অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৫/১/১. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে।
মোট ৫০৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৬৭৮
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب بن مالك عن عبد الله بن كعب بن مالك وكان قاىد كعب بن مالك قال سمعت كعب بن مالك يحدث حين تخلف عن قصة تبوك فوالله ما اعلم احدا ابلاه الله في صدق الحديث احسن مما ابلاني ما تعمدت منذ ذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم الى يومي هذا كذبا وانزل الله عز وجل على رسوله صلى الله عليه وسلم لقد تاب الله على النبي والمهاجرين والانصار الى قوله وكونوا مع الصادقين
৪৬৭৮. ’আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব ইবনু মালিক (রহ.) হতে বর্ণিত। যিনি কা’ব ইবনু মালিক (দৃষ্টিহীন হওয়ার পরে)-এর পথপ্রদর্শক হিসেবে ছিলেন। তিনি (’আবদুল্লাহ) বলেন, আমি কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে, তাবূক যুদ্ধে যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিলেন তাদের ঘটনা বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহর কসম! হয়ত আল্লাহ (রাসূলুল্লাহর কাছে) সত্য কথা প্রকাশের কারণে, অন্য কাউকে এত বড় সুন্দর পরীক্ষা করেননি যতটুকু আমাকে পরীক্ষা করেছেন।
যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাবূক যুদ্ধে না যাওয়ার সঠিক কারণ বর্ণনা করেছি তখন থেকে আজ পর্যন্ত মিথ্যা বলার ইচ্ছাও করিনি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর এ আয়াতটি নাযিল করেন لَقَدْ تَابَ اللهُ.... وَكُوْنُوْا مَعَ الصَّادِقِيْنَ ’’আল্লাহ অনুগ্রহপরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি ........ এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’’ (সূরাহ বারাআত ৯/১১৭-১১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৮)
যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাবূক যুদ্ধে না যাওয়ার সঠিক কারণ বর্ণনা করেছি তখন থেকে আজ পর্যন্ত মিথ্যা বলার ইচ্ছাও করিনি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর এ আয়াতটি নাযিল করেন لَقَدْ تَابَ اللهُ.... وَكُوْنُوْا مَعَ الصَّادِقِيْنَ ’’আল্লাহ অনুগ্রহপরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি ........ এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’’ (সূরাহ বারাআত ৯/১১৭-১১৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৮)
হাদিস নং: ৪৬৭৯
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني ابن السباق ان زيد بن ثابت الانصاري رضي الله عنه وكان ممن يكتب الوحي قال ارسل الي ابو بكر مقتل اهل اليمامة وعنده عمر فقال ابو بكر ان عمر اتاني فقال ان القتل قد استحر يوم اليمامة بالناس واني اخشى ان يستحر القتل بالقراء في المواطن فيذهب كثير من القران الا ان تجمعوه واني لارى ان تجمع القران قال ابو بكر قلت لعمر كيف افعل شيىا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال عمر هو والله خير فلم يزل عمر يراجعني فيه حتى شرح الله لذلك صدري ورايت الذي راى عمر قال زيد بن ثابت وعمر عنده جالس لا يتكلم.
فقال ابو بكر انك رجل شاب عاقل ولا نتهمك كنت تكتب الوحي لرسول الله صلى الله عليه وسلم فتتبع القران فاجمعه فوالله لو كلفني نقل جبل من الجبال ما كان اثقل علي مما امرني به من جمع القران قلت كيف تفعلان شيىا لم يفعله النبي صلى الله عليه وسلم فقال ابو بكر هو والله خير فلم ازل اراجعه حتى شرح الله صدري للذي شرح الله له صدر ابي بكر وعمر فقمت فتتبعت القران اجمعه من الرقاع والاكتاف والعسب وصدور الرجال حتى وجدت من سورة التوبة ايتين مع خزيمة الانصاري لم اجدهما مع احد غيره (لقد جاءكم رسول من انفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص) الى اخرهما وكانت الصحف التي جمع فيها القران عند ابي بكر حتى توفاه الله ثم عند عمر حتى توفاه الله ثم عند حفصة بنت عمر تابعه عثمان بن عمر والليث عن يونس عن ابن شهاب وقال الليث حدثني عبد الرحمن بن خالد عن ابن شهاب وقال مع ابي خزيمة الانصاري وقال موسى عن ابراهيم حدثنا ابن شهاب مع ابي خزيمة وتابعه يعقوب بن ابراهيم عن ابيه وقال ابو ثابت حدثنا ابراهيم وقال مع خزيمة او ابي خزيمة
فقال ابو بكر انك رجل شاب عاقل ولا نتهمك كنت تكتب الوحي لرسول الله صلى الله عليه وسلم فتتبع القران فاجمعه فوالله لو كلفني نقل جبل من الجبال ما كان اثقل علي مما امرني به من جمع القران قلت كيف تفعلان شيىا لم يفعله النبي صلى الله عليه وسلم فقال ابو بكر هو والله خير فلم ازل اراجعه حتى شرح الله صدري للذي شرح الله له صدر ابي بكر وعمر فقمت فتتبعت القران اجمعه من الرقاع والاكتاف والعسب وصدور الرجال حتى وجدت من سورة التوبة ايتين مع خزيمة الانصاري لم اجدهما مع احد غيره (لقد جاءكم رسول من انفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص) الى اخرهما وكانت الصحف التي جمع فيها القران عند ابي بكر حتى توفاه الله ثم عند عمر حتى توفاه الله ثم عند حفصة بنت عمر تابعه عثمان بن عمر والليث عن يونس عن ابن شهاب وقال الليث حدثني عبد الرحمن بن خالد عن ابن شهاب وقال مع ابي خزيمة الانصاري وقال موسى عن ابراهيم حدثنا ابن شهاب مع ابي خزيمة وتابعه يعقوب بن ابراهيم عن ابيه وقال ابو ثابت حدثنا ابراهيم وقال مع خزيمة او ابي خزيمة
৪৬৭৯. যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। যিনি ওয়াহী লেখকদের মধ্যে একজন ছিলেন, তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) (তার খিলাফাতের সময়) এক ব্যক্তিকে আমার কাছে ইয়ামামার যুদ্ধক্ষেত্রে প্রেরণ করলেন। (আমি তার কাছে চলে আসলাম) তখন তার কাছে ’উমার (রাঃ) বসা ছিলেন। তিনি [আবূ বকর (রাঃ) আমাকে] বললেন, ’উমার (রাঃ) আমার কাছে এসে বললেন যে, ইয়ামামার যুদ্ধ তীব্র গতিতে চলছে, আমার ভয় হচ্ছে, কুরআনের অভিজ্ঞগণ (হাফিযগণ) ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হয়ে যান নাকি! যদি আপনারা তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করেন তবে কুরআনের অনেক অংশ চলে যেতে পারে এবং কুরআনকে একত্রিত সংরক্ষণ করা ভাল মনে করি।
আবূ বকর (রাঃ) বলেন, আমি ’উমার (রাঃ)-কে বললাম, আমি এ কাজ কীভাবে করতে পারি, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে যাননি। কিন্তু ’উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এটা কল্যাণকর। ’উমার (রাঃ) তাঁর এ কথার পুনরুক্তি করতে থাকেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা এ কাজ করার জন্য আমার অন্তর খুলে দিলেন এবং আমিও ’উমার (রাঃ)-এর মতোই মতামত পেশ করলাম। যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেন, ’উমার (রাঃ) সেখানে নীরবে বসা ছিলেন, কোন কথা বলছিলেন না। এরপর আবূ বকর (রাঃ) আমাকে বললেন, দেখ, তুমি যুবক এবং জ্ঞানী ব্যক্তি। আমরা তোমার প্রতি কোনরূপ খারাপ ধারণা রাখি না। কেননা, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে ওয়াহী লিপিবদ্ধ করতে।
সুতরাং তুমি কুরআনের আয়াত সংগ্রহ করে একত্রিত কর। আল্লাহর কসম! তিনি কুরআন একত্রিত করার যে নির্দেশ আমাকে দিলেন সেটি আমার কাছে এত ভারী মনে হল যে, তিনি যদি কোন একটি পর্বত স্থানান্তর করার আদেশ দিতেন তাও আমার কাছে এমন ভারী মনে হত না। আমি বললাম, যে কাজটি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে যাননি, সে কাজটি আপনারা কীভাবে করবেন? তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এটাই কল্যাণকর। এরপর আমিও আমার কথার উপর বারবার জোর দিতে লাগলাম।
শেষে আল্লাহ যেটা বুঝার জন্য আবূ বকর (রাঃ) ও ’উমার (রাঃ)-এর অন্তর খুলে দিয়েছিলেন, আমার অন্তরকেও তা বুঝার জন্য খুলে দিলেন। এরপর আমি কুরআন সংগ্রহে লেগে গেলাম এবং হাড়, চামড়া, খেজুর ডাল ও বাকল এবং মানুষের স্মৃতি থেকে তা সংগ্রহ করলাম। অবশেষে খুযাইমাহ আনসারীর কাছে সূরায়ে তাওবার দু’টি আয়াত পেয়ে গেলাম, যা অন্য কারও নিকট হতে সংগ্রহ করতে পারিনি। لَقَدْ جَاءَكُمْ থেকে শেষ পর্যন্ত।
এরপর এ একত্রিত কুরআন আবূ বকর (রাঃ)-এর ওফাত পর্যন্ত তাঁর কাছেই জমা ছিল। তারপর ’উমার (রাঃ)-এর কাছে। তার ওফাত পর্যন্ত এটি তার কাছেই ছিল। তারপর ছিল হাফসাহ বিনত ’উমার (রাঃ)-এর কাছে। ’উসমান এবং লাইস (রহ.) خُزَيْمَةَ শব্দের বর্ণনায় শু’আয়ব-এর অনুসরণ করেছেন।
অন্য এক সনদেও ইবনু শিহাব থেকে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাতে খুযাইমার স্থলে আবূ খুযাইমাহ আনসারী বলা হয়েছে। মূসা-এর সনদে عَنْ ابْنِ شِهَابٍ এর স্থলে حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ এবং আবূ খুযাইমাহ বলা হয়েছে। ইয়াকূব ইবনু ইব্রাহীম এর অনুসরণ করেছেন।
অন্য এক সনদে সাবিত (রহ.)-এর عَنْ إِبْرَاهِيْمَ এর পরিবর্তে حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ বলেছেন এবং খুযাইমা অথবা আবূ খুযাইমা নিয়ে সন্দেহ আছে।
আয়াতটির অর্থ হলঃ ’’এতদসত্ত্বেও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে আপনি বলে দিন- আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তিনি বিরাট আরশের অধিপতি’’- (সূরাহ বারাআত ৯/১২৯)। [২৮০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৯)
আবূ বকর (রাঃ) বলেন, আমি ’উমার (রাঃ)-কে বললাম, আমি এ কাজ কীভাবে করতে পারি, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে যাননি। কিন্তু ’উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এটা কল্যাণকর। ’উমার (রাঃ) তাঁর এ কথার পুনরুক্তি করতে থাকেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা এ কাজ করার জন্য আমার অন্তর খুলে দিলেন এবং আমিও ’উমার (রাঃ)-এর মতোই মতামত পেশ করলাম। যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেন, ’উমার (রাঃ) সেখানে নীরবে বসা ছিলেন, কোন কথা বলছিলেন না। এরপর আবূ বকর (রাঃ) আমাকে বললেন, দেখ, তুমি যুবক এবং জ্ঞানী ব্যক্তি। আমরা তোমার প্রতি কোনরূপ খারাপ ধারণা রাখি না। কেননা, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে ওয়াহী লিপিবদ্ধ করতে।
সুতরাং তুমি কুরআনের আয়াত সংগ্রহ করে একত্রিত কর। আল্লাহর কসম! তিনি কুরআন একত্রিত করার যে নির্দেশ আমাকে দিলেন সেটি আমার কাছে এত ভারী মনে হল যে, তিনি যদি কোন একটি পর্বত স্থানান্তর করার আদেশ দিতেন তাও আমার কাছে এমন ভারী মনে হত না। আমি বললাম, যে কাজটি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে যাননি, সে কাজটি আপনারা কীভাবে করবেন? তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এটাই কল্যাণকর। এরপর আমিও আমার কথার উপর বারবার জোর দিতে লাগলাম।
শেষে আল্লাহ যেটা বুঝার জন্য আবূ বকর (রাঃ) ও ’উমার (রাঃ)-এর অন্তর খুলে দিয়েছিলেন, আমার অন্তরকেও তা বুঝার জন্য খুলে দিলেন। এরপর আমি কুরআন সংগ্রহে লেগে গেলাম এবং হাড়, চামড়া, খেজুর ডাল ও বাকল এবং মানুষের স্মৃতি থেকে তা সংগ্রহ করলাম। অবশেষে খুযাইমাহ আনসারীর কাছে সূরায়ে তাওবার দু’টি আয়াত পেয়ে গেলাম, যা অন্য কারও নিকট হতে সংগ্রহ করতে পারিনি। لَقَدْ جَاءَكُمْ থেকে শেষ পর্যন্ত।
এরপর এ একত্রিত কুরআন আবূ বকর (রাঃ)-এর ওফাত পর্যন্ত তাঁর কাছেই জমা ছিল। তারপর ’উমার (রাঃ)-এর কাছে। তার ওফাত পর্যন্ত এটি তার কাছেই ছিল। তারপর ছিল হাফসাহ বিনত ’উমার (রাঃ)-এর কাছে। ’উসমান এবং লাইস (রহ.) خُزَيْمَةَ শব্দের বর্ণনায় শু’আয়ব-এর অনুসরণ করেছেন।
অন্য এক সনদেও ইবনু শিহাব থেকে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাতে খুযাইমার স্থলে আবূ খুযাইমাহ আনসারী বলা হয়েছে। মূসা-এর সনদে عَنْ ابْنِ شِهَابٍ এর স্থলে حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ এবং আবূ খুযাইমাহ বলা হয়েছে। ইয়াকূব ইবনু ইব্রাহীম এর অনুসরণ করেছেন।
অন্য এক সনদে সাবিত (রহ.)-এর عَنْ إِبْرَاهِيْمَ এর পরিবর্তে حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ বলেছেন এবং খুযাইমা অথবা আবূ খুযাইমা নিয়ে সন্দেহ আছে।
আয়াতটির অর্থ হলঃ ’’এতদসত্ত্বেও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে আপনি বলে দিন- আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তিনি বিরাট আরশের অধিপতি’’- (সূরাহ বারাআত ৯/১২৯)। [২৮০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১৯)
হাদিস নং: ৪৬৮০
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن ابي بشر عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة واليهود تصوم عاشوراء فقالوا هذا يوم ظهر فيه موسى على فرعون فقال النبي صلى الله عليه وسلم لاصحابه انتم احق بموسى منهم فصوموا
(01) سُوْرَةُ يُوْنُسَ
সূরাহ (১০) : ইউনুস
65/10/1. بَاب :
৬৫/১০/১. অধ্যায়:
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (فَاخْتَلَطَ) بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ فَنَبَتَ بِالْمَاءِ مِنْ كُلِّ لَوْنٍ (وَقَالُوا اتَّخَذَ اللهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ هُوَ الْغَنِيُّ)وَقَالَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ (أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ) مُحَمَّدٌ e وَقَالَ مُجَاهِدٌ خَيْرٌ يُقَالُ (تِلْكَاٰيٰتُ) يَعْنِيْ هَذِهِ أَعْلَامُ الْقُرْآنِ وَمِثْلُهُ (حَتّٰىٓإِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ) الْمَعْنَى بِكُمْ يُقَالُ (دَعْوَاهُمْ) دُعَاؤُهُمْ(أُحِيْطَ بِهِمْ) دَنَوْا مِنْ الْهَلَكَةِ (أَحَاطَتْ بِهٰخَطِيئَتُه” فَاتَّبَعَهُمْ) وَأَتْبَعَهُمْ وَاحِدٌ (عَدْوًا) مِنْ الْعُدْوَانِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (وَلَوْ يُعَجِّلُ اللهُ لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَيْرِ) قَوْلُ الإِنْسَانِ لِوَلَدِهِ وَمَالِهِ إِذَا غَضِبَ اللهُمَّ لَا تُبَارِكْ فِيْهِ وَالْعَنْهُ(لَقُضِيَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ) لَأُهْلِكُ مَنْ دُعِيَ عَلَيْهِ وَلَأَمَاتَهُ (لِلَّذِيْنَ أَحْسَنُوا الْحُسْنٰى) مِثْلُهَا حُسْنَى (وَزِيَادَةٌ) مَغْفِرَةٌ وَرِضْوَانٌ وَقَالَ غَيْرُهُ النَّظَرُ إِلَى وَجْهِهِ (الْكِبْرِيَآءُ) الْمُلْكُ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, فَاخْتَلَطَ অর্থাৎ বৃষ্টির দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উদগত হয়। আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ وَقَالُوا اتَّخَذَ اللهُ وَلَدًا سُبْحَانَه هُوَ الْغَنِيُّ -’’তারা বলেঃ ’’আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি মহান, পবিত্র। তিনি অমুখাপেক্ষী।’’ (সূরাহ ইউনুস ১০/৬৮)
যায়দ ইবনু আসলাম (রহ.) বলেন, قَدَمَ صِدْقٍ দ্বারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বুঝানো হয়েছে। মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ কল্যাণ। تِلْكَ آيَاتُ এগুলো কুরআনের নিদর্শন ও অনুরূপ, حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْএখানে بِهِمْ দ্বারা بِكُمْ (তোমাদের নিয়ে) অর্থে دَعْوَاهُمْ তাদের দু’আ। أُحِيْطَبِهِمْ-তারা ধ্বংসোন্মুখ হল। أَحَاطَتْ بِهٰ خَطِيئَتُه গুনাহ তাদের ঘিরে ফেলছে। فَاتَّبَعَهُمْ وَأَتْبَعَهُمْ সমপর্যায়ের (তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।) عَدْوًا এখানে সীমা অতিক্রম অর্থে, মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَيْرِ -এর দ্বারা মানুষের সেই কথা বুঝাচ্ছে, যখন সে রাগান্বিত হয়ে নিজ নিজ সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদ সম্পর্কে বলে, হে আল্লাহ! এতে বারাকাত দিও না, এর ওপর লা’নাত কর। لَقُضِيَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ-যার প্রতি বদদু’আ করা হয়েছে, তাকে ধ্বংস করে দিতেন এবং তাকে মেরে ফেলতেন। أَحْسَنُواالْحُسْنَى-কল্যাণকর কাজের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অধিক। وَزِيَادَةٌ এবং অতিরিক্ত অর্থাৎ ক্ষমা। অন্যরা বলেন, আল্লাহর সাক্ষাৎ, الْكِبْرِيَاءُ-সার্বভৌমত্ব।
(وَجٰوَزْنَا بِبَنِيْٓإِسْرَآئِيْلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُوْدُه بَغْيًا وَّعَدْوًا طحَتّٰىٓإِذَآ أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ اٰمَنْتُ أَنَّه لَآ إِلٰهَ إِلَّا الَّذِيْٓاٰمَنَتْ بِهٰبَنُوْآإِسْرَآئِيْلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ)
’’আর আমি বনী ইসরাঈলকে নদী পার করিয়ে দিলাম। তারপর তাদের পশ্চাদানুসরণ করল ফির’আউন ও তার সৈন্যবাহিনী নিপীড়ন ও নির্যাতনের উদ্দেশে। এমনকি যখন সে নিমজ্জিত হতে লাগল তখন বললঃ আমি ঈমান আনলাম যে, কোন সত্য মা’বুদ নেই তিনি ব্যতীত যার প্রতি ঈমান এনেছে বনী ইসরাঈল এবং আমি একজন মুসলিম।’’ (সূরাহ ইউনুস ১০/৯০)
(نُنَجِّيْكَ) نُلْقِيْكَ عَلَى نَجْوَةٍ مِنْ الْأَرْضِ وَهُوَ النَّشَزُ الْمَكَانُ الْمُرْتَفِعُ
نُنَجِّيْكَ আমি তোমাকে যমীনের উঁচু স্থানে ফেলে রাখব। نَجْوَةٍ উচ্চ স্থান। [1]
৪৬৮০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে এলেন, তখন ইয়াহূদীগণ আশুরার দিন সওম পালন করত। তারা জানাল, এ দিন মূসা (আঃ) ফিরাউন-এর উপর বিজয় লাভ করেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন, মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে তাদের চেয়ে তোমরাই অধিক হাকদার। কাজেই তোমরা সওম পালন কর।[২০০৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২০)
সূরাহ (১০) : ইউনুস
65/10/1. بَاب :
৬৫/১০/১. অধ্যায়:
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (فَاخْتَلَطَ) بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ فَنَبَتَ بِالْمَاءِ مِنْ كُلِّ لَوْنٍ (وَقَالُوا اتَّخَذَ اللهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ هُوَ الْغَنِيُّ)وَقَالَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ (أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ) مُحَمَّدٌ e وَقَالَ مُجَاهِدٌ خَيْرٌ يُقَالُ (تِلْكَاٰيٰتُ) يَعْنِيْ هَذِهِ أَعْلَامُ الْقُرْآنِ وَمِثْلُهُ (حَتّٰىٓإِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ) الْمَعْنَى بِكُمْ يُقَالُ (دَعْوَاهُمْ) دُعَاؤُهُمْ(أُحِيْطَ بِهِمْ) دَنَوْا مِنْ الْهَلَكَةِ (أَحَاطَتْ بِهٰخَطِيئَتُه” فَاتَّبَعَهُمْ) وَأَتْبَعَهُمْ وَاحِدٌ (عَدْوًا) مِنْ الْعُدْوَانِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (وَلَوْ يُعَجِّلُ اللهُ لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَيْرِ) قَوْلُ الإِنْسَانِ لِوَلَدِهِ وَمَالِهِ إِذَا غَضِبَ اللهُمَّ لَا تُبَارِكْ فِيْهِ وَالْعَنْهُ(لَقُضِيَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ) لَأُهْلِكُ مَنْ دُعِيَ عَلَيْهِ وَلَأَمَاتَهُ (لِلَّذِيْنَ أَحْسَنُوا الْحُسْنٰى) مِثْلُهَا حُسْنَى (وَزِيَادَةٌ) مَغْفِرَةٌ وَرِضْوَانٌ وَقَالَ غَيْرُهُ النَّظَرُ إِلَى وَجْهِهِ (الْكِبْرِيَآءُ) الْمُلْكُ
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, فَاخْتَلَطَ অর্থাৎ বৃষ্টির দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উদগত হয়। আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ وَقَالُوا اتَّخَذَ اللهُ وَلَدًا سُبْحَانَه هُوَ الْغَنِيُّ -’’তারা বলেঃ ’’আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি মহান, পবিত্র। তিনি অমুখাপেক্ষী।’’ (সূরাহ ইউনুস ১০/৬৮)
যায়দ ইবনু আসলাম (রহ.) বলেন, قَدَمَ صِدْقٍ দ্বারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বুঝানো হয়েছে। মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ কল্যাণ। تِلْكَ آيَاتُ এগুলো কুরআনের নিদর্শন ও অনুরূপ, حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْএখানে بِهِمْ দ্বারা بِكُمْ (তোমাদের নিয়ে) অর্থে دَعْوَاهُمْ তাদের দু’আ। أُحِيْطَبِهِمْ-তারা ধ্বংসোন্মুখ হল। أَحَاطَتْ بِهٰ خَطِيئَتُه গুনাহ তাদের ঘিরে ফেলছে। فَاتَّبَعَهُمْ وَأَتْبَعَهُمْ সমপর্যায়ের (তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।) عَدْوًا এখানে সীমা অতিক্রম অর্থে, মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَيْرِ -এর দ্বারা মানুষের সেই কথা বুঝাচ্ছে, যখন সে রাগান্বিত হয়ে নিজ নিজ সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদ সম্পর্কে বলে, হে আল্লাহ! এতে বারাকাত দিও না, এর ওপর লা’নাত কর। لَقُضِيَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ-যার প্রতি বদদু’আ করা হয়েছে, তাকে ধ্বংস করে দিতেন এবং তাকে মেরে ফেলতেন। أَحْسَنُواالْحُسْنَى-কল্যাণকর কাজের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অধিক। وَزِيَادَةٌ এবং অতিরিক্ত অর্থাৎ ক্ষমা। অন্যরা বলেন, আল্লাহর সাক্ষাৎ, الْكِبْرِيَاءُ-সার্বভৌমত্ব।
(وَجٰوَزْنَا بِبَنِيْٓإِسْرَآئِيْلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُوْدُه بَغْيًا وَّعَدْوًا طحَتّٰىٓإِذَآ أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ اٰمَنْتُ أَنَّه لَآ إِلٰهَ إِلَّا الَّذِيْٓاٰمَنَتْ بِهٰبَنُوْآإِسْرَآئِيْلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ)
’’আর আমি বনী ইসরাঈলকে নদী পার করিয়ে দিলাম। তারপর তাদের পশ্চাদানুসরণ করল ফির’আউন ও তার সৈন্যবাহিনী নিপীড়ন ও নির্যাতনের উদ্দেশে। এমনকি যখন সে নিমজ্জিত হতে লাগল তখন বললঃ আমি ঈমান আনলাম যে, কোন সত্য মা’বুদ নেই তিনি ব্যতীত যার প্রতি ঈমান এনেছে বনী ইসরাঈল এবং আমি একজন মুসলিম।’’ (সূরাহ ইউনুস ১০/৯০)
(نُنَجِّيْكَ) نُلْقِيْكَ عَلَى نَجْوَةٍ مِنْ الْأَرْضِ وَهُوَ النَّشَزُ الْمَكَانُ الْمُرْتَفِعُ
نُنَجِّيْكَ আমি তোমাকে যমীনের উঁচু স্থানে ফেলে রাখব। نَجْوَةٍ উচ্চ স্থান। [1]
৪৬৮০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্তে এলেন, তখন ইয়াহূদীগণ আশুরার দিন সওম পালন করত। তারা জানাল, এ দিন মূসা (আঃ) ফিরাউন-এর উপর বিজয় লাভ করেছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন, মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে তাদের চেয়ে তোমরাই অধিক হাকদার। কাজেই তোমরা সওম পালন কর।[২০০৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২০)
নোট: [1] ফির‘আউনের মরদেহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক’- (সূরা হূদ ১১/৯২)। কয়েক বছর পূর্বে ফির‘আউনের দেহ সুউচ্চ পিরামিড থেকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তা কায়রোর যাদুঘরে রক্ষিত আছে।
হাদিস নং: ৪৬৮১
সহিহ (Sahih)
الحسن بن محمد بن صباح حدثنا حجاج قال قال ابن جريج اخبرني محمد بن عباد بن جعفر انه سمع ابن عباس يقرا(الآ انهم تثنوني صدورهم) قال سالته عنها فقال اناس كانوا يستحيون ان يتخلوا فيفضوا الى السماء وان يجامعوا نساءهم فيفضوا الى السماء فنزل ذلك فيهم
(11) سُوْرَةُ هُوْدٍ
সূরাহ (১১) : হূদ
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : عَصِيْبٌ : شَدِيْدٌ. (لَاجَرَمَ) : بَلَى. وَقَالَ غَيْرُهُ (وَحَاقَ) نَزَلَ يَحِيْقُ يَنْزِلُ (يَئُوْسٌ) فَعُوْلٌ مِنْ يَئِسْتُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (تَبْتَئِسْ) تَحْزَنْ (يَثْنُوْنَصُدُوْرَهُمْ) شَكٌّ وَافْتِرَاءٌ فِي الْحَقِّ لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ مِنْ اللهِ إِنْ اسْتَطَاعُوْا. وَقَالَ أَبُوْ مَيْسَرَةَ (الأَوَّاهُ) الرَّحِيْمُ بِالْحَبَشِيَّةِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (بَادِئَالرَّأْيِ) مَا ظَهَرَ لَنَا وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الْجُوْدِيُّ) جَبَلٌ بِالْجَزِيْرَةِ وَقَالَ الْحَسَنُ (إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ)يَسْتَهْزِئُوْنَ بِهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (أَقْلِعِي) أَمْسِكِيْ عَصِيْبٌ شَدِيْدٌ لَا جَرَمَ بَلَى (وَفَارَالتَّنُّوْرُ) نَبَعَ الْمَاءُ وَقَالَ عِكْرِمَةُ وَجْهُ الْأَرْض.
আবূ মাইসারা (রহ.) বলেন, الْأَوَّاهُ হাবশী ভাষায় দয়ালু। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, بَادِئَالرَّأْيِ-যা আমাদের সামনে স্পষ্ট। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْجُوْدِيُّ-জাযিয়ার একটি পর্বত। হাসান (রহ.) বলেন, إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ-আপনি অতি সহনশীল। এর দ্বারা তারা ঠাট্টা করত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, أَقْلِعِي-থেমে যাও। عَصِيْبٌ-কঠিন। لَا جَرَمَ-অবশ্যই। فَارَ التَّنُّوْرُ-পানি উথলে উঠল। ইকরামাহ (রহ.) বলেন, تَّنُّوْرُ ভূ-পৃষ্ঠকে বুঝানো হয়েছে।
(أَلا إِنَّهُمْ يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ أَلا حِيْنَ يَسْتَغْشُوْنَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّوْنَ وَمَا يُعْلِنُوْنَ إِنَّهُ عَلِيْمٌ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ)
’’জেনে রাখ, নিশ্চয় তারা তাদের বক্ষকে কুঞ্চিত করে যাতে আল্লাহর কাছে গোপন রাখতে পারে। স্মরণ রাখ, তারা যখন নিজেদেরকে কাপড়ে আচ্ছাদিত করে, তখন তারা যা গোপন করে ও প্রকাশ করে আল্লাহ তা জানেন। অন্তরে যা কিছু আছে তিনি তা সবিশেষ অবহিত।’’ (সূরাহ হূদ ১১/৫)
وَقَالَ غَيْرُهُ وَحَاقَ نَزَلَ يَحِيْقُ يَنْزِلُ يَئُوْسٌ فَعُوْلٌ مِنْ يَئِسْتُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ تَبْتَئِسْ تَحْزَنْ يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ شَكٌّ وَامْتِرَاءٌ فِي الْحَقِّ لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ مِنْ اللهِ إِنْ اسْتَطَاعُوْا
অন্যজন বলেন, حَاقَ-অবতীর্ণ হল। يَحِيْقُ-অবতীর্ণ হয়। فَعُوْلٌ-يَئُوْسٌ -এর ওযন يَئِسْتُ থেকে (নিরাশ হওয়ার অর্থে)। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَبْتَئِسْ-দুঃখ করা।يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ-হকের মধ্যে সন্দেহ করা। لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ-আল্লাহ থেকে, গোপন রাখে যদি তারা সক্ষম হয়।
৪৬৮১. মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ইবনু জা’ফর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে এমনিভাবে পড়তে শুনেছেন, أَلَا إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ মুহাম্মাদ ইবনু ’আব্বাদ বলেন, আমি তাঁকে এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, কিছু লোক উন্মুক্ত আকাশের দিকে নগ্ন হওয়ার ভয়ে পেশাব-পায়খানা অথবা স্ত্রী সহবাস করতে লজ্জা করতে লাগল। তখন তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল হয়। [৪৬৮২, ৪৬৮৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২১)
সূরাহ (১১) : হূদ
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : عَصِيْبٌ : شَدِيْدٌ. (لَاجَرَمَ) : بَلَى. وَقَالَ غَيْرُهُ (وَحَاقَ) نَزَلَ يَحِيْقُ يَنْزِلُ (يَئُوْسٌ) فَعُوْلٌ مِنْ يَئِسْتُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (تَبْتَئِسْ) تَحْزَنْ (يَثْنُوْنَصُدُوْرَهُمْ) شَكٌّ وَافْتِرَاءٌ فِي الْحَقِّ لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ مِنْ اللهِ إِنْ اسْتَطَاعُوْا. وَقَالَ أَبُوْ مَيْسَرَةَ (الأَوَّاهُ) الرَّحِيْمُ بِالْحَبَشِيَّةِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (بَادِئَالرَّأْيِ) مَا ظَهَرَ لَنَا وَقَالَ مُجَاهِدٌ (الْجُوْدِيُّ) جَبَلٌ بِالْجَزِيْرَةِ وَقَالَ الْحَسَنُ (إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ)يَسْتَهْزِئُوْنَ بِهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (أَقْلِعِي) أَمْسِكِيْ عَصِيْبٌ شَدِيْدٌ لَا جَرَمَ بَلَى (وَفَارَالتَّنُّوْرُ) نَبَعَ الْمَاءُ وَقَالَ عِكْرِمَةُ وَجْهُ الْأَرْض.
আবূ মাইসারা (রহ.) বলেন, الْأَوَّاهُ হাবশী ভাষায় দয়ালু। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, بَادِئَالرَّأْيِ-যা আমাদের সামনে স্পষ্ট। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الْجُوْدِيُّ-জাযিয়ার একটি পর্বত। হাসান (রহ.) বলেন, إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيْمُ-আপনি অতি সহনশীল। এর দ্বারা তারা ঠাট্টা করত। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, أَقْلِعِي-থেমে যাও। عَصِيْبٌ-কঠিন। لَا جَرَمَ-অবশ্যই। فَارَ التَّنُّوْرُ-পানি উথলে উঠল। ইকরামাহ (রহ.) বলেন, تَّنُّوْرُ ভূ-পৃষ্ঠকে বুঝানো হয়েছে।
(أَلا إِنَّهُمْ يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ أَلا حِيْنَ يَسْتَغْشُوْنَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّوْنَ وَمَا يُعْلِنُوْنَ إِنَّهُ عَلِيْمٌ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ)
’’জেনে রাখ, নিশ্চয় তারা তাদের বক্ষকে কুঞ্চিত করে যাতে আল্লাহর কাছে গোপন রাখতে পারে। স্মরণ রাখ, তারা যখন নিজেদেরকে কাপড়ে আচ্ছাদিত করে, তখন তারা যা গোপন করে ও প্রকাশ করে আল্লাহ তা জানেন। অন্তরে যা কিছু আছে তিনি তা সবিশেষ অবহিত।’’ (সূরাহ হূদ ১১/৫)
وَقَالَ غَيْرُهُ وَحَاقَ نَزَلَ يَحِيْقُ يَنْزِلُ يَئُوْسٌ فَعُوْلٌ مِنْ يَئِسْتُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ تَبْتَئِسْ تَحْزَنْ يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ شَكٌّ وَامْتِرَاءٌ فِي الْحَقِّ لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ مِنْ اللهِ إِنْ اسْتَطَاعُوْا
অন্যজন বলেন, حَاقَ-অবতীর্ণ হল। يَحِيْقُ-অবতীর্ণ হয়। فَعُوْلٌ-يَئُوْسٌ -এর ওযন يَئِسْتُ থেকে (নিরাশ হওয়ার অর্থে)। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَبْتَئِسْ-দুঃখ করা।يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ-হকের মধ্যে সন্দেহ করা। لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ-আল্লাহ থেকে, গোপন রাখে যদি তারা সক্ষম হয়।
৪৬৮১. মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ইবনু জা’ফর (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে এমনিভাবে পড়তে শুনেছেন, أَلَا إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ মুহাম্মাদ ইবনু ’আব্বাদ বলেন, আমি তাঁকে এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, কিছু লোক উন্মুক্ত আকাশের দিকে নগ্ন হওয়ার ভয়ে পেশাব-পায়খানা অথবা স্ত্রী সহবাস করতে লজ্জা করতে লাগল। তখন তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল হয়। [৪৬৮২, ৪৬৮৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২১)
হাদিস নং: ৪৬৮২
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام عن ابن جريج واخبرني محمد بن عباد بن جعفر ان ابن عباس قرا (الآ انهم تثنوني صدورهم) قلت يا ابا العباس ما تثنوني صدورهم قال كان الرجل يجامع امراته فيستحي او يتخلى فيستحي فنزلت (الآ انهم تثنوني صدورهم)
৪৬৮২. মুহাম্মাদ ইবনু ’আব্বাদ ইবনু জা’ফর (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) أَلَٓا إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ পাঠ করলেন। আমি বললাম, যে আবুল ’আব্বাস تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? তিনি বললেন, কতক লোক স্বীয় স্ত্রী সহবাসের সময় অথবা পেশাব-পায়খানার সময় (নগ্ন হতে) লজ্জাবোধ করত, তখন أَلَآ إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ আয়াত নাযিল হয়। [৪৬৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২২)
হাদিস নং: ৪৬৮৩
সহিহ (Sahih)
. الحميدي حدثنا سفيان حدثنا عمرو قال قرا ابن عباس (الآ انهم يثنون صدورهم ليستخفوا منه الا حين يستغشون ثيابهم) و قال غيره عن ابن عباس يستغشون يغطون رءوسهم (سيٓء بهم) ساء ظنه بقومه وضاق بهم باضيافه (بقطع من الليل) بسواد وقال مجاهد اليه (انيب) ارجع
(سجيل) الشديد الكبير. سجيل وسجين واللام والنون اختان
ورجلة يضربون البيض ضاحية ضربا تواصى به الابطال سجينا
(ويقول الاشهاد هولآء الذين كذبوا على ربهم الا لعنة الله على الظالمين) واحد الاشهاد شاهد مثل صاحب واصحاب
(سجيل) الشديد الكبير. سجيل وسجين واللام والنون اختان
ورجلة يضربون البيض ضاحية ضربا تواصى به الابطال سجينا
(ويقول الاشهاد هولآء الذين كذبوا على ربهم الا لعنة الله على الظالمين) واحد الاشهاد شاهد مثل صاحب واصحاب
৪৬৮৩. ’আমর (রহঃ) বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এ আয়াত এভাবে পাঠ করলেন, إِنَّهُمْ يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ ..... حِيْنَ يَسْتَغْشُوْنَ ثِيَابَهُمْ আমর ব্যতীত অন্যরা ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন يَسْتَغْشُوْنَ -তারা তাদের মস্তক আবৃত করত। -তাঁর সম্প্রদায় সম্পর্কে খারাপ ধারণা রাখত এবং وَضَاقَ অর্থাৎ নিজ অতিথিকে দেখে শঙ্কিত হলেন। بِقِطْعٍ مِنْ اللَّيْلِ- রাতের আঁধারে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, أُنِيْبُ-আমি তাঁরই অভিমুখী। [৪৬৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৩)
হাদিস নং: ৪৬৮৪
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب حدثنا ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال قال الله عز وجل انفق انفق عليك وقال يد الله ملاى لا تغيضها نفقة سحاء الليل والنهار وقال ارايتم ما انفق منذ خلق السماء والارض فانه لم يغض ما في يده وكان عرشه على الماء وبيده الميزان يخفض ويرفع (اعتراك) افتعلك من عروته اي اصبته ومنه يعروه واعتراني (اخذ بناصيتها) اي في ملكه وسلطانه عنيد وعنود وعاند واحد هو تاكيد التجبر استعمركم جعلكم عمارا اعمرته الدار فهي عمرى جعلتها له نكرهم وانكرهم واستنكرهم واحد حميد مجيد كانه فعيل من ماجد محمود من حمد سجيل الشديد الكبير سجيل وسجين واللام والنون اختان وقال تميم بن مقبل ورجلة يضربون البيض ضاحية ضربا تواصى به الابطال سجينا
৪৬৮৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, তুমি খরচ কর। আমি তোমার উপর খরচ করব এবং [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আল্লাহ তা’আলার হাত পরিপূর্ণ। রাতদিন অনবরত খরচেও তা কমবে না। তিনি বলেন, তোমরা কি দেখ না, যখন থেকে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে কী পরিমাণ খরচ করেছেন? কিন্তু এত খরচ করার পরও তাঁর হাতের সম্পদ কমে যায়নি। আর আল্লাহ তা’আলার ’আরশ পানির উপর ছিল। তাঁর হাতেই রয়েছে দাঁড়িপাল্লা। তিনি নিচু করেন, তিনি উপরে তোলেন। اعْتَرَاكَ افْتَعَلَتَ-এর বাব থেকে। عَرَوْتُه-এ অর্থে বলা হয়, তাকে পেয়েছি। তা থেকে يَعْرُوْهُ (তার উপর ঘটেছে) ও اعْتَرَانِيْ (আমার উপর ঘটেছে) ব্যবহার হয়।اٰخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا অর্থাৎ তাঁর রাজত্ব এবং عَنِيْدٌ-عَنُوْدٌ-عَانِدٌ সবগুলোর একই অর্থ- স্বেচ্ছাচারী।
ওটি দাম্ভিকতা অর্থের প্রতি জোর দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। اسْتَعْمَرَكُمْ-তোমাদের বসতি দান করলেন। আরবগণ বলত أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَى-আমি এ ঘর তাকে জীবন ধারণের জন্য দিলাম। نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ এবং اسْتَنْكَرَهُمْ সবগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত। فَعِيْلٌ-مَجِبْدٌ-حَمِيْدٌ-مَجِيْدٌ-এর ওযনে مَاجِدٌ (মর্যাদা সম্পন্ন) থেকে حَمِيْدٌ (প্রশংসিত) এর অর্থে مَحْمُوْدٌ থেকে سِجِّيْلٌ-অতি কঠিন বা শক্ত। سِجِّيْلٌ এবং سِجِّيْنٌ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। لَامُ এবং نُوْنٌ যেন দুই বোন। তামীম ইবনু মুকবেল বলেন, ’’বহু পদাতিক বাহিনী মধ্যাহ্নে স্কন্ধে শুভ্র ধারালো তলোয়ার দ্বারা আঘাত হানে। কঠিন প্রস্তর দ্বারা তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বিপক্ষের বীর পুরুষগণ পরস্পরকে ওসীয়ত করে থাকে।’’ [৫৩৫২, ৭৪১১, ৭৪১৯, ৭৪৯৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৪)
ওটি দাম্ভিকতা অর্থের প্রতি জোর দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। اسْتَعْمَرَكُمْ-তোমাদের বসতি দান করলেন। আরবগণ বলত أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَى-আমি এ ঘর তাকে জীবন ধারণের জন্য দিলাম। نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ এবং اسْتَنْكَرَهُمْ সবগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত। فَعِيْلٌ-مَجِبْدٌ-حَمِيْدٌ-مَجِيْدٌ-এর ওযনে مَاجِدٌ (মর্যাদা সম্পন্ন) থেকে حَمِيْدٌ (প্রশংসিত) এর অর্থে مَحْمُوْدٌ থেকে سِجِّيْلٌ-অতি কঠিন বা শক্ত। سِجِّيْلٌ এবং سِجِّيْنٌ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। لَامُ এবং نُوْنٌ যেন দুই বোন। তামীম ইবনু মুকবেল বলেন, ’’বহু পদাতিক বাহিনী মধ্যাহ্নে স্কন্ধে শুভ্র ধারালো তলোয়ার দ্বারা আঘাত হানে। কঠিন প্রস্তর দ্বারা তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বিপক্ষের বীর পুরুষগণ পরস্পরকে ওসীয়ত করে থাকে।’’ [৫৩৫২, ৭৪১১, ৭৪১৯, ৭৪৯৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৪)
হাদিস নং: ৪৬৮৫
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يزيد بن زريع حدثنا سعيد وهشام قالا حدثنا قتادة عن صفوان بن محرز قال بينا ابن عمر يطوف اذ عرض رجل فقال يا ابا عبد الرحمن او قال يا ابن عمر سمعت النبي صلى الله عليه وسلم في النجوى فقال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول يدنى المومن من ربه وقال هشام يدنو المومن حتى يضع عليه كنفه فيقرره بذنوبه تعرف ذنب كذا يقول اعرف يقول رب اعرف مرتين فيقول سترتها في الدنيا واغفرها لك اليوم ثم تطوى صحيفة حسناته واما الاخرون او الكفار فينادى على رءوس الاشهاد هولاء الذين كذبوا على ربهم الا لعنة الله على الظالمين وقال شيبان عن قتادة حدثنا صفوان
65/11/3. بَاب قَوْلِهِ :(وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا)
৬৫/১১/৩. অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভ্রাতা শু’আয়ব (আঃ)-কে পাঠালাম। (সূরা হূদ ১১/৮৪)
أَيْ إِلَى أَهْلِ مَدْيَنَ لِأَنَّ مَدْيَنَ بَلَدٌ وَمِثْلُهُ (وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ وَاسْأَلِ الْعِيْرَ) يَعْنِيْ أَهْلَ الْقَرْيَةِ وَأَصْحَابَ الْعِيْرِ (وَرَآءَكُمْ ظِهْرِيًّا) يَقُوْلُ لَمْ تَلْتَفِتُوْا إِلَيْهِ وَيُقَالُ إِذَا لَمْ يَقْضِ الرَّجُلُ حَاجَتَهُ ظَهَرْتَ بِحَاجَتِيْ وَجَعَلْتَنِيْ ظِهْرِيًّا وَالظِّهْرِيُّ هَا هُنَا أَنْ تَأْخُذَ مَعَكَ دَابَّةً أَوْ وِعَاءً تَسْتَظْهِرُ بِهِ (أَرَاذِلُنَا) سُقَّاطُنَا إِجْرَامِيْ هُوَ مَصْدَرٌ مِنْ أَجْرَمْتُ وَبَعْضُهُمْ يَقُوْلُ جَرَمْتُ الْفُلْكُ وَالْفَلَكُ وَاحِدٌ وَهْيَ السَّفِيْنَةُ وَالسُّفُنُ مُجْرَاهَا مَدْفَعُهَا وَهُوَ مَصْدَرُ أَجْرَيْتُ وَأَرْسَيْتُ حَبَسْتُ وَيُقْرَأُ مَرْسَاهَا مِنْ رَسَتْ هِيَ وَمَجْرَاهَا مِنْ جَرَتْ هِيَ وَمُجْرِيْهَا وَمُرْسِيْهَا مِنْ فُعِلَ بِهَا رَاسِيَاتٌ ثَابِتَاتٌ.
মাদইয়ান-এর নিকট অর্থাৎ মাদইয়ানবাসীর নিকট, কেননা মাদইয়ান তো একটি শহর। এর অনুরূপ وَاسْأَلْ الْقَرْيَةَ وَاسْأَلْ الْعِيْرَ অর্থাৎ গ্রামবাসীদের কাছে এবং কাফেলার লোকদের কাছে জিজ্ঞেস কর। وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا অর্থাৎ তারা তার প্রতি দৃষ্টি দেয়নি। যখন কেউ কারও উদ্দেশ্য পূর্ণ না করে, তখন বলা হয় ظَهَرْتَ بِحَاجَتِيْ এবং وَجَعَلْتَنِيْ ظِهْرِيًّا এখানে ظِهْرِيُّ দ্বারা এ ধরনের জানোয়ার বা পাত্র বোঝায় যা কাজের প্রয়োজনে তুমি তার দ্বারা নিজেকে আড়াল করবে। أَرَاذِلُنَا-আমাদের মধ্যে অধম, إِجْرَامِيْ এটা أَجْرَمْتُ -এর মাসদার। কেউ বলেন, جَرَمْتُ হতে উদগত الْفَلَكَ، والْفُلْكُ একবচন, বহুবচন উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ নৌকা এবং নৌকাগুলো। مُجْرَاهَا (নৌকার গতি) এটা أَجْرَيْتُ -এর মাসদার এবং أَرْسَيْتُ-নৌকা আমি থামিয়েছি। কেউ কেউ পড়েনঃ مَرْسَاَهَا অর্থাৎ তার স্থিতি এবং مَجْرَاهَا অর্থাৎ তার গতি। مُجْرِيْهَا এবং مُرْسِيْهَا অর্থাৎ যার সঙ্গে এরূপ (চালিত, স্থগিত) করা হয়েছে لرَّاسِيَاتُ অর্থাৎ স্থিত। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৪)
(وَيَقُوْلُ الْأَشْهَادُ هٰٓؤُلَآءِ الَّذِيْنَ كَذَبُوْا عَلٰى رَبِّهِمْ جأَلَا لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الظّٰلِمِيْنَ)
সাক্ষীরা বলবেঃ এরাই ঐসব লোক যারা তাদের রবের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। জেনে রাখ, যালিমদের উপর আল্লাহর লা’নাত। (সূরাহ হূদ ১১/১৮)
وَاحِدُهُ شَاهِدٌ مِثْلُ صَاحِبٍ وَأَصْحَابٍ
أَشْهَادُ-এর একবচন হল, شَاهِدٌ যেমন, أَصْحَابٌ -এর এক বচন صَاحِبٌ।
৪৬৮৫. সফওয়ান ইবনু মুহরিয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনু ’উমার (রাঃ) তাওয়াফ করছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি তার সম্মুখে এসে বলল, হে আবূ ’আবদুর রহমান অথবা বলল, হে ইবনু ’উমার (রাঃ)! আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা এবং মু’মিনদের মধ্যকার) গোপন আলোচনা সম্পর্কে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, (কিয়ামতের দিন) মু’মিনকে তাঁর নৈকট্য দান করা হবে। হিশাম বলেন, মু’মিন নিকটবর্তী হবে, এমনকি আল্লাহ তা’আলা তাকে স্বীয় পর্দায় ঢেকে নেবেন এবং তার নিকট হতে তার গুনাহসমূহের স্বীকারোক্তি নেবেন। (আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) অমুক গুনাহ সম্পর্কে তুমি জান কি? বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি জানি, আমি জানি। এভাবে দু’বার বলবে। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম। আর আজ তোমার সে পাপ ক্ষমা করে দিচ্ছি। তারপর তার নেক ’আমলনামা গুটিয়ে নেয়া হবে।
আর অন্যদলকে অথবা (রাবী বলেছেন) কাফিরদের সকলের সামনে ডেকে বলা হবে, এরাই সে লোক যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল এবং শায়বান حَدَّثَنَا قَتَادَةُ-এর পরিবর্তে عَنْ قَتَادَةُ এবং عَنْ صَفْوَانُ -এর পরিবর্তে حَدَّثَنَا صَفْوَانُ বর্ণনা করেছেন। [২৪৪১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৫)
৬৫/১১/৩. অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণীঃ মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভ্রাতা শু’আয়ব (আঃ)-কে পাঠালাম। (সূরা হূদ ১১/৮৪)
أَيْ إِلَى أَهْلِ مَدْيَنَ لِأَنَّ مَدْيَنَ بَلَدٌ وَمِثْلُهُ (وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ وَاسْأَلِ الْعِيْرَ) يَعْنِيْ أَهْلَ الْقَرْيَةِ وَأَصْحَابَ الْعِيْرِ (وَرَآءَكُمْ ظِهْرِيًّا) يَقُوْلُ لَمْ تَلْتَفِتُوْا إِلَيْهِ وَيُقَالُ إِذَا لَمْ يَقْضِ الرَّجُلُ حَاجَتَهُ ظَهَرْتَ بِحَاجَتِيْ وَجَعَلْتَنِيْ ظِهْرِيًّا وَالظِّهْرِيُّ هَا هُنَا أَنْ تَأْخُذَ مَعَكَ دَابَّةً أَوْ وِعَاءً تَسْتَظْهِرُ بِهِ (أَرَاذِلُنَا) سُقَّاطُنَا إِجْرَامِيْ هُوَ مَصْدَرٌ مِنْ أَجْرَمْتُ وَبَعْضُهُمْ يَقُوْلُ جَرَمْتُ الْفُلْكُ وَالْفَلَكُ وَاحِدٌ وَهْيَ السَّفِيْنَةُ وَالسُّفُنُ مُجْرَاهَا مَدْفَعُهَا وَهُوَ مَصْدَرُ أَجْرَيْتُ وَأَرْسَيْتُ حَبَسْتُ وَيُقْرَأُ مَرْسَاهَا مِنْ رَسَتْ هِيَ وَمَجْرَاهَا مِنْ جَرَتْ هِيَ وَمُجْرِيْهَا وَمُرْسِيْهَا مِنْ فُعِلَ بِهَا رَاسِيَاتٌ ثَابِتَاتٌ.
মাদইয়ান-এর নিকট অর্থাৎ মাদইয়ানবাসীর নিকট, কেননা মাদইয়ান তো একটি শহর। এর অনুরূপ وَاسْأَلْ الْقَرْيَةَ وَاسْأَلْ الْعِيْرَ অর্থাৎ গ্রামবাসীদের কাছে এবং কাফেলার লোকদের কাছে জিজ্ঞেস কর। وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا অর্থাৎ তারা তার প্রতি দৃষ্টি দেয়নি। যখন কেউ কারও উদ্দেশ্য পূর্ণ না করে, তখন বলা হয় ظَهَرْتَ بِحَاجَتِيْ এবং وَجَعَلْتَنِيْ ظِهْرِيًّا এখানে ظِهْرِيُّ দ্বারা এ ধরনের জানোয়ার বা পাত্র বোঝায় যা কাজের প্রয়োজনে তুমি তার দ্বারা নিজেকে আড়াল করবে। أَرَاذِلُنَا-আমাদের মধ্যে অধম, إِجْرَامِيْ এটা أَجْرَمْتُ -এর মাসদার। কেউ বলেন, جَرَمْتُ হতে উদগত الْفَلَكَ، والْفُلْكُ একবচন, বহুবচন উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ নৌকা এবং নৌকাগুলো। مُجْرَاهَا (নৌকার গতি) এটা أَجْرَيْتُ -এর মাসদার এবং أَرْسَيْتُ-নৌকা আমি থামিয়েছি। কেউ কেউ পড়েনঃ مَرْسَاَهَا অর্থাৎ তার স্থিতি এবং مَجْرَاهَا অর্থাৎ তার গতি। مُجْرِيْهَا এবং مُرْسِيْهَا অর্থাৎ যার সঙ্গে এরূপ (চালিত, স্থগিত) করা হয়েছে لرَّاسِيَاتُ অর্থাৎ স্থিত। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৪)
(وَيَقُوْلُ الْأَشْهَادُ هٰٓؤُلَآءِ الَّذِيْنَ كَذَبُوْا عَلٰى رَبِّهِمْ جأَلَا لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الظّٰلِمِيْنَ)
সাক্ষীরা বলবেঃ এরাই ঐসব লোক যারা তাদের রবের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। জেনে রাখ, যালিমদের উপর আল্লাহর লা’নাত। (সূরাহ হূদ ১১/১৮)
وَاحِدُهُ شَاهِدٌ مِثْلُ صَاحِبٍ وَأَصْحَابٍ
أَشْهَادُ-এর একবচন হল, شَاهِدٌ যেমন, أَصْحَابٌ -এর এক বচন صَاحِبٌ।
৪৬৮৫. সফওয়ান ইবনু মুহরিয (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনু ’উমার (রাঃ) তাওয়াফ করছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি তার সম্মুখে এসে বলল, হে আবূ ’আবদুর রহমান অথবা বলল, হে ইবনু ’উমার (রাঃ)! আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা এবং মু’মিনদের মধ্যকার) গোপন আলোচনা সম্পর্কে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, (কিয়ামতের দিন) মু’মিনকে তাঁর নৈকট্য দান করা হবে। হিশাম বলেন, মু’মিন নিকটবর্তী হবে, এমনকি আল্লাহ তা’আলা তাকে স্বীয় পর্দায় ঢেকে নেবেন এবং তার নিকট হতে তার গুনাহসমূহের স্বীকারোক্তি নেবেন। (আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) অমুক গুনাহ সম্পর্কে তুমি জান কি? বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি জানি, আমি জানি। এভাবে দু’বার বলবে। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম। আর আজ তোমার সে পাপ ক্ষমা করে দিচ্ছি। তারপর তার নেক ’আমলনামা গুটিয়ে নেয়া হবে।
আর অন্যদলকে অথবা (রাবী বলেছেন) কাফিরদের সকলের সামনে ডেকে বলা হবে, এরাই সে লোক যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল এবং শায়বান حَدَّثَنَا قَتَادَةُ-এর পরিবর্তে عَنْ قَتَادَةُ এবং عَنْ صَفْوَانُ -এর পরিবর্তে حَدَّثَنَا صَفْوَانُ বর্ণনা করেছেন। [২৪৪১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৫)
হাদিস নং: ৪৬৮৬
সহিহ (Sahih)
صدقة بن الفضل اخبرنا ابو معاوية حدثنا بريد بن ابي بردة عن ابي بردة عن ابي موسى رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله ليملي للظالم حتى اذا اخذه لم يفلته قال ثم قرا (وكذلك اخذ ربك اذا اخذ القرى وهي ظالمة ان اخذه اليم شديد)
(الرِّفْدُ الْمَرْفُوْدُ) الْعَوْنُ الْمُعِيْنُ رَفَدْتُهُ أَعَنْتُهُ (تَرْكَنُوْا) تَمِيْلُوْا (فَلَوْلَاكَانَ) فَهَلَّا كَانَ (أُتْرِفُوْا) أُهْلِكُوْا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (زَفِيْرٌوَشَهِيْقٌ) شَدِيْدٌ وَصَوْتٌ ضَعِيْفٌ.
الرِّفْدُ الْمَرْفُوْدُ অর্থাৎ সাহায্য, যে সাহায্য করা হয় (বলা হয়) رَفَدْتُهُ আমি তাকে সাহায্য করলাম। تَرْكَنُوْا ঝুঁকে পড়। فَلَوْلَا كَانَ কেন হয়নি। أُتْرِفُوْا তাদের ধ্বংস করে দেয়া হল। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, زَفِيْرٌ وَشَهِيْقٌ বিকট শব্দ এবং ক্ষীণ শব্দ।
৪৬৮৬. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা যালিমদের ঢিল দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন তাকে ধরেন, তখন আর ছাড়েন না। (বর্ণনাকারী বলেন) এরপর তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এ আয়াত পাঠ করেন- ’’আর এরকমই বটে আপনার রবের পাকড়াও, যখন তিনি কোন জনপদবাসীকে পাকড়াও করেন তাদের জুলুমের দরুন। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড় যন্ত্রণাদায়ক, অত্যন্ত কঠিন’’- (সূরাহ হূদ ১১/১০২)।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৬)
الرِّفْدُ الْمَرْفُوْدُ অর্থাৎ সাহায্য, যে সাহায্য করা হয় (বলা হয়) رَفَدْتُهُ আমি তাকে সাহায্য করলাম। تَرْكَنُوْا ঝুঁকে পড়। فَلَوْلَا كَانَ কেন হয়নি। أُتْرِفُوْا তাদের ধ্বংস করে দেয়া হল। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, زَفِيْرٌ وَشَهِيْقٌ বিকট শব্দ এবং ক্ষীণ শব্দ।
৪৬৮৬. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা যালিমদের ঢিল দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন তাকে ধরেন, তখন আর ছাড়েন না। (বর্ণনাকারী বলেন) এরপর তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এ আয়াত পাঠ করেন- ’’আর এরকমই বটে আপনার রবের পাকড়াও, যখন তিনি কোন জনপদবাসীকে পাকড়াও করেন তাদের জুলুমের দরুন। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড় যন্ত্রণাদায়ক, অত্যন্ত কঠিন’’- (সূরাহ হূদ ১১/১০২)।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৬)
হাদিস নং: ৪৬৮৭
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يزيد هو ابن زريع حدثنا سليمان التيمي عن ابي عثمان عن ابن مسعود رضي الله عنه ان رجلا اصاب من امراة قبلة فاتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له فانزلت عليه (واقم الصلاة طرفي النهار وزلفا من الليل ان الحسنات يذهبن السيىات ذلك ذكرى للذاكرين)قال الرجل الي هذه قال لمن عمل بها من امتي
(وَأَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِيْنَ)
সালাত কায়িম করবে দিনের দু’ প্রান্তে এবং রাতের প্রথমভাগে। নেক কাজ অবশ্যই মিটিয়ে দেয় বদ কাজ। যারা নাসীহাত গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি এক নাসীহাত। (সূরাহ হূদ ১১/১১৪)
(وَزُلَفًا) سَاعَاتٍ بَعْدَ سَاعَاتٍ وَمِنْهُ سُمِّيَتْ الْمُزْدَلِفَةُ الزُّلَفُ مَنْزِلَةٌ بَعْدَ مَنْزِلَةٍ وَأَمَّا زُلْفَى فَمَصْدَرٌ مِنَ الْقُرْبَى ازْدَلَفُوا اجْتَمَعُوْا أَزْلَفْنَا جَمَعْنَا.
زُلَفًا সময়ের পর সময় এবং এসব থেকেই مُزْدَلِفَةُ এর নামকরণ করা হয়েছে। মনযিলের পর মনযিল এবং زُلْفَى মাসদার অর্থ নিকটবর্তী হওয়া। ازْدَلَفُوْا একত্রিত হয়েছে। أَزْلَفْنَا আমরা একত্রিত হয়েছি।
৪৬৮৭. ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমু দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এ ঘটনা বললেন, তখন (এ ঘটনা উপলক্ষে) এ আয়াত নাযিল হয়। وَأَقِمِ الصَّلٰوةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ طإِنَّ الْحَسَنٰتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّاٰتِ طذٰلِكَ ذِكْرٰى لِلذّٰكِرِيْنَ -’’সালাত কায়িম করবে দিনের দু’ প্রান্তে এবং রাতের প্রথমভাগে [1]। পুণ্য অবশ্যই মুছে ফেলে বদ কাজ। যারা নাসীহাত গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি এক নাসীহাত’’- (সূরাহ হূদ ১১/১১৪)। তখন সে লোকটি বলল, এ নির্দেশ কি কেবল আমার জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মাতের যেই এর ’আমল করবে তার জন্য। [৫২৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৭)
সালাত কায়িম করবে দিনের দু’ প্রান্তে এবং রাতের প্রথমভাগে। নেক কাজ অবশ্যই মিটিয়ে দেয় বদ কাজ। যারা নাসীহাত গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি এক নাসীহাত। (সূরাহ হূদ ১১/১১৪)
(وَزُلَفًا) سَاعَاتٍ بَعْدَ سَاعَاتٍ وَمِنْهُ سُمِّيَتْ الْمُزْدَلِفَةُ الزُّلَفُ مَنْزِلَةٌ بَعْدَ مَنْزِلَةٍ وَأَمَّا زُلْفَى فَمَصْدَرٌ مِنَ الْقُرْبَى ازْدَلَفُوا اجْتَمَعُوْا أَزْلَفْنَا جَمَعْنَا.
زُلَفًا সময়ের পর সময় এবং এসব থেকেই مُزْدَلِفَةُ এর নামকরণ করা হয়েছে। মনযিলের পর মনযিল এবং زُلْفَى মাসদার অর্থ নিকটবর্তী হওয়া। ازْدَلَفُوْا একত্রিত হয়েছে। أَزْلَفْنَا আমরা একত্রিত হয়েছি।
৪৬৮৭. ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমু দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে এ ঘটনা বললেন, তখন (এ ঘটনা উপলক্ষে) এ আয়াত নাযিল হয়। وَأَقِمِ الصَّلٰوةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ طإِنَّ الْحَسَنٰتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّاٰتِ طذٰلِكَ ذِكْرٰى لِلذّٰكِرِيْنَ -’’সালাত কায়িম করবে দিনের দু’ প্রান্তে এবং রাতের প্রথমভাগে [1]। পুণ্য অবশ্যই মুছে ফেলে বদ কাজ। যারা নাসীহাত গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি এক নাসীহাত’’- (সূরাহ হূদ ১১/১১৪)। তখন সে লোকটি বলল, এ নির্দেশ কি কেবল আমার জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মাতের যেই এর ’আমল করবে তার জন্য। [৫২৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৭)
নোট: [1] দিবসের প্রথমভাগে ফাজর সালাত, দ্বিতীয়ভাগে যুহ্র ও ‘আসরের সালাত এবং রাতের প্রথমভাগে মাগরিব ও ‘ইশার সালাত।
হাদিস নং: ৪৬৮৮
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا عبد الصمد عن عبد الرحمن بن عبد الله بن دينار عن ابيه عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال الكريم ابن الكريم ابن الكريم ابن الكريم يوسف بن يعقوب بن اسحاق بن ابراهيم
(12) سُوْرَةُ يُوْسُفَ
সূরাহ (১২) : ইউসুফ (আঃ)
وَقَالَ فُضَيْلٌ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ مُجَاهِدٍ مُتَّكًَا الْأُتْرُجُّ قَالَ فُضَيْلٌ الْأُتْرُجُّ بِالْحَبَشِيَّةِ مُتْكًا وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ رَجُلٍ عَنْ مُجَاهِدٍ مُتْكًا قَالَ كُلُّ شَيْءٍ قُطِعَ بِالسِّكِّيْنِ وَقَالَ قَتَادَةُ (لَذُوْ عِلْمٍ) لِمَا عَلَّمْنَاهُ عَامِلٌ بِمَا عَلِمَ وَقَالَ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ (صُوَاعَ) الْمَلِكِ مَكُّوْكُ الْفَارِسِيِّ الَّذِيْ يَلْتَقِيْ طَرَفَاهُ كَانَتْ تَشْرَبُ بِهِ الْأَعَاجِمُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (تُفَنِّدُوْنِ) تُجَهِّلُوْنِ وَقَالَ غَيْرُهُ (غَيَابَةٌالْجُبِّ) كُلُّ شَيْءٍ غَيَّبَ عَنْكَ شَيْئًا فَهُوَ غَيَابَةٌ (وَالْجُبُّ) الرَّكِيَّةُ الَّتِيْ لَمْ تُطْوَ (بِمُؤْمِنٍلَّنَا) بِمُصَدِّقٍ أَشُدَّهُ قَبْلَ أَنْ يَأْخُذَ فِي النُّقْصَانِ يُقَالُ (بَلَغَأَشُدَّهُ) وَبَلَغُوْا أَشُدَّهُمْ وَقَالَ بَعْضُهُمْ وَاحِدُهَا شَدٌّ.
وَالْمُتَّكَأُ مَا اتَّكَأْتَ عَلَيْهِ لِشَرَابٍ أَوْ لِحَدِيْثٍ أَوْ لِطَعَامٍ وَأَبْطَلَ الَّذِيْ قَالَ الْأُتْرُجُّ وَلَيْسَ فِيْ كَلَامِ الْعَرَبِ الْأُتْرُجُّ فَلَمَّا احْتُجَّ عَلَيْهِمْ بِأَنَّهُ الْمُتَّكَأُ مِنْ نَمَارِقَ فَرُّوْا إِلَى شَرٍّ مِنْهُ فَقَالُوْا إِنَّمَا هُوَ الْمُتْكُ سَاكِنَةَ التَّاءِ وَإِنَّمَا الْمُتْكُ طَرَفُ الْبَظْرِ وَمِنْ ذَلِكَ قِيْلَ لَهَا مَتْكَاءُ وَابْنُ الْمَتْكَاءِ فَإِنْ كَانَ ثَمَّ أُتْرُجٌّ فَإِنَّهُ بَعْدَ الْمُتَّكَإِ (شَغَفَهَا) يُقَالُ بَلَغَ شِغَافَهَا وَهُوَ غِلَافُ قَلْبِهَا وَأَمَّا شَعَفَهَا فَمِنَ الْمَشْعُوْفِ.
(أَصْبُ) أَمِيْلُ صَبَا مَالَ (أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ) مَا لَا تَأْوِيْلَ لَهُ وَالضِّغْثُ مِلْءُ الْيَدِ مِنْ حَشِيْشٍ وَمَا أَشْبَهَهُ وَمِنْهُ (وَخُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا) لَا مِنْ قَوْلِهِ أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ وَاحِدُهَا ضِغْثٌ(نَمِيْرُ) مِنَ الْمِيْرَةِ وَنَزْدَادُ كَيْلَ بَعِيْرٍ مَا يَحْمِلُ بَعِيْرٌ (أَوَىإِلَيْهِ) ضَمَّ إِلَيْهِ (السِّقَايَةُ) مِكْيَالٌ تَفْتَأُ لَا تَزَالُ حَرَضًا مُحْرَضًا يُذِيْبُكَ الْهَمُّ تَحَسَّسُوْا تَخَبَّرُوْا مُزْجَاةٍ قَلِيْلَةٍ غَاشِيَةٌ مِنْ عَذَابِ اللهِ عَامَّةٌ مُجَلِّلَةٌ (اسْتَيْأَسُوْا) يَئِسُوْا (وَلَا تَيْأَسُوْا مِنْ رَّوْحِ اللهِ) مَعْنَاهُ الرَّجَاءُ (خَلَصُوْا) نَجِيًّا اعْتَزَلُوْا نَجِيًّا وَالْجَمِيْعُ أَنْجِيَةٌ يَتَنَاجَوْنَ الْوَاحِدُ نَجِيٌّ وَالِاثْنَانِ وَالْجَمِيْعُ نَجِيٌّ وَأَنْجِيَةٌ. (تِفْتَأُ) : لا تَزَالُ. (حَرَضًا) مُحْرَضًا يُذِيْبُكَ الْهَمُّ. (تَحَسَّسُوْا) : تَخَبَّرُوْا. (مُزْجاةٌ) : قَلِيْلَةٌ. (غَاشِيَةٌ مِنْ عَذابِ الله) عَامَّةٌ مُجَلِّلَةٌ.
ফুযায়ল (রহ.) হুসায়ন (র.) মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتْكَاءً (এক জাতীয়) লেবু এবং ফুযায়ল (রহ.) বলেন যে, مُتْكًا হাবশী ভাষায় (এক জাতীয়) লেবুকে বলা হয়। ইবনু ’উয়াইনাহ (রহ.) ...... মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, مُتْكًا ঐ সব, যা চাকু দিয়ে কাটা হয়। ক্বাদাতাহ (রহ.) বলেন, لَذُوْ عِلْمٍ সে ’আলিম, যে তার ’ইল্মের উপর ’আমল করে। ইবনু যুবায়র (রহ.) বলেন, صُوَاعٌ ফারসী মাপ-পাত্র, যার উভয় পাশ মিলানো থাকে; আজমীগণ এটা দিয়ে পানি পান করে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, تُفَنِّدُوْنِ আমাকে মূর্খ মনে কর। অন্য হতে বর্ণিতঃ غَيَابَةٌ যেসব বস্তু তোমা হতে গোপন রয়েছে। وَالْجُبُّ ঐ কূপকে বলে যার মুখ বাঁধা হয়নি। بِمُؤْمِنٍلَنَا তুমি আমার কথায় বিশ্বাসী। بِمُؤْمِنٍلَنَا অধোগতি শুরু হওয়ার আগের বয়স। বলা হয় بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغُوْا أَشُدَّهُمْ অর্থাৎ সে বা তারা পূর্ণ বয়সে উপনীত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এর একবচন شَدٌّ (কারো কারো মতে) الْمُتَّكَأُ যে জিনিসের উপর পানাহার করার বা কথাবার্তা বলার সময় হেলান দেয়া হয়। যাঁরা مَتَكًا অর্থ লেবু বলেছেন এতে তা রদ হল। আরবদের ভাষায় ’উতরুঞ্জ’ শব্দের ব্যবহার নেই। যখন তাদের প্রতি এই অভিযোগ দ্বারা প্রমাণ করা হয় যে, ’মুত্তাকা’ অর্থ বিছানা, তখন তাঁরা আরো খারাপ অর্থ গ্রহণ করল এবং বলল যে, এখানে مُتْكٌ -এর ت সাকিন। এর অর্থ স্ত্রীলোকের লজ্জাস্থানের পার্শ্ব। এ থেকে ব্যবহার হয় مَتْكَاءِ (যে নারীর সে অংশ কাটা হয়নি) এবং ابْنُ الْمَتْكَاءِ (মাত্কার পুত্র)। সে ঘটনায় লেবু হলেও তা তাকিয়া দেয়ার পরই হবে। شَعَفَهَا তার অন্তরকে আচ্ছন্ন করল। مَشْعُوْفٌ যার অন্তর প্রেমে জ্বালিয়ে দিয়েছে। أَصْبُ আমি আসক্ত হয়ে যাব। أَحْلَامٍ অনর্থক স্বপ্ন যার কোন ব্যাখ্যা নেই। أَضْغَاثُ ঘাসের মুঠা এবং যা এ জাতীয়। যেমন পূর্বের আয়াতে আছে خُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا এক মুঠো ঘাস লও। একবচনে ضِغْثٌ থেকে গঠিত نَمِيْرُ আমরা খাদ্যদ্রব্য এনে দিব।وَنَزْدَادُ كَيْلَ আমরা আরো এক উট বোঝাই পণ্য আনব। أَوَىإِلَيْهِ নিজের কাছে রাখল। السِّقَايَةُ পান পাত্র, পরিমাপ-পাত্র। সারাক্ষণ থাকবে حَرَضًامُحْرَضًا খুব দুর্বল হওয়া) يُذِيْبُكَ الْهَمُّ দুশ্চিন্তা-তোমাকে শেষ করে দিবে, تَحَسَّسُوْا তোমরা খোঁজ লও। مُزْجاةٌ স্বল্প,غَاشِيَةٌ مِنْ عَذابِ الله আল্লাহর শাস্তি সকলকে ঘিরে ফেলেছে।
(وَيُتِمُّ نِعْمَتَه” عَلَيْكَ وَعَلٰٓى اٰلِ يَعْقُوْبَ كَمَآ أَتَمَّهَا عَلٰٓى أَبَوَيْكَ مِنْ قَبْلُ إِبْرٰهِيْمَ وَإِسْحٰقَ)
আর পূর্ণ করবেন তাঁর অনুগ্রহ তোমার প্রতি ও ইয়াকুব পরিবারের প্রতি; যেমন তিনি ইতোপূর্বে তা পূর্ণ করেছিলেন তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৬)
৪৬৮৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সম্মানিত ব্যক্তির পুত্র সম্মানিত এবং তাঁর পিতাও সম্মানিত ব্যক্তির পুত্র সম্মানিত। তিনি হলেন ইউসুফ (আঃ) যাঁর পিতা ইয়াকুব (আঃ), যাঁর পিতা ইসহাক (আঃ) যাঁর পিতা ইব্রাহীম (আঃ)। [৩৩৮২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮ম/৪৩২৭)
সূরাহ (১২) : ইউসুফ (আঃ)
وَقَالَ فُضَيْلٌ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ مُجَاهِدٍ مُتَّكًَا الْأُتْرُجُّ قَالَ فُضَيْلٌ الْأُتْرُجُّ بِالْحَبَشِيَّةِ مُتْكًا وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ رَجُلٍ عَنْ مُجَاهِدٍ مُتْكًا قَالَ كُلُّ شَيْءٍ قُطِعَ بِالسِّكِّيْنِ وَقَالَ قَتَادَةُ (لَذُوْ عِلْمٍ) لِمَا عَلَّمْنَاهُ عَامِلٌ بِمَا عَلِمَ وَقَالَ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ (صُوَاعَ) الْمَلِكِ مَكُّوْكُ الْفَارِسِيِّ الَّذِيْ يَلْتَقِيْ طَرَفَاهُ كَانَتْ تَشْرَبُ بِهِ الْأَعَاجِمُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (تُفَنِّدُوْنِ) تُجَهِّلُوْنِ وَقَالَ غَيْرُهُ (غَيَابَةٌالْجُبِّ) كُلُّ شَيْءٍ غَيَّبَ عَنْكَ شَيْئًا فَهُوَ غَيَابَةٌ (وَالْجُبُّ) الرَّكِيَّةُ الَّتِيْ لَمْ تُطْوَ (بِمُؤْمِنٍلَّنَا) بِمُصَدِّقٍ أَشُدَّهُ قَبْلَ أَنْ يَأْخُذَ فِي النُّقْصَانِ يُقَالُ (بَلَغَأَشُدَّهُ) وَبَلَغُوْا أَشُدَّهُمْ وَقَالَ بَعْضُهُمْ وَاحِدُهَا شَدٌّ.
وَالْمُتَّكَأُ مَا اتَّكَأْتَ عَلَيْهِ لِشَرَابٍ أَوْ لِحَدِيْثٍ أَوْ لِطَعَامٍ وَأَبْطَلَ الَّذِيْ قَالَ الْأُتْرُجُّ وَلَيْسَ فِيْ كَلَامِ الْعَرَبِ الْأُتْرُجُّ فَلَمَّا احْتُجَّ عَلَيْهِمْ بِأَنَّهُ الْمُتَّكَأُ مِنْ نَمَارِقَ فَرُّوْا إِلَى شَرٍّ مِنْهُ فَقَالُوْا إِنَّمَا هُوَ الْمُتْكُ سَاكِنَةَ التَّاءِ وَإِنَّمَا الْمُتْكُ طَرَفُ الْبَظْرِ وَمِنْ ذَلِكَ قِيْلَ لَهَا مَتْكَاءُ وَابْنُ الْمَتْكَاءِ فَإِنْ كَانَ ثَمَّ أُتْرُجٌّ فَإِنَّهُ بَعْدَ الْمُتَّكَإِ (شَغَفَهَا) يُقَالُ بَلَغَ شِغَافَهَا وَهُوَ غِلَافُ قَلْبِهَا وَأَمَّا شَعَفَهَا فَمِنَ الْمَشْعُوْفِ.
(أَصْبُ) أَمِيْلُ صَبَا مَالَ (أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ) مَا لَا تَأْوِيْلَ لَهُ وَالضِّغْثُ مِلْءُ الْيَدِ مِنْ حَشِيْشٍ وَمَا أَشْبَهَهُ وَمِنْهُ (وَخُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا) لَا مِنْ قَوْلِهِ أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ وَاحِدُهَا ضِغْثٌ(نَمِيْرُ) مِنَ الْمِيْرَةِ وَنَزْدَادُ كَيْلَ بَعِيْرٍ مَا يَحْمِلُ بَعِيْرٌ (أَوَىإِلَيْهِ) ضَمَّ إِلَيْهِ (السِّقَايَةُ) مِكْيَالٌ تَفْتَأُ لَا تَزَالُ حَرَضًا مُحْرَضًا يُذِيْبُكَ الْهَمُّ تَحَسَّسُوْا تَخَبَّرُوْا مُزْجَاةٍ قَلِيْلَةٍ غَاشِيَةٌ مِنْ عَذَابِ اللهِ عَامَّةٌ مُجَلِّلَةٌ (اسْتَيْأَسُوْا) يَئِسُوْا (وَلَا تَيْأَسُوْا مِنْ رَّوْحِ اللهِ) مَعْنَاهُ الرَّجَاءُ (خَلَصُوْا) نَجِيًّا اعْتَزَلُوْا نَجِيًّا وَالْجَمِيْعُ أَنْجِيَةٌ يَتَنَاجَوْنَ الْوَاحِدُ نَجِيٌّ وَالِاثْنَانِ وَالْجَمِيْعُ نَجِيٌّ وَأَنْجِيَةٌ. (تِفْتَأُ) : لا تَزَالُ. (حَرَضًا) مُحْرَضًا يُذِيْبُكَ الْهَمُّ. (تَحَسَّسُوْا) : تَخَبَّرُوْا. (مُزْجاةٌ) : قَلِيْلَةٌ. (غَاشِيَةٌ مِنْ عَذابِ الله) عَامَّةٌ مُجَلِّلَةٌ.
ফুযায়ল (রহ.) হুসায়ন (র.) মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتْكَاءً (এক জাতীয়) লেবু এবং ফুযায়ল (রহ.) বলেন যে, مُتْكًا হাবশী ভাষায় (এক জাতীয়) লেবুকে বলা হয়। ইবনু ’উয়াইনাহ (রহ.) ...... মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, مُتْكًا ঐ সব, যা চাকু দিয়ে কাটা হয়। ক্বাদাতাহ (রহ.) বলেন, لَذُوْ عِلْمٍ সে ’আলিম, যে তার ’ইল্মের উপর ’আমল করে। ইবনু যুবায়র (রহ.) বলেন, صُوَاعٌ ফারসী মাপ-পাত্র, যার উভয় পাশ মিলানো থাকে; আজমীগণ এটা দিয়ে পানি পান করে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, تُفَنِّدُوْنِ আমাকে মূর্খ মনে কর। অন্য হতে বর্ণিতঃ غَيَابَةٌ যেসব বস্তু তোমা হতে গোপন রয়েছে। وَالْجُبُّ ঐ কূপকে বলে যার মুখ বাঁধা হয়নি। بِمُؤْمِنٍلَنَا তুমি আমার কথায় বিশ্বাসী। بِمُؤْمِنٍلَنَا অধোগতি শুরু হওয়ার আগের বয়স। বলা হয় بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغُوْا أَشُدَّهُمْ অর্থাৎ সে বা তারা পূর্ণ বয়সে উপনীত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এর একবচন شَدٌّ (কারো কারো মতে) الْمُتَّكَأُ যে জিনিসের উপর পানাহার করার বা কথাবার্তা বলার সময় হেলান দেয়া হয়। যাঁরা مَتَكًا অর্থ লেবু বলেছেন এতে তা রদ হল। আরবদের ভাষায় ’উতরুঞ্জ’ শব্দের ব্যবহার নেই। যখন তাদের প্রতি এই অভিযোগ দ্বারা প্রমাণ করা হয় যে, ’মুত্তাকা’ অর্থ বিছানা, তখন তাঁরা আরো খারাপ অর্থ গ্রহণ করল এবং বলল যে, এখানে مُتْكٌ -এর ت সাকিন। এর অর্থ স্ত্রীলোকের লজ্জাস্থানের পার্শ্ব। এ থেকে ব্যবহার হয় مَتْكَاءِ (যে নারীর সে অংশ কাটা হয়নি) এবং ابْنُ الْمَتْكَاءِ (মাত্কার পুত্র)। সে ঘটনায় লেবু হলেও তা তাকিয়া দেয়ার পরই হবে। شَعَفَهَا তার অন্তরকে আচ্ছন্ন করল। مَشْعُوْفٌ যার অন্তর প্রেমে জ্বালিয়ে দিয়েছে। أَصْبُ আমি আসক্ত হয়ে যাব। أَحْلَامٍ অনর্থক স্বপ্ন যার কোন ব্যাখ্যা নেই। أَضْغَاثُ ঘাসের মুঠা এবং যা এ জাতীয়। যেমন পূর্বের আয়াতে আছে خُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا এক মুঠো ঘাস লও। একবচনে ضِغْثٌ থেকে গঠিত نَمِيْرُ আমরা খাদ্যদ্রব্য এনে দিব।وَنَزْدَادُ كَيْلَ আমরা আরো এক উট বোঝাই পণ্য আনব। أَوَىإِلَيْهِ নিজের কাছে রাখল। السِّقَايَةُ পান পাত্র, পরিমাপ-পাত্র। সারাক্ষণ থাকবে حَرَضًامُحْرَضًا খুব দুর্বল হওয়া) يُذِيْبُكَ الْهَمُّ দুশ্চিন্তা-তোমাকে শেষ করে দিবে, تَحَسَّسُوْا তোমরা খোঁজ লও। مُزْجاةٌ স্বল্প,غَاشِيَةٌ مِنْ عَذابِ الله আল্লাহর শাস্তি সকলকে ঘিরে ফেলেছে।
(وَيُتِمُّ نِعْمَتَه” عَلَيْكَ وَعَلٰٓى اٰلِ يَعْقُوْبَ كَمَآ أَتَمَّهَا عَلٰٓى أَبَوَيْكَ مِنْ قَبْلُ إِبْرٰهِيْمَ وَإِسْحٰقَ)
আর পূর্ণ করবেন তাঁর অনুগ্রহ তোমার প্রতি ও ইয়াকুব পরিবারের প্রতি; যেমন তিনি ইতোপূর্বে তা পূর্ণ করেছিলেন তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৬)
৪৬৮৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সম্মানিত ব্যক্তির পুত্র সম্মানিত এবং তাঁর পিতাও সম্মানিত ব্যক্তির পুত্র সম্মানিত। তিনি হলেন ইউসুফ (আঃ) যাঁর পিতা ইয়াকুব (আঃ), যাঁর পিতা ইসহাক (আঃ) যাঁর পিতা ইব্রাহীম (আঃ)। [৩৩৮২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮ম/৪৩২৭)
হাদিস নং: ৪৬৮৯
সহিহ (Sahih)
محمد اخبرنا عبدة عن عبيد الله عن سعيد بن ابي سعيد عن ابي هريرة رضي الله عنه قال سىل رسول الله صلى الله عليه وسلم اي الناس اكرم قال اكرمهم عند الله اتقاهم قالوا ليس عن هذا نسالك قال فاكرم الناس يوسف نبي الله ابن نبي الله ابن نبي الله ابن خليل الله قالوا ليس عن هذا نسالك قال فعن معادن العرب تسالوني قالوا نعم قال فخياركم في الجاهلية خياركم في الاسلام اذا فقهوا تابعه ابو اسامة عن عبيد الله.
৪৬৮৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ ব্যক্তি বেশি সম্মানিত? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে সে-ই আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত, যে তাদের মধ্যে সবচাইতে অধিক আল্লাহ্ভীরু। লোকেরা বলল, আমরা এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হলেন আল্লাহর নবী ইউসুফ (আঃ)। তিনি নবীর পুত্র, (তাঁর পিতাও) নবীর পুত্র এবং (তাঁর পিতার পিতা) খালীলুল্লাহ্ (আঃ)-এর পুত্র। লোকেরা বলল, আপনাকে আমরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করিনি। তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা আরব বংশ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করেছ। তারা বলল, হ্যাঁ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা জাহিলিয়্যাতে তোমাদের মাঝে উত্তম ছিল, ইসলামেও তারা উত্তম যদি তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানের অধিকারী হয়। আবূ উসামাহ (রাঃ) ’উবাইদুল্লাহর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। [৩৩৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৮)
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা জাহিলিয়্যাতে তোমাদের মাঝে উত্তম ছিল, ইসলামেও তারা উত্তম যদি তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানের অধিকারী হয়। আবূ উসামাহ (রাঃ) ’উবাইদুল্লাহর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। [৩৩৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৮)
হাদিস নং: ৪৬৯০
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن صالح عن ابن شهاب قال ح و حدثنا الحجاج حدثنا عبد الله بن عمر النميري حدثنا يونس بن يزيد الايلي قال سمعت الزهري سمعت عروة بن الزبير وسعيد بن المسيب وعلقمة بن وقاص وعبيد الله بن عبد الله عن حديث عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم حين قال لها اهل الافك ما قالوا فبراها الله كل حدثني طاىفة من الحديث قال النبي صلى الله عليه وسلم ان كنت بريىة فسيبرىك الله وان كنت الممت بذنب فاستغفري الله وتوبي اليه قلت اني والله لا اجد مثلا الا ابا يوسف فصبر جميل والله المستعان على ما تصفون وانزل الله (ان الذين جاءوا بالافك عصبة منكم) العشر الايات
(سَوَّلَتْ) زَيَّنَتْ.
سَوَّلَتْ সুন্দর করে সাজিয়ে শোভনীয় করে দেখান।
৪৬৯০. যুহরী (রহ.) ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব, ’আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস এবং ’উবাইদুল্লাহ ইবনু ’আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) ’’ইফক[1] সম্পর্কে أَهْلُ الإِفْكِ যা বলেছেন, তা শুনেছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে সবকিছু থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। (বর্ণনাকারীদের) একদল থেকে আমি হাদীসটির কিছু অংশ শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম [’আয়িশাহ (রাঃ)-কে] বললেন, যদি তুমি নির্দোষ হয়ে থাক তবে অতিশীঘ্র আল্লাহ্ তোমার নির্দোষিতা প্রকাশ করে দিবেন; আর যদি তোমার দ্বারা এ গুনাহ্ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তওবা কর। ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এ সময় আমি ইউসুফ (আঃ)-এর পিতা [ইয়াকুব (আঃ)]-এর উদাহরণ ব্যতীত আর কিছুই জবাব দেয়ার মতো খুঁজে পাচ্ছি না। (আমিও তাঁর মত বলছি) : সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যস্থল। অবশেষে আল্লাহ্ তা’আলা (আমার নির্দোষিতা ঘোষণা করে) إِنَّ الَّذِيْنَ جَآءُوْا بِالْإِفْكِ সহ দশটি আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৯)
سَوَّلَتْ সুন্দর করে সাজিয়ে শোভনীয় করে দেখান।
৪৬৯০. যুহরী (রহ.) ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব, ’আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস এবং ’উবাইদুল্লাহ ইবনু ’আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) ’’ইফক[1] সম্পর্কে أَهْلُ الإِفْكِ যা বলেছেন, তা শুনেছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে সবকিছু থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। (বর্ণনাকারীদের) একদল থেকে আমি হাদীসটির কিছু অংশ শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম [’আয়িশাহ (রাঃ)-কে] বললেন, যদি তুমি নির্দোষ হয়ে থাক তবে অতিশীঘ্র আল্লাহ্ তোমার নির্দোষিতা প্রকাশ করে দিবেন; আর যদি তোমার দ্বারা এ গুনাহ্ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তওবা কর। ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এ সময় আমি ইউসুফ (আঃ)-এর পিতা [ইয়াকুব (আঃ)]-এর উদাহরণ ব্যতীত আর কিছুই জবাব দেয়ার মতো খুঁজে পাচ্ছি না। (আমিও তাঁর মত বলছি) : সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যস্থল। অবশেষে আল্লাহ্ তা’আলা (আমার নির্দোষিতা ঘোষণা করে) إِنَّ الَّذِيْنَ جَآءُوْا بِالْإِفْكِ সহ দশটি আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। [২৫৯৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৯)
নোট: [1] রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা সম্পর্কিত।
হাদিস নং: ৪৬৯১
সহিহ (Sahih)
موسى حدثنا ابو عوانة عن حصين عن ابي واىل قال حدثني مسروق بن الاجدع قال حدثتني ام رومان وهي ام عاىشة قالت بينا انا وعاىشة اخذتها الحمى فقال النبي صلى الله عليه وسلم لعل في حديث تحدث قالت نعم وقعدت عاىشة قالت مثلي ومثلكم كيعقوب وبنيه (بل سولت لكم انفسكم امرا طفصبر جميل طوالله المستعان على ما تصفون)
৪৬৯১. ’আয়িশাহ (রাঃ)-এর মাতা উম্মু রূমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (অপবাদ রটনার সময়) ’আয়িশাহ (রাঃ) আমাদের ঘরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সম্ভবত এ অপবাদের কারণে জ্বর হয়েছে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি উঠে বসলেন এবং বললেন, আমার এবং আপনাদের দৃষ্টান্ত হল ইয়াকুব (আঃ) এবং তাঁর পুত্র ইউসুফ (আঃ)-এর ন্যায়। [ইয়াকুব (আঃ) তাঁর ছেলেদেরকে বললেন] বরং তোমরা এক মনগড়া কাহিনী সাজিয়ে নিয়ে এসেছ কাজেই ’’ধৈর্যই শ্রেয়। তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যস্থল।’’ [৩৩৮৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩০)
হাদিস নং: ৪৬৯২
সহিহ (Sahih)
احمد بن سعيد حدثنا بشر بن عمر حدثنا شعبة عن سليمان عن ابي واىل عن عبد الله بن مسعود قال هيت لك قال وانما نقروها كما علمناها (مثواه) مقامه (والفيا) وجدا الفوا اباءهم الفينا وعن ابن مسعود (بل عجبت ويسخرون)
الَّتِيْ هُوَ فِيْ بَيْتِهَا عَنْ نَّفْسِهٰوَغَلَّقَتِ الْأَبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ
যে মহিলার ঘরে ইউসুফ ছিল, সে তাকে ফুসালাতে লাগল এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিল। সে বললঃ তোমাকে বলছি এদিকে এসো! (সূরাহ ইউসুফ ১২/২৩)
وَقَالَ عِكْرِمَةُ (هَيْتَ لَكَ) بِالْحَوْرَانِيَّةِ هَلُمَّ وَقَالَ ابْنُ جُبَيْرٍ تَعَالَهْ.
ইকরামাহ বলেন, هَيْتَ আইস হুরানের ভাষা, ইবনু যুবায়র বলেন تَعَالَهْ এসো।
৪৬৯২. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, هَيْتَ لَكَ আমরা সেভাবেই পড়তাম, যেভাবে আমাদের শিখানো হয়েছে। مَثْوَاهُ স্থান এবং أَلْفَيَا তারা দু’জনে পেল। এ থেকে أَلْفَوْاآبَاءَهُمْ হয়েছে। এমনিভাবে ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে بَلْ عَجِبْتُ وَيَسْخَرُوْنَ এর মধ্যে ت-কে পেশযুক্ত করে বর্ণনা করা হয়েছে। (তিনি এভাবে পড়তেন)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩১)
যে মহিলার ঘরে ইউসুফ ছিল, সে তাকে ফুসালাতে লাগল এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিল। সে বললঃ তোমাকে বলছি এদিকে এসো! (সূরাহ ইউসুফ ১২/২৩)
وَقَالَ عِكْرِمَةُ (هَيْتَ لَكَ) بِالْحَوْرَانِيَّةِ هَلُمَّ وَقَالَ ابْنُ جُبَيْرٍ تَعَالَهْ.
ইকরামাহ বলেন, هَيْتَ আইস হুরানের ভাষা, ইবনু যুবায়র বলেন تَعَالَهْ এসো।
৪৬৯২. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, هَيْتَ لَكَ আমরা সেভাবেই পড়তাম, যেভাবে আমাদের শিখানো হয়েছে। مَثْوَاهُ স্থান এবং أَلْفَيَا তারা দু’জনে পেল। এ থেকে أَلْفَوْاآبَاءَهُمْ হয়েছে। এমনিভাবে ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে بَلْ عَجِبْتُ وَيَسْخَرُوْنَ এর মধ্যে ت-কে পেশযুক্ত করে বর্ণনা করা হয়েছে। (তিনি এভাবে পড়তেন)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩১)
হাদিস নং: ৪৬৯৩
সহিহ (Sahih)
الحميدي حدثنا سفيان عن الاعمش عن مسلم عن مسروق عن عبد الله رضي الله عنه ان قريشا لما ابطىوا على النبي صلى الله عليه وسلم بالاسلام قال اللهم اكفنيهم بسبع كسبع يوسف فاصابتهم سنة حصت كل شيء حتى اكلوا العظام حتى جعل الرجل ينظر الى السماء فيرى بينه وبينها مثل الدخان قال الله (فارتقب يوم تاتي السمآء بدخان مبين) قال الله (انا كاشفو العذاب قليلا انكم عاىدون) افيكشف عنهم العذاب يوم القيامة وقد مضى الدخان ومضت البطشة
৪৬৯৩. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন কুরাইশগণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইসলামের দা’ওয়াত অস্বীকার করল, তখন তিনি আল্লাহর নিকটে আরয করলেন, হে আল্লাহ্! যেমনিভাবে আপনি ইউসুফ (আঃ)-এর সময় সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন, তেমনিভাবে ওদের ওপর দুর্ভিক্ষ অবতীর্ণ করুন। তারপর কুরাইশগণ এক বছর পর্যন্ত এমন দুর্ভিক্ষের মধ্যে আপতিত হল যে, সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেল; এমনকি তারা হাড় পর্যন্ত খেতে শুরু করল; যখন কোন ব্যক্তি আকাশের দিকে নজর করত, তখন আকাশ ও তার মধ্যে শুধু ধোঁয়া দেখত।
আল্লাহ্ বলেন, فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ ’সেদিনের অপেক্ষায় থাক, যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে।’ (সূরাহ দুখান ৪৪/১০)
আল্লাহ্ আরও বলেনঃ إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيْلًا إِنَّكُمْ عَائِدُوْنَ ’’আমি শাস্তি কিছুটা সরিয়ে নিব, যেন তোমরা (পূর্বাবস্থায়) ফিরে আস’’- (সূরাহ দুখান ৪৪/১৫)। কিয়ামতের দিন তাদের থেকে আযাব দূর করা হবে কি? এবং دُخَانُ ও بَطْشَةُ এর ব্যাখ্যা আগে বলা হয়েছে। [১০০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩২)
আল্লাহ্ বলেন, فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ ’সেদিনের অপেক্ষায় থাক, যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে।’ (সূরাহ দুখান ৪৪/১০)
আল্লাহ্ আরও বলেনঃ إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيْلًا إِنَّكُمْ عَائِدُوْنَ ’’আমি শাস্তি কিছুটা সরিয়ে নিব, যেন তোমরা (পূর্বাবস্থায়) ফিরে আস’’- (সূরাহ দুখান ৪৪/১৫)। কিয়ামতের দিন তাদের থেকে আযাব দূর করা হবে কি? এবং دُخَانُ ও بَطْشَةُ এর ব্যাখ্যা আগে বলা হয়েছে। [১০০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩২)
হাদিস নং: ৪৬৯৪
সহিহ (Sahih)
سعيد بن تليد حدثنا عبد الرحمن بن القاسم عن بكر بن مضر عن عمرو بن الحارث عن يونس بن يزيد عن ابن شهاب عن سعيد بن المسيب وابي سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يرحم الله لوطا لقد كان ياوي الى ركن شديد ولو لبثت في السجن ما لبث يوسف لاجبت الداعي ونحن احق من ابراهيم اذ قال له (اولم تومن قال بلى ولكن ليطمىن قلبي)
(فَلَمَّا جَآءَهُ الرَّسُوْلُ قَالَ ارْجِعْ إِلٰى رَبِّكَ فاسْأَلْهُ مَا بَالُ النِّسْوَةِ الّٰتِيْ قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ طإِنَّ رَبِّيْ بِكَيْدِهِنَّ عَلِيْمٌ قَالَ مَا خَطْبُكُنَّ إِذْ رَاوَدْتُّنَّ يُوْسُفَ عَنْ نَّفْسِهٰطقُلْنَ حَاشَ لِلهِ)
আর বাদশাহ বললঃ তোমরা ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তারপর দূত যখন তার কাছে এলো তখন সে বললঃ তুমি ফিরে যাও তোমার মনিবের কাছে এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, ঐ রমণীদের কী অবস্থা যারা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল। আমার রব অবশ্যই তাদের চক্রান্ত খুব অবগত আছেন। বাদশাহ রমণীদের বললঃ তোমাদের ঘটনা কী? তোমরা যখন ইউসুফকে তোমাদের কামনা চরিতার্থ করার জন্য ফুসলিয়েছিলে? তারা বললঃ অদ্ভূত আল্লাহর মাহাত্ম্য! তার মধ্যে কোন দোষ আছে বলে আমরা জানতে পারিনি। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৫০-৫১)
وَحَاشَ وَحَاشَى تَنْزِيْهٌ وَاسْتِثْنَاءٌ (حَصْحَصَ) وَضَحَ.
حَاشَوَحَاشَى এটা تَنْزِيْهٌ এবং اسْتِثْنَاءٌ এর জন্য। حَصْحَصَ প্রকাশ হয়ে গেল।
৪৬৯৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা লূত (আঃ)-এর উপর রহম করুন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের চরম শত্রুতায় বাধ্য হয়ে, নিজের নিরাপত্তার জন্য শক্ত খুঁটি অর্থাৎ আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত ইউসুফ (আঃ) (বন্দীখানায়) ছিলেন, আমি যদি এভাবে বন্দীখানায় থাকতাম, তবে মুক্তি পাবার ডাকে অবশ্যই সাড়া দিতাম [1]। আমরা (সন্দেহভঞ্জন করার ব্যাপারে) ইব্রাহীম (আঃ)-এর চেয়েও আগে বেড়ে যেতাম [2] যখন আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? জবাবে তিনি বললেন, হাঁ। তবে আমার মনের প্রশান্তির জন্য। [৩৩৭২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৩)
আর বাদশাহ বললঃ তোমরা ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তারপর দূত যখন তার কাছে এলো তখন সে বললঃ তুমি ফিরে যাও তোমার মনিবের কাছে এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, ঐ রমণীদের কী অবস্থা যারা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল। আমার রব অবশ্যই তাদের চক্রান্ত খুব অবগত আছেন। বাদশাহ রমণীদের বললঃ তোমাদের ঘটনা কী? তোমরা যখন ইউসুফকে তোমাদের কামনা চরিতার্থ করার জন্য ফুসলিয়েছিলে? তারা বললঃ অদ্ভূত আল্লাহর মাহাত্ম্য! তার মধ্যে কোন দোষ আছে বলে আমরা জানতে পারিনি। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৫০-৫১)
وَحَاشَ وَحَاشَى تَنْزِيْهٌ وَاسْتِثْنَاءٌ (حَصْحَصَ) وَضَحَ.
حَاشَوَحَاشَى এটা تَنْزِيْهٌ এবং اسْتِثْنَاءٌ এর জন্য। حَصْحَصَ প্রকাশ হয়ে গেল।
৪৬৯৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা লূত (আঃ)-এর উপর রহম করুন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের চরম শত্রুতায় বাধ্য হয়ে, নিজের নিরাপত্তার জন্য শক্ত খুঁটি অর্থাৎ আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত ইউসুফ (আঃ) (বন্দীখানায়) ছিলেন, আমি যদি এভাবে বন্দীখানায় থাকতাম, তবে মুক্তি পাবার ডাকে অবশ্যই সাড়া দিতাম [1]। আমরা (সন্দেহভঞ্জন করার ব্যাপারে) ইব্রাহীম (আঃ)-এর চেয়েও আগে বেড়ে যেতাম [2] যখন আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? জবাবে তিনি বললেন, হাঁ। তবে আমার মনের প্রশান্তির জন্য। [৩৩৭২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৩)
নোট: [1] মুক্তি পাওয়ার জন্য তৎক্ষণাৎ আহবানকারীর আহবানে সাড়া দিতাম। কিন্তু ইউসুফ (‘আ.) তাঁর নির্দোষিতা ঘোষিত হওয়ার পূর্বে জেল থেকে মুক্ত হতে চাননি।
[2] এর দ্বারা রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশ্রেষ্ঠ নাবীসুলভ বিনয়-নম্রতার প্রকাশ ঘটেছে ।
[2] এর দ্বারা রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশ্রেষ্ঠ নাবীসুলভ বিনয়-নম্রতার প্রকাশ ঘটেছে ।
হাদিস নং: ৪৬৯৫
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن صالح عن ابن شهاب قال اخبرني عروة بن الزبير عن عاىشة رضي الله عنها قالت له وهو يسالها عن قول الله تعالى (حتىٓاذا استياس الرسل) قال قلت اكذبوا ام كذبوا قالت عاىشة كذبوا قلت فقد استيقنوا ان قومهم كذبوهم فما هو بالظن قالت اجل لعمري لقد استيقنوا بذلك فقلت لها وظنوا انهم قد كذبوا قالت معاذ الله لم تكن الرسل تظن ذلك بربها قلت فما هذه الاية قالت هم اتباع الرسل الذين امنوا بربهم وصدقوهم فطال عليهم البلاء واستاخر عنهم النصر حتى اذا استياس الرسل ممن كذبهم من قومهم وظنت الرسل ان اتباعهم قد كذبوهم جاءهم نصر الله عند ذلك.
৪৬৯৫. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ حَتَّىٓ إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, এ আয়াতে শব্দটা أَكُذِبُوْا ’না’[1]كُذِّبُوْا ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, اَكُذِّبُوْا আমি জিজ্ঞেস করলাম, যখন আম্বিয়ায়ে কিরাম পূর্ণ বিশ্বাস করে নিলেন, এখন তাদের সম্প্রদায় তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করবে, তখন الظَّن[2] ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম! তারা পূর্ণ বিশ্বাস করেই নিয়েছিলেন। আমি তাঁকে বললাম ظَنُّوْآ أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوْا অর্থ কী দাঁড়ায়? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, মা’আযাল্লাহ![3] রাসূলগণ কখনও আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা করতে পারেন না। আমি বললাম, তবে আয়াতের অর্থ কী হবে? তিনি বললেন, তারা রাসূলদের অনুসারী, যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলদের সত্য বলে স্বীকার করেছে, তারপর তাদের প্রতি দীর্ঘকাল ধরে (কাফেরদের) নির্যাতন চলেছে এবং আল্লাহর সাহায্য আসতেও অনেক দেরী হয়েছে, এমনকি যখন রাসূলগণ তাঁদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে তাঁদের প্রতি মিথ্যারোপকারীদের ঈমান আনা সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছেন এবং রাসূলদের এ ধারণা জন্মেছে যে, এখন তাঁদের অনুসারীরাও[4] তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করতে শুরু করবে, এমন সময় তাঁদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এল। [৩৩৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৪)
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ فَقُلْتُ لَعَلَّهَا كُذِبُوْا مُخَفَّفَةً قَالَتْ مَعَاذَ اللهِ نَحْوَهُ
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ فَقُلْتُ لَعَلَّهَا كُذِبُوْا مُخَفَّفَةً قَالَتْ مَعَاذَ اللهِ نَحْوَهُ
নোট: [1]كُذِّبُوْا তাশ্দীদসহ না তাশ্দীদ ব্যতীত।
[2] তাঁরা ধারণা করলেন অথবা ভাবলেন।
[3]আল্লাহর নিকট পরিত্রাণ চাই।
[4] যারা ঈমান এনেছিল।
[2] তাঁরা ধারণা করলেন অথবা ভাবলেন।
[3]আল্লাহর নিকট পরিত্রাণ চাই।
[4] যারা ঈমান এনেছিল।
হাদিস নং: ৪৬৯৬
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني عروة فقلت لعلها كذبوا مخففة قالت معاذ الله نحوه
৪৬৯৬. ’উরওয়াহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললাম সম্ভবত كُذِبُوْا (তাখফীফ সহ)। তিনি বললেন, মা’আযাল্লাহ! ঐরূপ (كُذُّبُوْا)। [৩৩৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৫)
হাদিস নং: ৪৬৯৭
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر حدثنا معن قال حدثني مالك عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال مفاتح الغيب خمس لا يعلمها الا الله لا يعلم ما في غد الا الله ولا يعلم ما تغيض الارحام الا الله ولا يعلم متى ياتي المطر احد الا الله ولا تدري نفس باي ارض تموت ولا يعلم متى تقوم الساعة الا الله
(13) سُوْرَةُ الرَّعْدِ
সূরাহ (১৩) : আর্-রা’দ
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ) مَثَلُ الْمُشْرِكِ الَّذِيْ عَبَدَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ غَيْرَهُ كَمَثَلِ الْعَطْشَانِ الَّذِيْ يَنْظُرُ إِلَى ظِلِّ خَيَالِهِ فِي الْمَاءِ مِنْ بَعِيْدٍ وَهُوَ يُرِيْدُ أَنْ يَتَنَاوَلَهُ وَلَا يَقْدِرُ وَقَالَ غَيْرُهُ (سَخَّرَ) ذَلَّلَ (مُتَجَاوِرَاتٌ) مُتَدَانِيَاتٌ. [وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (مُتَجَاوِرَاتٌ) طَيِّبُها عَذْبُها وخَبِيْثُها السِّباخُ (الْمَثُلَاتُ) وَاحِدُهَا مَثُلَةٌ وَهِيَ الْأَشْبَاهُ وَالأَمْثَالُ وَقَالَ (إِلَّا مِثْلَ أَيَّامِ الَّذِيْنَ خَلَوْا بِمِقْدَارٍ) بِقَدَرٍ يُقَالُ (مُعَقِّبَاتٌ) مَلَائِكَةٌ حَفَظَةٌ تُعَقِّبُ الْأُوْلَى مِنْهَا الْأُخْرَى وَمِنْهُ قِيْلَ الْعَقِيْبُ أَيْ عَقَّبْتُ فِيْ إِثْرِهِ (الْمِحَالِ) الْعُقُوْبَةُ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ) لِيَقْبِضَ عَلَى الْمَاءِ (رَابِيًا) مِنْ رَبَا يَرْبُوْ (أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ) مِثْلُهُ الْمَتَاعُ مَا تَمَتَّعْتَ بِهِ (جُفَاءً) يُقَالُ أَجْفَأَتْ الْقِدْرُ إِذَا غَلَتْ فَعَلَاهَا الزَّبَدُ ثُمَّ تَسْكُنُ فَيَذْهَبُ الزَّبَدُ بِلَا مَنْفَعَةٍ فَكَذَلِكَ يُمَيِّزُ الْحَقَّ مِنَ الْبَاطِلِ (الْمِهَادُ) الْفِرَاشُ (يَدْرَءُوْنَ) يَدْفَعُوْنَ دَرَأْتُهُ عَنِّيْ دَفَعْتُهُ (سَلَامٌ عَلَيْكُمْ) أَيْ يَقُوْلُوْنَ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ (وَإِلَيْهِ مَتَابِ) تَوْبَتِيْ (أَفَلَمْ يَيْئَسْ) أَفَلَمْ يَتَبَيَّنْ (قَارِعَةٌ) دَاهِيَةٌ (فَأَمْلَيْتُ) أَطَلْتُ مِنَ الْمَلِيِّ وَالْمِلَاوَةِ وَمِنْهُ (مَلِيًّا) وَيُقَالُ لِلْوَاسِعِ الطَّوِيْلِ مِنَ الْأَرْضِ مَلًى مِنَ الْأَرْضِ (أَشَقُّ) أَشَدُّ مِنَ الْمَشَقَّةِ (مُعَقِّبَ) مُغَيِّرٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مُتَجَاوِرَاتٌ) طَيِّبُهَا وَخَبِيْثُهَا السِّبَاخُ (صِنْوَانٌ)النَّخْلَتَانِ أَوْ أَكْثَرُ فِيْ أَصْلٍ وَاحِدٍ (وَغَيْرُ صِنْوَانٍ) وَحْدَهَا (بِمَآءٍ وَّاحِدٍ) كَصَالِحِ بَنِيْ آدَمَ وَخَبِيْثِهِمْ أَبُوْهُمْ وَاحِدٌ (السَّحَابُ الثِّقَالُ) الَّذِيْ فِيْهِ الْمَاءُ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ) يَدْعُو الْمَاءَ بِلِسَانِهِ وَيُشِيْرُ إِلَيْهِ بِيَدِهِ فَلَا يَأْتِيْهِ أَبَدًا. (سَالَتْ أَوْدِيَةٌمبِقَدَرِهَا) تَمْلَا بَطْنَ كُلِّ وَادٍ (زَبَدًا رَابِيًا) الزَّبَدُ زَبَدُ السَّيْلِ زَبَدٌ مِثْلُهُ خَبَثُ الْحَدِيْدِ وَالْحِلْيَةِ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)বলেন, كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ যেমন, কেউ হাত বাড়িয়ে দেয়। এটি মুশরিকের দৃষ্টান্ত যারা ’ইবাদাতে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যকে শরীক করে। যেমন পিপাসার্ত ব্যক্তি যে দূর থেকে পানি পাওয়ার আশা করে, অথচ পানি সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় না। অন্যেরা বলেন, سَخَّرَসে অনুগত হল।’’ مُتَجَاوِرَاتٌ পরস্পর নিকটবর্তী হল। الْمَثُلَاتُ (উপমা, দৃষ্টান্ত) مَثُلَةٌ-এর বহুবচন। আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, ’ওরা কি ওদের পূর্বে যা ঘটেছে তারই অনুরূপ ঘটনারই প্রতীক্ষা করে? بِمِقْدَارٍনির্দিষ্ট পরিমাণ। مُعَقِّبَاتٌ ফেরেশ্তা, যারা একের পর এক সকাল-সন্ধ্যায় বদলি হয়ে থাকে। যেমন عَقِيْبُপিছনে (বদলি)। যেমন বলা হয় عَقَّبْتُ فِيْٓ إِثْرِهِ আমি তার পরে (বদলি) এসেছি। الْمِحَالِ শাস্তি كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ সে তৃষ্ণার্তের মত, যে নিজের দুই হাত পানির দিকে বাড়িয়ে দেয়, পানি পাওয়ার জন্য। رَابِيًا (বর্ধনশীল) رَبَايَرْبُوْ থেকে গঠিত। زَبَدٌ ফেনা, সর। الْمَتَاعُ যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, যা উপভোগ করা হয়। جُفَاءً বলা হয়, মাংসের পাতিল যখন উত্তপ্ত করা হয়, তখন তার ওপরে ফেনা জমে। এরপর ঠান্ডা হয় এবং ফেনার বিলুপ্তি ঘটে। সেরূপ সত্য, বাতিল (মিথ্যা) থেকে আলাদা হয়ে থাকে।’’ الْمِهَادُ বিছানা يَدْرَءُوْنَ তারা প্রতিহত করে। دَرَأْتُهُ ও دَفَعْتُهُ আমি তাকে দূরে হটিয়ে দিলাম। মালায়িকাহ বলবেন, سَلَامٌعَلَيْكُمْ তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। وَإِلَيْهِ مَتَابِ আমি তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করছি। أَفَلَمْيَيْئَسْ-এটা কি তাদের কাছে প্রকাশ পায়নি, قَارِعَةٌ আকস্মিক বিপদ فَأَمْلَيْتُ আমি অবকাশ দিয়েছি। مَلِيِّ ও مِلَاوَةٌ হতে পঠিত। সে অর্থে مَلِيًّا ব্যবহৃত। প্রশস্ত ও দীর্ঘ যমীনকে مَلًى مِنَ الْأَرْضِ বলা হয়। أَشَقُّ (অধিক কঠিন) اِسْمِ تَفْضِيْلَ-مَشَقَّةِ থেকে গঠিত। مُعَقِّبَ পরিবর্তনশীল। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتَجَاوِرَاتٌ অর্থ, কিছু জমি কৃষি উপযোগী এবং কিছু জমি কৃষির অনুপযোগী। আর তাতে একটা থেকে দুই বা ততোধিক খেজুর গাছ উৎপন্ন হয় এবং কতিপয় যমীনে পৃথক পৃথকভাবে উৎপন্ন হয়। সেরূপ অবস্থা আদম (আঃ)-এর সন্তানদের। কেউ নেক্কার আর কেউ বদকার, অথচ সকলেই আদমের সন্তান। السَّحَابُ الثِّقَالُ পানিতে পূর্ণ মেঘমালা। كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি মুখ দিয়ে পানি চায় এবং হাত দিয়ে পানির দিকে ইশারা করে। তারপর সে সর্বদা তা থেকে বঞ্চিত থাকে। سَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا নানাসমূহ তার পরিমাণ মাফিক প্রবাহিত হয়ে ’’বাতনে ওয়াদী’’[1] কে ভরে দেয়। زَبَدًا رَابِيًا প্রবাহিত ফেনা। লোহা ও অলংকার উত্তপ্ত করা হলে যেমন ময়লা বের হয়ে আসে।
৪৬৯৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’ইল্ম গায়েব-এর চাবিকাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ্ ভিন্ন কেউ জানে না। তা হলোঃ আগামী দিন কী হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। মায়ের জরায়ুতে কী আছে, তা আল্লাহ্ ভিন্ন আর কেউ জানে না। বৃষ্টি কখন আসবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। কোন ব্যক্তি জানে না তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কবে সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। [১০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৬)
সূরাহ (১৩) : আর্-রা’দ
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ) مَثَلُ الْمُشْرِكِ الَّذِيْ عَبَدَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ غَيْرَهُ كَمَثَلِ الْعَطْشَانِ الَّذِيْ يَنْظُرُ إِلَى ظِلِّ خَيَالِهِ فِي الْمَاءِ مِنْ بَعِيْدٍ وَهُوَ يُرِيْدُ أَنْ يَتَنَاوَلَهُ وَلَا يَقْدِرُ وَقَالَ غَيْرُهُ (سَخَّرَ) ذَلَّلَ (مُتَجَاوِرَاتٌ) مُتَدَانِيَاتٌ. [وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (مُتَجَاوِرَاتٌ) طَيِّبُها عَذْبُها وخَبِيْثُها السِّباخُ (الْمَثُلَاتُ) وَاحِدُهَا مَثُلَةٌ وَهِيَ الْأَشْبَاهُ وَالأَمْثَالُ وَقَالَ (إِلَّا مِثْلَ أَيَّامِ الَّذِيْنَ خَلَوْا بِمِقْدَارٍ) بِقَدَرٍ يُقَالُ (مُعَقِّبَاتٌ) مَلَائِكَةٌ حَفَظَةٌ تُعَقِّبُ الْأُوْلَى مِنْهَا الْأُخْرَى وَمِنْهُ قِيْلَ الْعَقِيْبُ أَيْ عَقَّبْتُ فِيْ إِثْرِهِ (الْمِحَالِ) الْعُقُوْبَةُ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ) لِيَقْبِضَ عَلَى الْمَاءِ (رَابِيًا) مِنْ رَبَا يَرْبُوْ (أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ) مِثْلُهُ الْمَتَاعُ مَا تَمَتَّعْتَ بِهِ (جُفَاءً) يُقَالُ أَجْفَأَتْ الْقِدْرُ إِذَا غَلَتْ فَعَلَاهَا الزَّبَدُ ثُمَّ تَسْكُنُ فَيَذْهَبُ الزَّبَدُ بِلَا مَنْفَعَةٍ فَكَذَلِكَ يُمَيِّزُ الْحَقَّ مِنَ الْبَاطِلِ (الْمِهَادُ) الْفِرَاشُ (يَدْرَءُوْنَ) يَدْفَعُوْنَ دَرَأْتُهُ عَنِّيْ دَفَعْتُهُ (سَلَامٌ عَلَيْكُمْ) أَيْ يَقُوْلُوْنَ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ (وَإِلَيْهِ مَتَابِ) تَوْبَتِيْ (أَفَلَمْ يَيْئَسْ) أَفَلَمْ يَتَبَيَّنْ (قَارِعَةٌ) دَاهِيَةٌ (فَأَمْلَيْتُ) أَطَلْتُ مِنَ الْمَلِيِّ وَالْمِلَاوَةِ وَمِنْهُ (مَلِيًّا) وَيُقَالُ لِلْوَاسِعِ الطَّوِيْلِ مِنَ الْأَرْضِ مَلًى مِنَ الْأَرْضِ (أَشَقُّ) أَشَدُّ مِنَ الْمَشَقَّةِ (مُعَقِّبَ) مُغَيِّرٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مُتَجَاوِرَاتٌ) طَيِّبُهَا وَخَبِيْثُهَا السِّبَاخُ (صِنْوَانٌ)النَّخْلَتَانِ أَوْ أَكْثَرُ فِيْ أَصْلٍ وَاحِدٍ (وَغَيْرُ صِنْوَانٍ) وَحْدَهَا (بِمَآءٍ وَّاحِدٍ) كَصَالِحِ بَنِيْ آدَمَ وَخَبِيْثِهِمْ أَبُوْهُمْ وَاحِدٌ (السَّحَابُ الثِّقَالُ) الَّذِيْ فِيْهِ الْمَاءُ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ) يَدْعُو الْمَاءَ بِلِسَانِهِ وَيُشِيْرُ إِلَيْهِ بِيَدِهِ فَلَا يَأْتِيْهِ أَبَدًا. (سَالَتْ أَوْدِيَةٌمبِقَدَرِهَا) تَمْلَا بَطْنَ كُلِّ وَادٍ (زَبَدًا رَابِيًا) الزَّبَدُ زَبَدُ السَّيْلِ زَبَدٌ مِثْلُهُ خَبَثُ الْحَدِيْدِ وَالْحِلْيَةِ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)বলেন, كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ যেমন, কেউ হাত বাড়িয়ে দেয়। এটি মুশরিকের দৃষ্টান্ত যারা ’ইবাদাতে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যকে শরীক করে। যেমন পিপাসার্ত ব্যক্তি যে দূর থেকে পানি পাওয়ার আশা করে, অথচ পানি সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় না। অন্যেরা বলেন, سَخَّرَসে অনুগত হল।’’ مُتَجَاوِرَاتٌ পরস্পর নিকটবর্তী হল। الْمَثُلَاتُ (উপমা, দৃষ্টান্ত) مَثُلَةٌ-এর বহুবচন। আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, ’ওরা কি ওদের পূর্বে যা ঘটেছে তারই অনুরূপ ঘটনারই প্রতীক্ষা করে? بِمِقْدَارٍনির্দিষ্ট পরিমাণ। مُعَقِّبَاتٌ ফেরেশ্তা, যারা একের পর এক সকাল-সন্ধ্যায় বদলি হয়ে থাকে। যেমন عَقِيْبُপিছনে (বদলি)। যেমন বলা হয় عَقَّبْتُ فِيْٓ إِثْرِهِ আমি তার পরে (বদলি) এসেছি। الْمِحَالِ শাস্তি كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ সে তৃষ্ণার্তের মত, যে নিজের দুই হাত পানির দিকে বাড়িয়ে দেয়, পানি পাওয়ার জন্য। رَابِيًا (বর্ধনশীল) رَبَايَرْبُوْ থেকে গঠিত। زَبَدٌ ফেনা, সর। الْمَتَاعُ যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, যা উপভোগ করা হয়। جُفَاءً বলা হয়, মাংসের পাতিল যখন উত্তপ্ত করা হয়, তখন তার ওপরে ফেনা জমে। এরপর ঠান্ডা হয় এবং ফেনার বিলুপ্তি ঘটে। সেরূপ সত্য, বাতিল (মিথ্যা) থেকে আলাদা হয়ে থাকে।’’ الْمِهَادُ বিছানা يَدْرَءُوْنَ তারা প্রতিহত করে। دَرَأْتُهُ ও دَفَعْتُهُ আমি তাকে দূরে হটিয়ে দিলাম। মালায়িকাহ বলবেন, سَلَامٌعَلَيْكُمْ তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। وَإِلَيْهِ مَتَابِ আমি তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করছি। أَفَلَمْيَيْئَسْ-এটা কি তাদের কাছে প্রকাশ পায়নি, قَارِعَةٌ আকস্মিক বিপদ فَأَمْلَيْتُ আমি অবকাশ দিয়েছি। مَلِيِّ ও مِلَاوَةٌ হতে পঠিত। সে অর্থে مَلِيًّا ব্যবহৃত। প্রশস্ত ও দীর্ঘ যমীনকে مَلًى مِنَ الْأَرْضِ বলা হয়। أَشَقُّ (অধিক কঠিন) اِسْمِ تَفْضِيْلَ-مَشَقَّةِ থেকে গঠিত। مُعَقِّبَ পরিবর্তনশীল। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتَجَاوِرَاتٌ অর্থ, কিছু জমি কৃষি উপযোগী এবং কিছু জমি কৃষির অনুপযোগী। আর তাতে একটা থেকে দুই বা ততোধিক খেজুর গাছ উৎপন্ন হয় এবং কতিপয় যমীনে পৃথক পৃথকভাবে উৎপন্ন হয়। সেরূপ অবস্থা আদম (আঃ)-এর সন্তানদের। কেউ নেক্কার আর কেউ বদকার, অথচ সকলেই আদমের সন্তান। السَّحَابُ الثِّقَالُ পানিতে পূর্ণ মেঘমালা। كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি মুখ দিয়ে পানি চায় এবং হাত দিয়ে পানির দিকে ইশারা করে। তারপর সে সর্বদা তা থেকে বঞ্চিত থাকে। سَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا নানাসমূহ তার পরিমাণ মাফিক প্রবাহিত হয়ে ’’বাতনে ওয়াদী’’[1] কে ভরে দেয়। زَبَدًا رَابِيًا প্রবাহিত ফেনা। লোহা ও অলংকার উত্তপ্ত করা হলে যেমন ময়লা বের হয়ে আসে।
৪৬৯৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’ইল্ম গায়েব-এর চাবিকাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ্ ভিন্ন কেউ জানে না। তা হলোঃ আগামী দিন কী হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। মায়ের জরায়ুতে কী আছে, তা আল্লাহ্ ভিন্ন আর কেউ জানে না। বৃষ্টি কখন আসবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। কোন ব্যক্তি জানে না তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কবে সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। [১০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৬)
নোট: [1] মদীনাহর পূর্বদিকে অবস্থিত একটি উপত্যকা।