অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৯২/১. আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ সতর্ক থাক সেই ফিতনা হতে...
মোট ৮৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭০৪৮ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا بشر بن السري حدثنا نافع بن عمر عن ابن ابي مليكة قال قالت اسماء عن النبي صلى الله عليه وسلم قال انا على حوضي انتظر من يرد علي فيوخذ بناس من دوني فاقول امتي فيقال لا تدري مشوا على القهقرى قال ابن ابي مليكة اللهم انا نعوذ بك ان نرجع على اعقابنا او نفتن
وَمَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَذِّرُ مِنْ الْفِتَنِ.

এবং যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করতেন।


৭০৪৮. আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আমার হাউযের কাছে আগমনকারী লোকদের অপেক্ষায় থাকব। তখন আমার সামনে থেকে কতক লোককে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলব, এরা তো আমার উম্মাত। তখন বলা হবে, আপনি জানেন না, এরা (আপনার পথ থেকে) পিছনে চলে গিয়েছিল।

(বর্ণনাকারী) ইবনু আবূ মুলাইকাহ বলেনঃ হে আল্লাহ্! পিছনে ফিরে যাওয়া কিংবা ফিতনায় পড়া থেকে আমরা আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। [৬৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭২)
হাদিস নং: ৭০৪৯ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا ابو عوانة عن مغيرة عن ابي واىل قال قال عبد الله قال النبي صلى الله عليه وسلم انا فرطكم على الحوض ليرفعن الي رجال منكم حتى اذا اهويت لاناولهم اختلجوا دوني فاقول اي رب اصحابي يقول لا تدري ما احدثوا بعدك.
৭০৪৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি হাউযে কাউসারের নিকট তোমাদের আগেই হাজির থাকব। তোমাদের থেকে কিছু লোককে আমার নিকট পেশ করা হবে। কিন্তু আমি যখন তাদের পান করাতে উদ্যত হব, তখন তাদেরকে আমার নিকট হতে ছিনিয়ে নেয়া হবে। আমি বলব, হে রব! এরা তো আমার সাথী। তখন তিনি বলবেন, আপনার পর তারা নতুন কী ঘটিয়েছে তা আপনি জানেন না। [৬৫৭৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৩)
হাদিস নং: ৭০৫০ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن ابي حازم قال سمعت سهل بن سعد يقول سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول انا فرطكم على الحوض فمن ورده شرب منه ومن شرب منه لم يظما بعده ابدا ليرد علي اقوام اعرفهم ويعرفوني ثم يحال بيني وبينهم قال ابو حازم فسمعني النعمان بن ابي عياش وانا احدثهم هذا فقال هكذا سمعت سهلا فقلت نعم قال وانا اشهد على ابي سعيد الخدري لسمعته يزيد فيه قال انهم مني فيقال انك لا تدري ما بدلوا بعدك فاقول سحقا سحقا لمن بدل بعدي.
৭০৫০-৭০৫১. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আমি হাউযের ধারে তোমাদের আগে হাজির থাকব। যে সেখানে হাজির হবে, সে সেখান থেকে পান করার সুযোগ পাবে। আর যে একবার সে হাউয থেকে পান করবে সে কখনই পিপাসিত হবে না। অবশ্যই এমন কিছু দল আমার কাছে হাজির হবে যাদেরকে আমি (আমার উম্মাত বলে) চিনতে পারব এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। কিন্তু এরপরই তাদের ও আমার মাঝে প্রতিবন্ধকতা দাড় করে দেয়া হবে।

