অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৫/১/১. সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে।
মোট ৫০৪ টি হাদিস
হাদিস নং: ৪৫৭৪
সহিহ (Sahih)
عبد العزيز بن عبد الله حدثنا ابراهيم بن سعد عن صالح بن كيسان عن ابن شهاب قال اخبرني عروة بن الزبير انه سال عاىشة عن قول الله تعالى : (وان خفتم ان لا تقسطوا في اليتامى) فقالت يا ابن اختي هذه اليتيمة تكون في حجر وليها تشركه في ماله ويعجبه مالها وجمالها فيريد وليها ان يتزوجها بغير ان يقسط في صداقها فيعطيها مثل ما يعطيها غيره فنهوا عن ان ينكحوهن الا ان يقسطوا لهن ويبلغوا لهن اعلى سنتهن في الصداق فامروا ان ينكحوا ما طاب لهم من النساء سواهن قال عروة قالت عاىشة وان الناس استفتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد هذه الاية فانزل الله : (ويستفتونك في النسآء) قالت عاىشة : وقول الله تعالى في اية اخرى : (وترغبون ان تنكحوهن) رغبة احدكم عن يتيمته حين تكون قليلة المال والجمال قالت فنهوا ان ينكحوا عن من رغبوا في ماله وجماله في يتامى النساء الا بالقسط من اجل رغبتهم عنهن اذا كن قليلات المال والجمال.
৪৫৭৪. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন মহান আল্লাহর বাণী وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لَّا تُقْسِطُوْا فِي الْيَتَامٰى সম্পর্কে। তিনি উত্তরে বললেন, হে ভাগ্নে! সে হচ্ছে পিতৃহীনা বালিকা, অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং তার সম্পত্তিতে অংশীদার হয় এবং তার রূপ ও সম্পদ তাকে (অভিভাবককে) আকৃষ্ট করে। এরপর সেই অভিভাবক উপযুক্ত মাহর না দিয়ে তাকে বিবাহ করতে চায়। তদুপরি অন্য ব্যক্তি যে পরিমাণ মাহর দেয় তা না দিয়ে এবং তার প্রতি ন্যায়বিচার না করে তাকে বিয়ে করতে চায়। এরপর তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মাহর এবং ন্যায় ও সমুচিত মাহর প্রদান ব্যতীত তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তদ্ব্যতীত যে সকল মহিলা পছন্দ হয় তাদেরকে বিয়ে করতে অনুমতি দেয়া হয়েছে।
’উরওয়া (রহ.) বলেন যে, ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মহিলাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেন- وَيَسْتَفْتُوْنَكَ فِي النِّسَآءِ ’’এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে জানতে চান......’’। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী অন্য এক আয়াতে-তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ কর। ইয়াতীম বালিকার ধন-সম্পদ কম হলে এবং সুন্দরী না হলে তাকে বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করো না। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তাই ইয়াতীম বালিকাদের মাল ও সৌন্দর্যের আকর্ষণে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে ন্যায়বিচার করলে ভিন্ন কথা। কেননা তারা সম্পদের অধিকারী না হলে এবং সুন্দরী না হলে তাদেরকেও বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২১৬)
’উরওয়া (রহ.) বলেন যে, ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মহিলাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেন- وَيَسْتَفْتُوْنَكَ فِي النِّسَآءِ ’’এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে জানতে চান......’’। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী অন্য এক আয়াতে-তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ কর। ইয়াতীম বালিকার ধন-সম্পদ কম হলে এবং সুন্দরী না হলে তাকে বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করো না। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তাই ইয়াতীম বালিকাদের মাল ও সৌন্দর্যের আকর্ষণে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে ন্যায়বিচার করলে ভিন্ন কথা। কেননা তারা সম্পদের অধিকারী না হলে এবং সুন্দরী না হলে তাদেরকেও বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২১৬)
হাদিস নং: ৪৫৭৫
সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا عبد الله بن نمير حدثنا هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها في قوله تعالى (ومن كان غنيا فليستعفف ومن كان فقيرا فلياكل بالمعروف) انها نزلت في والي اليتيم اذا كان فقيرا انه ياكل منه مكان قيامه عليه بمعروف.
(وَمَنْ كَانَ فَقِيْرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوْفِ فَإِذَا دَفَعْتُمْ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَأَشْهِدُوْا عَلَيْهِمْ وَكَفٰى بِاللهِ حَسِيْبًا) (وَبِدَارًا) مُبَادَرَةً. (أَعْتَدْنَا) : أَعْدَدْنَا أَفْعَلْنَا مِنَ الْعَتَادِ.
’’এবং যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে। যখন তোমরা তাদের হাতে তাদের সম্পদ প্রত্যর্পণ করবে, তখন সাক্ষী রাখবে।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৬)
وَبِدَارًا শীঘ্রই أَعْتَدْنَا প্রস্তুত করে রেখেছি। আর أَعْتَدْنَا শব্দটি أَفْعَلْنَا এর ওজনে الْعَتَادِ মাসদার থেকে (নির্গত)।
৪৫৭৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর বাণী وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيْرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوْفِ সম্পদশালী গ্রহণ করবে না- অবতীর্ণ হয়েছে ইয়াতীমের সম্পদ উপলক্ষে, যদি তত্ত্বাবধায়ক দরিদ্র হয় তাহলে তত্ত্বাবধানের বিনিময়ে ন্যায্য পরিমাণে তা থেকে ভোগ করবে। [২২১২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২১৭)
’’এবং যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে। যখন তোমরা তাদের হাতে তাদের সম্পদ প্রত্যর্পণ করবে, তখন সাক্ষী রাখবে।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৬)
وَبِدَارًا শীঘ্রই أَعْتَدْنَا প্রস্তুত করে রেখেছি। আর أَعْتَدْنَا শব্দটি أَفْعَلْنَا এর ওজনে الْعَتَادِ মাসদার থেকে (নির্গত)।
৪৫৭৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর বাণী وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيْرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوْفِ সম্পদশালী গ্রহণ করবে না- অবতীর্ণ হয়েছে ইয়াতীমের সম্পদ উপলক্ষে, যদি তত্ত্বাবধায়ক দরিদ্র হয় তাহলে তত্ত্বাবধানের বিনিময়ে ন্যায্য পরিমাণে তা থেকে ভোগ করবে। [২২১২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২১৭)
হাদিস নং: ৪৫৭৬
সহিহ (Sahih)
احمد بن حميد اخبرنا عبيد الله الاشجعي عن سفيان عن الشيباني عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما (واذا حضر القسمة اولو القربى واليتامى والمساكين) قال هي محكمة وليست بمنسوخة تابعه سعيد عن ابن عباس.
৪৫৭৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়াতটি সুস্পষ্ট, মানসুখ নয়। সা’ঈদ (রাঃ) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে ইকরামাহ (রাঃ)-এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর বাণীঃ وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُو الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنُ ’’আর যদি সম্পত্তি বণ্টনকালে আত্মীয়, ইয়াতীম ও মিসকীন উপস্থিত হয়’’। (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১১)। [২৭৫৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২১৮)
হাদিস নং: ৪৫৭৭
সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى حدثنا هشام ان ابن جريج اخبرهم قال اخبرني ابن المنكدر عن جابر رضي الله عنه قال عادني النبي صلى الله عليه وسلم وابو بكر في بني سلمة ماشيين فوجدني النبي صلى الله عليه وسلم لا اعقل شيىا فدعا بماء فتوضا منه ثم رش علي فافقت فقلت ما تامرني ان اصنع في مالي يا رسول الله فنزلت (يوصيكم الله فيٓ اولادكم).
৪৫৭৭. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাঃ) বানী সালামাহ গোত্রে পদব্রজে আমার রোগের ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জ্ঞানশূন্য অবস্থায় দেখতে পেলেন। কাজেই তিনি পানি আনালেন এবং ’উযূ করে সেই পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। তখন আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার সম্পদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনি আমাকে আদেশ করছেন? তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ يُوْصِيْكُمْ اللهُ فِيْ أَوْلَادِكُمْ। [১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২১৯)
হাদিস নং: ৪৫৭৮
সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف عن ورقاء عن ابن ابي نجيح عن عطاء عن ابن عباس رضي الله عنهما قال كان المال للولد وكانت الوصية للوالدين فنسخ الله من ذلك ما احب فجعل للذكر مثل حظ الانثيين وجعل للابوين لكل واحد منهما السدس والثلث وجعل للمراة الثمن والربع وللزوج الشطر والربع.
৪৫৭৮. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির সম্পদ লাভ করত সন্তানরা, আর ওয়াসীয়াত ছিল পিতামাতার জন্য। অতঃপর তাত্থেকে আল্লাহ তা’আলা স্বীয় পছন্দ অনুযায়ী কিছু রহিত করলেন এবং পুরুষদের জন্য মহিলার দ্বিগুণ নির্দিষ্ট করলেন। পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য ষষ্ঠাংশ ও তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করলেন, স্ত্রীদের জন্য অষ্টমাংশ ও চতুর্থাংশ নির্ধারণ করলেন এবং স্বামীর জন্য অর্ধাংশ ও চতুর্থাংশ নির্ধারণ করলেন। [২৭৪৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২০)
হাদিস নং: ৪৫৭৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل حدثنا اسباط بن محمد حدثنا الشيباني عن عكرمة عن ابن عباس قال الشيباني وذكره ابو الحسن السواىي ولا اظنه ذكره الا عن ابن عباس (لا يحل لكم ان ترثوا النساء كرها ط ولا تعضلوهن لتذهبوا ببعض مآ اتيتموهن) قال كانوا اذا مات الرجل كان اولياوه احق بامراته ان شاء بعضهم تزوجها وان شاءوا زوجوها وان شاءوا لم يزوجوها فهم احق بها من اهلها فنزلت هذه الاية في ذلك.
(لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَآءَ كَرْهًا ط وَلَا تَعْضُلُوْهُنَّ لِتَذْهَبُوْا بِبَعْضِ مَآ اٰتَيْتُمُوْهُنَّ) الْآيَةَ
আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের জন্য হালাল নয় নারীদের জবরদস্তি উত্তরাধিকার গণ্য করা। (সূরাহ আন-নিসা ৪/১৯)
وَيُذْكَرُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ: (لَا تَعْضُلُوْهُنَّ) لَا تَقْهَرُوْهُنَّ. (حُوْبًا): إِثْمًا. (تَعُوْلُوْا): تَمِيْلُوْا. (نِحْلَةً) النِّحْلَةُ الْمَهْرُ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত لَا تَعْضُلُوْهُنَّ-তাদের উপর শক্তি প্রয়োগ করো না। حُوْبًا -গুনাহ, تَعُوْلُوْا-ঝুঁকে পড়। نِحْلَةً -মাহর।
৪৫৭৯. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَآءَ كَرْهًا ط وَلَا تَعْضُلُوْهُنَّ لِتَذْهَبُوْا بِبَعْضِ مَآ اٰتَيْتُمُوْهُنَّ -ইসলামের প্রথম যুগে অবস্থা এমন ছিল যে, কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার অভিভাবকগণ তার স্ত্রীর মালিক হয়ে বসত। তারা ইচ্ছা করলে নিজেরা ঐ মহিলাকে বিয়ে করত। ইচ্ছা করলে অন্যের কাছে দিত। কিংবা তাকে মৃত্যু পর্যন্ত আটকে রাখত। কারও কাছে বিয়ে দিত না। মহিলার পরিবারের চেয়ে এরা অধিক হকদার হয়ে বসত। এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হল। [৬৯৪৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২১)
আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের জন্য হালাল নয় নারীদের জবরদস্তি উত্তরাধিকার গণ্য করা। (সূরাহ আন-নিসা ৪/১৯)
وَيُذْكَرُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ: (لَا تَعْضُلُوْهُنَّ) لَا تَقْهَرُوْهُنَّ. (حُوْبًا): إِثْمًا. (تَعُوْلُوْا): تَمِيْلُوْا. (نِحْلَةً) النِّحْلَةُ الْمَهْرُ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত لَا تَعْضُلُوْهُنَّ-তাদের উপর শক্তি প্রয়োগ করো না। حُوْبًا -গুনাহ, تَعُوْلُوْا-ঝুঁকে পড়। نِحْلَةً -মাহর।
৪৫৭৯. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَآءَ كَرْهًا ط وَلَا تَعْضُلُوْهُنَّ لِتَذْهَبُوْا بِبَعْضِ مَآ اٰتَيْتُمُوْهُنَّ -ইসলামের প্রথম যুগে অবস্থা এমন ছিল যে, কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার অভিভাবকগণ তার স্ত্রীর মালিক হয়ে বসত। তারা ইচ্ছা করলে নিজেরা ঐ মহিলাকে বিয়ে করত। ইচ্ছা করলে অন্যের কাছে দিত। কিংবা তাকে মৃত্যু পর্যন্ত আটকে রাখত। কারও কাছে বিয়ে দিত না। মহিলার পরিবারের চেয়ে এরা অধিক হকদার হয়ে বসত। এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হল। [৬৯৪৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২১)
হাদিস নং: ৪৫৮০
সহিহ (Sahih)
الصلت بن محمد حدثنا ابو اسامة عن ادريس عن طلحة بن مصرف عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما (ولكل جعلنا موالي) قال ورثة (والذين عاقدت ايمانكم) كان المهاجرون لما قدموا المدينة يرث المهاجري الانصاري دون ذوي رحمه للاخوة التي اخى النبي صلى الله عليه وسلم بينهم فلما نزلت : (ولكل جعلنا موالي) نسخت ثم قال : (والذين عاقدت ايمانكم)من النصر والرفادة والنصيحة وقد ذهب الميراث ويوصي له سمع ابو اسامة ادريس وسمع ادريس طلحة.
وَقَالَ مَعْمَرٌ : و (مَوَالِي) وَأَوْلِيَاءُ وَرَثَةٌ. (وَالَّذِيْنَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ) هُوَ مَوْلَى الْيَمِيْنِ وَهْوَ الْحَلِيْفُ. وَالْمَوْلَى أَيْضًا ابْنُ الْعَمِّ، وَالْمَوْلَى الْمُنْعِمُ الْمُعْتِقُ، وَالْمَوْلَى الْمُعْتَقُ، وَالْمَوْلَى الْمَلِيْكُ، وَالْمَوْلَى مَوْلًى فِي الدِّيْنِ.
مَوَالِيْ এক প্রকার হচ্ছে সে সকল আত্মীয়, যারা রক্ত সম্বন্ধের উত্তরাধিকারী। অপরপক্ষ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ অর্থাৎ চুক্তিবদ্ধ উত্তরাধিকারী। আবার مَوْلَى-চাচাত ভাই, مَوْلَى الْمُنْعِمُ-যে দাস মুক্ত করে, مَوْلَى-আযাদকৃত দাস, مَوْلَى-বাদশাহ, مَوْلَى-মহাজন।
৪৫৮০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ হচ্ছে বংশীয় উত্তরাধিকারী, وَالَّذِيْنَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ হচ্ছে মুহাজিরগণ যখন মদিনা্য় এসেছিলেন তখন তারা আনসারদের উত্তরাধিকারী হতেন। আত্মীয়তার জন্য নয় বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের কারণে। যখন وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ অবতীর্ণ হল, তখন এ হুকুম রহিত হয়ে গেল। তারপর বললেন, যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করে থাক সাহায্য-সহযোগিতা ও পরস্পরের উপকার করার। আগের উত্তরাধিকার ব্যবস্থা রহিত হল এবং এদের জন্য ওয়াসীয়াত বৈধ করা হল।
হাদীসটি আবূ উসামাহ ইদরীসের কাছে থেকে এবং ইদরীস ত্বলহার নিকট হতে শুনেছেন। [২২৯২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২২)
مَوَالِيْ এক প্রকার হচ্ছে সে সকল আত্মীয়, যারা রক্ত সম্বন্ধের উত্তরাধিকারী। অপরপক্ষ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ অর্থাৎ চুক্তিবদ্ধ উত্তরাধিকারী। আবার مَوْلَى-চাচাত ভাই, مَوْلَى الْمُنْعِمُ-যে দাস মুক্ত করে, مَوْلَى-আযাদকৃত দাস, مَوْلَى-বাদশাহ, مَوْلَى-মহাজন।
৪৫৮০. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ হচ্ছে বংশীয় উত্তরাধিকারী, وَالَّذِيْنَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ হচ্ছে মুহাজিরগণ যখন মদিনা্য় এসেছিলেন তখন তারা আনসারদের উত্তরাধিকারী হতেন। আত্মীয়তার জন্য নয় বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের কারণে। যখন وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ অবতীর্ণ হল, তখন এ হুকুম রহিত হয়ে গেল। তারপর বললেন, যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করে থাক সাহায্য-সহযোগিতা ও পরস্পরের উপকার করার। আগের উত্তরাধিকার ব্যবস্থা রহিত হল এবং এদের জন্য ওয়াসীয়াত বৈধ করা হল।
হাদীসটি আবূ উসামাহ ইদরীসের কাছে থেকে এবং ইদরীস ত্বলহার নিকট হতে শুনেছেন। [২২৯২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২২)
হাদিস নং: ৪৫৮১
সহিহ (Sahih)
محمد بن عبد العزيز حدثنا ابو عمر حفص بن ميسرة عن زيد بن اسلم عن عطاء بن يسار عن ابي سعيد الخدري رضي الله عنه ان اناسا في زمن النبي قالوا يا رسول الله هل نرى ربنا يوم القيامة قال النبي صلى الله عليه وسلم نعم هل تضارون في روية الشمس بالظهيرة ضوء ليس فيها سحاب قالوا لا قال وهل تضارون في روية القمر ليلة البدر ضوء ليس فيها سحاب قالوا لا قال النبي صلى الله عليه وسلم ما تضارون في روية الله عز وجل يوم القيامة الا كما تضارون في روية احدهما اذا كان يوم القيامة اذن موذن تتبع كل امة ما كانت تعبد فلا يبقى من كان يعبد غير الله من الاصنام والانصاب الا يتساقطون في النار حتى اذا لم يبق الا من كان يعبد الله بر او فاجر وغبرات اهل الكتاب فيدعى اليهود فيقال لهم من كنتم تعبدون قالوا كنا نعبد عزير ابن الله فيقال لهم كذبتم ما اتخذ الله من صاحبة ولا ولد فماذا تبغون فقالوا عطشنا ربنا فاسقنا فيشار الا تردون فيحشرون الى النار كانها سراب يحطم بعضها بعضا فيتساقطون في النار ثم يدعى النصارى فيقال لهم من كنتم تعبدون قالوا كنا نعبد المسيح ابن الله فيقال لهم كذبتم ما اتخذ الله من صاحبة ولا ولد فيقال لهم ماذا تبغون فكذلك مثل الاول حتى اذا لم يبق الا من كان يعبد الله من بر او فاجر اتاهم رب العالمين في ادنى صورة من التي راوه فيها فيقال ماذا تنتظرون تتبع كل امة ما كانت تعبد قالوا فارقنا الناس في الدنيا على افقر ما كنا اليهم ولم نصاحبهم ونحن ننتظر ربنا الذي كنا نعبد فيقول انا ربكم فيقولون لا نشرك بالله شيىا مرتين او ثلاثا
৪৫৮১. আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে একদল লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। গ্রীষ্মের মেঘমুক্ত দুপুরের প্রখর কিরণবিশিষ্ট সূর্য দেখতে তোমরা কি পরস্পর ভিড় করে থাক? তারা বলল, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পূর্ণিমার রাতে মেঘমুক্ত আলো বিশিষ্ট চন্দ্র দেখতে তোমরা কি ভিড় কর? আবার তারা বলল, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এদের কোনটিকে দেখতে যেমন পরস্পর ভিড় কর না; কিয়ামতের দিনও আল্লাহকে দেখতেও তোমরা পরস্পর ভিড় করবে না। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) যখন আসবে তখন এক ঘোষণাকারী ঘোষণা দেবে।
তখন প্রত্যেকেই আপন আপন উপাস্যের অনুসরণ করবে। আল্লাহ ব্যতীত প্রতিমা ও পাথর ইত্যাদির যারা পূজা করেছে, তারা সকলে জাহান্নামে গিয়ে পড়বে, একজনও বাকী থাকবে না। পুণ্যবান হোক অথবা পাপী, এরা এবং আল্লাহর অবশিষ্ট বিশ্বাসীরা ব্যতীত যখন আর কেউ থাকবে না, তখন ইয়াহূদীদেরকে ডেকে বলা হবে, তোমরা কার ’ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র উযাইয়ের ’ইবাদাত করতাম। তাদেরকে বলা হবে যে, তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ স্ত্রীও গ্রহণ করেননি, পুত্রও গ্রহণ করেননি। তোমরা কী চাও? তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তৃষ্ণার্ত, আমাদেরকে পানি পান করান। এরপর তাদেরকে ইশারা করা হবে যে, তোমরা পানির ধারে যাও না কেন?
এরপর তাদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্র করা হবে তা যেন মরুভূমির মরীচিকা, এক এক অংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে ফেলছে। অতঃপর তারা সবাই জাহান্নামে পতিত হবে। তারপর নাসারাদেরকে ডাকা হবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কার ’ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র মসীহের ’ইবাদাত করতাম। তাদের বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ স্ত্রীও গ্রহণ করেননি, পুত্রও নয়। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কী চাও? তারাও প্রথম পক্ষের মতো বলবে এবং তাদের মতো জাহান্নামে নিপতিত হবে। অবশেষে পুণ্যবান হোক কিংবা পাপী হোক আল্লাহর উপাসনাকারী ব্যতীত আর কেউ যখন বাকি থাকবে না, তখন তাদের কাছে পরিচিত রূপের নিকটতম একটি রূপ নিয়ে রাববুল আলামীন তাদের কাছে আবির্ভূত হবেন। এরপর বলা হবে, প্রত্যেক দল নিজ নিজ উপাস্যের অনুসরণ করে চলে গেছে।
তোমরা কিসের অপেক্ষা করছ? তারা বলবে, দুনিয়াতে এ সকল লোকের প্রতি আমাদের অনেক প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমরা সেখানে তাদের থেকে আলাদা থেকেছি এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখিনি। এখন আমরা আমাদের প্রতিপালকের অপেক্ষায় আছি, আমরা তাঁর ’ইবাদাত করতাম। এরপর তিনি বলবেন, আমিই তোমাদের প্রতিপালক। তারা বলবে, আমরা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করব না। এ কথাটি দু’বার কি তিনবার বলবে। [২২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২৩)
তখন প্রত্যেকেই আপন আপন উপাস্যের অনুসরণ করবে। আল্লাহ ব্যতীত প্রতিমা ও পাথর ইত্যাদির যারা পূজা করেছে, তারা সকলে জাহান্নামে গিয়ে পড়বে, একজনও বাকী থাকবে না। পুণ্যবান হোক অথবা পাপী, এরা এবং আল্লাহর অবশিষ্ট বিশ্বাসীরা ব্যতীত যখন আর কেউ থাকবে না, তখন ইয়াহূদীদেরকে ডেকে বলা হবে, তোমরা কার ’ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র উযাইয়ের ’ইবাদাত করতাম। তাদেরকে বলা হবে যে, তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ স্ত্রীও গ্রহণ করেননি, পুত্রও গ্রহণ করেননি। তোমরা কী চাও? তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তৃষ্ণার্ত, আমাদেরকে পানি পান করান। এরপর তাদেরকে ইশারা করা হবে যে, তোমরা পানির ধারে যাও না কেন?
এরপর তাদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্র করা হবে তা যেন মরুভূমির মরীচিকা, এক এক অংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে ফেলছে। অতঃপর তারা সবাই জাহান্নামে পতিত হবে। তারপর নাসারাদেরকে ডাকা হবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কার ’ইবাদাত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র মসীহের ’ইবাদাত করতাম। তাদের বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ স্ত্রীও গ্রহণ করেননি, পুত্রও নয়। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কী চাও? তারাও প্রথম পক্ষের মতো বলবে এবং তাদের মতো জাহান্নামে নিপতিত হবে। অবশেষে পুণ্যবান হোক কিংবা পাপী হোক আল্লাহর উপাসনাকারী ব্যতীত আর কেউ যখন বাকি থাকবে না, তখন তাদের কাছে পরিচিত রূপের নিকটতম একটি রূপ নিয়ে রাববুল আলামীন তাদের কাছে আবির্ভূত হবেন। এরপর বলা হবে, প্রত্যেক দল নিজ নিজ উপাস্যের অনুসরণ করে চলে গেছে।
তোমরা কিসের অপেক্ষা করছ? তারা বলবে, দুনিয়াতে এ সকল লোকের প্রতি আমাদের অনেক প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমরা সেখানে তাদের থেকে আলাদা থেকেছি এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখিনি। এখন আমরা আমাদের প্রতিপালকের অপেক্ষায় আছি, আমরা তাঁর ’ইবাদাত করতাম। এরপর তিনি বলবেন, আমিই তোমাদের প্রতিপালক। তারা বলবে, আমরা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করব না। এ কথাটি দু’বার কি তিনবার বলবে। [২২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২৩)
হাদিস নং: ৪৫৮২
সহিহ (Sahih)
صدقة اخبرنا يحيى عن سفيان عن سليمان عن ابراهيم عن عبيدة عن عبد الله قال يحيى بعض الحديث عن عمرو بن مرة قال قال لي النبي صلى الله عليه وسلم اقرا علي قلت اقرا عليك وعليك انزل قال فاني احب ان اسمعه من غيري فقرات عليه سورة النساء حتى بلغت (فكيف اذا جىنا من كل امةم بشهيد وجىنا بك على هٓولاء شهيدا) قال : امسك فاذا عيناه تذرفان.
(الْمُخْتَالُ) وَالْخَتَّالُ وَاحِدٌ : (نَطْمِسَ وُجُوْهًا) : نُسَوِّيَهَا حَتَّى تَعُوْدَ كَأَقْفَائِهِمْ طَمَسَ الْكِتَابَ مَحَاهُ. (بجَهَنَّمَ سَعِيْرًا) : وُقُوْدًا
الْخَتَّالُ الْمُخْتَالُ একই অর্থে ব্যবহৃত, দাম্ভিক। نَطْمِسَ-সমান করে দেব। শেষ পর্যন্ত তাদের গর্দানের পশ্চাৎদিকের মতো হয়ে যাবে। طَمَسَ الْكِتَابَ কিতাবের লেখা মুছে ফেলা। سَعِيْرًا জ্বলন্ত।
৪৫৮২. ’আমর ইবনু মুররা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে কুরআন পাঠ কর। আমি বললাম, আমি আপনার কাছে পাঠ করব? অথচ আপনার কাছেই তা অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, অন্যের মুখ থেকে শুনতে আমি পছন্দ করি। এরপর আমি তাঁর নিকট সূরাহ ’নিসা’ পাঠ করলাম, যখন আমি فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍم بِشَهِيْدٍ وَّجِئْنَا بِكَ عَلٰى هٰٓؤُلَآءِ شَهِيْدً পর্যন্ত পাঠ করলাম, তিনি বললেন, থাম, থাম, তখন তাঁর দু’চোখ হতে টপ টপ করে অশ্রু ঝরছিল। [৫০৪৯, ৫০৫০, ৫০৫৫, ৫০৫৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২৪)
الْخَتَّالُ الْمُخْتَالُ একই অর্থে ব্যবহৃত, দাম্ভিক। نَطْمِسَ-সমান করে দেব। শেষ পর্যন্ত তাদের গর্দানের পশ্চাৎদিকের মতো হয়ে যাবে। طَمَسَ الْكِتَابَ কিতাবের লেখা মুছে ফেলা। سَعِيْرًا জ্বলন্ত।
৪৫৮২. ’আমর ইবনু মুররা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে কুরআন পাঠ কর। আমি বললাম, আমি আপনার কাছে পাঠ করব? অথচ আপনার কাছেই তা অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, অন্যের মুখ থেকে শুনতে আমি পছন্দ করি। এরপর আমি তাঁর নিকট সূরাহ ’নিসা’ পাঠ করলাম, যখন আমি فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍم بِشَهِيْدٍ وَّجِئْنَا بِكَ عَلٰى هٰٓؤُلَآءِ شَهِيْدً পর্যন্ত পাঠ করলাম, তিনি বললেন, থাম, থাম, তখন তাঁর দু’চোখ হতে টপ টপ করে অশ্রু ঝরছিল। [৫০৪৯, ৫০৫০, ৫০৫৫, ৫০৫৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২৪)
হাদিস নং: ৪৫৮৩
সহিহ (Sahih)
محمد اخبرنا عبدة عن هشام عن ابيه عن عاىشة رضي الله عنها قالت هلكت قلادة لاسماء فبعث النبي صلى الله عليه وسلم في طلبها رجالا فحضرت الصلاة وليسوا على وضوء ولم يجدوا ماء فصلوا وهم على غير وضوء فانزل الله يعني اية التيمم.
(صَعِيْدًا): وَجْهَ الْأَرْضِ وَقَالَ جَابِرٌ كَانَتْ الطَّوَاغِيْتُ الَّتِيْ يَتَحَاكَمُوْنَ إِلَيْهَا فِيْ جُهَيْنَةَ وَاحِدٌ وَفِيْ أَسْلَمَ وَاحِدٌ وَفِيْ كُلِّ حَيٍّ وَاحِدٌ كُهَّانٌ يَنْزِلُ عَلَيْهِمْ الشَّيْطَانُ وَقَالَ عُمَرُ : (الْجِبْتُ) : السِّحْرُ، (وَالطَّاغُوْتُ) : الشَّيْطَانُ. وَقَالَ عِكْرِمَةُ : (الْجِبْتُ) بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ شَيْطَانٌ. (وَالطَّاغُوْتُ) : الْكَاهِنُ.
صَعِيْدًا-মাটির উপরিভাগ। জাবির (রাঃ) বলেন, যে সকল তাগূতের কাছে তারা বিচারের জন্য যেত তাদের একজন ছিল বুহাইনাহ গোত্রের, একজন আসলাম গোত্রের এবং এভাবে প্রত্যেক গোত্রে এক-একজন করে তাগূত ছিল। তারা হচ্ছে গণক। তাদের কাছে শায়ত্বন আসত।
’উমার (রাঃ) বলেন, الْجِبْتُ-জাদু, وَالطَّاغُوْتُ-শায়তান। ’ইকরামাহ (রাঃ) বলেন, হাবশী ভাষায় শায়ত্বনকে الْجِبْتُ বলা হয়। আর গণককে طَّاغُوْتُ বলা হয়।
৪৫৮৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছ থেকে আসমা (রাঃ)-এর একটি হার হারিয়ে গিয়েছিল। সেটা খোঁজার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন লোক পাঠিয়েছিলেন। তখন সালাতের সময় হল, তাদের কাছে পানি ছিল না। তারা উযূর অবস্থায় ছিলেন না আবার পানিও পেলেন না। এরপর বিনা অযুতে সালাত আদায় করে ফেললেন। তখন আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের নিয়মবিধি অবতীর্ণ করলেন। [৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২৫)
صَعِيْدًا-মাটির উপরিভাগ। জাবির (রাঃ) বলেন, যে সকল তাগূতের কাছে তারা বিচারের জন্য যেত তাদের একজন ছিল বুহাইনাহ গোত্রের, একজন আসলাম গোত্রের এবং এভাবে প্রত্যেক গোত্রে এক-একজন করে তাগূত ছিল। তারা হচ্ছে গণক। তাদের কাছে শায়ত্বন আসত।
’উমার (রাঃ) বলেন, الْجِبْتُ-জাদু, وَالطَّاغُوْتُ-শায়তান। ’ইকরামাহ (রাঃ) বলেন, হাবশী ভাষায় শায়ত্বনকে الْجِبْتُ বলা হয়। আর গণককে طَّاغُوْتُ বলা হয়।
৪৫৮৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছ থেকে আসমা (রাঃ)-এর একটি হার হারিয়ে গিয়েছিল। সেটা খোঁজার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন লোক পাঠিয়েছিলেন। তখন সালাতের সময় হল, তাদের কাছে পানি ছিল না। তারা উযূর অবস্থায় ছিলেন না আবার পানিও পেলেন না। এরপর বিনা অযুতে সালাত আদায় করে ফেললেন। তখন আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের নিয়মবিধি অবতীর্ণ করলেন। [৩৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২৫)
হাদিস নং: ৪৫৮৪
সহিহ (Sahih)
صدقة بن الفضل اخبرنا حجاج بن محمد عن ابن جريج عن يعلى بن مسلم عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما (اطيعوا الله واطيعوا الرسول واولي الامر منكم) قال نزلت في عبد الله بن حذافة بن قيس بن عدي اذ بعثه النبي صلى الله عليه وسلم في سرية.
৪৫৮৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, أَطِيْعُوا اللهَ وَأَطِيْعُوا الرَّسُوْلَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে ’আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফাহ ইবনু ক্বায়স ইবনু আদী সম্পর্কে যখন তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সৈন্য দলের দলনায়ক করে প্রেরণ করেছিলেন। [মুসলিম ৩৩/৮, হাঃ ১৮৩৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২৬)
হাদিস নং: ৪৫৮৫
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا محمد بن جعفر اخبرنا معمر عن الزهري عن عروة قال خاصم الزبير رجلا من الانصار في شريج من الحرة فقال النبي صلى الله عليه وسلم اسق يا زبير ثم ارسل الماء الى جارك فقال الانصاري يا رسول الله ان كان ابن عمتك فتلون وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال اسق يا زبير ثم احبس الماء حتى يرجع الى الجدر ثم ارسل الماء الى جارك واستوعى النبي صلى الله عليه وسلم للزبير حقه في صريح الحكم حين احفظه الانصاري كان اشار عليهما بامر لهما فيه سعة قال الزبير فما احسب هذه الايات الا نزلت في ذلك (فلا وربك لا يومنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم).
৪৫৮৫. ’উরওয়াহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, হাররা বা মদিনার কঙ্করময় ভূমিতে একটি পানির নালাকে কেন্দ্র করে একজন আনসার যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে ঝগড়া করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে যুবায়র! প্রথমত তুমি তোমার জমিতে পানি দাও, তারপর তুমি প্রতিবেশীর জমিতে পানি ছেড়ে দেবে। আনসারী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আপনার ফুফাত ভাই, তাই এই ফয়সালা। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা রক্তিম হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, হে যুবায়র! তুমি তোমার জমিতে পানি দাও। তারপর সেচ নালা ভর্তি করে পানি রাখো, অতঃপর তোমার প্রতিবেশিকে পানি দাও।
আনসারী যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাগান্বিত করলেন তখন তিনি তার হক পুরোপুরি যুবায়র (রাঃ)-কে প্রদানের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে প্রথমে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে প্রশস্ততা ছিল।
যুবায়র (রাঃ) বলেন, فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُوْنَ حَتّٰى يُحَكِّمُوْكَ فِيْمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ আয়াতটি এ উপলক্ষে অবতীর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি। [২৩৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২৭)
আনসারী যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাগান্বিত করলেন তখন তিনি তার হক পুরোপুরি যুবায়র (রাঃ)-কে প্রদানের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে প্রথমে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে প্রশস্ততা ছিল।
যুবায়র (রাঃ) বলেন, فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُوْنَ حَتّٰى يُحَكِّمُوْكَ فِيْمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ আয়াতটি এ উপলক্ষে অবতীর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি। [২৩৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২৭)
হাদিস নং: ৪৫৮৬
সহিহ (Sahih)
محمد بن عبد الله بن حوشب حدثنا ابراهيم بن سعد عن ابيه عن عروة عن عاىشة رضي الله عنها قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ما من نبي يمرض الا خير بين الدنيا والاخرة وكان في شكواه الذي قبض فيه اخذته بحة شديدة فسمعته يقول : (مع الذين انعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهدآء والصالحين) فعلمت انه خير.
৪৫৮৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক নবী অন্তিম সময়ে পীড়িত হলে তাঁকে দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোন একটি গ্রহণ করতে বলা হয়। যে অসুখে তাঁকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে সে অসুখে তাঁর ভীষণ শ্বাসকষ্ট আরম্ভ হয়েছিল। সে সময় আমি তাঁকে مَعَ الَّذِيْنَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّيْنَ وَالصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَآءِ وَالصَّالِحِيْنَ তাঁরা নবীগণ, সত্যপরায়ণ, শহীদ ও সৎকর্মশীল যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন, তাঁদের সঙ্গী হবেন (সূরাহ আন-নিসা ৪/৬৯) বলতে শুনেছি। এরপর আমি বুঝে নিয়েছি যে, তাঁকে (দুনিয়া বা আখিরাতে) যে কোন একটি বেছে নেয়ার অবকাশ দেয়া হয়েছে। [৪৪৩৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২৮)
হাদিস নং: ৪৫৮৭
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا سفيان عن عبيد الله قال سمعت ابن عباس قال كنت انا وامي من المستضعفين من الرجال والنساء
৪৫৮৭. ’উবাইদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন যে, আমি এবং আমার আম্মা (আয়াতে বর্ণিত) অসহায়দের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। [১৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২২৯)
হাদিস নং: ৪৫৮৮
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ايوب عن ابن ابي مليكة ان ابن عباس تلا : (الا المستضعفين من الرجال والنسآء والولدان) قال : كنت انا وامي ممن عذر الله. ويذكر عن ابن عباس (حصرت) ضاقت. (تلووا) السنتكم بالشهادة وقال غيره (المراغم) المهاجر راغمت هاجرت قومي. (موقوتا): موقتا وقته عليهم.
৪৫৮৮. ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِيْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَآءِ وَالْوِلْدَانِ -’’তবে যেসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু .......’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৮) আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন, আল্লাহ যাদের অক্ষমতাকে অনুমোদন করেছেন আমি এবং আমার আম্মা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত حَصِرَتْ-সংকুচিত হয়েছে। تَلْوُوْا أَلْسِنَتَكُمْ بِالشَّهَادَةِ-সাক্ষ্য দিতে তাদের জিহবা বক্র হয়। الْمُهَاجَرُ-الْمُرَاغَمُ -হিজরতের স্থান, رَاغَمْتُ قَوْمِي-আমার গোত্রকে ত্যাগ করেছি, مَوْقُوْتًا এবং مُوَقَّتًا-তাদের উপর সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। [১৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩০)
হাদিস নং: ৪৫৮৯
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر وعبد الرحمن قالا حدثنا شعبة عن عدي عن عبد الله بن يزيد عن زيد بن ثابت رضي الله عنه (فما لكم في المنافقين فىتين) رجع ناس من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم من احد وكان الناس فيهم فرقتين فريق يقول اقتلهم وفريق يقول : لا فنزلت : (فما لكم في المنافقين فىتين) وقال : انها طيبة، تنفي الخبث كما تنفي النار خبث الفضة
قَالَ : ابْنُ عَبَّاسٍ : بَدَّدَهُمْ. (فِئَةٌ) : جَمَاعَةٌ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, بَدَّدَهُمْ-তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করেছেন, فِئَةٌ-দল।
৪৫৮৯. যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِيْنَ فِئَتَيْنِ -উহূদের যুদ্ধ থেকে একদল লোক দলত্যাগ করে ফিরে এসেছিল, এরপর তাদের ব্যাপারে লোকেরা দু’দল হয়ে গেল, একদল বলছে তাদেরকে হত্যা করে ফেল; অপরদল বলছে তাদেরকে হত্যা করো না, তখন অবতীর্ণ হলঃ فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِيْنَ فِئَتَيْنِ অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই মদিনা হল পবিত্র স্থান, আগুন যেভাবে রৌপ্যের কালিমা দূর করে এটাও অপবিত্রতা দূর করে দেয়। [১৮৮৪; মুসলিম ১৫/৮৮, হাঃ ১৩৮৪, আহমাদ ২১৬৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩১)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, بَدَّدَهُمْ-তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করেছেন, فِئَةٌ-দল।
৪৫৮৯. যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِيْنَ فِئَتَيْنِ -উহূদের যুদ্ধ থেকে একদল লোক দলত্যাগ করে ফিরে এসেছিল, এরপর তাদের ব্যাপারে লোকেরা দু’দল হয়ে গেল, একদল বলছে তাদেরকে হত্যা করে ফেল; অপরদল বলছে তাদেরকে হত্যা করো না, তখন অবতীর্ণ হলঃ فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِيْنَ فِئَتَيْنِ অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই মদিনা হল পবিত্র স্থান, আগুন যেভাবে রৌপ্যের কালিমা দূর করে এটাও অপবিত্রতা দূর করে দেয়। [১৮৮৪; মুসলিম ১৫/৮৮, হাঃ ১৩৮৪, আহমাদ ২১৬৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩১)
হাদিস নং: ৪৫৯০
সহিহ (Sahih)
ادم بن ابي اياس حدثنا شعبة حدثنا مغيرة بن النعمان قال سمعت سعيد بن جبير قال اية اختلف فيها اهل الكوفة فرحلت فيها الى ابن عباس فسالته عنها فقال نزلت هذه الاية (وان كنتم مرضى او على سفر او جآء احد منكم من الغآىط) هي اخر ما نزل وما نسخها شيء.
65/4/16. بَاب : (وَإِذَا جَآءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوْا بِهٰ) أَيْ أَفْشَوْهُ
৬৫/৪/১৬. অধ্যায়: আল্লাহর বাণীঃ আর যখন তাদের কাছে পৌঁছে কোন সংবাদ নিরাপত্তা কিংবা ভয় সংক্রান্ত, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। (সূরাহ আন-নিসা ৪/৮৩)
(يَسْتَنْبِطُوْنَهُ) : يَسْتَخْرِجُوْنَهُ. (حَسِيْبًا) كَافِيًا. (إِلَّا إِنَاثًا) : يَعْنِي الْمَوَاتَ حَجَرًا أَوْ مَدَرًا وَمَا أَشْبَهَهُ. (مَرِيْدًا) مُتَمَرِّدًا. (فَلَيُبَتِّكُنَّ) بَتَّكَهُ قَطَّعَهُ. (قِيْلًا) وَقَوْلًا وَاحِدٌ. (طَبَعَ) خَتَمَ.
يَسْتَنْبِطُوْنَهُ তারা সেটির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। حَسِيْبًا যথেষ্ট। إِلَّا إِنَاثًا বলা হয় প্রাণহীন ও অচেতন পদার্থকে যেমন- পাথর বা অনুরূপ পদার্থ। مَرِيْدًا বিদ্রোহী। فَلَيُبَتِّكُنَّ কান ছিদ্র করা। وَقَوْلًا ও قِيْلًا এর একই অর্থাৎ ’বলা’। طَبَعَ সীলমোহরকৃত।
৪৫৯০. সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, এই আয়াত সম্পর্কে কূফাবাসীগণ ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করল। (কেউ বলেন মানসূখ, কেউ বলেন মানসূখ নয়। এ ব্যাপারে আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, উত্তরে তিনি বললেন, وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضٰى أَوْ عَلٰى سَفَرٍ أَوْ جَآءَ أَحَدٌ مِّنْكُمْ مِّنَ الْغَآئِطِ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে এবং এটি শেষের দিকে অবতীর্ণ আয়াত; এটাকে কোন কিছু রহিত করেনি। [৩৮৫৫; মুসলিম ৫৪/হাঃ ৩০২৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩২)
৬৫/৪/১৬. অধ্যায়: আল্লাহর বাণীঃ আর যখন তাদের কাছে পৌঁছে কোন সংবাদ নিরাপত্তা কিংবা ভয় সংক্রান্ত, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। (সূরাহ আন-নিসা ৪/৮৩)
(يَسْتَنْبِطُوْنَهُ) : يَسْتَخْرِجُوْنَهُ. (حَسِيْبًا) كَافِيًا. (إِلَّا إِنَاثًا) : يَعْنِي الْمَوَاتَ حَجَرًا أَوْ مَدَرًا وَمَا أَشْبَهَهُ. (مَرِيْدًا) مُتَمَرِّدًا. (فَلَيُبَتِّكُنَّ) بَتَّكَهُ قَطَّعَهُ. (قِيْلًا) وَقَوْلًا وَاحِدٌ. (طَبَعَ) خَتَمَ.
يَسْتَنْبِطُوْنَهُ তারা সেটির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। حَسِيْبًا যথেষ্ট। إِلَّا إِنَاثًا বলা হয় প্রাণহীন ও অচেতন পদার্থকে যেমন- পাথর বা অনুরূপ পদার্থ। مَرِيْدًا বিদ্রোহী। فَلَيُبَتِّكُنَّ কান ছিদ্র করা। وَقَوْلًا ও قِيْلًا এর একই অর্থাৎ ’বলা’। طَبَعَ সীলমোহরকৃত।
৪৫৯০. সা’ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, এই আয়াত সম্পর্কে কূফাবাসীগণ ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করল। (কেউ বলেন মানসূখ, কেউ বলেন মানসূখ নয়। এ ব্যাপারে আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, উত্তরে তিনি বললেন, وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضٰى أَوْ عَلٰى سَفَرٍ أَوْ جَآءَ أَحَدٌ مِّنْكُمْ مِّنَ الْغَآئِطِ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে এবং এটি শেষের দিকে অবতীর্ণ আয়াত; এটাকে কোন কিছু রহিত করেনি। [৩৮৫৫; মুসলিম ৫৪/হাঃ ৩০২৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩২)
হাদিস নং: ৪৫৯১
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان عن عمرو عن عطاء عن ابن عباس رضي الله عنهما (ولا تقولوا لمن القى اليكم السلام لست مومنا) قال قال ابن عباس : كان رجل في غنيمة له فلحقه المسلمون فقال : السلام عليكم فقتلوه، واخذوا غنيمته فانزل الله في ذلك الى قوله : (عرض الحياة الدنيا) تلك الغنيمة. قال : قرا ابن عباس السلام.
السِّلْمُ وَالسَّلَمُ وَالسَّلَامُ وَاحِدٌ.
السِّلْمُ এবং السَّلَمُ একরূপ, শান্তি।
৪৫৯১. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ أَلْقٰى إِلَيْكُمْ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا আয়াতের ঘটনা হচ্ছে এই যে, এক ব্যক্তির কিছু ছাগল ছিল, মুসলিমদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলে সে তাঁদেরকে বলল ’’আস্সালামু আলাইকুম’’, মুসলিমরা তাকে হত্যা করল এবং তার ছাগলগুলো নিয়ে নিল, এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا -পার্থিব সম্পদের লালসায়-আর সে সম্পদ হচ্ছে এ ছাগল পাল।
’আত্বা (রহ.) বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) السَّلَامَ পড়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩৩)
السِّلْمُ এবং السَّلَمُ একরূপ, শান্তি।
৪৫৯১. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ أَلْقٰى إِلَيْكُمْ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا আয়াতের ঘটনা হচ্ছে এই যে, এক ব্যক্তির কিছু ছাগল ছিল, মুসলিমদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলে সে তাঁদেরকে বলল ’’আস্সালামু আলাইকুম’’, মুসলিমরা তাকে হত্যা করল এবং তার ছাগলগুলো নিয়ে নিল, এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا -পার্থিব সম্পদের লালসায়-আর সে সম্পদ হচ্ছে এ ছাগল পাল।
’আত্বা (রহ.) বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) السَّلَامَ পড়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩৩)
হাদিস নং: ৪৫৯২
সহিহ (Sahih)
اسماعيل بن عبد الله قال حدثني ابراهيم بن سعد عن صالح بن كيسان عن ابن شهاب قال حدثني سهل بن سعد الساعدي انه راى مروان بن الحكم في المسجد فاقبلت حتى جلست الى جنبه فاخبرنا ان زيد بن ثابت اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم املى عليه (لا يستوي القاعدون من المومنين) و (والمجاهدون في سبيل الله) فجاءه ابن ام مكتوم وهو يملها علي قال يا رسول الله والله لو استطيع الجهاد لجاهدت وكان اعمى فانزل الله على رسوله صلى الله عليه وسلم وفخذه على فخذي فثقلت علي حتى خفت ان ترض فخذي ثم سري عنه فانزل الله (غير اولي الضرر).
৪৫৯২. যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُجَاهِدُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ আয়াতটি লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলছিলেন এমন সময় ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহর শপথ, যদি আমার জিহাদ করার ক্ষমতা থাকত তা হলে অবশ্যই জিহাদ করতাম। তিনি অন্ধ ছিলেন। এরপর আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর ওয়াহী নাযিল করলেন, এমন অবস্থায় যে তাঁর উরু আমার উরুর উপর ছিল তা আমার কাছে এতই ভারী লাগছিল যে, আমি আমার উরু ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলাম। তারপর তাঁর থেকে এই অবস্থা কেটে গেল, আর আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেনঃ غَيْرَ أُولِي الضَّرَرِ-অক্ষম ব্যক্তিরা ব্যতীত- (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৫)। [২৮৩২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩৪)
হাদিস নং: ৪৫৯৩
সহিহ (Sahih)
حفص بن عمر حدثنا شعبة عن ابي اسحاق عن البراء رضي الله عنه قال لما نزلت لا يستوي القاعدون من المومنين دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم زيدا فكتبها فجاء ابن ام مكتوم فشكا ضرارته فانزل الله غير اولي الضرر.
৪৫৯৩. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, যখন لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ ..... আয়াতটি অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ (রাঃ)-কে ডাকলেন। তিনি তা লিখে নিলেন। ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) তাঁর অক্ষমতার ওযর পেশ করলেন, আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেনঃ غَيْرَ أُولِي الضَّرَرِ অক্ষম ব্যক্তিরা ব্যতীত- (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৫)। [২৮৩১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৩৫)