অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৯৭/১. আল্লাহর তাওহীদের দিকে উম্মাতের প্রতি নাবী...
মোট ১৯৩ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭৪৬৪ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا عبد الوارث عن عبد العزيز عن انس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا دعوتم الله فاعزموا في الدعاء ولا يقولن احدكم ان شىت فاعطني فان الله لا مستكره له
(وَمَا تَشَاءُونَ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ) وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ).
(وَلاَ تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَلِكَ غَدًا إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ).
(إِنَّكَ لاَ تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ). قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِيهِ نَزَلَتْ فِي أَبِي طَالِبٍ.
(يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ).

 

আল্লাহর বাণীঃ তোমরা ইচ্ছা করবে না যদি না আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন- (সূরাহ আদ দাহর ৭৬/৩০)। আল্লাহর বাণীঃ তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর- (সূরাহ আলু ’ইমরান ৩/২৬)। কোন বিষয় সম্পর্কে কক্ষনো বল না যে, ’ওটা আমি আগামীকাল করব ’আল্লাহ ইচ্ছে করলে’ বলা ছাড়া- (সূরাহ কাহাফ ১৮/২৩-২৪)। আল্লাহর বাণীঃ তুমি যাকে ভালবাস তাকে সৎপথ দেখাতে পারবে না, বরং আল্লাহ্ই যাকে চান সৎ পথে পরিচালিত করেন- (সূরাহ আল-ক্বাসাস ২৮/৫৬)। সা’ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাঃ) তাঁর পিতা মুসাইয়্যাব থেকে বলেন, উক্ত আয়াত আবূ তালিব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ্ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না- (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/১৮৫)।


৭৪৬৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা আল্লাহর কাছে দু’আ করবে, তখন দু’আয় দৃঢ়সংকল্প থাকবে। তোমাদের কেউই এমন কথা বলবে না, তুমি যদি চাও, তাহলে আমাকে দাও। কারণ, আল্লাহকে বাধ্যকারী কেউ নেই। [৬৩৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫৬)
হাদিস নং: ৭৪৬৫ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري ح و حدثنا اسماعيل حدثني اخي عبد الحميد عن سليمان عن محمد بن ابي عتيق عن ابن شهاب عن علي بن حسين ان حسين بن علي عليهما السلام اخبره ان علي بن ابي طالب اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم طرقه وفاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فقال لهم الا تصلون قال علي فقلت يا رسول الله انما انفسنا بيد الله فاذا شاء ان يبعثنا بعثنا فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم حين قلت ذلك ولم يرجع الي شيىا ثم سمعته وهو مدبر يضرب فخذه ويقول (وكان الانسان اكثر شيء جدلا)
৭৪৬৫. ’আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও রাসূল-কন্যা ফাতিমার কাছে রাতে আসলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমরা সালাত আদায় করছ না? ’আলী বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জীবন তো আল্লাহর হাতে। তিনি যখন আমাদেরকে ঘুম থেকে জাগাতে চান জাগিয়ে দেন। আমি এ কথা বলার পর, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে গেলেন। কথার কোন উত্তর দিলেন না। যাওয়ার সময় তাঁকে উরুর ওপর হাত মেরে বলতে শুনেছি, মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই বিতর্ক প্রিয়। [১১২৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫৭)
হাদিস নং: ৭৪৬৬ সহিহ (Sahih)