আবূ হাযিম (রহ.) বলেন, আমি হাদীস বর্ণনা করছিলাম, এমন সময় নু’মান ইবনু আবূ আয়াস আমার নিকট হতে এ হাদীসটি শুনে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি সাহল থেকে হাদীসটি এরূপ শুনেছেন। আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন সে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)-কে এ হাদীসে অতিরিক্ত বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলবেন: এরা তো আমারই অনুসারী। তখন বলা হবে, আপনি নিশ্চয়ই জানেন না যে, আপনার পরে এরা দ্বীনের মধ্যে কী পরিবর্তন করেছে। এ শুনে আমি বলব, যারা আমার পরে পরিবর্তন করেছে, তারা দূর হোক, দূর হোক। [৬৫৮৩, ৬৫৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৪)
হাদিস নং: ৭০৫১ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن ابي حازم قال سمعت سهل بن سعد يقول سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول انا فرطكم على الحوض فمن ورده شرب منه ومن شرب منه لم يظما بعده ابدا ليرد علي اقوام اعرفهم ويعرفوني ثم يحال بيني وبينهم قال ابو حازم فسمعني النعمان بن ابي عياش وانا احدثهم هذا فقال هكذا سمعت سهلا فقلت نعم قال وانا اشهد على ابي سعيد الخدري لسمعته يزيد فيه قال انهم مني فيقال انك لا تدري ما بدلوا بعدك فاقول سحقا سحقا لمن بدل بعدي.
৭০৫০-৭০৫১. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আমি হাউযের ধারে তোমাদের আগে হাজির থাকব। যে সেখানে হাজির হবে, সে সেখান থেকে পান করার সুযোগ পাবে। আর যে একবার সে হাউয থেকে পান করবে সে কখনই পিপাসিত হবে না। অবশ্যই এমন কিছু দল আমার কাছে হাজির হবে যাদেরকে আমি (আমার উম্মাত বলে) চিনতে পারব এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। কিন্তু এরপরই তাদের ও আমার মাঝে প্রতিবন্ধকতা দাড় করে দেয়া হবে।

আবূ হাযিম (রহ.) বলেন, আমি হাদীস বর্ণনা করছিলাম, এমন সময় নু’মান ইবনু আবূ আয়াস আমার নিকট হতে এ হাদীসটি শুনে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি সাহল থেকে হাদীসটি এরূপ শুনেছেন। আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন সে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)-কে এ হাদীসে অতিরিক্ত বলতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলবেন: এরা তো আমারই অনুসারী। তখন বলা হবে, আপনি নিশ্চয়ই জানেন না যে, আপনার পরে এরা দ্বীনের মধ্যে কী পরিবর্তন করেছে। এ শুনে আমি বলব, যারা আমার পরে পরিবর্তন করেছে, তারা দূর হোক, দূর হোক। [৬৫৮৩, ৬৫৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৪)
হাদিস নং: ৭০৫২ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى بن سعيد القطان حدثنا الاعمش حدثنا زيد بن وهب سمعت عبد الله قال قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم انكم سترون بعدي اثرة وامورا تنكرونها قالوا فما تامرنا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ادوا اليهم حقهم وسلوا الله حقكم
وَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ زَيْدٍ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوْنِي عَلَى الْحَوْضِ

’আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ধৈর্য ধারণ কর যতক্ষণ না হাউযের ধারে আমার সঙ্গে মিলিত হও।


৭০৫২. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন: আমার পরে তোমরা অবশ্যই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করবে। এবং এমন কিছু বিষয় দেখতে পাবে, যা তোমরা পছন্দ করবে না। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তাহলে আমাদের জন্য কী হুকুম করছেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ তাদের হক পূর্ণরূপে আদায় করবে, আর তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাইবে। [৩৬০৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৫)
হাদিস নং: ৭০৫৩ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا عبد الوارث عن الجعد عن ابي رجاء عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من كره من اميره شيىا فليصبر فانه من خرج من السلطان شبرا مات ميتة جاهلية.
৭০৫৩. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যদি ’আমীরের কোন কিছু অপছন্দ করে, তাহলে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা, যে লোক সুলতানের আনুগত্য থেকে এক বিঘতও সরে যাবে, তার মৃত্যু হবে জাহিলী যুগের মুত্যুর মত।[1] [৭০৫৪, ৭১৪৩; মুসলিম ৩৩/১৩, হাঃ ১৮৪৯, আহমাদ ২৪৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৬)
নোট: [1] মুসলিম শাসকের ভুল বা অন্যায় কার্যকলাপের জন্য প্রতিবাদ করা যাবে এ উদ্দেশে যে, তিনি যেন সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত থাকেন, কিন্তু তার আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিদ্রোহ করা যাবে না, করলে অমুসলিমের মৃত্যু বরণ করতে হবে।
হাদিস নং: ৭০৫৪ সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن الجعد ابي عثمان حدثني ابو رجاء العطاردي قال سمعت ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من راى من اميره شيىا يكرهه فليصبر عليه فانه من فارق الجماعة شبرا فمات الا مات ميتة جاهلية.
৭০৫৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক নিজ আমীরের কাছ থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখবে সে যেন তাতে ধৈর্য ধারণ করে। কেননা, যে লোক জামাআত থেকে এক বিঘতও বিচ্ছিন্ন হবে তার মৃত্যু হবে অবশ্যই জাহিলী মৃত্যুর মত। [৭০৫৩; মুসলিম ৩৩/১৩, হাঃ ১৮৪৯, আহমাদ ২৪৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৭)
হাদিস নং: ৭০৫৫ সহিহ (Sahih)
اسماعيل حدثني ابن وهب عن عمرو عن بكير عن بسر بن سعيد عن جنادة بن ابي امية قال دخلنا على عبادة بن الصامت وهو مريض قلنا اصلحك الله حدث بحديث ينفعك الله به سمعته من النبي صلى الله عليه وسلم قال دعانا النبي صلى الله عليه وسلم فبايعناه
৭০৫৫. জুনাদাহ ইবনু আবূ উমাইয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ’উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। আমরা বললাম, আল্লাহ্ আপনাকে সুস্থ করে দিন। আপনি আমাদের এমন একটি হাদীস বর্ণনা করুন, যদ্দ্বারা আল্লাহ আপনাকে উপকৃত করবেন এবং যা আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আহবান করলেন। আমরা তাঁর কাছে বাই’আত করলাম। [১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬৫ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৮)
হাদিস নং: ৭০৫৬ সহিহ (Sahih)
فقال فيما اخذ علينا ان بايعنا على السمع والطاعة في منشطنا ومكرهنا وعسرنا ويسرنا واثرة علينا وان لا ننازع الامر اهله الا ان تروا كفرا بواحا عندكم من الله فيه برهان.
৭০৫৬. এরপর তিনি (’উবাদাহ) বললেন, আমাদের থেকে যে ওয়াদা তিনি গ্রহণ করেছিলেন তাতে ছিল যে, আমরা আমাদের সুখে-দুঃখে, বেদনায় ও আনন্দে এবং আমাদের উপর অন্যকে অগ্রাধিকার দিলেও পূর্ণরূপে শোনা ও মানার উপর বাই’আত করলাম। আরও (বাই’আত করলাম) যে আমরা ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঝাগড়া করব না। কিন্তু যদি স্পষ্ট কুফরী দেখ, তোমাদের কাছে আল্লাহর তরফ থেকে যে বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান, তাহলে আলাদা কথা। [৭২০০; মুসলিম ২৯/৯, হাঃ ১৭০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬৫ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৮)
হাদিস নং: ৭০৫৭ সহিহ (Sahih)
محمد بن عرعرة حدثنا شعبة عن قتادة عن انس بن مالك عن اسيد بن حضير ان رجلا اتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله استعملت فلانا ولم تستعملني قال انكم سترون بعدي اثرة فاصبروا حتى تلقوني.
৭০৫৭. উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুক লোককে হাকিম (প্রশাসক/বিচারক) নিযুক্ত করলেন, অথচ আমাকে নিযুক্ত করলেন না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমরা আমার পর নিজের অগ্রাধিকার পাওয়ার চেষ্টা করবে। সে সময় তোমরা ধৈর্য ধরবে, যতক্ষণ না আমার সাথে মিলিত হও। [৩৭৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৯)
হাদিস নং: ৭০৫৮ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا عمرو بن يحيى بن سعيد بن عمرو بن سعيد قال اخبرني جدي قال كنت جالسا مع ابي هريرة في مسجد النبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة ومعنا مروان قال ابو هريرة سمعت الصادق المصدوق يقول هلكة امتي على يدي غلمة من قريش فقال مروان لعنة الله عليهم غلمة فقال ابو هريرة لو شىت ان اقول بني فلان وبني فلان لفعلت فكنت اخرج مع جدي الى بني مروان حين ملكوا بالشام فاذا راهم غلمانا احداثا قال لنا عسى هولاء ان يكونوا منهم قلنا انت اعلم.
৭০৫৮. আমর ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ ইবনু ’আমর ইবনু সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দাদা আমাকে জানিয়েছেন যে, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে মাদ্বীনাহ্য় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে উপবিষ্ট ছিলাম। আমাদের সঙ্গে মারওয়ানও ছিল। এ সময় আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, আমি ’আস্-সাদিকুল মাস্দুক’ (সত্যবাদী ও সত্যবাদী হিসাবে স্বীকৃত)-কে বলতে শুনেছি আমার উম্মাতের ধ্বংস কুরাইশের কতক বালকের হাতে হবে। তখন মারওয়ান বলল, এ সব বালকের প্রতি আল্লাহর ’লা’নত’ বর্ষিত হোক। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, আমি যদি বলার ইচ্ছা করি যে তারা অমুক অমুক গোত্রের লোক তাহলে বলতে সক্ষম। [৩৬০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮০)

’আমর ইবনু ইয়াহ্ইয়া বলেন, মারওয়ান যখন সিরিয়ায় ক্ষমতায় আসীন হল, তখন আমি আমার দাদার সাথে তাদের সেখানে গেলাম। তিনি যখন তাদের কম বয়সের বালক দেখতে পেলেন, তখন তিনি আমাদের বললেন, সম্ভবত এরা ঐ দলেরই লোক। আমরা বললাম, এ ব্যাপারে আপনিই ভাল জানেন।
হাদিস নং: ৭০৫৯ সহিহ (Sahih)
مالك بن اسماعيل حدثنا ابن عيينة انه سمع الزهري عن عروة عن زينب بنت ام سلمة عن ام حبيبة عن زينب بنت جحش ن انها قالت استيقظ النبي صلى الله عليه وسلم من النوم محمرا وجهه يقول لا اله الا الله ويل للعرب من شر قد اقترب فتح اليوم من ردم ياجوج وماجوج مثل هذه وعقد سفيان تسعين او ماىة قيل انهلك وفينا الصالحون قال نعم اذا كثر الخبث.
৭০৫৯. যাইনাব বিনত জাহাশ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তবর্ণ চেহারা নিয়ে ঘুম থেকে জাগলেন এবং বলতে লাগলেন, ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ্’! আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। নিকটবর্তী এক দুর্যোগে আরব ধ্বংস হয়ে যাবে। ইয়াজূজ-মা’জূজের (প্রতিরোধ) প্রাচীর আজ এতটুকু পরিমাণ খুলে গেছে। সুফ্ইয়ান নব্বই কিংবা একশ’র রেখায় আঙ্গুল রেখে গিঁট বানিয়ে দেখলেন। জিজ্ঞাসা করা হল, আমরা কি ধ্বংস হয়ে যাব অথচ আমাদের মাঝে নেককার লোকও থাকবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, যখন পাপাচার বেড়ে যাবে। [৩৩৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮১)
হাদিস নং: ৭০৬০ সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا ابن عيينة عن الزهري ح و حدثني محمود اخبرنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن الزهري عن عروة عن اسامة بن زيد قال اشرف النبي صلى الله عليه وسلم على اطم من اطام المدينة فقال هل ترون ما ارى قالوا لا قال فاني لارى الفتن تقع خلال بيوتكم كوقع القطر.
৭০৬০. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদ্বীনাহর টিলাসমূহের একটির উপর উঠে বললেনঃ আমি যা দেখি তোমরা কি তা দেখতে পাও? উত্তরে সাহাবা-ই-কিরাম বললেন, না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অবশ্যই আমি দেখতে পাচ্ছি, তোমাদের ঘরগুলোর ফাঁকে ফাঁকে ফিতনা বৃষ্টির মতো পতিত হচ্ছে। [১৮৭৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮২)
হাদিস নং: ৭০৬১ সহিহ (Sahih)
عياش بن الوليد اخبرنا عبد الاعلى حدثنا معمر عن الزهري عن سعيد عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يتقارب الزمان وينقص العمل ويلقى الشح وتظهر الفتن ويكثر الهرج قالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ايم هو قال القتل القتل وقال شعيب ويونس والليث وابن اخي الزهري عن الزهري عن حميد عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم
৭০৬১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সময় নিকটতর হতে থাকবে, আর ’আমল কমে যেতে থাকবে, কৃপণতা ছড়িয়ে দেয়া হবে, ফিতনার বিকাশ ঘটবে এবং হারজ ব্যাপকতর হবে। সহাব-ই-কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, হারজ সেটা কী? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হত্যা, হত্যা। [৮৫]

