অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৯৩/১. আল্লাহর বাণীঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগত হও...
মোট ৮৯ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭১৬৬
সহিহ (Sahih)
يحيى حدثنا عبد الرزاق اخبرنا ابن جريج اخبرني ابن شهاب عن سهل اخي بني ساعدة ان رجلا من الانصار جاء الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ارايت رجلا وجد مع امراته رجلا ايقتله فتلاعنا في المسجد وانا شاهد.
৭১৬৬. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) বনূ সা’ঈদার ভ্রাতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, এক আনসারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আপনার কী রায়? যদি কোন লোক তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পরুষকে দেখতে পায় তাহলে সে কি তাকে হত্যা করবে? পরে সে লোক ও তার স্ত্রীকে মসজিদে লি’আন করানো হয়েছিল, তখন আমি সেখানে হাজির ছিলাম। [৪২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৯)
হাদিস নং: ৭১৬৭
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثني الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن ابي سلمة وسعيد بن المسيب عن ابي هريرة قال اتى رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في المسجد فناداه فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اني زنيت فاعرض عنه فلما شهد على نفسه اربعا قال ابك جنون قال لا قال اذهبوا به فارجموه.
وَقَالَ عُمَرُ أَخْرِجَاهُ مِنْ الْمَسْجِدِ وَيُذْكَرُ عَنْ عَلِيٍّ نَحْوُهُ.
’উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা দু’জন একে মাসজিদ হতে বাইরে নিয়ে যাও। ’আলী (রাঃ) থেকেও এরকমই বর্ণিত হয়েছে।
৭১৬৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল। তখন তিনি ছিলেন মসজিদে। লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডেকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যিনা করে ফেলেছি। তিনি তাঁর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। এভাবে সে যখন নিজের সম্পর্কে চারবার সাক্ষ্য দিল, তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি পাগল? লোকটি বলল, না। তখন তিনি বললেনঃ একে নিয়ে যাও এবং রজম কর। [৫২৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮০)
’উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা দু’জন একে মাসজিদ হতে বাইরে নিয়ে যাও। ’আলী (রাঃ) থেকেও এরকমই বর্ণিত হয়েছে।
৭১৬৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল। তখন তিনি ছিলেন মসজিদে। লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডেকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যিনা করে ফেলেছি। তিনি তাঁর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। এভাবে সে যখন নিজের সম্পর্কে চারবার সাক্ষ্য দিল, তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি পাগল? লোকটি বলল, না। তখন তিনি বললেনঃ একে নিয়ে যাও এবং রজম কর। [৫২৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮০)
হাদিস নং: ৭১৬৮
সহিহ (Sahih)
قال ابن شهاب فاخبرني من سمع جابر بن عبد الله قال كنت فيمن رجمه بالمصلى رواه يونس ومعمر وابن جريج عن الزهري عن ابي سلمة عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم في الرجم.
৭১৬৮. ইবনু শিহাব বলেন, জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে যিনি শুনেছেন, তিনি আমাকে বলেছেন যে, যারা তাকে জানাযা পড়ার জায়গায় নিয়ে রজম করেছিলেন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। ইউনুস, মা’মার ও ইবনু জুরায়জ (রহ.) জাবির (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজমের ব্যাপারে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। [৫২৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮০)
হাদিস নং: ৭১৬৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن هشام عن ابيه عن زينب بنت ابي سلمة عن ام سلمة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال انما انا بشر وانكم تختصمون الي ولعل بعضكم ان يكون الحن بحجته من بعض فاقضي على نحو ما اسمع فمن قضيت له من حق اخيه شيىا فلا ياخذه فانما اقطع له قطعة من النار.
৭১৬৯. উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মানুষ ছাড়া অন্য কিছু নই। তোমরা আমার কাছে ঝগড়া বিবাদ নিয়ে আসো। হয়ত তোমাদের কেউ অন্যজনের অপেক্ষা প্রমাণ পেশের ব্যাপারে অধিক বাকপটু। আর আমি তো যেমন শুনি তার ভিত্তিতেই বিচার করে থাকি। কাজেই আমি যদি কারো জন্য তার অন্য ভাইয়ের হক সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত দেই, তাহলে সে যেন তা গ্রহণ না করে। কেননা, আমি তার জন্য যে অংশ নির্ধারণ করলাম তা তো কেবল এক টুকরা আগুন। [২৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮১)
