হাদিস নং: ৩৩৮৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اللهم انج عياش بن ابي ربيعة اللهم انج سلمة بن هشام اللهم انج الوليد بن الوليد اللهم انج المستضعفين من المومنين اللهم اشدد وطاتك على مضر اللهم اجعلها سنين كسني يوسف
৩৩৮৬. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করেছেন, হে আল্লাহ! আয়্যাশ ইবনু আবূ রবী‘আকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! সালাম ইবনু হিশামকে নাজাত দিন। হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে নাজাত দিন। হে আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদেরকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! মুযার গোত্রকে শক্তভাবে পাকড়াও করুন। হে আল্লাহ! এ গোত্রের উপর এমন দুর্ভিক্ষ ও অনটন নাযিল করুন যেমন দুর্ভিক্ষ ইউসুফ (আঃ)-এর যামানায় হয়েছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৪৫)
হাদিস নং: ৩৩৮৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد بن اسماء هو ابن اخي جويرية حدثنا جويرية بن اسماء عن مالك عن الزهري ان سعيد بن المسيب وابا عبيد اخبراه عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يرحم الله لوطا لقد كان ياوي الى ركن شديد ولو لبثت في السجن ما لبث يوسف ثم اتاني الداعي لاجبته
৩৩৮৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ লূত (আঃ)-এর উপর রহম করুন। তিনি একটি সুদৃঢ় খুঁটির আশ্রয় নিয়েছিলেন আর ইউসুফ (আঃ) যত দীর্ঘ সময় জেলখানায় কাটিয়েছেন, আমি যদি অত দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতাম এবং পরে রাজদূত আমার নিকট আসত তবে নিশ্চয়ই আমি তার ডাকে সাড়া দিতাম। (৩৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৪৬)
হাদিস নং: ৩৩৮৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سلام اخبرنا ابن فضيل حدثنا حصين عن شقيق عن مسروق قال سالت ام رومان وهي ام عاىشة عما قيل فيها ما قيل قالت بينما انا مع عاىشة جالستان اذ ولجت علينا امراة من الانصار وهي تقول فعل الله بفلان وفعل قالت فقلت لم قالت انه نمى ذكر الحديث فقالت عاىشة اي حديث فاخبرتها قالت فسمعه ابو بكر ورسول الله صلى الله عليه وسلم قالت نعم فخرت مغشيا عليها فما افاقت الا وعليها حمى بنافض فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فقال ما لهذه قلت حمى اخذتها من اجل حديث تحدث به فقعدت فقالت والله لىن حلفت لا تصدقوني ولىن اعتذرت لا تعذروني فمثلي ومثلكم كمثل يعقوب وبنيه والله المستعان على ما تصفون (يوسف : 87) فانصرف النبي فانزل الله ما انزل فاخبرها فقالت بحمد الله لا بحمد احد
৩৩৮৮. মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মা উম্মু রুমানার নিকট আয়িশাহর বিষয়ে যে সব মিথ্যা অপবাদের কথা বলাবলি হচ্ছিল সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি আয়িশার সঙ্গে একত্রে উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় একজন আনসারী মহিলা এ কথা বলতে বলতে আমাদের নিকট প্রবেশ করল। আল্লাহ অমুককে শাস্তি দিক। আর শাস্তি তো দিয়েছেন। এ কথা শুনে উম্মু রুমানা (রাঃ) বললেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম এ কথা বলার কারণ কী? সে মহিলাটি বলল, ঐ লোকটিই তো কথাটির চর্চা করছে। তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, কোন কথাটির? অতঃপর সে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বিষয়টি জানিয়ে দিল। ‘আয়িশাহ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, বিষয়টি কি আবূ বকর (রাঃ) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও শুনেছেন? সে বলল, হাঁ! এতে ‘আয়িশাহ (রাঃ) বেহুশ হয়ে পড়ে গেলেন। পরে তাঁর হুশ ফিরে আসল তবে তাঁর শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে জিজ্ঞেস করলেন, তার কী হল? আমি বললাম, তাঁর সম্পর্কে যা কিছু রটেছে তাতে সে (মনে) আঘাত পেয়েছে ফলে সে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময় ‘আয়িশাহ (রাঃ) উঠে বসলেন, আর বলতে লাগলেন, আল্লাহর কসম, আমি যদি কসম খেয়ে বলি তবুও আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেন না আর যদি উযর পেশ করি তাও আপনারা আমার উযর শুনবেন না। অতএব এখন আমার ও আপনাদের উপমা হল ইয়াকুব (আঃ) এবং তাঁর ছেলেদের মতো। আপনারা যা বর্ণনা করেছেন সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর নিকটই সাহায্য চাওয়া হল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে চলে গেলেন এবং আল্লাহ যা নাযিল করার তা নাযিল করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে এ খবর জানালেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আমি একমাত্র আল্লাহরই প্রশংসা করব অন্য কারো প্রশংসা নয়। (৪১৪৩, ৪৬৯১, ৪৭৫১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৪৭)
হাদিস নং: ৩৩৮৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني عروة انه سال عاىشة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم ارايت قوله حتى اذا استياس الرسل وظنوآ انهم قد كذبوآ او كذبوا (يوسف : 110) قالت بل كذبهم قومهم فقلت والله لقد استيقنوا ان قومهم كذبوهم وما هو بالظن فقالت يا عرية لقد استيقنوا بذلك قلت فلعلها او كذبوا قالت معاذ الله لم تكن الرسل تظن ذلك بربها واما هذه الاية قالت هم اتباع الرسل الذين امنوا بربهم وصدقوهم وطال عليهم البلاء واستاخر عنهم النصر حتى اذا استياست ممن كذبهم من قومهم وظنوا ان اتباعهم كذبوهم جاءهم نصر الله
قال ابو عبد الله استياسوا استفعلوا من يىست منه من يوسف لا تياسوا من روح الله (يوسف : 87) معناه الرجاء
قال ابو عبد الله استياسوا استفعلوا من يىست منه من يوسف لا تياسوا من روح الله (يوسف : 87) معناه الرجاء
৩৩৮৯. ‘উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ كُذِبُوْا حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوْا أَنَّهُمْ قَدْ আয়াতাংশের মধ্যে كُذِّبُوْا হবে, না كُذِبُوْا হবে? (যাল হরফে তাশদীদ সহ পড়তে হবে না তাশদীদ ব্যতীত)? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, (এখানে كُذِبُوْا নয়, كُذِّبُوْا হবে) কেননা, তাঁদের কাওম তাঁদেরকে মিথ্যাচারী বলেছিল। [‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন] আমি বললাম, মহান আল্লাহর কসম, রাসূলগণের দৃঢ় প্রত্যয় ছিল যে, তাঁদের কাওম তাদেরকে মিথ্যাচারী বলেছে, আর তাতো সন্দেহের বিষয় ছিল না। (কাজেই, এখানে كُذِّبُوْ হবে কিভাবে?) তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, হে ‘উরাইয়াহ! এ ব্যাপারে তাদের তো দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। [‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন] আমি বললাম, সম্ভবতঃ এখানে كُذِبُوْا হবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, মা‘আযাল্লাহ! রাসূলগণ কখনো আল্লাহ সম্পর্কে এরূপ ধারণা করতেন না। (অর্থাৎ كُذِبُوْا হলে অর্থ দাঁড়ায়, আল্লাহ তা‘আলা রাসূলগণের সঙ্গে মিথ্যা বলেছেন। অথচ রাসূলগণ কখনো এরূপ ধারণা করতে পার না।) তবে এ আয়াত সম্পর্কে ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তারা রাসূলগণের অনুসারী যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন এবং রাসূলগণকে বিশ্বাস করেছেন। তাঁদের উপর পরীক্ষা দীর্ঘায়িত হয়। তাঁদের প্রতি সাহায্য পৌঁছতে বিলম্ব হয়। অবশেষে রাসূলগণ যখন তাঁদের কাওমের লোকদের মধ্যে যারা তাঁদেরকে মিথ্যা মনে করেছে, তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেলেন এবং তাঁরা এ ধারণা করতে লাগলেন যে, তাঁদের অনুসারীগণও তাঁদেরকে মিথ্যাচারী মনে করবেন, ঠিক এ সময়ই মহান আল্লাহর সাহায্য পৌঁছে গেল। استَيْأَسُوْا শব্দটি استَفْعَلُوْا এর ওজনে এসেছে। يئست منه হতে নিষ্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ তারা ইউসুফ (আঃ) হতে নিরাশ হয়ে গেছে। لَا تَيْأَسُوْا مِنْ رَوْحِ اللهِ এর অর্থ তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। (৩৫২৫, ৪৬৯৫, ৪৬৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৪৮)
হাদিস নং: ৩৩৯০
সহিহ (Sahih)
اخبرني عبدة حدثنا عبد الصمد عن عبد الرحمن عن ابيه عن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الكريم ابن الكريم ابن الكريم ابن الكريم يوسف بن يعقوب بن اسحاق بن ابراهيم عليهم السلام
৩৩৯০. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সম্মানিত ব্যক্তি- যিনি সম্মানিত ব্যক্তির সন্তান, যিনি সম্মানিত ব্যক্তির সন্তান, যিনি সম্মানিত ব্যক্তির সন্তান, তিনি হলেন ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (আঃ)। (৩৩৮২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৪৯)
হাদিস নং: ৩৩৯১
সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن محمد الجعفي حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن همام عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال بينما ايوب يغتسل عريانا خر عليه رجل جراد من ذهب فجعل يحثي في ثوبه فناداه ربه يا ايوب الم اكن اغنيتك عما ترى قال بلى يا رب ولكن لا غنى لي عن بركتك
ارْكُضْ اضْرِبْ يَرْكُضُوْنَ يَعْدُوْنَ
(ارْكُضْ অর্থ আঘাত কর। يَرْكُضُوْنَ অর্থ দ্রুত বলে)
৩৩৯১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একদা আইয়ুব (আঃ) নগ্ন শরীরে গোসল করছিলেন। এমন সময় তাঁর উপর স্বর্ণের এক ঝাঁক পঙ্গপাল পতিত হল। তিনি সেগুলো দু’হাতে ধরে কাপড়ে রাখতে লাগলেন। তখন তাঁর রব তাঁকে ডেকে বললেন, হে আইয়ুব! তুমি যা দেখতে পাচ্ছ, তা থেকে কি আমি তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে দেইনি? তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ, হে রব! কিন্তু আমি আপনার বরকত থেকে মুখাপেক্ষীহীন নই। (২৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫০)
(ارْكُضْ অর্থ আঘাত কর। يَرْكُضُوْنَ অর্থ দ্রুত বলে)
৩৩৯১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একদা আইয়ুব (আঃ) নগ্ন শরীরে গোসল করছিলেন। এমন সময় তাঁর উপর স্বর্ণের এক ঝাঁক পঙ্গপাল পতিত হল। তিনি সেগুলো দু’হাতে ধরে কাপড়ে রাখতে লাগলেন। তখন তাঁর রব তাঁকে ডেকে বললেন, হে আইয়ুব! তুমি যা দেখতে পাচ্ছ, তা থেকে কি আমি তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে দেইনি? তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ, হে রব! কিন্তু আমি আপনার বরকত থেকে মুখাপেক্ষীহীন নই। (২৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫০)
হাদিস নং: ৩৩৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف حدثنا الليث قال حدثني عقيل عن ابن شهاب سمعت عروة قال قالت عاىشة رضي الله عنها فرجع النبي صلى الله عليه وسلم الى خديجة يرجف فواده فانطلقت به الى ورقة بن نوفل وكان رجلا تنصر يقرا الانجيل بالعربية فقال ورقة ماذا ترى فاخبره فقال ورقة هذا الناموس الذي انزل الله على موسى وان ادركني يومك انصرك نصرا موزرا
الناموس صاحب السر الذي يطلعه بما يستره عن غيره
الناموس صاحب السر الذي يطلعه بما يستره عن غيره
يُقَالُ لِلْوَاحِدِ وَللْاثْنَيْنِ وَالْجَمِيْعِ نَجِيٌّ وَيُقَالُ خَلَصُوْا نَجِيًّا اعْتَزَلُوْا نَجِيًّا وَالْجَمِيْعُ أَنْجِيَةٌ يَتَنَاجَوْنَ . تَلَقَّفُ : تَلَقَّمُ وَقَالَ رَجُلٌ مُّؤْمِنٌ مِّنْ اٰلِ فِرْعَوْنَ يَكْتُمُ إِيْمَنَهُ إلى قوله - مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ (غافر : 28)
একবচন দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রেও نَجِيٌّ বলা হয়। خَلَصُوْا نَجِيًّا অর্থ অন্তরঙ্গ আলাপে নির্জনতা অবলম্বন করা। এর বহুবচন أَنْجِيَةٌ ব্যবহৃত হয়। يَتَنَاجَوْنَ পরস্পর অন্তরঙ্গ আলাপ করে। تَلَقَّفُ অর্থ গ্রাস করে।
(আল্লাহ তা‘আলার বাণী) ‘‘ফির‘আউন গোত্রের এক মু’মিন ব্যক্তি যে তার ঈমান গোপন রাখত .. .. . নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।’’ (গাফিরঃ ২৮)
৩৩৯২. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজাহ (রাঃ)-এর নিকট ফিরে আসলেন তাঁর হৃদয় কাঁপছিল। তখন খাদীজাহ (রাঃ) তাঁকে নিয়ে ওয়ারাকা ইবনু নাওফলের নিকট গেলেন। তিনি খৃস্টান ধর্ম অবলম্বন করেছিলেন। তিনি আরবী ভাষায় ইঞ্জিল পাঠ করতেন। ওয়ারাকা জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কী দেখেছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সব ঘটনা জানালেন। তখন ওয়ারাকা বললেন, এতো সেই নামুস যাঁকে আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ)-এর নিকট নাযিল করেছিলেন। আপনার সে সময় যদি আমি পাই, তবে সর্বশক্তি দিয়ে আমি আপনাকে সাহায্য করব।
নামূস অর্থ গোপন তত্ত্ব ও তথ্যবাহী যাকে কেউ কোন বিষয়ে খবর দেয় আর সে তা অপর হতে গোপন রাখে। (৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১,৪২ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫১)
একবচন দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রেও نَجِيٌّ বলা হয়। خَلَصُوْا نَجِيًّا অর্থ অন্তরঙ্গ আলাপে নির্জনতা অবলম্বন করা। এর বহুবচন أَنْجِيَةٌ ব্যবহৃত হয়। يَتَنَاجَوْنَ পরস্পর অন্তরঙ্গ আলাপ করে। تَلَقَّفُ অর্থ গ্রাস করে।
(আল্লাহ তা‘আলার বাণী) ‘‘ফির‘আউন গোত্রের এক মু’মিন ব্যক্তি যে তার ঈমান গোপন রাখত .. .. . নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।’’ (গাফিরঃ ২৮)
৩৩৯২. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজাহ (রাঃ)-এর নিকট ফিরে আসলেন তাঁর হৃদয় কাঁপছিল। তখন খাদীজাহ (রাঃ) তাঁকে নিয়ে ওয়ারাকা ইবনু নাওফলের নিকট গেলেন। তিনি খৃস্টান ধর্ম অবলম্বন করেছিলেন। তিনি আরবী ভাষায় ইঞ্জিল পাঠ করতেন। ওয়ারাকা জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কী দেখেছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সব ঘটনা জানালেন। তখন ওয়ারাকা বললেন, এতো সেই নামুস যাঁকে আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ)-এর নিকট নাযিল করেছিলেন। আপনার সে সময় যদি আমি পাই, তবে সর্বশক্তি দিয়ে আমি আপনাকে সাহায্য করব।
নামূস অর্থ গোপন তত্ত্ব ও তথ্যবাহী যাকে কেউ কোন বিষয়ে খবর দেয় আর সে তা অপর হতে গোপন রাখে। (৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১,৪২ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫১)
হাদিস নং: ৩৩৯৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا هدبة بن خالد حدثنا همام حدثنا قتادة عن انس بن مالك عن مالك بن صعصعة ان رسول الله حدثهم عن ليلة اسري به حتى اتى السماء الخامسة فاذا هارون قال هذا هارون فسلم عليه فسلمت عليه فرد ثم قال مرحبا بالاخ الصالح والنبي الصالح تابعه ثابت وعباد بن ابي علي عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم
وَهَلْ أَتٰكَ حَدِيْثُ مُوْسٰٓى إِذْ رَاٰى نَارًا إِلَى قَوْلِهِ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى
আপনার নিকট কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? তিনি যখন আগুন দেখলেন....’তুমি ’তুয়া’ নামক এক পবিত্র ময়দানে রয়েছ। (ত্ব-হা ৯-১৩)
اٰنَسْتُ أَبْصَرْتُ نَارًا لَّعَلِّيْ اٰتِيْكُمْ مِّنْهَا بِقَبَسٍ الْآيَةَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْمُقَدَّسُ الْمُبَارَكُ طُوًى اسْمُ الْوَادِيْ سِيْرَتَهَا حَالَتَهَا وَ النُّهٰى التُّقَى بِمَلْكِنَا بِأَمْرِنَا هَوٰى شَقِيَ فَارِغًا إِلَّا مِنْ ذِكْرِ مُوْسَى رِدْءًا كَيْ يُصَدِّقَنِيْ وَيُقَالُ مُغِيْثًا أَوْ مُعِيْنًا يَبْطُشُ وَ يَبْطِشُ يَأْتَمِرُوْنَ يَتَشَاوَرُوْنَ وَالْجِذْوَةُ قِطْعَةٌ غَلِيْظَةٌ مِنْ الْخَشَبِ لَيْسَ فِيْهَا لَهَبٌ سَنَشُدُّ سَنُعِيْنُكَ كُلَّمَا عَزَّزْتَ شَيْئًا فَقَدْ جَعَلْتَ لَهُ عَضُدًا
وَقَالَ غَيْرُهُ كُلَّمَا لَمْ يَنْطِقْ بِحَرْفٍ أَوْ فِيْهِ تَمْتَمَةٌ أَوْ فَأْفَأَةٌ فَهِيَ عُقْدَةٌ أَزْرِي ظَهْرِيْ فَيُسْحِتَكُمْ فَيُهْلِكَكُمْ الْمُثْلٰى تَأْنِيْثُ الأَمْثَلِ يَقُوْلُ بِدِيْنِكُمْ يُقَالُ خُذْ الْمُثْلَى خُذْ الأَمْثَلَ ثُمَّ ائْتُوْا صَفًّا (طه : 64) يُقَالُ هَلْ أَتَيْتَ الصَّفَّ الْيَوْمَ يَعْنِي الْمُصَلَّى الَّذِيْ يُصَلَّى فِيْهِ فَأَوْجَسَ أَضْمَرَ خَوْفًا فَذَهَبَتْ الْوَاوُ مِنْ خِيْفَةً لِكَسْرَةِ الْخَاءِ فِيْ جُذُوعِ النَّخْلِ عَلَى جُذُوعِ خَطْبُكَ بَالُكَ مِسَاسَ مَصْدَرُ مَاسَّهُ مِسَاسًا لَنَنْسِفَنَّهُ لَنُذْرِيَنَّهُ الضَّحَآءُ الْحَرُّ قُصِّيهِ اتَّبِعِيْ أَثَرَهُ وَقَدْ يَكُوْنُ أَنْ تَقُصَّ الْكَلَامَ نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ عَنْ جُنُبٍ عَنْ بُعْدٍ وَعَنْ جَنَابَةٍ وَعَنْ اجْتِنَابٍ وَاحِدٌ قَالَ مُجَاهِدٌ عَلٰى قَدَرٍ مَوْعِدٌ لَا تَنِيَا مَكَانًا سُوًي : مَنْصَفُ بَيْنَهُمْ .لَا تَضْعُفَا يَبَسًا : يَابِسَا مِنْ زِيْنَةِ الْقَوْمِ الْحُلِيِّ الَّذِيْ اسْتَعَارُوْا مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ فَقَذَفْتُهَا أَلْقَيْتَهَا أَلْقَى صَنَعَ فَنَسِيَ مُوْسٰى هُمْ يَقُوْلُوْنَهُ أَخْطَأَ الرَّبَّ أَنْ لَا يَرْجِعَ إِلَيْهِمْ قَوْلًا فِي الْعِجْلِ
آنَسْتُ অর্থ আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি তোমাদের জন্য তা হতে কিছু জ্বলন্ত আগুন আনতে পারব... (ত্বোয়া-হা ১০) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْمُقَدَّسُ অর্থ বরকতময়। طُوًى একটি উপত্যকার নাম। سِيْرَتَهَا অর্থ তার অবস্থায়। النُّهَى অর্থ আল্লাহভীরু। بِمَلْكِنَا অর্থ আমাদের ইচ্ছামত هَوَى অর্থ ভাগ্যাহত হয়েছে। فَارِغًا অর্থ মূসার স্মরণ ব্যতীত সব কিছু থেকে শুনা হয়ে গেল। رِدْءًا অর্থ সাহায্যকারী রূপে যেন সে আমাকে সমর্থন করে। এর অর্থ আরো বলা হয় আর্তনাদে সাড়াদানকারী বা সাহায্যকারী। يَبْطُشُ ويَبْطِشُ একই অর্থ উভয় কিরাআতে। يَأْتَمِرُوْنَ অর্থ পরস্পর পরামর্শ করা। درأً অর্থ সাহায্য করা। বলা হয় اردأته على صنعته অর্থাৎ আমি তার কাজে সাহায্য করেছি। الْجِذْوَةُ কাঠের বড় টুকরার অঙ্গার যাতে কোন শিখা। سَنَشُدُّ অর্থ অচিরেই আমি তোমার সাহায্য করব। বলা হয় যখন তুমি কারো সাহায্য করবে তখন তুমি যেন তার পার্শ্বদেশ হয়ে গেলে।
এবং অন্যান্যগণ বলেন যে কোন অক্ষর উচ্চারণ করতে পারেনা অথবা তার মুখ হতে তা, তা, ফা, ফা উচ্চারিত হয় তাকেই তোতলামি বলে। أَزْرِيْ অর্থ আমার পিঠ فَيُسْحِتَكُمْ অর্থ- সে তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে। الْمُثْلَى শব্দটি امْثَلِ শব্দের স্ত্রী লিঙ্গ। আয়াতে উল্লিখিত بِدِيْنِكُمْ -অর্থ তোমাদের দ্বীন। বলা হয়, خُذْ الْمُثْلَى خُذْ الأَمْثَلَ অর্থ-উত্তমটি গ্রহণ করো। ثُمَّ ائْتُوْا صَفًّا অর্থাৎ তোমরা সারিবদ্ধ হয়ে এসো। বলা হয়, তুমি কি আজ ছফ্ফে উপস্থিত হয়েছিলে অর্থাৎ যেখানে নামায পড়া হয় সেখানে? فَأَوْجَسَ অর্থ- সে অন্তরে ভয় পোষণ করেছে। خِيْفَةً মূলে خَاءِ অক্ষরে যের হবার কারণে ياء-واو তে পরিবর্তিত হয়েছে। فِيْ جُذُوعِ النَّخْلِ এখানে على- فيঅর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। خَطْبُكَ অর্থ- তোমার অবস্থা। مِسَاسَ শব্দটি مَاسَّهُ مِسَاسًا এর মাসদার। অর্থ-তোমার অবস্থা। لَنَنْسِفَنَّهُ অর্থ-আমি অবশ্যই তাকে উড়িয়ে দিব। الضَّحَاءُ অর্থ পূর্বাহ্ন, যখন সূর্যের উষ্ণতা বেড়ে যায়। قُصِّيهِ তুমি তার পিছনে পিছনে যাও। কখনো এ অর্থেও ব্যবহৃত হয় যে, তুমি তোমার কথা বলো যেমন, نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ এর মধ্যে এ অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে। عَنْ جُنُبٍ অর্থ-দূর থেকে। اجْتِنَابٍ -جَنَابَةٍ একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর মুজাহিদ (রহ.) বলেন, عَلَى قَدَرٍ অর্থ-নির্ধারিত সময়ে। لَا تَنِيَا অর্থ দুর্বল হয়োনা। َمكَانًا سَوِيْ অর্থ-তাদের মধ্যবর্তী স্থান। يَبَسًا অর্থ-শুক্না। مِنْ زِيْنَةِ الْقَوْمِ অর্থ-যে সব অলংকার তারা ফির’আউনের লোকদের হতে ধার নিয়েছিল। فَقَذَفْتُهَا অর্থ-আমি তা নিক্ষেপ করলাম। أَلْقَى অর্থ বানালো। فَنَسِيَ مُوْسَى অর্থ-তারা বল্তে লাগ্লো, মূসা রবের তালাশে ভুল পথে গিয়েছে। أَنْ لَا يَرْجِعَ إِلَيْهِمْ قَوْلًا অর্থ-তাদের কোন কথার প্রতি উত্তর সে দেয় না- এ আয়াতাংশ সামেরীর বাছূর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে
৩৩৯৩. মালিক ইবনু সা’সাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজ রাত্রির ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁদের নিকট এও বলেন, তিনি যখন পঞ্চম আকাশে এসে পৌঁছলেন, তখন হঠাৎ সেখানে হারূন (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হল। জিবরাঈল (আঃ) বললেন, ইনি হলেন, হারূন (আঃ) তাঁকে সালাম করুন তখন আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, মারহাবা পুণ্যবান ভাই ও পুণ্যবান নবী। সাবিত এবং ’আববাদ ইবনু আবূ ’আলী (রহ.) আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনায় ক্বাতাদাহ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৩২০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫২)
আপনার নিকট কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? তিনি যখন আগুন দেখলেন....’তুমি ’তুয়া’ নামক এক পবিত্র ময়দানে রয়েছ। (ত্ব-হা ৯-১৩)
اٰنَسْتُ أَبْصَرْتُ نَارًا لَّعَلِّيْ اٰتِيْكُمْ مِّنْهَا بِقَبَسٍ الْآيَةَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْمُقَدَّسُ الْمُبَارَكُ طُوًى اسْمُ الْوَادِيْ سِيْرَتَهَا حَالَتَهَا وَ النُّهٰى التُّقَى بِمَلْكِنَا بِأَمْرِنَا هَوٰى شَقِيَ فَارِغًا إِلَّا مِنْ ذِكْرِ مُوْسَى رِدْءًا كَيْ يُصَدِّقَنِيْ وَيُقَالُ مُغِيْثًا أَوْ مُعِيْنًا يَبْطُشُ وَ يَبْطِشُ يَأْتَمِرُوْنَ يَتَشَاوَرُوْنَ وَالْجِذْوَةُ قِطْعَةٌ غَلِيْظَةٌ مِنْ الْخَشَبِ لَيْسَ فِيْهَا لَهَبٌ سَنَشُدُّ سَنُعِيْنُكَ كُلَّمَا عَزَّزْتَ شَيْئًا فَقَدْ جَعَلْتَ لَهُ عَضُدًا
وَقَالَ غَيْرُهُ كُلَّمَا لَمْ يَنْطِقْ بِحَرْفٍ أَوْ فِيْهِ تَمْتَمَةٌ أَوْ فَأْفَأَةٌ فَهِيَ عُقْدَةٌ أَزْرِي ظَهْرِيْ فَيُسْحِتَكُمْ فَيُهْلِكَكُمْ الْمُثْلٰى تَأْنِيْثُ الأَمْثَلِ يَقُوْلُ بِدِيْنِكُمْ يُقَالُ خُذْ الْمُثْلَى خُذْ الأَمْثَلَ ثُمَّ ائْتُوْا صَفًّا (طه : 64) يُقَالُ هَلْ أَتَيْتَ الصَّفَّ الْيَوْمَ يَعْنِي الْمُصَلَّى الَّذِيْ يُصَلَّى فِيْهِ فَأَوْجَسَ أَضْمَرَ خَوْفًا فَذَهَبَتْ الْوَاوُ مِنْ خِيْفَةً لِكَسْرَةِ الْخَاءِ فِيْ جُذُوعِ النَّخْلِ عَلَى جُذُوعِ خَطْبُكَ بَالُكَ مِسَاسَ مَصْدَرُ مَاسَّهُ مِسَاسًا لَنَنْسِفَنَّهُ لَنُذْرِيَنَّهُ الضَّحَآءُ الْحَرُّ قُصِّيهِ اتَّبِعِيْ أَثَرَهُ وَقَدْ يَكُوْنُ أَنْ تَقُصَّ الْكَلَامَ نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ عَنْ جُنُبٍ عَنْ بُعْدٍ وَعَنْ جَنَابَةٍ وَعَنْ اجْتِنَابٍ وَاحِدٌ قَالَ مُجَاهِدٌ عَلٰى قَدَرٍ مَوْعِدٌ لَا تَنِيَا مَكَانًا سُوًي : مَنْصَفُ بَيْنَهُمْ .لَا تَضْعُفَا يَبَسًا : يَابِسَا مِنْ زِيْنَةِ الْقَوْمِ الْحُلِيِّ الَّذِيْ اسْتَعَارُوْا مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ فَقَذَفْتُهَا أَلْقَيْتَهَا أَلْقَى صَنَعَ فَنَسِيَ مُوْسٰى هُمْ يَقُوْلُوْنَهُ أَخْطَأَ الرَّبَّ أَنْ لَا يَرْجِعَ إِلَيْهِمْ قَوْلًا فِي الْعِجْلِ
آنَسْتُ অর্থ আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি তোমাদের জন্য তা হতে কিছু জ্বলন্ত আগুন আনতে পারব... (ত্বোয়া-হা ১০) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْمُقَدَّسُ অর্থ বরকতময়। طُوًى একটি উপত্যকার নাম। سِيْرَتَهَا অর্থ তার অবস্থায়। النُّهَى অর্থ আল্লাহভীরু। بِمَلْكِنَا অর্থ আমাদের ইচ্ছামত هَوَى অর্থ ভাগ্যাহত হয়েছে। فَارِغًا অর্থ মূসার স্মরণ ব্যতীত সব কিছু থেকে শুনা হয়ে গেল। رِدْءًا অর্থ সাহায্যকারী রূপে যেন সে আমাকে সমর্থন করে। এর অর্থ আরো বলা হয় আর্তনাদে সাড়াদানকারী বা সাহায্যকারী। يَبْطُشُ ويَبْطِشُ একই অর্থ উভয় কিরাআতে। يَأْتَمِرُوْنَ অর্থ পরস্পর পরামর্শ করা। درأً অর্থ সাহায্য করা। বলা হয় اردأته على صنعته অর্থাৎ আমি তার কাজে সাহায্য করেছি। الْجِذْوَةُ কাঠের বড় টুকরার অঙ্গার যাতে কোন শিখা। سَنَشُدُّ অর্থ অচিরেই আমি তোমার সাহায্য করব। বলা হয় যখন তুমি কারো সাহায্য করবে তখন তুমি যেন তার পার্শ্বদেশ হয়ে গেলে।
এবং অন্যান্যগণ বলেন যে কোন অক্ষর উচ্চারণ করতে পারেনা অথবা তার মুখ হতে তা, তা, ফা, ফা উচ্চারিত হয় তাকেই তোতলামি বলে। أَزْرِيْ অর্থ আমার পিঠ فَيُسْحِتَكُمْ অর্থ- সে তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে। الْمُثْلَى শব্দটি امْثَلِ শব্দের স্ত্রী লিঙ্গ। আয়াতে উল্লিখিত بِدِيْنِكُمْ -অর্থ তোমাদের দ্বীন। বলা হয়, خُذْ الْمُثْلَى خُذْ الأَمْثَلَ অর্থ-উত্তমটি গ্রহণ করো। ثُمَّ ائْتُوْا صَفًّا অর্থাৎ তোমরা সারিবদ্ধ হয়ে এসো। বলা হয়, তুমি কি আজ ছফ্ফে উপস্থিত হয়েছিলে অর্থাৎ যেখানে নামায পড়া হয় সেখানে? فَأَوْجَسَ অর্থ- সে অন্তরে ভয় পোষণ করেছে। خِيْفَةً মূলে خَاءِ অক্ষরে যের হবার কারণে ياء-واو তে পরিবর্তিত হয়েছে। فِيْ جُذُوعِ النَّخْلِ এখানে على- فيঅর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। خَطْبُكَ অর্থ- তোমার অবস্থা। مِسَاسَ শব্দটি مَاسَّهُ مِسَاسًا এর মাসদার। অর্থ-তোমার অবস্থা। لَنَنْسِفَنَّهُ অর্থ-আমি অবশ্যই তাকে উড়িয়ে দিব। الضَّحَاءُ অর্থ পূর্বাহ্ন, যখন সূর্যের উষ্ণতা বেড়ে যায়। قُصِّيهِ তুমি তার পিছনে পিছনে যাও। কখনো এ অর্থেও ব্যবহৃত হয় যে, তুমি তোমার কথা বলো যেমন, نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ এর মধ্যে এ অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে। عَنْ جُنُبٍ অর্থ-দূর থেকে। اجْتِنَابٍ -جَنَابَةٍ একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর মুজাহিদ (রহ.) বলেন, عَلَى قَدَرٍ অর্থ-নির্ধারিত সময়ে। لَا تَنِيَا অর্থ দুর্বল হয়োনা। َمكَانًا سَوِيْ অর্থ-তাদের মধ্যবর্তী স্থান। يَبَسًا অর্থ-শুক্না। مِنْ زِيْنَةِ الْقَوْمِ অর্থ-যে সব অলংকার তারা ফির’আউনের লোকদের হতে ধার নিয়েছিল। فَقَذَفْتُهَا অর্থ-আমি তা নিক্ষেপ করলাম। أَلْقَى অর্থ বানালো। فَنَسِيَ مُوْسَى অর্থ-তারা বল্তে লাগ্লো, মূসা রবের তালাশে ভুল পথে গিয়েছে। أَنْ لَا يَرْجِعَ إِلَيْهِمْ قَوْلًا অর্থ-তাদের কোন কথার প্রতি উত্তর সে দেয় না- এ আয়াতাংশ সামেরীর বাছূর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে
৩৩৯৩. মালিক ইবনু সা’সাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজ রাত্রির ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁদের নিকট এও বলেন, তিনি যখন পঞ্চম আকাশে এসে পৌঁছলেন, তখন হঠাৎ সেখানে হারূন (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হল। জিবরাঈল (আঃ) বললেন, ইনি হলেন, হারূন (আঃ) তাঁকে সালাম করুন তখন আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, মারহাবা পুণ্যবান ভাই ও পুণ্যবান নবী। সাবিত এবং ’আববাদ ইবনু আবূ ’আলী (রহ.) আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনায় ক্বাতাদাহ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। (৩২০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫২)
হাদিস নং: ৩৩৯৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام بن يوسف اخبرنا معمر عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة اسري بي رايت موسى واذا هو رجل ضرب رجل كانه من رجال شنوءة ورايت عيسى فاذا هو رجل ربعة احمر كانما خرج من ديماس وانا اشبه ولد ابراهيم به ثم اتيت باناءين في احدهما لبن وفي الاخر خمر فقال اشرب ايهما شىت فاخذت اللبن فشربته فقيل اخذت الفطرة اما انك لو اخذت الخمر غوت امتك
60/23. بَابُ وَقَالَ رَجُلٌ مُّؤْمِنٌ مِّنْ اٰلِ فِرْعَوْنَ يَكْتُمُ إِيْمَانَهُ إِلَى قَوْلِهِ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ (غافر : 28)
৬০/২৩. অধ্যায় : ’’ফির’আউন গোত্রের এক মু’মিন ব্যক্তি যে তার ঈমান গোপন রাখত, ... ...। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।’’ (গাফির/আল-মু’মিনঃ ২৮)১
وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيْثُ مُوْسٰى (طه : 9) وَكَلَّمَ اللهُ مُوْسٰى تَكْلِيُمًا (النساء : 164)
হে মুহাম্মাদ! আপনার নিকট কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? (ত্বা-হা ৯) আর আল্লাহ্ মূসার সঙ্গে সাক্ষাতে কথাবার্তা বলেছেন। (আন-নিসাঃ ১৬৪)
৩৩৯৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে রাতে আমার মি’রাজ হয়েছিল, সে রাতে আমি মূসা (আঃ)-কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন, হালকা পাতলা দেহের অধিকারী ব্যক্তি তাঁর চুল কোঁকড়ানো ছিল না। মনে হচ্ছিল তিনি যে ইয়ামান দেশীয় শানূআ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, আর আমি ’ঈসা (আঃ)-কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন মধ্যম দেহবিশিষ্ট, গায়ের রং ছিল লাল। যেন তিনি এক্ষুণি গোসলখানা হতে বের হলেন। আর ইব্রাহীম (আঃ)-এর বংশধরদের মধ্যে তাঁর সঙ্গে আমার চেহারার মিল সবচেয়ে বেশি। অতঃপর আমার সম্মুখে দু’টি পেয়ালা আনা হল। তার একটিতে ছিল দুধ আর অপরটিতে ছিল শরাব। তখন জিব্রাঈল (আঃ) বললেন, এ দু’টির মধ্যে যেটি চান আপনি পান করতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং তা পান করলাম। তখন বলা হল, আপনি স্বভাব প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন। দেখুন, আপনি যদি শরাব নিয়ে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মাতগণ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত। (৩৪৩৭, ৪৭০৯, ৫৫৭৬, ৫৬০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫৩)
৬০/২৩. অধ্যায় : ’’ফির’আউন গোত্রের এক মু’মিন ব্যক্তি যে তার ঈমান গোপন রাখত, ... ...। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।’’ (গাফির/আল-মু’মিনঃ ২৮)১
وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيْثُ مُوْسٰى (طه : 9) وَكَلَّمَ اللهُ مُوْسٰى تَكْلِيُمًا (النساء : 164)
হে মুহাম্মাদ! আপনার নিকট কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? (ত্বা-হা ৯) আর আল্লাহ্ মূসার সঙ্গে সাক্ষাতে কথাবার্তা বলেছেন। (আন-নিসাঃ ১৬৪)
৩৩৯৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে রাতে আমার মি’রাজ হয়েছিল, সে রাতে আমি মূসা (আঃ)-কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন, হালকা পাতলা দেহের অধিকারী ব্যক্তি তাঁর চুল কোঁকড়ানো ছিল না। মনে হচ্ছিল তিনি যে ইয়ামান দেশীয় শানূআ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, আর আমি ’ঈসা (আঃ)-কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন মধ্যম দেহবিশিষ্ট, গায়ের রং ছিল লাল। যেন তিনি এক্ষুণি গোসলখানা হতে বের হলেন। আর ইব্রাহীম (আঃ)-এর বংশধরদের মধ্যে তাঁর সঙ্গে আমার চেহারার মিল সবচেয়ে বেশি। অতঃপর আমার সম্মুখে দু’টি পেয়ালা আনা হল। তার একটিতে ছিল দুধ আর অপরটিতে ছিল শরাব। তখন জিব্রাঈল (আঃ) বললেন, এ দু’টির মধ্যে যেটি চান আপনি পান করতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং তা পান করলাম। তখন বলা হল, আপনি স্বভাব প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন। দেখুন, আপনি যদি শরাব নিয়ে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মাতগণ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত। (৩৪৩৭, ৪৭০৯, ৫৫৭৬, ৫৬০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫৩)
হাদিস নং: ৩৩৯৫
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن قتادة قال سمعت ابا العالية حدثنا ابن عم نبيكم يعني ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا ينبغي لعبد ان يقول انا خير من يونس بن متى ونسبه الى ابيه
৩৩৯৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন ব্যক্তির এ কথা বলা ঠিক হবে না যে, আমি (নবী) ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে উত্তম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলতে গিয়ে ইউনুস (আঃ)-এর পিতার নাম উল্লেখ করেছেন। (৩৪১৩, ৪৬৩০, ৭৫৩৯)
হাদিস নং: ৩৩৯৬
সহিহ (Sahih)
وذكر النبي صلى الله عليه وسلم ليلة اسري به فقال موسى ادم طوال كانه من رجال شنوءة وقال عيسى جعد مربوع وذكر مالكا خازن النار وذكر الدجال
৩৩৯৬. আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রাতের কথাও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন মূসা (আঃ) বাদামী রং বিশিষ্ট দীর্ঘদেহী ছিলেন। যেন তিনি শানু‘আহ গোত্রের লোকদের মত। তিনি আরো বলেছেন যে, ‘ঈসা (আঃ) ছিলেন মধ্যমদেহী, কোঁকড়ানো চুলওয়ালা ব্যক্তি। আর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) জাহান্নামের দারোগা মালিক এবং দাজ্জালের কথাও উল্লেখ করেছেন। (৩২৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫৪)
হাদিস নং: ৩৩৯৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان حدثنا ايوب السختياني عن ابن سعيد بن جبير عن ابيه عن ابن عباس رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم لما قدم المدينة وجدهم يصومون يوما يعني عاشوراء فقالوا هذا يوم عظيم وهو يوم نجى الله فيه موسى واغرق ال فرعون فصام موسى شكرا لله فقال انا اولى بموسى منهم فصامه وامر بصيامه
৩৩৯৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনা্য় আগমন করেন, তখন তিনি মদিনাবাসীকে এমনভাবে পেলেন যে, তারা একদিন সওম পালন করে অর্থাৎ সে দিনটি হল ‘আশুরার দিন। তারা বলল, এটি একটি মহান দিবস। এ এমন দিন যে দিনে আল্লাহ্ মূসা (আঃ)-কে নাজাত দিয়েছেন এবং ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর মূসা (আঃ) শুকরিয়া হিসেবে এদিন সওম পালন করেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের তুলনায় আমি হলাম মূসা (আঃ)-এর অধিক নিকটবর্তী। কাজেই তিনি নিজেও এদিন সওম পালন করেছেন এবং এদিন সওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। (২০০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫৫)
হাদিস নং: ৩৩৯৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن عمرو بن يحيى عن ابيه عن ابي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الناس يصعقون يوم القيامة فاكون اول من يفيق فاذا انا بموسى اخذ بقاىمة من قواىم العرش فلا ادري افاق قبلي ام جوزي بصعقة الطور
وَوٰعَدْنَا مُوْسٰى ثَلٰثِيْنَ لَيْلَةً وَّأَتْمَمْنٰهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِيْقَاتُ رَبِّهٰٓ أَرْبَعِيْنَ لَيْلَةً ج وَقَالَ مُوْسٰى لِأَخِيْهِ هٰرُوْنَ اخْلُفْنِيْ فِيْ قَوْمِيْ وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيْلَ الْمُفْسِدِيْنَ (142) وَلَمَّا جَآءَ مُوْسٰى لِمِيْقَاتِنَا وَكَلَّمَه” رَبُّه” لا قَالَ رَبِّ أَرِنِيْٓ أَنْظُرْ إِلَيْكَ ط قَالَ لَنْ تَرٰﯨـنِىْ إِلَى قَوْلِهِ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِيْنَ (الأعراف142-143)
আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশ রাত্রির এবং সেগুলোকে পূর্ণ করেছি আরো দশ রাত দ্বারা। বস্ত্তত এভাবে চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর মূসা তাঁর ভাই হারূনকে বললেন, আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাক। তাদের সংশোধন করতে থাক এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পথে চলো না। অতঃপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুতির সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর রবের কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার রব, আমাকে তোমার দর্শন দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই.... (আয়াতের শেষ পর্যন্ত) আর আমিই প্রথম মু‘মিনদের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর। (আ’রাফ ১৪২-৪৩)
يُقَالُ دَكَّهُ زَلْزَلَهُ فَدُكَّتَا فَدُكِكْنَ جَعَلَ الْجِبَالَ كَالْوَاحِدَةِ كَمَا قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا (الأنبياء : 30) وَلَمْ يَقُلْ كُنَّ رَتْقًا مُلْتَصِقَتَيْنِ أُشْرِبُوْا ثَوْبٌ مُشَرَّبٌ مَصْبُوغٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ انْبَجَسَتْ انْفَجَرَتْ وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ رَفَعْنَا
বলা হয় دَكَّتَا অর্থ ভূকম্পন। আয়াতে উল্লেখিত فَدَكَّتَا দ্বিবচন বহুবচন অর্থে ব্যবহৃত। এখানে الْجِبَالَ শব্দটিকে এক ধরে নিয়ে وَالأَرْضَ সহ দ্বিচনরূপে دَكَّتَا বলা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণীঃ كَانَتَا رَتْقًا এর মধ্যে سمَوَاتِ এক ধরে দ্বিবচনে উল্লেখ করা হয়েছে। كُنَّ رَتْقًا বহুবচন বলা হয়নি। رَتْقًا অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। أُشْرِبُوْا অর্থাৎ তাদের হৃদয়ে গোবৎস প্রীতি সিঞ্চিত হয়েছিল। বলা হয় ثَوْبٌ مُشَرَّبٌ অর্থ রঞ্জিত কাপড়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, انْبَجَسَتْ অর্থ প্রবাহিত হয়েছিল। نَتَقْنَا الْجَبَلَ অর্থ আমি পাহাড়কে তাদের উপর উচিয়ে ছিলাম।
৩৩৯৮. আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন সকল মানুষ বেহুশ হবে। অতঃপর সর্বপ্রথম আমারই হুশ আসবে। তখন আমি মূসা (আঃ)-কে দেখতে পাব যে, তিনি আরশের খুঁটিগুলোর একটি খুঁটি ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, আমার আগেই কি তাঁর হুশ আসল, না-কি তুর পাহাড়ে বেহুশ হবার প্রতিদান তাঁকে দেয়া হল। (২৪১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬৫)
আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশ রাত্রির এবং সেগুলোকে পূর্ণ করেছি আরো দশ রাত দ্বারা। বস্ত্তত এভাবে চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর মূসা তাঁর ভাই হারূনকে বললেন, আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাক। তাদের সংশোধন করতে থাক এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পথে চলো না। অতঃপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুতির সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর রবের কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার রব, আমাকে তোমার দর্শন দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই.... (আয়াতের শেষ পর্যন্ত) আর আমিই প্রথম মু‘মিনদের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর। (আ’রাফ ১৪২-৪৩)
يُقَالُ دَكَّهُ زَلْزَلَهُ فَدُكَّتَا فَدُكِكْنَ جَعَلَ الْجِبَالَ كَالْوَاحِدَةِ كَمَا قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا (الأنبياء : 30) وَلَمْ يَقُلْ كُنَّ رَتْقًا مُلْتَصِقَتَيْنِ أُشْرِبُوْا ثَوْبٌ مُشَرَّبٌ مَصْبُوغٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ انْبَجَسَتْ انْفَجَرَتْ وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ رَفَعْنَا
বলা হয় دَكَّتَا অর্থ ভূকম্পন। আয়াতে উল্লেখিত فَدَكَّتَا দ্বিবচন বহুবচন অর্থে ব্যবহৃত। এখানে الْجِبَالَ শব্দটিকে এক ধরে নিয়ে وَالأَرْضَ সহ দ্বিচনরূপে دَكَّتَا বলা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণীঃ كَانَتَا رَتْقًا এর মধ্যে سمَوَاتِ এক ধরে দ্বিবচনে উল্লেখ করা হয়েছে। كُنَّ رَتْقًا বহুবচন বলা হয়নি। رَتْقًا অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। أُشْرِبُوْا অর্থাৎ তাদের হৃদয়ে গোবৎস প্রীতি সিঞ্চিত হয়েছিল। বলা হয় ثَوْبٌ مُشَرَّبٌ অর্থ রঞ্জিত কাপড়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, انْبَجَسَتْ অর্থ প্রবাহিত হয়েছিল। نَتَقْنَا الْجَبَلَ অর্থ আমি পাহাড়কে তাদের উপর উচিয়ে ছিলাম।
৩৩৯৮. আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন সকল মানুষ বেহুশ হবে। অতঃপর সর্বপ্রথম আমারই হুশ আসবে। তখন আমি মূসা (আঃ)-কে দেখতে পাব যে, তিনি আরশের খুঁটিগুলোর একটি খুঁটি ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, আমার আগেই কি তাঁর হুশ আসল, না-কি তুর পাহাড়ে বেহুশ হবার প্রতিদান তাঁকে দেয়া হল। (২৪১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬৫)
হাদিস নং: ৩৩৯৯
সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن محمد الجعفي حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن همام عن ابي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لولا بنو اسراىيل لم يخنز اللحم ولولا حواء لم تخن انثى زوجها الدهر
৩৩৯৯. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি বনী ইসরাঈল না হত, তবে গোশ্ত পচে যেত না। আর যদি (মা) হাওয়া (আঃ) না হতেন, তাহলে কক্ষণও কোন নারী তার স্বামীর খেয়ানত করত না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫৭)
হাদিস নং: ৩৪০০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمرو بن محمد حدثنا يعقوب بن ابراهيم قال حدثني ابي عن صالح عن ابن شهاب ان عبيد الله بن عبد الله اخبره عن ابن عباس انه تمارى هو والحر بن قيس الفزاري في صاحب موسى قال ابن عباس هو خضر فمر بهما ابي بن كعب فدعاه ابن عباس فقال اني تماريت انا وصاحبي هذا في صاحب موسى الذي سال السبيل الى لقيه هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر شانه قال نعم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بينما موسى في ملا من بني اسراىيل جاءه رجل فقال هل تعلم احدا اعلم منك قال لا فاوحى الله الى موسى بلى عبدنا خضر فسال موسى السبيل اليه فجعل له الحوت اية وقيل له اذا فقدت الحوت فارجع فانك ستلقاه فكان يتبع اثر الحوت في البحر فقال لموسى فتاه ارايت اذ اوينآ الى الصخرة فاني نسيت الحوت ومآ انسانيه الا الشيطان ان اذكره (الكهف : 63) فقال موسى ذلك ما كنا نبغ فارتدا على اثارهما قصصا (الكهف : 64) فوجدا خضرا فكان من شانهما الذي قص الله في كتابه
60/26. بَابُ طُوفَانٍ مِنْ السَّيْلِ
৬০/২৬. অধ্যায় : বন্যার কারণে তুফান।
يُقَالُ لِلْمَوْتِ الْكَثِيْرِ طُوفَانٌ الْقُمَّلُ الْحُمْنَانُ يُشْبِهُ صِغَارَ الْحَلَمِ حَقِيْقٌ حَقٌّ سُقِطَ كُلُّ مَنْ نَدِمَ فَقَدْ سُقِطَ فِيْ يَدِهِ
মহামারীকেও তুফান নামে অভিহিত করা হয়। الْقُمَّلُ কীট যা ছোট ছোট উকুনের মত হয়ে থাকে। حَقِيْقٌ স্থির নিশ্চিত। سُقِطَ লজ্জিত। আর যে লজ্জিত হয়, সে অধোমুখে পতিত হয়
৩৪০০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এবং হুর ইবনু কাযেস ফাযারী মূসা (আঃ)-এর সাথীর ব্যাপারে বিতর্ক করছিলেন। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি হলেন, খাযির। এমনি সময় উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) তাদের উভয়ের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) তাঁকে ডাকলেন এবং বললেন, আমি এবং আমার এ সাথী মূসা (আঃ)-এর সাথী সম্পর্কে বিতর্ক করছি, যাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মূসা (আঃ) পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি আসল এবং জিজ্ঞেস করল, আপনি কি এমন কাউকে জানেন, যিনি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, না। তখন মূসা (আঃ)-এর প্রতি আল্লাহ্ ওয়াহী পাঠিয়ে জানিয়ে দিলেন, হাঁ, আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। তখন তাঁর জন্য একটি মাছ নিদর্শন হিসেবে ঠিক করে দেয়া হল এবং তাকে বলে দেয়া হল, যখন তুমি মাছটি হারাবে, তখন তুমি পিছনে ফিরে আসবে, তাহলেই তুমি তাঁর সাক্ষাৎ পাবে। আরপর মূসা (আঃ) নদীতে মাছের পিছে পিছে চলছিলেন, এমন সময় মূসা (আঃ)-কে তাঁর খাদিম বলে উঠল, ’’আপনি কি লক্ষ্য করেছেন। আমরা যখন ঐ পাথরটির নিকট অবস্থান করছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। বস্তুতঃ তার হতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল’’- (কাহ্ফ ৬৩)। মূসা (আঃ) বললেন, আমরা তো সে স্থানেরই খোঁজ করছিলাম। অতএব তাঁরা উভয়ে পিছনে ফিরে চললেন, এবং খাযিরের সাক্ষাৎ পেলেন- (কাহ্ফ ৬৪) তাঁদের উভয়েরই অবস্থার বর্ণনা ঠিক তাই যা আল্লাহ্ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন। (৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫৮)
৬০/২৬. অধ্যায় : বন্যার কারণে তুফান।
يُقَالُ لِلْمَوْتِ الْكَثِيْرِ طُوفَانٌ الْقُمَّلُ الْحُمْنَانُ يُشْبِهُ صِغَارَ الْحَلَمِ حَقِيْقٌ حَقٌّ سُقِطَ كُلُّ مَنْ نَدِمَ فَقَدْ سُقِطَ فِيْ يَدِهِ
মহামারীকেও তুফান নামে অভিহিত করা হয়। الْقُمَّلُ কীট যা ছোট ছোট উকুনের মত হয়ে থাকে। حَقِيْقٌ স্থির নিশ্চিত। سُقِطَ লজ্জিত। আর যে লজ্জিত হয়, সে অধোমুখে পতিত হয়
৩৪০০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এবং হুর ইবনু কাযেস ফাযারী মূসা (আঃ)-এর সাথীর ব্যাপারে বিতর্ক করছিলেন। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি হলেন, খাযির। এমনি সময় উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) তাদের উভয়ের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) তাঁকে ডাকলেন এবং বললেন, আমি এবং আমার এ সাথী মূসা (আঃ)-এর সাথী সম্পর্কে বিতর্ক করছি, যাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মূসা (আঃ) পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি আসল এবং জিজ্ঞেস করল, আপনি কি এমন কাউকে জানেন, যিনি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, না। তখন মূসা (আঃ)-এর প্রতি আল্লাহ্ ওয়াহী পাঠিয়ে জানিয়ে দিলেন, হাঁ, আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। তখন তাঁর জন্য একটি মাছ নিদর্শন হিসেবে ঠিক করে দেয়া হল এবং তাকে বলে দেয়া হল, যখন তুমি মাছটি হারাবে, তখন তুমি পিছনে ফিরে আসবে, তাহলেই তুমি তাঁর সাক্ষাৎ পাবে। আরপর মূসা (আঃ) নদীতে মাছের পিছে পিছে চলছিলেন, এমন সময় মূসা (আঃ)-কে তাঁর খাদিম বলে উঠল, ’’আপনি কি লক্ষ্য করেছেন। আমরা যখন ঐ পাথরটির নিকট অবস্থান করছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। বস্তুতঃ তার হতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল’’- (কাহ্ফ ৬৩)। মূসা (আঃ) বললেন, আমরা তো সে স্থানেরই খোঁজ করছিলাম। অতএব তাঁরা উভয়ে পিছনে ফিরে চললেন, এবং খাযিরের সাক্ষাৎ পেলেন- (কাহ্ফ ৬৪) তাঁদের উভয়েরই অবস্থার বর্ণনা ঠিক তাই যা আল্লাহ্ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন। (৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫৮)
হাদিস নং: ৩৪০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان حدثنا عمرو بن دينار قال اخبرني سعيد بن جبير قال قلت لابن عباس ان نوفا البكالي يزعم ان موسى صاحب الخضر ليس هو موسى بني اسراىيل انما هو موسى اخر فقال كذب عدو الله حدثنا ابي بن كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم ان موسى قام خطيبا في بني اسراىيل فسىل اي الناس اعلم فقال انا فعتب الله عليه اذ لم يرد العلم اليه فقال له بلى لي عبد بمجمع البحرين هو اعلم منك قال اي رب ومن لي به وربما قال سفيان اي رب وكيف لي به قال تاخذ حوتا فتجعله في مكتل حيثما فقدت الحوت فهو ثم وربما قال فهو ثمه واخذ حوتا فجعله في مكتل ثم انطلق هو وفتاه يوشع بن نون حتى اذا اتيا الصخرة وضعا رءوسهما فرقد موسى واضطرب الحوت فخرج فسقط في البحر فاتخذ سبيله في البحر سربا (الكهف :61) فامسك الله عن الحوت جرية الماء فصار مثل الطاق فقال هكذا مثل الطاق فانطلقا يمشيان بقية ليلتهما ويومهما حتى اذا كان من الغد قال لفتاه اتنا غدآءنا لقد لقينا من سفرنا هذا نصبا (الكهف :62) ولم يجد موسى النصب حتى جاوز حيث امره الله قال له فتاه ارايت اذ اوينآ الى الصخرة فاني نسيت الحوت ومآ انسانيه الا الشيطان ان اذكره واتخذ سبيله في البحر عجبا (الكهف :63) فكان للحوت سربا ولهما عجبا قال له موسى ذلك ما كنا نبغي فارتدا على اثارهما قصصا (الكهف : 64) رجعا يقصان اثارهما حتى انتهيا الى الصخرة فاذا رجل مسجى بثوب فسلم موسى فرد عليه فقال وانى بارضك السلام قال انا موسى قال موسى بني اسراىيل قال نعم اتيتك لتعلمني مما علمت رشدا قال يا موسى اني على علم من علم الله علمنيه الله لا تعلمه وانت على علم من علم الله علمكه الله لا اعلمه قال هل اتبعك قال انك لن تستطيع معي صبرا وكيف تصبر على ما لم تحط به خبرا (الكهف : 67-688) الى قوله امرا (الكهف : 71) فانطلقا يمشيان على ساحل البحر فمرت بهما سفينة كلموهم ان يحملوهم فعرفوا الخضر فحملوه بغير نول فلما ركبا في السفينة جاء عصفور فوقع على حرف السفينة فنقر في البحر نقرة او نقرتين قال له الخضر يا موسى ما نقص علمي وعلمك من علم الله الا مثل ما نقص هذا العصفور بمنقاره من البحر اذ اخذ الفاس فنزع لوحا قال فلم يفجا موسى الا وقد قلع لوحا بالقدوم فقال له موسى ما صنعت قوم حملونا بغير نول عمدت الى سفينتهم فخرقتها لتغرق اهلها لقد جىت شيىا امرا قال الم اقل انك لن تستطيع معي صبرا قال لا تواخذني بما نسيت ولا ترهقني من امري عسرا (الكهف : 71-73) فكانت الاولى من موسى نسيانا فلما خرجا من البحر مروا بغلام يلعب مع الصبيان فاخذ الخضر براسه فقلعه بيده هكذا واوما سفيان باطراف اصابعه كانه يقطف شيىا فقال له موسى اقتلت نفسا زكيةم بغير نفس لقد جىت شيىا نكرا قال الم اقل لك انك لن تستطيع معي صبرا قال ان سالتك عن شيءم بعدها فلا تصاحبني قد بلغت من لدني عذرا فانطلقا حتىٓ اذآ اتيآ اهل قرية استطعما اهلها فابوا ان يضيفوهما فوجدا فيها جدارا يريد ان ينقض ماىلا اوما بيده هكذا واشار سفيان كانه يمسح شيىا الى فوق فلم اسمع سفيان يذكر ماىلا الا مرة قال قوم اتيناهم فلم يطعمونا ولم يضيفونا عمدت الى حاىطهم لو شىت لاتخذت عليه اجرا قال هذا فراق بيني وبينك سانبىك بتاويل ما لم تستطع عليه صبرا (الكهف : 78) قال النبي وددنا ان موسى كان صبر فقص الله علينا من خبرهما قال سفيان قال النبي يرحم الله موسى لو كان صبر لقص علينا من امرهما وقرا ابن عباس امامهم ملك ياخذ كل سفينة صالحة غصبا واما الغلام فكان كافرا وكان ابواه مومنين ثم قال لي سفيان سمعته منه مرتين وحفظته منه قيل لسفيان حفظته قبل ان تسمعه من عمرو او تحفظته من انسان فقال ممن اتحفظه ورواه احد عن عمرو غيري سمعته منه مرتين او ثلاثا وحفظته منه
৩৪০১. সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, নাওফল বিক্কালী ধারণা করছে যে, খাযিরের সঙ্গী মূসা বনী ইসরাঈলের নবী মূসা (আঃ) নন; নিশ্চয়ই তিনি অপর কোন মূসা। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর দুশমন মিথ্যা কথা বলেছে। উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, একবার মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ ব্যক্তি সবচেয়ে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমি। মূসা (আঃ)-এর এ উত্তরে আল্লাহ্ তাঁর প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। কেননা তিনি জ্ঞানকে আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করেননি। আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, বরং দুই নদীর সংযোগ স্থলে আমার একজন বান্দা আছে, সে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। মূসা (আঃ) আরয করলেন, হে আমার রব! তাঁর নিকট পৌঁছতে কে আমাকে সাহায্য করবে? কখনও সুফ্ইয়ান এভাবে বর্ণনা করেছেন, হে আমার রব! আমি তাঁর সঙ্গে কিভাবে সাক্ষাৎ করব? আল্লাহ্ বললেন, তুমি একটি মাছ ধর এবং তা একটি থলের মধ্যে ভরে রাখ। যেখানে গিয়ে তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন।
অতঃপর মূসা (আঃ) একটি মাছ ধরলেন এবং থলের মধ্যে ভরে রাখলেন। অতঃপর তিনি এবং তাঁর সাথী ইউশা ইবনু নূন চলতে লাগলেন অবশেষে তাঁরা উভয়ে একটি পাথরের নিকট এসে পৌঁছে তার উপরে উভয়ে মাথা রেখে বিশ্রাম করলেন। এ সময় মূসা (আঃ) ঘুমিয়ে পড়লেন আর মাছটি নড়াচড়া করতে করতে থলে হতে বের হয়ে নদীতে চলে গেল। অতঃপর সে নদীতে সুড়ঙ্গ আকারে স্বীয় পথ করে নিল আর আল্লাহ্ মাছটির চলার পথে পানির গতি স্তব্ধ করে দিলেন। ফলে তার গমন পথটি সুড়ঙ্গের মত হয়ে গেল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইঙ্গিত করে বললেন, এভাবে সুড়ঙ্গের মত হয়েছিল। অতঃপর তাঁরা উভয়ে অবশিষ্ট রাত এবং পুরো দিন পথ চললেন। শেষে যখন পরের দিন ভোর হল তখন মূসা (আঃ) তাঁর যুবক সঙ্গীকে বললেন, আমার সকালের খাবার আন। আমি এ সফরে খুব ক্লান্তিবোধ করছি। বস্তুতঃ মূসা (আঃ) যে পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশিত স্থানটি অতিক্রম না করছেন সে পর্যন্ত তিনি সফরে কোন ক্লান্তিই অনুভব করেননি। তখন তাঁর সঙ্গী তাঁকে বললেন, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন সেই পাথরটির নিকট বিশ্রাম নিয়েছিলাম মাছটি চলে যাবার কথা বলতে আমি একেবারেই ভুলে গেছি। আসলে আপনার নিকট তা উল্লেখ করতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। মাছটি নদীতে আশ্চর্যজনকভাবে নিজের রাস্তা করে নিয়েছে। (রাবী বলেন) পথটি মাছের জন্য ছিল একটি সুড়ঙ্গের মত আর তাঁদের জন্য ছিল একটি আশ্চর্যজনক ব্যাপার। মূসা (আঃ) তাকে বললেন, ওটাইতো সেই স্থান যা আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি।
অতঃপর উভয়ে নিজ নিজ পদচিহ্ন ধরে পিছনের দিকে ফিরে চললেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরা দু’জনে সেই পাথরটির নিকট এসে পৌঁছলেন এবং দেখলেন সেখানে জনৈক ব্যক্তি বস্ত্রাবৃত হয়ে আছেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, এখানে সালাম কী করে এলো? তিনি বললেন, আমি মূসা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি বনী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেন, হাঁ, আমি আপনার নিকট এসেছি, সরল সঠিক জ্ঞানের ঐ সব কথাগুলো শিখার জন্যে যা আপনাকে শিখানো হয়েছে। তিনি বললেন, হে মূসা! আমার আল্লাহর দেয়া কিছু জ্ঞান আছে যা আল্লাহ্ আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আপনি তা জানেন। আর আপনারও আল্লাহ্ প্রদত্ত কিছু জ্ঞান আছে, যা আল্লাহ্ আপনাকে শিখিয়েছেন, আমি তা জানি না। মূসা (আঃ) বললেন, আমি কি আপনার সাথী হতে পারি? খাযির (আঃ) বললেন, আপনি আমার সঙ্গে থেকে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না আর আপনি এমন বিষয়ে ধৈর্য রাখবেন কী করে, যার রহস্য আপনার জানা নেই? মূসা (আঃ) বললেন, ইন্শা আল্লাহ্ আপনি আমাকে একজন ধৈর্যশীল হিসেবে দেখতে পাবেন। আমি আপনার কোন আদেশই অমান্য করব না। অতঃপর তাঁরা দু’জনে রওয়ানা হয়ে নদীর তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। এমন সময় একটি নৌকা তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা তাদেরকেও নৌকায় উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করলেন। তারা খাযির (আঃ)-কে চিনে ফেললেন এবং তারা তাঁকে তাঁর সঙ্গীসহ পারিশ্রমিক ছাড়াই নৌকায় তুলে নিল। তারা দু’জন যখন নৌকায় উঠলেন, তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির এক পাশে বসল এবং একবার কি দু’বার নদীর পানিতে ঠোঁট ডুবাল। খাযির (আঃ) বললেন, হে মূসা (আঃ)! আমার এবং তোমার জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহর জ্ঞান হতে ততটুকুও কমেনি যতটুকু এ পাখিটি তার ঠোঁটের দ্বারা নদীর পানি হ্রাস করেছে। অতঃপর খাযির (আঃ) হঠাৎ একটি কুঠার নিয়ে নৌকার একটি তক্তা খুলে ফেললেন, মূসা (আঃ) অকস্মাৎ দৃষ্টি দিতেই দেখতে পেলেন তিনি কুঠার দিয়ে একটি তক্তা খুলে ফেলেছেন। তখন তাঁকে তিনি বললেন, আপনি এ কী করলেন? লোকেরা আমাদের মজুরি ছাড়া নৌকায় তুলে নিল, আর আপনি তাদের নৌকার যাত্রীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটি ফুটো করে দিলেন? এতো আপনি একটি গুরুতর কাজ করলেন।
খাযির (আঃ) বললেন, আমি কি বলিনি যে, আপনি কখনও আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না? মূসা (আঃ) বললেন, আমি যে বিষয়টি ভুলে গেছি, তার জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন না। আর আমার এ ব্যবহারে আমার প্রতি কঠোর হবেন না। মূসা (আঃ)-এর পক্ষ হতে প্রথম এই কথাটি ছিল ভুলক্রমে। অতঃপর যখন তাঁরা উভয়ে নদী পার হয়ে আসলেন, তখন তাঁরা একটি বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন সে অন্যান্য বালকদের সঙ্গে খেলছিল। খাযির (আঃ) তার মাথা ধরলেন এবং নিজ হাতে তার ঘাড় আলাদা করে ফেললেন। এ কথাটি বুঝানোর জন্য সুফ্ইয়ান (রহ.) তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ দ্বারা এমনভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস ছিঁড়ে নিচ্ছিলেন। এতে মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি একটি নিষ্পাপ বালককে বিনা অপরাধে হত্যা করলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি অন্যায় কাজ করলেন। খাযির (আঃ) বললেন, আমি কি আপনাকে বলিনি যে আপনি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধরতে পারবেন না? মূসা (আঃ) বললেন, অতঃপর যদি আমি আপনাকে আর কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি তাহলে আপনি আমাকে আর আপনার সাথে রাখবেন না। কেননা আপনার উযর আপত্তি চূড়ান্ত হয়েছে। অতঃপর তাঁরা চলতে লাগলেন শেষ অবধি তাঁরা এক জনপদে এসে পৌঁছলেন। তাঁরা গ্রামবাসীদের নিকট খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাঁদের আতিথ্য করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তাঁরা সেখানেই একটি দেয়াল দেখতে পেলেন যা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তা একদিকে ঝুঁকে গিয়েছিল। খাযির (আঃ) তা নিজের হাতে সোজা করে দিলেন। রাবী আপন হাতে এভাবে ইঙ্গিত করলেন। আর সুফ্ইয়ান (রহ.) এমনিভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস উপরের দিকে উঁচু করে দিচ্ছেন। ’’ঝুঁকে পড়েছে’’ এ কথাটি আমি সুফ্ইয়ানকে মাত্র একবার বলতে শুনেছি।
মূসা (আঃ) বললেন, তারা এমন মানুষ যে, আমরা তাদের নিকট আসলাম, তারা আমাদেরকে না খাবার দিল, না আমাদের আতিথ্য করল আর আপনি এদের দেয়াল সোজা করতে গেলেন। আপনি ইচ্ছা করলে এর বদলে মজুরি গ্রহণ করতে পারতেন। খাযির (আঃ) বললেন, এখানেই আপনার ও আমার মধ্যে বিচ্ছেদ হল। তবে এখনই আমি আপনাকে জ্ঞাত করছি ওসব কথার রহস্য, যেসব বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদেরতো ইচ্ছা যে, মূসা (আঃ) ধৈর্য ধরলে আমাদের নিকট তাঁদের আরো অনেক অধিক খবর বর্ণনা করা হতো। সুফ্ইয়ান (রাঃ) বর্ণনা করেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ মূসা (আঃ)-এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি যদি ধৈর্য ধরতেন, তাহলে তাদের উভয়ের ব্যাপারে আমাদের নিকট আরো অনেক ঘটনা জানানো হতো। রাবী বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এখানে পড়েছেন, তাদের সামনে একজন বাদশাহ ছিল, সে প্রতিটি নিখুঁত নৌকা জোর করে ছিনিয়ে নিত। আর সে ছেলেটি ছিল কাফির, তার পিতা-মাতা ছিলেন মুমিন। অতঃপর সুফ্ইয়ান (রহ.) আমাকে বলেছেন, আমি এ হাদীসটি তাঁর (’আমর ইবনু দ্বীনার) হতে দু’বার শুনেছি এবং তাঁর নিকট হতেই মুখস্থ করেছি। সুফ্ইয়ান (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি ’আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) হতে শুনার পূর্বেই তা মুখস্থ করেছেন না অপর কোন লোকের নিকট শুনে তা মুখস্থ করেছেন? তিনি বললেন, আমি কার নিকট হতে তা মুখস্থ করতে পারি? আমি ব্যতীত আর কেউ কি এ হাদীস আমরের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন? আমি তাঁর নিকট হতে শুনেছি দুইবার কি তিনবার। আর তাঁর থেকেই তা মুখস্থ করেছি। ’আলী ইবনু খুশরম (রহ.) সুফ্ইয়ান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫৯)
অতঃপর মূসা (আঃ) একটি মাছ ধরলেন এবং থলের মধ্যে ভরে রাখলেন। অতঃপর তিনি এবং তাঁর সাথী ইউশা ইবনু নূন চলতে লাগলেন অবশেষে তাঁরা উভয়ে একটি পাথরের নিকট এসে পৌঁছে তার উপরে উভয়ে মাথা রেখে বিশ্রাম করলেন। এ সময় মূসা (আঃ) ঘুমিয়ে পড়লেন আর মাছটি নড়াচড়া করতে করতে থলে হতে বের হয়ে নদীতে চলে গেল। অতঃপর সে নদীতে সুড়ঙ্গ আকারে স্বীয় পথ করে নিল আর আল্লাহ্ মাছটির চলার পথে পানির গতি স্তব্ধ করে দিলেন। ফলে তার গমন পথটি সুড়ঙ্গের মত হয়ে গেল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইঙ্গিত করে বললেন, এভাবে সুড়ঙ্গের মত হয়েছিল। অতঃপর তাঁরা উভয়ে অবশিষ্ট রাত এবং পুরো দিন পথ চললেন। শেষে যখন পরের দিন ভোর হল তখন মূসা (আঃ) তাঁর যুবক সঙ্গীকে বললেন, আমার সকালের খাবার আন। আমি এ সফরে খুব ক্লান্তিবোধ করছি। বস্তুতঃ মূসা (আঃ) যে পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশিত স্থানটি অতিক্রম না করছেন সে পর্যন্ত তিনি সফরে কোন ক্লান্তিই অনুভব করেননি। তখন তাঁর সঙ্গী তাঁকে বললেন, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন সেই পাথরটির নিকট বিশ্রাম নিয়েছিলাম মাছটি চলে যাবার কথা বলতে আমি একেবারেই ভুলে গেছি। আসলে আপনার নিকট তা উল্লেখ করতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। মাছটি নদীতে আশ্চর্যজনকভাবে নিজের রাস্তা করে নিয়েছে। (রাবী বলেন) পথটি মাছের জন্য ছিল একটি সুড়ঙ্গের মত আর তাঁদের জন্য ছিল একটি আশ্চর্যজনক ব্যাপার। মূসা (আঃ) তাকে বললেন, ওটাইতো সেই স্থান যা আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি।
অতঃপর উভয়ে নিজ নিজ পদচিহ্ন ধরে পিছনের দিকে ফিরে চললেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরা দু’জনে সেই পাথরটির নিকট এসে পৌঁছলেন এবং দেখলেন সেখানে জনৈক ব্যক্তি বস্ত্রাবৃত হয়ে আছেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, এখানে সালাম কী করে এলো? তিনি বললেন, আমি মূসা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি বনী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেন, হাঁ, আমি আপনার নিকট এসেছি, সরল সঠিক জ্ঞানের ঐ সব কথাগুলো শিখার জন্যে যা আপনাকে শিখানো হয়েছে। তিনি বললেন, হে মূসা! আমার আল্লাহর দেয়া কিছু জ্ঞান আছে যা আল্লাহ্ আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আপনি তা জানেন। আর আপনারও আল্লাহ্ প্রদত্ত কিছু জ্ঞান আছে, যা আল্লাহ্ আপনাকে শিখিয়েছেন, আমি তা জানি না। মূসা (আঃ) বললেন, আমি কি আপনার সাথী হতে পারি? খাযির (আঃ) বললেন, আপনি আমার সঙ্গে থেকে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না আর আপনি এমন বিষয়ে ধৈর্য রাখবেন কী করে, যার রহস্য আপনার জানা নেই? মূসা (আঃ) বললেন, ইন্শা আল্লাহ্ আপনি আমাকে একজন ধৈর্যশীল হিসেবে দেখতে পাবেন। আমি আপনার কোন আদেশই অমান্য করব না। অতঃপর তাঁরা দু’জনে রওয়ানা হয়ে নদীর তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। এমন সময় একটি নৌকা তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা তাদেরকেও নৌকায় উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করলেন। তারা খাযির (আঃ)-কে চিনে ফেললেন এবং তারা তাঁকে তাঁর সঙ্গীসহ পারিশ্রমিক ছাড়াই নৌকায় তুলে নিল। তারা দু’জন যখন নৌকায় উঠলেন, তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির এক পাশে বসল এবং একবার কি দু’বার নদীর পানিতে ঠোঁট ডুবাল। খাযির (আঃ) বললেন, হে মূসা (আঃ)! আমার এবং তোমার জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহর জ্ঞান হতে ততটুকুও কমেনি যতটুকু এ পাখিটি তার ঠোঁটের দ্বারা নদীর পানি হ্রাস করেছে। অতঃপর খাযির (আঃ) হঠাৎ একটি কুঠার নিয়ে নৌকার একটি তক্তা খুলে ফেললেন, মূসা (আঃ) অকস্মাৎ দৃষ্টি দিতেই দেখতে পেলেন তিনি কুঠার দিয়ে একটি তক্তা খুলে ফেলেছেন। তখন তাঁকে তিনি বললেন, আপনি এ কী করলেন? লোকেরা আমাদের মজুরি ছাড়া নৌকায় তুলে নিল, আর আপনি তাদের নৌকার যাত্রীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটি ফুটো করে দিলেন? এতো আপনি একটি গুরুতর কাজ করলেন।
খাযির (আঃ) বললেন, আমি কি বলিনি যে, আপনি কখনও আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না? মূসা (আঃ) বললেন, আমি যে বিষয়টি ভুলে গেছি, তার জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন না। আর আমার এ ব্যবহারে আমার প্রতি কঠোর হবেন না। মূসা (আঃ)-এর পক্ষ হতে প্রথম এই কথাটি ছিল ভুলক্রমে। অতঃপর যখন তাঁরা উভয়ে নদী পার হয়ে আসলেন, তখন তাঁরা একটি বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন সে অন্যান্য বালকদের সঙ্গে খেলছিল। খাযির (আঃ) তার মাথা ধরলেন এবং নিজ হাতে তার ঘাড় আলাদা করে ফেললেন। এ কথাটি বুঝানোর জন্য সুফ্ইয়ান (রহ.) তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ দ্বারা এমনভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস ছিঁড়ে নিচ্ছিলেন। এতে মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি একটি নিষ্পাপ বালককে বিনা অপরাধে হত্যা করলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি অন্যায় কাজ করলেন। খাযির (আঃ) বললেন, আমি কি আপনাকে বলিনি যে আপনি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধরতে পারবেন না? মূসা (আঃ) বললেন, অতঃপর যদি আমি আপনাকে আর কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি তাহলে আপনি আমাকে আর আপনার সাথে রাখবেন না। কেননা আপনার উযর আপত্তি চূড়ান্ত হয়েছে। অতঃপর তাঁরা চলতে লাগলেন শেষ অবধি তাঁরা এক জনপদে এসে পৌঁছলেন। তাঁরা গ্রামবাসীদের নিকট খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাঁদের আতিথ্য করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তাঁরা সেখানেই একটি দেয়াল দেখতে পেলেন যা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তা একদিকে ঝুঁকে গিয়েছিল। খাযির (আঃ) তা নিজের হাতে সোজা করে দিলেন। রাবী আপন হাতে এভাবে ইঙ্গিত করলেন। আর সুফ্ইয়ান (রহ.) এমনিভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস উপরের দিকে উঁচু করে দিচ্ছেন। ’’ঝুঁকে পড়েছে’’ এ কথাটি আমি সুফ্ইয়ানকে মাত্র একবার বলতে শুনেছি।
মূসা (আঃ) বললেন, তারা এমন মানুষ যে, আমরা তাদের নিকট আসলাম, তারা আমাদেরকে না খাবার দিল, না আমাদের আতিথ্য করল আর আপনি এদের দেয়াল সোজা করতে গেলেন। আপনি ইচ্ছা করলে এর বদলে মজুরি গ্রহণ করতে পারতেন। খাযির (আঃ) বললেন, এখানেই আপনার ও আমার মধ্যে বিচ্ছেদ হল। তবে এখনই আমি আপনাকে জ্ঞাত করছি ওসব কথার রহস্য, যেসব বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদেরতো ইচ্ছা যে, মূসা (আঃ) ধৈর্য ধরলে আমাদের নিকট তাঁদের আরো অনেক অধিক খবর বর্ণনা করা হতো। সুফ্ইয়ান (রাঃ) বর্ণনা করেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ মূসা (আঃ)-এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি যদি ধৈর্য ধরতেন, তাহলে তাদের উভয়ের ব্যাপারে আমাদের নিকট আরো অনেক ঘটনা জানানো হতো। রাবী বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এখানে পড়েছেন, তাদের সামনে একজন বাদশাহ ছিল, সে প্রতিটি নিখুঁত নৌকা জোর করে ছিনিয়ে নিত। আর সে ছেলেটি ছিল কাফির, তার পিতা-মাতা ছিলেন মুমিন। অতঃপর সুফ্ইয়ান (রহ.) আমাকে বলেছেন, আমি এ হাদীসটি তাঁর (’আমর ইবনু দ্বীনার) হতে দু’বার শুনেছি এবং তাঁর নিকট হতেই মুখস্থ করেছি। সুফ্ইয়ান (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি ’আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) হতে শুনার পূর্বেই তা মুখস্থ করেছেন না অপর কোন লোকের নিকট শুনে তা মুখস্থ করেছেন? তিনি বললেন, আমি কার নিকট হতে তা মুখস্থ করতে পারি? আমি ব্যতীত আর কেউ কি এ হাদীস আমরের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন? আমি তাঁর নিকট হতে শুনেছি দুইবার কি তিনবার। আর তাঁর থেকেই তা মুখস্থ করেছি। ’আলী ইবনু খুশরম (রহ.) সুফ্ইয়ান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫৯)
হাদিস নং: ৩৪০২
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن سعيد ابن الاصبهاني اخبرنا ابن المبارك عن معمر عن همام بن منبه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال انما سمي الخضر انه جلس على فروة بيضاء فاذا هي تهتز من خلفه خضراء
৩৪০২. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, খাযির (আঃ)-কে খাযির নামে আখ্যায়িত করার কারণ এই যে, একদা তিনি ঘাস-পাতা বিহীন শুকনো সাদা জায়গায় বসেছিলেন। সেখান হতে তাঁর উঠে যাবার পরই হঠাৎ ঐ জায়গাটি সবুজ হয়ে গেল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬০)
হাদিস নং: ৩৪০৩
সহিহ (Sahih)
حدثني اسحاق بن نصر حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن همام بن منبه انه سمع ابا هريرة يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قيل لبني اسراىيل وادخلوا الباب سجدا وقولوا حطة (البقرة : 58) فبدلوا فدخلوا يزحفون على استاههم وقالوا حبة في شعرة
৩৪০৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনী ইসরাঈলকে আদেশ দেয়া হয়েছিল, ‘‘তোমরা দরজা দিয়ে অবনত মস্তকে প্রবেশ কর আর মুখে বল, ‘হিত্তাতুন’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দাও।)’’ (আল-বাকারাহঃ ৫৮) কিন্তু তারা এ শব্দটি পরিবর্তন করে ফেলল এবং প্রবেশ দ্বারে যেন নতজানু হতে না হয় সে জন্য তারা নিজ নিজ নিতম্বের ওপর ভর দিয়ে শহরে প্রবেশ করল আর মুখে বলল, ‘হাববাতুন্ ফী শা‘আরাতিন’’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আমাদেরকে যবের দানা দাও।) (৪৪৭৯, ৪৬৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬১)
হাদিস নং: ৩৪০৪
সহিহ (Sahih)
حدثني اسحاق بن ابراهيم حدثنا روح بن عبادة حدثنا عوف عن الحسن ومحمد وخلاس عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان موسى كان رجلا حييا ستيرا لا يرى من جلده شيء استحياء منه فاذاه من اذاه من بني اسراىيل فقالوا ما يستتر هذا التستر الا من عيب بجلده اما برص واما ادرة واما افة وان الله اراد ان يبرىه مما قالوا لموسى فخلا يوما وحده فوضع ثيابه على الحجر ثم اغتسل فلما فرغ اقبل الى ثيابه لياخذها وان الحجر عدا بثوبه فاخذ موسى عصاه وطلب الحجر فجعل يقول ثوبي حجر ثوبي حجر حتى انتهى الى ملا من بني اسراىيل فراوه عريانا احسن ما خلق الله وابراه مما يقولون وقام الحجر فاخذ ثوبه فلبسه وطفق بالحجر ضربا بعصاه فوالله ان بالحجر لندبا من اثر ضربه ثلاثا او اربعا او خمسا فذلك قوله يايها الذين امنوا لا تكونوا كالذين اذوا موسى فبراه الله مما قالوا وكان عند الله وجيها (الاحزاب : 69)
৩৪০৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মূসা (আঃ) অত্যন্ত লজ্জাশীল ছিলেন, সব সময় শরীর ঢেকে রাখতেন। তাঁর দেহের কোন অংশ খোলা দেখা যেত না, তা থেকে তিনি লজ্জাবোধ করতেন। বনী ইসরাঈলের কিছু লোক তাঁকে খুব কষ্ট দিত। তারা বলত, তিনি যে শরীরকে এত অধিক ঢেকে রাখেন, তার একমাত্র কারণ হলো, তাঁর শরীরে কোন দোষ আছে। হয়ত শ্বেত রোগ অথবা একশিরা বা অন্য কোন রোগ আছে। আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলেন মূসা (আঃ) সম্পর্কে তারা যে অপবাদ ছড়িয়েছে তা হতে তাঁকে মুক্ত করবেন। অতঃপর একদিন নিরালায় গিয়ে তিনি একাকী হলেন এবং তাঁর পরণের কাপড় খুলে একটি পাথরের ওপর রাখলেন, অতঃপর গোসল করলেন, গোসল সেরে যেমনই তিনি কাপড় নেয়ার জন্য সেদিকে এগিয়ে গেলেন তাঁর কাপড়সহ পাথরটি ছুটে চলল। অতঃপর মূসা (আঃ) তাঁর লাঠিটি হাতে নিয়ে পাথরটির পেছনে পেছনে ছুটলেন। তিনি বলতে লাগলেন, আমার কাপড় হে পাথর! হে পাথর! শেষে পাথরটি বনী ইসরাঈলের একটি জন সমাবেশে গিয়ে পৌঁছল। তখন তারা মূসা (আঃ)-কে বস্ত্রহীন অবস্থায় দেখল যে তিনি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সৌন্দর্যে ভরপুর এবং তারা তাঁকে যে অপবাদ দিয়েছিল সে সব দোষ হতে তিনি পুরোপুরি মুক্ত। আর পাথরটি থামল, তখন মূসা (আঃ) তাঁর কাপড় নিয়ে পরলেন এবং তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে পাথরটিকে জোরে জোরে আঘাত করতে লাগলেন। আল্লাহর কসম! এতে পাথরটিতে তিন, চার, কিংবা পাঁচটি আঘাতের দাগ পড়ে গেল। আর এটিই হলো আল্লাহর এ বাণীর মর্মঃ ‘‘হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা মূসা (আঃ)-কে কষ্ট দিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ্ তাঁকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন তা হতে যা তারা রটিয়েছিল। আর তিনি ছিলেন আল্লাহর নিকট মর্যাদার অধিকারী।’’ (আল-আহযাবঃ ৬৯) (২৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬২)
হাদিস নং: ৩৪০৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد حدثنا شعبة عن الاعمش قال سمعت ابا واىل قال سمعت عبد الله قال قسم النبي صلى الله عليه وسلم قسما فقال رجل ان هذه لقسمة ما اريد بها وجه الله فاتيت النبي صلى الله عليه وسلم فاخبرته فغضب حتى رايت الغضب في وجهه ثم قال يرحم الله موسى قد اوذي باكثر من هذا فصبر
৩৪০৫. ‘আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা কিছু জিনিস বণ্টন করেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, এতো এমন ধরনের বণ্টন যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা হয়নি। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি খুব অসন্তুষ্ট হলেন, এমনকি তাঁর চেহারায় আমি অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ্ মূসা (আঃ)-এর প্রতি রহম করুন তাঁকে এর চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট দেয়া হয়েছিল, তবুও তিনি ধৈর্য অবলম্বন করেছিলেন। (৩১৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬৩)