অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৩/১. আনসারগণের মর্যাদা।
মোট ১৭৩ টি হাদিস
হাদিস নং: ৩৭৯৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا ادم حدثنا شعبة عن حميد الطويل سمعت انس بن مالك قال كانت الانصار يوم الخندق تقول نحن الذين بايعوا محمدا على الجهاد ما حيينا ابدا فاجابهم اللهم لا عيش الا عيش الاخره فاكرم الانصار والمهاجره
৩৭৯৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারগণ খন্দক যুদ্ধের পরিখা খননের সময় বলছিলেন, আমরা হলাম ঐ সমস্ত লোক যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে জিহাদের জন্য বায়‘আত করেছি যত দিন আমরা বেঁচে থাকব। এর উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই আসল জীবন। (হে আল্লাহ্) আনসার ও মুহাজিরদের সম্মান বাড়িয়ে দাও। (২৮৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২১)
হাদিস নং: ৩৭৯৭ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن عبيد الله حدثنا ابن ابي حازم عن ابيه عن سهل قال جاءنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نحفر الخندق وننقل التراب على اكتادنا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اللهم لا عيش الا عيش الاخره فاغفر للمهاجرين والانصار
৩৭৯৭. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন পরিখা খনন করে আমাদের স্কন্ধে করে মাটি বহন করছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই আসল জীবন। মুহাজির ও আনসারদেরকে আপনি মাফ করে দিন। (৪০৯৮, ৬৪১৪, মুসলিম ৩২/৪৪, হাঃ নং ১৮০৪, আহমাদ ২২৮৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২২)
হাদিস নং: ৩৭৯৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا عبد الله بن داود عن فضيل بن غزوان عن ابي حازم عن ابي هريرة ان رجلا اتى النبي صلى الله عليه وسلم فبعث الى نساىه فقلن ما معنا الا الماء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم من يضم او يضيف هذا فقال رجل من الانصار انا فانطلق به الى امراته فقال اكرمي ضيف رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت ما عندنا الا قوت صبياني فقال هيىي طعامك واصبحي سراجك ونومي صبيانك اذا ارادوا عشاء فهيات طعامها واصبحت سراجها ونومت صبيانها ثم قامت كانها تصلح سراجها فاطفاته فجعلا يريانه انهما ياكلان فباتا طاويين فلما اصبح غدا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ضحك الله الليلة او عجب من فعالكما فانزل الله ويوثرون على انفسهم ولو كان بهم خصاصة ومن يوق شح نفسه فاولٓىك هم المفلحون (الحشر : 9)
৩৭৯৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের কাছে লোক পাঠালেন। তাঁরা জানালেন, আমাদের নিকট পানি ছাড়া কিছুই নেই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে আছ যে এই ব্যক্তিকে মেহমান হিসেবে নিয়ে নিজের সাথে খাওয়াতে পার? তখন এক আনসারী সাহাবী [আবূ ত্বলহা (রাঃ)] বললেন, আমি। এ বলে তিনি মেহমানকে নিয়ে গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেহমানকে সম্মান কর। স্ত্রী বললেন, বাচ্চাদের খাবার ছাড়া আমাদের ঘরে অন্য কিছুই নেই। আনসারী বললেন, তুমি আহার প্রস্তুত কর এবং বাতি জ্বালাও এবং বাচ্চারা খাবার চাইলে তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দাও। সে বাতি জ্বালাল, বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়াল এবং সামান্য খাবার যা তৈরি ছিল তা উপস্থিত করল। বাতি ঠিক করার বাহানা করে স্ত্রী উঠে গিয়ে বাতিটি নিভিয়ে দিলেন। তারপর তারা স্বামী-স্ত্রী দু’জনই অন্ধকারের মধ্যে আহার করার মত শব্দ করতে লাগলেন এবং মেহমানকে বুঝাতে লাগলেন যে, তারাও সঙ্গে খাচ্ছেন। তাঁরা উভয়েই সারা রাত অভুক্ত অবস্থায় কাটালেন। ভোরে যখন তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ্ তোমাদের গত রাতের কান্ড দেখে হেসে দিয়েছেন অথবা বলেছেন খুশী হয়েছেন এবং এ আয়াত নাযিল করেছেন। ‘‘তারা অভাবগ্রস্ত সত্ত্বেও নিজেদের উপর অন্যদেরকে অগ্রগণ্য করে থাকে। আর  যাদেরকে  অন্তরের কৃপণতা হতে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলতাপ্রাপ্ত।’’ (আল-হাশর ৯) (৪৮৮৯, মুসলিম, ৩৬/৩২, হাঃ নং ২০৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২৩)
হাদিস নং: ৩৭৯৯ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن يحيى ابو علي حدثنا شاذان اخو عبدان حدثنا ابي اخبرنا شعبة بن الحجاج عن هشام بن زيد قال سمعت انس بن مالك يقول مر ابو بكر والعباس رضي الله عنهما بمجلس من مجالس الانصار وهم يبكون فقال ما يبكيكم قالوا ذكرنا مجلس النبي صلى الله عليه وسلم منا فدخل على النبي صلى الله عليه وسلم فاخبره بذلك قال فخرج النبي صلى الله عليه وسلم وقد عصب على راسه حاشية برد قال فصعد المنبر ولم يصعده بعد ذلك اليوم فحمد الله واثنى عليه ثم قال اوصيكم بالانصار فانهم كرشي وعيبتي وقد قضوا الذي عليهم وبقي الذي لهم فاقبلوا من محسنهم وتجاوزوا عن مسيىهم
৩৭৯৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত তখন আবূ বকর ও ‘আব্বাস  (রাঃ) আনসারদের কোন একটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার কালে দেখতে পেলেন যে, তারা কাঁদছেন। তাঁদের একজন জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কাঁদছেন কেন? তাঁরা বললেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমাদের মজলিস স্মরণ করে কাঁদছি। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আনসারদের অবস্থা বললেন, রাবী (বর্ণনাকারী) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদরের কোণা দিয়ে মাথা বেঁধে বেরিয়ে আসলেন এবং মিম্বরে উঠে বসলেন। এ দিনের পর আর তিনি মিম্বরে আরোহণ করেননি। তারপর হামদ ও সানা পাঠ করে সমবেত সাহাবীদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমি আনসারগণের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি; কেননা তাঁরাই আমার অতি আপন জন, তাঁরাই আমার বিশ্বস্ত লোক। তারা তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পরিপূর্ণভাবে পালন করেছে। তাঁদের যা প্রাপ্য তা তাঁরা এখনো পায়নি। তাঁদের নেক লোকদের নেক ‘আমলগুলো গ্রহণ করবে এবং তাঁদের ভুল-ত্রুটি মাফ করে দিবে। (৩৮০১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২৪)
হাদিস নং: ৩৮০০ সহিহ (Sahih)
حدثنا احمد بن يعقوب حدثنا ابن الغسيل سمعت عكرمة يقول سمعت ابن عباس رضي الله عنهما يقول خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه ملحفة متعطفا بها على منكبيه وعليه عصابة دسماء حتى جلس على المنبر فحمد الله واثنى عليه ثم قال اما بعد ايها الناس فان الناس يكثرون وتقل الانصار حتى يكونوا كالملح في الطعام فمن ولي منكم امرا يضر فيه احدا او ينفعه فليقبل من محسنهم ويتجاوز عن مسيىهم
৩৮০০. ইবনু ‘আব্বাস  (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চাদর গায়ে জড়িয়ে, চাদরের দু-প্রান্ত দু’কাধে পেঁচিয়ে এবং মাথায় একটি কাল রঙের পাগড়ী বেঁধে বের হলেন এবং মিম্বরে উঠে বসলেন। হাম্দ ও সানার পর বললেন, হে লোক সকল, জনসংখ্যা ক্রমশঃ বাড়তে থাকবে আর আনসারগণের সংখ্যা ক্রমশঃ কমতে থাকবে! এমনকি তারা খাবারে লবণের পরিমাণের মত হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এমন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভ করে যে ইচ্ছা করলে কারো উপকার বা অপকার করতে পারে, তখন সে যেন নেক্কার আনসারদের নেক্ ‘আমলগুলো গ্রহণ করে এবং তাদের ভুল-ত্রুটি মাফ করে দেয়। (৯২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২৫)
হাদিস নং: ৩৮০১ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة قال سمعت قتادة عن انس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الانصار كرشي وعيبتي والناس سيكثرون ويقلون فاقبلوا من محسنهم وتجاوزوا عن مسيىهم
৩৮০১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আনসারগণ আমার অতি আপনজন ও বিশ্বস্ত লোক। লোকসংখ্যা বাড়তে থাকবে আর তাদের সংখ্যা কমতে থাকবে। তাই তাদের নেক্কারদের নেক ‘আমলগুলো কবূল কর এবং তাদের ভুল-ত্রুটি মাফ করে দাও। (৩৭৯৯, মুসলিম ৪৪/৪৩, হাঃ নং ২৫১০) ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২৬)
হাদিস নং: ৩৮০২ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن ابي اسحاق قال سمعت البراء يقول اهديت للنبي صلى الله عليه وسلم حلة حرير فجعل اصحابه يمسونها ويعجبون من لينها فقال اتعجبون من لين هذه لمناديل سعد بن معاذ خير منها او الين رواه قتادة والزهري سمعا انسا عن النبي صلى الله عليه وسلم
৩৮০২. বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক জোড়া রেশমী কাপড় হাদীয়া দেয়া হল। সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) তা স্পর্শ করে এর কোমলতায় অবাক হয়ে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর কোমলতায় তোমরা অবাক হচ্ছ? অথচ সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ)-এর (জান্নাতের) রুমাল এর চেয়ে অনেক উত্তম, অথবা বলেছেন অনেক মোলায়েম। হাদীসটি ক্বাতাদাহ্ ও যুহরী (রহ.) আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। (৩২৪৯, মুসলিম ৪৪/২৪, হাঃ নং ২৪৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২৭)
হাদিস নং: ৩৮০৩ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن المثنى حدثنا فضل بن مساور ختن ابي عوانة حدثنا ابو عوانة عن الاعمش عن ابي سفيان عن جابر سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول اهتز العرش لموت سعد بن معاذ وعن الاعمش حدثنا ابو صالح عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله فقال رجل لجابر فان البراء يقول اهتز السرير فقال انه كان بين هذين الحيين ضغاىن سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول اهتز عرش الرحمن لموت سعد بن معاذ
৩৮০৩. জাবির (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ)-এর মৃত্যুতে আল্লাহ্ তা’আলার আরশ কেঁপে উঠেছিল। আমাশ (রহ.).....নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ রকমই বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি জাবির (রাঃ)-কে বলল, বারা ইবনু আযিব (রাঃ) তো বলেন, জানাযার খাট নড়েছিল। তদুত্তরে জাবির (রাঃ) বললেন, সা’দ ও বারা (রাঃ)-এর গোত্রদ্বয়ের মধ্যে কিছুটা বিরোধ ছিল, কেননা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ’’আল্লাহর আরশ্ সা’দ ইবনু মু’আযের (ওফাতে) কেঁপে উঠল’’ (কথাটি) বলতে শুনেছি।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩১)
হাদিস নং: ৩৮০৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن عرعرة حدثنا شعبة عن سعد بن ابراهيم عن ابي امامة بن سهل بن حنيف عن ابي سعيد الخدري ان اناسا نزلوا على حكم سعد بن معاذ فارسل اليه فجاء على حمار فلما بلغ قريبا من المسجد قال النبي صلى الله عليه وسلم قوموا الى خيركم او سيدكم فقال يا سعد ان هولاء نزلوا على حكمك قال فاني احكم فيهم ان تقتل مقاتلتهم وتسبى ذراريهم قال حكمت بحكم الله او بحكم الملك
৩৮০৪. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, কতিপয় লোক (বনী কুরায়যার ইয়াহূদীগণ) সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ)-কে সালিশ মেনে (দুর্গ থেকে) নেমে আসে। তাঁকে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠানো হল। তিনি গাধায় সাওয়ার হয়ে আসলেন। যখন মসজিদের নিকটে আসলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি অথবা (বললেন) তোমাদের সরদার আসছেন তাঁর দিকে দাঁড়াও। তারপর তিনি বললেন, হে সা‘দ! তারা তোমাকে সালিশ মেনে বেরিয়ে এসেছে। সা‘দ (রাঃ) বললেন, আমি তাদের সম্পর্কে এ ফয়সালা দিচ্ছি যে, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হোক এবং শিশু ও মহিলাদেরকে বন্দী করে রাখা হোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আল্লাহ্ তা‘আলার ফায়সালা মোতাবেক ফায়সালা দিয়েছ অথবা (বলেছিলেন) তুমি বাদশাহর অর্থাৎ আল্লাহর ফায়সালা অনুযায়ী ফায়সালা করেছ। (৩০৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫২৯)