শু’আয়ব, ইউনুস, লায়স এবং যুহরীর ভ্রাতুষ্পুত্র আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৩)
হাদিস নং: ৭০৬২ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا عبيد الله بن موسى عن الاعمش عن شقيق قال كنت مع عبد الله وابي موسى فقالا قال النبي صلى الله عليه وسلم ان بين يدي الساعة لاياما ينزل فيها الجهل ويرفع فيها العلم ويكثر فيها الهرج والهرج القتل.
৭০৬২-৭০৬৩. শাকিক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আবদুল্লাহ্ ও আবূ মূসা (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তাঁরা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই কিয়ামতের আগে এমন একটি সময় আসবে যখন সব জায়গায় মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে এবং ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে। সে সময় ’হারজ্’ বর্দ্ধিত হবে। আর ’হারজ্’ হল (মানুষ) হত্যা। [৭০৬৪, ৭০৬৫, ৭০৬৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৪)
হাদিস নং: ৭০৬৩ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا عبيد الله بن موسى عن الاعمش عن شقيق قال كنت مع عبد الله وابي موسى فقالا قال النبي صلى الله عليه وسلم ان بين يدي الساعة لاياما ينزل فيها الجهل ويرفع فيها العلم ويكثر فيها الهرج والهرج القتل.
৭০৬২-৭০৬৩. শাকিক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আবদুল্লাহ্ ও আবূ মূসা (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তাঁরা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই কিয়ামতের আগে এমন একটি সময় আসবে যখন সব জায়গায় মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে এবং ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে। সে সময় ’হারজ্’ বর্দ্ধিত হবে। আর ’হারজ্’ হল (মানুষ) হত্যা। [৭০৬৪, ৭০৬৫, ৭০৬৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৪)
হাদিস নং: ৭০৬৪ সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص حدثنا ابي حدثنا الاعمش حدثنا شقيق قال جلس عبد الله وابو موسى فتحدثا فقال ابو موسى قال النبي صلى الله عليه وسلم ان بين يدي الساعة اياما يرفع فيها العلم وينزل فيها الجهل ويكثر فيها الهرج والهرج القتل.
৭০৬৪. আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের আগে এমন একটি সময় আসবে যখন ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে এবং সর্বত্র মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে, আর তখন হারজ বেড়ে যাবে। [৭০৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৫)
হাদিস নং: ৭০৬৫ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا جرير عن الاعمش عن ابي واىل قال اني لجالس مع عبد الله وابي موسى فقال ابو موسى سمعت النبي صلى الله عليه وسلم مثله والهرج بلسان الحبشة القتل.
৭০৬৫. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পূর্বে উল্লেখিত হাদীসের মত একটি হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। আর হাবশী ভাষায় হারজ অর্থ (মানুষ) হত্যা। [৭০৬৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৫)
হাদিস নং: ৭০৬৬ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن واصل عن ابي واىل عن عبد الله واحسبه رفعه قال بين يدي الساعة ايام الهرج يزول فيها العلم ويظهر فيها الجهل قال ابو موسى والهرج القتل بلسان الحبشة.
৭০৬৬. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তার সম্পর্কে আমার ধারণা, তিনি হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কিয়ামতের আগে হারজ অর্থাৎ হত্যার যুগ শুরু হবে। তখন ইল্ম বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং মূর্খতা প্রকাশিত হয়ে পড়বে। আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, হাবশী ভাষায় ’হারজ’ অর্থ (মানুষ) হত্যা। [৭০৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৬)
হাদিস নং: ৭০৬৭ সহিহ (Sahih)
وقال ابو عوانة عن عاصم عن ابي واىل عن الاشعري انه قال لعبد الله تعلم الايام التي ذكر النبي صلى الله عليه وسلم ايام الهرج نحوه قال ابن مسعود سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول من شرار الناس من تدركهم الساعة وهم احياء.
৭০৬৭. আবূ আওয়ানা তাঁর বর্ণনাসূত্রে আবূ মূসা আশ্’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, তিনি ’আবদুল্লাহ্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে যুগকে ’হারজ’-এর যুগ বলেছেন সে যুগ সম্পর্কে আপনি কিছু জানেন কি? এর উত্তর তিনি আগে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেন।

ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) যাদের জীবনকালে সংঘটিত হবে তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক।[1] [মুসলিম ৫২/২৬, হাঃ ২৯৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৮৭)
নোট: [1] কিয়ামত শুধুমাত্র মন্দ ও খারাপ লোকদের উপর সংঘটিত হবে। কিন্তু (لا تزال طائفة من أمتي على الحق حتى تقوم الساعة) হাদীস থেকে বুঝা যায় কিয়ামত মর্যাদাবান লোকদের উপরেও সংঘটিত হবে। সুতরাং উভয়ের সমন্বয় হল, কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার প্রাক্কালে আল্লাহ তা‘আলা হালকা বাতাস প্রেরণ করবেন এবং যাদের অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান থাকবে ঐ বাতাস তাদের মৃত্যু ঘটাবে। ফলে কোন মু’মিন মুসলিম আর অবশিষ্ট থাকবে না। অবশিষ্ট থাকবে শুধু মন্দ ও খারাপ লোক তথা কাফের ও মুশরিক। আর তখনই সংঘটিত হবে মহাপ্রলয়-কিয়ামত। এ সম্পর্কে ইমাম মুসলিম আবূ হুরায়রা হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন,

إن الله يبعث ريحا من اليمن الين من الحرير فلا تدع أحدا في قلبه مثقال ذرة من إيمان إلا قبضته

সহীহ মুসলিমেই দাজ্জাল, ঈসা (আঃ) ও ইয়াজুজ-মাজুজের ঘটনা সম্বলিত নাওয়াস ইবনু সাময়ানের দীর্ঘ হাদীসের শেষের দিকে এসেছে :

إذ بعث الله ريحا طبية فتقبض روح كل مؤمن ومسلم ويبقى شرار الناس يتهارجون تهارج الحمر فعليهم تقوم الساعة

এ ছাড়া সহীহ মুসলিম আরো বর্ণিত হয়েছে,

لا تقوم الساعة على أحد يقول الله الله

এই হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে এসেছে অন্য শব্দে। যেমন : على أحد يقول لا إله إلا الله

উপরোক্ত হাদীসগুলোকে আরো শক্তিশালী করে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদের এই হাদীস لا تقوم الساعة إلا على شرار الناس সুতরাং لا হাদীসটি পবিত্র বাতাস অবতরণের সময় প্রত্যেক মু’মিন মুসলিমের মৃত্যু ঘটাবে। ফলে যখন খারাপ লোক ছাড়া কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। তখনই হঠাৎ শুরু হবে কিয়ামত। (ফাতহুল বারী)
অধ্যায় তালিকা