হাদিস নং: ৮০৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، قال حدثنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني ابو بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، وابو سلمة بن عبد الرحمن ان ابا هريرة، كان يكبر في كل صلاة من المكتوبة وغيرها في رمضان وغيره، فيكبر حين يقوم، ثم يكبر حين يركع، ثم يقول سمع الله لمن حمده. ثم يقول ربنا ولك الحمد. قبل ان يسجد، ثم يقول الله اكبر. حين يهوي ساجدا، ثم يكبر حين يرفع راسه من السجود، ثم يكبر حين يسجد، ثم يكبر حين يرفع راسه من السجود، ثم يكبر حين يقوم من الجلوس في الاثنتين، ويفعل ذلك في كل ركعة حتى يفرغ من الصلاة، ثم يقول حين ينصرف والذي نفسي بيده اني لاقربكم شبها بصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم ان كانت هذه لصلاته حتى فارق الدنيا.
وَقَالَ نَافِعٌ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَضَعُ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ.
নাফি‘ (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখতেন।*
৮০৩. আবূ বকর ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) ও আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) রমাযান মাসের সালাত বা অন্য কোন সময়ের সালাত ফরজ হোক বা অন্য কোন সালাত হোক, দাঁড়িয়ে শুরু করার সময় তাকবীর বলতেন, আবার রুকূ‘তে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। অতঃপর (রুকূ‘ হতে উঠার সময়) سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, সিজদা্য় যাওয়ার পূর্বে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন। অতঃপর সিজদার জন্য অবনত হবার সময় আল্লাহু আকবার বলতেন। আবার সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলতেন। অতঃপর (দ্বিতীয়) সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন এবং সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলতেন। দু’ রাক‘আত আদায় করে দাঁড়ানোর সময় আবার তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করা পর্যন্ত প্রতি রাক‘আতে এরূপ করতেন। সালাত শেষে তিনি বলতেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! তোমাদের মধ্য হতে আমার সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দুনিয়া হতে বিদায় নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত এ রকমই ছিল। (৭৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৭)
নাফি‘ (রহ.) বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখতেন।*
৮০৩. আবূ বকর ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) ও আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) রমাযান মাসের সালাত বা অন্য কোন সময়ের সালাত ফরজ হোক বা অন্য কোন সালাত হোক, দাঁড়িয়ে শুরু করার সময় তাকবীর বলতেন, আবার রুকূ‘তে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। অতঃপর (রুকূ‘ হতে উঠার সময়) سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, সিজদা্য় যাওয়ার পূর্বে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন। অতঃপর সিজদার জন্য অবনত হবার সময় আল্লাহু আকবার বলতেন। আবার সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলতেন। অতঃপর (দ্বিতীয়) সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন এবং সিজদা্ হতে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলতেন। দু’ রাক‘আত আদায় করে দাঁড়ানোর সময় আবার তাকবীর বলতেন। সালাত শেষ করা পর্যন্ত প্রতি রাক‘আতে এরূপ করতেন। সালাত শেষে তিনি বলতেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! তোমাদের মধ্য হতে আমার সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দুনিয়া হতে বিদায় নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত এ রকমই ছিল। (৭৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৭)
নোট: * এ সম্পর্কে যুগ শ্রেষ্ঠ আল্লামাহ ও মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দিন আলবানীর সিফাতু সালাতুন্নাবী থেকে তাঁর উদ্ধৃতি পেশ করছি। তিনি উক্ত বিষয়ে শিরোনাম দিয়েছেনঃ হস্তদ্বয়ের উপর ভর করে সিজদায় গমন করা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হস্তদ্বয় রাখতেন। ইব্নু খুযাইমাহ (১/৭৬/১), দারাকুত্বনী, হাকিম এবং তিনি একে সহিহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন। এর বিপরীতে যে হাদিস এসেছে তা সহিহ নয়। এই মত পোষণ করেছেন ইমাম মালিক। ইমাম আহমেদ থেকেও এমনটি এসেছে। ইব্নুল জাওযীর ‘আতত্বাহকীক’ গ্রন্থে (১০৮/২), মারওয়াযী স্বীয় ‘মাসায়িল’ গ্রন্থে (১/১৪৭/১) ইমাম আওযায়ী‘ থেকে সহিহ সানাদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন আমি লোকজনকে হাঁটুর পূর্বে হাত রাখার উপর পেয়েছি । তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে বলতেনঃ তোমাদের কেউ যখন সিজদা করে তখন যেন উটের ন্যায় না বসে বরং সে যেন স্বীয় হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে হস্তদ্বয় রাখে। আবূ দাউদ, তাম্মাম ‘আল ফাওয়াইদ’ গ্রন্থে (ক্বাফ ১০৮/১) সহীহ সানাদে নাসাঈ, ‘আসসুগরা’ ও ‘আল-কুবরা’ (৪৭/১ ফটোকপি) বাদশাহ আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটি, মক্কা) ‘আবদুল হক্ব আল-আহকামুল কুবরাতে (৫৪/১) একে সহিহ বলেছেন এবং “কিতাবুত্তাহাজ্জুদে” (৫৬/১) বলেছেনঃ এটি পূর্বের হাদিস অর্থাৎ তার বিরোধী ওয়াইল এর হাদিস অপেক্ষা উত্তম সনদ বিশিষ্ট বরং এটি যেমন (ওয়াইলের হাদিস) উপরোক্ত সহীহ হাদিস ও তার পূর্বের হাদিস বিরোধী ঠিক তদ্রূপ সানাদের দিক দিয়েও তা সহিহ নয় এবং এ অর্থে যে সব হাদিস এসেছে এগুলোও অনুরূপ। দেখুন আমার আলোচনা ‘আয্ যঈফাহ্’ (৯২৯) ও ‘আল ইরওয়া’ (৩৫৭)।