হাদিস নং: ৩৮০৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن مسلم حدثنا حبان بن هلال حدثنا همام اخبرنا قتادة عن انس ان رجلين خرجا من عند النبي صلى الله عليه وسلم في ليلة مظلمة واذا نور بين ايديهما حتى تفرقا فتفرق النور معهما وقال معمر عن ثابت عن انس ان اسيد بن حضير ورجلا من الانصار وقال حماد اخبرنا ثابت عن انس كان اسيد بن حضير وعباد بن بشر عند النبي صلى الله عليه وسلم
৩৮০৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, দু’ ব্যক্তি অন্ধকার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে বের হলেন। হঠাৎ তারা তাদের সম্মুখে একটি উজ্জ্বল আলো দেখতে পেলেন। রাস্তায় তাঁরা যখন আলাদা হলেন তখন আলোটিও তাঁদের উভয়ের সাথে আলাদা আলাদা হয়ে গেল। মা’মার (রহ.) সাবিত এর মাধ্যমে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, এদের একজন উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) এবং অন্যজন এক আনসারী ব্যক্তি ছিলেন এবং হাম্মাদ (রহ.) সাবিত (রহ.)-এর মাধ্যমে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, উসায়দ (ইবনু হুযায়র) ও আববাদ ইবনু বিশ্র (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলেন। (৪৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩০)
হাদিস নং: ৩৮০৬ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن عمرو عن ابراهيم عن مسروق عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول استقرىوا القران من اربعة من ابن مسعود وسالم مولى ابي حذيفة وابي ومعاذ بن جبل
৩৮০৬. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, কুরআন পাঠ শিখ চার জনের নিকট হতেঃ ইবনু মাসউদ, আবূ হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম সালিম, উবাই (ইবনু কা‘ব) ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে। (৩৭৫৮)(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩১)
হাদিস নং: ৩৮০৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق حدثنا عبد الصمد حدثنا شعبة حدثنا قتادة قال سمعت انس بن مالك قال ابو اسيد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم خير دور الانصار بنو النجار ثم بنو عبد الاشهل ثم بنو الحارث بن الخزرج ثم بنو ساعدة وفي كل دور الانصار خير فقال سعد بن عبادة وكان ذا قدم في الاسلام ارى رسول الله صلى الله عليه وسلم قد فضل علينا فقيل له قد فضلكم على ناس كثير
وَقَالَتْ عَائِشَةُ وَكَانَ قَبْلَ ذَلِكَ رَجُلًا صَالِحًا

‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি এর পূর্বে নেক লোক ছিলেন।


৩৮০৭. আবূ উসাইদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আনসার গোত্রগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম গোত্র হল, বানু নাজ্জার, তারপর বানু ‘আবদ-ই-আশহাল, তারপর বানু হারিস ইবনু খাযরাজ তারপর বানু সায়িদাহ। আনসারদের সব গোত্রের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। তখন সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) যিনি ছিলেন প্রথম যুগের অন্যতম মুসলিম বললেন, আমার ধারণা যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যদেরকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন, তাঁকে বলা হল, আপনাদেরকে বহু গোত্রের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে। (৩৭৮৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩২)

 
হাদিস নং: ৩৮০৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو الوليد حدثنا شعبة عن عمرو بن مرة عن ابراهيم عن مسروق قال ذكر عبد الله بن مسعود عند عبد الله بن عمرو فقال ذاك رجل لا ازال احبه سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول خذوا القران من اربعة من عبد الله بن مسعود فبدا به وسالم مولى ابي حذيفة ومعاذ بن جبل وابي بن كعب
৩৮০৮. মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর মজলিসে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)-এর আলোচনা হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন; তিনি সে ব্যক্তি যাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য শুনার পর হতে আমি খুব ভালবাসি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআন শিক্ষা কর চারজনের নিকট থেকে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (সর্ব প্রথম তিনি এ নামটি বললেন), সালিম- আবূ হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম, মু‘আয ইবনু জাবাল ও উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)। (৩৭৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৩)
হাদিস নং: ৩৮০৯ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا غندر قال سمعت شعبة سمعت قتادة عن انس بن مالك قال النبي صلى الله عليه وسلم لابي ان الله امرني ان اقرا عليك لم يكن الذين كفروا من اهل الكتاب قال وسماني قال نعم فبكى
৩৮০৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-কে বললেন, আল্লাহ ‘‘সূরা لَمْ يَكُنِ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ  তোমাকে পড়ে শুনানোর জন্য আমাকে আদেশ করেছেন। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ কি আমার নাম করেছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ। তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। (৪৯৫৯, ৪৯৬০, ৪৯৬১, মুসলিম ৬/৩৯, হাঃ নং ৭৯৯, আহমাদ ২১১৯৪ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৪)
হাদিস নং: ৩৮১০ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن بشار حدثنا يحيى حدثنا شعبة عن قتادة عن انس جمع القران على عهد النبي صلى الله عليه وسلم اربعة كلهم من الانصار ابي ومعاذ بن جبل وابو زيد وزيد بن ثابت قلت لانس من ابو زيد قال احد عمومتي
৩৮১০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে (সর্বপ্রথম) যে চার ব্যক্তি সম্পূর্ণ কুরআন হিফয করেছিলেন, তাঁরা সকলেই ছিলেন আনসারী। (তাঁরা হলেন) উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) আবূ যায়দ (রাঃ) ও যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)। কাতাদাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আবূ যায়দ কে? তিনি বললেন, তিনি আমার চাচাদের একজন। (৩৯৯৬, ৫০০৩, ৫০০৪, মুসলিম ৪৪/২৩, হাঃ নং ২৪৬৫, আহমাদ ১৩৯৪৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৫)
হাদিস নং: ৩৮১১ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو معمر حدثنا عبد الوارث حدثنا عبد العزيز عن انس قال لما كان يوم احد انهزم الناس عن النبي صلى الله عليه وسلم وابو طلحة بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم مجوب به عليه بحجفة له وكان ابو طلحة رجلا راميا شديد القد يكسر يومىذ قوسين او ثلاثا وكان الرجل يمر معه الجعبة من النبل فيقول انشرها لابي طلحة فاشرف النبي صلى الله عليه وسلم ينظر الى القوم فيقول ابو طلحة يا نبي الله بابي انت وامي لا تشرف يصيبك سهم من سهام القوم نحري دون نحرك ولقد رايت عاىشة بنت ابي بكر وام سليم وانهما لمشمرتان ارى خدم سوقهما تنقزان القرب على متونهما تفرغانه في افواه القوم ثم ترجعان فتملانها ثم تجيىان فتفرغانه في افواه القوم ولقد وقع السيف من يدي ابي طلحة اما مرتين واما ثلاثا
৩৮১১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওহুদ যুদ্ধের এক সময়ে সাহাবাগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আলাদা হয়ে পড়েছিলেন। তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ) ঢাল হাতে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে প্রাচীরের মত দৃঢ় হয়ে দাঁড়ালেন। আবূ ত্বলহা (রাঃ) সুদক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন। এক নাগাড়ে তীর ছুঁড়তে থাকায় তাঁর হাতে ঐদিন দু’ বা তিনটি ধনুক ভেঙ্গে যায়। ঐ সময় তীর ভর্তি তীরাধার নিয়ে যে কেউ তাঁর নিকট দিয়ে যেতো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই বলতেন, তোমরা তীরগুলি আবূ ত্বলহার জন্য রেখে দাও। এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঁচু করে শত্রুদের অবস্থা দেখতে চাইলে আবূ ত্বলহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমার মাতা পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি মাথা উঁচু করবেন না। হয়ত শত্রুদের নিক্ষিপ্ত তীর এসে আপনার গায়ে লাগতে পারে। আমার বক্ষ আপনাকে রক্ষার জন্য ঢাল স্বরূপ। আনাস (রাঃ) বলেন, ঐদিন আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর কন্যা ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে এবং (আমার মাতা) উম্মে সুলায়মকে দেখতে পেলাম যে, তাঁরা পরনের কাপড় এতটুকু পরিমাণ উঠিয়েছেন যে, তাঁদের পায়ের খাঁড়ু আমি দেখতে পাচ্ছিলাম। তাঁরা পানির মশক ভরে নিজেদের পিঠে বহন করে এনে আহতদের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। পুনরায় ফিরে গিয়ে পানি ভরে নিয়ে আহতদেরকে পান করাচ্ছিলেন। ঐ সময় আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর হাত হতে (তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে) তাঁর তরবারিটি দু’বার অথবা তিনবার পড়ে গিয়েছিল। (২৮৮০, মুসলিম ৩২/৪৭, হাঃ নং ১৮১১)(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৬)
হাদিস নং: ৩৮১২ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن يوسف قال سمعت مالكا يحدث عن ابي النضر مولى عمر بن عبيد الله عن عامر بن سعد بن ابي وقاص عن ابيه قال ما سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول لاحد يمشي على الارض انه من اهل الجنة الا لعبد الله بن سلام قال وفيه نزلت هذه الاية وشهد شاهد من بني اسراىيل على مثله الاية قال لا ادري قال مالك الاية او في الحديث
৩৮১২. সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) ছাড়া যমীনে বিচরণশীল কারো ব্যাপারে এ কথাটি বলতে শুনিনি যে, ‘নিশ্চয়ই তিনি জান্নাতবাসী’। সা‘দ (রাঃ) বলেন, তাঁরই ব্যাপারে সূরাহ আহকাফের এ আয়াত নাযিল হয়েছেঃ ‘‘এ ব্যাপারে বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকেও একজন সাক্ষ্য দান করেছে। (উক্ত হাদীসের শুরুতে উল্লেখিত সানাদে ইমাম বুখারীর উস্তাজ)  ‘আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ (সন্দেহ পোষণ করে) বলেন যে, বর্ণনাকারী মালিক উল্লেখিত আয়াতটি নিজের তরফ হতে এখানে বৃদ্ধি করে বলেছেন নাকি এ হাদীসের সানাদের সাথেই সম্পৃক্ত তা জানি না। (মুসলিম ৪৪/৩৩, হাঃ নং ২৪৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৭)
হাদিস নং: ৩৮১৩ সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن محمد حدثنا ازهر السمان عن ابن عون عن محمد عن قيس بن عباد قال كنت جالسا في مسجد المدينة فدخل رجل على وجهه اثر الخشوع فقالوا هذا رجل من اهل الجنة فصلى ركعتين تجوز فيهما ثم خرج وتبعته فقلت انك حين دخلت المسجد قالوا هذا رجل من اهل الجنة قال والله ما ينبغي لاحد ان يقول ما لا يعلم وساحدثك لم ذاك رايت رويا على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فقصصتها عليه ورايت كاني في روضة ذكر من سعتها وخضرتها وسطها عمود من حديد اسفله في الارض واعلاه في السماء في اعلاه عروة فقيل لي ارق قلت لا استطيع فاتاني منصف فرفع ثيابي من خلفي فرقيت حتى كنت في اعلاها فاخذت بالعروة فقيل له استمسك فاستيقظت وانها لفي يدي فقصصتها على النبي صلى الله عليه وسلم قال تلك الروضة الاسلام وذلك العمود عمود الاسلام وتلك العروة عروة الوثقى فانت على الاسلام حتى تموت وذاك الرجل عبد الله بن سلام و قال لي خليفة حدثنا معاذ حدثنا ابن عون عن محمد حدثنا قيس بن عباد عن ابن سلام قال وصيف مكان منصف
৩৮১৩. কায়স ইবনু ‘উবাদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদিনার মসজিদে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন এমন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলেন যার চেহারায় বিনয় ও নম্রতার ছাপ ছিল। লোকজন বলতে লাগলেন, এই ব্যক্তি জান্নাতীগণের একজন। তিনি হালকাভাবে দু’রাকআত সালাত আদায় করে মাসজিদ হতে বেরিয়ে এলেন। আমি তাঁকে অনুসরণ করলাম এবং তাঁকে বললাম, আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করছিলেন তখন লোকজন বলাবলি করছিল যে, ইনি জান্নাতবাসীগণের একজন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম কারো জন্য এমন কথা বলা উচিত নয়, যা সে জানে না। আমি তোমাকে আসল কথা বলছি কেন তা বলা হয়। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় একটি স্বপ্ন দেখে তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম। আমি দেখলাম যে, আমি যেন একটি বাগানে অবস্থান করছি; বাগানটি বেশ প্রশস্ত, সবুজ। বাগানের মধ্যে একটি লোহার স্তম্ভ যার নিম্নভাগ মাটিতে এবং উপরিভাগ আকাশ স্পর্শ করেছে; স্তম্ভের উপরে একটি শক্ত কড়া সংযুক্ত রয়েছে। আমাকে বলা হল, উপরে উঠ। আমি বললাম, এটাতো আমার সামর্থ্যের বাইরে। তখন একজন খাদিম এসে পিছন দিক হতে আমার কাপড় সহ চেপে ধরে আমাকে উঠতে সাহায্য করলেন। আমি উঠতে লাগলাম এবং উপরে গিয়ে আংটাটি ধরলাম। তখন আমাকে বলা হল, শক্তভাবে আংটাটি ধর। তারপর কড়াটি আমার হাতের মুঠায় ধরা অবস্থায় আমি জেগে গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট স্বপ্নটি বললে, তিনি বললেন, এ বাগান হল ইসলাম, আর স্তম্ভটি হল ইসলামের খুঁটিসমূহ কড়াটি হল ‘‘উরুয়াতুল উস্কা’’ (শক্ত ও অটুট কড়া) এবং  তুুমি আজীবন ইসলামের উপর কায়েম থাকবে। (রাবী বলেন) এই ব্যক্তি হলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)। খালীফাহ (রহ.) مِنْصَفٌ এর স্থলে وَصِيْفٌ বলেছেন। (৭০১০, ৭০১৪, মুসলিম ৪৪/৩৩, হাঃ নং ২৪৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৮)
হাদিস নং: ৩৮১৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن سعيد بن ابي بردة عن ابيه اتيت المدينة فلقيت عبد الله بن سلام فقال الا تجيء فاطعمك سويقا وتمرا وتدخل في بيت ثم قال انك بارض الربا بها فاش اذا كان لك على رجل حق فاهدى اليك حمل تبن او حمل شعير او حمل قت فلا تاخذه فانه ربا ولم يذكر النضر وابو داود ووهب عن شعبة البيت
৩৮১৪. আবূ বুরদাহ (রহ.) বলেন, আমি মদিনা্য় গেলাম; আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সাথে আমার দেখা হল। তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেব এবং একটি ঘরে থাকতে দেব। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এমন স্থানে (ইরাকে) বসবাস কর, যেখানে সুদের কারবার খুব ব্যাপক। যখন কোন মানুষের নিকট তোমার কোন প্রাপ্য থাকে আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় সামান্য কিছুও হাদীয়া পেশ করে তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। নায্র (রাঃ), আবূ দাউদ (রহ.) ও ওয়াহাব (রহ.) শু‘বাহ্ (রহ.) হতে الْبَيْتَ শব্দটি বর্ণনা করেননি। (৭৩৪২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৩৯)
হাদিস নং: ৩৮১৫ সহিহ (Sahih)
حدثني محمد اخبرنا عبدة عن هشام بن عروة عن ابيه قال سمعت عبد الله بن جعفر قال سمعت عليا يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ح حدثني صدقة اخبرنا عبدة عن هشام عن ابيه قال سمعت عبد الله بن جعفر عن علي بن ابي طالب عن النبي صلى الله عليه وسلم قال خير نساىها مريم وخير نساىها خديجة
৩৮১৫. ‘‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মারিয়াম (আঃ) ছিলেন (পূর্বের) নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমা নারী। আর খাদীজাহ (রাঃ) (এ উম্মাতের) নারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা। (৩৪৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪০)
অধ্যায় তালিকা