অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

১০/১. আযান
মোট ২৭৩ টি হাদিস
হাদিস নং: ৭৪৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا حفص بن عمر، قال حدثنا شعبة، عن قتادة، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم وابا بكر وعمر ـ رضى الله عنهما ـ كانوا يفتتحون الصلاة ب ـ ‏(‏الحمد لله رب العالمين‏)‏
৭৪৩. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আবূ বকর (রাযি.) এবং ‘উমার (রাযি.) الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ দিয়ে সালাত শুরু করতেন। (মুসলিম ৪/১৩, হাঃ ৩৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৭)
হাদিস নং: ৭৪৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، قال حدثنا عبد الواحد بن زياد، قال حدثنا عمارة بن القعقاع، قال حدثنا ابو زرعة، قال حدثنا ابو هريرة، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسكت بين التكبير وبين القراءة اسكاتة ـ قال احسبه قال هنية ـ فقلت بابي وامي يا رسول الله، اسكاتك بين التكبير والقراءة ما تقول قال ‏ "‏ اقول اللهم باعد بيني وبين خطاياى كما باعدت بين المشرق والمغرب، اللهم نقني من الخطايا كما ينقى الثوب الابيض من الدنس، اللهم اغسل خطاياى بالماء والثلج والبرد ‏"‏‏.‏
৭৪৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআতের মধ্যে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, তাকবীর ও কিরাআত এর মধ্যে চুপ থাকার সময় আপনি কী পাঠ করে থাকেন? তিনি বললেনঃ এ সময় আমি বলি-

‘‘হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দাও যেমন ব্যবধান করেছ পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র কর যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দাও।’’ (মুসলিম ৫/২৭, হাঃ ৫৯৮, আহমাদ ৭১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৮)
হাদিস নং: ৭৪৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي مريم، قال اخبرنا نافع بن عمر، قال حدثني ابن ابي مليكة، عن اسماء بنت ابي بكر، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الكسوف، فقام فاطال القيام، ثم ركع فاطال الركوع، ثم قام فاطال القيام، ثم ركع فاطال الركوع ثم رفع، ثم سجد فاطال السجود، ثم رفع، ثم سجد فاطال السجود، ثم قام فاطال القيام ثم ركع فاطال الركوع ثم رفع فاطال القيام ثم ركع فاطال الركوع ثم رفع فسجد فاطال السجود، ثم رفع، ثم سجد فاطال السجود ثم انصرف فقال ‏"‏ قد دنت مني الجنة حتى لو اجترات عليها لجىتكم بقطاف من قطافها، ودنت مني النار حتى قلت اى رب وانا معهم فاذا امراة ـ حسبت انه قال ـ تخدشها هرة قلت ما شان هذه قالوا حبستها حتى ماتت جوعا، لا اطعمتها، ولا ارسلتها تاكل ‏"‏‏.‏ قال نافع حسبت انه قال ‏"‏ من خشيش او خشاش الارض ‏"‏‏.‏
৭৪৫. আসমা বিনত আবূ বকর (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সালাতুল কুসূফ (সূর্য গ্রহণের সালাত) আদায় করলেন। তিনি সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। অতঃপর দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর আবা রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর উঠলেন, পরে সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় রইলেন। আবার সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় থাকলেন। অতঃপর আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে আবার দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং আবার রুকূ‘তে থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে আবার দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং আবার রুকূ‘তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। অতঃপর রুকূ‘ হতে উঠে সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় থাকলেন। অতঃপর উঠে সিজদা্য় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদা্য় থাকলেন। অতঃপর সালাত শেষ করে ফিরে বললেনঃ জান্নাত আমার খুবই নিকটে এসে গিয়েছিল এমনকি আমি যদি চেষ্টা করতাম তাহলে জান্নাতের একগুচ্ছ আঙ্গুর তোমাদের এনে দিতে পারতাম। আর জাহান্নামও আমার একেবারে নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। এমনকি আমি বলে উঠলাম, ইয়া রব! আমিও কি তাদের সাথে? আমি একজন স্ত্রী লোককে দেখতে পেলাম। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, একটি বিড়াল তাকে খামচাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ স্ত্রী লোকটির এমন অবস্থা কেন? মালাকগণ জবাব দিলেন, সে একটি বিড়ালকে আটকিয়ে রেখেছিল, ফলে বিড়ালটি অনাহারে মারা যায়। উক্ত স্ত্রী লোকটি তাকে খেতেও দেয়নি এবং তাকে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে আহার করতে পারে। নাফি‘ (রহ.) বলেন, আমার মনে হয়, ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রাযি.) বর্ণনা করেছিলেন, যাতে সে যমীনের পোকা মাকড় খেতে পারে। (২৩৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৯)
হাদিস নং: ৭৪৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى، قال حدثنا عبد الواحد، قال حدثنا الاعمش، عن عمارة بن عمير، عن ابي معمر، قال قلنا لخباب اكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرا في الظهر والعصر قال نعم‏.‏ قلنا بم كنتم تعرفون ذاك قال باضطراب لحيته‏.‏
وَقَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ فَرَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا حِينَ رَأَيْتُمُونِي تَأَخَّرْتُ.

‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে কুসূফ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন, তোমরা যখন আমাকে পিছিয়ে আসতে দেখেছিলে তখন আমি জাহান্নাম দেখেছিলাম; তার এক অংশ অপর অংশকে বিচূর্ণ করছে।


৭৪৬. আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও ‘আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কী করে বুঝতে পারতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ির নড়াচড়া দেখে। (৭৬০, ৭৬১, ৭৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১০ )
হাদিস নং: ৭৪৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا حجاج، حدثنا شعبة، قال انبانا ابو اسحاق، قال سمعت عبد الله بن يزيد، يخطب قال حدثنا البراء، وكان، غير كذوب انهم كانوا اذا صلوا مع النبي صلى الله عليه وسلم فرفع راسه من الركوع قاموا قياما حتى يرونه قد سجد‏.‏
৭৪৭. বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আর তিনি মিথ্যাবাদী ছিলেন না, তাঁরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন, তখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দেখতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্য় গেছেন। (৬৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১১)
হাদিস নং: ৭৪৮ সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما قال خسفت الشمس على عهد رسول الله فصلى قالوا يا رسول الله صلى الله عليه وسلم رايناك تناولت شيىا في مقامك ثم رايناك تكعكعت قال اني اريت الجنة فتناولت منها عنقودا ولو اخذته لاكلتم منه ما بقيت الدنيا.
৭৪৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে একবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন তিনি এজন্য সালাত আদায় করেন। সাহাবা-ই-কিরাম (রাযি.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় আপনাকে দেখলাম যেন কিছু একটা ধরতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পরে দেখলাম, আবার পিছিয়ে এলেন। তিনি বললেন, আমাকে জান্নাত দেখানো হয় এবং তারই একটি আঙ্গুরের ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। আমি যদি তা নিয়ে আসতাম, তাহলে দুনিয়া স্থায়ী থাকা পর্যন্ত তোমরা তা হতে খেতে পারতে। (২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১২)
হাদিস নং: ৭৪৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سنان، قال حدثنا فليح، قال حدثنا هلال بن علي، عن انس بن مالك، قال صلى لنا النبي صلى الله عليه وسلم ثم رقا المنبر، فاشار بيديه قبل قبلة المسجد ثم قال ‏ "‏ لقد رايت الان منذ صليت لكم الصلاة الجنة والنار ممثلتين في قبلة هذا الجدار، فلم ار كاليوم في الخير والشر ‏"‏ ثلاثا‏.‏
৭৪৯. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং মসজিদের কিব্লার দিকে ইশারা করে বললেন, এইমাত্র আমি যখন তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলাম তখন এ দেওয়ালের সামনের দিকে আমি জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম। আজকের মতো এত ভাল ও মন্দ আমি আর দেখিনি, একথা তিনি তিনবার বললেন। (৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৩)
হাদিস নং: ৭৫০ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، قال اخبرنا يحيى بن سعيد، قال حدثنا ابن ابي عروبة، قال حدثنا قتادة، ان انس بن مالك، حدثهم قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ما بال اقوام يرفعون ابصارهم الى السماء في صلاتهم ‏"‏‏.‏ فاشتد قوله في ذلك حتى قال ‏"‏ لينتهن عن ذلك او لتخطفن ابصارهم ‏"‏‏.‏
৭৫০. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকদের কী হলো যে, তারা সালাতে আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকায়? এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন; এমনকি তিনি বললেনঃ যেন তারা অবশ্যই এ হতে বিরত থাকে, অন্যথায় অবশ্যই তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়া হবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৪)
হাদিস নং: ৭৫১ সহিহ (Sahih)
مسدد قال حدثنا ابو الاحوص قال حدثنا اشعث بن سليم عن ابيه عن مسروق عن عاىشة قالت سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الالتفات في الصلاة فقال هو اختلاس يختلسه الشيطان من صلاة العبد.
৭৫১. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাতে এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার সালাত হতে অংশ বিশেষ ছিনিয়ে নেয়। (৩২৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ৭১৫)
হাদিস নং: ৭৫২ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة، قال حدثنا سفيان، عن الزهري، عن عروة، عن عاىشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى في خميصة لها اعلام فقال ‏ "‏ شغلتني اعلام هذه، اذهبوا بها الى ابي جهم واتوني بانبجانية ‏"‏‏.‏
৭৫২. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি নকশা করা চাদর পরে সালাত আদায় করলেন। সালাতের পরে তিনি বললেনঃ এ চাদরের কারুকার্য আমার মনকে আকর্ষিত করেছিল। এটি আবূ জাহমের নিকট নিয়ে যাও এবং এর বদলে একটি ‘আম্বজানিয়্যাহ’ (নকশা ছাড়া মোটা কাপড়) নিয়ে এসো। (৩৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৬)
হাদিস নং: ৭৫৩ সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد، قال حدثنا ليث، عن نافع، عن ابن عمر، انه قال راى النبي صلى الله عليه وسلم نخامة في قبلة المسجد، وهو يصلي بين يدى الناس، فحتها ثم قال حين انصرف ‏ "‏ ان احدكم اذا كان في الصلاة فان الله قبل وجهه، فلا يتنخمن احد قبل وجهه في الصلاة ‏"‏‏.‏ رواه موسى بن عقبة وابن ابي رواد عن نافع‏.‏
وَقَالَ سَهْلٌ الْتَفَتَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَرَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

সাহল (রহ.) বলেছেন, আবূ বকর (রাযি.) তাকালেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখলেন।

৭৫৩. ইবনু ’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় মসজিদে কিব্লার দিকে থুথু দেখতে পেয়ে তা পরিষ্কার করে ফেললেন। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করে বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন আল্লাহ্ তার সামনে থাকেন। কাজেই সালাতে থাকা অবস্থায় কেউ সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। মূসা ইবনু ’উক্বাহ ও ইবনু আবূ রাওয়াদও (রহ.) নাফি’ (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৭)
হাদিস নং: ৭৫৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير، قال حدثنا ليث بن سعد، عن عقيل، عن ابن شهاب، قال اخبرني انس، قال بينما المسلمون في صلاة الفجر لم يفجاهم الا رسول الله صلى الله عليه وسلم كشف ستر حجرة عاىشة فنظر اليهم وهم صفوف، فتبسم يضحك، ونكص ابو بكر رضى الله عنه على عقبيه ليصل له الصف فظن انه يريد الخروج، وهم المسلمون ان يفتتنوا في صلاتهم، فاشار اليهم اتموا صلاتكم، فارخى الستر، وتوفي من اخر ذلك اليوم‏.‏
৭৫৪. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিমগণ ফজরের সালাতে রত এ সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর হুজরার পর্দা উঠালে তাঁরা চমকে উঠলেন। তিনি তাঁদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তাঁরা কাতারবদ্ধ হয়ে আছেন। তা দেখে তিনি মুচকি হাসলেন। আবূ বকর (রাযি.) তাঁর ইমামাতের স্থান ছেড়ে দিয়ে কাতারে শামিল হবার জন্য পিছিয়ে আসতে চাইলেন। তিনি মনে করেছিলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হতে চান। মুসলিমগণও সালাত ছেড়ে দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। তিনি ইঙ্গিতে তাঁদের বললেন, তোমরা তোমাদের সালাত পুরো করো। অতঃপর তিনি পর্দা ফেলে দিলেন। এ দিনেরই শেষে তাঁর ওফাত হয়। (৬৮০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৮)
হাদিস নং: ৭৫৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى، قال حدثنا ابو عوانة، قال حدثنا عبد الملك بن عمير، عن جابر بن سمرة، قال شكا اهل الكوفة سعدا الى عمر ـ رضى الله عنه ـ فعزله واستعمل عليهم عمارا، فشكوا حتى ذكروا انه لا يحسن يصلي، فارسل اليه فقال يا ابا اسحاق ان هولاء يزعمون انك لا تحسن تصلي قال ابو اسحاق اما انا والله فاني كنت اصلي بهم صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما اخرم عنها، اصلي صلاة العشاء فاركد في الاوليين واخف في الاخريين‏.‏ قال ذاك الظن بك يا ابا اسحاق‏.‏ فارسل معه رجلا او رجالا الى الكوفة، فسال عنه اهل الكوفة، ولم يدع مسجدا الا سال عنه، ويثنون معروفا، حتى دخل مسجدا لبني عبس، فقام رجل منهم يقال له اسامة بن قتادة يكنى ابا سعدة قال اما اذ نشدتنا فان سعدا كان لا يسير بالسرية، ولا يقسم بالسوية، ولا يعدل في القضية‏.‏ قال سعد اما والله لادعون بثلاث، اللهم ان كان عبدك هذا كاذبا، قام رياء وسمعة فاطل عمره، واطل فقره، وعرضه بالفتن، وكان بعد اذا سىل يقول شيخ كبير مفتون، اصابتني دعوة سعد‏.‏ قال عبد الملك فانا رايته بعد قد سقط حاجباه على عينيه من الكبر، وانه ليتعرض للجواري في الطرق يغمزهن‏.‏
৭৫৫. জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কূফাবাসীরা সা‘দ (রাযি.)-এর বিরুদ্ধে ‘উমার (রাযি.)-এর নিকট অভিযোগ করলে তিনি তাঁকে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেন এবং আম্মার (রাযি.)-কে তাদের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। কূফার লোকেরা সা‘দ (রাযি.)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে এ-ও বলে যে, তিনি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। ‘উমার (রাযি.) তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, হে আবূ ইসহাক! তারা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, আপনি নাকি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। সা‘দ (রাযি.) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের অনুরূপই সালাত আদায় করে থাকি। তাতে কোন ত্রুটি করি না। আমি ‘ইশার সালাত আদায় করতে প্রথম দু’ রাক‘আত একটু দীর্ঘ ও শেষের দু’ রাক‘আত সংক্ষেপ করতাম। ‘উমার (রাযি.) বললেন, হে আবূ ইসহাক! আপনার সম্পর্কে আমার এ-ই ধারণা। অতঃপর ‘উমার (রাযি.) কূফার অধিবাসীদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সা‘দ (রাযি.)-এর সঙ্গে কূফায় পাঠান। সে ব্যক্তি প্রতিটি মসজিদে গিয়ে সা‘দ (রাযি.) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো এবং তাঁরা সকলেই তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন। অবশেষে সে ব্যক্তি বনূ আব্স গোত্রের মসজিদে উপস্থিত হয়। এখানে উসামা ইবনু কাতাদাহ্ নামে এক ব্যক্তি যাকে আবূ সা‘দাহ্ বলে ডাকা হত- দাঁড়িয়ে বলল, যেহেতু তুমি আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছ, সা‘দ (রাযি.) কখনো সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে যান না, গানীমাতের মাল সমভাবে বণ্টন করেন না এবং বিচারে ইনসাফ করেন না। তখন সা‘দ (রাযি.) বললেন, মনে রেখো, আল্লাহর কসম! আমি তিনটি দু‘আ করছিঃ হে আল্লাহ্! যদি তোমার এ বান্দা মিথ্যাবাদী হয়, লোক দেখানো এবং আত্মপ্রচারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে- ১. তার হায়াত বাড়িয়ে দিন, ২. তার অভাব বাড়িয়ে দিন এবং ৩. তাকে ফিতনার সম্মুখীন করুন। পরবর্তীকালে লোকটিকে (তার অবস্থা সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করা হলে সে বলতো, আমি বয়সে বৃদ্ধ, ফিতনায় লিপ্ত। সা‘দ (রাযি.)-এর দু‘আ আমার উপর লেগে আছে। বর্ণনাকারী আবদুল মালিক (রহ.) বলেন, পরে আমি সে লোকটিকে দেখেছি, অতি বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার ভ্রু চোখের উপর ঝুলে গেছে এবং সে পথে মেয়েদের বিরক্ত করত এবং তাদের চিমটি দিত। (৭৫৮, ৭৭০; মুসলিম ৪/৩৪, হাঃ ৪০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭১৯)
হাদিস নং: ৭৫৬ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله قال حدثنا سفيان قال حدثنا الزهري عن محمود بن الربيع عن عبادة بن الصامت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا صلاة لمن لم يقرا بفاتحة الكتاب.
৭৫৬. ‘উবাদাহ ইবনু সমিত (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা পড়ল না তার সালাত হলো না।* (মুসলিম ৪/১১, হাঃ ৩৯৪, আহমাদ ২২৮০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২০)
নোট: * আমাদের দেশের হানাফী ভাইয়েরা ইমামের পেছনে সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করেন না, এটা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ‘আমলের বিপরীত। ইমামের পিছনে মুক্তাদীকে অবশ্যই সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করতে হবে। মুক্তাদী ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা না পড়লে তার সালাত, সালাত বলে গণ্য হবে না ।

বুখারীর অন্য বর্ণনায় জুযউল ক্বিরাআতের মধ্যে আছে- ‘আমর্‌ বিন শুয়াইব তাঁর পিতা হতে, তাঁর পিতা তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করে বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন তোমরা কি আমার পেছনে কিছু পড়ে থাক? তাঁরা বললেন, হাঁ আমরা খুব তাড়াহুড়া করে পাঠ করে থাকি। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন তোমরা উম্মুল কুরআন অর্থাৎ সূরা ফাতিহা ব্যতিত কিছুই পড়বে না। (বুখারী ১ম ১০৪ পৃষ্ঠা। জুযউল কিরায়াত। মুসলিম ১৬৯, ১৭০ পৃষ্ঠা। আবূ দাউদ ১০১ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ১ম খণ্ড ৫৭, ৭১ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪৬ পৃষ্ঠা। ইব্‌নু মাজাহ ৬১ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ৯৫ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মালিক ১০৬ পৃষ্ঠা। সহীহ ইব্‌নু খুযায়মাহ ১ম খণ্ড ২৪৭ পৃষ্ঠা। মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন হাদীস নং ৭৫৮-৭৬৭ ও ৮২০-৮২৪। হাদীস শরীফ, মাওঃ আবদুর রহীম, ২য় খণ্ড ১৯৩-১৯৬ পৃষ্ঠা, ইসলামিয়াত বি-এ, হাদীস পর্ব ১৪৪-১৬১ পৃষ্ঠা। হিদায়াহ দিরায়াহ ১০৬ পৃষ্ঠা। মেশকাত ৭৮ পৃষ্ঠা। বুখারী আযীযুল হক ১ম হাদীস নং ৪৪১। বুখারী- আধুনিক প্রকাশনী ১ম খণ্ড হাদীস নং ৭১২। বুখারী-ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭১৮। তিরমিযী- ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ২৪৭। মিশকাত- নূর মোহাম্মদ আযমী ২য় খণ্ড ও মাদ্‌রাসা পাঠ্য হাদীস নং ৭৬৫, ৭৬৬, ৭৯৪। বুলূগুল মারাম ৮৩ পৃষ্ঠা। কিমিয়ায়ে সায়াদাত ১ম খণ্ড ২০৪ পৃষ্ঠা ।)
হাদিস নং: ৭৫৭ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار قال حدثنا يحيى عن عبيد الله قال حدثني سعيد بن ابي سعيد عن ابيه عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل المسجد فدخل رجل فصلى فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم فرد وقال ارجع فصل فانك لم تصل فرجع يصلي كما صلى ثم جاء فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم فقال ارجع فصل فانك لم تصل ثلاثا فقال والذي بعثك بالحق ما احسن غيره فعلمني فقال اذا قمت الى الصلاة فكبر ثم اقرا ما تيسر معك من القران ثم اركع حتى تطمىن راكعا ثم ارفع حتى تعدل قاىما ثم اسجد حتى تطمىن ساجدا ثم ارفع حتى تطمىن جالسا وافعل ذلك في صلاتك كلها.
৭৫৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন একজন সাহাবী এসে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, আবার গিয়ে সালাত আদায় কর। কেননা, তুমিতো সালাত আদায় করনি। তিনি ফিরে গিয়ে পূর্বের মত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাম করলেন। তিনি বললেনঃ ফিরে গিয়ে আবার সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। এভাবে তিনবার বললেন। সাহাবী বললেন, সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন- আমিতো এর চেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন হতে যা তোমার পক্ষে সহজ তা পড়বে। অতঃপর রুকু‘তে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ করবে। অতঃপর সিজদা্ হতে উঠে স্থির হয়ে বসবে। আর তোমার পুরো সালাতে এভাবেই করবে। (৭৯৩, ৬২৫১,৬২৫২,৬৬৬৭ মুসলিম ৪/১১, হাঃ ৩৯৭, আহমাদ ৯৬৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২১)
হাদিস নং: ৭৫৮ সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا ابو عوانة عن عبد الملك بن عمير عن جابر بن سمرة قال قال سعد كنت اصلي بهم صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاتي العشي لا اخرم عنها اركد في الاوليين واحذف في الاخريين فقال عمرذلك الظن بك.
৭৫৮. জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, সা‘দ (রাযি.) বলেন, আমি তাদেরকে নিয়ে বিকালের দু’ সালাত (যুহর ও ‘আসর) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের মত সালাত আদায় করতাম। এতে কোন ত্রুটি করতাম না। প্রথম দু’ রাক‘আতে কিরাআত দীর্ঘায়িত এবং শেষ দু’ রাক‘আতে তা সংক্ষিপ্ত করতাম। ‘উমার (রাযি.) বলেন, তোমার ব্যাপারে এটাই ধারণা। (৭৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২২)
হাদিস নং: ৭৫৯ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم، قال حدثنا شيبان، عن يحيى، عن عبد الله بن ابي قتادة، عن ابيه، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرا في الركعتين الاوليين من صلاة الظهر بفاتحة الكتاب وسورتين، يطول في الاولى، ويقصر في الثانية، ويسمع الاية احيانا، وكان يقرا في العصر بفاتحة الكتاب وسورتين، وكان يطول في الاولى، وكان يطول في الركعة الاولى من صلاة الصبح، ويقصر في الثانية‏.‏
৭৫৯. আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের প্রথম দু’ রাক‘আতে সূরাহ্ ফাতিহার সঙ্গে আরও দু’টি সূরাহ্ পাঠ করতেন। প্রথম রাক‘আতে দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আত সংক্ষেপ করতেন। কখনো কোন আয়াত শুনিয়ে পড়তেন। ‘আসরের সালাতেও তিনি সূরাহ্ ফাতিহার সাথে অন্য দু’টি সূরাহ্ পড়তেন। প্রথম রাক‘আত দীর্ঘ করতেন। ফজরের প্রথম রাক‘আতও তিনি দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সংক্ষেপ করতেন। (৭৬২,৭৭৬,৭৭৮,৭৭৯ মুসলিম ৪/৩৪, হাঃ ৪৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৩)
হাদিস নং: ৭৬০ সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص، قال حدثنا ابي قال، حدثنا الاعمش، حدثني عمارة، عن ابي معمر، قال سالنا خبابا اكان النبي صلى الله عليه وسلم يقرا في الظهر والعصر قال نعم‏.‏ قلنا باى شىء كنتم تعرفون قال باضطراب لحيته‏.‏
৭৬০. আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাববাব (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও ‘আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা প্রশ্ন করলাম, আপনারা কী করে তা বুঝতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ির নড়াচড়ায়। (৭৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৪)
হাদিস নং: ৭৬১ সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف قال حدثنا سفيان عن الاعمش عن عمارة بن عمير عن ابي معمر قال قلت لخباب بن الارت اكان النبي يقرا في الظهر والعصر قال نعم قال قلت باي شيء كنتم تعلمون قراءته قال باضطراب لحيته.
৭৬১. আবূ মা‘মার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাববাব ইবনু আরত্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যুহর ও ‘আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনারা কী করে তাঁর কিরাআত বুঝতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ি নড়াচড়ায়। (৭৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৫)
হাদিস নং: ৭৬২ সহিহ (Sahih)
حدثنا المكي بن ابراهيم، عن هشام، عن يحيى بن ابي كثير، عن عبد الله بن ابي قتادة، عن ابيه، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرا في الركعتين من الظهر والعصر بفاتحة الكتاب، وسورة سورة، ويسمعنا الاية احيانا‏.‏
৭৬২. আবূ কাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও ‘আসরের প্রথম দু’ রাক‘আতে সূরাহ্ আল-ফাতিহার সাথে আর একটি করে সূরাহ্ পড়তেন। আর কখনো কখনো কোন আয়াত আমাদের শুনিয়ে পড়তেন। (৭৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৬)
অধ্যায় তালিকা