অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৭৫/১. রোগের কাফফারা ও ক্ষতিপূরণ।
মোট ৩৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫৬৪০ সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان الحكم بن نافع، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني عروة بن الزبير، ان عاىشة ـ رضى الله عنها ـ زوج النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ ما من مصيبة تصيب المسلم الا كفر الله بها عنه، حتى الشوكة يشاكها ‏"‏‏.‏
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ).

এবং মহান আল্লাহর বাণীঃ ’যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে তাকে সেই কাজের প্রতিফল দেয়া হবে।’ (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১২৩)


৫৬৪০. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে সকল বিপদ-আপদ আসে এর দ্বারা আল্লাহ তার পাপ দূর করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে ফুটে এর দ্বারাও। [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭২, আহমাদ ২৪৮৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১২৫)
হাদিস নং: ৫৬৪১ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا عبد الملك بن عمرو حدثنا زهير بن محمد عن محمد بن عمرو بن حلحلة عن عطاء بن يسار عن ابي سعيد الخدري وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما يصيب المسلم من نصب ولا وصب ولا هم ولا حزن ولا اذى ولا غم حتى الشوكة يشاكها الا كفر الله بها من خطاياه.
৫৬৪১-৫৬৪২. আবূ সা’ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১২৬)
হাদিস নং: ৫৬৪২ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا عبد الملك بن عمرو حدثنا زهير بن محمد عن محمد بن عمرو بن حلحلة عن عطاء بن يسار عن ابي سعيد الخدري وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما يصيب المسلم من نصب ولا وصب ولا هم ولا حزن ولا اذى ولا غم حتى الشوكة يشاكها الا كفر الله بها من خطاياه.
৫৬৪১-৫৬৪২. আবূ সা’ঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফুটে, এ সবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১২৬)
হাদিস নং: ৫৬৪৩ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن سفيان عن سعد عن عبد الله بن كعب عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال مثل المومن كالخامة من الزرع تفيىها الريح مرة وتعدلها مرة ومثل المنافق كالارزة لا تزال حتى يكون انجعافها مرة واحدة وقال زكرياء حدثني سعد حدثنا ابن كعب عن ابيه كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم.
৫৬৪৩. কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তির উদাহরণ হল শস্যক্ষেতের নরম চারা গাছের মত, যাকে বাতাস একবার কাত করে ফেলে, আরেকবার সোজা করে দেয়। আর মুনাফিকের দৃষ্টান্ত, ভূমির উপর শক্তভাবে স্থাপিত বৃক্ষ, যাকে কিছুতেই নোয়ানো যায় না। শেষে এক ঝটকায় মূলসহ তা উপড়ে যায়। যাকারিয়্যা .... কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে এরকম বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৫০/১৪, হাঃ ২৮১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১২৭)
হাদিস নং: ৫৬৪৪ সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن المنذر قال حدثني محمد بن فليح قال حدثني ابي عن هلال بن علي من بني عامر بن لوي عن عطاء بن يسار عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل المومن كمثل الخامة من الزرع من حيث اتتها الريح كفاتها فاذا اعتدلت تكفا بالبلاء والفاجر كالارزة صماء معتدلة حتى يقصمها الله اذا شاء.
৫৬৪৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হল, শস্যক্ষেতের নরম চারাগাছের মত। যে কোন দিক থেকেই তার দিকে বাতাস আসলে বাতাস তাকে নুইয়ে দেয়। আবার যখন বাতাসের প্রবাহ বন্ধ হয় তখন তা সোজা হয়ে দাঁড়ায়। বালা মুসিবত মু’মিনকে নোয়াতে থাকে। আর ফাসিক হল শক্ত ভূমির উপর শক্তভাবে সোজা হয়ে দাঁড়ানো গাছের মত, যাকে আল্লাহ যখন ইচ্ছে করেন ভেঙ্গে দেন। [৭৪৬৬; মুসলিম ৫০/১৪, হাঃ ২৮০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১২৮)
হাদিস নং: ৫৬৪৫ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف اخبرنا مالك عن محمد بن عبد الله بن عبد الرحمن بن ابي صعصعة انه“ قال سمعت سعيد بن يسار ابا الحباب يقول سمعت ابا هريرة يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من يرد الله به„ خيرا يصب منه.
৫৬৪৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন তাকে তিনি দুঃখকষ্টে পতিত করেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১২৯)
হাদিস নং: ৫৬৪৬ সহিহ (Sahih)
حدثنا قبيصة، حدثنا سفيان، عن الاعمش،‏.‏ حدثني بشر بن محمد، اخبرنا عبد الله، اخبرنا شعبة، عن الاعمش، عن ابي واىل، عن مسروق، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت ما رايت احدا اشد عليه الوجع من رسول الله صلى الله عليه وسلم‏.‏
৫৬৪৬. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে বেশী রোগ যন্ত্রণা ভোগকারী অন্য কাকেও দেখিনি।[1] [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭০, আহমাদ ২৫৪৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩০)
নোট: [1] আলোচ্য হাদীসে দেখা যায় রসূল (ﷺ) মাঝে মধ্যে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়তেন। কুরআন মাজীদে সূরায়ে আম্বিয়ায় দেখা যায় আইয়ূব (আ.) কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে উক্ত রোগ যন্ত্রণা হতে নিস্কৃতি চেয়ে আল্লাহ তা‘আলার সমীপে দু‘আ করেছেন। অতীব দুঃখজনক ব্যাপার এই যে, অজ্ঞ লোকেরা কোন ‘আলিম, পরহেজগার লোকগণকে কোন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে দেখলে গভীর উৎসাহের সাথে বলতে থাকে যে, অমুক ‘আলিম সাহেব বা মুহাদ্দিস সাহেবের বর্তমানে ভীষণ রোগে ভুগতে দেখা যায়। সুতরাং তাঁর ‘আমল ভাল নয়। তাঁর প্রতি আল্লাহর কোন রহমাত নেই। তিনি যদি রহমাতপ্রাপ্ত লোকই হয়ে থাকেন, তবে তাঁর এই অবস্থা কেন হবে? ইত্যাদি ইত্যাদি বদনাম ছড়িয়ে পরহেজগার ‘আলিম ওলামা শ্রেণীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষদেরকে বীতশ্রদ্ধ করে তুলতে চায়। এখানে লক্ষ্য করলে পরিষ্কার দেখা যায় যে, রহমাতের অসীম ভান্ডার যে নাবীর প্রতি বর্ষিত হয়েছে, যাঁকে নিঃসীম রহমাতের প্রতীক রহমাতুল্লিল ‘আলামীন উপাধিতে আল্লাহ তা‘আলা নিজেই ভূষিত করলেন, তাঁকেই রোগ ব্যাধি দিয়ে ক্লান্ত-শ্রান্ত করে দেন, সেখানে তাঁর কোন অনুসারীকে উক্ত পরীক্ষায় নিক্ষেপ করা তো স্বাভাবিক ব্যাপার।

অতএব কোন খাঁটি ও নেক বান্দাহদের প্রতি ‘আলিম বিদ্বেষী অযথা কটাক্ষকারীদের কথায় সাধারণ মু’মিনদের বিভ্রান্ত হওয়া ঠিক নয়। বরং কোন ‘আলিম উলামা, পরহেজগার শ্রেণীকে রোগাক্রান্ত অবস্থায় দেখা গেলে তাঁদের প্রতি গভীর ভক্তি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা নিয়ে তাঁদের সেবা যত্নে আত্মনিয়োগ করা সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করতে হবে। পূর্ববর্তী নেককার লোকদের এবং সহাবায়েকিরামদের ‘আমল ও অভ্যাস এমনটাই ছিল নিঃসন্দেহে।
হাদিস নং: ৫৬৪৭ সহিহ (Sahih)
محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن الاعمش عن ابراهيم التيمي عن الحارث بن سويد عن عبد الله اتيت النبي صلى الله عليه وسلم في مرضه„ وهو يوعك وعكا شديدا وقلت انك لتوعك وعكا شديدا قلت ان ذاك بان لك اجرين قال اجل ما من مسلم يصيبه“ اذى الا حات الله عنه“ خطاياه“ كما تحات ورق الشجر.
৫৬৪৭. ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুস্থ অবস্থায় তাঁর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমি বললামঃ নিশ্চয়ই আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। আমি এও বললাম যে, এটা এজন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হাঁ। যে কেউ রোগাক্রান্ত হয়, তাত্থেকে গুনাহসমূহ এভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে তার পাতাগুলো ঝরে যায়। [৫৬৪৮, ৫৬৬০, ৫৬৬১, ৫৬৬৭; মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩১)
হাদিস নং: ৫৬৪৮ সহিহ (Sahih)
عبدان عن ابي حمزة عن الاعمش عن ابراهيم التيمي عن الحارث بن سويد عن عبد الله قال دخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يوعك فقلت يا رسول الله انك لتوعك وعكا شديدا قال اجل اني اوعك كما يوعك رجلان منكم قلت ذ‘لك ان لك اجرين قال اجل ذ‘لك كذ‘لك ما من مسلم يصيبه“ اذى شوكة فما فوقها الا كفر الله بها سيىاته„ كما تحط الشجرة ورقها.
৫৬৪৮. ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ হাঁ। তোমাদের দু’ব্যক্তি যতটুকু জ্বরে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ্বরে আক্রান্ত হই। আমি বললামঃ এটি এজন্য যে, আপনার জন্য আছে দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ তাই। কেননা যে কোন মুসলিম দুঃখ কষ্টে পতিত হয়, তা একটা কাঁটা কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে মুছে দেন, যেমন গাছ থেকে পাতাগুলো ঝরে পড়ে। [৫৬৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩২)
হাদিস নং: ৫৬৪৯ সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا ابو عوانة عن منصور عن ابي واىل عن ابي موسى الاشعري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اطعموا الجاىع وعودوا المريض وفكوا العاني.
৫৬৪৯. আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, রোগীর সেবা কর এবং কষ্টে পতিতকে উদ্ধার কর।[1][৩০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩৩)
নোট: [1] উপরোক্ত হাদীসে নাবী (ﷺ) ক্ষুধার্তকে অন্নদান, রোগীকে সেবা করা, নিপীড়িত ব্যক্তির মুক্তি দানের জন্য মানবগোষ্ঠিকে তাকীদ দিয়েছেন। বস্ত্ততপক্ষে রসূল (ﷺ)-এর সারা জীবনে উক্ত কালজয়ী বাণীর বাস্তবতা অসংখ্য বার নিজেই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। নবুয়াতের কষ্টি পাথরের পরশে যারা সোনার মানুষে পরিণত হয়েছিলেন তাদের কাজে-কর্মে চলনে-বলনে মানব সেবা, আর্তের সেবাই ছিল রসূলﷺ-এর উক্ত মহান বাণীর বাস্তব প্রতিফলন। অনাহারী, অর্ধাহারী, বুভুক্ষু নর-নারী, অসহায় নিরাশ্রয় মানুষের পরম বন্ধু ছিলেন আমাদের মহানাবীﷺ। অতঃপর সহাবা (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম) হতে শুরু করে খলীফা চতুষ্টয়ের শেষ আমলসহ তাবি-তাবিয়ীনদের শেষ আমল পর্যন্ত মানব সেবায় রসূল (ﷺ) এর উক্ত অমিয় বাণীকে মুসলিমগণ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যারা পৃথিবীতে এক সোনালী ইতিহাস রচনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যার ফলে মাত্র ২৫ বছরের মুসলিম শাসনের পর অর্ধ পৃথিবী মুসলিম শাসনাধীন হয়েছিল। আজকের বিশ্বেও পুনর্বার সেই উদ্দীপনা নিয়ে যদি মুসলিম জাতি সমাজে, রাষ্ট্রে আবির্ভূত হতে পারে তাহলে সমগ্র পৃথিবী মুসলিমদের বিজয় দুন্দুভি বেজে উঠবে। মুসলিম জাতির শাসন প্রতিবন্ধকহীনভাবে ততদিন চলমান ছিল যতদিন পর্যন্ত তাদের ত্যাগ তিতিক্ষা, কুরবানী, মানব সেবা, সততা, ন্যায়নীতি ক্রম ধাবমান গতিতে এগিয়ে চলেছিল। মুসলিম জাতি যখন সেবা, সততা, ন্যায়নীতিকে ইস্তফা দিয়ে ও নাকে তেল দিয়ে ভোগ বিলাসের নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো তখন হতেই তাদের বিশ্বময় কর্তৃত্বের দিন শেষ হয়ে যায়। নাবী (ﷺ) আলোচ্য হাদীসকে স্বীয় উম্মাতের নৈতিক দায়িত্ব বলে ঘোষণা করার মূলে ও উম্মাতের শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখার অভিপ্রায় নিহিত আছে।
হাদিস নং: ৫৬৫০ সহিহ (Sahih)
حفص بن عمر حدثنا شعبة قال اخبرني اشعث بن سليم قال سمعت معاوية بن سويد بن مقرن عن البراء بن عازب قال امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بسبع ونهانا عن سبع نهانا عن خاتم الذهب ولبس الحرير والديباج والاستبرق وعن القسي والميثرة وامرنا ان نتبع الجناىز ونعود المريض ونفشي السلام.
৫৬৫০. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি জিনিসের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের নিষেধ করেছেনঃ সোনার আংটি, মোটা ও পাতলা এবং কারুকার্য খচিত রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে এবং কাস্সী ও মীসারাহ [1] কাপড় ব্যবহার করতে। আর তিনি আমাদের আদেশ করেছেনঃ আমরা যেন জানাযার পশ্চাতে যাই, পীড়িতের সেবা করি এবং সালামের প্রসার ঘটাই। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩৪)
নোট: [1] বিশেষ এক ধরনের রেশমী পোশাক।
হাদিস নং: ৫৬৫১ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا سفيان عن ابن المنكدر سمع جابر بن عبد الله يقول مرضت مرضا فاتاني النبي صلى الله عليه وسلم يعودني وابو بكر وهما ماشيان فوجداني اغمي علي فتوضا النبي صلى الله عليه وسلم ثم صب وضوءه“ علي فافقت فاذا النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله كيف اصنع في مالي كيف اقضي في مالي فلم يجبني بشيء حتى نزلت اية الميراث.
৫৬৫১. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি ভীষণভাবে পীড়িত হয়ে গেলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ) পায়ে হেঁটে আমার খোঁজ খবর নেয়ার জন্য আমার নিকট আসলেন। তাঁরা আমাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযূ করলেন। তারপর তিনি তাঁর অবশিষ্ট পানি আমার গায়ের উপর ছিটিয়ে দিলেন। ফলে আমি জ্ঞান ফিরার পর দেখলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পদের ব্যাপারে আমি কী করব? আমার সম্পদ সম্পর্কে কীভাবে আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব? তিনি তখন আমাকে কোন জবাব দিলেন না। শেষে মীরাসের আয়াত অবতীর্ণ হল। [১৯৪; মুসলিম ২৩/২, হাঃ ১৬১৬, আহমাদ ১৪৩০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩৫)
হাদিস নং: ৫৬৫২ সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن عمران ابي بكر قال حدثني عطاء بن ابي رباح قال قال لي ابن عباس الا اريك امراة من اهل الجنة قلت بلى قال هذه المراة السوداء اتت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت اني اصرع واني اتكشف فادع الله لي قال ان شىت صبرت ولك الجنة وان شىت دعوت الله ان يعافيك فقالت اصبر فقالت اني اتكشف فادع الله لي ان لا اتكشف فدعا لها
حدثنا محمد اخبرنا مخلد عن ابن جريج اخبرني عطاء انه“ راى ام زفر تلك امراة طويلة سوداء على ستر الكعبة.
৫৬৫২. ’আত্বা ইবনু আবূ রাবাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে একজন জান্নাতী মহিলা দেখাব না? আমি বললামঃ অবশ্যই। তখন তিনি বললেনঃ এই কালো রঙের মহিলাটি, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসেছিল। তারপর সে বললঃ আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত হই এবং এ অবস্থায় আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়। সুতরাং আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি যদি চাও, ধৈর্য ধারণ করতে পার। তোমার জন্য আছে জান্নাত। আর তুমি যদি চাও, তাহলে আমি আল্লাহর কাছে দু’আ করি, যেন তোমাকে অরোগ্য করেন। স্ত্রীলোকটি বললঃ আমি ধৈর্য ধারণ করব। সে বললঃ ঐ অবস্থায় আমার লজ্জাস্থান খুলে যায়, কাজেই আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন আমার লজ্জাস্থান খুলে না যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দু’আ করলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩৬)

’আত্বা (রহ.) হতে বর্ণিত যে, তিনি সেই উম্মু যুফার -কে দেখেছেন কা’বার গিলাফ ধরা অবস্থায়। সে ছিল দীর্ঘ দেহী কৃষ্ণ বর্ণের এক মহিলা। [মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭৬, আহমাদ ৩২৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩৭)
হাদিস নং: ৫৬৫৩ সহিহ (Sahih)
عبد الله بن يوسف حدثنا الليث قال حدثني ابن الهاد عن عمرو مولى المطلب عن انس بن مالك قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلميقول ان الله قال اذا ابتليت عبدي بحبيبتيه فصبر عوضته“ منهما الجنة يريد عينيه تابعه“ اشعث بن جابر وابو ظلال بن هلال عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم.
৫৬৫৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ বলেছেনঃ আমি যদি আমার কোন বান্দাকে তার অতি প্রিয় দু’টি বস্ত্ত সম্পর্কে পরীক্ষায় ফেলি, আর সে তাতে ধৈর্য ধরে, তাহলে আমি তাকে সে দু’টির বিনিময়ে জান্নাত দান করব। আনাস বলেন, দু’টি প্রিয় বস্ত্ত হল সে ব্যক্তির চক্ষুদ্বয়। এরকম বর্ণনা করেছেন আশ্’আস ইবনু জাবির ও আবূ যিলাল (রহ.) আনাস -এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।[1] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩৮)
নোট: [1] উপরিউক্ত হাদীসে রসূল (ﷺ) দু’ চোখ হারানো ব্যক্তির ফাযীলাত বর্ণনা করে তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। যদি উক্ত অন্ধ লোকটি আন্তরিকতার সাথে সবর করতে পারে। আফসোসের ব্যাপার এই যে, আমাদের সমাজের জাহিলী চরিত্রের লোকেরা চোখ হারানো লোকটি যত বড় ‘আলিম, বুযুর্গ, পরহেজগার হোন না কেন, তাকে নিয়ে উপহাস তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আর বলে, ঐ লোকের পাপ আল্লাহ তা‘আলা সহ্য করতে না পেরে ওর দু’টি চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন। ঐ লোক যদি ভালই হবে, তবে তার এক চোখ বা দুই চোখ কানা হবে কেন? পবিত্র কুরআন সাক্ষ্য দেয়ঃ ইয়াকূব (আ.)-এর দুই চোখ অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। হারানো ছেলের চিন্তায় তাঁর উভয় চোখ সাদা (অন্ধ) হয়ে গিয়েছিল। এখন বুঝতে হবে আল্লাহর নাবী ইয়াকূব (আ.) যদি অন্ধ হতে পারেন তাহলে সাধারণ পরহেজগার লোকের অন্ধ হওয়াটা তো কোন বিষয়ই হতে পারে না। আল্লাহর নাবীর ﷺ এ হাদীস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অন্ধ লোকের প্রতি আমরা যেন যথাযথ আচরণ করতে সচেষ্ট হই।
হাদিস নং: ৫৬৫৪ সহিহ (Sahih)
قتيبة عن مالك عن هشام بن عروة عن ابيه عن عاىشة انها قالت لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة وعك ابو بكر وبلال قالت فدخلت عليهما قلت يا ابت كيف تجدك ويا بلال كيف تجدك قالت وكان ابو بكر اذا اخذته الحمى يقول :
كل امرى مصبح في اهله„ والموت ادنى من شراك نعله
وكان بلال اذا اقلعت عنه“ يقول :
الا ليت شعري هل ابيتن ليلة بواد وحولي اذخر وجليل
وهل اردن يوما مياه مجنة وهل تبدون لي شامة وطفيل
قالت عاىشة فجىت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبرته“ فقال اللهم حبب الينا المدينة كحبنا مكة او اشد اللهم وصححها وبارك لنا في مدها وصاعها وانقل حماها فاجعلها بالجحفة.
وَعَادَتْ أُمُّ الدَّرْدَاءِ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الْمَسْجِدِ مِنَ الأَنْصَارِ

উম্মু দারদা (রাঃ) মসজিদে অবস্থানকারী এক আনসারের সেবা করেছিলেন।


৫৬৫৪. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা্য় আসলেন, তখন আবূ বকর ও বিলাল (রাঃ) জ্বরে আক্রান্ত হলেন। তিনি বলেনঃ আমি তাঁদের কাছে গেলাম এবং বললামঃ হে আব্বাজান! আপনাকে কেমন লাগছে? হে বিলাল, আপনাকে কেমন লাগছে? আবূ বকর (রাঃ)-এর অবস্থা ছিল, তিনি যখন জ্বরে আক্রান্ত হতেন তখন তিনি আওড়াতেনঃ

’’সব মানুষ সুপ্রভাত ভোগ করে আপন পরিবার পরিজনের মধ্যে,
আর মৃত্যু অপেক্ষা করে তার জুতার ফিতার চেয়ে নিকটে।’’

বিলাল -এর জ্বর যখন থামত তখন তিনি বলতেনঃ

’’হায়! আমি যদি লাভ করতাম একটি রাত কাটানোর সুযোগ

এমন উপত্যকায় যে আমার পাশে আছে ইযখির ও জালীল ঘাস।

যদি আমার অবতরণ হতো কোন দিন মাজিন্নার কূপের কাছে।

হায়! আমি কি কখনো দেখা পাব শামাহ্ ও ত্বফীলের।’’

’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তাঁকে এদের অবস্থা অবগত করলাম। তখন তিনি দু’আ করে বললেনঃ হে আল্লাহ! মদিনাকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দাও, যেমন তুমি আমাদের কাছে মক্কা প্রিয় করে দিয়েছিলে কিংবা সে অপেক্ষা আরো অধিক প্রিয় করে দাও। হে আল্লাহ! আর মদিনাকে উপযোগী করে দাও এবং মদিনার মুদ্দ ও সা’ এর ওযনে বারাকাত দান কর। আর এখানকার জ্বরকে সরিয়ে দাও জুহ্ফা এলাকায়। [১৮৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩৯)
হাদিস নং: ৫৬৫৫ সহিহ (Sahih)
حجاج بن منهال حدثنا شعبة قال اخبرني عاصم قال سمعت ابا عثمان عن اسامة بن زيد ان ابنة للنبي صلى الله عليه وسلم ارسلت اليه وهو مع النبيصلى الله عليه وسلم وسعد وابي نحسب ان ابنتي قد حضرت فاشهدنا فارسل اليها السلام ويقول ان لله ما اخذ وما اعطى وكل شيء عنده“ مسمى فلتحتسب ولتصبر فارسلت تقسم عليه فقام النبي صلى الله عليه وسلم وقمنا فرفع الصبي في حجر النبيصلى الله عليه وسلم ونفسه“ جىث ففاضت عينا النبي صلى الله عليه وسلم فقال له“ سعد ما هذا يا رسول الله قال هذه„ رحمة وضعها الله في قلوب من شاء من عباده„ ولا يرحم الله من عباده„ الا الرحماء.
৫৬৫৫. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক কন্যা (যাইনাব) তাঁর কাছে খবর দিয়েছেন, এ সময় উসামাহ, সা’দ ও সম্ভবতঃ ’উবাই (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। খবর এই ছিল যে, (যায়নাব বলেছেন) আমার এক শিশুকন্যা মৃত্যুর দুয়ারে উপনীত। কাজেই আপনি আমাদের এখানে আসুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে সালাম পাঠিয়ে বলে দিলেনঃ আল্লাহ যা চান নিয়ে নেন, যা চান দিয়ে যান। তাঁর কাছে সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই তুমি ধৈর্য ধর এবং উত্তম বিনিময়ের আশা পোষণ কর। অতঃপর পুনরায় তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কসম ও তাগিদ দিয়ে প্রেরণ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন। আমরাও দাঁড়িয়ে গেলাম।

এরপর শিশুটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোলে তুলে দেয়া হল। এ সময় তার নিঃশ্বাস দ্রুত উঠানামা করছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। সা’দ (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এটা কী? তিনি উত্তর দিলেনঃ এটা হল রহমত। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছে করেন তার হৃদয়ে এটি দিয়ে দেন। আর আল্লাহ তাঁর দয়াদ্র বান্দাদের প্রতিই দয়া করে থাকেন। [১২৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪০)
হাদিস নং: ৫৬৫৬ সহিহ (Sahih)
معلى بن اسد حدثنا عبد العزيز بن مختار حدثنا خالد عن عكرمة عن ابن عباس ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل على اعرابي يعوده“ قال وكان النبي صلى الله عليه وسلم اذا دخل على مريض يعوده“ فقال له“ لا باس طهور ان شاء الله قال قلت طهور كلا بل هي حمى تفور او تثور على شيخ كبير تزيره القبور فقال النبي صلى الله عليه وسلم فنعم اذا.
৫৬৫৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুঈনের নিকট গিয়েছিলেন, তার রোগ সম্পর্কে জানার জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিয়ম ছিল, তিনি যখন কোন রোগীকে দেখতে যেতেন তখন তাকে বলতেনঃ কোন ক্ষতি নেই। ইনশাআল্লাহ তুমি তোমার গুনাহসমূহ থেকে পবিত্রতা লাভ করবে। তখন বেদুঈন বললঃ আপনি বলেছেন, এটা গুনাহ থেকে পবিত্র করে দেবে? কক্ষনো না, বরং এটা এমন এক জ্বর যা এক অতি বৃদ্ধকে গরম করছে কিংবা সে বলেছে উত্তপ্ত করছে, যা তাকে কবরে পৌঁছাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হাঁ, তাহলে তেমনই। [৩৬১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪১)
হাদিস নং: ৫৬৫৭ সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ثابت عن انس ان غلاما ليهود كان يخدم النبي صلى الله عليه وسلم فمرض فاتاه النبي صلى الله عليه وسلم يعوده“ فقال اسلم فاسلم وقال سعيد بن المسيب عن ابيه لما حضر ابو طالب جاءه النبي صلى الله عليه وسلم.
৫৬৫৭. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহূদীর ছেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেবা করত। ছেলেটির অসুখ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুখের খোঁজ নিতে এলেন। এরপর তিনি বললেনঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। সে ইসলাম গ্রহণ করল। সা’ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহ.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ তালিব মারা গেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এসেছিলেন। [১৩৫৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪২)
হাদিস নং: ৫৬৫৮ সহিহ (Sahih)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى، حدثنا هشام، قال اخبرني ابي، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل عليه ناس يعودونه في مرضه فصلى بهم جالسا فجعلوا يصلون قياما، فاشار اليهم اجلسوا، فلما فرغ قال ‏ "‏ ان الامام ليوتم به، فاذا ركع فاركعوا واذا رفع فارفعوا، وان صلى جالسا فصلوا جلوسا ‏"‏‏.‏ قال ابو عبد الله قال الحميدي هذا الحديث منسوخ لان النبي صلى الله عليه وسلم اخر ما صلى صلى قاعدا والناس خلفه قيام‏.‏
৫৬৫৮. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুস্থতার সময় লোকজন তাঁকে দেখার জন্য তাঁর কাছে আসলে তিনি তাঁদের নিয়ে বসা অবস্থায় সালাত আদায় করেন। লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত শুরু করেছিল, ফলে তিনি তাদের ইঙ্গিত করলেন, বসে যাও। সালাত শেষ করে তিনি বলেনঃ ইমাম হল এমন ব্যক্তি যাকে অনুসরণ করতে হয়। সে রুকু করলে তোমরাও রুকু করবে। সে যখন মাথা উঠাবে, তোমরাও মাথা উঠাবে। সে যখন বসে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে। হুমাইদী (রহ.) বলেছেনঃ এ হাদীসটি রহিত হয়ে গেছে। [৬৮৮]

আবূ ’আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনে শেষ যে সালাত আদায় করেন তাতে তিনি নিজে বসে সালাত আদায় করেন আর লোকজন তাঁর পেছনে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৩)
হাদিস নং: ৫৬৫৯ সহিহ (Sahih)
المكي بن ابراهيم اخبرنا الجعيد عن عاىشة بنت سعد ان اباها قال تشكيت بمكة شكوا شديدا فجاءني النبي صلى الله عليه وسلم يعودني فقلت يا نبي الله اني اترك مالا واني لم اترك الا ابنة واحدة فاوصي بثلثي مالي واترك الثلث فقال لا قلت فاوصي بالنصف واترك النصف قال لا قلت فاوصي بالثلث واترك لها الثلثين قال الثلث والثلث كثير ثم وضع يده“ على جبهته„ ثم مسح يده“ على وجهي وبطني ثم قال اللهم اشف سعدا واتمم له“ هجرته“ فما زلت اجد برده“ على كبدي فيما يخال الي حتى الساعة.
৫৬৫৯. ’আয়িশাহ বিনত সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা বলেছেন, আমি যখন মক্কায় ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখার জন্য আসেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! আমি সম্পদ রেখে যাচ্ছি। আর আমার একটি মাত্র কন্যা ব্যতীত আর কেউ নেই। এ অবস্থায় আমি কি আমার দু’তৃতীয়াংশ সম্পদ অসীয়ত করে এক-তৃতীয়াংশ রেখে যাব? তিনি উত্তর দিলেনঃ না। আমি বললামঃ তা হলে অর্ধেক রেখে দিয়ে আর অর্ধেক অসীয়ত করে যেতে পারি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ তাহলে দু’তৃতীয়াংশ রেখে দিয়ে এক-তৃতীয়াংশ অসীয়ত করে যেতে পারি? তিনি উত্তর দিলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ পার, তবে এক-তৃতীয়াংশও অনেক। তারপর তিনি আমার কপালের উপর তাঁর হাত রাখলেন এবং আমার চেহারা ও পেটের উপর তাঁর হাত বুলিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ, সা’দকে তুমি আরোগ্য কর। তাঁর হিজরত পূর্ণ করে দাও। আমি তাঁর হাতের শীতল স্পর্শ এখনও পাচ্ছি এবং মনে করি আমি তা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত পাব। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৪)
অধ্যায় তালিকা