হাদিস নং: ৩৮১৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا سعيد بن عفير حدثنا الليث قال كتب الي هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت ما غرت على امراة للنبي صلى الله عليه وسلم ما غرت على خديجة هلكت قبل ان يتزوجني لما كنت اسمعه يذكرها وامره الله ان يبشرها ببيت من قصب وان كان ليذبح الشاة فيهدي في خلاىلها منها ما يسعهن
৩৮১৬. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন স্ত্রীর প্রতি এতটুকু ঈর্ষা করিনি যতটুকু খাদীজাহ (রাঃ)-এর প্রতি করেছি। কেননা, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর কথা বারবার আলোচনা করতে শুনেছি, অথচ আমাকে বিবাহ করার আগেই তিনি ইন্তিকাল করেছিলেন। খাদীজাহ (রাঃ)-কে জান্নাতে মণি-মুক্তা খচিত একটি প্রাসাদের খোশ খবর দেয়ার জন্য আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করেন। কোন দিন বকরী যবহ হলে খাদীজাহ (রাঃ)-এর বান্ধবীদের নিকট তাদের প্রত্যেকের দরকার মত গোশ্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপঢৌকন হিসেবে পাঠিয়ে দিতেন। (৩৮১৭, ৩৮১৮, ৫২২৯, ৬০০৪, ৭৪৮৪, মুসলিম ৪৪/১২, হাঃ নং ২৪৩৫, আহমাদ ২৫৭১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪১)
হাদিস নং: ৩৮১৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا حميد بن عبد الرحمن عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت ما غرت على امراة ما غرت على خديجة من كثرة ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم اياها قالت وتزوجني بعدها بثلاث سنين وامره ربه عز وجل او جبريل عليه السلام ان يبشرها ببيت في الجنة من قصب
৩৮১৭. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্য কোন স্ত্রীর ব্যাপারে এত ঈর্ষা পোষণ করিনি, যতটুকু খাদীজাহ (রাঃ)-এর প্রতি করেছি। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আলোচনা বেশি করতেন। তিনি (আরো) বলেন, খাদীজাহ (রাঃ)-এর (ইন্তিকালের) তিন বছর পর তিনি আমাকে বিবাহ করেন। আল্লাহ নিজে অথবা জিব্রাঈল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করলেন যে, খাদীজাহ (রাঃ)-কে জান্নাতে মণিমুক্তা খচিত একটি ভবনের খোশ খবর দিন। (৩৮১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪২)
হাদিস নং: ৩৮১৮
সহিহ (Sahih)
حدثني عمر بن محمد بن حسن حدثنا ابي حدثنا حفص عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت ما غرت على احد من نساء النبي صلى الله عليه وسلم ما غرت على خديجة وما رايتها ولكن كان النبي صلى الله عليه وسلم يكثر ذكرها وربما ذبح الشاة ثم يقطعها اعضاء ثم يبعثها في صداىق خديجة فربما قلت له كانه لم يكن في الدنيا امراة الا خديجة فيقول انها كانت وكانت وكان لي منها ولد
৩৮১৮. ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্য কোন স্ত্রীর প্রতি এতটুকু ঈর্ষা করিনি যতটুকু খাদীজাহ (রাঃ)-এর প্রতি করেছি। অথচ আমি তাঁকে দেখিনি। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা বেশি সময় আলোচনা করতেন। কোন কোন সময় বকরী যবহ করে গোশ্তের পরিমাণ বিবেচনায় হাড়-গোশ্তকে ছোট ছোট টুকরা করে হলেও খাদীজাহ (রাঃ)-এর বান্ধবীদের ঘরে পৌঁছে দিতেন। আমি কোন সময় ঈর্ষা ভরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতাম, মনে হয়, খাদীজাহ (রাঃ) ছাড়া দুনিয়াতে যেন আর কোন নারী নাই। উত্তরে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হাঁ। তিনি এমন ছিলেন, এমন ছিলেন, তাঁর গর্ভে আমার সন্তানাদি জন্মেছিল। (৩৮১৬, মুসলিম ৪৪/১২, হাঃ নং ২৪৩৩) ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৩)
হাদিস নং: ৩৮১৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى عن اسماعيل قال قلت لعبد الله بن ابي اوفى رضي الله عنهما بشر النبي صلى الله عليه وسلم خديجة قال نعم ببيت من قصب لا صخب فيه ولا نصب
৩৮১৯. ইসমাঈল (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আউফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজাহ (রাঃ)-কে জান্নাতের খোশ খবর দিয়েছিলেন কি? তিনি বললেন, হাঁ। এমন একটি ভবনের খোশ খবর দিয়েছিলেন, যে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে এমন মোতি দ্বারা যার ভিতরদেশ ফাঁকা। আর সেখানে থাকবে না শোরগোল, কোন প্রকার ক্লেশ ও দুঃখ। (১৭৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৪)
হাদিস নং: ৩৮২০
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا محمد بن فضيل عن عمارة عن ابي زرعة عن ابي هريرة قال اتى جبريل النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله هذه خديجة قد اتت معها اناء فيه ادام او طعام او شراب فاذا هي اتتك فاقرا عليها السلام من ربها ومني وبشرها ببيت في الجنة من قصب لا صخب فيه ولا نصب
وقال اسماعيل بن خليل اخبرنا علي بن مسهر عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت استاذنت هالة بنت خويلد اخت خديجة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرف استىذان خديجة فارتاع لذلك فقال اللهم هالة قالت فغرت فقلت ما تذكر من عجوز من عجاىز قريش حمراء الشدقين هلكت في الدهر قد ابدلك الله خيرا منها
وقال اسماعيل بن خليل اخبرنا علي بن مسهر عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت استاذنت هالة بنت خويلد اخت خديجة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرف استىذان خديجة فارتاع لذلك فقال اللهم هالة قالت فغرت فقلت ما تذكر من عجوز من عجاىز قريش حمراء الشدقين هلكت في الدهر قد ابدلك الله خيرا منها
৩৮২০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, জিব্রাঈল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ঐ যে খাদীজাহ (রাঃ) একটি পাত্র হাতে নিয়ে আসছেন। ঐ পাত্রে তরকারী, অথবা খাদ্যদ্রব্য অথবা পানীয় ছিল। যখন তিনি পৌঁছে যাবেন তখন তাঁকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ হতে এবং আমার পক্ষ থেকেও সালাম জানাবেন আর তাঁকে জান্নাতের এমন একটি ভবনের খোশ খবর দিবেন যার অভ্যন্তর ভাগ ফাঁকা-মোতি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে থাকবে না কোন প্রকার শোরগোল; কোন প্রকার দুঃখ-ক্লেশ। (৭৪৯৭, মুসলিম ৪৪/১২, হাঃ নং ২৪৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৫ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩৮২১
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا محمد بن فضيل عن عمارة عن ابي زرعة عن ابي هريرة قال اتى جبريل النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله هذه خديجة قد اتت معها اناء فيه ادام او طعام او شراب فاذا هي اتتك فاقرا عليها السلام من ربها ومني وبشرها ببيت في الجنة من قصب لا صخب فيه ولا نصب وقال اسماعيل بن خليل اخبرنا علي بن مسهر عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت استاذنت هالة بنت خويلد اخت خديجة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فعرف استىذان خديجة فارتاع لذلك فقال اللهم هالة قالت فغرت فقلت ما تذكر من عجوز من عجاىز قريش حمراء الشدقين هلكت في الدهر قد ابدلك الله خيرا منها
৩৮২১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খাদীজাহর বোন হালা বিনতে খুয়াইলিদ (একদিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য অনুমতি চাইলেন। (দু’বোনের গলার স্বর ও অনুমতি চাওয়ার ভঙ্গি একই রকম ছিল বলে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজাহর অনুমতি চাওয়ার কথা মনে করে হতচকিত হয়ে পড়েন। তারপর (প্রকৃতিস্থ হয়ে) তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! এতো দেখছি হালা! ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেনঃ এতে আমার ভারী ঈর্ষা হলো। আমি বললাম, কুরাইশদের বুড়ীদের মধ্য থেকে এমন এক বুড়ীর কথা আপনি আলোচনা করেন যার দাঁতের মাড়ির লাল বর্ণটাই শুধু বাকি রয়ে গিয়েছিল, যে শেষ হয়ে গেছে কত কাল আগে। তার পরিবর্তে আল্লাহ তো আপনাকে তার চাইতেও উত্তম স্ত্রী দান করেছেন।* (মুসলিম ৪৪/১২, হাঃ নং ২৪৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ নাই)
৬৩/২১. بَابُ ذِكْرُ جَرِيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْبَجَلِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ
৬৩/২১. بَابُ ذِكْرُ جَرِيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْبَجَلِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ
নোট: * ‘আয়িশা (রাঃ) - এর এ কথার জবাবে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী বলেছেন তার উল্লেখ বুখারীতে নেই। তবে হাদীস সংকলন আহমাদ ও তাবারানী এ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ এতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্রুদ্ধ হন। অবশেষে আমি বললামঃ যিনি আপনাকে সত্যের বাহকরূপে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, ভবিষ্যতে আমি তাঁর (খাদীজাহ্র) সম্পর্কে উত্তম মন্তব্য ছাড়া অন্য কোনরূপ মন্তব্য করবো না।
হাদিস নং: ৩৮২২
সহিহ (Sahih)
حدثنا اسحاق الواسطي حدثنا خالد عن بيان عن قيس قال سمعته يقول قال جرير بن عبد الله ما حجبني رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ اسلمت ولا راني الا ضحك
৩৮২২. জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গৃহে প্রবেশ করতে কোনদিন আমাকে বাধা প্রদান করেননি এবং যখনই আমাকে দেখেছেন, মুচকি হাসি দিয়েছেন। (৩০৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪০ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৬ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩৮২৩
সহিহ (Sahih)
وعن قيس عن جرير بن عبد الله قال كان في الجاهلية بيت يقال له ذو الخلصة وكان يقال له الكعبة اليمانية او الكعبة الشامية فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم هل انت مريحي من ذي الخلصة قال فنفرت اليه في خمسين وماىة فارس من احمس قال فكسرنا وقتلنا من وجدنا عنده فاتيناه فاخبرناه فدعا لنا ولاحمس
৩৮২৩. জারীর (রাঃ) আরো বলেন, জাহিলী যুগে যুল-খালাসা নামে একটি ঘর ছিল। যাকে কা‘বায়ে ইয়ামানী ও কা‘বায়ে শামী বলা হত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি কি যুল-খালাসার ব্যাপারে আমাকে শান্তি দিতে পার? জারীর (রাঃ) বলেন, আমি আহমাস গোত্রের একশ পঞ্চাশ জন ঘোড়-সওয়ার সৈন্য নিয়ে যাত্রা করলাম এবং (প্রতীমা ঘরটি) বিধ্বস্ত করে দিলাম। সেখানে যাদেরকে পেলাম হত্যা করলাম। এসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খবর জানালাম। তিনি আমাদের জন্য এবং আহমাস গোত্রের জন্য দু‘আ করলেন। (৩০২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৬ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৮২৪
সহিহ (Sahih)
حدثني اسماعيل بن خليل اخبرنا سلمة بن رجاء عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت لما كان يوم احد هزم المشركون هزيمة بينة فصاح ابليس اي عباد الله اخراكم فرجعت اولاهم على اخراهم فاجتلدت اخراهم فنظر حذيفة فاذا هو بابيه فنادى اي عباد الله ابي ابي فقالت فوالله ما احتجزوا حتى قتلوه فقال حذيفة غفر الله لكم قال ابي فوالله ما زالت في حذيفة منها بقية خير حتى لقي الله عز وجل
৩৮২৪. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওহুদ যুদ্ধে মুশরিকগণ যখন শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে পড়লো, তখন ইব্লীস চীৎকার করে (মুসলিমগণকে) বলল, হে আল্লাহর বান্দাগণ! পিছনের দিকে লক্ষ্য কর। তখন অগ্রগামী দল পিছন দিকে ফিরে (শত্রুদল মনে করে) নিজদলের উপর আক্রমণ করে বসল এবং একে অন্যকে হত্যা করতে লাগল। এমন সময় হুযাইফাহ (রাঃ) পিছনের দলে তাঁর পিতাকে দেখতে পেয়ে চীৎকার করে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর বান্দাগণ! এই যে আমার পিতা, এই যে আমার পিতা। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ, কিন্তু তারা কেউই বিরত হয়নি। অবশেষে তাঁকে হত্যা করে ফেলল। হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন। (অধস্তন রাবী হিশাম বলেন,) আমার পিতা উরওয়াহ (রহ.) বলেন, আল্লাহর কসম, এ কথার কারণে হুযাইফাহ (রাঃ)-এর মধ্যে তাঁর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত কল্যাণের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। (৩২৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৭)
হাদিস নং: ৩৮২৫
সহিহ (Sahih)
وقال عبدان اخبرنا عبد الله اخبرنا يونس عن الزهري حدثني عروة ان عاىشة رضي الله عنها قالت جاءت هند بنت عتبة قالت يا رسول الله ما كان على ظهر الارض من اهل خباء احب الي ان يذلوا من اهل خباىك ثم ما اصبح اليوم على ظهر الارض اهل خباء احب الي ان يعزوا من اهل خباىك قالت وايضا والذي نفسي بيده قالت يا رسول الله ان ابا سفيان رجل مسيك فهل علي حرج ان اطعم من الذي له عيالنا قال لا اراه الا بالمعروف
৩৮২৫. ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, উতবাহর মেয়ে হিন্দ (রাঃ) এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক সময় আমার মনের অবস্থা পৃথিবীর বুকে কোন পরিবারের লাঞ্ছিত হতে দেখা আমার নিকট আপনার পরিবারের অপমানিত দেখার চেয়ে অধিক কাঙ্ক্ষিত ছিল না। কিন্তু এখন আমার অবস্থা এমন হয়েছে যে দুনিয়ার বুকে কোন পরিবারের সম্মানিত হতে দেখা আমার নিকট আপনার পরিবারের সম্মানিত দেখার চেয়ে বেশি প্রিয় নয়। তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। তারপর সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ সুফইয়ান (রাঃ) একজন কৃপণ ব্যক্তি। যদি তার মাল আমি ছেলে-মেয়েদের জন্য ব্যয় করি তবে তাতে কি আমার কিছু হবে? তিনি বললেন, না, যদি যথাযথ ব্যয় করা হয়। (২২১১, মুসলিম ৩০/৪, হাঃ নং ১৭১৪, আহমাদ ২৪১৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৩৩ পরিচ্ছেদ)
হাদিস নং: ৩৮২৬
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن ابي بكر حدثنا فضيل بن سليمان حدثنا موسى بن عقبة حدثنا سالم بن عبد الله عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم لقي زيد بن عمرو بن نفيل باسفل بلدح قبل ان ينزل على النبي صلى الله عليه وسلم الوحي فقدمت الى النبي صلى الله عليه وسلم سفرة فابى ان ياكل منها ثم قال زيد اني لست اكل مما تذبحون على انصابكم ولا اكل الا ما ذكر اسم الله عليه وان زيد بن عمرو كان يعيب على قريش ذباىحهم ويقول الشاة خلقها الله وانزل لها من السماء الماء وانبت لها من الارض ثم تذبحونها على غير اسم الله انكارا لذلك واعظاما له
