হাদিস নং: ৩৮৫৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا عياش بن الوليد حدثنا الوليد بن مسلم حدثني الاوزاعي حدثني يحيى بن ابي كثير عن محمد بن ابراهيم التيمي قال حدثني عروة بن الزبير قال سالت ابن عمرو بن العاص اخبرني باشد شيء صنعه المشركون بالنبي قال بينا النبي صلى الله عليه وسلم يصلي في حجر الكعبة اذ اقبل عقبة بن ابي معيط فوضع ثوبه في عنقه فخنقه خنقا شديدا فاقبل ابو بكر حتى اخذ بمنكبه ودفعه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اتقتلون رجلا ان يقول ربـي الله (غافر : 28) الاية تابعه ابن اسحاق حدثني يحيى بن عروة عن عروة قلت لعبد الله بن عمرو وقال عبدة عن هشام عن ابيه قيل لعمرو بن العاص وقال محمد بن عمرو عن ابي سلمة حدثني عمرو بن العاص
৩৮৫৬. ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) এর নিকটে বললাম, মক্কার মুশ্রিক কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সর্বাপেক্ষা কঠোর আচরণের বর্ণনা দিন। তিনি বললেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা শরীফের হিজর নামক স্থানে সালাত আদায় করছিলেন। তখন ‘উকবাহ ইবনু আবূ মু‘য়াইত এল এবং তার চাদর দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্ঠনালি পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলল। তখন আবূ বকর (রাঃ) এগিয়ে এসে ‘উকবাহ্কে কাঁধে ধরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে হটিয়ে দিলেন এবং বললেন, ‘‘তোমরা এমন লোককে হত্যা করতে চাও যিনি বলেন, একমাত্র আল্লাহ্ই আমার রব।’’ (গাফিরঃ ২৮) (৩৬৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৪)
হাদিস নং: ৩৮৫৭
সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن حماد الاملي قال حدثني يحيى بن معين حدثنا اسماعيل بن مجالد عن بيان عن وبرة عن همام بن الحارث قال قال عمار بن ياسر رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم وما معه الا خمسة اعبد وامراتان وابو بكر
৩৮৫৭. আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করলাম যে, তখন তাঁর সঙ্গে মুসলিম পাঁচজন কৃতদাস, দু’জন মহিলা ও আবূ বকর (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউ ছিল না। (৩৬৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৫)
হাদিস নং: ৩৮৫৮
সহিহ (Sahih)
حدثني اسحاق اخبرنا ابو اسامة حدثنا هاشم قال سمعت سعيد بن المسيب قال سمعت ابا اسحاق سعد بن ابي وقاص يقول ما اسلم احد الا في اليوم الذي اسلمت فيه ولقد مكثت سبعة ايام واني لثلث الاسلام
৩৮৫৮. সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন, যেদিন আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম সেদিন ছাড়া তার পূর্বে কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। আর আমি সাতদিন পর্যন্ত (বয়স্কদের মধ্যে) ইসলাম গ্রহণকারী তৃতীয় জন ছিলাম। (৩৭২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৬)
হাদিস নং: ৩৮৫৯
সহিহ (Sahih)
حدثني عبيد الله بن سعيد حدثنا ابو اسامة حدثنا مسعر عن معن بن عبد الرحمن قال سمعت ابي قال سالت مسروقا من اذن النبي صلى الله عليه وسلم بالجن ليلة استمعوا القران فقال حدثني ابوك يعني عبد الله انه اذنت بهم شجرة
وقول الله تعالى : قُلْ أُوْحِىَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ (الجن : 1)
এবং আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আপনি বলুনঃ আমার প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে কুরআন শ্রবণ করেছে।’’ (আল-জ্বিন ১)
৩৮৫৯. (মা'ন বিন) ‘আবদুর রহমান (রহ.) বলেন, আমি মাসরূক (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, যে রাতে জ্বিনরা মনোযোগের সঙ্গে কুরআন শ্রবণ করেছিল ঐ রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের উপস্থিতির খবর কে দিয়েছিল? তিনি বললেন, তোমার পিতা ‘আবদুল্লাহ [ইবনু মাসউদ (রাঃ)] আমাকে বলেছেন যে, একটি গাছ তাদের উপস্থিতির খবর দিয়েছিল। (মুসলিম ৪/৩৩, হাঃ নং ৪৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৭)
এবং আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আপনি বলুনঃ আমার প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে কুরআন শ্রবণ করেছে।’’ (আল-জ্বিন ১)
৩৮৫৯. (মা'ন বিন) ‘আবদুর রহমান (রহ.) বলেন, আমি মাসরূক (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, যে রাতে জ্বিনরা মনোযোগের সঙ্গে কুরআন শ্রবণ করেছিল ঐ রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের উপস্থিতির খবর কে দিয়েছিল? তিনি বললেন, তোমার পিতা ‘আবদুল্লাহ [ইবনু মাসউদ (রাঃ)] আমাকে বলেছেন যে, একটি গাছ তাদের উপস্থিতির খবর দিয়েছিল। (মুসলিম ৪/৩৩, হাঃ নং ৪৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৭)
হাদিস নং: ৩৮৬০
সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل حدثنا عمرو بن يحيى بن سعيد قال اخبرني جدي عن ابي هريرة انه كان يحمل مع النبي صلى الله عليه وسلم اداوة لوضوىه وحاجته فبينما هو يتبعه بها فقال من هذا فقال انا ابو هريرة فقال ابغني احجارا استنفض بها ولا تاتني بعظم ولا بروثة فاتيته باحجار احملها في طرف ثوبي حتى وضعتها الى جنبه ثم انصرفت حتى اذا فرغ مشيت فقلت ما بال العظم والروثة قال هما من طعام الجن وانه اتاني وفد جن نصيبين ونعم الجن فسالوني الزاد فدعوت الله لهم ان لا يمروا بعظم ولا بروثة الا وجدوا عليها طعاما
৩৮৬০. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযু ও ইস্তিন্জার ব্যবহারের জন্য পানি ভর্তি একটি পাত্র নিয়ে পিছনে পিছনে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ তিনি তাকিয়ে বললেন, কে? আমি বললাম, আমি আবূ হুরাইরাহ। তিনি বললেন, আমাকে কয়েকটি পাথর তালাশ করে দাও। আমি তা দিয়ে ইস্তিন্জা করব। [১] তবে, হাড় এবং গোবর আনবে না। আমি আমার কাপড়ের কিনারায় কয়েকটি পাথর এনে তাঁর কাছে রেখে দিলাম এবং আমি সেখান থেকে কিছুটা দূরে গেলাম। তিনি যখন ইস্তিন্জা হতে বেরোলেন, তখন আমি এগিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হাড় ও গোবর এর ব্যাপার কী? তিনি বললেন, এগুলো জ্বিনের খাবার। আমার কাছে নাসীবীন [২] নামের জায়গা হতে জ্বিনের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। তারা ভাল জ্বিন ছিল। তারা আমার কাছে খাদ্যদ্রব্যের আবেদন জানাল। তখন আমি আল্লাহর নিকট দু‘আ করলাম যে, যখন কোন হাড্ডি বা গোবর তারা লাভ করে তখন তারা যেন তাতে খাদ্য পায়। [৩] (১৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৮)
নোট: ১. উক্ত হাদীস হতে জানা যায় যে, পাথর বা তার বিকল্প জিনিস যথা মাটির ঢিলা, টিস্যু ইত্যাদি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করা বৈধ। পানি ও পাথর/ঢিলা একত্রে ব্যবহার করা অতি উত্তম। কেননা তাতে বেশী পবিত্রতা অর্জন হয়। তবে পানি ও ঢিলা উভয়টি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও যে কোন একটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ। তবে পানি ও ঢিলার যে কোন একটি ব্যবহার করলে, পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা উত্তম।
২. সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যে আল-জাযিরার একটি নগরী।
৩. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় ইবনুত্তীম বলেন- আল্লাহ হাড্ডি বা গোবরকে জ্বীনদের খাবারে পরিণত করেন। অথবা তা থেকে খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করান। (সূত্র- ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড ২১৯ পৃষ্ঠা)
২. সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যে আল-জাযিরার একটি নগরী।
৩. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় ইবনুত্তীম বলেন- আল্লাহ হাড্ডি বা গোবরকে জ্বীনদের খাবারে পরিণত করেন। অথবা তা থেকে খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করান। (সূত্র- ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড ২১৯ পৃষ্ঠা)
হাদিস নং: ৩৮৬১
সহিহ (Sahih)
حدثني عمرو بن عباس حدثنا عبد الرحمن بن مهدي حدثنا المثنى عن ابي جمرة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال لما بلغ ابا ذر مبعث النبي صلى الله عليه وسلم قال لاخيه اركب الى هذا الوادي فاعلم لي علم هذا الرجل الذي يزعم انه نبي ياتيه الخبر من السماء واسمع من قوله ثم اىتني فانطلق الاخ حتى قدمه وسمع من قوله ثم رجع الى ابي ذر فقال له رايته يامر بمكارم الاخلاق وكلاما ما هو بالشعر فقال ما شفيتني مما اردت فتزود وحمل شنة له فيها ماء حتى قدم مكة فاتى المسجد فالتمس النبي صلى الله عليه وسلم ولا يعرفه وكره ان يسال عنه حتى ادركه بعض الليل فاضطجع فراه علي فعرف انه غريب فلما راه تبعه فلم يسال واحد منهما صاحبه عن شيء حتى اصبح ثم احتمل قربته وزاده الى المسجد وظل ذلك اليوم ولا يراه النبي صلى الله عليه وسلم حتى امسى فعاد الى مضجعه فمر به علي فقال اما نال للرجل ان يعلم منزله فاقامه فذهب به معه لا يسال واحد منهما صاحبه عن شيء حتى اذا كان يوم الثالث فعاد علي على مثل ذلك فاقام معه ثم قال الا تحدثني ما الذي اقدمك قال ان اعطيتني عهدا وميثاقا لترشدني فعلت ففعل فاخبره قال فانه حق وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا اصبحت فاتبعني فاني ان رايت شيىا اخاف عليك قمت كاني اريق الماء فان مضيت فاتبعني حتى تدخل مدخلي ففعل فانطلق يقفوه حتى دخل على النبي صلى الله عليه وسلم ودخل معه فسمع من قوله واسلم مكانه فقال له النبي صلى الله عليه وسلم ارجع الى قومك فاخبرهم حتى ياتيك امري قال والذي نفسي بيده لاصرخن بها بين ظهرانيهم فخرج حتى اتى المسجد فنادى باعلى صوته اشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله ثم قام القوم فضربوه حتى اضجعوه واتى العباس فاكب عليه قال ويلكم الستم تعلمون انه من غفار وان طريق تجاركم الى الشام فانقذه منهم ثم عاد من الغد لمثلها فضربوه وثاروا اليه فاكب العباس عليه
৩৮৬১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাবের খবর যখন আবূ যার (রাঃ) এর কাছে পৌঁছল, তখন তিনি তাঁর ভাইকে বললেন, তুমি এই উপত্যকায় গিয়ে ঐ লোক সম্পর্কে জেনে আস যে লোক নিজেকে নবী বলে দাবী করছেন ও তাঁর কাছে আসমান হতে সংবাদ আসে। তাঁর কথাবার্তা মনোযোগ দিয়ে শুন এবং ফিরে এসে আমাকে শুনাও। তাঁর ভাই রওয়ানা হয়ে ঐ লোকের কাছে পৌঁছে তাঁর কথাবার্তা শুনলেন। এরপর তিনি আবূ যারের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি উত্তম আখলাক গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দান করছেন এবং এমন কালাম যা পদ্য নয়। এতে আবূ যার (রাঃ) বললেন, আমি যে জন্য তোমাকে পাঠিয়েছিলাম সে বিষয়ে তুমি আমাকে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলে না।
আবূ যার (রাঃ) সফরের জন্য সামান্য পাথেয় সংগ্রহ করলেন এবং একটি ছোট্ট পানির মশকসহ মক্কা্য় উপস্থিত হলেন। মসজিদে হারামে প্রবেশ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খোঁজ করতে লাগলেন। তিনি তাঁকে চিনতেন না। আবার কাউকে তাঁর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করাও পছন্দ করলেন না। এ অবস্থায় রাত হয়ে গেল। তিনি শুয়ে পড়লেন। ‘আলী (রাঃ) তাঁকে দেখে বুঝলেন যে, লোকটি বিদেশী। যখন আবূ যার ‘আলী (রাঃ)-কে দেখলেন, তখন তিনি তাঁর পিছনে পিছনে গেলেন। কিন্তু সকাল পর্যন্ত একে অন্যকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলেন না। আবূ যার (রাঃ) পুনরায় তাঁর পাথেয় ও মশক নিয়ে মসজিদে হারামের দিকে চলে গেলেন। এ দিনটি এমনিভাবে কেটে গেল, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে পেলেন না। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। তিনি শোয়ার জায়গায় ফিরে গেলেন। তখন ‘আলী (রাঃ) তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এখনও কি মুসাফিরের গন্তব্য স্থানের সন্ধান হয়নি? সে এখনও এ জায়গায় অবস্থান করছে। তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। কেউ কাউকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। এ অবস্থায় তৃতীয় দিন হয়ে গেল। ‘আলী (রাঃ) পূর্বের ন্যায় তাঁর পাশ দিয়ে যেতে লাগলেন। তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। এরপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কি আমাকে বলবে না কোন জিনিস এখানে আসতে তোমাকে অনুপ্রেরিত করেছে?
আবূ যার (রাঃ) বললেন, তুমি যদি আমাকে সঠিক রাস্তা দেখানোর পাকা অঙ্গীকার কর তবেই আমি তোমাকে বলতে পারি। ‘আলী (রাঃ) অঙ্গীকার করলেন এবং আবূ যার (রাঃ)ও তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য বললেন। ‘আলী (রাঃ) বললেন, তিনি সত্য, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যখন ভোর হয়ে যাবে তখন তুমি আমার অনুসরণ করবে। তোমার জন্য ভয়ের কারণ আছে এমন যদি কোন ব্যাপার আমি দেখতে পাই তবে আমি রাস্তার পাশে চলে যাব যেন আমি পেশাব করতে চাই। আর যদি আমি সোজা চলতে থাকি তবে তুমিও আমার অনুসরণ করতে থাকবে এবং যে ঘরে আমি প্রবেশ করি সে ঘরে তুমিও প্রবেশ করবে। আবূ যার (রাঃ) তাই করলেন। ‘আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তিনিও তাঁর [‘আলী (রাঃ)] সাথে প্রবেশ করলেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাবার্তা শুনলেন এবং ঐখানেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার স্বগোত্রে ফিরে যাও এবং আমার নির্দেশ না পৌঁছা পর্যন্ত আমার ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করবে। আবূ যার (রাঃ) বললেন, ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি আমার ইসলাম গ্রহণকে মুশরিকদের সম্মুখে উচ্চস্বরে ঘোষণা করব। এই বলে তিনি বেরিয়ে পড়লেন ও মসজিদে হারামে গিয়ে হাজির হলেন এবং উচ্চকন্ঠে ঘোষণা করলেন, أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ (তৎক্ষণাৎ) লোকেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং মারতে মারতে তাঁকে মাটিতে ফেলে দিল। এমন সময় ‘আব্বাস (রাঃ) এসে তাঁকে রক্ষা করলেন এবং বললেন, তোমাদের বিপদ অবধারিত। তোমরা কি জান না, এ লোকটি গিফার গোত্রের? আর তোমাদের ব্যবসায়ী কাফেলাগুলিকে গিফার গোত্রের নিকট দিয়েই সিরিয়া যাতায়াত করতে হয়। এ কথা বলে তিনি তাদের হাত হতে আবূ যারকে রক্ষা করলেন। পরদিন সকালে তিনি ঐরূপই বলতে লাগলেন। লোকেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে ভীষণভাবে মারতে লাগল। ‘আব্বাস (রাঃ) এসে তাঁকে সামলে নিলেন। (৩৫২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৯)
আবূ যার (রাঃ) সফরের জন্য সামান্য পাথেয় সংগ্রহ করলেন এবং একটি ছোট্ট পানির মশকসহ মক্কা্য় উপস্থিত হলেন। মসজিদে হারামে প্রবেশ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খোঁজ করতে লাগলেন। তিনি তাঁকে চিনতেন না। আবার কাউকে তাঁর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করাও পছন্দ করলেন না। এ অবস্থায় রাত হয়ে গেল। তিনি শুয়ে পড়লেন। ‘আলী (রাঃ) তাঁকে দেখে বুঝলেন যে, লোকটি বিদেশী। যখন আবূ যার ‘আলী (রাঃ)-কে দেখলেন, তখন তিনি তাঁর পিছনে পিছনে গেলেন। কিন্তু সকাল পর্যন্ত একে অন্যকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলেন না। আবূ যার (রাঃ) পুনরায় তাঁর পাথেয় ও মশক নিয়ে মসজিদে হারামের দিকে চলে গেলেন। এ দিনটি এমনিভাবে কেটে গেল, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে পেলেন না। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। তিনি শোয়ার জায়গায় ফিরে গেলেন। তখন ‘আলী (রাঃ) তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এখনও কি মুসাফিরের গন্তব্য স্থানের সন্ধান হয়নি? সে এখনও এ জায়গায় অবস্থান করছে। তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। কেউ কাউকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। এ অবস্থায় তৃতীয় দিন হয়ে গেল। ‘আলী (রাঃ) পূর্বের ন্যায় তাঁর পাশ দিয়ে যেতে লাগলেন। তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। এরপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কি আমাকে বলবে না কোন জিনিস এখানে আসতে তোমাকে অনুপ্রেরিত করেছে?
আবূ যার (রাঃ) বললেন, তুমি যদি আমাকে সঠিক রাস্তা দেখানোর পাকা অঙ্গীকার কর তবেই আমি তোমাকে বলতে পারি। ‘আলী (রাঃ) অঙ্গীকার করলেন এবং আবূ যার (রাঃ)ও তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য বললেন। ‘আলী (রাঃ) বললেন, তিনি সত্য, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যখন ভোর হয়ে যাবে তখন তুমি আমার অনুসরণ করবে। তোমার জন্য ভয়ের কারণ আছে এমন যদি কোন ব্যাপার আমি দেখতে পাই তবে আমি রাস্তার পাশে চলে যাব যেন আমি পেশাব করতে চাই। আর যদি আমি সোজা চলতে থাকি তবে তুমিও আমার অনুসরণ করতে থাকবে এবং যে ঘরে আমি প্রবেশ করি সে ঘরে তুমিও প্রবেশ করবে। আবূ যার (রাঃ) তাই করলেন। ‘আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তিনিও তাঁর [‘আলী (রাঃ)] সাথে প্রবেশ করলেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাবার্তা শুনলেন এবং ঐখানেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার স্বগোত্রে ফিরে যাও এবং আমার নির্দেশ না পৌঁছা পর্যন্ত আমার ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করবে। আবূ যার (রাঃ) বললেন, ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি আমার ইসলাম গ্রহণকে মুশরিকদের সম্মুখে উচ্চস্বরে ঘোষণা করব। এই বলে তিনি বেরিয়ে পড়লেন ও মসজিদে হারামে গিয়ে হাজির হলেন এবং উচ্চকন্ঠে ঘোষণা করলেন, أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ (তৎক্ষণাৎ) লোকেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং মারতে মারতে তাঁকে মাটিতে ফেলে দিল। এমন সময় ‘আব্বাস (রাঃ) এসে তাঁকে রক্ষা করলেন এবং বললেন, তোমাদের বিপদ অবধারিত। তোমরা কি জান না, এ লোকটি গিফার গোত্রের? আর তোমাদের ব্যবসায়ী কাফেলাগুলিকে গিফার গোত্রের নিকট দিয়েই সিরিয়া যাতায়াত করতে হয়। এ কথা বলে তিনি তাদের হাত হতে আবূ যারকে রক্ষা করলেন। পরদিন সকালে তিনি ঐরূপই বলতে লাগলেন। লোকেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে ভীষণভাবে মারতে লাগল। ‘আব্বাস (রাঃ) এসে তাঁকে সামলে নিলেন। (৩৫২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৭৯)
হাদিস নং: ৩৮৬২
সহিহ (Sahih)
حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان عن اسماعيل عن قيس قال سمعت سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل في مسجد الكوفة يقول والله لقد رايتني وان عمر لموثقي على الاسلام قبل ان يسلم عمر ولو ان احدا ارفض للذي صنعتم بعثمان لكان
৩৮৬২. কায়স (রাঃ) বলেন, আমি সা‘ঈদ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল (রাঃ)-কে কুফার মসজিদে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, ‘উমরের ইসলাম গ্রহণের আগে আমার ইসলাম গ্রহণের কারণে তাঁর হাতে আমাকে বন্দী হতে দেখেছি। তোমরা ‘উসমান (রাঃ) এর সাথে যে আচরণ করলে এ কারণে যদি ওহুদ পাহাড় বিদীর্ণ হয়ে যায় তবে তা হওয়া ঠিকই হবে। (৩৮৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮০)
হাদিস নং: ৩৮৬৩
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن كثير اخبرنا سفيان عن اسماعيل بن ابي خالد عن قيس بن ابي حازم عن عبد الله بن مسعود قال ما زلنا اعزة منذ اسلم عمر
৩৮৬৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) যেদিন থেকে ইসলাম গ্রহণ করলেন ঐ দিন হতে আমরা সর্বদা সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত আছি। (৩৬৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮১)
হাদিস নং: ৩৮৬৪
সহিহ (Sahih)
حدثني يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال حدثني عمر بن محمد قال فاخبرني جدي زيد بن عبد الله بن عمر عن ابيه قال بينما هو في الدار خاىفا اذ جاءه العاص بن واىل السهمي ابو عمرو عليه حلة حبرة وقميص مكفوف بحرير وهو من بني سهم وهم حلفاونا في الجاهلية فقال له ما بالك قال زعم قومك انهم سيقتلوني ان اسلمت قال لا سبيل اليك بعد ان قالها امنت فخرج العاص فلقي الناس قد سال بهم الوادي فقال اين تريدون فقالوا نريد هذا ابن الخطاب الذي صبا قال لا سبيل اليه فكر الناس
৩৮৬৪. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর পিতা ‘উমার (রাঃ)একদিন নিজ গৃহে ভীত অবস্থায় অবস্থান করছিলেন। তখন আবূ ‘আমর ‘আস ইবনু ওয়াইল সাহমী তাঁর নিকট এলেন। তার গায়ে ছিল ধারিদার চাদর ও রেশমী জরির জামা। তিনি বানু সাহম গোত্রের লোক ছিলেন। জাহিলী যুগে তারা আমাদের হালীফ (বিপদ কালে সাহায্যের চুক্তি যাদের সাথে করা হয়) ছিল। ‘আস ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন আপনার অবস্থা কেমন? ‘উমার (রাঃ) উত্তর দিলেন ইসলাম গ্রহণ করার কারণে তোমার গোত্রের লোকজন অচিরেই আমাকে হত্যা করবে। তা শুনে ‘আস (রাঃ) বললেন, তোমার কোন কিছু করার শক্তি ক্ষমতা তাদের নেই। তার কথা শুনে ‘উমর (রাঃ) বললেন, তোমার কথা শুনে আমি নিঃশঙ্ক হলাম। ‘আস বেরিয়ে পড়লেন এবং দেখতে পেলেন, মক্কা ভূমি লোকে ভরপুর। তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তারা বলল, আমরা ‘উমার ইবনুল খাত্তাবের নিকট যাচ্ছি, সে নিজ ধর্ম ত্যাগ করতঃ বিধর্মী হয়ে গেছে। ‘আস বললেন তার নিকট যাওয়ার, তার কোন কিছু করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। এতে লোকজন ফিরে গেল। (৩৮৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮২)
হাদিস নং: ৩৮৬৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال عمرو بن دينار سمعته قال قال عبد الله بن عمر رضي الله عنهما لما اسلم عمر اجتمع الناس عند داره وقالوا صبا عمر وانا غلام فوق ظهر بيتي فجاء رجل عليه قباء من ديباج فقال قد صبا عمر فما ذاك فانا له جار قال فرايت الناس تصدعوا عنه فقلت من هذا قالوا العاص بن واىل
৩৮৬৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, যখন ‘উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন লোকেরা তাঁর গৃহের কাছে জড় হল এবং বলতে লাগল, ‘উমার স্বধর্ম ত্যাগ করেছে। আমি তখন ছোট ছেলে। আমাদের ঘরের ছাদে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখতেছিলাম। তখন একজন লোক এসে বলল,তার গায়ে রেশমী জুববা ছিল, ‘উমার স্বধর্ম ত্যাগ করেছে, কিন্তু এ সমাবেশ কেন? আমি তাকে আশ্রয় দিচ্ছি। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, তখন আমি দেখলাম, লোকজন চারিদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কে? লোকেরা বলল, ‘আস ইবনু ওয়াইল। (৩৮৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৩)
হাদিস নং: ৩৮৬৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال حدثني عمر ان سالما حدثه عن عبد الله بن عمر قال ما سمعت عمر لشيء قط يقول اني لاظنه كذا الا كان كما يظن بينما عمر جالس اذ مر به رجل جميل فقال لقد اخطا ظني او ان هذا على دينه في الجاهلية او لقد كان كاهنهم علي الرجل فدعي له فقال له ذلك فقال ما رايت كاليوم استقبل به رجل مسلم قال فاني اعزم عليك الا ما اخبرتني قال كنت كاهنهم في الجاهلية قال فما اعجب ما جاءتك به جنيتك قال بينما انا يوما في السوق جاءتني اعرف فيها الفزع فقالت الم تر الجن وابلاسها وياسها من بعد انكاسها ولحوقها بالقلاص واحلاسها قال عمر صدق بينما انا ناىم عند الهتهم اذ جاء رجل بعجل فذبحه فصرخ به صارخ لم اسمع صارخا قط اشد صوتا منه يقول يا جليح امر نجيح رجل فصيح يقول لا اله الا الله فوثب القوم قلت لا ابرح حتى اعلم ما وراء هذا ثم نادى يا جليح امر نجيح رجل فصيح يقول لا اله الا الله فقمت فما نشبنا ان قيل هذا نبي
