হাদিস নং: ৭০৩
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اذا صلى احدكم للناس فليخفف فان منهم الضعيف والسقيم والكبير واذا صلى احدكم لنفسه فليطول ما شاء.
৭০৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে, তখন যেন সে সংক্ষেপ করে। কেননা, তাদের মাঝে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ রয়েছে। আর যদি কেউ একাকী সালাত আদায় করে, তখন ইচ্ছামত দীর্ঘ করতে পারে। (মুসলিম ৪/৩৭, হাঃ ৪৬৭, আহমাদ ৭৪৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬৮)
হাদিস নং: ৭০৪
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن اسماعيل بن ابي خالد عن قيس بن ابي حازم عن ابي مسعود قال قال رجل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اني لاتاخر عن الصلاة في الفجر مما يطيل بنا فلان فيها فغضب رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم ما رايته غضب في موضع كان اشد غضبا منه يومىذ ثم قال يا ايها الناس ان منكم منفرين فمن ام الناس فليتجوز فان خلفه الضعيف والكبير وذا الحاجة.
وَقَالَ أَبُو أُسَيْدٍ طَوَّلْتَ بِنَا يَا بُنَيَّ.
আবূ উসাইদ (রহ.) তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, বেটা! তুমি আমাদের সালাত দীর্ঘায়িত করে ফেলেছ।
৭০৪. আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তির জন্য আমি ফজরের সালাতে অনুপস্থিত থাকি। কেননা, তিনি আমাদের সালাত খুব দীর্ঘায়িত করেন। এ শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন। আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) বলেন, নাসীহাত করতে গিয়ে সে দিন তিনি যেমন রাগান্বিত হয়েছিলেন, সে দিনের মত রাগান্বিত হতে তাঁকে আর কোন দিন দেখিনি। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে লোকেরা! তোমাদের মধ্যে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ লোকদের ইমামাত করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোকেরা রয়েছে। (৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬৯)
আবূ উসাইদ (রহ.) তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, বেটা! তুমি আমাদের সালাত দীর্ঘায়িত করে ফেলেছ।
৭০৪. আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সাহাবী এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তির জন্য আমি ফজরের সালাতে অনুপস্থিত থাকি। কেননা, তিনি আমাদের সালাত খুব দীর্ঘায়িত করেন। এ শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন। আবূ মাস‘ঊদ (রাযি.) বলেন, নাসীহাত করতে গিয়ে সে দিন তিনি যেমন রাগান্বিত হয়েছিলেন, সে দিনের মত রাগান্বিত হতে তাঁকে আর কোন দিন দেখিনি। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে লোকেরা! তোমাদের মধ্যে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী রয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ লোকদের ইমামাত করে, সে যেন সংক্ষেপ করে। কেননা, তার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোকেরা রয়েছে। (৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৬৯)
হাদিস নং: ৭০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم بن ابي اياس، قال حدثنا شعبة، قال حدثنا محارب بن دثار، قال سمعت جابر بن عبد الله الانصاري، قال اقبل رجل بناضحين وقد جنح الليل، فوافق معاذا يصلي، فترك ناضحه واقبل الى معاذ، فقرا بسورة البقرة او النساء، فانطلق الرجل، وبلغه ان معاذا نال منه، فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فشكا اليه معاذا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " يا معاذ افتان انت ـ او فاتن ثلاث مرار ـ فلولا صليت بسبح اسم ربك، والشمس وضحاها، والليل اذا يغشى، فانه يصلي وراءك الكبير والضعيف وذو الحاجة ". احسب هذا في الحديث. قال ابو عبد الله وتابعه سعيد بن مسروق ومسعر والشيباني. قال عمرو وعبيد الله بن مقسم وابو الزبير عن جابر قرا معاذ في العشاء بالبقرة. وتابعه الاعمش عن محارب.
৭০৫. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক সাহাবী দু’টি উটের পিঠে পানি নিয়ে আসছিলেন। রাতের অন্ধকার তখন ঘনীভূত হয়ে এসেছিল। এ সময় তিনি মু‘আয (রাযি.)-কে সালাত আদায়রত পান, তিনি তার উট দু’টি বসিয়ে দিয়ে মু‘আয (রাযি.)-এর দিকে (সালাত আদায় করতে) এগিয়ে এলেন। মু‘আয (রাযি.) সূরাহ্ বাক্বারাহ বা সূরাহ্ আন-নিসা পড়তে শুরু করেন। এতে সাহাবী (জামা‘আত ছেড়ে) চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন যে, মু‘আয (রাযি.) এ জন্য তার সমালোচনা করেছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে মু‘আয (রাযি.)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মু‘আয! তুমি কি লোকদের ফিতনায় ফেলতে চাও? বা তিনি বলেছিলেন, তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তিনি একথা তিনবার বলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا এবং وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى (সূরাহ্) দ্বারা সালাত আদায় করলে না কেন? কারণ, তোমার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোক সালাত আদায় করে থাকে।
[শু‘বাহ (রহ.) বলেন] আমার ধারণা শেষোক্ত বাক্যটিও হাদীসের অংশ। সায়ীদ ইবনু মাসরূক, মিসওআর এবং শাইবানী (রহ.)-ও অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। ‘আমর, ‘উবাইদুল্লাহ্ ইবনু মিকসাম এবং আবূ যুবাইর (রহ.) জাবির (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, মু‘আয (রাযি.) ‘ইশার সালাতে সূরাহ্ বাকারাহ পাঠ করেছিলেন। আ‘মাশ (রহ.) ও মুহারিব (রহ.) সূত্রে এরূপই রিওয়ায়াত করেন। (৭০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭০)
[শু‘বাহ (রহ.) বলেন] আমার ধারণা শেষোক্ত বাক্যটিও হাদীসের অংশ। সায়ীদ ইবনু মাসরূক, মিসওআর এবং শাইবানী (রহ.)-ও অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। ‘আমর, ‘উবাইদুল্লাহ্ ইবনু মিকসাম এবং আবূ যুবাইর (রহ.) জাবির (রাযি.) হতে বর্ণনা করেন যে, মু‘আয (রাযি.) ‘ইশার সালাতে সূরাহ্ বাকারাহ পাঠ করেছিলেন। আ‘মাশ (রহ.) ও মুহারিব (রহ.) সূত্রে এরূপই রিওয়ায়াত করেন। (৭০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭০)
হাদিস নং: ৭০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر، قال حدثنا عبد الوارث، قال حدثنا عبد العزيز، عن انس، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يوجز الصلاة ويكملها.
৭০৬. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত সংক্ষেপে এবং পূর্ণভাবে আদায় করতেন। (৮৬৮; মুসলিম ৪/৩৭ হাঃ ৪৬৯, আহমাদ ১১৯৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭১)
হাদিস নং: ৭০৭
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى قال اخبرنا الوليد بن مسلم قال حدثنا الاوزاعي عن يحيى بن ابي كثير عن عبد الله بن ابي قتادة عن ابيه ابي قتادة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اني لاقوم في الصلاة اريد ان اطول فيها فاسمع بكاء الصبي فاتجوز في صلاتي كراهية ان اشق على امه تابعه بشر بن بكر وابن المبارك وبقية عن الاوزاعي.
৭০৭. আবু ক্বাতাদাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি অনেক সময় দীর্ঘ করে সালাত আদায়ের ইচ্ছা নিয়ে দাঁড়াই। পরে শিশুর কান্নাকাটি শুনে সালাত সংক্ষেপ করি। কারণ শিশুর মাকে কষ্টে ফেলা আমি পছন্দ করি না। বিশ্র ইবনু বাকর, বাকিয়্যাহ ও ইবনু মুবারাক আওযায়ী (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৮৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭২)
হাদিস নং: ৭০৮
সহিহ (Sahih)
خالد بن مخلد قال حدثنا سليمان بن بلال قال حدثنا شريك بن عبد الله قال سمعت انس بن مالك يقول ما صليت وراء امام قط اخف صلاة ولا اتم من النبي صلى الله عليه وسلم وان كان ليسمع بكاء الصبي فيخفف مخافة ان تفتن امه.
৭০৮. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ সালাত আর কোন ইমামের পিছনে আদায় করিনি। আর তা এজন্য যে, তিনি শিশুর কান্না শুনতে পেতেন এবং তার মায়ের ফিতনায় পড়ার আশংকায় সংক্ষেপ করতেন। (মুসলিম ৪/৩৭, হাঃ ৪৭ আহমাদ ১২০৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭৩)
হাদিস নং: ৭০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، قال حدثنا يزيد بن زريع، قال حدثنا سعيد، قال حدثنا قتادة، ان انس بن مالك، حدثه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " اني لادخل في الصلاة وانا اريد اطالتها، فاسمع بكاء الصبي، فاتجوز في صلاتي مما اعلم من شدة وجد امه من بكاىه ".
৭০৯. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি। কিন্তু পরে শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, শিশু কাঁদলে মায়ের মন যে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তা আমি জানি। (৭১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭৪)
হাদিস নং: ৭১০
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار قال حدثنا ابن ابي عدي عن سعيد عن قتادة عن انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اني لادخل في الصلاة فاريد اطالتها فاسمع بكاء الصبي فاتجوز مما اعلم من شدة وجد امه من بكاىه
وقال موسى حدثنا ابان حدثنا قتادة حدثنا انس عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله.
وقال موسى حدثنا ابان حدثنا قتادة حدثنا انس عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله.
৭১০. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি এবং শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, আমি জানি শিশু কান্না করলে মায়ের মন খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। (৭০৯)
আনাস (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭৫)
আনাস (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭৫)
হাদিস নং: ৭১১
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب وابو النعمان قالا حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن عمرو بن دينار عن جابر بن عبد الله قال كان معاذ يصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم ثم ياتي قومه فيصلي بهم.
৭১১. জাবির (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু‘আয (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সালাত আদায় করে নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে তাদের ইমামাত করতেন। (৭০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭৬)
হাদিস নং: ৭১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد، قال حدثنا عبد الله بن داود، قال حدثنا الاعمش، عن ابراهيم، عن الاسود، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت لما مرض النبي صلى الله عليه وسلم مرضه الذي مات فيه اتاه بلال يوذنه بالصلاة فقال " مروا ابا بكر فليصل ". قلت ان ابا بكر رجل اسيف، ان يقم مقامك يبكي فلا يقدر على القراءة. قال " مروا ابا بكر فليصل ". فقلت مثله فقال في الثالثة او الرابعة " انكن صواحب يوسف، مروا ابا بكر فليصل ". فصلى وخرج النبي صلى الله عليه وسلم يهادى بين رجلين، كاني انظر اليه يخط برجليه الارض، فلما راه ابو بكر ذهب يتاخر، فاشار اليه ان صل، فتاخر ابو بكر ـ رضى الله عنه ـ وقعد النبي صلى الله عليه وسلم الى جنبه، وابو بكر يسمع الناس التكبير. تابعه محاضر عن الاعمش.
৭১২. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগে আক্রান্ত থাকাকালে একবার বিলাল (রাযি.) তাঁর নিকট এসে সালাতের (সময় হওয়ার) সংবাদ দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবূ বকরকে বল, যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন] আমি বললাম, আবূ বকর (রাযি.) কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি আপনার স্থানে দাঁড়ালে কেঁদে ফেলবেন এবং কিরাআত পড়তে পারবেন না। তিনি আবার বললেনঃ আবূ বকরকে বল, সালাত আদায় করতে। আমি আবারও সেকথা বললাম। তখন তৃতীয় বা চতুর্থবারে তিনি বললেন, তোমরা তো ইউসুফের (‘আ.)-সাথী রমণীদেরই মত। আবূ বকর (রাযি.)-কে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আবূ বকর (রাযি.) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন, ইতোমধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জন লোকের কাঁধে ভর করে বের হলেন। [‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন]ঃ আমি যেন এখনও সে দৃশ্য দেখতে পাই, তিনি দু’ পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়িয়ে যান। আবূ বকর (রাযি.) তাঁকে দেখতে পেয়ে পিছনে সরে আসতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিতে তাঁকে সালাত আদায় করতে বললেন, (তবুও) আবূ বকর (রাযি.) পিছনে সরে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পাশে বসলেন, আবূ বকর (রাযি.) তাকবীর শুনাতে লাগলেন।
মুহাযির (রহ.) আমাশ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু দাঊদ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭৭)
মুহাযির (রহ.) আমাশ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু দাঊদ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭৭)
হাদিস নং: ৭১৩
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد قال حدثنا ابو معاوية عن الاعمش عن ابراهيم عن الاسود عن عاىشة قالت لما ثقل رسول الله صلى الله عليه وسلم جاء بلال يوذنه بالصلاة فقال مروا ابا بكر ان يصلي بالناس فقلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان ابا بكر رجل اسيف وانه متى ما يقم مقامك لا يسمع الناس فلو امرت عمر فقال مروا ابا بكر يصلي بالناس فقلت لحفصة قولي له ان ابا بكر رجل اسيف وانه متى يقم مقامك لا يسمع الناس فلو امرت عمر قال انكن لانتن صواحب يوسف مروا ابا بكر ان يصلي بالناس فلما دخل في الصلاة وجد رسول الله صلى الله عليه وسلم في نفسه خفة فقام يهادى بين رجلين ورجلاه يخطان في الارض حتى دخل المسجد فلما سمع ابو بكر حسه ذهب ابو بكر يتاخر فاوما اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى جلس عن يسار ابي بكر فكان ابو بكر يصلي قاىما وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي قاعدا يقتدي ابو بكر بصلاة رسول الله والناس مقتدون بصلاة ابي بكر رضي الله عنه.
وَيُذْكَرُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ائْتَمُّوا بِي وَلْيَأْتَمَّ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ.
বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার অনুসরণ করবে, তোমাদের পিছনের লোকেরা যেন তোমাদের ইকতিদা করে।
৭১৩. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (রোগে) পীড়িত হয়ে পড়েছিলেন, বিলাল (রাযি.) এসে সালাতের কথা বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ বকরকে বল, লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। যদি আপনি ‘উমার (রাযি.)-কে এ নির্দেশ দেন (তবে ভাল হয়)। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ লোকদের নিয়ে আবূ বকর (রাযি.)-কে সালাত আদায় করতে বল। আমি হাফ্সাহ (রাযি.)-কে বললাম, তুমি তাঁকে একটু বল যে, আবূ বকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার বদলে সে স্থানে দাঁড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শোনাতে পারবেন না। যদি আপনি ‘উমার (রাযি.)-কে এ নির্দেশ দিতেন (তবে ভাল হতো)। এ শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ইউসুফের সাথী নারীদেরই মতো। আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। আবূ বকর (রাযি.) লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে একটু সুস্থবোধ করলেন এবং দু’জন সাহাবীর কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে মসজিদে গেলেন। তাঁর দু’ পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। আবূ বকর (রাযি.) যখন তাঁর আগমন টের পেলেন, পিছনে সরে যেতে উদ্যত হলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি ইঙ্গিত করলেন (স্বস্থানে থাকার জন্য)। অতঃপর তিনি এসে আবূ বকর (রাযি.)-এর বামপাশে বসে গেলেন। অবশেষে আবূ বকর (রাযি.) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর সাহাবীগণ আবূ বকর (রাযি.)-এর সালাতের অনুসরণ করছিল। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭৮)
বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার অনুসরণ করবে, তোমাদের পিছনের লোকেরা যেন তোমাদের ইকতিদা করে।
৭১৩. ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (রোগে) পীড়িত হয়ে পড়েছিলেন, বিলাল (রাযি.) এসে সালাতের কথা বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ বকরকে বল, লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ বকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। যদি আপনি ‘উমার (রাযি.)-কে এ নির্দেশ দেন (তবে ভাল হয়)। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ লোকদের নিয়ে আবূ বকর (রাযি.)-কে সালাত আদায় করতে বল। আমি হাফ্সাহ (রাযি.)-কে বললাম, তুমি তাঁকে একটু বল যে, আবূ বকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি যখন আপনার বদলে সে স্থানে দাঁড়াবেন, তখন সাহাবীগণকে কিছুই শোনাতে পারবেন না। যদি আপনি ‘উমার (রাযি.)-কে এ নির্দেশ দিতেন (তবে ভাল হতো)। এ শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ইউসুফের সাথী নারীদেরই মতো। আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। আবূ বকর (রাযি.) লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে একটু সুস্থবোধ করলেন এবং দু’জন সাহাবীর কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে মসজিদে গেলেন। তাঁর দু’ পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। আবূ বকর (রাযি.) যখন তাঁর আগমন টের পেলেন, পিছনে সরে যেতে উদ্যত হলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি ইঙ্গিত করলেন (স্বস্থানে থাকার জন্য)। অতঃপর তিনি এসে আবূ বকর (রাযি.)-এর বামপাশে বসে গেলেন। অবশেষে আবূ বকর (রাযি.) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর সাহাবীগণ আবূ বকর (রাযি.)-এর সালাতের অনুসরণ করছিল। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭৮)
হাদিস নং: ৭১৪
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة عن مالك بن انس عن ايوب بن ابي تميمة السختياني عن محمد بن سيرين عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم انصرف من اثنتين فقال له ذو اليدين اقصرت الصلاة ام نسيت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اصدق ذو اليدين فقال الناس نعم فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى اثنتين اخريين ثم سلم ثم كبر فسجد مثل سجوده او اطول.
৭১৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাক‘আত আদায় করে সালাত শেষ করে ফেললেন। যূল-ইয়াদাইন (রাযি.) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত কি কম করা হয়েছে, না আপনি ভুলে গেছেন? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অন্যদের লক্ষ্য করে) বললেনঃ যূল-ইয়াদাইন কি ঠিক বলছে? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং আরও দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর সালাম ফিরালেন এবং তাকবির বলে স্বাভাবিক সিজদার মতো অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা্ করলেন। (৪৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৭৯)
হাদিস নং: ৭১৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد، قال حدثنا شعبة، عن سعد بن ابراهيم، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال صلى النبي صلى الله عليه وسلم الظهر ركعتين، فقيل صليت ركعتين. فصلى ركعتين، ثم سلم ثم سجد سجدتين.
৭১৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত দু’ রাক‘আত আদায় করলেন। তাঁকে বলা হল, আপনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। তখন তিনি আরও দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরানোর পর দু’টি (সাহু) সিজদা্ করলেন। (৪৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮০)
হাদিস নং: ৭১৬
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثنا مالك بن انس عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة ام المومنين ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في مرضه مروا ابا بكر يصلي بالناس قالت عاىشة قلت ان ابا بكر اذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء فمر عمر فليصل فقال مروا ابا بكر فليصل للناس قالت عاىشة لحفصة قولي له ان ابا بكر اذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء فمر عمر فليصل للناس ففعلت حفصة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم مه انكن لانتن صواحب يوسف مروا ابا بكر فليصل للناس قالت حفصة لعاىشة ما كنت لاصيب منك خيرا.
وَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ شَدَّادٍ سَمِعْتُ نَشِيجَ عُمَرَ وَأَنَا فِي آخِرِ الصُّفُوفِ يَقْرَأُ )إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ(
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু শাদ্দাদ (রহ.) বলেন, আমি পিছনের কাতার হতে ‘উমার (রাযি.)-এর চাপা কান্নার আওয়ায শুনেছি। তিনি তখন (إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ) ‘(আমি আমার দুঃখ ও বেদনার অভিযোগ একমাত্র আল্লাহর নিকটই পেশ করছি’’ (সূরাহ্ ইউসুফ ১২/১৮)-এ আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন।
৭১৬. উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অন্তিম) রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বললেনঃ আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আবূ বকর (রাযি.) যখন আপনার স্থলে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। কাজেই ‘উমার (রাযি.)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ আবূ বকরকে বল লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নিতে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, তখন আমি হাফসাহ (রাযি.)-কে বললাম, তুমি তাঁকে বল যে, আবূ বকর (রাযি.) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। কাজেই ‘উমার (রাযি.)-কে বলুন তিনি যেন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করেন। হাফ্সা (রাযি.) তাই করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ থামো! তোমরা ইউসুফের সাথী মহিলাদেরই মতো। আবূ বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। এতে হাফসাহ (রাযি.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে (দুঃখ করে) বললেন, তোমার কাছ হতে আমি কখনো ভাল কিছু পাইনি। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮১)
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু শাদ্দাদ (রহ.) বলেন, আমি পিছনের কাতার হতে ‘উমার (রাযি.)-এর চাপা কান্নার আওয়ায শুনেছি। তিনি তখন (إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ) ‘(আমি আমার দুঃখ ও বেদনার অভিযোগ একমাত্র আল্লাহর নিকটই পেশ করছি’’ (সূরাহ্ ইউসুফ ১২/১৮)-এ আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন।
৭১৬. উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অন্তিম) রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বললেনঃ আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আবূ বকর (রাযি.) যখন আপনার স্থলে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। কাজেই ‘উমার (রাযি.)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ আবূ বকরকে বল লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নিতে। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, তখন আমি হাফসাহ (রাযি.)-কে বললাম, তুমি তাঁকে বল যে, আবূ বকর (রাযি.) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে সাহাবীগণকে কিছুই শুনাতে পারবেন না। কাজেই ‘উমার (রাযি.)-কে বলুন তিনি যেন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করেন। হাফ্সা (রাযি.) তাই করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ থামো! তোমরা ইউসুফের সাথী মহিলাদেরই মতো। আবূ বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। এতে হাফসাহ (রাযি.) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে (দুঃখ করে) বললেন, তোমার কাছ হতে আমি কখনো ভাল কিছু পাইনি। (১৯৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮১)
হাদিস নং: ৭১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد، هشام بن عبد الملك قال حدثنا شعبة، قال اخبرني عمرو بن مرة، قال سمعت سالم بن ابي الجعد، قال سمعت النعمان بن بشير، يقول قال النبي صلى الله عليه وسلم " لتسون صفوفكم او ليخالفن الله بين وجوهكم ".
৭১৭. নু‘মান ইবনু বশীর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করে নিবে, তা না হলে আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করে দিবেন। (মুসলিম ৪/২৮, হাঃ ৪৩৬, আহমাদ ১৮৪১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮২)
হাদিস নং: ৭১৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر، قال حدثنا عبد الوارث، عن عبد العزيز، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " اقيموا الصفوف فاني اراكم خلف ظهري ".
৭১৮. আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কাতার সোজা করে নিবে। কেননা, আমি আমার পিছনে তোমাদেরকে দেখতে পাই। (৭১৯, ৭২৫; মুসলিম ৪/২৮, হাঃ ৪৩৪ ১২৩৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮৩)
হাদিস নং: ৭১৯
সহিহ (Sahih)
احمد ابن ابي رجاء قال حدثنا معاوية بن عمرو قال حدثنا زاىدة بن قدامة قال حدثنا حميد الطويل حدثنا انس بن مالك قال اقيمت الصلاة فاقبل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بوجهه فقال اقيموا صفوفكم وتراصوا فاني اراكم من وراء ظهري.
৭১৯. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হচ্ছে, এমন সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে মুখ করে তাকালেন এবং বললেনঃ তোমাদের কাতারগুলো সোজা করে নাও আর মিলে দাঁড়াও। কেননা, আমি আমার পিছনে তোমাদেরকে দেখতে পাই। (৭১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮৪)
হাদিস নং: ৭২০
সহিহ (Sahih)
ابو عاصم عن مالك عن سمي عن ابي صالح عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم الشهداء الغرق والمطعون والمبطون والهدم.
৭২০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পানিতে ডুবে, কলেরায়, প্লেগে এবং ভূমিধসে বা চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তিরা শহীদ। (৬৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮৫)
হাদিস নং: ৭২১
সহিহ (Sahih)
وقال ولو يعلمون ما في التهجير لاستبقوا ولو يعلمون ما في العتمة والصبح لاتوهما ولو حبوا ولو يعلمون ما في الصف المقدم لاستهموا.
৭২১. যদি লোকেরা জানত যে, আওয়াল ওয়াক্তে সালাত আদায়ের কী ফাযীলাত, তাহলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করে আগেভাগে আসার চেষ্টা করতো। আর ‘ইশা ও ফজরের জামা‘আতের কী ফাযীলাত যদি তারা জানত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হতো। এবং সামনের কাতারের কী ফাযীলাত তা যদি জানত, তাহলে এর জন্য তারা কুরআ ব্যবহার করতো। (৬১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮৫ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৭২২
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد قال حدثنا عبد الرزاق قال اخبرنا معمر عن همام بن منبه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال انما جعل الامام ليوتم به فلا تختلفوا عليه فاذا ركع فاركعوا واذا قال سمع الله لمن حمده فقولوا ربنا لك الحمد واذا سجد فاسجدوا واذا صلى جالسا فصلوا جلوسا اجمعون واقيموا الصف في الصلاة فان اقامة الصف من حسن الصلاة.
৭২২. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অনুসরণ করার জন্যই ইমাম নির্ধারণ করা হয়। কাজেই তার বিরুদ্ধাচরণ করবে না। তিনি যখন রুকূ‘ করেন তখন তোমরাও রুকু‘ করবে। তিনি যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলবে। তিনি যখন সিজদা্ করবেন তখন তোমরাও সিজদা্ করবে। তিনি যখন বসে সালাত আদায় করেন, তখন তোমরাও সবাই বসে সালাত আদায় করবে। আর তোমরা সালাতে কাতার সোজা করে নিবে, কেননা কাতার সোজা করা সালাতের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। (৭৩৪; মুসলিম ৪/১৯, হাঃ ৪১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮৬)