অধ্যায় তালিকা
১/ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা (كتاب بدء الوحى)
২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم)
৪/ উযূ (كتاب الوضوء)
৫/ গোসল (كتاب الغسل)
৬/ হায়েজ [ঋতুস্রাব] (كتاب الحيض)
৭/ তায়াম্মুম (كتاب التيمم)
৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
৯/ সালাতের সময়সমূহ (كتاب مواقيت الصلاة)
১০/ আযান (كتاب الأذان)
১১/ জুমু‘আহ (كتاب الجمعة)
১২/ খাওফ (শত্রুভীতির অবস্থায় সালাত) (كتاب صلاة الخوف)
১৩/ দুই’ঈদ (كتاب العيدين)
১৪/ বিতর (كتاب الوتر)
১৫/পানি প্রার্থনা (كتاب الاستسقاء)
১৬/ সূর্যগ্রহণ (كتاب الكسوف)
১৭/ কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা্ (كتاب سجود القرآن)
১৮/ সালাত ক্বাসর করা (كتاب التقصير)
১৯/ তাহাজ্জুদ (كتاب التهجد)
২০/ মক্কাহ ও মদীনাহর মসজিদে সালাতের মর্যাদা (كتاب فضل الصلاة فى مسجد مكة والمدينة)
২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ (كتاب العمل فى الصلاة)
২২/ সাহু সিজদা (كتاب السهو)
২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز)
২৪/ যাকাত (كتاب الزكاة)
২৫/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) (كتاب الحج)
২৬/ উমরাহ (كتاب العمرة)
২৭/ পথে আটকে পড়া ও ইহরাম অবস্থায় শিকারকারীর বিধান (كتاب المحصر)
২৮/ ইহরাম অবস্থায় শিকার এবং অনুরূপ কিছুর বদলা (كتاب جزاء الصيد)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত (كتاب فضائل المدينة)
৩০/ সাওম/রোযা (كتاب الصوم)
৩১/ তারাবীহর সালাত (كتاب صلاة التراويح)
৩২/ লাইলাতুল কদর-এর ফযীলত (كتاب فضل ليلة القدر)
৩৩/ ই‘তিকাফ (كتاب الاعتكاف)
৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع)
৩৫/ সলম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) (كتاب السلم)
৩৬/ শুফ্‘আহ (كتاب الشفعة)
৩৭/ ইজারা (كتاب الإجارة)
৩৮/ হাওয়ালাত (ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করা) (كتاب الحوالات)
৩৯/ যামিন হওয়া (كتاب الكفالة)
৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة)
৪১/ চাষাবাদ (كتاب المزارعة)
৪২/ পানি সেচ (كتاب المساقاة)
৪৪/ ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা (كتاب الخصومات)
৪৫/ পড়ে থাকা জিনিস উঠিয়ে নেয়া (كتاب فى اللقطة)
৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
৪৮/ বন্ধক (كتاب الرهن)
৪৯/ ক্রীতদাস আযাদ করা (كتاب العتق)
৫০/ চুক্তিবদ্ধ দাসের বর্ণনা (كتاب المكاتب)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত (كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها)
৫২/ সাক্ষ্যদান (كتاب الشهادات)
৫৩/ বিবাদ মীমাংসা (كتاب الصلح)
৫৪/ শর্তাবলী (كتاب الشروط)
৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير)
৫৭/ খুমুস (এক পঞ্চমাংশ) (كتاب فرض الخمس)
৫৮/ জিযিয়াহ্‌ কর ও সন্ধি স্থাপন (كتاب الجزية والموادعة)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা (كتاب بدء الخلق)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
৬১/ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য (كتاب المناقب)
৬২/ সাহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب فضائل أصحاب النبى ﷺ)
৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ (كتاب فضائل القرآن)
৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
৬৮/ ত্বলাক (كتاب الطلاق)
৬৯/ ভরণ-পোষণ (كتاب النفقات)
৭০/ খাওয়া সংক্রান্ত (كتاب الأطعمة)
৭১/ আক্বীক্বাহ (كتاب العقيقة)
৭২/ যবহ ও শিকার (كتاب الذبائح والصيد )
৭৩/ কুরবানী (كتاب الأضاحي)
৭৪/ পানীয় (كتاب الأشربة)
৭৫/ রুগী (كتاب المرضى)
৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب)
৭৭/ পোশাক (كتاب اللباس)
৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)
৭৯/ অনুমতি প্রার্থনা (كتاب الاستئذان)
৮০/ দু‘আসমূহ (كتاب الدعوات)
৮১/ সদয় হওয়া (كتاب الرقاق)
৮২/ তাকদীর (كتاب القدر)
৮৩/ শপথ ও মানত (كتاب الأيمان والنذور)
৮৪/ শপথের কাফফারাসমূহ (كتاب كفارات الأيمان)
৮৫/ ফারায়িয (كتاب الفرائض)
৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
৮৭/ রক্তপণ (كتاب الديات)
৮৮/ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা (كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم)
৮৯/ বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করা (كتاب الإكراه)
৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা (كتاب التعبير)
৯২/ ফিতনা (كتاب الفتن)
৯৩/ আহ্‌কাম (كتاب الأحكام)
৯৪/ কামনা (كتاب التمنى)
৯৫/ 'খবরে ওয়াহিদ' গ্রহণযোগ্য (كتاب أخبار الآحاد)
৯৬/ কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকা (كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة)
৯৭/ তাওহীদ (كتاب التوحيد)
অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান

সহীহ বুখারী

৭৫/১. রোগের কাফফারা ও ক্ষতিপূরণ।
মোট ৩৮ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫৬৬০ সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا جرير عن الاعمش عن ابراهيم التيمي عن الحارث بن سويد قال قال عبد الله بن مسعود دخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يوعك وعكا شديدا فمسسته“ بيدي فقلت يا رسول الله انك لتوعك وعكا شديدا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اجل اني اوعك كما يوعك رجلان منكم فقلت ذ‘لك ان لك اجرين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اجل ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من مسلم يصيبه“ اذى مرض فما سواه“ الا حط الله له“ سيىاته„ كما تحط الشجرة ورقها.
৫৬৬০. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি ভয়ানক জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁর গায়ে আমার হাত বুলিয়ে দিলাম এবং বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ আমি এমন কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হই, যা তোমাদের দু’জনের হয়ে থাকে। আমি বললামঃ এটা এজন্য যে, আপনার জন্য বিনিময়ও দ্বিগুণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ! এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে কোন মুসলিমের উপর কোন কষ্ট বা রোগ-ব্যাধি হলে আল্লাহ তাঁর গুনাহগুলো ঝরিয়ে দেন, যেমনভাবে গাছ তার পাতাগুলো ঝরিয়ে দেয়। [৫৬৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৫)
হাদিস নং: ৫৬৬১ সহিহ (Sahih)
قبيصة حدثنا سفيان عن الاعمش عن ابراهيم التيمي عن الحارث بن سويد عن عبد الله قال اتيت النبي صلى الله عليه وسلم في مرضه„ فمسسته“ وهو يوعك وعكا شديدا فقلت انك لتوعك وعكا شديدا وذ‘لك ان لك اجرين قال اجل وما من مسلم يصيبه“ اذى الا حاتت عنه“ خطاياه“ كما تحات ورق الشجر.
৫৬৬১. ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুস্থতার সময় তাঁর কাছে এলাম। এরপর তাঁর শরীরে হাত বুলিয়ে দিলাম। এ সময় তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি বললামঃ আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত এবং এটা এজন্য যে, আপনার জন্য আছে দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হাঁ! কোন মুসলিমের উপর কোন কষ্ট আপতিত হলে তাত্থেকে গুনাহগুলো এমনভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে পাতা ঝরে যায়। [৫৬৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৬)
হাদিস নং: ৫৬৬২ সহিহ (Sahih)
اسحاق حدثنا خالد بن عبد الله عن خالد عن عكرمة عن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل على رجل يعوده“ فقال لا باس طهور ان شاء الله فقال كلا بل حمى تفور على شيخ كبير كيما تزيره القبور قال النبي صلى الله عليه وسلم فنعم اذا.
৫৬৬২. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রোগীকে দেখার জন্য তার কাছে প্রবেশ করলেন। তখন তিনি বলেনঃ কোন ক্ষতি নেই, ইনশাআল্লাহ গুনাহ থেকে তুমি পবিত্রতা লাভ করবে। রোগী বলে উঠলঃ কক্ষনো না বরং এটি এমন জ্বর, যা এক অতি বৃদ্ধের শরীরে টগবগ করে ফুটছে যেন তাকে কবরে পৌঁছাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হাঁ, তবে তাই। [৩৬১৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৭)
হাদিস নং: ৫৬৬৩ সহিহ (Sahih)
يحيى بن بكير حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عروة ان اسامة بن زيد اخبره“ ان النبي صلى الله عليه وسلم ركب على حمار على اكاف على قطيفة فدكية واردف اسامة وراءه“ يعود سعد بن عبادة قبل وقعة بدر فسار حتى مر بمجلس فيه عبد الله بن ابي ابن سلول وذ‘لك قبل ان يسلم عبد الله وفي المجلس اخلاط من المسلمين والمشركين عبدة الاوثان واليهود وفي المجلس عبد الله بن رواحة فلما غشيت المجلس عجاجة الدابة خمر عبد الله بن ابي انفه“ برداىه„ قال لا تغبروا علينا فسلم النبي صلى الله عليه وسلم ووقف ونزل فدعاهم الى الله فقرا عليهم القران فقال له“ عبد الله بن ابي يا ايها المرء انه“ لا احسن مما تقول ان كان حقا فلا توذنا به„ في مجلسنا وارجع الى رحلك فمن جاءك فاقصص عليه قال ابن رواحة بلى يا رسول الله فاغشنا به„ في مجالسنا فانا نحب ذ‘لك فاستب المسلمون والمشركون واليهود حتى كادوا يتثاورون فلم يزل النبي صلى الله عليه وسلم حتى سكتوا فركب النبي صلى الله عليه وسلم دابته“ حتى دخل على سعد بن عبادة فقال له“ اي سعد الم تسمع ما قال ابو حباب يريد عبد الله بن ابي قال سعد يا رسول الله اعف عنه“ واصفح فلقد اعطاك الله ما اعطاك ولقد اجتمع اهل هذه البحرة على ان يتوجوه“ فيعصبوه“ فلما رد ذ‘لك بالحق الذي اعطاك شرق بذ‘لك فذ‘لك الذي فعل به„ ما رايت.
৫৬৬৩. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার পিঠে আরোহণ করলেন। গাধাটির পিঠে ছিল ’ফাদক’ এলাকায় তৈরী চাদর মোড়ানো একটি গদি। তিনি নিজের পেছনে উসামাহ -কে বসিয়ে অসুস্থ সা’দ ইবনু ’উবাদাহ -কে দেখতে গিয়েছিলেন। এটা বাদ্র যুদ্ধের পূর্বেকার ঘটনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলতে চলতে এক পর্যায়ে এক মজলিসের পার্শ্ব অতিক্রম করতে লাগলেন। সেখানে ছিল ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল। এ ঘটনা ছিল ’আবদুল্লাহর ইসলাম গ্রহণের আগের। মজলিসটির মধ্যে মুসলিম, মুশরিক, মূর্তিপূজক ও ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের লোকও ছিল। ’আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা-ও সে মজলিসে উপস্থিত ছিলেন।

সাওয়ারী জানোয়ারটির পায়ের ধূলা-বালু যখন মজলিসের লোকদের মাঝে উড়তে লাগল, তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তার চাদর দিয়ে নিজের নাক চেপে ধরল এবং বললঃ আমাদের উপর ধূলাবালু উড়াবেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম দিলেন এবং নীচে অবতরণ করে তাদের আল্লাহর প্রতি আহবান জানালেন। এরপর তিনি তাদের সামনে কুরআন পাঠ করলেন। তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তাঁকে বললঃ জনাব, আপনি যা বলেছেন আমার কাছে তা পছন্দনীয় নয়। যদি এসব কথা সত্য হয়, তাহলে আপনি এ মজলিসে আমাদের কষ্ট দিবেন না। বরং আপনি নিজের বাড়ীতে চলে যান এবং সেখানে যে আপনার কাছে যাবে, তার কাছে এসব বিবরণ প্রকাশ করবেন।

ইবনু রাওয়াহা বলে উঠলেনঃ অবশ্য, হে আল্লাহর রাসূল! এসব কথাবার্তা নিয়ে আমাদের মজলিসে আসবেন। আমরা এগুলো পছন্দ করি। এরপর মুসলিম, মুশরিক ও ইয়াহূদীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়ে গেল, এমনকি তারা পরস্পর মারামারি করতে উদ্যত হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের শান্ত ও নীরব করার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। অবশেষে সবাই শান্ত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারীর উপর আরোহণ করেন এবং সা’দ ইবনু ’উবাদাহ -এর বাড়ীতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি তাঁকে অর্থাৎ সা’দ -কে বললেনঃ তুমি কি শুনতে পাওনি আবূ হুবাব অর্থাৎ ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই কী উক্তি করেছে?

সা’দ উত্তর দিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তাকে ক্ষমা করুন এবং উপেক্ষা করুন। আল্লাহ আপনাকে যে মর্যাদা দান করার ইচ্ছে করেছেন তা দান করেছেন। আমাদের এ উপ-দ্বীপ এলাকার লোকজন একমত হয়েছিল তাকে রাজমুকুট পরিয়ে দেয়ার জন্য এবং তাকে নেতৃত্ব দান করার জন্য। এরপর যখন আপনাকে আল্লাহ যে হক ও সত্য দান করেছেন তখন এর দ্বারা তার ইচ্ছে বরবাদ হয়ে গেল। এতে সে ভীষণ মনোক্ষুণ্ণ হল। আর আপনি তার যে ব্যবহার দেখলেন, এটিই তার কারণ। [২৯৮৭] আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৮)
হাদিস নং: ৫৬৬৪ সহিহ (Sahih)
عمرو بن عباس حدثنا عبد الرحمن حدثنا سفيان عن محمد هو ابن المنكدر عن جابر قال جاءني النبي صلى الله عليه وسلم يعودني ليس براكب بغل ولا برذون.
৫৬৬৪. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার অসুস্থতা দেখার জন্য আমার কাছে এসেছিলেন। এ সময় তিনি গাধার পিঠে আরোহী ছিলেন না, ঘোড়ার পিঠেও ছিলেন না। [১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৯)
হাদিস নং: ৫৬৬৫ সহিহ (Sahih)
قبيصة حدثنا سفيان عن ابن ابي نجيح وايوب عن مجاهد عن عبد الرحمن بن ابي ليلى عن كعب بن عجرة مر بي النبي صلى الله عليه وسلم وانا اوقد تحت القدر فقال ايوذيك هوام راسك قلت نعم فدعا الحلاق فحلقه“ ثم امرني بالفداء.
وَقَوْلِ أَيُّوبَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ: (أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ).

আর আইয়ূব ’আ.)-এর উক্তিঃ ’আমি দুঃখ কষ্টে নিপতিত হয়েছি, তুমি তো দয়ালুদের সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সূরাহ আল-আম্বিয়া ২১: ৮৩)


৫৬৬৫. কা’ব ইবনু ’উজরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথ অতিক্রম করছিলেন, এ সময় আমি হাঁড়ির নীচে লাকড়ি জ্বালাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার মাথার উকুন কি তোমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। আমি বললামঃ জ্বি, হ্যাঁ। তখন তিনি নাপিত ডাকলেন। সে মাথা মুড়িয়ে দিল। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ’ফিদ্ইয়া’ আদায় করার নির্দেশ দিলেন। [১৮১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫০)
হাদিস নং: ৫৬৬৬ সহিহ (Sahih)
يحيى بن يحيى ابو زكرياء اخبرنا سليمان بن بلال عن يحيى بن سعيد قال سمعت القاسم بن محمد قال قالت عاىشة وا راساه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ذاك لو كان وانا حي فاستغفر لك وادعو لك فقالت عاىشة وا ثكلياه والله اني لاظنك تحب موتي ولو كان ذاك لظللت اخر يومك معرسا ببعض ازواجك فقال النبي صلى الله عليه وسلم بل انا وا راساه لقد هممت او اردت ان ارسل الى ابي بكر وابنه„ واعهد ان يقول القاىلون او يتمنى المتمنون ثم قلت يابى الله ويدفع المومنون او يدفع الله ويابى المومنون.
৫৬৬৬. কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছিলেন ’হায় যন্ত্রণায় আমার মাথা গেল’। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি এমনটি হয় আর আমি জীবিত থাকি তাহলে আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, তোমার জন্য দু’আ করব। ’আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ হায় আফসোস, আল্লাহর শপথ। আমার ধারণা আপনি আমার মৃত্যুকে পছন্দ করেন। আর তা হলে আপনি পরের দিনই আপনার অন্যান্য স্ত্রীদের সঙ্গে রাত কাটাতে পারবেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং আমি আমার মাথা গেল বলার অধিক যোগ্য। আমি তো ইচ্ছে করেছিলাম কিংবা বলেছেন, আমি ঠিক করেছিলামঃ আবূ বকর ও তার ছেলের নিকট সংবাদ পাঠাব এবং অসীয়ত করে যাব, যেন লোকদের কিছু বলার অবকাশ না থাকে কিংবা আকাঙ্ক্ষাকারীদের কোন আকাঙ্ক্ষা করার অবকাশ না থাকে। তারপর ভাবলাম। আল্লাহ আবূ বকর ছাড়া অন্যের খলীফা হওয়া) তা অপছন্দ করবেন, মু’মিনগণ তা বর্জন করবেন। কিংবা তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা প্রতিহত করবেন এবং মু’মিনগণ তা অপছন্দ করবেন। [৭২১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫১)
হাদিস নং: ৫৬৬৭ সহিহ (Sahih)
موسى حدثنا عبد العزيز بن مسلم حدثنا سليمان عن ابراهيم التيمي عن الحارث بن سويد عن ابن مسعود قال دخلت على النبي صلى الله عليه وسلم وهو يوعك فمسسته“ بيدي فقلت انك لتوعك وعكا شديدا قال اجل كما يوعك رجلان منكم قال لك اجران قال نعم ما من مسلم يصيبه“ اذى مرض فما سواه“ الا حط الله سيىاته„ كما تحط الشجرة ورقها.
৫৬৬৭. ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁর গায়ে আমার হাত দিলাম এবং বললামঃ আপনি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যেমন তোমাদের দু’জনকে ভুগতে হয়। ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বললেনঃ আপনার জন্য আছে দ্বিগুণ সওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কোন মুসলিম কষ্ট বা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে কিংবা অন্য কোন যন্ত্রণায় পতিত হলে, আল্লাহ তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন, যেমনভাবে বৃক্ষ তার পাতাগুলো ঝরিয়ে দেয়। [৫৬৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫২)
হাদিস নং: ৫৬৬৮ সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا عبد العزيز بن عبد الله بن ابي سلمة اخبرنا الزهري عن عامر بن سعد عن ابيه قال جاءنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يعودني من وجع اشتد بي زمن حجة الوداع فقلت بلغ بي ما تر‘ى وانا ذو مال ولا يرثني الا ابنة لي افاتصدق بثلثي مالي قال لا قلت بالشطر قال لا قلت الثلث قال الثلث كثير ان تدع ورثتك اغنياء خير من ان تذرهم عالة يتكففون الناس ولن تنفق نفقة تبتغي بها وجه الله الا اجرت عليها حتى ما تجعل في في امراتك.
৫৬৬৮. ’আমির ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় আমার রোগ কঠিন আকার ধারণ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। আমি বললামঃ (মৃত্যু) আমার সন্নিকটে এসে গেছে যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন অথচ আমি একজন বিত্তবান ব্যক্তি। একটি মাত্র কন্যা ব্যতীত আমার কোন ওয়ারিশ নেই। এখন আমি আমার সম্পদের দু’তৃতীয়াংশ সদাক্বাহ করতে পারি কি? তিনি উত্তর দিলেনঃ না। আমি বললামঃ তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ এক তৃতীয়াংশ। তিনি বললেনঃ এও অনেক অধিক। নিশ্চয়ই তোমার ওয়ারিশদের স্বাবলম্বী রেখে যাওয়াই শ্রেয় তাদের নিঃস্ব ও মানুষের দ্বারস্থ করে যাবার চেয়ে। আর তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে যে ব্যয়ই কর না কেন, তার বিনিময়ে তোমাকে সাওয়াব দেয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে আহার তুলে দাও, তাতেও। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫৩)
হাদিস নং: ৫৬৬৯ সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن موسى حدثنا هشام عن معمر و حدثني عبد الله بن محمد حدثنا عبد الرزاق اخبرنا معمر عن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس قال لما حضر رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي البيت رجال فيهم عمر بن الخطاب قال النبي صلى الله عليه وسلم هلم اكتب لكم كتابا لا تضلوا بعده“ فقال عمر ان النبي صلى الله عليه وسلم قد غلب عليه الوجع وعندكم القران حسبنا كتاب الله فاختلف اهل البيت فاختصموا منهم من يقول قربوا يكتب لكم النبي صلى الله عليه وسلم كتابا لن تضلوا بعده“ ومنهم من يقول ما قال عمر فلما اكثروا اللغو والاختلاف عند النبيصلى الله عليه وسلم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قوموا
قال عبيد الله فكان ابن عباس يقول ان الرزية كل الرزية ما حال بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين ان يكتب لهم ذ‘لك الكتاب من اختلافهم ولغطهم.
৫৬৬৯. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের সময় আগত হল, তখন ঘরের মধ্যে অনেক মানুষের জমায়েত ছিল। যাঁদের মধ্যে ’উমার ইবনু খত্তাব-ও ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রোগ কাতর অবস্থায়) বললেনঃ লও, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেব, যাতে পরবর্তীতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। তখন ’উমার (রাঃ) বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর রোগ যন্ত্রণা তীব্র হয়ে উঠেছে, আর তোমাদের কাছে কুরআন মাওজুদ। আর আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এ সময়ে আহলে বাইতের মধ্যে মতানৈক্যের সৃষ্টি হল। তাঁরা বাদানুবাদে প্রবৃত্ত হলেন, তন্মধ্যে কেউ কেউ বলতে লাগলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কাগজ পৌঁছে দাও এবং তিনি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেবেন, যাতে পরবর্তীতে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট না হও। আবার তাদের মধ্যে ’উমার (রাঃ) যা বললেন, তা বলে যেতে লাগলেন। এভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তাঁদের বাকবিতন্ডা ও মতভেদ বেড়ে চলল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা উঠে যাও।

’উবাইদুল্লাহ (রহঃ) বলেনঃ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলতেন, বড় মুসীবত হল লোকজনের সেই মতভেদ ও তর্ক-বিতর্ক, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সেই লিখে দেয়ার মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। [১১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫৪)
হাদিস নং: ৫৬৭০ সহিহ (Sahih)
ابراهيم بن حمزة حدثنا حاتم هو ابن اسماعيل عن الجعيد قال سمعت الساىب يقول ذهبت بي خالتي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله ان ابن اختي وجع فمسح راسي ودعا لي بالبركة ثم توضا فشربت من وضوىه„ وقمت خلف ظهره„ فنظرت الى خاتم النبوة بين كتفيه مثل زر الحجلة.
৫৬৭০. সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে গেলেন। এরপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোনের ছেলে পীড়িত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বারাকাতের দু’আ করলেন। এরপর তিনি অযূ করলেন। আমি তাঁর অযূর বেঁচে যাওয়া পানি পান করলাম এবং তাঁর পৃষ্ঠের পশ্চাতে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন আমি মোহরে নবুওয়াতের পানে চেয়ে দেখলাম। সেটি তাঁর দু’স্কন্ধের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং খাটিয়ার গোলাকৃতি ঘুন্টির মত। [১৯০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫৫)
হাদিস নং: ৫৬৭১ সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة حدثنا ثابت البناني عن انس بن مالك قال النبي صلى الله عليه وسلم لا يتمنين احدكم الموت من ضر اصابه“ فان كان لا بد فاعلا فليقل اللهم احيني ما كانت الحياة خيرا لي وتوفني اذا كانت الوفاة خيرا لي.
৫৬৭১. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ দুঃখ কষ্টে পতিত হবার কারণে যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি কিছু করতেই চায়, তা হলে সে যেন বলেঃ হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখ, যতদিন আমার জন্য বেঁচে থাকা কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দাও, যখন আমার জন্য মরে যাওয়া কল্যাণকর হয়। [৬৩৫১, ৭২৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫৬)
হাদিস নং: ৫৬৭২ সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة عن اسماعيل بن ابي خالد عن قيس بن ابي حازم قال دخلنا على خباب نعوده“ وقد اكتو‘ى سبع كيات فقال ان اصحابنا الذين سلفوا مضوا ولم تنقصهم الدنيا وانا اصبنا ما لا نجد له“ موضعا الا التراب ولولا ان النبي صلى الله عليه وسلم نهانا ان ندعو بالموت لدعوت به„ ثم اتيناه“ مرة اخر‘ى وهو يبني حاىطا له“ فقال ان المسلم ليوجر في كل شيء ينفقه“ الا في شيء يجعله“ في هذا التراب.
৫৬৭২. কায়স ইবনু আবূ হাযিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা অসুস্থ খব্বাব (রাঃ)-কে দেখতে গেলাম। এ সময় চিকিৎসার জন্য তাঁকে) সাতবার দাগ লাগানো হয়েছিল। তখন তিনি বললেনঃ আমাদের সাথীরা ইন্তিকাল করেছেন। তাঁরা এমন অবস্থায় চলে গেছেন যে, দুনিয়া তাঁদের ’আমলের সাওয়াবে কোন রকম কমতি করতে পারেনি। আর আমরা এমন জিনিস লাভ করেছি, যা মাটি ভিন্ন অন্য কোথাও রাখার জায়গা পাচ্ছি না। যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মৃত্যুর জন্য দু’আ কামনা করতে নিষেধ না করতেন, তবে আমি মৃত্যুর জন্য দু’আ করতাম। অতঃপর আমরা আরেকবার তাঁর কাছে এসেছিলাম। তখন তিনি তাঁর বাগানের দেয়াল তৈরী করছিলেন। তিনি বললেনঃ মুসলিমকে তাঁর যাবতীয় ব্যয়ের জন্য সাওয়াব দান করা হয়, তবে এ মাটিতে স্থাপিত জিনিসের কথা আলাদা। [৬৩৪৯, ৬৩৫০, ৬৪৩০, ৬৪৩১, ৭২৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫৭)
হাদিস নং: ৫৬৭৩ সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني ابو عبيد مولى عبد الرحمن بن عوف ان ابا هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلميقول لن يدخل احدا عمله الجنة قالوا ولا انت يا رسول الله قال لا ولا انا الا ان يتغمدني الله بفضل ورحمة فسددوا وقاربوا ولا يتمنين احدكم الموت اما محسنا فلعله“ ان يزداد خيرا واما مسيىا فلعله“ ان يستعتب.
৫৬৭৩. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কোন ব্যক্তিকে তার নেক ’আমল জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। লোকজন প্রশ্ন করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকেও নয়? তিনি বললেনঃ আমাকেও নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে তাঁর করুণা ও দয়া দিয়ে আবৃত না করেন। কাজেই মধ্যমপন্থা গ্রহণ কর এবং নৈকট্য লাভের চেষ্টা চালিয়ে যাও। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কেননা, সে ভাল লোক হলে (বয়স দ্বারা) তার নেক ’আমল বৃদ্ধি হতে পারে। আর খারাপ লোক হলে সে তওবা করার সুযোগ পাবে। [৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫৮)
হাদিস নং: ৫৬৭৪ সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن ابي شيبة، حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن عباد بن عبد الله بن الزبير، قال سمعت عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت سمعت النبي صلى الله عليه وسلم وهو مستند الى يقول ‏ "‏ اللهم اغفر لي وارحمني والحقني بالرفيق الاعلى ‏"‏‏.‏
৫৬৭৪. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার পায়ের উপর হেলান দেয়া অবস্থায় বলতে শুনেছিঃ হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আর আমাকে মহান বন্ধুর সঙ্গে মিলিত কর। [৪৪৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫৯)
হাদিস নং: ৫৬৭৫ সহিহ (Sahih)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابو عوانة، عن منصور، عن ابراهيم، عن مسروق، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا اتى مريضا ـ او اتي به ـ قال ‏ "‏ اذهب الباس رب الناس، اشف وانت الشافي لا شفاء الا شفاوك، شفاء لا يغادر سقما ‏"‏‏.‏ قال عمرو بن ابي قيس وابراهيم بن طهمان عن منصور عن ابراهيم وابي الضحى اذا اتي بالمريض، وقال جرير عن منصور عن ابي الضحى وحده، وقال اذا اتى مريضا‏.‏
وَقَالَتْ عَائِشَةُ بِنْتُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلماللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا.

’আয়িশাহ বিনত সা’দ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! সা’দকে আরোগ্য কর।


৫৬৭৫. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিয়ম ছিল, তিনি যখন কোন রোগীর কাছে আসতেন কিংবা তাঁর নিকট যখন কোন রোগীকে আনা হত, তখন তিনি বলতেনঃ কষ্ট দূর করে দাও। হে মানুষের রব, আরোগ্য দান কর, তুমিই একমাত্র আরোগ্যদানকারী। তোমার আরোগ্য ছাড়া অন্য কোন আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দান কর যা সামান্যতম রোগকেও অবশিষ্ট না রাখে। [৫৭৪৩, ৫৭৪৪, ৫৭৫০; মুসলিম ৩৯/১৯, হাঃ ২১৯১, আহমাদ ২৪২৩০]

’আমর ইবনু আবূ কায়স ও ইবরাহীম ইবনু তুহমান হাদীসটি মানসূর, ইবরাহীম ও আবুয্ যুহা থেকে إِذَا أُتِيَ بِالْمَرِيضِ ’’যখন কোন রোগীকে আনা হত’’, এভাবে বর্ণনা করেছেন।

জারীর হাদীসটি মানসূর, আবুয্ যুহা সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি إِذَا أَتٰى مَرِيضًا ’’যখন রোগীর কাছে আসতেন’’ এ শব্দসহ বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৬০)
হাদিস নং: ৫৬৭৬ সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة عن محمد بن المنكدر قال سمعت جابر بن عبد الله قال دخل علي النبي صلى الله عليه وسلم وانا مريض فتوضا فصب علي او قال صبوا عليه فعقلت فقلت لا يرثني الا كلالة فكيف الميراث فنزلت اية الفراىض.
৫৬৭৬. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন আমি পীড়িত ছিলাম। তিনি অযূ করলেন। অতঃপর আমার গায়ের উপর অযূর পানি ছিটিয়ে দিলেন। কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেনঃ এরপর তিনি উপস্থিত লোকদের বলেছেনঃ তার গায়ে পানি ছিটিয়ে দাও। এতে আমি সংজ্ঞা ফিরে পেলাম। আমি বললামঃ কালালাহ্ (পিতাও নেই, সন্তানও নেই) ছাড়া আমার কোন ওয়ারিশ নেই। কাজেই আমার রেখে যাওয়া সম্পদ কীভাবে বণ্টন করা হবে? তখন ফারায়েয সম্বন্ধীয় আয়াত অবতীর্ণ হয়। [১৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৬১)
হাদিস নং: ৫৬৭৭ সহিহ (Sahih)
حدثنا اسماعيل، حدثني مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ انها قالت لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم وعك ابو بكر وبلال قالت فدخلت عليهما فقلت يا ابت كيف تجدك ويا بلال كيف تجدك قالت وكان ابو بكر اذا اخذته الحمى يقول كل امرى مصبح في اهله والموت ادنى من شراك نعله وكان بلال اذا اقلع عنه يرفع عقيرته فيقول الا ليت شعري هل ابيتن ليلة بواد وحولي اذخر وجليل وهل اردن يوما مياه مجنة وهل تبدون لي شامة وطفيل قال قالت عاىشة فجىت رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبرته فقال ‏ "‏ اللهم حبب الينا المدينة كحبنا مكة او اشد وصححها وبارك لنا في صاعها ومدها وانقل حماها فاجعلها بالجحفة ‏"‏‏.‏
৫৬৭৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মদিনা) আসলেন, তখন আবূ বকর (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ) জ্বরে আক্রান্ত হলেন। তিনি বলেনঃ আমি তাঁদের নিকট বললামঃ আব্বাজান, আপনি কেমন অনুভব করছেন? হে বিলাল! আপনি কেমন অনুভব করছেন? তিনি বলেনঃ আবূ বকর (রাঃ) যখন জ্বরে আক্রান্ত হতেন তখন তিনি আবৃত্তি করতেন,

’’সব মানুষ সুপ্রভাত ভোগ করে আপন পরিবার পরিজন নিয়ে,
আর মৃত্যু অপেক্ষা করে তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটে।’’
আর বিলাল -এর নিয়ম ছিল যখন তাঁর জ্বর ছেড়ে যেত, তিনি তখন উচ্চ আওয়াজে বলতেনঃ

হায়! আমি যদি পেতাম একটি রাত অতিবাহিত করার সুযোগ
এমন উপত্যকায় যেখানে আমার পাশে আছে ইয্খির ও জালীল ঘাস।

যদি আমার অবতরণ হত কোন দিন মাযিন্না এলাকার কূপের কাছে,

যদি আমার চোখে ভেসে উঠত শামা ও তাফীল।

’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে সংবাদ দিলাম। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের কাছে মদিনাকে প্রিয় করে দাও, যেভাবে আমাদের কাছে প্রিয় ছিল মক্কা এবং মদিনা্কে স্বাস্থ্যকর বানিয়ে দাও। আর মদিনার মুদ্দ ও সা’তে বরকত দাও এবং মদিনার জ্বরকে স্থানান্তরিত কর ’জুহ্ফা’ এলাকায়। [১৮৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৬২)
অধ্যায় তালিকা