হাদিস নং: ৮৪৩
সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي بكر قال حدثنا معتمر عن عبيد الله عن سمي عن ابي صالح عن ابي هريرةقال جاء الفقراء الى النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا ذهب اهل الدثور من الاموال بالدرجات العلا والنعيم المقيم يصلون كما نصلي ويصومون كما نصوم ولهم فضل من اموال يحجون بها ويعتمرون ويجاهدون ويتصدقون قال الا احدثكم ان اخذتم ادركتم من سبقكم ولم يدرككم احد بعدكم وكنتم خير من انتم بين ظهرانيه الا من عمل مثله تسبحون وتحمدون وتكبرون خلف كل صلاة ثلاثا وثلاثين فاختلفنا بيننا فقال بعضنا نسبح ثلاثا وثلاثين ونحمد ثلاثا وثلاثين ونكبر اربعا وثلاثين فرجعت اليه فقال تقول سبحان الله والحمد لله والله اكبر حتى يكون منهن كلهن ثلاثا وثلاثين.
৮৪৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দরিদ্রলোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, সম্পদশালী ও ধনী ব্যক্তিরা তাদের সম্পদের দ্বারা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী আবাস লাভ করছেন, তাঁরা আমাদের মত সালাত আদায় করছেন, আমাদের মত সিয়াম পালন করছেন এবং অর্থের দ্বারা হাজ্জ, ’উমরাহ, জিহাদ ও সদাক্বাহ করার মর্যাদাও লাভ করছেন। এ শুনে তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু কাজের কথা বলব, যা তোমরা করলে, যারা নেক কাজে তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছে, তাদের পর্যায়ে পৌঁছতে পারবে। তবে যারা পুনরায় এ ধরনের কাজ করবে তাদের কথা স্বতন্ত্র। তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশ বার করে তাসবীহ্ (সুবহানাল্লাহ্), তাহমীদ (আলহামদু ল্লিল্লাহ্) এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করবে। (এ নিয়ে) আমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হলো। কেউ বলল, আমরা তেত্রিশ বার তাসবীহ্ পড়ব। তেত্রিশ বার তাহমীদ আর চৌত্রিশ বার তাকবীর পড়ব। অতঃপর আমি তাঁর নিকট ফিরে গেলাম। তিনি বললেন, سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللهُ أَكْبَرُ বলবে, যাতে সবগুলোই তেত্রিশবার করে হয়ে যায়। (৬৩২৯; মুসলিম ৫/২৬, হাঃ ৫৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৯৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৩)
হাদিস নং: ৮৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف، قال حدثنا سفيان، عن عبد الملك بن عمير، عن وراد، كاتب المغيرة بن شعبة قال املى على المغيرة بن شعبة في كتاب الى معاوية ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول في دبر كل صلاة مكتوبة " لا اله الا الله وحده لا شريك له، له الملك، وله الحمد، وهو على كل شىء قدير، اللهم لا مانع لما اعطيت، ولا معطي لما منعت، ولا ينفع ذا الجد منك الجد ". وقال شعبة عن عبد الملك بهذا، وعن الحكم عن القاسم بن مخيمرة عن وراد بهذا. وقال الحسن الجد غنى.
৮৪৪. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাযি.)-এর কাতিব ওয়ার্রাদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাযি.) আমাকে দিয়ে মু’আবিয়াহ (রাযি.)-কে একখানা পত্র লিখালেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর বলতেনঃ
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
’’এক আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ্! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার নিকট (সৎকাজ ভিন্ন) কোন সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না।’’
শু’বাহ (রহ.) আবদুল মালিক (রহ.) হতে এ রকমই বলেছেন, আপনার নিকট (সৎকাজ ছাড়া) এবং হাসান (রহ.) বলেন, جد অর্থ সম্পদ এবং শু’বাহ (রহ.)....ওয়ার্রাদ (রহ.) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
’’এক আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ্! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার নিকট (সৎকাজ ভিন্ন) কোন সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না।’’
শু’বাহ (রহ.) আবদুল মালিক (রহ.) হতে এ রকমই বলেছেন, আপনার নিকট (সৎকাজ ছাড়া) এবং হাসান (রহ.) বলেন, جد অর্থ সম্পদ এবং শু’বাহ (রহ.)....ওয়ার্রাদ (রহ.) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
নোট: (১৪৭৭, ২৪০৮, ৫৯৭০, ৬৩৩০, ৬৪৭৩, ৬৬১৫, ৭২৯২ মুসলিম ৫/২৬, হাঃ ৫৯৩, আহমাদ ১৮১৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯৬ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৪)
হাদিস নং: ৮৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، قال حدثنا جرير بن حازم، قال حدثنا ابو رجاء، عن سمرة بن جندب، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا صلى صلاة اقبل علينا بوجهه.
৮৪৫. সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করতেন, তখন আমাদের দিকে মুখ ফিরাতেন। (১১৪৩, ১৩৮৬, ২০৮৫, ২৭৯১, ৩২৩৬, ৩৩৫৪, ৩৩৫৪, ৩৬৭৪, ৬০৯৬, ৭০৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৫)
হাদিস নং: ৮৪৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن صالح بن كيسان، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن زيد بن خالد الجهني، انه قال صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الصبح بالحديبية على اثر سماء كانت من الليلة، فلما انصرف اقبل على الناس فقال " هل تدرون ماذا قال ربكم ". قالوا الله ورسوله اعلم. قال " اصبح من عبادي مومن بي وكافر، فاما من قال مطرنا بفضل الله ورحمته فذلك مومن بي وكافر بالكوكب، واما من قال بنوء كذا وكذا فذلك كافر بي ومومن بالكوكب ".
৮৪৬. যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে বৃষ্টি হবার পর হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমরা কি জান, তোমাদের পরাক্রমশালী ও মহিমাময় প্রতিপালক কি বলেছেন? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (রব) বলেন, আমার বান্দাদের মধ্য কেউ আমার প্রতি মু’মিন হয়ে গেল এবং কেউ কাফির। যে বলেছে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী হয়েছে। (১০৩৮, ৪১৪৭, ৭৫০৩; মুসলিম ১/৩২ হাঃ ৭১, আহমাদ ১৭০৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৬)
হাদিস নং: ৮৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله، سمع يزيد، قال اخبرنا حميد، عن انس، قال اخر رسول الله صلى الله عليه وسلم الصلاة ذات ليلة الى شطر الليل ثم خرج علينا، فلما صلى اقبل علينا بوجهه فقال " ان الناس قد صلوا ورقدوا، وانكم لن تزالوا في صلاة ما انتظرتم الصلاة ".
৮৪৭. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্ধরাত পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করলেন। এরপর তিনি আমাদের সামনে বের হয়ে এলেন। সালাত শেষে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের অপেক্ষায় থাকবে ততক্ষণ তোমরা যেন সালাতে রত থাকবে। (৫৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৭)
হাদিস নং: ৮৪৮
সহিহ (Sahih)
باب مكث الامام في مصلاه بعد السلام وقال لنا ادم حدثنا شعبة عن ايوب عن نافع قال كان ابن عمر يصلي في مكانه الذي صلى فيه الفريضة وفعله القاسم ويذكر عن ابي هريرة رفعه لا يتطوع الامام في مكانه ولم يصح
৮৪৮. নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) যে স্থানে দাঁড়িয়ে ফরজ সালাত আদায় করতেন সেখানে দাঁড়িয়ে অন্য সালাত আদায় করতেন। এরূপ ক্বাসিম (রহ.) ‘আমল করেছেন। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে মারফূ‘ হাদীস বর্ণনা করা হয়ে থাকে যে, ইমাম তাঁর জায়গায় দাঁড়িয়ে নফল সালাত আদায় করবেন। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] এ হাদীসটি মারফূ‘ হিসেবে রিওয়ায়াত করা ঠিক নয়। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০০ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ ৫৪৯)
হাদিস নং: ৮৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد، حدثنا ابراهيم بن سعد، حدثنا الزهري، عن هند بنت الحارث، عن ام سلمة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا سلم يمكث في مكانه يسيرا. قال ابن شهاب فنرى ـ والله اعلم ـ لكى ينفذ من ينصرف من النساء.
৮৪৯. উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরানোর পর নিজ জায়গায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বসে থাকার কারণ আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞাত। তবে আমার মনে হয় সালাতের পর মহিলাগণ যাতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান। (৮৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০১ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৮)
হাদিস নং: ৮৫০
সহিহ (Sahih)
وقال ابن ابي مريم اخبرنا نافع بن يزيد، قال اخبرني جعفر بن ربيعة، ان ابن شهاب، كتب اليه قال حدثتني هند بنت الحارث الفراسية، عن ام سلمة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم وكانت من صواحباتها قالت كان يسلم فينصرف النساء، فيدخلن بيوتهن من قبل ان ينصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقال ابن وهب عن يونس عن ابن شهاب اخبرتني هند الفراسية. وقال عثمان بن عمر اخبرنا يونس عن الزهري حدثتني هند الفراسية. وقال الزبيدي اخبرني الزهري ان هند بنت الحارث القرشية اخبرته، وكانت تحت معبد بن المقداد ـ وهو حليف بني زهرة ـ وكانت تدخل على ازواج النبي صلى الله عليه وسلم. وقال شعيب عن الزهري حدثتني هند القرشية. وقال ابن ابي عتيق عن الزهري عن هند الفراسية. وقال الليث حدثني يحيى بن سعيد حدثه عن ابن شهاب عن امراة من قريش حدثته عن النبي صلى الله عليه وسلم.
৮৫০। হিন্দ বিন্ত হারিস ফিরাসিয়াহ যিনি উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর বান্ধবী তাঁর সূত্রে নবী পত্নী উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরাতেন, অতঃপর মহিলারা ফিরে গিয়ে তাঁদের ঘরে প্রবেশ করতেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফিরবার পূর্বেই। ইব্নু ওহাব (রহ.) ইউনুস (রহ.) সূত্রে শিহাব (রহ.) হতে বলেন যে, আমাকে হিন্দ ফিরাসিয়াহ (রাযি.) বর্ণনা করেছেন এবং ’উসমান ইব্নু ’উমার (রহ.) বলেন, আমাকে ইউনুস (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে বলেন যে, আমাকে হিন্দ ফিরাসিয়াহ (রাযি.) বর্ণনা করেছেন, আর যুবাইদী (রহ.) বলেন, আমাকে যুহরী (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, হিন্দ বিনত হারিস কুরাশিয়াহ (রাযি.) তাকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি মা’বাদ ইব্নু মিকদাদ (রহ.)-এর স্ত্রী। আর মা’বাদ বনূ যুহরার সাথে সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন এবং তিনি (হিন্দ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণীগণের নিকট যাতায়াত করতেন। শু’আয়ব (রহ.) যুহরী (রহ.) হতে বলেন যে, আমাকে হিন্দ কুরাশিয়াহ (রহ.) বর্ণনা করেছেন। আর ইব্নু আবূ আতীক (রহ.) যুহরী (রহ.) সূত্রে হিন্দ ফিরাসিয়াহ হতে বর্ণনা করেছেন। লায়স (রহ.) ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সায়ীদ (রহ.) সূত্রে ইব্নু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশের এক মহিলা তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। (৮৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৮)
হাদিস নং: ৮৫১
সহিহ (Sahih)
محمد بن عبيد بن ميمون قال حدثنا عيسى بن يونس عن عمر بن سعيد قال اخبرني ابن ابي مليكة عن عقبة قال صليت وراء النبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة العصر فسلم ثم قام مسرعا فتخطى رقاب الناس الى بعض حجر نساىه ففزع الناس من سرعته فخرج عليهم فراى انهم عجبوا من سرعته فقال ذكرت شيىا من تبر عندنا فكرهت ان يحبسني فامرت بقسمته.
৮৫১. ‘উকবাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদিনা্য় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাম ফিরানোর পর তিনি তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে যান এবং মুসল্লীগণকে ডিঙ্গিয়ে তাঁর সহধর্মিণীগণের কোন একজনের কক্ষে গেলেন। তাঁর এই দ্রুততায় মুসল্লীগণ ঘাবড়িয়ে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিকট ফিরে এলেন এবং দেখলেন যে, তাঁর দ্রুততার কারণে তাঁরা বিস্মিত হয়ে গেছেন। তাই তিনি বললেনঃ আমাদের নিকট রাখা কিছু স্বর্ণের কথা মনে পড়ে যায়। তা আমার জন্য বাধা হোক, তা আমি পছন্দ করি না। তাই আমি সেটার বণ্ঠনের নির্দেশ দিলাম। (১২২১, ,১৪৩০, ৬২৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮০৯)
হাদিস নং: ৮৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد، قال حدثنا شعبة، عن سليمان، عن عمارة بن عمير، عن الاسود، قال قال عبد الله لا يجعل احدكم للشيطان شيىا من صلاته، يرى ان حقا عليه ان لا ينصرف الا عن يمينه، لقد رايت النبي صلى الله عليه وسلم كثيرا ينصرف عن يساره.
وَكَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ يَنْفَتِلُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ وَيَعِيبُ عَلَى مَنْ يَتَوَخَّى أَوْ مَنْ يَعْمِدُ الِانْفِتَالَ عَنْ يَمِينِهِ
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) কখনো ডান দিকে এবং কখনো বাম দিকে ফিরে যেতেন। নির্দিষ্ট করে ডান দিকে ফিরে যাওয়া দোষের মনে করতেন।
৮৫২. আসওয়াদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাযি.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন স্বীয় সালাতের কোন কিছু শয়তানের জন্য না করে। তা হল, কেবল ডান দিকে ফিরানো আবশ্যক মনে করা। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অধিকাংশ সময়ই বাম দিকে ফিরতে দেখেছি। (মুসলিম ৬/৭ হাঃ ৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮০৩ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১০)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) কখনো ডান দিকে এবং কখনো বাম দিকে ফিরে যেতেন। নির্দিষ্ট করে ডান দিকে ফিরে যাওয়া দোষের মনে করতেন।
৮৫২. আসওয়াদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাযি.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন স্বীয় সালাতের কোন কিছু শয়তানের জন্য না করে। তা হল, কেবল ডান দিকে ফিরানো আবশ্যক মনে করা। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অধিকাংশ সময়ই বাম দিকে ফিরতে দেখেছি। (মুসলিম ৬/৭ হাঃ ৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮০৩ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১০)
হাদিস নং: ৮৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، قال حدثنا يحيى، عن عبيد الله، قال حدثني نافع، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ ان النبي صلى الله عليه وسلم قال في غزوة خيبر " من اكل من هذه الشجرة ـ يعني الثوم ـ فلا يقربن مسجدنا ".
وَقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَنْ أَكَلَ الثُّومَ أَوْ الْبَصَلَ مِنَ الْجُوعِ أَوْ غَيْرِهِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্ষুধা বা কোন কারণে অবশ্যই কেউ যেন রসুন বা পিঁয়াজ খেয়ে আমাদের মসজিদের নিকটে না আসে।
৮৫৩. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের সময় বলেন, যে ব্যক্তি এই জাতীয় বৃক্ষ হতে অর্থাৎ কাঁচা রসুন খায় সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদে না আসে। (৪২১৫, ৪২১৭, ৪২১৮, ৫৫২১, ৫৫২২ মুসলিম ৫/১৭ হাঃ ৫৬, আহমাদ ৪৭১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১১)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্ষুধা বা কোন কারণে অবশ্যই কেউ যেন রসুন বা পিঁয়াজ খেয়ে আমাদের মসজিদের নিকটে না আসে।
৮৫৩. ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের সময় বলেন, যে ব্যক্তি এই জাতীয় বৃক্ষ হতে অর্থাৎ কাঁচা রসুন খায় সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদে না আসে। (৪২১৫, ৪২১৭, ৪২১৮, ৫৫২১, ৫৫২২ মুসলিম ৫/১৭ হাঃ ৫৬, আহমাদ ৪৭১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১১)
হাদিস নং: ৮৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، قال حدثنا ابو عاصم، قال اخبرنا ابن جريج، قال اخبرني عطاء، قال سمعت جابر بن عبد الله، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم " من اكل من هذه الشجرة ـ يريد الثوم ـ فلا يغشانا في مساجدنا ". قلت ما يعني به قال ما اراه يعني الا نيىه. وقال مخلد بن يزيد عن ابن جريج الا نتنه.
৮৫৪. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি এ জাতীয় গাছ হতে খায়, তিনি এ দ্বারা রসুন বুঝিয়েছেন, সে যেন আমাদের মসজিদে না আসে। (রাবী আতা (রহ.) বলেন) আমি জাবির (রাযি.) কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দ্বারা কী বুঝিয়েছেন (জাবির (রাযি.) বলেন, আমার ধারণা যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দ্বারা কাঁচা রসুন বুঝিয়েছেন এবং মাখ্লাদ ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) ইবনু জুরাইজ (রহ.) হতে দুর্গন্ধযুক্ত হবার কথা উল্লেখ করেছেন। (৮৫৫, ৫৪৫২, ৭৩৫৯; মুসলিম ৫/১৭, হাঃ ৫৬৪, আহমাদ ১৫২৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১২)
হাদিস নং: ৮৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عفير، قال حدثنا ابن وهب، عن يونس، عن ابن شهاب، زعم عطاء ان جابر بن عبد الله، زعم ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " من اكل ثوما او بصلا فليعتزلنا ـ او قال ـ فليعتزل مسجدنا، وليقعد في بيته ". وان النبي صلى الله عليه وسلم اتي بقدر فيه خضرات من بقول، فوجد لها ريحا فسال فاخبر بما فيها من البقول فقال " قربوها " الى بعض اصحابه كان معه، فلما راه كره اكلها قال " كل فاني اناجي من لا تناجي ".
وقال احمد بن صالح عن ابن وهب اتي ببدر. قال ابن وهب يعني طبقا فيه خضرات. ولم يذكر الليث وابو صفوان عن يونس قصة القدر، فلا ادري هو من قول الزهري او في الحديث.
وقال احمد بن صالح عن ابن وهب اتي ببدر. قال ابن وهب يعني طبقا فيه خضرات. ولم يذكر الليث وابو صفوان عن يونس قصة القدر، فلا ادري هو من قول الزهري او في الحديث.
৮৫৫. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রসুন বা পিঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের হতে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মাসজিদ হতে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে। (উক্ত সানাদে আরো বর্ণিত আছে যে,) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একটি পাত্র যার মধ্যে শাক-সবজি ছিল আনা হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গন্ধ পেলেন এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তাঁকে সে পাত্রে রক্ষিত শাক-সবজি সম্পর্কে জানানো হলো, তখন একজন সাহাবা [আবূ আইয়ুব (রাযি.)]-কে উদ্দেশ্য করে বললেন, তাঁর নিকট এগুলো পৌঁছে দাও। কিন্তু তিনি তা খেতে অপছন্দ করলেন, এ দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি খাও। আমি যাঁর সাথে গোপনে আলাপ করি তাঁর সাথে তুমি আলাপ কর না (মালাইকাহর সাথে আমার আলাপ হয়, তাঁরা দুর্গন্ধকে অপছন্দ করেন)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০৬)
আহমাদ ইবনু সালিহ্ (রহ.) ইবনু ওয়াহ্ব (রহ.) হতে বলেছেন, أُتِيَ بِبَدْرٍ ইবনু ওয়াহ্ব-এর অর্থ বলেছেন, খাঞ্চা যার মধ্যে শাক-সব্জী ছিল। আর লায়স ও আবূ সাফওয়ান (রহ.) ইউনুস (রহ.) হতে রিওয়ায়াত বর্ণনায় الْقِدْرِ এর বর্ণনা উল্লেখ করেননি। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] الْقِدْرِ -এর বর্ণনা যুহরী (রহ.)-এর উক্তি না হাদীসের অংশ তা আমি বলতে পারছি না। (৮৫৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৩)
আহমাদ ইবনু সালিহ্ (রহ.) ইবনু ওয়াহ্ব (রহ.) হতে বলেছেন, أُتِيَ بِبَدْرٍ ইবনু ওয়াহ্ব-এর অর্থ বলেছেন, খাঞ্চা যার মধ্যে শাক-সব্জী ছিল। আর লায়স ও আবূ সাফওয়ান (রহ.) ইউনুস (রহ.) হতে রিওয়ায়াত বর্ণনায় الْقِدْرِ এর বর্ণনা উল্লেখ করেননি। [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] الْقِدْرِ -এর বর্ণনা যুহরী (রহ.)-এর উক্তি না হাদীসের অংশ তা আমি বলতে পারছি না। (৮৫৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৩)
হাদিস নং: ৮৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر، قال حدثنا عبد الوارث، عن عبد العزيز، قال سال رجل انسا ما سمعت نبي الله صلى الله عليه وسلم في الثوم فقال قال النبي صلى الله عليه وسلم " من اكل من هذه الشجرة فلا يقربنا، او لا يصلين معنا ".
৮৫৬. ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে রসুন খাওয়া সম্পর্কে কী বলতে শুনেছেন? তখন আনাস (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এ জাতীয় গাছ হতে খায় সে যেন অবশ্যই আমাদের নিকট না আসে এবং আমাদের সাথে সালাত আদায় না করে। (৫৪৫১ মুসলিম ৫/১৭, হাঃ ৫৬৩, আহমাদ ৯৫৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৪)
হাদিস নং: ৮৫৭
সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى قال حدثني غندر قال حدثنا شعبة قال سمعت سليمان الشيباني قال سمعت الشعبي قال اخبرني من مر مع النبي صلى الله عليه وسلم على قبر منبوذ فامهم وصفوا عليه فقلت يا ابا عمرو من حدثك فقال ابن عباس.
৮৫৭. শা‘বী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন এক ব্যক্তি আমাকে খবর দিয়েছেন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে একটি পৃথক কবরের নিকট গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে লোকদের ইমামাত করেন। লোকজন কাতারবন্দী হয়ে তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে গেল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ ‘আমর! কে আপনাকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাযি আল্লাহু তা‘আলা ‘আনহু)। (১২৪৭, ১৩১৯, ১৩২১, ১৩২২, ১৩২৬, ১৩৩৬, ১৩৪০ মুসলিম ১১/২৩, হাঃ ৯৫৪, আহমাদ ২৫৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৫)
হাদিস নং: ৮৫৮
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله قال حدثنا سفيان قال حدثني صفوان بن سليم عن عطاء بن يسار عن ابي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الغسل يوم الجمعة واجب على كل محتلم.
৮৫৮. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,জুমু‘আহর দিন প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত (মুসলিমের) গোসল করা ওয়াজিব। (৮৭৯, ৮৮০, ৮৯৫, ২৬৬৫ মুসলিম ৭/১, হাঃ ৮৪৬, আহমাদ ১১২৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৬)
হাদিস নং: ৮৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، قال اخبرنا سفيان، عن عمرو، قال اخبرني كريب، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قال بت عند خالتي ميمونة ليلة، فنام النبي صلى الله عليه وسلم فلما كان في بعض الليل قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فتوضا من شن معلق وضوءا خفيفا ـ يخففه عمرو ويقلله جدا ـ ثم قام يصلي، فقمت فتوضات نحوا مما توضا، ثم جىت فقمت عن يساره، فحولني فجعلني عن يمينه، ثم صلى ما شاء الله، ثم اضطجع فنام حتى نفخ، فاتاه المنادي يوذنه بالصلاة فقام معه الى الصلاة، فصلى ولم يتوضا. قلنا لعمرو ان ناسا يقولون ان النبي صلى الله عليه وسلم تنام عينه ولا ينام قلبه. قال عمرو سمعت عبيد بن عمير يقول ان رويا الانبياء وحى ثم قرا (اني ارى في المنام اني اذبحك).
৮৫৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে আমার খালা (উম্মুল মু’মিনীন) মাইমূনাহ (রাযি.) এর নিকট রাত্র কাটালাম। সে রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও সেখানে নিদ্রা যান। রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলে তিনি উঠলেন এবং একটি ঝুলন্ত মশ্ক হতে পানি নিয়ে হাল্কা উযূ করলেন। ‘আমর (বর্ণনাকারী) এটাকে হাল্কা এবং অতি কম বুঝলেন। অতঃপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, আমি উঠে তাঁর মতই সংক্ষিপ্ত উযূ করলাম, অতঃপর এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বামপাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন তিনি আমাকে ঘুরিয়ে তাঁর ডানপাশে করে দিলেন। অতঃপর যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সালাত আদায় করলেন, অতঃপর বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়ায হতে লাগল, অতঃপর মুআয্যিন এসে সালাতের কথা জানালে তিনি উঠে তাঁর সালাতের জন্য চলে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। কিন্তু (নতুন) উযূ করলেন না। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, আমি আমর (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, লোকজন বলে থাকেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চোখ নিদ্রায় যেত কিন্তু তাঁর কাল্ব (হৃদয়) জাগ্রত থাকত। ‘আমর (রহ.) বললেন, ‘উবায়দ ইবনু ‘উমার (রহ.)-কে আমি বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই নবীগণের স্বপ্ন ওয়াহী। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ [ইব্রাহীম (‘আ.), ইসমা‘ঈল (‘আ.)-কে বললেন] ‘‘আমি স্বপ্ন দেখলাম, তোমাকে কুরবানী করছি।’’ (সূরাহ্ আস্ -সাফ্ফাত ৩৭/১০২)। (১১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৭)
হাদিস নং: ৮৬০
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة عن انس بن مالك ان جدته مليكة دعت رسول الله صلى الله عليه وسلم لطعام صنعته فاكل منه فقال قوموا فلاصلي بكم فقمت الى حصير لنا قد اسود من طول ما لبث فنضحته بماء فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم واليتيم معي والعجوز من وراىنا فصلى بنا ركعتين.
৮৬০. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। ইসহাক (রহ.)-এর দাদী মুলাইকা (রাযি.) খাদ্য তৈরি করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দাওয়াত করলেন। তিনি তার তৈরি খাবার খেলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা উঠে দাঁড়াও, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। আনাস (রাযি.) বলেন, আমি একটি চাটাইয়ে দাঁড়ালাম যা অধিক ব্যবহারের কারণে কালো হয়ে গিয়েছিল। আমি এতে পানি ছিটিয়ে দিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ালেন, আমার সঙ্গে একটি ইয়াতীম বাচ্চাও দাঁড়াল এবং বৃদ্ধা আমাদের পিছনে দাঁড়ালেন। আমাদের নিয়ে তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। (৩৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৮)
হাদিস নং: ৮৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ انه قال اقبلت راكبا على حمار اتان وانا يومىذ قد ناهزت الاحتلام ورسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي بالناس بمنى الى غير جدار، فمررت بين يدى بعض الصف، فنزلت وارسلت الاتان ترتع ودخلت في الصف، فلم ينكر ذلك على احد.
৮৬১. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি গাধার উপর আরোহণ করে অগ্রসর হলাম। তখন আমি প্রায় বয়ঃপ্রাপ্ত। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় প্রাচীর ব্যতীত অন্য কিছু সামনে রেখে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি কোন এক কাতারের সম্মুখ দিয়ে অগ্রসর হয়ে এক জায়গায় নেমে গেলাম এবং গাধাটিকে চরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দিলাম। অতঃপর আমি কাতারে ঢুকে পড়লাম। আমার এ কাজে কেউ আপত্তি করলেন না। (৭৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮১৯)
হাদিস নং: ৮৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، قال اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني عروة بن الزبير، ان عاىشة، قالت اعتم النبي صلى الله عليه وسلم. وقال عياش حدثنا عبد الاعلى حدثنا معمر عن الزهري عن عروة عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت اعتم رسول الله صلى الله عليه وسلم في العشاء حتى ناداه عمر قد نام النساء والصبيان. فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " انه ليس احد من اهل الارض يصلي هذه الصلاة غيركم ". ولم يكن احد يومىذ يصلي غير اهل المدينة.
৮৬২. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাত আদায়ে দেরি করলেন। অবশেষে ‘উমার (রাযি.) তাঁকে আহবান করে বললেন, নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে বললেনঃ তোমরা ছাড়া পৃথিবীতে কেউ আর এ সালাত আদায় করে না। (রাবী বলেন,) সে সময় মাদ্বীনাবাসী ছাড়া আর কেউ সালাত আদায় করতো না। (৫৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৮১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮২০)