হাদিস নং: ৭৩৩১
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة عن انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اللهم بارك لهم في مكيالهم وبارك لهم في صاعهم ومدهم يعني اهل المدينة
৭৩৩১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে দু’আ করেছেনঃ হে আল্লাহ্! তাদের পরিমাপে বরকত দান করুন, তাদের সা’-এ বরকত দিন এবং তাদের মুদে- অর্থাৎ মাদ্বীনাবাসীদের। [২১৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৩১)
হাদিস নং: ৭৩৩২
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر حدثنا ابو ضمرة حدثنا موسى بن عقبة عن نافع عن ابن عمر ان اليهود جاءوا الى النبي صلى الله عليه وسلم برجل وامراة زنيا فامر بهما فرجما قريبا من حيث توضع الجناىز عند المسجد
৭৩৩২. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ইয়াহূদীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যভিচারী পুরুষ এবং এক ব্যভিচারিণী নারীকে নিয়ে আসল। তখন তিনি তাদের দু’জনকে শাস্তি দেয়ার নির্দেশ দিলে মসজিদে নাবাবীর নিকট জানাযা রাখার স্থানে তাদেরকে পাথর নিক্ষেপে মারা হয়। [১৩২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৩২)
হাদিস নং: ৭৩৩৩
সহিহ (Sahih)
اسماعيل حدثني مالك عن عمرو مولى المطلب عن انس بن مالك ان رسول الله صلى الله عليه وسلم طلع له احد فقال هذا جبل يحبنا ونحبه اللهم ان ابراهيم حرم مكة واني احرم ما بين لابتيها تابعه سهل عن النبي صلى الله عليه وسلم في احد
৭৩৩৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা উহুদ পাহাড় নজরে পড়লে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ পর্বত আমাদেরকে ভালবাসে আর আমরাও একে ভালবাসি। হে আল্লাহ্! ইব্রাহীম (আঃ) মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন, আর আমি এ মাদ্বীনাহর দু’টি কঙ্করময় প্রান্তের মাঝের স্থানকে হারাম ঘোষণা করছি। উহুদ সংক্রান্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীস বর্ণনায় সাহল (রাবী) আনাস (রাঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৩৩)
হাদিস নং: ৭৩৩৪
সহিহ (Sahih)
ابن ابي مريم حدثنا ابو غسان حدثني ابو حازم عن سهل انه كان بين جدار المسجد مما يلي القبلة وبين المنبر ممر الشاة
৭৩৩৪. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মসজিদে নববীর কিবলার দিকের দেয়াল ও মিম্বরের মাঝে মাত্র একটা বকরী যাতায়াতের জায়গা ছিল। [৪৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৩৪)
হাদিস নং: ৭৩৩৫
সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي حدثنا عبد الرحمن بن مهدي حدثنا مالك عن خبيب بن عبد الرحمن عن حفص بن عاصم عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بين بيتي ومنبري روضة من رياض الجنة ومنبري على حوضي
৭৩৩৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার ঘর ও আমার মিম্বরের মাঝের জায়গা জান্নাতের বাগানগুলোর একটি বাগান। আর আমার মিম্বর আমার হাওযের উপর। [১১৯৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৩৫)
হাদিস নং: ৭৩৩৬
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا جويرية عن نافع عن عبد الله قال سابق النبي صلى الله عليه وسلم بين الخيل فارسلت التي ضمرت منها وامدها الى الحفياء الى ثنية الوداع والتي لم تضمر امدها ثنية الوداع الى مسجد بني زريق وان عبد الله كان فيمن سابق
৭৩৩৬. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। ক্ষিপ্র গতির জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়াগুলোর প্রতিযোগিতার স্থান ছিল হাফয়া হতে সানীয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত। আর প্রশিক্ষণবিহীনগুলোর স্থান ছিল সানীয়্যাতুল বিদা হতে বানী যুরায়ক-এর মাসজিদ পর্যন্ত। ’আবদুল্লাহ্ও প্রতিযোগীদের মধ্যে ছিলেন। [৪২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৩৬)
হাদিস নং: ৭৩৩৭
সহিহ (Sahih)
قتيبة عن ليث عن نافع عن ابن عمر ح وحدثني اسحاق اخبرنا عيسى وابن ادريس وابن ابي غنية عن ابي حيان عن الشعبي عن ابن عمر قال سمعت عمر على منبر النبي صلى الله عليه وسلم
৭৩৩৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’উমার (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বরে (খুৎবাহ দিতে) শুনেছি। [৪৬১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- র৩৭)
হাদিস নং: ৭৩৩৮
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري اخبرني الساىب بن يزيد سمع عثمان بن عفان خطبنا على منبر النبي صلى الله عليه وسلم
৭৩৩৮. সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’উসমান ইবনু ’আফফান (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বারে (খুৎবা দিতে) শুনেছি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৩৮)
হাদিস নং: ৭৩৩৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا عبد الاعلى حدثنا هشام بن حسان ان هشام بن عروة حدثه عن ابيه ان عاىشة قالت قد كان يوضع لي ولرسول الله صلى الله عليه وسلم هذا المركن فنشرع فيه جميعا
৭৩৩৯. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোসলের জন্য এ পাত্রটি রাখা হত। আমরা এক সাথে এর থেকে গোসল করতাম।[1] [২৫০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৩৯)
নোট: [1] দাম্পত্য জীবনকে সুখময় করার উদ্দেশ্যে মুসলিমদের ঘরগুলোতে ব্যবস্থা থাকা দরকার যাতে তারা রাসূলের এ সুন্নাত পালন করতে পারেন।
হাদিস নং: ৭৩৪০
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا عباد بن عباد حدثنا عاصم الاحول عن انس قال حالف النبي صلى الله عليه وسلم بين الانصار وقريش في داري التي بالمدينة
৭৩৪০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার ও মুহাজিরদেরকে আমার মাদ্বীনাহর বাড়িতে প্রীতির ডোরে বেঁধেছিলেন। [২২৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮২৮ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪০ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৭৩৪১
সহিহ (Sahih)
وقنت شهرا يدعو على احياء من بني سليم
৭৩৪১. এবং বানী সুলায়মের গোত্রের উপর বদদু’আ করার জন্য মাসব্যাপী (তিনি (ফজরের সালাতে) কুনূত (নাযিলা) পড়েছিলেন। [২১৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮২৮ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪০ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৭৩৪২
সহিহ (Sahih)
ابو كريب حدثنا ابو اسامة حدثنا بريد عن ابي بردة قال قدمت المدينة فلقيني عبد الله بن سلام فقال لي انطلق الى المنزل فاسقيك في قدح شرب فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وتصلي في مسجد صلى فيه النبي صلى الله عليه وسلم فانطلقت معه فسقاني سويقا واطعمني تمرا وصليت في مسجده
৭৩৪২. আবূ বুরদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদ্বীনাহ্য় আসলে ’আবদুল্লাহ্ ইবনু সালাম (রাঃ) আমার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি আমাকে বললেন, চলুন ঘরে যাই। আমি আপনাকে একটি পাত্রে পান করাবো, যেটিতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করেছেন। আপনি ঐ সালাতের জায়গায় সালাত পড়তে পারবেন, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত পড়েছিলেন। অতঃপর আমি তার সঙ্গে গেলাম। তিনি আমাকে ছাতু গুলে খাওয়ালেন এবং খেজুর খাওয়ালেন। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত পড়ার স্থানে সালাত পড়লাম। [৩৮১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪১)
হাদিস নং: ৭৩৪৩
সহিহ (Sahih)
سعيد بن الربيع حدثنا علي بن المبارك عن يحيى بن ابي كثير حدثني عكرمة قال حدثني ابن عباس ان عمر حدثه قال حدثني النبي صلى الله عليه وسلم قال اتاني الليلة ات من ربي وهو بالعقيق ان صل في هذا الوادي المبارك وقل عمرة وحجة وقال هارون بن اسماعيل حدثنا علي عمرة في حجة
৭৩৪৩. ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ আকীক নামক জায়গায় থাকার সময় এক রাতে আমার রবেবর নিকট হতে একজন আগন্তুক (ফেরেশ্তা) আমার কাছে এলেন। তিনি বলেন, এই বারাকাতময় উপত্যকায় সালাত পড়ুন এবং বলুন, ’উমরাহ ও হাজ্জের নিয়ত করছি। হারূন ইবনু ইসমাঈল (রহ.) বলেন, ’আলী (রাঃ) আমার কাছে হাজ্জের সঙ্গে ’উমরার নিয়ত করুন’ শব্দ বর্ণনা করেছেন। [১৫৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪২)
হাদিস নং: ৭৩৪৪
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر وقت النبي صلى الله عليه وسلم قرنا لاهل نجد والجحفة لاهل الشام وذا الحليفة لا÷هل المدينة قال سمعت هذا من النبي صلى الله عليه وسلم وبلغني ان النبي صلى الله عليه وسلم قال ولاهل اليمن يلملم وذكر العراق فقال لم يكن عراق يومىذ
৭৩৪৪. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মীকাত নির্ধারণ করেছেন নাজদবাসীদের জন্য কারনকে, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহ্ফাকে এবং মাদ্বীনাবাসীদের জন্য যুল হুলায়ফাকে। ইবনু ’উমার (রাঃ) বলেন, আমি এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আমার কাছে খবর পৌঁছেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইয়ামানের লোকেদের মীকাত হচ্ছে ইয়া’লামলাম এবং ইরাকের কথা উল্লেখ করা হল। তখন ইবনু ’উমার (রাঃ) বললেন, সে সময় ইরাক ছিল না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৩)
হাদিস নং: ৭৩৪৫
সহিহ (Sahih)
عبد الرحمن بن المبارك حدثنا الفضيل حدثنا موسى بن عقبة حدثني سالم بن عبد الله عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم انه اري وهو في معرسه بذي الحليفة فقيل له انك ببطحاء مباركة
৭৩৪৫. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে, তিনি যুলহুলায়ফাতে রাতের শেষ ভাগে অবস্থানকালে তাকে বলা হলো আপনি একটি বরকতপূর্ণ জায়গায় আছেন। [৪৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৪)
হাদিস নং: ৭৩৪৬
সহিহ (Sahih)
احمد بن محمد اخبرنا عبد الله اخبرنا معمر عن الزهري عن سالم عن ابن عمر انه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول في صلاة الفجر ورفع راسه من الركوع قال اللهم ربنا ولك الحمد في الاخيرة ثم قال اللهم العن فلانا وفلانا فانزل الله عز وجل (ليس لك من الامر شيء او يتوب عليهم او يعذبهم فانهم ظالمون)
৭৩৪৬. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফজরের সালাতের শেষে রুকু’ থেকে মাথা উঠানোর সময় বলতে শুনেছেন, ربنا ولك الحمد الخ হে আমাদের প্রতিপালক! সমস্ত প্রশংসা কেবলমাত্র আপনারই জন্য। তিনি আরো বললেন, হে আল্লাহ্! আপনি অমুক অমুক লোকের উপর অভিশাপ দিন। তখন আল্লাহ্ নাযিল করলেনঃ ’’আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন- এ ব্যাপারে তোমার কিছু করার নেই। কেননা তারা হচ্ছে যালিম’’- (সূরাহ আলে ’ইমরান ৩/১২৮)। [৪০৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৫)
হাদিস নং: ৭৩৪৭
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري ح حدثني محمد بن سلام اخبرنا عتاب بن بشير عن اسحاق عن الزهري اخبرني علي بن حسين ان حسين بن علي اخبره ان علي بن ابي طالب قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم طرقه وفاطمة عليها السلام بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لهم الا تصلون فقال علي فقلت يا رسول الله انما انفسنا بيد الله فاذا شاء ان يبعثنا بعثنا فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم حين قال له ذلك ولم يرجع اليه شيىا ثم سمعه وهو مدبر يضرب فخذه وهو يقول (وكان الانسان اكثر شيء جدلا) قال ابو عبد الله يقال ما اتاك ليلا فهو طارق ويقال الطارق النجم و الثاقب المضيء يقال اثقب نارك للموقد
৭৩৪৭. ’আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এবং রাসূলের মেয়ে ফাতিমাহ (রাঃ)-এর নিকট আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা সালাত পড়েছ কি? ’আলী (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জীবন তো আল্লাহর হাতে। তিনি আমাদেরকে যখন জাগাতে চান, জাগিয়ে দেন। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলেন, তার কথার জবাব দিলেন না। ’আলী (রাঃ) বলেন, আমি শুনতে পেলাম, তিনি চলে যাচ্ছেন, আর ঊরুতে হাত মেরে মেরে বলছেনঃ মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্কপ্রিয়। আবূ ’আবদুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেন, তোমার কাছে রাতের বেলা আগমনকারী আসে তাকে ’তারিক’ বা রাতের অতিথি বলে। ’তারিক’ একটি তারাকেও বলা হয়। আর ’সাক্বিব’ অর্থ হল জ্যোতির্ময়। এজন্যই আগুন যে জ্বালায় তাকে বলা হয়, তুমি আগুন জ্বালাও।[1] [১১২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৬)
নোট: [1] শাইখ আবূ মুহাম্মাদ ইবনু আবি জামরাহ বলেন : এ হাদীসের মধ্যে শিক্ষণীয় হচ্ছে :
১. বিশেষ করে গাফেল নিকটাত্মীয় এবং সঙ্গী সাথীদেরকে স্মরণ করে দেয়ার বৈধতা।
২. যা অন্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সেই ব্যাপারে কোন ব্যক্তির তার নিজের সাথে কথোপকথনের বৈধতা।
৩. আশ্চর্য হওয়ার সময় কোন ব্যক্তির তার নিজের কোন অঙ্গের উপর প্রহার করার বৈধতা। অনুরূপভাবে আফসোস বা পরিতাপের সময়ও তা বৈধ।
৪. আলী (রাঃ)’র ফাযীলাত। (ফাতহুল বারী)
১. বিশেষ করে গাফেল নিকটাত্মীয় এবং সঙ্গী সাথীদেরকে স্মরণ করে দেয়ার বৈধতা।
২. যা অন্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সেই ব্যাপারে কোন ব্যক্তির তার নিজের সাথে কথোপকথনের বৈধতা।
৩. আশ্চর্য হওয়ার সময় কোন ব্যক্তির তার নিজের কোন অঙ্গের উপর প্রহার করার বৈধতা। অনুরূপভাবে আফসোস বা পরিতাপের সময়ও তা বৈধ।
৪. আলী (রাঃ)’র ফাযীলাত। (ফাতহুল বারী)
হাদিস নং: ৭৩৪৮
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا الليث عن سعيد عن ابيه عن ابي هريرة قال بينا نحن في المسجد خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فقال انطلقوا الى يهود فخرجنا معه حتى جىنا بيت المدراس فقام النبي صلى الله عليه وسلم فناداهم فقال يا معشر يهود اسلموا تسلموا فقالوا قد بلغت يا ابا القاسم قال فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك اريد اسلموا تسلموا فقالوا قد بلغت يا ابا القاسم فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك اريد ثم قالها الثالثة فقال اعلموا انما الارض لله ورسوله واني اريد ان اجليكم من هذه الارض فمن وجد منكم بماله شيىا فليبعه والا فاعلموا انما الارض لله ورسوله
৭৩৪৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা মসজিদে নাবাবীতে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসজিদ থেকে বের হয়ে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা চলো ইয়াহূদীদের সেখানে যাই। আমরা তাঁর সঙ্গে বেরোলাম। শেষে আমরা বায়তুল মিদরাসে (তাদের শিক্ষালয়ে) পৌঁছলাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দাঁড়িয়ে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবূল কর, এতে তোমরা নিরাপত্তা লাভ করবে। ইয়াহূদীরা বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌঁছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমার ইচ্ছা তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর এবং শান্তিতে থাক।
তারাও আবার বলল, হে আবুল কাসিম! আপনার পৌঁছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি এরকমই ইচ্ছে পোষণ করি। তৃতীয়বারেও তিনি তাই বললেন। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখো, যমীন একমাত্র আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে নির্বাসিত করতে চাই। কাজেই তোমাদের যাদের মালপত্র আছে, তা যেন সে বিক্রি করে দেয়। তা নাহলে জেনে রেখো যমীন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের।[1] [৩১৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৭)
তারাও আবার বলল, হে আবুল কাসিম! আপনার পৌঁছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি এরকমই ইচ্ছে পোষণ করি। তৃতীয়বারেও তিনি তাই বললেন। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখো, যমীন একমাত্র আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে নির্বাসিত করতে চাই। কাজেই তোমাদের যাদের মালপত্র আছে, তা যেন সে বিক্রি করে দেয়। তা নাহলে জেনে রেখো যমীন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের।[1] [৩১৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৭)
নোট: [1] ইহুদীদের সঙ্গে নাবী (সাঃ) এর শান্তি চুক্তি থাকলেও তারা চুক্তি লংঘন করে মুসলিমদের বিরোধিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। ইহুদীদের কায়নুকা বাজারে পর্দানশীন এক আরব মহিলা দুধ বিক্রি করতে আসলে ইহুদীরা তাকে চরমভাবে অপমানিত করে। ইহুদীদের নানামুখী ষড়যন্ত্র ও নির্লজ্জ শত্রুতার প্রেক্ষাপটে নাবী (সাঃ) তাদেরকে বললেন- হে ইয়াহুদ সমাজ! তোমরা আনুগত্য স্বীকার কর, না হলে কুরাইশদের মত তোমাদেরকেও বিপন্ন হতে হবে। তারা তা না করায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্ত্ততি নেন। তারা দূর্গে আশ্রয় নেয়। পনের দিন অবরুদ্ধ থাকার পর তারা আত্মা সমর্পণে বাধ্য হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদের নির্বাসিত করেন।
হাদিস নং: ৭৩৪৯
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن منصور حدثنا ابو اسامة حدثنا الاعمش حدثنا ابو صالح عن ابي سعيد الخدري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يجاء بنوح يوم القيامة فيقال له هل بلغت فيقول نعم يا رب فتسال امته هل بلغكم فيقولون ما جاءنا من نذير فيقول من شهودك فيقول محمد وامته فيجاء بكم فتشهدون ثم قرا رسول الله صلى الله عليه وسلم (وكذلك جعلناكم امة وسطا) قال عدلا (لتكونوا شهداء على الناس ويكون الرسول عليكم شهيدا) وعن جعفر بن عون حدثنا الاعمش عن ابي صالح عن ابي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذا
وَمَا أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلُزُومِ الْجَمَاعَةِ وَهُمْ أَهْلُ الْعِلْمِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামা’আতকে আঁকড়ে ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আর জামা’আত আলিমগণকেই বলা হয়েছে।
৭৩৪৯. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন নূহ্ (আঃ)-কে হাযির করে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি (দ্বীনের দা’ওয়াত) পৌঁছে দিয়েছ? তখন তিনি বলবেন, হ্যাঁ। হে আমার রব। এরপর তাঁর উম্মাতকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের কাছে নূহ্ (দা’ওয়াত) পৌঁছিয়েছে কি? তারা সকলে বলে উঠবে, আমাদের কাছে কোন ভয় প্রদর্শনকারী আসেনি। তখন নূহ্ (আঃ)-কে বলা হবে, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মাতরাই (আমার সাক্ষী)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদেরকে তখন নিয়ে আসা হবে এবং তোমরা (তাঁর পক্ষে) সাক্ষ্য দেবে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণী পাঠ করলেনঃ এভাবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মাত বানিয়েছেন। (وسط অর্থ ভারসাম্যপূর্ণ) তাহলে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষী হতে পারবে আর রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হবেন- (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১৪৩)। জা’ফর ইবনু ’আওন (রহ.)....আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [৩৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৮)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামা’আতকে আঁকড়ে ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আর জামা’আত আলিমগণকেই বলা হয়েছে।
৭৩৪৯. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন নূহ্ (আঃ)-কে হাযির করে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি (দ্বীনের দা’ওয়াত) পৌঁছে দিয়েছ? তখন তিনি বলবেন, হ্যাঁ। হে আমার রব। এরপর তাঁর উম্মাতকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের কাছে নূহ্ (দা’ওয়াত) পৌঁছিয়েছে কি? তারা সকলে বলে উঠবে, আমাদের কাছে কোন ভয় প্রদর্শনকারী আসেনি। তখন নূহ্ (আঃ)-কে বলা হবে, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মাতরাই (আমার সাক্ষী)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদেরকে তখন নিয়ে আসা হবে এবং তোমরা (তাঁর পক্ষে) সাক্ষ্য দেবে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বাণী পাঠ করলেনঃ এভাবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মাত বানিয়েছেন। (وسط অর্থ ভারসাম্যপূর্ণ) তাহলে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষী হতে পারবে আর রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হবেন- (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১৪৩)। জা’ফর ইবনু ’আওন (রহ.)....আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে এরকমই বর্ণনা করেছেন। [৩৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৮)
হাদিস নং: ৭৩৫০
সহিহ (Sahih)
اسماعيل عن اخيه عن سليمان بن بلال عن عبد المجيد بن سهيل بن عبد الرحمن بن عوف انه سمع سعيد بن المسيب يحدث ان ابا سعيد الخدري وابا هريرة حدثاه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث اخا بني عدي الانصاري واستعمله على خيبر فقدم بتمر جنيب فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم اكل تمر خيبر هكذا قال لا والله يا رسول الله انا لنشتري الصاع بالصاعين من الجمع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تفعلوا ولكن مثلا بمثل او بيعوا هذا واشتروا بثمنه من هذا وكذلك الميزان
৭৩৫০-৭৩৫১. আবূ সা’ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী আদী আনসারী গোত্রের এক লোককে খায়বারের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে পাঠালেন। এরপর সে ফিরে আসল উন্নতমানের খেজুর নিয়ে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, খায়বারের সব খেজুরই কি এ রকম? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! সব খেজুরই এমন নয়। আমরা দু’ সা’ মন্দ খেজুরের বিনিময়ে এরূপ এক সা’ ভাল খেজুর খরিদ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এমন করো না। বরং সমানে সমানে কেনা বেচা করো। কিংবা এগুলো বিক্রি করে এর মূল্য দিয়ে সেগুলো খরিদ করো। ওজনের সব জিনিসের হুকুম এটাই। [২২০১, ২২০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৯)