অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৬৪/১. ‘উশায়রাহ বা ‘উসাইরাহর যুদ্ধ।
মোট ৫২৫ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪২৬৯ সহিহ (Sahih)
عمرو بن محمد حدثنا هشيم اخبرنا حصين اخبرنا ابو ظبيان قال سمعت اسامة بن زيد رضي الله عنهما يقول بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الى الحرقة فصبحنا القوم فهزمناهم ولحقت انا ورجل من الانصار رجلا منهم فلما غشيناه قال لا اله الا الله فكف الانصاري فطعنته برمحي حتى قتلته فلما قدمنا بلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا اسامة اقتلته بعد ما قال لا اله الا الله قلت كان متعوذا فما زال يكررها حتى تمنيت اني لم اكن اسلمت قبل ذلك اليوم.
৪২৬৯. উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে হুরকা গোত্রের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। আমরা প্রত্যুষে গোত্রটির উপর আক্রমণ করি এবং তাদেরকে পরাজিত করি। এ সময়ে আনসারদের এক ব্যক্তি ও আমি তাদের (হুরকাদের) একজনের পিছু ধাওয়া করলাম। আমরা যখন তাকে ঘিরে ফেললাম তখন সে বলে উঠল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এ বাক্য শুনে আনসারী তার অস্ত্র সামলে নিলেন। কিন্তু আমি তাকে আমার বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ফেললাম। আমরা মদিনা্য় ফিরার পর এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছলে তিনি বললেন, হে উসামাহ! ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ? আমি বললাম, সে তো জান বাঁচানোর জন্য কলেমা পড়েছিল। এর পরেও তিনি এ কথাটি ‘হে উসামাহ! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ’ বারবার বলতে থাকলেন। এতে আমার মন চাচ্ছিল যে, হায়, যদি সেই দিনটির পূর্বে আমি ইসলামই গ্রহণ না করতাম![1] [৬৮৭২; মুসলিম ১/৪১, হাঃ ৯৬, আহমাদ ২১৮০৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪০)
নোট: [1] লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠকারী ব্যক্তিকেও হত্যা করার ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত ব্যথিত হন। তাই উসামা (রাঃ) চরম অনুতপ্ত হয়ে এ কথা বলেছিলেন। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, ঐদিনের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে এত বড় কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো না আর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামও এত কষ্ট পেতেন না।
হাদিস নং: ৪২৭০ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا حاتم عن يزيد بن ابي عبيد قال سمعت سلمة بن الاكوع يقول غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات وخرجت فيما يبعث من البعوث تسع غزوات مرة علينا ابو بكر ومرة علينا اسامة.
৪২৭০. সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব অভিযান প্রেরণ করেছেন তন্মধ্যে নয়টি অভিযানে আমি অংশ নিয়েছি। এসব অভিযানে একবার আবূ বকর (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন, আরেকবার উসামাহ (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন। [৪২৭১-৪২৭৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪১)
হাদিস নং: ৪২৭১ সহিহ (Sahih)
وقال عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي عن يزيد بن ابي عبيد قال سمعت سلمة يقول غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات وخرجت فيما يبعث من البعث تسع غزوات علينا مرة ابو بكر ومرة اسامة.
৪২৭১. ‘উমার ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহ.) তাঁর পিতা হাফস্ হতে, ইয়াযীদ ইবনু আবী ‘উবাইদাহ (রাঃ)-এর মাধ্যমে সালামাহ ইবনুল আকওয়া‘ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আর তিনি যেসব সেনাভিযান পাঠিয়েছিলেন এর নয়টি সেনাভিযানে অংশ নিয়েছি। এ সব সেনাভিযানে একবার আবূ বকর (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন। আরেকবার উসামাহ (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন। [৪২৭০; মুসলিম ৩২/৪৯, হাঃ ১৮১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪১)
হাদিস নং: ৪২৭২ সহিহ (Sahih)
ابو عاصم الضحاك بن مخلد حدثنا يزيد بن ابي عبيد عن سلمة بن الاكوع رضي الله عنه قال غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات وغزوت مع ابن حارثة استعمله علينا.
৪২৭২. সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং যায়দ ইবনু হারিসাহ্ (রাঃ)-এর সঙ্গেও যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (যায়দকে) আমাদের সেনাধ্যক্ষ নিয়োগ করেছিলেন। [৪২৭০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪২)
হাদিস নং: ৪২৭৩ সহিহ (Sahih)
محمد بن عبد الله حدثنا حماد بن مسعدة عن يزيد بن ابي عبيد عن سلمة بن الاكوع قال غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات فذكر خيبر والحديبية ويوم حنين ويوم القرد قال يزيد ونسيت بقيتهم.
৪২৭৩. সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এতে তিনি খাইবার, হুদাইবিয়াহ, হুনায়ন ও যি-কারাদের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারী ইয়াযীদ (রহ.) বলেন, অবশিষ্ট যুদ্ধগুলোর নাম আমি ভুলে গেছি। [৪২৭০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪৩)
হাদিস নং: ৪২৭৪ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان عن عمرو بن دينار قال اخبرني الحسن بن محمد انه سمع عبيد الله بن ابي رافع يقول سمعت عليا رضي الله عنه يقول بعثني رسول الله انا والزبير والمقداد فقال انطلقوا حتى تاتوا روضة خاخ فان بها ظعينة معها كتاب فخذوا منها قال فانطلقنا تعادى بنا خيلنا حتى اتينا الروضة فاذا نحن بالظعينة قلنا لها اخرجي الكتاب قالت ما معي كتاب فقلنا لتخرجن الكتاب او لنلقين الثياب قال فاخرجته من عقاصها فاتينا به رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا فيه من حاطب بن ابي بلتعة الى ناس بمكة من المشركين يخبرهم ببعض امر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا حاطب ما هذا قال يا رسول الله لا تعجل علي اني كنت امرا ملصقا في قريش يقول كنت حليفا ولم اكن من انفسها وكان من معك من المهاجرين من لهم قرابات يحمون اهليهم واموالهم فاحببت اذ فاتني ذلك من النسب فيهم ان اتخذ عندهم يدا يحمون قرابتي ولم افعله ارتدادا عن ديني ولا رضا بالكفر بعد الاسلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اما انه قد صدقكم فقال عمر يا رسول الله دعني اضرب عنق هذا المنافق فقال انه قد شهد بدرا وما يدريك لعل الله اطلع على من شهد بدرا فقال اعملوا ما شىتم فقد غفرت لكم فانزل الله السورة (يٓايها الذين امنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم اوليآء تلقون اليهم بالمودة وقد كفروا بما جآءكم من الحق) الى قوله (فقد ضل سوآء السبيل).
وَمَا بَعَثَ حَاطِبُ بْنُ أَبِيْ بَلْتَعَةَ إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ يُخْبِرُهُمْ بِغَزْوِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভিযানের ব্যাপারে খবর জানিয়ে মক্কা্বাসীদের নিকট হাতিব ইবনু আবূ বালতা‘আর লোক প্রেরণের ঘটনা।


৪২৭৪. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে এবং যুবায়র ও মিকদাদ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলে পাঠালেন যে, তোমরা রওয়ানা হয়ে রাওযায়ে খাখ পর্যন্ত চলে যাও, সেখানে সাওয়ারীর পৃষ্ঠে হাওদায় উপবিষ্টা জনৈকা মহিলার নিকট একখানা পত্র আছে। তোমরা ঐ পত্রটি তার থেকে নিয়ে আসবে। ‘আলী (রাঃ) বলেন, আমরা রওয়ানা দিলাম। আর আমাদের অশ্বগুলো আমাদের নিয়ে খুব দ্রুত ছুটে চলল। শেষ পর্যন্ত আমরা রাওযায়ে খাখ-এ পৌঁছে গেলাম। গিয়েই আমরা হাওদায় আরোহিণী মহিলাটিকে পেয়ে গেলাম। আমরা বললাম, পত্রটি বের কর। সে বললঃ আমার কাছে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, তুমি অবশ্যই পত্রটি বের করবে, অন্যথায় আমরা তোমার কাপড়-চোপড় খুলে তালাশ করব। রাবী বলেন, মহিলাটি তখন তার চুলের খোপা থেকে পত্রটি বের করল। আমরা পত্রটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। দেখা গেল এটি হাতিব ইবনু আবূ বালতা‘আ (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে মক্কার কতিপয় মুশরিকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি এতে মক্কার কাফিরদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু তৎপরতার সংবাদ দিয়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে হাতিব! এ কী কাজ করেছ? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! (দয়া করে) আমার ব্যাপারে তাড়াতাড়ি কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আমি কুরাইশদের সঙ্গে স্বগোত্রীয় কেউ ছিলাম না বরং তাদের বন্ধু অর্থাৎ তাদের মিত্র গোত্রের একজন ছিলাম। আপনার সঙ্গে যেসব মুহাজির আছেন কুরায়শ গোত্রে তাঁদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। যারা এদের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদের হিফাযাত করছে। আর কুরাইশ গোত্রে যেহেতু আমার বংশগত কোন সম্পর্ক নেই, তাই আমি ভাবলাম, যদি আমি তাদের কোন উপকার করে দেই তাহলে তারা আমার পরিবার-পরিজনের হিফাযাতে এগিয়ে আসবে। কখনো আমি আমার দ্বীন পরিত্যাগ করা কিংবা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরকে গ্রহণ করার জন্য এ কাজ করিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, সে (হাতিব) তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ সে বদর যুদ্ধে যোগদান করেছে। তুমি তো জান না, হয়তো আল্লাহ তা‘আলা বদরে যোগদানকারীদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে বলে দিয়েছেন, তোমরা যা খুশী করতে থাক, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ সূরাহ অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা তোমাদের কাছে যে সত্য এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা রাসূলকে এবং তোমাদেরকে মক্কা থেকে নির্বাসিত করেছে এ কারণে যে, তোমরা তোমাদের রব আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ। যদি তোমরা বের হয়ে থাক আমার পথে জিহাদ করার উদ্দেশে এবং আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য, তবে কেন গোপনে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাও? আর তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর তা আমি ভাল জানি। তোমাদের যে কেউ এরূপ করে, সে তো সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়’’- (সূরাহ আল-মুমতাহিনাহ ৬০/১)। [৩০০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪৪)

 
হাদিস নং: ৪২৭৫ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث قال حدثني عقيل عن ابن شهاب قال اخبرني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة ان ابن عباس اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم غزا غزوة الفتح في رمضان قال وسمعت سعيد بن المسيب يقول مثل ذلك وعن عبيد الله بن عبد الله اخبره ان ابن عباس رضي الله عنهما قال صام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اذا بلغ الكديد الماء الذي بين قديد وعسفان افطر فلم يزل مفطرا حتى انسلخ الشهر.
৪২৭৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে মক্কা বিজয়ের যুদ্ধ করেছেন। বর্ণনাকারী যুহরী (রাঃ) বলেন, আমি সা‘ঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (রহ.)-কেও একই রকম বর্ণনা করতে শুনেছি। আরেকটি সূত্র দিয়ে তিনি ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.)-এর মাধ্যমে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস বলেছেন, (মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হয়ে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম পালন করছিলেন। অবশেষে তিনি যখন কুদাইদ এবং উস্ফান নামক স্থানদ্বয়ের মাঝে কাদীদ নামক জায়গার ঝরণার কাছে পৌঁছেন তখন তিনি ইফতার করেন। এরপর রমাযান মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি আর সওম পালন করেননি। [১৯৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪৫)
হাদিস নং: ৪২৭৬ সহিহ (Sahih)
محمود اخبرنا عبد الرزاق اخبرنا معمر قال اخبرني الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس رضي الله عنهما ان النبي صلى الله عليه وسلم خرج في رمضان من المدينة ومعه عشرة الاف وذلك على راس ثمان سنين ونصف من مقدمه المدينة فسار هو ومن معه من المسلمين الى مكة يصوم ويصومون حتى بلغ الكديد وهو ماء بين عسفان وقديد افطر وافطروا قال الزهري وانما يوخذ من امر رسول الله صلى الله عليه وسلم الاخر فالاخر.
৪২৭৬. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে মদিনা থেকে (মক্কা অভিযানে) রওয়ানা হন। তাঁর সঙ্গে ছিল দশ হাজার সাহাবী। তখন হিজরত করে চলে আসার সাড়ে আট বছর পার হয়ে গিয়েছিল। তিনি ও তাঁর সঙ্গী মুসলিমগণ সওম অবস্থায়ই মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হন। অবশেষে তিনি যখন উস্ফান ও কুদাইদ স্থানদ্বয়ের মধ্যবর্তী কাদীদ নামক জায়গার ঝরণার নিকট পৌঁছলেন তখন তিনি ও সঙ্গী মুসলিমগণ ইফতার করলেন। যুহরী (রহ.) বলেছেনঃ উম্মতের জীবনযাত্রায় গ্রহণ করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাজকর্মের শেষোক্ত ‘আমলটিকেই চূড়ান্ত দলীল হিসাবে গণ্য করা হয়।[1] [১৯৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪৬)
নোট: [1] রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সময় একটি কাজ করে থাকলেও পরে যদি তার ব্যতিক্রম কোন কাজ করে থাকেন, তাহলে পরবর্তীটিই দলীল হিসেবে গণ্য হবে। এবং পূর্বের কাজটি মানসূখ (রহিত) হিসেবে পরিগণিত হবে।
হাদিস নং: ৪২৭৭ সহিহ (Sahih)
عياش بن الوليد حدثنا عبد الاعلى حدثنا خالد عن عكرمة عن ابن عباس قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم في رمضان الى حنين والناس مختلفون فصاىم ومفطر فلما استوى على راحلته دعا باناء من لبن او ماء فوضعه على راحته او على راحلته ثم نظر الى الناس فقال المفطرون للصوام افطروا.
৪২৭৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে হুনাইনের দিকে রওয়ানা হয়েছিলেন। সঙ্গী মুসলিমদের অবস্থা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কেউ ছিলেন সওমরত। কেউ ছিলেন সওমহীন। তাই তিনি যখন সওয়ারীর উপর বসলেন তখন তিনি একপাত্র দুধ কিংবা পানি আনতে বললেন। তারপর তিনি পাত্রটি হাতের উপর কিংবা সওয়ারীর উপর রেখে লোকজনের দিকে তাকালেন। এ অবস্থা দেখে সওমবিহীন লোকেরা সওমরত লোকেদেরকে ডেকে বললেনঃ তোমরা সওম ভেঙ্গে ফেল। [১৯৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪৭)
হাদিস নং: ৪২৭৮ সহিহ (Sahih)
وقال عبد الرزاق اخبرنا معمر عن ايوب عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما خرج النبي صلى الله عليه وسلم عام الفتح وقال حماد بن زيد عن ايوب عن عكرمة عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৪২৭৮. ‘আবদুর রাযযাক, মা‘মার, আইয়ুব, ‘ইকরিমা (রহ.) সূত্রে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অভিযানে বের হয়েছিলেন। এভাবে হাম্মাদ ইবনু যায়িদ আইয়ূব, ‘ইকরিমাহ (রহ.) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। [১৯৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪৭)
হাদিস নং: ৪২৭৯ সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا جرير عن منصور عن مجاهد عن طاوس عن ابن عباس قال سافر رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان فصام حتى بلغ عسفان ثم دعا باناء من ماء فشرب نهارا ليريه الناس فافطر حتى قدم مكة قال وكان ابن عباس يقول صام رسول الله صلى الله عليه وسلم في السفر وافطر فمن شاء صام ومن شاء افطر.
৪২৭৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান মাসে সওমরত অবস্থায় (মক্কা অভিমুখে) সফর করেছেন। অবশেষে তিনি উস্ফান নামক স্থানে পৌঁছলে একপাত্র পানি দিতে বললেন। তারপর দিনের বেলাতেই তিনি সে পানি পান করলেন যেন তিনি লোকজনকে তাঁর সওমবিহীন অবস্থা দেখাতে পারেন। এরপর মক্কা পৌঁছা পর্যন্ত তিনি আর সওম পালন করেননি। বর্ণনাকারী বলেছেন, পরবর্তীকালে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলতেন সফরে কোন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম পালন করতেন আবার কোন সময় তিনি সওমবিহীন অবস্থায়ও ছিলেন। তাই সফরে যার ইচ্ছা সওম পালন করবে যার ইচ্ছা সওমবিহীন অবস্থায় থাকবে। (সফর শেষে বাসস্থানে তা আদায় করে নিতে হবে)। [১৯৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪৮)
হাদিস নং: ৪২৮০ সহিহ (Sahih)
عبيد بن اسماعيل حدثنا ابو اسامة عن هشام عن ابيه قال لما سار رسول الله عام الفتح فبلغ ذلك قريشا خرج ابو سفيان بن حرب وحكيم بن حزام وبديل بن ورقاء يلتمسون الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فاقبلوا يسيرون حتى اتوا مر الظهران فاذا هم بنيران كانها نيران عرفة فقال ابو سفيان ما هذه لكانها نيران عرفة فقال بديل بن ورقاء نيران بني عمرو فقال ابو سفيان عمرو اقل من ذلك فراهم ناس من حرس رسول الله صلى الله عليه وسلم فادركوهم فاخذوهم فاتوا بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فاسلم ابو سفيان فلما سار قال للعباس احبس ابا سفيان عند حطم الخيل حتى ينظر الى المسلمين فحبسه العباس فجعلت القباىل تمر مع النبي صلى الله عليه وسلم تمر كتيبة كتيبة على ابي سفيان فمرت كتيبة قال يا عباس من هذه قال هذه غفار قال ما لي ولغفار ثم مرت جهينة قال مثل ذلك ثم مرت سعد بن هذيم فقال مثل ذلك ومرت سليم فقال مثل ذلك حتى اقبلت كتيبة لم ير مثلها قال من هذه قال هولاء الانصار عليهم سعد بن عبادة معه الراية فقال سعد بن عبادة يا ابا سفيان اليوم يوم الملحمة اليوم تستحل الكعبة فقال ابو سفيان يا عباس حبذا يوم الذمار ثم جاءت كتيبة وهي اقل الكتاىب فيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم واصحابه وراية النبي صلى الله عليه وسلم مع الزبير بن العوام فلما مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بابي سفيان قال الم تعلم ما قال سعد بن عبادة قال ما قال قال كذا وكذا فقال كذب سعد ولكن هذا يوم يعظم الله فيه الكعبة ويوم تكسى فيه الكعبة قال وامر رسول الله صلى الله عليه وسلم ان تركز رايته بالحجون قال عروة واخبرني نافع بن جبير بن مطعم قال سمعت العباس يقول للزبير بن العوام يا ابا عبد الله ها هنا امرك رسول الله صلى الله عليه وسلم ان تركز الراية قال وامر رسول الله صلى الله عليه وسلم يومىذ خالد بن الوليد ان يدخل من اعلى مكة من كداء ودخل النبي صلى الله عليه وسلم من كدا فقتل من خيل خالد بن الوليد رضي الله عنه يومىذ رجلان حبيش بن الاشعر وكرز بن جابر الفهري.
৪২৮০. হিশামের পিতা [‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)] হতে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা অভিমুখে) রওয়ানা করেছেন। এ সংবাদ কুরাইশদের কাছে পৌঁছলে আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হার্ব, হাকীম ইবনু হিযাম এবং বুদাইল ইবনু ওয়ারকা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদ জানার জন্য। রাতের বেলা সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে (মক্কার অদূরে) মাররুয জাহরান নামক স্থান পর্যন্ত এসে পৌঁছলে তারা আরাফার ময়দানে প্রজ্জ্বলিত আলোর মতো অসংখ্য আগুন দেখতে পেল। আবূ সুফ্ইয়ান বলে উঠল, ঠিক আরাফাহর ময়দানে প্রজ্জ্বলিত আলোর মতো এ সব কিসের আলো? বুদাইল ইবনু ওয়ারকা উত্তর করল, এগুলো ‘আমর গোত্রের (চুলার) আলো। আবূ সুফ্ইয়ান বলল, ‘আমর গোত্রের লোক সংখ্যা এর চেয়ে অনেক কম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কয়েকজন প্রহরী তাদেরকে দেখে ফেলল এবং কাছে গিয়ে তাদেরকে পাকড়াও করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে এল। এ সময় আবূ সুফ্ইয়ান ইসলাম গ্রহণ করল। এরপর তিনি [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন (সেনাবাহিনী সহ) রওয়ানা হলেন তখন ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললেন, আবূ সুফ্ইয়ানকে পথের একটি সংকীর্ণ জায়গায় দাঁড় করাবে, যেন সে মুসলিমদের পুরো সেনাদলটি দেখতে পায়। তাই ‘আব্বাস (রাঃ) তাকে যথাস্থানে থামিয়ে রাখলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আগমনকারী বিভিন্ন গোত্রের লোকজন আলাদা আলাদাভাবে খন্ড দলে আবূ সুফ্ইয়ানের সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করতে লাগল। (প্রথমে) একটি দল অতিক্রম করে গেল। আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, হে ‘আব্বাস (রাঃ), এরা কারা? ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এরা গিফার গোত্রের লোক। আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, আমার এবং গিফার গোত্রের মধ্যে কোন যুদ্ধ-বিগ্রহ ছিল না। এরপর জুহাইনা গোত্রের লোকেরা অতিক্রম করে গেলেন, আবূ সুফ্ইয়ান অনুরূপ বললেন। তারপর সা‘দ ইবনু হুযাইম গোত্র অতিক্রম করল, তখনো আবূ সুফ্ইয়ান অনুরূপ বললেন। তারপর সুলাইম গোত্র অতিক্রম করলেও আবূ সুফ্ইয়ান অনুরূপ বললেন। অবশেষে একটি বিরাট বাহিনী তার সামনে এল যে, এত বিরাট বাহিনী এ সময় তিনি আর দেখেননি। তাই জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা? ‘আব্বাস (রাঃ) উত্তর দিলেন, এরাই আনসারবৃন্দ। সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) তাঁদের দলপতি। তাঁর হাতেই রয়েছে তাঁদের পতাকা। সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) বললেন, হে আবূ সুফ্ইয়ান! আজকের দিন রক্তপাতের দিন, আজকের দিন কা‘বার অভ্যন্তরে রক্তপাত হালাল হওয়ার দিন। আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, হে ‘আব্বাস! আজ হারাম ও তার অধিবাসীদের প্রতি তোমাদের করুণা প্রদর্শনেরও কত উত্তম দিন। তারপর আরেকটি দল আসল। এটি ছিল সবচেয়ে ছোট দল। আর এদের মধ্যেই ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ। যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রাঃ)-এর হাতে ছিল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পতাকা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আবূ সুফ্ইয়ানের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ কী বলছে আপনি তা কি জানেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কী বলেছে? আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, সে এ রকম এ রকম বলেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সা‘দ ঠিক বলেনি বরং আজ এমন একটি দিন যে দিন আল্লাহ কা‘বাকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন। আজকের দিনে কা‘বাকে গিলাফে আচ্ছাদিত করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, (মক্কা্য়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজুন নামক স্থানে তাঁর পতাকা স্থাপনের নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী উরওয়া নাফি‘ ইবনু যুবায়র ইবনু মুত্ঈম ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যুবায়র ইবনু আওয়াম (রাঃ)-কে (মক্কা বিজয়ের পর একদা) বললেন, হে আবূ ‘আবদুল্লাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে এ জায়গায়ই পতাকা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ‘উরওয়াহ (রাঃ) আরো বলেন, সে দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ ইবনু ওয়ালীদকে মক্কার উঁচু এলাকা কাদার দিক থেকে প্রবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুদার দিক দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। সেদিন খালিদ ইবনু ওয়ালীদের অশ্বারোহী সৈন্যদের মধ্য থেকে হুবায়শ ইবনুল আশআর এবং কুরয ইবনু জাবির ফিহরী (রাঃ)-এ দু’জন শহীদ হয়েছিলেন। [২৯৭৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪৯)
হাদিস নং: ৪২৮১ সহিহ (Sahih)
ابو الوليد حدثنا شعبة عن معاوية بن قرة قال سمعت عبد الله بن مغفل يقول رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة على ناقته وهو يقرا سورة الفتح يرجع وقال لولا ان يجتمع الناس حولي لرجعت كما رجع.
৪২৮১. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর উটনীর উপর দেখেছি, তিনি ‘তারজী’ অর্থাৎ পূর্ণ তাজভীদ সহকারে সূরাহ আল-ফাত্হ তিলাওয়াত করছেন। বর্ণনাকারী মু‘আবিয়াহ ইবনু কুররাহ (রহ.) বলেন, যদি আমার চারপাশে লোকজন জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তা হলে ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিলাওয়াত বর্ণনা করতে যেভাবে তারজী করেছিলেন আমিও ঠিক সে রকমে তারজী করে তিলাওয়াত করতাম। [৪৮৩৫, ৫০৩৪, ৫০৪৭, ৭৫৪০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫০)
হাদিস নং: ৪২৮২ সহিহ (Sahih)
سليمان بن عبد الرحمن حدثنا سعدان بن يحيى حدثنا محمد بن ابي حفصة عن الزهري عن علي بن حسين عن عمرو بن عثمان عن اسامة بن زيد انه قال زمن الفتح يا رسول الله اين تنزل غدا قال النبي صلى الله عليه وسلم وهل ترك لنا عقيل من منزل؟
৪২৮২. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মক্কা বিজয়ের কালে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আগামীকাল আপনি কোথায় অবস্থান করবেন? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আকীল কি আমাদের জন্য কোন বাড়ি অবশিষ্ট রেখে গেছে? [১৫৮৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫১)
হাদিস নং: ৪২৮৩ সহিহ (Sahih)
ثم قال لا يرث المومن الكافر ولا يرث الكافر المومن قيل للزهري ومن ورث ابا طالب قال ورثه عقيل وطالب قال معمر عن الزهري اين تنزل غدا في حجته ولم يقل يونس حجته ولا زمن الفتح.
৪২৮৩. এরপর তিনি বললেন, মুমিন ব্যক্তি কাফিরের ওয়ারিশ হয় না, আর কাফিরও মু’মিন ব্যক্তির ওয়ারিশ হয় না।[1] (পরবর্তীকালে) যুহরী (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, আবূ তালিবের ওয়ারিশ কে হয়েছিল? তিনি বলেছেন, আকীল এবং তালিব তার ওয়ারিশ হয়েছিল। মা‘মার (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আপনি আগামীকাল কোথায় অবস্থান করবেন কথাটি (উসামাহ ইবনু যায়িদ) রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার হাজ্জের সফরে জিজ্ঞেস করেছিলেন। কিন্তু ইউনুস (রহ.) তাঁর হাদীসে মক্কা বিজয়ের সময় বা হাজ্জের সফর কোনটিরই উল্লেখ করেননি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫১)
নোট: [1] রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচা আবূ তালিব যখন কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তার পুত্র আকীল তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি। এ জন্য আকীল উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু চাচা আবূ তালিবের অন্য পুত্র ‘আলী ও জা‘ফর ইসলাম গ্রহণের ফলে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন। পরবর্তীতে আকীল তার সহায় সম্পদ বিক্রয় করে ফেলে এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। এ জন্যই রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরোক্ত উক্তি।
হাদিস নং: ৪২৮৪ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان حدثنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن عبد الرحمن عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم منزلنا ان شاء الله اذا فتح الله الخيف حيث تقاسموا على الكفر.
৪২৮৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মক্কা বিজয়ের পূর্বে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ আমাদেরকে বিজয় দান করলে ইনশাআল্লাহ ‘খাইফ’ হবে আমাদের অবস্থানস্থল, যেখানে কাফিররা কুফরীর উপর পরস্পরে শপথ গ্রহণ করেছিল।[1] [১৫৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫২)
নোট: [1] হিজরাতের পূর্বে কাফিররা সম্মিলিতভাবে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বানূ হাশিম ও বানূ মুত্তালিবকে মক্কাহ হতে বহিষ্কার করে খাইফ এলাকায় নির্বাসন দেয়ার ফয়সালা করেছিল। পরিশেষে তারা পরস্পর শপথ করে একটি চুক্তিনামাও স্বাক্ষর করেছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদিকেই ইশারা করেছিলেন।
হাদিস নং: ৪২৮৫ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا ابراهيم بن سعد اخبرنا ابن شهاب عن ابي سلمة عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين اراد حنينا منزلنا غدا ان شاء الله بخيف بني كنانة حيث تقاسموا على الكفر.
৪২৮৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে বললেন, বানী কিনানার খায়ফ নামক স্থানই হবে আমাদের আগামীকালের অবস্থানস্থল, যেখানে কাফিররা কুফরের উপর পরস্পর শপথ গ্রহণ করেছিল। [১৫৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫৩)
হাদিস নং: ৪২৮৬ সহিহ (Sahih)
يحيى بن قزعة حدثنا مالك عن ابن شهاب عن انس بن مالك رضي الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل مكة يوم الفتح وعلى راسه المغفر فلما نزعه جاء رجل فقال ابن خطل متعلق باستار الكعبة فقال اقتله قال مالك ولم يكن النبي صلى الله عليه وسلم فيما نرى والله اعلم يومىذ محرما.
৪২৮৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় লোহার টুপি পরিহিত অবস্থায় মক্কা্য় প্রবেশ করেছেন। তিনি সবেমাত্র টুপি খুলেছেন এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, ইবনু খাতাল কা‘বার গিলাফ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে হত্যা কর।[1] ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন, আমাদের ধারণামতে সেদিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ছিলেন না। তবে আল্লাহ আমাদের চেয়ে ভাল জানেন। [১৮৪৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫৪)
নোট: [1] খাতাল কুফর ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে পুনরায় মুরতাদ হয়ে যায় এবং অন্যায়ভাবে কয়েকজন মুসলিমকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ জন্যই নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কাহ বিজয় করেন তখন তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তাকে যমযম কূপ ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে হত্যা করা হয়।
হাদিস নং: ৪২৮৭ সহিহ (Sahih)
صدقة بن الفضل اخبرنا ابن عيينة عن ابن ابي نجيح عن مجاهد عن ابي معمر عن عبد الله رضي الله عنه قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة يوم الفتح وحول البيت ستون وثلاث ماىة نصب فجعل يطعنها بعود في يده ويقول جاء الحق وزهق الباطل جاء الحق وما يبدى الباطل وما يعيد.
৪২৮৭. ‘আবদুল্লাহ [ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় প্রবেশ করলেন, তখন বাইতুল্লাহর চারপাশ ঘিরে তিনশত ষাটটি প্রতিমা স্থাপিত ছিল। তিনি হাতে একটি লাঠি নিয়ে প্রতিমাগুলোকে আঘাত করতে থাকলেন আর বলতে থাকলেন, হাক এসেছে, বাতিল অপসৃত হয়েছে। হাক এসেছে, বাতিলের উদ্ভব বা পুনরুত্থান আর ঘটবে না। [২৪৭৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫৫)
হাদিস নং: ৪২৮৮ সহিহ (Sahih)
اسحاق حدثنا عبد الصمد قال حدثني ابي حدثنا ايوب عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قدم مكة ابى ان يدخل البيت وفيه الالهة فامر بها فاخرجت فاخرج صورة ابراهيم واسماعيل في ايديهما من الازلام فقال النبي صلى الله عليه وسلم قاتلهم الله لقد علموا ما استقسما بها قط ثم دخل البيت فكبر في نواحي البيت وخرج ولم يصل فيه تابعه معمر عن ايوب وقال وهيب حدثنا ايوب عن عكرمة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
৪২৮৮. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় আগমন করার পর তৎক্ষণাৎ বাইতুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ করা থেকে বিরত রইলেন, কেননা সে সময় বাইতুল্লাহর ভিতরে অনেক প্রতিমা স্থাপিত ছিল। প্রতিমাগুলো বের করে ফেলা হল। তখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আঃ)-এর মূর্তিও বেরিয়ে আসল। তাদের উভয়ের হাতে ছিল মুশরিকদের ভাগ্য নির্ণয়ের কয়েকটি তীর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন। তারা অবশ্যই জানত যে, ইব্রাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ) কক্ষনো তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ণয় করেননি। এরপর তিনি বাইতুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ করলেন। আর প্রত্যেক কোণায় কোণায় গিয়ে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিলেন এবং বেরিয়ে আসলেন। আর সেখানে সালাত আদায় করেননি। মা‘মার (রহ.) আইয়ুব (রহ.) সূত্রে এবং ওয়াহায়ব (রহ.) আইয়ুব (রহ.)-এর মাধ্যমে ‘ইকরামাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [৩৯৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৫৬)
অধ্যায় তালিকা