অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৯৭/১. আল্লাহর তাওহীদের দিকে উম্মাতের প্রতি নাবী...
মোট ১৯৩ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭৪০৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان، عن ابي حمزة، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لما خلق الله الخلق كتب في كتابه ـ هو يكتب على نفسه، وهو وضع عنده على العرش ـ ان رحمتي تغلب غضبي ".
৭৪০৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন মাখলূক সৃষ্টি করলেন,তখন তা তাঁর কিতাবে লিখলেন এবং তিনি আপন সত্তা বিষয়ে লিখছেন, যা তাঁর কাছে আরশের উপর রক্ষিত আছে, ’আমার রহমত আমার গযবকে পরাভূত করেছে।’ [৩১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০০)
হাদিস নং: ৭৪০৫
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص حدثنا ابي حدثنا الاعمش سمعت ابا صالح عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم يقول الله تعالى انا عند ظن عبدي بي وانا معه اذا ذكرني فان ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي وان ذكرني في ملا ذكرته في ملا خير منهم وان تقرب الي بشبر تقربت اليه ذراعا وان تقرب الي ذراعا تقربت اليه باعا وان اتاني يمشي اتيته هرولة
৭৪০৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ ঘোষণা করেন, আমি সে রকমই, যে রকম বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে জন-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, তবে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দু’ হাত এগিয়ে যাই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। [৭৫০৫, ৭৫৩৭; মুসলিম ৪৮/১, হাঃ ১৬৭৫, আহমাদ ৭৪২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০১)
হাদিস নং: ৭৪০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا حماد، عن عمرو، عن جابر بن عبد الله، قال لما نزلت هذه الاية (قل هو القادر على ان يبعث عليكم عذابا من فوقكم) قال النبي صلى الله عليه وسلم " اعوذ بوجهك ". فقال (او من تحت ارجلكم) فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اعوذ بوجهك ". قال (او يلبسكم شيعا) فقال النبي صلى الله عليه وسلم " هذا ايسر ".
৭৪০৬. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হলঃ ’’হে নবী আপনি বলে দিন তোমাদের উপর থেকে তোমাদের ওপর শাস্তি পাঠাতে তিনিই সক্ষম’’- (সূরাহ আন’আম ৬/৬৫)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার সত্তার সাহায্যে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ্ তখন বললেনঃ ’’কিংবা তোমাদের পায়ের নীচ হতে; তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আপনার সত্তার সাহায্যে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ্ বললেনঃ কিংবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে ভাগ করে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি অপেক্ষাকৃত সহজ। [৪৬২৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০২)
হাদিস নং: ৭৪০৭
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا جويرية عن نافع عن عبد الله قال ذكر الدجال عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال ان الله لا يخفى عليكم ان الله ليس باعور واشار بيده الى عينه وان المسيح الدجال اعور العين اليمنى كان عينه عنبة طافية
৭৪০৭. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের কাছে গোপন থাকবেন না। আল্লাহ্ অন্ধ নন। এর সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে স্বীয় চোখের দিকে ইশারা করলেন। মাসীহ্ দাজ্জালের ডান চোখ কানা। তার চোখটি যেন আংগুরের মত ভাসমান। [৩০৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৩)
হাদিস নং: ৭৪০৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا حفص بن عمر، حدثنا شعبة، اخبرنا قتادة، قال سمعت انسا ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ما بعث الله من نبي الا انذر قومه الاعور الكذاب، انه اعور، وان ربكم ليس باعور، مكتوب بين عينيه كافر ".
৭৪০৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ এমন কোন নবী পাঠাননি যিনি তাঁর জাতিকে কানা মিথ্যুকটির ব্যাপারে সতর্ক করেননি। সে কানা (দাজ্জাল)। আর তোমাদের প্রতিপালক কানা নন। তার দু’চোখের মাঝখানে ’কাফির’ লেখা থাকবে। [৭১৩১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৪)
হাদিস নং: ৭৪০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق، حدثنا عفان، حدثنا وهيب، حدثنا موسى ـ هو ابن عقبة ـ حدثني محمد بن يحيى بن حبان، عن ابن محيريز، عن ابي سعيد الخدري، في غزوة بني المصطلق انهم اصابوا سبايا فارادوا ان يستمتعوا بهن ولا يحملن فسالوا النبي صلى الله عليه وسلم عن العزل فقال " ما عليكم ان لا تفعلوا، فان الله قد كتب من هو خالق الى يوم القيامة ". وقال مجاهد عن قزعة سمعت ابا سعيد فقال قال النبي صلى الله عليه وسلم " ليست نفس مخلوقة الا الله خالقها ".
৭৪০৯. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বানী মুসতালিক যুদ্ধ বিষয়ে বর্ণনা করেন যে, মুসলিমগণ যুদ্ধে কতকগুলো বন্দিনী লাভ করলেন। এরপর তাঁরা এদেরকে ভোগ করতে চাইলেন। আবার তারা যেন গর্ভবতী হয়ে না পড়ে সে ইচ্ছাও তারা করছিলেন। তাই তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আযল বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এতে তোমাদের কোন লাভ নেই। কারণ আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত যত জীবন সৃষ্টি করবেন, তা সবই লিখে রেখেছেন। মুজাহিদ (রহ.) কাযআ (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যত জীবন সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আল্লাহ্ তা’আলা অবশ্যই তা সৃষ্টি করবেনই। [২২২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৫)
হাদিস নং: ৭৪১০
সহিহ (Sahih)
حدثني معاذ بن فضالة، حدثنا هشام، عن قتادة، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " يجمع الله المومنين يوم القيامة كذلك فيقولون لو استشفعنا الى ربنا حتى يريحنا من مكاننا هذا. فياتون ادم فيقولون يا ادم اما ترى الناس خلقك الله بيده واسجد لك ملاىكته وعلمك اسماء كل شىء، شفع لنا الى ربنا حتى يريحنا من مكاننا هذا. فيقول لست هناك ـ ويذكر لهم خطيىته التي اصاب ـ ولكن اىتوا نوحا، فانه اول رسول بعثه الله الى اهل الارض. فياتون نوحا فيقول لست هناكم ـ ويذكر خطيىته التي اصاب ـ ولكن اىتوا ابراهيم خليل الرحمن. فياتون ابراهيم فيقول لست هناكم ـ ويذكر لهم خطاياه التي اصابها ـ ولكن اىتوا موسى عبدا اتاه الله التوراة وكلمه تكليما ـ فياتون موسى فيقول لست هناكم ـ ويذكر لهم خطيىته التي اصاب ـ ولكن اىتوا عيسى عبد الله ورسوله وكلمته وروحه. فياتون عيسى فيقول لست هناكم ولكن اىتوا محمدا صلى الله عليه وسلم عبدا غفر له ما تقدم من ذنبه وما تاخر. فياتوني فانطلق فاستاذن على ربي فيوذن لي عليه، فاذا رايت ربي وقعت له ساجدا فيدعني ما شاء الله ان يدعني ثم يقال لي ارفع محمد، وقل يسمع، وسل تعطه، واشفع تشفع. فاحمد ربي بمحامد علمنيها، ثم اشفع فيحد لي حدا فادخلهم الجنة، ثم ارجع فاذا رايت ربي وقعت ساجدا، فيدعني ما شاء الله ان يدعني ثم يقال ارفع محمد، وقل يسمع، وسل تعطه، واشفع تشفع، فاحمد ربي بمحامد علمنيها ربي ثم اشفع فيحد لي حدا فادخلهم الجنة، ثم ارجع فاذا رايت ربي وقعت ساجدا، فيدعني ما شاء الله ان يدعني ثم يقال ارفع محمد، قل يسمع، وسل تعطه، واشفع تشفع، فاحمد ربي بمحامد علمنيها، ثم اشفع فيحد لي حدا فادخلهم الجنة، ثم ارجع فاقول يا رب ما بقي في النار الا من حبسه القران ووجب عليه الخلود ". قال النبي صلى الله عليه وسلم " يخرج من النار من قال لا اله الا الله. وكان في قلبه من الخير ما يزن شعيرة، ثم يخرج من النار من قال لا اله الا الله. وكان في قلبه من الخير ما يزن برة، ثم يخرج من النار من قال لا اله الا الله. وكان في قلبه ما يزن من الخير ذرة ".
৭৪১০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা ঈমানদারদেরকে একত্রিত করবেন, তখন তারা বলবে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে কোন সুপারিশ যদি নিয়ে যেতাম তাহলে তিনি আমাদেরকে এ স্থান থেকে বের করে শান্তি প্রদান করতেন। এরপর তারা আদম (আঃ)-এর কাছে গিয়ে বলবে, হে আদম (আঃ)! আপনি কি মানুষের অবস্থা দেখছেন না? অথচ আল্লাহ্ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। আপনাকে তিনি তাঁর ফেরেশ্তাগণ দিয়ে সিজদা্ করিয়েছেন। আর আপনাকে সব জিনিসের নাম শিখিয়েছেন। কাজেই আপনি আমাদের রবেবর কাছে সুপারিশ করুন, যেন এ স্থান থেকে আমাদেরকে তিনি স্বস্তি দেন।
আদম (আঃ) তখন বলবেন, এ কাজের জন্য আমি উপযুক্ত নই। এবং আদম (আঃ) তাদের কাছে নিজের ভুলের কথা স্মরণ করবেন এবং বলবেন, তোমরা বরং নূহ্ (আঃ)-এর কাছে যাও। যেহেতু তিনিই আল্লাহর প্রথম রাসূল। যাঁকে তিনি যমীনবাসীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তারা নূহ্ (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনিও বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তিনি তাঁর কৃত ভুলের কথা মনে করে বলবেন, তোমরা বরং আল্লাহর খলীল ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে যাও।
তখন তারা ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনিও তাদের কাছে স্বীয় ভুলের কথা উল্লেখ করে বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তোমরা বরং মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা যাঁকে আল্লাহ্ তাওরাত দিয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলেছিলেন। তারা তখন মূসা (আঃ)-এর কাছে আসবে। মূসা (আঃ)-ও বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের যোগ্য নই। তাদের কাছে তিনি নিজের ভুলের কথা উল্লেখ করে বলবেন, তোমরা বরং ’ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। যিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, কালেমা ও রূহ্।
তখন তারা ’ঈসা (আঃ)-এর কাছে আসবে। তখন ’ঈসা (আঃ) বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তোমরা বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা, যাঁর আগের ও পরের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে। তারা সবাই আমার কাছে আসবে। আমি তখন আমার রবেবর কাছে অনুমতি চাইব। আমাকে এর অনুমতি দেয়া হবে। আমি আমার রববকে যখন দেখতে পাব, তখনই আমি তাঁর সামনে সিজদা্য় পড়বো।
আল্লাহ্ তাঁর মরজী অনুসারে যতক্ষণ আমাকে সেভাবে রাখার রেখে দেবেন। তারপর আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, গ্রহণ করা হবে। তখন আমার রবেবর শিখিয়ে দেয়া প্রশংসার দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব। তারপর আমি শাফা’আত করব। আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। এরপর আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। তারপর আমি ফিরে আসব। যখন আমি আমার প্রতিপালককে দেখতে পাব তখন তাঁর জন্য সিজদা্য় পড়ে যাব। আল্লাহর মরজী মোতাবেক যতক্ষণ আমাকে এভাবে রাখতে চাইবেন রেখে দেবেন।
তারপর আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, গ্রহণ করা হবে। তখন আমার রবেবর শিখিয়ে দেয়া প্রশংসার দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব এবং সুপারিশ করব। তখনো আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা হবে। আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। তারপর আমি আবার ফিরে আসব। আমি এবারও আমার প্রতিপালককে দেখামাত্র সিজদা্য় পড়ে যাব। আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর মরজী মোতাবেক যতক্ষণ ইচ্ছা আমাকে ঐ অবস্থায় রাখবেন। তারপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, কবুল করা হবে। তখন আমার রবেবর শেখানো প্রশংসার দ্বারা প্রশংসা করে শাফাআত করব।
তখনও আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা থাকবে। আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। অতঃপর আমি তাঁর কাছে ফিরে গিয়ে বলব, হে আমার রবব! এখন একমাত্র তারাই জাহান্নামে বাকী আছে, যাদেরকে কুরআন আটক করে রেখে দিয়েছে। এবং যাদের উপর স্থায়ীভাবে জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গিয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ পড়েছে, আর তার দিলে একটি যবের ওজন পরিমাণ ঈমান আছে, তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তারপর বের করা হবে জাহান্নাম থেকে তাদেরকেও, যারা ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ পড়েছে এবং তার দিলে একটি গমের ওযন পরিমাণ ঈমান আছে। জাহান্নাম থেকে (সর্বশেষে) তাকে বের করা হবে, যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ পড়েছে এবং তার দিলে অণু পরিমাণ মাত্র ঈমান আছে। [৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৬)
আদম (আঃ) তখন বলবেন, এ কাজের জন্য আমি উপযুক্ত নই। এবং আদম (আঃ) তাদের কাছে নিজের ভুলের কথা স্মরণ করবেন এবং বলবেন, তোমরা বরং নূহ্ (আঃ)-এর কাছে যাও। যেহেতু তিনিই আল্লাহর প্রথম রাসূল। যাঁকে তিনি যমীনবাসীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তারা নূহ্ (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনিও বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তিনি তাঁর কৃত ভুলের কথা মনে করে বলবেন, তোমরা বরং আল্লাহর খলীল ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে যাও।
তখন তারা ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে আসবে। তিনিও তাদের কাছে স্বীয় ভুলের কথা উল্লেখ করে বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তোমরা বরং মূসা (আঃ)-এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা যাঁকে আল্লাহ্ তাওরাত দিয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলেছিলেন। তারা তখন মূসা (আঃ)-এর কাছে আসবে। মূসা (আঃ)-ও বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের যোগ্য নই। তাদের কাছে তিনি নিজের ভুলের কথা উল্লেখ করে বলবেন, তোমরা বরং ’ঈসা (আঃ)-এর কাছে যাও। যিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, কালেমা ও রূহ্।
তখন তারা ’ঈসা (আঃ)-এর কাছে আসবে। তখন ’ঈসা (আঃ) বলবেন, আমি তোমাদের এ কাজের উপযুক্ত নই। তোমরা বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা, যাঁর আগের ও পরের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে। তারা সবাই আমার কাছে আসবে। আমি তখন আমার রবেবর কাছে অনুমতি চাইব। আমাকে এর অনুমতি দেয়া হবে। আমি আমার রববকে যখন দেখতে পাব, তখনই আমি তাঁর সামনে সিজদা্য় পড়বো।
আল্লাহ্ তাঁর মরজী অনুসারে যতক্ষণ আমাকে সেভাবে রাখার রেখে দেবেন। তারপর আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, গ্রহণ করা হবে। তখন আমার রবেবর শিখিয়ে দেয়া প্রশংসার দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব। তারপর আমি শাফা’আত করব। আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। এরপর আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। তারপর আমি ফিরে আসব। যখন আমি আমার প্রতিপালককে দেখতে পাব তখন তাঁর জন্য সিজদা্য় পড়ে যাব। আল্লাহর মরজী মোতাবেক যতক্ষণ আমাকে এভাবে রাখতে চাইবেন রেখে দেবেন।
তারপর আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, গ্রহণ করা হবে। তখন আমার রবেবর শিখিয়ে দেয়া প্রশংসার দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব এবং সুপারিশ করব। তখনো আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা হবে। আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। তারপর আমি আবার ফিরে আসব। আমি এবারও আমার প্রতিপালককে দেখামাত্র সিজদা্য় পড়ে যাব। আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর মরজী মোতাবেক যতক্ষণ ইচ্ছা আমাকে ঐ অবস্থায় রাখবেন। তারপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, শোনা হবে। চান, দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, কবুল করা হবে। তখন আমার রবেবর শেখানো প্রশংসার দ্বারা প্রশংসা করে শাফাআত করব।
তখনও আমার জন্য একটা সীমা নির্দিষ্ট করা থাকবে। আমি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেব। অতঃপর আমি তাঁর কাছে ফিরে গিয়ে বলব, হে আমার রবব! এখন একমাত্র তারাই জাহান্নামে বাকী আছে, যাদেরকে কুরআন আটক করে রেখে দিয়েছে। এবং যাদের উপর স্থায়ীভাবে জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গিয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ পড়েছে, আর তার দিলে একটি যবের ওজন পরিমাণ ঈমান আছে, তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তারপর বের করা হবে জাহান্নাম থেকে তাদেরকেও, যারা ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ পড়েছে এবং তার দিলে একটি গমের ওযন পরিমাণ ঈমান আছে। জাহান্নাম থেকে (সর্বশেষে) তাকে বের করা হবে, যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ পড়েছে এবং তার দিলে অণু পরিমাণ মাত্র ঈমান আছে। [৪৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৬)
নোট: আল্লাহর বাণীঃ যাকে আমি নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি।[1] (সূরাহ সোয়াদ ৩৮/৭৫)
[1] এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার বাস্তব বা প্রকৃত হাত রয়েছে তা প্রমাণিত হয়। কিন্তু তার হাত কেমন এ প্রশ্ন করা যাবে না। অর্থাৎ ধরন, প্রকৃতি, মাখলূকের হাতের সাথে তুলনা দেয়া, অস্বীকার করা বা অপব্যাখ্যা করা যাবে না। যেমন বলা হয়, হাত দ্বারা উদ্দেশ্য শক্তি, রাজত্ব, নি‘আমাত, অঙ্গীকার ইত্যাদী। আবার বলা হয় কুদরতী হাত। এসব মনগড়া ব্যাখ্যা। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদাহ’র পরিপন্থী। সুতরাং তার প্রকৃত হাত রয়েছে, কুদরতী হাত নয়।
[1] এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার বাস্তব বা প্রকৃত হাত রয়েছে তা প্রমাণিত হয়। কিন্তু তার হাত কেমন এ প্রশ্ন করা যাবে না। অর্থাৎ ধরন, প্রকৃতি, মাখলূকের হাতের সাথে তুলনা দেয়া, অস্বীকার করা বা অপব্যাখ্যা করা যাবে না। যেমন বলা হয়, হাত দ্বারা উদ্দেশ্য শক্তি, রাজত্ব, নি‘আমাত, অঙ্গীকার ইত্যাদী। আবার বলা হয় কুদরতী হাত। এসব মনগড়া ব্যাখ্যা। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদাহ’র পরিপন্থী। সুতরাং তার প্রকৃত হাত রয়েছে, কুদরতী হাত নয়।
হাদিস নং: ৭৪১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، حدثنا ابو الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " يد الله ملاى لا يغيضها نفقة، سحاء الليل والنهار ـ وقال ـ ارايتم ما انفق منذ خلق السموات والارض، فانه لم يغض ما في يده ـ وقال ـ عرشه على الماء وبيده الاخرى الميزان يخفض ويرفع ".
৭৪১১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর হাত পূর্ণ, রাতদিন খরচ করলেও তাতে কমতি আসে না। তিনি আরো বলেছেনঃ তোমরা কি দেখেছ? আসমান যমীন সৃষ্টি করার পর থেকে তিনি যে কত খরচ করেছেন, তা সত্ত্বেও তাঁর হাতে যা আছে, তাতে এতটুকু কমেনি। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তখন তাঁর আরশ পানির উপর ছিল। তাঁর অন্য হাতে আছে দাঁড়িপাল্লা, যা কখনও তিনি নিচে নামান আবার কখনও উপরে উঠান। [৪৬৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৭)
হাদিস নং: ৭৪১২
সহিহ (Sahih)
مقدم بن محمد بن يحيى قال حدثني عمي القاسم بن يحيى عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال ان الله يقبض يوم القيامة الارض وتكون السموات بيمينه ثم يقول انا الملك رواه سعيد عن مالك
৭৪১২. ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন পৃথিবীটা তাঁর মুঠোতে নিয়ে নেবেন। আসমানকে তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে নিয়ে বলবেন; বাদশাহ্ একমাত্র আমিই।
সা’ঈদ (রহ.) মালিক (রহ.) থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। ’উমার ইবনু হামযাহ (রহ.) সালিম (রহ.)-এর মাধ্যমে ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরকম বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৮)
সা’ঈদ (রহ.) মালিক (রহ.) থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। ’উমার ইবনু হামযাহ (রহ.) সালিম (রহ.)-এর মাধ্যমে ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরকম বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৮)
হাদিস নং: ৭৪১৩
সহিহ (Sahih)
وقال عمر بن حمزة سمعت سالما سمعت ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذا وقال ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري اخبرني ابو سلمة ان ابا هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبض الله الارض
৭৪১৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ যমীনকে তাঁর মুঠোয় নিয়ে নেবেন। [৪৮১২] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৮)
হাদিস নং: ৭৪১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، سمع يحيى بن سعيد، عن سفيان، حدثني منصور، وسليمان، عن ابراهيم، عن عبيدة، عن عبد الله، ان يهوديا، جاء الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا محمد ان الله يمسك السموات على اصبع والارضين على اصبع، والجبال على اصبع، والشجر على اصبع، والخلاىق على اصبع، ثم يقول انا الملك. فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى بدت نواجذه ثم قرا (وما قدروا الله حق قدره). قال يحيى بن سعيد وزاد فيه فضيل بن عياض عن منصور عن ابراهيم عن عبيدة عن عبد الله فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم تعجبا وتصديقا له.
৭৪১৪. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহূদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ্ কিয়ামতের দিনে আসমানগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, যমীনগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, পর্বতগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, গাছগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর এবং বাকী সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলের ওপর তুলে বলবেন, বাদশাহ্ একমাত্র আমিই। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত প্রকাশিত হল। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ তারা আল্লাহ্ তা’আলার যথোচিত মর্যাদা উপলব্ধি দেয়নি।
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ বলেন, এ বর্ণনায় একটু যোগ করেছেন ফুদায়ল ইবনু আয়ায. .... আবিদাহ (রহ.) সূত্রে ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে যে, এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিস্মিত হয়ে তার সমর্থনে হেসে দিলেন। [৪৮১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৯)
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ বলেন, এ বর্ণনায় একটু যোগ করেছেন ফুদায়ল ইবনু আয়ায. .... আবিদাহ (রহ.) সূত্রে ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে যে, এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিস্মিত হয়ে তার সমর্থনে হেসে দিলেন। [৪৮১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৯)
হাদিস নং: ৭৪১৫
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي حدثنا الاعمش سمعت ابراهيم قال سمعت علقمة يقول قال عبد الله جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم من اهل الكتاب فقال يا ابا القاسم ان الله يمسك السموات على اصبع والارضين على اصبع والشجر والثرى على اصبع والخلاىق على اصبع ثم يقول انا الملك انا الملك فرايت النبي صلى الله عليه وسلم ضحك حتى بدت نواجذه ثم قرا وما قدروا الله حق قدره
৭৪১৫. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাবদের এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আবুল কাসিম! (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ্ আসমানগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, যমীনগুলোকে এক আঙ্গুলের ওপর, বৃক্ষ ও কাদামাটিকে এক আঙ্গুলের ওপর এবং বাকি সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলের ওপর তুলে বলবেন, বাদশাহ্ একমাত্র আমিই, বাদশাহ্ একমাত্র আমিই। বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখতে পেলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে ফেললেন। এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁতগুলো প্রকাশিত হয়ে পড়ল। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ আর তারা আল্লাহ্ তা’আলার যথাযোগ্য মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারে নি। [৪৮১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১০)
হাদিস নং: ৭৪১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابو عوانة، حدثنا عبد الملك، عن وراد، كاتب المغيرة عن المغيرة، قال قال سعد بن عبادة لو رايت رجلا مع امراتي لضربته بالسيف غير مصفح. فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " تعجبون من غيرة سعد، والله لانا اغير منه، والله اغير مني، ومن اجل غيرة الله حرم الفواحش ما ظهر منها وما بطن، ولا احد احب اليه العذر من الله، ومن اجل ذلك بعث المبشرين والمنذرين ولا احد احب اليه المدحة من الله ومن اجل ذلك وعد الله الجنة ". وقال عبيد الله بن عمرو عن عبد الملك " لا شخص اغير من الله ".
وَقَالَ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ لاَ شَخْصَ أَغْيَرُ مِنْ اللهِ
’উবাইদুল্লাহ বিন ’আমর ’আবদুল মালিক থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ্ অপেক্ষা অধিক মর্যাদাসম্পন্ন আর কেউই নয়।
৭৪১৬. মুগীরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সা’দ ইবনু ’উবাদাহ (রাঃ) বললেন, আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পুরুষকে যদি দেখি, তাকে সরাসরি তরবারি দিয়ে হত্যা করব। এ কথা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি সাদের আত্মমর্যাদাবোধ দেখে বিস্মিত হচ্ছ? আল্লাহর শপথ! আমি তার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আর আল্লাহ্ আমার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আল্লাহ্ আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হবার কারণে প্রকাশ্য ও গোপনীয় (যাবতীয়) অশ্লীলতাকে হারাম করে দিয়েছেন। অক্ষমতা প্রকাশকে আল্লাহর চেয়ে অধিক পছন্দ করেন এমন কেউই নেই। আর এজন্য তিনি ভীতি প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতাদেরকে পাঠিয়েছেন। আত্মপ্রশংসা আল্লাহর চেয়ে অধিক কারো কাছে প্রিয় নয়। তাই তিনি জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন। [৬৮৪৬; মুসলিম পর্ব ১৯/হাঃ ১৪৯৯, আহমাদ ১৮১৯২১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১১)
’উবাইদুল্লাহ বিন ’আমর ’আবদুল মালিক থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ্ অপেক্ষা অধিক মর্যাদাসম্পন্ন আর কেউই নয়।
৭৪১৬. মুগীরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সা’দ ইবনু ’উবাদাহ (রাঃ) বললেন, আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পুরুষকে যদি দেখি, তাকে সরাসরি তরবারি দিয়ে হত্যা করব। এ কথা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি সাদের আত্মমর্যাদাবোধ দেখে বিস্মিত হচ্ছ? আল্লাহর শপথ! আমি তার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আর আল্লাহ্ আমার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আল্লাহ্ আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হবার কারণে প্রকাশ্য ও গোপনীয় (যাবতীয়) অশ্লীলতাকে হারাম করে দিয়েছেন। অক্ষমতা প্রকাশকে আল্লাহর চেয়ে অধিক পছন্দ করেন এমন কেউই নেই। আর এজন্য তিনি ভীতি প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতাদেরকে পাঠিয়েছেন। আত্মপ্রশংসা আল্লাহর চেয়ে অধিক কারো কাছে প্রিয় নয়। তাই তিনি জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন। [৬৮৪৬; মুসলিম পর্ব ১৯/হাঃ ১৪৯৯, আহমাদ ১৮১৯২১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১১)
হাদিস নং: ৭৪১৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي حازم عن سهل بن سعد قال النبي صلى الله عليه وسلم لرجل امعك من القران شيء قال نعم سورة كذا وسورة كذا لسور سماها
৭৪১৭. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনকে বললেন, তোমার কাছে কুরআনের কোন বস্তু আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, অমুক সূরাহ অমুক সূরাহ। তিনি সূরাহগুলোর নাম বলেছিলেন। [২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১২)
হাদিস নং: ৭৪১৮
সহিহ (Sahih)
عبدان قال اخبرنا ابو حمزة عن الاعمش عن جامع بن شداد عن صفوان بن محرز عن عمران بن حصين قال اني عند النبي صلى الله عليه وسلم اذ جاءه قوم من بني تميم فقال اقبلوا البشرى يا بني تميم قالوا بشرتنا فاعطنا فدخل ناس من اهل اليمن فقال اقبلوا البشرى يا اهل اليمن اذ لم يقبلها بنو تميم قالوا قبلنا جىناك لنتفقه في الدين ولنسالك عن اول هذا الامر ما كان قال كان الله ولم يكن شيء قبله وكان عرشه على الماء ثم خلق السموات والارض وكتب في الذكر كل شيء ثم اتاني رجل فقال يا عمران ادرك ناقتك فقد ذهبت فانطلقت اطلبها فاذا السراب ينقطع دونها وايم الله لوددت انها قد ذهبت ولم اقم
قَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ ارْتَفَعَ فَسَوَّاهُنَّ خَلَقَهُنَّ وَقَالَ مُجَاهِدٌ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْمَجِيدُ الْكَرِيمُ وَ الْوَدُودُ الْحَبِيبُ يُقَالُ حَمِيدٌ مَجِيدٌ كَأَنَّهُ فَعِيلٌ مِنْ مَاجِدٍ مَحْمُودٌ مِنْ حَمِدَ
আবুল ’আলীয়া (রহ.) বলেন, اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ -এর অর্থ হচ্ছে আসমানকে উড্ডীন করেছেন- (সূরাহ আল-আ’রাফ ৭/৫৪)। فَسَوَّاهُنَّ-এর অর্থ হচ্ছে, তিনি আসমানরাজিকে সৃষ্টি করেছেন। মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ -এর অর্থ হল, আরশের উপর সমুন্নত হলেন- (সূরাহ আল-আ’রাফ ৭/৫৪)। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, مجيدঅর্থ সম্মানিত, الْوَدُودُ অর্থ প্রিয়। বলা হয়ে থাকে, حَمِيدٌ مَجِيدٌ মূলত প্রশংসনীয় ও পবিত্র। বস্তুত এটি مَاجِدٍ থেকে فَعِيلٌ -এর ওযনে এসেছে। আর مَحْمُود (প্রশংসনীয়) এসেছে حَمِدَ থেকে।
৭৪১৮. ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে বনূ তামীম-এর গ্রোত্রটি আসল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে বনূ তামীম। তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। উত্তরে তারা বলল, আপনি আমাদেরকে শুভ সংবাদ যখন দিচ্ছেন, তাহলে কিছু দান করুন। এ সময় ইয়ামানবাসী কতিপয় লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেখানে উপস্থিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ হে ইয়ামানবাসী! তোমাদের জন্য সুসংবাদ। বনূ তামীম তা গ্রহণ করল না। তারা বলল, আমরা গ্রহণ করলাম শুভ সংবাদ।
যেহেতু আমরা আপনার কাছে এসেছি দ্বীনী জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে এবং জিজ্ঞেস করার জন্য এসেছি যে, এ দুনিয়া সৃষ্টির আগে কী ছিল? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তখন ছিলেন, তাঁর আগে আর কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ তখন পানির ওপর ছিল। অতঃপর তিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করলেন। এবং লাওহে মাফফুযে সব বস্তু সম্পর্কে লিখে রাখলেন। রাবী বলেন, এরপর আমার কাছে এক লোক এসে বলল, হে ’ইমরান! তোমার উটনী পালিয়ে গিয়েছে, তার খবর লও। আমি উটনীর খোঁজে চললাম। দেখলাম, উটনী মরীচিকার আড়ালে আছে। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি! আমার মন চাচ্ছিল উটনী চলে যায় যাক তবুও আমি মজলিস ছেড়ে যেন না উঠি। [৪১৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৩)
আবুল ’আলীয়া (রহ.) বলেন, اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ -এর অর্থ হচ্ছে আসমানকে উড্ডীন করেছেন- (সূরাহ আল-আ’রাফ ৭/৫৪)। فَسَوَّاهُنَّ-এর অর্থ হচ্ছে, তিনি আসমানরাজিকে সৃষ্টি করেছেন। মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ -এর অর্থ হল, আরশের উপর সমুন্নত হলেন- (সূরাহ আল-আ’রাফ ৭/৫৪)। ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, مجيدঅর্থ সম্মানিত, الْوَدُودُ অর্থ প্রিয়। বলা হয়ে থাকে, حَمِيدٌ مَجِيدٌ মূলত প্রশংসনীয় ও পবিত্র। বস্তুত এটি مَاجِدٍ থেকে فَعِيلٌ -এর ওযনে এসেছে। আর مَحْمُود (প্রশংসনীয়) এসেছে حَمِدَ থেকে।
৭৪১৮. ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে বনূ তামীম-এর গ্রোত্রটি আসল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে বনূ তামীম। তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। উত্তরে তারা বলল, আপনি আমাদেরকে শুভ সংবাদ যখন দিচ্ছেন, তাহলে কিছু দান করুন। এ সময় ইয়ামানবাসী কতিপয় লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেখানে উপস্থিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ হে ইয়ামানবাসী! তোমাদের জন্য সুসংবাদ। বনূ তামীম তা গ্রহণ করল না। তারা বলল, আমরা গ্রহণ করলাম শুভ সংবাদ।
যেহেতু আমরা আপনার কাছে এসেছি দ্বীনী জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে এবং জিজ্ঞেস করার জন্য এসেছি যে, এ দুনিয়া সৃষ্টির আগে কী ছিল? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তখন ছিলেন, তাঁর আগে আর কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ তখন পানির ওপর ছিল। অতঃপর তিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করলেন। এবং লাওহে মাফফুযে সব বস্তু সম্পর্কে লিখে রাখলেন। রাবী বলেন, এরপর আমার কাছে এক লোক এসে বলল, হে ’ইমরান! তোমার উটনী পালিয়ে গিয়েছে, তার খবর লও। আমি উটনীর খোঁজে চললাম। দেখলাম, উটনী মরীচিকার আড়ালে আছে। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি! আমার মন চাচ্ছিল উটনী চলে যায় যাক তবুও আমি মজলিস ছেড়ে যেন না উঠি। [৪১৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৩)
হাদিস নং: ৭৪১৯
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن همام حدثنا ابو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان يمين الله ملاى لا يغيضها نفقة سحاء الليل والنهار ارايتم ما انفق منذ خلق السموات والارض فانه لم ينقص ما في يمينه وعرشه على الماء وبيده الاخرى الفيض او القبض يرفع ويخفض
৭৪১৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহর ডান হাত পূর্ণ, রাত দিনের খরচেও তা কমে না। তোমরা ভেবে দেখেছ কি? আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টির সূচনা থেকে তিনি কত খরচ করে যাচ্ছেন, তবুও তাঁর ডান হাতের কিছুই কমেনি। তাঁর আরশ পানির ওপর আছে। তাঁর অন্য হাতে আছে দেয়া আর নেয়া। তা তিনি উঠান ও নামান। [৪৬৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৪)
হাদিস নং: ৭৪২০
সহিহ (Sahih)
احمد حدثنا محمد بن ابي بكر المقدمي حدثنا حماد بن زيد عن ثابت عن انس قال جاء زيد بن حارثة يشكو فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يقول اتق الله وامسك عليك زوجك قال انس لو كان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم كاتما شيىا لكتم هذه قال فكانت زينب تفخر على ازواج النبي صلى الله عليه وسلم تقول زوجكن اهاليكن وزوجني الله تعالى من فوق سبع سموات وعن ثابت وتخفي في نفسك ما الله مبديه وتخشى الناس نزلت في شان زينب وزيد بن حارثة
৭৪২০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ) অভিযোগ নিয়ে আসলেন। তখন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলতে লাগলেন, তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছে রেখে দাও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি কোন জিনিস গোপন করতেন, তাহলে এ আয়াতটি অবশ্যই গোপন করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, (যাইনাব (রাঃ) অপরাপর নবী অন্যান্য কাছে এ বলে গর্ব করতেন যে, তোমাদেরকে বিয়ে দিয়েছে তোমাদের পরিবার-পরিজন, আর আমাকে স্বয়ং আল্লাহ্ তা’আলা সাত আসমানের ওপরে বিয়ে দিয়েছেন।
বর্ণনাকারী সাবিত (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর বাণীঃ (হে নবী) আপনি আপনার অন্তরে যা গোপন করতেন আল্লাহ্ তা প্রকাশ করে দিচ্ছেন, আপনি লোকদের ভয় করছিলেন। এ আয়াতটি যাইনাব ও যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল।[1] [৪৭৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৫)
বর্ণনাকারী সাবিত (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর বাণীঃ (হে নবী) আপনি আপনার অন্তরে যা গোপন করতেন আল্লাহ্ তা প্রকাশ করে দিচ্ছেন, আপনি লোকদের ভয় করছিলেন। এ আয়াতটি যাইনাব ও যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল।[1] [৪৭৮৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৫)
নোট: [1] অতি সম্ভ্রান্ত কোরাইশ কুল রমণী যয়নব বিনত্ জাহাসের সঙ্গে নাবী (সাঃ) স্বীয় পালকপুত্র যায়েদ বিন হারেসা (রাঃ)-এর বিবাহ দেন। কিন্তু তাঁদের দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এ সময় আল্লাহ তা‘আলা নবী (সাঃ) কে ওয়াহী যোগে জানিয়ে দেন যে, যায়দ যয়নবকে তালাক দিয়ে দিবে এবং তুমি যয়নাবকে বিয়ে করবে। আর রাসূল (সাঃ)ও ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন যে, যয়নব তালাক প্রাপ্তা হলে তিনি তাকে বিয়ে করবেন। ওয়াহী যোগে একথা জানার পরেও নাবী (সাঃ) যায়দকে বুঝালেন যেন সে স্ত্রীকে তালাক না দেয়। কারণ তখনকার আরবে পালক পুত্রের তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করার রেওয়াজ ছিল না। আল্লাহর অভিপ্রায় জেনে নেয়ার পরেও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যায়দকে নাসীহাত করলেন যা বিশ্ব নাবীর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
হাদিস নং: ৭৪২১
সহিহ (Sahih)
خلاد بن يحيى حدثنا عيسى بن طهمان قال سمعت انس بن مالك يقول نزلت اية الحجاب في زينب بنت جحش واطعم عليها يومىذ خبزا ولحما وكانت تفخر على نساء النبي صلى الله عليه وسلم وكانت تقول ان الله انكحني في السماء
৭৪২১ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যাইনাব বিন্ত জাহাশ (রাঃ)-কে উপলক্ষ করে পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়নাবের সঙ্গে তাঁর বিবাহ উপলক্ষে ওয়ালিমা হিসাবে সেদিন রুটি ও মাংস খাইয়েছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের উপর যাইনাব (রাঃ) গর্ব করে বলতেন, আল্লাহ্ তো আসমানে আমার বিয়ের সিদ্ধান্ত করেছেন। [৪৭৯১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৬)
হাদিস নং: ৭৪২২
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان الله لما قضى الخلق كتب عنده فوق عرشه ان رحمتي سبقت غضبي
৭৪২২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন সকল মাখলূক সৃষ্টি করার কাজ শেষ করলেন, তখন তাঁর আরশের ওপর তাঁরই কাছে লিখে রাখলেন, ’আমার রহমত আমার গযব থেকে এগিয়ে গেছে।’ (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৭)
হাদিস নং: ৭৪২৩
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر حدثني محمد بن فليح قال حدثني ابي حدثني هلال عن عطاء بن يسار عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من امن بالله ورسوله واقام الصلاة وصام رمضان كان حقا على الله ان يدخله الجنة هاجر في سبيل الله او جلس في ارضه التي ولد فيها قالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم افلا ننبى الناس بذلك قال ان في الجنة ماىة درجة اعدها الله للمجاهدين في سبيله كل درجتين ما بينهما كما بين السماء والارض فاذا سالتم الله فسلوه الفردوس فانه اوسط الجنة واعلى الجنة وفوقه عرش الرحمن ومنه تفجر انهار الجنة
৭৪২৩. আবূ হুুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ইমান আনে, সালাত কায়িম করে, রমযান মাসের সওম পালন করে, আল্লাহ্ তাঁর সম্পর্কে এ দায়িত্ব নিয়েছেন যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সে আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করুক কিংবা তাঁর জন্মভূমিতে অবস্থান করুক। সাহাবীগণ বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই বিষয়টি আমরা লোকদের জানিয়ে দেব না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অবশ্যই, জান্নাতে একশ’টি (মর্যাদার) স্তর রয়েছে। এগুলো আল্লাহ্ তাঁর রাস্তায় জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রতি দু’টি স্তরের মাঝে আসমান ও যমীনের দূরত্ব বিদ্যমান। কাজেই যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফিরদাওস জান্নাত চাইবে। কারণ, সেটি হচ্ছে সবচেয়ে প্রশস্ত ও সবচেয়ে উচ্চ জান্নাত। আর দয়ালু (আল্লাহর) আরশটি এরই ওপর অবস্থিত।[1] এই ফিরদাওস থেকেই জান্নাতের ঝর্ণাগুলো প্রবাহিত। [২৭৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৮)
নোট: [1] আল্লাহর একটি সিফাত علوه অর্থাৎ উর্দ্ধে বা উঁচুতে অবস্থান। তিনি তার স্বীয় সত্তায় আরশের উপরে রয়েছেন, কীভাবে রয়েছেন তা কেউ জানে না। তবে এতটুকুই যথেষ্ট যে, আরশের উপর যেমনভাবে তার জন্য মানানসই সেভাবেই রয়েছেন। আর আরশের অবস্থান আল্লাহর সকল মাখলূকাতের উর্দ্ধে, তার উপর আল্লাহ। আল্লাহর উপরে আর কোন কিছুই নেই। আর যেহেতু আল্লাহ স্বীয় সত্তায় আরশের উপরে সুতরাং আল্লাহ সব জায়গায় বিরাজমান এ কথা ভ্রান্ত। সহীহ আক্বীদাহর পরিপন্থী। স্বীয় সত্তায় তিনি আরশের উপরে হলেও তার ইলম, সাহায্য, দর্শন ইত্যাদি সবজায়গায় পরিব্যাপ্ত। কোন কিছুই তার দৃষ্টির বাইরে নয়, এমনকি তিনি অন্তর্যামী عليم بذات الصدور।
আল্লাহ যে আরশের উপরে তার প্রমাণ অত্র হাদীস ছাড়াও আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
{الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} (৫) سورة طـه
আল্লাহ যে আরশের উপরে তার প্রমাণ অত্র হাদীস ছাড়াও আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
{الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} (৫) سورة طـه