হাদিস নং: ৪২৪৯
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث حدثني سعيد عن ابي هريرة رضي الله عنه قال لما فتحت خيبر اهديت لرسول الله صلى الله عليه وسلم شاة فيها سم.
رَوَاهُ عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
‘উরওয়াহ (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
৪২৪৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন খাইবার বিজিত হলো তখন (ইয়াহূদীদের পক্ষ থেকে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি বাকরী হাদিয়া দেয়া হয়। যাতে বিষ মেশানো ছিল।[1] [৩১৬৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২২)
‘উরওয়াহ (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
৪২৪৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন খাইবার বিজিত হলো তখন (ইয়াহূদীদের পক্ষ থেকে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি বাকরী হাদিয়া দেয়া হয়। যাতে বিষ মেশানো ছিল।[1] [৩১৬৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২২)
নোট: [1] সেই বিষপ্রয়োগকৃত গোশত খেয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন ক্ষতি না হলেও সাহাবী বারা ইবনু মা‘রূর বিষক্রিয়ায় ইনতেকাল করেন।
হাদিস নং: ৪২৫০
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى بن سعيد حدثنا سفيان بن سعيد حدثنا عبد الله بن دينار عن ابن عمر رضي الله عنهما قال امر رسول الله صلى الله عليه وسلم اسامة على قوم فطعنوا في امارته فقال ان تطعنوا في امارته فقد طعنتم في امارة ابيه من قبله وايم الله لقد كان خليقا للامارة وان كان من احب الناس الي وان هذا لمن احب الناس الي بعده.
৪২৫০. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামাহ (ইবনু যায়দ) (রাঃ)-কে একটি বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করেছিলেন। লোকজন তাঁর অধিনায়ক নিযুক্তির সমালোচনা করলে তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আজ তোমরা তার অধিনায়ক নিযুক্তির সমালোচনা করছ, এর পূর্বেও তোমরা তার পিতার অধিনায়ক নিযুক্তিতে সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর কসম! সে (উসামার পিতা) ছিল অধিনায়ক হওয়ার জন্য যথোপযুক্ত এবং আমার সবচেয়ে প্রিয়পাত্র। তার মৃত্যুর পর এ হচ্ছে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়পাত্র। [৩৭৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৩)
হাদিস নং: ৪২৫১
সহিহ (Sahih)
عبيد الله بن موسى عن اسراىيل عن ابي اسحاق عن البراء رضي الله عنه قال لما اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم في ذي القعدة فابى اهل مكة ان يدعوه يدخل مكة حتى قاضاهم على ان يقيم بها ثلاثة ايام فلما كتبوا الكتاب كتبوا هذا ما قاضى عليه محمد رسول الله قالوا لا نقر لك بهذا لو نعلم انك رسول الله ما منعناك شيىا ولكن انت محمد بن عبد الله فقال انا رسول الله وانا محمد بن عبد الله ثم قال لعلي بن ابي طالب رضي الله عنه امح رسول الله قال علي لا والله لا امحوك ابدا فاخذ رسول الله الكتاب وليس يحسن يكتب فكتب هذا ما قاضى عليه محمد بن عبد الله لا يدخل مكة السلاح الا السيف في القراب وان لا يخرج من اهلها باحد ان اراد ان يتبعه وان لا يمنع من اصحابه احدا ان اراد ان يقيم بها فلما دخلها ومضى الاجل اتوا عليا فقالوا قل لصاحبك اخرج عنا فقد مضى الاجل فخرج النبي صلى الله عليه وسلم فتبعته ابنة حمزة تنادي يا عم يا عم فتناولها علي فاخذ بيدها وقال لفاطمة عليها السلام دونك ابنة عمك حملتها فاختصم فيها علي وزيد وجعفر قال علي انا اخذتها وهي بنت عمي وقال جعفر ابنة عمي وخالتها تحتي وقال زيد ابنة اخي فقضى بها النبي صلى الله عليه وسلم لخالتها وقال الخالة بمنزلة الام وقال لعلي انت مني وانا منك وقال لجعفر اشبهت خلقي وخلقي وقال لزيد انت اخونا ومولانا وقال علي الا تتزوج بنت حمزة قال انها ابنة اخي من الرضاعة.
ذَكَرَهُ أَنَسٌ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
আনাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা বর্ণনা করেছেন।
৪২৫১. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলকা’দা মাসে ’উমরাহ্ আদায়ের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। মক্কা্বাসীরা তাঁকে মক্কা্য় প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানাল। অবশেষে তাদের সঙ্গে চুক্তি হল যে, (আগামী বছর ’উমরাহ্ পালন হেতু) তিনি তিনদিন মক্কা্য় অবস্থান করবেন। মুসলিমগণ সন্ধিপত্র লেখার সময় এভাবে লিখেছিলেন, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ আমাদের সঙ্গে এ চুক্তি সম্পাদন করেছেন। ফলে তারা (মক্কার কুরাইশরা) বলল, আমরা তো এ কথা স্বীকার করিনি। যদি আমরা আপনাকে আল্লাহর রাসূল বলেই জানতাম তা হলে মক্কা প্রবেশে মোটেই বাধা দিতাম না। বরং আপনি তো মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল এবং মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ। তারপর তিনি ’আলী (রাঃ)-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ শব্দটি মুছে ফেল। ’আলী (রাঃ) উত্তর করলেন, আল্লাহর কসম! আমি কখনো এ কথা মুছতে পারব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন চুক্তিপত্রটি হাতে নিলেন। তিনি লিখতে জানতেন না, তবুও তিনি লিখে দিলেন[1] যে, মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ এ চুক্তিপত্র সম্পাদন করলেন যে, তিনি কোষবদ্ধ তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র নিয়ে মক্কা্য় প্রবেশ করবেন না। মক্কা্বাসীদের কেউ তাঁর সঙ্গে যেতে চাইলেও তিনি তাকে বের করে নিয়ে যাবেন না। তাঁর সাথীদের কেউ মক্কা্য় থেকে যেতে চাইলে তিনি তাকে বাধা দিবেন না। (পরবর্তী বছর) যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় প্রবেশ করলেন এবং নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হল তখন মুশরিকরা ’আলীর কাছে এসে বলল, আপনার সাথী [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে বলুন যে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে। তাই তিনি যেন আমাদের নিকট থেকে চলে যান। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মতে বেরিয়ে আসলেন। এ সময়ে হামযাহ (রাঃ)-এর কন্যা চাচা চাচা বলে ডাকতে ডাকতে তাঁর পেছনে ছুটল। ’আলী (রাঃ) তার হাত ধরে তুলে নিয়ে ফাতেমাহ (রাঃ)-কে দিয়ে বললেন, তোমার চাচার কন্যাকে নাও। ফাতেমাহ (রাঃ) বাচ্চাটিকে উঠিয়ে নিলেন। (মদিনা্য় পৌঁছলে) বাচ্চাটি নিয়ে ’আলী, যায়দ (ইবনু হারিসাহ) ও জা’ফার [ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)]-এর মধ্যে ঝগড়া বেধে গেল। ’আলী (রাঃ) বললেন, আমি তাকে তুলে নিয়েছি আর সে আমার চাচার মেয়ে! জা’ফর বললেন, সে আমার চাচার মেয়ে আর তার খালা হল আমার স্ত্রী। যায়দ [ইবনু হারিসা (রাঃ)] বললেন, সে আমার ভাইয়ের মেয়ে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়েটিকে তার খালার জন্য ফায়সালা দিয়ে বললেন খালা তো মায়ের মর্যাদার। এরপর তিনি ’আলীকে বললেন, তুমি আমার এবং আমি তোমার। জা’ফর (রাঃ)-কে বললেন, তুমি আকৃতি-প্রকৃতিতে আমার মতো। আর যায়িদ (রাঃ)-কে বললেন, তুমি আমাদের ভাই ও আযাদকৃত গোলাম। ’আলী (রাঃ) [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে] বললেন, আপনি হামযাহ’র মেয়েটিকে বিয়ে করছেন না কেন? তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, সে আমার দুধ ভাই-এর মেয়ে। [১৭৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৪)
আনাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা বর্ণনা করেছেন।
৪২৫১. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলকা’দা মাসে ’উমরাহ্ আদায়ের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। মক্কা্বাসীরা তাঁকে মক্কা্য় প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানাল। অবশেষে তাদের সঙ্গে চুক্তি হল যে, (আগামী বছর ’উমরাহ্ পালন হেতু) তিনি তিনদিন মক্কা্য় অবস্থান করবেন। মুসলিমগণ সন্ধিপত্র লেখার সময় এভাবে লিখেছিলেন, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ আমাদের সঙ্গে এ চুক্তি সম্পাদন করেছেন। ফলে তারা (মক্কার কুরাইশরা) বলল, আমরা তো এ কথা স্বীকার করিনি। যদি আমরা আপনাকে আল্লাহর রাসূল বলেই জানতাম তা হলে মক্কা প্রবেশে মোটেই বাধা দিতাম না। বরং আপনি তো মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল এবং মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ। তারপর তিনি ’আলী (রাঃ)-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ শব্দটি মুছে ফেল। ’আলী (রাঃ) উত্তর করলেন, আল্লাহর কসম! আমি কখনো এ কথা মুছতে পারব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন চুক্তিপত্রটি হাতে নিলেন। তিনি লিখতে জানতেন না, তবুও তিনি লিখে দিলেন[1] যে, মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুল্লাহ এ চুক্তিপত্র সম্পাদন করলেন যে, তিনি কোষবদ্ধ তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র নিয়ে মক্কা্য় প্রবেশ করবেন না। মক্কা্বাসীদের কেউ তাঁর সঙ্গে যেতে চাইলেও তিনি তাকে বের করে নিয়ে যাবেন না। তাঁর সাথীদের কেউ মক্কা্য় থেকে যেতে চাইলে তিনি তাকে বাধা দিবেন না। (পরবর্তী বছর) যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় প্রবেশ করলেন এবং নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হল তখন মুশরিকরা ’আলীর কাছে এসে বলল, আপনার সাথী [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে বলুন যে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে। তাই তিনি যেন আমাদের নিকট থেকে চলে যান। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মতে বেরিয়ে আসলেন। এ সময়ে হামযাহ (রাঃ)-এর কন্যা চাচা চাচা বলে ডাকতে ডাকতে তাঁর পেছনে ছুটল। ’আলী (রাঃ) তার হাত ধরে তুলে নিয়ে ফাতেমাহ (রাঃ)-কে দিয়ে বললেন, তোমার চাচার কন্যাকে নাও। ফাতেমাহ (রাঃ) বাচ্চাটিকে উঠিয়ে নিলেন। (মদিনা্য় পৌঁছলে) বাচ্চাটি নিয়ে ’আলী, যায়দ (ইবনু হারিসাহ) ও জা’ফার [ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)]-এর মধ্যে ঝগড়া বেধে গেল। ’আলী (রাঃ) বললেন, আমি তাকে তুলে নিয়েছি আর সে আমার চাচার মেয়ে! জা’ফর বললেন, সে আমার চাচার মেয়ে আর তার খালা হল আমার স্ত্রী। যায়দ [ইবনু হারিসা (রাঃ)] বললেন, সে আমার ভাইয়ের মেয়ে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়েটিকে তার খালার জন্য ফায়সালা দিয়ে বললেন খালা তো মায়ের মর্যাদার। এরপর তিনি ’আলীকে বললেন, তুমি আমার এবং আমি তোমার। জা’ফর (রাঃ)-কে বললেন, তুমি আকৃতি-প্রকৃতিতে আমার মতো। আর যায়িদ (রাঃ)-কে বললেন, তুমি আমাদের ভাই ও আযাদকৃত গোলাম। ’আলী (রাঃ) [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে] বললেন, আপনি হামযাহ’র মেয়েটিকে বিয়ে করছেন না কেন? তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, সে আমার দুধ ভাই-এর মেয়ে। [১৭৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৪)
নোট: [1] হুদাইবিয়ার সন্ধিপত্রে যখন লেখা হলো ‘‘আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরায়শদের মধ্যে এই সন্ধি’’ তক্ষনি তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন সুহায়ল বলে উঠলোঃ থামো, থামো, মুহাম্মাদ যে আল্লাহর রসূল, এ কথা যদি আমরা মেনেই নিবো তাহলে আর যুদ্ধ বিগ্রহ কিসের জন্য। ও কথা লিখতে পারবে না। ‘আল্লাহর রসূল মুহাম্মাদ’ কথাটি কেটে দিয়ে শুধু লিখোঃ ‘‘আবদুল্লাহ্র পুত্র মুহাম্মাদ’’ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হেসে বললেন, ‘‘বেশ তাই হবে। আমি যে আবদুল্লাহর পুত্র এ কথাও তো মিথ্যা নয়। আলী (রাঃ) ‘রসূলুল্লাহ’ শব্দটি কাটতে অস্বীকার করলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তা মিটিয়ে দিলেন।
এই সুহায়লই যিনি এই পবিত্র নামের সাথে ‘রসূলুল্লাহ’ লিখার বিরোধিতা করেছিলেন, কয়েক বছর পরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসলিম হয়ে যান। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইনতিকালের পর মক্কাহ মু‘আযযামাহ্য় তিনি ইসলামের সত্যতার উপর এমন এক হৃদয়গ্রাহী ভাষণ প্রদান করেন যা হাজার হাজার মুসলিমের জন্য ঈমানের দৃঢ়তা ও নবায়নের কারণ হয়েছিল।
[2] রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হামযাহ (রাঃ) একই সাথে এক মহিলার দুধ পান করেছিলেন। সেই বিচারে তারা পরস্পরে দুধ-ভাই। ইসলামে যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম তার মধ্যে শর্ত সাপেক্ষে বুকের দুধ পানের কারণও অন্তর্ভুক্ত।
এই সুহায়লই যিনি এই পবিত্র নামের সাথে ‘রসূলুল্লাহ’ লিখার বিরোধিতা করেছিলেন, কয়েক বছর পরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসলিম হয়ে যান। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইনতিকালের পর মক্কাহ মু‘আযযামাহ্য় তিনি ইসলামের সত্যতার উপর এমন এক হৃদয়গ্রাহী ভাষণ প্রদান করেন যা হাজার হাজার মুসলিমের জন্য ঈমানের দৃঢ়তা ও নবায়নের কারণ হয়েছিল।
[2] রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও হামযাহ (রাঃ) একই সাথে এক মহিলার দুধ পান করেছিলেন। সেই বিচারে তারা পরস্পরে দুধ-ভাই। ইসলামে যাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম তার মধ্যে শর্ত সাপেক্ষে বুকের দুধ পানের কারণও অন্তর্ভুক্ত।
হাদিস নং: ৪২৫২
সহিহ (Sahih)
محمد بن هوا رافع حدثنا سريج حدثنا فليح ح و حدثني محمد بن الحسين بن ابراهيم قال حدثني ابي حدثنا فليح بن سليمان عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج معتمرا فحال كفار قريش بينه وبين البيت فنحر هديه وحلق راسه بالحديبية وقاضاهم على ان يعتمر العام المقبل ولا يحمل سلاحا عليهم الا سيوفا ولا يقيم بها الا ما احبوا فاعتمر من العام المقبل فدخلها كما كان صالحهم فلما ان اقام بها ثلاثا امروه ان يخرج فخرج.
৪২৫২. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘উমরাহ্ পালনের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা করলে কুরাইশী কাফিররা তাঁর এবং বাইতুল্লাহর মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ালো। কাজেই তিনি হুদাইবিয়াহ নামক স্থানেই কুরবানীর জন্তু যবহ করলেন এবং মাথা মুন্ডন করলেন আর তিনি তাদের সঙ্গে এই মর্মে চুক্তি সম্পাদন করলেন যে, আগামী বছর তিনি ‘উমরাহ্ পালনের জন্য আসবেন কিন্তু তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্র সঙ্গে আনবেন না এবং মক্কা্বাসীরা যে ক’দিন ইচ্ছা করবে তার অধিক তিনি সেখানে অবস্থান করবেন না। সে মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরবর্তী বছর ‘উমরাহ্ পালন করলেন এবং সম্পাদিত চুক্তিনামা অনুসারে মক্কা্য় প্রবেশ করলেন। তারপর তিনদিন অবস্থান করলে মক্কা্বাসীরা তাঁকে চলে যেতে বলল। তাই তিনি চলে গেলেন। [২৭০১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৫)
হাদিস নং: ৪২৫৩
সহিহ (Sahih)
عثمان بن ابي شيبة حدثنا جرير عن منصور عن مجاهد قال دخلت انا وعروة بن الزبير المسجد فاذا عبد الله بن عمر رضي الله عنهما جالس الى حجرة عاىشة ثم قال كم اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم قال اربعا احداهن في رجب.
৪২৫৩. মুজাহিদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) মসজিদে নাববীতে প্রবেশ করেই দেখলাম ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর হুজরার পাশেই বসে আছেন। ‘উরওয়াহ (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক’টি ‘উমরাহ্ আদায় করেছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, চারটি। এ সময় আমরা (ঘরের ভিতরে) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মিসওয়াক করার আওয়াজ শুনতে পেলাম। [১৭৭৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৬)
হাদিস নং: ৪২৫৪
সহিহ (Sahih)
ثم سمعنا استنان عاىشة قال عروة يا ام المومنين الا تسمعين ما يقول ابو عبد الرحمن ان النبي صلى الله عليه وسلم اعتمر اربع عمر احدهنفي رخب فقالت ما اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم عمرة الا وهو شاهده وما اعتمر في رجب قط.
৪২৫৪. ‘উরওয়াহ (রহ.) বললেন, হে উম্মুল মু’মিনীন! আবূ আবদুর রহমান [ইবনু ‘উমার (রাঃ)] কী বলছেন, তা আপনি শুনেছেন কি যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি ‘উমরাহ্ করেছেন? ‘আয়িশাহ (রাঃ) উত্তর দিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোন ‘উমরাহ্ করেননি যাতে তিনি (ইবনু ‘উমার) তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। তবে তিনি রাজাব মাসে কখনো ‘উমরাহ্ আদায় করেননি। [১৭৭৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৬)
হাদিস নং: ৪২৫৫
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن اسماعيل بن ابي خالد سمع ابن ابي اوفى يقول لما اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم سترناه من غلمان المشركين ومنهم ان يوذوا رسول الله صلى الله عليه وسلم .
৪২৫৫. ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘উমরাহ্তুল কাযা আদায় করছিলেন তখন আমরা তাঁকে মুশরিক ও তাদের যুবকদের থেকে আড়াল করে রেখেছিলাম যাতে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন প্রকার কষ্ট দিতে না পারে। [১৬০০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৭)
হাদিস নং: ৪২৫৬
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد هو ابن زيد عن ايوب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما قال قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم واصحابه فقال المشركون انه يقدم عليكم وفد وهنهم حمى يثرب وامرهم النبي صلى الله عليه وسلم ان يرملوا الاشواط الثلاثة وان يمشوا ما بين الركنين ولم يمنعه ان يامرهم ان يرملوا الاشواط كلها الا الابقاء عليهم قال ابو عبد الله وزاد ابن سلمة عن ايوب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال لما قدم النبي صلى الله عليه وسلم لعامه الذي استامن قال ارملوا ليرى المشركون قوتهم والمشركون من قبل قعيقعان.
৪২৫৬. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (‘উমরাহ্তুল কাযা আদায়ের জন্য) আগমন করলে মুশরিকরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল যে, তোমাদের সামনে একদল লোক আসছে, ইয়াসরিবের জ্বর[1] যাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে। এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে প্রথম চক্করে হেলে দুলে চলার জন্য এবং দু’ রুকনের মধ্যবর্তী স্থানে স্বাভাবিক গতিতে চলতে নির্দেশ দেন। অবশ্য তিনি তাঁদেরকে সবকটি চক্করেই হেলে দুলে চলার আদেশ করতেন। কিন্তু তাঁদের প্রতি তাঁর অনুভূতিই কেবল তাঁকে এ হুকুম দেয়া থেকে বিরত রেখেছিল। [১৬০২]
অন্য এক সানাদে ইবনু সালামাহ (রহ.) আইয়ূব ও সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.)-এর মাধ্যমে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (সন্ধি সম্পাদনের মাধ্যমে) নিরাপত্তা প্রাপ্ত বছরে যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা্য়) আগমন করলেন তখন বললেন, তোমরা মুশরিকদেরকে তোমাদের শক্তিমত্তা দেখানোর জন্য হেলে দুলে তাওয়াফ করো। এ সময় মুশরিকরা কুআয়কিআন পর্বতের দিক থেকে মুসলিমদেরকে দেখছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৮)
অন্য এক সানাদে ইবনু সালামাহ (রহ.) আইয়ূব ও সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.)-এর মাধ্যমে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (সন্ধি সম্পাদনের মাধ্যমে) নিরাপত্তা প্রাপ্ত বছরে যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা্য়) আগমন করলেন তখন বললেন, তোমরা মুশরিকদেরকে তোমাদের শক্তিমত্তা দেখানোর জন্য হেলে দুলে তাওয়াফ করো। এ সময় মুশরিকরা কুআয়কিআন পর্বতের দিক থেকে মুসলিমদেরকে দেখছিল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৮)
নোট: [1] মদীনাহকেই ইয়াসরিব বলা হতো। মুশরিকরা মনে করেছিল মদীনার জ্বরে মুসলিমরা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই মুসলিমদের দুর্বল বা হীনবল হয়ে না পড়াটা প্রকাশের জন্য নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের শরীর হেলিয়ে দুলিয়ে বীরত্ব সহকারে তাওয়াফ করার নির্দেশ দেন। একেই রামল বলা হয়।
হাদিস নং: ৪২৫৭
সহিহ (Sahih)
محمد عن سفيان بن عيينة عن عمرو عن عطاء عن ابن عباس رضي الله عنهما قال انما سعى النبي صلى الله عليه وسلم بالبيت وبين الصفا والمروة ليري المشركين قوته.
৪২৫৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহ এবং সাফা ও মারওয়া-এর মধ্যখানে এ জন্যই সা‘য়ী করেছিলেন, যেন মুশরিকদেরকে তাঁর শৌর্য-বীর্য দেখাতে পারেন। [১৬৪৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯২৯)
হাদিস নং: ৪২৫৮
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا وهيب حدثنا ايوب عن عكرمة عن ابن عباس قال تزوج النبي صلى الله عليه وسلم ميمونة وهو محرم وبنى بها وهو حلال وماتت بسرف
৪২৫৮. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মাইমূনাহ (রাঃ) -কে বিয়ে করেছেন এবং (ইহরাম খোলার পরে) হালাল অবস্থায় তিনি তাঁর সঙ্গে বাসর যাপন করেছেন। মাইমূনাহ (রাঃ) (মক্কার নিকটেই) সারিফ নামক স্থানে ইন্তিকাল করেছেন। [১৮৩৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩০)
হাদিস নং: ৪২৫৯
সহিহ (Sahih)
قال ابو عبد الله وزاد ابن اسحاق حدثني ابن ابي نجيح وابان بن صالح عن عطاء ومجاهد عن ابن عباس قال تزوج النبي صلى الله عليه وسلم ميمونة في عمرة القضاء.
৪২৫৯. [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] অপর একটি সানাদে ইবনু ইসহাক-ইবনু আবূ নাজীহ ও আবান ইবনু সালিহ-‘আত্বা ও মুজাহিদ (রহ.)-ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমরাহ্তুল কাযা আদায়ের সফরে মায়মূনাহ (রাঃ)-কে বিয়ে করেছিলেন। [১৮৩৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩০)
হাদিস নং: ৪২৬০
সহিহ (Sahih)
احمد حدثنا ابن وهب عن عمرو عن ابن ابي هلال قال واخبرني نافع ان ابن عمر اخبره انه وقف على جعفر يومىذ وهو قتيل فعددت به خمسين بين طعنة وضربة ليس منها شيء في دبره يعني في ظهره.
৪২৬০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, সেদিন (মূতার যুদ্ধের দিন) তিনি শাহাদাত প্রাপ্ত জা‘ফার ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-এর লাশের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। (তিনি বলেন) আমি জা‘ফর (রাঃ)-এর দেহে তখন বর্শা ও তরবারীর পঞ্চাশটি আঘাতের চিহ্ন গুণেছি। তার মধ্যে কোনটাই তাঁর পশ্চাৎ দিকে ছিল না। [৪২৬১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩১)
হাদিস নং: ৪২৬১
সহিহ (Sahih)
اخبرنا احمد بن ابي بكر حدثنا مغيرة بن عبد الرحمن عن عبد الله بن سعيد عن نافع عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال امر رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة موتة زيد بن حارثة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان قتل زيد فجعفر وان قتل جعفر فعبد الله بن رواحة قال عبد الله كنت فيهم في تلك الغزوة فالتمسنا جعفر بن ابي طالب فوجدناه في القتلى ووجدنا ما في جسده بضعا وتسعين من طعنة ورمية.
৪২৬১. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মূতার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ)-কে (সেনাপতি নিযুক্ত করে) বলেছিলেন, যদি যায়দ (রাঃ) শহীদ হয়ে যায় তাহলে জা‘ফার ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) (সেনাপতি হবে)। যদি জা‘ফার (রাঃ)-ও শহীদ হয়ে যায় তাহলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) (সেনাপতি হবে)। ‘আবদুল্লাহ [ইবনু ‘উমার (রাঃ)] বলেন, ঐ যুদ্ধে তাদের সঙ্গে আমিও ছিলাম। (যুদ্ধ শেষে) আমরা জা‘ফার ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-কে তালাশ করলে তাকে শহীদগণের মধ্যে পেলাম। তখন আমরা তার দেহে বর্শা ও তীরের নব্বইটিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি।[1] [৪২৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩২)
নোট: [1] পূর্বোক্ত হাদীসে পঞ্চাশটি আঘাতের চিহ্নের কথা বলা হয়েছিল যা কেবল বর্শা ও তরবারির আঘাত গণনা করা হয়েছে। অত্র হাদীসে তীর, বর্শা ও তরবারী সকল আঘাত চিহ্নের গণনা হয়েছে। পূর্বের হাদীসে তীর বাদ দিয়ে গণনা করার কারণে তারতম্য হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে উভয় হাদীসের মধ্যে কোনরূপ বিরোধ নেই। (ফতহুল বারী)
হাদিস নং: ৪২৬২
সহিহ (Sahih)
احمد بن واقد حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن حميد بن هلال عن انس رضي الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم نعى زيدا وجعفرا وابن رواحة للناس قبل ان ياتيهم خبرهم فقال اخذ الراية زيد فاصيب ثم اخذ جعفر فاصيب ثم اخذ ابن رواحة فاصيب وعيناه تذرفان حتى اخذ الراية سيف من سيوف الله حتى فتح الله عليهم.
৪২৬২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মুসলিমদের নিকট খবর এসে পৌঁছার পূর্বেই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে যায়দ, জা‘ফার ও ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর (শাহাদাতের) কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যায়দ (রাঃ) পতাকা হাতে এগিয়ে গেলে তাঁকে শহীদ করা হয়। অতঃপর জা‘ফার (রাঃ) পতাকা হতে এগিয়ে গেলে তাকেও শহীদ করা হয়। অতঃপর ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) পতাকা হাতে নিলে তাকেও শহীদ করা হল। এ সময়ে তাঁর দু’চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল। (তিনি বললেন) শেষে আল্লাহর তলোয়ারদের মধ্য হতে আল্লাহর এক তলোয়ার (খালিদ বিন ওয়ালীদ) পতাকা ধারণ করল। ফলে আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে বিজয় দান করলেন। [১২৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩৩)
হাদিস নং: ৪২৬৩
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا عبد الوهاب قال سمعت يحيى بن سعيد قال اخبرتني عمرة قالت سمعت عاىشة رضي الله عنها تقول لما جاء قتل ابن حارثة وجعفر بن ابي طالب وعبد الله بن رواحة رضي الله عنهم جلس رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرف فيه الحزن قالت عاىشة وانا اطلع من صاىر الباب تعني من شق الباب فاتاه رجل فقال اي رسول الله ان نساء جعفر قال وذكر بكاءهن فامره ان ينهاهن قال فذهب الرجل ثم اتى فقال قد نهيتهن وذكر انه لم يطعنه قال فامر ايضا فذهب ثم اتى فقال والله لقد غلبننا فزعمت ان رسول الله قال فاحث في افواههن من التراب قالت عاىشة فقلت ارغم الله انفك فوالله ما انت تفعل وما تركت رسول الله صلى الله عليه وسلم من العناء.
৪২৬৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়িদ ইবনু হারিসাহ, জা‘ফর ইবনু আবূ তালিব ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাতের সংবাদ পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে পড়লেন। তাঁর চেহারায় শোক-চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি তখন দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখলাম, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! জা‘ফর (রাঃ)-এর পরিবারের মেয়েরা কান্নাকাটি করছে। তখন তিনি [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মহিলাদেরকে বারণ করার জন্য লোকটিকে আদেশ করলেন। লোকটি ফিরে গেল। তারপর আবার এসে বলল, আমি তাদেরকে নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা তা শোনেনি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এবারও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পুনঃ হুকুম করলেন। লোকটি গেল কিন্তু আবার ফিরে আসল এবং বলল, আমি তাদেরকে নিষেধ করেছি কিন্তু তারা আমার কথা মানছে না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি লোকটিকে আবার যেতে বললেন, কাজেই সে গেল, অতঃপর ফিরে আসল এবং বলল, আল্লাহর শপথ! আমি তাদের কাছে পরাস্ত হয়ে গেলাম। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, (তারপর) সম্ভবত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তা হলে তাদের মুখের উপর মাটি ছুঁড়ে মার। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি লোকটিকে বললাম, আল্লাহ তোমার নাককে ধূলি ধূসরিত করুন। আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে যে কাজ করতে বলেছেন তা তুমি করতেও পারছ না অথচ তাঁকে কষ্ট দিতেও ছাড়ছ না। [১২৯৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩৪)
হাদিস নং: ৪২৬৪
সহিহ (Sahih)
محمد بن ابي بكر حدثنا عمر بن علي عن اسماعيل بن ابي خالد عن عامر قال كان ابن عمر اذا حيا ابن جعفر قال السلام عليك يا ابن ذي الجناحين.
৪২৬৪. ‘আমির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখনই জা‘ফর ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-এর পুত্র (‘আবদুল্লাহ)-কে সালাম দিতেন তখনই তিনি বলতেন, তোমার প্রতি সালাম, হে দু’ডানাওয়ালার পুত্র।[1] [৩৭০৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩৫)
নোট: [1] মুতার যুদ্ধে কাফিরদের তীরের আঘাতে জা‘ফার ইবনু আবূ তালিবের হাত দুটো দেহ হতে পৃথক হয়ে যায় এবং তিনি শহীদ হয়ে যান। পরে আল্লাহ তা‘আলা তার ঐ দু’বাহুর বদলে জান্নাতে দু’টি ডানা প্রদান করেন। যা দ্বারা তিনি জান্নাতে মালায়িকার সঙ্গে বিচরণ করেন। যা তিনি স্বপ্নযোগে বা ওয়াহীর মাধ্যমে জানতে পারেন। (ফাতহুল বারী ৭ম খন্ড ৯৬ পৃষ্ঠা)
হাদিস নং: ৪২৬৫
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن اسماعيل عن قيس بن ابي حازم قال سمعت خالد بن الوليد يقول لقد انقطعت في يدي يوم موتة تسعة اسياف فما بقي في يدي الا صفيحة يمانية.
৪২৬৫. কায়স ইবনু আবূ হাযিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, মূতার যুদ্ধে আমার হাতে নয়টি তরবারি ভেঙ্গে গিয়েছিল। শেষে আমার হাতে একটি প্রশস্ত ইয়ামানী তলোয়ার ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। [৪২৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩৬)
হাদিস নং: ৪২৬৬
সহিহ (Sahih)
محمد بن المثنى حدثنا يحيى عن اسماعيل قال حدثني قيس قال سمعت خالد بن الوليد يقول لقد دق في يدي يوم موتة تسعة اسياف وصبرت في يدي صفيحة لي يمانية.
৪২৬৬. ক্বায়স (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলছেন, মূতার যুদ্ধে আমার হাতে নয়খানা তরবারি ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে গিয়েছিল। (পরিশেষে) আমার হাতে আমার একটি প্রশস্ত ইয়ামানী তারবারিই টিকেছিল। [৪২৬৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩৭)
হাদিস নং: ৪২৬৭
সহিহ (Sahih)
عمران بن ميسرة حدثنا محمد بن فضيل عن حصين عن عامر عن النعمان بن بشير رضي الله عنهما قال اغمي على عبد الله بن رواحة فجعلت اخته عمرة تبكي وا جبلاه وا كذا وا كذا تعدد عليه فقال حين افاق ما قلت شيىا الا قيل لي انت كذلك.
৪২৬৭. নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বেহুশ হয়ে পড়লে তাঁর বোন ‘আমরা [বিনত রাওয়াহা (রাঃ)] হায়, হায় পর্বতের মতো আমার ভাই, হায়রে অমুকের মতো, তমুকের মতো ইত্যাদি গুণ-বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে কান্নাকাটি শুরু করল। এরপর জ্ঞান ফিরলে তিনি তাঁর বোনকে বললেন, তুমি যেসব কথা বলে কান্নাকাটি করেছিলে সেসব কথা উল্লেখ করে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে, তুমি কি সত্যই এরূপ? (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩৮)
হাদিস নং: ৪২৬৮
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا عبثر عن حصين عن الشعبي عن النعمان بن بشير قال اغمي على عبد الله بن رواحة بهذا فلما مات لم تبك عليه.
৪২৬৮. নু‘মান ইবনু বাশীর (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বেহুঁশ হয়ে পড়লেন বলে তা বর্ণনা করলেন যেভাবে উপরোক্ত হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে। (তারপর তিনি বলেছেন) অতঃপর তিনি [‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)] শহীদ হলে তাঁর বোন মোটেই কান্নাকাটি করেনি।[1] [৪২৬৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৩৯)
নোট: [1] ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) যিনি যুদ্ধের পূর্বের কোন এক সময়কার ঘটনায় বেহুঁশ হয়ে পড়লে তার বোন আসমা বিনতু রাওয়াহা তার বহুবিধ গুণ বর্ণনা করে কান্নাকাটি করলে তিনি তাঁর বোনকে নিষেধ করেছিলেন। তিনি যখন মূতা‘-এর যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন তখন সে খবর পেয়ে মোটেও কাঁদেননি। এ হাদীসে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।