محمد بن سنان حدثنا فليح حدثنا هلال بن علي عن عطاء بن يسار عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال مثل المومن كمثل خامة الزرع يفيء ورقه من حيث اتتها الريح تكفىها فاذا سكنت اعتدلت وكذلك المومن يكفا بالبلاء ومثل الكافر كمثل الارزة صماء معتدلة حتى يقصمها الله اذا شاء
৭৪৬৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানদার শস্যক্ষেতের নরম ডগার মত। জোরে বাতাস বইলেই তার পাতা ঝুঁকে পড়ে। বাতাস শান্ত হলে, আবার সোজা হয়ে যায়। ঈমানদারদেরকে বালা-মুসিবত দিয়ে এভাবেই ঝুঁকিয়ে রাখা হয়। আর কাফেরের দৃষ্টান্ত দেবদারু গাছ, যা একেবারেই কঠিন ও সোজা হয়। ফলে আল্লাহ্ যখন চান সেটিকে মূলসহ উপড়ে ফেলেন। [৫৬৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫৮)
হাদিস নং: ৭৪৬৭ সহিহ (Sahih)
الحكم بن نافع اخبرنا شعيب عن الزهري اخبرني سالم بن عبد الله ان عبد الله بن عمر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو قاىم على المنبر يقول انما بقاوكم فيما سلف قبلكم من الامم كما بين صلاة العصر الى غروب الشمس اعطي اهل التوراة التوراة فعملوا بها حتى انتصف النهار ثم عجزوا فاعطوا قيراطا قيراطا ثم اعطي اهل الانجيل الانجيل فعملوا به حتى صلاة العصر ثم عجزوا فاعطوا قيراطا قيراطا ثم اعطيتم القران فعملتم به حتى غروب الشمس فاعطيتم قيراطين قيراطين قال اهل التوراة ربنا هولاء اقل عملا واكثر اجرا قال هل ظلمتكم من اجركم من شيء قالوا لا فقال فذلك فضلي اوتيه من اشاء
৭৪৬৭. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন তিনি মিম্বরে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের আগের উম্মাতদের তুলনায় তোমাদের অবস্থানের সময়কাল ’আসরের সালাত ও সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়। তাওরাতের ধারকদেরকে তাওরাত দেয়া হলে তারা সে মোতাবেক ’আমল করল, তবে দুপুর হলে তারা অপারগ হয়ে গেল। এ জন্য তাদেরকে এক এক কীরাত করে পারিশ্রমিক দেয়া হলো। অতঃপর ইঞ্জিলের ধারকদেরকে ইঞ্জিল দেয়া হলো, তারা সে মোতাবেক ’আমল করল ’আসরের সালাত পর্যন্ত, তারপর তারা অক্ষম হয়ে পড়লে তাদেরকে দেয়া হলো এক কীরাত এক কীরাত করে। অতঃপর তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হলো। ফলে এ কুরআন মোতাবেক তোমরা আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ’আমল করেছ। এ জন্য তোমাদেরকে দু’কীরাত দু’কীরাত করে পারিশ্রমিক দেয়া হয়েছে। তাওরাতের ধারকরা বললো, হে আমাদের প্রতিপালক! তারাতো আমলে সবচেয়ে কম আবার পারিশ্রমিকে সবচেয়ে অধিক। আল্লাহ্ তখন বললেনঃ তোমাদের পারিশ্রমিকে তোমাদের উপর কোন যুলুম করা হয়েছে কি? তারা বলল, না। তখন আল্লাহ্ বললেন, সেটি হচ্ছে আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে চাই তাকে দিই।

[৫৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৫৯)
হাদিস নং: ৭৪৬৮ সহিহ (Sahih)
عبد الله المسندي حدثنا هشام اخبرنا معمر عن الزهري عن ابي ادريس عن عبادة بن الصامت قال بايعت رسول الله صلى الله عليه وسلم في رهط فقال ابايعكم على ان لا تشركوا بالله شيىا ولا تسرقوا ولا تزنوا ولا تقتلوا اولادكم ولا تاتوا ببهتان تفترونه بين ايديكم وارجلكم ولا تعصوني في معروف فمن وفى منكم فاجره على الله ومن اصاب من ذلك شيىا فاخذ به في الدنيا فهو له كفارة وطهور ومن ستره الله فذلك الى الله ان شاء عذبه وان شاء غفر له
৭৪৬৮. ’উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদল লোকের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বায়’আত করেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের বায়’আত এ শর্তে কবূল করছি যে, তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তোমাদের হাত ও পায়ের মধ্যবর্তী লজ্জাস্থানের ব্যাপারে কোন অপবাদ রটনা করবে না, কোন ন্যায়সঙ্গত কাজে আমার অবাধ্য হবে না। তোমাদের যারা এ সব পূর্ণ করবে, আল্লাহর কাছে তার প্রতিদান আছে। আর কেউ এ সব জিনিসের কোনটায় জড়িয়ে পড়লে তাকে যদি সে জন্য দুনিয়ায় শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা এবং পবিত্রতা। আর যাদের দোষ আল্লাহ্ ঢেকে রাখেন সেটি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন, ইচ্ছা করলে ক্ষমা করবেন। [১৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬০)
হাদিস নং: ৭৪৬৯ সহিহ (Sahih)
معلى بن اسد حدثنا وهيب عن ايوب عن محمد عن ابي هريرة ان نبي الله سليمان عليه السلام كان له ستون امراة فقال لاطوفن الليلة على نساىي فلتحملن كل امراة ولتلدن فارسا يقاتل في سبيل الله فطاف على نساىه فما ولدت منهن الا امراة ولدت شق غلام قال نبي الله صلى الله عليه وسلم لو كان سليمان استثنى لحملت كل امراة منهن فولدت فارسا يقاتل في سبيل الله
৭৪৬৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সুলাইমানের ষাটজন স্ত্রী ছিল। একদা সুলাইমান (আঃ) বললেন, আজ রাতে আমি অবশ্য অবশ্যই আমার সব স্ত্রীর কাছে যাব। যার ফলে স্ত্রীরা সবাই অবশ্যই গর্ভবতী হয়ে এক একজন অশ্বারোহী প্রসব করবে যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। অতএব সুলাইমান (রাঃ) তাঁর সব স্ত্রীর কাছে গেলেন, তবে তাদের একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কেউ গর্ভবতী হলো না। সেও প্রসব করলো একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি সুলাইমান (আঃ) ইনশা-আল্লাহ্ বলতেন, তাহলে অবশ্যই স্ত্রীরা সবাই গর্ভবতী হত এবং এমন সন্তান প্রসব করতো যারা অশ্বারোহী হয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬১)
হাদিস নং: ৭৪৭০ সহিহ (Sahih)
محمد حدثنا عبد الوهاب الثقفي حدثنا خالد الحذاء عن عكرمة عن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل على اعرابي يعوده فقال لا باس عليك طهور ان شاء الله قال قال الاعرابي طهور بل هي حمى تفور على شيخ كبير تزيره القبور قال النبي صلى الله عليه وسلم فنعم اذا
৭৪৭০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুঈনের কাছে প্রবেশ করলেন তার রোগের খোঁজখবর নিতে। তিনি বললেনঃ তোমার চিন্তার কোন কারণ নেই। ইনশা আল্লাহ্ তুমি সুস্থ হয়ে যাবে। বেদুঈন করল সুস্থতা? না, বরং এটি এমন জ্বর যা একজন বেশি বুড়োকে সিদ্ধ করছে, ফলে তাকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তবে তাই। [৩৬১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬২)
হাদিস নং: ৭৪৭১ সহিহ (Sahih)
ابن سلام اخبرنا هشيم عن حصين عن عبد الله بن ابي قتادة عن ابيه حين ناموا عن الصلاة قال النبي صلى الله عليه وسلم ان الله قبض ارواحكم حين شاء وردها حين شاء فقضوا حواىجهم وتوضىوا الى ان طلعت الشمس وابيضت فقام فصلى
৭৪৭১. আবূ ক্বাতাদাহ তাঁর পিতা (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন তাঁরা সালাত থেকে ঘুমিয়ে ছিলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ আল্লাহ্ যখন ইচ্ছা করেন তোমাদের রূহ্কে নিয়ে নেন, আর যখন ইচ্ছা ফিরিয়ে দেন। এরপর তারা তাদের প্রয়োজন সারলেন এবং ওযূ করলেন। এতে সূর্য উঠে সাদা রং হয়ে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠলেন, সালাত আদায় করলেন। [৫৯৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৩)
হাদিস নং: ৭৪৭২ সহিহ (Sahih)
يحيى بن قزعة حدثنا ابراهيم عن ابن شهاب عن ابي سلمة والاعرج ح و حدثنا اسماعيل حدثني اخي عن سليمان عن محمد بن ابي عتيق عن ابن شهاب عن ابي سلمة بن عبد الرحمن وسعيد بن المسيب ان ابا هريرة قال استب رجل من المسلمين ورجل من اليهود فقال المسلم والذي اصطفى محمدا على العالمين في قسم يقسم به فقال اليهودي والذي اصطفى موسى على العالمين فرفع المسلم يده عند ذلك فلطم اليهودي فذهب اليهودي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبره بالذي كان من امره وامر المسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم لا تخيروني على موسى فان الناس يصعقون يوم القيامة فاكون اول من يفيق فاذا موسى باطش بجانب العرش فلا ادري اكان فيمن صعق فافاق قبلي او كان ممن استثنى الله
৭৪৭২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার একজন মুসলিম ও একজন ইয়াহূদী পরস্পর গালাগালি করল। মুসলিম লোকটি বলল, সে মহান সত্তার কসম! যিনি জগতসমূহের ওপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মনোনীত করেছেন। এরপর ইয়াহূদীটিও বলল, সে মহান সত্তার কসম! যিনি জগতসমূহের ওপর মূসা (আঃ)-কে মনোনীত করেছেন। এরপরই মুসলিম লোকটি হাত উঠিয়ে ইয়াহূদীকে চড় মারল। তখন ইয়াহূদী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেল এবং তার ও মুসলিম লোকটির মধ্যে যা ঘটেছে তা জানাল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে মূসার উপর প্রাধান্য দিও না। কেননা, সব মানুষ (শিঙ্গায় ফুৎকারে) অজ্ঞান হয়ে যাবে। তখন সর্বপ্রথম আমি জ্ঞান ফিরে পাব। পেয়েই দেখব, মূসা (আঃ) আরশের একপাশ ধরে আছেন। অতএব আমি জানি না, তিনি কি অজ্ঞান হয়ে আমার আগেই জ্ঞান ফিরে পেয়ে গেলেন, নাকি তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে আল্লাহ্ অজ্ঞান হওয়া থেকে মুক্ত রেখেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৪)
হাদিস নং: ৭৪৭৩ সহিহ (Sahih)
اسحاق بن ابي عيسى اخبرنا يزيد بن هارون اخبرنا شعبة عن قتادة عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة ياتيها الدجال فيجد الملاىكة يحرسونها فلا يقربها الدجال ولا الطاعون ان شاء الله
৭৪৭৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাজ্জাল মাদ্বীনাহর দিকে আসবে, তখন সে দেখতে পাবে ফেরেশতাগণ মাদ্বীনাহকে পাহারা দিয়ে রেখেছে। কাজেই দাজ্জাল ও প্লেগ মাদ্বীনাহর নিকটেও আসতে পারবে না ইনশাআল্লাহ্। [১৮৮১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৫)
হাদিস নং: ৭৪৭৪ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري حدثني ابو سلمة بن عبد الرحمن ان ابا هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لكل نبي دعوة فاريد ان شاء الله ان اختبي دعوتي شفاعة لامتي يوم القيامة
৭৪৭৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর জন্য একটি (খাস) দু’আ আছে। আমার সে দু’আটি কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতের শাফাআতের জন্য লুকিয়ে রাখার ইচ্ছা করছি ইনশাআল্লাহ্। [৬৩০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৬)
হাদিস নং: ৭৪৭৫ সহিহ (Sahih)
يسرة بن صفوان بن جميل اللخمي حدثنا ابراهيم بن سعد عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بينا انا ناىم رايتني على قليب فنزعت ما شاء الله ان انزع ثم اخذها ابن ابي قحافة فنزع ذنوبا او ذنوبين وفي نزعه ضعف والله يغفر له ثم اخذها عمر فاستحالت غربا فلم ار عبقريا من الناس يفري فريه حتى ضرب الناس حوله بعطن
৭৪৭৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম এমন অবস্থায় আমাকে একটি কূপের কাছে দেখতে পেলাম। অতঃপর আমি সে কূপ থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় পানি উঠালাম। তারপর আবূ কুহাফার পুত্র (আবূ বকর) তা নিলেন এবং তিনি এক বা দু’ বালতি উঠালেন। তার উঠানোতে দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। তারপর ’উমার তা নিলেন। তখন তা বিরাট একটি বালতিতে রূপ ধারণ করল। আমি লোকের মধ্যে কোন বাহাদুরকে তার মত পানি তুলতে আর দেখিনি। এমনকি লোকেরা কূপের চারপাশ একেবারে ভিজিয়ে ফেলল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৭)
হাদিস নং: ৭৪৭৬ সহিহ (Sahih)
محمد بن العلاء حدثنا ابو اسامة عن بريد عن ابي بردة عن ابي موسى قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا اتاه الساىل وربما قال جاءه الساىل او صاحب الحاجة قال اشفعوا فلتوجروا ويقضي الله على لسان رسوله ما شاء
৭৪৭৬. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস ছিল, তাঁর কাছে কোন যাচ্ঞাকারী কিংবা অভাবী লোক এলে তিনি সাহাবীদের বলতেন, তোমরা তার জন্য সুপারিশ কর, এর প্রতিদান পাবে। আর আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের মুখ দিয়ে তাই প্রকাশ করেন, যা তিনি চান। [১৪৩২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৮)
হাদিস নং: ৭৪৭৭ সহিহ (Sahih)
يحيى حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن همام سمع ابا هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا يقل احدكم اللهم اغفر لي ان شىت ارحمني ان شىت ارزقني ان شىت وليعزم مسالته انه يفعل ما يشاء لا مكره له
৭৪৭৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ এভাবে দু’আ করো না, হে আল্লাহ্! তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি চাইলে আমার প্রতি রহম কর। তুমি চাইলে আমাকে রিযক দাও। বরং দু’আ প্রার্থী খুবই দৃঢ়তার সঙ্গে দু’আ করবে কেননা, তিনি যা চান তাই করেন। তাকে বাধ্য করার কেউ নেই। [৬৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৯)
হাদিস নং: ৭৪৭৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا ابو حفص، عمرو حدثنا الاوزاعي، حدثني ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ انه تمارى هو والحر بن قيس بن حصن الفزاري في صاحب موسى اهو خضر، فمر بهما ابى بن كعب الانصاري، فدعاه ابن عباس فقال اني تماريت انا وصاحبي هذا في صاحب موسى الذي سال السبيل الى لقيه، هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر شانه قال نعم اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ‏ "‏ بينا موسى في ملا بني اسراىيل اذ جاءه رجل فقال هل تعلم احدا اعلم منك فقال موسى لا‏.‏ فاوحي الى موسى بلى عبدنا خضر‏.‏ فسال موسى السبيل الى لقيه، فجعل الله له الحوت اية وقيل له اذا فقدت الحوت فارجع فانك ستلقاه‏.‏ فكان موسى يتبع اثر الحوت في البحر فقال فتى موسى لموسى ارايت اذ اوينا الى الصخرة فاني نسيت الحوت وما انسانيه الا الشيطان ان اذكره، قال موسى ذلك ما كنا نبغي، فارتدا على اثارهما قصصا فوجدا خضرا، وكان من شانهما ما قص الله ‏"‏‏.‏
৭৪৭৮. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এবং হুর ইবনু কায়স ইবনু হিস্‌ন ফাযারী (রাঃ) মূসা (আঃ)-এর সঙ্গীর ব্যাপারে দ্বিমত করছিলেন যে, তিনি কি খাযির ছিলেন? এমন সময় তাদের পাশ দিয়ে উবায় ইবনু কা’ব আনসারী (রাঃ) যাচ্ছিলেন। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) তাঁকে ডেকে বললেন, আমি এবং আমার এ বন্ধু মূসা (আঃ)-এর সঙ্গী সম্পর্কে বিতর্ক করেছি মূসা (আঃ) যার সঙ্গে সাক্ষাতের পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অবশ্যই আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার ব্যাপারে উল্লেখ করে বলতে শুনেছি যে, এক সময় মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের একদল লোকের মাঝে ছিলেন। এমন সময় এক লোক তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, মূসা! আপনি কি জানেন, আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী কেউ আছেন? মূসা (আঃ) বললেন, না।

তারপর মূসা (আঃ)-এর কাছে ওয়াহী নাযিল হল যে, হ্যাঁ আছেন, আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা (আঃ) তাঁর সঙ্গে দেখা করার পথ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। সুতরাং আল্লাহ্ সেজন্য একটি মাছকে নির্দেশ হিসেবে ঠিক করলেন এবং তাকে বলা হল, মাছটিকে যখন হারিয়ে ফেলবে, তখন সেদিকে ফিরে যাবে, তবে তুমি তাঁর দেখা পাবে। এরই প্রেক্ষাপটে মূসা (আঃ) সাগরে মাছের চিহ্ন ধরে খোঁজ করতে থাকলে মূসার সঙ্গীটি বলল, ’আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখন্ডে (বসে) ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। সেটার কথা আপনাকে বলতে শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল- (সূরাহ কাহাফ ১৮/৬৩)। মূসা বলল, ’এটাই তো সে জায়গা যেটা আমরা খুঁজছি।’ কাজেই তারা তাদের পায়ের চিহ্ন ধরে ফিরে গেল। তখন তারা পেল- (সূরাহ কাহাফ ১৮/৬৪-৬৫)। তাদের এ দু’জনের ঘটনা যা ঘটেছিল, আল্লাহ্ তারই বর্ণনা দিয়েছেন। [৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭০)
হাদিস নং: ৭৪৭৯ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري وقال احمد بن صالح حدثنا ابن وهب اخبرني يونس عن ابن شهاب عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ننزل غدا ان شاء الله بخيف بني كنانة حيث تقاسموا على الكفر يريد المحصب
৭৪৭৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা আগামী কল্য বানী কিনানা উপত্যকায় অবস্থান করব ইনশা-আল্লাহ্, যেখানে কাফিররা কুফরীর উপর দৃঢ় থাকার শপথ নিয়েছিল। তিনি (এ কথার দ্বারা) মুহাস্সাবকে উদ্দেশ্য করছিলেন। [১৫৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭১)
হাদিস নং: ৭৪৮০ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا ابن عيينة عن عمرو عن ابي العباس عن عبد الله بن عمر قال حاصر النبي صلى الله عليه وسلم اهل الطاىف فلم يفتحها فقال انا قافلون غدا ان شاء الله فقال المسلمون نقفل ولم نفتح قال فاغدوا على القتال فغدوا فاصابتهم جراحات قال النبي صلى الله عليه وسلم انا قافلون غدا ان شاء الله فكان ذلك اعجبهم فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم
৭৪৮০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফবাসীদেরকে অবরোধ করলেন। তবে তা জয় করতে পারলেন না। তখন তিনি বললেনঃ আমরা ইন্শা-আল্লাহ্ ফিরে যাব। মুসলিমগণ বলে উঠল, ’’আমরা ফিরে যাবো? কিন্তু জয় তো হলো না।’’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আগামীকাল সকালে লড়াই কর। পরদিন তারা লড়াই করল। অনেক লোক আহত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ আমরা ইন্শা আল্লাহ্ আগামীকাল সকালে ফিরে যাব। এবার কথাটি যেন মুসলিমদেরকে আনন্দ দিল। ফলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন। [৪৩৩৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭২)
হাদিস নং: ৭৪৮১ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن عمرو عن عكرمة عن ابي هريرة يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال اذا قضى الله الامر في السماء ضربت الملاىكة باجنحتها خضعانا لقوله كانه سلسلة على صفوان قال علي وقال غيره صفوان ينفذهم ذلك فاذا فزع عن قلوبهم قالوا ماذا قال ربكم قالوا الحق وهو العلي الكبير قال علي وحدثنا سفيان حدثنا عمرو عن عكرمة عن ابي هريرة بهذا قال سفيان قال عمرو سمعت عكرمة حدثنا ابو هريرة قال علي قلت لسفيان قال سمعت عكرمة قال سمعت ابا هريرة قال نعم قلت لسفيان ان انسانا روى عن عمرو عن عكرمة عن ابي هريرة يرفعه انه قرا فرغ قال سفيان هكذا قرا عمرو فلا ادري سمعه هكذا ام لا قال سفيان وهي قراءتنا
وَقَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ (مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ) وَقَالَ مَسْرُوقٌ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ إِذَا تَكَلَّمَ اللهُ بِالْوَحْيِ سَمِعَ أَهْلُ السَّمَوَاتِ شَيْئًا فَإِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ وَسَكَنَ الصَّوْتُ عَرَفُوا أَنَّهُ الْحَقُّ وَنَادَوْا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا الْحَقَّ وَيُذْكَرُ عَنْ جَابِرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أُنَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَحْشُرُ اللهُ الْعِبَادَ فَيُنَادِيهِمْ بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ مَنْ بَعُدَ كَمَا يَسْمَعُهُ مَنْ قَرُبَ أَنَا الْمَلِكُ أَنَا الدَّيَّانُ

আল্লাহ্ বলেনঃ কে সে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? (সূরাহ আল-বাক্বারাহ ২/২৫৫)। বর্ণনাকারী মাসরুক (রহ.) ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ্ যখন ওয়াহীর দ্বারা বলেন, তখন আসমানের অধিবাসীরা কিছু শুনতে পায়। তাদের অন্তর থেকে যখন ভয় দূর করে দেয়া হয় আর শব্দ স্তিমিত হয়ে যায়, তখন তারা বুঝতে পারে যে, যা ঘটেছে তা অবশ্যই একটা বাস্তব সত্য। তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করতে থাকে তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন? জাবির (রাঃ) ’আবদুল্লাহ্ ইবনু উনায়স (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, আল্লাহ্ সকল বান্দাকে হাশরে সমবেত করে এমন আওয়াজে ডাকবেন যে, নিকটবর্তীদের মত দূরবর্তীরাও শুনতে পাবে। আল্লাহ্ বলবেন আমিই মহা সম্রাট, আমিই প্রতিদানকারী।


৭৪৮১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা যখন আসমানে কোন নির্দেশ জারি করেন, ফেরেশ্তারা তাঁর নির্দেশের প্রতি বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশের জন্য স্বীয় পাখাসমূহ হেলাতে থাকেন। তাদের পাখা হেলানোর শব্দটি যেন পাথরের উপর শিকলের ঝনঝনির ধ্বনি।

বর্ণনাকারী বলেন, আলী এ ক্ষেত্রে শব্দটিকে সাফাওয়ান এবং অন্যরা সাফওয়ান পড়েছেন। এরপর ফেরেশ্তাদের অন্তর থেকে যখন ভীতি দূর করা হয় তখন তারা একে অপরকে বলতে থাকে, তোমাদের প্রতিপালক কী হুকুম জারি করেছেন? তাঁরা বলেন, তিনি বলেছেন, সত্য। তিনি মহান ও সর্বোচ্চ।

বর্ণনাকারী ’আলী ..... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে এরকমই বর্ণনা করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম فُزِّعَ পড়েছেন। বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেছেন যে, আমর (রহ.)-ও এভাবেই পড়েছেন। তিনি বলছেন, আমার জানা নেই, বর্ণনাকারী এরকম শুনেছেন কি না? তবে আমাদের কিরাআত এরকমই। [৪৭০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭৩)
হাদিস নং: ৭৪৮২ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة انه كان يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما اذن الله لشيء ما اذن للنبي صلى الله عليه وسلم يتغنى بالقران وقال صاحب له يريد ان يجهر به
৭৪৮২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাঁর কোন এক নবী থেকে (মধুর সুরে) যেভাবে কুরআন শুনেছেন, সেভাবে আর কিছুই তিনি শোনেননি। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-এর এক সঙ্গী বলেছেন, يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ এর অর্থ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) উচ্চস্বরে কুরআন পড়া বোঝাতেন। [৫০২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭৪)
হাদিস নং: ৭৪৮৩ সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي حدثنا الاعمش حدثنا ابو صالح عن ابي سعيد الخدري قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يقول الله يا ادم فيقول لبيك وسعديك فينادى بصوت ان الله يامرك ان تخرج من ذريتك بعثا الى النار
৭৪৮৩. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা আদমকে বলবেন, হে আদম! আদম (আঃ) জবাবে বলবেন, হে আল্লাহ্! তোমাদের নিকটে আমি হাযির, তোমার প্রতি আমি বহু ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অতঃপর আল্লাহ্ তাকে এ শব্দে ডাকবেন, আল্লাহ্ তোমাকে নির্দেশ করছেন, তোমার সন্তানদের মধ্য থেকে জাহান্নামে পাঠানোর জন্য একটি দলকে তুমি বের কর। [৩৩৪৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৭৫)
অধ্যায় তালিকা