অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৭৭/১. মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘বল, ‘যে সব সৌন্দর্য-শোভামন্ডিত বস্তু ও পবিত্র জীবিকা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন কে তা হারাম করল’?’’সূরাহ আল-আ‘রাফ ৭ঃ ৩২)
মোট ১৮৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫৮৩০
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا يحيى عن التيمي عن ابي عثمان قال كنا مع عتبة فكتب اليه عمر ان النبي صلى الله عليه وسلم قال لا يلبس الحرير في الدنيا الا لم يلبس في الاخرة منه“ الحسن بن عمر حدثنا معتمر حدثنا ابي حدثنا ابو عثمان واشار ابو عثمان باصبعيه المسبحة والوسطى.
৫৮৩০. আবূ ’উসমান (রহ.) হতে বর্ণিত যে, আমরা উকবার সাথে ছিলাম। ’উমার তার কাছে লিখে পাঠান যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকে আখিরাতে রেশম পরানো হবে না, সে ব্যতীত অন্য কেউ দুনিয়ায় রেশম পরবে না।
আবূ ’উসমান (রহ.) তার দু’আঙ্গুল অর্থাৎ শাহাদাত ও মধ্যমা দ্বারা ইশারা করলেন। [৫৮২৮; মুসলিম পর্ব ৩৭/হাঃ ২০৬৯, আহমাদ ৩৬৫]] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০০)
আবূ ’উসমান (রহ.) তার দু’আঙ্গুল অর্থাৎ শাহাদাত ও মধ্যমা দ্বারা ইশারা করলেন। [৫৮২৮; মুসলিম পর্ব ৩৭/হাঃ ২০৬৯, আহমাদ ৩৬৫]] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০০)
হাদিস নং: ৫৮৩১
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا شعبة عن الحكم عن ابن ابي ليلى قال كان حذيفة بالمداين فاستسقى فاتاه“ دهقان بماء في اناء من فضة فرماه“ به„ وقال اني لم ارمه„ الا اني نهيته“ فلم ينته قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الذهب والفضة والحرير والديباج هي لهم في الدنيا ولكم في الاخرة.
৫৮৩১. ইবনু আবূ লাইলা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফাহ মাদাইনে অবস্থান করছিলেন। তিনি পানি পান করতে চাইলেন। এক গ্রাম্য লোক একটি রৌপ্য পাত্রে কিছু পানি নিয়ে আসল। হুযাইফাহ তা ছুঁড়ে ফেললেন এবং বললেনঃ আমি ছুঁড়ে ফেলতাম না; কিন্তু আমি তাকে নিষেধ করেছি, সে নিবৃত হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণ, রৌপ্য, পাতলা ও মোটা রেশম তাদের (অর্থাৎ কাফিরদের জন্য) দুনিয়ায় এবং তোমাদের (মুসলিমদের) জন্য আখিরাতে। [৫৪২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০২ [1])
নোট: [1] ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৫৩০১ ক্রমিক ছুটে গেছে যদিও হাদীসের ধারাবাহিকতা ঠিক আছে সেজন্য একটি নম্বর বাদ পড়েছে।
হাদিস নং: ৫৮৩২
সহিহ (Sahih)
ادم حدثنا شعبة حدثنا عبد العزيز بن صهيب قال سمعت انس بن مالك قال شعبة فقلت اعن النبي صلى الله عليه وسلم فقال شديدا عن النبي صلى الله عليه وسلم فقال من لبس الحرير في الدنيا فلن يلبسه“ في الاخرة.
৫৮৩২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। শু’বাহ (রহ.) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ কথা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত? তিনি জোর দিয়ে বললেনঃ হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, সে আখিরাতে তা কখনও পরতে পারবে না। [মুসলিম পর্ব ৩৭/হাঃ ৬০৭৩, আহমাদ ১১৯৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫০৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৩)
হাদিস নং: ৫৮৩৩
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن ثابت قال سمعت ابن الزبير يخطب يقول قال محمد صلى الله عليه وسلم من لبس الحرير في الدنيا لم يلبسه“ في الاخرة.
৫৮৩৩. খালীফাহ ইবনু কা’ব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইরকে খুতবায় বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, আখিরাতে সে তা পরতে পারবে না। (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- নাই)
হাদিস নং: ৫৮৩৪
সহিহ (Sahih)
علي بن الجعد اخبرنا شعبة عن ابي ذبيان خليفة بن كعب قال سمعت ابن الزبير يقول سمعت عمر يقول قال النبي صلى الله عليه وسلم من لبس الحرير في الدنيا لم يلبسه“ في الاخرة
وقال لنا ابو معمر حدثنا عبد الوارث عن يزيد قالت معاذة اخبرتني ام عمرو بنت عبد الله سمعت عبد الله بن الزبير سمع عمر سمع النبي صلى الله عليه وسلم نحوه.
وقال لنا ابو معمر حدثنا عبد الوارث عن يزيد قالت معاذة اخبرتني ام عمرو بنت عبد الله سمعت عبد الله بن الزبير سمع عمر سمع النبي صلى الله عليه وسلم نحوه.
৫৮৩৪. ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, আখিরাতে সে তা পরতে পারবে না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৪)
আবূ মা’মার আমাদের বলেছেন ...... ’উমার (রাঃ) নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- নাই)
আবূ মা’মার আমাদের বলেছেন ...... ’উমার (রাঃ) নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- নাই)
হাদিস নং: ৫৮৩৫
সহিহ (Sahih)
محمد بن بشار حدثنا عثمان بن عمر حدثنا علي بن المبارك عن يحيى بن ابي كثير عن عمران بن حطان قال سالت عاىشة عن الحرير فقالت اىت ابن عباس فسله“ قال فسالته“ فقال سل ابن عمر قال فسالت ابن عمر فقال اخبرني ابو حفص يعني عمر بن الخطاب ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال انما يلبس الحرير في الدنيا من لا خلاق له“ في الاخرة فقلت صدق وما كذب ابو حفص على رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال عبد الله بن رجاء حدثنا حرب عن يحيى حدثني عمران وقص الحديث.
৫৮৩৫. ’ইমরান ইবনু হিত্তান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আয়িশাহ -এর নিকট রেশম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম; তিনি বললেন, ইবনু ’উমারের নিকট জিজ্ঞেস কর। ইবনু ’উমারকে জিজ্ঞেস করলাম; তিনি বললেন, আবূ হাফস অর্থাৎ ’উমার ইবনু খাত্তাব বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়ায় যে ব্যক্তিই রেশমী কাপড় পরবে, তার আখিরাতে কোন অংশ নেই। আমি বললামঃ তিনি সত্য বলেছেন। আবূ হাফস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর মিথ্যারোপ করেননি।
’ইমরানের সূত্রে ঐ রকমই হাদীস বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৫)
’ইমরানের সূত্রে ঐ রকমই হাদীস বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৫)
হাদিস নং: ৫৮৩৬
সহিহ (Sahih)
عبيد الله بن موسى عن اسراىيل عن ابي اسحاق عن البراء قال اهدي للنبي صلى الله عليه وسلم ثوب حرير فجعلنا نلمسه“ ونتعجب منه“ فقال النبي صلى الله عليه وسلم اتعجبون من هذا قلنا نعم قال مناديل سعد بن معاذ في الجنة خير من هذا.
وَيُرْو’ى فِيهِ عَنْ الزُّبَيْدِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
এ সম্পর্কে যুবাইদীর সূত্রে আনাস (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণিত আছে।
৫৮৩৬. বারাআ’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্যে একখানা রেশমী বস্ত্র উপহার পাঠানো হয়। আমরা তা স্পর্শ করলাম এবং বিস্ময় প্রকাশ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এতে বিস্ময় প্রকাশ করছো? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ জান্নাতে সা’দ ইবনু মু’আযের রুমাল এর চেয়ে উৎকৃষ্ট হবে। [৩২৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৬)
এ সম্পর্কে যুবাইদীর সূত্রে আনাস (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণিত আছে।
৫৮৩৬. বারাআ’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্যে একখানা রেশমী বস্ত্র উপহার পাঠানো হয়। আমরা তা স্পর্শ করলাম এবং বিস্ময় প্রকাশ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এতে বিস্ময় প্রকাশ করছো? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ জান্নাতে সা’দ ইবনু মু’আযের রুমাল এর চেয়ে উৎকৃষ্ট হবে। [৩২৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৬)
হাদিস নং: ৫৮৩৭
সহিহ (Sahih)
علي حدثنا وهب بن جرير حدثنا ابي قال سمعت ابن ابي نجيح عن مجاهد عن ابن ابي ليلى عن حذيفة قال نهانا النبي صلى الله عليه وسلم ان نشرب في انية الذهب والفضة وان ناكل فيها وعن لبس الحرير والديباج وان نجلس عليه.
وَقَالَ عَبِيدَةُ هُوَ كَلُبْسِهِ
’আবীদাহ বলেন, এটা পরিধানের মতই।
৫৮৩৭. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি মোটা ও চিকন রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে ও তাতে উপবেশন করতে নিষেধ করেছেন। [৫৪২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৭)
’আবীদাহ বলেন, এটা পরিধানের মতই।
৫৮৩৭. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি মোটা ও চিকন রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে ও তাতে উপবেশন করতে নিষেধ করেছেন। [৫৪২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৭)
হাদিস নং: ৫৮৩৮
সহিহ (Sahih)
محمد بن مقاتل اخبرنا عبد الله اخبرنا سفيان عن اشعث بن ابي الشعثاء معاوية بن سويد بن مقرن عن البراء بن عازب قال نهانا النبي صلى الله عليه وسلم عن المياثر الحمر والقسي.
وَقَالَ عَاصِمٌ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ قَالَ قُلْتُ لِعَلِيٍّ مَا الْقَسِّيَّةُ قَالَ ثِيَابٌ أَتَتْنَا مِنْ الشَّأْمِ أَوْ مِنْ مِصْرَ مُضَلَّعَةٌ فِيهَا حَرِيرٌ وَفِيهَا أَمْثَالُ الأُتْرُنْجِ وَالْمِيثَرَةُ كَانَتْ النِّسَاءُ تَصْنَعُه“ لِبُعُولَتِهِنَّ مِثْلَ الْقَطَائِفِ يُصَفِّرْنَهَا.
وَقَالَ جَرِيرٌ عَنْ يَزِيدَ فِي حَدِيثِهِ الْقَسِّيَّةُ ثِيَابٌ مُضَلَّعَةٌ يُجَاءُ بِهَا مِنْ مِصْرَ فِيهَا الْحَرِيرُ وَالْمِيثَرَةُ جُلُودُ السِّبَاعِ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ عَاصِمٌ أَكْثَرُ وَأَصَحُّ فِي الْمِيثَرَةِ.
আসিম ... আবূ বুরদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ’কাসসী’ কী? তিনি বললেন, এক প্রকার কাপড়- যা শাম সিরিয়া) অথবা মিসর থেকে আমাদের দেশে আমদানী হয়ে থাকে। চওড়া দিক থেকে নক্শী করা হয়, তাতে রেশম থাকে এবং উৎরুনজের মত তা কারুকার্যখচিত হয়। আর মীসারা এমন বস্ত্র, যা স্ত্রী লোকেরা তাদের স্বামীদের জন্যে প্রস্তুত করে, মখমলের চাদরের মত তা হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। জারীর ইয়াযীদ থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর বর্ণনায় আছে- কাসসী হচ্ছে নক্শী বস্ত্র যা মিসর থেকে আমদানী হয়, তাতে রেশম থাকে। আর মীসারা হলো হিংস্র জন্তুর চামড়া।
৫৮৩৮. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের লাল বর্ণের মীসারা ও কাসসী পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৮)
وَقَالَ جَرِيرٌ عَنْ يَزِيدَ فِي حَدِيثِهِ الْقَسِّيَّةُ ثِيَابٌ مُضَلَّعَةٌ يُجَاءُ بِهَا مِنْ مِصْرَ فِيهَا الْحَرِيرُ وَالْمِيثَرَةُ جُلُودُ السِّبَاعِ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ عَاصِمٌ أَكْثَرُ وَأَصَحُّ فِي الْمِيثَرَةِ.
আসিম ... আবূ বুরদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ’আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ’কাসসী’ কী? তিনি বললেন, এক প্রকার কাপড়- যা শাম সিরিয়া) অথবা মিসর থেকে আমাদের দেশে আমদানী হয়ে থাকে। চওড়া দিক থেকে নক্শী করা হয়, তাতে রেশম থাকে এবং উৎরুনজের মত তা কারুকার্যখচিত হয়। আর মীসারা এমন বস্ত্র, যা স্ত্রী লোকেরা তাদের স্বামীদের জন্যে প্রস্তুত করে, মখমলের চাদরের মত তা হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। জারীর ইয়াযীদ থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর বর্ণনায় আছে- কাসসী হচ্ছে নক্শী বস্ত্র যা মিসর থেকে আমদানী হয়, তাতে রেশম থাকে। আর মীসারা হলো হিংস্র জন্তুর চামড়া।
৫৮৩৮. বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের লাল বর্ণের মীসারা ও কাসসী পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৮)
হাদিস নং: ৫৮৩৯
সহিহ (Sahih)
محمد اخبرنا وكيع اخبرنا شعبة عن قتادة عن انس قال رخص النبي صلى الله عليه وسلم للزبير وعبد الرحمن في لبس الحرير لحكة بهما.
৫৮৩৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়র ও ’আবদুর রহমান (রাঃ)-কে তাদের চর্মরোগের কারণে রেশমী কাপড় পরিধান করার অনুমতি প্রদান করেছিলেন। [২৯১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩০৯)
হাদিস নং: ৫৮৪০
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا شعبة ح و حدثني محمد بن بشار حدثنا غندر شعبة عن عبد الملك بن ميسرة عن زيد بن وهب عن علي بن ابي طالب قال كساني النبي صلى الله عليه وسلم حلة سيراء فخرجت فيها فرايت الغضب في وجهه„ فشققتها بين نساىي
৫৮৪০. ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি রেশমী হুল্লা পরতে দেন। আমি তা পরে বের হই। কিন্তু তাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মুখমণ্ডল
ে গোস্বার ভাব আমি লক্ষ্য করি। কাজেই আমি তা টুকরো করে আমার পরিবারের মহিলাদের মধ্যে বেঁটে দেই।[২৬১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১০)
ে গোস্বার ভাব আমি লক্ষ্য করি। কাজেই আমি তা টুকরো করে আমার পরিবারের মহিলাদের মধ্যে বেঁটে দেই।[২৬১৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১০)
হাদিস নং: ৫৮৪১
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل قال حدثني جويرية عن نافع عن عبد الله ان عمر راى حلة سيراء تباع فقال يا رسول الله لو ابتعتها تلبسها للوفد اذا اتوك والجمعة قال انما يلبس هذه„ من لا خلاق له“ وان النبي صلى الله عليه وسلم بعث بعد ذ‘لك الى عمر حلة سيراء حرير كساها اياه“ فقال عمر كسوتنيها وقد سمعتك تقول فيها ما قلت فقال انما بعثت اليك لتبيعها او تكسوها.
৫৮৪১. ’আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’উমার (রাঃ) একটি রেশমী হুল্লা বিক্রি হতে দেখে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এটি কিনতেন, তাহলে কোন প্রতিনিধি দল আপনার কাছে আসলে এবং জুমু’আর দিনে পরিধান করতে পারতেন। তিনি বললেনঃ এটা সে ব্যক্তিই পরতে পারে যার আখিরাতে কোন হিস্যা নেই। পরবর্তী সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উমার (রাঃ)-এর নিকট ডোরাকাটা রেশমী হুল্লা পাঠান। তিনি কেবল তাঁকেই পরতে দেন। ’উমার (রাঃ) বললেনঃ আপনি আমাকে পরিধান করতে দিয়েছেন, অথচ এ ব্যাপারে যা বলার তা আমি আপনাকে বলতে শুনেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমার কাছে এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি এটি বিক্রি করে দিবে অথবা কাউকে পরতে দিবে। [৮৮৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১১)
হাদিস নং: ৫৮৪২
সহিহ (Sahih)
ابو اليمان اخبرنا شعيب عن الزهري قال اخبرني انس بن مالك انه“ راى على ام كلثوم عليها السلام بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم برد حرير سيراء.
৫৮৪২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যা উম্মে কুলসূমের পরনে হালকা নকশা করা রেশমী চাদর দেখেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১২)
হাদিস নং: ৫৮৪৩
সহিহ (Sahih)
سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن يحيى بن سعيد عن عبيد بن حنين عن ابن عباس قال لبثت سنة وانا اريد ان اسال عمر عن المراتين اللتين تظاهرتا على النبي صلى الله عليه وسلم فجعلت اهابه“ فنزل يوما منزلا فدخل الاراك فلما خرج سالته“ فقال عاىشة وحفصة ثم قال كنا في الجاهلية لا نعد النساء شيىا فلما جاء الاسلام وذكرهن الله راينا لهن بذ‘لك علينا حقا من غير ان ندخلهن في شيء من امورنا وكان بيني وبين امراتي كلام فاغلظت لي فقلت لها وانك لهناك قالت تقول هذا لي وابنتك توذي النبي صلى الله عليه وسلم فاتيت حفصة فقلت لها اني احذرك ان تعصي الله ورسوله“ وتقدمت اليها في اذاه“ فاتيت ام سلمة فقلت لها فقالت اعجب منك يا عمر قد دخلت في امورنا فلم يبق الا ان تدخل بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وازواجه„ فرددت وكان رجل من الانصار اذا غاب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وشهدته“ اتيته“ بما يكون واذا غبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وشهد اتاني بما يكون من رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان من حول رسول الله صلى الله عليه وسلم قد استقام له“ فلم يبق الا ملك غسان بالشام كنا نخاف ان ياتينا فما شعرت الا بالانصاري وهو يقول انه“ قد حدث امر قلت له“ وما هو اجاء الغساني قال اعظم من ذاك طلق رسول الله صلى الله عليه وسلم نساءه“ فجىت فاذا البكاء من حجرهن كلها واذا النبي صلى الله عليه وسلم قد صعد في مشربة له“ وعلى باب المشربة وصيف فاتيته“ فقلت استاذن لي فاذن لي فدخلت فاذا النبي صلى الله عليه وسلم على حصير قد اثر في جنبه„ وتحت راسه„ مرفقة من ادم حشوها ليف واذا اهب معلقة وقرظ فذكرت الذي قلت لحفصة وام سلمة والذي ردت علي ام سلمة فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم فلبث تسعا وعشرين ليلة ثم نزل.
৫৮৪৩. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক বছর যাবৎ অপেক্ষায় ছিলাম যে, ’উমার (রাঃ)-এর কাছে সে দু’টি মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবো যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে জোট বদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু আমি তাঁকে খুব ভয় করে চলতাম। একদিন তিনি কোন এক স্থানে নামলেন এবং (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) আরাক গাছের নিকট গেলেন। যখন তিনি বেরিয়ে এলেন, আমি তাকে (সে সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ (তাঁরা হলেন) ’আয়িশাহ ও হাফসাহ (রাঃ)। এরপর তিনি বললেনঃ জাহিলী যুগে আমরা নারীদের কোন কিছু বলে গণ্যই করতাম না। যখন ইসলাম আবির্ভূত হলো এবং (কুরআনে) আল্লাহ তাদের (মর্যাদার কথা) উল্লেখ করলেন, তাতে আমরা দেখলাম যে, আমাদের উপর তাদের হক আছে এবং এতে আমাদের হস্তক্ষেপ করা চলবে না।
একদা আমার স্ত্রী ও আমার মধ্যে কিছু কথাবার্তা হচ্ছিল। সে আমার উপর শক্ত ভাষা ব্যবহার করলো। আমি তাকে বললামঃ তুমি তো সে স্থানেই। স্ত্রী বললেনঃ তুমি আমাকে এমন বলছ, অথচ তোমার কন্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কষ্ট দিচ্ছে। এরপর আমি হাফসাহর কাছে এলাম এবং বললামঃ আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের নাফরমানী করা থেকে আমি তোমাকে সতর্ক করে দিচ্ছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কষ্ট দেয়ায় আমি হাফসার কাছেই প্রথমে আসি। এরপর আমি উম্মু সালামাহ -এর কাছে এলাম এবং তাঁকেও তেমনি বললাম। তিনি বললেনঃ তোমার প্রতি আমার বিস্ময় হে উমার! তুমি আমার সকল ব্যাপারেই হস্তক্ষেপ করছ, কিছুই বাকী রাখনি, এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রীদের ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করছ। এ কথা বলে তিনি (আমাকে) প্রত্যাখ্যান করলেন।
এক লোক ছিলেন আনসারী। তিনি যখন রসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মজলিস থেকে দূরে থাকতেন এবং আমি উপস্থিত থাকতাম, যা কিছু হতো সে সব আমি তাঁকে গিয়ে জানাতাম। আর আমি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মজলিস থেকে অনুপস্থিত থাকতাম, আর তখন তিনি উপস্থিত থাকতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এখানে যা কিছু ঘটতো তা এসে আমাকে জানাতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চারপাশে যারা (রাজা-সম্রাট) ছিল তাদের উপর রাসূলের কর্তৃত্ব কায়িম হয়েছিল। কেবল বাকী ছিল শামের (সিরিয়ার) গাসসান শাসক। তার আক্রমণের আমরা আশঙ্কা করতাম। হঠাৎ আনসারী যখন বললঃ এক বড় ঘটনা ঘটে গেছে। আমি তাকে বললামঃ কী সে ঘটনা! গাসসানী কি এসে পড়েছে? তিনি বললেনঃ এর চেয়েও ভয়াবহ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সকল স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। আমি সেখানে গেলাম। দেখলাম সকল কক্ষ থেকে কান্নার শব্দ আসছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কক্ষের কুঠুরিতে অবস্থান করছেন। প্রবেশ দ্বারে অল্প বয়স্ক একজন খাদিম বসে আছে। আমি তার কাছে গেলাম এবং বললামঃ আমার জন্যে অনুমতি চাও। অনুমতি পেয়ে আমি ভিতরে ঢুকলাম। দেখলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চাটাইয়ের উপর শুয়ে আছেন, যাতে তাঁর পার্শ্বদেশে দাগ পড়ে গেছে। তাঁর মাথার নীচে চামড়ার একটি বালিশ, তার ভেতরে রয়েছে খেজুর গাছের ছাল। কয়েকটি চামড়া ঝুলানো রয়েছে এবং বিশেষ গাছের পাতা। এরপর হাফসাহ ও উম্মু সালামাকে আমি যা বলেছিলাম এবং উম্মু সালামাহ আমাকে যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, সে সব আমি তাঁর কাছে ব্যক্ত করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন। তিনি ঊনত্রিশ রাত সেখানে থাকার পর নামলেন। [৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১৩)
একদা আমার স্ত্রী ও আমার মধ্যে কিছু কথাবার্তা হচ্ছিল। সে আমার উপর শক্ত ভাষা ব্যবহার করলো। আমি তাকে বললামঃ তুমি তো সে স্থানেই। স্ত্রী বললেনঃ তুমি আমাকে এমন বলছ, অথচ তোমার কন্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কষ্ট দিচ্ছে। এরপর আমি হাফসাহর কাছে এলাম এবং বললামঃ আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের নাফরমানী করা থেকে আমি তোমাকে সতর্ক করে দিচ্ছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কষ্ট দেয়ায় আমি হাফসার কাছেই প্রথমে আসি। এরপর আমি উম্মু সালামাহ -এর কাছে এলাম এবং তাঁকেও তেমনি বললাম। তিনি বললেনঃ তোমার প্রতি আমার বিস্ময় হে উমার! তুমি আমার সকল ব্যাপারেই হস্তক্ষেপ করছ, কিছুই বাকী রাখনি, এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রীদের ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করছ। এ কথা বলে তিনি (আমাকে) প্রত্যাখ্যান করলেন।
এক লোক ছিলেন আনসারী। তিনি যখন রসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মজলিস থেকে দূরে থাকতেন এবং আমি উপস্থিত থাকতাম, যা কিছু হতো সে সব আমি তাঁকে গিয়ে জানাতাম। আর আমি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মজলিস থেকে অনুপস্থিত থাকতাম, আর তখন তিনি উপস্থিত থাকতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এখানে যা কিছু ঘটতো তা এসে আমাকে জানাতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চারপাশে যারা (রাজা-সম্রাট) ছিল তাদের উপর রাসূলের কর্তৃত্ব কায়িম হয়েছিল। কেবল বাকী ছিল শামের (সিরিয়ার) গাসসান শাসক। তার আক্রমণের আমরা আশঙ্কা করতাম। হঠাৎ আনসারী যখন বললঃ এক বড় ঘটনা ঘটে গেছে। আমি তাকে বললামঃ কী সে ঘটনা! গাসসানী কি এসে পড়েছে? তিনি বললেনঃ এর চেয়েও ভয়াবহ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সকল স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। আমি সেখানে গেলাম। দেখলাম সকল কক্ষ থেকে কান্নার শব্দ আসছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কক্ষের কুঠুরিতে অবস্থান করছেন। প্রবেশ দ্বারে অল্প বয়স্ক একজন খাদিম বসে আছে। আমি তার কাছে গেলাম এবং বললামঃ আমার জন্যে অনুমতি চাও। অনুমতি পেয়ে আমি ভিতরে ঢুকলাম। দেখলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চাটাইয়ের উপর শুয়ে আছেন, যাতে তাঁর পার্শ্বদেশে দাগ পড়ে গেছে। তাঁর মাথার নীচে চামড়ার একটি বালিশ, তার ভেতরে রয়েছে খেজুর গাছের ছাল। কয়েকটি চামড়া ঝুলানো রয়েছে এবং বিশেষ গাছের পাতা। এরপর হাফসাহ ও উম্মু সালামাকে আমি যা বলেছিলাম এবং উম্মু সালামাহ আমাকে যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, সে সব আমি তাঁর কাছে ব্যক্ত করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন। তিনি ঊনত্রিশ রাত সেখানে থাকার পর নামলেন। [৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১৩)
হাদিস নং: ৫৮৪৪
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن محمد حدثنا هشام اخبرنا معمر عن الزهري اخبرتني هند بنت الحارث عن ام سلمة قالت استيقظ النبي صلى الله عليه وسلم من الليل وهو يقول لا اله الا الله ماذا انزل الليلة من الفتنة ماذا انزل من الخزاىن من يوقظ صواحب الحجرات كم من كاسية في الدنيا عارية يوم القيامة قال الزهري وكانت هند لها ازرار في كميها بين اصابعها.
৫৮৪৪. উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন। তখন তিনি বলছিলেনঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, কত যে ফিতনা এ রাতে অবতীর্ণ হয়েছে। আরও কত যে ফিতনা অবতীর্ণ হয়েছে, কে আছে এমন যে, এ কক্ষবাসীগণকে ঘুম থেকে জাগ্রত করবে। পৃথিবীতে এমন অনেক পোশাক পরিহিতা মহিলাও আছে যারা কিয়ামতের দিন বিবস্ত্র থাকবে। যুহরী (রহ.) বলেন, হিন্দ বিন্ত হারিস-এর জামার আস্তিনদ্বয়ের বুতাম লাগানো ছিল। [১১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১৪)
হাদিস নং: ৫৮৪৫
সহিহ (Sahih)
ابو الوليد حدثنا اسحاق بن سعيد بن عمرو بن سعيد بن العاص قال حدثني ابي قال حدثتني ام خالد بنت خالد قالت اتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بثياب فيها خميصة سوداء قال من ترون نكسوها هذه الخميصة فاسكت القوم قال اىتوني بام خالد فاتي بي النبي صلى الله عليه وسلم فالبسنيها بيده„ وقال ابلي واخلقي مرتين فجعل ينظر الى علم الخميصة ويشير بيده„ الي ويقول يا ام خالد هذا سنا ويا ام خالد هذا سنا والسنا بلسان الحبشية الحسن قال اسحاق حدثتني امراة من اهلي انها راته“ على ام خالد.
৫৮৪৫. খালিদের কন্যা উম্মু খালিদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু কাপড় আনা হয়। তাতে একটি নকশাওয়ালা কালো চাদর ছিল। তিনি বললেনঃ আমি এ চাদরটি কাকে পরাব এ সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? সবাই চুপ থাকল। তিনি বললেনঃ উম্মু খালিদকে আমার কাছে নিয়ে এসো। সুতরাং তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে আসা হলো। তিনি নিজ হাতে তাঁকে ঐ চাদর পরিয়ে দিয়ে বললেনঃ পুরাতন কর ও দীর্ঘদিন ব্যবহার কর। তারপর তিনি চাদরের নক্শার দিকে তাকাতে লাগলেন এবং হাতের দ্বারা আমাকে ইশারা করে বলতে থাকলেনঃ হে উম্মু খালিদ! এ সানা। হাবশী ভাষায় ’সানা’ অর্থ সুন্দর।
ইসহাক (রহ.) বলেনঃ আমার পরিবারের এক স্ত্রীলোক আমাকে বলেছে, সে ঐ চাদর উম্মু খালিদের পরনে দেখেছে। [৩০৭১] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১৫)
ইসহাক (রহ.) বলেনঃ আমার পরিবারের এক স্ত্রীলোক আমাকে বলেছে, সে ঐ চাদর উম্মু খালিদের পরনে দেখেছে। [৩০৭১] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১৫)
হাদিস নং: ৫৮৪৬
সহিহ (Sahih)
مسدد حدثنا عبد الوارث عن عبد العزيز عن انس قال نهى النبي صلى الله عليه وسلم ان يتزعفر الرجل.
৫৮৪৬. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের জাফরানী রং-এর কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। [মুসলিম ৩৭/২৩, হাঃ ২১০১, আহমাদ ১২৯৪১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১৬)
হাদিস নং: ৫৮৪৭
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر قال نهى النبي صلى الله عليه وسلم ان يلبس المحرم ثوبا مصبوغا بورس او بزعفران.
৫৮৪৭. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, মুহরিম যেন ওয়ারস্ ঘাসের কিংবা জাফরানের রং দ্বারা রঙানো কাপড় না পরে। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১৭)
হাদিস নং: ৫৮৪৮
সহিহ (Sahih)
ابو الوليد حدثنا شعبة عن ابي اسحاق سمع البراء يقول كان النبي صلى الله عليه وسلم مربوعا وقد رايته“ في حلة حمراء ما رايت شيىا احسن منه.
৫৮৪৮. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মাঝারি আকৃতির। আমি তাঁকে লাল হুল্লা পরা অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কিছু আমি দেখিনি। [৩৫৫১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১৮)
হাদিস নং: ৫৮৪৯
সহিহ (Sahih)
قبيصة حدثنا سفيان عن اشعث عن معاوية بن سويد بن مقرن عن البراء قال امرنا النبي صلى الله عليه وسلم بسبع عيادة المريض واتباع الجناىز وتشميت العاطس ونهانا عن سبع عن لبس الحرير والديباج والقسي والاستبرق والمياثر الحمر.
৫৮৪৯. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেনঃ রোগীর শুশ্রুষা, জানাযায় শরীক হওয়া এবং হাঁচিদাতার জবাব দান।[1] আর তিনি আমাদের সাতটি হতে নিষেধ করেছেনঃ রেশমী বস্ত্র, মিহিন রেশমী বস্ত্র, রেশম মিশ্রিত কাতান বস্ত্র, মোটা বস্ত্র এবং লাল ’মীসারা’ বস্ত্র পরিধান করতে। [১২৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩১৯)
নোট: [1] অর্থাৎ হাঁচিদাতা ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বললে জবাবে ‘ইয়ারহামু কাল্লাহ’ বলা। এখানে তিনটির উল্লেখ আছে, অন্য হাদীস থেকে জানা যায় বাকী চারটি হলঃ দা’ওয়াত গ্রহণ করা, সালামের জবাব দেয়া, অত্যাচারিত ব্যক্তিকে সাহায্য করা ও কসমকারীকে মুক্ত করা।