হাদিস নং: ২৮৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن شعبة عن ابي التياح عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم البركة في نواصي الخيل
২৮৫১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘোড়ার কপালের কেশ দামে বরকত আছে। (৩৬৪৫) (মুসলিম ৩৩/২৬ হাঃ ১৮৭৩, আহমাদ ১২৭৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫১)
হাদিস নং: ২৮৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا زكرياء عن عامر حدثنا عروة البارقي ان النبي صلى الله عليه وسلم قال الخيل معقود في نواصيها الخير الى يوم القيامة الاجر والمغنم
২৮৫২. ‘উরওয়াহ বারিকী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘোড়ার কপালের কেশ গুচ্ছে কল্যাণ রয়েছে কিয়ামত পর্যন্ত। অর্থাৎ (আখিরাতের) পুরস্কার এবং গনীমতের মাল। (২৮৫০) (মুসলিম ৩৩/২৬ হাঃ ১৮৭৩, আহমাদ ১৯৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫২)
হাদিস নং: ২৮৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حفص حدثنا ابن المبارك اخبرنا طلحة بن ابي سعيد قال سمعت سعيدا المقبري يحدث انه سمع ابا هريرة يقول قال النبي صلى الله عليه وسلم من احتبس فرسا في سبيل الله ايمانا بالله وتصديقا بوعده فان شبعه وريه وروثه وبوله في ميزانه يوم القيامة
২৮৫৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রেখে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ঘোড়া প্রস্তুত রাখে, কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির পাল্লায় ঘোড়ার খাদ্য, পানীয়, গোবর ও পেশাব ওজন করা হবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৩)
হাদিস নং: ২৮৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن ابي بكر حدثنا فضيل بن سليمان عن ابي حازم عن عبد الله بن ابي قتادة عن ابيه انه خرج مع النبي صلى الله عليه وسلم فتخلف ابو قتادة مع بعض اصحابه وهم محرمون وهو غير محرم فراوا حمارا وحشيا قبل ان يراه فلما راوه تركوه حتى راه ابو قتادة فركب فرسا له يقال له الجرادة فسالهم ان يناولوه سوطه فابوا فتناوله فحمل فعقره ثم اكل فاكلوا فندموا فلما ادركوه قال هل معكم منه شيء قال معنا رجله فاخذها النبي صلى الله عليه وسلم فاكلها
২৮৫৪. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হন। কিন্তু তিনি কয়েকজন সংগী সহ পেছনে পড়ে গেলেন। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) ব্যতীত তার সঙ্গীরা সকলেই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) দেখার পূর্বে তার সঙ্গীরা একটি বন্য গাধা দেখতে পান এবং তাকে চলে যেতে দেন; আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) গাধাটি দেখা মাত্রই জারাদা নামক তার ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করেন এবং ঘোড়ার চাবুকটি উঠিয়ে দিতে সঙ্গীদের বলেন; কিন্তু সঙ্গীরা অস্বীকার করলে তখন আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) নিজেই চাবুকটি তুলে নেন এবং গাধাটি শিকার করে সঙ্গীদের নিয়ে এর গোশ্ত আহার করেন। এতে তারা লজ্জিত হন। অতঃপর তারা যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছলেন তখন তিনি বলেন, গাধাটির কোন অংশ তোমাদের নিকট আছে কি? তারা বললেন, আমাদের সঙ্গে একটি পায়া আছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা নিয়ে আহার করলেন। (২৮২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৪)
হাদিস নং: ২৮৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله بن جعفر حدثنا معن بن عيسى حدثنا ابي بن عباس بن سهل عن ابيه عن جده قال كان للنبي صلى الله عليه وسلم في حاىطنا فرس يقال له اللحيف قال ابو عبد الله وقال بعضهم اللخيف
২৮৫৫. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের বাগানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি ঘোড়া থাকত, যাকে লুহাইফ বলা হত। আর কেউ কেউ বলেছেন ‘‘লুখাইফ’’। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৫)
হাদিস নং: ২৮৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثني اسحاق بن ابراهيم سمع يحيى بن ادم حدثنا ابو الاحوص عن ابي اسحاق عن عمرو بن ميمون عن معاذ قال كنت ردف النبي صلى الله عليه وسلم على حمار يقال له عفير فقال يا معاذ هل تدري حق الله على عباده وما حق العباد على الله قلت الله ورسوله اعلم قال فان حق الله على العباد ان يعبدوه ولا يشركوا به شيىا وحق العباد على الله ان لا يعذب من لا يشرك به شيىا فقلت يا رسول الله افلا ابشر به الناس قال لا تبشرهم فيتكلوا
২৮৫৬. মু‘আয (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উফাইর নামক একটি গাধার পিঠে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেছনে আরোহী ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে মু‘আয, তুমি কি জানো বান্দার উপর আল্লাহর হক কী? এবং আল্লাহর উপর বান্দার হক কী? আমি বললাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো, বান্দা তাঁর ‘ইবাদাত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হলো, তাঁর ‘ইবাদাতে কাউকে শরীক না করলে আল্লাহ্ তাকে শাস্তি দিবেন না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি কি লোকদের এ সুসংবাদ দিব না? তিনি বললেন, তুমি তাদের সুসংবাদটি দিও না, তাহলে লোকেরা এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। (৫৯৬৭, ৬২৬৭, ৬৫০০, ৭৩৭৩) (মুসলিম ১/১০ হাঃ ৩০, আহমাদ ২২০৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৬)
হাদিস নং: ২৮৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة سمعت قتادة عن انس بن مالك قال كان فزع بالمدينة فاستعار النبي صلى الله عليه وسلم فرسا لنا يقال له مندوب فقال ما راينا من فزع وان وجدناه لبحرا
২৮৫৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক সময় মদিনা্য় আতংক ছড়িয়ে পড়লে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মানদূব নামক ঘোড়াটি চেয়ে নিলেন। পরে তিনি বললেন, ‘আতংকের কোন কারণ তো আমি দেখতে পেলাম না। আমি ঘোড়াটিকে সমুদ্রের মত (দ্রুতগামী) পেয়েছি।’ (২৬২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৭)
হাদিস নং: ২৮৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني سالم بن عبد الله ان عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول انما الشوم في ثلاثة في الفرس والمراة والدار
২৮৫৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনটি জিনিসে অকল্যাণ আছেঃ ঘোড়ায়, নারীতে ও বাড়িতে। (২০৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৮)
হাদিস নং: ২৮৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن ابي حازم بن دينار عن سهل بن سعد الساعدي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان كان في شيء ففي المراة والفرس والمسكن
২৮৫৯. সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যদি কোন কিছুতে অকল্যাণ থেকে থাকে, তবে তা আছে নারী, ঘোড়া ও বাড়িতে। (৫০৯৫) (মুসলিম ৩৯/৩৪ হাঃ ২২২৬, ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৯)
হাদিস নং: ২৮৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن زيد بن اسلم عن ابي صالح السمان عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الخيل لثلاثة لرجل اجر ولرجل ستر وعلى رجل وزر فاما الذي له اجر فرجل ربطها في سبيل الله فاطال في مرج او روضة فما اصابت في طيلها ذلك من المرج او الروضة كانت له حسنات ولو انها قطعت طيلها فاستنت شرفا او شرفين كانت ارواثها واثارها حسنات له ولو انها مرت بنهر فشربت منه ولم يرد ان يسقيها كان ذلك حسنات له ورجل ربطها فخرا ورىاء ونواء لاهل الاسلام فهي وزر على ذلك وسىل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحمر فقال ما انزل علي فيها الا هذه الاية الجامعة الفاذة فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره ( الزلزلة : 7-8)
২৮৬০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘোড়া তিন শ্রেণীর লোকের জন্য। একজনের জন্য পুরস্কার; একজনের জন্য আবরণ এবং একজনের জন্য (পাপের) বোঝা। যার জন্য পুরস্কার, সে হলো, ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া বেঁধে রাখে এবং রশি কোন চারণভূমি বা বাগানে লম্বা করে দেয়, আর ঘোড়াটি সে চারণভূমি বা বাগানে ঘাস খায়, তবে এর জন্য তার পুণ্য রয়েছে। আর ঘোড়াটি যদি রশি ছিঁড়ে এক বা দু’টি টিলা অতিক্রম করে তাহলেও তার গোবর ও পদক্ষেপ সমূহের বিনিময়ে তার জন্য পুণ্য রয়েছে। এমনকি ঐ ঘোড়া যদি কোন নহরে গিয়ে তা থেকে পানি পান করে, অথচ তার মালিক পানি পান করানোর ইচ্ছা করেনি, তবে এর ফলেও তার জন্য পুণ্য রয়েছে। আর যে ব্যক্তি অহংকার, লৌকিকতা প্রদর্শন এবং মুসলিমদের সঙ্গে শত্রুতা করার জন্য ঘোড়া বেঁধে রাখে তবে তার জন্য তা (পাপের) বোঝা। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে আমার উপর আর কিছু অবতীর্ণ হয়নি, ব্যাপক অর্থপূর্ণ এই একটি আয়াত ব্যতীত। (আল্লাহর বাণীঃ) কেউ অণু পরিমাণ নেক কাজ করে থাকলে, সে তা দেখতে পাবে; আর কেউ অণু পরিমাণ বদ কাজ করে থাকলে, সে তাও দেখতে পাবে।। (যিলযাল ৭-৮) (২৩৭১) (মুসলিম ১২/৬ হাঃ ৯৮৭, আহমাদ ৭৫৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬০)
হাদিস নং: ২৮৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسلم حدثنا ابو عقيل حدثنا ابو المتوكل الناجي قال اتيت جابر بن عبد الله الانصاري فقلت له حدثني بما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال سافرت معه في بعض اسفاره قال ابو عقيل لا ادري غزوة او عمرة فلما ان اقبلنا قال النبي صلى الله عليه وسلم من احب ان يتعجل الى اهله فليعجل قال جابر فاقبلنا وانا على جمل لي ارمك ليس فيه شية والناس خلفي فبينا انا كذلك اذ قام علي فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم يا جابر استمسك فضربه بسوطه ضربة فوثب البعير مكانه فقال اتبيع الجمل قلت نعم فلما قدمنا المدينة ودخل النبي صلى الله عليه وسلم المسجد في طواىف اصحابه فدخلت اليه وعقلت الجمل في ناحية البلاط فقلت له هذا جملك فخرج فجعل يطيف بالجمل ويقول الجمل جملنا فبعث النبي صلى الله عليه وسلم اواق من ذهب فقال اعطوها جابرا ثم قال استوفيت الثمن قلت نعم قال الثمن والجمل لك
২৮৬১. আবুল মুতাওয়াক্কিল নাজী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবুদল্লাহ্ আনসারী (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে তাকে বললাম, আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হতে যা শুনেছেন, তা থেকে আমার নিকট কিছু বলুন। তখন জাবির (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোন এক সফরে তার সঙ্গে ছিলাম। আবূ আকীল বললেন, সেটি কি জিহাদের সফর ছিল, না ‘উমরাহ পালনের, তা আমার জানা নেই। আমরা যখন প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে যারা পরিজনদের নিকট তাড়াতাড়ি যেতে আগ্রহী, তারা তাড়াতাড়ি যাও। জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি একটি উটের পিঠে চড়ে বেরিয়ে পড়লাম, সেটির দেহে কোন দাগ ছিল না এবং বর্ণ ছিল লাল-কালো মিশ্রিত। লোকেরা আমার পেছনে পেছনে চলছিল। পথিমধ্যে আমার উটটি ক্লান্ত হয়ে থেমে পড়লে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, হে জাবির! তুমি থাম। অতঃপর তিনি চাবুক দিয়ে উটটিকে একটি আঘাত করলেন, আর উটটি হঠাৎ দ্রুত চলতে লাগল। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি উটটি বিক্রি করবে? আমি বললাম, হ্যাঁ। অতঃপর মদিনা্য় পৌঁছলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের একদল সহ মসজিদে প্রবেশ করলেন। আমি আমার উটটিকে মসজিদের বালাত-এর পার্শ্বে বেঁধে রেখে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এগিয়ে গেলাম এবং বললাম, এই আপনার উট। তখন তিনি বেরিয়ে এসে উটটি ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, হ্যাঁ, উটটিতো আমারই। অতঃপর তিনি কয়েক উকিয়া স্বর্ণসহ এই বলে পাঠালেন যে, এগুলো জাবিরকে দাও। অতঃপর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি উটের পুরা মূল্য পেয়েছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, মূল্য এবং উট তোমারই। (৪৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬১)
হাদিস নং: ২৮৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن محمد اخبرنا عبد الله اخبرنا شعبة عن قتادة سمعت انس بن مالك قال كان بالمدينة فزع فاستعار النبي صلى الله عليه وسلم فرسا لابي طلحة يقال له مندوب فركبه وقال ما راينا من فزع وان وجدناه لبحرا
وَقَالَ رَاشِدُ بْنُ سَعْدٍ كَانَ السَّلَفُ يَسْتَحِبُّوْنَ الْفُحُوْلَةَ لِأَنَّهَا أَجْرَى وَأَجْسَرُ
রাশিদ ইবনু সা‘দ (রাঃ) বলেন, সাল্ফ সালেহীন তেজী ঘোড়ায় চড়তে ভালবাসতেন। কেননা সেগুলো খুব দ্রুতগামী ও খুব সাহসী।
২৮৬২. ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এক সময় মদিনা্তে আতংক দেখা দিলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ ত্বলহার মানদূব নামক ঘোড়াটি চেয়ে নিলেন এবং এর উপর আরোহণ করলেন আর বললেন, আমি কোন আতংক দেখিনি। কিন্তু ঘোড়াটি সমুদ্রের মত গতিশীল পেয়েছি। (২৬২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬২)
রাশিদ ইবনু সা‘দ (রাঃ) বলেন, সাল্ফ সালেহীন তেজী ঘোড়ায় চড়তে ভালবাসতেন। কেননা সেগুলো খুব দ্রুতগামী ও খুব সাহসী।
২৮৬২. ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এক সময় মদিনা্তে আতংক দেখা দিলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ ত্বলহার মানদূব নামক ঘোড়াটি চেয়ে নিলেন এবং এর উপর আরোহণ করলেন আর বললেন, আমি কোন আতংক দেখিনি। কিন্তু ঘোড়াটি সমুদ্রের মত গতিশীল পেয়েছি। (২৬২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬২)
হাদিস নং: ২৮৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبيد بن اسماعيل عن ابي اسامة عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم جعل للفرس سهمين ولصاحبه سهما
وَقَالَ مَالِكٌ يُسْهَمُ لِلْخَيْلِ وَالْبَرَاذِيْنِ مِنْهَا لِقَوْلِهِ )وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيْرَ لِتَرْكَبُوْهَا وَلَا يُسْهَمُ لِأَكْثَرَ مِنْ فَرَسٍ (
মালিক (রহ.) বলেন, ঘোড়া ও বিশেষ করে তুর্কী ঘোড়ার গনীমাতে অংশ দেয়া হবে। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা তোমাদের আরোহণের জন্য ও শোভার জন্য।’’ (নাহল ৮) একাধিক ঘোড়া হলে এর কোন অংশ দেয়া হবে না।
২৮৬৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গনীমাতের মাল থেকে ঘোড়ার জন্য দু’ অংশ এবং আরোহীর জন্য এক অংশ নির্ধারণ করেছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬৩)
মালিক (রহ.) বলেন, ঘোড়া ও বিশেষ করে তুর্কী ঘোড়ার গনীমাতে অংশ দেয়া হবে। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা তোমাদের আরোহণের জন্য ও শোভার জন্য।’’ (নাহল ৮) একাধিক ঘোড়া হলে এর কোন অংশ দেয়া হবে না।
২৮৬৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গনীমাতের মাল থেকে ঘোড়ার জন্য দু’ অংশ এবং আরোহীর জন্য এক অংশ নির্ধারণ করেছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬৩)
হাদিস নং: ২৮৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة حدثنا سهل بن يوسف عن شعبة عن ابي اسحاق قال رجل للبراء بن عازب رضي الله عنهما افررتم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم حنين قال لكن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يفر ان هوازن كانوا قوما رماة وانا لما لقيناهم حملنا عليهم فانهزموا فاقبل المسلمون على الغناىم واستقبلونا بالسهام فاما رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يفر فلقد رايته وانه لعلى بغلته البيضاء وان ابا سفيان اخذ بلجامها والنبي صلى الله عليه وسلم يقول:
انا الـنـبـي لا كـذب انا ابن عـبـد المطـلـب
انا الـنـبـي لا كـذب انا ابن عـبـد المطـلـب
২৮৬৪. আবূ ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বারা’ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)-কে বলল, আপনারা কি হুনায়নের যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ময়দানে রেখে পলায়ন করেছিলেন? বারা’ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) বলেন, কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পলায়ন করেননি। হাওয়াযিনরা ছিল সূদক্ষ তীরন্দাজ। আমরা সামনা-সামনি যুদ্ধে তাদের পরাস্ত করলে তারা পালিয়ে যেতে লাগল। তখন মুসলিমরা তাদের পিছু ধাওয়া না করে গনীমাতের মাল সংগ্রহে ব্যস্ত হল। তখন শত্রুরা তীর বর্ষণের মাধ্যমে আমাদের আক্রমণ করে বসল। তবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্থান ত্যাগ করেননি। আমি তাঁকে তাঁর সাদা খচ্চরটির উপর অটল অবস্থায় দেখেছি। আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) তাঁর বাহনের লাগাম ধরে টানছেন; আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলছেন,
‘আমি মিথ্যা নবী নই, আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের বংশধর।’
(২৮৭৪, ২৯৩০, ৩০৪২, ৪৩১৫, ৪৩১৬, ৪৩১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬৪)
‘আমি মিথ্যা নবী নই, আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের বংশধর।’
(২৮৭৪, ২৯৩০, ৩০৪২, ৪৩১৫, ৪৩১৬, ৪৩১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬৪)
হাদিস নং: ২৮৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثني عبيد بن اسماعيل عن ابي اسامة عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كان اذا ادخل رجله في الغرز واستوت به ناقته قاىمة اهل من عند مسجد ذي الحليفة
২৮৬৫. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাওয়ার হয়ে পা-দানিতে পা রাখার পর উটটি দাঁড়িয়ে গেলে যুল-হুলাইফা মসজিদের নিকট তিনি ইহরাম বেঁধে নিতেন। (১৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬৫)
হাদিস নং: ২৮৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن عون حدثنا حماد عن ثابت عن انس استقبلهم النبي صلى الله عليه وسلم على فرس عري ما عليه سرج في عنقه سيف
২৮৬৬. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গদিহীন ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করে লোকদের সম্মুখে হাজির হলেন; তাঁর কাঁধে ছিল তলোয়ার। (২৬২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬৬)
হাদিস নং: ২৮৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الاعلى بن حماد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد عن قتادة عن انس بن مالك ان اهل المدينة فزعوا مرة فركب النبي صلى الله عليه وسلم فرسا لابي طلحة كان يقطف او كان فيه قطاف فلما رجع قال وجدنا فرسكم هذا بحرا فكان بعد ذلك لا يجارى
২৮৬৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একবার মদিনা্বাসীগণ আতংকিত হয়ে পড়লে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর ধীরগতি সম্পন্ন ঘোড়ায় চড়লেন। তিনি ফিরে এসে বললেন, আমি তোমার ঘোড়াটিকে সমুদ্রের মত গতিশীল পেয়েছি। এরপর ঘোড়াটিকে আর কখনো পেছনে ফেলা যেতো না। (২৬২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬৭)
হাদিস নং: ২৮৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا قبيصة حدثنا سفيان عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال اجرى النبي صلى الله عليه وسلم ما ضمر من الخيل من الحفياء الى ثنية الوداع واجرى ما لم يضمر من الثنية الى مسجد بني زريق قال ابن عمر وكنت فيمن اجرى قال عبد الله حدثنا سفيان قال حدثني عبيد الله قال سفيان بين الحفياء الى ثنية الوداع خمسة اميال او ستة وبين ثنية الى مسجد بني زريق ميل
২৮৬৮. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অশ্বের জন্য হাফ্য়া থেকে সানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত এবং প্রশিক্ষণহীন অশ্বের জন্য সানিয়্যা থেকে বানূ যুরায়কের মাসজিদ পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি উক্ত প্রতিযোগিতার একজন প্রতিযোগী ছিলাম। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, হাফ্য়া থেকে সানিয়্যাতুল বিদার দূরত্ব পাঁচ কিংবা ছয় মাইল এবং সানিয়্যা থেকে বানূ যুরায়কের মসজিদের দূরত্ব এক মাইল। (৪২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬৮)
হাদিস নং: ২৮৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يونس حدثنا الليث عن نافع عن عبد الله ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سابق بين الخيل التي لم تضمر وكان امدها من الثنية الى مسجد بني زريق وان عبد الله بن عمر كان سابق بها قال ابو عبد الله امدا غاية فطل عليهم الامد ( الحديد :16)
২৮৬৯. ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশিক্ষণহীন ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেছেন এবং এই দৌড়ের সীমানা ছিল সানিয়্যা থেকে বানু যুরায়কের মাসজিদ পর্যন্ত। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (বুখারী (রহ.) বলেন, اَمداً এর অর্থ সীমা। (৪২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬৯)
হাদিস নং: ২৮৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا معاوية حدثنا ابو اسحاق عن موسى بن عقبة عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال سابق رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الخيل التي قد اضمرت فارسلها من الحفياء وكان امدها ثنية الوداع فقلت لموسى فكم كان بين ذلك قال ستة اميال او سبعة وسابق بين الخيل التي لم تضمر فارسلها من ثنية الوداع وكان امدها مسجد بني زريق قلت فكم بين ذلك قال ميل او نحوه وكان ابن عمر ممن سابق فيها
২৮৭০. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছেন। এই প্রতিযোগিতা হাফয়া থেকে শুরু হত এবং সানিয়্যাতুল বিদায় শেষ হত। (রাবী আবূ ইসহাক (রহ.) বলেন), আমি মূসা (রাঃ)-কে বললাম, এর দূরত্ব কী পরিমাণ হবে? তিনি বললেন, ছয় বা সাত মাইল। প্রশিক্ষণহীন ঘোড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হতো সানিয়্যাতুল বিদা থেকে এবং শেষ হতো বানূ যুরাইকের মসজিদে। আমি বললাম, এর মধ্যে দূরত্ব কত? তিনি বললেন, এক মাইল বা তার তদ্রূপ। ইবনু ‘উমার (রাঃ) এতে প্রতিযোগীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (৪২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৭০)