৩৮২৬. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ওয়াহী নাযিল হওয়ার পূর্বে একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার নিম্ন অঞ্চলের বালদাহ নামক জায়গায় যায়দ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়লের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে খাদ্য পূর্ণ একটি ‘খানচা’ পেশ করা হল। তিনি তা হতে কিছু খেতে অস্বীকার করলেন। এরপর যায়দ (রাঃ) বললেন, আমিও ঐ সব জন্তুর গোশ্ত খাই না যা তোমরা তোমাদের দেব-দেবীর নামে যবাহ কর। আল্লাহর নামে যবহকৃত ছাড়া অন্যের নামে যবহ করা জন্তুর গোশ্ত আমি কিছুতেই খাই না। যায়দ ইবনু ‘আমর কুরাইশের যবহকৃত জন্তু সম্পর্কে তাদের উপর দোষারোপ করতেন এবং বলতেন; বকরীকে সৃষ্টি করলেন আল্লাহ্, তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আকাশ হতে বারি বর্ষণ করলেন। ভূমি হতে উৎপন্ন করলেন তৃণ-লতা অথচ তোমরা আল্লাহ্ তা‘আলার সমূহদান অস্বীকার করে প্রতিমার প্রতি সম্মান করে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের নামে যবহ করছ। (৫৪৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৩৮২৭
সহিহ (Sahih)
قال موسى حدثني سالم بن عبد الله ولا اعلمه الا تحدث به عن ابن عمر ان زيد بن عمرو بن نفيل خرج الى الشام يسال عن الدين ويتبعه فلقي عالما من اليهود فساله عن دينهم فقال اني لعلي ان ادين دينكم فاخبرني فقال لا تكون على ديننا حتى تاخذ بنصيبك من غضب الله قال زيد ما افر الا من غضب الله ولا احمل من غضب الله شيىا ابدا وانى استطيعه فهل تدلني على غيره قال ما اعلمه الا ان يكون حنيفا قال زيد وما الحنيف قال دين ابراهيم لم يكن يهوديا ولا نصرانيا ولا يعبد الا الله فخرج زيد فلقي عالما من النصارى فذكر مثله فقال لن تكون على ديننا حتى تاخذ بنصيبك من لعنة الله قال ما افر الا من لعنة الله ولا احمل من لعنة الله ولا من غضبه شيىا ابدا وانى استطيع فهل تدلني على غيره قال ما اعلمه الا ان يكون حنيفا قال وما الحنيف قال دين ابراهيم لم يكن يهوديا ولا نصرانيا ولا يعبد الا الله فلما راى زيد قولهم في ابراهيم عليه السلام خرج فلما برز رفع يديه فقال اللهم اني اشهد اني على دين ابراهيم وقال الليث كتب الي هشام عن ابيه عن اسماء بنت ابي بكر رضي الله عنهما قالت رايت زيد بن عمرو بن نفيل قاىما مسندا ظهره الى الكعبة يقول يا معاشر قريش والله ما منكم على دين ابراهيم غيري وكان يحيي الموءودة يقول للرجل اذا اراد ان يقتل ابنته لا تقتلها انا اكفيكها مىونتها فياخذها فاذا ترعرعت قال لابيها ان شىت دفعتها اليك وان شىت كفيتك مىونتها
৩৮২৭-৩৮২৮. মূসা (সনদসহ) বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। মূসা (রহ.) বলেন, আমার জানা মতে তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন যে, যায়দ ইবনু ‘আমর সঠিক তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত দ্বীনের খোঁজে সিরিয়ায় যান। সে সময় একজন ইয়াহূদী আলেমের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি তার নিকট তাদের দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এবং বললেন, হয়ত আমি তোমাদের দ্বীনের অনুসারী হব, আমাকে সে সম্পর্কে জানাও। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করবে না। গ্রহণ করলে যতখানি গ্রহণ করবে সে পরিমাণ আল্লাহর গযব তোমার উপর পতিত হবে। যায়দ বললেন, আমি তো আল্লাহর গযব হতে পালিয়ে আসছি। আমি যথাসাধ্য আল্লাহর সামান্য পরিমাণ গযবও বহন করব না। আর আমার কি তা বহনের শক্তি-সামর্থ্য আছে? তুমি কি আমাকে এছাড়া অন্য কোন পথের দিশা দিতে পার? সে বলল, আমি তা জানি না, তবে তুমি দ্বীনে হানীফ কবুল করে নাও। যায়দ জিজ্ঞেস করলেন (দ্বীনে) হানীফ কী? সে বলল, তা হল ইব্রাহীম (আঃ)-এর দ্বীন। তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না, নাসারাও ছিলেন না। তিনি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতেন না। তখন যায়দ বের হলেন এবং তাঁর সাথে একজন খ্রিস্টান আলিমের সাক্ষাৎ হল। ইয়াহূদী ‘আলিমের নিকট ইতিপূর্বে তিনি যা যা বলেছিলেন তার কাছেও তা বললেন। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করবে না। গ্রহণ করলে যত পরিমাণ গ্রহণ করবে তত পরিমাণ আল্লাহর লা‘নত তোমার উপর পতিত হবে। যায়দ বললেন, আমি তো আল্লাহর লা‘নত হতে পালিয়ে আসছি। আর আমি যথাসাধ্য সামান্য আল্লাহর লা‘নতও বহন করব না। আমি কি তা বহনের শক্তি রাখি? তুমি কি আমাকে এছাড়া অন্য কোন পথের দিশা দেবে? সে বলল, আমি অন্য কিছু জানি না। শুধু এতটুকু বলতে পারি যে, তুমি দ্বীনে হানীফ গ্রহণ কর। তিনি বললেন, হানীফ কী? উত্তরে তিনি বললেন, তা হল ইব্রাহীম (আঃ)-এর দ্বীন, তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না এবং খ্রিস্টানও ছিলেন না এবং আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো ইবাদত করতেন না। যায়দ যখন ইব্রাহীম (আঃ) সম্পর্কে তাদের মন্তব্য জানতে পারলেন, তখন তিনি বেরিয়ে পড়ে দু’হাত তুলে বললেন, হে আল্লাহ্! আমি তোমাকে সাক্ষী রেখে বলছি আমি দ্বীনে ইব্রাহীম (আঃ)-এর উপর আছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩ মধ্যমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ মধ্যমাংশ)
লায়স (রহ.) বলেন হিশাম তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আসমা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে লিখছেন যে, তিনি (আসমা) বলেন, আমি দেখলাম যায়দ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল কা’বা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন, হে কুরাইশ গোত্র, আল্লাহর কসম, আমি ব্যতীত তোমাদের কেউ-ই দ্বীনে ইব্রাহীমের উপর নেই। আর তিনি যেসব কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়ার জন্য নেয়া হত তাদেরকে তিনি বাঁচাবার ব্যবস্থা করতেন। যখন কোন লোক তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার জন্য ইচ্ছা করত, তখন তিনি এসে বলতেন, হত্যা করো না, আমি তার জীবিকার ব্যয়ভার গ্রহণ করবো। এ বলে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতেন। শিশুটি বড় হলে তার পিতাকে বলতেন, তুমি যদি তোমার কন্যাকে নিয়ে যেতে চাও, তাহলে আমি দিয়ে দেব। আর তুমি যদি নিতে না চাও, তবে আমিই এর সকল ব্যয় ভার বহন করে যাব। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ শেষাংশ)
লায়স (রহ.) বলেন হিশাম তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আসমা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে লিখছেন যে, তিনি (আসমা) বলেন, আমি দেখলাম যায়দ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল কা’বা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন, হে কুরাইশ গোত্র, আল্লাহর কসম, আমি ব্যতীত তোমাদের কেউ-ই দ্বীনে ইব্রাহীমের উপর নেই। আর তিনি যেসব কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়ার জন্য নেয়া হত তাদেরকে তিনি বাঁচাবার ব্যবস্থা করতেন। যখন কোন লোক তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার জন্য ইচ্ছা করত, তখন তিনি এসে বলতেন, হত্যা করো না, আমি তার জীবিকার ব্যয়ভার গ্রহণ করবো। এ বলে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতেন। শিশুটি বড় হলে তার পিতাকে বলতেন, তুমি যদি তোমার কন্যাকে নিয়ে যেতে চাও, তাহলে আমি দিয়ে দেব। আর তুমি যদি নিতে না চাও, তবে আমিই এর সকল ব্যয় ভার বহন করে যাব। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৮২৮
সহিহ (Sahih)
قال موسى حدثني سالم بن عبد الله ولا اعلمه الا تحدث به عن ابن عمر ان زيد بن عمرو بن نفيل خرج الى الشام يسال عن الدين ويتبعه فلقي عالما من اليهود فساله عن دينهم فقال اني لعلي ان ادين دينكم فاخبرني فقال لا تكون على ديننا حتى تاخذ بنصيبك من غضب الله قال زيد ما افر الا من غضب الله ولا احمل من غضب الله شيىا ابدا وانى استطيعه فهل تدلني على غيره قال ما اعلمه الا ان يكون حنيفا قال زيد وما الحنيف قال دين ابراهيم لم يكن يهوديا ولا نصرانيا ولا يعبد الا الله فخرج زيد فلقي عالما من النصارى فذكر مثله فقال لن تكون على ديننا حتى تاخذ بنصيبك من لعنة الله قال ما افر الا من لعنة الله ولا احمل من لعنة الله ولا من غضبه شيىا ابدا وانى استطيع فهل تدلني على غيره قال ما اعلمه الا ان يكون حنيفا قال وما الحنيف قال دين ابراهيم لم يكن يهوديا ولا نصرانيا ولا يعبد الا الله فلما راى زيد قولهم في ابراهيم عليه السلام خرج فلما برز رفع يديه فقال اللهم اني اشهد اني على دين ابراهيم وقال الليث كتب الي هشام عن ابيه عن اسماء بنت ابي بكر رضي الله عنهما قالت رايت زيد بن عمرو بن نفيل قاىما مسندا ظهره الى الكعبة يقول يا معاشر قريش والله ما منكم على دين ابراهيم غيري وكان يحيي الموءودة يقول للرجل اذا اراد ان يقتل ابنته لا تقتلها انا اكفيكها مىونتها فياخذها فاذا ترعرعت قال لابيها ان شىت دفعتها اليك وان شىت كفيتك مىونتها
৩৮২৭-৩৮২৮. মূসা (সনদসহ) বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। মূসা (রহ.) বলেন, আমার জানা মতে তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন যে, যায়দ ইবনু ‘আমর সঠিক তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত দ্বীনের খোঁজে সিরিয়ায় যান। সে সময় একজন ইয়াহূদী আলেমের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি তার নিকট তাদের দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এবং বললেন, হয়ত আমি তোমাদের দ্বীনের অনুসারী হব, আমাকে সে সম্পর্কে জানাও। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করবে না। গ্রহণ করলে যতখানি গ্রহণ করবে সে পরিমাণ আল্লাহর গযব তোমার উপর পতিত হবে। যায়দ বললেন, আমি তো আল্লাহর গযব হতে পালিয়ে আসছি। আমি যথাসাধ্য আল্লাহর সামান্য পরিমাণ গযবও বহন করব না। আর আমার কি তা বহনের শক্তি-সামর্থ্য আছে? তুমি কি আমাকে এছাড়া অন্য কোন পথের দিশা দিতে পার? সে বলল, আমি তা জানি না, তবে তুমি দ্বীনে হানীফ কবুল করে নাও। যায়দ জিজ্ঞেস করলেন (দ্বীনে) হানীফ কী? সে বলল, তা হল ইব্রাহীম (আঃ)-এর দ্বীন। তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না, নাসারাও ছিলেন না। তিনি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতেন না। তখন যায়দ বের হলেন এবং তাঁর সাথে একজন খ্রিস্টান আলিমের সাক্ষাৎ হল। ইয়াহূদী ‘আলিমের নিকট ইতিপূর্বে তিনি যা যা বলেছিলেন তার কাছেও তা বললেন। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করবে না। গ্রহণ করলে যত পরিমাণ গ্রহণ করবে তত পরিমাণ আল্লাহর লা‘নত তোমার উপর পতিত হবে। যায়দ বললেন, আমি তো আল্লাহর লা‘নত হতে পালিয়ে আসছি। আর আমি যথাসাধ্য সামান্য আল্লাহর লা‘নতও বহন করব না। আমি কি তা বহনের শক্তি রাখি? তুমি কি আমাকে এছাড়া অন্য কোন পথের দিশা দেবে? সে বলল, আমি অন্য কিছু জানি না। শুধু এতটুকু বলতে পারি যে, তুমি দ্বীনে হানীফ গ্রহণ কর। তিনি বললেন, হানীফ কী? উত্তরে তিনি বললেন, তা হল ইব্রাহীম (আঃ)-এর দ্বীন, তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না এবং খ্রিস্টানও ছিলেন না এবং আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো ইবাদত করতেন না। যায়দ যখন ইব্রাহীম (আঃ) সম্পর্কে তাদের মন্তব্য জানতে পারলেন, তখন তিনি বেরিয়ে পড়ে দু’হাত তুলে বললেন, হে আল্লাহ্! আমি তোমাকে সাক্ষী রেখে বলছি আমি দ্বীনে ইব্রাহীম (আঃ)-এর উপর আছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩ মধ্যমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ মধ্যমাংশ)
লায়স (রহ.) বলেন হিশাম তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আসমা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে লিখছেন যে, তিনি (আসমা) বলেন, আমি দেখলাম যায়দ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল কা’বা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন, হে কুরাইশ গোত্র, আল্লাহর কসম, আমি ব্যতীত তোমাদের কেউ-ই দ্বীনে ইব্রাহীমের উপর নেই। আর তিনি যেসব কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়ার জন্য নেয়া হত তাদেরকে তিনি বাঁচাবার ব্যবস্থা করতেন। যখন কোন লোক তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার জন্য ইচ্ছা করত, তখন তিনি এসে বলতেন, হত্যা করো না, আমি তার জীবিকার ব্যয়ভার গ্রহণ করবো। এ বলে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতেন। শিশুটি বড় হলে তার পিতাকে বলতেন, তুমি যদি তোমার কন্যাকে নিয়ে যেতে চাও, তাহলে আমি দিয়ে দেব। আর তুমি যদি নিতে না চাও, তবে আমিই এর সকল ব্যয় ভার বহন করে যাব। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ শেষাংশ)
লায়স (রহ.) বলেন হিশাম তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আসমা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে লিখছেন যে, তিনি (আসমা) বলেন, আমি দেখলাম যায়দ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল কা’বা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন, হে কুরাইশ গোত্র, আল্লাহর কসম, আমি ব্যতীত তোমাদের কেউ-ই দ্বীনে ইব্রাহীমের উপর নেই। আর তিনি যেসব কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়ার জন্য নেয়া হত তাদেরকে তিনি বাঁচাবার ব্যবস্থা করতেন। যখন কোন লোক তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার জন্য ইচ্ছা করত, তখন তিনি এসে বলতেন, হত্যা করো না, আমি তার জীবিকার ব্যয়ভার গ্রহণ করবো। এ বলে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতেন। শিশুটি বড় হলে তার পিতাকে বলতেন, তুমি যদি তোমার কন্যাকে নিয়ে যেতে চাও, তাহলে আমি দিয়ে দেব। আর তুমি যদি নিতে না চাও, তবে আমিই এর সকল ব্যয় ভার বহন করে যাব। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৮ শেষাংশ)
হাদিস নং: ৩৮২৯
সহিহ (Sahih)
حدثني محمود حدثنا عبد الرزاق قال اخبرني ابن جريج قال اخبرني عمرو بن دينار سمع جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال لما بنيت الكعبة ذهب النبي وعباس ينقلان الحجارة فقال عباس للنبي صلى الله عليه وسلم اجعل ازارك على رقبتك يقيك من الحجارة فخر الى الارض وطمحت عيناه الى السماء ثم افاق فقال ازاري ازاري فشد عليه ازاره
৩৮২৯. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন কা’বা গৃহ পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ‘আব্বাস (রাঃ) পাথর বয়ে আনছিলেন। ‘আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, তোমার লুঙ্গিটি কাঁধের উপর রাখ, পাথরের ঘর্ষণ হতে তোমাকে রক্ষা করবে। (লুঙ্গি খুলতেই) তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। তাঁর চোখ দু’টি আকাশের দিকে নিবিষ্ট ছিল। তাঁর চেতনা ফিরে এল, তখন তিনি বলতে লাগলেন, আমার লুঙ্গি, আমার লুঙ্গি। তৎক্ষণাৎ তাঁর লুঙ্গি পরিয়ে দেয়া হল। (৩৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৯
হাদিস নং: ৩৮৩০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن عمرو بن دينار وعبيد الله بن ابي يزيد قالا لم يكن على عهد النبي صلى الله عليه وسلم حول البيت حاىط كانوا يصلون حول البيت حتى كان عمر فبنى حوله حاىطا قال عبيد الله جدره قصير فبناه ابن الزبير
৩৮৩০. ‘আমর ইবনু দ্বীনার ও ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তারা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কা‘বা ঘরের চারিপাশে কোন প্রাচীর ছিল না। লোকজন কা‘বা ঘরকে কেন্দ্র করে তার চারপাশে সালাত আদায় করত। ‘উমার (রাঃ) কা‘বার চতুষ্পার্শ্বে প্রাচীর নির্মাণ করেন। ‘উবায়দুল্লাহ (রহ.) বলেন, এ প্রাচীর ছিল নীচু, অতঃপর ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তা নির্মাণ করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৫০)
হাদিস নং: ৩৮৩১
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسدد حدثنا يحيى حدثنا هشام قال حدثني ابي عن عاىشة رضي الله عنها قالت كان يوم عاشوراء يوما تصومه قريش في الجاهلية وكان النبي صلى الله عليه وسلم يصومه فلما قدم المدينة صامه وامر بصيامه فلما نزل رمضان كان من شاء صامه ومن شاء لا يصومه
৩৮৩১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলি যুগে আশুরার দিন কুরাইশগণ ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম পালন করতেন। যখন হিজরত করে মদিনা্য় আগমন করলেন, তখন তিনি নিজেও আশুরার সাওম পালন করতেন এবং অন্যকেও তা পালনের নির্দেশ দিতেন। যখন রমাযানের সাওম ফরয করা হল তখন যার ইচ্ছা (আশুরা) সওম করতেন আর যার ইচ্ছা করতেন না। (১৫৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৫১)
হাদিস নং: ৩৮৩২
সহিহ (Sahih)
حدثنا مسلم حدثنا وهيب حدثنا ابن طاوس عن ابيه عن ابن عباس رضي الله عنهما قال كانوا يرون ان العمرة في اشهر الحج من الفجور في الارض وكانوا يسمون المحرم صفرا ويقولون اذا برا الدبر وعفا الاثر حلت العمرة لمن اعتمر قال فقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم واصحابه رابعة مهلين بالحج وامرهم النبي صلى الله عليه وسلم ان يجعلوها عمرة قالوا يا رسول الله اي الحل قال الحل كله
৩৮৩২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাজ্জের মাসগুলোতে ‘উমরাহ পালন করাকে কুরাইশগণ পাপ কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের নামকে পরিবর্তন করে সফর মাস নাম দিত এবং বলত, (উটের) যখম যখন শুকিয়ে যাবে এবং পায়ের চিহ্ন মুছে যাবে তখন ‘উমরাহ পালন করা হালাল হবে যারা তা পালন করতে চায়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সঙ্গী সাথীগণ যিলহাজ্জ মাসের চার তারিখে হাজ্জের তালবিয়াহ পড়তে পড়তে মক্কা্য় হাযির হলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গী-সাথীদেরকে বললেন, তোমরা ‘উমরাহ্য় পরিণত করে নেও। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য কোন্ কোন্ বিষয় হালাল হবে? তিনি বললেন, সকল বিষয় হালাল হয়ে যাবে। (১০৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৫২)
হাদিস নং: ৩৮৩৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال كان عمرو يقول حدثنا سعيد بن المسيب عن ابيه عن جده قال جاء سيل في الجاهلية فكسا ما بين الجبلين قال سفيان ويقول ان هذا لحديث له شان
৩৮৩৩. সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) তাঁর পিতার মাধ্যমে দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, জাহিলীয়্যাতের যুগে একটি বন্যা হয়েছিল। যাতে মক্কা্য় দু’টি পাহাড়ের মধ্যস্থল সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছিল। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, ‘আমর ইবনু দ্বীনার বলতেন, এ হাদীসটির একটি দীর্ঘ পটভূমি আছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৫৩)
হাদিস নং: ৩৮৩৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو النعمان حدثنا ابو عوانة عن بيان ابي بشر عن قيس بن ابي حازم قال دخل ابو بكر على امراة من احمس يقال لها زينب فراها لا تكلم فقال ما لها لا تكلم قالوا حجت مصمتة قال لها تكلمي فان هذا لا يحل هذا من عمل الجاهلية فتكلمت فقالت من انت قال امرو من المهاجرين قالت اي المهاجرين قال من قريش قالت من اي قريش انت قال انك لسىول انا ابو بكر قالت ما بقاونا على هذا الامر الصالح الذي جاء الله به بعد الجاهلية قال بقاوكم عليه ما استقامت بكم اىمتكم قالت وما الاىمة قال اما كان لقومك رءوس واشراف يامرونهم فيطيعونهم قالت بلى قال فهم اولىك على الناس
৩৮৩৪. কাইস ইবনু আবূ হাযিম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবূ বকর (রাঃ) আহমাস গোত্রের যায়নাব নামের এক নারীর নিকট গেলেন। তিনি গিয়ে দেখতে পেলেন, নারীটি কথাবার্তা বলছে না। তিনি (লোকজনকে) জিজ্ঞেস করলেন, নারীটির এ অবস্থা কেন, কথাবার্তা বলছে না কেন? তারা তাঁকে জানালেন, এ নারী নীরব থেকে থেকে হাজ্জ পালন করে আসছেন। আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, কথা বল, কেননা এটা হালাল নয়। এটা জাহিলীয়্যাত যুগের কাজ। তখন নারীটি কথাবার্তা বলল। জিজ্ঞেস করল, আপনি কে? আবূ বকর (রাঃ) উত্তরে বললেন, আমি একজন মুহাজির লোক। মহিলাটি জিজ্ঞেস করল, আপনি কোন গোত্রের মুহাজির? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কুরাইশ গোত্রের। মহিলাটি জিজ্ঞেস করলেন, কোন কুরাইশের কোন শাখার আপনি? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তুমি তো অত্যধিক উত্তম প্রশ্নকারিণী। আমি আবূ বকর। তখন মহিলাটি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, জাহিলীয়্যা যুগের পর যে উত্তম দ্বীন ও কল্যাণময় জীবন বিধান আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন সে দ্বীনের উপর আমরা কতদিন সঠিকভাবে টিকে থাকতে পারব? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, যতদিন তোমাদের ইমামগণ তোমাদেরকে নিয়ে দ্বীনের উপর অটল থাকবেন। মহিলা জিজ্ঞেস করল, ইমামগণ কারা? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তোমাদের গোত্রে ও সমাজে এমন সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় লোক কি দেখনি যারা নির্দেশ দিলে সকলেই তা মেনে চলে। নারীটি উত্তর দিল, হাঁ। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, এরাই হলেন জনগণের ইমাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৫৪)
হাদিস নং: ৩৮৩৫
সহিহ (Sahih)
حدثني فروة بن ابي المغراء اخبرنا علي بن مسهر عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت اسلمت امراة سوداء لبعض العرب وكان لها حفش في المسجد قالت فكانت تاتينا فتحدث عندنا فاذا فرغت من حديثها قالت ويوم الوشاح من تعاجيب ربنا الا انه من بلدة الكفر انجاني فلما اكثرت قالت لها عاىشة وما يوم الوشاح قالت خرجت جويرية لبعض اهلي وعليها وشاح من ادم فسقط منها فانحطت عليه الحديا وهي تحسبه لحما فاخذته فاتهموني به فعذبوني حتى بلغ من امري انهم طلبوا في قبلي فبيناهم حولي وانا في كربي اذ اقبلت الحديا حتى وازت برءوسنا ثم القته فاخذوه فقلت لهم هذا الذي اتهمتموني به وانا منه بريىة
৩৮৩৫. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরবের কোন এক গোত্রের এক (মুক্তিপ্রাপ্ত) কৃষ্ণকায় মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেন। মসজিদের পাশে ছিল তার একটি ছোট ঘর। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, সে আমাদের নিকট আসত এবং আমাদের সাথে কথাবার্তা বলত। যখন তার বাক্যালাপ শেষ হত তখন প্রায়ই বলতো, ইয়াওমূল বিশাহ (মণিমুক্তা খচিত হারের দিন) আমাদের রবের পক্ষ হতে আশ্চর্যজনক ঘটনাবলীর একটি দিন জেনে রাখুন! আমার রব আমাকে কুফর এর দেশ হতে মুক্তি দিয়েছেন। সে এ কথাটি প্রায়ই বলত। একদিন ‘আয়িশাহ (রাঃ) ঐ মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়ামুল বিশাহ’ কী? তখন সে বলল যে, আমার মুনিবের পরিবারের এক শিশু কন্যা ঘর হতে বের হল। তার গলায় চামড়ার (উপর মণিমুক্তা খচিত) একটি হার ছিল। হারটি (ছিড়ে) গলা হতে পড়ে গেল। তখন একটি চিল ওটা গোশ্তের টুকরা মনে করে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল। তারা আমাকে হার চুরির সন্দেহে শাস্তি ও নির্যাতন করতে লাগল। অবশেষে তারা আমার লজ্জাস্থানে তল্লাশী চালাল। যখন তারা আমার চারপাশে ছিল এবং আমি চরম দুঃখে ছিলাম এমন সময় একটি চিল কোত্থেকে উড়ে আসল এবং আমাদের মাথার উপরে এসে হারটি ফেলে দিল। তারা হারটি তুলে নিল। তখন আমি বললাম, এটা হল সেই হার যেটা চুরির জন্য আমার উপর অপবাদ দিয়েছ, অথচ এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। (৪৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৫৫)