হাদিস নং: ৩৪০৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن يونس عن ابن شهاب عن ابي سلمة بن عبد الرحمن ان جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم نجني الكباث وان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال عليكم بالاسود منه فانه اطيبه قالوا اكنت ترعى الغنم قال وهل من نبي الا وقد رعاها
مُتَبَّرٌ خُسْرَانٌ وَلِيُتَبِّرُوْا يُدَمِّرُوْا مَا عَلَوْا مَا غَلَبُوْا
مُتَبَّرٌ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত وَلِيُتَبِّرُوْا অর্থ যেন তারা ধ্বংস হয় مَا عَلَوْاঅর্থ যা অধিকারে এনেছিল।
৩৪০৬. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ’কাবাস’ (পিলু) গাছের পাকা ফল বেছে বেছে নিচ্ছিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর মধ্যে কালোগুলো নেয়াই তোমাদের উচিত। কেননা এগুলোই অধিক সুস্বাদু। সাহাবীগণ বললেন, আপনি কি ছাগল চরিয়েছিলেন? তিনি বললেন, প্রত্যেক নবীই তা চরিয়েছেন। (৫৪৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬৪)
مُتَبَّرٌ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত وَلِيُتَبِّرُوْا অর্থ যেন তারা ধ্বংস হয় مَا عَلَوْاঅর্থ যা অধিকারে এনেছিল।
৩৪০৬. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ’কাবাস’ (পিলু) গাছের পাকা ফল বেছে বেছে নিচ্ছিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর মধ্যে কালোগুলো নেয়াই তোমাদের উচিত। কেননা এগুলোই অধিক সুস্বাদু। সাহাবীগণ বললেন, আপনি কি ছাগল চরিয়েছিলেন? তিনি বললেন, প্রত্যেক নবীই তা চরিয়েছেন। (৫৪৫৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬৪)
হাদিস নং: ৩৪০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن موسى حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن ابن طاوس عن ابيه عن ابي هريرة قال ارسل ملك الموت الى موسى عليهما السلام فلما جاءه صكه فرجع الى ربه فقال ارسلتني الى عبد لا يريد الموت قال ارجع اليه فقل له يضع يده على متن ثور فله بما غطت يده بكل شعرة سنة قال اي رب ثم ماذا قال ثم الموت قال فالان قال فسال الله ان يدنيه من الارض المقدسة رمية بحجر قال ابو هريرة فقال رسول الله لو كنت ثم لاريتكم قبره الى جانب الطريق تحت الكثيب الاحمر قال واخبرنا معمر عن همام حدثنا ابو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه
60/30. بَابُ وَإِذْ قَالَ مُوْسٰى لِقَوْمِهٰ إِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوْا بَقَرَةً (البقرة : 67) الآيَةَ
৬০/৩০. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ স্মরণ কর, যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু যবেহ করতে আদেশ দিয়েছেন। (আল-বাকারাহ্ ৬৭)
قَالَ أَبُوْ الْعَالِيَةِ الْعَوَانُ النَّصَفُ بَيْنَ الْبِكْرِ وَالْهَرِمَةِ فَاقِعٌ صَافٍ لَا ذَلُوْلٌ لَمْ يُذِلَّهَا الْعَمَلُ تُثِيْرُ الْأَرْضَ لَيْسَتْ بِذَلُوْلٍ تُثِيْرُ الأَرْضَ وَلَا تَعْمَلُ فِي الْحَرْثِ مُسَلَّمَةٌ مِنْ الْعُيُوْبِ لَا شِيَةَ بَيَاضٌ صَفْرَآءُ إِنْ شِئْتَ سَوْدَاءُ وَيُقَالُ صَفْرَاءُ كَقَوْلِهِ جِمَالٰتٌ صُفْرٌ فَادّٰرَأْتُمْ اخْتَلَفْتُمْ
আবুল ’আলিয়াহ (রহ.) বলেন, الْعَوَانُ বুড়ো ও বাছুর উভয়ের মাঝামাঝি, فَاقِعٌ উজ্জ্বল গাঢ়। لَا ذَلُوْلٌ অর্থ, যা কাজে ব্যবহৃত হয় নাই। تُثِيْرُ الأَرْضَ জমি চাষে অর্থাৎ গাভীটি এমন যা ভূমি কর্ষণে ও চাষের কাজে ব্যবহৃত হয়নি। مُسَلَّمَةٌ যা সকল ত্রুটি ও খুঁত হতে মুক্ত। لَا شِيَةَ কোন দাগ নেই। হলুদ ও সাদা বর্ণের। তুমি ইচ্ছা করলে কালোও বলতে পারো। আরও বলা হয় এর অর্থ হলুদ বর্ণের। যেমন মহান আল্লাহর বাণীঃ جِمَالَاتٌ صُفْرٌ পীতবর্ণের উটসমূহ। فَادَّارَأْتُمْ -তোমরা পরস্পর মত বিরোধ করছিলে
৩৪০৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালাকুলকে মূসা (আঃ)-এর নিকট তাঁর জন্য পাঠান হয়েছিল। ফেরেশতা যখন তাঁর নিকট আসলেন, তিনি তাঁর চোখে চপেটাঘাত করলেন। তখন ফেরেশতা তাঁর রবের নিকট ফিরে গেলেন এবং বললেন, আপনি আমাকে এমন এক বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না। আল্লাহ্ বললেন, তুমি তার নিকট ফিরে যাও এবং তাকে বল সে যেন তার একটি হাত একটি গরুর পিঠে রাখে, তার হাত যতগুলো পশম ঢাকবে তার প্রতিটি পশমের বদলে তাকে এক বছর করে জীবন দেয়া হবে। মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! অতঃপর কী হবে? আল্লাহ্ বললেন, অতঃপর মৃত্যু। মূসা (আঃ) বললেন, তাহলে এখনই হোক। (রাবী) বলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট আরয করলেন, তাঁকে যেন ’আরদে মুকাদ্দাস’ হতে একটি পাথর নিক্ষেপের দূরত্বের সমান স্থানে পৌঁছে দেয়া হয়। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি যদি সেখানে থাকতাম তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পথের ধারে লাল টিলার নীচে তাঁর কবরটি দেখিয়ে দিতাম। রাবী আব্দুর রায্যাক বলেন, মা’মার (রহ.)......আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। (১৩৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬৫)
৬০/৩০. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ স্মরণ কর, যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু যবেহ করতে আদেশ দিয়েছেন। (আল-বাকারাহ্ ৬৭)
قَالَ أَبُوْ الْعَالِيَةِ الْعَوَانُ النَّصَفُ بَيْنَ الْبِكْرِ وَالْهَرِمَةِ فَاقِعٌ صَافٍ لَا ذَلُوْلٌ لَمْ يُذِلَّهَا الْعَمَلُ تُثِيْرُ الْأَرْضَ لَيْسَتْ بِذَلُوْلٍ تُثِيْرُ الأَرْضَ وَلَا تَعْمَلُ فِي الْحَرْثِ مُسَلَّمَةٌ مِنْ الْعُيُوْبِ لَا شِيَةَ بَيَاضٌ صَفْرَآءُ إِنْ شِئْتَ سَوْدَاءُ وَيُقَالُ صَفْرَاءُ كَقَوْلِهِ جِمَالٰتٌ صُفْرٌ فَادّٰرَأْتُمْ اخْتَلَفْتُمْ
আবুল ’আলিয়াহ (রহ.) বলেন, الْعَوَانُ বুড়ো ও বাছুর উভয়ের মাঝামাঝি, فَاقِعٌ উজ্জ্বল গাঢ়। لَا ذَلُوْلٌ অর্থ, যা কাজে ব্যবহৃত হয় নাই। تُثِيْرُ الأَرْضَ জমি চাষে অর্থাৎ গাভীটি এমন যা ভূমি কর্ষণে ও চাষের কাজে ব্যবহৃত হয়নি। مُسَلَّمَةٌ যা সকল ত্রুটি ও খুঁত হতে মুক্ত। لَا شِيَةَ কোন দাগ নেই। হলুদ ও সাদা বর্ণের। তুমি ইচ্ছা করলে কালোও বলতে পারো। আরও বলা হয় এর অর্থ হলুদ বর্ণের। যেমন মহান আল্লাহর বাণীঃ جِمَالَاتٌ صُفْرٌ পীতবর্ণের উটসমূহ। فَادَّارَأْتُمْ -তোমরা পরস্পর মত বিরোধ করছিলে
৩৪০৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালাকুলকে মূসা (আঃ)-এর নিকট তাঁর জন্য পাঠান হয়েছিল। ফেরেশতা যখন তাঁর নিকট আসলেন, তিনি তাঁর চোখে চপেটাঘাত করলেন। তখন ফেরেশতা তাঁর রবের নিকট ফিরে গেলেন এবং বললেন, আপনি আমাকে এমন এক বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না। আল্লাহ্ বললেন, তুমি তার নিকট ফিরে যাও এবং তাকে বল সে যেন তার একটি হাত একটি গরুর পিঠে রাখে, তার হাত যতগুলো পশম ঢাকবে তার প্রতিটি পশমের বদলে তাকে এক বছর করে জীবন দেয়া হবে। মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! অতঃপর কী হবে? আল্লাহ্ বললেন, অতঃপর মৃত্যু। মূসা (আঃ) বললেন, তাহলে এখনই হোক। (রাবী) বলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট আরয করলেন, তাঁকে যেন ’আরদে মুকাদ্দাস’ হতে একটি পাথর নিক্ষেপের দূরত্বের সমান স্থানে পৌঁছে দেয়া হয়। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি যদি সেখানে থাকতাম তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পথের ধারে লাল টিলার নীচে তাঁর কবরটি দেখিয়ে দিতাম। রাবী আব্দুর রায্যাক বলেন, মা’মার (রহ.)......আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। (১৩৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬৫)
হাদিস নং: ৩৪০৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن وسعيد بن المسيب ان ابا هريرة قال استب رجل من المسلمين ورجل من اليهود فقال المسلم والذي اصطفى محمدا صلى الله عليه وسلم على العالمين في قسم يقسم به فقال اليهودي والذي اصطفى موسى على العالمين فرفع المسلم عند ذلك يده فلطم اليهودي فذهب اليهودي الى النبي صلى الله عليه وسلم فاخبره الذي كان من امره وامر المسلم فقال لا تخيروني على موسى فان الناس يصعقون فاكون اول من يفيق فاذا موسى باطش بجانب العرش فلا ادري اكان فيمن صعق فافاق قبلي او كان ممن استثنى الله
৩৪০৮. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মুসলিম আর একজন ইয়াহূদী পরস্পরকে গালি দিল। মুসলিম ব্যক্তি বললেন, সেই সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তামাম জগতের উপর মনোনীত করেছেন। কসম করার সময় তিনি একথাটি বলেছেন। তখন ইয়াহূদী লোকটিও বলল, ঐ সত্তার কসম! যিনি মূসা (আঃ)-কে তামাম জগতের উপর মনোনীত করেছেন। তখন সেই মুসলিম সাহাবী সে সময় তার হাত উঠিয়ে ইয়াহূদীকে একটি চড় মারলেন। তখন সে ইয়াহূদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেল এবং ঘটনাটি জানালো যা তার ও মুসলিম সাহাবীর মধ্যে ঘটেছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমাকে মূসা (আঃ)-এর উপর বেশি মর্যাদা দিওনা। সকল মানুষ বেহুশ হয়ে যাবে। আর আমিই সর্বপ্রথম হুশ ফিরে পাব। তখনই আমি মূসা (আঃ)-কে দেখব, তিনি আরশের একপাশ ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, যারা বেহুশ হয়েছিল, তিনিও কি তাদের অন্তর্ভুক্ত অতঃপর আমার আগে তাঁর হুশ এসে গেছে? কিংবা তিনি তাদেরই একজন, যাঁদেরকে আল্লাহ্ বেহুঁশ হওয়া থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। (২৪১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬৬)
হাদিস নং: ৩৪০৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن ابن شهاب عن حميد بن عبد الرحمن ان ابا هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احتج ادم وموسى فقال له موسى انت ادم الذي اخرجتك خطيىتك من الجنة فقال له ادم انت موسى الذي اصطفاك الله برسالاته وبكلامه ثم تلومني على امر قدر علي قبل ان اخلق فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فحج ادم موسى مرتين
৩৪০৯. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) তর্ক-বিতর্ক করছিলেন। তখন মূসা (আঃ) তাঁকে বলছিলেন, আপনি সেই আদম যে আপনার ভুল আপনাকে বেহেশত হতে বের করে দিয়েছিল। আদম (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি সেই মূসা যে, আপনাকে আল্লাহ্ তাঁর রিসালাত দান এবং বাক্যালাপ দ্বারা সম্মানিত করেছিলেন। অতঃপরও আপনি আমাকে এমন বিষয়ে দোষী করছেন, যা আমার সৃষ্টির আগেই আমার জন্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’বার বলেছেন, এ বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর ওপর বিজয়ী হন। (৪৭৩৬, ৪৭৩৮, ৬৬১৪, ৭৫১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬৭)
হাদিস নং: ৩৪১০
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا حصين بن نمير عن حصين بن عبد الرحمن عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما قال خرج علينا النبي صلى الله عليه وسلم يوما قال عرضت علي الامم ورايت سوادا كثيرا سد الافق فقيل هذا موسى في قومه
৩৪১০. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে আসলেন এবং বললেন, আমার নিকট সকল নবীর উম্মাতকে পেশ করা হয়েছিল। তখন আমি একটি বিরাট দল দেখলাম, যা দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত আবৃত করে ফেলেছিল। তখন বলা হলো, ইনি হলেন মূসা (আঃ) তাঁর কওমের মাঝে। (৫৭০৫, ৫৭৫২, ৬৪৭২, ৬৫৪১, মুসলিম ১/৯৪ হাঃ ২২০, আহমাদ ২৪৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬৮)
হাদিস নং: ৩৪১১
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن جعفر حدثنا وكيع عن شعبة عن عمرو بن مرة عن مرة الهمداني عن ابي موسى قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كمل من الرجال كثير ولم يكمل من النساء الا اسية امراة فرعون ومريم بنت عمران وان فضل عاىشة على النساء كفضل الثريد على ساىر الطعام
৩৪১১. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন। কিন্তু মহিলাদের মধ্যে ফির‘আউনের স্ত্রী আসিয়া এবং ইমরানের কন্যা মারইয়াম ব্যতীত আর কেউ পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়নি। তবে ‘আয়িশাহর মর্যাদা সব মহিলার উপর এমন, যেমন সারীদের (মাংসের সুরুয়ায় ভিজা রুটির) মর্যাদা সকল প্রকার খাদ্যের উপর। (৩৪৩৩, ৩৭৬৯, ৫৪১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৬৯)
হাদিস নং: ৩৪১২
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن سفيان قال حدثني الاعمش ح حدثنا ابو نعيم حدثنا سفيان عن الاعمش عن ابي واىل عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا يقولن احدكم اني خير من يونس زاد مسدد يونس بن متى
60/33. باب إِنَّ قَرُوْنَ كَانَ مِنْ قَوْمِ مُوْسٰى الآية (القصص : 76)
৬০/৩৩. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই কারূন ছিল মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায় ভুক্ত। .... (আল-কাসাস ৭৬)
لَتَنُوْٓءُ لَتُثْقِلُ . قال ابْنُ عَبَّاسٍ : أُولِى الْقُوَّةِ (القصص : 76) لَا يَرْفَعُهَا الْعُصْبَةُ مِنَ الرِّجَالِ . يُقَالُ : الفَرِحِيْنَ المرِحِيْنَ . وَيْكَأَنَّ اللهَ مِثْلُ : أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَّشَآءُ وَيَقْدِرُ . يُوَسَّعُ عَلَيْهِ وَيُضَيِّقُ .
لَتَنُوْءُ অর্থ অবশ্যই কষ্টসাধ্য ছিল। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, أولِى الْقُوَّةِ অর্থ একদল বলবান লোকও তাঁর চাবিগুলো বহন করতে পারতো না। বলা হয় الفرِحِيْنَ অর্থ দাম্ভিক লোকগুলো। أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ হচেছ وَيْكَأَنَّ اللهَ এর মত, অর্থ তুমি দেখলেতো, আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা রিয্ক্ বেশি করে দেন, আর যাকে ইচ্ছা কম করে দেন....। (লুকমান ৩৭)
60/34. باب قول الله تعالى : وَإِلٰى مَدْيَنَ أَخٰهُمْ شُعَيْبًا (الأعراف : 85, هود : 84, والعنكبوت : 36)
৬০/৩৪. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শু’আইবকে পাঠিয়েছিলাম। (আ’রাফ ৮৫, হুদ ৪৮ ও ’আনকাবূত ৩৬ )
إلى أَهْلِ مَدْيَنِ لِأَنَّ مَدْيَنَ بَلَدٌ ومِثْلُهُ وَسْئَلِ الْقَرْيَةَ (يوسف : 82) . وَاسألِ العِيْرَ يَعنِى أَهْلَ القَرْيَةِ وَأَهْلَ العِيْرِ . وَرَآءَكُمْ ظِهْرِيًّا لَمْ تَلْتَفِتُوْا إِلَيْهِ و وَيُقَالُ : إِذَا لَمْ تَقْضِ حَاجَتَهُ ظَهَرْتَ حَاجَتِيْ وَجَعَلَتْنِيْ ظِهْرِيًّا وَ قَالَ : الظِّهْرِيُّ أَنْ تَأْخُذَ مَعَكَ دَابَّةً أَوْ وِعَاءً تَسْتَظْهِرُ بِهِ . مَكَانَتُهُمْ وَمَكَانُهُمْ وَاحِدٌ . يَغْنُوْا : يَعِيْشُوْا . يَأْيَسُ : نَحْزَنُ : اٰسى أحْزَنُ . وقال الْحَسَنُ إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ الرَّشِيْدُ . يَسْتَهْزِئُوْنَ بِهِ . قَالَ مُجَاهِدٌ : لَيْكَةُ الأَيٍكَةُ . يَوْمِ الظُّلَّةِ (الشعراء : 189) إِظْلَالُ الغَمَامُ : العَذَابُ عَلَيٍهِمْ.
إلى أَهْلِ مَدْيَنِ অর্থাৎ মাদ্ইয়ানবাসীদের প্রতি। কেননা মাদ্ইয়ান একটি জনপদ। যেমন وَسْئَلِ الْقَرْيَةَ - وَاسألِ العِيْرَ অর্থাৎ জনপদবাসী ও যাত্রীদল। وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا অর্থাৎ তোমরা তার প্রতি ফিরে তাকাওনি। যখন কারোও কোনো প্রয়োজন পুরা না করবে, তখন বলা হয়- তুমি আমার প্রয়োজনকে পিছনে ফেলে রেখেছো। অথবা তুমি আমার প্রতি ফিরে তাকাওনি। الظِّهْرِيُّ অর্থ-তুমি তোমার সঙ্গে কোন বাহন অথবা বাসন রাখতে যার দ্বারা তুমি উপকৃত হবে। مَكَانَتُهُمْI مَكَانُهُمْ একই অর্থ। يَغْنُوْا অর্থ জীবন যাপন। يَأْيَسُ অর্থ চিন্তিত হওয়া آسى অর্থ দুঃখিত হবো। হাসান (রহ.) বলেন, إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ الرَّشِيْدُ অর্থাৎ তুমি তো অবশ্যই সহিষ্ণু সদাচারী- (হুদ ৮৭)। এখানে কাফিরেরা ঠাট্টাচ্ছলে বলতো। আর মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَيْكَةُ মূলতঃ الأَيٍكَةُ ছিল। يَوْمِ الظُّلَّةِ অর্থ-তাদের জন্য মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব।
قَالَ مُجَاهِدٌ : مُذْنِبُ . المَشْحُوْنُ : المُوْقَرُ . فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِيْنَ الآية (الصافات : 143) فَنَبْذْنَهُ بِالْعَرَاءِ بِوَجْهِ الأَرْضِ وَهُوَ سَقِيْمٌ (الصافات : 145). وَأًنْبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةٌ مِّنْ يَّقْطِيْنٍ (الصافات : 146) . من غَيْرِ ذَاتِ أَصْلِ الدُّبَّاءِ ونَحْوِهِ . وَأَرْسَلْنَاهُ إِلٰى مِائَةٍ أَلْفٍ أَوْ يَزِيْدُوْنَ (الصافات 147) . فأَمِنُوْا فَمَتَّعْنٰهُمْ إِلٰى حِيْنٍ (الصافات : 148) وَلَا تَكُنْ كَصٰحِبِ الْحُوْتِ إِذْ نٰدٰى وَهُوَ مَكْظُوْمٌ (القلم : 48) كَظِيْمٌ وَهُوَ مَغْمُوْمٌ .
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُلِيْمٌ অর্থ-অপরাধী المَشْحُوْنُ অর্থ-বোঝাই নৌযান। (আল্লাহর বাণী) সুতরাং যদি তিনি আল্লাহর তাসবীহ পাঠকারী না হতেন- (আস্ সাফফাত ১৪৩)। অতঃপর আমি তাকে নিক্ষেপ করলাম এক ময়দানে এবং তিনি ছিলেন পীড়িত। আর আমি উৎপন্ন করলাম তার উপর এক লাউ গাছ- (আস্ সাফফাত ১৪৫-১৪৬)। الْعَرَاءِ অর্থ-যমীনের উপরিভাগ। يَّقْطِيْن অর্থ-কান্ডবিহীন তৃণলতা, যেমন লাউ গাছ ও তার সদৃশ। (মহান আল্লাহর বাণী) আমি তাকে রাসূল করে পাঠিয়েছিলাম এক লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি। তারা ঈমান এনেছিল, ফলে আমি তাদেরকে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত জীবনোপভোগ করতে দিয়েছিলাম- (আস্ সাফফাত ১৪৭-৪৮)। (মহান আল্লাহর বাণী) অতএব, আপনি ধৈর্যধারণ করুন আপনার রবের নির্দেশের অপেক্ষায়। আপনি মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন তিনি চিন্তায়-বিপদে আচ্ছন্ন অবস্থায় কাতর প্রার্থনা করেছিলেন- (কলম ৪৮)। كَظِيْمٌ অর্থ-বিষাদাচ্ছন্ন।
৩৪১২. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে যে, আমি অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইউনুস (আঃ) হতে উত্তম। মুসাদ্দাদ (রহ.) অতিরিক্ত বললেন, ইউনুস ইবনু মাত্তা। (৪৬০৩, ৩৮০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭০)
৬০/৩৩. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই কারূন ছিল মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায় ভুক্ত। .... (আল-কাসাস ৭৬)
لَتَنُوْٓءُ لَتُثْقِلُ . قال ابْنُ عَبَّاسٍ : أُولِى الْقُوَّةِ (القصص : 76) لَا يَرْفَعُهَا الْعُصْبَةُ مِنَ الرِّجَالِ . يُقَالُ : الفَرِحِيْنَ المرِحِيْنَ . وَيْكَأَنَّ اللهَ مِثْلُ : أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَّشَآءُ وَيَقْدِرُ . يُوَسَّعُ عَلَيْهِ وَيُضَيِّقُ .
لَتَنُوْءُ অর্থ অবশ্যই কষ্টসাধ্য ছিল। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, أولِى الْقُوَّةِ অর্থ একদল বলবান লোকও তাঁর চাবিগুলো বহন করতে পারতো না। বলা হয় الفرِحِيْنَ অর্থ দাম্ভিক লোকগুলো। أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ হচেছ وَيْكَأَنَّ اللهَ এর মত, অর্থ তুমি দেখলেতো, আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা রিয্ক্ বেশি করে দেন, আর যাকে ইচ্ছা কম করে দেন....। (লুকমান ৩৭)
60/34. باب قول الله تعالى : وَإِلٰى مَدْيَنَ أَخٰهُمْ شُعَيْبًا (الأعراف : 85, هود : 84, والعنكبوت : 36)
৬০/৩৪. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শু’আইবকে পাঠিয়েছিলাম। (আ’রাফ ৮৫, হুদ ৪৮ ও ’আনকাবূত ৩৬ )
إلى أَهْلِ مَدْيَنِ لِأَنَّ مَدْيَنَ بَلَدٌ ومِثْلُهُ وَسْئَلِ الْقَرْيَةَ (يوسف : 82) . وَاسألِ العِيْرَ يَعنِى أَهْلَ القَرْيَةِ وَأَهْلَ العِيْرِ . وَرَآءَكُمْ ظِهْرِيًّا لَمْ تَلْتَفِتُوْا إِلَيْهِ و وَيُقَالُ : إِذَا لَمْ تَقْضِ حَاجَتَهُ ظَهَرْتَ حَاجَتِيْ وَجَعَلَتْنِيْ ظِهْرِيًّا وَ قَالَ : الظِّهْرِيُّ أَنْ تَأْخُذَ مَعَكَ دَابَّةً أَوْ وِعَاءً تَسْتَظْهِرُ بِهِ . مَكَانَتُهُمْ وَمَكَانُهُمْ وَاحِدٌ . يَغْنُوْا : يَعِيْشُوْا . يَأْيَسُ : نَحْزَنُ : اٰسى أحْزَنُ . وقال الْحَسَنُ إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ الرَّشِيْدُ . يَسْتَهْزِئُوْنَ بِهِ . قَالَ مُجَاهِدٌ : لَيْكَةُ الأَيٍكَةُ . يَوْمِ الظُّلَّةِ (الشعراء : 189) إِظْلَالُ الغَمَامُ : العَذَابُ عَلَيٍهِمْ.
إلى أَهْلِ مَدْيَنِ অর্থাৎ মাদ্ইয়ানবাসীদের প্রতি। কেননা মাদ্ইয়ান একটি জনপদ। যেমন وَسْئَلِ الْقَرْيَةَ - وَاسألِ العِيْرَ অর্থাৎ জনপদবাসী ও যাত্রীদল। وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا অর্থাৎ তোমরা তার প্রতি ফিরে তাকাওনি। যখন কারোও কোনো প্রয়োজন পুরা না করবে, তখন বলা হয়- তুমি আমার প্রয়োজনকে পিছনে ফেলে রেখেছো। অথবা তুমি আমার প্রতি ফিরে তাকাওনি। الظِّهْرِيُّ অর্থ-তুমি তোমার সঙ্গে কোন বাহন অথবা বাসন রাখতে যার দ্বারা তুমি উপকৃত হবে। مَكَانَتُهُمْI مَكَانُهُمْ একই অর্থ। يَغْنُوْا অর্থ জীবন যাপন। يَأْيَسُ অর্থ চিন্তিত হওয়া آسى অর্থ দুঃখিত হবো। হাসান (রহ.) বলেন, إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ الرَّشِيْدُ অর্থাৎ তুমি তো অবশ্যই সহিষ্ণু সদাচারী- (হুদ ৮৭)। এখানে কাফিরেরা ঠাট্টাচ্ছলে বলতো। আর মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَيْكَةُ মূলতঃ الأَيٍكَةُ ছিল। يَوْمِ الظُّلَّةِ অর্থ-তাদের জন্য মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব।
قَالَ مُجَاهِدٌ : مُذْنِبُ . المَشْحُوْنُ : المُوْقَرُ . فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِيْنَ الآية (الصافات : 143) فَنَبْذْنَهُ بِالْعَرَاءِ بِوَجْهِ الأَرْضِ وَهُوَ سَقِيْمٌ (الصافات : 145). وَأًنْبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةٌ مِّنْ يَّقْطِيْنٍ (الصافات : 146) . من غَيْرِ ذَاتِ أَصْلِ الدُّبَّاءِ ونَحْوِهِ . وَأَرْسَلْنَاهُ إِلٰى مِائَةٍ أَلْفٍ أَوْ يَزِيْدُوْنَ (الصافات 147) . فأَمِنُوْا فَمَتَّعْنٰهُمْ إِلٰى حِيْنٍ (الصافات : 148) وَلَا تَكُنْ كَصٰحِبِ الْحُوْتِ إِذْ نٰدٰى وَهُوَ مَكْظُوْمٌ (القلم : 48) كَظِيْمٌ وَهُوَ مَغْمُوْمٌ .
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُلِيْمٌ অর্থ-অপরাধী المَشْحُوْنُ অর্থ-বোঝাই নৌযান। (আল্লাহর বাণী) সুতরাং যদি তিনি আল্লাহর তাসবীহ পাঠকারী না হতেন- (আস্ সাফফাত ১৪৩)। অতঃপর আমি তাকে নিক্ষেপ করলাম এক ময়দানে এবং তিনি ছিলেন পীড়িত। আর আমি উৎপন্ন করলাম তার উপর এক লাউ গাছ- (আস্ সাফফাত ১৪৫-১৪৬)। الْعَرَاءِ অর্থ-যমীনের উপরিভাগ। يَّقْطِيْن অর্থ-কান্ডবিহীন তৃণলতা, যেমন লাউ গাছ ও তার সদৃশ। (মহান আল্লাহর বাণী) আমি তাকে রাসূল করে পাঠিয়েছিলাম এক লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি। তারা ঈমান এনেছিল, ফলে আমি তাদেরকে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত জীবনোপভোগ করতে দিয়েছিলাম- (আস্ সাফফাত ১৪৭-৪৮)। (মহান আল্লাহর বাণী) অতএব, আপনি ধৈর্যধারণ করুন আপনার রবের নির্দেশের অপেক্ষায়। আপনি মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন তিনি চিন্তায়-বিপদে আচ্ছন্ন অবস্থায় কাতর প্রার্থনা করেছিলেন- (কলম ৪৮)। كَظِيْمٌ অর্থ-বিষাদাচ্ছন্ন।
৩৪১২. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে যে, আমি অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইউনুস (আঃ) হতে উত্তম। মুসাদ্দাদ (রহ.) অতিরিক্ত বললেন, ইউনুস ইবনু মাত্তা। (৪৬০৩, ৩৮০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭০)
হাদিস নং: ৩৪১৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا حفص بن عمر حدثنا شعبة عن قتادة عن ابي العالية عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما ينبغي لعبد ان يقول اني خير من يونس بن متى ونسبه الى ابيه
৩৪১৩. ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কারো জন্য এ কথা বলা উচিত নয় যে, নিশ্চয়ই আমি (মুহাম্মদ) ইউনুস ইবনু মাত্তা হতে উত্তম। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (ইউনুসকে) তাঁর পিতার দিকে সম্পর্কিত করেছেন। (৩৩৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭১)
হাদিস নং: ৩৪১৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير عن الليث عن عبد العزيز بن ابي سلمة عن عبد الله بن الفضل عن الاعرج عن ابي هريرة قال بينما يهودي يعرض سلعته اعطي بها شيىا كرهه فقال لا والذي اصطفى موسى على البشر فسمعه رجل من الانصار فقام فلطم وجهه وقال تقول والذي اصطفى موسى على البشر والنبي صلى الله عليه وسلم بين اظهرنا فذهب اليه فقال ابا القاسم ان لي ذمة وعهدا فما بال فلان لطم وجهي فقال لم لطمت وجهه فذكره فغضب النبي صلى الله عليه وسلم حتى رىي في وجهه ثم قال لا تفضلوا بين انبياء الله فانه ينفخ في الصور فيصعق من في السموات ومن في الارض الا من شاء الله ثم ينفخ فيه اخرى فاكون اول من بعث فاذا موسى اخذ بالعرش فلا ادري احوسب بصعقته يوم الطور ام بعث قبلي
৩৪১৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক ইয়াহূদী তার কিছু দ্রব্য সামগ্রী বিক্রির জন্য পেশ করছিল, তার বিনিময়ে তাকে এমন কিছু দেয়া হলো যা সে পছন্দ করল না। তখন সে বলল, না! সেই সত্তার কসম, যে মূসা (আঃ)-কে মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন। এ কথাটি একজন আনসারী শুনলেন, তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। আর তার মুখের উপর এক চড় মারলেন। আর বললেন, তুমি বলছো, সেই সত্তার কসম! যিনি মূসাকে মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে অবস্থান করছেন। তখন সে ইয়াহূদী লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলো এবং বলল, হে আবুল কাসিম! নিশ্চয়ই আমার জন্য নিরাপত্তা এবং অঙ্গীকার রয়েছে অর্থাৎ আমি একজন যিম্মী। অমুক ব্যক্তি কী কারণে আমার মুখে চড় মারলো? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তুমি তার মুখে চড় মারলে? আনসারী লোকটি ঘটনা বর্ণনা করলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন। এমনকি তাঁর চেহারায় তা দেখা গেল। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর নবীগণের মধ্যে কাউকে কারো উপর মর্যাদা দান করো না। কেননা কিয়ামতের দিন যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন আল্লাহ্ যাকে চাইবেন সে ছাড়া আসমান ও যমীনের বাকী সবাই বেহুশ হয়ে যাবে। অতঃপর দ্বিতীয়বার তাতে ফুঁক দেয়া হবে। তখন সর্বপ্রথম আমাকেই উঠানো হবে। তখনই আমি দেখতে পাব মূসা (আঃ) আরশ ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, তূর পর্বতের ঘটনার দিন তিনি যে বেহুশ হয়েছিলেন, এটা কি তারই বিনিময়, না আমার আগেই তাঁকে বেহুশি থেকে উঠানো হয়েছে? (২৪১১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭২)
হাদিস নং: ৩৪১৫
সহিহ (Sahih)
. ولا اقول ان احدا افضل من يونس بن متى
৩৪১৫. আর আমি এ কথাও বলি না যে কোন ব্যক্তি ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী। (৩৪১৬, ৪৬০৪, ৪৬৩১, ৪৮০৫)
হাদিস নং: ৩৪১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد حدثنا شعبة عن سعد بن ابراهيم سمعت حميد بن عبد الرحمن عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا ينبغي لعبد ان يقول انا خير من يونس بن متى
৩৪১৬. আবূ হুরাযরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন বান্দার জন্যই এ কথা বলা সমীচীন নয় যে, আমি (মুহাম্মদ) ইউনুস ইবনু মাত্তার থেকে উত্তম। (৩৪১৫, মুসলিম ৪৩/৪৩ হাঃ ২৩৭৬, আহমাদ ১০০৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭৩)
হাদিস নং: ৩৪১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن همام عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال خفف على داود عليه السلام القران فكان يامر بدوابه فتسرج فيقرا القران قبل ان تسرج دوابه ولا ياكل الا من عمل يده رواه موسى بن عقبة عن صفوان عن عطاء بن يسار عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم
60/36. بَابُ وَسْئَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِىْ كَانَتْ حٰضِرَةَ الْبَحْرِ إِذْ يَعْدُوْنَ فِى السَّبْتِ (الأعراف : 163)
৬০/৩৬. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ আর তাদেরকে সমুদ্র তীরবর্তী জনপদবাসীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস কর। যখন তারা শনিবার সীমালঙ্ঘন করতো। (আ’রাফ ১৬৩)
يَعْدُوْنَ : يَتَعَدَّوْنَ يُجَاوِزُوْنَ فِي السَّبْتِ إِذْ تَأْتِيْهِمْ حِيْتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًا شَوَارِعَ وَيَوْمَ لَا يَسْبِتُوْنَ إِلَى قَوْلِهِ كُوْنُوْا قِرَدَةً خَاسِئِيْنَ (الأعراف : 166) بَئِيسٌ شَدِيْدٌ
يَعدُوْنَ অর্থ সীমালঙ্ঘন করতো। সমুদ্রের মাছগুলো শনিবার উদযাপনের দিন পানির উপর ভেসে তাদের নিকট আসতো। شُرَّعًا অর্থ পানিতে ভেসে আর যেদিন তারা শনিবার উদ্যাপন করতো না.... মহান আল্লাহর বাণীঃ خَاسِئِيْنَ পর্যন্ত। بَئِيسٌ ঘৃণিত-ভীষণ অপদস্থ।
الزُّبُرُ الْكُتُبُ وَاحِدُهَا زَبُوْرٌ زَبَرْتُ كَتَبْتُ وَلَقَدْ اٰتَيْنَا دَاو”دَ مِنَّا فَضْلًا يٰجِبَالُ أَوِّبِيْ مَعَه” وَالطَّيْرَ ط وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيْدَ أَنْ اعْمَلْ سَابِغَاتٍ وَّقَدِّرْ فِي السَّرْدِ (اسبأ : 10-11) قَالَ مُجَاهِدٌ سَبِّحِيْ مَعَهُ وَالطَّيْرَ وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيْدَ أَنْ اعْمَلْ سَابِغَاتٍ الدُّرُوعَ وَقَدِّرْ فِي السَّرْدِ الْمَسَامِيْرِ وَالْحَلَقِ وَلَا يُدِقَّ الْمِسْمَارَ فَيَتَسَلْسَلَ وَلَا يُعَظِّمْ فَيَفْصِمَ . أفرغ : لآنزل. بَسْطَةً زيادة وفضلا. وَاعْمَلُوْا صَالِحًا إِنِّيْ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِيْرٌ (اسبأ : 10-11)
الزُّبُرُ কিতাবসমূহ। তার একবচনে زَبُوْرٌ আর زَبَرْتُ আমি লিখেছি। আর আমি আমার পক্ষ হতে দাউদকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিলাম। হে পর্বত! তাঁর সঙ্গে মিলে আমার তাসবীহ পাঠ কর। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, তার সঙ্গে তাসবীহ পাঠ কর। سَابِغَاتٍ লৌহবর্মসমূহ। আর এ নির্দেশ আমি পাখীকেও দিয়েছিলাম। আমি তাঁর জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলাম। তুমি লৌহবর্ম তৈরি করতে সঠিক পরিমাপের প্রতি লক্ষ্য রেখো। السَّرْدِ পেরেক ও কড়াসমূহ। পেরেক এমন ছোট করে তৈরি করো না যাতে তা ঢিলে হয়ে যায়। আর এতো বড় করোনা যাতে বর্ম ভেঙ্গে যায়। أفرغ অর্থ-অবতীর্ণ করা। بَسْطَةً অর্থ-বেশী ও সমৃদ্ধ। ’’আর সৎকর্ম কর, নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আমি তা দেখি।’’ (সাবা ১০-১১)
৩৪১৭. আবূ হুরাযরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাউদ (আঃ)-এর জন্য কুরআন (যাবুর) তিলাওয়াত সহজ করে দেয়া হয়েছিল। তিনি তাঁর পশুযানে গদি বাঁধার আদেশ করতেন, তখন তার উপর গদি বাঁধা হতো। অতঃপর তাঁর পশুযানের ওপর গদি বাঁধার পূর্বেই তিনি যাবুর তিলাওয়াত করে শেষ করে ফেলতেন। তিনি নিজ হাতে উপার্জন করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। মূসা ইবনু ’উকবাহ (রহ.).....আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। (২০৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭৪)
৬০/৩৬. অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ আর তাদেরকে সমুদ্র তীরবর্তী জনপদবাসীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস কর। যখন তারা শনিবার সীমালঙ্ঘন করতো। (আ’রাফ ১৬৩)
يَعْدُوْنَ : يَتَعَدَّوْنَ يُجَاوِزُوْنَ فِي السَّبْتِ إِذْ تَأْتِيْهِمْ حِيْتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًا شَوَارِعَ وَيَوْمَ لَا يَسْبِتُوْنَ إِلَى قَوْلِهِ كُوْنُوْا قِرَدَةً خَاسِئِيْنَ (الأعراف : 166) بَئِيسٌ شَدِيْدٌ
يَعدُوْنَ অর্থ সীমালঙ্ঘন করতো। সমুদ্রের মাছগুলো শনিবার উদযাপনের দিন পানির উপর ভেসে তাদের নিকট আসতো। شُرَّعًا অর্থ পানিতে ভেসে আর যেদিন তারা শনিবার উদ্যাপন করতো না.... মহান আল্লাহর বাণীঃ خَاسِئِيْنَ পর্যন্ত। بَئِيسٌ ঘৃণিত-ভীষণ অপদস্থ।
الزُّبُرُ الْكُتُبُ وَاحِدُهَا زَبُوْرٌ زَبَرْتُ كَتَبْتُ وَلَقَدْ اٰتَيْنَا دَاو”دَ مِنَّا فَضْلًا يٰجِبَالُ أَوِّبِيْ مَعَه” وَالطَّيْرَ ط وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيْدَ أَنْ اعْمَلْ سَابِغَاتٍ وَّقَدِّرْ فِي السَّرْدِ (اسبأ : 10-11) قَالَ مُجَاهِدٌ سَبِّحِيْ مَعَهُ وَالطَّيْرَ وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيْدَ أَنْ اعْمَلْ سَابِغَاتٍ الدُّرُوعَ وَقَدِّرْ فِي السَّرْدِ الْمَسَامِيْرِ وَالْحَلَقِ وَلَا يُدِقَّ الْمِسْمَارَ فَيَتَسَلْسَلَ وَلَا يُعَظِّمْ فَيَفْصِمَ . أفرغ : لآنزل. بَسْطَةً زيادة وفضلا. وَاعْمَلُوْا صَالِحًا إِنِّيْ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِيْرٌ (اسبأ : 10-11)
الزُّبُرُ কিতাবসমূহ। তার একবচনে زَبُوْرٌ আর زَبَرْتُ আমি লিখেছি। আর আমি আমার পক্ষ হতে দাউদকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিলাম। হে পর্বত! তাঁর সঙ্গে মিলে আমার তাসবীহ পাঠ কর। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, তার সঙ্গে তাসবীহ পাঠ কর। سَابِغَاتٍ লৌহবর্মসমূহ। আর এ নির্দেশ আমি পাখীকেও দিয়েছিলাম। আমি তাঁর জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলাম। তুমি লৌহবর্ম তৈরি করতে সঠিক পরিমাপের প্রতি লক্ষ্য রেখো। السَّرْدِ পেরেক ও কড়াসমূহ। পেরেক এমন ছোট করে তৈরি করো না যাতে তা ঢিলে হয়ে যায়। আর এতো বড় করোনা যাতে বর্ম ভেঙ্গে যায়। أفرغ অর্থ-অবতীর্ণ করা। بَسْطَةً অর্থ-বেশী ও সমৃদ্ধ। ’’আর সৎকর্ম কর, নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আমি তা দেখি।’’ (সাবা ১০-১১)
৩৪১৭. আবূ হুরাযরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাউদ (আঃ)-এর জন্য কুরআন (যাবুর) তিলাওয়াত সহজ করে দেয়া হয়েছিল। তিনি তাঁর পশুযানে গদি বাঁধার আদেশ করতেন, তখন তার উপর গদি বাঁধা হতো। অতঃপর তাঁর পশুযানের ওপর গদি বাঁধার পূর্বেই তিনি যাবুর তিলাওয়াত করে শেষ করে ফেলতেন। তিনি নিজ হাতে উপার্জন করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। মূসা ইবনু ’উকবাহ (রহ.).....আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। (২০৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭৪)
হাদিস নং: ৩৪১৮
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب ان سعيد بن المسيب اخبره وابا سلمة بن عبد الرحمن ان عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال اخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم اني اقول والله لاصومن النهار ولاقومن الليل ما عشت فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم انت الذي تقول والله لاصومن النهار ولاقومن الليل ما عشت قلت قد قلته قال انك لا تستطيع ذلك فصم وافطر وقم ونم وصم من الشهر ثلاثة ايام فان الحسنة بعشر امثالها وذلك مثل صيام الدهر فقلت اني اطيق افضل من ذلك يا رسول الله قال فصم يوما وافطر يومين قال قلت اني اطيق افضل من ذلك قال فصم يوما وافطر يوما وذلك صيام داود وهو اعدل الصيام قلت اني اطيق افضل منه يا رسول الله قال لا افضل من ذلك
৩৪১৮. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানান হলো যে, আমি বলছি, আল্লাহর কসম! আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন অবশ্যই আমি অবিরত দিনে সওম পালন করবো আর রাতে ‘ইবাদাতে রত থাকবো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তুমিই কি বলেছো, ‘আল্লাহর শপথ! আমি যতদিন বাঁচবো, ততদিন দিনে সওম পালন করবো এবং রাতে ‘ইবাদাতে মশগুল থাকবো। আমি আরয করলাম, আমিই তা বলেছি। তিনি বললেন, সেই শক্তি তোমার নেই। কাজেই সওমও পালন কর, ইফ্তারও কর। রাতে ‘ইবাদাতও কর এবং ঘুমও যাও। আর প্রতি মাসে তিন দিন সওম পালন কর। কেননা প্রতিটি নেক কাজের কমপক্ষে দশগুণ সাওয়াব পাওয়া যায় আর এটা সারা বছর সওম পালন করার সমান। তখন আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এর থেকেও অধিক সওম পালন করার ক্ষমতা রাখি। তখন তিনি বললেন, তাহলে তুমি একদিন সওম পালন কর আর দু’দিন ইফ্তার কর। তখন আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এ থেকেও অধিক পালন করার শক্তি রাখি। তখন তিনি বললেন, তাহলে একদিন সওম পালন কর আর একদিন বিরতি দাও। এটা দাউদ (আঃ)-এর সওম পালনের নিয়ম। আর এটাই সওম পালনের উত্তম নিয়ম। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এ থেকেও অধিক শক্তি রাখি। তিনি বললেন, এ থেকে বেশি কিছু নেই। (১১৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭৫)
হাদিস নং: ৩৪১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا خلاد بن يحيى حدثنا مسعر حدثنا حبيب بن ابي ثابت عن ابي العباس عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم الم انبا انك تقوم الليل وتصوم النهار فقلت نعم فقال فانك اذا فعلت ذلك هجمت العين ونفهت النفس صم من كل شهر ثلاثة ايام فذلك صوم الدهر او كصوم الدهر قلت اني اجد بي قال مسعر يعني قوة قال فصم صوم داود عليه السلام وكان يصوم يوما ويفطر يوما ولا يفر اذا لاقى
৩৪১৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি জ্ঞাত হইনি যে, তুমি রাত ভর ‘ইবাদাত কর এবং দিন ভর সওম পালন কর! আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, যদি তুমি এমন কর; তবে তোমার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাবে এবং দেহ ক্লান্ত হয়ে যাবে। কাজেই প্রতি মাসে তিন দিন সওম পালন কর। তাহলে তা সারা বছরের সওমের সমতুল্য হয়ে যাবে। আমি বললাম, আমি আমার মধ্যে আরো অধিক পাই। মিসআর (রাঃ) বলেন, এখানে শক্তি বুঝানো হয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি দাউদ (আঃ)-এর নিয়মে সওম পালন কর। তিনি একদিন সওম পালন করতেন আর একদিন বিরত থাকতেন। আর শত্রুর মুখোমুখী হলে তিনি কখনও পালিয়ে যেতেন না। (১১৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭৬)
হাদিস নং: ৩৪২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان عن عمرو بن دينار عن عمرو بن اوس الثقفي سمع عبد الله بن عمرو قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم احب الصيام الى الله صيام داود كان يصوم يوما ويفطر يوما واحب الصلاة الى الله صلاة داود كان ينام نصف الليل ويقوم ثلثه وينام سدسه
قَالَ عَلِيٌّ وَهُوَ قَوْلُ عَائِشَةَ مَا أَلْفَاهُ السَّحَرُ عِنْدِيْ إِلَّا نَائِمًا
‘আলী (ইবনু মদ্বীনী) (রহ.) বলেন, এটাই ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কথা যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সাহরীকালে আমার নিকট নিদ্রিত থাকতেন।
৩৪২০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় সওম হলো দাঊদ (আঃ)-এর নিয়মে সওম পালন করা। তিনি একদিন সওম পালন করতেন আর একদিন বিরত থাকতেন। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় সালাত হলো দাঊদ (আঃ)-এর নিয়মে সালাত আদায় করা। তিনি রাতের অর্ধাংশ ঘুমাতেন, রাতের এক তৃতীয়াংশ সালাতে দাঁড়াতেন আর বাকী ষষ্ঠাংশ আবার ঘুমাতেন। (১১৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭৭)
‘আলী (ইবনু মদ্বীনী) (রহ.) বলেন, এটাই ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কথা যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সাহরীকালে আমার নিকট নিদ্রিত থাকতেন।
৩৪২০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় সওম হলো দাঊদ (আঃ)-এর নিয়মে সওম পালন করা। তিনি একদিন সওম পালন করতেন আর একদিন বিরত থাকতেন। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় সালাত হলো দাঊদ (আঃ)-এর নিয়মে সালাত আদায় করা। তিনি রাতের অর্ধাংশ ঘুমাতেন, রাতের এক তৃতীয়াংশ সালাতে দাঁড়াতেন আর বাকী ষষ্ঠাংশ আবার ঘুমাতেন। (১১৩১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭৭)
হাদিস নং: ৩৪২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد حدثنا سهل بن يوسف قال سمعت العوام عن مجاهد قال قلت لابن عباس انسجد في ص فقرا ومن ذريته داو”د وسليمان (الانعام : 84) حتى اتى فبهداهم اقتده (ال عمران : 90) فقال ابن عباس رضي الله عنهما نبيكم صلى الله عليه وسلم ممن امر ان يقتدي بهم
قَالَ مُجَاهِدٌ الْفَهْمُ فِي الْقَضَاءِ وَلَا تُشْطِطْ لَا تُسْرِفْ وَاهْدِنَآ إِلٰى سَوَآءِ الصِّرَاطِ (ص : 22) إِنَّ هٰذَآ أَخِيْ لَهُ تِسْعٌ وَتِسْعُوْنَ نَعْجَةً (ص : 23) يُقَالُ لِلْمَرْأَةِ نَعْجَةٌ وَيُقَالُ لَهَا أَيْضًا شَاةٌ وَلِيْ نَعْجَةٌ وَّاحِدَةٌ فَقَالَ أَكْفِلْنِيْهَا مِثْلُ وَكَفَلَهَا زَكَرِيَّاءُ (آل عمران : 37) ضَمَّهَا وَعَزَّنِي غَلَبَنِيْ صَارَ أَعَزَّ مِنِّيْ أَعْزَزْتُهُ جَعَلْتُهُ عَزِيْزًا فِيْ الْخِطَابِ يُقَالُ الْمُحَاوَرَةُ قَالَ لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ إِلٰى نِعٰجِهِ (ص : 24) وَإِنَّ كَثِيْرًا مِّنْ الْخُلَطَآءِ الشُّرَكَآءِ لَيَبْغِي إِلَى قَوْلِهِ أَنَّمَا فَتَنَّاهُ (ص : 24) قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ اخْتَبَرْنَاهُ وَقَرَأَ عُمَرُ فَتَّنَّاهُ بِتَشْدِيْدِ التَّاءِ فَاسْتَغْفَرَ رَبَّه” وَخَرَّ رٰكِعًا وَأَنٰبَ (ص : 24)
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, فَصْلَ الْخِطَابِ অর্থ বিচার-ফায়সালার সঠিক জ্ঞান। وَلَا تُشْطِطْ অবিচার করবে না। (আল্লাহর বাণী) আমাদের সঠিক পথ নির্দেশ করুন। এ আমার ভাই, তার আছে নিরানব্বইটি দুম্বা এবং আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা। نَعْجَةً মহিলা এবং বকরী উভয়কে বলা হয়ে থাকে- সে বলে আমার যিম্মায় এটি দিয়ে দাও। এ বাক্য كَفَلَهَا زَكَرِيَّاءُ -এর মত অর্থাৎ যাকারিয়া তার যিম্মায় মারইয়ামকে নিয়ে নিলেন। وَعَزَّنِيْ في الْخِطَابِ এবং কথায় সে আমার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেছে। عَزَّنِيْ অর্থ আমার উপর সে প্রবল হয়েছে। আমার চেয়ে সে প্রবল। أَعْزَزْتُهُ অর্থ তাকে আমি প্রবল করে দিলাম।خِطَابِ অর্থ কথা-বাক্যালাপ। (আল্লাহর বাণী) দাঊদ বললেনঃ এ ব্যক্তি তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বাগুলোর সাথে সংযুক্ত করার দাবি করে তোমার প্রতি অবশ্যই জুলুম করেছে। আর অধিকাংশ শরীকেরাই একে অন্যের উপর অন্যায় আচরণ করে থাকে- (সোয়াদ ২৪)। الْخُلَطَاءِ অর্থ শরীকগণ فَتَّنَّاهُ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এর অর্থ পরীক্ষা করলাম। ‘উমার (রাঃ) فَتَّنَّاهُ শব্দে تاء হরফে তাশদীদ দিয়ে পাঠ করেছেন। (আল্লাহর বাণী) অতএব তিনি তার রবের সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ও তাঁর অভিমুখী হলেন। (সোয়াদ ২৪)
৩৪২১. মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমরা কি সূরা ছোয়াদ পাঠ করে সাজ্দাহ করবো? তখন তিনি وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ دَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ হতে فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব মহান ব্যক্তিদের একজন, যাঁদেরকে পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। (৬ঃ ৮৪-৯০) (৪৬৩২, ৪৮০৬, ৪৮০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭১)
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, فَصْلَ الْخِطَابِ অর্থ বিচার-ফায়সালার সঠিক জ্ঞান। وَلَا تُشْطِطْ অবিচার করবে না। (আল্লাহর বাণী) আমাদের সঠিক পথ নির্দেশ করুন। এ আমার ভাই, তার আছে নিরানব্বইটি দুম্বা এবং আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা। نَعْجَةً মহিলা এবং বকরী উভয়কে বলা হয়ে থাকে- সে বলে আমার যিম্মায় এটি দিয়ে দাও। এ বাক্য كَفَلَهَا زَكَرِيَّاءُ -এর মত অর্থাৎ যাকারিয়া তার যিম্মায় মারইয়ামকে নিয়ে নিলেন। وَعَزَّنِيْ في الْخِطَابِ এবং কথায় সে আমার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেছে। عَزَّنِيْ অর্থ আমার উপর সে প্রবল হয়েছে। আমার চেয়ে সে প্রবল। أَعْزَزْتُهُ অর্থ তাকে আমি প্রবল করে দিলাম।خِطَابِ অর্থ কথা-বাক্যালাপ। (আল্লাহর বাণী) দাঊদ বললেনঃ এ ব্যক্তি তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বাগুলোর সাথে সংযুক্ত করার দাবি করে তোমার প্রতি অবশ্যই জুলুম করেছে। আর অধিকাংশ শরীকেরাই একে অন্যের উপর অন্যায় আচরণ করে থাকে- (সোয়াদ ২৪)। الْخُلَطَاءِ অর্থ শরীকগণ فَتَّنَّاهُ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এর অর্থ পরীক্ষা করলাম। ‘উমার (রাঃ) فَتَّنَّاهُ শব্দে تاء হরফে তাশদীদ দিয়ে পাঠ করেছেন। (আল্লাহর বাণী) অতএব তিনি তার রবের সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন ও তাঁর অভিমুখী হলেন। (সোয়াদ ২৪)
৩৪২১. মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমরা কি সূরা ছোয়াদ পাঠ করে সাজ্দাহ করবো? তখন তিনি وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ دَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ হতে فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব মহান ব্যক্তিদের একজন, যাঁদেরকে পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। (৬ঃ ৮৪-৯০) (৪৬৩২, ৪৮০৬, ৪৮০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭১)
হাদিস নং: ৩৪২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا وهيب حدثنا ايوب عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال ليس ص من عزاىم السجود ورايت النبي صلى الله عليه وسلم يسجد فيها
৩৪২২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরা ছোয়াদের সিজ্দা একান্ত জরুরী নয়। কিন্তু আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ সূরায় সিজ্দা করতে দেখেছি। (১০৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৭৯)
হাদিস নং: ৩৪২৩
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا محمد بن جعفر حدثنا شعبة عن محمد بن زياد عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم ان عفريتا من الجن تفلت البارحة ليقطع علي صلاتي فامكنني الله منه فاخذته فاردت ان اربطه على سارية من سواري المسجد حتى تنظروا اليه كلكم فذكرت دعوة اخي سليمان رب هب لي ملكا لا ينبغي لاحد منم بعدي (ص : 35) فرددته خاسىا عفريت متمرد من انس او جان مثل زبنية جماعتها الزبانية
وَوَهَبْنَا لِدَاو”دَ سُلَيْمَانَ نِعْمَ الْعَبْدُ إِنَّه” أَوَّابٌ (ص : 30)
আর আমি দাঊদকে দান করলাম সুলাইমান। সে ছিল অতি উত্তম বান্দা। তিনি তো ছিলেন অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী। (সোয়াদ ৩০)
الرَّاجِعُ الْمُنِيْبُ وَقَوْلِهِ وَهَبْ لِيْ مُلْكًا لَا يَنْبَغِيْ لِأَحَدٍ مِّنْ بَعْدِيْ (ص : 35) وَقَوْلِهِ وَاتَّبَعُوْا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِيْنُ عَلٰى مُلْكِ سُلَيْمَانَ (البقرة : 102) وَلِسُلَيْمٰنَ الرِّيْحَ غُدُوُّهَا شَهْرٌوَرَوَاحُهَا شَهْرٌ (سبأ : 12) وَأَسَلْنَا لَهُ عَيْنَ الْقِطْرِ (سبأ : 12) أَذَبْنَا لَهُ عَيْنَ الْحَدِيْدِ وَمِنَ الْجِنِّ مَنْ يَّعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ إِلَى قَوْلِهِ مِنْ مَّحَارِيْبَ (سبأ : 12) قَالَ مُجَاهِدٌ بُنْيَانٌ مَا دُوْنَ الْقُصُوْرِ وَتَمَاثِيْلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ (سبأ : 12) كَالْحِيَاضِ لِلْإِبِلِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَالْجَوْبَةِ مِنْ الأَرْضِ وَقُدُوْرٍ رَاسِيَاتٍ اعْمَلُوْا آلَ دَاوُدَ شُكْرًا وَقَلِيْلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُوْرُ (سبأ : 12) فَلَمَّا قَضَيْنَا عَلَيْهِ الْمَوْتَ مَا دَلَّهُمْ عَلٰى مَوْتِهٰ إِلَّا دَآبَّةُ الأَرْضِ الأَرَضَةُ تَأْكُلُ مِنْسَأَتَهُ عَصَاهُ فَلَمَّا خَرَّ إِلَى قَوْلِهِ فِي الْعَذَابِ الْمُهِيْنِ (سبأ : 13-14) حُبَّ الْخَيْرِ عَنْ ذِكْرِ رَبِّي (ص : 32) فَطَفِقَ مَسْحًا بِالسُّوقِ (ص : 33) وَالأَعْنَاقِ يَمْسَحُ أَعْرَافَ الْخَيْلِ وَعَرَاقِيْبَهَا الْأَصْفَادُ الْوَثَاقُ قَالَ مُجَاهِدٌ الصَّافِنَاتُ صَفَنَ الْفَرَسُ رَفَعَ إِحْدَى رِجْلَيْهِ حَتَّى تَكُوْنَ عَلَى طَرَفِ الْحَافِرِ الْجِيَادُ السِّرَاعُ جَسَدًا شَيْطَانًا رُخَآءً طَيِّبَةً حَيْثُ أَصَابَ حَيْثُ شَاءَ فَامْنُنْ أَعْطِ بِغَيْرِ حِسَابٍ بِغَيْرِ حَرَجٍ
أَوَّابٌ অর্থ গোনাহ হতে ফিরে যে আল্লাহ্ অভিমুখী হয়। মহান আল্লাহর বাণীঃ তিনি প্রার্থনা করলেনঃ হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন রাজ্য দান করুন, যা আমি ছাড়া আর কারও ভাগ্যে যেন না জোটে- (সোয়াদ ৩৫)। মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা তা অনুসরণ করল যা শয়তানরা আবৃত্তি করত সুলাইমানের রাজত্বকালে- (আল-বাকারাহ ১০২) মহান আল্লাহর বাণীঃ আমি বায়ুকে সুলায়মানের অধীন করে দিলাম যা সকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত এবং বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। আর আমি তার জন্য বিগলিত তামার এক প্রস্রবণ প্রবাহিত করেছিলাম। أَسَلْنَا অর্থ বিগলিত করে দিলাম عَيْنَ الْقِطْرِ অর্থ লোহার প্রসবণ-আর কতক জ্বিন তাঁর রবের নির্দেশে তার সামনে কাজ করতো। তাদের যে কেউ আমার আদেশ অমান্য করে, তাকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি আস্বাদন করাব। জ্বিনেরা সুলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী তার জন্য প্রাসাদ তৈরি করত। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مَحَارِيْبَ অর্থ বড় বড় দালানের তুলনায় ছোট ইমারত-ভাস্কর্য শিল্প প্রস্তুত করতো, আর হাউজ সদৃশ বৃহদাকার রান্না করার পাত্র তৈরি করতো- যেমন উটের জন্য হাওম থাকে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, যেমন যমীনে গর্ত থাকে। আর তৈরি বিশাল বিশাল ডেকচি যা সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত। হে দাউদের পরিবার! আমার কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ কর। আর আমার বান্দাগণের মধ্যে অল্পই শুকুর গুযারী করে- (সাবা ১২-১৩)। إِلَّا دَابَّةُ الأرْضِ কেবল মাটির পোকা অর্থাৎ উই পোকা যা তার (সুলায়মানের) লাঠি খেতেছিল। مِنْسَأَتَهُ তার লাঠি। যখন সে (সুলায়মান) পড়ে গেল....লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তিতে- (সাবা ১৪) মহান আল্লাহর বাণীঃ সম্পদের মোহে আমার রবের স্মরণ থেকে-আয়াতাংশে عن অর্থ فَطَفِقَ مَسْحًا - من অর্থ তিনি (সুলায়মান আ) ঘোড়াগুলোর গর্দানসমূহ ও তাদের হাঁটুর নলাসমূহ কাটতে লাগলেন। الأَصْفَادُ অর্থ, শৃক্মখলসমূহ। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الصَّافِنَاتُ অর্থ, দৌড়ের জন্য প্রস্তুত ঘোড়াসমূহ। এ অর্থ صَفَنَ الْفَرَسُ হতে গৃহীত। ঘোড়া যখন দৌড়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে এক পা উঠিয়ে অন্য পায়ের খুরার উপর দাঁড়িয়ে যায়, তখন এ বাক্য বলা হয়। الْجِيَادُ অর্থ দ্রুতগামী, جَسَدًا শয়তান رُخَاءً -উত্তম حَيْثُ أَصَابَ যেখানে ইচ্ছা فَامْنُنْ দান কর بِغَيْرِ حِسَابٍ নির্দ্বিধায়। (সদ ৩১-৩৮)
৩৪২৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি অবাধ্য জ্বিন এক রাতে আমার সালাতে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আমার নিকট আসল। আল্লাহ্ আমাকে তার উপর ক্ষমতা প্রদান করলেন। আমি তাকে ধরলাম এবং মসজিদের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার ইচ্ছে করলাম, যাতে তোমরা সবাই স্বচক্ষে তাকে দেখতে পাও। তখনই আমার ভাই সুলায়মান (আঃ)-এর এ দু‘আটি আমার মনে পড়লো। হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন রাজ্য দান করুন, যা আমি ছাড়া আর কারও ভাগ্যে যেন না জোটে- (সোয়াদ ৩৫)। অতঃপর আমি জ্বিনটিকে ব্যর্থ এবং লাঞ্ছিত করে ছেড়ে দিলাম। জ্বিন কিংবা মানুষের অত্যন্ত পিশাচ ব্যক্তিকে ইফ্রীত বলা হয়। ইফ্রীত ও ইফ্রীয়াতুন যিব্নীয়াতুন-এর মত এক বচন, যার বহু বচন যাবানিয়াতুন। (৪৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৮০)
আর আমি দাঊদকে দান করলাম সুলাইমান। সে ছিল অতি উত্তম বান্দা। তিনি তো ছিলেন অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী। (সোয়াদ ৩০)
الرَّاجِعُ الْمُنِيْبُ وَقَوْلِهِ وَهَبْ لِيْ مُلْكًا لَا يَنْبَغِيْ لِأَحَدٍ مِّنْ بَعْدِيْ (ص : 35) وَقَوْلِهِ وَاتَّبَعُوْا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِيْنُ عَلٰى مُلْكِ سُلَيْمَانَ (البقرة : 102) وَلِسُلَيْمٰنَ الرِّيْحَ غُدُوُّهَا شَهْرٌوَرَوَاحُهَا شَهْرٌ (سبأ : 12) وَأَسَلْنَا لَهُ عَيْنَ الْقِطْرِ (سبأ : 12) أَذَبْنَا لَهُ عَيْنَ الْحَدِيْدِ وَمِنَ الْجِنِّ مَنْ يَّعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ إِلَى قَوْلِهِ مِنْ مَّحَارِيْبَ (سبأ : 12) قَالَ مُجَاهِدٌ بُنْيَانٌ مَا دُوْنَ الْقُصُوْرِ وَتَمَاثِيْلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ (سبأ : 12) كَالْحِيَاضِ لِلْإِبِلِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَالْجَوْبَةِ مِنْ الأَرْضِ وَقُدُوْرٍ رَاسِيَاتٍ اعْمَلُوْا آلَ دَاوُدَ شُكْرًا وَقَلِيْلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُوْرُ (سبأ : 12) فَلَمَّا قَضَيْنَا عَلَيْهِ الْمَوْتَ مَا دَلَّهُمْ عَلٰى مَوْتِهٰ إِلَّا دَآبَّةُ الأَرْضِ الأَرَضَةُ تَأْكُلُ مِنْسَأَتَهُ عَصَاهُ فَلَمَّا خَرَّ إِلَى قَوْلِهِ فِي الْعَذَابِ الْمُهِيْنِ (سبأ : 13-14) حُبَّ الْخَيْرِ عَنْ ذِكْرِ رَبِّي (ص : 32) فَطَفِقَ مَسْحًا بِالسُّوقِ (ص : 33) وَالأَعْنَاقِ يَمْسَحُ أَعْرَافَ الْخَيْلِ وَعَرَاقِيْبَهَا الْأَصْفَادُ الْوَثَاقُ قَالَ مُجَاهِدٌ الصَّافِنَاتُ صَفَنَ الْفَرَسُ رَفَعَ إِحْدَى رِجْلَيْهِ حَتَّى تَكُوْنَ عَلَى طَرَفِ الْحَافِرِ الْجِيَادُ السِّرَاعُ جَسَدًا شَيْطَانًا رُخَآءً طَيِّبَةً حَيْثُ أَصَابَ حَيْثُ شَاءَ فَامْنُنْ أَعْطِ بِغَيْرِ حِسَابٍ بِغَيْرِ حَرَجٍ
أَوَّابٌ অর্থ গোনাহ হতে ফিরে যে আল্লাহ্ অভিমুখী হয়। মহান আল্লাহর বাণীঃ তিনি প্রার্থনা করলেনঃ হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন রাজ্য দান করুন, যা আমি ছাড়া আর কারও ভাগ্যে যেন না জোটে- (সোয়াদ ৩৫)। মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা তা অনুসরণ করল যা শয়তানরা আবৃত্তি করত সুলাইমানের রাজত্বকালে- (আল-বাকারাহ ১০২) মহান আল্লাহর বাণীঃ আমি বায়ুকে সুলায়মানের অধীন করে দিলাম যা সকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত এবং বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। আর আমি তার জন্য বিগলিত তামার এক প্রস্রবণ প্রবাহিত করেছিলাম। أَسَلْنَا অর্থ বিগলিত করে দিলাম عَيْنَ الْقِطْرِ অর্থ লোহার প্রসবণ-আর কতক জ্বিন তাঁর রবের নির্দেশে তার সামনে কাজ করতো। তাদের যে কেউ আমার আদেশ অমান্য করে, তাকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি আস্বাদন করাব। জ্বিনেরা সুলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী তার জন্য প্রাসাদ তৈরি করত। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مَحَارِيْبَ অর্থ বড় বড় দালানের তুলনায় ছোট ইমারত-ভাস্কর্য শিল্প প্রস্তুত করতো, আর হাউজ সদৃশ বৃহদাকার রান্না করার পাত্র তৈরি করতো- যেমন উটের জন্য হাওম থাকে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, যেমন যমীনে গর্ত থাকে। আর তৈরি বিশাল বিশাল ডেকচি যা সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত। হে দাউদের পরিবার! আমার কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ কর। আর আমার বান্দাগণের মধ্যে অল্পই শুকুর গুযারী করে- (সাবা ১২-১৩)। إِلَّا دَابَّةُ الأرْضِ কেবল মাটির পোকা অর্থাৎ উই পোকা যা তার (সুলায়মানের) লাঠি খেতেছিল। مِنْسَأَتَهُ তার লাঠি। যখন সে (সুলায়মান) পড়ে গেল....লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তিতে- (সাবা ১৪) মহান আল্লাহর বাণীঃ সম্পদের মোহে আমার রবের স্মরণ থেকে-আয়াতাংশে عن অর্থ فَطَفِقَ مَسْحًا - من অর্থ তিনি (সুলায়মান আ) ঘোড়াগুলোর গর্দানসমূহ ও তাদের হাঁটুর নলাসমূহ কাটতে লাগলেন। الأَصْفَادُ অর্থ, শৃক্মখলসমূহ। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الصَّافِنَاتُ অর্থ, দৌড়ের জন্য প্রস্তুত ঘোড়াসমূহ। এ অর্থ صَفَنَ الْفَرَسُ হতে গৃহীত। ঘোড়া যখন দৌড়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে এক পা উঠিয়ে অন্য পায়ের খুরার উপর দাঁড়িয়ে যায়, তখন এ বাক্য বলা হয়। الْجِيَادُ অর্থ দ্রুতগামী, جَسَدًا শয়তান رُخَاءً -উত্তম حَيْثُ أَصَابَ যেখানে ইচ্ছা فَامْنُنْ দান কর بِغَيْرِ حِسَابٍ নির্দ্বিধায়। (সদ ৩১-৩৮)
৩৪২৩. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি অবাধ্য জ্বিন এক রাতে আমার সালাতে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আমার নিকট আসল। আল্লাহ্ আমাকে তার উপর ক্ষমতা প্রদান করলেন। আমি তাকে ধরলাম এবং মসজিদের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার ইচ্ছে করলাম, যাতে তোমরা সবাই স্বচক্ষে তাকে দেখতে পাও। তখনই আমার ভাই সুলায়মান (আঃ)-এর এ দু‘আটি আমার মনে পড়লো। হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন রাজ্য দান করুন, যা আমি ছাড়া আর কারও ভাগ্যে যেন না জোটে- (সোয়াদ ৩৫)। অতঃপর আমি জ্বিনটিকে ব্যর্থ এবং লাঞ্ছিত করে ছেড়ে দিলাম। জ্বিন কিংবা মানুষের অত্যন্ত পিশাচ ব্যক্তিকে ইফ্রীত বলা হয়। ইফ্রীত ও ইফ্রীয়াতুন যিব্নীয়াতুন-এর মত এক বচন, যার বহু বচন যাবানিয়াতুন। (৪৬১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৮০)
হাদিস নং: ৩৪২৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا خالد بن مخلد حدثنا مغيرة بن عبد الرحمن عن ابي الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال قال سليمان بن داود لاطوفن الليلة على سبعين امراة تحمل كل امراة فارسا يجاهد في سبيل الله فقال له صاحبه ان شاء الله فلم يقل ولم تحمل شيىا الا واحدا ساقطا احد شقيه فقال النبي لو قالها لجاهدوا في سبيل الله قال شعيب وابن ابي الزناد تسعين وهو اصح
৩৪২৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সুলায়মান ইবনু দাঊদ (আঃ) বলেছিলেন, আজ রাতে আমি আমার সত্তর জন স্ত্রীর নিকট যাব। প্রত্যেক স্ত্রী একজন করে অশ্বারোহী যোদ্ধা গর্ভধারণ করবে। এরা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। তখন তাঁর সাথী বললেন, ইন্শা আল্লাহ্। কিন্তু তিনি মুখে তা বললেন না। অতঃপর একজন স্ত্রী ছাড়া কেউ গর্ভধারণ করলেন না। সে যাও এক (পুত্র) সন্তান প্রসব করলেন যার এক অঙ্গ ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি যদি ‘ইন্শা আল্লাহ্’ মুখে বলতেন, তাহলে আল্লাহর পথে জিহাদ করতো। শু‘আয়ব এবং ইবনু আবূ যিনাদ (রহ.) এখানে নব্বই জন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করেছেন আর এটাই সঠিক। (২৮১৯, মুসলিম ২৭/৫ হাঃ ১৬৫৪, আহমাদ ৭১৪) আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৮১)
হাদিস নং: ৩৪২৫
সহিহ (Sahih)
حدثني عمر بن حفص حدثنا ابي حدثنا الاعمش حدثنا ابراهيم التيمي عن ابيه عن ابي ذر قال قلت يا رسول الله اي مسجد وضع اول قال المسجد الحرام قلت ثم اي قال ثم المسجد الاقصى قلت كم كان بينهما قال اربعون ثم قال حيثما ادركتك الصلاة فصل والارض لك مسجد
৩৪২৫. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সর্বপ্রথম কোন্ মাসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বললেন, মসজিদে হারাম। আমি বললাম, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, মসজিদে আকসা। আমি বললাম, এ দু’য়ের নির্মাণের মাঝখানে কত তফাৎ? তিনি বললেন, চল্লিশ (বছরের)[১] (অতঃপর তিনি বললেন,) যেখানেই তোমার সালাতের সময় হবে, সেখানেই তুমি সালাত আদায় করে নিবে। কারণ, পৃথিবীটাই তোমার জন্য মাসজিদ। (৩৩৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৮২)
নোট: [১] এ দুই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন আদম (আঃ) ও এই দুই মসজিদের ভিত্তি স্থাপনে ব্যবধান ছিল ৪০ বছর।