অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৬৭/১. বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। শ্রবণ করিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ (আন-নিসা ৪:৩)
মোট ১৮৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫১৩১
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابن سلام، اخبرنا ابو معاوية، حدثنا هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ في قوله (ويستفتونك في النساء قل الله يفتيكم فيهن) الى اخر الاية، قالت هي اليتيمة تكون في حجر الرجل، قد شركته في ماله، فيرغب عنها ان يتزوجها، ويكره ان يزوجها غيره، فيدخل عليه في ماله، فيحبسها، فنهاهم الله عن ذلك.
وَخَطَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ امْرَأَةً هُوَ أَوْلَى النَّاسِ بِهَا فَأَمَرَ رَجُلاً فَزَوَّجَهُ.
وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ لِأُمِّ حَكِيمٍ بِنْتِ قَارِظٍ أَتَجْعَلِينَ أَمْرَكِ إِلَيَّ قَالَتْ نَعَمْ فَقَالَ قَدْ زَوَّجْتُكِ. وَقَالَ عَطَاءٌ لِيُشْهِدْ أَنِّي قَدْ نَكَحْتُكِ أَوْ لِيَأْمُرْ رَجُلاً مِنْ عَشِيرَتِهَا.
وَقَالَ سَهْلٌ قَالَتْ امْرَأَةٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمأَهَبُ لَكَ نَفْسِي فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنْ لَمْ تَكُنْ لَكَ بِهَا حَاجَةٌ فَزَوِّجْنِيهَا.
মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) এমন এক মহিলার সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেন, যার নিকটতম অভিভাবক তিনিই ছিলেন। সুতরাং তিনি অন্য একজনকে তার সঙ্গে বিয়ে বন্ধনের আদেশ দিলে সে ব্যক্তি তার সঙ্গে বিয়ে করিয়ে দিলেন।
’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) উম্মু হাকীম বিনতে কারিয (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি তোমার বিয়ের ব্যাপারে আমাকে দায়িত্ব দেবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ’আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, আমি তোমাকে বিয়ে করলাম। ’আত্বা বলেন, অভিভাবক লোকদেরকে সাক্ষী রেখে বলবে, আমি তোমাকে বিয়ে করলাম, অথবা ঐ মহিলার নিকটতম আত্মীয়দের কাউকে তার কাছে তাকে বিয়ে দেয়ার জন্য বলবে।
সাহল (রাঃ) বলেন, একজন মহিলা এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলল, আমি নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম। এরপর একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই মহিলাকে যদি আপনার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিন।
৫১৩১. ’আয়িশাহ (রাঃ) আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ’’লোকেরা তোমার কাছে নারীদের সম্বন্ধে বিধান জানতে চাচ্ছে। বলে দাও, ’আল্লাহ তাদের সম্বন্ধে তোমাদেরকে বিধান জানিয়ে দিচ্ছেন.....’’- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১২৭)। এ আয়াত হচ্ছে ইয়াতীম বালিকাদের সম্পর্কে, যারা কোন অভিভাবকের অধীনে আছে এবং তারা ঐ অভিভাবকের ধন-সম্পদেও অংশীদার; অথচ সে নিজে ওকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক নয় এবং অন্য কেউ তাদেরকে বিয়ে করুক এবং ধন-সম্পদে ভাগ বসাক তাও সে পছন্দ করে না। তাই সে তার বিয়েতে বাধার সৃষ্টি করে। সুতরাং আল্লাহ্ তা’আলা এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৫)
وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ لِأُمِّ حَكِيمٍ بِنْتِ قَارِظٍ أَتَجْعَلِينَ أَمْرَكِ إِلَيَّ قَالَتْ نَعَمْ فَقَالَ قَدْ زَوَّجْتُكِ. وَقَالَ عَطَاءٌ لِيُشْهِدْ أَنِّي قَدْ نَكَحْتُكِ أَوْ لِيَأْمُرْ رَجُلاً مِنْ عَشِيرَتِهَا.
وَقَالَ سَهْلٌ قَالَتْ امْرَأَةٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمأَهَبُ لَكَ نَفْسِي فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنْ لَمْ تَكُنْ لَكَ بِهَا حَاجَةٌ فَزَوِّجْنِيهَا.
মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) এমন এক মহিলার সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেন, যার নিকটতম অভিভাবক তিনিই ছিলেন। সুতরাং তিনি অন্য একজনকে তার সঙ্গে বিয়ে বন্ধনের আদেশ দিলে সে ব্যক্তি তার সঙ্গে বিয়ে করিয়ে দিলেন।
’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) উম্মু হাকীম বিনতে কারিয (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি তোমার বিয়ের ব্যাপারে আমাকে দায়িত্ব দেবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ’আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, আমি তোমাকে বিয়ে করলাম। ’আত্বা বলেন, অভিভাবক লোকদেরকে সাক্ষী রেখে বলবে, আমি তোমাকে বিয়ে করলাম, অথবা ঐ মহিলার নিকটতম আত্মীয়দের কাউকে তার কাছে তাকে বিয়ে দেয়ার জন্য বলবে।
সাহল (রাঃ) বলেন, একজন মহিলা এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলল, আমি নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম। এরপর একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই মহিলাকে যদি আপনার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিন।
৫১৩১. ’আয়িশাহ (রাঃ) আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ’’লোকেরা তোমার কাছে নারীদের সম্বন্ধে বিধান জানতে চাচ্ছে। বলে দাও, ’আল্লাহ তাদের সম্বন্ধে তোমাদেরকে বিধান জানিয়ে দিচ্ছেন.....’’- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১২৭)। এ আয়াত হচ্ছে ইয়াতীম বালিকাদের সম্পর্কে, যারা কোন অভিভাবকের অধীনে আছে এবং তারা ঐ অভিভাবকের ধন-সম্পদেও অংশীদার; অথচ সে নিজে ওকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক নয় এবং অন্য কেউ তাদেরকে বিয়ে করুক এবং ধন-সম্পদে ভাগ বসাক তাও সে পছন্দ করে না। তাই সে তার বিয়েতে বাধার সৃষ্টি করে। সুতরাং আল্লাহ্ তা’আলা এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৫)
হাদিস নং: ৫১৩২
সহিহ (Sahih)
احمد بن المقدام حدثنا فضيل بن سليمان حدثنا ابو حازم حدثنا سهل بن سعد كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم جلوسا فجاءته“ امراة تعرض نفسها عليه فخفض فيها النظر ورفعه“ فلم يردها فقال رجل من اصحابه„ زوجنيها يا رسول الله قال اعندك من شيء قال ما عندي من شيء قال ولا خاتم من حديد قال ولا خاتم من حديد ولكن اشق بردتي هذه„ فاعطيها النصف واخذ النصف قال لا هل معك من القران شيء قال نعم قال اذهب فقد زوجتكها بما معك من القران.
৫১৩২. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) বর্ণনা করেন, একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে বসা ছিলাম। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একজন মহিলা এসে নিজেকে পেশ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আপাদমস্তক ভাল করে দেখলেন; কিন্তু তার কথার কোন উত্তর দিলেন না। একজন সাহাবী আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? লোকটি উত্তর করল, না, আমার কাছে কিছু নেই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একটি লোহার আংটিও নেই? লোকটি উত্তর করল, না, একটি লোহার আংটিও নেই। কিন্তু আমি আমার পরিধানের তহবন্দের অর্ধেক তাকে দেব আর অর্ধেক নিজে পরব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। তোমার কুরআন মাজীদের কিছু জানা আছে? সে বলল, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে পরিমাণ কুরআন জান, তার পরিবর্তে তাকে তোমার সঙ্গে বিয়ে দিলাম। [২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৬)
হাদিস নং: ৫১৩৩
সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن هشام، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ان النبي صلى الله عليه وسلم تزوجها وهى بنت ست سنين، وادخلت عليه وهى بنت تسع، ومكثت عنده تسعا.
لِقَوْلِهِ تَعَالَى: وَاللاَّئِي لَمْ يَحِضْنَ) فَجَعَلَ عِدَّتَهَا ثَلاَثَةَ أَشْهُرٍ قَبْلَ الْبُلُوغِ
আল্লাহ্ তা’আলার কালাম ’’এবং যারা ঋতুমতী হয়নি’’-(সূরাহ আত-ত্বলাক (তালাক)ঃ ৪) এই আয়াতকে দলীল হিসাবে ধরে নাবালেগার ইদ্দাত তিন মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫১৩৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৬ বছর এবং নয় বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে বাসর ঘর করেন এবং তিনি তাঁর সান্নিধ্যে নয় বছরকাল ছিলেন। [৩৮৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৭)
আল্লাহ্ তা’আলার কালাম ’’এবং যারা ঋতুমতী হয়নি’’-(সূরাহ আত-ত্বলাক (তালাক)ঃ ৪) এই আয়াতকে দলীল হিসাবে ধরে নাবালেগার ইদ্দাত তিন মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫১৩৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৬ বছর এবং নয় বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে বাসর ঘর করেন এবং তিনি তাঁর সান্নিধ্যে নয় বছরকাল ছিলেন। [৩৮৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৭)
হাদিস নং: ৫১৩৪
সহিহ (Sahih)
معلى بن اسد حدثنا وهيب عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة ان النبي صلى الله عليه وسلم تزوجها وهي بنت ست سنين وبنى بها وهي بنت تسع سنين قال هشام وانبىت انها كانت عنده“ تسع سنين
وَقَالَ عُمَرُ خَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَيَّ حَفْصَةَ فَأَنْكَحْتُهُ.
’উমার (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কন্যা-হাফসাহর সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমি তাকে তাঁর সঙ্গে বিয়ে দেই।
৫১৩৪. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন তাঁর ছয় বছর বয়স তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিয়ে করেন। তিনি তাঁর সঙ্গে বাসর করেন নয় বছর বয়সে। হিশাম (রহ.) বলেন, আমি জেনেছি যে, ’আয়িশাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নয় বছর ছিলেন। [৩৮৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৮)
’উমার (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কন্যা-হাফসাহর সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমি তাকে তাঁর সঙ্গে বিয়ে দেই।
৫১৩৪. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন তাঁর ছয় বছর বয়স তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিয়ে করেন। তিনি তাঁর সঙ্গে বাসর করেন নয় বছর বয়সে। হিশাম (রহ.) বলেন, আমি জেনেছি যে, ’আয়িশাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নয় বছর ছিলেন। [৩৮৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৮)
হাদিস নং: ৫১৩৫
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن ابي حازم عن سهل بن سعد قال جاءت امراة الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت اني وهبت من نفسي فقامت طويلا فقال رجل زوجنيها ان لم تكن لك بها حاجة قال هل عندك من شيء تصدقها قال ما عندي الا ازاري فقال ان اعطيتها اياه“ جلست لا ازار لك فالتمس شيىا فقال ما اجد شيىا فقال التمس ولو خاتما من حديد فلم يجد فقال امعك من القران شيء قال نعم سورة كذا وسورة كذا لسور سماها فقال قد زوجناكها بما معك من القران.
৫১৩৫. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কোন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমি আমার নিজেকে আপনার কাছে দান করলাম। এরপর সে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকল। তখন একজন লোক বলল, আপনার দরকার না থাকলে, আমার সঙ্গে এর বিয়ে দিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে মাহর দেয়ার মতো কি কিছু আছে? লোকটি বলল, আমার এ তহবন্দ ছাড়া আর কিছুই নেই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তুমি তহবন্দখানা তাকে দিয়ে দাও, তাহলে তোমার কিছু থাকবে না। কাজেই তুমি অন্য কিছু খুঁজে আন। লোকটি বলল, আমি কোন কিছুই পেলাম না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, খুঁজে দেখ, যদি একটি লোহার আংটিও পাও। সে কিছুই পেল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, কুরআনের কিছু অংশ তোমার জানা আছে কি? লোকটি বলল, হ্যাঁ! অমুক অমুক সূরা আমার জানা আছে এবং সে সূরাগুলোর নাম বলল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুরআনের যা তোমার জানা আছে, তার বিনিময়ে আমি তাকে তোমার নিকট বিয়ে দিলাম। [২৩১০; মুসলিম ১৬/১২, হাঃ ১৪২৫, আহমাদ ২২৯১৩](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৯)
হাদিস নং: ৫১৩৬
সহিহ (Sahih)
معاذ بن فضالة حدثنا هشام عن يحيى عن ابي سلمة ان ابا هريرة حدثهم ان النبي صلى الله عليه وسلم قال لا تنكح الايم حتى تستامر ولا تنكح البكر حتى تستاذن قالوا يا رسول الله وكيف اذنها قال ان تسكت.
৫১৩৬. আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন বিধবা নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী মহিলাকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তার অনুমতি নেয়া হবে। তিনি বললেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার অনুমতি। [1] [৬৯৭০; মুসলিম ১৬/৮, হাঃ ১৪১৯, আহমাদ ৯৬১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬০)
নোট: [1] এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বলেছেন- অলী বিবাহিত ও অবিবাহিত মেয়েকে কোন নির্দিষ্ট ছেলেকে বিয়ে করতে বাধ্য করতে পারে না। অতএব পূর্বে বিবাহিত মেয়েদের কাছ থেকে বিয়ের জন্য রীতিমত আদেশ পেতে হবে এবং অবিবাহিত বালেগ মেয়ের কাছ থেকে যথারীতি অনুমতি নিতে হবে। এ সম্পর্কে ইমাম মুসলিম হাদীস বর্ণনা করেছেন- পূর্বে বিবাহিত মেয়েরা তাদের নিজেদের বিয়েতে মত জানানোর ব্যাপারে তাদের অলী অপেক্ষাও বেশি অধিকার রাখে। আর পূর্বে অবিবাহিত মেয়েদের নিকট তাদের পিতা বিয়ের মত জানতে চাইলে তাদের চুপ থাকাই তাদের অনুমতিজ্ঞাপক।
কিন্তু বড়ই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার বর্তমান অধঃপতিত মুসলিম সমাজে মেয়েদের এ অধিকার বাস্তব ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। এর অপর একটি দিক বর্তমানে খুবই প্রাবল্য লাভ করেছে। আধুনিক ছেলেমেয়েরা তাদের বিয়ের ব্যাপারে তাদের বাপ-মা- গার্জিয়ানদের কোন তোয়াক্কাই রাখে না। তাদের কোন পরোয়াই করা হয় না। ‘বিয়ে নিজের পছন্দেই ঠিক’ এ কথার সত্যতা অস্বীকার করা হচ্ছে না, তেমনি এ কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই, আধুনিক যুবক যুবতীরা যৌবনের উদ্দামতায় অবাধ মেলামেশার গড্ডালিকা প্রবাহে পড়ে দিশেহারা হয়ে যেতে পারে এবং ভাল-মন্দ, শোভন অশোভন বিচারশূন্য হয়ে যেখানে সেখানে আত্মদান করে বসতে পারে। তাই উদ্যম-উৎসাহের সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ বিচার বিবেচনারও বিশেষ প্রয়োজন। কেননা বিয়ে কেবলমাত্র যৌন পরিতৃপ্তির মাধ্যম নয়; ঘর, পরিবার, সন্তান, সমাজ, জাতি ও দেশ সর্বোপরি নৈতিকতার প্রশ্নও তার সাথে গভীরভাবে জড়িত। তাই বিয়ের ব্যাপারে ছেলেমেয়ের পিতা বা অলীর মতামতের গুরুত্ব আছে। কেননা সাধারণতঃ অলী-পিতা-মাতা নিজেদের ছেলেমেয়ের কখনো অকল্যাণকামী হতে পারে না। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পিতামাতার মতের গুরুত্ব কিছুতেই অস্বীকার করা চলে না।
ছেলের বিয়েতে অলী তথা অভিভাবকের বাধ্য বাধকতা নেই কিন্তু মেয়ের জন্য বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মেয়ের বৈধ অলী থাকাবস্থায় তাকে না জানিয়ে নকল অলী বানিয়ে কোর্ট ম্যরেজের মাধ্যমে যত বিবাহ হয়ে থাকে তা সবই বাতিল। তাদের দাম্পত্য জীবন হবে ব্যভিচারী জীবনের মত। তাদের অর্জিত সন্তান সন্ততি জারজ হিসেবে পরিগণিত হবে। এ অভিশপ্ত জীবন থেকে পরিত্রাণের জন্য তাদেরকে বৈধ অলীর মাধ্যমে পুনর্বিবাহ পড়াতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় অলী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্ব না দিয়ে এবং তার নির্দেশ ও সম্মতি ব্যতিরেকে অন্য কোন লোককে অলী হিসেবে দাঁড় করিয়ে বিবাহ কার্য সম্পন্ন করা হয়, এটা না-জায়িয। বরং মূল অলী নিজেই অথবা তার অবর্তমানে যাকে দায়িত্ব দিবে সে অলী হিসেবে বিবাহ কার্য সম্পাদন করবে।
উল্লেখ্য অলী কর্তৃক মেয়ের পক্ষ থেকে পূর্ব অনুমতি বা সমর্থন নিতে হবে ঠিক আছে। কিন্তু বৈধ অলীর [অভিভাবকের] সমর্থন ও অনুমতি ব্যতীত কোন মেয়ের বিয়েই বৈধ হবে না। কারণ আয়েশা হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেনঃ রসূল বলেছেনঃ
(أَيُّمَا امْرَأَةٍ لَمْ يُنْكِحْهَا الْوَلِيُّ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ...).
‘‘যে মেয়েকে তার অভিভাবক বিয়ে না দিবে [সে নিজে বিয়ে করলে] তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল...।’’ [হাদীসটি ইবনু মাজাহ্ বর্ণনা করেছেন, হাদীসটি সহীহ্, দেখুন ‘‘সহীহ্ ইবনু মাজাহ্’’ (১৮৭৯)।
অন্য বর্ণনায় আয়েশা হতে বর্ণিত হয়েছে রসূল বলেছেনঃ
(أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ...).
‘‘যে মেয়েই তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করবে তার বিয়ে বাতিল। এ কথাটি তিনবার উল্লেখ করেন।’’ [এ ভাষায় হাদীসটি ইমাম আবূ দাঊদ (২০৮৩), তিরমিযী (১১০২) বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সহীহ্, দেখুন ‘‘সহীহ্ আবী দাঊদ’’, ‘‘সহীহ্ তিরমিযী’’, ‘‘সহীহ্ জামে‘ইস সাগীর’’ (২৭০৯) ও ‘‘মিশকাত’’ (৩১৩১)]।
কিন্তু বড়ই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার বর্তমান অধঃপতিত মুসলিম সমাজে মেয়েদের এ অধিকার বাস্তব ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। এর অপর একটি দিক বর্তমানে খুবই প্রাবল্য লাভ করেছে। আধুনিক ছেলেমেয়েরা তাদের বিয়ের ব্যাপারে তাদের বাপ-মা- গার্জিয়ানদের কোন তোয়াক্কাই রাখে না। তাদের কোন পরোয়াই করা হয় না। ‘বিয়ে নিজের পছন্দেই ঠিক’ এ কথার সত্যতা অস্বীকার করা হচ্ছে না, তেমনি এ কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই, আধুনিক যুবক যুবতীরা যৌবনের উদ্দামতায় অবাধ মেলামেশার গড্ডালিকা প্রবাহে পড়ে দিশেহারা হয়ে যেতে পারে এবং ভাল-মন্দ, শোভন অশোভন বিচারশূন্য হয়ে যেখানে সেখানে আত্মদান করে বসতে পারে। তাই উদ্যম-উৎসাহের সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ বিচার বিবেচনারও বিশেষ প্রয়োজন। কেননা বিয়ে কেবলমাত্র যৌন পরিতৃপ্তির মাধ্যম নয়; ঘর, পরিবার, সন্তান, সমাজ, জাতি ও দেশ সর্বোপরি নৈতিকতার প্রশ্নও তার সাথে গভীরভাবে জড়িত। তাই বিয়ের ব্যাপারে ছেলেমেয়ের পিতা বা অলীর মতামতের গুরুত্ব আছে। কেননা সাধারণতঃ অলী-পিতা-মাতা নিজেদের ছেলেমেয়ের কখনো অকল্যাণকামী হতে পারে না। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পিতামাতার মতের গুরুত্ব কিছুতেই অস্বীকার করা চলে না।
ছেলের বিয়েতে অলী তথা অভিভাবকের বাধ্য বাধকতা নেই কিন্তু মেয়ের জন্য বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মেয়ের বৈধ অলী থাকাবস্থায় তাকে না জানিয়ে নকল অলী বানিয়ে কোর্ট ম্যরেজের মাধ্যমে যত বিবাহ হয়ে থাকে তা সবই বাতিল। তাদের দাম্পত্য জীবন হবে ব্যভিচারী জীবনের মত। তাদের অর্জিত সন্তান সন্ততি জারজ হিসেবে পরিগণিত হবে। এ অভিশপ্ত জীবন থেকে পরিত্রাণের জন্য তাদেরকে বৈধ অলীর মাধ্যমে পুনর্বিবাহ পড়াতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় অলী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্ব না দিয়ে এবং তার নির্দেশ ও সম্মতি ব্যতিরেকে অন্য কোন লোককে অলী হিসেবে দাঁড় করিয়ে বিবাহ কার্য সম্পন্ন করা হয়, এটা না-জায়িয। বরং মূল অলী নিজেই অথবা তার অবর্তমানে যাকে দায়িত্ব দিবে সে অলী হিসেবে বিবাহ কার্য সম্পাদন করবে।
উল্লেখ্য অলী কর্তৃক মেয়ের পক্ষ থেকে পূর্ব অনুমতি বা সমর্থন নিতে হবে ঠিক আছে। কিন্তু বৈধ অলীর [অভিভাবকের] সমর্থন ও অনুমতি ব্যতীত কোন মেয়ের বিয়েই বৈধ হবে না। কারণ আয়েশা হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেনঃ রসূল বলেছেনঃ
(أَيُّمَا امْرَأَةٍ لَمْ يُنْكِحْهَا الْوَلِيُّ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ...).
‘‘যে মেয়েকে তার অভিভাবক বিয়ে না দিবে [সে নিজে বিয়ে করলে] তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল...।’’ [হাদীসটি ইবনু মাজাহ্ বর্ণনা করেছেন, হাদীসটি সহীহ্, দেখুন ‘‘সহীহ্ ইবনু মাজাহ্’’ (১৮৭৯)।
অন্য বর্ণনায় আয়েশা হতে বর্ণিত হয়েছে রসূল বলেছেনঃ
(أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ...).
‘‘যে মেয়েই তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করবে তার বিয়ে বাতিল। এ কথাটি তিনবার উল্লেখ করেন।’’ [এ ভাষায় হাদীসটি ইমাম আবূ দাঊদ (২০৮৩), তিরমিযী (১১০২) বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সহীহ্, দেখুন ‘‘সহীহ্ আবী দাঊদ’’, ‘‘সহীহ্ তিরমিযী’’, ‘‘সহীহ্ জামে‘ইস সাগীর’’ (২৭০৯) ও ‘‘মিশকাত’’ (৩১৩১)]।
হাদিস নং: ৫১৩৭
সহিহ (Sahih)
عمرو بن الربيع بن طارق قال اخبرنا الليث عن ابن ابي مليكة عن ابي عمرو مولى. عاىشة عن عاىشة انها قالت يا رسول الله ان البكر تستحي قال رضاها صمتها
৫১৩৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই কুমারী মেয়েরা লজ্জা করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার সম্মতি। [৬৯৪৬, ৬৯৭১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬১)
হাদিস নং: ৫১৩৮
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن عبد الرحمن بن القاسم عن ابيه عن عبد الرحمن ومجمع ابني يزيد بن جارية عن خنساء بنت خذام الانصارية ان اباها زوجها وهي ثيب فكرهت ذ‘لك فاتت رسول الله صلى الله عليه وسلم فرد نكاحه.
৫১৩৮. খানসা বিনতে খিযাম আল আনসারিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, যখন তিনি অকুমারী ছিলেন তখন তার পিতা তাকে বিয়ে দেন। এ বিয়ে তিনি অপছন্দ করলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিয়ে বাতিল করে দিলেন। [৫১৩৯, ৬৯৪৫, ৬৯৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬২)
হাদিস নং: ৫১৩৯
সহিহ (Sahih)
اسحاق اخبرنا يزيد اخبرنا يحيى ان القاسم بن محمد حدثه“ ان عبد الرحمن بن يزيد ومجمع بن يزيد حدثاه“ ان رجلا يدعى خذاما انكح ابنة له“ نحوه.
৫১৩৯. ’আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ এবং মুজাম্মি’ ইবনু ইয়াযীদ উভয়েই বর্ণনা করেন যে, ’খিযামা’ নামীয় এক লোক তার মেয়েকে তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেন। পরবর্তী অংশ পূর্বোক্ত হাদীসের ন্যায়। [৫১৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৩)
হাদিস নং: ৫১৪০
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري،. وقال الليث حدثني عقيل، عن ابن شهاب، اخبرني عروة بن الزبير، انه سال عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قال لها يا امتاه (وان خفتم ان لا تقسطوا في اليتامى) الى (ما ملكت ايمانكم) قالت عاىشة يا ابن اختي هذه اليتيمة تكون في حجر وليها، فيرغب في جمالها ومالها، ويريد ان ينتقص من صداقها، فنهوا عن نكاحهن. الا ان يقسطوا لهن في اكمال الصداق وامروا بنكاح من سواهن من النساء، قالت عاىشة استفتى الناس رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك فانزل الله (ويستفتونك في النساء) الى (وترغبون) فانزل الله عز وجل لهم في هذه الاية ان اليتيمة اذا كانت ذات مال وجمال، رغبوا في نكاحها ونسبها والصداق، واذا كانت مرغوبا عنها في قلة المال والجمال، تركوها واخذوا غيرها من النساء ـ قالت ـ فكما يتركونها حين يرغبون عنها، فليس لهم ان ينكحوها اذا رغبوا فيها، الا ان يقسطوا لها ويعطوها حقها الاوفى من الصداق.
لِقَوْلِهِ: (وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا)، إِذَا قَالَ لِلْوَلِيِّ زَوِّجْنِي فُلاَنَةَ. فَمَكِثَ سَاعَةً أَوْ قَالَ مَا مَعَكَ فَقَالَ مَعِي كَذَا وَكَذَا. أَوْ لَبِثَا ثُمَّ قَالَ زَوَّجْتُكَهَا. فَهْوَ جَائِزٌ. فِيهِ سَهْلٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ’’যদি তোমরাভয় কর যে ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি পূর্ণ ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমরা পছন্দ মতো অন্য কাউকে বিয়ে কর’’- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৩)। কেউ কোন অভিভাবককে যদি বলে, অমুক মহিলাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন এবং সে যদি চুপ থাকে অথবা তাকে বলে তোমার কাছে কী আছে? সে উত্তরে বলে, আমার কাছে এই এই আছে অথবা নীরব থাকে। এরপর অভিভাবক বলেন, আমি তাকে তোমার কাছে বিয়ে দিলাম, তাহলে তা বৈধ। এ ব্যাপারে সাহল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৫১৪০. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, হে খালা! ’’যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি ন্যায় বিচার করতে পারবে না তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যার মালিক.....।’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/৩) এ আয়াত কোন্ প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হে আমার ভাগ্নে! এ আয়াত ঐ ইয়াতীম বালিকাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা তার অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সেই অভিভাবক তার রূপ ও সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে তাকে বিয়ে করতে চায়; কিন্তু তার মাহর কম দিতে চায়। এ আয়াতের মাধ্যমে উক্ত বালিকাদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের ব্যতীত অন্য নারীদের বিয়ে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবশ্য যদি সে এদের পূর্ণ মাহর আদায় করে দেয় তবে সে বিয়ে করতে পারবে।
’আয়িশাহ (রাঃ) আরো বলেন, পরবর্তী সময় লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ’’তারা তোমার কাছে মহিলাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে.....এবং তোমরা যাদের বিয়ে করতে চাও’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/১২৭) আল্লাহ্ তা’আলা এদের জন্য এ আয়াত অবতীর্ণ করেন; যদি কোন ইয়াতীম বালিকার সৌন্দর্য এবং সম্পদ থাকে, তাহলে এরা তাদেরকে বিয়ে করতে চায় এবং এদের স্বীয় আভিজাত্যের ব্যাপারেও এ ইচ্ছে পোষণ করে এবং মাহর কম দিতে চায়। কিন্তু সে যদি তাদের পছন্দমতো পাত্রী না হয়, তার সম্পদ ও রূপ কম হবার কারণে এদেরকে ত্যাগ করে অন্য মেয়ে বিয়ে করে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যেমনিভাবে এদের প্রতি অনীহার সময় এদের পরিত্যাগ করতে চায় তেমনি যে সময় আকর্ষণ থাকবে, সে সময়েও যেন তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করে পূর্ণ মাহর আদায় করে। [২৪৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৪)
আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ ’’যদি তোমরাভয় কর যে ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি পূর্ণ ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমরা পছন্দ মতো অন্য কাউকে বিয়ে কর’’- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৩)। কেউ কোন অভিভাবককে যদি বলে, অমুক মহিলাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন এবং সে যদি চুপ থাকে অথবা তাকে বলে তোমার কাছে কী আছে? সে উত্তরে বলে, আমার কাছে এই এই আছে অথবা নীরব থাকে। এরপর অভিভাবক বলেন, আমি তাকে তোমার কাছে বিয়ে দিলাম, তাহলে তা বৈধ। এ ব্যাপারে সাহল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৫১৪০. ’উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি ’আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, হে খালা! ’’যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি ন্যায় বিচার করতে পারবে না তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যার মালিক.....।’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/৩) এ আয়াত কোন্ প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে? ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হে আমার ভাগ্নে! এ আয়াত ঐ ইয়াতীম বালিকাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা তার অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সেই অভিভাবক তার রূপ ও সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে তাকে বিয়ে করতে চায়; কিন্তু তার মাহর কম দিতে চায়। এ আয়াতের মাধ্যমে উক্ত বালিকাদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের ব্যতীত অন্য নারীদের বিয়ে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবশ্য যদি সে এদের পূর্ণ মাহর আদায় করে দেয় তবে সে বিয়ে করতে পারবে।
’আয়িশাহ (রাঃ) আরো বলেন, পরবর্তী সময় লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ’’তারা তোমার কাছে মহিলাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে.....এবং তোমরা যাদের বিয়ে করতে চাও’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/১২৭) আল্লাহ্ তা’আলা এদের জন্য এ আয়াত অবতীর্ণ করেন; যদি কোন ইয়াতীম বালিকার সৌন্দর্য এবং সম্পদ থাকে, তাহলে এরা তাদেরকে বিয়ে করতে চায় এবং এদের স্বীয় আভিজাত্যের ব্যাপারেও এ ইচ্ছে পোষণ করে এবং মাহর কম দিতে চায়। কিন্তু সে যদি তাদের পছন্দমতো পাত্রী না হয়, তার সম্পদ ও রূপ কম হবার কারণে এদেরকে ত্যাগ করে অন্য মেয়ে বিয়ে করে। ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যেমনিভাবে এদের প্রতি অনীহার সময় এদের পরিত্যাগ করতে চায় তেমনি যে সময় আকর্ষণ থাকবে, সে সময়েও যেন তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করে পূর্ণ মাহর আদায় করে। [২৪৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৪)
হাদিস নং: ৫১৪১
সহিহ (Sahih)
ابو النعمان حدثنا حماد بن زيد عن ابي حازم عن سهل بن سعد ان امراة اتت النبي صلى الله عليه وسلم فعرضت عليه نفسها فقال ما لي اليوم في النساء من حاجة فقال رجل يا رسول الله زوجنيها قال ما عندك قال ما عندي شيء قال اعطها ولو خاتما من حديد قال ما عندي شيء قال فما عندك من القران قال كذا وكذا قال فقد ملكتكها بما معك من القران.
৫১৪১. সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলো এবং বিয়ের জন্য নিজেকে তাঁর কাছে পেশ করল। তিনি বললেন, এখন আমার কোন মহিলার প্রয়োজন নেই। এরপর উপস্থিত একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী আছে? লোকটি বলল, আমার কিছু নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে একটি লোহার আংটি হলেও দাও। লোকটি বলল, আমার কাছে কিছুই নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কী পরিমাণ কুরআন আছে? লোকটি বলল, এই এই পরিমাণ। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কুরআনের যা জান, তার বিনিময়ে এই মহিলাকে তোমার মালিকানায় দিয়ে দিলাম। [২৩১০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৫)
হাদিস নং: ৫১৪২
সহিহ (Sahih)
مكي بن ابراهيم حدثنا ابن جريج قال سمعت نافعا يحدث ان ابن عمر كان يقول نهى النبي صلى الله عليه وسلم ان يبيع بعضكم على بيع بعض ولا يخطب الرجل على خطبة اخيه حتى يترك الخاطب قبله“ او ياذن له الخاطب
৫১৪২. ইব্নু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএক ভাই দরদাম করলে অন্যকে তার দরদাম করতে নিষেধ করেছেন এবং এক মুসলিম ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের ওপরে অন্য ভাইকে প্রস্তাব দিতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না প্রথম প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব উঠিয়ে নেবে বা তাকে অনুমতি দেবে। [২১৩৯](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৬)
হাদিস নং: ৫১৪৩
সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن جعفر بن ربيعة عن الاعرج قال قال ابو هريرة ياثر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال اياكم والظن فان الظن اكذب الحديث ولا تجسسوا ولا تحسسوا ولا تباغضوا وكونوا عباد الله اخوانا
৫১৪৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তোমরা কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করো না। কেননা, খারাপ ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। একে অপরের দোষ-ত্রুটি খুঁজিও না, একে অন্যের ব্যাপারে মন্দ কথায় কান দিও না এবং একে অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করো না; বরং ভাই ভাই হয়ে যাও। [৬০৬৪, ৬০৬৬, ৬৭২৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৭)
হাদিস নং: ৫১৪৪
সহিহ (Sahih)
ولا يخطب الرجل على خطبة اخيه حتى ينكح او يترك
৫১৪৪. এক ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব করো না; যতক্ষণ না সে তাকে বিয়ে করে অথবা বাদ দেয়। [২১৪০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৭)
হাদিস নং: ৫১৪৫
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني سالم بن عبد الله انه“ سمع عبد الله بن عمر يحدث ان عمر بن الخطاب حين تايمت حفصة قال عمر لقيت ابا بكر فقلت ان شىت انكحتك حفصة بنت عمر فلبثت ليالي ثم خطبها رسول الله صلى الله عليه وسلم فلقيني ابو بكر فقال انه“ لم يمنعني ان ارجع اليك فيما عرضت الا اني قد علمت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد ذكرها فلم اكن لافشي سر رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو تركها لقبلتها تابعه“ يونس وموسى بن عقبة وابن ابي عتيق عن الزهري.
৫১৪৫. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, ’উমার (রাঃ) বলেন, হাফসাহ (রাঃ) বিধবা হলে আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে বললাম, আপনি যদি চান তবে হাফসাহ বিন্ত ’উমারকে আপনার কাছে বিয়ে দিতে পারি। আমি কয়েকদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিয়ের জন্য পয়গাম পাঠালেন। পরে আবূ বকর (রাঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, আপনার প্রস্তাবের উত্তর দিতে কোন কিছুই আমাকে বাধা দেয়নি এ ছাড়া যে, আমি জেনেছিলাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং আমি কখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন তথ্য প্রকাশ করতে পারি না। তিনি যদি তাকে বাদ দিতেন, তাহলে আমি তাকে গ্রহণ করতাম। ইউনুস, মূসা ইব্নু ’উকবাহ এবং ইবনু আতীক যুহরীর সূত্রে উক্ত হাদীসের সমর্থন করেছেন। [৪০০৫](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৮)
হাদিস নং: ৫১৪৬
সহিহ (Sahih)
قبيصة حدثنا سفيان عن زيد بن اسلم قال سمعت ابن عمر يقول جاء رجلان من المشرق فخطبا فقال النبي صلى الله عليه وسلم ان من البيان لسحرا.
৫১৪৬. ইব্নু ’উমার (রাঃ) বর্ণনা করেন, পূর্বাঞ্চল থেকে দু’ব্যক্তি এসে বক্তৃতা দিল। তখন নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন কোন বক্তৃতায় যাদু আছে। [৫৭৬৭](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৯)
হাদিস নং: ৫১৪৭
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا بشر بن المفضل حدثنا خالد بن ذكوان قال قالت الربيع بنت معوذ بن عفراء جاء النبي صلى الله عليه وسلم فدخل حين بني علي فجلس على فراشي كمجلسك مني فجعلت جويريات لنا يضربن بالدف ويندبن من قتل من اباىي يوم بدر اذ قالت احداهن وفينا نبي يعلم ما في غد فقال دعي هذه„ وقولي بالذي كنت تقولين.
৫১৪৭. রুবাই বিনত মুআব্বিয ইবনু আফরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বাসর রাতের পরের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং আমার বিছানার ওপর বসলেন, যেমন বর্তমানে তুমি আমার কাছে বসে আছ। সে সময় আমাদের ছোট মেয়েরা দফ বাজাচ্ছিল এবং বদরের যুদ্ধে শাহাদাত প্রাপ্ত আমার বাপ-চাচাদের শোকগাঁথা গাচ্ছিল।[1] তাদের একজন বলে বসল, আমাদের মধ্যে এক নবী আছেন, যিনি আগামী দিনের কথা জানেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ কথা বাদ দাও, আগে যা বলছিলে, তাই বল। [৪০০১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭০)
নোট: [1] কোন নারী-পুরুষ ব্যভিচার করলে, অবৈধ মেলামেশায় লিপ্ত হলে তারা তা করে অতি গোপনে কেউ যেন জানতে না পারে। কিন্তু বিয়ের ব্যাপারটি হল এর বিপরীত। এখানে দু’টি নর-নারীর মধ্যে যে বৈধ মিলন ঘটতে যাচ্ছে তা আশেপাশের লোকজনকে জানিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সবাই জানবে ওমুক ছেলের সঙ্গে ওমুক মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। দফ বা একমুখী ঢোল বাজানো যেমন আওয়াজ করে ঘোষণা দেয়ার মাধ্যম, তদুপরি বিয়ের উৎসবে আনন্দের উৎস বটে। দফ বাজিয়ে ছোট ছোট বালকরা এমন গান গাইবে যা যৌনাচার বা অশ্লীলতার দিকে মানুষকে উত্তেজিত করে না। ইসলামের প্রতি প্রেরণাদায়ক এবং যুদ্ধাভিযানের বীরত্বব্যঞ্জক গৌরব গাঁথা ও গান দফ বাজিয়ে পরিবেশন করা বিয়ের মজলিসের একটি পছন্দনীয় কাজ। এতে একাধারে সকলে বিয়ের কথা জানতে পারবে, ইসলামী জীবন বিধানে উদ্বুদ্ধ হবে এবং বড় বাদ্যযন্ত্রের ভয়াবহ আওয়াজ থেকেও রক্ষা পাবে।
উল্লেখ্য হাদীসের মধ্যে রসূল নির্দেশ প্রদান করেছেনঃ (أَعْلِنُوا النِّكَاحَ) ‘‘তোমার বিয়ের বিষয়টি প্রচার কর।’’ হাদীসটিকে শাইখ আলবানী ‘‘সহীহ্ জামে‘ইস সাগীর’’ গ্রন্থে (১০৭২) হাসান আখ্যা দিয়েছেন]। বিয়ে উপলক্ষে দফ বাজানো জায়েয মর্মে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, দেখুন ‘‘মিশকাত’’ তাহকীক আলবানী (৩১৪০)। তবে বিয়ের আক্দ মসজিদে হতে হবে এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি দুর্বল, দেখুন ‘‘য‘ঈফ জামে‘ইস সাগীর’’ (৯৬৬, ৯৬৭), ‘‘য‘ঈফ তিরমিযী’’ (১০৮৯) ও ‘‘ইরওয়াউল গালীল’’ (১৯৯৩)।
ওয়ালীমার যিয়াফাতঃ বিয়ে অনুষ্ঠান প্রচারের দ্বিতীয় উপায় হচ্ছে ওয়ালীমার যিয়াফাত করা। ওয়ালিমাহ করার নির্দেশ ও নিয়ম স্বামীর জন্য। বিবাহোত্তর এটি করতে হয়। কিন্তু আমাদের সমাজে মেয়ে পক্ষকে খাবার দাবারের জন্য বিরাট অংকের টাকা খরচ করানোর নিয়ম নীতির প্রচলন রয়েছে যা সুন্নাতী বিবাহের পরিপন্থী। তবে মেয়ে পক্ষ যদি স্বেচ্ছায় ওয়ালিমার ব্যবস্থা করে তবে তা জায়িয।
নিজেদের ছেলে বা মেয়ের বিয়েতে আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের একত্রিত করা একান্তই বাঞ্ছনীয়। ইমাম তাবারানী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে রসূলﷺ এর নিম্নোক্ত ঘোষণা বর্ণনা করেছেন- ওয়ালীমা করা হচ্ছে একটি অধিকার, একান্তই কর্তব্য। ইসলামের স্থায়ী নীতি। অতএব যাকে এ যিয়াফাতে শরীক হওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়া হবে, সে যদি তাতে উপস্থিত না হয়, তাহলে সে নাফারমানি করল। রসূল ﷺ আব্দুর রহমান বিন আওফকে (রাঃ) ওয়ালীমা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজে যয়নব বিনতে জাহাস ও সাফিয়া (রাযি.)কে বিয়ে করে ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেছেন। আলী (রাযি.) যখন ফাতিমা (রাযি.) এর সাথে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তখন নাবী ﷺ বলেছিলেন- এ বিয়েতে ওয়ালীমা অবশ্যই করতে হবে- মুসনাদে আহমাদ। ওয়ালীমার যিয়াফাত করা স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী হওয়া উচিত এবং তা করা উচিত বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রচারের জন্য। রসূল ﷺ বলেছেন- সেই ওয়ালীমার খানা হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট যেখানে কেবল ধনী লোকদেরই দাওয়াত দেয়া হবে আর গরীব লোকদের বাদ দেয়া হবে- বুখারী, মুসলিম। বিয়ের উৎসবাদিতে স্ত্রীলোক ও শিশুদের উপস্থিত হওয়া বা করা খুবই ভাল ও পছন্দনীয়। নাবী ﷺ যয়নাব (রাযি.) এর সাথে মিলন রাত যাপনের পর সকালের দিকে লোকেদের দাওয়াত দিয়েছিলেন।
তবে বর্তমান যুগে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে যে বেপর্দা আর বেহায়াপনা লক্ষ্য করা যায় তাতে যদি মেয়েদের ওয়ালীমা খাওয়ার স্থান পৃথক করে মহিলা পরিবেশক দ্বারা খানা পরিবেশনের ব্যবস্থা করা না হয় তাহলে এরূপ বিয়েতে পর্দা করা ফরয এরূপ কোন মুসলিম মেয়ে বা মহিলার উপস্থিত হওয়া উচিত হবে না। এছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে অনৈসলামিক কোন কিছু করা হলে সে বিয়ের দাওয়াত কোন মুসলিম নর ও নারীর গ্রহণ করাই জায়েয নয়। সামাজিকতার দোহাই দিয়ে বর্তমানে বহু কিছু করা হচ্ছে। অথচ ইসলামী বিধান ও নীতি মেনে চলাই হচ্ছে মুসলিম সমাজের অপরিহার্য কর্তব্য।
উল্লেখ্য হাদীসের মধ্যে রসূল নির্দেশ প্রদান করেছেনঃ (أَعْلِنُوا النِّكَاحَ) ‘‘তোমার বিয়ের বিষয়টি প্রচার কর।’’ হাদীসটিকে শাইখ আলবানী ‘‘সহীহ্ জামে‘ইস সাগীর’’ গ্রন্থে (১০৭২) হাসান আখ্যা দিয়েছেন]। বিয়ে উপলক্ষে দফ বাজানো জায়েয মর্মে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, দেখুন ‘‘মিশকাত’’ তাহকীক আলবানী (৩১৪০)। তবে বিয়ের আক্দ মসজিদে হতে হবে এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি দুর্বল, দেখুন ‘‘য‘ঈফ জামে‘ইস সাগীর’’ (৯৬৬, ৯৬৭), ‘‘য‘ঈফ তিরমিযী’’ (১০৮৯) ও ‘‘ইরওয়াউল গালীল’’ (১৯৯৩)।
ওয়ালীমার যিয়াফাতঃ বিয়ে অনুষ্ঠান প্রচারের দ্বিতীয় উপায় হচ্ছে ওয়ালীমার যিয়াফাত করা। ওয়ালিমাহ করার নির্দেশ ও নিয়ম স্বামীর জন্য। বিবাহোত্তর এটি করতে হয়। কিন্তু আমাদের সমাজে মেয়ে পক্ষকে খাবার দাবারের জন্য বিরাট অংকের টাকা খরচ করানোর নিয়ম নীতির প্রচলন রয়েছে যা সুন্নাতী বিবাহের পরিপন্থী। তবে মেয়ে পক্ষ যদি স্বেচ্ছায় ওয়ালিমার ব্যবস্থা করে তবে তা জায়িয।
নিজেদের ছেলে বা মেয়ের বিয়েতে আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের একত্রিত করা একান্তই বাঞ্ছনীয়। ইমাম তাবারানী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে রসূলﷺ এর নিম্নোক্ত ঘোষণা বর্ণনা করেছেন- ওয়ালীমা করা হচ্ছে একটি অধিকার, একান্তই কর্তব্য। ইসলামের স্থায়ী নীতি। অতএব যাকে এ যিয়াফাতে শরীক হওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়া হবে, সে যদি তাতে উপস্থিত না হয়, তাহলে সে নাফারমানি করল। রসূল ﷺ আব্দুর রহমান বিন আওফকে (রাঃ) ওয়ালীমা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজে যয়নব বিনতে জাহাস ও সাফিয়া (রাযি.)কে বিয়ে করে ওয়ালীমার ব্যবস্থা করেছেন। আলী (রাযি.) যখন ফাতিমা (রাযি.) এর সাথে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তখন নাবী ﷺ বলেছিলেন- এ বিয়েতে ওয়ালীমা অবশ্যই করতে হবে- মুসনাদে আহমাদ। ওয়ালীমার যিয়াফাত করা স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী হওয়া উচিত এবং তা করা উচিত বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রচারের জন্য। রসূল ﷺ বলেছেন- সেই ওয়ালীমার খানা হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট যেখানে কেবল ধনী লোকদেরই দাওয়াত দেয়া হবে আর গরীব লোকদের বাদ দেয়া হবে- বুখারী, মুসলিম। বিয়ের উৎসবাদিতে স্ত্রীলোক ও শিশুদের উপস্থিত হওয়া বা করা খুবই ভাল ও পছন্দনীয়। নাবী ﷺ যয়নাব (রাযি.) এর সাথে মিলন রাত যাপনের পর সকালের দিকে লোকেদের দাওয়াত দিয়েছিলেন।
তবে বর্তমান যুগে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে যে বেপর্দা আর বেহায়াপনা লক্ষ্য করা যায় তাতে যদি মেয়েদের ওয়ালীমা খাওয়ার স্থান পৃথক করে মহিলা পরিবেশক দ্বারা খানা পরিবেশনের ব্যবস্থা করা না হয় তাহলে এরূপ বিয়েতে পর্দা করা ফরয এরূপ কোন মুসলিম মেয়ে বা মহিলার উপস্থিত হওয়া উচিত হবে না। এছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে অনৈসলামিক কোন কিছু করা হলে সে বিয়ের দাওয়াত কোন মুসলিম নর ও নারীর গ্রহণ করাই জায়েয নয়। সামাজিকতার দোহাই দিয়ে বর্তমানে বহু কিছু করা হচ্ছে। অথচ ইসলামী বিধান ও নীতি মেনে চলাই হচ্ছে মুসলিম সমাজের অপরিহার্য কর্তব্য।
হাদিস নং: ৫১৪৮
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن عبد العزيز بن صهيب عن انس ان عبد الرحمن بن عوف تزوج امراة على وزن نواة فراى النبي صلى الله عليه وسلم بشاشة العرس فساله“ فقال اني تزوجت امراة على وزن نواة
وعن قتادة عن انس ان عبد الرحمن بن عوف تزوج امراة على وزن نواة من ذهب.
وعن قتادة عن انس ان عبد الرحمن بن عوف تزوج امراة على وزن نواة من ذهب.
وَكَثْرَةِ الْمَهْرِ، وَأَدْنَى مَا يَجُوزُ مِنَ الصَّدَاقِ، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: (وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَارًا فَلاَ تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا) وَقَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ: (أَوْ تَفْرِضُوا لَهُنَّ) وَقَالَ سَهْلٌ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ
আর অধিক মাহর এবং সর্বনিম্ন মাহর কত এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ’’এবং তোমরা যদি তাদের একজনকে অগাধ অর্থও দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না।’’(সূরাহ আন্-নিসা ৪/২০) এবং আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন, ’’অথবা তোমরা তাদের মাহরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দাও।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহঃ ২/২৩৬)
وَقَالَ سَهْلٌ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ
সাহল (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন, যদি একটি লোহার আংটিও হয়, তবে মাহর হিসাবে যোগাড় করে দাও।
৫১৪৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) কোন এক মহিলাকে বিয়ে করলেন এবং তাকে মাহর হিসাবে খেজুর দানার পরিমাণ স্বর্ণ দিলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মুখে বিয়ের খুশির ছাপ দেখলেন তখন তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন; তখন সে বললঃ আমি এক নারীকে খেজুর আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ দিয়ে বিয়ে করেছি। [২০৪৯]
ক্বাতাদাহ আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, ’আবদুর রহমান বিন ’আওফ (রাঃ) খেজুরের দানা পরিমাণ স্বর্ণ মাহর হিসাবে দিয়ে কোন মহিলাকে বিয়ে করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭১)
আর অধিক মাহর এবং সর্বনিম্ন মাহর কত এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ’’এবং তোমরা যদি তাদের একজনকে অগাধ অর্থও দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না।’’(সূরাহ আন্-নিসা ৪/২০) এবং আল্লাহ্ তা’আলা আরো বলেন, ’’অথবা তোমরা তাদের মাহরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দাও।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহঃ ২/২৩৬)
وَقَالَ سَهْلٌ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ
সাহল (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন, যদি একটি লোহার আংটিও হয়, তবে মাহর হিসাবে যোগাড় করে দাও।
৫১৪৮. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ (রাঃ) কোন এক মহিলাকে বিয়ে করলেন এবং তাকে মাহর হিসাবে খেজুর দানার পরিমাণ স্বর্ণ দিলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মুখে বিয়ের খুশির ছাপ দেখলেন তখন তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন; তখন সে বললঃ আমি এক নারীকে খেজুর আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ দিয়ে বিয়ে করেছি। [২০৪৯]
ক্বাতাদাহ আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, ’আবদুর রহমান বিন ’আওফ (রাঃ) খেজুরের দানা পরিমাণ স্বর্ণ মাহর হিসাবে দিয়ে কোন মহিলাকে বিয়ে করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭১)
হাদিস নং: ৫১৪৯
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان سمعت ابا حازم يقول سمعت سهل بن سعد الساعدي يقول اني لفي القوم عند رسول الله صلى الله عليه وسلم اذ قامت امراة فقالت يا رسول الله انها قد وهبت نفسها لك فر فيها رايك فلم يجبها شيىا ثم قامت فقالت يا رسول الله انها قد وهبت نفسها لك فر فيها رايك فلم يجبها شيىا ثم قامت الثالثة فقالت انها قد وهبت نفسها لك فر فيها رايك فقام رجل فقال يا رسول الله انكحنيها قال هل عندك من شيء قال لا قال اذهب فاطلب ولو خاتما من حديد فذهب فطلب ثم جاء فقال ما وجدت شيىا ولا خاتما من حديد فقال هل معك من القران شيء قال معي سورة كذا وسورة كذا قال اذهب فقد انكحتكها بما معك من القران.
৫১৪৯. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি অন্যান্য লোকের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় একজন মহিলা দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি নিজেকে আপনার কাছে পেশ করছি, এখন আপনার মতামত দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন উত্তর দিলেন না। এরপর মহিলাটি পুনরায় দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার জীবনকে আপনার কাছে পেশ করছি। আপনার মতামত দিন। তিনি কোন প্রতি উত্তর করলেন না। তারপর তৃতীয় বারে দাঁড়িয়ে বলল, আমি আমার জীবন আপনার কাছে সোপর্দ করছি। আপনার মতামত দিন। এরপর একজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, এ মহিলাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, যাও খুঁজে দেখ, একটি লোহার আংটি হলেও নিয়ে এসো। লোকটি চলে গেল এবং খুঁজে দেখল। এরপর এসে বলল, আমি কিছুই পেলাম না; এমনকি একটি লোহার আংটিও না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কি কিছু কুরআন জানা আছে? সে বলল, অমুক অমুক সূরা আমার মুখস্থ আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার যে পরিমাণ কুরআন মুখস্থ আছে, তার বিনিময়ে এ মহিলাকে তোমার সঙ্গে বিয়ে দিলাম। [২৩১০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭২)
হাদিস নং: ৫১৫০
সহিহ (Sahih)
يحيى حدثنا وكيع عن سفيان عن ابي حازم عن سهل بن سعد ان النبي صلى الله عليه وسلم قال لرجل تزوج ولو بخاتم من حديد.
৫১৫০. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি বিয়ে কর একটি লোহার আংটির বিনিময়ে হলেও। [২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭৩)