অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৫/১/১. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে।
মোট ৫০৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৬৯৪
সহিহ (Sahih)
سعيد بن تليد حدثنا عبد الرحمن بن القاسم عن بكر بن مضر عن عمرو بن الحارث عن يونس بن يزيد عن ابن شهاب عن سعيد بن المسيب وابي سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يرحم الله لوطا لقد كان ياوي الى ركن شديد ولو لبثت في السجن ما لبث يوسف لاجبت الداعي ونحن احق من ابراهيم اذ قال له (اولم تومن قال بلى ولكن ليطمىن قلبي)
(فَلَمَّا جَآءَهُ الرَّسُوْلُ قَالَ ارْجِعْ إِلٰى رَبِّكَ فاسْأَلْهُ مَا بَالُ النِّسْوَةِ الّٰتِيْ قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ طإِنَّ رَبِّيْ بِكَيْدِهِنَّ عَلِيْمٌ قَالَ مَا خَطْبُكُنَّ إِذْ رَاوَدْتُّنَّ يُوْسُفَ عَنْ نَّفْسِهٰطقُلْنَ حَاشَ لِلهِ)
আর বাদশাহ বললঃ তোমরা ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তারপর দূত যখন তার কাছে এলো তখন সে বললঃ তুমি ফিরে যাও তোমার মনিবের কাছে এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, ঐ রমণীদের কী অবস্থা যারা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল। আমার রব অবশ্যই তাদের চক্রান্ত খুব অবগত আছেন। বাদশাহ রমণীদের বললঃ তোমাদের ঘটনা কী? তোমরা যখন ইউসুফকে তোমাদের কামনা চরিতার্থ করার জন্য ফুসলিয়েছিলে? তারা বললঃ অদ্ভূত আল্লাহর মাহাত্ম্য! তার মধ্যে কোন দোষ আছে বলে আমরা জানতে পারিনি। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৫০-৫১)
وَحَاشَ وَحَاشَى تَنْزِيْهٌ وَاسْتِثْنَاءٌ (حَصْحَصَ) وَضَحَ.
حَاشَوَحَاشَى এটা تَنْزِيْهٌ এবং اسْتِثْنَاءٌ এর জন্য। حَصْحَصَ প্রকাশ হয়ে গেল।
৪৬৯৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা লূত (আঃ)-এর উপর রহম করুন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের চরম শত্রুতায় বাধ্য হয়ে, নিজের নিরাপত্তার জন্য শক্ত খুঁটি অর্থাৎ আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত ইউসুফ (আঃ) (বন্দীখানায়) ছিলেন, আমি যদি এভাবে বন্দীখানায় থাকতাম, তবে মুক্তি পাবার ডাকে অবশ্যই সাড়া দিতাম [1]। আমরা (সন্দেহভঞ্জন করার ব্যাপারে) ইব্রাহীম (আঃ)-এর চেয়েও আগে বেড়ে যেতাম [2] যখন আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? জবাবে তিনি বললেন, হাঁ। তবে আমার মনের প্রশান্তির জন্য। [৩৩৭২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৩)
আর বাদশাহ বললঃ তোমরা ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তারপর দূত যখন তার কাছে এলো তখন সে বললঃ তুমি ফিরে যাও তোমার মনিবের কাছে এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, ঐ রমণীদের কী অবস্থা যারা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল। আমার রব অবশ্যই তাদের চক্রান্ত খুব অবগত আছেন। বাদশাহ রমণীদের বললঃ তোমাদের ঘটনা কী? তোমরা যখন ইউসুফকে তোমাদের কামনা চরিতার্থ করার জন্য ফুসলিয়েছিলে? তারা বললঃ অদ্ভূত আল্লাহর মাহাত্ম্য! তার মধ্যে কোন দোষ আছে বলে আমরা জানতে পারিনি। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৫০-৫১)
وَحَاشَ وَحَاشَى تَنْزِيْهٌ وَاسْتِثْنَاءٌ (حَصْحَصَ) وَضَحَ.
حَاشَوَحَاشَى এটা تَنْزِيْهٌ এবং اسْتِثْنَاءٌ এর জন্য। حَصْحَصَ প্রকাশ হয়ে গেল।
৪৬৯৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা লূত (আঃ)-এর উপর রহম করুন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের চরম শত্রুতায় বাধ্য হয়ে, নিজের নিরাপত্তার জন্য শক্ত খুঁটি অর্থাৎ আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত ইউসুফ (আঃ) (বন্দীখানায়) ছিলেন, আমি যদি এভাবে বন্দীখানায় থাকতাম, তবে মুক্তি পাবার ডাকে অবশ্যই সাড়া দিতাম [1]। আমরা (সন্দেহভঞ্জন করার ব্যাপারে) ইব্রাহীম (আঃ)-এর চেয়েও আগে বেড়ে যেতাম [2] যখন আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? জবাবে তিনি বললেন, হাঁ। তবে আমার মনের প্রশান্তির জন্য। [৩৩৭২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৩)
নোট: [1] মুক্তি পাওয়ার জন্য তৎক্ষণাৎ আহবানকারীর আহবানে সাড়া দিতাম। কিন্তু ইউসুফ (‘আ.) তাঁর নির্দোষিতা ঘোষিত হওয়ার পূর্বে জেল থেকে মুক্ত হতে চাননি।
[2] এর দ্বারা রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশ্রেষ্ঠ নাবীসুলভ বিনয়-নম্রতার প্রকাশ ঘটেছে ।
[2] এর দ্বারা রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশ্রেষ্ঠ নাবীসুলভ বিনয়-নম্রতার প্রকাশ ঘটেছে ।
হাদিস নং: ৪৬৯৫
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن صالح عن ابن شهاب قال اخبرني عروة بن الزبير عن عاىشة رضي الله عنها قالت له وهو يسالها عن قول الله تعالى (حتىٓاذا استياس الرسل) قال قلت اكذبوا ام كذبوا قالت عاىشة كذبوا قلت فقد استيقنوا ان قومهم كذبوهم فما هو بالظن قالت اجل لعمري لقد استيقنوا بذلك فقلت لها وظنوا انهم قد كذبوا قالت معاذ الله لم تكن الرسل تظن ذلك بربها قلت فما هذه الاية قالت هم اتباع الرسل الذين امنوا بربهم وصدقوهم فطال عليهم البلاء واستاخر عنهم النصر حتى اذا استياس الرسل ممن كذبهم من قومهم وظنت الرسل ان اتباعهم قد كذبوهم جاءهم نصر الله عند ذلك.
৪৬৯৫. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ حَتَّىٓ إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, এ আয়াতে শব্দটা أَكُذِبُوْا ’না’[1]كُذِّبُوْا ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, اَكُذِّبُوْا আমি জিজ্ঞেস করলাম, যখন আম্বিয়ায়ে কিরাম পূর্ণ বিশ্বাস করে নিলেন, এখন তাদের সম্প্রদায় তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করবে, তখন الظَّن[2] ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম! তারা পূর্ণ বিশ্বাস করেই নিয়েছিলেন। আমি তাঁকে বললাম ظَنُّوْآ أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوْا অর্থ কী দাঁড়ায়? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, মা’আযাল্লাহ![3] রাসূলগণ কখনও আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা করতে পারেন না। আমি বললাম, তবে আয়াতের অর্থ কী হবে? তিনি বললেন, তারা রাসূলদের অনুসারী, যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলদের সত্য বলে স্বীকার করেছে, তারপর তাদের প্রতি দীর্ঘকাল ধরে (কাফেরদের) নির্যাতন চলেছে এবং আল্লাহর সাহায্য আসতেও অনেক দেরী হয়েছে, এমনকি যখন রাসূলগণ তাঁদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে তাঁদের প্রতি মিথ্যারোপকারীদের ঈমান আনা সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছেন এবং রাসূলদের এ ধারণা জন্মেছে যে, এখন তাঁদের অনুসারীরাও[4] তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করতে শুরু করবে, এমন সময় তাঁদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এল। [৩৩৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৪)
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ فَقُلْتُ لَعَلَّهَا كُذِبُوْا مُخَفَّفَةً قَالَتْ مَعَاذَ اللهِ نَحْوَهُ
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ فَقُلْتُ لَعَلَّهَا كُذِبُوْا مُخَفَّفَةً قَالَتْ مَعَاذَ اللهِ نَحْوَهُ
নোট: [1]كُذِّبُوْا তাশ্দীদসহ না তাশ্দীদ ব্যতীত।
[2] তাঁরা ধারণা করলেন অথবা ভাবলেন।
[3]আল্লাহর নিকট পরিত্রাণ চাই।
[4] যারা ঈমান এনেছিল।
[2] তাঁরা ধারণা করলেন অথবা ভাবলেন।
[3]আল্লাহর নিকট পরিত্রাণ চাই।
[4] যারা ঈমান এনেছিল।
হাদিস নং: ৪৬৯৬
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني عروة فقلت لعلها كذبوا مخففة قالت معاذ الله نحوه
৪৬৯৬. ’উরওয়াহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললাম সম্ভবত كُذِبُوْا (তাখফীফ সহ)। তিনি বললেন, মা’আযাল্লাহ! ঐরূপ (كُذُّبُوْا)। [৩৩৮৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৫)
হাদিস নং: ৪৬৯৭
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر حدثنا معن قال حدثني مالك عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال مفاتح الغيب خمس لا يعلمها الا الله لا يعلم ما في غد الا الله ولا يعلم ما تغيض الارحام الا الله ولا يعلم متى ياتي المطر احد الا الله ولا تدري نفس باي ارض تموت ولا يعلم متى تقوم الساعة الا الله
(13) سُوْرَةُ الرَّعْدِ
সূরাহ (১৩) : আর্-রা’দ
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ) مَثَلُ الْمُشْرِكِ الَّذِيْ عَبَدَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ غَيْرَهُ كَمَثَلِ الْعَطْشَانِ الَّذِيْ يَنْظُرُ إِلَى ظِلِّ خَيَالِهِ فِي الْمَاءِ مِنْ بَعِيْدٍ وَهُوَ يُرِيْدُ أَنْ يَتَنَاوَلَهُ وَلَا يَقْدِرُ وَقَالَ غَيْرُهُ (سَخَّرَ) ذَلَّلَ (مُتَجَاوِرَاتٌ) مُتَدَانِيَاتٌ. [وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (مُتَجَاوِرَاتٌ) طَيِّبُها عَذْبُها وخَبِيْثُها السِّباخُ (الْمَثُلَاتُ) وَاحِدُهَا مَثُلَةٌ وَهِيَ الْأَشْبَاهُ وَالأَمْثَالُ وَقَالَ (إِلَّا مِثْلَ أَيَّامِ الَّذِيْنَ خَلَوْا بِمِقْدَارٍ) بِقَدَرٍ يُقَالُ (مُعَقِّبَاتٌ) مَلَائِكَةٌ حَفَظَةٌ تُعَقِّبُ الْأُوْلَى مِنْهَا الْأُخْرَى وَمِنْهُ قِيْلَ الْعَقِيْبُ أَيْ عَقَّبْتُ فِيْ إِثْرِهِ (الْمِحَالِ) الْعُقُوْبَةُ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ) لِيَقْبِضَ عَلَى الْمَاءِ (رَابِيًا) مِنْ رَبَا يَرْبُوْ (أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ) مِثْلُهُ الْمَتَاعُ مَا تَمَتَّعْتَ بِهِ (جُفَاءً) يُقَالُ أَجْفَأَتْ الْقِدْرُ إِذَا غَلَتْ فَعَلَاهَا الزَّبَدُ ثُمَّ تَسْكُنُ فَيَذْهَبُ الزَّبَدُ بِلَا مَنْفَعَةٍ فَكَذَلِكَ يُمَيِّزُ الْحَقَّ مِنَ الْبَاطِلِ (الْمِهَادُ) الْفِرَاشُ (يَدْرَءُوْنَ) يَدْفَعُوْنَ دَرَأْتُهُ عَنِّيْ دَفَعْتُهُ (سَلَامٌ عَلَيْكُمْ) أَيْ يَقُوْلُوْنَ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ (وَإِلَيْهِ مَتَابِ) تَوْبَتِيْ (أَفَلَمْ يَيْئَسْ) أَفَلَمْ يَتَبَيَّنْ (قَارِعَةٌ) دَاهِيَةٌ (فَأَمْلَيْتُ) أَطَلْتُ مِنَ الْمَلِيِّ وَالْمِلَاوَةِ وَمِنْهُ (مَلِيًّا) وَيُقَالُ لِلْوَاسِعِ الطَّوِيْلِ مِنَ الْأَرْضِ مَلًى مِنَ الْأَرْضِ (أَشَقُّ) أَشَدُّ مِنَ الْمَشَقَّةِ (مُعَقِّبَ) مُغَيِّرٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مُتَجَاوِرَاتٌ) طَيِّبُهَا وَخَبِيْثُهَا السِّبَاخُ (صِنْوَانٌ)النَّخْلَتَانِ أَوْ أَكْثَرُ فِيْ أَصْلٍ وَاحِدٍ (وَغَيْرُ صِنْوَانٍ) وَحْدَهَا (بِمَآءٍ وَّاحِدٍ) كَصَالِحِ بَنِيْ آدَمَ وَخَبِيْثِهِمْ أَبُوْهُمْ وَاحِدٌ (السَّحَابُ الثِّقَالُ) الَّذِيْ فِيْهِ الْمَاءُ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ) يَدْعُو الْمَاءَ بِلِسَانِهِ وَيُشِيْرُ إِلَيْهِ بِيَدِهِ فَلَا يَأْتِيْهِ أَبَدًا. (سَالَتْ أَوْدِيَةٌمبِقَدَرِهَا) تَمْلَا بَطْنَ كُلِّ وَادٍ (زَبَدًا رَابِيًا) الزَّبَدُ زَبَدُ السَّيْلِ زَبَدٌ مِثْلُهُ خَبَثُ الْحَدِيْدِ وَالْحِلْيَةِ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)বলেন, كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ যেমন, কেউ হাত বাড়িয়ে দেয়। এটি মুশরিকের দৃষ্টান্ত যারা ’ইবাদাতে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যকে শরীক করে। যেমন পিপাসার্ত ব্যক্তি যে দূর থেকে পানি পাওয়ার আশা করে, অথচ পানি সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় না। অন্যেরা বলেন, سَخَّرَসে অনুগত হল।’’ مُتَجَاوِرَاتٌ পরস্পর নিকটবর্তী হল। الْمَثُلَاتُ (উপমা, দৃষ্টান্ত) مَثُلَةٌ-এর বহুবচন। আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, ’ওরা কি ওদের পূর্বে যা ঘটেছে তারই অনুরূপ ঘটনারই প্রতীক্ষা করে? بِمِقْدَارٍনির্দিষ্ট পরিমাণ। مُعَقِّبَاتٌ ফেরেশ্তা, যারা একের পর এক সকাল-সন্ধ্যায় বদলি হয়ে থাকে। যেমন عَقِيْبُপিছনে (বদলি)। যেমন বলা হয় عَقَّبْتُ فِيْٓ إِثْرِهِ আমি তার পরে (বদলি) এসেছি। الْمِحَالِ শাস্তি كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ সে তৃষ্ণার্তের মত, যে নিজের দুই হাত পানির দিকে বাড়িয়ে দেয়, পানি পাওয়ার জন্য। رَابِيًا (বর্ধনশীল) رَبَايَرْبُوْ থেকে গঠিত। زَبَدٌ ফেনা, সর। الْمَتَاعُ যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, যা উপভোগ করা হয়। جُفَاءً বলা হয়, মাংসের পাতিল যখন উত্তপ্ত করা হয়, তখন তার ওপরে ফেনা জমে। এরপর ঠান্ডা হয় এবং ফেনার বিলুপ্তি ঘটে। সেরূপ সত্য, বাতিল (মিথ্যা) থেকে আলাদা হয়ে থাকে।’’ الْمِهَادُ বিছানা يَدْرَءُوْنَ তারা প্রতিহত করে। دَرَأْتُهُ ও دَفَعْتُهُ আমি তাকে দূরে হটিয়ে দিলাম। মালায়িকাহ বলবেন, سَلَامٌعَلَيْكُمْ তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। وَإِلَيْهِ مَتَابِ আমি তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করছি। أَفَلَمْيَيْئَسْ-এটা কি তাদের কাছে প্রকাশ পায়নি, قَارِعَةٌ আকস্মিক বিপদ فَأَمْلَيْتُ আমি অবকাশ দিয়েছি। مَلِيِّ ও مِلَاوَةٌ হতে পঠিত। সে অর্থে مَلِيًّا ব্যবহৃত। প্রশস্ত ও দীর্ঘ যমীনকে مَلًى مِنَ الْأَرْضِ বলা হয়। أَشَقُّ (অধিক কঠিন) اِسْمِ تَفْضِيْلَ-مَشَقَّةِ থেকে গঠিত। مُعَقِّبَ পরিবর্তনশীল। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتَجَاوِرَاتٌ অর্থ, কিছু জমি কৃষি উপযোগী এবং কিছু জমি কৃষির অনুপযোগী। আর তাতে একটা থেকে দুই বা ততোধিক খেজুর গাছ উৎপন্ন হয় এবং কতিপয় যমীনে পৃথক পৃথকভাবে উৎপন্ন হয়। সেরূপ অবস্থা আদম (আঃ)-এর সন্তানদের। কেউ নেক্কার আর কেউ বদকার, অথচ সকলেই আদমের সন্তান। السَّحَابُ الثِّقَالُ পানিতে পূর্ণ মেঘমালা। كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি মুখ দিয়ে পানি চায় এবং হাত দিয়ে পানির দিকে ইশারা করে। তারপর সে সর্বদা তা থেকে বঞ্চিত থাকে। سَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا নানাসমূহ তার পরিমাণ মাফিক প্রবাহিত হয়ে ’’বাতনে ওয়াদী’’[1] কে ভরে দেয়। زَبَدًا رَابِيًا প্রবাহিত ফেনা। লোহা ও অলংকার উত্তপ্ত করা হলে যেমন ময়লা বের হয়ে আসে।
৪৬৯৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’ইল্ম গায়েব-এর চাবিকাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ্ ভিন্ন কেউ জানে না। তা হলোঃ আগামী দিন কী হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। মায়ের জরায়ুতে কী আছে, তা আল্লাহ্ ভিন্ন আর কেউ জানে না। বৃষ্টি কখন আসবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। কোন ব্যক্তি জানে না তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কবে সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। [১০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৬)
সূরাহ (১৩) : আর্-রা’দ
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ) مَثَلُ الْمُشْرِكِ الَّذِيْ عَبَدَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ غَيْرَهُ كَمَثَلِ الْعَطْشَانِ الَّذِيْ يَنْظُرُ إِلَى ظِلِّ خَيَالِهِ فِي الْمَاءِ مِنْ بَعِيْدٍ وَهُوَ يُرِيْدُ أَنْ يَتَنَاوَلَهُ وَلَا يَقْدِرُ وَقَالَ غَيْرُهُ (سَخَّرَ) ذَلَّلَ (مُتَجَاوِرَاتٌ) مُتَدَانِيَاتٌ. [وَقَالَ مُجَاهِدٌ : (مُتَجَاوِرَاتٌ) طَيِّبُها عَذْبُها وخَبِيْثُها السِّباخُ (الْمَثُلَاتُ) وَاحِدُهَا مَثُلَةٌ وَهِيَ الْأَشْبَاهُ وَالأَمْثَالُ وَقَالَ (إِلَّا مِثْلَ أَيَّامِ الَّذِيْنَ خَلَوْا بِمِقْدَارٍ) بِقَدَرٍ يُقَالُ (مُعَقِّبَاتٌ) مَلَائِكَةٌ حَفَظَةٌ تُعَقِّبُ الْأُوْلَى مِنْهَا الْأُخْرَى وَمِنْهُ قِيْلَ الْعَقِيْبُ أَيْ عَقَّبْتُ فِيْ إِثْرِهِ (الْمِحَالِ) الْعُقُوْبَةُ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ) لِيَقْبِضَ عَلَى الْمَاءِ (رَابِيًا) مِنْ رَبَا يَرْبُوْ (أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ) مِثْلُهُ الْمَتَاعُ مَا تَمَتَّعْتَ بِهِ (جُفَاءً) يُقَالُ أَجْفَأَتْ الْقِدْرُ إِذَا غَلَتْ فَعَلَاهَا الزَّبَدُ ثُمَّ تَسْكُنُ فَيَذْهَبُ الزَّبَدُ بِلَا مَنْفَعَةٍ فَكَذَلِكَ يُمَيِّزُ الْحَقَّ مِنَ الْبَاطِلِ (الْمِهَادُ) الْفِرَاشُ (يَدْرَءُوْنَ) يَدْفَعُوْنَ دَرَأْتُهُ عَنِّيْ دَفَعْتُهُ (سَلَامٌ عَلَيْكُمْ) أَيْ يَقُوْلُوْنَ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ (وَإِلَيْهِ مَتَابِ) تَوْبَتِيْ (أَفَلَمْ يَيْئَسْ) أَفَلَمْ يَتَبَيَّنْ (قَارِعَةٌ) دَاهِيَةٌ (فَأَمْلَيْتُ) أَطَلْتُ مِنَ الْمَلِيِّ وَالْمِلَاوَةِ وَمِنْهُ (مَلِيًّا) وَيُقَالُ لِلْوَاسِعِ الطَّوِيْلِ مِنَ الْأَرْضِ مَلًى مِنَ الْأَرْضِ (أَشَقُّ) أَشَدُّ مِنَ الْمَشَقَّةِ (مُعَقِّبَ) مُغَيِّرٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مُتَجَاوِرَاتٌ) طَيِّبُهَا وَخَبِيْثُهَا السِّبَاخُ (صِنْوَانٌ)النَّخْلَتَانِ أَوْ أَكْثَرُ فِيْ أَصْلٍ وَاحِدٍ (وَغَيْرُ صِنْوَانٍ) وَحْدَهَا (بِمَآءٍ وَّاحِدٍ) كَصَالِحِ بَنِيْ آدَمَ وَخَبِيْثِهِمْ أَبُوْهُمْ وَاحِدٌ (السَّحَابُ الثِّقَالُ) الَّذِيْ فِيْهِ الْمَاءُ (كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ) يَدْعُو الْمَاءَ بِلِسَانِهِ وَيُشِيْرُ إِلَيْهِ بِيَدِهِ فَلَا يَأْتِيْهِ أَبَدًا. (سَالَتْ أَوْدِيَةٌمبِقَدَرِهَا) تَمْلَا بَطْنَ كُلِّ وَادٍ (زَبَدًا رَابِيًا) الزَّبَدُ زَبَدُ السَّيْلِ زَبَدٌ مِثْلُهُ خَبَثُ الْحَدِيْدِ وَالْحِلْيَةِ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)বলেন, كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ যেমন, কেউ হাত বাড়িয়ে দেয়। এটি মুশরিকের দৃষ্টান্ত যারা ’ইবাদাতে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যকে শরীক করে। যেমন পিপাসার্ত ব্যক্তি যে দূর থেকে পানি পাওয়ার আশা করে, অথচ পানি সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় না। অন্যেরা বলেন, سَخَّرَসে অনুগত হল।’’ مُتَجَاوِرَاتٌ পরস্পর নিকটবর্তী হল। الْمَثُلَاتُ (উপমা, দৃষ্টান্ত) مَثُلَةٌ-এর বহুবচন। আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, ’ওরা কি ওদের পূর্বে যা ঘটেছে তারই অনুরূপ ঘটনারই প্রতীক্ষা করে? بِمِقْدَارٍনির্দিষ্ট পরিমাণ। مُعَقِّبَاتٌ ফেরেশ্তা, যারা একের পর এক সকাল-সন্ধ্যায় বদলি হয়ে থাকে। যেমন عَقِيْبُপিছনে (বদলি)। যেমন বলা হয় عَقَّبْتُ فِيْٓ إِثْرِهِ আমি তার পরে (বদলি) এসেছি। الْمِحَالِ শাস্তি كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَآءِ সে তৃষ্ণার্তের মত, যে নিজের দুই হাত পানির দিকে বাড়িয়ে দেয়, পানি পাওয়ার জন্য। رَابِيًا (বর্ধনশীল) رَبَايَرْبُوْ থেকে গঠিত। زَبَدٌ ফেনা, সর। الْمَتَاعُ যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, যা উপভোগ করা হয়। جُفَاءً বলা হয়, মাংসের পাতিল যখন উত্তপ্ত করা হয়, তখন তার ওপরে ফেনা জমে। এরপর ঠান্ডা হয় এবং ফেনার বিলুপ্তি ঘটে। সেরূপ সত্য, বাতিল (মিথ্যা) থেকে আলাদা হয়ে থাকে।’’ الْمِهَادُ বিছানা يَدْرَءُوْنَ তারা প্রতিহত করে। دَرَأْتُهُ ও دَفَعْتُهُ আমি তাকে দূরে হটিয়ে দিলাম। মালায়িকাহ বলবেন, سَلَامٌعَلَيْكُمْ তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। وَإِلَيْهِ مَتَابِ আমি তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করছি। أَفَلَمْيَيْئَسْ-এটা কি তাদের কাছে প্রকাশ পায়নি, قَارِعَةٌ আকস্মিক বিপদ فَأَمْلَيْتُ আমি অবকাশ দিয়েছি। مَلِيِّ ও مِلَاوَةٌ হতে পঠিত। সে অর্থে مَلِيًّا ব্যবহৃত। প্রশস্ত ও দীর্ঘ যমীনকে مَلًى مِنَ الْأَرْضِ বলা হয়। أَشَقُّ (অধিক কঠিন) اِسْمِ تَفْضِيْلَ-مَشَقَّةِ থেকে গঠিত। مُعَقِّبَ পরিবর্তনশীল। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مُتَجَاوِرَاتٌ অর্থ, কিছু জমি কৃষি উপযোগী এবং কিছু জমি কৃষির অনুপযোগী। আর তাতে একটা থেকে দুই বা ততোধিক খেজুর গাছ উৎপন্ন হয় এবং কতিপয় যমীনে পৃথক পৃথকভাবে উৎপন্ন হয়। সেরূপ অবস্থা আদম (আঃ)-এর সন্তানদের। কেউ নেক্কার আর কেউ বদকার, অথচ সকলেই আদমের সন্তান। السَّحَابُ الثِّقَالُ পানিতে পূর্ণ মেঘমালা। كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি মুখ দিয়ে পানি চায় এবং হাত দিয়ে পানির দিকে ইশারা করে। তারপর সে সর্বদা তা থেকে বঞ্চিত থাকে। سَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا নানাসমূহ তার পরিমাণ মাফিক প্রবাহিত হয়ে ’’বাতনে ওয়াদী’’[1] কে ভরে দেয়। زَبَدًا رَابِيًا প্রবাহিত ফেনা। লোহা ও অলংকার উত্তপ্ত করা হলে যেমন ময়লা বের হয়ে আসে।
৪৬৯৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’ইল্ম গায়েব-এর চাবিকাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ্ ভিন্ন কেউ জানে না। তা হলোঃ আগামী দিন কী হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। মায়ের জরায়ুতে কী আছে, তা আল্লাহ্ ভিন্ন আর কেউ জানে না। বৃষ্টি কখন আসবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। কোন ব্যক্তি জানে না তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কবে সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। [১০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৬)
নোট: [1] মদীনাহর পূর্বদিকে অবস্থিত একটি উপত্যকা।
হাদিস নং: ৪৬৯৮
সহিহ (Sahih)
حدثني عبيد بن اسماعيل، عن ابي اسامة، عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر ـ رضى الله عنهما ـ قال كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " اخبروني بشجرة تشبه او كالرجل المسلم لا يتحات ورقها ولا ولا ولا، توتي اكلها كل حين ". قال ابن عمر فوقع في نفسي انها النخلة، ورايت ابا بكر وعمر لا يتكلمان، فكرهت ان اتكلم، فلما لم يقولوا شيىا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هي النخلة ". فلما قمنا قلت لعمر يا ابتاه والله لقد كان وقع في نفسي انها النخلة فقال ما منعك ان تكلم قال لم اركم تكلمون، فكرهت ان اتكلم او اقول شيىا. قال عمر لان تكون قلتها احب الى من كذا وكذا.
سُوْرَةُ إِبْرَاهِيْمَ
সূরাহ (১৪) : ইবরাহীম
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (هَادٍ) دَاعٍ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (صَدِيْدٌ) قَيْحٌ وَدَمٌ وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ (اذْكُرُوْا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ) أَيَادِيَ اللهِ عِنْدَكُمْ وَأَيَّامَهُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مِنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوْهُ) رَغِبْتُمْ إِلَيْهِ فِيْهِ (يَبْغُوْنَهَاعِوَجًا) يَلْتَمِسُوْنَ لَهَا عِوَجًا (وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ) أَعْلَمَكُمْ آذَنَكُمْ (رَدُّوْآ أَيْدِيَهُمْ فِيْٓأَفْوَاهِهِمْ)هَذَا مَثَلٌ كَفُّوْا عَمَّا أُمِرُوْا بِهِ (مَقَامِيْ) حَيْثُ يُقِيْمُهُ اللهُ بَيْنَ يَدَيْهِ (مِنْ وَّرَآئِهٰ) قُدَّامَهُ جَهَنَّمُ (لَكُمْ تَبَعًا) وَاحِدُهَا تَابِعٌ مِثْلُ غَيَبٍ وَغَائِبٍ (بِمُصْرِخِكُمْ) اسْتَصْرَخَنِي اسْتَغَاثَنِيْ يَسْتَصْرِخُهُ مِنْ الصُّرَاخِ (وَلَا خِلَالَ) مَصْدَرُ خَالَلْتُهُ خِلَالًا وَيَجُوْزُ أَيْضًا جَمْعُ خُلَّةٍ وَخِلَالٍ (اجْتُثَّتْ) اسْتُؤْصِلَتْ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَادٍ আহবানকারী। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صَدِيْدٌ পুঁজ ও রক্ত। ইবনু ’উয়াইনাহ বলেন, اذْكُرُوْا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ আল্লাহর যেসব নিয়ামত তোমাদের উপর আছে এবং যা কিছু ঘটছে (তা স্মরণ কর)। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مِنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوْهُ তোমরা যা কিছু আল্লাহর কাছে চেয়েছিলে যাতে তোমাদের আগ্রহ ছিল। يَبْغُوْنَهَاعِوَجًا তারা এর অপব্যাখ্যা তালাশ করছে। إِذْ تَأَذَّنَرَبُّكُمْ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জানিয়েছেন, তোমাদের অবহিত করেছেন। رَدُّوْا أَيْدِيَهُمْ فِيْأَفْوَاهِهِمْ এটা একটা প্রবাদ বাক্য, যার অর্থ, তাদের যে বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়েছিল তা থেকে তারা বিরত রয়েছে। مَقَامِيْ সে স্থান তাকে যেখানে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর সামনে দাঁড় করাবেন। مِنْوَرَآئِهٰ তার সম্মুখে لَكُمْ تَبَعًا এর একবচন تَابِعٌ যেমন غَائِبٌ -এর বহুবচন غَائِبٍ। اسْتَصْرَخَنِيْ সে আমার কাছে সাহায্য চেয়েছে। يَسْتَصْرِخُهُ এটা الصُّرَاخِ থেকে গঠিত। وَلَاخِلَالَ আর কোন বন্ধুত্ব নয়। এটা خَالَلْتُهُخِلَالًا এর মাসদার আর خُلَّةٍ-خِلَالٍ এর বহুবচনও হতে পারে। اجْتُثَّتْ মূলোচ্ছেদ করা হয়েছে।
(كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَّفَرْعُهَا فِي السَّمَآءِ ... كُلَّ حِيْنٍ).
তা একটি পবিত্র বৃক্ষের মত যার শিকড় সুদৃঢ় এবং যার শাখা-প্রশাখা ঊর্ধ্বে উত্থিত, সে বৃক্ষ স্বীয় রবের আদেশে প্রত্যেক মওসুমে তার ফলদান করে। (সূরাহ ইবরাহীম ১৪/২৪-২৫)
৪৬৯৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, বল তো সেটা কোন বৃক্ষ, যা কোন মুসলিম ব্যক্তির মত, যার পাতা ঝরে না, এরূপ নয়, এরূপ নয় [1] এবং এরূপও নয় যা সর্বদা খাদ্য প্রদান করে। ইবনু ’উমার (রাঃ) বলেন, আমার মনে হল, এটা খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু আমি দেখলাম আবূ বকর (রাঃ) ও ’উমার (রাঃ) কথা বলছেন না। তাই আমি এ ব্যাপারে বলা পছন্দ করিনি। শেষে যখন কেউ কিছু বললেন না, তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেটা খেজুর গাছ। পরে যখন আমরা উঠে গেলাম, তখন আমি ’উমার (রাঃ)-কে বললাম, হে আব্বা! আল্লাহর কসম! আমার মনেও হয়েছিল, তা খেজুর বৃক্ষ। ’উমার (রাঃ) বললেন, এ কথা বলতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? বললেন, আমি আপনাদেরকে কথা বলতে দেখলাম না, তাই আমি কথা বলতে এবং আমার মত ব্যক্ত করতে অপছন্দ করি। ’উমার (রাঃ) বললেন, অবশ্য যদি তুমি বলতে, তবে তা আমার নিকট এত এত[2] থেকে অধিক প্রিয় হত। [৬১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৭)
সূরাহ (১৪) : ইবরাহীম
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (هَادٍ) دَاعٍ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (صَدِيْدٌ) قَيْحٌ وَدَمٌ وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ (اذْكُرُوْا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ) أَيَادِيَ اللهِ عِنْدَكُمْ وَأَيَّامَهُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مِنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوْهُ) رَغِبْتُمْ إِلَيْهِ فِيْهِ (يَبْغُوْنَهَاعِوَجًا) يَلْتَمِسُوْنَ لَهَا عِوَجًا (وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ) أَعْلَمَكُمْ آذَنَكُمْ (رَدُّوْآ أَيْدِيَهُمْ فِيْٓأَفْوَاهِهِمْ)هَذَا مَثَلٌ كَفُّوْا عَمَّا أُمِرُوْا بِهِ (مَقَامِيْ) حَيْثُ يُقِيْمُهُ اللهُ بَيْنَ يَدَيْهِ (مِنْ وَّرَآئِهٰ) قُدَّامَهُ جَهَنَّمُ (لَكُمْ تَبَعًا) وَاحِدُهَا تَابِعٌ مِثْلُ غَيَبٍ وَغَائِبٍ (بِمُصْرِخِكُمْ) اسْتَصْرَخَنِي اسْتَغَاثَنِيْ يَسْتَصْرِخُهُ مِنْ الصُّرَاخِ (وَلَا خِلَالَ) مَصْدَرُ خَالَلْتُهُ خِلَالًا وَيَجُوْزُ أَيْضًا جَمْعُ خُلَّةٍ وَخِلَالٍ (اجْتُثَّتْ) اسْتُؤْصِلَتْ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَادٍ আহবানকারী। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صَدِيْدٌ পুঁজ ও রক্ত। ইবনু ’উয়াইনাহ বলেন, اذْكُرُوْا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ আল্লাহর যেসব নিয়ামত তোমাদের উপর আছে এবং যা কিছু ঘটছে (তা স্মরণ কর)। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مِنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوْهُ তোমরা যা কিছু আল্লাহর কাছে চেয়েছিলে যাতে তোমাদের আগ্রহ ছিল। يَبْغُوْنَهَاعِوَجًا তারা এর অপব্যাখ্যা তালাশ করছে। إِذْ تَأَذَّنَرَبُّكُمْ তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জানিয়েছেন, তোমাদের অবহিত করেছেন। رَدُّوْا أَيْدِيَهُمْ فِيْأَفْوَاهِهِمْ এটা একটা প্রবাদ বাক্য, যার অর্থ, তাদের যে বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়েছিল তা থেকে তারা বিরত রয়েছে। مَقَامِيْ সে স্থান তাকে যেখানে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর সামনে দাঁড় করাবেন। مِنْوَرَآئِهٰ তার সম্মুখে لَكُمْ تَبَعًا এর একবচন تَابِعٌ যেমন غَائِبٌ -এর বহুবচন غَائِبٍ। اسْتَصْرَخَنِيْ সে আমার কাছে সাহায্য চেয়েছে। يَسْتَصْرِخُهُ এটা الصُّرَاخِ থেকে গঠিত। وَلَاخِلَالَ আর কোন বন্ধুত্ব নয়। এটা خَالَلْتُهُخِلَالًا এর মাসদার আর خُلَّةٍ-خِلَالٍ এর বহুবচনও হতে পারে। اجْتُثَّتْ মূলোচ্ছেদ করা হয়েছে।
(كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَّفَرْعُهَا فِي السَّمَآءِ ... كُلَّ حِيْنٍ).
তা একটি পবিত্র বৃক্ষের মত যার শিকড় সুদৃঢ় এবং যার শাখা-প্রশাখা ঊর্ধ্বে উত্থিত, সে বৃক্ষ স্বীয় রবের আদেশে প্রত্যেক মওসুমে তার ফলদান করে। (সূরাহ ইবরাহীম ১৪/২৪-২৫)
৪৬৯৮. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, বল তো সেটা কোন বৃক্ষ, যা কোন মুসলিম ব্যক্তির মত, যার পাতা ঝরে না, এরূপ নয়, এরূপ নয় [1] এবং এরূপও নয় যা সর্বদা খাদ্য প্রদান করে। ইবনু ’উমার (রাঃ) বলেন, আমার মনে হল, এটা খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু আমি দেখলাম আবূ বকর (রাঃ) ও ’উমার (রাঃ) কথা বলছেন না। তাই আমি এ ব্যাপারে বলা পছন্দ করিনি। শেষে যখন কেউ কিছু বললেন না, তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেটা খেজুর গাছ। পরে যখন আমরা উঠে গেলাম, তখন আমি ’উমার (রাঃ)-কে বললাম, হে আব্বা! আল্লাহর কসম! আমার মনেও হয়েছিল, তা খেজুর বৃক্ষ। ’উমার (রাঃ) বললেন, এ কথা বলতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? বললেন, আমি আপনাদেরকে কথা বলতে দেখলাম না, তাই আমি কথা বলতে এবং আমার মত ব্যক্ত করতে অপছন্দ করি। ’উমার (রাঃ) বললেন, অবশ্য যদি তুমি বলতে, তবে তা আমার নিকট এত এত[2] থেকে অধিক প্রিয় হত। [৬১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৭)
নোট: [1] বৃক্ষের বৈশিষ্ট্য তিন প্রকারের- সর্বদা ফল ধরে থাকে, যার বীজ নষ্ট হয় না এবং যা দ্বারা সর্বদা উপকৃত হওয়া যায়।
[2] كَذَا وَكَذَا (এত এত) দ্বারা অনেক অনেক মূল্যবান বস্তু বুঝালেন।
[2] كَذَا وَكَذَا (এত এত) দ্বারা অনেক অনেক মূল্যবান বস্তু বুঝালেন।
হাদিস নং: ৪৬৯৯
সহিহ (Sahih)
ابو الوليد حدثنا شعبة قال اخبرني علقمة بن مرثد قال سمعت سعد بن عبيدة عن البراء بن عازب ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال المسلم اذا سىل في القبر يشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله فذلك قوله (يثبت الله الذين امنوا بالقول الثابت في الحياة الدنيا وفي الاخرة).
৪৬৯৯. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কবরে মুসলিমকে যখন প্রশ্ন করা হবে, তখন সে সাক্ষ্য দিবেঃ ’’লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াআন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্’’ আল্লাহর বাণীতে এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাণীটি হলো এইঃ ’’যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন’’- (সূরা ইবরাহীম ১৪/২৭)। [১৩৬৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৮)
হাদিস নং: ৪৭০০
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن عمرو عن عطاء سمع ابن عباس (الم تر الى الذين بدلوا نعمة الله كفرا) قال هم كفار اهل مكة
أَلَمْ تَرَ أَلَمْ تَعْلَمْ كَقَوْلِهِ أَلَمْ تَرَ كَيْفَ (أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ خَرَجُوا الْبَوَارُ) الْهَلَاكُ بَارَ يَبُوْرُ قَوْمًا بُوْرًا هَالِكِيْنَ.
أَلَمْ تَرَ (আপনি কি জানেন না) أَلَمْ تَعْلَمْ এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, أَلَمْ تَرَ كَيْفَ অথবা أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ خَرَجُوْا আয়াতে এ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। الْبَوَارُ ধ্বংস। এটা بَارَيَبُوْرُ থেকে গঠিত। قَوْمًامبُوْرًا ধ্বংসশীল সম্প্রদায়।
৪৭০০. ’আত্বা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ بَدَّلُوْا نِعْمَةَ اللهِ كُفْرًا তারা হল মক্কার কাফিরগণ। [৩৯৭৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৯)
أَلَمْ تَرَ (আপনি কি জানেন না) أَلَمْ تَعْلَمْ এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, أَلَمْ تَرَ كَيْفَ অথবা أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ خَرَجُوْا আয়াতে এ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। الْبَوَارُ ধ্বংস। এটা بَارَيَبُوْرُ থেকে গঠিত। قَوْمًامبُوْرًا ধ্বংসশীল সম্প্রদায়।
৪৭০০. ’আত্বা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ بَدَّلُوْا نِعْمَةَ اللهِ كُفْرًا তারা হল মক্কার কাফিরগণ। [৩৯৭৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩৯)
হাদিস নং: ৪৭০১
সহিহ (Sahih)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، عن عمرو، عن عكرمة، عن ابي هريرة، يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا قضى الله الامر في السماء ضربت الملاىكة باجنحتها خضعانا لقوله كالسلسلة على صفوان ـ قال علي وقال غيره صفوان ـ ينفذهم ذلك فاذا فزع عن قلوبهم قالوا ماذا قال ربكم، قالوا للذي قال الحق وهو العلي الكبير، فيسمعها مسترقو السمع، ومسترقو السمع هكذا واحد فوق اخر ـ ووصف سفيان بيده، وفرج بين اصابع يده اليمنى، نصبها بعضها فوق بعض ـ فربما ادرك الشهاب المستمع، قبل ان يرمي بها الى صاحبه، فيحرقه وربما لم يدركه حتى يرمي بها الى الذي يليه الى الذي هو اسفل منه حتى يلقوها الى الارض ـ وربما قال سفيان حتى تنتهي الى الارض ـ فتلقى على فم الساحر، فيكذب معها ماىة كذبة فيصدق، فيقولون الم يخبرنا يوم كذا وكذا يكون كذا وكذا، فوجدناه حقا للكلمة التي سمعت من السماء ".
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، حدثنا عمرو، عن عكرمة، عن ابي هريرة، اذا قضى الله الامر. وزاد الكاهن. وحدثنا سفيان فقال قال عمرو سمعت عكرمة حدثنا ابو هريرة قال اذا قضى الله الامر وقال على فم الساحر. قلت لسفيان قال سمعت عكرمة قال سمعت ابا هريرة. قال نعم. قلت لسفيان ان انسانا روى عنك عن عمرو عن عكرمة عن ابي هريرة ويرفعه انه قرا فزع. قال سفيان هكذا قرا عمرو. فلا ادري سمعه هكذا ام لا. قال سفيان وهى قراءتنا.
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، حدثنا عمرو، عن عكرمة، عن ابي هريرة، اذا قضى الله الامر. وزاد الكاهن. وحدثنا سفيان فقال قال عمرو سمعت عكرمة حدثنا ابو هريرة قال اذا قضى الله الامر وقال على فم الساحر. قلت لسفيان قال سمعت عكرمة قال سمعت ابا هريرة. قال نعم. قلت لسفيان ان انسانا روى عنك عن عمرو عن عكرمة عن ابي هريرة ويرفعه انه قرا فزع. قال سفيان هكذا قرا عمرو. فلا ادري سمعه هكذا ام لا. قال سفيان وهى قراءتنا.
(15) سُوْرَةُ الْحِجْرِ
সূরাহ (১৫) : হিজর
وَقَالَ مُجَاهِدٌ (صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيْمٌ) الْحَقُّ يَرْجِعُ إِلَى اللهِ وَعَلَيْهِ طَرِيْقُهُ (وَإِنَّهُمَا لَبِإِمَامٍ مُّبِيْنٍ)عَلَى الطَّرِيْقِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لَعَمْرُكَ) لَعَيْشُكَ (قَوْمٌ مُنْكَرُوْنَ) أَنْكَرَهُمْ لُوْطٌ وَقَالَ غَيْرُهُ (كِتَابٌمَعْلُوْمٌ) أَجَلٌ (لَوْ مَا تَأْتِيْنَا) هَلَّا تَأْتِيْنَا (شِيَعٌ) أُمَمٌ وَلِلْأَوْلِيَاءِ أَيْضًا شِيَعٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (يُهْرَعُوْنَ) مُسْرِعِيْنَ (لِلْمُتَوَسِّمِيْنَ) لِلنَّاظِرِيْنَ (سُكِّرَتْ) غُشِّيَتْ (بُرُوْجًا) مَنَازِلَ لِلشَّمْسِ وَالْقَمَرِ (لَوَاقِحَ)مَلَاقِحَ مُلْقَحَةً (حَمَإٍ) جَمَاعَةُ حَمْأَةٍ وَهُوَ الطِّيْنُ الْمُتَغَيِّرُ وَالْمَسْنُوْنُ الْمَصْبُوْبُ (تَوْجَلْ) تَخَفْ (دَابِرَ) آخِرَ لَبِإِمَامٍ مُبِيْنٍ الإِمَامُ كُلُّ مَا ائْتَمَمْتَ وَاهْتَدَيْتَ بِهِ (الصَّيْحَةُ) الْهَلَكَةُ.
