হাদিস নং: ১৪৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الله قال حدثني ابي قال حدثني ثمامة ان انسا حدثه ان ابا بكر كتب له فريضة الصدقة التي امر الله رسوله من بلغت عنده من الابل صدقة الجذعة وليست عنده جذعة وعنده حقة فانها تقبل منه الحقة ويجعل معها شاتين ان استيسرتا له او عشرين درهما ومن بلغت عنده صدقة الحقة وليست عنده الحقة وعنده الجذعة فانها تقبل منه الجذعة ويعطيه المصدق عشرين درهما او شاتين ومن بلغت عنده صدقة الحقة وليست عنده الا بنت لبون فانها تقبل منه بنت لبون ويعطي شاتين او عشرين درهما ومن بلغت صدقته بنت لبون وعنده حقة فانها تقبل منه الحقة ويعطيه المصدق عشرين درهما او شاتين ومن بلغت صدقته بنت لبون وليست عنده وعنده بنت مخاض فانها تقبل منه بنت مخاض ويعطي معها عشرين درهما او شاتين
১৪৫৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ বকর (রাঃ) তাঁর কাছে আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন তা লিখে পাঠানঃ যে ব্যক্তির উপর উটের যাকাত হিসেবে জাযা‘আ ফরজ হয়েছে, অথচ তার নিকট জাযা‘আহ[1] নেই বরং তার নিকট হিক্কা[2] রয়েছে, তখন হিক্কা গ্রহণ করা হবে। এর সাথে সম্ভব হলে (পরিপূরকরূপে) দু’টি বকরী দিবে, অথবা বিশটি দিরহাম দিবে। আর যার উপর যাকাত হিসেবে হিক্কা ফরজ হয়েছে, অথচ তার কাছে হিক্কা নেই বরং জাযা‘আ রয়েছে, তখন তার হতে জাযা‘আ গ্রহণ করা হবে। আর যাকাত উসূলকারী (ক্ষতিপূরণ স্বরূপ) মালিককে বিশটি দিরহাম বা দু’টি বকরী দিবে। যার উপর হিক্কা ফরজ হয়েছে, অথচ তার নিকট বিনত্ লাবূন রয়েছে, তখন বিন্তে লাবূনই গ্রহণ করা হবে। তবে মালিক দু’টি বকরী বা বিশটি দিরহাম দিবে। আর যার ওপর বিন্ত লাবূন ফরজ হয়েছে, কিন্তু তার কাছে হিক্কা রয়েছে, তখন তার হতে হিক্কা গ্রহণ করা হবে এবং আদায়কারী মালিককে বিশটি দিরহাম বা দু’টি বকরী দিবে। আর যার ওপর বিন্ত লাবূন ফরজ হয়েছে কিন্তু তার নিকট তা নেই বরং বিন্তে মাখায রয়েছে, তবে তাই গ্রহণ করা হবে, অবশ্য মালিক এর সঙ্গে বিশটি দিরহাম বা দু’টি বকরী দিবে। (১৪৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৬৬)
নোট: [1] জাযা‘আহ অর্থ যে উট চার বছর পূর্ণ হয়ে পঞ্চম বর্ষে পতিত হয়েছে।
[2] হিক্কা অর্থ যে উট তিন বছর পূর্ণ হয়ে চতুর্থ বর্ষে পতিত হয়েছে।
[2] হিক্কা অর্থ যে উট তিন বছর পূর্ণ হয়ে চতুর্থ বর্ষে পতিত হয়েছে।
হাদিস নং: ১৪৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الله بن المثنى الانصاري قال حدثني ابي قال حدثني ثمامة بن عبد الله بن انس ان انسا حدثه ان ابا بكر كتب له هذا الكتاب لما وجهه الى البحرين بسم الله الرحمن الرحيم هذه فريضة الصدقة التي فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم على المسلمين والتي امر الله بها رسوله فمن سىلها من المسلمين على وجهها فليعطها ومن سىل فوقها فلا يعط في اربع وعشرين من الابل فما دونها من الغنم من كل خمس شاة اذا بلغت خمسا وعشرين الى خمس وثلاثين ففيها بنت مخاض انثى فاذا بلغت ستا وثلاثين الى خمس واربعين ففيها بنت لبون انثى فاذا بلغت ستا واربعين الى ستين ففيها حقة طروقة الجمل فاذا بلغت واحدة وستين الى خمس وسبعين ففيها جذعة فاذا بلغت يعني ستا وسبعين الى تسعين ففيها بنتا لبون فاذا بلغت احدى وتسعين الى عشرين وماىة ففيها حقتان طروقتا الجمل فاذا زادت على عشرين وماىة ففي كل اربعين بنت لبون وفي كل خمسين حقة ومن لم يكن معه الا اربع من الابل فليس فيها صدقة الا ان يشاء ربها فاذا بلغت خمسا من الابل ففيها شاة وفي صدقة الغنم في ساىمتها اذا كانت اربعين الى عشرين وماىة شاة فاذا زادت على عشرين وماىة الى ماىتين شاتان فاذا زادت على ماىتين الى ثلاث ماىة ففيها ثلاث شياه فاذا زادت على ثلاث ماىة ففي كل ماىة شاة فاذا كانت ساىمة الرجل ناقصة من اربعين شاة واحدة فليس فيها صدقة الا ان يشاء ربها وفي الرقة ربع العشر فان لم تكن الا تسعين وماىة فليس فيها شيء الا ان يشاء ربها
১৪৫৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে বাহরাইনে প্রেরণকালে অত্র বিধানটি তাঁর জন্য লিখে দেনঃ
পরম দয়ালু করুণাময় আল্লাহর নামে। এটাই যাকাতের নিসাব-যা নির্ধারণ করেছেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের প্রতি এবং যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিমদের মধ্যে যার নিকট হতে নিয়মানুযায়ী চাওয়া হয়, সে যেন তা আদায় করে দেয় আর তার চেয়ে অধিক চাওয়া হলে তা যেন আদায় না করে। চবিবশ ও তার চেয়ে কম সংখ্যক উটের যাকাত বকরী দ্বারা আদায় করা হবে। প্রতিটি পাঁচটি উটে একটি বকরী এবং উটের সংখ্যা পঁচিশ হতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত হলে একটি মাদী বিনতে মাখায। ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি মাদী বিন্তে লাবূন। ছয়চল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত ষাড়ের পালযোগ্য একটি হিক্কা, একষট্টি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জাযা‘আ, ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দু’টি বিন্তে লাবূন, একানব্বইটি হতে একশ’ বিশ পর্যন্ত ষাঁড়ের পালযোগ্য দু’টি হিক্কা আর একশ’ বিশের অধিক হলে (অতিরিক্ত) প্রতি চল্লিশটিতে একটি করে বিনতে লাবূন এবং (অতিরিক্ত) প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি করে হিক্কা। যার চারটির বেশি উট নেই, সেগুলোর উপর কোন যাকাত নেই, তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে দিতে পারবে। কিন্তু যখন পাঁচে পৌঁছে তখন একটি বকরী ওয়াজিব। আর বকরীর যাকাত সম্পর্কেঃ গৃহপালিত বকরী চল্লিশটি হতে একশ বিশটি পর্যন্ত একটি বকরী। এর বেশি হলে দু’শটি পর্যন্ত দু’টি বকরী। দু’শর অধিক হলে তিনশ’ পর্যন্ত তিনটি বকরী। তিনশ’র অধিক হলে প্রতি একশ’-তে একটি করে বকরী। কারো গৃহপালিত বকরীর সংখ্যা চল্লিশ হতে একটিও কম হলে তার উপর যাকাত নেই। তবে স্বেচ্ছায় দান করলে তা করতে পারে। রৌপ্যের যাকাত চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। একশ নব্বই দিরহাম হলে সেক্ষেত্রে যাকাত নেই [1], তবে মালিক সেচ্ছায় কিছু দিলে দিতে পারে। (১৪৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৬৭)
পরম দয়ালু করুণাময় আল্লাহর নামে। এটাই যাকাতের নিসাব-যা নির্ধারণ করেছেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের প্রতি এবং যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিমদের মধ্যে যার নিকট হতে নিয়মানুযায়ী চাওয়া হয়, সে যেন তা আদায় করে দেয় আর তার চেয়ে অধিক চাওয়া হলে তা যেন আদায় না করে। চবিবশ ও তার চেয়ে কম সংখ্যক উটের যাকাত বকরী দ্বারা আদায় করা হবে। প্রতিটি পাঁচটি উটে একটি বকরী এবং উটের সংখ্যা পঁচিশ হতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত হলে একটি মাদী বিনতে মাখায। ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি মাদী বিন্তে লাবূন। ছয়চল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত ষাড়ের পালযোগ্য একটি হিক্কা, একষট্টি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জাযা‘আ, ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দু’টি বিন্তে লাবূন, একানব্বইটি হতে একশ’ বিশ পর্যন্ত ষাঁড়ের পালযোগ্য দু’টি হিক্কা আর একশ’ বিশের অধিক হলে (অতিরিক্ত) প্রতি চল্লিশটিতে একটি করে বিনতে লাবূন এবং (অতিরিক্ত) প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি করে হিক্কা। যার চারটির বেশি উট নেই, সেগুলোর উপর কোন যাকাত নেই, তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে দিতে পারবে। কিন্তু যখন পাঁচে পৌঁছে তখন একটি বকরী ওয়াজিব। আর বকরীর যাকাত সম্পর্কেঃ গৃহপালিত বকরী চল্লিশটি হতে একশ বিশটি পর্যন্ত একটি বকরী। এর বেশি হলে দু’শটি পর্যন্ত দু’টি বকরী। দু’শর অধিক হলে তিনশ’ পর্যন্ত তিনটি বকরী। তিনশ’র অধিক হলে প্রতি একশ’-তে একটি করে বকরী। কারো গৃহপালিত বকরীর সংখ্যা চল্লিশ হতে একটিও কম হলে তার উপর যাকাত নেই। তবে স্বেচ্ছায় দান করলে তা করতে পারে। রৌপ্যের যাকাত চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। একশ নব্বই দিরহাম হলে সেক্ষেত্রে যাকাত নেই [1], তবে মালিক সেচ্ছায় কিছু দিলে দিতে পারে। (১৪৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৬৭)
নোট: [1] দু’শ দিরহাম হল- রৌপ্যের যাকাতের নিসাব যা বর্তমান ওজন অনুযায়ী ৫৯৫ গ্রাম। (দ্রঃ আরকানুল ইসলাম)
হাদিস নং: ১৪৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عبد الله قال حدثني ابي قال حدثني ثمامة ان انسا حدثه ان ابا بكر كتب له الصدقة التي امر الله رسوله صلى الله عليه وسلم ولا يخرج في الصدقة هرمة ولا ذات عوار ولا تيس الا ما شاء المصدق
১৪৫৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি যাকাতের যে বিধান দিয়েছেন তা আবূ বকর (রাঃ) তাঁর নিকট লিখে পাঠান। তাতে রয়েছেঃ অধিক বয়সে দাঁত পড়া বৃদ্ধ ও ত্রুটিযুক্ত বকরী এবং পাঁঠা যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না, তবে যাকাত প্রদানকারী শেষোক্ত প্রাণী তথা পাঁঠা ইচ্ছা করলে দিতে পারেন। (১৪৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৬৮)
হাদিস নং: ১৪৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري ح وقال الليث حدثني عبد الرحمن بن خالد عن ابن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود ان ابا هريرة قال قال ابو بكر والله لو منعوني عناقا كانوا يودونها الى رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعها
১৪৫৬. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর কসম! তারা যদি (যাকাতের) ঐরূপ একটি ছাগল ছানাও দিতে অস্বীকার করে যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে দিতো, তবুও তাদের বিরুদ্ধে যাকাত না দেয়ার কারণে লড়াই করবো। (১৪০০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৬৯)
হাদিস নং: ১৪৫৭
সহিহ (Sahih)
قال عمر فما هو الا ان رايت ان الله شرح صدر ابي بكر بالقتال فعرفت انه الحق
১৪৫৭. ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমার নিকট স্পষ্ট যে, যুদ্ধের ব্যাপারে আল্লাহ আবূ বাকারের ক্বলব খুলে দিয়েছেন, তাই বুঝলাম তাঁর সিদ্ধান্তই সঠিক। (১৩৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬৩ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৬৯ শেষাংশ)
হাদিস নং: ১৪৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا امية بن بسطام حدثنا يزيد بن زريع حدثنا روح بن القاسم عن اسماعيل بن امية عن يحيى بن عبد الله بن صيفي عن ابي معبد عن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بعث معاذا على اليمن قال انك تقدم على قوم اهل كتاب فليكن اول ما تدعوهم اليه عبادة الله فاذا عرفوا الله فاخبرهم ان الله قد فرض عليهم خمس صلوات في يومهم وليلتهم فاذا فعلوا فاخبرهم ان الله فرض عليهم زكاة من اموالهم وترد على فقراىهم فاذا اطاعوا بها فخذ منهم وتوق كراىم اموال الناس
১৪৫৮. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মু‘আয (ইবনু জাবাল) (রাঃ)-কে শাসনকর্তা হিসেবে ইয়ামান দেশে পাঠান, তখন বলেছিলেনঃ তুমি আহলে কিতাব লোকদের নিকট যাচ্ছো। সেহেতু প্রথমে তাদের আল্লাহর ‘ইবাদাতের দাওয়াত দিবে। যখন তারা আল্লাহর পরিচয় লাভ করবে, তখন তাদের তুমি বলবে যে, আল্লাহ দিন-রাতে তাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করে দিয়েছেন। যখন তারা তা আদায় করতে থাকবে, তখন তাদের জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের ধন-সম্পদ হতে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়া হবে। যখন তারা এর অনুসরণ করবে তখন তাদের হতে তা গ্রহণ করবে এবং লোকের উত্তম[1] মাল গ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে। (১৩৯৫, মুসলিম ১/৭, হাঃ ১৯, আহমাদ ২০৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭০)
নোট: [1] যাকাত প্রদানকারী বেছে বেছে খারাপ মাল যাকাত হিসেবে প্রদান করবে না। আদায়কারী বেছে বেছে ভাল মালগুলো যাকাত হিসেবে গ্রহণ করবে না। দ্রব্য মধ্যম মানের হতে হবে।
হাদিস নং: ১৪৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن محمد بن عبد الرحمن بن ابي صعصعة المازني عن ابيه عن ابي سعيد الخدري ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ليس فيما دون خمسة اوسق من التمر صدقة وليس فيما دون خمس اواق من الورق صدقة وليس فيما دون خمس ذود من الابل صدقة
১৪৫৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচ ওসাক-এর কম পরিমাণ খেজুরের যাকাত নেই। পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রৌপ্যের যাকাত নেই এবং পাঁচটির কম উটের যাকাত নেই। (১৪০৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭১)
হাদিস নং: ১৪৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي حدثنا الاعمش عن المعرور بن سويد عن ابي ذر قال انتهيت الى النبي صلى الله عليه وسلم قال والذي نفسي بيده او والذي لا اله غيره او كما حلف ما من رجل تكون له ابل او بقر او غنم لا يودي حقها الا اتي بها يوم القيامة اعظم ما تكون واسمنه تطوه باخفافها وتنطحه بقرونها كلما جازت اخراها ردت عليه اولاها حتى يقضى بين الناس رواه بكير عن ابي صالح عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم
وَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لأَعْرِفَنَّ مَا جَاءَ اللَّهَ رَجُلٌ بِبَقَرَةٍ لَهَا خُوَارٌ».
وَيُقَالَ جُؤَارٌ (تَجْأَرُونَ) تَرْفَعُونَ أَصْوَاتَكُمْ كَمَا تَجْأَرُ الْبَقَرَةُ
আবূ হুমাইদ (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি অবশ্যই সে লোকদের চিনতে পারবো, যে হাশরের দিন হাম্বা হাম্বা চিৎকাররত গাভী নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। বলা হয়, خُوَارٌ শব্দের স্থলে جُؤَارٌ শব্দও ব্যবহৃত হয়েছে। এ হতে (تَجْأرُوْنَ) (النحل : ৫৩) মানে গরু যেমন চিৎকার করে, তোমরা তেমন চিৎকার করবে। (মু’মিনুনঃ ৬৪)
১৪৬০. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গমন করলাম। তিনি বললেনঃ শপথ সেই সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ (বা তিনি বললেন) শপথ সেই সত্তার, যিনি ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই, অথবা অন্য কোন শব্দে শপথ করলেন, উট, গরু বা বকরী থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এদের হক আদায় করেনি সেগুলো যেমন ছিল তার চেয়ে বৃহদাকার ও মোটা তাজা করে কিয়ামতের দিন হাযির করা হবে এবং তাকে পদপিষ্ট করবে এবং শিং দিয়ে গুঁতো দিবে। যখনই দলের শেষটি চলে যাবে তখন পালাক্রমে আবার প্রথমটি ফিরিয়ে আনা হবে। মানুষের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে এরূপ চলতে থাকবে। হাদীসটি বুকায়র (রহ.) আবূ সারিহ (রহ.)-এর মাধ্যমে হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। (৬৬৩৮, মুসলিম ১২/৮, হাঃ ৯৯০, আহমাদ ২১৪০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ১৩৬৬ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭২)
وَيُقَالَ جُؤَارٌ (تَجْأَرُونَ) تَرْفَعُونَ أَصْوَاتَكُمْ كَمَا تَجْأَرُ الْبَقَرَةُ
আবূ হুমাইদ (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি অবশ্যই সে লোকদের চিনতে পারবো, যে হাশরের দিন হাম্বা হাম্বা চিৎকাররত গাভী নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। বলা হয়, خُوَارٌ শব্দের স্থলে جُؤَارٌ শব্দও ব্যবহৃত হয়েছে। এ হতে (تَجْأرُوْنَ) (النحل : ৫৩) মানে গরু যেমন চিৎকার করে, তোমরা তেমন চিৎকার করবে। (মু’মিনুনঃ ৬৪)
১৪৬০. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গমন করলাম। তিনি বললেনঃ শপথ সেই সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ (বা তিনি বললেন) শপথ সেই সত্তার, যিনি ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই, অথবা অন্য কোন শব্দে শপথ করলেন, উট, গরু বা বকরী থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এদের হক আদায় করেনি সেগুলো যেমন ছিল তার চেয়ে বৃহদাকার ও মোটা তাজা করে কিয়ামতের দিন হাযির করা হবে এবং তাকে পদপিষ্ট করবে এবং শিং দিয়ে গুঁতো দিবে। যখনই দলের শেষটি চলে যাবে তখন পালাক্রমে আবার প্রথমটি ফিরিয়ে আনা হবে। মানুষের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে এরূপ চলতে থাকবে। হাদীসটি বুকায়র (রহ.) আবূ সারিহ (রহ.)-এর মাধ্যমে হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। (৬৬৩৮, মুসলিম ১২/৮, হাঃ ৯৯০, আহমাদ ২১৪০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ১৩৬৬ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭২)
হাদিস নং: ১৪৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة انه سمع انس بن مالك يقول كان ابو طلحة اكثر الانصار بالمدينة مالا من نخل وكان احب امواله اليه بيرحاء وكانت مستقبلة المسجد وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخلها ويشرب من ماء فيها طيب قال انس فلما انزلت هذه الاية (لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون) قام ابو طلحة الى رسول الله فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله تبارك وتعالى يقول : (لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون) وان احب اموالي الي بيرحاء وانها صدقة لله÷ ارجو برها وذخرها عند الله فضعها يا رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث اراك الله قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بخ ذلك مال رابح ذلك مال رابح وقد سمعت ما قلت واني ارى ان تجعلها في الاقربين فقال ابو طلحة افعل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقسمها ابو طلحة في اقاربه وبني عمه تابعه روح وقال يحيى بن يحيى واسماعيل عن مالك رايح
وَقَالَ النَّبِيُّ لَهُ أَجْرَانِ أَجْرُ الْقَرَابَةِ وَالصَّدَقَةِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরূপ দাতার দ্বিগুণ সওয়াব। আত্মীয়কে দান করার সওয়াব এবং যাকাত দেয়ার সওয়াব।
১৪৬১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাদ্বীনার আনসারীগণের মধ্যে আবূ তালহা (রাঃ) সবচাইতে বেশী খেজুর বাগানের মালিক ছিলেন। মসজিদে নাববীর নিকটবর্তী বায়রুহা নামক বাগানটি তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাগানে প্রবেশ করে এর সুপেয় পানি পান করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না’’- (আলু ইমরানঃ ৯২)। তখন আবূ তালহা (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ বলেছেনঃ ‘‘তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না’’- (আলু ইমরানঃ ৯২)। আর বায়রুহা বাগানটি আমার কাছে অধিক প্রিয়। এটি আল্লাহর নামে সাদাকা করা হলো, আমি এর কল্যাণ কামনা করি এবং তা আল্লাহর নিকট আমার জন্য সঞ্চয়রূপে থাকবে। কাজেই আপনি যাকে দান করা ভাল মনে করেন তাকে দান করুন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাকে ধন্যবাদ, এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ, এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ। তুমি যা বলেছ তা শুনলাম। আমি মনে করি, তোমার আপন জনদের মধ্যে তা বণ্টন করে দাও। আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করব। অতঃপর তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন, আপন চাচার বংশধরের মধ্যে তা বণ্টন করে দিলেন। রাবী রাওহ (রহ.) رَايِحٌ শব্দে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আর রাবী ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহ.) ও ইসমা‘ঈল (রহ.) মালিক (রহ.) হতে رَايِحٌ শব্দ বলেছেন। (২৩১৮, ২৭৫২, ২৭৫৮, ২৭৬৯, ৪৫৫৪, ৪৫৫৫, ৫৬১১, মুসলিম ১২/১৪, হাঃ ৯৯৮, আহমাদ ১২৪৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭৩)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এরূপ দাতার দ্বিগুণ সওয়াব। আত্মীয়কে দান করার সওয়াব এবং যাকাত দেয়ার সওয়াব।
১৪৬১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাদ্বীনার আনসারীগণের মধ্যে আবূ তালহা (রাঃ) সবচাইতে বেশী খেজুর বাগানের মালিক ছিলেন। মসজিদে নাববীর নিকটবর্তী বায়রুহা নামক বাগানটি তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাগানে প্রবেশ করে এর সুপেয় পানি পান করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না’’- (আলু ইমরানঃ ৯২)। তখন আবূ তালহা (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ বলেছেনঃ ‘‘তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না’’- (আলু ইমরানঃ ৯২)। আর বায়রুহা বাগানটি আমার কাছে অধিক প্রিয়। এটি আল্লাহর নামে সাদাকা করা হলো, আমি এর কল্যাণ কামনা করি এবং তা আল্লাহর নিকট আমার জন্য সঞ্চয়রূপে থাকবে। কাজেই আপনি যাকে দান করা ভাল মনে করেন তাকে দান করুন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাকে ধন্যবাদ, এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ, এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ। তুমি যা বলেছ তা শুনলাম। আমি মনে করি, তোমার আপন জনদের মধ্যে তা বণ্টন করে দাও। আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করব। অতঃপর তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন, আপন চাচার বংশধরের মধ্যে তা বণ্টন করে দিলেন। রাবী রাওহ (রহ.) رَايِحٌ শব্দে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আর রাবী ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহ.) ও ইসমা‘ঈল (রহ.) মালিক (রহ.) হতে رَايِحٌ শব্দ বলেছেন। (২৩১৮, ২৭৫২, ২৭৫৮, ২৭৬৯, ৪৫৫৪, ৪৫৫৫, ৫৬১১, মুসলিম ১২/১৪, হাঃ ৯৯৮, আহমাদ ১২৪৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭৩)
হাদিস নং: ১৪৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن ابي مريم اخبرنا محمد بن جعفر قال اخبرني زيد هو ابن اسلم عن عياض بن عبد الله عن ابي سعيد الخدري رضي الله عنه خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم في اضحى او فطر الى المصلى ثم انصرف فوعظ الناس وامرهم بالصدقة فقال ايها الناس تصدقوا فمر على النساء فقال يا معشر النساء تصدقن فاني رايتكن اكثر اهل النار فقلن وبم ذلك يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال تكثرن اللعن وتكفرن العشير ما رايت من ناقصات عقل ودين اذهب للب الرجل الحازم من احداكن يا معشر النساء ثم انصرف فلما صار الى منزله جاءت زينب امراة ابن مسعود تستاذن عليه فقيل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه زينب فقال اي الزيانب فقيل امراة ابن مسعود قال نعم اىذنوا لها فاذن لها قالت يا نبي الله انك امرت اليوم بالصدقة وكان عندي حلي لي فاردت ان اتصدق به فزعم ابن مسعود انه وولده احق من تصدقت به عليهم فقال النبي صلى الله عليه وسلم صدق ابن مسعود زوجك وولدك احق من تصدقت به عليهم
১৪৬২. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিত্রের দিনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে গেলেন এবং সালাত শেষ করলেন। পরে লোকদের উপদেশ দিলেন এবং তাদের সাদাকা দেয়ার নির্দেশ দিলেন আর বললেনঃ লোক সকল! তোমরা সাদাকা দিবে। অতঃপর মহিলাগণের নিকট গিয়ে বললেনঃ মহিলাগণ! তোমরা সাদাকা দাও। আমাকে জাহান্নামে তোমাদেরকে অধিক সংখ্যক দেখানো হয়েছে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এর কারণ কী? তিনি বললেনঃ তোমরা বেশি অভিশাপ দিয়ে থাক এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞ হয়ে থাক। হে মহিলাগণ! জ্ঞান ও দ্বীনে অপরিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দৃঢ়চেতা পুরুষের বুদ্ধি হরণকারিণী তোমাদের মত কাউকে দেখিনি। যখন তিনি ফিরে এসে ঘরে পৌঁছলেন, তখন ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর স্ত্রী যায়নাব (রাযি.) তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! যায়নাব এসেছেন। তিনি বললেন, কোন্ যায়নাব? বলা হলো, ইবনু মাস‘ঊদের স্ত্রী। তিনি বললেনঃ হাঁ, তাকে আসতে দাও। তাকে অনুমতি দেয়া হলো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ আপনি সাদাকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমার অলংকার আছে। আমি তা সাদাকা করার ইচ্ছা করেছি। ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) মনে করেন, আমার এ সদাকায় তাঁর এবং তাঁর সন্তানদেরই হক বেশি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) ঠিক বলেছে। তোমার স্বামী ও সন্তানই তোমার এ সাদাকার অধিক হাক্দার। (৩০৪, মুসলিম ১২/২, হাঃ ৯৮২, আহমাদ ৭২৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭৪)
হাদিস নং: ১৪৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم حدثنا شعبة حدثنا عبد الله بن دينار قال سمعت سليمان بن يسار عن عراك بن مالك عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ليس على المسلم في فرسه وغلامه صدقة
১৪৬৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের উপর তার ঘোড়া ও গোলামের কোন যাকাত নেই। (১৪৬৪, মুসলিম ১২/২, হাঃ ৯৮২, আহমাদ ৭২৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭৫)
হাদিস নং: ১৪৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى بن سعيد عن خثيم بن عراك قال حدثني ابي عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم ح حدثنا سليمان بن حرب حدثنا وهيب بن خالد حدثنا خثيم بن عراك بن مالك عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ليس على المسلم صدقة في عبده ولا في فرسه
১৪৬৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত।, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের উপর তার গোলাম ও ঘোড়ার কোন যাকাত নেই। (৯২১, মুসলিম ১২/৪১, হাঃ ১০৫২, আহমাদ ১১১৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭৬)
হাদিস নং: ১৪৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا معاذ بن فضالة حدثنا هشام عن يحيى عن هلال بن ابي ميمونة حدثنا عطاء بن يسار انه سمع ابا سعيد الخدري يحدث ان النبي صلى الله عليه وسلم جلس ذات يوم على المنبر وجلسنا حوله فقال اني مما اخاف عليكم من بعدي ما يفتح عليكم من زهرة الدنيا وزينتها فقال رجل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم اوياتي الخير بالشر فسكت النبي فقيل له ما شانك تكلم النبي ولا يكلمك فراينا انه ينزل عليه قال فمسح عنه الرحضاء فقال اين الساىل وكانه حمده فقال انه لا ياتي الخير بالشر وان مما ينبت الربيع يقتل او يلم الا اكلة الخضراء اكلت حتى اذا امتدت خاصرتاها استقبلت عين الشمس فثلطت وبالت ورتعت وان هذا المال خضرة حلوة فنعم صاحب المسلم ما اعطى منه المسكين واليتيم وابن السبيل او كما قال النبي صلى الله عليه وسلم وانه من ياخذه بغير حقه كالذي ياكل ولا يشبع ويكون شهيدا عليه يوم القيامة
১৪৬৫. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে বসলেন এবং আমরা তাঁর আশেপাশে বসলাম। তিনি বললেনঃ আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যা আশঙ্কা করছি তা হলো এই যে দুনিয়ার চাকচিক্য ও সৌন্দর্য (ধন-সম্পদ) তোমাদের সামনে খুলে দেয়া হবে। এক সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণ কি কখনো অকল্যাণ বয়ে আনে? এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব হলেন। প্রশ্নকারীকে বলা হলো, তোমার কী হয়েছে? তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে কথা বলছ, কিন্তু তিনি তোমাকে জওয়াব দিচ্ছেন না? তখন আমরা অনুভব করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর ওয়াহী নাযিল হচ্ছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাঁর ঘাম মুছলেন এবং বললেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়? যেন তার প্রশ্নকে প্রশংসা করে বললেন, কল্যাণ কখনো অকল্যাণ বয়ে আনে না। অবশ্য বসন্ত মৌসুম যে ঘাস উৎপন্ন করে তা (সবটুকুই সুস্বাদু ও কল্যাণকর বটে তবে) অনেক সময় হয়ত (ভোজনকারী প্রাণীর) জীবন নাশ করে অথবা তাকে মৃত্যুর কাছাকাছি নিয়ে যায়। তবে ঐ তৃণভোজী জন্তু, যে পেট ভরে খাওয়ার পর সূর্যের তাপ গ্রহণ করে এবং মল ত্যাগ করে, প্রস্রাব করে এবং পুনরায় চলে (সেই মৃত্যু থেকে রক্ষা পায় তেমনি) এই সম্পদ হলো আকর্ষণীয় সুস্বাদু। কাজেই সে-ই ভাগ্যবান মুসলিম, যে এই সম্পদ থেকে মিসকীন, ইয়াতীম ও মুসাফিরকে দান করে অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ বলেছেন, আর যে ব্যক্তি এই সম্পদ অন্যায়ভাবে উপার্জন করে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে খেতে থাকে এবং তার পেট ভরে না। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে ঐ সম্পদ তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭৭)
হাদিস নং: ১৪৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص حدثنا ابي حدثنا الاعمش قال حدثني شقيق عن عمرو بن الحارث عن زينب امراة عبد الله قال فذكرته لا÷براهيم ح فحدثني ابراهيم عن ابي عبيدة عن عمرو بن الحارث عن زينب امراة عبد الله بمثله سواء قالت كنت في المسجد فرايت النبي فقال تصدقن ولو من حليكن وكانت زينب تنفق على عبد الله وايتام في حجرها قال فقالت لعبد الله سل رسول الله صلى الله عليه وسلم ايجزي عني ان انفق عليك وعلى ايتام في حجري من الصدقة فقال سلي انت رسول الله صلى الله عليه وسلم فانطلقت الى النبي صلى الله عليه وسلم فوجدت امراة من الانصار على الباب حاجتها مثل حاجتي فمر علينا بلال فقلنا سل النبي ايجزي عني ان انفق على زوجي وايتام لي في حجري وقلنا لا تخبر بنا فدخل فساله فقال من هما قال زينب قال اي الزيانب قال امراة عبد الله قال نعم لها اجران اجر القرابة واجر الصدقة
قَالَهُ أَبُو سَعِيدٍ عَنْ النَّبِيِّ
এ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন।
১৪৬৬. ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ)-এর স্ত্রী যায়নাব (রাযি.) হতে বর্ণিত; [রাবী আ‘মাশ (রহ.) বলেন,] আমি ইবরাহীম (রহ.)-এর সাথে এ হাদীসের আলোচনা করলে তিনি আবূ ‘উবায়দাহ সূত্রে ‘আমর ইবনু হারিস (রাঃ)-এর মাধ্যমে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী যায়নাব (রাযি.) হতে হুবহু বর্ণনা করেন। তিনি [যায়নাব (রাযি.)] বলেন, আমি মসজিদে ছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখলাম তিনি বলছেনঃ তোমরা সাদাকা দাও যদিও তোমাদের অলংকার হতে হয়। যায়নাব (রাযি.) ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) ও তাঁর পোষ্য ইয়াতীমের প্রতি খরচ করতেন। তখন তিনি ‘আবদুল্লাহকে বললেন, তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট জেনে এসো যে, তোমার প্রতি এবং আমার পোষ্য ইয়াতীমদের প্রতি খরচ করলে আমার পক্ষ হতে সাদাকা আদায় হবে কি? তিনি [ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)] বললেন, বরং তুমিই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে জেনে এসো। এরপর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলাম। তাঁর দরজায় আরো একজন আনসারী মহিলাকে দেখলাম, তার প্রয়োজনও আমার প্রয়োজনের অনুরূপ। তখন বিলাল (রাঃ)-কে আমাদের পাশ দিয়ে যেতে দেখে বললাম, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে জিজ্ঞেস করুন, স্বামী ও আপন (পোষ্য) ইয়াতীমের প্রতি সাদাকা করলে কি আমার পক্ষ হতে তা যথেষ্ট হবে? এবং এ কথাও বলেছিলাম যে, আমাদের কথা জানাবেন না। তিনি প্রবেশ করে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা কে? বিলাল (রাঃ) বললেন, যায়নাব। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ যায়নাব? তিনি উত্তর দিলেন, ‘আবদুল্লাহর স্ত্রী। নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাহু বললেনঃ তার জন্য দু’টি সওয়াব[1] রয়েছে, আত্মীয়কে দেয়ার সওয়াব আর সাদাকা দেয়ার সওয়াব। (মুসলিম ১২/১৪, হাঃ ১০০০, আহমাদ ১৬০৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭৮)
এ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন।
১৪৬৬. ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ)-এর স্ত্রী যায়নাব (রাযি.) হতে বর্ণিত; [রাবী আ‘মাশ (রহ.) বলেন,] আমি ইবরাহীম (রহ.)-এর সাথে এ হাদীসের আলোচনা করলে তিনি আবূ ‘উবায়দাহ সূত্রে ‘আমর ইবনু হারিস (রাঃ)-এর মাধ্যমে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী যায়নাব (রাযি.) হতে হুবহু বর্ণনা করেন। তিনি [যায়নাব (রাযি.)] বলেন, আমি মসজিদে ছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখলাম তিনি বলছেনঃ তোমরা সাদাকা দাও যদিও তোমাদের অলংকার হতে হয়। যায়নাব (রাযি.) ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) ও তাঁর পোষ্য ইয়াতীমের প্রতি খরচ করতেন। তখন তিনি ‘আবদুল্লাহকে বললেন, তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট জেনে এসো যে, তোমার প্রতি এবং আমার পোষ্য ইয়াতীমদের প্রতি খরচ করলে আমার পক্ষ হতে সাদাকা আদায় হবে কি? তিনি [ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)] বললেন, বরং তুমিই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে জেনে এসো। এরপর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলাম। তাঁর দরজায় আরো একজন আনসারী মহিলাকে দেখলাম, তার প্রয়োজনও আমার প্রয়োজনের অনুরূপ। তখন বিলাল (রাঃ)-কে আমাদের পাশ দিয়ে যেতে দেখে বললাম, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে জিজ্ঞেস করুন, স্বামী ও আপন (পোষ্য) ইয়াতীমের প্রতি সাদাকা করলে কি আমার পক্ষ হতে তা যথেষ্ট হবে? এবং এ কথাও বলেছিলাম যে, আমাদের কথা জানাবেন না। তিনি প্রবেশ করে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা কে? বিলাল (রাঃ) বললেন, যায়নাব। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ যায়নাব? তিনি উত্তর দিলেন, ‘আবদুল্লাহর স্ত্রী। নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাহু বললেনঃ তার জন্য দু’টি সওয়াব[1] রয়েছে, আত্মীয়কে দেয়ার সওয়াব আর সাদাকা দেয়ার সওয়াব। (মুসলিম ১২/১৪, হাঃ ১০০০, আহমাদ ১৬০৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭৮)
নোট: [1] কেউ নিজস্ব মাল থেকে অভাবগ্রস্ত নিকটাত্মীয়দেরকে যাকাত দিলে অধিক পুণ্য লাভ করবে।
হাদিস নং: ১৪৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عثمان بن ابي شيبة حدثنا عبدة عن هشام عن ابيه عن زينب بنت ام سلمة عن ام سلمة قالت قلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم الي اجر ان انفق على بني ابي سلمة انما هم بني فقال انفقي عليهم فلك اجر ما انفقت عليهم
১৪৬৭. উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আমার স্বামী) আবূ সালামার সন্তান, যারা আমারও সন্তান, তাদের প্রতি ব্যয় করলে আমার সওয়াব হবে কি? তিনি বললেনঃ তাদের প্রতি ব্যয় কর। তাদের প্রতি ব্যয় করার সওয়াব তুমি অবশ্যই পাবে। (৫৩৬৯, মুসলিম ১২/১৪, হাঃ ১০০১, আহমাদ ২৬৫৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৭৯)
হাদিস নং: ১৪৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة امر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالصدقة فقيل منع ابن جميل وخالد بن الوليد وعباس بن عبد المطلب فقال النبي ما ينقم ابن جميل الا انه كان فقيرا فاغناه الله ورسوله واما خالد فانكم تظلمون خالدا قد احتبس ادراعه واعتده في سبيل الله واما العباس بن عبد المطلب فعم رسول الله فهي عليه صدقة ومثلها معها تابعه ابن ابي الزناد عن ابيه وقال ابن اسحاق عن ابي الزناد هي عليه ومثلها معها وقال ابن جريج حدثت عن الاعرج بمثله
وَيُذْكَرُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ يُعْتِقُ مِنْ زَكَاةِ مَالِهِ وَيُعْطِي فِي الْحَجِّ وَقَالَ الْحَسَنُ إِنْ اشْتَرَى أَبَاهُ مِنْ الزَّكَاةِ جَازَ وَيُعْطِي فِي الْمُجَاهِدِينَ وَالَّذِي لَمْ يَحُجَّ ثُمَّ تَلاَ (إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ) الآيَةَ فِي أَيِّهَا أَعْطَيْتَ أَجْزَأَتْ وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ خَالِدًا احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ فِي سَبِيلِ اللهِ وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي لاَسٍ حَمَلَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى إِبِلِ الصَّدَقَةِ لِلْحَجِّ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিজের মালের যাকাত দ্বারা দাস মুক্ত করবে এবং হাজ্জ আদায়কারীকে দিবে। হাসান (বসরী) (রহ.) বলেন, কেউ যাকাতের অর্থ দিয়ে তার পিতাকে ক্রয় করলে তা জায়িয হবে। আর মুজাহিদ্বীন এবং যে হাজ্জ করেনি (তাকে হাজ্জ করার জন্য) তাদেরও (যাকাত) দিবে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন (আল্লাহর বাণীঃ) ‘‘যাকাত পাবে দরিদ্রগণ’’- (আত্-তওবাঃ ৬০)। এর যে কোন খাত দিয়েই যাকাত আদায় হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ খালিদ (ইবনু ওয়ালিদ) (রাঃ) তার বর্মসমূহ জিহাদের কাজে আবদ্ধ রেখেছেন। আবূ লাইস (রাঃ) হতে (দুর্বল সূত্রে) বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের হাজ্জ আদায় করার জন্য বাহনরূপে যাকাতের উট দেন।
এ হাদীসটিকে ইমাম বুখারী যঈফ হওয়ার ইঙ্গিত বাহক শব্দের সাথে বর্ণনা করেছেন এবং তা যঈফও বটে।
১৪৬৮. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত দেয়ার নির্দেশ দিলে বলা হলো, ইবনু জামীল, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ ও ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) যাকাত প্রদানে অস্বীকার করছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইবনু জামীলের যাকাত না দেয়ার কারণ এ ছাড়া কিছু নয় যে, সে দরিদ্র ছিল, পরে আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর রাসূলের বরকতে সম্পদশালী হয়েছে। আর খালিদের ব্যাপার হলো তোমরা খালিদের উপর অন্যায় করেছ, কারণ সে তার বর্ম ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র আল্লাহর পথে আবদ্ধ রেখেছে। আর ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) তো আল্লাহর রাসূলের চাচা। তাঁর যাকাত তাঁর জন্য সাদাকা এবং সমপরিমাণও তার জন্য সাদাকা। ইবনু আবুয্ যিনাদ (রহ.) তাঁর পিতা হতে হাদীস বর্ণনায় শু‘আইব (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আর ইবনু ইসহাক (রহ.) আবুয্ যিনাদ (রহ.) হতে হাদীসের শেষাংশে ‘সাদাকা’ শব্দের উল্লেখ করেননি। ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলেন, আ‘রাজ (রহ.) হতে অনুরূপ হাদীস আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে। (মুসলিম ১২/২, হাঃ ৯৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮০)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিজের মালের যাকাত দ্বারা দাস মুক্ত করবে এবং হাজ্জ আদায়কারীকে দিবে। হাসান (বসরী) (রহ.) বলেন, কেউ যাকাতের অর্থ দিয়ে তার পিতাকে ক্রয় করলে তা জায়িয হবে। আর মুজাহিদ্বীন এবং যে হাজ্জ করেনি (তাকে হাজ্জ করার জন্য) তাদেরও (যাকাত) দিবে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন (আল্লাহর বাণীঃ) ‘‘যাকাত পাবে দরিদ্রগণ’’- (আত্-তওবাঃ ৬০)। এর যে কোন খাত দিয়েই যাকাত আদায় হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ খালিদ (ইবনু ওয়ালিদ) (রাঃ) তার বর্মসমূহ জিহাদের কাজে আবদ্ধ রেখেছেন। আবূ লাইস (রাঃ) হতে (দুর্বল সূত্রে) বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের হাজ্জ আদায় করার জন্য বাহনরূপে যাকাতের উট দেন।
এ হাদীসটিকে ইমাম বুখারী যঈফ হওয়ার ইঙ্গিত বাহক শব্দের সাথে বর্ণনা করেছেন এবং তা যঈফও বটে।
১৪৬৮. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত দেয়ার নির্দেশ দিলে বলা হলো, ইবনু জামীল, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ ও ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) যাকাত প্রদানে অস্বীকার করছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইবনু জামীলের যাকাত না দেয়ার কারণ এ ছাড়া কিছু নয় যে, সে দরিদ্র ছিল, পরে আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর রাসূলের বরকতে সম্পদশালী হয়েছে। আর খালিদের ব্যাপার হলো তোমরা খালিদের উপর অন্যায় করেছ, কারণ সে তার বর্ম ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র আল্লাহর পথে আবদ্ধ রেখেছে। আর ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) তো আল্লাহর রাসূলের চাচা। তাঁর যাকাত তাঁর জন্য সাদাকা এবং সমপরিমাণও তার জন্য সাদাকা। ইবনু আবুয্ যিনাদ (রহ.) তাঁর পিতা হতে হাদীস বর্ণনায় শু‘আইব (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আর ইবনু ইসহাক (রহ.) আবুয্ যিনাদ (রহ.) হতে হাদীসের শেষাংশে ‘সাদাকা’ শব্দের উল্লেখ করেননি। ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলেন, আ‘রাজ (রহ.) হতে অনুরূপ হাদীস আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে। (মুসলিম ১২/২, হাঃ ৯৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮০)
হাদিস নং: ১৪৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابن شهاب عن عطاء بن يزيد الليثي عن ابي سعيد الخدري ان ناسا من الانصار سالوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعطاهم ثم سالوه فاعطاهم ثم سالوه فاعطاهم حتى نفد ما عنده فقال ما يكون عندي من خير فلن ادخره عنكم ومن يستعفف يعفه الله ومن يستغن يغنه الله ومن يتصبر يصبره الله وما اعطي احد عطاء خيرا واوسع من الصبر
১৪৬৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কিছু সংখ্যক আনসারী সাহাবী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট কিছু চাইলে তিনি তাঁদের দিলেন, পুনরায় তাঁরা চাইলে তিনি তাঁদের দিলেন। এমনকি তাঁর নিকট যা ছিল সবই শেষ হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেনঃ আমার নিকট যে মাল থাকে তা তোমাদের না দিয়ে আমার নিকট জমা রাখি না। তবে যে চাওয়া হতে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখেন আর যে পরমুখাপেক্ষী না হয়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাকে সবর দান করেন। সবরের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কোন নি‘আমত কাউকে দেয়া হয়নি। (৬৪৭০, মুসলিম ১২/৪২, হাঃ ১০৫৩, আহমাদ ১১৮৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮১)
হাদিস নং: ১৪৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال والذي نفسي بيده لان ياخذ احدكم حبله فيحتطب على ظهره خير له من ان ياتي رجلا فيساله اعطاه او منعه
১৪৭০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার হাতে আমার জীবন, সেই সত্তার কসম! তোমাদের মধ্যে কারো রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে পিঠে করে বয়ে আনা, কোন লোকের কাছে এসে চাওয়া অপেক্ষা অনেক ভাল, চাই সে দিক বা না দিক। (১৪৮০, ২০৭৪, ২৩৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮২)
হাদিস নং: ১৪৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى حدثنا وهيب حدثنا هشام عن ابيه عن الزبير بن العوام عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا×ن ياخذ احدكم حبله فياتي بحزمة الحطب على ظهره فيبيعها فيكف الله بها وجهه خير له من ان يسال الناس اعطوه او منعوه
১৪৭১. যুবাইর ইবনু ‘আওয়াম (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ রশি নিয়ে তার পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে আনা এবং তা বিক্রি করা, ফলে আল্লাহ তার চেহারাকে (যাচ্ঞা করার লাঞ্ছনা হতে) রক্ষা করেন, তা মানুষের কাছে সওয়াল করার চেয়ে উত্তম, চাই তারা দিক বা না দিক। (২০৭৫, ২৩৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৩)
হাদিস নং: ১৪৭২
সহিহ (Sahih)
و حدثنا عبدان اخبرنا عبد الله اخبرنا يونس عن الزهري عن عروة بن الزبير وسعيد بن المسيب ان حكيم بن حزام قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعطاني ثم سالته فاعطاني ثم سالته فاعطاني ثم قال يا حكيم ان هذا المال خضرة حلوة فمن اخذه بسخاوة نفس بورك له فيه ومن اخذه باشراف نفس لم يبارك له فيه كالذي ياكل ولا يشبع اليد العليا خير من اليد السفلى قال حكيم فقلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم والذي بعثك بالحق لا ارزا احدا بعدك شيىا حتى افارق الدنيا فكان ابو بكر يدعو حكيما الى العطاء فيابى ان يقبله منه ثم ان عمر دعاه ليعطيه فابى ان يقبل منه شيىا فقال عمر اني اشهدكم يا معشر المسلمين على حكيم اني اعرض عليه حقه من هذا الفيء فيابى ان ياخذه فلم يرزا حكيم احدا من الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى توفي
১৪৭২. হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট কিছু চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন। অতঃপর বললেনঃ হে হাকীম! এই সম্পদ শ্যামল সুস্বাদু। যে ব্যক্তি প্রশস্ত অন্তরে (লোভ ব্যতীত) তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় হয়। আর যে ব্যক্তি অন্তরের লোভসহ তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় করা হয় না। যেন সে এমন ব্যক্তির মত, যে খায় কিন্তু তার ক্ষুধা মেটে না। উপরের হাত নিচের হাত হতে উত্তম। হাকীম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পর মৃত্যু পর্যন্ত (সওয়াল করে) আমি কাউকে সামান্যতমও ক্ষতিগ্রস্ত করবো না। এরপর আবূ বকর (রাঃ) হাকীম (রাঃ)-কে অনুদান গ্রহণের জন্য ডাকতেন, কিন্তু তিনি তাঁর কাছ হতে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করতেন। অতঃপর ‘উমর (রাঃ) (তাঁর যুগে) তাঁকে কিছু দেয়ার জন্য ডাকলেন। তিনি তাঁর কাছ হতেও কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, মুসলিমগণ! হাকীম (রহ.)-এর ব্যাপারে আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি। আমি তাঁর এই গনীমত হতে তাঁর প্রাপ্য পেশ করেছি, কিন্তু সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। (সত্য সত্যই) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পর হাকীম (রাঃ) মৃত্যু অবধি কারো নিকট কিছু চেয়ে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করেননি। (২৭৫০, ৩১৪৩, ৬৪৪১, মুসলিম ১২/৩২, হাঃ ১০৩৫, আহমাদ ১৫৩২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩৮৪)