৭০০২. উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন হাসলেন? তিনি বললেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোককে আমার কাছে পেশ করা হয়েছে। যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধরত সাগরের মধ্যে জাহাজের ওপর আরোহণ করে বাদশাহর সিংহাসনে অথবা বাদশাহ্দের মত তারা সিংহাসনে বসে আছে। ইসহাক রাবী সন্দেহ করেছেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু’আ করলেন। এরপর আবার তিনি মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আবার হেসে হেসে জেগে উঠলেন। আমি বললাম, আপনি হাসলেন কেন হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে লিপ্ত আমার একদল উম্মাতকে আমার কাছে পেশ করা হয়েছে। আগের মত এ দল সম্পর্কেও বললেন। উম্মু হারাম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আমাকে এ দলভুক্ত করে দেন। তিনি বললেনঃ তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত। উম্মু হারাম (রাঃ) মু’আবীয়াহ ইবনু সুফ্ইয়ান (রাঃ)-এর আমলে সামুদ্রিক জাহাজে উঠেন এবং সমুদ্র থেকে পেরিয়ে আসার সময় আপন সাওয়ারী থেকে মাটিতে পড়ে গিয়ে মারা যান। [৬৭৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩০)
হাদিস নং: ৭০০৩
সহিহ (Sahih)
سعيد بن عفير حدثني الليث حدثني عقيل عن ابن شهاب اخبرني خارجة بن زيد بن ثابت ان ام العلاء امراة من الانصار بايعت رسول الله صلى الله عليه وسلم اخبرته انهم اقتسموا المهاجرين قرعة قالت فطار لنا عثمان بن مظعون وانزلناه في ابياتنا فوجع وجعه الذي توفي فيه فلما توفي غسل وكفن في اثوابه دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت رحمة الله عليك ابا الساىب فشهادتي عليك لقد اكرمك الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وما يدريك ان الله اكرمه فقلت بابي انت يا رسول الله فمن يكرمه الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اما هو فوالله لقد جاءه اليقين والله اني لارجو له الخير و والله ما ادري وانا رسول الله صلى الله عليه وسلم ماذا يفعل بي فقالت والله لا ازكي بعده احدا ابدا.
৭০০৩. খারিজাহ ইবনু যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, উম্মুল আলা নামক এক আনসারী মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাই’আত গ্রহণ করেন। তিনি তাঁকে জানান যে, আনসারগণ লটারির সাহায্যে মুহাজিরগণকে ভাগ করে নিয়েছিল। আমাদের ভাগে আসলেন ’উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ)। আমরা তাকে আমাদের ঘরের মেহমান করে নিলাম। এরপর তিনি এমন এক ব্যথায় আক্রান্ত হলেন যে, সে ব্যথায় তার মৃত্যু হল। মৃত্যুর পর তাঁকে গোসল দেয়া হল। তাঁর কাপড় দিয়েই তাঁকে কাফন পরানো হল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। উম্মুল আলা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, তোমার ওপর আল্লাহর রহমত হোক, হে আবূ সাইব! আমার সাক্ষ্য তোমার বেলায় এটাই যে আল্লাহ্ তোমাকে সম্মানিত করেছেন।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কী করে জানলে যে আল্লাহ্ তাকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি আমার পিতা কুরবান হোক! তাহলে কাকে আল্লাহ্ সম্মানিত করবেন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ আল্লাহর কসম! তাঁর ব্যাপার তো হল, তার মৃত্যু হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! তার জন্য আমি কল্যাণই আশা করি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না, আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে? তখন উম্মুল আলা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আগামীতে কখনো কারো পবিত্র হওয়ার সাক্ষ্য দেব না। [১২৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩১)
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কী করে জানলে যে আল্লাহ্ তাকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি আমার পিতা কুরবান হোক! তাহলে কাকে আল্লাহ্ সম্মানিত করবেন? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ আল্লাহর কসম! তাঁর ব্যাপার তো হল, তার মৃত্যু হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! তার জন্য আমি কল্যাণই আশা করি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না, আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে? তখন উম্মুল আলা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আগামীতে কখনো কারো পবিত্র হওয়ার সাক্ষ্য দেব না। [১২৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩১)
হাদিস নং: ৭০০৪
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري بهذا وقال ما ادري ما يفعل به قالت واحزنني فنمت فرايت لعثمان عينا تجري فاخبرت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ذلك عمله.