হাদিস নং: ৭১৭০
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا الليث بن سعد عن يحيى عن عمر بن كثير عن ابي محمد مولى ابي قتادة ان ابا قتادة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم حنين من له بينة على قتيل قتله فله سلبه فقمت لالتمس بينة على قتيلي فلم ار احدا يشهد لي فجلست ثم بدا لي فذكرت امره الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رجل من جلساىه سلاح هذا القتيل الذي يذكر عندي قال فارضه منه فقال ابو بكر كلا لا يعطه اصيبغ من قريش ويدع اسدا من اسد الله يقاتل عن الله ورسوله قال فامر رسول الله صلى الله عليه وسلم فاداه الي فاشتريت منه خرافا فكان اول مال تاثلته قال لي عبد الله عن الليث فقام النبي صلى الله عليه وسلم فاداه الي وقال اهل الحجاز الحاكم لا يقضي بعلمه شهد بذلك في ولايته او قبلها ولو اقر خصم عنده لاخر بحق في مجلس القضاء فانه لا يقضي عليه في قول بعضهم حتى يدعو بشاهدين فيحضرهما اقراره وقال بعض اهل العراق ما سمع او راه في مجلس القضاء قضى به وما كان في غيره لم يقض الا بشاهدين وقال اخرون منهم بل يقضي به لانه موتمن وانما يراد من الشهادة معرفة الحق فعلمه اكثر من الشهادة وقال بعضهم يقضي بعلمه في الاموال ولا يقضي في غيرها وقال القاسم لا ينبغي للحاكم ان يمضي قضاء بعلمه دون علم غيره مع ان علمه اكثر من شهادة غيره ولكن فيه تعرضا لتهمة نفسه عند المسلمين وايقاعا لهم في الظنون وقد كره النبي صلى الله عليه وسلم الظن فقال انما هذه صفية
وَقَالَ شُرَيْحٌ الْقَاضِي وَسَأَلَهُ إِنْسَانٌ الشَّهَادَةَ فَقَالَ ائْتِ الأَمِيرَ حَتَّى أَشْهَدَ لَكَ وَقَالَ عِكْرِمَةُ قَالَ عُمَرُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ لَوْ رَأَيْتَ رَجُلاً عَلَى حَدٍّ زِنًا أَوْ سَرِقَةٍ وَأَنْتَ أَمِيرٌ فَقَالَ شَهَادَتُكَ شَهَادَةُ رَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ قَالَ صَدَقْتَ قَالَ عُمَرُ لَوْلاَ أَنْ يَقُولَ النَّاسُ زَادَ عُمَرُ فِي كِتَابِ اللهِ لَكَتَبْتُ آيَةَ الرَّجْمِ بِيَدِي وَأَقَرَّ مَاعِزٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالزِّنَا أَرْبَعًا فَأَمَرَ بِرَجْمِهِ وَلَمْ يُذْكَرْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشْهَدَ مَنْ حَضَرَهُ وَقَالَ حَمَّادٌ إِذَا أَقَرَّ مَرَّةً عِنْدَ الْحَاكِمِ رُجِمَ وَقَالَ الْحَكَمُ أَرْبَعًا.
বিচারক শুরায়হকে এক লোক তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার আবেদন করলে তিনি তাকে বললেন, তুমি শাসকের কাছে যাও, সেখানে আমি তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিব। ইক্রামাহ (রহ.) বলেন, ’উমার (রাঃ) ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ)-কে বললেন, যদি তুমি শাসক হও, আর তুমি নিজে কোন লোককে হদের কাজ যিনা বা চুরিতে লিপ্ত দেখ (সে অবস্থায় তুমি কী করবে?) জওয়াবে তিনি বললেন (আপনি শাসক হলেও) আপনার সাক্ষ্য সাধারণ একজন মুসলিমের সাক্ষ্যের মতই। তিনি [’উমার (রাঃ)] বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ। ’উমার (রাঃ) বলেন, যদি মানুষ এ কথা বলবে বলে আশংকা না হত যে, ’উমার আল্লাহর কিতাবে নিজের পক্ষ থেকে বাড়িয়ে দিয়েছে, তাহলে আমি নিজ হাতে রজমের আয়াত লিখে দিতাম। মায়েয নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চারবার যিনার কথা স্বীকার করেছিলেন; তখন তাকে রজম করার আদেশ দেন। আর এমন বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকেদের নিকট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। হাম্মাদ (রহ.) বলেন, বিচারকের কাছে কেউ একবার স্বীকার করলে তাকে রজম করা হবে। আর হাকাম (রহ.) বলেন, চারবার স্বীকার করতে হবে।
৭১৭০. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শত্রুপক্ষের কোন নিহত লোককে হত্যা করা সম্পর্কে যার সাক্ষী আছে, সেই তার ছেড়ে যাওয়া সম্পদ পাবে। (রাবী বলেন) আমি আমার দ্বারা নিহত ব্যক্তির সাক্ষী খুঁজতে দাঁড়ালাম। কিন্তু আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে এমন কেউ দেখতে পেলাম না, কাজেই আমি বসে গেলাম। তারপর আমার খেয়াল হল। আমি তাই হত্যার ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জানালাম। তখন তাঁর নিকট বসা লোকদের মধ্যে একজন বলল, যে নিহত লোকটির আলোচনা চলছে তার হাতিয়ার আমার কাছে আছে। অতএব আপনি তাকে আমার পক্ষ হয়ে খুশি করে দিন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কক্ষনো না। আপনি এই পাংশুবর্ণ কুরাইশকে কক্ষনো দিবেন না। আল্লাহ্ ও রাসূলের হয়ে যে আল্লাহর সিংহ যুদ্ধ করছে, তাকে আপনি বঞ্চিত করবেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি বুঝতে পারলেন এবং তা আমাকে দিলেন। আমি তা দিয়ে একটি বাগান কিনলাম। এটাই ছিল আমার প্রথম সম্পদ, যা আমি মূলধন হিসাবে সংরক্ষণ করেছিলাম।
