হাদিস নং: ৪২০৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن مسلمة حدثنا حاتم عن يزيد بن ابي عبيد عن سلمة رضي الله عنه قال كان علي بن ابي طالب رضي الله عنه تخلف عن النبي صلى الله عليه وسلم في خيبر وكان رمدا فقال انا اتخلف عن النبي صلى الله عليه وسلم فلحق به فلما بتنا الليلة التي فتحت قال لاعطين الراية غدا او لياخذن الراية غدا رجل يحبه الله ورسوله يفتح عليه فنحن نرجوها فقيل هذا علي فاعطاه ففتح عليه.
৪২০৯. সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, চক্ষু রোগ হওয়ায় ‘আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থেকে খাইবার অভিযানে পেছনে পড়ে গিয়েছিলেন। [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা থেকে রওয়ানা হয়ে এসে পড়লে] ‘আলী (রাঃ) বলেন, আমি পেছনে বসে থাকব। সুতরাং তিনি গিয়ে তাঁর সঙ্গে মিলিত হলেন। [সালামাহ (রাঃ) বলেন] খাইবার বিজিত হওয়ার আগের রাতে তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আগামীকাল সকালে আমি এমন ব্যক্তির হাতে পতাকা তুলে দেব অথবা তিনি বলেছেন, আগামীকাল সকালে এমন এক ব্যক্তি পতাকা গ্রহণ করবে যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালবাসেন। আর তার হাতেই খাইবার বিজিত হবে। কাজেই আমরা সবাই সেটি কামনা করছিলাম। তখন বলা হল, এই তো ‘আলী। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পতাকা প্রদান করলেন এবং তাঁর হাতেই খাইবার বিজিত হল। [২৯৭৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯১)
হাদিস নং: ৪২১০
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن ابي حازم قال اخبرني سهل بن سعد رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال يوم خيبر لاعطين هذه الراية غدا رجلا يفتح الله على يديه يحب الله ورسوله ويحبه الله ورسوله قال فبات الناس يدوكون ليلتهم ايهم يعطاها فلما اصبح الناس غدوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم كلهم يرجو ان يعطاها فقال اين علي بن ابي طالب فقيل هو يا رسول الله يشتكي عينيه قال فارسلوا اليه فاتي به فبصق رسول الله صلى الله عليه وسلم في عينيه ودعا له فبرا حتى كان لم يكن به وجع فاعطاه الراية فقال علي يا رسول الله اقاتلهم حتى يكونوا مثلنا فقال انفذ على رسلك حتى تنزل بساحتهم ثم ادعهم الى الاسلام واخبرهم بما يجب عليهم من حق الله فيه فوالله لان يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من ان يكون لك حمر النعم.
৪২১০. সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। খাইবারের যুদ্ধে একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আগামীকাল সকালে আমি এমন এক লোকের হাতে ঝান্ডা তুলে দেব যার হাতে আল্লাহ খাইবারে বিজয় দান করবেন যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসে এবং যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালবাসেন। সাহল (রাঃ) বলেন, মুসলিমগণ এ জল্পনায় রাত কাটালো যে, তাদের মধ্যে কাকে দেয়া হবে এ ঝান্ডা। সকালে সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন, আর প্রত্যেকেই তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) কোথায়? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো চক্ষুরোগে আক্রান্ত। তিনি বললেন, তার কাছে লোক পাঠাও। সে মতে তাঁকে আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উভয় চোখে থুথু লাগিয়ে তার জন্য দু‘আ করলেন। ফলে চোখ এমন ভাল হয়ে গেল যেন কখনো চোখে কোন রোগই ছিল না। এরপর তিনি তার হাতে ঝান্ডা প্রদান করলেন। তখন ‘আলী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা আমাদের মতো (মুসলিম) না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বর্তমান অবস্থায়ই তাদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে হাজির হও, এরপর তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহবান করো, আল্লাহর অধিকার প্রদানে তাদের প্রতি যে দায়িত্ব বর্তায় সে সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত কর। কারণ আল্লাহর কসম! তোমার দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ যদি মাত্র একজন মানুষকেও হিদায়াত দেন তাহলে তা তোমার জন্য লাল রঙের (মূল্যবান) উটের[1] মালিক হওয়ার চেয়ে উত্তম। [২৯৪২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯২)
নোট: [1] আরবীয় উটের যত প্রকার আছে তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, অভিজাত, আকর্ষণীয় ও মূল্যবান উট হচ্ছে লাল রঙ্গের উট।
হাদিস নং: ৪২১১
সহিহ (Sahih)
عبد الغفار بن داود حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن ح و حدثني احمد حدثنا ابن وهب قال اخبرني يعقوب بن عبد الرحمن الزهري عن عمرو مولى المطلب عن انس بن مالك رضي الله عنه قال قدمنا خيبر فلما فتح الله عليه الحصن ذكر له جمال صفية بنت حيي بن اخطب وقد قتل زوجها وكانت عروسا فاصطفاها النبي لنفسه فخرج بها حتى بلغنا سد الصهباء حلت فبنى بها رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم صنع حيسا في نطع صغير ثم قال لي اذن من حولك فكانت تلك وليمته على صفية ثم خرجنا الى المدينة فرايت النبي صلى الله عليه وسلم يحوي لها وراءه بعباءة ثم يجلس عند بعيره فيضع ركبته وتضع صفية رجلها على ركبته حتى تركب.
৪২১১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাইবারে এসে পৌঁছলাম। এরপর যখন আল্লাহ তাঁকে খাইবার দূর্গের বিজয় দান করলেন তখন তাঁর কাছে (ইয়াহূদী দলপতি) হুয়াঈ ইবনু আখতাবের কন্যা সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর সৌন্দর্যের ব্যাপারে আলোচনা করা হল। তার স্বামী (এ যুদ্ধে) নিহত হয়। সে ছিল নববধূ। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের জন্য মনোনীত করেন এবং তাকে সঙ্গে করে (খাইবার থেকে) যাত্রা করেন। এরপর আমরা যখন সাদ্দুস সাহবা নামক স্থান পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছলাম তখন সফিয়্যাহ (রাঃ) তাঁর মাসিক ঋতুস্রাব থেকে মুক্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে বাসর করলেন। তারপর একটি ছোট দস্তরখানে (খেজুর-ঘি ও ছাতু মিশ্রিত) হায়স নামক খানা সাজিয়ে আমাকে বললেন, তোমার আশেপাশে যারা আছে সবাইকে ডাক। আর এটিই ছিল সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে বিয়ের ওয়ালীমা। তারপর আমরা মদিনার দিকে রওয়ানা হলাম, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সাওয়ারীর পেছনে সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর জন্য একটি চাদর বিছাতে দেখেছি। এরপর তিনি তাঁর সাওয়ারীর ওপর হাঁটুদ্বয় মেলে বসতেন এবং সফিয়্যাহ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাঁটুর উপর পা রেখে সাওয়ারীতে উঠতেন। [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৩)
হাদিস নং: ৪২১২
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني اخي عن سليمان عن يحيى عن حميد الطويل سمع انس بن مالك رضي الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم اقام على صفية بنت حيي بطريق خيبر ثلاثة ايام حتى اعرس بها وكانت فيمن ضرب عليها الحجاب.
৪২১২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার থেকে ফেরার পথে সফিয়্যাহ (রাঃ) বিন্তে হুয়াঈ-এর কাছে তিনদিন অবস্থান করে তার সঙ্গে বাসর যাপন করেছেন। আর (রাঃ) ছিলেন তাদের একজন যাদের জন্য পর্দার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।[1] [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৪)
নোট: [1] ইসলামী শরী‘আহ্তে ক্রীতদাসীর জন্য পর্দার হুকুম পালন করতে হতো না। কিন্তু স্বাধীন নারীদের জন্য পর্দা করতে হতো। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়া (রাঃ)-এর জন্য পর্দার ব্যবস্থা করায় বুঝা গেল তিনি তাকে ক্রীতদাসী নয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
হাদিস নং: ৪২১৩
সহিহ (Sahih)
سعيد بن ابي مريم اخبرنا محمد بن جعفر بن ابي كثير قال اخبرني حميد انه سمع انسا رضي الله عنه يقول اقام النبي صلى الله عليه وسلم بين خيبر والمدينة ثلاث ليال يبنى عليه بصفية فدعوت المسلمين الى وليمته وما كان فيها من خبز ولا لحم وما كان فيها الا ان امر بلالا بالانطاع فبسطت فالقى عليها التمر والاقط والسمن فقال المسلمون احدى امهات المومنين او ما ملكت يمينه قالوا ان حجبها فهي احدى امهات المومنين وان لم يحجبها فهي مما ملكت يمينه فلما ارتحل وطا لها خلفه ومد الحجاب.
৪২১৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার ও মদিনার মাঝে একস্থানে তিনদিন অবস্থান করেছিলেন যাতে তিনি সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে বাসর করেছেন। আমি মুসলিমদেরকে ওয়ালীমার জন্য দাওয়াত দিলাম। অবশ্য এ ওয়ালীমাতে মাংসও ছিল না, রুটিও ছিল না। কেবল এতটুকু ছিল যে, তিনি বিলাল (রাঃ)-কে দস্তরখান বিছাতে বললেন। তা বিছানো হল। এরপর তাতে কিছু খেজুর, পনির ও ঘি রাখা হল। এ অবস্থা দেখে মুসলিমগণ পরস্পর বলাবলি করতে লাগল যে, তিনি [সফিয়্যাহ (রাঃ)] কি উম্মাহাতুল মু’মিনীনের একজন, না ক্রীতদাসীদের একজন? তাঁরা (আরো) বললেন, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেন তাহলে তিনি উম্মাহাতুল মু’মিনীনেরই একজন বোঝা যাবে। আর পর্দার ব্যবস্থা না করলে তিনি দাসীদের অন্তর্ভুক্ত। এরপর যখন তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] রওয়ানা হলেন তখন তিনি নিজের পেছনে সফিয়্যাহ (রাঃ)-এর জন্য বসার জায়গা করে দিয়ে পর্দা খাটিয়ে দিলেন। [৩৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৫)
হাদিস নং: ৪২১৪
সহিহ (Sahih)
ابو الوليد حدثنا شعبة ح و حدثني عبد الله بن محمد حدثنا وهب حدثنا شعبة عن حميد بن هلال عن عبد الله بن مغفل رضي الله عنه قال كنا محاصري خيبر فرمى انسان بجراب فيه شحم فنزوت لاخذه فالتفت فاذا النبي صلى الله عليه وسلم فاستحييت.
৪২১৪. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাইবারের দূর্গ অবরোধ করে রাখলাম, এমন সময় এক লোক একটি থলে ছুঁড়ে ফেলল। তাতে ছিল চর্বি। আমি সেটি নেয়ার জন্য দ্রুত এগিয়ে গেলাম, হঠাৎ পেছনে ফিরে চেয়ে দেখি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এতে আমি লজ্জিত হয়ে গেলাম। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৬)
হাদিস নং: ৪২১৫
সহিহ (Sahih)
عبيد بن اسماعيل عن ابي اسامة عن عبيد الله عن نافع وسالم عن ابن عمر رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى يوم خيبر عن اكل الثوم وعن لحوم الحمر الاهلية
نهى عن اكل الثوم هو عن نافع وحده ولحوم الحمر الاهلية عن سالم.
نهى عن اكل الثوم هو عن نافع وحده ولحوم الحمر الاهلية عن سالم.
৪২১৫. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। খাইবার যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রসুন ও গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন। রসুন খেতে নিষেধ করেছেন কথাটি এক্ষেত্রে নাফি‘ থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন কথাটি সালিম [ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)] হতে বর্ণিত হয়েছে। [৮৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৭)
হাদিস নং: ৪২১৬
সহিহ (Sahih)
يحيى بن قزعة حدثنا مالك عن ابن شهاب عن عبد الله والحسن ابني محمد بن علي عن ابيهما عن علي بن ابي طالب رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن متعة النساء يوم خيبر وعن اكل لحوم الحمر الانسية.
৪২১৬. ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার যুদ্ধের দিন মহিলাদের মুত‘আহ[1] করা থেকে এবং গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন। [৫১১৫, ৫৫২৩,
৬৯৬১; মুসলিম ১৬/২, হাঃ ১৪০৭](আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৮)
৬৯৬১; মুসলিম ১৬/২, হাঃ ১৪০৭](আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৮)
নোট: [1] নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে মুত‘আহ বিবাহ বলা হয়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে ক্ষেত্র বিশেষে যেমন যুদ্ধ চলাকালীন সময় ও সফরে বৈধ ছিল। কিন্তু তখনও সাধারণতঃ এভাবে বিবাহ বৈধ ছিল না। পরে খায়বারের যুদ্ধে এ ধরনের বিবাহকে হারাম ঘোষণা করা হয়। অতঃপর অষ্টম হিজরীতে মক্কাহ বিজয়ের সময় মাত্র তিন দিনের জন্য তা বৈধ করা হয়েছিল। এরপর তা চিরতরে হারাম করা হয়। কিন্তু শিয়া মতাবলম্বীদের মতে মুত‘আহ বিবাহ অদ্যাবধি বৈধ এবং পুণ্যের কাজ। এবং মুত‘আহকারী ব্যক্তি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। (না‘উযুবিল্লাহ)
হাদিস নং: ৪২১৭
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل اخبرنا عبد الله حدثنا عبيد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى يوم خيبر عن لحوم الحمر الاهلية.
৪২১৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন। [৮৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৮৯৯)
হাদিস নং: ৪২১৮
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن نصر حدثنا محمد بن عبيد حدثنا عبيد الله عن نافع وسالم عن ابن عمر رضي الله عنهما قال نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن اكل لحوم الحمر الاهلية
৪২১৮. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন। [৮৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০০)
হাদিস নং: ৪২১৯
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن عمرو عن محمد بن علي عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم خيبر عن لحوم الحمر الاهلية ورخص في الخيل.
৪২১৯. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের যুদ্ধের দিন (গৃহপালিত) গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার মাংস খেতে অনুমতি দিয়েছেন। [৫৫২০-৫৫২৪; মুসলিম ৩৪/৬, হাঃ ১৯৪১, আহমাদ ১৪৮৯৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০১)
হাদিস নং: ৪২২০
সহিহ (Sahih)
سعيد بن سليمان حدثنا عباد عن الشيباني قال سمعت ابن ابي اوفى رضي الله عنهما اصابتنا مجاعة يوم خيبر فان القدور لتغلي قال وبعضها نضجت فجاء منادي النبي صلى الله عليه وسلم لا تاكلوا من لحوم الحمر شيىا واهرقوها قال ابن ابي اوفى فتحدثنا انه انما نهى عنها لانها لم تخمس وقال بعضهم نهى عنها البتة لانها كانت تاكل العذرة.
৪২২০. ইবনু আবী আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। (তিনি বলেন) খাইবারের দিন আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিলাম, আর তখন আমাদের পাতিলগুলোতে (গাধার মাংস) টগবগ করে ফুটছিল। রাবী বলেন, কোন কোন পাতিলের মাংস পাকানো হয়ে গিয়েছিল। এমন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষণাকারী এসে ঘোষণা দিলেন, তোমরা (গৃহপালিত) গাধার মাংস থেকে একটুও খাবে না এবং তা ঢেলে দেবে। ইবনু আবী আওফা (রাঃ) বলেন, ঘোষণা শুনে আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম যে, যেহেতু গাধাগুলো থেকে খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) বের করা হয়নি এ কারণেই তিনি সেগুলো খেতে নিষেধ করেছেন। কেউ কেউ বললেন, তিনি চিরদিনের জন্যই গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন। কেননা গাধা অপবিত্র জিনিস খেয়ে থাকে। [৩১৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০২)
হাদিস নং: ৪২২১
সহিহ (Sahih)
حجاج بن منهال حدثنا شعبة قال اخبرني عدي بن ثابت عن البراء وعبد الله بن ابي اوفى رضي الله عنهم انهم كانوا مع النبي صلى الله عليه وسلم فاصابوا حمرا فطبخوها فنادى منادي النبي صلى الله عليه وسلم اكفىوا القدور.
৪২২১-৪২২২. বারাআ এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (খাইবার যুদ্ধে) তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা গাধার মাংস পেলেন। তাঁরা তা রান্না করলেন। এমন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষণাকারী ঘোষণা করলেন, ডেকচিগুলো উল্টে ফেল। [৩১৫৫, ৪২২৩, ৪২২৫, ৪২২৬, ৫৫২৫; মুসলিম ৩৪/৫, হাঃ ১৯৩৮, আহমাদ ১৮৬৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০৩)
হাদিস নং: ৪২২২
সহিহ (Sahih)
حجاج بن منهال حدثنا شعبة قال اخبرني عدي بن ثابت عن البراء وعبد الله بن ابي اوفى رضي الله عنهم انهم كانوا مع النبي صلى الله عليه وسلم فاصابوا حمرا فطبخوها فنادى منادي النبي صلى الله عليه وسلم اكفىوا القدور.
৪২২১-৪২২২. বারাআ এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (খাইবার যুদ্ধে) তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা গাধার মাংস পেলেন। তাঁরা তা রান্না করলেন। এমন সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষণাকারী ঘোষণা করলেন, ডেকচিগুলো উল্টে ফেল। [৩১৫৫, ৪২২৩, ৪২২৫, ৪২২৬, ৫৫২৫; মুসলিম ৩৪/৫, হাঃ ১৯৩৮, আহমাদ ১৮৬৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০৩)
হাদিস নং: ৪২২৩
সহিহ (Sahih)
اسحاق حدثنا عبد الصمد حدثنا شعبة حدثنا عدي بن ثابت سمعت البراء وابن ابي اوفى رضي الله عنهم يحدثان عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال يوم خيبر وقد نصبوا القدور اكفىوا القدور
৪২২৩-৪২২৪. আদী ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (তিনি বলেন) আমি বারাআ এবং ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, খাইবারের দিন তাঁরা গাধার মাংস রান্না করার জন্য ডেকচি বসিয়েছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ডেকচিগুলো উল্টে ফেল। [৩১৫৩, ৩৩৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০৪)
হাদিস নং: ৪২২৪
সহিহ (Sahih)
اسحاق حدثنا عبد الصمد حدثنا شعبة حدثنا عدي بن ثابت سمعت البراء وابن ابي اوفى رضي الله عنهم يحدثان عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال يوم خيبر وقد نصبوا القدور اكفىوا القدور
৪২২৩-৪২২৪. আদী ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, (তিনি বলেন) আমি বারাআ এবং ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, খাইবারের দিন তাঁরা গাধার মাংস রান্না করার জন্য ডেকচি বসিয়েছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ডেকচিগুলো উল্টে ফেল। [৩১৫৩, ৩৩৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০৪)
হাদিস নং: ৪২২৫
সহিহ (Sahih)
مسلم حدثنا شعبة عن عدي بن ثابت عن البراء قال غزونا مع النبي صلى الله عليه وسلم نحوه
৪২২৫. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খাইবারে অভিযানে গিয়েছিলাম .......। তিনি উপরোল্লিখিত বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [৪২২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০৫)
হাদিস নং: ৪২২৬
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا ابن ابي زاىدة اخبرنا عاصم عن عامر عن البراء بن عازب رضي الله عنهما قال امرنا النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة خيبر ان نلقي الحمر الاهلية نيىة ونضيجة ثم لم يامرنا باكله بعد.
৪২২৬. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কাঁচা ও রান্না করা গৃহপালিত গাধার মাংস ফেলে দিতে হুকুম করেছেন। এরপরে আর কখনো তা খাওয়ার অনুমতি দেননি। [৪২২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০৬)
হাদিস নং: ৪২২৭
সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي الحسين حدثنا عمر بن حفص حدثنا ابي عن عاصم عن عامر عن ابن عباس رضي الله عنهما قال لا ادري انهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم من اجل انه كان حمولة الناس فكره ان تذهب حمولتهم او حرمه في يوم خيبر لحم الحمر الاهلية.
৪২২৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জানি না, গৃহপালিত গাধাগুলো মানুষের মালপত্র বহন করে, কাজেই তার মাংস খেলে মানুষের বোঝা বহনকারী পশু নিঃশেষ হয়ে যাবে, এজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা খেতে নিষেধ করেছিলেন, না খাইবারের দিনে এর মাংস স্থায়ীভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন। [মুসলিম ৩৪/৫, হাঃ ১৯৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০৭)
হাদিস নং: ৪২২৮
সহিহ (Sahih)
الحسن بن اسحاق حدثنا محمد بن سابق حدثنا زاىدة عن عبيد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم خيبر للفرس سهمين وللراجل سهما قال فسره نافع فقال اذا كان مع الرجل فرس فله ثلاثة اسهم فان لم يكن له فرس فله سهم.
৪২২৮. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ার জন্য দুই অংশ এবং পদাতিক সৈন্যের জন্য এক অংশ হিসেবে (গানীমাতের) মাল বণ্টন করেছেন। বর্ণনাকারী [‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রহ.)] বলেন, নাফি‘ হাদীসটির ব্যাখ্যা করে বলেছেন, (যুদ্ধে) যার সঙ্গে ঘোড়া থাকে সে পাবে তিন অংশ এবং যার সঙ্গে ঘোড়া থাকে না, সে পাবে এক অংশ। [২৮৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯০৮)