৭০০৪. যুহরী (রহ.) থেকে এ হাদীসে বলা হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি জানি না, তার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে? উম্মুল আলা (রাঃ) বললেন, আমি এতে চিন্তিত হয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। তখন আমি স্বপ্নে ’উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ)এর জন্য প্রবহমান ঝর্ণা দেখতে পেলাম। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ সম্পর্কে জানালাম। তিনি বললেনঃ এটা তার ’আমল। [১২৪৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩২)
হাদিস নং: ৭০০৫
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن ابي سلمة ان ابا قتادة الانصاري وكان من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وفرسانه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول الرويا من الله والحلم من الشيطان فاذا حلم احدكم الحلم يكرهه فليبصق عن يساره وليستعذ بالله منه فلن يضره.
৭০০৫. আবূ ক্বাতাদাহ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ও অশ্বারোহী যোদ্ধা ছিলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে এবং খারাপ স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে হয়ে থাকে। যখন তোমাদের কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে অপছন্দনীয় মনে হয়, তখন সে যেন তার বামদিকে থু থু নিক্ষেপ করে এবং এ স্বপ্ন থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়। সেক্ষেত্রে এ স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করবে না। [৩২৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৩)
হাদিস নং: ৭০০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان، اخبرنا عبد الله، اخبرنا يونس، عن الزهري، اخبرني حمزة بن عبد الله، ان ابن عمر، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " بينا انا ناىم اتيت بقدح لبن، فشربت منه، حتى اني لارى الري يخرج من اظفاري، ثم اعطيت فضلي ". يعني عمر. قالوا فما اولته يا رسول الله قال " العلم ".
৭০০৬. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমি একবার ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার কাছে একটি দুধের পেয়ালা পেশ করা হল, আমি তা থেকে পরিতৃপ্ত হয়ে পান করলাম। তৃপ্তির চিহ্ন আমার নখ দিয়ে প্রকাশ পেতে লাগল। অতঃপর বাকী অংশ অবশিষ্টাংশ ’উমারকে দিলাম। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বললেনঃ ইলম। [৩২৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৪)
হাদিস নং: ৭০০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا ابي، عن صالح، عن ابن شهاب، حدثني حمزة بن عبد الله بن عمر، انه سمع عبد الله بن عمر ـ رضى الله عنهما ـ يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بينا انا ناىم اتيت بقدح لبن، فشربت منه، حتى اني لارى الري يخرج من اطرافي، فاعطيت فضلي عمر بن الخطاب ". فقال من حوله فما اولت ذلك يا رسول الله قال " العلم ".
৭০০৭. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একবার আমি ঘুমিয়েছিলাম। আমার কাছে দুধের একটি পেয়ালা হাজির করা হল। আমি পরিতৃপ্ত হয়ে তা থেকে পান করলাম। এমনকি তৃপ্তির চিহ্ন আমার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। অতঃপর বাকী অংশ ’উমার ইবনু খাত্তাবকে দিলাম। তাঁর পাশের লোকজন জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এর কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ ইলম।[1] [৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৩৫)
নোট: [1] স্বপ্নের মধ্যে দুধ দেখলে তার কি ব্যাখ্যা করা হবে-এ সম্পর্কে ইমাম মুহাল্লাব বলেন, দুধ ফিতরাত, সুন্নাত, কোরআন ও ইলমের প্রমাণ বহন করে। উল্লেখিত হাদীস হতে আরও জানা যায় :
(১) বড়দের দেখা স্বপ্ন তাদের চেয়ে ছোটদের নিকট বর্ণনা করার বৈধতা।
(২) আল্লাহ সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জ্ঞানের যে পরিমাণ সে পর্যন্ত কেউ পৌঁছতে পারবে না। (ফাতহুল বারী)
স্বপ্ন মূলত তিন প্রকারঃ
ভাল ও সৎ স্বপ্নঃ এ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ স্বরূপ এবং নবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। [এ মর্মে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে]।
অপছন্দনীয় খারাপ স্বপ্নঃ এ স্বপ্ন শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে দেখানো হয়ে থাকে, যাতে এর দ্বারা আদম সন্তান চিন্তিত হয় এবং শয়তান তাকে নিয়ে ঘুমের মধ্যে খেলা করতে পারে।
জাগ্রত অবস্থায় যে বিষয়ে মানুষ নিজে নিজে কথা বলে অথবা চিন্তা করে সে বিষয়টি ঘুমের মধ্যে দেখা। এ তৃতীয় প্রকারের স্বপ্নের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখবে তার জাগ্রত অবস্থার অভ্যাসগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন কোন ব্যক্তির অভ্যাস হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য খাওয়া কিন্তু সে সে সময়ে ঘুমিয়ে গিয়ে স্বপ্নে দেখে যে, সে খাচ্ছে, অথবা সে পানাহার না করে ঘুমিয়ে গিয়ে স্বপ্নে দেখে যে বমি করছে।
[উল্লেখ্য কোন ব্যক্তি মন্দ বা অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে তা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে, সে সে স্বপ্ন দেখার সময় যেদিকে কাত হয়ে শুয়ে ছিল সেদিক পরিবর্তন করে অন্য দিকে কাত হয়ে শুবে, তিনবার আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বনির রজীম পাঠ করবে, বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলবে। এতেও স্বাভাবিকতা ফিরে না আসলে বিছানা ছেড়ে উঠে অযূ করে দু’রাক‘আত নফল সালাত আদায় করবে। এ ধরনের স্বপ্ন কাউকে জানাবে না। আর কোন খুশির স্বপ্ন দেখলে তা শুধুমাত্র সে ব্যক্তিকেই জানাবে যে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম।
(১) বড়দের দেখা স্বপ্ন তাদের চেয়ে ছোটদের নিকট বর্ণনা করার বৈধতা।
(২) আল্লাহ সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জ্ঞানের যে পরিমাণ সে পর্যন্ত কেউ পৌঁছতে পারবে না। (ফাতহুল বারী)
স্বপ্ন মূলত তিন প্রকারঃ
ভাল ও সৎ স্বপ্নঃ এ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ স্বরূপ এবং নবুওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। [এ মর্মে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে]।
অপছন্দনীয় খারাপ স্বপ্নঃ এ স্বপ্ন শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে দেখানো হয়ে থাকে, যাতে এর দ্বারা আদম সন্তান চিন্তিত হয় এবং শয়তান তাকে নিয়ে ঘুমের মধ্যে খেলা করতে পারে।
জাগ্রত অবস্থায় যে বিষয়ে মানুষ নিজে নিজে কথা বলে অথবা চিন্তা করে সে বিষয়টি ঘুমের মধ্যে দেখা। এ তৃতীয় প্রকারের স্বপ্নের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখবে তার জাগ্রত অবস্থার অভ্যাসগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন কোন ব্যক্তির অভ্যাস হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য খাওয়া কিন্তু সে সে সময়ে ঘুমিয়ে গিয়ে স্বপ্নে দেখে যে, সে খাচ্ছে, অথবা সে পানাহার না করে ঘুমিয়ে গিয়ে স্বপ্নে দেখে যে বমি করছে।
[উল্লেখ্য কোন ব্যক্তি মন্দ বা অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে তা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে, সে সে স্বপ্ন দেখার সময় যেদিকে কাত হয়ে শুয়ে ছিল সেদিক পরিবর্তন করে অন্য দিকে কাত হয়ে শুবে, তিনবার আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বনির রজীম পাঠ করবে, বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলবে। এতেও স্বাভাবিকতা ফিরে না আসলে বিছানা ছেড়ে উঠে অযূ করে দু’রাক‘আত নফল সালাত আদায় করবে। এ ধরনের স্বপ্ন কাউকে জানাবে না। আর কোন খুশির স্বপ্ন দেখলে তা শুধুমাত্র সে ব্যক্তিকেই জানাবে যে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম।