অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৫/১/১. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে।
মোট ৫০৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৫৯৪
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف عن اسراىيل عن ابي اسحاق عن البراء قال لما نزلت (لا يستوي القاعدون من المومنين) قال النبي صلى الله عليه وسلم ادعوا فلانا فجاءه ومعه الدواة واللوح او الكتف فقال اكتب (لا يستوي القاعدون من المومنين والمجاهدون في سبيل الله) وخلف النبي صلى الله عليه وسلم ابن ام مكتوم فقال : يا رسول الله انا ضرير فنزلت مكانها (لا يستوي القاعدون من المومنين غير اولي الضرر والمجاهدون في سبيل الله).
৪৫৯৪. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُجَاهِدُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ আয়াতটি যখন অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন অমুককে ডেকে আন। এরপর দোয়াত, কাঠ অথবা হাড় খন্ড নিয়ে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তিনি বললেন, লিখে নাওঃ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُجَاهِدُوْنَ ..... فِيْ سَبِيْلِ اللهِ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে ছিলেন ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ)। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি অক্ষম ব্যক্তি। এরপর তখনই অবতীর্ণ হলঃ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ غَيْرَ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ অর্থাৎ ’’যারা কোন প্রকার ওযর ব্যতীত বাড়িতে বসে থাকে তারা এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারীগণ সমান হতে পারে না।’’ [২৮৩১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩৬)
হাদিস নং: ৪৫৯৫
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى اخبرنا هشام ان ابن جريج اخبرهم ح و حدثني اسحاق اخبرنا عبد الرزاق اخبرنا ابن جريج اخبرني عبد الكريم ان مقسما مولى عبد الله بن الحارث اخبره ان ابن عباس رضي الله عنهما اخبره (لا يستوي القاعدون من المومنين) عن بدر والخارجون الى بدر
৪৫৯৫. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) জানিয়েছেন যে, বদরের যুদ্ধে যোগদানকারী আর বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত মু’মিনগণ সমান নয়। [৩৯৫৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩৭)
হাদিস নং: ৪৫৯৬
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يزيد المقرى حدثنا حيوة وغيره قالا حدثنا محمد بن عبد الرحمن ابو الاسود قال قطع على اهل المدينة بعث فاكتتبت فيه فلقيت عكرمة مولى ابن عباس فاخبرته فنهاني عن ذلك اشد النهي ثم قال اخبرني ابن عباس ان ناسا من المسلمين كانوا مع المشركين يكثرون سواد المشركين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ياتي السهم فيرمى به فيصيب احدهم فيقتله او يضرب فيقتل فانزل الله : (ان الذين توفهم الملٓىكة ظالميٓ انفسهم)الاية رواه الليث عن ابي الاسود.
৪৫৯৬. আবুল আসওয়াদ মুহাম্মাদ ইবনু ’আবদুর রহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, একদল সৈন্য পাঠানোর জন্যে মদিনাবাসীদের উপর নির্দেশ দেয়া হলে আমাকেও তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হল। আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর মুক্ত গোলাম ইকরামাহর সঙ্গে দেখা করলাম এবং তাঁকে এ ব্যাপারে জানালাম। তিনি আমাকে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করলেন, তারপর বললেন কিছু সংখ্যক মুসলিম মুশরিকদের সঙ্গে থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে মুশরিকদের দল ভারী করেছিল, তীর এসে তাদের কারো উপর পড়ত এবং তাকে মেরে ফেলত অথবা তাদের কেউ মার খেত এবং নিহত হত তখন আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেনঃ إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰٓئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ আবুল আসওয়াদ থেকে লাইস এটা বর্ণনা করেছেন। [৭০৮৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩৮)
হাদিস নং: ৪৫৯৭
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد عن ايوب عن ابن ابي مليكة عن ابن عباس رضي الله عنهما (الا المستضعفين) قال : كانت امي ممن عذر الله
৪৫৯৭. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِيْنَ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, আল্লাহ তা’আলা যাদের অক্ষমতা কবূল করেছেন আমার মাতা তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। [১৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩৯)
হাদিস নং: ৪৫৯৮
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا شيبان عن يحيى عن ابي سلمة عن ابي هريرة رضي الله عنه قال بينا النبي صلى الله عليه وسلم يصلي العشاء اذ قال سمع الله لمن حمده ثم قال قبل ان يسجد اللهم نج عياش بن ابي ربيعة اللهم نج سلمة بن هشام اللهم نج الوليد بن الوليد اللهم نج المستضعفين من المومنين اللهم اشدد وطاتك على مضر اللهم اجعلها سنين كسني يوسف
৪৫৯৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’ইশার সালাত আদায় করছিলেন, তিনি সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বললেন, তারপর সিজদা্ করার পূর্বে বললেন, হে আল্লাহ! আয়্যাশ ইবনু আবূ রাবিয়াকে মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! সালামাহ ইবনু হিশামকে মুক্ত করুন। হে ’আল্লাহ! ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদকে মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! অক্ষম মু’মিনদেরকে মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! মুযার গোত্রের উপর কঠিন শাস্তি অবতীর্ণ করুন। হে আল্লাহ! তাদের উপর ইউসুফ (আঃ)-এর যুগের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিন। [৭৯৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪০)
হাদিস নং: ৪৫৯৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل ابو الحسن اخبرنا حجاج عن ابن جريج قال اخبرني يعلى عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما : (ولا جناح عليكم ان كان بكم اذى من مطر او كنتم مرضى) قال عبد الرحمن بن عوف وكان جريحا.
(وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ كَانَ بِكُمْ أَذًى مِّنْ مَطَرٍ أَوْ كُنْتُمْ مَرْضٰىٓ أَنْ تَضَعُوْآ أَسْلِحَتَكُمْ).