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيْمٌ সঠিক পথ যা আল্লাহ্ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে এবং তাঁর দিকে রয়েছে এ রাস্তা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, لَعَمْرُكَ তোমার জীবনের কসম। قَوْمٌ مُنْكَرُوْنَ এমন সম্প্রদায়, যাদের লূত (আঃ) চিনেননি। অন্যেরা বলেন, كِتَابٌ مَعْلُوْمٌ নির্দিষ্ট সময়। لَوْ مَا تَأْتِيْنَا কেন আমার কাছে আসে না। شِيَعٌ বহু সম্প্রদায়। বন্ধুবর্গকেও شِيَعٌ বলা হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, يُهْرَعُوْنَ তারা দ্রুতগতিতে ছুটে চলছে। لِلْمُتَوَسِّمِيْنَ প্রত্যক্ষকারীদেরকে জন্য سُكِّرَتْ ঢেকে দেয়া হয়েছে। চন্দ্র-সূর্যের মনযিল। بُرُوْجًا অর্থাৎ (ভার-গর্ভ মেঘমালা), এটার একবচন مُلْقَحَةً حَمَإٍ جَمَاعَةُ এর বহুবচন পচা কাদামাটি। وَالْمَسْنُوْنُ ঢেলে দেয়া হয়েছে। تَوْجَلْ ভীত হও। دَابِرَ অর্থ-শেষাংশ। الْإِمَامُ যার তুমি অনুসরণ করেছ, এবং যার দ্বারা সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছ। الصَّيْحَةُ ধ্বংস।
৪৭০১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন আল্লাহ্ তা’আলা আকাশে কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন মালায়িকাহ তাঁর কথা শোনার জন্য অতি বিনয়ের সঙ্গে নিজ নিজ পালক ঝাড়তে থাকে মসৃণ পাথরের উপর জিঞ্জিরের শব্দের মত। ’আলী (রাঃ) বলেন, صَفْوَانِ এর মধ্যে فَا সাকিন যুক্ত এবং অন্যরা বলেন, فَا ফাতাহ্ যুক্ত। এভাবে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর বাণী মালায়িকাহ্কে পৌঁছান। ’’যখন মালায়িকাহর অন্তর থেকে ভয় দূর হয়, তখন তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রভু কী বলেছেন? তখন তারা বলে, যা সত্য তিনি তাই বলেছেন, এবং তিনি অতি উচ্চ মহান।’’ চুরি করে কান লাগিয়ে (শায়ত্বনরা) তা শুনে নেয়। শোনার জন্য শায়ত্বনগুলো একের ওপর এক এভাবে থাকে। সুফ্ইয়ান ডান হাতের আঙ্গুলের ওপর অন্য আঙ্গুল রেখে হাতের ইশারায় ব্যাপারটি প্রকাশ করলেন। তারপর কখনও অগ্নি স্ফুলিঙ্গ শ্রবণকারীকে তার সাথীর কাছে এ কথাটি পৌঁছানোর আগেই আঘাত করে এবং তাকে জ্বালিয়ে দেয়। আবার কখনও সে ফুলকি প্রথম শ্রবণকারী শায়ত্বন পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই সে তার নিচের সাথীকে খবরটি জানিয়ে দেয়। এমনি করে এ কথা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। কখনও সুফ্ইয়ান বলেছেন, এমনি করে পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর তা জাদুকরের মুখে ঢেলে দেয়া হয় এবং সে তার সঙ্গে শত মিথ্যা মিশিয়ে প্রচার করে। তাই তার কথা সত্য হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলতে থাকে, এ জাদুকর আমাদের কাছে অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছিল;। বস্তুত আসমান থেকে শুনে নেয়ার কারণেই আমরা তা সত্যরূপে পেয়েছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪০)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন আল্লাহর তা’আলা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন....এ বর্ণনায় كَاهِنِ (জ্যোতির্বিদ কথাটি) অতিরিক্ত। ..... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, যখন আল্লাহ্ তা’আলা কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ বর্ণনায় عَلٰى فَمِ السَّاحِرِ (জাদুকরের মুখের ওপর) উল্লেখ করেছেন। ’আলী ইবনু ’আবদুল্লাহ্ বলেন, আমি সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি ’আমর থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি ইকরামাহ থেকে শুনে এবং তিনি (ইকরামাহ) বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে শুনেছি। সুফ্ইয়ান বলেন, হ্যাঁ। ’আলী বলেন, আমি সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, এক ব্যক্তি আপনার থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, ’আমর ইকরামাহ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করেছেন। সুফ্ইয়ান বললেন, আমি ’আমরকে এভাবে পড়তে শুনেছি। তবে আমি জানি না, তিনি এভাবেই শুনেছেন কিনা; তবে এ-ই আমাদের পাঠ। [৪৮০০, ৭৪৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪১)
সূরাহ (১৫) : হিজর
وَقَالَ مُجَاهِدٌ (صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيْمٌ) الْحَقُّ يَرْجِعُ إِلَى اللهِ وَعَلَيْهِ طَرِيْقُهُ (وَإِنَّهُمَا لَبِإِمَامٍ مُّبِيْنٍ)عَلَى الطَّرِيْقِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لَعَمْرُكَ) لَعَيْشُكَ (قَوْمٌ مُنْكَرُوْنَ) أَنْكَرَهُمْ لُوْطٌ وَقَالَ غَيْرُهُ (كِتَابٌمَعْلُوْمٌ) أَجَلٌ (لَوْ مَا تَأْتِيْنَا) هَلَّا تَأْتِيْنَا (شِيَعٌ) أُمَمٌ وَلِلْأَوْلِيَاءِ أَيْضًا شِيَعٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (يُهْرَعُوْنَ) مُسْرِعِيْنَ (لِلْمُتَوَسِّمِيْنَ) لِلنَّاظِرِيْنَ (سُكِّرَتْ) غُشِّيَتْ (بُرُوْجًا) مَنَازِلَ لِلشَّمْسِ وَالْقَمَرِ (لَوَاقِحَ)مَلَاقِحَ مُلْقَحَةً (حَمَإٍ) جَمَاعَةُ حَمْأَةٍ وَهُوَ الطِّيْنُ الْمُتَغَيِّرُ وَالْمَسْنُوْنُ الْمَصْبُوْبُ (تَوْجَلْ) تَخَفْ (دَابِرَ) آخِرَ لَبِإِمَامٍ مُبِيْنٍ الإِمَامُ كُلُّ مَا ائْتَمَمْتَ وَاهْتَدَيْتَ بِهِ (الصَّيْحَةُ) الْهَلَكَةُ.
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيْمٌ সঠিক পথ যা আল্লাহ্ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে এবং তাঁর দিকে রয়েছে এ রাস্তা। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, لَعَمْرُكَ তোমার জীবনের কসম। قَوْمٌ مُنْكَرُوْنَ এমন সম্প্রদায়, যাদের লূত (আঃ) চিনেননি। অন্যেরা বলেন, كِتَابٌ مَعْلُوْمٌ নির্দিষ্ট সময়। لَوْ مَا تَأْتِيْنَا কেন আমার কাছে আসে না। شِيَعٌ বহু সম্প্রদায়। বন্ধুবর্গকেও شِيَعٌ বলা হয়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, يُهْرَعُوْنَ তারা দ্রুতগতিতে ছুটে চলছে। لِلْمُتَوَسِّمِيْنَ প্রত্যক্ষকারীদেরকে জন্য سُكِّرَتْ ঢেকে দেয়া হয়েছে। চন্দ্র-সূর্যের মনযিল। بُرُوْجًا অর্থাৎ (ভার-গর্ভ মেঘমালা), এটার একবচন مُلْقَحَةً حَمَإٍ جَمَاعَةُ এর বহুবচন পচা কাদামাটি। وَالْمَسْنُوْنُ ঢেলে দেয়া হয়েছে। تَوْجَلْ ভীত হও। دَابِرَ অর্থ-শেষাংশ। الْإِمَامُ যার তুমি অনুসরণ করেছ, এবং যার দ্বারা সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছ। الصَّيْحَةُ ধ্বংস।
৪৭০১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন আল্লাহ্ তা’আলা আকাশে কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন মালায়িকাহ তাঁর কথা শোনার জন্য অতি বিনয়ের সঙ্গে নিজ নিজ পালক ঝাড়তে থাকে মসৃণ পাথরের উপর জিঞ্জিরের শব্দের মত। ’আলী (রাঃ) বলেন, صَفْوَانِ এর মধ্যে فَا সাকিন যুক্ত এবং অন্যরা বলেন, فَا ফাতাহ্ যুক্ত। এভাবে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর বাণী মালায়িকাহ্কে পৌঁছান। ’’যখন মালায়িকাহর অন্তর থেকে ভয় দূর হয়, তখন তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রভু কী বলেছেন? তখন তারা বলে, যা সত্য তিনি তাই বলেছেন, এবং তিনি অতি উচ্চ মহান।’’ চুরি করে কান লাগিয়ে (শায়ত্বনরা) তা শুনে নেয়। শোনার জন্য শায়ত্বনগুলো একের ওপর এক এভাবে থাকে। সুফ্ইয়ান ডান হাতের আঙ্গুলের ওপর অন্য আঙ্গুল রেখে হাতের ইশারায় ব্যাপারটি প্রকাশ করলেন। তারপর কখনও অগ্নি স্ফুলিঙ্গ শ্রবণকারীকে তার সাথীর কাছে এ কথাটি পৌঁছানোর আগেই আঘাত করে এবং তাকে জ্বালিয়ে দেয়। আবার কখনও সে ফুলকি প্রথম শ্রবণকারী শায়ত্বন পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই সে তার নিচের সাথীকে খবরটি জানিয়ে দেয়। এমনি করে এ কথা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। কখনও সুফ্ইয়ান বলেছেন, এমনি করে পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর তা জাদুকরের মুখে ঢেলে দেয়া হয় এবং সে তার সঙ্গে শত মিথ্যা মিশিয়ে প্রচার করে। তাই তার কথা সত্য হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলতে থাকে, এ জাদুকর আমাদের কাছে অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছিল;। বস্তুত আসমান থেকে শুনে নেয়ার কারণেই আমরা তা সত্যরূপে পেয়েছি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪০)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন আল্লাহর তা’আলা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন....এ বর্ণনায় كَاهِنِ (জ্যোতির্বিদ কথাটি) অতিরিক্ত। ..... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, যখন আল্লাহ্ তা’আলা কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ বর্ণনায় عَلٰى فَمِ السَّاحِرِ (জাদুকরের মুখের ওপর) উল্লেখ করেছেন। ’আলী ইবনু ’আবদুল্লাহ্ বলেন, আমি সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি ’আমর থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি ইকরামাহ থেকে শুনে এবং তিনি (ইকরামাহ) বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে শুনেছি। সুফ্ইয়ান বলেন, হ্যাঁ। ’আলী বলেন, আমি সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, এক ব্যক্তি আপনার থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, ’আমর ইকরামাহ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করেছেন। সুফ্ইয়ান বললেন, আমি ’আমরকে এভাবে পড়তে শুনেছি। তবে আমি জানি না, তিনি এভাবেই শুনেছেন কিনা; তবে এ-ই আমাদের পাঠ। [৪৮০০, ৭৪৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪১)
হাদিস নং: ৪৭০২
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر حدثنا معن قال حدثني مالك عن عبد الله بن دينار عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لاصحاب الحجر لا تدخلوا على هولاء القوم الا ان تكونوا باكين فان لم تكونوا باكين فلا تدخلوا عليهم ان يصيبكم مثل ما اصابهم.
৪৭০২. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরবাসীগণ [1] সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামদের বললেন, তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতিরেকে এ জাতির এলাকায় প্রবেশ করবে না। যদি তোমাদের ক্রন্দন না আসে, তবে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশই করবে না। হয়ত, তাদের ওপর যা ঘটেছিল তা তোমাদের ওপরও ঘটতে পারে। [৪৩৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪২)
নোট: [1] ‘হিজর’ একটি উপত্যকা যেখানে ‘সামুদ’ সম্প্রদায় বাস করত।
হাদিস নং: ৪৭০৩
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن خبيب بن عبد الرحمن عن حفص بن عاصم عن ابي سعيد بن المعلى قال مر بي النبي صلى الله عليه وسلم وانا اصلي فدعاني فلم اته حتى صليت ثم اتيت فقال ما منعك ان تاتيني فقلت كنت اصلي فقال الم يقل الله (يٓايها الذين امنوا استجيبوا لله وللرسول) اذا دعاكم لما يحييكم ثم قال الا اعلمك اعظم سورة في القران قبل ان اخرج من المسجد فذهب النبي صلى الله عليه وسلم ليخرج من المسجد فذكرته فقال الحمد لله رب العالمين هي السبع المثاني والقران العظيم الذي اوتيته.
৪৭০৩. আবূ সা’ঈদ ইবনু মু’য়াল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পার্শ্ব দিয়ে গেলেন, তখন আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি আমাকে ডাক দিলেন। আমি সালাত শেষ না করে আসিনি। তারপর আমি আসলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে আসতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল। আমি বললাম, আমি সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা’আলা কি এ কথা বলেননি, ’’হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ এবং রাসূলের ডাকে সাড়া দাও?’’ তারপর তিনি বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগেই কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরাটি শিখিয়ে দেব না। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলেন, আমি তাকে কথাটি মনে করিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, সে সূরাটি হল, ’’আল্ হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।’’ এটি হল, বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহা কুরআন[1] যা আমাকে দেয়া হয়েছে। [৪৪৭৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৩)
নোট: [1] সূরায়ে ফাতিহাকে ‘মহা কুরআন’ বলা হয়েছে। কারণ, কুরআনের সকল বিষয়বস্তুর মূল কথা এর মধ্যে রয়েছে।
হাদিস নং: ৪৭০৪
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا ابن ابي ذىب حدثنا سعيد المقبري عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ام القران هي السبع المثاني والقران العظيم.
৪৭০৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উম্মুল কুরআন[1] (সূরাহ ফাতিহা) হচ্ছে বারবার পঠিত সাতটি আয়াত [2] এবং মহা কুরআন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৪)
নোট: [1] ‘উম্মুল কুরআন’ বলা হয় সূরাহ ফাতিহাকে। কুরআন মাজীদের সকল বিষয়বস্তু এর মধ্যে সংক্ষেপে রয়েছে বলে ‘উম্মুল কুরআন’ অর্থাৎ ‘কুরআনের মা’ বলা হয়।
[2] পূর্বে হাদীসের টীকা দ্র.।
[2] পূর্বে হাদীসের টীকা দ্র.।
হাদিস নং: ৪৭০৫
সহিহ (Sahih)
يعقوب بن ابراهيم حدثنا هشيم اخبرنا ابو بشر عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما (الذين جعلوا القران عضين) قال هم اهل الكتاب جزءوه اجزاء فامنوا ببعضه وكفروا ببعضه
(الْمُقْتَسِمِيْنَ) الَّذِيْنَ حَلَفُوْا وَمِنْهُ (لَا أُقْسِمُ) أَيْ أُقْسِمُ وَتُقْرَأُ لَأُقْسِمُ. (قَاسَمَهُمَا) حَلَفَ لَهُمَا وَلَمْ يَحْلِفَا لَهُ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (تَقَاسَمُوْا) تَحَالَفُوْا.
الْمُقْتَسِمِيْنَ যারা শপথ করেছিল [1] এবং এ অর্থে لَاأُقْسِمُ অর্থাৎ أُقْسِمُ আমি শপথ করছি এবং لَاأُقْسِمُ ও পড়া হয় قَاسَمَهُمَا (ইবলিস) শপথ করেছিল, দু’জনার কাছে। তারা দু’জন (আদম ও হাওয়া) তার জন্য শপথ করেনি। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَقَسَمُوْا তারা শপথ করেছিল।
৪৭০৫. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। "যারা কুরআনকে ভাগ করে ফেলেছে।" এরা হল আহলে কিতাব (ইয়াহূদী-নাসারা)। তারা কুরআনকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে ফেলেছে। তারা কোন অংশের ওপর বিশ্বাস এনেছে এবং কোন অংশকে অস্বীকার করেছে। [৩৯৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৫)
الْمُقْتَسِمِيْنَ যারা শপথ করেছিল [1] এবং এ অর্থে لَاأُقْسِمُ অর্থাৎ أُقْسِمُ আমি শপথ করছি এবং لَاأُقْسِمُ ও পড়া হয় قَاسَمَهُمَا (ইবলিস) শপথ করেছিল, দু’জনার কাছে। তারা দু’জন (আদম ও হাওয়া) তার জন্য শপথ করেনি। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَقَسَمُوْا তারা শপথ করেছিল।
৪৭০৫. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। "যারা কুরআনকে ভাগ করে ফেলেছে।" এরা হল আহলে কিতাব (ইয়াহূদী-নাসারা)। তারা কুরআনকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে ফেলেছে। তারা কোন অংশের ওপর বিশ্বাস এনেছে এবং কোন অংশকে অস্বীকার করেছে। [৩৯৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৫)
নোট: [1] الْمُقْتَسِمِيْنَ যারা শপথ করেছিল, তারা হল- ইয়াহূদী ও নাসারা। কারও মতে, সে কাফেরদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, যারা লূত (‘আ.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল।
হাদিস নং: ৪৭০৬
সহিহ (Sahih)
عبيد الله بن موسى عن الاعمش عن ابي ظبيان عن ابن عباس رضي الله عنهما (كما انزلنا على المقتسمين) قال امنوا ببعض وكفروا ببعض اليهود والنصارى
৪৭০৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) كَمَآ أَنْزَلْنَا عَلَى الْمُقْتَسِمِيْنَ-এর ব্যাখ্যায় বলেন, তারা কিছু অংশের উপর ঈমান আনে আর কিছু অংশ অস্বীকার করে। এরা হল ইয়াহুদী ও নাসারা। [৩৯৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৬)
হাদিস নং: ৪৭০৭
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا هارون بن موسى ابو عبد الله الاعور عن شعيب عن انس بن مالك رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يدعو اعوذ بك من البخل والكسل وارذل العمر وعذاب القبر وفتنة الدجال وفتنة المحيا والممات
65/15/5. بَاب قَوْلِهِ :(وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتّٰى يَأْتِيَكَ الْيَقِيْنُ)
৬৫/১৫/৫. অধ্যায়: আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আর আপনার রবের ’ইবাদাত করতে থাকুন যে পর্যন্ত না আপনার কাছে মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়। (সূরা হিজর ১৫/৯৯)
قَالَ سَالِمٌ (الْيَقِيْنُ) الْمَوْتُ.
সালিম বলেন, (এখানে) يَقِيْنُ মৃত্যু।
(16) سُوْرَةُ النَّحْلِ
সূরাহ (১৬) : নাহল
(رُوْحُ الْقُدُسِ) جِبْرِيْلُ نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْأَمِيْنُ (فِيْ ضَيْقٍ) يُقَالُ أَمْرٌ ضَيْقٌ وَضَيِّقٌ مِثْلُ هَيْنٍ وَهَيِّنٍ وَلَيْنٍ وَلَيِّنٍ وَمَيْتٍ وَمَيِّتٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تَتَفَيَّأُ ظِلَالُهُ تَتَهَيَّأُ سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا لَا يَتَوَعَّرُ عَلَيْهَا مَكَانٌ سَلَكَتْهُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (فِيْ تَقَلُّبِهِمْ) اخْتِلَافِهِمْ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (تَمِيْدُ) تَكَفَّأُ (مُفْرَطُوْنَ) مَنْسِيُّوْنَ وَقَالَ غَيْرُهُ (فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ) مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ هَذَا مُقَدَّمٌ وَمُؤَخَّرٌ وَذَلِكَ أَنَّ الِاسْتِعَاذَةَ قَبْلَ الْقِرَاءَةِ وَمَعْنَاهَا الِاعْتِصَامُ بِاللهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تُسِيْمُوْنَ تَرْعَوْنَ شَاكِلَتِهِ نَاحِيَتِهِ (قَصْدُ السَّبِيْلِ) الْبَيَانُ (الدِّفْءُ) مَا اسْتَدْفَأْتَ (تُرِيْحُوْنَ) بِالْعَشِيِّ (وَ تَسْرَحُوْنَ) بِالْغَدَاةِ (بِشِقِّ) يَعْنِي الْمَشَقَّةَ (عَلَى تَخَوُّفٍ) تَنَقُّصٍ (الأَنْعَامِلَعِبْرَةً) وَهِيَ تُؤَنَّثُ وَتُذَكَّرُ وَكَذَلِكَ النَّعَمُ الْأَنْعَامُ جَمَاعَةُ النَّعَمِ أَكْنَانٌ وَاحِدُهَا كِنٌّ مِثْلُ حِمْلٍ وَأَحْمَالٍ (سَرَابِيْلَ) قُمُصٌ (تَقِيْكُمْالْحَرَّ) وَأَمَّا (سَرَابِيْلَ تَقِيْكُمْ بَأْسَكُمْ) فَإِنَّهَا الدُّرُوْعُ (دَخَلًابَيْنَكُمْ) كُلُّ شَيْءٍ لَمْ يَصِحَّ فَهُوَ دَخَلٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (حَفَدَةً) مَنْ وَلَدَ الرَّجُلُ (السَّكَرُ) مَا حُرِّمَ مِنْ ثَمَرَتِهَا وَالرِّزْقُ الْحَسَنُ مَا أَحَلَّ اللهُ وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ صَدَقَةَ (أَنْكَاثًا) هِيَ خَرْقَاءُ كَانَتْ إِذَا أَبْرَمَتْ (غَزْلَهَا) نَقَضَتْهُ وَقَالَ ابْنُ مَسْعُوْدٍ (الْأُمَّةُ) مُعَلِّمُ الْخَيْرِ (وَالْقَانِتُ) الْمُطِيْعُ. (أكْنانًا) واحِدُها كِنٌّ مِثْلُ حِمْلِ وأحْمَالٍ.
رُوْحُ الْقُدُسِঅর্থাৎ জিবরীল (আঃ)।[1] অন্য আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْأَمِيْنُ অর্থাৎ রূহুল আমীন (জিবরীল) ওয়াহী নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। فِيْ ضَيْقٍ সংকটে কিংবা সংকুচিত হৃদয়। বলা হয়, أَمْرٌ ضَيْقٌ وَضَيِّقٌ (يا মুশাদ্দাদ অথবা সাকিন) যেমন- هَيْنٌ-و-هَيِّنٌ-وَ-لَيْنٌ-لَيِّنٌ-وَ-مَيْتٌ-مَيِّتٌ এবং ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, فِيْ تَقَلُّبِهِمْ তাদের সর্বত্র গমনাগমনে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَمِيْدُ আন্দোলিত হয়। مُفْرَطُوْنَ বিস্মৃত অবস্থায় রাখা হবে। অন্যের মতে, فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ এ বাক্যটি আগ-পিছু রয়েছে। কেননা কুরআন পাঠের আগে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়। অর্থাৎ আল্লাহকে আঁকড়িয়ে ধরা شَاكِلَتِهِ নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী। قَصْدُالسَّبِيْلِ (আল্লাহর যিম্মায়) সরল পথ প্রদর্শন الدِّفْءُ যা দ্বারা তুমি শীত নিবারণ কর। تُرِيْحُوْنَ বিকেল বেলা (পশুগুলিকে চারণ ভূমি থেকে গৃহে) নিয়ে আস। تَسْرَحُوْنَ সকাল বেলায় নিয়ে যাও। بِشِقِّ কষ্টের সঙ্গে। عَلٰى تَخَوُّفٍ কম করার মাধ্যমে الْأَنْعَامِلَعِبْرَةً (আন’আমের মধ্যে অবশ্যই শিক্ষা রয়েছে) أَنْعَامِ শব্দটি পুং বাচক ও স্ত্রীবাচক দুইই ব্যবহার হয়। এরূপ أَنْعَام- শব্দটি نَعَامِ এর বহুবচন।২ سَرَابِيْلَজামাগুলো। تَقِيْكُمْ الْحَرَّ (তাপ থেকে তোমাদের রক্ষা করে) এবং سَرَابِيْلَ تَقِيْكُمْ بَأْسَكُمْ এ سَرَابِيْلَ মানে বর্ম (যা তোমাদের যুদ্ধ-আঘাত থেকে রক্ষা করে) دَخَلًا بَيْنَكُمْ যে কোন কাজ অযথার্থ হয় তাকে ’দাখাল’ বলে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, حَفَدَةً পৌত্র অর্থাৎ এরাও নিজ সন্তান বলে গণ্য। السَّكَرُ মাদক, যা ফল থেকে তৈরি করা হয়, তা হারাম করা হয়েছে। الرِّزْقُالْحَسَنُ (উত্তম খাদ্য) যা আল্লাহ্ হালাল করেছেন।
ইবনু ’উয়াইনাহ সাদাকা (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, أَنْكَاثًا (টুকরো টুকরো করা) মক্কা্য় এক নির্বোধ মহিলা যে মজবুত করে সূতা পাকানোর পর তা টুকরো টুকরো করে ফেলত। ইবনু মাস’উদ (রাঃ) বলেন, الْأُمَّةُ কল্যাণের শিক্ষাদানকারী। الْقَانِتُ অনুগত।
৪৭০৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’আ করতেন (হে আল্লাহ্!) আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, অলসতা থেকে, চলৎশক্তিহীন বয়স থেকে, কবরের আযাব থেকে, দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে। [২৮২৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৭)
৬৫/১৫/৫. অধ্যায়: আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আর আপনার রবের ’ইবাদাত করতে থাকুন যে পর্যন্ত না আপনার কাছে মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়। (সূরা হিজর ১৫/৯৯)
قَالَ سَالِمٌ (الْيَقِيْنُ) الْمَوْتُ.
সালিম বলেন, (এখানে) يَقِيْنُ মৃত্যু।
(16) سُوْرَةُ النَّحْلِ
সূরাহ (১৬) : নাহল
(رُوْحُ الْقُدُسِ) جِبْرِيْلُ نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْأَمِيْنُ (فِيْ ضَيْقٍ) يُقَالُ أَمْرٌ ضَيْقٌ وَضَيِّقٌ مِثْلُ هَيْنٍ وَهَيِّنٍ وَلَيْنٍ وَلَيِّنٍ وَمَيْتٍ وَمَيِّتٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تَتَفَيَّأُ ظِلَالُهُ تَتَهَيَّأُ سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا لَا يَتَوَعَّرُ عَلَيْهَا مَكَانٌ سَلَكَتْهُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (فِيْ تَقَلُّبِهِمْ) اخْتِلَافِهِمْ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (تَمِيْدُ) تَكَفَّأُ (مُفْرَطُوْنَ) مَنْسِيُّوْنَ وَقَالَ غَيْرُهُ (فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ) مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ هَذَا مُقَدَّمٌ وَمُؤَخَّرٌ وَذَلِكَ أَنَّ الِاسْتِعَاذَةَ قَبْلَ الْقِرَاءَةِ وَمَعْنَاهَا الِاعْتِصَامُ بِاللهِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تُسِيْمُوْنَ تَرْعَوْنَ شَاكِلَتِهِ نَاحِيَتِهِ (قَصْدُ السَّبِيْلِ) الْبَيَانُ (الدِّفْءُ) مَا اسْتَدْفَأْتَ (تُرِيْحُوْنَ) بِالْعَشِيِّ (وَ تَسْرَحُوْنَ) بِالْغَدَاةِ (بِشِقِّ) يَعْنِي الْمَشَقَّةَ (عَلَى تَخَوُّفٍ) تَنَقُّصٍ (الأَنْعَامِلَعِبْرَةً) وَهِيَ تُؤَنَّثُ وَتُذَكَّرُ وَكَذَلِكَ النَّعَمُ الْأَنْعَامُ جَمَاعَةُ النَّعَمِ أَكْنَانٌ وَاحِدُهَا كِنٌّ مِثْلُ حِمْلٍ وَأَحْمَالٍ (سَرَابِيْلَ) قُمُصٌ (تَقِيْكُمْالْحَرَّ) وَأَمَّا (سَرَابِيْلَ تَقِيْكُمْ بَأْسَكُمْ) فَإِنَّهَا الدُّرُوْعُ (دَخَلًابَيْنَكُمْ) كُلُّ شَيْءٍ لَمْ يَصِحَّ فَهُوَ دَخَلٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (حَفَدَةً) مَنْ وَلَدَ الرَّجُلُ (السَّكَرُ) مَا حُرِّمَ مِنْ ثَمَرَتِهَا وَالرِّزْقُ الْحَسَنُ مَا أَحَلَّ اللهُ وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ صَدَقَةَ (أَنْكَاثًا) هِيَ خَرْقَاءُ كَانَتْ إِذَا أَبْرَمَتْ (غَزْلَهَا) نَقَضَتْهُ وَقَالَ ابْنُ مَسْعُوْدٍ (الْأُمَّةُ) مُعَلِّمُ الْخَيْرِ (وَالْقَانِتُ) الْمُطِيْعُ. (أكْنانًا) واحِدُها كِنٌّ مِثْلُ حِمْلِ وأحْمَالٍ.
رُوْحُ الْقُدُسِঅর্থাৎ জিবরীল (আঃ)।[1] অন্য আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْأَمِيْنُ অর্থাৎ রূহুল আমীন (জিবরীল) ওয়াহী নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। فِيْ ضَيْقٍ সংকটে কিংবা সংকুচিত হৃদয়। বলা হয়, أَمْرٌ ضَيْقٌ وَضَيِّقٌ (يا মুশাদ্দাদ অথবা সাকিন) যেমন- هَيْنٌ-و-هَيِّنٌ-وَ-لَيْنٌ-لَيِّنٌ-وَ-مَيْتٌ-مَيِّتٌ এবং ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, فِيْ تَقَلُّبِهِمْ তাদের সর্বত্র গমনাগমনে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, تَمِيْدُ আন্দোলিত হয়। مُفْرَطُوْنَ বিস্মৃত অবস্থায় রাখা হবে। অন্যের মতে, فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ এ বাক্যটি আগ-পিছু রয়েছে। কেননা কুরআন পাঠের আগে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়। অর্থাৎ আল্লাহকে আঁকড়িয়ে ধরা شَاكِلَتِهِ নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী। قَصْدُالسَّبِيْلِ (আল্লাহর যিম্মায়) সরল পথ প্রদর্শন الدِّفْءُ যা দ্বারা তুমি শীত নিবারণ কর। تُرِيْحُوْنَ বিকেল বেলা (পশুগুলিকে চারণ ভূমি থেকে গৃহে) নিয়ে আস। تَسْرَحُوْنَ সকাল বেলায় নিয়ে যাও। بِشِقِّ কষ্টের সঙ্গে। عَلٰى تَخَوُّفٍ কম করার মাধ্যমে الْأَنْعَامِلَعِبْرَةً (আন’আমের মধ্যে অবশ্যই শিক্ষা রয়েছে) أَنْعَامِ শব্দটি পুং বাচক ও স্ত্রীবাচক দুইই ব্যবহার হয়। এরূপ أَنْعَام- শব্দটি نَعَامِ এর বহুবচন।২ سَرَابِيْلَজামাগুলো। تَقِيْكُمْ الْحَرَّ (তাপ থেকে তোমাদের রক্ষা করে) এবং سَرَابِيْلَ تَقِيْكُمْ بَأْسَكُمْ এ سَرَابِيْلَ মানে বর্ম (যা তোমাদের যুদ্ধ-আঘাত থেকে রক্ষা করে) دَخَلًا بَيْنَكُمْ যে কোন কাজ অযথার্থ হয় তাকে ’দাখাল’ বলে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, حَفَدَةً পৌত্র অর্থাৎ এরাও নিজ সন্তান বলে গণ্য। السَّكَرُ মাদক, যা ফল থেকে তৈরি করা হয়, তা হারাম করা হয়েছে। الرِّزْقُالْحَسَنُ (উত্তম খাদ্য) যা আল্লাহ্ হালাল করেছেন।
ইবনু ’উয়াইনাহ সাদাকা (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, أَنْكَاثًا (টুকরো টুকরো করা) মক্কা্য় এক নির্বোধ মহিলা যে মজবুত করে সূতা পাকানোর পর তা টুকরো টুকরো করে ফেলত। ইবনু মাস’উদ (রাঃ) বলেন, الْأُمَّةُ কল্যাণের শিক্ষাদানকারী। الْقَانِتُ অনুগত।
৪৭০৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’আ করতেন (হে আল্লাহ্!) আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, অলসতা থেকে, চলৎশক্তিহীন বয়স থেকে, কবরের আযাব থেকে, দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে। [২৮২৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৭)
নোট: [1]أَنْعَام (আন‘আম) দ্বারা উট, গরু, মেষ, ছাগল ইত্যাদি অহিংস্র জন্তুকে বোঝায়।
হাদিস নং: ৪৭০৮
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة عن ابي اسحاق قال سمعت عبد الرحمن بن يزيد قال سمعت ابن مسعود رضي الله عنه قال في بني اسراىيل والكهف ومريم انهن من العتاق الاول وهن من تلادي فسينغضون اليك رءوسهم قال ابن عباس يهزون وقال غيره نغضت سنك اي تحركت
৪৭০৮. ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সূরাহ বনী ইসরাঈল, কাহাফ এবং মারইয়াম প্রথমে নাযিল হওয়া অতি উত্তম সূরা। এগুলো আমার পুরানো রক্ষিত সম্পদ। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, فَسَيُنْغِضُوْنَ তারা তাদের মাথা নাড়াবে। অন্য হতে বর্ণিত- نَغَضَتْ তোমার দাঁত নড়ে গেছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৮ প্রথমাংশ)
হাদিস নং: ৪৭০৯
সহিহ (Sahih)
عبدان حدثنا عبد الله اخبرنا يونس ح و حدثنا احمد بن صالح حدثنا عنبسة حدثنا يونس عن ابن شهاب قال ابن المسيب قال ابو هريرة اتي رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة اسري به بايلياء بقدحين من خمر ولبن فنظر اليهما فاخذ اللبن قال جبريل الحمد لله الذي هداك للفطرة لو اخذت الخمر غوت امتك
65/17/2. بَاب :
৬৫/১৭/২. অধ্যায়:
(وَقَضَيْنَآ إِلٰى بَنِيْٓإِسْرَائِيْلَ) أَخْبَرْنَاهُمْ أَنَّهُمْ سَيُفْسِدُوْنَ وَالْقَضَاءُ عَلَى وُجُوْهٍ (وَقَضٰى رَبُّكَ) أَمَرَ رَبُّكَ وَمِنْهُ الْحُكْمُ (إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِيْ بَيْنَهُمْ) وَمِنْهُ الْخَلْقُ (فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَوٰتٍ)
(نَفِيْرًا) مَنْ يَنْفِرُ مَعَهُ (مَيْسُوْرًا) لَيِّنًا (وَلِيُتَبِّرُوْا) يُدَمِّرُوْا مَا عَلَوْا (حَصِيْرًا) مَحْبِسًا مَحْصَرًا (حَقَّ) وَجَبَ (خِطْئًا) إِثْمًا وَهُوَ اسْمٌ مِنْ خَطِئْتَ وَالْخَطَأُ مَفْتُوْحٌ مَصْدَرُهُ مِنَ الإِثْمِ خَطِئْتُ بِمَعْنَى أَخْطَأْتُ (تَخْرِقَ) تَقْطَعَ (وَإِذْ هُمْ نَجْوٰى) مَصْدَرٌ مِنْ نَاجَيْتُ فَوَصَفَهُمْ بِهَا وَالْمَعْنَى يَتَنَاجَوْنَ (رُفَاتًا) حُطَامًا (وَاسْتَفْزِزْ) اسْتَخِفَّ بِخَيْلِكَ الْفُرْسَانِ وَالرَّجْلُ وَالرِّجَالُ الرَّجَّالَةُ وَاحِدُهَا رَاجِلٌ مِثْلُ صَاحِبٍ وَصَحْبٍ وَتَاجِرٍ وَتَجْرٍ (حَاصِبًا) الرِّيْحُ الْعَاصِفُ وَالْحَاصِبُ أَيْضًا مَا تَرْمِيْ بِهِ الرِّيْحُ وَمِنْهُ حَصَبُ جَهَنَّمَ يُرْمَى بِهِ فِيْ جَهَنَّمَ وَهُوَ حَصَبُهَا وَيُقَالُ حَصَبَ فِي الْأَرْضِ ذَهَبَ وَالْحَصَبُ مُشْتَقٌّ مِنَ الْحَصْبَاءِ وَالْحِجَارَةِ (تَارَةً) مَرَّةً وَجَمَاعَتُهُ تِيَرَةٌ وَتَارَاتٌ (لَأَحْتَنِكَنَّ) لَأَسْتَأْصِلَنَّهُمْ يُقَالُ احْتَنَكَ فُلَانٌ مَا عِنْدَ فُلَانٍ مِنْ عِلْمٍ اسْتَقْصَاهُ (طَائِرَهُ) حَظَّهُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كُلُّ (سُلْطَانٍ) فِي الْقُرْآنِ فَهُوَ حُجَّةٌ (وَلِيٌّ مِّنَ الذُّلِّ) لَمْ يُحَالِفْ أَحَدًا.
وَقَضَيْنَآ إِلٰى بَنِيْٓ إِسْرَائِيْلَ আমি বনী ইসরাঈলকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, তারা শীঘ্রই বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। وَقَضٰى رَبُّكَ বহু অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন الْقَضَا তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন। ’ফয়সালা’ অর্থে, যেমন বলা হয়েছে- إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِيْ بَيْنَهُمْ নিশ্চয় তোমার রব তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবেন’, এবং ’সৃষ্টি করা’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন- فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَوٰتٍ সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান। نَفِيْرًا দল।[1] যারা তার সঙ্গে চলে। وَلِيُتَبِّرُوْا তাদের প্রাধান্য সম্পূর্ণ খতম করার জন্য। حَصِيْرًا বন্দীখানা। فَحَقَّ অনিবার্য হয়েছে। مَيْسُوْرًا নম্র। خِطْئًا পাপ। এটা خَطِئْتُ থেকে اسْمٌ এবং وَالْخَطَأُ (জবর সহকারে) তার মাসদার গুনাহের অর্থে। خَطِئْتُ আমি পাপ করেছি। لَنْتَخْرِقَ কখনও বিদীর্ণ করতে পারবে না। وَإِذْ هُمْ نَجْوٰى এটি نَاجَيْتُ থেকে مَصْدَرٌ এর দ্বারা তাদের (জালিমদের) অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থ পরস্পর কানাঘুষা করছে। رُفَاتًا চূর্ণ-বিচূর্ণ। وَاسْتَفْزِزْ উত্তেজিত কর। بِخَيْلِكَ তোমার অশ্বারোহী দ্বারা وَالرِّجَالُ الرَّجَّالَةُ (পদাতিক বাহিনী) এর একবচন رَاجِلٌ যেমন صَاحِبٌ এর বহুবচন صَحْبٍ এবং تَاجِرٍ এর বহুবচন حَاصِبًا،تَجْرٌ প্রবাহিত প্রচন্ড বাতাস এবং حَاصِبُ যা ঝঞঝা-বায়ু প্রবাহিত করে। এর থেকেই حَصَبُجَهَنَّمَ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অর্থাৎ তারা হচ্ছে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত বস্তু। حَصَبَ فِيالْأَرْضِ যমীনে চলে গেছে। الْحَصْبَاءِالْحَصْبُ থেকে গঠিত। অর্থ পাথরগুলো। تَارَةً একবার। তার বহুবচন لَأَحْتَنِكَنَّ-تَارَاتُ- وَتِيَرْةَ طَاَئِرَهُ তাদের সমূলে উৎপাটিত করব। বলা হয় احْتَنَكَ فُلَانٌ مَا عِنْدَ فُلَانٍ مِنْ عِلْمٍ অর্থাৎ অন্যের যে ইল্ম ছিল তা সে সবটুকু হাসিল করে নিয়েছে। طَائِرَهُ তার ভাগ্য। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, কুরআন মাজীদে যত জায়গায় سُلْطَانٍ শব্দ রয়েছে, তার অর্থ প্রমাণ। وَلِيٌّ مِنْ الذُّلِّ অর্থাৎ দুঃখ-দৈন্যের কারণে কারো সঙ্গে তার বন্ধুত্ব করতে পারে না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৮)
৪৭০৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বাইতুল মাকদাসে ভ্রমণ করানো হয়, সে রাতে তাঁর সামনে দু’টি পেয়ালা রাখা হয়েছিল। তার একটিতে ছিল শরাব এবং আরেকটিতে ছিল দুধ। তিনি উভয়টির দিকে তাকালেন এবং দুধ বেছে নিলেন। তখন জিবরীল (আঃ) বললেন, সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর, যিনি আপনাকে স্বাভাবিক পথ দেখিয়েছেন। যদি আপনি শরাব বেছে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মাত অবাধ্য হয়ে যেত। [৩৩৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৯)
৬৫/১৭/২. অধ্যায়:
(وَقَضَيْنَآ إِلٰى بَنِيْٓإِسْرَائِيْلَ) أَخْبَرْنَاهُمْ أَنَّهُمْ سَيُفْسِدُوْنَ وَالْقَضَاءُ عَلَى وُجُوْهٍ (وَقَضٰى رَبُّكَ) أَمَرَ رَبُّكَ وَمِنْهُ الْحُكْمُ (إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِيْ بَيْنَهُمْ) وَمِنْهُ الْخَلْقُ (فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَوٰتٍ)
(نَفِيْرًا) مَنْ يَنْفِرُ مَعَهُ (مَيْسُوْرًا) لَيِّنًا (وَلِيُتَبِّرُوْا) يُدَمِّرُوْا مَا عَلَوْا (حَصِيْرًا) مَحْبِسًا مَحْصَرًا (حَقَّ) وَجَبَ (خِطْئًا) إِثْمًا وَهُوَ اسْمٌ مِنْ خَطِئْتَ وَالْخَطَأُ مَفْتُوْحٌ مَصْدَرُهُ مِنَ الإِثْمِ خَطِئْتُ بِمَعْنَى أَخْطَأْتُ (تَخْرِقَ) تَقْطَعَ (وَإِذْ هُمْ نَجْوٰى) مَصْدَرٌ مِنْ نَاجَيْتُ فَوَصَفَهُمْ بِهَا وَالْمَعْنَى يَتَنَاجَوْنَ (رُفَاتًا) حُطَامًا (وَاسْتَفْزِزْ) اسْتَخِفَّ بِخَيْلِكَ الْفُرْسَانِ وَالرَّجْلُ وَالرِّجَالُ الرَّجَّالَةُ وَاحِدُهَا رَاجِلٌ مِثْلُ صَاحِبٍ وَصَحْبٍ وَتَاجِرٍ وَتَجْرٍ (حَاصِبًا) الرِّيْحُ الْعَاصِفُ وَالْحَاصِبُ أَيْضًا مَا تَرْمِيْ بِهِ الرِّيْحُ وَمِنْهُ حَصَبُ جَهَنَّمَ يُرْمَى بِهِ فِيْ جَهَنَّمَ وَهُوَ حَصَبُهَا وَيُقَالُ حَصَبَ فِي الْأَرْضِ ذَهَبَ وَالْحَصَبُ مُشْتَقٌّ مِنَ الْحَصْبَاءِ وَالْحِجَارَةِ (تَارَةً) مَرَّةً وَجَمَاعَتُهُ تِيَرَةٌ وَتَارَاتٌ (لَأَحْتَنِكَنَّ) لَأَسْتَأْصِلَنَّهُمْ يُقَالُ احْتَنَكَ فُلَانٌ مَا عِنْدَ فُلَانٍ مِنْ عِلْمٍ اسْتَقْصَاهُ (طَائِرَهُ) حَظَّهُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كُلُّ (سُلْطَانٍ) فِي الْقُرْآنِ فَهُوَ حُجَّةٌ (وَلِيٌّ مِّنَ الذُّلِّ) لَمْ يُحَالِفْ أَحَدًا.
وَقَضَيْنَآ إِلٰى بَنِيْٓ إِسْرَائِيْلَ আমি বনী ইসরাঈলকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, তারা শীঘ্রই বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। وَقَضٰى رَبُّكَ বহু অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন الْقَضَا তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন। ’ফয়সালা’ অর্থে, যেমন বলা হয়েছে- إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِيْ بَيْنَهُمْ নিশ্চয় তোমার রব তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবেন’, এবং ’সৃষ্টি করা’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন- فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَوٰتٍ সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান। نَفِيْرًا দল।[1] যারা তার সঙ্গে চলে। وَلِيُتَبِّرُوْا তাদের প্রাধান্য সম্পূর্ণ খতম করার জন্য। حَصِيْرًا বন্দীখানা। فَحَقَّ অনিবার্য হয়েছে। مَيْسُوْرًا নম্র। خِطْئًا পাপ। এটা خَطِئْتُ থেকে اسْمٌ এবং وَالْخَطَأُ (জবর সহকারে) তার মাসদার গুনাহের অর্থে। خَطِئْتُ আমি পাপ করেছি। لَنْتَخْرِقَ কখনও বিদীর্ণ করতে পারবে না। وَإِذْ هُمْ نَجْوٰى এটি نَاجَيْتُ থেকে مَصْدَرٌ এর দ্বারা তাদের (জালিমদের) অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থ পরস্পর কানাঘুষা করছে। رُفَاتًا চূর্ণ-বিচূর্ণ। وَاسْتَفْزِزْ উত্তেজিত কর। بِخَيْلِكَ তোমার অশ্বারোহী দ্বারা وَالرِّجَالُ الرَّجَّالَةُ (পদাতিক বাহিনী) এর একবচন رَاجِلٌ যেমন صَاحِبٌ এর বহুবচন صَحْبٍ এবং تَاجِرٍ এর বহুবচন حَاصِبًا،تَجْرٌ প্রবাহিত প্রচন্ড বাতাস এবং حَاصِبُ যা ঝঞঝা-বায়ু প্রবাহিত করে। এর থেকেই حَصَبُجَهَنَّمَ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অর্থাৎ তারা হচ্ছে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত বস্তু। حَصَبَ فِيالْأَرْضِ যমীনে চলে গেছে। الْحَصْبَاءِالْحَصْبُ থেকে গঠিত। অর্থ পাথরগুলো। تَارَةً একবার। তার বহুবচন لَأَحْتَنِكَنَّ-تَارَاتُ- وَتِيَرْةَ طَاَئِرَهُ তাদের সমূলে উৎপাটিত করব। বলা হয় احْتَنَكَ فُلَانٌ مَا عِنْدَ فُلَانٍ مِنْ عِلْمٍ অর্থাৎ অন্যের যে ইল্ম ছিল তা সে সবটুকু হাসিল করে নিয়েছে। طَائِرَهُ তার ভাগ্য। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, কুরআন মাজীদে যত জায়গায় سُلْطَانٍ শব্দ রয়েছে, তার অর্থ প্রমাণ। وَلِيٌّ مِنْ الذُّلِّ অর্থাৎ দুঃখ-দৈন্যের কারণে কারো সঙ্গে তার বন্ধুত্ব করতে পারে না। (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৮)
৪৭০৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বাইতুল মাকদাসে ভ্রমণ করানো হয়, সে রাতে তাঁর সামনে দু’টি পেয়ালা রাখা হয়েছিল। তার একটিতে ছিল শরাব এবং আরেকটিতে ছিল দুধ। তিনি উভয়টির দিকে তাকালেন এবং দুধ বেছে নিলেন। তখন জিবরীল (আঃ) বললেন, সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর, যিনি আপনাকে স্বাভাবিক পথ দেখিয়েছেন। যদি আপনি শরাব বেছে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মাত অবাধ্য হয়ে যেত। [৩৩৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪৯)
নোট: [1] আবদান-উপাধি। পূর্ণাঙ্গ-আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উসমান।
হাদিস নং: ৪৭১০
সহিহ (Sahih)
احمد بن صالح حدثنا ابن وهب قال اخبرني يونس عن ابن شهاب قال ابو سلمة سمعت جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول لما كذبتني قريش قمت في الحجر فجلى الله لي بيت المقدس فطفقت اخبرهم عن اياته وانا انظر اليه زاد يعقوب بن ابراهيم حدثنا ابن اخي ابن شهاب عن عمه لما كذبتني قريش حين اسري بي الى بيت المقدس نحوه (قاصفا)ريح تقصف كل شيء.
৪৭১০. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন কুরায়শরা (মিরাজের ঘটনায়) আমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করতে লাগল, তখন আমি হিজরে [1] দাঁড়ালাম। আল্লাহ্ তা’আলা বায়তুল মাকদাসকে আমার সামনে পেশ করে দিলেন। আমি তা দেখে তার সকল নিশানা তাদের বলে দিতে লাগলাম। ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহীম ইবনু শিহাব সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। যখন কুরায়শরা আমাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করতে লাগল, সেই ঘটনার ব্যাপারে যখন আমাকে বায়তুল মাকদাস পর্যন্ত ভ্রমণ করানো হয়েছিল--- পূর্বের অনুরূপ বর্ণনা করেন। এমন যা সবকিছু চুরমার করে দেয়। আমাকে বায়তুল মাকদাস পর্যন্ত ভ্রমণ করানোর ঘটনাটি যখন কুরায়শরা মিথ্যা সাব্যস্ত করতে লাগল। [৩৮৮৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫০)
নোট: [1] হিজর-বায়তুল্লাহর মিযাবে রাহমাতের নিচে যে অংশটি পাথর দিয়ে ঘেরা তাকে হিজর বলা হয়।
হাদিস নং: ৪৭১১
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان اخبرنا منصور عن ابي واىل عن عبد الله قال كنا نقول للحي اذا كثروا في الجاهلية حدثنا الحميدي حدثنا سفيان وقال امر
65/17/4. بَاب قَوْلِهِ تَعَالَى(وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِيْٓاٰدَمَ)
৬৫/১৭/৪. অধ্যায়: আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি। (সূরাহ বনী ইসরাঈল ১৭/৭০)
(كَرَّمْنَا) وَأَكْرَمْنَا وَاحِدٌ (ضِعْفَالْحَيَاةِ) عَذَابَ الْحَيَاةِ (وَضِعْفَ الْمَمَاتِ) عَذَابَ الْمَمَاتِ (خِلَافَكَ) وَخَلْفَكَ سَوَاءٌ (وَنَأَى) تَبَاعَدَ (شَاكِلَتِهِ) نَاحِيَتِهِ وَهِيَ مِنْ شَكْلِهِ (صَرَّفْنَا) وَجَّهْنَا (قَبِيْلًا) مُعَايَنَةً وَمُقَابَلَةً وَقِيْلَ الْقَابِلَةُ لِأَنَّهَا مُقَابِلَتُهَا وَتَقْبَلُ وَلَدَهَا (خَشْيَةَالإِنْفَاقِ) أَنْفَقَ الرَّجُلُ أَمْلَقَ وَنَفِقَ الشَّيْءُ ذَهَبَ (قَتُوْرًا) مُقَتِّرًا (لِلْأَذْقَانِ) مُجْتَمَعُ اللَّحْيَيْنِ وَالْوَاحِدُ ذَقَنٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مَوْفُوْرًا) وَافِرًا(تَبِيْعًا) ثَائِرًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (نَصِيْرًاخَبَتْ) طَفِئَتْ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لَاتُبَذِّرْ) لَا تُنْفِقْ فِي الْبَاطِلِ (ابْتِغَاءَرَحْمَةٍ) رِزْقٍ (مَثْبُوْرًا) مَلْعُوْنًا (لَاتَقْفُ) لَا تَقُلْ (فَجَاسُوْا) تَيَمَّمُوْا (يُزْجِي) الْفُلْكَ يُجْرِي الْفُلْكَ يَخِرُّوْنَ لِلْأَذْقَانِ لِلْوُجُوْهِ.
كَرَّمْنَا এবং أَكْرَمْنَا উভয় একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। ضِعْفَ الْحَيَاةِ দুনিয়ার জীবনের শাস্তি, মৃত্যুর শাস্তি خِلَافَكَ এবং خَلْفَكَ উভয় একই অর্থে। (অর্থাৎ-তোমার পিছনে) نَأَى দূরীভূত হল। شَاكِلَةِ নিজ প্রকৃতি মুতাবিক। এটি شَكْلُتُه থেকে উপন্ন। صَرَّفْنَا আমরা অভিমুখী করেছি। قَبِيْلًا চাক্ষুষ এবং সম্মুখে। বলা হয় قَابِلَةُ (ধাত্রী যেহেতু প্রসূতির সামনে থাকে এবং সন্তান ধারণ করে। خَشْيَةَ الإِنْفَاقِ খরচের ভয় أَنْفَقَ الرَّجُلُ লোকটি অভাবী হয়ে গেল। نَفِقَ الشَّيْءُ জিনিসটি চলে গেল। قَتُوْرًا অতি কৃপণ। ذَقَنٌ أَذْقَانٌ এর বহুবচন, যার অর্থ হল, উভয় চোয়ালের সংযোগস্থল। মুজাহিদ (রহ.) বলেন مَوْفُوْرًا পূর্ণ। تَبِيْعًا প্রতিশোধ গ্রহণকারী। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, এর অর্থ সাহায্যকারী। خَبَتْ নিভিয়ে যায়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, لَا تُبَذِّرْ অপব্যয় করো না। ابْتِغَاءَ رَحْمَةٍ রুজির আশায়। مَثْبُوْرًا অভিশপ্ত। لَا تَقْفُ বলো না। فَجَاسُوْا প্রতিজ্ঞা করেছে। يُزْجِي الْفُلْكَ নৌকা চালনা করছে। لِلْأَذْقَانِ মুখমণ্ডল
[1] (ভূমিতে লুটিয়ে দেয়)।
৪৭১১. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলীয়াতের যুগে কোন গোত্রের লোকসংখ্যা বেড়ে গেলে আমরা বলতাম-أَمِرَ بَنُوْ فُلَانٍ অমুক গোত্রের সংখ্যা বেড়ে গেছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫১)
হুমাইদী সুফ্ইয়ান থেকে বর্ণনা করেন বলেন, اَمِرَ (মীম কাস্রাহ্ যুক্ত)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫২)
৬৫/১৭/৪. অধ্যায়: আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি। (সূরাহ বনী ইসরাঈল ১৭/৭০)
(كَرَّمْنَا) وَأَكْرَمْنَا وَاحِدٌ (ضِعْفَالْحَيَاةِ) عَذَابَ الْحَيَاةِ (وَضِعْفَ الْمَمَاتِ) عَذَابَ الْمَمَاتِ (خِلَافَكَ) وَخَلْفَكَ سَوَاءٌ (وَنَأَى) تَبَاعَدَ (شَاكِلَتِهِ) نَاحِيَتِهِ وَهِيَ مِنْ شَكْلِهِ (صَرَّفْنَا) وَجَّهْنَا (قَبِيْلًا) مُعَايَنَةً وَمُقَابَلَةً وَقِيْلَ الْقَابِلَةُ لِأَنَّهَا مُقَابِلَتُهَا وَتَقْبَلُ وَلَدَهَا (خَشْيَةَالإِنْفَاقِ) أَنْفَقَ الرَّجُلُ أَمْلَقَ وَنَفِقَ الشَّيْءُ ذَهَبَ (قَتُوْرًا) مُقَتِّرًا (لِلْأَذْقَانِ) مُجْتَمَعُ اللَّحْيَيْنِ وَالْوَاحِدُ ذَقَنٌ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مَوْفُوْرًا) وَافِرًا(تَبِيْعًا) ثَائِرًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (نَصِيْرًاخَبَتْ) طَفِئَتْ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لَاتُبَذِّرْ) لَا تُنْفِقْ فِي الْبَاطِلِ (ابْتِغَاءَرَحْمَةٍ) رِزْقٍ (مَثْبُوْرًا) مَلْعُوْنًا (لَاتَقْفُ) لَا تَقُلْ (فَجَاسُوْا) تَيَمَّمُوْا (يُزْجِي) الْفُلْكَ يُجْرِي الْفُلْكَ يَخِرُّوْنَ لِلْأَذْقَانِ لِلْوُجُوْهِ.
كَرَّمْنَا এবং أَكْرَمْنَا উভয় একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। ضِعْفَ الْحَيَاةِ দুনিয়ার জীবনের শাস্তি, মৃত্যুর শাস্তি خِلَافَكَ এবং خَلْفَكَ উভয় একই অর্থে। (অর্থাৎ-তোমার পিছনে) نَأَى দূরীভূত হল। شَاكِلَةِ নিজ প্রকৃতি মুতাবিক। এটি شَكْلُتُه থেকে উপন্ন। صَرَّفْنَا আমরা অভিমুখী করেছি। قَبِيْلًا চাক্ষুষ এবং সম্মুখে। বলা হয় قَابِلَةُ (ধাত্রী যেহেতু প্রসূতির সামনে থাকে এবং সন্তান ধারণ করে। خَشْيَةَ الإِنْفَاقِ খরচের ভয় أَنْفَقَ الرَّجُلُ লোকটি অভাবী হয়ে গেল। نَفِقَ الشَّيْءُ জিনিসটি চলে গেল। قَتُوْرًا অতি কৃপণ। ذَقَنٌ أَذْقَانٌ এর বহুবচন, যার অর্থ হল, উভয় চোয়ালের সংযোগস্থল। মুজাহিদ (রহ.) বলেন مَوْفُوْرًا পূর্ণ। تَبِيْعًا প্রতিশোধ গ্রহণকারী। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, এর অর্থ সাহায্যকারী। خَبَتْ নিভিয়ে যায়। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, لَا تُبَذِّرْ অপব্যয় করো না। ابْتِغَاءَ رَحْمَةٍ রুজির আশায়। مَثْبُوْرًا অভিশপ্ত। لَا تَقْفُ বলো না। فَجَاسُوْا প্রতিজ্ঞা করেছে। يُزْجِي الْفُلْكَ নৌকা চালনা করছে। لِلْأَذْقَانِ মুখমণ্ডল
[1] (ভূমিতে লুটিয়ে দেয়)।
৪৭১১. ’আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলীয়াতের যুগে কোন গোত্রের লোকসংখ্যা বেড়ে গেলে আমরা বলতাম-أَمِرَ بَنُوْ فُلَانٍ অমুক গোত্রের সংখ্যা বেড়ে গেছে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫১)
হুমাইদী সুফ্ইয়ান থেকে বর্ণনা করেন বলেন, اَمِرَ (মীম কাস্রাহ্ যুক্ত)। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫২)
নোট: [1] ذَقَنٌ অর্থ থুতনি-এখানে ‘থুতনি’ বোঝানো হয়েছে।
হাদিস নং: ৪৭১২
সহিহ (Sahih)
. محمد بن مقاتل اخبرنا عبد الله اخبرنا ابو حيان التيمي عن ابي زرعة بن عمرو بن جرير عن ابي هريرة رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اتي بلحم فرفع اليه الذراع وكانت تعجبه فنهش منها نهشة ثم قال انا سيد الناس يوم القيامة وهل تدرون مم ذلك يجمع الله الناس الاولين والاخرين في صعيد واحد يسمعهم الداعي وينفذهم البصر وتدنو الشمس فيبلغ الناس من الغم والكرب ما لا يطيقون ولا يحتملون فيقول الناس الا ترون ما قد بلغكم الا تنظرون من يشفع لكم الى ربكم فيقول بعض الناس لبعض عليكم بادم فياتون ادم عليه السلام فيقولون له انت ابو البشر خلقك الله بيده ونفخ فيك من روحه وامر الملاىكة فسجدوا لك اشفع لنا الى ربك الا ترى الى ما نحن فيه الا ترى الى ما قد بلغنا فيقول ادم ان ربي قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله ولن يغضب بعده مثله وانه قد نهاني عن الشجرة فعصيته نفسي نفسي نفسي اذهبوا الى غيري اذهبوا الى نوح فياتون نوحا فيقولون يا نوح انك انت اول الرسل الى اهل الارض وقد سماك الله عبدا شكورا اشفع لنا الى ربك الا ترى الى ما نحن فيه فيقول ان ربي عز وجل قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله ولن يغضب بعده مثله وانه قد كانت لي دعوة دعوتها على قومي نفسي نفسي نفسي اذهبوا الى غيري اذهبوا الى ابراهيم فياتون ابراهيم فيقولون يا ابراهيم انت نبي الله وخليله من اهل الارض اشفع لنا الى ربك الا ترى الى ما نحن فيه فيقول لهم ان ربي قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله ولن يغضب بعده مثله واني قد كنت كذبت ثلاث كذبات فذكرهن ابو حيان في الحديث نفسي نفسي نفسي اذهبوا الى غيري اذهبوا الى موسى فياتون موسى فيقولون يا موسى انت رسول الله فضلك الله برسالته وبكلامه على الناس اشفع لنا الى ربك الا ترى الى ما نحن فيه فيقول ان ربي قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله ولن يغضب بعده مثله واني قد قتلت نفسا لم اومر بقتلها نفسي نفسي نفسي اذهبوا الى غيري اذهبوا الى عيسى ابن مريم فياتون عيسى فيقولون يا عيسى انت رسول الله وكلمته القاها الى مريم وروح منه وكلمت الناس في المهد صبيا اشفع لنا الى ربك الا ترى الى ما نحن فيه فيقول عيسى ان ربي قد غضب اليوم غضبا لم يغضب قبله مثله قط ولن يغضب بعده مثله ولم يذكر ذنبا نفسي نفسي نفسي اذهبوا الى غيري اذهبوا الى محمد فياتون محمدا فيقولون يا محمد انت رسول الله وخاتم الانبياء وقد غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تاخر اشفع لنا الى ربك الا ترى الى ما نحن فيه فانطلق فاتي تحت العرش فاقع ساجدا لربي عز وجل ثم يفتح الله علي من محامده وحسن الثناء عليه شيىا لم يفتحه على احد قبلي ثم يقال يا محمد ارفع راسك سل تعطه واشفع تشفع فارفع راسي فاقول امتي يا رب امتي يا رب امتي يا رب فيقال يا محمد ادخل من امتك من لا حساب عليهم من الباب الايمن من ابواب الجنة وهم شركاء الناس فيما سوى ذلك من الابواب ثم قال والذي نفسي بيده ان ما بين المصراعين من مصاريع الجنة كما بين مكة وحمير او كما بين مكة وبصرى.
৪৭১২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে গোশ্ত আনা হল এবং তাঁকে সামনের রান পরিবেশন করা হল। তিনি এটা পছন্দ করতেন। তিনি তার থেকে কামড়ে খেলেন। এরপর বললেন, আমি হব কিয়ামতের দিন মানবকুলের নেতা। তোমাদের কি জানা আছে তা কেন? কিয়ামতের দিন আগের ও পরের সকল মানুষ এমন এক ময়দানে জমায়েত হবে, যেখানে একজন আহবানকারীর আহবান সকলে শুনতে পাবে এবং সকলেই এক সঙ্গে দৃষ্টিগোচর করবে। সূর্য নিকটে এসে যাবে। মানুষ এমনি কষ্ট-ক্লেশের সম্মুখীন হবে যা অসহনীয় ও অসহ্যকর হয়ে পড়বে। তখন লোকেরা বলবে, তোমরা কী বিপদের সম্মুখীন হয়েছ, তা কি দেখতে পাচ্ছ না? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজে বের করবে না, যিনি তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশকারী হবেন? কেউ কেউ অন্যদের বলবে যে, আদমের কাছে চল। তখন সকলে তার কাছে এসে তাঁকে বলবে, আপনি আবুল বাশার [1]।
আল্লাহ্ তা’আলা আপনাকে নিজ হস্ত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর রূহ আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন এবং মালায়িকাহ্কে হুকুম দিলে তাঁরা আপনাকে সিজদা করেন। আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কী অবস্থায় পৌঁছেছি। তখন আদম (আঃ) বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগেও কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হননি আর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে একটি গাছের নিকট যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি অমান্য করেছি, নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী, (আমি নিজেই সুপারিশ প্রার্থী) তোমরা অন্যের কাছে যাও, তোমরা নূহ (আঃ)-এর কাছে যাও। তখন সকলে নূহ্ (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, হে নূহ্ (আঃ)! নিশ্চয়ই আপনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি প্রথম রাসূল। [2]
আর আল্লাহ্ তা’আলা আপনাকে পরম কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আমার রব আজ এত ভীষণ রাগান্বিত যে, আগেও এমন রাগান্বিত হননি আর পরে কখনো এমন রাগান্বিত হবেন না। আমার একটি গ্রহণযোগ্য দু’আ ছিল, যা আমি আমার কওমের ব্যাপারে করে ফেলেছি, (এখন) নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও তোমরা ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে। তখন তারা ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, হে ইব্রাহীম (আঃ)! আপনি আল্লাহর নবী এবং পৃথিবীর মানুষের মধ্যে আপনি আল্লাহর বন্ধু[3]। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি তাদের বলবেন, আমার রব আজ ভীষণ রাগান্বিত, যার আগেও কোন দিন এরূপ রাগান্বিত হননি, আর পরেও কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমি তো তিনটি মিথ্যা বলে ফেলেছিলাম। রাবী আবূ হাইয়ান তাঁর বর্ণনায় এগুলোর উল্লেখ করেছেন- (এখন) নফসী, নফসী, নফসী, তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও মূসার কাছে।
তারা মূসার কাছে এসে বলবে, হে মূসা (আঃ)! আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ আপনাকে রিসালাতের সম্মান দিয়েছেন এবং আপনার সঙ্গে কথা বলে সমস্ত মানবকূলের উপর মর্যাদা দান করেছেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বললেন, আজ আমার রব ভীষণ রাগান্বিত আছেন, এরূপ রাগান্বিত আগেও হননি এবং পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমি তো এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম, যাকে হত্যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়নি। এখন নফ্সী, নফসী, নফসী। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও ঈসা (আঃ)-এর কাছে।
তখন তারা ঈসা (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, হে ঈসা (আঃ)! আপনি আল্লাহররাসূল এবং কালিমাহ [4], যা তিনি মারইয়াম (আঃ)-এর উপর ঢেলে দিয়েছিলেন। আপনি ’রূহ’[5]। আপনি দোলনায় থেকে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ আপনি আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না, আমরা কিসের মধ্যে আছি? তখন ঈসা (আঃ) বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত যে, এর আগে এরূপ রাগান্বিত হননি এবং এর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি নিজের কোন গুনাহর কথা বলবেন না। নফসী, নফসী, নফসী, তোমরা অন্য কারও কাছে যাও- যাও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে।
তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলবে, হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ্ তা’আলা আপনার আগের, পরের সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তখন আমি আরশের নিচে এসে আমার রবের সামনে সিজদা দিয়ে পড়ব। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর প্রশংসা ও গুণগানের এমন সুন্দর নিয়ম আমার সামনে খুলে দিবেন, যা এর পূর্বে অন্য কারও জন্য খোলেননি। এরপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তোমার মাথা উঠাও। তুমি যা চাও, তোমাকে দেয়া হবে। তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবূল করা হবে।
এরপর আমি আমার মাথা উঠিয়ে বলব, হে আমার রব! আমার উম্মত। হে আমার রব! আমার উম্মত। হে আমার রব! আমার উম্মত। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার উম্মাতের মধ্যে যাদের কোন হিসাব-নিকাশ হবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পার্শ্বের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। এ দরজা ব্যতীত অন্যদের সঙ্গে অন্য দরজায় ও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে। তারপর তিনি বলবেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, সে সত্তার শপথ! জান্নাতের এক দরজার দুই পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থানের প্রশস্ততা যেমন মক্কা ও হামীরের মধ্যবর্তী দূরত্ব, অথবা মক্কা ও বস্রার মাঝে দূরত্বের সমতুল্য। [৩৩৪০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫৩)
আল্লাহ্ তা’আলা আপনাকে নিজ হস্ত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর রূহ আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন এবং মালায়িকাহ্কে হুকুম দিলে তাঁরা আপনাকে সিজদা করেন। আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কী অবস্থায় পৌঁছেছি। তখন আদম (আঃ) বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগেও কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হননি আর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে একটি গাছের নিকট যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি অমান্য করেছি, নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী, (আমি নিজেই সুপারিশ প্রার্থী) তোমরা অন্যের কাছে যাও, তোমরা নূহ (আঃ)-এর কাছে যাও। তখন সকলে নূহ্ (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, হে নূহ্ (আঃ)! নিশ্চয়ই আপনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি প্রথম রাসূল। [2]
আর আল্লাহ্ তা’আলা আপনাকে পরম কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আমার রব আজ এত ভীষণ রাগান্বিত যে, আগেও এমন রাগান্বিত হননি আর পরে কখনো এমন রাগান্বিত হবেন না। আমার একটি গ্রহণযোগ্য দু’আ ছিল, যা আমি আমার কওমের ব্যাপারে করে ফেলেছি, (এখন) নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও তোমরা ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে। তখন তারা ইব্রাহীম (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, হে ইব্রাহীম (আঃ)! আপনি আল্লাহর নবী এবং পৃথিবীর মানুষের মধ্যে আপনি আল্লাহর বন্ধু[3]। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি তাদের বলবেন, আমার রব আজ ভীষণ রাগান্বিত, যার আগেও কোন দিন এরূপ রাগান্বিত হননি, আর পরেও কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমি তো তিনটি মিথ্যা বলে ফেলেছিলাম। রাবী আবূ হাইয়ান তাঁর বর্ণনায় এগুলোর উল্লেখ করেছেন- (এখন) নফসী, নফসী, নফসী, তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও মূসার কাছে।
তারা মূসার কাছে এসে বলবে, হে মূসা (আঃ)! আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ আপনাকে রিসালাতের সম্মান দিয়েছেন এবং আপনার সঙ্গে কথা বলে সমস্ত মানবকূলের উপর মর্যাদা দান করেছেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বললেন, আজ আমার রব ভীষণ রাগান্বিত আছেন, এরূপ রাগান্বিত আগেও হননি এবং পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমি তো এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম, যাকে হত্যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়নি। এখন নফ্সী, নফসী, নফসী। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও ঈসা (আঃ)-এর কাছে।
তখন তারা ঈসা (আঃ)-এর কাছে এসে বলবে, হে ঈসা (আঃ)! আপনি আল্লাহররাসূল এবং কালিমাহ [4], যা তিনি মারইয়াম (আঃ)-এর উপর ঢেলে দিয়েছিলেন। আপনি ’রূহ’[5]। আপনি দোলনায় থেকে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ আপনি আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না, আমরা কিসের মধ্যে আছি? তখন ঈসা (আঃ) বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত যে, এর আগে এরূপ রাগান্বিত হননি এবং এর পরেও এরূপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি নিজের কোন গুনাহর কথা বলবেন না। নফসী, নফসী, নফসী, তোমরা অন্য কারও কাছে যাও- যাও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে।
তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলবে, হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ্ তা’আলা আপনার আগের, পরের সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তখন আমি আরশের নিচে এসে আমার রবের সামনে সিজদা দিয়ে পড়ব। তারপর আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর প্রশংসা ও গুণগানের এমন সুন্দর নিয়ম আমার সামনে খুলে দিবেন, যা এর পূর্বে অন্য কারও জন্য খোলেননি। এরপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তোমার মাথা উঠাও। তুমি যা চাও, তোমাকে দেয়া হবে। তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবূল করা হবে।
এরপর আমি আমার মাথা উঠিয়ে বলব, হে আমার রব! আমার উম্মত। হে আমার রব! আমার উম্মত। হে আমার রব! আমার উম্মত। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার উম্মাতের মধ্যে যাদের কোন হিসাব-নিকাশ হবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পার্শ্বের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। এ দরজা ব্যতীত অন্যদের সঙ্গে অন্য দরজায় ও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে। তারপর তিনি বলবেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, সে সত্তার শপথ! জান্নাতের এক দরজার দুই পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থানের প্রশস্ততা যেমন মক্কা ও হামীরের মধ্যবর্তী দূরত্ব, অথবা মক্কা ও বস্রার মাঝে দূরত্বের সমতুল্য। [৩৩৪০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫৩)
নোট: [1] ‘আবুল বাশার’ অর্থ মানব জাতির পিতা।
[2] প্রথম নাবী হচ্ছেন আদাম (আঃ) আর প্রথম রসূল হচ্ছেন নূহ (আঃ)
[3] ‘খালীলুল্লাহ’ উপাধি একমাত্র আপনার।
[4] ‘কালিমাহ’-এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে, كن শব্দ। যেহেতু এ শব্দটি বলার সঙ্গে সঙ্গে ঈসা (আঃ) আল্লাহর কুদরাতে মাতৃগর্ভে আসেন। তাই তাকে ‘তার কালিমাহ’ (আল্লাহর কালিমাহ) বলা হয়।
[5]যেহেতু আল্লাহর নির্দেশে তার মাতৃগর্ভে এসেছিলেন সেহেতু তাকে রুহুল্লাহ বলা হয়।
[2] প্রথম নাবী হচ্ছেন আদাম (আঃ) আর প্রথম রসূল হচ্ছেন নূহ (আঃ)
[3] ‘খালীলুল্লাহ’ উপাধি একমাত্র আপনার।
[4] ‘কালিমাহ’-এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে, كن শব্দ। যেহেতু এ শব্দটি বলার সঙ্গে সঙ্গে ঈসা (আঃ) আল্লাহর কুদরাতে মাতৃগর্ভে আসেন। তাই তাকে ‘তার কালিমাহ’ (আল্লাহর কালিমাহ) বলা হয়।
[5]যেহেতু আল্লাহর নির্দেশে তার মাতৃগর্ভে এসেছিলেন সেহেতু তাকে রুহুল্লাহ বলা হয়।
হাদিস নং: ৪৭১৩
সহিহ (Sahih)
اسحاق بن نصر حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن همام بن منبه عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال خفف على داود القراءة فكان يامر بدابته لتسرج فكان يقرا قبل ان يفرغ يعني القران.
৪৭১৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাঊদ (আঃ)-এর ওপর (যাবূর) পড়া এত সহজ করে দেয়া হয়েছিল যে, তিনি তার সওয়ারীর উপর জিন বাঁধার জন্য আদেশ দিতেন; জিন বাঁধা শেষ হওয়ার পূর্বেই তিনি তার উপর যা অবতীর্ণ তা পড়ে ফেলতেন। [২০৭৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৫৪)