জেনে রাখুন উটের হাঁটুর পূর্বে হাত রাখার বিষয়ে ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ হচ্ছে এই যে, সে সর্ব প্রথম হাঁটু রাখে এবং তার হাঁটু হাতের মধ্যে হয়ে থাকে। দেখুন ‘লিসানুল আরব’ ও অন্যান্য অভিধান গ্রন্থ, ত্বাহাবি ‘মুশকিলুল আ-ছা-র’ ও ‘শারহু মা’য়ানিল আ-ছার’ গ্রন্থে এরূপ কথাই উল্লেখ করছেন। ইমাম ক্বাসিম সরক্বসত্বী রাহিমাহুল্লাহ-ও ‘গরীবুল হাদিছে’ (২/৭০/১-২) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ পলাতক উটের ন্যায় যেন অবতরণ না করে ।” ইমাম ক্বাসিম বলেনঃ এটা সিজদার ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, পূর্ণ ধীরতা ও পরযায়ক্রমতা বজায় না রেখে বিচলিত উটের ন্যায় নিজেকে নিক্ষেপ না করে এবং ধীরস্থিরতার সাথে অবতরণ করে। প্রথমে হস্তদ্বয় রাখবে অতঃপর হাঁটুদ্বয় রাখবে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি হাদিছও বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর উপরোল্লিখিত হাদীছ উল্লেখ করেন। ইব্নুল কাইয়িম এমন এক মন্তব্য করেছেনঃ যেটা বিবেক সম্মত নয় এবং ভাষাবিদগণও এই ব্যাখ্যার সাথে পরিচিত নন। কিন্তু আমি যেসব প্রমানপঞ্জির দিকে ইঙ্গিত করেছি তা এর প্রতিবাদ করে এবং এছাড়াও আরো অনেক প্রমাণপঞ্জি আছে । (দেখুনঃ নাসিরুদ্দিন আলবানি কৃত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর “ছলাত সম্পাদনের পদ্ধতি” বঙ্গানুবাদ ও সম্পাদনায়– আকরামুজ্জামান বিন আবদুস সালাম ও আবূ রাশাদ আজমল বিন আবদুন নূর)
জেনে রাখুন উটের হাঁটুর পূর্বে হাত রাখার বিষয়ে ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ হচ্ছে এই যে, সে সর্ব প্রথম হাঁটু রাখে এবং তার হাঁটু হাতের মধ্যে হয়ে থাকে। দেখুন ‘লিসানুল আরব’ ও অন্যান্য অভিধান গ্রন্থ, ত্বাহাবি ‘মুশকিলুল আ-ছা-র’ ও ‘শারহু মা’য়ানিল আ-ছার’ গ্রন্থে এরূপ কথাই উল্লেখ করছেন। ইমাম ক্বাসিম সরক্বসত্বী রাহিমাহুল্লাহ-ও ‘গরীবুল হাদিছে’ (২/৭০/১-২) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ পলাতক উটের ন্যায় যেন অবতরণ না করে ।” ইমাম ক্বাসিম বলেনঃ এটা সিজদার ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, পূর্ণ ধীরতা ও পরযায়ক্রমতা বজায় না রেখে বিচলিত উটের ন্যায় নিজেকে নিক্ষেপ না করে এবং ধীরস্থিরতার সাথে অবতরণ করে। প্রথমে হস্তদ্বয় রাখবে অতঃপর হাঁটুদ্বয় রাখবে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি হাদিছও বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর উপরোল্লিখিত হাদীছ উল্লেখ করেন। ইব্নুল কাইয়িম এমন এক মন্তব্য করেছেনঃ যেটা বিবেক সম্মত নয় এবং ভাষাবিদগণও এই ব্যাখ্যার সাথে পরিচিত নন। কিন্তু আমি যেসব প্রমানপঞ্জির দিকে ইঙ্গিত করেছি তা এর প্রতিবাদ করে এবং এছাড়াও আরো অনেক প্রমাণপঞ্জি আছে । (দেখুনঃ নাসিরুদ্দিন আলবানি কৃত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর “ছলাত সম্পাদনের পদ্ধতি” বঙ্গানুবাদ ও সম্পাদনায়– আকরামুজ্জামান বিন আবদুস সালাম ও আবূ রাশাদ আজমল বিন আবদুন নূর)
হাদিস নং: ৮০৪
সহিহ (Sahih)
قالا وقال ابو هريرة ـ رضى الله عنه ـ وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم حين يرفع راسه يقول سمع الله لمن حمده، ربنا ولك الحمد. يدعو لرجال فيسميهم باسماىهم فيقول " اللهم انج الوليد بن الوليد وسلمة بن هشام وعياش بن ابي ربيعة، والمستضعفين من المومنين، اللهم اشدد وطاتك على مضر، واجعلها عليهم سنين كسني يوسف ". واهل المشرق يومىذ من مضر مخالفون له.
৮০৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠাতেন তখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন। আর কতিপয় লোকের নাম উল্লেখ করে তাঁদের জন্য দু‘আ করতেন। দু‘আয় তিনি বলতেন, হে আল্লাহ্! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদ, সালামাহ ইবনু হিশাম, আইয়্যাস ইবনু আবূ রাবী‘আ (রাযি.) এবং অপরাপর দুর্বল মুসলিমদেরকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ্! মুদার গোত্রের উপর আপনার পাকড়াও কঠোর করুন, ইউসুফ (আ)-এর যুগে যেমন খাদ্য সংকট ছিল তাদের জন্যও তেমন খাদ্য সংকট সৃষ্টি করে দিন। (রাবী বলেন) এ যুগে পূর্বাঞ্চলের অধিবাসী মুদার গোত্রের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিরোধী ছিল। (৭৯৭; মুসলিম ৫/৫৪, হাঃ ৬৭৫ আহমাদ ৭৪৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৫৯ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৭ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৮০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، قال حدثنا سفيان، غير مرة عن الزهري، قال سمعت انس بن مالك، يقول سقط رسول الله صلى الله عليه وسلم عن فرس ـ وربما قال سفيان من فرس ـ فجحش شقه الايمن، فدخلنا عليه نعوده، فحضرت الصلاة، فصلى بنا قاعدا وقعدنا ـ وقال سفيان مرة صلينا قعودا ـ فلما قضى الصلاة قال " انما جعل الامام ليوتم به، فاذا كبر فكبروا واذا ركع فاركعوا، واذا رفع فارفعوا، واذا قال سمع الله لمن حمده. فقولوا ربنا ولك الحمد. واذا سجد فاسجدوا ". قال سفيان كذا جاء به معمر قلت نعم. قال لقد حفظ، كذا قال الزهري ولك الحمد. حفظت من شقه الايمن. فلما خرجنا من عند الزهري قال ابن جريج ـ وانا عنده ـ فجحش ساقه الايمن.
৮০৫. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া হতে পড়ে যান। কোন কোন সময় সুফ্ইয়ান (রহ.) হাদীস বর্ণনা করার সময় عن فرس শব্দের স্থলে من فرس শব্দ বলতেন। ফলে তাঁর ডান পাঁজর আহত হয়ে পড়ে। আমরা তাঁর শুশ্রূষা করার জন্য সেখানে গেলাম। এ সময় সালাতের ওয়াক্ত হলো। তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করলেন, আমরাও বসেই আদায় করলাম। সুফ্ইয়ান (রহ.) আর একবার বলেছেন, আমরা বসে সালাত আদায় করলাম। সালাতের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁকে ইক্তিদা করার জন্য। তিনি যখন তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, তিনি যখন রুকূ‘ করেন তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে। তিনি যখন রুকূ‘ হতে উঠেন তখন তোমরাও উঠবে, তিনি যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলবে। তিনি যখন সিজদা্ করেন, তখন তোমরাও সিজদা্ করবে। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, মা‘মারও কি এরূপ বর্ণনা করেছেন? [‘আলী (রহ.) বলেন] আমি বললাম, হ্যাঁ। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, তিনি ঠিকই স্মরণ রেখেছেন, এরূপই যুহরী (রহ.) وَلَكَ الْحَمْدُ বর্ণনা করেছেন। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, (যুহরীর কাছ হতে) ডান পাঁজর যখম হবার কথা মুখস্থ করেছিলাম। কিন্তু যখন তাঁর কাছ হতে বেরিয়ে আসলাম, তখন ইবনু জুরায়জ (রহ.) বললেন, আমিও তাঁর নিকট ছিলাম। (তিনি বলেছেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ডান পায়ের নলা যখম হয়েছিল। (৩৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৮)
হাদিস নং: ৮০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، قال اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني سعيد بن المسيب، وعطاء بن يزيد الليثي، ان ابا هريرة، اخبرهما ان الناس قالوا يا رسول الله، هل نرى ربنا يوم القيامة قال " هل تمارون في القمر ليلة البدر ليس دونه سحاب ". قالوا لا يا رسول الله. قال " فهل تمارون في الشمس ليس دونها سحاب ". قالوا لا. قال " فانكم ترونه كذلك، يحشر الناس يوم القيامة، فيقول من كان يعبد شيىا فليتبع. فمنهم من يتبع الشمس، ومنهم من يتبع القمر ومنهم من يتبع الطواغيت، وتبقى هذه الامة فيها منافقوها، فياتيهم الله فيقول انا ربكم فيقولون هذا مكاننا حتى ياتينا ربنا، فاذا جاء ربنا عرفناه. فياتيهم الله فيقول انا ربكم. فيقولون انت ربنا. فيدعوهم فيضرب الصراط بين ظهرانى جهنم، فاكون اول من يجوز من الرسل بامته، ولا يتكلم يومىذ احد الا الرسل، وكلام الرسل يومىذ اللهم سلم سلم. وفي جهنم كلاليب مثل شوك السعدان، هل رايتم شوك السعدان ". قالوا نعم. قال " فانها مثل شوك السعدان، غير انه لا يعلم قدر عظمها الا الله، تخطف الناس باعمالهم، فمنهم من يوبق بعمله، ومنهم من يخردل ثم ينجو، حتى اذا اراد الله رحمة من اراد من اهل النار، امر الله الملاىكة ان يخرجوا من كان يعبد الله، فيخرجونهم ويعرفونهم باثار السجود، وحرم الله على النار ان تاكل اثر السجود فيخرجون من النار، فكل ابن ادم تاكله النار الا اثر السجود، فيخرجون من النار قد امتحشوا، فيصب عليهم ماء الحياة، فينبتون كما تنبت الحبة في حميل السيل، ثم يفرغ الله من القضاء بين العباد، ويبقى رجل بين الجنة والنار، وهو اخر اهل النار دخولا الجنة، مقبل بوجهه قبل النار فيقول يا رب اصرف وجهي عن النار، قد قشبني ريحها، واحرقني ذكاوها. فيقول هل عسيت ان فعل ذلك بك ان تسال غير ذلك فيقول لا وعزتك. فيعطي الله ما يشاء من عهد وميثاق، فيصرف الله وجهه عن النار، فاذا اقبل به على الجنة راى بهجتها سكت ما شاء الله ان يسكت، ثم قال يا رب قدمني عند باب الجنة. فيقول الله له اليس قد اعطيت العهود والمواثيق ان لا تسال غير الذي كنت سالت فيقول يا رب لا اكون اشقى خلقك. فيقول فما عسيت ان اعطيت ذلك ان لا تسال غيره فيقول لا وعزتك لا اسال غير ذلك. فيعطي ربه ما شاء من عهد وميثاق، فيقدمه الى باب الجنة، فاذا بلغ بابها، فراى زهرتها وما فيها من النضرة والسرور، فيسكت ما شاء الله ان يسكت، فيقول يا رب ادخلني الجنة. فيقول الله ويحك يا ابن ادم ما اغدرك، اليس قد اعطيت العهد والميثاق ان لا تسال غير الذي اعطيت فيقول يا رب لا تجعلني اشقى خلقك. فيضحك الله ـ عز وجل ـ منه، ثم ياذن له في دخول الجنة فيقول تمن. فيتمنى حتى اذا انقطعت امنيته قال الله عز وجل تمن كذا وكذا. اقبل يذكره ربه، حتى اذا انتهت به الاماني قال الله تعالى لك ذلك ومثله معه ". قال ابو سعيد الخدري لابي هريرة ـ رضى الله عنهما ـ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " قال الله لك ذلك وعشرة امثاله ". قال ابو هريرة لم احفظ من رسول الله صلى الله عليه وسلم الا قوله " لك ذلك ومثله معه ". قال ابو سعيد اني سمعته يقول " ذلك لك وعشرة امثاله ".
৮০৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেনঃ মেঘমুক্ত পুর্ণিমার রাতের চাঁদকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কি সন্দেহ পোষণ কর? তাঁরা বললেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখার ব্যাপারে কি তোমাদের কোন সন্দেহ আছে? সবাই বললেন, না। তখন তিনি বললেনঃ নিঃসন্দেহে তোমরাও আল্লাহকে তেমনিভাবে দেখতে পাবে।
কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেন, যে যার উপাসনা করতে সে যেন তার অনুসরণ করে। তাই তাদের কেউ সূর্যের অনুসরণ করবে, কেউ চন্দ্রের অনুসরণ করবে, কেউ তাগুতের অনুসরণ করবে। আর বাকী থাকবে শুধুমাত্র উম্মাহ্, তবে তাদের সাথে মুনাফিকরাও থাকবে। তাঁদের মাঝে এ সময় আল্লাহ তা‘আলা আগমন করবেন এবং বলবেনঃ ‘‘আমি তোমাদের রব।’’ তখন তারা বলবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রবের আগমন না হবে, ততক্ষণ আমরা এখানেই থাকব। আর তার যখন আগমন হবে তখন আমরা অবশ্যই তাঁকে চিনতে পারব। তখন তাদের মাঝে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা‘আলা আগমন করবেন এবং বলবেন, ‘‘আমি তোমাদের রব।’’ তারা বলবে, হাঁ, আপনিই আমাদের রব। আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের ডাকবেন। আর জাহান্নামের উপর একটি সেতু স্থাপন করা হবে। রাসূলগণের মধ্যে আমিই সবার আগে আমার উম্মাত নিয়ে এ পথ অতিক্রম করব। সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না। আর রাসূলগণের কথা হবেঃ (আল্লাহুম্মা সাল্লিম সাল্লিম) হে আল্লাহ্! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন।
আর জাহান্নামে বাঁকা লোহার বহু শলাকা থাকবে; সেগুলো হবে সা‘দান কাঁটার মতো। তোমরা কি সা‘দান কাঁটা দেখেছ? তারা বলবে, হাঁ, দেখেছি। তিনি বলবেন, সেগুলো দেখতে সা‘দান* কাঁটার মতোই। তবে সেগুলো কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ জানে না। সে কাঁটা লোকের ‘আমল অনুযায়ী তাদের তড়িৎ গতিতে ধরবে। তাদের কিছু লোক ধ্বংস হবে ‘আমলের কারণে। আর কারোর পায়ে যখম হবে, কিছু লোক কাঁটায় আক্রান্ত হবে, অতঃপর নাজাত পেয়ে যাবে। জাহান্নামীদের হতে যাদের প্রতি আল্লাহ্ তা‘আলা রহমত করতে ইচ্ছা করবেন, তাদের ব্যাপারে মালাইকাহ্কে নির্দেশ দেবেন যে, যারা আল্লাহর ‘ইবাদাত করতো, তাদের যেন জাহান্নাম হতে বের করে আনা হয়। মালাইকাহ তাদের বের করে আনবেন এবং সিজদার চিহ্ন দেখে তাঁরা তাদের চিনতে পারবেন। কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা জাহান্নামের জন্য সিজদার চিহ্নগুলো মিটিয়ে দেয়া হারাম করে দিয়েছেন। ফলে তাদের জাহান্নাম হতে বের করে আনা হবে। কাজেই সিজদার চিহ্ন ছাড়া আগুন বানী আদমের সব কিছুই গ্রাস করে ফেলবে। অবশেষে, তাদেরকে অঙ্গারে পরিণত অবস্থায় জাহান্নাম হতে বের করা হবে। তাদের উপর ‘আবে-হায়াত’ ঢেলে দেয়া হবে ফলে তারা স্রোতে বাহিত ফেনার উপর গজিয়ে উঠা উদ্ভিদের মত সঞ্জীবিত হয়ে উঠবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা বান্দাদের বিচার কাজ সমাপ্ত করবেন কিন্তু একজন লোক জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে থেকে যাবে। তার মুখমণ্ডল
তখনও জাহান্নামের দিকে ফেরানো থাকবে। জাহান্নামবাসীদের মধ্যে জান্নাতে প্রবেশকারী সেই শেষ ব্যক্তি।
সে তখন নিবেদন করবে, হে আমার রব! জাহান্নাম হতে আমার চেহারা ফিরিয়ে দিন। এর দূষিত হাওয়া আমাকে বিষিয়ে তুলছে, এর লেলিহান শিখা আমাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেন, তোমার নিবেদন গ্রহণ করা হলে, তুমি এছাড়া আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না, আপনার ইয্যতের শপথ! সে তার ইচ্ছামত আল্লাহ্ তা‘আলাকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিবে। কাজেই আল্লাহ তা‘আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের দিক হতে ফিরিয়ে দিবেন। অতঃপর সে যখন জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে, তখন সে জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সে চুপ করে থাকবে।
অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আপনি জান্নাতের দরজার নিকট পৌঁছে দিন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন, তুমি পূর্বে যা চেয়েছিলে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না বলে তুমি কি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাওনি? তখন সে বলবে, হে আমার রব! তোমার সৃষ্টির সবচাইতে হতভাগ্য আমি হতে চাই না। আল্লাহ্ তারক্ষণিক বলবেন, তোমার এটি পূরণ করা হলে তুমি এ ছাড়া কিছু চাইবে না তো? সে বলবে না, আপনার ইযয্তের কসম! এছাড়া আমি আর কিছুই চাইব না। এ ব্যাপারে সে তার ইচ্ছানুযায়ী অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দেবে। সে যখন জান্নাতের দরজায় পৌঁছবে তখন জান্নাতের অনাবিল সৌন্দর্য ও তার আভ্যন্তরীণ সুখ শান্তি ও আনন্দঘন পরিবেশ দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহ্ তা‘আলা ইচ্ছা করবেন, সে চুপ করে থাকবে। অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও! তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ্ বলবেনঃ হে আদম সন্তান, কি আশ্চর্য! তুমি কত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! তুমি কি আমার সঙ্গে অঙ্গীকার করনি এবং প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে, তাছাড়া আর কিছু চাইবে না? তখন সে বলবে, হে আমার রব! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আমাকে সবচাইতে হতভাগ্য করবেন না। এতে আল্লাহ্ হেসে দেবেন। অতঃপর তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিবেন এবং বলবেন, চাও। সে তখন চাইবে, এমন কি তার চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ফুরিয়ে যাবে। তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ্ বলবেনঃ এটা চাও, ওটা চাও। এভাবে তার রব তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকবেন। অবশেষে যখন তার আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেনঃ এ সবই তোমার, এ সাথে আরো সমপরিমাণ (তোমাকে দেয়া হল)। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-কে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন যে, আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেনঃ এ সবই তোমার, তার সাথে আরও দশগুণ (তোমাকে দেয়া হল)। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুধু এ কথাটি স্মরণ রেখেছি যে, এ সবই তোমার এবং এর সাথে সমপরিমাণ। আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, এসব তোমার এবং এর সাথে আরও দশগুণ। (৬৫৭৩, ৭৩৩৭ মুসলিম ১/৮১, হাঃ ১৮২, আহমাদ ৭৭২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৯)
কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেন, যে যার উপাসনা করতে সে যেন তার অনুসরণ করে। তাই তাদের কেউ সূর্যের অনুসরণ করবে, কেউ চন্দ্রের অনুসরণ করবে, কেউ তাগুতের অনুসরণ করবে। আর বাকী থাকবে শুধুমাত্র উম্মাহ্, তবে তাদের সাথে মুনাফিকরাও থাকবে। তাঁদের মাঝে এ সময় আল্লাহ তা‘আলা আগমন করবেন এবং বলবেনঃ ‘‘আমি তোমাদের রব।’’ তখন তারা বলবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রবের আগমন না হবে, ততক্ষণ আমরা এখানেই থাকব। আর তার যখন আগমন হবে তখন আমরা অবশ্যই তাঁকে চিনতে পারব। তখন তাদের মাঝে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা‘আলা আগমন করবেন এবং বলবেন, ‘‘আমি তোমাদের রব।’’ তারা বলবে, হাঁ, আপনিই আমাদের রব। আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের ডাকবেন। আর জাহান্নামের উপর একটি সেতু স্থাপন করা হবে। রাসূলগণের মধ্যে আমিই সবার আগে আমার উম্মাত নিয়ে এ পথ অতিক্রম করব। সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না। আর রাসূলগণের কথা হবেঃ (আল্লাহুম্মা সাল্লিম সাল্লিম) হে আল্লাহ্! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন।
আর জাহান্নামে বাঁকা লোহার বহু শলাকা থাকবে; সেগুলো হবে সা‘দান কাঁটার মতো। তোমরা কি সা‘দান কাঁটা দেখেছ? তারা বলবে, হাঁ, দেখেছি। তিনি বলবেন, সেগুলো দেখতে সা‘দান* কাঁটার মতোই। তবে সেগুলো কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ জানে না। সে কাঁটা লোকের ‘আমল অনুযায়ী তাদের তড়িৎ গতিতে ধরবে। তাদের কিছু লোক ধ্বংস হবে ‘আমলের কারণে। আর কারোর পায়ে যখম হবে, কিছু লোক কাঁটায় আক্রান্ত হবে, অতঃপর নাজাত পেয়ে যাবে। জাহান্নামীদের হতে যাদের প্রতি আল্লাহ্ তা‘আলা রহমত করতে ইচ্ছা করবেন, তাদের ব্যাপারে মালাইকাহ্কে নির্দেশ দেবেন যে, যারা আল্লাহর ‘ইবাদাত করতো, তাদের যেন জাহান্নাম হতে বের করে আনা হয়। মালাইকাহ তাদের বের করে আনবেন এবং সিজদার চিহ্ন দেখে তাঁরা তাদের চিনতে পারবেন। কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা জাহান্নামের জন্য সিজদার চিহ্নগুলো মিটিয়ে দেয়া হারাম করে দিয়েছেন। ফলে তাদের জাহান্নাম হতে বের করে আনা হবে। কাজেই সিজদার চিহ্ন ছাড়া আগুন বানী আদমের সব কিছুই গ্রাস করে ফেলবে। অবশেষে, তাদেরকে অঙ্গারে পরিণত অবস্থায় জাহান্নাম হতে বের করা হবে। তাদের উপর ‘আবে-হায়াত’ ঢেলে দেয়া হবে ফলে তারা স্রোতে বাহিত ফেনার উপর গজিয়ে উঠা উদ্ভিদের মত সঞ্জীবিত হয়ে উঠবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা বান্দাদের বিচার কাজ সমাপ্ত করবেন কিন্তু একজন লোক জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে থেকে যাবে। তার মুখমণ্ডল
তখনও জাহান্নামের দিকে ফেরানো থাকবে। জাহান্নামবাসীদের মধ্যে জান্নাতে প্রবেশকারী সেই শেষ ব্যক্তি।
সে তখন নিবেদন করবে, হে আমার রব! জাহান্নাম হতে আমার চেহারা ফিরিয়ে দিন। এর দূষিত হাওয়া আমাকে বিষিয়ে তুলছে, এর লেলিহান শিখা আমাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেন, তোমার নিবেদন গ্রহণ করা হলে, তুমি এছাড়া আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না, আপনার ইয্যতের শপথ! সে তার ইচ্ছামত আল্লাহ্ তা‘আলাকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিবে। কাজেই আল্লাহ তা‘আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের দিক হতে ফিরিয়ে দিবেন। অতঃপর সে যখন জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে, তখন সে জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সে চুপ করে থাকবে।
অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আপনি জান্নাতের দরজার নিকট পৌঁছে দিন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেন, তুমি পূর্বে যা চেয়েছিলে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না বলে তুমি কি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাওনি? তখন সে বলবে, হে আমার রব! তোমার সৃষ্টির সবচাইতে হতভাগ্য আমি হতে চাই না। আল্লাহ্ তারক্ষণিক বলবেন, তোমার এটি পূরণ করা হলে তুমি এ ছাড়া কিছু চাইবে না তো? সে বলবে না, আপনার ইযয্তের কসম! এছাড়া আমি আর কিছুই চাইব না। এ ব্যাপারে সে তার ইচ্ছানুযায়ী অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দেবে। সে যখন জান্নাতের দরজায় পৌঁছবে তখন জান্নাতের অনাবিল সৌন্দর্য ও তার আভ্যন্তরীণ সুখ শান্তি ও আনন্দঘন পরিবেশ দেখতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহ্ তা‘আলা ইচ্ছা করবেন, সে চুপ করে থাকবে। অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও! তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ্ বলবেনঃ হে আদম সন্তান, কি আশ্চর্য! তুমি কত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! তুমি কি আমার সঙ্গে অঙ্গীকার করনি এবং প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে, তাছাড়া আর কিছু চাইবে না? তখন সে বলবে, হে আমার রব! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আমাকে সবচাইতে হতভাগ্য করবেন না। এতে আল্লাহ্ হেসে দেবেন। অতঃপর তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিবেন এবং বলবেন, চাও। সে তখন চাইবে, এমন কি তার চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ফুরিয়ে যাবে। তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ্ বলবেনঃ এটা চাও, ওটা চাও। এভাবে তার রব তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকবেন। অবশেষে যখন তার আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেনঃ এ সবই তোমার, এ সাথে আরো সমপরিমাণ (তোমাকে দেয়া হল)। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)-কে বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন যে, আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেনঃ এ সবই তোমার, তার সাথে আরও দশগুণ (তোমাকে দেয়া হল)। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুধু এ কথাটি স্মরণ রেখেছি যে, এ সবই তোমার এবং এর সাথে সমপরিমাণ। আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, এসব তোমার এবং এর সাথে আরও দশগুণ। (৬৫৭৩, ৭৩৩৭ মুসলিম ১/৮১, হাঃ ১৮২, আহমাদ ৭৭২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৯)
নোট: * সা’দান চতুস্পার্শ্বে কাঁটা বিশিষ্ট এক প্রকার গাছ, মরু অঞ্চলে জন্মে, কাঁটাগুলো বাঁকা থাকে। এগুলো উটের খাদ্য।
হাদিস নং: ৮০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير، قال حدثني بكر بن مضر، عن جعفر، عن ابن هرمز، عن عبد الله بن مالك ابن بحينة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا صلى فرج بين يديه حتى يبدو بياض ابطيه. وقال الليث حدثني جعفر بن ربيعة نحوه.
৮০৭. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মালিক (রহ.) যিনি ইবনু বুহাইনা (রাযি.) তাঁর হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন, তখন উভয় হাত এমন ফাঁক করতেন যে, তাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত। লায়স (রহ.) বলেন, জা‘ফার বিন রাবী‘আহ (রহ.) আমার নিকট এ রকম বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭০)
হাদিস নং: ৮০৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا الصلت بن محمد، قال حدثنا مهدي، عن واصل، عن ابي واىل، عن حذيفة، راى رجلا لا يتم ركوعه ولا سجوده، فلما قضى صلاته قال له حذيفة ما صليت ـ قال واحسبه قال ـ ولو مت مت على غير سنة محمد صلى الله عليه وسلم.
10/131. بَاب يَسْتَقْبِلُ بِأَطْرَافِ رِجْلَيْهِ الْقِبْلَةَ
১০/১৩১. অধ্যায়ঃ সালাতে উভয় পায়ের আঙ্গুল কিবলামুখী রাখা।
قَالَهُ أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
আবূ হুমায়দ (রাযি.) নবী (সা.) হতে এ রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৮০৮. হুযাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে রুকূ’ ও সিজদা্ পূর্ণরূপে আদায় করছে না। সে যখন তার সালাত শেষ করা, তখন হুযাইফাহ (রাযি.) তাকে বললেন, তুমি তো সালাত আদায় করনি। আবূ ওয়াইল (রহ.) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এও বলেছিলেন যে, এভাবে সালাত আদায় করে তুমি যদি মারা যাও, তাহলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর তরীকা হতে বিচ্যুত হয়ে মারা যাবে। (৩৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭১)
১০/১৩১. অধ্যায়ঃ সালাতে উভয় পায়ের আঙ্গুল কিবলামুখী রাখা।
قَالَهُ أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
আবূ হুমায়দ (রাযি.) নবী (সা.) হতে এ রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৮০৮. হুযাইফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে রুকূ’ ও সিজদা্ পূর্ণরূপে আদায় করছে না। সে যখন তার সালাত শেষ করা, তখন হুযাইফাহ (রাযি.) তাকে বললেন, তুমি তো সালাত আদায় করনি। আবূ ওয়াইল (রহ.) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এও বলেছিলেন যে, এভাবে সালাত আদায় করে তুমি যদি মারা যাও, তাহলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর তরীকা হতে বিচ্যুত হয়ে মারা যাবে। (৩৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭১)
হাদিস নং: ৮০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا قبيصة، قال حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن طاوس، عن ابن عباس، امر النبي صلى الله عليه وسلم ان يسجد على سبعة اعضاء، ولا يكف شعرا ولا ثوبا الجبهة واليدين والركبتين والرجلين.
৮০৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা্ করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে নির্দেশিত হয়েছিলেন। (অঙ্গ সাতটি হল) কপাল দু’ হাত, দু’ হাঁটু ও দু’ পা। (৮১০, ৮১২, ৮১৫, ৮১৬; মুসলিম ৪৩/৪৪, হাঃ ৪৯০, আহমাদ ২৫৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭২)
হাদিস নং: ৮১০
সহিহ (Sahih)
مسلم بن ابراهيم قال حدثنا شعبة عن عمرو عن طاوس عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال امرنا ان نسجد على سبعة اعظم ولا نكف ثوبا ولا شعرا.
৮১০. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা্ করতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে নির্দেশিত হয়েছি। (৮০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৩)
হাদিস নং: ৮১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم، حدثنا اسراىيل، عن ابي اسحاق، عن عبد الله بن يزيد الخطمي، حدثنا البراء بن عازب ـ وهو غير كذوب ـ قال كنا نصلي خلف النبي صلى الله عليه وسلم فاذا قال سمع الله لمن حمده. لم يحن احد منا ظهره حتى يضع النبي صلى الله عليه وسلم جبهته على الارض.
৮১১. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত- যিনি অবশ্যই মিথ্যাবাদী ছিলেন না। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পশ্চাতে সালাত আদায় করতাম। তিনি سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলার পর যতক্ষণ না কপাল মাটিতে স্থাপন করতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ সিজদার জন্য পিঠ ঝুঁকাত না। ( ৬৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৪)
হাদিস নং: ৮১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا معلى بن اسد، قال حدثنا وهيب، عن عبد الله بن طاوس، عن ابيه، عن ابن عباس، رضى الله عنهما قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " امرت ان اسجد على سبعة اعظم على الجبهة ـ واشار بيده على انفه ـ واليدين، والركبتين واطراف القدمين، ولا نكفت الثياب والشعر ".
৮১২. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ইরশাদ করেছেনঃ আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা্ করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। কপাল দ্বারা এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, আর দু’ হাত, দু’ হাঁটু এবং দু’ পায়ের আঙ্গুলসমূহ দ্বারা। আর আমরা যেন চুল ও কাপড় গুটিয়ে না নেই। (৮০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৫)
হাদিস নং: ৮১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى، قال حدثنا همام، عن يحيى، عن ابي سلمة، قال انطلقت الى ابي سعيد الخدري فقلت الا تخرج بنا الى النخل نتحدث فخرج. فقال قلت حدثني ما، سمعت من النبي، صلى الله عليه وسلم في ليلة القدر. قال اعتكف رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر الاول من رمضان، واعتكفنا معه، فاتاه جبريل فقال ان الذي تطلب امامك. فاعتكف العشر الاوسط، فاعتكفنا معه، فاتاه جبريل فقال ان الذي تطلب امامك. فقام النبي صلى الله عليه وسلم خطيبا صبيحة عشرين من رمضان فقال " من كان اعتكف مع النبي صلى الله عليه وسلم فليرجع، فاني اريت ليلة القدر، واني نسيتها، وانها في العشر الاواخر في وتر، واني رايت كاني اسجد في طين وماء ". وكان سقف المسجد جريد النخل وما نرى في السماء شيىا، فجاءت قزعة فامطرنا، فصلى بنا النبي صلى الله عليه وسلم حتى رايت اثر الطين والماء على جبهة رسول الله صلى الله عليه وسلم وارنبته تصديق روياه.
৮১৩. আবূ সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদের সঙ্গে খেজুর বাগানে চলুন, (হাদীস সংক্রান্ত) আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন। আবূ সালামাহ (রাযি.) বলেন, আমি তাকে বললাম, ‘লাইলাতুল কাদর’ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা শুনেছেন, তা আমার নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের প্রথম দশ দিন ‘ইতিকাফ করলেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। জিবরীল (‘আ.) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। অতঃপর তিনি মধ্যবর্তী দশদিন ই‘তিকাফ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে ই‘তিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরীল (‘আ.) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। অতঃপর রমাযানের বিশ তারিখ সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্বা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, যারা আল্লাহর নবীর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছেন, তারা যেন ফিরে আসেন (আবার ই‘তিকাফ করেন) কেননা, আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কাদ্র’ অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা (নির্ধারিত তারিখটি) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা্ করছি। তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোন কিছুই (মেঘ) দেখিনি, একখন্ড হালকা মেঘ আসল এবং আমাদের উপর (বৃষ্টি) বর্ষিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এমন কি আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। এভাবেই তাঁর স্বপ্ন সত্যে রূপ লাভ করল। (৬৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৬)
হাদিস নং: ৮১৪
সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير قال اخبرنا سفيان عن ابي حازم عن سهل بن سعد قال كان الناس يصلون مع النبي صلى الله عليه وسلم وهم عاقدوا ازرهم من الصغر على رقابهم فقيل للنساء لا ترفعن رءوسكن حتى يستوي الرجال جلوسا.
৮১৪. সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন। কিন্তু ইযার বা লুঙ্গী ছোট হবার কারণে তা গলার সাথে বেঁধে নিতেন। আর নারীদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল, তোমরা সিজদা্ হতে মাথা উঠাবে না যে পর্যন্ত পুরুষগণ ঠিকমত না বসবে। (৩৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৭)
হাদিস নং: ৮১৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان، قال حدثنا حماد ـ وهو ابن زيد ـ عن عمرو بن دينار، عن طاوس، عن ابن عباس، قال امر النبي صلى الله عليه وسلم ان يسجد على سبعة اعظم، ولا يكف ثوبه ولا شعره.
৮১৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা্ করতে এবং সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করতে এবং কাপড় টেনে না ধরতে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। (৮০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৮)
হাদিস নং: ৮১৬
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل قال حدثنا ابو عوانة عن عمرو عن طاوس عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال امرت ان اسجد على سبعة لا اكف شعرا ولا ثوبا.
৮১৬. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি সাত অঙ্গে সিজদা্ করতে, সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করতে এবং কাপড় টেনে না ধরতে নির্দেশিত হয়েছি। (৮০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭৯)
হাদিস নং: ৮১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، قال حدثنا يحيى، عن سفيان، قال حدثني منصور، عن مسلم، عن مسروق، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ انها قالت كان النبي صلى الله عليه وسلم يكثر ان يقول في ركوعه وسجوده " سبحانك اللهم ربنا وبحمدك، اللهم اغفر لي " يتاول القران.
৮১৭. ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকূ‘ ও সিজদা্য় অধিক পরিমাণে سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‘‘হে আল্লাহ্! হে আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন’’ পাঠ করতেন। এতে তিনি পবিত্র কুরআনের নির্দেশ পালন করতেন।* (৭৯৪; মুসলিম ৪/৪২, হাঃ ৪৮৪, আহমাদ ২৪২১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮০)
হাদিস নং: ৮১৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان، قال حدثنا حماد، عن ايوب، عن ابي قلابة، ان مالك بن الحويرث، قال لاصحابه الا انبىكم صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم قال وذاك في غير حين صلاة، فقام، ثم ركع فكبر ثم رفع راسه، فقام هنية، ثم سجد ثم رفع راسه هنية، فصلى صلاة عمرو بن سلمة شيخنا هذا. قال ايوب كان يفعل شيىا لم ارهم يفعلونه، كان يقعد في الثالثة والرابعة.
৮১৮. আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.) তাঁর সাথীদের বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত সম্পর্কে আমি কি তোমাদের অবহিত করব না? (রাবী) আবূ কিলাবাহ (রহ.) বলেন, এ ছিল সালাতের সময় ছাড়া অন্য সময়। অতঃপর তিনি (সালাতে) দাঁড়ালেন, অতঃপর রুকূ‘ করলেন, এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন আর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর সিজদা্য় গেলেন এবং সিজদা্ হতে মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ বসে পুনরায় সিজদা্ করলেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। এভাবে তিনি আমাদের এ শায়খ ‘আমর ইবনু সালিমাহর সালাতের মত সালাত আদায় করলেন। আইয়ুব (রহ.) বলেন, ‘আমর ইবনু সালিমাহ (রহ.) এমন কিছু করতেন যা অন্যদের করতে দেখিনি। তা হল তিনি তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাক‘আতে বসতেন। (৬৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৭৩ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮১)
হাদিস নং: ৮১৯
সহিহ (Sahih)
قال فاتينا النبي صلى الله عليه وسلم فاقمنا عنده فقال لو رجعتم الى اهليكم صلوا صلاة كذا في حين كذا صلوا صلاة كذا في حين كذا فاذا حضرت الصلاة فليوذن احدكم وليومكم اكبركم.
৮১৯. মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাযি.) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে কিছুদিন অবস্থান করলাম। তিনি আমাদের বললেন, তোমরা তোমাদের পরিবার পরিজনদের মধ্যে ফিরে যাবার পর অমুক সালাত অমুক সময়, অমুক সালাত অমুক সময় আদায় করবে। সময় হলে তোমাদের কেউ আযান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ইমামাত করবে।(৬২৮; মুসলিম ৬২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭৩ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮১ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৮২০
সহিহ (Sahih)
محمد بن عبد الرحيم قال حدثنا ابو احمد محمد بن عبد الله الزبيري قال حدثنا مسعر عن الحكم عن عبد الرحمن بن ابي ليلى عن البراء قال كان سجود النبي صلى الله عليه وسلم وركوعه وقعوده بين السجدتين قريبا من السواء.
৮২০. বারাআ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সিজদা্, রুকূ‘ এবং দু’ সিজদার মধ্যে বসা প্রায় সমান (সময়ের) হতো। (৭৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮২)
হাদিস নং: ৮২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب، قال حدثنا حماد بن زيد، عن ثابت، عن انس ـ رضى الله عنه ـ قال اني لا الو ان اصلي بكم كما رايت النبي صلى الله عليه وسلم يصلي بنا. قال ثابت كان انس يصنع شيىا لم اركم تصنعونه، كان اذا رفع راسه من الركوع قام حتى يقول القاىل قد نسي. وبين السجدتين حتى يقول القاىل قد نسي.
৮২১. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যেভাবে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি, কমবেশি না করে আমি তোমাদের সেভাবেই সালাত আদায় করে দেখাব। সাবিত (রহ.) বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) এমন কিছু করতেন যা তোমাদের করতে দেখিনা। তিনি রুকূ‘ হতে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে এত বিলম্ব করতেন যে, কেউ বলত, তিনি (সিজ্দাহর কথা) ভুলে গেছেন। (৮০০; মুসলিম ৪/৩৮, হাঃ ৪৭২, আহমাদ ১৩১০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৩)
হাদিস নং: ৮২২
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار قال حدثنا محمد بن جعفر قال حدثنا شعبة قال سمعت قتادة عن انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اعتدلوا في السجود ولا يبسط احدكم ذراعيه انبساط الكلب.
وَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ سَجَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَوَضَعَ يَدَيْهِ غَيْرَ مُفْتَرِشٍ وَلاَ قَابِضِهِمَا.
আবূ হুমাইদ (রাযি.) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্ করেছেন এবং তাঁর দু’হাত রেখেছেন, কিন্তু বিছিয়েও দেননি আর তা গুটিয়েও দেননি।
৮২২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিজদায় (অঙ্গ প্রত্যঙ্গের) সামঞ্জস্য রক্ষা কর এবং তোমাদের মধ্যে কেউ যেন দু’ হাত বিছিয়ে না দেয়, যেমন কুকুর বিছিয়ে দেয়। (২৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৪)
আবূ হুমাইদ (রাযি.) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্ করেছেন এবং তাঁর দু’হাত রেখেছেন, কিন্তু বিছিয়েও দেননি আর তা গুটিয়েও দেননি।
৮২২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিজদায় (অঙ্গ প্রত্যঙ্গের) সামঞ্জস্য রক্ষা কর এবং তোমাদের মধ্যে কেউ যেন দু’ হাত বিছিয়ে না দেয়, যেমন কুকুর বিছিয়ে দেয়। (২৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৪)