যদি তোমরা বৃষ্টির কারণে কষ্ট পাও অথবা যদি তোমরা অসুস্থ হও, এ অবস্থায় নিজেদের অস্ত্র পরিত্যাগ করলে তোমাদের কোন গুনাহ নেই। (সূরাহ আন-নিসা ৪/১০২)
৪৫৯৯. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত।إِنْ كَانَ بِكُمْ أَذًى مِنْ مَطَرٍ أَوْ كُنْتُمْ مَرْضَى আয়াতটি নাযিল হয়েছিল যখন ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) আহত হয়েছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪১)
যদি তোমরা বৃষ্টির কারণে কষ্ট পাও অথবা যদি তোমরা অসুস্থ হও, এ অবস্থায় নিজেদের অস্ত্র পরিত্যাগ করলে তোমাদের কোন গুনাহ নেই। (সূরাহ আন-নিসা ৪/১০২)
৪৫৯৯. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত।إِنْ كَانَ بِكُمْ أَذًى مِنْ مَطَرٍ أَوْ كُنْتُمْ مَرْضَى আয়াতটি নাযিল হয়েছিল যখন ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) আহত হয়েছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪১)
হাদিস নং: ৪৬০০
সহিহ (Sahih)
عبيد بن اسماعيل حدثنا ابو اسامة قال حدثنا هشام بن عروة اخبرني ابي عن عاىشة رضي الله عنها : (يستفتونك في النسآء قل الله يفتيكم فيهن) الى قوله : (وترغبون ان تنكحوهن) قالت عاىشة : هو الرجل تكون عنده اليتيمة هو وليها ووارثها فاشركته في ماله حتى في العذق فيرغب ان ينكحها ويكره ان يزوجها رجلا فيشركه في ماله بما شركته فيعضلها فنزلت هذه الاية
৪৬০০. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। وَتَرْغَبُوْنَ أَنْ تَنْكِحُوْهُنَّ يَسْتَفْتُوْنَكَ فِي النِّسَآءِ قُلْ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِيْهِنَّ আয়াত সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যার নিকট ইয়াতীম বালিকা থাকে সে তার অভিভাবক এবং তার মুরুব্বী, এরপর সেই বালিকা সেই অভিভাবকের সম্পদের অংশীদার হয়ে যায়, এমনকি খেজুর বাগানেও। সে ব্যক্তি তাকে বিয়েও করে না এবং অন্য কারো নিকট বিয়ে দিতেও অপছন্দ করে এ আশঙ্কায় যে, তার যেই সম্পদে বালিকা অংশীদার সেই সম্পদে অন্য ব্যক্তি অংশীদার হয়ে যাবে। এভাবে সেই ব্যক্তি ঐ বালিকাকে আটকে রাখে। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪২)
হাদিস নং: ৪৬০১
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل اخبرنا عبد الله اخبرنا هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها : (وان امراة خافت منمبعلها نشوزا او اعراضا) قالت الرجل تكون عنده المراة ليس بمستكثر منها يريد ان يفارقها فتقول اجعلك من شاني في حل فنزلت هذه الاية في ذلك
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : (شِقَاقٌ) تَفَاسُدٌ. (وَأُحْضِرَتْ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ) هَوَاهُ فِي الشَّيْءِ يَحْرِصُ عَلَيْهِ. (كَالْمُعَلَّقَةِ) لَا هِيَ أَيِّمٌ، وَلَا ذَاتُ زَوْجٍ. (نُشُوْزًا) : بُغْضًا.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, شِقَاقٌ পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ, وَأُحْضِرَتْ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ কোন বস্তুর প্রতি অত্যধিক আশঙ্কা বা লোভ করা, كَالْمُعَلَّقَةِ সধবাও নয়, বিধবাও নয়। نُشُوْزًا হিংসা।
৪৬০১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْمبَعْلِهَا نُشُوْزًا أَوْ إِعْرَاضًا আয়াত সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, কোন ব্যক্তির বিবাহ বন্ধনে কোন মহিলা থাকে কিন্তু স্বামী তার প্রতি আকৃষ্ট নয় বরং তাকে আলাদা করে দিতে চায়, তখন স্ত্রী বলে আমার এই দাবী থেকে আমি তোমাকে অব্যাহতি দিচ্ছি, এ সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হল। [২৪৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৩)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, شِقَاقٌ পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ, وَأُحْضِرَتْ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ কোন বস্তুর প্রতি অত্যধিক আশঙ্কা বা লোভ করা, كَالْمُعَلَّقَةِ সধবাও নয়, বিধবাও নয়। نُشُوْزًا হিংসা।
৪৬০১. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْمبَعْلِهَا نُشُوْزًا أَوْ إِعْرَاضًا আয়াত সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, কোন ব্যক্তির বিবাহ বন্ধনে কোন মহিলা থাকে কিন্তু স্বামী তার প্রতি আকৃষ্ট নয় বরং তাকে আলাদা করে দিতে চায়, তখন স্ত্রী বলে আমার এই দাবী থেকে আমি তোমাকে অব্যাহতি দিচ্ছি, এ সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হল। [২৪৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৩)
হাদিস নং: ৪৬০২
সহিহ (Sahih)
عمر بن حفص حدثنا ابي حدثنا الاعمش قال حدثني ابراهيم عن الاسود قال كنا في حلقة عبد الله فجاء حذيفة حتى قام علينا فسلم ثم قال لقد انزل النفاق على قوم خير منكم قال الاسود سبحان الله ان الله يقول : (ان المنافقين في الدرك الاسفل من النار) فتبسم عبد الله وجلس حذيفة في ناحية المسجد فقام عبد الله فتفرق اصحابه فرماني بالحصا فاتيته فقال حذيفة عجبت من ضحكه وقد عرف ما قلت لقد انزل النفاق على قوم كانوا خيرا منكم ثم تابوا فتاب الله عليهم.
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : أَسْفَلَ النَّارِ. (نَفَقًا) : سَرَبًا.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) أَسْفَلَ النَّارِ সম্বন্ধে পদের সঙ্গে পড়েছেন। نَفَقًا-মাটির নীচের সুড়ঙ্গ পথ।
৪৬০২. আসওয়াদ (রহ.) বলেছেন, আমরা ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ)-এর মজলিসে ছিলাম, সেখানে হুযাইফাহ আসলেন এবং আমাদের সম্মুখে দন্ডায়মান হয়ে সালাম দিলেন। এরপর বললেন, তোমাদের চেয়ে উত্তম গোত্রের উপরও মুনাফিকী এসেছিল। আসওয়াদ বললেন, সুবহানাল্লাহ! অথচ আল্লাহ তা’আলা বলেন, ’’মুনাফিকগণ জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে থাকবে’’। ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হেসে উঠলেন। হুযাইফাহ (রাঃ) মসজিদের এক কোণে গিয়ে বসলেন, ’আবদুল্লাহ (রাঃ) উঠে গেলে তাঁর শিষ্যবর্গও চলে গেলেন। এরপর হুযাইফাহ (রাঃ) আমার দিকে একটি পাথর টুকরো নিক্ষেপ করে আমাকে ডাকলেন। আমি তার নিকট গেলে তিনি বললেন, আমি তার হাসিতে বিস্মিত হলাম অথচ আমি যা বলেছি তা তিনি বুঝেছেন। এমন এক গোত্র যারা তোমাদের চেয়ে উত্তম তাদের মধ্যেও মুনাফিকী সৃষ্টি করা হয়েছিল। তারপর তারা তওবা করেছে এবং আল্লাহ তা’আলা তাদের তওবা গ্রহণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৪)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) أَسْفَلَ النَّارِ সম্বন্ধে পদের সঙ্গে পড়েছেন। نَفَقًا-মাটির নীচের সুড়ঙ্গ পথ।
৪৬০২. আসওয়াদ (রহ.) বলেছেন, আমরা ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ)-এর মজলিসে ছিলাম, সেখানে হুযাইফাহ আসলেন এবং আমাদের সম্মুখে দন্ডায়মান হয়ে সালাম দিলেন। এরপর বললেন, তোমাদের চেয়ে উত্তম গোত্রের উপরও মুনাফিকী এসেছিল। আসওয়াদ বললেন, সুবহানাল্লাহ! অথচ আল্লাহ তা’আলা বলেন, ’’মুনাফিকগণ জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে থাকবে’’। ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হেসে উঠলেন। হুযাইফাহ (রাঃ) মসজিদের এক কোণে গিয়ে বসলেন, ’আবদুল্লাহ (রাঃ) উঠে গেলে তাঁর শিষ্যবর্গও চলে গেলেন। এরপর হুযাইফাহ (রাঃ) আমার দিকে একটি পাথর টুকরো নিক্ষেপ করে আমাকে ডাকলেন। আমি তার নিকট গেলে তিনি বললেন, আমি তার হাসিতে বিস্মিত হলাম অথচ আমি যা বলেছি তা তিনি বুঝেছেন। এমন এক গোত্র যারা তোমাদের চেয়ে উত্তম তাদের মধ্যেও মুনাফিকী সৃষ্টি করা হয়েছিল। তারপর তারা তওবা করেছে এবং আল্লাহ তা’আলা তাদের তওবা গ্রহণ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৪)
হাদিস নং: ৪৬০৩
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن سفيان قال حدثني الاعمش عن ابي واىل عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما ينبغي لاحد ان يقول انا خير من يونس بن متى.
৪৬০৩. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ’’আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা (আঃ) থেকে উত্তম’’ এটা বলা কারো জন্য শোভনীয় নয়। [৩৪১২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৫)
হাদিস নং: ৪৬০৪
সহিহ (Sahih)
محمد بن سنان حدثنا فليح حدثنا هلال عن عطاء بن يسار عن ابي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من قال انا خير من يونس بن متى فقد كذب.
৪৬০৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বলে ’’আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম’’ সে মিথ্যা বলে। [৩৪১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৬)
হাদিস নং: ৪৬০৫
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب، حدثنا شعبة، عن ابي اسحاق، سمعت البراء رضي الله عنه قال : اخر سورة نزلت براءة واخر اية نزلت : (يستفتونك)
وَ (الْكَلَالَةُ) : مَنْ لَمْ يَرِثْهُ أَبٌ أَوْ ابْنٌ وَهُوَ مَصْدَرٌ مِنْ تَكَلَّلَهُ النَّسَبُ.
كَلَالَةِ-যার পিতা কিংবা পুত্র উত্তরাধিকারী না থাকে مُكَلَّةُ النَّسَبِ বাক্য থেকে এটা ক্রিয়াপদ।
৪৬০৫. আবূ ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণিত। আমি বারাআ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, সর্বশেষ নাযিলকৃত সূরাহ হচ্ছে ’’বারাআত’’ এবং সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত হচ্ছে- يَسْتَفْتُوْنَكَ قُلِ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِي الْكَلَالَةِ [৪৩৬৪; মুসলিম ২৩/৩, হাঃ ১৬১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৭)
كَلَالَةِ-যার পিতা কিংবা পুত্র উত্তরাধিকারী না থাকে مُكَلَّةُ النَّسَبِ বাক্য থেকে এটা ক্রিয়াপদ।
৪৬০৫. আবূ ইসহাক (রহ.) হতে বর্ণিত। আমি বারাআ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, সর্বশেষ নাযিলকৃত সূরাহ হচ্ছে ’’বারাআত’’ এবং সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত হচ্ছে- يَسْتَفْتُوْنَكَ قُلِ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِي الْكَلَالَةِ [৪৩৬৪; মুসলিম ২৩/৩, হাঃ ১৬১৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৭)
হাদিস নং: ৪৬০৬
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا عبد الرحمن حدثنا سفيان عن قيس عن طارق بن شهاب قالت اليهود لعمر انكم تقرءون اية لو نزلت فينا لاتخذناها عيدا فقال عمر اني لاعلم حيث انزلت واين انزلت واين رسول الله صلى الله عليه وسلم حين انزلت يوم عرفة وانا والله بعرفة قال سفيان واشك كان يوم الجمعة ام لا (اليوم اكملت لكم دينكم)
(5) سُوْرَةُ الْمَائِدَةِ
সূরাহ (৫) : আল-মায়িদাহ
65/5/1. بَاب تَفْسِيْرِ
৬৫/৫/১. অধ্যায়: তাফসীর
(حُرُمٌ) : وَاحِدُهَا حَرَامٌ (فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِّيْثَقَهُمْ بِنَقْضِهِمُ الَّتِيْ كَتَبَ اللهُ): جَعَلَ اللهُ (تَبُوْٓءُ): تَحْمِلُ. (دَآئِرَةٌ) : دَوْلَةٌ. وَقَالَ غَيْرُهُ : الإِغْرَاءُ التَّسْلِيْطُ (أُجُوْرَهُنَّ) : مُهُوْرَهُنَّ. (الْمُهَيْمِنُ) : الْأمِيْنُ، القُرْآنُ أمِيْنُ عَلَى كُلِّ كِتابٍ قَبْلَهُ. قَالَ سُفْيَانُ : مَا فِي الْقُرْآنِ آيَةٌ أَشَدُّ عَلَيَّ مِنْ (لَسْتُمْ عَلٰى شَيْءٍ حَتّٰى تُقِيْمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيْلَ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مَّخْمَصَةٍ) مَجَاعَةٍ، (مَنْ أَحْيَاهَا) : يَعْنِيْ مَنْ حَرَّمَ قَتْلَهَا إِلَّا بِحَقٍّ حَيِيَ النَّاسُ مِنْهُ جَمِيْعًا. (شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا) سَبِيْلًا وَسُنَّةً. فَإنْ (عَشُرَ) : ظَهَرَ. ا(لأوْلَيانِ) وَاحِدُها : أوْلَى.
حُرُمٌ একবচনে حَرَامٌ নিষিদ্ধ অবস্থায় (আল-মায়িদাহ ৫/১), فَبِمَا نَقْضِهِمْ তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণ (আল-মায়িদাহ ৫/১৩), الَّتِيْ كَتَبَ اللهُ যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন, تَبُوْءُ বহন করবে, অন্য একজন বলেছেন الإِغْرَاءُ শক্তিশালী করে দেয়া, دَائِرَةٌ ওলট-পালট, أُجُوْرَهُنَّ তাদের মাহর, مَخْمَصَةٍ ক্ষুধার তাড়নায় (আল-মায়িদাহ ৫/৩)।
আপনি বলে দিনঃ হে আহলে কিতাব! তোমরা কোন কিছুর উপরই প্রতিষ্ঠিত নও, যতক্ষণ পর্যন্ত না পুরোপুরি পালন করবে তাওরাত, ইন্জীল ও তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের তরফ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৬৮)
সুফ্ইয়ান সাওরী (রহঃ) বলেন, আমার দৃষ্টিতে কুরআন মাজীদে لَسْتُمْ عَلٰى شَيْءٍ حَتّٰى تُقِيْمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيْلَ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مَّخْمَصَةٍ আয়াতটির চেয়ে কঠোর অন্য কোন আয়াত নেই। مَنْ أَحْيَاهَا -আর যে কেউ কারো জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমস্ত মানুষের জীবন রক্ষা করল- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৩২)। شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا -আইন ও স্পষ্ট পথ, নিয়ম- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৪৮) مُهَيْمِنُ- আমানতদার, কুরআন তার পূর্বের কিতাবসমূহের আমানতদার। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৪৮)
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : (مَخْمَصَةٍ) مَجَاعَةٍ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, مَخْمَصَةٍ ক্ষুধা/অভাব অনটন।
৪৬০৬. ত্বরিক ইবনু শিহাব হতে বর্ণিত। ইয়াহূদীগণ ’উমার ফারূক (রাঃ)-কে বলল যে, আপনারা এমন একটি আয়াত পড়ে থাকেন তা যদি আমাদের মধ্যে নাযিল হত, তবে আমরা সেটাকে ’’ঈদ’’ হিসেবে গ্রহণ করতাম। ’উমার (রাঃ) বললেন, আমি জানি এটা কখন নাযিল হয়েছে, কোথায় নাযিল হয়েছে এবং নাযিলের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় ছিলেন, আয়াতটি আরাফাতের দিন নাযিল হয়েছিল। আল্লাহর শপথ আমরা সবাই ’আরাফাতে ছিলাম, সেই আয়াতটি হল-الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম। সুফ্ইয়ান সাওরী বলেন, সে দিনটি শুক্রবার ছিল কিনা এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে। [৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৮)
সূরাহ (৫) : আল-মায়িদাহ
65/5/1. بَاب تَفْسِيْرِ
৬৫/৫/১. অধ্যায়: তাফসীর
(حُرُمٌ) : وَاحِدُهَا حَرَامٌ (فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِّيْثَقَهُمْ بِنَقْضِهِمُ الَّتِيْ كَتَبَ اللهُ): جَعَلَ اللهُ (تَبُوْٓءُ): تَحْمِلُ. (دَآئِرَةٌ) : دَوْلَةٌ. وَقَالَ غَيْرُهُ : الإِغْرَاءُ التَّسْلِيْطُ (أُجُوْرَهُنَّ) : مُهُوْرَهُنَّ. (الْمُهَيْمِنُ) : الْأمِيْنُ، القُرْآنُ أمِيْنُ عَلَى كُلِّ كِتابٍ قَبْلَهُ. قَالَ سُفْيَانُ : مَا فِي الْقُرْآنِ آيَةٌ أَشَدُّ عَلَيَّ مِنْ (لَسْتُمْ عَلٰى شَيْءٍ حَتّٰى تُقِيْمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيْلَ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مَّخْمَصَةٍ) مَجَاعَةٍ، (مَنْ أَحْيَاهَا) : يَعْنِيْ مَنْ حَرَّمَ قَتْلَهَا إِلَّا بِحَقٍّ حَيِيَ النَّاسُ مِنْهُ جَمِيْعًا. (شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا) سَبِيْلًا وَسُنَّةً. فَإنْ (عَشُرَ) : ظَهَرَ. ا(لأوْلَيانِ) وَاحِدُها : أوْلَى.
حُرُمٌ একবচনে حَرَامٌ নিষিদ্ধ অবস্থায় (আল-মায়িদাহ ৫/১), فَبِمَا نَقْضِهِمْ তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণ (আল-মায়িদাহ ৫/১৩), الَّتِيْ كَتَبَ اللهُ যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন, تَبُوْءُ বহন করবে, অন্য একজন বলেছেন الإِغْرَاءُ শক্তিশালী করে দেয়া, دَائِرَةٌ ওলট-পালট, أُجُوْرَهُنَّ তাদের মাহর, مَخْمَصَةٍ ক্ষুধার তাড়নায় (আল-মায়িদাহ ৫/৩)।
আপনি বলে দিনঃ হে আহলে কিতাব! তোমরা কোন কিছুর উপরই প্রতিষ্ঠিত নও, যতক্ষণ পর্যন্ত না পুরোপুরি পালন করবে তাওরাত, ইন্জীল ও তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের তরফ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৬৮)
সুফ্ইয়ান সাওরী (রহঃ) বলেন, আমার দৃষ্টিতে কুরআন মাজীদে لَسْتُمْ عَلٰى شَيْءٍ حَتّٰى تُقِيْمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيْلَ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مَّخْمَصَةٍ আয়াতটির চেয়ে কঠোর অন্য কোন আয়াত নেই। مَنْ أَحْيَاهَا -আর যে কেউ কারো জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমস্ত মানুষের জীবন রক্ষা করল- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৩২)। شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا -আইন ও স্পষ্ট পথ, নিয়ম- (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৪৮) مُهَيْمِنُ- আমানতদার, কুরআন তার পূর্বের কিতাবসমূহের আমানতদার। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৪৮)
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : (مَخْمَصَةٍ) مَجَاعَةٍ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, مَخْمَصَةٍ ক্ষুধা/অভাব অনটন।
৪৬০৬. ত্বরিক ইবনু শিহাব হতে বর্ণিত। ইয়াহূদীগণ ’উমার ফারূক (রাঃ)-কে বলল যে, আপনারা এমন একটি আয়াত পড়ে থাকেন তা যদি আমাদের মধ্যে নাযিল হত, তবে আমরা সেটাকে ’’ঈদ’’ হিসেবে গ্রহণ করতাম। ’উমার (রাঃ) বললেন, আমি জানি এটা কখন নাযিল হয়েছে, কোথায় নাযিল হয়েছে এবং নাযিলের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় ছিলেন, আয়াতটি আরাফাতের দিন নাযিল হয়েছিল। আল্লাহর শপথ আমরা সবাই ’আরাফাতে ছিলাম, সেই আয়াতটি হল-الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম। সুফ্ইয়ান সাওরী বলেন, সে দিনটি শুক্রবার ছিল কিনা এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে। [৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৮)
হাদিস নং: ৪৬০৭
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن عبد الرحمن بن القاسم عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض اسفاره حتى اذا كنا بالبيداء او بذات الجيش انقطع عقد لي فاقام رسول الله صلى الله عليه وسلم على التماسه واقام الناس معه وليسوا على ماء وليس معهم ماء فاتى الناس الى ابي بكر الصديق فقالوا الا ترى ما صنعت عاىشة اقامت برسول الله صلى الله عليه وسلم وبالناس وليسوا على ماء وليس معهم ماء فجاء ابو بكر ورسول الله صلى الله عليه وسلم واضع راسه على فخذي قد نام فقال حبست رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس وليسوا على ماء وليس معهم ماء قالت عاىشة فعاتبني ابو بكر وقال ما شاء الله ان يقول وجعل يطعنني بيده في خاصرتي ولا يمنعني من التحرك الا مكان رسول الله صلى الله عليه وسلم على فخذي فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اصبح على غير ماء فانزل الله اية التيمم فتيمموا فقال اسيد بن حضير ما هي باول بركتكم يا ال ابي بكر قالت فبعثنا البعير الذي كنت عليه فاذا العقد تحته
(تَيَمَّمُوْا) : تَعَمَّدُوْا. آمِّيْنَ : عَامِدِيْنَ أَمَّمْتُ وَتَيَمَّمْتُ وَاحِدٌ. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : لَمَسْتُمْ وَ تَمَسُّوْهُنَّ وَ اللَّاتِيْ دَخَلْتُمْ بِهِنَّ، وَالإِفْضَاءُ : النِّكَاحُ.
تَيَمَّمُوْا তোমরা ইচ্ছে করবে, آمِّيْنَ উদ্দেশ্য করে, أَمَّمْتُ আর تَيَمَّمْتُ একই, আমি ইচ্ছে করেছি, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন- وَ اللَّاتِيْ دَخَلْتُمْ بِهِنَّ، تَمَسُّوْهُنَّ، لَمَسْتُمْ এবং وَالإِفْضَاءُ এই চারটিরই অর্থ সহবাস করা।
৪৬০৭. নবী-পত্নী ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক সফরে বের হলাম, বাইদা কিংবা যাতুল জাইশ নামক স্থানে পৌঁছার পর আমার গলার হার হারিয়ে গেল। তা খোঁজার জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অবস্থান করলেন এবং লোকেরাও তাঁর সঙ্গে অবস্থান করল। সেখানেও কোন পানি ছিল না এবং তাদের সঙ্গেও পানি ছিল না। এরপর লোকেরা আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে আসল এবং বলল, ’আয়িশাহ (রাঃ) যা করেছেন আপনি তা দেখেছেন কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সকল লোকটি আটকিয়ে রেখেছেন, অথচ সেখানেও পানি নেই আবার তাদের সঙ্গেও পানি নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুতে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন।
এমতাবস্থায় আবূ বকর (রাঃ) এলেন এবং বললেন, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সকল লোককে আটকে রেখেছো অথচ সেখানেও পানি নেই আবার তাদের সঙ্গেও পানি নেই। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন যে, আবূ বকর (রাঃ) আমাকে দোষারোপ করলেন এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন তা বলেছেন এবং তাঁর অঙ্গুলি দিয়ে আমার কোমরে ধাক্কা দিতে লাগলেন, আমার কোলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থানই আমাকে নড়াচড়া করতে বাধা দিল। পানিবিহীন অবস্থায় ভোরে রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠলেন। তখন আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন, তখন সবাই তায়াম্মুম করল। তখন উসাইদ ইবনু হুযাইর বললেন, হে আবূ বকর-এর বংশধর! এটাই আপনাদের কারণে পাওয়া প্রথম বারাকাত নয়।
’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, যে উটের উপর আমি ছিলাম, তাকে আমরা উঠালাম তখন দেখি হারটি তার নিচে। [৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৯)
تَيَمَّمُوْا তোমরা ইচ্ছে করবে, آمِّيْنَ উদ্দেশ্য করে, أَمَّمْتُ আর تَيَمَّمْتُ একই, আমি ইচ্ছে করেছি, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন- وَ اللَّاتِيْ دَخَلْتُمْ بِهِنَّ، تَمَسُّوْهُنَّ، لَمَسْتُمْ এবং وَالإِفْضَاءُ এই চারটিরই অর্থ সহবাস করা।
৪৬০৭. নবী-পত্নী ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক সফরে বের হলাম, বাইদা কিংবা যাতুল জাইশ নামক স্থানে পৌঁছার পর আমার গলার হার হারিয়ে গেল। তা খোঁজার জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অবস্থান করলেন এবং লোকেরাও তাঁর সঙ্গে অবস্থান করল। সেখানেও কোন পানি ছিল না এবং তাদের সঙ্গেও পানি ছিল না। এরপর লোকেরা আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে আসল এবং বলল, ’আয়িশাহ (রাঃ) যা করেছেন আপনি তা দেখেছেন কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সকল লোকটি আটকিয়ে রেখেছেন, অথচ সেখানেও পানি নেই আবার তাদের সঙ্গেও পানি নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুতে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন।
এমতাবস্থায় আবূ বকর (রাঃ) এলেন এবং বললেন, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সকল লোককে আটকে রেখেছো অথচ সেখানেও পানি নেই আবার তাদের সঙ্গেও পানি নেই। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন যে, আবূ বকর (রাঃ) আমাকে দোষারোপ করলেন এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন তা বলেছেন এবং তাঁর অঙ্গুলি দিয়ে আমার কোমরে ধাক্কা দিতে লাগলেন, আমার কোলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থানই আমাকে নড়াচড়া করতে বাধা দিল। পানিবিহীন অবস্থায় ভোরে রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠলেন। তখন আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন, তখন সবাই তায়াম্মুম করল। তখন উসাইদ ইবনু হুযাইর বললেন, হে আবূ বকর-এর বংশধর! এটাই আপনাদের কারণে পাওয়া প্রথম বারাকাত নয়।
’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, যে উটের উপর আমি ছিলাম, তাকে আমরা উঠালাম তখন দেখি হারটি তার নিচে। [৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৯)
হাদিস নং: ৪৬০৮
সহিহ (Sahih)
يحيى بن سليمان قال حدثني ابن وهب قال اخبرني عمرو ان عبد الرحمن بن القاسم حدثه عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها سقطت قلادة لي بالبيداء ونحن داخلون المدينة فاناخ النبي صلى الله عليه وسلم ونزل فثنى راسه في حجري راقدا اقبل ابو بكر فلكزني لكزة شديدة وقال حبست الناس في قلادة فبي الموت لمكان رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد اوجعني ثم ان النبي صلى الله عليه وسلم استيقظ وحضرت الصبح فالتمس الماء فلم يوجد فنزلت (يٓايها الذين امنوآ اذا قمتم الى الصلاة) الاية فقال اسيد بن حضير لقد بارك الله للناس فيكم يا ال ابي بكر ما انتم الا بركة لهم
৪৬০৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, মদিনা্য় প্রবেশের পথে বাইদা নামক স্থানে আমার গলার হারটি পড়ে গেল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে উট বসিয়ে অবস্থান করলেন। তিনি আমার কোলে মাথা রেখে শুয়েছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) এসে আমাকে জোরে থাপ্পড় লাগালেন এবং বললেন একটি হার হারিয়ে তুমি সকল লোককে আটকে রেখেছো। এদিকে তিনি আমাকে ব্যথা দিয়েছেন, অপরদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থায় আছেন, এতে আমি মৃত্যু যাতনা ভোগ করছিলাম। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন, ফজর সালাতের সময় হল এবং পানি খোঁজ করে পাওয়া গেল না, তখন অবতীর্ণ হলঃيٓٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْآ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغسْلُوْا وَجُوْهكُم .....ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতে চাও তখন ধৌত করে নিবে নিজেদের মুখমণ্ডল
এবং হাত কনুই পর্যন্ত। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৬)
এরপর উসায়দ ইবনু হুযায়র বললেন, হে আবূ বকরের বংশধর! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের কারণে মানুষের জন্যে বারাকাত অবতীর্ণ করেছেন। মানুষের জন্য তোমরা হলে কল্যাণ আর কল্যাণ। [৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৫০)
এবং হাত কনুই পর্যন্ত। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৬)
এরপর উসায়দ ইবনু হুযায়র বললেন, হে আবূ বকরের বংশধর! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের কারণে মানুষের জন্যে বারাকাত অবতীর্ণ করেছেন। মানুষের জন্য তোমরা হলে কল্যাণ আর কল্যাণ। [৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৫০)
হাদিস নং: ৪৬০৯
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا اسراىيل عن مخارق عن طارق بن شهاب سمعت ابن مسعود رضي الله عنه قال شهدت من المقداد ح و حدثني حمدان بن عمر حدثنا ابو النضر حدثنا الاشجعي عن سفيان عن مخارق عن طارق عن عبد الله قال قال المقداد يوم بدر يا رسول الله انا لا نقول لك كما قالت بنو اسراىيل لموسى (فاذهب انت وربك فقاتلآ انا ها هنا قاعدون) ولكن امض ونحن معك فكانه سري عن رسول الله ورواه وكيع عن سفيان عن مخارق عن طارق ان المقداد قال ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم .
৪৬০৯. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন যে, বদর যুদ্ধের দিন মিকদাদ (রাঃ) বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইসরাঈলীরা মূসা (আঃ)-কে যেমন বলেছিল, ’’যাও তুমি ও তোমার প্রতিপালক যুদ্ধ কর, আমরা এখানে বসে থাকব’’- আমরা আপনাকে সে রকম বলব না বরং আপনি এগিয়ে যান, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি, তখন যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেল। এই হাদীসটি ওয়াকা-সুফ্ইয়ান থেকে, তিনি মুখারিক থেকে এবং তিনি (মুখারিক) তারিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মিক্দাদ এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেছিলেন। [৩৯৫২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৫১)
হাদিস নং: ৪৬১০
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري حدثنا ابن عون قال حدثني سلمان ابو رجاء مولى ابي قلابة عن ابي قلابة انه كان جالسا خلف عمر بن عبد العزيز فذكروا وذكروا فقالوا وقالوا قد اقادت بها الخلفاء فالتفت الى ابي قلابة وهو خلف ظهره فقال ما تقول يا عبد الله بن زيد او قال ما تقول يا ابا قلابة قلت ما علمت نفسا حل قتلها في الاسلام الا رجل زنى بعد احصان او قتل نفسا بغير نفس او حارب الله ورسوله صلى الله عليه وسلم فقال عنبسة حدثنا انس بكذا وكذا قلت اياي حدث انس قال قدم قوم على النبي صلى الله عليه وسلم فكلموه فقالوا قد استوخمنا هذه الارض فقال هذه نعم لنا تخرج فاخرجوا فيها فاشربوا من البانها وابوالها فخرجوا فيها فشربوا من ابوالها والبانها واستصحوا ومالوا على الراعي فقتلوه واطردوا النعم فما يستبطا من هولاء قتلوا النفس وحاربوا الله ورسوله وخوفوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال سبحان الله فقلت تتهمني قال حدثنا بهذا انس قال وقال يا اهل كذا انكم لن تزالوا بخير ما ابقي هذا فيكم او مثل هذا.
الْمُحَارَبَةُ لِلهِ الْكُفْرُ بِهِ - আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করা।
৪৬১০. আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ’উমার ইবনু ’আবদুল ’আযীয (রহ.)-এর পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁরা কাসামাত দন্ড সম্পর্কিত হাদীসটি আলোচনা করলেন এবং এর অবস্থা সম্পর্কে আলাপ করলেন, তাঁরা মৃত্যুদন্ডের পক্ষে বললেন এবং এও বললেন যে, খুলাফায়ে রাশিদ্বীন এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছেন। এরপর তিনি আবূ কিলাবার প্রতি তাকালেন, আবূ কিলাবাহ তাঁর পেছনে ছিলেন। তিনি ’আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ নামে কিংবা আবূ কিলাবাহ নামে ডেকে বললেন, এই ব্যাপারে তোমার মতামত কী? আমি বললাম, বিয়ের পর ব্যভিচার, কিসাস ব্যতীত খুন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কোন একটি ব্যতীত অন্য কোন কারণে কাউকে মৃত্যুদন্ড দেয়া ইসলামে বৈধ বলে আমার জানা নেই।
আনবাসা বললেন, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে হাদীস এভাবে বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ হাদীসে আরনিন)। আমি (আবূ ক্বিলাবাহ) বললাম, আমাকেও আনাস (রাঃ) এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে তাঁর সঙ্গে আলাপ করল, তারা বলল, আমরা এ দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদেরকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো আমার উট, ঘাস খাওয়ার জন্যে বের হচ্ছে, তোমরা এগুলোর সঙ্গে যাও এবং এদের দুধ ও পেশাব পান কর। তারা ওগুলোর সঙ্গে বেরিয়ে গেল এবং দুধ ও প্রস্রাব পান করে সুস্থ হয়ে উঠল, এরপর রাখালের উপর আক্রমণ করে তাকে হত্যা করে পশুগুলো লুট করে নিয়ে গেল।
এখন তাদেরকে হত্যা না করার পক্ষে আর কোন যুক্তিই থাকল না। তারা নরহত্যা করেছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভয় দেখিয়েছে। ’আনবাসা আশ্চর্য হয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, আমার এই হাদীস সম্পর্কে তুমি কি আমাকে মিথ্যা অপবাদ দেবে? ’আনবাসা বলল, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ কিলাবাহ বললেন, তখন ’আনবাসা বলল, হে এই দেশবাসী (অর্থাৎ সিরিয়াবাসী) এ রকম ব্যক্তিবর্গ যতদিন তোমাদের মধ্যে থাকবে ততদিন তোমরা কল্যাণের মধ্যে থাকবে। [২৩৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৫২)
৪৬১০. আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ’উমার ইবনু ’আবদুল ’আযীয (রহ.)-এর পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁরা কাসামাত দন্ড সম্পর্কিত হাদীসটি আলোচনা করলেন এবং এর অবস্থা সম্পর্কে আলাপ করলেন, তাঁরা মৃত্যুদন্ডের পক্ষে বললেন এবং এও বললেন যে, খুলাফায়ে রাশিদ্বীন এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছেন। এরপর তিনি আবূ কিলাবার প্রতি তাকালেন, আবূ কিলাবাহ তাঁর পেছনে ছিলেন। তিনি ’আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ নামে কিংবা আবূ কিলাবাহ নামে ডেকে বললেন, এই ব্যাপারে তোমার মতামত কী? আমি বললাম, বিয়ের পর ব্যভিচার, কিসাস ব্যতীত খুন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কোন একটি ব্যতীত অন্য কোন কারণে কাউকে মৃত্যুদন্ড দেয়া ইসলামে বৈধ বলে আমার জানা নেই।
আনবাসা বললেন, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে হাদীস এভাবে বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ হাদীসে আরনিন)। আমি (আবূ ক্বিলাবাহ) বললাম, আমাকেও আনাস (রাঃ) এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে তাঁর সঙ্গে আলাপ করল, তারা বলল, আমরা এ দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদেরকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো আমার উট, ঘাস খাওয়ার জন্যে বের হচ্ছে, তোমরা এগুলোর সঙ্গে যাও এবং এদের দুধ ও পেশাব পান কর। তারা ওগুলোর সঙ্গে বেরিয়ে গেল এবং দুধ ও প্রস্রাব পান করে সুস্থ হয়ে উঠল, এরপর রাখালের উপর আক্রমণ করে তাকে হত্যা করে পশুগুলো লুট করে নিয়ে গেল।
এখন তাদেরকে হত্যা না করার পক্ষে আর কোন যুক্তিই থাকল না। তারা নরহত্যা করেছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভয় দেখিয়েছে। ’আনবাসা আশ্চর্য হয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, আমার এই হাদীস সম্পর্কে তুমি কি আমাকে মিথ্যা অপবাদ দেবে? ’আনবাসা বলল, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ কিলাবাহ বললেন, তখন ’আনবাসা বলল, হে এই দেশবাসী (অর্থাৎ সিরিয়াবাসী) এ রকম ব্যক্তিবর্গ যতদিন তোমাদের মধ্যে থাকবে ততদিন তোমরা কল্যাণের মধ্যে থাকবে। [২৩৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৫২)
হাদিস নং: ৪৬১১
সহিহ (Sahih)
محمد بن سلام اخبرنا الفزاري عن حميد عن انس رضي الله عنه قال كسرت الربيع وهي عمة انس بن مالك ثنية جارية من الانصار فطلب القوم القصاص فاتوا النبي صلى الله عليه وسلم فامر النبي صلى الله عليه وسلم بالقصاص فقال انس بن النضر عم انس بن مالك لا والله لا تكسر سنها يا رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا انس كتاب الله القصاص فرضي القوم وقبلوا الارش فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان من عباد الله من لو اقسم على الله لابره.
৪৬১১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রুবাঈ যিনি আনাস (রাঃ)-এ ফুফু, এক আনসার মহিলার সামনের একটি বড় দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল। এরপর আহত মহিলার গোত্র এর কিসাস দাবী করে। তারা নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসের নির্দেশ দিলেন, আনাস ইবনু মালিকের চাচা আনাস ইবনু নযর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ রুবাঈ-এর দাঁত ভাঙ্গা হবে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আনাস! আল্লাহর কিতাব তো ’’বদলা’’র বিধান দেয়। পরবর্তীতে বিরোধীপক্ষ রাযী হয়ে মুক্তিপণ বা দিয়ত গ্রহণ করল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কতক বান্দা আছে যারা আল্লাহর নামে কসম করলে আল্লাহ তা’আলা তাদের কসম সত্যে পরিণত করেন। [২৭০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৫৩)
হাদিস নং: ৪৬১২
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن اسماعيل عن الشعبي عن مسروق عن عاىشة رضي الله عنها قالت من حدثك ان محمدا صلى الله عليه وسلم كتم شيىا مما انزل الله عليه فقد كذب والله يقول : (يٓايها الرسول بلغ مآ انزل اليك من ربك)الاية
৪৬১২. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, যদি কেউ তোমাকে বলে যে, তাঁর অবতীর্ণ বিষয়ের সামান্য কিছুও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোপন করেছেন তা হলে অবশ্যই, সে মিথ্যা বলেছে। আল্লাহ বলেছেন, ’’হে রাসূল! আপনি তা পৌঁছে দিন যা আপনার প্রতি আপনার রবের তরফ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে।’’ [৩২৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৫৪)
হাদিস নং: ৪৬১৩
সহিহ (Sahih)
علي بن سلمة حدثنا مالك بن سعير حدثنا هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها انزلت هذه الاية (لا يواخذكم الله باللغو فيٓ ايمانكم) في قول الرجل لا والله وبلى والله.
৪৬১৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللهُ بِاللَّغْوِ فِيْٓ أَيْمَانِكُمْ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে মানুষের উদ্দেশ্যবিহীন উক্তি لَا وَاللهِ না আল্লাহর শপথ, بَلَى وَاللهِ হ্যাঁ আল্লাহর শপথ ইত্যাদি উপলক্ষে। [৬৬৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৫৫)