’আবদুল্লাহ্ (রহ.) লায়সের সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করতে فَعلم رسول الله এর স্থলে فَقَامَ النَّبِيُّ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন) বর্ণনা করেছেন। হিজাযের আলিমরা বলেন, শাসক তার জ্ঞান অনুসারে বিচার করবে না, তা পদে আসীনকালে দেখে থাকুক, কিংবা তার আগে। তাদের কারো কারো মতে যদি বাদী বিবাদীর কোন এক পক্ষ অপর পক্ষের হকের ব্যাপারে বিচার চলাকালে তার সামনে স্বীকার করে তা হলেও তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত দু’জন সাক্ষী ডেকে সে ব্যক্তির স্বীকারোক্তির সময় তাদের হাজির না রাখবেন। কোন কোন ইরাকী আলিম বলেন, বিচার চলার সময় যা কিছু শুনবে বা দেখবে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিবে। তবে অন্য জায়গায় যা কিছু শুনবে বা দেখবে দু’জন সাক্ষী ব্যতীত ফায়সালা দিতে পারবে না। তাদের অন্যরা বলেন বরং তার ভিত্তিতে ফায়সালা দিতে পারবে।
কেননা সে তো বিশ্বস্ত। আর সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্য হল প্রকৃত সত্যকে জানা। সুতরাং তার জানা (সাক্ষীর) সাক্ষ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। তাদের অন্য কেউ বলেন যে, মাল সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারক তার নিজের জানার ভিত্তিতে ফায়সালা দিবে। তবে অন্য ব্যাপারে নয়। কাসেম (রহ.) বলেন যে, অপরের সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যতীত শাসকের নিজের জ্ঞান মুতাবেক ফায়সালা দেয়া উচিত নয়, যদিও তার জানা অন্যের সাক্ষ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য তবুও। এতে মুসলিম জনসাধারণের কাছে নিজেকে অপবাদের মুখে পড়তে হয় এবং তাদেরকে সন্দেহে ফেলা হয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্দেহ করাকে পছন্দ করতেন না। এজন্যেই তিনি পথচারীকে ডেকে বলে দিয়েছেনঃ এ হচ্ছে সফীয়্যাহ (আমার স্ত্রী)। [২১০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮২)
বিচারক শুরায়হকে এক লোক তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার আবেদন করলে তিনি তাকে বললেন, তুমি শাসকের কাছে যাও, সেখানে আমি তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিব। ইক্রামাহ (রহ.) বলেন, ’উমার (রাঃ) ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ)-কে বললেন, যদি তুমি শাসক হও, আর তুমি নিজে কোন লোককে হদের কাজ যিনা বা চুরিতে লিপ্ত দেখ (সে অবস্থায় তুমি কী করবে?) জওয়াবে তিনি বললেন (আপনি শাসক হলেও) আপনার সাক্ষ্য সাধারণ একজন মুসলিমের সাক্ষ্যের মতই। তিনি [’উমার (রাঃ)] বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ। ’উমার (রাঃ) বলেন, যদি মানুষ এ কথা বলবে বলে আশংকা না হত যে, ’উমার আল্লাহর কিতাবে নিজের পক্ষ থেকে বাড়িয়ে দিয়েছে, তাহলে আমি নিজ হাতে রজমের আয়াত লিখে দিতাম। মায়েয নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চারবার যিনার কথা স্বীকার করেছিলেন; তখন তাকে রজম করার আদেশ দেন। আর এমন বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকেদের নিকট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। হাম্মাদ (রহ.) বলেন, বিচারকের কাছে কেউ একবার স্বীকার করলে তাকে রজম করা হবে। আর হাকাম (রহ.) বলেন, চারবার স্বীকার করতে হবে।
৭১৭০. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শত্রুপক্ষের কোন নিহত লোককে হত্যা করা সম্পর্কে যার সাক্ষী আছে, সেই তার ছেড়ে যাওয়া সম্পদ পাবে। (রাবী বলেন) আমি আমার দ্বারা নিহত ব্যক্তির সাক্ষী খুঁজতে দাঁড়ালাম। কিন্তু আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে এমন কেউ দেখতে পেলাম না, কাজেই আমি বসে গেলাম। তারপর আমার খেয়াল হল। আমি তাই হত্যার ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জানালাম। তখন তাঁর নিকট বসা লোকদের মধ্যে একজন বলল, যে নিহত লোকটির আলোচনা চলছে তার হাতিয়ার আমার কাছে আছে। অতএব আপনি তাকে আমার পক্ষ হয়ে খুশি করে দিন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কক্ষনো না। আপনি এই পাংশুবর্ণ কুরাইশকে কক্ষনো দিবেন না। আল্লাহ্ ও রাসূলের হয়ে যে আল্লাহর সিংহ যুদ্ধ করছে, তাকে আপনি বঞ্চিত করবেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি বুঝতে পারলেন এবং তা আমাকে দিলেন। আমি তা দিয়ে একটি বাগান কিনলাম। এটাই ছিল আমার প্রথম সম্পদ, যা আমি মূলধন হিসাবে সংরক্ষণ করেছিলাম।
’আবদুল্লাহ্ (রহ.) লায়সের সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করতে فَعلم رسول الله এর স্থলে فَقَامَ النَّبِيُّ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন) বর্ণনা করেছেন। হিজাযের আলিমরা বলেন, শাসক তার জ্ঞান অনুসারে বিচার করবে না, তা পদে আসীনকালে দেখে থাকুক, কিংবা তার আগে। তাদের কারো কারো মতে যদি বাদী বিবাদীর কোন এক পক্ষ অপর পক্ষের হকের ব্যাপারে বিচার চলাকালে তার সামনে স্বীকার করে তা হলেও তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত দু’জন সাক্ষী ডেকে সে ব্যক্তির স্বীকারোক্তির সময় তাদের হাজির না রাখবেন। কোন কোন ইরাকী আলিম বলেন, বিচার চলার সময় যা কিছু শুনবে বা দেখবে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিবে। তবে অন্য জায়গায় যা কিছু শুনবে বা দেখবে দু’জন সাক্ষী ব্যতীত ফায়সালা দিতে পারবে না। তাদের অন্যরা বলেন বরং তার ভিত্তিতে ফায়সালা দিতে পারবে।
কেননা সে তো বিশ্বস্ত। আর সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্য হল প্রকৃত সত্যকে জানা। সুতরাং তার জানা (সাক্ষীর) সাক্ষ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। তাদের অন্য কেউ বলেন যে, মাল সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারক তার নিজের জানার ভিত্তিতে ফায়সালা দিবে। তবে অন্য ব্যাপারে নয়। কাসেম (রহ.) বলেন যে, অপরের সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যতীত শাসকের নিজের জ্ঞান মুতাবেক ফায়সালা দেয়া উচিত নয়, যদিও তার জানা অন্যের সাক্ষ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য তবুও। এতে মুসলিম জনসাধারণের কাছে নিজেকে অপবাদের মুখে পড়তে হয় এবং তাদেরকে সন্দেহে ফেলা হয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্দেহ করাকে পছন্দ করতেন না। এজন্যেই তিনি পথচারীকে ডেকে বলে দিয়েছেনঃ এ হচ্ছে সফীয়্যাহ (আমার স্ত্রী)। [২১০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮২)
হাদিস নং: ৭১৭১
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله الاويسي حدثنا ابراهيم بن سعد عن ابن شهاب عن علي بن حسين ان النبي صلى الله عليه وسلم اتته صفية بنت حيي فلما رجعت انطلق معها فمر به رجلان من الانصار فدعاهما فقال انما هي صفية قالا سبحان الله قال ان الشيطان يجري من ابن ادم مجرى الدم رواه شعيب وابن مسافر وابن ابي عتيق واسحاق بن يحيى عن الزهري عن علي يعني ابن حسين عن صفية عن النبي صلى الله عليه وسلم.
৭১৭১. ’আলী ইবনু হুসাইন (রহ.) হতে বর্ণিত। উম্মুল মু’মিনীন সফীয়্যাহ বিনত হুয়াই (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসেছিলেন। যখন তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সাথে হাঁটছিলেন। এমন সময় দু’জন আনসারী তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তিনি তাঁদেরকে ডাকলেন এবং বললেনঃ এ হচ্ছে সফীয়্যাহ। তাঁরা বলল, সুবহানাল্লাহ্ (আমরা আপনার ব্যাপারে সন্দেহ করব নাকি?) তিনি বললেনঃ শয়তান বানী আদমের শিরায় শিরায় বিচরণ করে। শু’আয়ব ..... সফীয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।[1] [৭১৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৩)
নোট: [1] মুমিনদের উচিত শয়তানকে কোন প্রকার সুযোগ না দেওয়া যাতে সে মুমিনের চরিত্র সম্পর্কে কোন প্রকার অপবাদ ছড়াতে না পারে।
হাদিস নং: ৭১৭২
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا العقدي حدثنا شعبة عن سعيد بن ابي بردة قال سمعت ابي قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم ابي ومعاذ بن جبل الى اليمن فقال يسرا ولا تعسرا وبشرا ولا تنفرا وتطاوعا فقال له ابو موسى انه يصنع بارضنا البتع فقال كل مسكر حرام وقال النضر وابو داود ويزيد بن هارون ووكيع عن شعبة عن سعيد بن ابي بردة عن ابيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم
৭১৭২. আবূ বুরদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতা ও মু’আয ইবনু জাবালকে ইয়ামানে প্রেরণ করলেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা সহজ করো, কঠোর করো না [1], তাদের সুসংবাদ দাও, ভয় দেখায়ও না এবং পরস্পর পরস্পরকে মেনে চলো। তখন আবূ মূসা (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমাদের দেশে ’বিত্’ নামীয় এক ধরণের পানীয় প্রস্তুত করা হয়। জওয়াবে তিনি বললেনঃ প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম।
নাযর, আবূ দাঊদ, ইয়াযিদ ইবনু হারুন, ওকী (রহ.) ..... সা’ঈদ-এর দাদা আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [২২৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৪)
নাযর, আবূ দাঊদ, ইয়াযিদ ইবনু হারুন, ওকী (রহ.) ..... সা’ঈদ-এর দাদা আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [২২৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৪)
নোট: [1] যেমন কাউকে কোন বড় গুনাহে লিপ্ত দেখে বলা হল ‘‘আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না, সে জাহান্নামী হয়ে গেছে।’’ এরকম বলা ঠিক নয়। বরং আশার বাণী শোনাতে হবে, তাওবা করে কেউ সৎ পথে ফিরলে আল্লাহ পূর্বের তামাম গোনাহ মাফ করে দিবেন- এমন কথা জানিয়ে দিতে হবে।
হাদিস নং: ৭১৭৩
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى بن سعيد عن سفيان حدثني منصور عن ابي واىل عن ابي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فكوا العاني واجيبوا الداعي.
وَقَدْ أَجَابَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَبْدًا لِلْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ
’উসমান (রাঃ) মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ)-এর ক্রীতদাসের দাওয়াত গ্রহণ করেছিলেন।
৭১৭৩. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বন্দীদেরকে মুক্ত কর, আর দাওয়াতদাতার দাওয়াত গ্রহণ কর। [৩০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৫)
’উসমান (রাঃ) মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ)-এর ক্রীতদাসের দাওয়াত গ্রহণ করেছিলেন।
৭১৭৩. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বন্দীদেরকে মুক্ত কর, আর দাওয়াতদাতার দাওয়াত গ্রহণ কর। [৩০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৫)
হাদিস নং: ৭১৭৪
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن الزهري انه سمع عروة اخبرنا ابو حميد الساعدي قال استعمل النبي صلى الله عليه وسلم رجلا من بني اسد يقال له ابن الاتبية على صدقة فلما قدم قال هذا لكم وهذا اهدي لي فقام النبي صلى الله عليه وسلم على المنبر قال سفيان ايضا فصعد المنبر فحمد الله واثنى عليه ثم قال ما بال العامل نبعثه فياتي يقول هذا لك وهذا لي فهلا جلس في بيت ابيه وامه فينظر ايهدى له ام لا والذي نفسي بيده لا ياتي بشيء الا جاء به يوم القيامة يحمله على رقبته ان كان بعيرا له رغاء او بقرة لها خوار او شاة تيعر ثم رفع يديه حتى راينا عفرتي ابطيه الا هل بلغت ثلاثا قال سفيان قصه علينا الزهري وزاد هشام عن ابيه عن ابي حميد قال سمع اذناي وابصرته عيني وسلوا زيد بن ثابت فانه سمعه معي ولم يقل الزهري سمع اذني خوار صوت والجوار من تجارون كصوت البقرة.
৭১৭৪. আবূ হুমায়দ আস্-সা’ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী আসাদ গোত্রের ইবনু লুতাবিয়্যা নামের এক লোককে যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী বানালেন। সে যখন ফিরে এল, তখন বলল, এগুলো আপনাদের আর এগুলো আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। এ কথা শোনার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর দাঁড়ালেন। সুফ্ইয়ান কখনো বলেন, তিনি মিম্বরের উপর উঠলেন এবং আল্লাহর হামদ ও সানা করলেন। এরপর বললেনঃ কর্মকর্তার কী হল! আমি তাকে পাঠাই, তারপর সে ফিরে এসে বলল, এগুলো আপনার আর এগুলো আমার। সে তার বাপের বাড়ি কিংবা মায়ের বাড়িতে বসে থেকে দেখত যে, তাকে হাদিয়া দেয়া হয় কিনা? যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! যা কিছুই সে গ্রহণ করবে, কিয়ামতের দিন তা কাঁধে বয়ে নিয়ে হাজির হবে। যদি উট হয়, তাহলে তা চিৎকার করবে, যদি গাভী হয় তবে তা হাম্বা হাম্বা করবে, অথবা যদি বক্রী হয় তাহলে তা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করবে। তারপর তিনি উভয় হাত উঠালেন। এমনকি আমরা তাঁর দু’ বগলের শুভ্র ঔজ্জ্বল্য দেখতে পেলাম। তারপর বললেন, শোন! আমি কি আল্লাহর হুকুম পৌঁছে দিয়েছি? এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন।
সুফ্ইয়ান বলেন, আমাদের কাছে যুহরী এ রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন। তবে হিশাম তার পিতার সূত্রে আবূ হুমায়দ থেকে বর্ণনা করতে আর একটু বৃদ্ধি করে বলেছেন যে, তিনি (আবূ হুমায়দ) বলেছেন, আমার দু’ কান তা শুনেছে এবং দু’চোখ তা দেখেছে। যায়দ ইবনু সাবিতকে জিজ্ঞেস কর, সেও আমার সঙ্গে শুনেছিল। আমি বলল ’’দু’ কান শুনেছে এবং দু’চোখ তাকে দেখেছে’’ যুহরী এ কথা বলেননি। [বুখারী (রহ.) বলেন] خُوَارٌ বলা হয় শব্দকে। আর خُؤََارٌ থেকে يحرءون গরুর শব্দের মত চেঁচানো।[1] [৯২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৬)
সুফ্ইয়ান বলেন, আমাদের কাছে যুহরী এ রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন। তবে হিশাম তার পিতার সূত্রে আবূ হুমায়দ থেকে বর্ণনা করতে আর একটু বৃদ্ধি করে বলেছেন যে, তিনি (আবূ হুমায়দ) বলেছেন, আমার দু’ কান তা শুনেছে এবং দু’চোখ তা দেখেছে। যায়দ ইবনু সাবিতকে জিজ্ঞেস কর, সেও আমার সঙ্গে শুনেছিল। আমি বলল ’’দু’ কান শুনেছে এবং দু’চোখ তাকে দেখেছে’’ যুহরী এ কথা বলেননি। [বুখারী (রহ.) বলেন] خُوَارٌ বলা হয় শব্দকে। আর خُؤََارٌ থেকে يحرءون গরুর শব্দের মত চেঁচানো।[1] [৯২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৬)
নোট: [1] হাদীসটি হতে জানা যায় :
১. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইমামের বক্তব্য প্রদান।
২. জুমু‘আর খুৎবার ন্যায় বক্তব্যে أما بعد শব্দ ব্যবহার করা।
৩. আমানত গ্রহীতার হিসাব রক্ষণের বৈধতা।
৪. যে কর্মচারী যে কাজের জন্য নিয়োজিত সেই কাজের বিনিময়ে উপঢৌকন গ্রহণের নিষিদ্ধতা। হ্যাঁ, তবে যদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকে তাহলে দোষণীয় নয়।
৫. কৃর্তপক্ষের বিনা অনুমতিতে গ্রহণকৃত উপঢৌকন সরকারী কোষাগারে জমা করতে হবে। কোন কর্মচারীর জন্য নির্দিষ্ট হবে না।
৬. ইবনুল মুনীর বলেন : هَلاَّ جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ বাক্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, যাদের সাথে ইতঃপূর্বে উপঢৌকন বিনিময় হয়েছে তাদের কাছ থেকে উপঢৌকন গ্রহণ জায়েয।
৭. ভুলকারীকে তিরস্কার করার বৈধতা।
৮. শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে আমীর পদে, ইমামতিতে ও আমানতের কাজে কর্মচারী নিয়োগ দানের বৈধতা। (ফাতহুল বারী)
১. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইমামের বক্তব্য প্রদান।
২. জুমু‘আর খুৎবার ন্যায় বক্তব্যে أما بعد শব্দ ব্যবহার করা।
৩. আমানত গ্রহীতার হিসাব রক্ষণের বৈধতা।
৪. যে কর্মচারী যে কাজের জন্য নিয়োজিত সেই কাজের বিনিময়ে উপঢৌকন গ্রহণের নিষিদ্ধতা। হ্যাঁ, তবে যদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকে তাহলে দোষণীয় নয়।
৫. কৃর্তপক্ষের বিনা অনুমতিতে গ্রহণকৃত উপঢৌকন সরকারী কোষাগারে জমা করতে হবে। কোন কর্মচারীর জন্য নির্দিষ্ট হবে না।
৬. ইবনুল মুনীর বলেন : هَلاَّ جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ বাক্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, যাদের সাথে ইতঃপূর্বে উপঢৌকন বিনিময় হয়েছে তাদের কাছ থেকে উপঢৌকন গ্রহণ জায়েয।
৭. ভুলকারীকে তিরস্কার করার বৈধতা।
৮. শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে আমীর পদে, ইমামতিতে ও আমানতের কাজে কর্মচারী নিয়োগ দানের বৈধতা। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৭১৭৫
সহিহ (Sahih)
عثمان بن صالح حدثنا عبد الله بن وهب اخبرني ابن جريج ان نافعا اخبره ان ابن عمر اخبره قال كان سالم مولى ابي حذيفة يوم المهاجرين الاولين واصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في مسجد قباء فيهم ابو بكر وعمر وابو سلمة وزيد وعامر بن ربيعة.
৭১৭৫. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুযাইফাহর আযাদকৃত দাস সালিম (রাঃ) মসজিদে কুবাতে প্রথম পর্যায়ের মুহাজিরীন ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের ইমামত করতেন। যাদের মাঝে ছিলেন আবূ বকর, ’উমার, আবূ সালামাহ, যায়দ ও ’আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ)। [৬৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৭)
হাদিস নং: ৭১৭৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن ابي اويس حدثني اسماعيل بن ابراهيم عن عمه موسى بن عقبة قال ابن شهاب حدثني عروة بن الزبير ان مروان بن الحكم والمسور بن مخرمة اخبراه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال حين اذن لهم المسلمون في عتق سبي هوازن اني لا ادري من اذن منكم ممن لم ياذن فارجعوا حتى يرفع الينا عرفاوكم امركم فرجع الناس فكلمهم عرفاوهم فرجعوا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبروه ان الناس قد طيبوا واذنوا.
৭১৭৬-৭১৭৭. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, মারওয়ান ইবনু হাকাম ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাওয়াযেনের বন্দীদেরকে মুক্ত করার ব্যাপারে মুসলিমরা যখন এসে সর্বসম্মতভাবে অনুমতি দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে অনুমতি দিয়েছ, আর কে দাওনি, তা আমি বুঝতে পারিনি। কাজেই তোমরা ফিরে যাও, তোমাদের প্রতিনিধিরা তোমাদের মতামত জেনে আমার নিকট আসবে। লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে এ সম্পর্কে আলোচনা করল। পরে তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে সংবাদ দিল যে, লোকেরা সন্তোষ সহকারে অনুমতি দিয়েছে।[1] [২৩০৭, ২৩০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৮)
নোট: [1] প্রত্যেক মুসলিমকে স্বীয় মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ দিতে হবে। মতভেদ, দলাদলি ও বিবাদ এড়ানোর এটা একটা বড় পন্থা।
হাদিস নং: ৭১৭৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل بن ابي اويس، حدثني اسماعيل بن ابراهيم، عن عمه، موسى بن عقبة قال ابن شهاب حدثني عروة بن الزبير، ان مروان بن الحكم، والمسور بن مخرمة، اخبراه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال حين اذن لهم المسلمون في عتق سبى هوازن " اني لا ادري من اذن منكم ممن لم ياذن، فارجعوا حتى يرفع الينا عرفاوكم امركم ". فرجع الناس فكلمهم عرفاوهم، فرجعوا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبروه ان الناس قد طيبوا واذنوا.
৭১৭৬-৭১৭৭. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, মারওয়ান ইবনু হাকাম ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাওয়াযেনের বন্দীদেরকে মুক্ত করার ব্যাপারে মুসলিমরা যখন এসে সর্বসম্মতভাবে অনুমতি দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে অনুমতি দিয়েছ, আর কে দাওনি, তা আমি বুঝতে পারিনি। কাজেই তোমরা ফিরে যাও, তোমাদের প্রতিনিধিরা তোমাদের মতামত জেনে আমার নিকট আসবে। লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে এ সম্পর্কে আলোচনা করল। পরে তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে সংবাদ দিল যে, লোকেরা সন্তোষ সহকারে অনুমতি দিয়েছে।[1] [২৩০৭, ২৩০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৮)
নোট: [1] প্রত্যেক মুসলিমকে স্বীয় মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ দিতে হবে। মতভেদ, দলাদলি ও বিবাদ এড়ানোর এটা একটা বড় পন্থা।
হাদিস নং: ৭১৭৮
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا عاصم بن محمد بن زيد بن عبد الله بن عمر عن ابيه قال اناس لابن عمر انا ندخل على سلطاننا فنقول لهم خلاف ما نتكلم اذا خرجنا من عندهم قال كنا نعدها نفاقا.
৭১৭৮. মুহাম্মাদ ইবনু যায়দ ইবনু ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন লোক ইবনু ’উমার (রাঃ)-কে বলল, আমরা আমাদের শাসকের কাছে গিয়ে তার এমন কথা বলি, তার নিকট থেকে বাইরে আসার পর সে কথার উল্টো বলি। তিনি বললেন, আমরা এটাকেই নিফাক বলে গণ্য করতাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৯)
হাদিস নং: ৭১৭৯
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا الليث عن يزيد بن ابي حبيب عن عراك عن ابي هريرة انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان شر الناس ذو الوجهين الذي ياتي هولاء بوجه وهولاء بوجه
৭১৭৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন- দু’মুখো লোকেরা সবচেয়ে খারাপ যারা এদের কাছে এক চেহারা নিয়ে আসে আবার ওদের কাছে আর এক চেহারা নিয়ে আসে। [৩৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯০)
হাদিস নং: ৭১৮০
সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير اخبرنا سفيان عن هشام عن ابيه عن عاىشة ان هندا قالت للنبي صلى الله عليه وسلم ان ابا سفيان رجل شحيح فاحتاج ان اخذ من ماله قال خذي ما يكفيك وولدك بالمعروف.
৭১৮০. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হিন্দা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) বড় কৃপণ লোক। কাজেই তার সম্পদ থেকে কিছু নিতে আমি বাধ্য হয়ে পড়ি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার ও সন্তানের জন্য যতটা প্রয়োজন ন্যায়সঙ্গতভাবে ততটা নিতে পার। [২২১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯১)
হাদিস নং: ৭১৮১
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن صالح عن ابن شهاب قال اخبرني عروة بن الزبير ان زينب بنت ابي سلمة اخبرته ان ام سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرتها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه سمع خصومة بباب حجرته فخرج اليهم فقال انما انا بشر وانه ياتيني الخصم فلعل بعضكم ان يكون ابلغ من بعض فاحسب انه صادق فاقضي له بذلك فمن قضيت له بحق مسلم فانما هي قطعة من النار فلياخذها او ليتركها.
৭১৮১. যাইনাব বিন্ত আবূ সালামাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একবার তিনি তাঁর কক্ষের দরজায় ঝগড়া বিবাদের শব্দ শুনতে পেলেন। এরপর তিনি তাদের কাছে এসে বললেন, আমি তো একজন মানুষ। আমার নিকট বাদী-বিবাদীরা আসে। হয়ত তোমাদের মাঝে কেউ অন্যের তুলনায় কথায় পটু। আমি মনে করি যে সে সত্যবাদী। ফলে আমি তার পক্ষে ফায়সালা করি। কিন্তু আমি যদি কোন মুসলিমের হক অন্য কারো জন্য ফায়সালা করি, তাহলে সেটা এক খন্ড আগুন ব্যতীত আর কিছু নয়। কাজেই সে চাইলে তা গ্রহণ করুক অথবা তা ত্যাগ করুক। [২৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯২)
হাদিস নং: ৭১৮২
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن ابن شهاب عن عروة بن الزبير عن عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت كان عتبة بن ابي وقاص عهد الى اخيه سعد بن ابي وقاص ان ابن وليدة زمعة مني فاقبضه اليك فلما كان عام الفتح اخذه سعد فقال ابن اخي قد كان عهد الي فيه فقام اليه عبد بن زمعة فقال اخي وابن وليدة ابي ولد على فراشه فتساوقا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال سعد يا رسول الله ابن اخي كان عهد الي فيه وقال عبد بن زمعة اخي وابن وليدة ابي ولد على فراشه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هو لك يا عبد بن زمعة ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الولد للفراش وللعاهر الحجر ثم قال لسودة بنت زمعة احتجبي منه لما راى من شبهه بعتبة فما راها حتى لقي الله تعالى.
৭১৮২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র স্ত্রী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উতবাহ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস তাঁর ভাই সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস-কে ওসিয়ত করেন যে, যাম্আ-এর বাঁদীর গর্ভজাত সন্তানটি আমার ঔরস থেকে জন্মেছে। কাজেই তাকে তুমি তোমার হেফাজতে নিয়ে এসো। মক্কা বিজয়ের বছর সা’দ (রাঃ) তাকে ধরলেন এবং বললেন, আমার ভাই এ ছেলের সম্পর্কে আমাকে ওসিয়ত করেছিলেন। তখন আবদ ইবনু যাম’আহ দাঁড়াল এবং বলল, এ আমার ভাই, আমার পিতার বাঁদীর পেটের সন্তান। আমার পিতার ঔরসে তার জন্ম। তারপর তারা দু’জনেই বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিচার প্রার্থী হলেন।
সা’দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার ভাইয়ের ছেলে। আমার ভাই এর ব্যাপারে আমাকে ওসিয়ত করে গেছেন। আবদ ইবনু যাম’আহ বলল, এ হচ্ছে আমার ভাই, আমার পিতার বাঁদীর পেটের সন্তান। আমার পিতার ঔরসেই তার জন্ম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবদ ইবনু যাম’আহ! সে তোমারই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সন্তান হল বিছানার মালিকেরই আর ব্যভিচারীর জন্য পাথর। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্বাহর সঙ্গে এ ছেলেটির চেহারার মিল দেখে, সাওদা বিনত যাম’আহ (রাঃ)-কে বললেনঃ এর থেকে পর্দা কর। সে জন্য মুত্যুর আগে পর্যন্ত ছেলেটি সাওদা (রাঃ)-কে দেখতে পাইনি। [২০৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯৩)
সা’দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার ভাইয়ের ছেলে। আমার ভাই এর ব্যাপারে আমাকে ওসিয়ত করে গেছেন। আবদ ইবনু যাম’আহ বলল, এ হচ্ছে আমার ভাই, আমার পিতার বাঁদীর পেটের সন্তান। আমার পিতার ঔরসেই তার জন্ম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবদ ইবনু যাম’আহ! সে তোমারই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সন্তান হল বিছানার মালিকেরই আর ব্যভিচারীর জন্য পাথর। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্বাহর সঙ্গে এ ছেলেটির চেহারার মিল দেখে, সাওদা বিনত যাম’আহ (রাঃ)-কে বললেনঃ এর থেকে পর্দা কর। সে জন্য মুত্যুর আগে পর্যন্ত ছেলেটি সাওদা (রাঃ)-কে দেখতে পাইনি। [২০৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯৩)
হাদিস নং: ৭১৮৩
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن نصر حدثنا عبد الرزاق اخبرنا سفيان عن منصور والاعمش عن ابي واىل قال قال عبد الله قال النبي صلى الله عليه وسلم لا يحلف على يمين صبر يقتطع مالا وهو فيها فاجر الا لقي الله وهو عليه غضبان فانزل الله (ان الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا) الاية.
৭১৮৩. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক মাল আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা শপথ করে, সে আল্লাহ্ তা’আলার সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার উপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা’আলা আয়াত অবতীর্ণ করেছেনঃ ’’নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে’’- (সূরাহ আলে ’ইমরান ৩/৭৭)। [২৩৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮১ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯৪)
হাদিস নং: ৭১৮৪
সহিহ (Sahih)
فجاء الاشعث وعبد الله يحدثهم فقال في نزلت وفي رجل خاصمته في بىر فقال النبي صلى الله عليه وسلم الك بينة قلت لا قال فليحلف قلت اذا يحلف فنزلت ان الذين يشترون بعهد الله الاية.
৭১৮৪. যখন ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) তাদেরকে হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন আশ’আস ইবনু কায়স (রাঃ) এলেন এবং বললেন যে এ আয়াতটি আমি ও অন্য একটি লোক সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। একটি কূয়া নিয়ে যার সাথে আমি বিবাদ করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার কাছে প্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে সে কসম করুক। আমি বললাম, সে কসম করবেই। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়: ’’যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করে.....’’- (সূরাহ আলে ’ইমরান ৩/৭৭)। [২৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯৪)
হাদিস নং: ৭১৮৫
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري اخبرني عروة بن الزبير ان زينب بنت ابي سلمة اخبرته عن امها ام سلمة قالت سمع النبي صلى الله عليه وسلم جلبة خصام عند بابه فخرج عليهم فقال انما انا بشر وانه ياتيني الخصم فلعل بعضا ان يكون ابلغ من بعض اقضي له بذلك واحسب انه صادق فمن قضيت له بحق مسلم فانما هي قطعة من النار فلياخذها او ليدعها.
وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ شُبْرُمَةَ الْقَضَاءُ فِي قَلِيلِ الْمَالِ وَكَثِيرِهِ سَوَاءٌ
ইবনু ’উয়াইনাহ ইবনু শুবরুমা-এর সূত্রে বলেন যে, অল্প মাল আর বেশি মালের বিচারের বিধান একই রকম।
৭১৮৫. উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দরজার পাশে ঝগড়া বিবাদের আওয়াজ শুনতে পেলেন। তাই তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে গেলেন এবং বললেনঃ আমি একজন মানুষ মাত্র। ঝগড়া বিবাদ আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। হয়ত তাদের কেউ অন্যের চেয়ে পটুভাষী। আমি তার ভিত্তিতে ফায়সালা করি এবং আমি মনে করি সে সত্যবাদী। সুতরাং আমি যদি কাউকে অন্য মুসলিমের হক দেয়ার ফায়সালা করি তাহলে তা (তার জন্য) এক টুকরা আগুন ছাড়া কিছু নয়। কাজেই সে তা গ্রহণ করুক কিংবা ছেড়ে দিক। [২৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৫)
ইবনু ’উয়াইনাহ ইবনু শুবরুমা-এর সূত্রে বলেন যে, অল্প মাল আর বেশি মালের বিচারের বিধান একই রকম।
৭১৮৫. উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দরজার পাশে ঝগড়া বিবাদের আওয়াজ শুনতে পেলেন। তাই তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে গেলেন এবং বললেনঃ আমি একজন মানুষ মাত্র। ঝগড়া বিবাদ আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। হয়ত তাদের কেউ অন্যের চেয়ে পটুভাষী। আমি তার ভিত্তিতে ফায়সালা করি এবং আমি মনে করি সে সত্যবাদী। সুতরাং আমি যদি কাউকে অন্য মুসলিমের হক দেয়ার ফায়সালা করি তাহলে তা (তার জন্য) এক টুকরা আগুন ছাড়া কিছু নয়। কাজেই সে তা গ্রহণ করুক কিংবা ছেড়ে দিক। [২৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮৫)