হাদিস নং: ২৮৪২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سنان حدثنا فليح حدثنا هلال عن عطاء بن يسار عن ابي سعيد الخدري ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قام على المنبر فقال انما اخشى عليكم من بعدي ما يفتح عليكم من بركات الارض ثم ذكر زهرة الدنيا فبدا باحداهما وثنى بالاخرى فقام رجل فقال يا رسول الله اوياتي الخير بالشر فسكت عنه النبي صلى الله عليه وسلم قلنا يوحى اليه وسكت الناس كان على رءوسهم الطير ثم انه مسح عن وجهه الرحضاء فقال اين الساىل انفا اوخير هو ثلاثا ان الخير لا ياتي الا بالخير وانه كلما ينبت الربيع ما يقتل حبطا او يلم الا اكلة الخضر كلما اكلت حتى اذا امتلات خاصرتاها استقبلت الشمس فثلطت وبالت ثم رتعت وان هذا المال خضرة حلوة ونعم صاحب المسلم لمن اخذه بحقه فجعله في سبيل الله واليتامى والمساكين وابن السبيل ومن لم ياخذه بحقه فهو كالاكل الذي لا يشبع ويكون عليه شهيدا يوم القيامة
২৮৪২. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বারে দাঁড়ালেন এবং বললেন, আমি আমার পর তোমাদের জন্য ভয় করি এ ব্যাপারে যে, তোমাদের জন্য দুনিয়ার কল্যাণের দরজা খুলে দেয়া হবে। অতঃপর তিনি দুনিয়ার নিয়ামতের উল্লেখ করেন। এতে তিনি প্রথমে একটির কথা বলেন, পরে দ্বিতীয়টির বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণও কি অকল্যাণ বয়ে আনবে?’ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নীরব রইলেন, আমরা বললাম, তাঁর উপর ওয়াহী নাযিল হচ্ছে। সমস্ত লোকও এমনভাবে নীরবতা অবলম্বন করল, যেন তাদের মাথার উপর পাখী বসে আছে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুখের ঘাম মুছে বললেন, সেই প্রশ্নকারী কোথায়? তা কী কল্যাণকর? তিনি তিনবার এ কথাটি বললেন। কল্যাণ কল্যাণই বয়ে আনে। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, বসন্তকালীন উদ্ভিদ পশুকে ধ্বংস অথবা ধ্বংসের মুখে নিয়ে আসে। কিন্তু যে পশু সেই ঘাস এ পরিমাণ খায় যাতে তার ক্ষুধা মিটে, অতঃপর রোদ পোহায় এবং মলমূত্র ত্যাগ করে, অতঃপর আবার ঘাস খায়। নিশ্চয়ই এ মাল সবুজ শ্যামল সুস্বাদু। সেই মুসলিমের সম্পদই উত্তম যে ন্যায়সঙ্গতভাবে তা উপার্জন করেছে এবং আল্লাহর পথে, ইয়াতীম ও মিসকীন ও মুসাফিরের জন্য খরচ করেছে। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে অর্জন করে তার দৃষ্টান্ত এমন ভক্ষণকারীর মত যার ক্ষুধা মিটে না এবং তা কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। (৯২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৪২)
হাদিস নং: ২৮৪৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر حدثنا عبد الوارث حدثنا الحسين قال حدثني يحيى قال حدثني ابو سلمة قال حدثني بسر بن سعيد قال حدثني زيد بن خالد ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من جهز غازيا في سبيل الله فقد غزا ومن خلف غازيا في سبيل الله بخير فقد غزا
২৮৪৩. যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর আসবাবপত্র সরবরাহ করল সে যেন জিহাদ করল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন জিহাদকারীর পরিবার-পরিজনকে উত্তমরূপে দেখাশোনা করল, সেও যেন জিহাদ করল। (মুসলিম ৩৩/৩৮ হাঃ ১৮৯৫, আহমাদ ১৭০৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৪৩)
হাদিস নং: ২৮৪৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا همام عن اسحاق بن عبد الله عن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن يدخل بيتا بالمدينة غير بيت ام سليم الا على ازواجه فقيل له فقال اني ارحمها قتل اخوها معي
২৮৪৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনা্য় উম্মু সুলাইম ছাড়া কারো ঘরে যাতায়াত করতেন না তাঁর স্ত্রীদের ব্যতীত। এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘উম্মু সুলাইমের ভাই আমার সঙ্গে জিহাদে শরীক হয়ে সে শহীদ হয়েছে, তাই আমি তার প্রতি সহানুভূতি জানাই। (মুসলিম ৪৪/১৯ হাঃ ২৪৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৪৪)
হাদিস নং: ২৮৪৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب حدثنا خالد بن الحارث حدثنا ابن عون عن موسى بن انس قال وذكر يوم اليمامة قال اتى انس ثابت بن قيس وقد حسر عن فخذيه وهو يتحنط فقال يا عم ما يحبسك ان لا تجيء قال الان يا ابن اخي وجعل يتحنط يعني من الحنوط ثم جاء فجلس فذكر في الحديث انكشافا من الناس فقال هكذا عن وجوهنا حتى نضارب القوم ما هكذا كنا نفعل مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بىس ما عودتم اقرانكم رواه حماد عن ثابت عن انس
২৮৪৫. মূসা ইবনু আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইয়ামামার যুদ্ধ সম্পর্কে বলেন, তিনি সাবিত ইবনু কায়সের নিকট গিয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি তার উভয় উরু থেকে কাপড় সরিয়ে সুগন্ধি ব্যবহার করছেন। আনাস (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে চাচা! যুদ্ধে যাওয়া থেকে আপনাকে কিসে বিরত রাখল?’ তিনি বললেন, ‘ভাতিজা, এখনই যাব।’ অতঃপর তিনি সুগন্ধি মালিশ করতে লাগলেন। অতঃপর তিনি বসলেন এবং যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে লোকদের পালিয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, ‘তোমরা আমাদের সম্মুখ থেকে সরে যাও। যাতে আমরা শত্রুর মুখোমুখি লড়তে পারি। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে আমরা কখনো এরূপ করিনি। কত নিকৃষ্ট তা যা তোমরা তোমাদের শত্রুদেরকে অভ্যস্ত করেছ।’ হাম্মাদ (রহ.) সাবিত (রহ.) সূত্রে আনাস (রাঃ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৪৫)
হাদিস নং: ২৮৪৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا سفيان عن محمد بن المنكدر عن جابر قال قال النبي صلى الله عليه وسلم من ياتيني بخبر القوم يوم الاحزاب قال الزبير انا ثم قال من ياتيني بخبر القوم قال الزبير انا فقال النبي صلى الله عليه وسلم ان لكل نبي حواريا وحواري الزبير
২৮৪৬. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘কে আমাকে শত্রু পক্ষের খবরাখবর এনে দিবে?’ যুবাইর (রাঃ) বললেন, ‘আমি আনব।’ তিনি আবার বললেন, ‘আমার শত্রু পক্ষের খবরাখবর কে এনে দিবে?’ যুবায়র (রাঃ) আবারও বললেন, ‘আমি আনব।’ অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘প্রত্যেক নবীরই সাহায্যকারী থাকে আর আমার সাহায্যকারী যুবাইর।’ (২৮৪৭, ২৯৯৭, ৩৭১৯, ৪১১৩, ৭২৬১) (মুসলিম ৪৪/৬ হাঃ ২৪১৫, আহমাদ ১৪৬৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৪৬)
হাদিস নং: ২৮৪৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا صدقة اخبرنا ابن عيينة حدثنا ابن المنكدر سمع جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال ندب النبي صلى الله عليه وسلم الناس قال صدقة اظنه يوم الخندق فانتدب الزبير ثم ندب الناس فانتدب الزبير ثم ندب الناس فانتدب الزبير فقال النبي صلى الله عليه وسلم ان لكل نبي حواريا وان حواري الزبير بن العوام
২৮৪৭. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদের ডাক দিলেন। সাদাকা (রহ.) বলেন, আমার মনে হয়, এটি খন্দকের যুদ্ধের সময়ের ঘটনা। যুবাইর (রাঃ) তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন। তিনি আবার লোকদের আহবান করলেন, এবারও যুবাইর (রাঃ) সাড়া দিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় লোকদের ডাক দিলেন। এবারও কেবল যুবাইর (রাঃ) সাড়া দিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘প্রত্যেক নবীর জন্য বিশেষ সাহায্যকারী থাকে। আমার বিশেষ সাহায্যকারী যুবাইর ইবনু আওয়াম (রাঃ)।’ (২৮৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৪৭)
হাদিস নং: ২৮৪৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يونس حدثنا ابو شهاب عن خالد الحذاء عن ابي قلابة عن مالك بن الحويرث قال انصرفت من عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال لنا انا وصاحب لي اذنا واقيما وليومكما اكبركما
২৮৪৮. মালিক ইবনু হুয়ায়রিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হতে ফিরে এলাম। তিনি আমাকে ও আমার একজন সঙ্গীকে বললেন, তোমরা আযান দিবে ও ইকামত দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে ইমামত করবে। (৬২৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৪৮)
হাদিস নং: ২৮৪৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة حدثنا مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الخيل في نواصيها الخير الى يوم القيامة
২৮৪৯. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘোড়ার কপালের কেশগুচ্ছে কল্যাণ আছে কিয়ামত অবধি। (৩৬৪৪) (মুসলিম ৩৩/২৬ হাঃ ১৮৭১, আহমাদ ৪৬১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৪৯)
হাদিস নং: ২৮৫০
সহিহ (Sahih)
حدثنا حفص بن عمر حدثنا شعبة عن حصين وابن ابي السفر عن الشعبي عن عروة بن الجعد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الخيل معقود في نواصيها الخير الى يوم القيامة قال سليمان عن شعبة عن عروة بن ابي الجعد تابعه مسدد عن هشيم عن حصين عن الشعبي عن عروة بن ابي الجعد
২৮৫০. ‘উরওয়াহ ইবনু জা‘দ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঘোড়ার কপালের কেশগুচ্ছে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত কল্যাণ আছে। সুলাইমান (রহ.) শুবা (রহ.) সূত্রে ‘উরওয়াহ ইবনু আবুল জা‘দ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীস বর্ণনায় সুলাইমান (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন মুসাদ্দাদ (রহ.).....উরওয়া ইবনু আবু জা‘দ (রহ.) হতে। (২৮৫২, ৩১১৯, ৩৬৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫০)
হাদিস নং: ২৮৫১
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن شعبة عن ابي التياح عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم البركة في نواصي الخيل
২৮৫১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘোড়ার কপালের কেশ দামে বরকত আছে। (৩৬৪৫) (মুসলিম ৩৩/২৬ হাঃ ১৮৭৩, আহমাদ ১২৭৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫১)
হাদিস নং: ২৮৫২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو نعيم حدثنا زكرياء عن عامر حدثنا عروة البارقي ان النبي صلى الله عليه وسلم قال الخيل معقود في نواصيها الخير الى يوم القيامة الاجر والمغنم
২৮৫২. ‘উরওয়াহ বারিকী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘোড়ার কপালের কেশ গুচ্ছে কল্যাণ রয়েছে কিয়ামত পর্যন্ত। অর্থাৎ (আখিরাতের) পুরস্কার এবং গনীমতের মাল। (২৮৫০) (মুসলিম ৩৩/২৬ হাঃ ১৮৭৩, আহমাদ ১৯৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫২)
হাদিস নং: ২৮৫৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن حفص حدثنا ابن المبارك اخبرنا طلحة بن ابي سعيد قال سمعت سعيدا المقبري يحدث انه سمع ابا هريرة يقول قال النبي صلى الله عليه وسلم من احتبس فرسا في سبيل الله ايمانا بالله وتصديقا بوعده فان شبعه وريه وروثه وبوله في ميزانه يوم القيامة
২৮৫৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রেখে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ঘোড়া প্রস্তুত রাখে, কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির পাল্লায় ঘোড়ার খাদ্য, পানীয়, গোবর ও পেশাব ওজন করা হবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৩)
হাদিস নং: ২৮৫৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن ابي بكر حدثنا فضيل بن سليمان عن ابي حازم عن عبد الله بن ابي قتادة عن ابيه انه خرج مع النبي صلى الله عليه وسلم فتخلف ابو قتادة مع بعض اصحابه وهم محرمون وهو غير محرم فراوا حمارا وحشيا قبل ان يراه فلما راوه تركوه حتى راه ابو قتادة فركب فرسا له يقال له الجرادة فسالهم ان يناولوه سوطه فابوا فتناوله فحمل فعقره ثم اكل فاكلوا فندموا فلما ادركوه قال هل معكم منه شيء قال معنا رجله فاخذها النبي صلى الله عليه وسلم فاكلها
২৮৫৪. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হন। কিন্তু তিনি কয়েকজন সংগী সহ পেছনে পড়ে গেলেন। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) ব্যতীত তার সঙ্গীরা সকলেই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) দেখার পূর্বে তার সঙ্গীরা একটি বন্য গাধা দেখতে পান এবং তাকে চলে যেতে দেন; আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) গাধাটি দেখা মাত্রই জারাদা নামক তার ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করেন এবং ঘোড়ার চাবুকটি উঠিয়ে দিতে সঙ্গীদের বলেন; কিন্তু সঙ্গীরা অস্বীকার করলে তখন আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) নিজেই চাবুকটি তুলে নেন এবং গাধাটি শিকার করে সঙ্গীদের নিয়ে এর গোশ্ত আহার করেন। এতে তারা লজ্জিত হন। অতঃপর তারা যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছলেন তখন তিনি বলেন, গাধাটির কোন অংশ তোমাদের নিকট আছে কি? তারা বললেন, আমাদের সঙ্গে একটি পায়া আছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা নিয়ে আহার করলেন। (২৮২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৪)
হাদিস নং: ২৮৫৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله بن جعفر حدثنا معن بن عيسى حدثنا ابي بن عباس بن سهل عن ابيه عن جده قال كان للنبي صلى الله عليه وسلم في حاىطنا فرس يقال له اللحيف قال ابو عبد الله وقال بعضهم اللخيف
২৮৫৫. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের বাগানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি ঘোড়া থাকত, যাকে লুহাইফ বলা হত। আর কেউ কেউ বলেছেন ‘‘লুখাইফ’’। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৫)
হাদিস নং: ২৮৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثني اسحاق بن ابراهيم سمع يحيى بن ادم حدثنا ابو الاحوص عن ابي اسحاق عن عمرو بن ميمون عن معاذ قال كنت ردف النبي صلى الله عليه وسلم على حمار يقال له عفير فقال يا معاذ هل تدري حق الله على عباده وما حق العباد على الله قلت الله ورسوله اعلم قال فان حق الله على العباد ان يعبدوه ولا يشركوا به شيىا وحق العباد على الله ان لا يعذب من لا يشرك به شيىا فقلت يا رسول الله افلا ابشر به الناس قال لا تبشرهم فيتكلوا
২৮৫৬. মু‘আয (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উফাইর নামক একটি গাধার পিঠে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেছনে আরোহী ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে মু‘আয, তুমি কি জানো বান্দার উপর আল্লাহর হক কী? এবং আল্লাহর উপর বান্দার হক কী? আমি বললাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো, বান্দা তাঁর ‘ইবাদাত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হলো, তাঁর ‘ইবাদাতে কাউকে শরীক না করলে আল্লাহ্ তাকে শাস্তি দিবেন না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি কি লোকদের এ সুসংবাদ দিব না? তিনি বললেন, তুমি তাদের সুসংবাদটি দিও না, তাহলে লোকেরা এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। (৫৯৬৭, ৬২৬৭, ৬৫০০, ৭৩৭৩) (মুসলিম ১/১০ হাঃ ৩০, আহমাদ ২২০৫২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৬)
হাদিস নং: ২৮৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة سمعت قتادة عن انس بن مالك قال كان فزع بالمدينة فاستعار النبي صلى الله عليه وسلم فرسا لنا يقال له مندوب فقال ما راينا من فزع وان وجدناه لبحرا
২৮৫৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক সময় মদিনা্য় আতংক ছড়িয়ে পড়লে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মানদূব নামক ঘোড়াটি চেয়ে নিলেন। পরে তিনি বললেন, ‘আতংকের কোন কারণ তো আমি দেখতে পেলাম না। আমি ঘোড়াটিকে সমুদ্রের মত (দ্রুতগামী) পেয়েছি।’ (২৬২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৭)
হাদিস নং: ২৮৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني سالم بن عبد الله ان عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول انما الشوم في ثلاثة في الفرس والمراة والدار
২৮৫৮. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনটি জিনিসে অকল্যাণ আছেঃ ঘোড়ায়, নারীতে ও বাড়িতে। (২০৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৮)
হাদিস নং: ২৮৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن ابي حازم بن دينار عن سهل بن سعد الساعدي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان كان في شيء ففي المراة والفرس والمسكن
২৮৫৯. সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যদি কোন কিছুতে অকল্যাণ থেকে থাকে, তবে তা আছে নারী, ঘোড়া ও বাড়িতে। (৫০৯৫) (মুসলিম ৩৯/৩৪ হাঃ ২২২৬, ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৯)
হাদিস নং: ২৮৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن زيد بن اسلم عن ابي صالح السمان عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الخيل لثلاثة لرجل اجر ولرجل ستر وعلى رجل وزر فاما الذي له اجر فرجل ربطها في سبيل الله فاطال في مرج او روضة فما اصابت في طيلها ذلك من المرج او الروضة كانت له حسنات ولو انها قطعت طيلها فاستنت شرفا او شرفين كانت ارواثها واثارها حسنات له ولو انها مرت بنهر فشربت منه ولم يرد ان يسقيها كان ذلك حسنات له ورجل ربطها فخرا ورىاء ونواء لاهل الاسلام فهي وزر على ذلك وسىل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحمر فقال ما انزل علي فيها الا هذه الاية الجامعة الفاذة فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره ( الزلزلة : 7-8)
২৮৬০. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘোড়া তিন শ্রেণীর লোকের জন্য। একজনের জন্য পুরস্কার; একজনের জন্য আবরণ এবং একজনের জন্য (পাপের) বোঝা। যার জন্য পুরস্কার, সে হলো, ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া বেঁধে রাখে এবং রশি কোন চারণভূমি বা বাগানে লম্বা করে দেয়, আর ঘোড়াটি সে চারণভূমি বা বাগানে ঘাস খায়, তবে এর জন্য তার পুণ্য রয়েছে। আর ঘোড়াটি যদি রশি ছিঁড়ে এক বা দু’টি টিলা অতিক্রম করে তাহলেও তার গোবর ও পদক্ষেপ সমূহের বিনিময়ে তার জন্য পুণ্য রয়েছে। এমনকি ঐ ঘোড়া যদি কোন নহরে গিয়ে তা থেকে পানি পান করে, অথচ তার মালিক পানি পান করানোর ইচ্ছা করেনি, তবে এর ফলেও তার জন্য পুণ্য রয়েছে। আর যে ব্যক্তি অহংকার, লৌকিকতা প্রদর্শন এবং মুসলিমদের সঙ্গে শত্রুতা করার জন্য ঘোড়া বেঁধে রাখে তবে তার জন্য তা (পাপের) বোঝা। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে আমার উপর আর কিছু অবতীর্ণ হয়নি, ব্যাপক অর্থপূর্ণ এই একটি আয়াত ব্যতীত। (আল্লাহর বাণীঃ) কেউ অণু পরিমাণ নেক কাজ করে থাকলে, সে তা দেখতে পাবে; আর কেউ অণু পরিমাণ বদ কাজ করে থাকলে, সে তাও দেখতে পাবে।। (যিলযাল ৭-৮) (২৩৭১) (মুসলিম ১২/৬ হাঃ ৯৮৭, আহমাদ ৭৫৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬০)
হাদিস নং: ২৮৬১
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسلم حدثنا ابو عقيل حدثنا ابو المتوكل الناجي قال اتيت جابر بن عبد الله الانصاري فقلت له حدثني بما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال سافرت معه في بعض اسفاره قال ابو عقيل لا ادري غزوة او عمرة فلما ان اقبلنا قال النبي صلى الله عليه وسلم من احب ان يتعجل الى اهله فليعجل قال جابر فاقبلنا وانا على جمل لي ارمك ليس فيه شية والناس خلفي فبينا انا كذلك اذ قام علي فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم يا جابر استمسك فضربه بسوطه ضربة فوثب البعير مكانه فقال اتبيع الجمل قلت نعم فلما قدمنا المدينة ودخل النبي صلى الله عليه وسلم المسجد في طواىف اصحابه فدخلت اليه وعقلت الجمل في ناحية البلاط فقلت له هذا جملك فخرج فجعل يطيف بالجمل ويقول الجمل جملنا فبعث النبي صلى الله عليه وسلم اواق من ذهب فقال اعطوها جابرا ثم قال استوفيت الثمن قلت نعم قال الثمن والجمل لك
২৮৬১. আবুল মুতাওয়াক্কিল নাজী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবুদল্লাহ্ আনসারী (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে তাকে বললাম, আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হতে যা শুনেছেন, তা থেকে আমার নিকট কিছু বলুন। তখন জাবির (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোন এক সফরে তার সঙ্গে ছিলাম। আবূ আকীল বললেন, সেটি কি জিহাদের সফর ছিল, না ‘উমরাহ পালনের, তা আমার জানা নেই। আমরা যখন প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে যারা পরিজনদের নিকট তাড়াতাড়ি যেতে আগ্রহী, তারা তাড়াতাড়ি যাও। জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি একটি উটের পিঠে চড়ে বেরিয়ে পড়লাম, সেটির দেহে কোন দাগ ছিল না এবং বর্ণ ছিল লাল-কালো মিশ্রিত। লোকেরা আমার পেছনে পেছনে চলছিল। পথিমধ্যে আমার উটটি ক্লান্ত হয়ে থেমে পড়লে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, হে জাবির! তুমি থাম। অতঃপর তিনি চাবুক দিয়ে উটটিকে একটি আঘাত করলেন, আর উটটি হঠাৎ দ্রুত চলতে লাগল। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি উটটি বিক্রি করবে? আমি বললাম, হ্যাঁ। অতঃপর মদিনা্য় পৌঁছলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের একদল সহ মসজিদে প্রবেশ করলেন। আমি আমার উটটিকে মসজিদের বালাত-এর পার্শ্বে বেঁধে রেখে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এগিয়ে গেলাম এবং বললাম, এই আপনার উট। তখন তিনি বেরিয়ে এসে উটটি ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, হ্যাঁ, উটটিতো আমারই। অতঃপর তিনি কয়েক উকিয়া স্বর্ণসহ এই বলে পাঠালেন যে, এগুলো জাবিরকে দাও। অতঃপর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি উটের পুরা মূল্য পেয়েছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, মূল্য এবং উট তোমারই। (৪৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬১)