৩৮৬৬. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখনই ‘উমার (রাঃ)-কে কোন ব্যাপারে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আমার মনে হয় ব্যাপারটি এমন হবে, তবে তার ধারণা মত ব্যাপারটি সংঘটিত হয়েছে। একবার ‘উমার (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় এক সুদর্শন লোক তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমার ধারণা ভুলও হতে পারে তবে আমার মনে হয় লোকটি জাহেলী ধর্মাবলম্বী কিংবা ভবিষ্যৎ গণনাকারীও হতে পারে। লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এস। তাকে তাঁর কাছে ডেকে আনা হল। ‘উমার (রাঃ) তার ধারণার কথা তাকে শুনালেন। তখন সে বলল, ইতিপূর্বে আমি কোন মুসলিম ব্যক্তিকে এরূপ কথা বলতে দেখিনি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি তোমাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তুমি আমাকে তোমার বিষয়টি খুলে বল। সে বলল, জাহিলী যুগে আমি তাদের ভবিষ্যৎ গণনাকারী ছিলাম। ‘উমার (রাঃ) বললেন, জ্বিনেরা তোমাকে যে সব কথাবার্তা বলেছে, তন্মধ্যে কোন কথাটি তোমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল। সে বলল, আমি একদিন বাজারে ছিলাম। তখন একটি মহিলা জ্বিন আমার নিকট আসল। আমি তাকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখতে পেলাম। তখন সে বলল, তুমি কি জ্বিন জাতির অবস্থা দেখছনা, তারা কেমন দুর্বল হয়ে পড়ছে? তাদের মধ্যে হতাশার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। তারা ক্রমশঃ উটওয়ালাদের এবং চাদর জুববা পরিধানকারীদের অনুগত হয়ে পড়ছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, সে সত্য কথা বলেছে। আমি একদিন তাদের দেবতাদের কাছে ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন এক লোক একটি গরুর বাছুর নিয়ে হাযির হল এবং সেটা যবহ করে দিল। ঐ সময় এক লোক এমন বিকট চীৎকার করে উঠল, যা আমি আর কখনও শুনিনি। সে চীৎকার করে বলছিল, হে জলীহ্! একটি সাধারণ কল্যাণময় ব্যাপার শীঘ্রই প্রকাশ লাভ করবে। তা হল- একজন শুদ্ধভাষী লোক বলবেন; لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ (শুনে) লোকজন ছুটাছুটি করে পলায়ন করল। আমি বললাম, এ ঘোষণার রহস্য অবশ্যই বের করব। তারপর আবার ঘোষণা দেয়া হল। হে জলীহ্! একটি সাধারণ ও কল্যাণময় ব্যাপার অতি শীঘ্র প্রকাশ পাবে। তাহল একজন বাগ্মী ব্যক্তি لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ এর প্রকাশ্যে ঘোষণা দিবে। তারপর আমি উঠে দাঁড়ালাম। এর কিছুদিন পরেই বলা হল যে, ইনিই নবী। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৪)
হাদিস নং: ৩৮৬৭
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن المثنى حدثنا يحيى حدثنا اسماعيل حدثنا قيس قال سمعت سعيد بن زيد يقول للقوم لو رايتني موثقي عمر على الاسلام انا واخته وما اسلم ولو ان احدا انقض لما صنعتم بعثمان لكان محقوقا ان ينقض
৩৮৬৭. কাইস (রহ.) বলেন, আমি সা‘ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে তাঁর গোত্রকে লক্ষ্য করে একথা বলতে শুনেছি যে, আমি দেখেছি ‘উমার (রাঃ) আমাকে এবং তার বোন ফাতিমাকে ইসলাম গ্রহণ করার কারণে বেঁধে রেখেছেন। তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। তোমরা ‘উসমান (রাঃ)-এর সাথে যে অসদাচরণ করেছ তার কারণে যদি ওহুদ পাহাড় বিদীর্ণ হয় তবে তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। (৩৮৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৫)
হাদিস নং: ৩৮৬৮
সহিহ (Sahih)
حدثني عبد الله بن عبد الوهاب حدثنا بشر بن المفضل حدثنا سعيد بن ابي عروبة عن قتادة عن انس بن مالك ان اهل مكة سالوا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يريهم اية فاراهم القمر شقتين حتى راوا حراء بينهما
৩৮৬৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মক্কা্বাসী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর নবুওয়াতের নিদর্শন দেখানোর দাবী জানাল। তিনি তাদেরকে চাঁদ দু’খন্ড করে দেখালেন। এমনকি তারা দু’খন্ডের মাঝে হেরা পাহাড়কে দেখতে পেল। (৩৬৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৬)
হাদিস নং: ৩৮৬৯
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش عن ابراهيم عن ابي معمر عن عبد الله قال انشق القمر ونحن مع النبي صلى الله عليه وسلم بمنى فقال اشهدوا وذهبت فرقة نحو الجبل وقال ابو الضحى عن مسروق عن عبد الله انشق بمكة وتابعه محمد بن مسلم عن ابن ابي نجيح عن مجاهد عن ابي معمر عن عبد الله
৩৮৬৯. ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয় তখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মিনায় ছিলাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক। তখন আমরা দেখলাম, চাঁদের একটি খন্ড হেরা পাহাড়ের দিকে চলে গেল। আবূ যুহা মাসরূকের বরাত দিয়ে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয় মক্কা্য়। মুহাম্মাদ বিন মুসলিম অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (৩৬৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৭)
হাদিস নং: ৩৮৭০
সহিহ (Sahih)
حدثنا عثمان بن صالح حدثنا بكر بن مضر قال حدثني جعفر بن ربيعة عن عراك بن مالك عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما ان القمر انشق على زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم
৩৮৭০. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে চাঁদ দু’ খন্ড হয়েছিল। (৩৬৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৮)
হাদিস নং: ৩৮৭১
সহিহ (Sahih)
حدثنا عمر بن حفص حدثنا ابي حدثنا الاعمش حدثنا ابراهيم عن ابي معمر عن عبد الله صلى الله عليه وسلم قال انشق القمر
৩৮৭১. আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে) চাঁদ দু’ খন্ড হয়েছিল। (৩৬৩৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৮৯)
হাদিস নং: ৩৮৭২
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد الجعفي حدثنا هشام اخبرنا معمر عن الزهري حدثنا عروة بن الزبير ان عبيد الله بن عدي بن الخيار اخبره ان المسور بن مخرمة وعبد الرحمن بن الاسود بن عبد يغوث قالا له ما يمنعك ان تكلم خالك عثمان في اخيه الوليد بن عقبة وكان اكثر الناس فيما فعل به قال عبيد الله فانتصبت لعثمان حين خرج الى الصلاة فقلت له ان لي اليك حاجة وهي نصيحة فقال ايها المرء اعوذ بالله منك فانصرفت فلما قضيت الصلاة جلست الى المسور والى ابن عبد يغوث فحدثتهما بالذي قلت لعثمان وقال لي فقالا قد قضيت الذي كان عليك فبينما انا جالس معهما اذ جاءني رسول عثمان فقالا لي قد ابتلاك الله فانطلقت حتى دخلت عليه فقال ما نصيحتك التي ذكرت انفا قال فتشهدت ثم قلت ان الله بعث محمدا صلى الله عليه وسلم وانزل عليه الكتاب وكنت ممن استجاب لله ورسوله صلى الله عليه وسلم وامنت به وهاجرت الهجرتين الاوليين وصحبت رسول الله صلى الله عليه وسلم ورايت هديه وقد اكثر الناس في شان الوليد بن عقبة فحق عليك ان تقيم عليه الحد فقال لي يا ابن اخي ادركت رسول الله قال قلت لا ولكن قد خلص الي من علمه ما خلص الى العذراء في سترها قال فتشهد عثمان فقال ان الله قد بعث محمدا بالحق وانزل عليه الكتاب وكنت ممن استجاب لله ورسوله صلى الله عليه وسلم وامنت بما بعث به محمد وهاجرت الهجرتين الاوليين كما قلت وصحبت رسول الله صلى الله عليه وسلم وبايعته والله ما عصيته ولا غششته حتى توفاه الله ثم استخلف الله ابا بكر فوالله ما عصيته ولا غششته ثم استخلف عمر فوالله ما عصيته ولا غششته ثم استخلفت افليس لي عليكم مثل الذي كان لهم علي قال بلى قال فما هذه الاحاديث التي تبلغني عنكم فاما ما ذكرت من شان الوليد بن عقبة فسناخذ فيه ان شاء الله بالحق قال فجلد الوليد اربعين جلدة وامر عليا ان يجلده وكان هو يجلده وقال يونس وابن اخي الزهري عن الزهري افليس لي عليكم من الحق مثل الذي كان لهم
قال ابو عبد الله بلآء من ربكم (البقرة : 49) ما ابتليتم به من شدة وفي موضع البلاء الابتلاء والتمحيص من بلوته ومحصته اي استخرجت ما عنده يبلو يختبر مبتليكم (البقرة : 249) مختبركم واما قوله بلآء عظيم النعم وهي من ابليته وتلك من ابتليته
قال ابو عبد الله بلآء من ربكم (البقرة : 49) ما ابتليتم به من شدة وفي موضع البلاء الابتلاء والتمحيص من بلوته ومحصته اي استخرجت ما عنده يبلو يختبر مبتليكم (البقرة : 249) مختبركم واما قوله بلآء عظيم النعم وهي من ابليته وتلك من ابتليته
وَقَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرِيْتُ دَارَ هِجْرَتِكُمْ ذَاتَ نَخْلٍ بَيْنَ لَابَتَيْنِ فَهَاجَرَ مَنْ هَاجَرَ قِبَلَ الْمَدِيْنَةِ وَرَجَعَ عَامَّةُ مَنْ كَانَ هَاجَرَ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ إِلَى الْمَدِيْنَةِ فِيْهِ عَنْ أَبِيْ مُوْسَى وَأَسْمَاءَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের হিজরা্তের স্থান আমাকে (স্বপ্নে) দেখান হয়েছে। যেখানে রয়েছে অনেক বৃক্ষ আর সে স্থানটি ছিল দুই পাহাড়ের মাঝখানে। তখন হিজরতকারীগণ মদিনা্য় হিজরত করলেন এবং যারা এর আগে হাবশাহ্য় হিজরত করেছিলেন তারাও মদিনা্য় ফিরে আসলেন। এ সম্পর্কে আবূ মূসা ও আসমা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণিত আছে।
৩৮৭২. ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আদী ইবনু খিয়ার (রহ.) ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়রকে বলেন যে, মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু ‘আবদ ইয়াগুস (রাঃ) উভয়ই তাকে বলেন, তুমি তোমার মামা ‘উসমান (রাঃ)-এর সাথে তার (বৈপিত্রেয়) ভাই ওয়ালীদ ইবনু ‘উকবাহ সম্পর্কে কোন আলাপ-আলোচনা করছ না কেন? জনগণ তার বিরুদ্ধে শক্তভাবে সমালোচনা করছে। ‘উবাইদুল্লাহ বলেন, ‘উসমান (রাঃ) যখন সালাতের জন্য মসজিদে আসছিলেন তখন আমি তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তাঁকে লক্ষ্য করে বললাম, আপনার সাথে আমার কথা বলার দরকার আছে এবং তা আপনার কল্যাণের জন্যই। তিনি বললেন, ওহে, আমি তোমা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তখন ফিরে আসলাম এবং যখন সালাত শেষ করলাম, তখন মিসওয়ার ও ইবনু ‘আবদ ইয়াগুস (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বসলাম এবং ‘উসমান (রাঃ)-কে আমি যা বলেছি এবং তিনি যে উত্তর দিয়েছেন তা দু’জনকে শুনালাম। তারা বললেন, তোমার উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল তা তুমি আদায় করেছ। আমি তাদের নিকট উপবিষ্টই আছি এ সময়‘উসমান (রাঃ)-এর পক্ষ হতে একজন দূত আমাকে ডেকে নেয়ার জন্য আসলেন। তারা দু’জন আমাকে বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে পরীক্ষায় ফেলেছেন। আমি চললাম এবং ‘উসমান (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী উপদেশ যা তুমি কিছুক্ষণ আগে বলতে চেয়েছিলে? তখন আমি কালিমা শাহাদাত পাঠ করে বললাম, আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছেন, তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর আপনি ঐ দলেরই অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, আপনি তাঁর উপর ঈমান এনেছেন, এবং প্রথম দু’ হিজরতে আপনি অংশ নিয়েছেন, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ লাভ করেছেন এবং তাঁর স্বভাব-চরিত্র চক্ষে দেখেছেন। জন সাধারণ ওয়ালিদ ইবনু ‘উকবাহ্ সম্পর্কে অনেক সমালোচনা করছে, আপনার কর্তব্য তাঁর উপর দন্ড জারি করা। ‘উসমান (রাঃ) আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেয়েছ? আমি বললাম না, পাইনি। তবে তাঁর বিষয় আমার নিকট এমন ভাবে পৌঁছেছে যেমন ভাবে কুমারী মেয়েদের নিকট পর্দার সংবাদ পৌঁছে থাকে। ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ‘উসমান (রাঃ) কালিমা শাহাদত পাঠ করলেন এবং বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মুহম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আমিও ছিলাম। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যা সহ প্রেরণ করা হয়েছিল আমি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি। ইসলামের প্রথম যুগের দু’ হিজরতে অংশ গ্রহণ করেছি যেমন তুমি বলছ। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ লাভ করেছি, তাঁর হাতে বায়‘আত করেছি। আল্লাহর কসম, আমি তাঁর অবাধ্যতা করিনি। তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। এমতাবস্থায় তাঁর ওফাত হয়ে যায়। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা আবূ বকর (রাঃ) কে খালীফাহ নিযুক্ত করলেন। আল্লাহর কসম, আমি তাঁরও নাফরমানী করিনি, তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) খালীফাহ মনোনীত হলেন। আল্লাহর কসম, আমি তাঁরও অবাধ্য হইনি, তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। তিনিও মৃত্যুপ্রাপ্ত হলেন। এবং তারপর আমাকে খলীফা নিযুক্ত করা হল। আমার উপর তাদের বাধ্য থাকার যে রূপ হক ছিল তোমাদের উপর তাদের ন্যায় আমার প্রতি বাধ্য থাকার কি কোন কর্তব নেই? ‘উবাইদুল্লাহ বললেন, হাঁ। অবশ্যই হক আছে। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, তাহলে এসব কথাবার্তা কী, তোমাদের পক্ষ হতে আমার নিকট আসছে? আর ওয়ালীদ ইবনু ‘উকবাহর ব্যাপারে তুমি যা বললে, সে ব্যাপারে আমি অতি সত্বর সঠিক পদক্ষেপ নিব ইন্শাআল্লাহ্। অতঃপর তিনি ওয়ালীদকে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করার রায় প্রদান করলেন এবং তা বাস্তবায়িত করার জন্য ‘‘আলী (রাঃ)-কে আদেশ করলেন। সেকালে অপরাধীদেরকে শাস্তি প্রদানের দায়িত্বে ‘আলী (রাঃ) নিযুক্ত ছিলেন। ইউনুস এবং যুহরীর ভাতিজা যুহরী সূত্রে যে বর্ণনা করেন তাতে রয়েছে; ‘তোমাদের উপর আমার কি অধিকার নেই যেমন অধিকার ছিল তাদের জন্য।’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৯০)
আবূ ‘আব্দুল্লাহ বলেন, অতঃপর ওয়ালীদকে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করা হলো এবং ‘আলী (রাঃ)-কে নির্দেশ করা হলো তাকে বেত্রাঘাত করার। এবং তিনি তাকে বেত্রাঘাত করেছিলেন। (৩৬৯৬)
আবূ ‘আব্দুল্লাহ বলেন, بَلَاءٌ مِنْ رَبِّكُمْ ‘‘তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে শক্ত পরীক্ষা স্বরূপ।’’ (আল-বাকারাহঃ ৪৯) অন্যস্থানে الْبَلَاءُ শব্দ الاِبْتِلَاءُ ও التَّمْحِيْصُ অর্থে এসেছে। যথা بَلَوْتُهُ وَمَحَّصْتُهُ তার ভিতরের জিনিস উদ্ঘাটন করেছি। يَبْلُوْ পরীক্ষা করা অর্থে এসেছে, যথা مُبْتَلِيكُمْ ‘‘তিনি তোমাদের পরীক্ষা করবেন।’’ (আল-বাকারাহঃ ২৪৯) আর بَلَاءٌ عَظِيْمٌ অর্থাৎ বড় নি‘মাত। এখানে أَبْلَيْتُهُ আমি তাকে নি‘মাত দান করেছি।’’ এ অর্থে এসেছে। আর পূর্বের আয়াতে ابْتَلَيْتُهُ ‘‘আমি তাকে পরীক্ষা করেছি।’’ এর অর্থে এসেছে।
‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের হিজরা্তের স্থান আমাকে (স্বপ্নে) দেখান হয়েছে। যেখানে রয়েছে অনেক বৃক্ষ আর সে স্থানটি ছিল দুই পাহাড়ের মাঝখানে। তখন হিজরতকারীগণ মদিনা্য় হিজরত করলেন এবং যারা এর আগে হাবশাহ্য় হিজরত করেছিলেন তারাও মদিনা্য় ফিরে আসলেন। এ সম্পর্কে আবূ মূসা ও আসমা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণিত আছে।
৩৮৭২. ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আদী ইবনু খিয়ার (রহ.) ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়রকে বলেন যে, মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু ‘আবদ ইয়াগুস (রাঃ) উভয়ই তাকে বলেন, তুমি তোমার মামা ‘উসমান (রাঃ)-এর সাথে তার (বৈপিত্রেয়) ভাই ওয়ালীদ ইবনু ‘উকবাহ সম্পর্কে কোন আলাপ-আলোচনা করছ না কেন? জনগণ তার বিরুদ্ধে শক্তভাবে সমালোচনা করছে। ‘উবাইদুল্লাহ বলেন, ‘উসমান (রাঃ) যখন সালাতের জন্য মসজিদে আসছিলেন তখন আমি তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তাঁকে লক্ষ্য করে বললাম, আপনার সাথে আমার কথা বলার দরকার আছে এবং তা আপনার কল্যাণের জন্যই। তিনি বললেন, ওহে, আমি তোমা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তখন ফিরে আসলাম এবং যখন সালাত শেষ করলাম, তখন মিসওয়ার ও ইবনু ‘আবদ ইয়াগুস (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বসলাম এবং ‘উসমান (রাঃ)-কে আমি যা বলেছি এবং তিনি যে উত্তর দিয়েছেন তা দু’জনকে শুনালাম। তারা বললেন, তোমার উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল তা তুমি আদায় করেছ। আমি তাদের নিকট উপবিষ্টই আছি এ সময়‘উসমান (রাঃ)-এর পক্ষ হতে একজন দূত আমাকে ডেকে নেয়ার জন্য আসলেন। তারা দু’জন আমাকে বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে পরীক্ষায় ফেলেছেন। আমি চললাম এবং ‘উসমান (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী উপদেশ যা তুমি কিছুক্ষণ আগে বলতে চেয়েছিলে? তখন আমি কালিমা শাহাদাত পাঠ করে বললাম, আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছেন, তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর আপনি ঐ দলেরই অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, আপনি তাঁর উপর ঈমান এনেছেন, এবং প্রথম দু’ হিজরতে আপনি অংশ নিয়েছেন, আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ লাভ করেছেন এবং তাঁর স্বভাব-চরিত্র চক্ষে দেখেছেন। জন সাধারণ ওয়ালিদ ইবনু ‘উকবাহ্ সম্পর্কে অনেক সমালোচনা করছে, আপনার কর্তব্য তাঁর উপর দন্ড জারি করা। ‘উসমান (রাঃ) আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেয়েছ? আমি বললাম না, পাইনি। তবে তাঁর বিষয় আমার নিকট এমন ভাবে পৌঁছেছে যেমন ভাবে কুমারী মেয়েদের নিকট পর্দার সংবাদ পৌঁছে থাকে। ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ‘উসমান (রাঃ) কালিমা শাহাদত পাঠ করলেন এবং বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মুহম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আমিও ছিলাম। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যা সহ প্রেরণ করা হয়েছিল আমি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি। ইসলামের প্রথম যুগের দু’ হিজরতে অংশ গ্রহণ করেছি যেমন তুমি বলছ। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ লাভ করেছি, তাঁর হাতে বায়‘আত করেছি। আল্লাহর কসম, আমি তাঁর অবাধ্যতা করিনি। তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। এমতাবস্থায় তাঁর ওফাত হয়ে যায়। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা আবূ বকর (রাঃ) কে খালীফাহ নিযুক্ত করলেন। আল্লাহর কসম, আমি তাঁরও নাফরমানী করিনি, তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) খালীফাহ মনোনীত হলেন। আল্লাহর কসম, আমি তাঁরও অবাধ্য হইনি, তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। তিনিও মৃত্যুপ্রাপ্ত হলেন। এবং তারপর আমাকে খলীফা নিযুক্ত করা হল। আমার উপর তাদের বাধ্য থাকার যে রূপ হক ছিল তোমাদের উপর তাদের ন্যায় আমার প্রতি বাধ্য থাকার কি কোন কর্তব নেই? ‘উবাইদুল্লাহ বললেন, হাঁ। অবশ্যই হক আছে। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, তাহলে এসব কথাবার্তা কী, তোমাদের পক্ষ হতে আমার নিকট আসছে? আর ওয়ালীদ ইবনু ‘উকবাহর ব্যাপারে তুমি যা বললে, সে ব্যাপারে আমি অতি সত্বর সঠিক পদক্ষেপ নিব ইন্শাআল্লাহ্। অতঃপর তিনি ওয়ালীদকে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করার রায় প্রদান করলেন এবং তা বাস্তবায়িত করার জন্য ‘‘আলী (রাঃ)-কে আদেশ করলেন। সেকালে অপরাধীদেরকে শাস্তি প্রদানের দায়িত্বে ‘আলী (রাঃ) নিযুক্ত ছিলেন। ইউনুস এবং যুহরীর ভাতিজা যুহরী সূত্রে যে বর্ণনা করেন তাতে রয়েছে; ‘তোমাদের উপর আমার কি অধিকার নেই যেমন অধিকার ছিল তাদের জন্য।’ (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৯০)
আবূ ‘আব্দুল্লাহ বলেন, অতঃপর ওয়ালীদকে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করা হলো এবং ‘আলী (রাঃ)-কে নির্দেশ করা হলো তাকে বেত্রাঘাত করার। এবং তিনি তাকে বেত্রাঘাত করেছিলেন। (৩৬৯৬)
আবূ ‘আব্দুল্লাহ বলেন, بَلَاءٌ مِنْ رَبِّكُمْ ‘‘তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে শক্ত পরীক্ষা স্বরূপ।’’ (আল-বাকারাহঃ ৪৯) অন্যস্থানে الْبَلَاءُ শব্দ الاِبْتِلَاءُ ও التَّمْحِيْصُ অর্থে এসেছে। যথা بَلَوْتُهُ وَمَحَّصْتُهُ তার ভিতরের জিনিস উদ্ঘাটন করেছি। يَبْلُوْ পরীক্ষা করা অর্থে এসেছে, যথা مُبْتَلِيكُمْ ‘‘তিনি তোমাদের পরীক্ষা করবেন।’’ (আল-বাকারাহঃ ২৪৯) আর بَلَاءٌ عَظِيْمٌ অর্থাৎ বড় নি‘মাত। এখানে أَبْلَيْتُهُ আমি তাকে নি‘মাত দান করেছি।’’ এ অর্থে এসেছে। আর পূর্বের আয়াতে ابْتَلَيْتُهُ ‘‘আমি তাকে পরীক্ষা করেছি।’’ এর অর্থে এসেছে।
হাদিস নং: ৩৮৭৩
সহিহ (Sahih)
حدثني محمد بن المثنى، حدثنا يحيى، عن هشام، قال حدثني ابي، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ان ام، حبيبة وام سلمة ذكرتا كنيسة راينها بالحبشة، فيها تصاوير، فذكرتا للنبي صلى الله عليه وسلم فقال " ان اولىك اذا كان فيهم الرجل الصالح فمات بنوا على قبره مسجدا، وصوروا فيه تيك الصور، اولىك شرار الخلق عند الله يوم القيامة ".
৩৮৭৩. ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন উম্মু হাবীবাহ ও উম্মু সালামাহ (রাঃ) তাঁর সাথে আলোচনা করলেন যে তাঁরা হাবাশায় খ্রিস্টানদের একটি গির্জা দেখে এসেছেন। সে গির্জায় নানা ধরনের চিত্র অঙ্কিত রয়েছে। তাঁরা দু’জন এসব কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন, তাদের কোন নেক্কার লোক মারা গেলে তার কবরের উপর মাসজিদ তৈরি করত এবং এসব ছবি অঙ্কিত করে রাখত, এরাই কিয়ামতের দিনে আল্লাহ্ সর্ব নিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসেবে গণ্য হবে। (৪২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৯১)
হাদিস নং: ৩৮৭৪
সহিহ (Sahih)
حدثنا الحميدي حدثنا سفيان حدثنا اسحاق بن سعيد السعيدي عن ابيه عن ام خالد بنت خالد قالت قدمت من ارض الحبشة وانا جويرية فكساني رسول الله صلى الله عليه وسلم خميصة لها اعلام فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسح الاعلام بيده ويقول سناه سناه قال الحميدي يعني حسن حسن
৩৮৭৪. উম্মু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন হাবাশা হতে মদিনা্য় আসলাম তখন আমি ছোট্ট বালিকা ছিলাম। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি চাদর পরিয়ে দিলেন যাতে ডোরা কাটা ছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম& ঐ ডোরাগুলির উপর হাত বুলাতে লাগলেন, এবং বলতে ছিলেন সানাহ-সানাহ। হুমায়দী (রহ.) বলেন, অর্থাৎ সুন্দর সুন্দর। (৩০৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৯২)
হাদিস নং: ৩৮৭৫
সহিহ (Sahih)
حدثنا يحيى بن حماد حدثنا ابو عوانة عن سليمان عن ابراهيم عن علقمة عن عبد الله قال كنا نسلم على النبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي فيرد علينا فلما رجعنا من عند النجاشي سلمنا عليه فلم يرد علينا فقلنا يا رسول الله انا كنا نسلم عليك فترد علينا قال ان في الصلاة شغلا فقلت لابراهيم كيف تصنع انت قال ارد في نفسي
৩৮৭৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালাতে রত অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমরা সালাম করতাম, তিনিও আমাদের সালামের উত্তর দিতেন। যখন আমরা নাজাশীর কাছ থেকে ফিরে এলাম, তখন সালাতে রত অবস্থায় তাঁকে সালাম করলাম, কিন্তু তিনি সালামের জবাব দিলেন না। আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা আপনাকে সালাম করতাম এবং আপনিও সালামের উত্তর দিতেন। কিন্তু আজ আপনি আমাদের সালামের জবাব দিলেন না? তিনি বললেন, সালাতের মধ্যে আল্লাহর দিকে একাগ্রতা থাকে। রাবী বলেন, আমি ইবরাহীম নাখয়ীকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কী করেন? তিনি বললেন, আমি মনে মনে জবাব দিয়ে দেই। (১১৯৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৯৩)