অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৫/১/১. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে।
মোট ৫০৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৭১৪
সহিহ (Sahih)
عمرو بن علي حدثنا يحيى حدثنا سفيان حدثني سليمان عن ابراهيم عن ابي معمر عن عبد الله (الى ربهم الوسيلة) قال كان ناس من الانس يعبدون ناسا من الجن فاسلم الجن وتمسك هولاء بدينهم زاد الاشجعي عن سفيان عن الاعمش (قل ادعوا الذين زعمتم)
৪৭১৪. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। إِلٰى رَبِّهِمْ الْوَسِيْلَةَ তিনি আয়াতটি সম্পর্কে বলেন, কিছু মানুষ কিছু জিনের ’ইবাদাত করত। সেই জিনেরা তো ইসলাম গ্রহণ করে ফেলল। আর ঐ লোকজন তাদের (পুরাতন) ধর্ম আঁকড়ে রইল। আশজা’য়ী সুফ্ইয়ানের সূত্রে আ’মাশ (রাঃ) থেকে قُلِ ادْعُوا الَّذِيْنَ زَعَمْتُمْ আয়াতটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেন। [৪৭১৫, মুসলিম ৫৪/৪, হাঃ ৩০৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫৫)
হাদিস নং: ৪৭১৫
সহিহ (Sahih)
بشر بن خالد اخبرنا محمد بن جعفر عن شعبة عن سليمان عن ابراهيم عن ابي معمر عن عبد الله رضي الله عنه في هذه الاية (الذين يدعون يبتغون الى ربهم الوسيلة) قال : ناس من الجن يعبدون فاسلموا
৪৭১৫. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ يَبْتَغُوْنَ إِلٰى رَبِّهِمُ الْوَسِيْلَةَ এ আয়াতটি সম্পর্কে বলেন, কিছু লোক জিনের পূজা করত। পরে জিনগুলো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করল। তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। [৪৭১৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫৬)
হাদিস নং: ৪৭১৬
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن عمرو عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنه (وما جعلنا الرويا التيٓ اريناك الا فتنة للناس) قال هي رويا عين اريها رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة اسري به (والشجرة الملعونة) شجرة الزقوم
৪৭১৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِيْٓ أَرَيْنَاكَ إِلَّا فِتْنَةً لِّلنَّاسِ এ আয়াত সম্পর্কে বলেন, এ আয়াতে رُؤْيَا (স্বপ্নে দেখা নয়, বরং) চোখ দ্বারা সরাসরি দেখা বোঝানো হয়েছে, যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মি’রাজের রাতে সরাসরি দেখানো হয়েছিল। আর এখানে الشَّجَرَةَ الْمَلْعُوْنَةَ (অভিশপ্ত বৃক্ষ) বলতে ’যাক্কুম’[1] বৃক্ষ বোঝানো হয়েছে। [৩৮৮৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫৭)
নোট: [1] ‘যাক্কুম; বৃক্ষ, যা জাহান্নামীদের খাদ্য হবে। আল্লাহর বাণী ‘‘নিশ্চয়ই ‘যাক্কুম’ বৃক্ষ হবে পাপীদের খাদ্য। গলিত তাম্রের ক্ষত, তা তাদের উদরে ফুটতে থাকবে’’- (সূরাহ আল-ফুরকান ২৫/৪৩-৪৫)। জাহান্নামের এ বৃক্ষ এবং ‘মি’রাজ উভয়ই অলৌকিক ব্যাপার। আল্লাহ্ পরীক্ষা করেন। কে এটা বিশ্বাস করে, আর কে করে না।
হাদিস নং: ৪৭১৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن الزهري عن ابي سلمة وابن المسيب عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فضل صلاة الجميع على صلاة الواحد خمس وعشرون درجة وتجتمع ملاىكة الليل وملاىكة النهار في صلاة الصبح يقول ابو هريرة اقرءوا ان شىتم (وقران الفجر ان قران الفجر كان مشهودا).
قَالَ مُجَاهِدٌ صَلَاةَ الْفَجْرِ.
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الفَجْرِ দ্বারা এখানে ’সালাতে ফাজর’ বোঝানো হয়েছে।
৪৭১৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জামা’আতের সঙ্গে সালাত আদায় করার ফাযীলাত একাকী সালাত পড়ার চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশী। আর ফজরের সালাতে রাতের মালায়িকা এবং দিনের মালায়িকা সমবেত হয় (এ প্রসঙ্গে) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াতটি পড়ে নিতে পার।وَقُرْاٰنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْاٰنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوْدًا (নিশ্চয় কায়িম করবে) ’’ফজরের সালাত, ফজরের সালাত’’ সাক্ষ্য হিসেবে পেশ করা হয়। [১৭৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫৮)
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, الفَجْرِ দ্বারা এখানে ’সালাতে ফাজর’ বোঝানো হয়েছে।
৪৭১৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জামা’আতের সঙ্গে সালাত আদায় করার ফাযীলাত একাকী সালাত পড়ার চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশী। আর ফজরের সালাতে রাতের মালায়িকা এবং দিনের মালায়িকা সমবেত হয় (এ প্রসঙ্গে) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াতটি পড়ে নিতে পার।وَقُرْاٰنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْاٰنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوْدًا (নিশ্চয় কায়িম করবে) ’’ফজরের সালাত, ফজরের সালাত’’ সাক্ষ্য হিসেবে পেশ করা হয়। [১৭৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫৮)
হাদিস নং: ৪৭১৮
সহিহ (Sahih)
اسماعيل بن ابان حدثنا ابو الاحوص عن ادم بن علي قال سمعت ابن عمر رضي الله عنهما يقول ان الناس يصيرون يوم القيامة جثا كل امة تتبع نبيها يقولون يا فلان اشفع يا فلان اشفع حتى تنتهي الشفاعة الى النبي صلى الله عليه وسلم فذلك يوم يبعثه الله المقام المحمود
৪৭১৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন লোকেরা ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। প্রত্যেক নবীর উম্মাত স্বীয় নবীর অনুসরণ করবে। তারা বলবেঃ হে অমুক (নবী)! আপনি সুপারিশ করুন। হে অমুক (নবী)! আপনি সুপারিশ করুন। (কেউ সুপারিশ করতে চাইবেন না)। শেষ পর্যন্ত সুপারিশের দায়িত্ব নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর পড়বে। আর এ দিনেই আল্লাহ্ তা’আলা তাঁকে মাকামে মাহমূদ [1]-এ পৌঁছাবেন। [১৪৭৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫৮)
নোট: [1] ‘মাকামে মাহমূদ’ হচ্ছে একমাত্র রাসূলুল্লাহ এর জন্য জান্নাতে এক বিশেষ মর্যাদার স্থান যা আর কাউকে দেয়া হবে না। মাকামে মাহমূদ এর অনুবাদ প্রশংসিত স্থান করলে এর পূর্ণ ভাব আদায় হয় না বিধায় একে মাকামে মাহমূদ নামেই বলা যথাযোগ্য।
হাদিস নং: ৪৭১৯
সহিহ (Sahih)
علي بن عياش حدثنا شعيب بن ابي حمزة عن محمد بن المنكدر عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من قال حين يسمع النداء اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلاة القاىمة ات محمدا الوسيلة والفضيلة وابعثه مقاما محمودا الذي وعدته حلت له شفاعتي يوم القيامة رواه حمزة بن عبد الله عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم
৪৭১৯. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আযান শোনার পর এ দু’আ পড়বে, ’’হে আল্লাহ্! এ পরিপূর্ণ আহবানের এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াসীলা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান কর, প্রতিষ্ঠিত কর তাঁকে মাকামে মাহমূদে, যার ওয়াদা তুমি করেছ’’ কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফা’আত অবধারিত হয়ে যাবে। এ হাদীসটি হামযা ইবনু ’আবদুল্লাহ্ তাঁর পিতা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [৬১৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬০)
হাদিস নং: ৪৭২০
সহিহ (Sahih)
الحميدي حدثنا سفيان عن ابن ابي نجيح عن مجاهد عن ابي معمر عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة وحول البيت ستون وثلاث ماىة نصب فجعل يطعنها بعود في يده ويقول (جاء الحق وزهق الباطل ان الباطل كان زهوقا) جاء الحق وما يبدى الباطل وما يعيد.
(يَزْهَقُ) : يَهْلِكُ.
يَزْهَقُ ধ্বংস হবে।
৪৭২০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। (মক্কা বিজয়ের দিন) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা্য় প্রবেশ করলেন, তখন কা’বা ঘরের চারপাশে তিনশ’ ষাটটি মূর্তি ছিল। তখন তিনি তাঁর হাতের ছড়ি দিয়ে এগুলোকে ঠোকা দিতে লাগলেন এবং বলতে থাকলেন, ’’সত্য এসেছে আর এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই’’- (সূরাহ ইসরাঈল ১৭/৮১)। ’’সত্য এসেছে আর অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে এবং না পারে পুনরাবৃত্তি করতে।’’ [২৪৭৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬১)
يَزْهَقُ ধ্বংস হবে।
৪৭২০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। (মক্কা বিজয়ের দিন) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা্য় প্রবেশ করলেন, তখন কা’বা ঘরের চারপাশে তিনশ’ ষাটটি মূর্তি ছিল। তখন তিনি তাঁর হাতের ছড়ি দিয়ে এগুলোকে ঠোকা দিতে লাগলেন এবং বলতে থাকলেন, ’’সত্য এসেছে আর এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই’’- (সূরাহ ইসরাঈল ১৭/৮১)। ’’সত্য এসেছে আর অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে এবং না পারে পুনরাবৃত্তি করতে।’’ [২৪৭৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬১)
হাদিস নং: ৪৭২১
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي حدثنا الاعمش قال حدثني ابراهيم عن علقمة عن عبد الله رضي الله عنه قال بينا انا مع النبي صلى الله عليه وسلم في حرث وهو متكى على عسيب اذ مر اليهود فقال بعضهم لبعض سلوه عن الروح فقال ما رايكم اليه وقال بعضهم لا يستقبلكم بشيء تكرهونه فقالوا سلوه فسالوه عن الروح فامسك النبي صلى الله عليه وسلم فلم يرد عليهم شيىا فعلمت انه يوحى اليه فقمت مقامي فلما نزل الوحي قال (ويسىلونك عن الروح ط قل الروح من امر ربي وما اوتيتم من العلم الا قليلا)
৪৭২১. ’আবদুল্লাহ্ বিন মাস’ঊদ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একটি ক্ষেতের মাঝে উপস্থিত ছিলাম। তিনি একটি খেজুরের লাঠিতে ভর করে দাঁড়িয়েছিলেন। এমন সময় কিছু সংখ্যক ইয়াহূদী যাচ্ছিল। তারা একে অন্যকে বলতে লাগল, তাঁকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। কেউ বলল, কেন তাকে জিজ্ঞেস করতে চাইছ? আবার কেউ বলল, তিনি এমন উত্তর দিবেন না, যা তোমরা অপছন্দ কর। তারপর তারা বলল যে, তাঁকে প্রশ্ন কর। এরপরে তাঁকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উত্তরদানে) বিরত থাকলেন, এ সম্পর্কে তাদের কোন উত্তর দিলেন না।
(বর্ণনাকারী বলছেন) আমি বুঝতে পারলাম, তাঁর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হবে। আমি আমার জাযগায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হল, তখন তিনি [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, وَيَسْئَلُوْنَكَ عَنِ الرُّوْحِ قُلِ الرُّوْحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّيْ وَمَآ أُوْتِيْتُمْ مِّنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيْلًا ’’আর তারা আপনাকে ’রূহ’ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। আপনি বলে দিনঃ রূহ আমার রবের আদেশঘটিত। এ বিষয়ে তোমাদেরকে খুব সামান্যই জ্ঞান দেয়া হয়েছে’’- (সূরাহ বনী ইসরাঈল ১৭/৮৫)।[১২৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬২)
(বর্ণনাকারী বলছেন) আমি বুঝতে পারলাম, তাঁর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হবে। আমি আমার জাযগায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হল, তখন তিনি [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, وَيَسْئَلُوْنَكَ عَنِ الرُّوْحِ قُلِ الرُّوْحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّيْ وَمَآ أُوْتِيْتُمْ مِّنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيْلًا ’’আর তারা আপনাকে ’রূহ’ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। আপনি বলে দিনঃ রূহ আমার রবের আদেশঘটিত। এ বিষয়ে তোমাদেরকে খুব সামান্যই জ্ঞান দেয়া হয়েছে’’- (সূরাহ বনী ইসরাঈল ১৭/৮৫)।[১২৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬২)
হাদিস নং: ৪৭২২
সহিহ (Sahih)
يعقوب بن ابراهيم حدثنا هشيم حدثنا ابو بشر عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى (ولا تجهر بصلاتك ولا تخافت بها) قال نزلت ورسول الله صلى الله عليه وسلم مختف بمكة كان اذا صلى باصحابه رفع صوته بالقران فاذا سمعه المشركون سبوا القران ومن انزله ومن جاء به فقال الله تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم(ولا تجهر بصلاتك)اي بقراءتك فيسمع المشركون فيسبوا القران (ولا تخافت بها)عن اصحابك فلا تسمعهم وابتغ بين ذلك سبيلا
৪৭২২. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’সালাতে স্বর উঁচু করবে না এবং অতিশয় নিচুও করবে না। এ আয়াতটি এমন সময় নাযিল হয়, যখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় অপ্রকাশ্যে অবস্থান করছিলেন। তিনি যখন তাঁর সাহাবাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন তখন তিনি উচ্চেঃস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা তা শুনে কুরআনকে গালি দিত। আর গালি দিত যিনি তা অবতীর্ণ করেছেন তাঁকে (আল্লাহকে) এবং যিনি তা নিয়ে এসেছেন তাকে (জিব্রীল)। এজন্য আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেছিলেন, ’’তুমি তোমার সালাতে উচ্চস্বরে কিরাআত পড়বে না, যাতে মুশরিকরা শুনে কুরআনকে গালি দেয় এবং তা এত নিচু স্বরেও পড়বে না, যাতে তোমার সাহাবীরা শুনতে না পায়, বরং এ দুয়ের মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন কর।’’ [৭৪৯০, ৭৫২৫, ৭৫৪৭; মুসলিম ৪/৩১, হাঃ ৪৪৬, আহমাদ ১৮৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬৩)
হাদিস নং: ৪৭২৩
সহিহ (Sahih)
طلق بن غنام حدثنا زاىدة عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت انزل ذلك في الدعاء
৪৭২৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا এ আয়াতটি দু’আ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। [৬৩২৭, ৭৫২৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬৪)
হাদিস নং: ৪৭২৪
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا يعقوب بن ابراهيم بن سعد حدثنا ابي عن صالح عن ابن شهاب قال اخبرني علي بن حسين ان حسين بن علي اخبره عن علي رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم طرقه وفاطمة قال الا تصليان.(رجمامبالغيب) لم يستبن (فرطا) يقال ندما (سرادقها) مثل السرادق والحجرة التي تطيف بالفساطيط (يحاوره”) من المحاورة [اشار به قوله تعالى : (وكان له” ثمر فقال لصاحبه وهو يحاوره”) الاية قوله : من المحاورة يعني : لفظ يحاوره مشتق من المحاورة وهي المراجعة، وفي التفسير : يحاوره، اي : يجاوبه]. (لكنا هو الله ربي) اي لكن انا هو الله ربي ثم حذف الالف وادغم احدى النونين في الاخرى (وفجرنا خلالهما نهرا) يقول بينهما (زلقا) لا يثبت فيه قدم (هنالكالولاية) مصدر الولي (عقبا) عاقبة وعقبى وعقبة واحد وهي الاخرة (قبلا) وقبلا وقبلا استىنافا (ليدحضوا) ليزيلوا الدحض الزلق
(18) سُوْرَةُ الْكَهْفِ
সূরাহ (১৮) : আল-কাহফ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ (تَقْرِضُهُمْ) تَتْرُكُهُمْ (وَكَانَ لَه” ثُمُرٌ)ذَهَبٌ وَفِضَّةٌ وَقَالَ غَيْرُهُ جَمَاعَةُ الثَّمَرِ (بَاخِعٌ) مُهْلِكٌ (أَسَفًا) نَدَمًا (الْكَهْفُ)الْفَتْحُ فِي الْجَبَلِ (وَالرَّقِيْمُ)الْكِتَابُ مَرْقُوْمٌ مَكْتُوْبٌ مِنْ الرَّقْمِ (رَبَطْنَاعَلٰى قُلُوْبِهِمْ) أَلْهَمْنَاهُمْ صَبْرًا (لَوْلَآ أَنْ رَّبَطْنَا عَلٰى قَلْبِهَا شَطَطًا) إِفْرَاطًا (الْوَصِيْدُ) الْفِنَاءُ جَمْعُهُ وَصَائِدُ وَوُصُدٌ وَيُقَالُ الْوَصِيْدُ الْبَابُ مُؤْصَدَةٌ مُطْبَقَةٌ آصَدَ الْبَابَ وَأَوْصَدَ (بَعَثْنَاهُمْ)أَحْيَيْنَاهُمْ (أَزْكٰى) أَكْثَرُ وَيُقَالُ أَحَلُّ وَيُقَالُ أَكْثَرُ رَيْعًا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (أُكْلَهَا وَلَمْ تَظْلِمْ) لَمْ تَنْقُصْ وَقَالَ سَعِيْدٌ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ (الرَّقِيْمُ) اللَّوْحُ مِنْ رَصَاصٍ كَتَبَ عَامِلُهُمْ أَسْمَاءَهُمْ ثُمَّ طَرَحَهُ فِيْ خِزَانَتِهِ (فَضَرَبَ اللهُ عَلٰى اٰذَانِهِمْ) فَنَامُوْا وَقَالَ غَيْرُهُ وَأَلَتْ تَئِلُ تَنْجُوْ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مَوْئِلًا) مَحْرِزًا (لَا يَسْتَطِيْعُوْنَ سَمْعًا)لَا يَعْقِلُوْنَ.
মুজাহিদ (রহ.) বলেন تَقْرِضُهُمْ তাদের ছেড়ে যায়। وَكَانَ لَه ثُمُرٌ স্বর্ণ, রৌপ্য। অন্য হতে বর্ণিত যে, এটি الثَّمَرُ-এর বহুবচন। بَاخِعٌ ধ্বংসকারী أَسَفًا লজ্জায়। الْكَهْفُ পর্বতের গুহা। وَالرَّقِيْمُ লিপিবদ্ধ। مَرْقُوْمٌ লিখিত। الرَّقْمُ [1] থেকে গঠিত। رَبَطْنَا عَلٰى قُلُوْبِهِمْ আমি তাদের অন্তরে সবর ঢেলে দিলাম। (অন্যত্র আল্লাহ্ তা’আলা বলেন) لَوْلَآ أَنْ رَّبَطْنَا عَلٰى قَلْبِهَا (যদি আমি তাঁর অন্তরে সবর ঢেলে না দিতাম) شَطَطًا সীমা অতিক্রম।
الْوَصِيْدُ আঙ্গিণা, এর বহুবচন وَصَائِدُ وَوُصُدٌ আর বলা হয় الْوَصِيْدُ দরজা, مَوْصَدَةَ আবদ্ধ ও আটকানো, آصَدَ الْبَابَ وَأَوْصَدَه উভয়ই ব্যবহার হয়। بَعَثْنَاهُمْ আমি তাদের জীবিত করলাম। أَزْكٰى প্রাচুর্য বলা হয় أَحَلُّ যা অধিক হালাল অর্থে ব্যবহৃত এবং বলা হয়, أَكْثَرُرَيْعًا অধিক পরিবর্ধিত। ইবনু ’আব্বাস(রাঃ) বলেন, أُكْلَهَا অর্থাৎ ফল وَلَمْتَظْلِمْ ফলহ্রাস পায়নি। সা’ঈদ (রহ.).....ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, الرَّقِيْمُ সীসার তৈরি ফলক; যার ওপর সে সময়ের রাজাদের নাম খোদিত করে এবং পরে তাঁর কোষাগারে রেখে দিত। فَضَرَبَ اللهُ عَلٰىاٰذَانِهِمْ তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেন। অন্যগণ বলেন, وَأَلَتْ تَئِلُ তোমরা নাজাহত পাবে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مَوْئِلًا সংরক্ষিত স্থান। لَا يَسْتَطِيْعُوْنَ سَمْعًا তারা বুঝে না।
৪৭২৪. ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা রাতের বেলা তাঁর ও ফাতেমাহ (রাঃ)-এর কাছে এসে বললেন, তোমরা কি সালাত আদায় করছ না?[1] رَجْمًامبِالْغَيْبِ ব্যাপারটি অস্পষ্ট ছিল। فُرُطًا লজ্জিত। سُرَادِقُهَا তার বেষ্টনীর মত। অর্থাৎ ক্ষুদ্র কক্ষসমূহ, যা তাঁবু পরিবেষ্টন করে রেখেছে। يُحَاوِرُهচ শব্দটি مُحَاوَرَةِ থেকে গঠিত। অর্থ কথার-আদান-প্রদান। لٰكِنَّا هُوَ اللهُ رَبِّيْ (কিন্তু আল্লাহ্ই আমার প্রতিপালক।) এখানে আসলে ছিল لَكِنَّ أَنَا هُوَ اللهُ رَبِّيْ কিন্তু ’হামযাহ’ লোপ করে একটা ’নুন’ আর একটি ’নুনের’ সঙ্গে এদ্গাম যুক্ত করে দেয়া হয়েছে زَلَقًا অর্থ, যার ওপর পা টিকে থাকে না। هُنَالِكَالْوِلَايَةُ (এ ক্ষেত্রে সাহায্য করার অধিকার)[2] الْوِلَايَةُ এটি وَلِيِّ শব্দের মাসদার عُقْبَةً-عُقْبَى-عَاقِبَةً-عُقُبًا সবগুলো এই অর্থে ব্যবহৃত। এর অর্থ আখিরাত। قَبْلًا-قُبُلًا-قِبْلًا সম্মুখ لِيُدْحِضُوْا (সূচনা করা) الدَّحْضُ থেকে গঠিত। দূরীভূত করা, অর্থ পদস্খলন। [১১২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬৫)
সূরাহ (১৮) : আল-কাহফ
وَقَالَ مُجَاهِدٌ (تَقْرِضُهُمْ) تَتْرُكُهُمْ (وَكَانَ لَه” ثُمُرٌ)ذَهَبٌ وَفِضَّةٌ وَقَالَ غَيْرُهُ جَمَاعَةُ الثَّمَرِ (بَاخِعٌ) مُهْلِكٌ (أَسَفًا) نَدَمًا (الْكَهْفُ)الْفَتْحُ فِي الْجَبَلِ (وَالرَّقِيْمُ)الْكِتَابُ مَرْقُوْمٌ مَكْتُوْبٌ مِنْ الرَّقْمِ (رَبَطْنَاعَلٰى قُلُوْبِهِمْ) أَلْهَمْنَاهُمْ صَبْرًا (لَوْلَآ أَنْ رَّبَطْنَا عَلٰى قَلْبِهَا شَطَطًا) إِفْرَاطًا (الْوَصِيْدُ) الْفِنَاءُ جَمْعُهُ وَصَائِدُ وَوُصُدٌ وَيُقَالُ الْوَصِيْدُ الْبَابُ مُؤْصَدَةٌ مُطْبَقَةٌ آصَدَ الْبَابَ وَأَوْصَدَ (بَعَثْنَاهُمْ)أَحْيَيْنَاهُمْ (أَزْكٰى) أَكْثَرُ وَيُقَالُ أَحَلُّ وَيُقَالُ أَكْثَرُ رَيْعًا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (أُكْلَهَا وَلَمْ تَظْلِمْ) لَمْ تَنْقُصْ وَقَالَ سَعِيْدٌ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ (الرَّقِيْمُ) اللَّوْحُ مِنْ رَصَاصٍ كَتَبَ عَامِلُهُمْ أَسْمَاءَهُمْ ثُمَّ طَرَحَهُ فِيْ خِزَانَتِهِ (فَضَرَبَ اللهُ عَلٰى اٰذَانِهِمْ) فَنَامُوْا وَقَالَ غَيْرُهُ وَأَلَتْ تَئِلُ تَنْجُوْ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مَوْئِلًا) مَحْرِزًا (لَا يَسْتَطِيْعُوْنَ سَمْعًا)لَا يَعْقِلُوْنَ.
মুজাহিদ (রহ.) বলেন تَقْرِضُهُمْ তাদের ছেড়ে যায়। وَكَانَ لَه ثُمُرٌ স্বর্ণ, রৌপ্য। অন্য হতে বর্ণিত যে, এটি الثَّمَرُ-এর বহুবচন। بَاخِعٌ ধ্বংসকারী أَسَفًا লজ্জায়। الْكَهْفُ পর্বতের গুহা। وَالرَّقِيْمُ লিপিবদ্ধ। مَرْقُوْمٌ লিখিত। الرَّقْمُ [1] থেকে গঠিত। رَبَطْنَا عَلٰى قُلُوْبِهِمْ আমি তাদের অন্তরে সবর ঢেলে দিলাম। (অন্যত্র আল্লাহ্ তা’আলা বলেন) لَوْلَآ أَنْ رَّبَطْنَا عَلٰى قَلْبِهَا (যদি আমি তাঁর অন্তরে সবর ঢেলে না দিতাম) شَطَطًا সীমা অতিক্রম।
الْوَصِيْدُ আঙ্গিণা, এর বহুবচন وَصَائِدُ وَوُصُدٌ আর বলা হয় الْوَصِيْدُ দরজা, مَوْصَدَةَ আবদ্ধ ও আটকানো, آصَدَ الْبَابَ وَأَوْصَدَه উভয়ই ব্যবহার হয়। بَعَثْنَاهُمْ আমি তাদের জীবিত করলাম। أَزْكٰى প্রাচুর্য বলা হয় أَحَلُّ যা অধিক হালাল অর্থে ব্যবহৃত এবং বলা হয়, أَكْثَرُرَيْعًا অধিক পরিবর্ধিত। ইবনু ’আব্বাস(রাঃ) বলেন, أُكْلَهَا অর্থাৎ ফল وَلَمْتَظْلِمْ ফলহ্রাস পায়নি। সা’ঈদ (রহ.).....ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, الرَّقِيْمُ সীসার তৈরি ফলক; যার ওপর সে সময়ের রাজাদের নাম খোদিত করে এবং পরে তাঁর কোষাগারে রেখে দিত। فَضَرَبَ اللهُ عَلٰىاٰذَانِهِمْ তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেন। অন্যগণ বলেন, وَأَلَتْ تَئِلُ তোমরা নাজাহত পাবে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مَوْئِلًا সংরক্ষিত স্থান। لَا يَسْتَطِيْعُوْنَ سَمْعًا তারা বুঝে না।
৪৭২৪. ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা রাতের বেলা তাঁর ও ফাতেমাহ (রাঃ)-এর কাছে এসে বললেন, তোমরা কি সালাত আদায় করছ না?[1] رَجْمًامبِالْغَيْبِ ব্যাপারটি অস্পষ্ট ছিল। فُرُطًا লজ্জিত। سُرَادِقُهَا তার বেষ্টনীর মত। অর্থাৎ ক্ষুদ্র কক্ষসমূহ, যা তাঁবু পরিবেষ্টন করে রেখেছে। يُحَاوِرُهচ শব্দটি مُحَاوَرَةِ থেকে গঠিত। অর্থ কথার-আদান-প্রদান। لٰكِنَّا هُوَ اللهُ رَبِّيْ (কিন্তু আল্লাহ্ই আমার প্রতিপালক।) এখানে আসলে ছিল لَكِنَّ أَنَا هُوَ اللهُ رَبِّيْ কিন্তু ’হামযাহ’ লোপ করে একটা ’নুন’ আর একটি ’নুনের’ সঙ্গে এদ্গাম যুক্ত করে দেয়া হয়েছে زَلَقًا অর্থ, যার ওপর পা টিকে থাকে না। هُنَالِكَالْوِلَايَةُ (এ ক্ষেত্রে সাহায্য করার অধিকার)[2] الْوِلَايَةُ এটি وَلِيِّ শব্দের মাসদার عُقْبَةً-عُقْبَى-عَاقِبَةً-عُقُبًا সবগুলো এই অর্থে ব্যবহৃত। এর অর্থ আখিরাত। قَبْلًا-قُبُلًا-قِبْلًا সম্মুখ لِيُدْحِضُوْا (সূচনা করা) الدَّحْضُ থেকে গঠিত। দূরীভূত করা, অর্থ পদস্খলন। [১১২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬৫)
নোট: [1] رَّقِيْمُ লিখিত ফলক। গুহাবাসীর পরিচিতি এতে খোদাই করা ছিল।
[1] সালাত-এর মর্ম ‘তাহাজ্জুদের সালাত’ (পরবর্তীতে) ‘আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ আমাদের জেগে তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ের তাওফীক দান করেননি। তখন রসূলুল্লাহ্ وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا এ আয়াত পড়ে চলে গেলেন। (বুখারী, ১ম খন্ড, তাহাজ্জুদ অধ্যায়)।
[2] هُنَالِكَ الْوِلَايَةُ لُلّه الحق অর্থ, এ ক্ষেত্রে সাহায্য করার অধিকার একমাত্র আল্লাহরই। (সূরাহ হিজর ১৫/৪৪)
[1] সালাত-এর মর্ম ‘তাহাজ্জুদের সালাত’ (পরবর্তীতে) ‘আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ আমাদের জেগে তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ের তাওফীক দান করেননি। তখন রসূলুল্লাহ্ وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا এ আয়াত পড়ে চলে গেলেন। (বুখারী, ১ম খন্ড, তাহাজ্জুদ অধ্যায়)।
[2] هُنَالِكَ الْوِلَايَةُ لُلّه الحق অর্থ, এ ক্ষেত্রে সাহায্য করার অধিকার একমাত্র আল্লাহরই। (সূরাহ হিজর ১৫/৪৪)
হাদিস নং: ৪৭২৫
সহিহ (Sahih)
الحميدي حدثنا سفيان حدثنا عمرو بن دينار قال اخبرني سعيد بن جبير قال قلت لابن عباس ان نوفا البكالي يزعم ان موسى صاحب الخضر ليس هو موسى صاحب بني اسراىيل فقال ابن عباس كذب عدو الله حدثني ابي بن كعب انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان موسى قام خطيبا في بني اسراىيل فسىل اي الناس اعلم فقال انا فعتب الله عليه اذ لم يرد العلم اليه فاوحى الله اليه ان لي عبدا بمجمع البحرين هو اعلم منك قال موسى يا رب فكيف لي به قال تاخذ معك حوتا فتجعله في مكتل فحيثما فقدت الحوت فهو ثم فاخذ حوتا فجعله في مكتل ثم انطلق وانطلق معه بفتاه يوشع بن نون حتى اذا اتيا الصخرة وضعا رءوسهما فناما واضطرب الحوت في المكتل فخرج منه فسقط في البحر فاتخذ سبيله في البحر سربا وامسك الله عن الحوت جرية الماء فصار عليه مثل الطاق فلما استيقظ نسي صاحبه ان يخبره بالحوت فانطلقا بقية يومهما وليلتهما حتى اذا كان من الغد قال موسى لفتاه اتنا غداءنا لقد لقينا من سفرنا هذا نصبا قال ولم يجد موسى النصب حتى جاوزا المكان الذي امر الله به فقال له فتاه ارايت اذ اوينا الى الصخرة فاني نسيت الحوت وما انسانيه الا الشيطان ان اذكره واتخذ سبيله في البحر عجبا قال فكان للحوت سربا ولموسى ولفتاه عجبا فقال موسى ذلك ما كنا نبغي فارتدا على اثارهما قصصا قال رجعا يقصان اثارهما حتى انتهيا الى الصخرة فاذا رجل مسجى ثوبا فسلم عليه موسى فقال الخضر وانى بارضك السلام قال انا موسى قال موسى بني اسراىيل قال نعم اتيتك لتعلمني مما علمت رشدا قال انك لن تستطيع معي صبرا يا موسى اني على علم من علم الله علمنيه لا تعلمه انت وانت على علم من علم الله علمكه الله لا اعلمه فقال موسى ستجدني ان شاء الله صابرا ولا اعصي لك امرا فقال له الخضر فان اتبعتني فلا تسالني عن شيء حتى احدث لك منه ذكرا فانطلقا يمشيان على ساحل البحر فمرت سفينة فكلموهم ان يحملوهم فعرفوا الخضر فحملوهم بغير نول فلما ركبا في السفينة لم يفجا الا والخضر قد قلع لوحا من الواح السفينة بالقدوم فقال له موسى قوم قد حملونا بغير نول عمدت الى سفينتهم فخرقتها لتغرق اهلها لقد جىت شيىا امرا قال الم اقل انك لن تستطيع معي صبرا قال لا تواخذني بما نسيت ولا ترهقني من امري عسرا.
قال : وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت الاولى من موسى نسيانا قال وجاء عصفور فوقع على حرف السفينة فنقر في البحر نقرة فقال له الخضر ما علمي وعلمك من علم الله الا مثل ما نقص هذا العصفور من هذا البحر ثم خرجا من السفينة فبينا هما يمشيان على الساحل اذ ابصر الخضر غلاما يلعب مع الغلمان فاخذ الخضر راسه بيده فاقتلعه بيده فقتله فقال له موسى اقتلت نفسا زاكية بغير نفس لقد جىت شيىا نكرا قال الم اقل لك انك لن تستطيع معي صبرا قال وهذه اشد من الاولى قال ان سالتك عن شيء بعدها فلا تصاحبني قد بلغت من لدني عذرا فانطلقا حتى اذا اتيا اهل قرية استطعما اهلها فابوا ان يضيفوهما فوجدا فيها جدارا يريد ان ينقض قال ماىل فقام الخضر فاقامه بيده فقال موسى قوم اتيناهم فلم يطعمونا ولم يضيفونا لو شىت لاتخذت عليه اجرا قال (هذا فراق بيني وبينك) الى قوله (ذلك تاويل ما لم تسطع عليه صبرا) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وددنا ان موسى كان صبر حتى يقص الله علينا من خبرهما.
قال سعيد بن جبير فكان ابن عباس يقرا وكان امامهم ملك ياخذ كل سفينة صالحة غصبا وكان يقرا (واما الغلام فكان كافرا وكان ابواه مومنين).
قال : وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت الاولى من موسى نسيانا قال وجاء عصفور فوقع على حرف السفينة فنقر في البحر نقرة فقال له الخضر ما علمي وعلمك من علم الله الا مثل ما نقص هذا العصفور من هذا البحر ثم خرجا من السفينة فبينا هما يمشيان على الساحل اذ ابصر الخضر غلاما يلعب مع الغلمان فاخذ الخضر راسه بيده فاقتلعه بيده فقتله فقال له موسى اقتلت نفسا زاكية بغير نفس لقد جىت شيىا نكرا قال الم اقل لك انك لن تستطيع معي صبرا قال وهذه اشد من الاولى قال ان سالتك عن شيء بعدها فلا تصاحبني قد بلغت من لدني عذرا فانطلقا حتى اذا اتيا اهل قرية استطعما اهلها فابوا ان يضيفوهما فوجدا فيها جدارا يريد ان ينقض قال ماىل فقام الخضر فاقامه بيده فقال موسى قوم اتيناهم فلم يطعمونا ولم يضيفونا لو شىت لاتخذت عليه اجرا قال (هذا فراق بيني وبينك) الى قوله (ذلك تاويل ما لم تسطع عليه صبرا) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وددنا ان موسى كان صبر حتى يقص الله علينا من خبرهما.
قال سعيد بن جبير فكان ابن عباس يقرا وكان امامهم ملك ياخذ كل سفينة صالحة غصبا وكان يقرا (واما الغلام فكان كافرا وكان ابواه مومنين).
(وَإِذْ قَالَ مُوْسٰى لِفَتَاهُ لَا أَبْرَحُ حَتّٰىٓأَبْلُغَ مَجْمَعَ الْبَحْرَيْنِ أَوْ أَمْضِيَ حُقُبًا) زَمَانًا وَجَمْعُهُ أَحْقَابٌ.
আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ স্মরণ কর, যখন মূসা স্বীয় যুবক সঙ্গীকে বলেছিলেনঃ আমি অবিরত চলতে থাকব যে পর্যন্ত না দুই সাগরের মিলনস্থলে পৌঁছি, অথবা এভাবে আমি দীর্ঘকাল চলতে থাকব। (সূরাহ কাহাফ ১৮/৬০)
حُقُبًا অর্থ যুগ, তার বহুবচন أَحْقَابٌ।
৪৭২৫. সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাসকে বললাম, নওফ আল-বাক্কালীর ধারণা, খাযিরের সাথী মূসা, তিনি বনী ইসরাঈলের নবী মূসা (আঃ) ছিলেন না। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহর দুশমন[1] মিথ্যা কথা বলেছে। [ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন] উবাই ইবনু কা’আব (রাঃ) আমাকে বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, মূসা (আঃ) একবার বনী ইসরাঈলের সম্মুখে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, কোন্ ব্যক্তি সবচেয়ে জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমি। এতে আল্লাহ্ তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা এ জ্ঞানের ব্যাপারটিকে তিনি আল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত করেননি। আল্লাহ্ তাঁর প্রতি ওয়াহী পাঠালেন, দু-সমুদ্রের সংযোগস্থলে আমার এক বান্দা রয়েছে, সে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। মূসা (আঃ) বললেন, ইয়া রব, আমি কীভাবে তাঁর সাক্ষাৎ পেতে পারি? আল্লাহ্ বললেন, তোমার সঙ্গে একটি মাছ নাও এবং সেটা থলের মধ্যে রাখ, যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে সেখানেই। তারপর তিনি একটি মাছ নিলেন এবং সেটাকে থলের মধ্যে রাখলেন। অতঃপর রওনা দিলেন। আর সঙ্গে চললেন তাঁর খাদেম ’ইউশা’ ইবনু নূন।
তাঁরা যখন সমুদ্রের ধারে একটি বড় পাথরের কাছে এসে হাজির হলেন, তখন তারা উভয়েই তার ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় মাছটি থলের ভিতর লাফিয়ে উঠল এবং থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে চলে গেল। ’’মাছটি সুড়ঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল।’’ আর মাছটি যেখান দিয়ে চলে গিয়েছিল, আল্লাহ্ সেখান থেকে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দিলেন এবং সেখানে একটি সুড়ঙ্গের মত হয় গেল। যখন তিনি জাগ্রত হলেন, তাঁর সাথী তাঁকে মাছটির সংবাদ দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। সেদিনের বাকী সময় ও পরবর্তী রাত তাঁরা চললেন। যখন ভোর হল, মূসা (আঃ) তাঁর খাদিমকে বললেন ’আমাদের সকালের আহার আন, আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’’ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্ যে স্থানের[2] নির্দেশ করেছিলেন, সে স্থান অতিক্রম করার পূর্বে মূসা (আঃ) ক্লান্ত হননি। তখন তাঁর খাদিম তাঁকে বলল, ’’আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখন্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শায়ত্বনই এ কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটি বিস্ময়করভাবে নিজের পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল।’’
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাছটি তার পথ করে সমুদ্রে নেমে গিয়েছিল এবং মূসা (আঃ) ও তাঁর খাদেমকে তা আশ্চর্যান্বিত করে দিয়েছিল। মূসা (আঃ) বললেনঃ ’’আমরা তো সে স্থানটিরই খোঁজ করছিলাম। তারপর তাঁরা নিজদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চলল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারা উভয়ে তাঁদের পদচিহ্ন ধরে সে শিলাখন্ডের কাছে ফিরে আসলেন। সেখানে এক ব্যক্তিকে কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় পেলেন। মূসা (আঃ) তাকে সালাম দিলেন। খাযির (আঃ) বললেন, তোমাদের এ স্থলে ’সালাম’ আসলো কোত্থেকে? তিনি বললেন, আমি মূসা। খাযির (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, বনী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেন, হাঁ, আমি আপনার কাছে এসেছি এ জন্য যে, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন। তিনি বললেন, তুমি কিছুতেই আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে পারবে না।’’ হে মূসা! আল্লাহর জ্ঞান থেকে আমাকে এমন কিছু জ্ঞান দান করা হয়েছে যা তুমি জান না আর তোমাকে আল্লাহ্ তাঁর জ্ঞান থেকে যে জ্ঞান দান করেছেন, তা আমি জানি না।
মূসা (আঃ) বললেন, ’’ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করব না।’’ তখন খাযির (আঃ) তাঁকে বললেন, ’’আচ্ছা, তুমি যদি আমার অনুসরণ করই, তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবে না, যতক্ষণ আমি তোমাকে সে সম্পর্কে না বলি। তারপর উভয়ে চললেন।’’ তাঁরা সুমদ্রের পাড় ধরে চলতে লাগলেন, তখন একটি নৌকা যাচ্ছিল। তাঁরা তাদের নৌকায় উঠিয়ে নেয়ার ব্যাপারে নৌকার চালকদের সঙ্গে আলাপ করলেন। তারা খাযির (আঃ)-কে চিনে ফেলল। তাই তাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে নৌকায় উঠিয়ে নিল। ’’যখন তাঁরা উভয়ে নৌকায় উঠলেন’’ খাযির (আঃ) কুড়াল দিয়ে নৌকার একটি তক্তা ছিদ্র করে দিলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, এ লোকেরা তো বিনা মজুরিতে আমাদের বহন করছে, অথচ আপনি এদের নৌকাটি নষ্ট করছেন। আপনি নৌকাটি ছিদ্র করে ফেললেন, যাতে আরোহীরা ডুবে যায়। আপনি তো এক অন্যায় কাজ করলেন, (খাযির বললেন) আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না। মূসা বললেন, আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না ও আমার ব্যাপারে অতিরিক্ত কঠোরতা করবেন না।’’
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মূসা (আঃ)-এর প্রথম এ অপরাধটি ভুল করে হয়েছিল। তিনি বললেন, এরপরে একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার পার্শ্বে বসে ঠোঁট দিয়ে সমুদ্রে এক ঠোকর মারল। খাযির (আঃ) মূসা (আঃ)-কে বললেন, এ সমুদ্র হতে চড়ুই পাখিটি যতটুকু পানি ঠোঁটে নিল, আমার ও তোমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় ততটুকু। তারপর তাঁরা নৌকা থেকে নেমে সমুদ্রের পাড় ধরে চলতে লাগলেন। এমতাবস্থায় খাযির (আঃ) একটি বালককে অন্য বালকদের সঙ্গে খেলতে দেখলেন। খাযির (আঃ) হাত দিয়ে ছেলেটির মাথা ধরে তাকে হত্যা করলেন। মূসা (আঃ) খাযির (আঃ)-কে বললেন, ’’আপনি কি প্রাণের বদলা ব্যতিরেকেই নিষ্পাপ একটি প্রাণকে হত্যা করলেন? আপনি তো চরম এক অন্যায় কাজ করলেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবে না।’’
নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ অভিযোগটি ছিল প্রথমটির অপেক্ষাও মারাত্মক। [মূসা (আঃ) বললেন] এরপর যদি আমি আপনাকে কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করি তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না; আপনার কাছে আমার ওযর আপত্তি চূড়ান্তে পৌঁছেছে। তারপর উভয়ে চলতে লাগলেন। শেষে তারা এক বসতির কাছে পৌঁছে তার বাসিন্দাদের কাছে খাদ্য চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের আতিথেয়তা করতে অস্বীকৃতি জানাল। তারপর সেখানে তারা এক পতনোন্মুখ দেয়াল দেখতে পেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, সেটি ঝুঁকে পড়েছিল। খাযির (আঃ) নিজ হাতে সেটি সোজা করে দিলেন। মূসা (আঃ) বললেন, এ লোকদের কাছে আমরা এলাম, তারা আমাদের খাদ্য দিল না এবং আমাদের আতিথেয়তাও করল না। ’’আপনি তো ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। তিনি বললেন, এখানেই তোমার এবং আমার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটল। .....যে বিষয়ে তুমি ধৈর্যধারণ করতে পারনি, এ তার ব্যাখ্যা।’’
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার মনের বাসনা যে, যদি মূসা (আঃ) আর একটু ধৈর্যধারণ করতেন, তাহলে আল্লাহ্ তাঁদের আরও ঘটনা আমাদের জানাতেন। সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এভাবে এ আয়াত পাঠ করতেন- وَكَانَاَمَا مَهُمْ مَلِكٌيَّاخُذُ كُلَّ سَفِيْنَةٍ صَالِحَةً غَصْبًا
নিচের আয়াতটি এভাবে পাঠ করলেন- وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ كَافِرًا وَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ [৭৪]] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬৬)
আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ স্মরণ কর, যখন মূসা স্বীয় যুবক সঙ্গীকে বলেছিলেনঃ আমি অবিরত চলতে থাকব যে পর্যন্ত না দুই সাগরের মিলনস্থলে পৌঁছি, অথবা এভাবে আমি দীর্ঘকাল চলতে থাকব। (সূরাহ কাহাফ ১৮/৬০)
حُقُبًا অর্থ যুগ, তার বহুবচন أَحْقَابٌ।
৪৭২৫. সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাসকে বললাম, নওফ আল-বাক্কালীর ধারণা, খাযিরের সাথী মূসা, তিনি বনী ইসরাঈলের নবী মূসা (আঃ) ছিলেন না। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহর দুশমন[1] মিথ্যা কথা বলেছে। [ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন] উবাই ইবনু কা’আব (রাঃ) আমাকে বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, মূসা (আঃ) একবার বনী ইসরাঈলের সম্মুখে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, কোন্ ব্যক্তি সবচেয়ে জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমি। এতে আল্লাহ্ তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা এ জ্ঞানের ব্যাপারটিকে তিনি আল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত করেননি। আল্লাহ্ তাঁর প্রতি ওয়াহী পাঠালেন, দু-সমুদ্রের সংযোগস্থলে আমার এক বান্দা রয়েছে, সে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। মূসা (আঃ) বললেন, ইয়া রব, আমি কীভাবে তাঁর সাক্ষাৎ পেতে পারি? আল্লাহ্ বললেন, তোমার সঙ্গে একটি মাছ নাও এবং সেটা থলের মধ্যে রাখ, যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে সেখানেই। তারপর তিনি একটি মাছ নিলেন এবং সেটাকে থলের মধ্যে রাখলেন। অতঃপর রওনা দিলেন। আর সঙ্গে চললেন তাঁর খাদেম ’ইউশা’ ইবনু নূন।
তাঁরা যখন সমুদ্রের ধারে একটি বড় পাথরের কাছে এসে হাজির হলেন, তখন তারা উভয়েই তার ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় মাছটি থলের ভিতর লাফিয়ে উঠল এবং থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে চলে গেল। ’’মাছটি সুড়ঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল।’’ আর মাছটি যেখান দিয়ে চলে গিয়েছিল, আল্লাহ্ সেখান থেকে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দিলেন এবং সেখানে একটি সুড়ঙ্গের মত হয় গেল। যখন তিনি জাগ্রত হলেন, তাঁর সাথী তাঁকে মাছটির সংবাদ দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। সেদিনের বাকী সময় ও পরবর্তী রাত তাঁরা চললেন। যখন ভোর হল, মূসা (আঃ) তাঁর খাদিমকে বললেন ’আমাদের সকালের আহার আন, আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’’ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্ যে স্থানের[2] নির্দেশ করেছিলেন, সে স্থান অতিক্রম করার পূর্বে মূসা (আঃ) ক্লান্ত হননি। তখন তাঁর খাদিম তাঁকে বলল, ’’আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখন্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শায়ত্বনই এ কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটি বিস্ময়করভাবে নিজের পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল।’’
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাছটি তার পথ করে সমুদ্রে নেমে গিয়েছিল এবং মূসা (আঃ) ও তাঁর খাদেমকে তা আশ্চর্যান্বিত করে দিয়েছিল। মূসা (আঃ) বললেনঃ ’’আমরা তো সে স্থানটিরই খোঁজ করছিলাম। তারপর তাঁরা নিজদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চলল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারা উভয়ে তাঁদের পদচিহ্ন ধরে সে শিলাখন্ডের কাছে ফিরে আসলেন। সেখানে এক ব্যক্তিকে কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় পেলেন। মূসা (আঃ) তাকে সালাম দিলেন। খাযির (আঃ) বললেন, তোমাদের এ স্থলে ’সালাম’ আসলো কোত্থেকে? তিনি বললেন, আমি মূসা। খাযির (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, বনী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেন, হাঁ, আমি আপনার কাছে এসেছি এ জন্য যে, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন। তিনি বললেন, তুমি কিছুতেই আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে পারবে না।’’ হে মূসা! আল্লাহর জ্ঞান থেকে আমাকে এমন কিছু জ্ঞান দান করা হয়েছে যা তুমি জান না আর তোমাকে আল্লাহ্ তাঁর জ্ঞান থেকে যে জ্ঞান দান করেছেন, তা আমি জানি না।
মূসা (আঃ) বললেন, ’’ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করব না।’’ তখন খাযির (আঃ) তাঁকে বললেন, ’’আচ্ছা, তুমি যদি আমার অনুসরণ করই, তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবে না, যতক্ষণ আমি তোমাকে সে সম্পর্কে না বলি। তারপর উভয়ে চললেন।’’ তাঁরা সুমদ্রের পাড় ধরে চলতে লাগলেন, তখন একটি নৌকা যাচ্ছিল। তাঁরা তাদের নৌকায় উঠিয়ে নেয়ার ব্যাপারে নৌকার চালকদের সঙ্গে আলাপ করলেন। তারা খাযির (আঃ)-কে চিনে ফেলল। তাই তাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে নৌকায় উঠিয়ে নিল। ’’যখন তাঁরা উভয়ে নৌকায় উঠলেন’’ খাযির (আঃ) কুড়াল দিয়ে নৌকার একটি তক্তা ছিদ্র করে দিলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, এ লোকেরা তো বিনা মজুরিতে আমাদের বহন করছে, অথচ আপনি এদের নৌকাটি নষ্ট করছেন। আপনি নৌকাটি ছিদ্র করে ফেললেন, যাতে আরোহীরা ডুবে যায়। আপনি তো এক অন্যায় কাজ করলেন, (খাযির বললেন) আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না। মূসা বললেন, আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না ও আমার ব্যাপারে অতিরিক্ত কঠোরতা করবেন না।’’
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মূসা (আঃ)-এর প্রথম এ অপরাধটি ভুল করে হয়েছিল। তিনি বললেন, এরপরে একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার পার্শ্বে বসে ঠোঁট দিয়ে সমুদ্রে এক ঠোকর মারল। খাযির (আঃ) মূসা (আঃ)-কে বললেন, এ সমুদ্র হতে চড়ুই পাখিটি যতটুকু পানি ঠোঁটে নিল, আমার ও তোমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় ততটুকু। তারপর তাঁরা নৌকা থেকে নেমে সমুদ্রের পাড় ধরে চলতে লাগলেন। এমতাবস্থায় খাযির (আঃ) একটি বালককে অন্য বালকদের সঙ্গে খেলতে দেখলেন। খাযির (আঃ) হাত দিয়ে ছেলেটির মাথা ধরে তাকে হত্যা করলেন। মূসা (আঃ) খাযির (আঃ)-কে বললেন, ’’আপনি কি প্রাণের বদলা ব্যতিরেকেই নিষ্পাপ একটি প্রাণকে হত্যা করলেন? আপনি তো চরম এক অন্যায় কাজ করলেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবে না।’’
নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ অভিযোগটি ছিল প্রথমটির অপেক্ষাও মারাত্মক। [মূসা (আঃ) বললেন] এরপর যদি আমি আপনাকে কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করি তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না; আপনার কাছে আমার ওযর আপত্তি চূড়ান্তে পৌঁছেছে। তারপর উভয়ে চলতে লাগলেন। শেষে তারা এক বসতির কাছে পৌঁছে তার বাসিন্দাদের কাছে খাদ্য চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের আতিথেয়তা করতে অস্বীকৃতি জানাল। তারপর সেখানে তারা এক পতনোন্মুখ দেয়াল দেখতে পেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, সেটি ঝুঁকে পড়েছিল। খাযির (আঃ) নিজ হাতে সেটি সোজা করে দিলেন। মূসা (আঃ) বললেন, এ লোকদের কাছে আমরা এলাম, তারা আমাদের খাদ্য দিল না এবং আমাদের আতিথেয়তাও করল না। ’’আপনি তো ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। তিনি বললেন, এখানেই তোমার এবং আমার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটল। .....যে বিষয়ে তুমি ধৈর্যধারণ করতে পারনি, এ তার ব্যাখ্যা।’’
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার মনের বাসনা যে, যদি মূসা (আঃ) আর একটু ধৈর্যধারণ করতেন, তাহলে আল্লাহ্ তাঁদের আরও ঘটনা আমাদের জানাতেন। সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এভাবে এ আয়াত পাঠ করতেন- وَكَانَاَمَا مَهُمْ مَلِكٌيَّاخُذُ كُلَّ سَفِيْنَةٍ صَالِحَةً غَصْبًا
নিচের আয়াতটি এভাবে পাঠ করলেন- وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ كَافِرًا وَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ [৭৪]] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬৬)
নোট: [1] নওফ আল-বাককালী- সে একজন মুসলিম। ইব্নু ‘আববাস তাকে আল্লাহর দুশমন বলেছেন রাগান্বিত অবস্থায়।
[2] স্থানঃ যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে।
[2] স্থানঃ যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে।
হাদিস নং: ৪৭২৬
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام بن يوسف ان ابن جريج اخبرهم قال اخبرني يعلى بن مسلم وعمرو بن دينار عن سعيد بن جبير يزيد احدهما على صاحبه وغيرهما قد سمعته يحدثه عن سعيد بن جبير قال انا لعند ابن عباس في بيته اذ قال سلوني قلت اي ابا عباس جعلني الله فداءك بالكوفة رجل قاص يقال له نوف يزعم انه ليس بموسى بني اسراىيل اما عمرو فقال لي قال قد كذب عدو الله واما يعلى فقال لي قال ابن عباس حدثني ابي بن كعب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم موسى رسول الله عليه السلام قال ذكر الناس يوما حتى اذا فاضت العيون ورقت القلوب ولى فادركه رجل فقال اي رسول الله هل في الارض احد اعلم منك قال لا فعتب عليه اذ لم يرد العلم الى الله قيل بلى قال اي رب فاين قال بمجمع البحرين قال اي رب اجعل لي علما اعلم ذلك به فقال لي عمرو قال حيث يفارقك الحوت وقال لي يعلى قال خذ نونا ميتا حيث ينفخ فيه الروح فاخذ حوتا فجعله في مكتل فقال لفتاه لا اكلفك الا ان تخبرني بحيث يفارقك الحوت قال ما كلفت كثيرا فذلك قوله جل ذكره (واذ قال موسى) لفتاه يوشع بن نون ليست عن سعيد قال فبينما هو في ظل صخرة في مكان ثريان اذ تضرب الحوت وموسى ناىم فقال فتاه لا اوقظه حتى اذا استيقظ نسي ان يخبره وتضرب الحوت حتى دخل البحر فامسك الله عنه جرية البحر حتى كان اثره في حجر قال لي عمرو هكذا كان اثره في حجر وحلق بين ابهاميه واللتين تليانهما لقد لقينا من سفرنا هذا نصبا قال قد قطع الله عنك النصب ليست هذه عن سعيد اخبره فرجعا فوجدا خضرا قال لي عثمان بن ابي سليمان على طنفسة خضراء على كبد البحر قال سعيد بن جبير مسجى بثوبه قد جعل طرفه تحت رجليه وطرفه تحت راسه فسلم عليه موسى فكشف عن وجهه وقال هل بارضي من سلام من انت قال انا موسى قال موسى بني اسراىيل قال نعم قال فما شانك قال جىت لتعلمني مما علمت رشدا قال اما يكفيك ان التوراة بيديك وان الوحي ياتيك يا موسى ان لي علما لا ينبغي لك ان تعلمه وان لك علما لا ينبغي لي ان اعلمه فاخذ طاىر بمنقاره من البحر وقال والله ما علمي وما علمك في جنب علم الله الا كما اخذ هذا الطاىر بمنقاره من البحر (حتىٓ اذا ركبا في السفينة) وجدا معابر صغارا تحمل اهل هذا الساحل الى اهل هذا الساحل الاخر عرفوه فقالوا عبد الله الصالح قال قلنا لسعيد خضر قال نعم لا نحمله باجر فخرقها ووتد فيها وتدا قال موسى (اخرقتها لتغرق اهلها لقد جىت شيىا امرا) قال مجاهد منكرا (قال الم اقل انك لن تستطيع معي صبرا) كانت الاولى نسيانا والوسطى شرطا والثالثة عمدا (قال لا تواخذني بما نسيت ولا ترهقني من امري عسرا لقيا غلاما فقتله) قال يعلى قال سعيد وجد غلمانا يلعبون فاخذ غلاما كافرا ظريفا فاضجعه ثم ذبحه بالسكين قال (اقتلت نفسا زكيةمبغير نفس) لم تعمل بالحنث وكان ابن عباس قراها زكية زاكية مسلمة كقولك غلاما زكيا فانطلقا فوجدا جدارا يريد ان ينقض فاقامه قال سعيد بيده هكذا ورفع يده فاستقام قال يعلى حسبت ان سعيدا قال فمسحه بيده فاستقام (لو شىت لاتخذت عليه اجرا)قال سعيد اجرا ناكله (وكان ورآءهم) وكان امامهم قراها ابن عباس امامهم ملك يزعمون عن غير سعيد انه هدد بن بدد والغلام المقتول اسمه يزعمون جيسور (ملك ياخذ كل سفينة غصبا فاردت) اذا هي مرت به ان يدعها لعيبها فاذا جاوزوا اصلحوها فانتفعوا بها ومنهم من يقول سدوها بقارورة ومنهم من يقول بالقار كان ابواه مومنين وكان كافرا فخشينا ان يرهقهما طغيانا وكفرا ان يحملهما حبه على ان يتابعاه على دينه فاردنا ان يبدلهما ربهما خيرا منه زكاة واقرب رحما لقوله (قال اقتلت نفسا زكية) واقرب رحما هما به ارحم منهما بالاول الذي قتل خضر وزعم غير سعيد انهما ابدلا جارية واما داود بن ابي عاصم فقال عن غير واحد انها جارية.
(فَلَمَّا بَلَغَا مَجْمَعَ بَيْنِهِمَا نَسِيَا حُوْتَهُمَا فَاتَّخَذَ سَبِيْلَه” فِي الْبَحْرِ سَرَبًا) مَذْهَبًا يَسْرُبُ يَسْلُكُ. وَمِنْهُ وَسَارِبٌ بِالنَّهَارِ
তারপর যখন তারা চলতে চলতে দুই সাগরের সংযোগস্থলে পৌঁছলেন, তখন তারা তাদের মাছের কথা ভুলে গেলেন। আর মাছটি সুড়ঙ্গের মত পথ করে সাগরের মধ্যে চলে গেল। (সূরাহ আল-কাহাফ ১৮/৬১)
سَرَبًا চলার পথ يَسْرُبُ সে চলছে। এর থেকেই বলা হয়েছে سَارِبٌ بِالنَّهَارِ দিনে পথ অতিক্রমকারী।’’
৪৭২৬. সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে তাঁর ঘরে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ইচ্ছা হলে আমার কাছে প্রশ্ন কর। আমি বললাম, হে আবূ ’আব্বাস! আল্লাহ্ আমাকে আপনার উপর উৎসর্গ করুন। কূফায় নওফ নামক একজন কিচ্ছাকার আছে। সে বলছে যে, খাযির (আঃ)-এর সঙ্গে যে মূসার সাক্ষাৎ হয়েছিল, তিনি বনী ইসরাঈলের (প্রতি প্রেরিত) মূসা নন। তবে, ’আমর ইবনু দ্বীনার আমাকে বলেছেন যে, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এ কথা শুনে বললেন, আল্লাহর দুশমন মিথ্যা কথা বলেছে। কিন্তু ইয়ালা (একজন বর্ণনাকারী) আমাকে বলেছেন যে, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এ কথা শুনে বললেন, উবাই ইবনু কা’ব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর রাসূল মূসা (আঃ) একদিন লোকেদের সামনে নসীহত করছিলেন। অবশেষে যখন তাদের অশ্রু ঝরতে লাগল এবং তাদের অন্তর গলে গেল, তখন তিনি ওয়ায সমাপ্ত করলেন।
এক ব্যক্তি তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! এ পৃথিবীতে আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী আর কেউ আছে কি? তিনি বললেন, না। এতে আল্লাহ্ তার উপর অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা, তিনি এ কথাটি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত করেনি।[1] তখন তাকে বলা হল, নিশ্চয় আছে। মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! তিনি কোথায়? আল্লাহ্ বললেন, তিনি দু’ সমুদ্রের সংযোগস্থলে। মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! আপনি আমাকে এমন নিদর্শন বলুন, যার সাহায্যে আমি তার পরিচয় পেতে পারি। বর্ণনাকারী ইবনু জুরাইজ বলেন, আমর আমাকে এভাবে বলেছেন যে, তাকে (পাওয়া যাবে), যেখানে মাছটি তোমার নিকট হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর ইয়ালা আমাকে এভাবে বলেছেন, একটি মরা মাছ লও, যেখানে মাছটির মধ্যে প্রাণ দেয়া হবে (সেখানেই তাকে পাবে)। তারপর মূসা (আঃ) একটি মাছ নিলেন এবং তা থলের ভিতর রাখলেন। তিনি তার খাদেমকে বললেন, আমি তোমাকে শুধু এ দায়িত্ব দিচ্ছি যে, মাছটি যেখানে তোমার থেকে চলে যাবে, সে জায়গার কথা আমাকে বলবে। খাদেম বলল, এ তো তেমন বড় দায়িত্ব নয়। এরই বিবরণ রয়েছে আল্লাহ্ তা’আলার এ বাণীতেঃ ’’আর যখন মূসা বললেন তাঁর খাদেমকে অর্থাৎ ইউশা ইবনু নূনকে’’। সা’ঈদ (বর্ণনাকারী) এর বর্ণনায় নামের উল্লেখ নেই।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তিনি একটি বড় পাথরের ছায়ায় ভিজা মাটির কাছে অবস্থান করছিলেন, তখন মাছটি লাফিয়ে উঠল। মূসা (আঃ) তখন নিদ্রায় ছিলেন। তাঁর খাদেম মনে মনে বললেন, তাঁকে এখন জাগবে না। অবশেষে যখন তিনি জাগালেন, তখন তাকে মাছের কথা বলতে ভুলে গেলেন। আর মাছটি লাফিয়ে সমুদ্রে চলে গেল। আল্লাহ্ তা’আলা মাছটির চলার পথে পানি সরিয়ে নিলেন যাতে পাথরের উপর চিহ্ন পড়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, আমর আমাকে বলেছেন যে, যেন পাথরের মধ্যে চিহ্ন এরূপ হয়ে রইল, বলে তিনি তাঁর দু’টি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের আঙ্গুলগুলো এক সঙ্গে মিলিয়ে বৃত্তাকার বানিয়ে দেখালেন।
[মূসা (আঃ) বললেন] ’’আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’’ ইউশা বললেন, আল্লাহ্ আপনার থেকে ক্লান্তি দূর করে দিয়েছেন। সা’ঈদের বর্ণনায় এ কথার উল্লেখ নেই। খাদেম তাঁকে মাছটির চলে যাবার খবর দিলেন। তারপর তাঁরা উভয়ে ফিরে এলেন এবং খাযির (আঃ)-কে পেলেন। বর্ণনাকারী ইবনু যুরাইজ বলেন, ’উসমান ইবনু আবূ সুলায়মান আমাকে বলেছেন যে, মূসা (আঃ) খাযির (আঃ)-কে পেলেন সমুদ্রের বুকে সবুজ বিছানার ওপর।
সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেন, তিনি চাদর জড়িয়ে ছিলেন। চাদরের এক পার্শ্ব ছিল তাঁর দু’পায়ের নিচে এবং অন্য পার্শ্ব ছিল তাঁর মাথার ওপর। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, আমার এ অঞ্চলে কোত্থেকে সালাম আসলো? কে তুমি? তিনি বললেন, আমি মূসা! খাযির (আঃ) বললেন, বনী ইসরাঈলের মূসা? উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার খবর কী? মূসা (আঃ) বললেন, আমি এসেছি, ’’সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দেয়া হয়েছে, তাত্থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন।’’ তিনি বললেন, তোমার কাছে যে তাওরাত আছে, তা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? তোমার কাছে তো ওয়াহী আসে। হে মূসা! আমার কাছে যে জ্ঞান আছে তা তোমার জানা ঠিক নয়। আর তোমার কাছে যে জ্ঞান আছে তা আমার জনা উচিত নয়। এ সময় একটি পাখি এসে তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি নিল।
খাযির (আঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, আল্লাহর জ্ঞানের কাছে আমার ও তোমার জ্ঞান এতটুকু, যতটুকু এ পাখিটি সমুদ্র হতে তার ঠোঁটে করে নিয়েছে। অবশেষে তাঁরা উভয়ে নৌকায় উঠলেন, তাঁরা ছোট খেয়া নৌকা পেলেন, যা এ-পারের লোকেদের ও-পারে এবং ও-পারের লোকেদের এ-পারে নিয়ে যেত। নৌকার লোকেরা খাযিরকে চিনতে পারল। তারা বলল, আল্লাহর নেক বান্দা। ইয়ালা বলেন, আমরা সা’ঈদকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা কি খাযির সম্পর্কে এ মন্তব্য করেছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, (তারা বলল) আমরা তাঁকে বহন করতে পারিশ্রমিক নিব না। এরপর খাযির (আঃ) তাদের নৌকা ছিদ্র করে দিলেন এবং একটি গোঁজ দিয়ে তা বন্ধ করে দিলেন। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি কি যাত্রীদেরকে ডুবিয়ে মারার জন্য নৌকাটি ছিদ্র করলেন? আপনি তো মারাত্মক কাজ করলেন। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, اِمْرًا অর্থাৎ নিষিদ্ধ কাজ। ’’তিনি (খাযির) বললেন, আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না।’’ প্রথমটি ছিল মূসা (আঃ)-এর পক্ষ থেকে ভুল, দ্বিতীয়টি শর্তস্বরূপ এবং তৃতীয় ইচ্ছাকৃত বলে গণ্য। ’’মূসা (আঃ) বললেন, আমার ভুলের জন্য আমাকে দায়ী করবেন না ও আমার ব্যাপারে অতিরিক্ত কঠোরতা করবেন না।’’
(এরপর) তাঁরা এক বালকের দেখা পেলেন, খাযির তাকে হত্যা করে ফেললেন। ইয়ালা বলেন, সা’ঈদ বলেছেন, খাযির (আঃ) বালকদের খেলাধূলা করতে দেখতে পেলেন। তিনি একটি বুদ্ধিমান কাফের বালককে ধরলেন এবং তাকে পার্শ্বে শুইয়ে যবহ করে ফেললেন। মূসা (আঃ) বললেন, ’’আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন জীবনের বদলা অপরাধ ব্যতীতই? ’’সে তো কোন গুনাহর কাজ করেনি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এখানে زَاكِيَّةً পড়তেন। زَاكِيَةًভাল মুসলিম। যেমন তুমি পড় غُلَامً زَكِيَّا তারপর তারা দু’জন চলতে লাগল এবং একটি পতনোদ্যত প্রাচীর পেল। খাযির (আঃ) সেটাকে সোজা করে দিলেন। সা’ঈদ তাঁর হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন এরূপ এবং তিনি তাঁর হাত উঠিয়ে সোজা করলেন। ইয়ালা বলেন, আমার মনে হয় সা’ঈদ বলেছিলেন, খাযির (আঃ) প্রাচীরের ওপর দু’হাত দ্বারা স্পর্শ করলেন এবং প্রাচীর দাঁড়িয়ে গেল।
মূসা (আঃ) বললেন, لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًاআপনি ইচ্ছা করলে এ জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। সা’ঈদ বলেন, أَجْرًا দ্বারা এখানে খাদ্যদ্রব্য বোঝানো হয়েছে। وَكَانَوَرَآءَهُمْ তাদের সামনে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতে أَمَامَهُمْ (তাদের সম্মুখে ছিল এক রাজা) পড়েন। সা’ঈদ ছাড়া অন্য বর্ণনাকারীরা সে রাজার নাম বলেছেন ’’হুদাদ ইবনু বুদাদ’’ আর হত্যাকৃত বালকটিরনাম ছিল ’’জাইসুর’। সে রাজা প্রত্যেকটি (ভাল) নৌকা জোর করে ছিনিয়ে নিত। খিযির (আঃ)-এর নৌকা ছিদ্র করার উদ্দেশ্য ছিল, (সে অত্যাচারী রাজা) ত্রুটিযুক্ত নৌকা দেখলে তা ছিনিয়ে নেবে না। তারপর যখন অতিক্রম করে গেল, তখন তাদের নৌকা মেরামত করে নিল এবং তা ব্যবহার উপযোগী করল। কেউ বলে, নৌকার ছিদ্রটা মেরামত করেছিল সীসা গলিয়ে, আবার কেউ বলে, আলকাত্রা মিলিয়ে নৌকা মেরামত করছিল। ’’তার পিতা-মাতা ছিল মু’মিন।’’
আর সে বালকটি ছিল কাফের। আমি শংকা করলাম যে, সে অবাধ্য আচরণ ও কুফরী করে তাদের জ্বালাতন করবে। অর্থাৎ তারা তার প্রতি মুহাববতের কারণে তার দ্বীনের অনুসারী হয়ে যাবে। ’’এরপর আমি চাইলাম যে, তাদের প্রতিপালক যেন তাদেরকে তার বদলে এক সন্তান দান করেন, যে হবে অধিক পবিত্র ও ভক্তি শ্রদ্ধায় নিকটতর।’’ খাযির (আঃ) যে বালকটিকে হত্যা করেছিলেন সে বালকটির চেয়ে পরবর্তী বালকটির প্রতি তার পিতামাতা অধিক স্নেহশীল ও দয়াশীল হবেন। (ইবনু জুরাইজ বলেন) সা’ঈদ ব্যতীত অন্য সকল বর্ণনাকারী বলেছেন যে, এর অর্থ হল, সে বালকটির পরিবর্তে আল্লাহ্ তাদের একটি কন্যা সন্তান দান করেন। দাউদ ইবনু আবূ আসিম বলেন, একাধিক বর্ণনাকারী থেকে উল্লেখ করেছেন, সন্তানটি ছিল কন্যা। [৭৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬৭)
তারপর যখন তারা চলতে চলতে দুই সাগরের সংযোগস্থলে পৌঁছলেন, তখন তারা তাদের মাছের কথা ভুলে গেলেন। আর মাছটি সুড়ঙ্গের মত পথ করে সাগরের মধ্যে চলে গেল। (সূরাহ আল-কাহাফ ১৮/৬১)
سَرَبًا চলার পথ يَسْرُبُ সে চলছে। এর থেকেই বলা হয়েছে سَارِبٌ بِالنَّهَارِ দিনে পথ অতিক্রমকারী।’’
৪৭২৬. সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে তাঁর ঘরে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ইচ্ছা হলে আমার কাছে প্রশ্ন কর। আমি বললাম, হে আবূ ’আব্বাস! আল্লাহ্ আমাকে আপনার উপর উৎসর্গ করুন। কূফায় নওফ নামক একজন কিচ্ছাকার আছে। সে বলছে যে, খাযির (আঃ)-এর সঙ্গে যে মূসার সাক্ষাৎ হয়েছিল, তিনি বনী ইসরাঈলের (প্রতি প্রেরিত) মূসা নন। তবে, ’আমর ইবনু দ্বীনার আমাকে বলেছেন যে, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এ কথা শুনে বললেন, আল্লাহর দুশমন মিথ্যা কথা বলেছে। কিন্তু ইয়ালা (একজন বর্ণনাকারী) আমাকে বলেছেন যে, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এ কথা শুনে বললেন, উবাই ইবনু কা’ব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর রাসূল মূসা (আঃ) একদিন লোকেদের সামনে নসীহত করছিলেন। অবশেষে যখন তাদের অশ্রু ঝরতে লাগল এবং তাদের অন্তর গলে গেল, তখন তিনি ওয়ায সমাপ্ত করলেন।
এক ব্যক্তি তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! এ পৃথিবীতে আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী আর কেউ আছে কি? তিনি বললেন, না। এতে আল্লাহ্ তার উপর অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা, তিনি এ কথাটি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত করেনি।[1] তখন তাকে বলা হল, নিশ্চয় আছে। মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! তিনি কোথায়? আল্লাহ্ বললেন, তিনি দু’ সমুদ্রের সংযোগস্থলে। মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! আপনি আমাকে এমন নিদর্শন বলুন, যার সাহায্যে আমি তার পরিচয় পেতে পারি। বর্ণনাকারী ইবনু জুরাইজ বলেন, আমর আমাকে এভাবে বলেছেন যে, তাকে (পাওয়া যাবে), যেখানে মাছটি তোমার নিকট হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর ইয়ালা আমাকে এভাবে বলেছেন, একটি মরা মাছ লও, যেখানে মাছটির মধ্যে প্রাণ দেয়া হবে (সেখানেই তাকে পাবে)। তারপর মূসা (আঃ) একটি মাছ নিলেন এবং তা থলের ভিতর রাখলেন। তিনি তার খাদেমকে বললেন, আমি তোমাকে শুধু এ দায়িত্ব দিচ্ছি যে, মাছটি যেখানে তোমার থেকে চলে যাবে, সে জায়গার কথা আমাকে বলবে। খাদেম বলল, এ তো তেমন বড় দায়িত্ব নয়। এরই বিবরণ রয়েছে আল্লাহ্ তা’আলার এ বাণীতেঃ ’’আর যখন মূসা বললেন তাঁর খাদেমকে অর্থাৎ ইউশা ইবনু নূনকে’’। সা’ঈদ (বর্ণনাকারী) এর বর্ণনায় নামের উল্লেখ নেই।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তিনি একটি বড় পাথরের ছায়ায় ভিজা মাটির কাছে অবস্থান করছিলেন, তখন মাছটি লাফিয়ে উঠল। মূসা (আঃ) তখন নিদ্রায় ছিলেন। তাঁর খাদেম মনে মনে বললেন, তাঁকে এখন জাগবে না। অবশেষে যখন তিনি জাগালেন, তখন তাকে মাছের কথা বলতে ভুলে গেলেন। আর মাছটি লাফিয়ে সমুদ্রে চলে গেল। আল্লাহ্ তা’আলা মাছটির চলার পথে পানি সরিয়ে নিলেন যাতে পাথরের উপর চিহ্ন পড়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, আমর আমাকে বলেছেন যে, যেন পাথরের মধ্যে চিহ্ন এরূপ হয়ে রইল, বলে তিনি তাঁর দু’টি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের আঙ্গুলগুলো এক সঙ্গে মিলিয়ে বৃত্তাকার বানিয়ে দেখালেন।
[মূসা (আঃ) বললেন] ’’আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’’ ইউশা বললেন, আল্লাহ্ আপনার থেকে ক্লান্তি দূর করে দিয়েছেন। সা’ঈদের বর্ণনায় এ কথার উল্লেখ নেই। খাদেম তাঁকে মাছটির চলে যাবার খবর দিলেন। তারপর তাঁরা উভয়ে ফিরে এলেন এবং খাযির (আঃ)-কে পেলেন। বর্ণনাকারী ইবনু যুরাইজ বলেন, ’উসমান ইবনু আবূ সুলায়মান আমাকে বলেছেন যে, মূসা (আঃ) খাযির (আঃ)-কে পেলেন সমুদ্রের বুকে সবুজ বিছানার ওপর।
সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেন, তিনি চাদর জড়িয়ে ছিলেন। চাদরের এক পার্শ্ব ছিল তাঁর দু’পায়ের নিচে এবং অন্য পার্শ্ব ছিল তাঁর মাথার ওপর। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, আমার এ অঞ্চলে কোত্থেকে সালাম আসলো? কে তুমি? তিনি বললেন, আমি মূসা! খাযির (আঃ) বললেন, বনী ইসরাঈলের মূসা? উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার খবর কী? মূসা (আঃ) বললেন, আমি এসেছি, ’’সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দেয়া হয়েছে, তাত্থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন।’’ তিনি বললেন, তোমার কাছে যে তাওরাত আছে, তা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? তোমার কাছে তো ওয়াহী আসে। হে মূসা! আমার কাছে যে জ্ঞান আছে তা তোমার জানা ঠিক নয়। আর তোমার কাছে যে জ্ঞান আছে তা আমার জনা উচিত নয়। এ সময় একটি পাখি এসে তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি নিল।
খাযির (আঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, আল্লাহর জ্ঞানের কাছে আমার ও তোমার জ্ঞান এতটুকু, যতটুকু এ পাখিটি সমুদ্র হতে তার ঠোঁটে করে নিয়েছে। অবশেষে তাঁরা উভয়ে নৌকায় উঠলেন, তাঁরা ছোট খেয়া নৌকা পেলেন, যা এ-পারের লোকেদের ও-পারে এবং ও-পারের লোকেদের এ-পারে নিয়ে যেত। নৌকার লোকেরা খাযিরকে চিনতে পারল। তারা বলল, আল্লাহর নেক বান্দা। ইয়ালা বলেন, আমরা সা’ঈদকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা কি খাযির সম্পর্কে এ মন্তব্য করেছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, (তারা বলল) আমরা তাঁকে বহন করতে পারিশ্রমিক নিব না। এরপর খাযির (আঃ) তাদের নৌকা ছিদ্র করে দিলেন এবং একটি গোঁজ দিয়ে তা বন্ধ করে দিলেন। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি কি যাত্রীদেরকে ডুবিয়ে মারার জন্য নৌকাটি ছিদ্র করলেন? আপনি তো মারাত্মক কাজ করলেন। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, اِمْرًا অর্থাৎ নিষিদ্ধ কাজ। ’’তিনি (খাযির) বললেন, আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না।’’ প্রথমটি ছিল মূসা (আঃ)-এর পক্ষ থেকে ভুল, দ্বিতীয়টি শর্তস্বরূপ এবং তৃতীয় ইচ্ছাকৃত বলে গণ্য। ’’মূসা (আঃ) বললেন, আমার ভুলের জন্য আমাকে দায়ী করবেন না ও আমার ব্যাপারে অতিরিক্ত কঠোরতা করবেন না।’’
(এরপর) তাঁরা এক বালকের দেখা পেলেন, খাযির তাকে হত্যা করে ফেললেন। ইয়ালা বলেন, সা’ঈদ বলেছেন, খাযির (আঃ) বালকদের খেলাধূলা করতে দেখতে পেলেন। তিনি একটি বুদ্ধিমান কাফের বালককে ধরলেন এবং তাকে পার্শ্বে শুইয়ে যবহ করে ফেললেন। মূসা (আঃ) বললেন, ’’আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন জীবনের বদলা অপরাধ ব্যতীতই? ’’সে তো কোন গুনাহর কাজ করেনি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এখানে زَاكِيَّةً পড়তেন। زَاكِيَةًভাল মুসলিম। যেমন তুমি পড় غُلَامً زَكِيَّا তারপর তারা দু’জন চলতে লাগল এবং একটি পতনোদ্যত প্রাচীর পেল। খাযির (আঃ) সেটাকে সোজা করে দিলেন। সা’ঈদ তাঁর হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন এরূপ এবং তিনি তাঁর হাত উঠিয়ে সোজা করলেন। ইয়ালা বলেন, আমার মনে হয় সা’ঈদ বলেছিলেন, খাযির (আঃ) প্রাচীরের ওপর দু’হাত দ্বারা স্পর্শ করলেন এবং প্রাচীর দাঁড়িয়ে গেল।
মূসা (আঃ) বললেন, لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًاআপনি ইচ্ছা করলে এ জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। সা’ঈদ বলেন, أَجْرًا দ্বারা এখানে খাদ্যদ্রব্য বোঝানো হয়েছে। وَكَانَوَرَآءَهُمْ তাদের সামনে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতে أَمَامَهُمْ (তাদের সম্মুখে ছিল এক রাজা) পড়েন। সা’ঈদ ছাড়া অন্য বর্ণনাকারীরা সে রাজার নাম বলেছেন ’’হুদাদ ইবনু বুদাদ’’ আর হত্যাকৃত বালকটিরনাম ছিল ’’জাইসুর’। সে রাজা প্রত্যেকটি (ভাল) নৌকা জোর করে ছিনিয়ে নিত। খিযির (আঃ)-এর নৌকা ছিদ্র করার উদ্দেশ্য ছিল, (সে অত্যাচারী রাজা) ত্রুটিযুক্ত নৌকা দেখলে তা ছিনিয়ে নেবে না। তারপর যখন অতিক্রম করে গেল, তখন তাদের নৌকা মেরামত করে নিল এবং তা ব্যবহার উপযোগী করল। কেউ বলে, নৌকার ছিদ্রটা মেরামত করেছিল সীসা গলিয়ে, আবার কেউ বলে, আলকাত্রা মিলিয়ে নৌকা মেরামত করছিল। ’’তার পিতা-মাতা ছিল মু’মিন।’’
আর সে বালকটি ছিল কাফের। আমি শংকা করলাম যে, সে অবাধ্য আচরণ ও কুফরী করে তাদের জ্বালাতন করবে। অর্থাৎ তারা তার প্রতি মুহাববতের কারণে তার দ্বীনের অনুসারী হয়ে যাবে। ’’এরপর আমি চাইলাম যে, তাদের প্রতিপালক যেন তাদেরকে তার বদলে এক সন্তান দান করেন, যে হবে অধিক পবিত্র ও ভক্তি শ্রদ্ধায় নিকটতর।’’ খাযির (আঃ) যে বালকটিকে হত্যা করেছিলেন সে বালকটির চেয়ে পরবর্তী বালকটির প্রতি তার পিতামাতা অধিক স্নেহশীল ও দয়াশীল হবেন। (ইবনু জুরাইজ বলেন) সা’ঈদ ব্যতীত অন্য সকল বর্ণনাকারী বলেছেন যে, এর অর্থ হল, সে বালকটির পরিবর্তে আল্লাহ্ তাদের একটি কন্যা সন্তান দান করেন। দাউদ ইবনু আবূ আসিম বলেন, একাধিক বর্ণনাকারী থেকে উল্লেখ করেছেন, সন্তানটি ছিল কন্যা। [৭৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬৭)
নোট: [1] অর্থাৎ তিনি বলেননি যে, এ ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
হাদিস নং: ৪৭২৭
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد قال حدثني سفيان بن عيينة عن عمرو بن دينار عن سعيد بن جبير قال قلت لابن عباس ان نوفا البكالي يزعم ان موسى بني اسراىيل ليس بموسى الخضر فقال كذب عدو الله حدثنا ابي بن كعب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال قام موسى خطيبا في بني اسراىيل فقيل له اي الناس اعلم قال انا فعتب الله عليه اذ لم يرد العلم اليه واوحى اليه بلى عبد من عبادي بمجمع البحرين هو اعلم منك قال اي رب كيف السبيل اليه قال تاخذ حوتا في مكتل فحيثما فقدت الحوت فاتبعه قال فخرج موسى ومعه فتاه يوشع بن نون ومعهما الحوت حتى انتهيا الى الصخرة فنزلا عندها قال فوضع موسى راسه فنام قال سفيان وفي حديث غير عمرو قال وفي اصل الصخرة عين يقال لها الحياة لا يصيب من ماىها شيء الا حيي فاصاب الحوت من ماء تلك العين قال فتحرك وانسل من المكتل فدخل البحر فلما استيقظ موسى قال لفتاه (اتنا غدآءنا) الاية قال ولم يجد النصب حتى جاوز ما امر به قال له فتاه يوشع بن نون (ارايت اذ اوينآ الى الصخرة فاني نسيت الحوت) الاية قال فرجعا يقصان في اثارهما فوجدا في البحر كالطاق ممر الحوت فكان لفتاه عجبا وللحوت سربا قال فلما انتهيا الى الصخرة اذ هما برجل مسجى بثوب فسلم عليه موسى قال وانى بارضك السلام فقال انا موسى قال موسى بني اسراىيل قال نعم قال هل اتبعك على ان تعلمني مما علمت رشدا قال له الخضر يا موسى انك على علم من علم الله علمكه الله لا اعلمه وانا على علم من علم الله علمنيه الله لا تعلمه قال بل اتبعك قال فان اتبعتني فلا تسالني عن شيء حتى احدث لك منه ذكرا فانطلقا يمشيان على الساحل فمرت بهم سفينة فعرف الخضر فحملوهم في سفينتهم بغير نول يقول بغير اجر فركبا السفينة قال ووقع عصفور على حرف السفينة فغمس منقاره في البحر فقال الخضر لموسى ما علمك وعلمي وعلم الخلاىق في علم الله الا مقدار ما غمس هذا العصفور منقاره قال فلم يفجا موسى اذ عمد الخضر الى قدوم فخرق السفينة فقال له موسى قوم حملونا بغير نول عمدت الى سفينتهم فخرقتها لتغرق اهلها لقد جىت الاية فانطلقا اذا هما بغلام يلعب مع الغلمان فاخذ الخضر براسه فقطعه قال له موسى (اقتلت نفسا زكيةمبغير نفس لقد جىت شيىا نكرا قال الم اقل لك انك لن تستطيع معي صبرا) الى قوله فابوا ان يضيفوهما فوجدا فيها جدارا يريد ان ينقض فقال بيده هكذا فاقامه فقال له موسى انا دخلنا هذه القرية فلم يضيفونا ولم يطعمونا لو شىت لاتخذت عليه اجرا (قال هذا فراق بيني وبينك سانبىك بتاويل ما لم تستطع عليه صبرا) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وددنا ان موسى صبر حتى يقص علينا من امرهما قال وكان ابن عباس يقرا وكان امامهم ملك ياخذ كل سفينة صالحة غصبا واما الغلام فكان كافرا.
جَاوَزَا قَالَ لِفَتَاهُ اٰتِنَا غَدَآءَنَا ز لَقَدْ لَقِيْنَا مِنْ سَفَرِنَا هٰذَا نَصَبًا - قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَآ إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّيْ نَسِيْتُ الْحُوْتَ) إِلَى قَوْلِهِ (عَجَبًا)
অতঃপর যখন তারা উভয়ে সে স্থানটি অতিক্রম করে সামনে গেলেন, তখন মূসা তার সঙ্গীকে বললেনঃ আমাদের নাশতা আন, এ সফরে আমরা অবশ্যই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। সঙ্গী বললঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন প্রস্তর খন্ডের কাছে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। এ কথা আপনাকে বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। আর মাছটি সাগরের মধ্যে আশ্চর্যজনকভাবে তার পথ ধরে চলে গেছে। (সূরাহ আল-কাহাফ ১৮/৬২-৬৩)
(صُنْعًا) عَمَلًا (حِوَلًا) تَحَوُّلًا (قَالَ ذٰلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ - فَارْتَدَّا عَلٰٓى اٰثَارِهِمَا قَصَصًا)(إِمْرًا)(وَنُكْرًا) دَاهِيَةً (يَنْقَضَّ) يَنْقَاضُ كَمَا تَنْقَاضُ السِّنُّ (لَتَخِذْتَ) وَاتَّخَذْتَ وَاحِدٌ (رُحْمًا) مِنْ الرُّحْمِ وَهِيَ أَشَدُّ مُبَالَغَةً مِنْ الرَّحْمَةِ وَنَظُنُّ أَنَّهُ مِنْ الرَّحِيْمِ وَتُدْعَى مَكَّةُ أُمَّ رُحْمٍ أَيْ الرَّحْمَةُ تَنْزِلُ بِهَا.
صُنْعًا কাজ حِوَلًا ঘুরে যাওয়া, পরিবর্তন হওয়া। قَالَ ذٰلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ ق صلـﮯ فَارْتَدَّا عَلٰٓى اٰثَارِهِمَا قَصَصًا মূসা (আঃ) বললেন- এ স্থানটিই তো আমরা খুঁজছিলাম। তারপর তারা উভয়ে নিজেদের পদচিহ্ন লক্ষ্য করে পেছনের দিকে ফিরে চললেন। (সূরাহ কাহাফ ১৮/৬৪)
إِمْرًا ও نُكْرًا উভয়ের একই অর্থ, অন্যায় কাজ يَنْقَضَّ শব্দের অর্থ-নিষ্পত্তি হবে। اتَّخَذْتَ-لَتَخِذْتَ উভয়ের একই অর্থ। رُحْمًا শব্দটি رَحَمِ থেকে গঠিত। অত্যধিক দয়া ও করুণা। কারও মতে, এটা رَحِيْمِ থেকে গঠিত। মক্কা্কে বলা হয় أُمَّرُحْمِ কারণ এখানে রহমত অবতীর্ণ হয়।
৪৭২৭. সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবু্নু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, নওফূর বাক্কালীর ধারণা, বনী ইসরাঈলের মূসা আর খাযির (আঃ)-এর সাথী মূসা একই ব্যক্তি নয়। এ কথা শুনে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে। উবাই ইবনু কা’ব রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, আমি। আল্লাহ্ তাঁর এ কথায় অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা, তিনি এ কথাটি আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করেননি।
আল্লাহ্ তাঁর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করে বললেন, (হে মূসা!) দু’ সমুদ্রের সংযোগস্থলে আমার এক বান্দা আছে, সে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! আমি তাঁর কাছে কীভাবে যেতে পারি? আল্লাহ্ বললেন, থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে রওয়ানা হও। যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে, সেখানেই তার অনুসরণ করবে। মূসা (আঃ) রওয়ানা হলেন এবং তার সঙ্গে ছিল তাঁর খাদেম ইউশা ইবনু নূন। তারা মাছ সঙ্গে নিলেন। তারা চলতে চলতে সমুদ্রের পাড়ে একটি বিরাট শিলাখন্ডের কাছে পৌঁছে গেলেন। সেখানে তারা বিশ্রামের জন্য থামলেন।
বর্ণনাকারী বলেন, মূসা (আঃ) শিলাখন্ডের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। সুফ্ইয়ান বলেন, আমর ইবনু দ্বীনার ব্যতীত সকল বর্ণনাকারী বলেছেন, শিলাখন্ডটির তলদেশে একটি ঝরণা ছিল, তাঁকে হায়াত বলা হত। কেননা, যে মৃতের ওপর তার পানি পতিত হয়, সে অমনি জীবিত হয়ে ওঠে। সে মাছটির ওপরও ঐ ঝরণার পানি পড়ল এবং সঙ্গে সঙ্গে সে লাফিয়ে উঠল। তারপর মাছটি বের হয়ে সমুদ্রে ঢুকে গেল। এরপরে মূসা (আঃ) যখন ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। মূসা তাঁর খাদেমকে বললেন, ’আমাদের নাস্তা আন, আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে স্থান সম্পর্কে তাঁকে বলা হয়েছিল সে স্থান অতিক্রম করার পর থেকেই তিনি ক্লান্তি অনুভব করছিলেন।
তাঁর খাদেম ইউশা ইবনু নূন তাঁকে বললেন, ’’আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখন্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তাঁরা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে আসলেন। তারা সমুদ্রে মাছটির চলে যাওয়ার জায়গায় সুড়ঙ্গের মত দেখতে পেলেন, যা মূসা (আঃ)-এর সাথী যুবককে বিস্মিত করে দিল। যখন তাঁরা শিলাখন্ডের কাছে পৌঁছলেন, সেখানে এ ব্যক্তিকে কাপড় জড়ানো অবস্থায় দেখতে পেলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি বললেন, তোমাদের এলাকায় সালাম কীভাবে এল? মূসা (আঃ) বললেন, আমি মূসা। তিনি [খাযির (আঃ)] বললেন, বনী ইসরাঈলের মূসা (আঃ)? মূসা (আঃ) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তারপর বললেন, ’’সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন- এ শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করব কি?
খাযির (আঃ) বললেন, হে মূসা! তুমি আল্লাহ্ থেকে যে জ্ঞান পেয়েছ, তা আমি জানি, না। আর আমি আল্লাহর থেকে যে ’ইলম’ প্রাপ্ত হয়েছি তাও তুমি জান না। মূসা (আঃ) বললেন, আমি আপনার অনুসরণ করব। খাযির (আঃ) বললেন, আচ্ছা তুমি যদি আমার অনুসরণ করই, তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবে না, যতক্ষণ না আমি সে বিষয়ে তোমাকে কিছু বলি। তারপর তাঁরা সমুদ্রের তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। একটি নৌকা তাঁদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল, নৌকার লোকেরা খাযির (আঃ)-কে দেখে চিনতে পারল। তারা বিনা পারিশ্রমিকে তাঁদের নৌকায় উঠিয়ে নিল। তাঁরা নৌকায় উঠলেন। এ সময় একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার অগ্রভাগে বসলো। পাখিটি সমুদ্রে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। খাযির (আঃ) মূসা (আঃ)-কে বললেন, তোমার, আমার ও সৃষ্টিজগতের জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় অতখানি, যতখানি এ চড়ুই পাখি তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি উঠাল।
বর্ণনাকারী বলেন, মূসা (আঃ) স্থান পরিবর্তন করেননি। খাযির (আঃ) অগ্রসর হতে চাইলেন। এমন সময় খাযির (আঃ) নৌকা ছিদ্র করে দিলেন। তখন মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, এরা আমাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে তাদের নৌকায় নিয়ে এল আর আপনি আরোহীদের ডুবানোর জন্য নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন। আপনি তো এক অন্যায় কাজ করেছেন। তারপর তাঁরা আবার চলতে লাগলেন এবং দেখতে পেলেন যে, একটি বালক কতকগুলো বালকের সঙ্গে খেলা করছে। খাযির (আঃ) সে বালকটির শিরোশ্ছেদ করে দিলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন জীবনের বদলা ব্যতীতই? আপনি তো এক অন্যায় কাজ করে বসলেন।
তিনি বললেন, আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না? মূসা (আঃ) বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি, তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না; আমার ওযরের চূড়ান্ত হয়েছে। তারপর তাঁরা দু’জনে চলতে লাগলেন। তাঁরা এক জনবসতির কাছে পৌঁছলেন এবং তাদের কাছে খাদ্য চাইলেন, তারা তাদের আতিথ্য অস্বীকার করল। তারপর সেখানে তাঁরা পতনোদ্যত প্রাচীরটি সোজা করে দিলেন। মূসা (আঃ) খাযির (আঃ)-কে বললেন, আমরা যখন এ জনবসতিতে প্রবেশ করছিলাম, তখন তার অধিবাসীরা আমাদের আতিথেয়তা করেনি এবং আমাদের খেতে দেয়নি। এ জন্য আপনি ইচ্ছা করলে পারিশ্রমিক নিতে পারতেন।
খাযির (আঃ) বললেন, এখানেই তোমার এবং আমার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। যে ব্যাপারে তুমি ধৈর্য ধরতে পারনি আমি তার রহস্য ব্যাখ্যা করছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মূসা (আঃ) যদি আর একটু ধৈর্য ধরতেন তবে আমরা তাদের দু’জনের ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে পারতাম। সা’ঈদ বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) وَرَأَهُمْ مَلِكُ এর স্থানে اَمَامَهُمْ مَلُكٌ পড়তেন। অর্থ ’’তাদের (যাত্রাপথের) সম্মুখে ছিল এক রাজা, যে জোর করে সকল ভাল নৌকা ছিনিয়ে নিত। আর বালকটি ছিল কাফের।’’ [৭৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬৮)
অতঃপর যখন তারা উভয়ে সে স্থানটি অতিক্রম করে সামনে গেলেন, তখন মূসা তার সঙ্গীকে বললেনঃ আমাদের নাশতা আন, এ সফরে আমরা অবশ্যই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। সঙ্গী বললঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন প্রস্তর খন্ডের কাছে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। এ কথা আপনাকে বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। আর মাছটি সাগরের মধ্যে আশ্চর্যজনকভাবে তার পথ ধরে চলে গেছে। (সূরাহ আল-কাহাফ ১৮/৬২-৬৩)
(صُنْعًا) عَمَلًا (حِوَلًا) تَحَوُّلًا (قَالَ ذٰلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ - فَارْتَدَّا عَلٰٓى اٰثَارِهِمَا قَصَصًا)(إِمْرًا)(وَنُكْرًا) دَاهِيَةً (يَنْقَضَّ) يَنْقَاضُ كَمَا تَنْقَاضُ السِّنُّ (لَتَخِذْتَ) وَاتَّخَذْتَ وَاحِدٌ (رُحْمًا) مِنْ الرُّحْمِ وَهِيَ أَشَدُّ مُبَالَغَةً مِنْ الرَّحْمَةِ وَنَظُنُّ أَنَّهُ مِنْ الرَّحِيْمِ وَتُدْعَى مَكَّةُ أُمَّ رُحْمٍ أَيْ الرَّحْمَةُ تَنْزِلُ بِهَا.
صُنْعًا কাজ حِوَلًا ঘুরে যাওয়া, পরিবর্তন হওয়া। قَالَ ذٰلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ ق صلـﮯ فَارْتَدَّا عَلٰٓى اٰثَارِهِمَا قَصَصًا মূসা (আঃ) বললেন- এ স্থানটিই তো আমরা খুঁজছিলাম। তারপর তারা উভয়ে নিজেদের পদচিহ্ন লক্ষ্য করে পেছনের দিকে ফিরে চললেন। (সূরাহ কাহাফ ১৮/৬৪)
إِمْرًا ও نُكْرًا উভয়ের একই অর্থ, অন্যায় কাজ يَنْقَضَّ শব্দের অর্থ-নিষ্পত্তি হবে। اتَّخَذْتَ-لَتَخِذْتَ উভয়ের একই অর্থ। رُحْمًا শব্দটি رَحَمِ থেকে গঠিত। অত্যধিক দয়া ও করুণা। কারও মতে, এটা رَحِيْمِ থেকে গঠিত। মক্কা্কে বলা হয় أُمَّرُحْمِ কারণ এখানে রহমত অবতীর্ণ হয়।
৪৭২৭. সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবু্নু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, নওফূর বাক্কালীর ধারণা, বনী ইসরাঈলের মূসা আর খাযির (আঃ)-এর সাথী মূসা একই ব্যক্তি নয়। এ কথা শুনে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে। উবাই ইবনু কা’ব রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, আমি। আল্লাহ্ তাঁর এ কথায় অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা, তিনি এ কথাটি আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করেননি।
আল্লাহ্ তাঁর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করে বললেন, (হে মূসা!) দু’ সমুদ্রের সংযোগস্থলে আমার এক বান্দা আছে, সে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! আমি তাঁর কাছে কীভাবে যেতে পারি? আল্লাহ্ বললেন, থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে রওয়ানা হও। যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে, সেখানেই তার অনুসরণ করবে। মূসা (আঃ) রওয়ানা হলেন এবং তার সঙ্গে ছিল তাঁর খাদেম ইউশা ইবনু নূন। তারা মাছ সঙ্গে নিলেন। তারা চলতে চলতে সমুদ্রের পাড়ে একটি বিরাট শিলাখন্ডের কাছে পৌঁছে গেলেন। সেখানে তারা বিশ্রামের জন্য থামলেন।
বর্ণনাকারী বলেন, মূসা (আঃ) শিলাখন্ডের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। সুফ্ইয়ান বলেন, আমর ইবনু দ্বীনার ব্যতীত সকল বর্ণনাকারী বলেছেন, শিলাখন্ডটির তলদেশে একটি ঝরণা ছিল, তাঁকে হায়াত বলা হত। কেননা, যে মৃতের ওপর তার পানি পতিত হয়, সে অমনি জীবিত হয়ে ওঠে। সে মাছটির ওপরও ঐ ঝরণার পানি পড়ল এবং সঙ্গে সঙ্গে সে লাফিয়ে উঠল। তারপর মাছটি বের হয়ে সমুদ্রে ঢুকে গেল। এরপরে মূসা (আঃ) যখন ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। মূসা তাঁর খাদেমকে বললেন, ’আমাদের নাস্তা আন, আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে স্থান সম্পর্কে তাঁকে বলা হয়েছিল সে স্থান অতিক্রম করার পর থেকেই তিনি ক্লান্তি অনুভব করছিলেন।
তাঁর খাদেম ইউশা ইবনু নূন তাঁকে বললেন, ’’আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখন্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তাঁরা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে আসলেন। তারা সমুদ্রে মাছটির চলে যাওয়ার জায়গায় সুড়ঙ্গের মত দেখতে পেলেন, যা মূসা (আঃ)-এর সাথী যুবককে বিস্মিত করে দিল। যখন তাঁরা শিলাখন্ডের কাছে পৌঁছলেন, সেখানে এ ব্যক্তিকে কাপড় জড়ানো অবস্থায় দেখতে পেলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি বললেন, তোমাদের এলাকায় সালাম কীভাবে এল? মূসা (আঃ) বললেন, আমি মূসা। তিনি [খাযির (আঃ)] বললেন, বনী ইসরাঈলের মূসা (আঃ)? মূসা (আঃ) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তারপর বললেন, ’’সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন- এ শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করব কি?
খাযির (আঃ) বললেন, হে মূসা! তুমি আল্লাহ্ থেকে যে জ্ঞান পেয়েছ, তা আমি জানি, না। আর আমি আল্লাহর থেকে যে ’ইলম’ প্রাপ্ত হয়েছি তাও তুমি জান না। মূসা (আঃ) বললেন, আমি আপনার অনুসরণ করব। খাযির (আঃ) বললেন, আচ্ছা তুমি যদি আমার অনুসরণ করই, তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবে না, যতক্ষণ না আমি সে বিষয়ে তোমাকে কিছু বলি। তারপর তাঁরা সমুদ্রের তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। একটি নৌকা তাঁদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল, নৌকার লোকেরা খাযির (আঃ)-কে দেখে চিনতে পারল। তারা বিনা পারিশ্রমিকে তাঁদের নৌকায় উঠিয়ে নিল। তাঁরা নৌকায় উঠলেন। এ সময় একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার অগ্রভাগে বসলো। পাখিটি সমুদ্রে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। খাযির (আঃ) মূসা (আঃ)-কে বললেন, তোমার, আমার ও সৃষ্টিজগতের জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় অতখানি, যতখানি এ চড়ুই পাখি তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি উঠাল।
বর্ণনাকারী বলেন, মূসা (আঃ) স্থান পরিবর্তন করেননি। খাযির (আঃ) অগ্রসর হতে চাইলেন। এমন সময় খাযির (আঃ) নৌকা ছিদ্র করে দিলেন। তখন মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, এরা আমাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে তাদের নৌকায় নিয়ে এল আর আপনি আরোহীদের ডুবানোর জন্য নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন। আপনি তো এক অন্যায় কাজ করেছেন। তারপর তাঁরা আবার চলতে লাগলেন এবং দেখতে পেলেন যে, একটি বালক কতকগুলো বালকের সঙ্গে খেলা করছে। খাযির (আঃ) সে বালকটির শিরোশ্ছেদ করে দিলেন। মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন জীবনের বদলা ব্যতীতই? আপনি তো এক অন্যায় কাজ করে বসলেন।
তিনি বললেন, আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না? মূসা (আঃ) বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি, তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না; আমার ওযরের চূড়ান্ত হয়েছে। তারপর তাঁরা দু’জনে চলতে লাগলেন। তাঁরা এক জনবসতির কাছে পৌঁছলেন এবং তাদের কাছে খাদ্য চাইলেন, তারা তাদের আতিথ্য অস্বীকার করল। তারপর সেখানে তাঁরা পতনোদ্যত প্রাচীরটি সোজা করে দিলেন। মূসা (আঃ) খাযির (আঃ)-কে বললেন, আমরা যখন এ জনবসতিতে প্রবেশ করছিলাম, তখন তার অধিবাসীরা আমাদের আতিথেয়তা করেনি এবং আমাদের খেতে দেয়নি। এ জন্য আপনি ইচ্ছা করলে পারিশ্রমিক নিতে পারতেন।
খাযির (আঃ) বললেন, এখানেই তোমার এবং আমার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। যে ব্যাপারে তুমি ধৈর্য ধরতে পারনি আমি তার রহস্য ব্যাখ্যা করছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মূসা (আঃ) যদি আর একটু ধৈর্য ধরতেন তবে আমরা তাদের দু’জনের ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে পারতাম। সা’ঈদ বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) وَرَأَهُمْ مَلِكُ এর স্থানে اَمَامَهُمْ مَلُكٌ পড়তেন। অর্থ ’’তাদের (যাত্রাপথের) সম্মুখে ছিল এক রাজা, যে জোর করে সকল ভাল নৌকা ছিনিয়ে নিত। আর বালকটি ছিল কাফের।’’ [৭৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬৮)
হাদিস নং: ৪৭২৮
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا محمد بن جعفر حدثنا شعبة عن عمرو بن مرة عن مصعب بن سعد قال سالت ابي (قل هل ننبىكم بالاخسرين اعمالا) هم الحرورية قال لا هم اليهود والنصارى اما اليهود فكذبوا محمدا صلى الله عليه وسلم واما النصارى فكفروا بالجنة وقالوا لا طعام فيها ولا شراب والحرورية الذين ينقضون عهد الله من بعد ميثاقه وكان سعد يسميهم الفاسقين
৪৭২৮. মুস’আব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে[1] জিজ্ঞেস করলাম, قُلْهَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِيْنَ أَعْمَالًا এ আয়াতে যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা হল ’’হারূরী’’[2] গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বললেন, না, তারা হচ্ছে ইয়াহূদী ও খ্রিস্টান। কেননা, ইয়াহূদীরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিল এবং খ্রিস্টানরা জান্নাতকে অস্বীকার করত এবং বলত, সেখানে কোন খাদ্য-পানীয় নেই। আর ’’হারূরী’’ হল তারা, যারা আল্লাহর সঙ্গে ওয়াদা করার পরও তা ভঙ্গ করেছিল। সা’দ তাদের বলতেন ’ফাসিক’। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৬৯)
নোট: [1] সা‘দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস।
[2] কুফার নিকট একটি গ্রামের নাম। যেখান থেকে ‘খারিজী সম্প্রদায়ের’ আন্দোলন শুরু হয়।
[2] কুফার নিকট একটি গ্রামের নাম। যেখান থেকে ‘খারিজী সম্প্রদায়ের’ আন্দোলন শুরু হয়।
হাদিস নং: ৪৭২৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن عبد الله حدثنا سعيد بن ابي مريم اخبرنا المغيرة بن عبد الرحمن قال حدثني ابو الزناد عن الاعرج عن ابي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال انه لياتي الرجل العظيم السمين يوم القيامة لا يزن عند الله جناح بعوضة وقال اقرءوا (فلا نقيم لهم يوم القيامة وزنا) وعن يحيى بن بكير عن المغيرة بن عبد الرحمن عن ابي الزناد مثله.
৪৭২৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন একজন খুব মোটা ব্যক্তি আসবে; কিন্তু সে আল্লাহর কাছে মশার পাখার চেয়ে ক্ষুদ্র হবে। তারপর তিনি বলেন, পাঠ করো, ’’ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে তাদের কাজের কোন গুরুত্ব দিব না।[1] ইয়াহ্ইয়াহ ইবনু বুকায়র (রহ.).....আবূ যিনাদ (রহ.) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। [মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৮৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭০)
নোট: [1] পুণ্য মনে করে তারা যে সকল কর্ম করেছে, সেগুলো কোন কাজে আসবে না।
হাদিস নং: ৪৭৩০
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص بن غياث حدثنا ابي حدثنا الاعمش حدثنا ابو صالح عن ابي سعيد الخدري رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتى بالموت كهيىة كبش املح فينادي مناد يا اهل الجنة فيشرىبون وينظرون فيقول هل تعرفون هذا فيقولون نعم هذا الموت وكلهم قد راه ثم ينادي يا اهل النار فيشرىبون وينظرون فيقول هل تعرفون هذا فيقولون نعم هذا الموت وكلهم قد راه فيذبح ثم يقول يا اهل الجنة خلود فلا موت ويا اهل النار خلود فلا موت ثم قرا (وانذرهم يوم الحسرة اذ قضي الامر وهم في غفلة) وهولاء في غفلة اهل الدنيا (وهم لا يومنون).
(19) سُوْرَةُ كهيعص
সূরাহ (১৯) : কাফ্-হা-ইয়া-’আইন-স-য়াদ (মারইয়াম)
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (أَسْمِعْ بِهِمْ)وَأَبْصِرْ اللهُ يَقُوْلُهُ وَهُمْ الْيَوْمَ لَا يَسْمَعُوْنَ وَلَا يُبْصِرُوْنَ فِيْ ضَلَالٍ مُبِيْنٍ يَعْنِيْ قَوْلَهُ أَسْمِعْ بِهِمْ وَأَبْصِرْ الْكُفَّارُ يَوْمَئِذٍ أَسْمَعُ شَيْءٍ وَأَبْصَرُهُ (لَأَرْجُمَنَّكَ) لَأَشْتِمَنَّكَ (وَرِئْيًا) مَنْظَرًا وَقَالَ أَبُوْ وَائِلٍ عَلِمَتْ مَرْيَمُ أَنَّ التَّقِيَّ ذُوْ نُهْيَةٍ حَتَّى قَالَتْ (إِنِّيْٓأَعُوْذُ بِالرَّحْمٰنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيًّا) وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ تَؤُزُّهُمْ أَزًّا تُزْعِجُهُمْ إِلَى الْمَعَاصِيْ إِزْعَاجًا وَقَالَ مُجَاهِدٌ (لُدًّا) عِوَجًا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (وِرْدًا) عِطَاشًا (أَثَاثًا) مَالًا (إِدًّا) قَوْلًا عَظِيْمًا (رِكْزًا) صَوْتًا. وقال غيره (غَيًّا) خُسْرَانًا (بُكِيًّا) جَمَاعَةُ بَاكٍ (صِلِيًّا) صَلِيَ يَصْلَى (نَدِيًّا) وَالنَّادِيْ وَاحِدٌ مَجْلِسًا.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা আজ (দুনিয়ায়) কোন নাসীহাত শুনছে না এবং কোন নিদর্শন দেখছে না এবং তারা প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত। অথচ কিয়ামতের দিন কাফিরেরা কত স্পষ্ট শুনবে ও দেখবে। لَأَرْجُمَنَّكَ আমি অবশ্যই তোমাকে প্রস্তরাঘাতে বিচূর্ণ করে দিব। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, এর অর্থ لَأَشْتِمَنَّكَ অবশ্যই আমি তোমাকে গালি দিব। رِئِيْنًا দৃশ্য। ইবনু ইয়াইনা (রহ.) বলেন, تَوُزُّهُمْ শায়ত্বন তাদের পাপের দিকে চরমভাবে প্ররোচিত করছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, إِدًّا বক্রতা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, وِرْدًا তৃষ্ণার্ত। أَثَاثًا মাল। إِدًّا কঠোর বাক্য। رِكْزًا ফিসফিস্ আওয়াজ। عِتِيَّا অবাধ্য[1]। بُكِيًّا ক্রন্দনকারী একটি দল। صِلِيًّا (প্রবেশ করা)। صَلِيَيَصْلَى এর মাসদার। نَدِيًّا এবং النَّادِيْ বৈঠকখানা।
৪৭৩০. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে মৃত্যুকে একটি ধূসর রঙের মেষের আকারে আনা হবে। তখন একজন সম্বোধনকারী ডাক দিয়ে বলবেন, হে জান্নাতবাসী! তখন তাঁরা ঘাড়-মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। সম্বোধনকারী বলবে, তোমরা কি একে চিন? তারা বলবেন হ্যাঁ, এ হল মৃত্যু। কেননা সকলেই তাকে দেখেছে। তারপর সম্বোধনকারী আবার ডেকে বলবেন, হে জাহান্নামবাসী! জাহান্নামীরা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে, তখন সম্বোধনকারী বলবে তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কেননা তারা সকলেই তাকে দেখেছে।
তারপর (সেটিকে) যবহ করা হবে। আর ঘোষক বলবেন, হে জান্নাতবাসী! স্থায়ীভাবে (এখানে) থাক। তোমাদের আর কোন মৃত্যু নেই। আর হে জাহান্নামবাসী! চিরদিন (এখানে) থাক। তোমাদের আর মৃত্যু নেই। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন- ’’তাদের সতর্ক করে দাও পরিতাপের দিবস সম্বন্ধে, যখন সকল ফয়সালা হয়ে যাবে অথচ এখন তারা গাফিল, তারা অসতর্ক দুনিয়াবাসী-অবিশ্বাসী।’’ [মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৪৯, আহমাদ ১১০৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭১)
সূরাহ (১৯) : কাফ্-হা-ইয়া-’আইন-স-য়াদ (মারইয়াম)
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (أَسْمِعْ بِهِمْ)وَأَبْصِرْ اللهُ يَقُوْلُهُ وَهُمْ الْيَوْمَ لَا يَسْمَعُوْنَ وَلَا يُبْصِرُوْنَ فِيْ ضَلَالٍ مُبِيْنٍ يَعْنِيْ قَوْلَهُ أَسْمِعْ بِهِمْ وَأَبْصِرْ الْكُفَّارُ يَوْمَئِذٍ أَسْمَعُ شَيْءٍ وَأَبْصَرُهُ (لَأَرْجُمَنَّكَ) لَأَشْتِمَنَّكَ (وَرِئْيًا) مَنْظَرًا وَقَالَ أَبُوْ وَائِلٍ عَلِمَتْ مَرْيَمُ أَنَّ التَّقِيَّ ذُوْ نُهْيَةٍ حَتَّى قَالَتْ (إِنِّيْٓأَعُوْذُ بِالرَّحْمٰنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيًّا) وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ تَؤُزُّهُمْ أَزًّا تُزْعِجُهُمْ إِلَى الْمَعَاصِيْ إِزْعَاجًا وَقَالَ مُجَاهِدٌ (لُدًّا) عِوَجًا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (وِرْدًا) عِطَاشًا (أَثَاثًا) مَالًا (إِدًّا) قَوْلًا عَظِيْمًا (رِكْزًا) صَوْتًا. وقال غيره (غَيًّا) خُسْرَانًا (بُكِيًّا) جَمَاعَةُ بَاكٍ (صِلِيًّا) صَلِيَ يَصْلَى (نَدِيًّا) وَالنَّادِيْ وَاحِدٌ مَجْلِسًا.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা আজ (দুনিয়ায়) কোন নাসীহাত শুনছে না এবং কোন নিদর্শন দেখছে না এবং তারা প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত। অথচ কিয়ামতের দিন কাফিরেরা কত স্পষ্ট শুনবে ও দেখবে। لَأَرْجُمَنَّكَ আমি অবশ্যই তোমাকে প্রস্তরাঘাতে বিচূর্ণ করে দিব। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, এর অর্থ لَأَشْتِمَنَّكَ অবশ্যই আমি তোমাকে গালি দিব। رِئِيْنًا দৃশ্য। ইবনু ইয়াইনা (রহ.) বলেন, تَوُزُّهُمْ শায়ত্বন তাদের পাপের দিকে চরমভাবে প্ররোচিত করছে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, إِدًّا বক্রতা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, وِرْدًا তৃষ্ণার্ত। أَثَاثًا মাল। إِدًّا কঠোর বাক্য। رِكْزًا ফিসফিস্ আওয়াজ। عِتِيَّا অবাধ্য[1]। بُكِيًّا ক্রন্দনকারী একটি দল। صِلِيًّا (প্রবেশ করা)। صَلِيَيَصْلَى এর মাসদার। نَدِيًّا এবং النَّادِيْ বৈঠকখানা।
৪৭৩০. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে মৃত্যুকে একটি ধূসর রঙের মেষের আকারে আনা হবে। তখন একজন সম্বোধনকারী ডাক দিয়ে বলবেন, হে জান্নাতবাসী! তখন তাঁরা ঘাড়-মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। সম্বোধনকারী বলবে, তোমরা কি একে চিন? তারা বলবেন হ্যাঁ, এ হল মৃত্যু। কেননা সকলেই তাকে দেখেছে। তারপর সম্বোধনকারী আবার ডেকে বলবেন, হে জাহান্নামবাসী! জাহান্নামীরা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে, তখন সম্বোধনকারী বলবে তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কেননা তারা সকলেই তাকে দেখেছে।
তারপর (সেটিকে) যবহ করা হবে। আর ঘোষক বলবেন, হে জান্নাতবাসী! স্থায়ীভাবে (এখানে) থাক। তোমাদের আর কোন মৃত্যু নেই। আর হে জাহান্নামবাসী! চিরদিন (এখানে) থাক। তোমাদের আর মৃত্যু নেই। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন- ’’তাদের সতর্ক করে দাও পরিতাপের দিবস সম্বন্ধে, যখন সকল ফয়সালা হয়ে যাবে অথচ এখন তারা গাফিল, তারা অসতর্ক দুনিয়াবাসী-অবিশ্বাসী।’’ [মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৪৯, আহমাদ ১১০৬৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭১)
নোট: [1] আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ اَيُّهُمْ اَشَدُّ عَلَى الرَّحْمنِ عِتِيًا যে দয়াময়ের প্রতি সর্বাধিক অবাধ্য। (সূরাহ নাহল ১৬/৬৯)
হাদিস নং: ৪৭৩১
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا عمر بن ذر قال سمعت ابي عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لجبريل ما يمنعك ان تزورنا اكثر مما تزورنا فنزلت (وما نتنزل الا بامر ربك له ما بين ايدينا وما خلفنا)
(وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَه مَا بَيْنَ أَيْدِيْنَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذٰلِكَ).
(জিবরীল বললঃ) আমি আপনার রবের আদেশ ব্যতিরেকে আসতে পারি না। (সূরাহ মারইয়াম ১৯/৬৪)
৪৭৩১. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার জিবরীলকে বললেন, আপনি আমার সাথে যতবার সাক্ষাৎ করেন, তার চেয়ে অধিক সাক্ষাৎ করতে আপনাকে কিসে বাধা দেয়?[1] তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল, ’’আমরা আপনার প্রতিপালকের আদেশ ছাড়া অবতরণ করি না, যা আমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে আছে সবই তাঁরই।’’ [৩২১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭২)
(জিবরীল বললঃ) আমি আপনার রবের আদেশ ব্যতিরেকে আসতে পারি না। (সূরাহ মারইয়াম ১৯/৬৪)
৪৭৩১. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার জিবরীলকে বললেন, আপনি আমার সাথে যতবার সাক্ষাৎ করেন, তার চেয়ে অধিক সাক্ষাৎ করতে আপনাকে কিসে বাধা দেয়?[1] তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল, ’’আমরা আপনার প্রতিপালকের আদেশ ছাড়া অবতরণ করি না, যা আমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে আছে সবই তাঁরই।’’ [৩২১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭২)
নোট: [1] কিছু কালের জন্য রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওয়াহী বন্ধ ছিল। এতে রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব পেরেশান হন। পরে জিবরীল (আঃ) হাজির হলে রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন।
হাদিস নং: ৪৭৩২
সহিহ (Sahih)
الحميدي حدثنا سفيان عن الاعمش عن ابي الضحى عن مسروق قال سمعت خبابا قال جىت العاص بن واىل السهمي اتقاضاه حقا لي عنده فقال لا اعطيك حتى تكفر بمحمد صلى الله عليه وسلم فقلت لا حتى تموت ثم تبعث قال واني لميت ثم مبعوث قلت نعم قال ان لي هناك مالا وولدا فاقضيكه فنزلت هذه الاية (افرايت الذي كفر بايتنا وقال لاوتين مالا وولدا) رواه الثوري وشعبة وحفص وابو معاوية ووكيع عن الاعمش.
৪৭৩২. মাসরূক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাববাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি (খাববাব) বলেন, আমি আস ইবনু ওয়ায়েল সাহমীর নিকট গেলাম; তার কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল, তা আদায় করার জন্য। আস ইবনু ওয়ায়িল বলল, আমি তোমার প্রাপ্য তোমাকে দিব না, যতক্ষণ তুমি মুহাম্মদের প্রতি অবিশ্বাস না কর। [1] তখন আমি বললাম, না, এমনকি তুমি মরে গিয়ে পুনরায় জীবিত হয়ে আসলেও তা হবে না। ’আস ইবনু ওয়ায়েল বলল, আমি কি মরে যাবার পরে আবার জীবিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। আস ইবনু ওয়ায়েল বলল, অবশ্যই সেখানেও আমার ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি থাকবে, তা থেকে আমি তোমার ঋণ শোধ করব। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ ’তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই।’’
এ হাদীসটি সাওরী (রহ.) ... আ’মাশ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন। [২০৯১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭৩)
এ হাদীসটি সাওরী (রহ.) ... আ’মাশ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন। [২০৯১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭৩)
নোট: [1] অর্থাৎ যতক্ষণ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নাবী মানতে অস্বীকার না কর।
হাদিস নং: ৪৭৩৩
সহিহ (Sahih)
محمد بن كثير اخبرنا سفيان عن الاعمش عن ابي الضحى عن مسروق عن خباب قال كنت قينا بمكة فعملت للعاص بن واىل السهمي سيفا فجىت اتقاضاه فقال لا اعطيك حتى تكفر بمحمد قلت لا اكفر بمحمد صلى الله عليه وسلم حتى يميتك الله ثم يحييك قال اذا اماتني الله ثم بعثني ولي مال وولد فانزل الله (افرايت الذي كفر بايتنا وقال لاوتين مالا وولدااطلع الغيب ام اتخذ عند الرحمن عهدا) قال موثقا لم يقل الاشجعي عن سفيان سيفا ولا موثقا
(أَطَّلَعَ الْغَيْبَ أَمِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمٰنِ عَهْدًا) الآيَةُ قَالَ مَوْثِقًا.
তবে কি সে অদৃশ্য বিষয় জানতে পেরেছে অথবা দয়াময় আল্লাহর নিকট হতে সে কোন প্রতিশ্রুতি প্রাপ্ত হয়েছে? (সূরাহ মারইয়াম ১৯/৭৮)
عهد দৃঢ় প্রতিশ্রুতি।
৪৭৩৩. খাব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা্য় অবস্থানকালে কর্মকারের কাজ করতাম। এ সময় আস্ ইবনু ওয়ায়েলকে একখানা তলোয়ার বানিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর একদিন আমার সেই পাওনা আদায়ের জন্য তাঁর নিকট আসলাম। সে বলল, মুহাম্মাদকে অস্বীকার না করা পর্যন্ত তোমার পাওনা দেব না। আমি বললাম, মুহাম্মাদকে অস্বীকার করব না। এমনকি আল্লাহ্ তোমাকে মৃত্যু দিবার পর তোমাকে আবার জীবিত করা পর্যন্ত। সে বলল, আল্লাহ্ যখন আমাকে মৃত্যুর পরে আবার জীবিত করবেন, তখন আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও থাকবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা অবতীর্ণ করেনঃ ’তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই। সে কি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে অথবা দয়াময়ের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে?
বর্ণনাকারী বলেন, عهد এর অর্থ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। আশজায়ী (রহ.) সুফ্ইয়ান থেকে বর্ণনার মধ্যে سَيْفًا (তরবারি) শব্দ এবং مَوْثِقًا (প্রতিশ্রুতি) শব্দ উল্লেখ করেননি। [২০৯১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭৪)
তবে কি সে অদৃশ্য বিষয় জানতে পেরেছে অথবা দয়াময় আল্লাহর নিকট হতে সে কোন প্রতিশ্রুতি প্রাপ্ত হয়েছে? (সূরাহ মারইয়াম ১৯/৭৮)
عهد দৃঢ় প্রতিশ্রুতি।
৪৭৩৩. খাব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা্য় অবস্থানকালে কর্মকারের কাজ করতাম। এ সময় আস্ ইবনু ওয়ায়েলকে একখানা তলোয়ার বানিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর একদিন আমার সেই পাওনা আদায়ের জন্য তাঁর নিকট আসলাম। সে বলল, মুহাম্মাদকে অস্বীকার না করা পর্যন্ত তোমার পাওনা দেব না। আমি বললাম, মুহাম্মাদকে অস্বীকার করব না। এমনকি আল্লাহ্ তোমাকে মৃত্যু দিবার পর তোমাকে আবার জীবিত করা পর্যন্ত। সে বলল, আল্লাহ্ যখন আমাকে মৃত্যুর পরে আবার জীবিত করবেন, তখন আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও থাকবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা অবতীর্ণ করেনঃ ’তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই। সে কি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে অথবা দয়াময়ের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে?
বর্ণনাকারী বলেন, عهد এর অর্থ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। আশজায়ী (রহ.) সুফ্ইয়ান থেকে বর্ণনার মধ্যে سَيْفًا (তরবারি) শব্দ এবং مَوْثِقًا (প্রতিশ্রুতি) শব্দ উল্লেখ করেননি। [২০৯১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৭৪)