অধ্যায় তালিকায় ফিরে যান
সহীহ বুখারী
৭৭/১. মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘বল, ‘যে সব সৌন্দর্য-শোভামন্ডিত বস্তু ও পবিত্র জীবিকা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন কে তা হারাম করল’?’’সূরাহ আল-আ‘রাফ ৭ঃ ৩২)
মোট ১৮৭ টি হাদিস
হাদিস নং: ৫৭৯০
সহিহ (Sahih)
سعيد بن عفير قال حدثني الليث قال حدثني عبد الرحمن بن خالد عن ابن شهاب عن سالم بن عبد الله ان اباه“ حدثه“ ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينا رجل يجر ازاره“ اذ خسف به„ فهو يتجلل في الارض الى يوم القيامة.
تابعه“ يونس عن الزهري ولم يرفعه“ شعيب عن الزهري.
حدثني عبد الله بن محمد حدثنا وهب بن جرير اخبرنا ابي عن عمه جرير بن زيد قال كنت مع سالم بن عبد الله بن عمر على باب دارهৃ فقال سمعت ابا هريرة سمع النبي صلى الله عليه وسلم نحوه.
تابعه“ يونس عن الزهري ولم يرفعه“ شعيب عن الزهري.
حدثني عبد الله بن محمد حدثنا وهب بن جرير اخبرنا ابي عن عمه جرير بن زيد قال كنت مع سالم بن عبد الله بن عمر على باب دارهৃ فقال سمعت ابا هريرة سمع النبي صلى الله عليه وسلم نحوه.
৫৭৯০. ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক লোক তার লুঙ্গি পায়ের গোড়ালির নীচে ঝুলিয়ে পথ অতিক্রম করছিল। এমন সময় তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেয়া হল। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) অবধি সে মাটির নীচে ধ্বসে যেতে থাকবে। ইউনুস, যুহরী থেকে এ হাদীস এভাবেই বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ’শুআয়ব একে মারফূ’ হিসাবে যুহরী থেকে বর্ণনা করেননি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬১)
জারীর ইবনু যায়দ রাহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালিম ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমারের সঙ্গে তাঁর ঘরের দরজায় ছিলাম, তখন তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ -কে বলতে শুনেছি যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ রকমই বলতে শুনেছেন। [৩৪৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬২)
জারীর ইবনু যায়দ রাহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালিম ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমারের সঙ্গে তাঁর ঘরের দরজায় ছিলাম, তখন তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ -কে বলতে শুনেছি যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ রকমই বলতে শুনেছেন। [৩৪৮৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬২)
হাদিস নং: ৫৭৯১
সহিহ (Sahih)
مطر بن الفضل حدثنا شبابة حدثنا شعبة قال لقيت محارب بن دثار على فرس وهو ياتي مكانه الذي يقضي فيه فسالته“ عن هذا الحديث فحدثني فقال سمعت عبد الله بن عمر يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من جر ثوبه“ مخيلة لم ينظر الله اليه يوم القيامة فقلت لمحارب اذكر ازاره“ قال ما خص ازارا ولا قميصا تابعه“ جبلة بن سحيم وزيد بن اسلم وزيد بن عبد الله عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم.
وقال الليث عن نافع عن ابن عمر مثله“ وتابعه“ موسىبن عقبة وعمر بن محمد وقدامة بن موسى عن سالم عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم من جر ثوبه.
وقال الليث عن نافع عن ابن عمر مثله“ وتابعه“ موسىبن عقبة وعمر بن محمد وقدامة بن موسى عن سالم عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم من جر ثوبه.
৫৭৯১. শু’বাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহারিব ইবনু দিসারের সাথে ঘোড়ার পিঠে থাকা অবস্থায় দেখা করলাম। তখন তিনি বিচারালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন, আমি তাঁকে এ হাদীসটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বললেন, আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশতঃ কাপড় ঝুলিয়ে পরবে, তার দিকে আল্লাহ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে তাকাবেন না। আমি বললামঃ ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) কি ইযারের উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি ইযার বা কামিস কোনটিই নির্দিষ্টভাবে বলেননি।
জাবালাহ ইবনু সুহায়ম, যায়দ ইবনু আসলাম ও যায়দ ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমারের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন।
আর লায়স, মূসা ইবনু ’উকবাহ ও ’উমার ইবনু মুহাম্মাদ, নাফি’ (রহ.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং কুদামাহ ইবনু মূসা সালিম (রহ.)-এর সূত্রে ইবনু ’উমার থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে جَرَّ ثَوْبَه” বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৩)
জাবালাহ ইবনু সুহায়ম, যায়দ ইবনু আসলাম ও যায়দ ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমারের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন।
আর লায়স, মূসা ইবনু ’উকবাহ ও ’উমার ইবনু মুহাম্মাদ, নাফি’ (রহ.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং কুদামাহ ইবনু মূসা সালিম (রহ.)-এর সূত্রে ইবনু ’উমার থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে جَرَّ ثَوْبَه” বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৩)
হাদিস নং: ৫৭৯২
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، اخبرني عروة بن الزبير، ان عاىشة ـ رضى الله عنها ـ زوج النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قالت جاءت امراة رفاعة القرظي رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا جالسة وعنده ابو بكر فقالت يا رسول الله اني كنت تحت رفاعة فطلقني فبت طلاقي، فتزوجت بعده عبد الرحمن بن الزبير، وانه والله ما معه يا رسول الله الا مثل هذه الهدبة. واخذت هدبة من جلبابها، فسمع خالد بن سعيد قولها وهو بالباب لم يوذن له، قالت فقال خالد يا ابا بكر الا تنهى هذه عما تجهر به عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا والله ما يزيد رسول الله صلى الله عليه وسلم على التبسم، فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم " لعلك تريدين ان ترجعي الى رفاعة، لا، حتى يذوق عسيلتك وتذوقي عسيلته ". فصار سنة بعد.
وَيُذْكَرُ عَنْ الزُّهْرِيِّ وَأَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَحَمْزَةَ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ وَمُعَاوِيَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ أَنَّهُمْ لَبِسُوا ثِيَابًا مُهَدَّبَةً.
যুহরী, আবূ বকর ইবনু মুহাম্মাদ, হামযাহ ইবনু আবূ উসায়দ ও মু’আবিয়াহ ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফর হতে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা ঝালরযুক্ত পোশাক পরেছেন।
৫৭৯২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রিফা’আ কুরাযির স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসল। এ সময় আমি উপবিষ্ট ছিলাম এবং আবূ বকর (রাঃ) তাঁর কাছে ছিলেন। স্ত্রীলোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি রিফা’আর অধীনে (বিবাহিতা) ছিলাম। তিনি আমাকে ত্বালাক দেন এবং তালাক চূড়ান্তভাবে দেন, এরপর আমি ’আবদুর রহমান ইবনু যুবায়রকে বিয়ে করি। কিন্তু আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! তার সাথে কাপড়ের ঝালরের মত ব্যতীত কিছুই নেই। এ কথা বলার সময় স্ত্রী লোকটি তার চাদরের আঁচল ধরে দেখায়। খালিদ ইবনু সা’ঈদ যাকে (ভিতরে যেতে) অনুমতি দেয়া হয়নি, দরজার কাছে থেকে স্ত্রী লোকটির কথা শোনেন।
’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন খালিদ বললঃ হে আবূ বকর! এ মহিলাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে জোরে জোরে যে কথা বলছে, তাত্থেকে কেন আপনি তাকে বাধা দিচ্ছেন না? আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল মুচকি হাসলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রী লোকটিকে বললেনঃ মনে হয় তুমি রিফা’আর কাছে ফিরে যেতে চাও। তা হবে না, যতক্ষণ না সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং তুমি তার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর এটাই বিধান হয়ে যায়। [২৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৪)
যুহরী, আবূ বকর ইবনু মুহাম্মাদ, হামযাহ ইবনু আবূ উসায়দ ও মু’আবিয়াহ ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফর হতে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা ঝালরযুক্ত পোশাক পরেছেন।
৫৭৯২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রিফা’আ কুরাযির স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসল। এ সময় আমি উপবিষ্ট ছিলাম এবং আবূ বকর (রাঃ) তাঁর কাছে ছিলেন। স্ত্রীলোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি রিফা’আর অধীনে (বিবাহিতা) ছিলাম। তিনি আমাকে ত্বালাক দেন এবং তালাক চূড়ান্তভাবে দেন, এরপর আমি ’আবদুর রহমান ইবনু যুবায়রকে বিয়ে করি। কিন্তু আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! তার সাথে কাপড়ের ঝালরের মত ব্যতীত কিছুই নেই। এ কথা বলার সময় স্ত্রী লোকটি তার চাদরের আঁচল ধরে দেখায়। খালিদ ইবনু সা’ঈদ যাকে (ভিতরে যেতে) অনুমতি দেয়া হয়নি, দরজার কাছে থেকে স্ত্রী লোকটির কথা শোনেন।
’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন খালিদ বললঃ হে আবূ বকর! এ মহিলাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে জোরে জোরে যে কথা বলছে, তাত্থেকে কেন আপনি তাকে বাধা দিচ্ছেন না? আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল মুচকি হাসলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রী লোকটিকে বললেনঃ মনে হয় তুমি রিফা’আর কাছে ফিরে যেতে চাও। তা হবে না, যতক্ষণ না সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং তুমি তার মধুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর এটাই বিধান হয়ে যায়। [২৬৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৪)
হাদিস নং: ৫৭৯৩
সহিহ (Sahih)
عبدان اخبرنا عبد الله اخبرنا يونس عن الزهري اخبرني علي بن حسين ان حسين بن علي اخبره“ ان عليا قال فدعا النبي صلى الله عليه وسلم برداىه„ ثم انطلق يمشي واتبعته“ انا وزيد بن حارثة حتى جاء البيت الذي فيه حمزة فاستاذن فاذنوا لهم.
وَقَالَ أَنَسٌ جَبَذَ أَعْرَابِيٌّ رِدَاءَ النَّبِيِّصلى الله عليه وسلم.
আনাস (রাঃ) বলেনঃ এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাদর ধরে টেনেছিল।
৫৭৯৩. ’আলী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর আনতে বললেন। তিনি তা পরলেন, অতঃপর হেঁটে চললেন। আমি ও যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ) তাঁর পশ্চাতে চললাম। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি ঘরের কাছে আসেন, যে ঘরে হামযাহ (রাঃ) ছিলেন। তিনি অনুমতি চাইলে তাঁরা তাঁদের অনুমতি প্রদান করলেন। [২০৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৫)
আনাস (রাঃ) বলেনঃ এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাদর ধরে টেনেছিল।
৫৭৯৩. ’আলী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর আনতে বললেন। তিনি তা পরলেন, অতঃপর হেঁটে চললেন। আমি ও যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ) তাঁর পশ্চাতে চললাম। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি ঘরের কাছে আসেন, যে ঘরে হামযাহ (রাঃ) ছিলেন। তিনি অনুমতি চাইলে তাঁরা তাঁদের অনুমতি প্রদান করলেন। [২০৮৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৫)
হাদিস নং: ৫৭৯৪
সহিহ (Sahih)
قتيبة حدثنا حماد عن ايوب عن نافع عن ابن عمر ان رجلا قال يا رسول الله ما يلبس المحرم من الثياب فقال النبي صلى الله عليه وسلم لا يلبس المحرم القميص ولا السراويل ولا البرنس ولا الخفين الا ان لا يجد النعلين فليلبس ما هو اسفل من الكعبين.
وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى حِكَايَةً عَنْ يُوسُفَ: (اذْهَبُوا بِقَمِيصِي هَذَا فَأَلْقُوهُ عَلَى وَجْهِ أَبِي يَأْتِ بَصِيرًا)
মহান আল্লাহর বাণীঃ ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনাঃ ’তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও আর তা আমার পিতার মুখমণ্ডল
ে রাখ, তিনি দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন হয়ে উঠবেন।’ (সূরাহ ইউসুফ ১২:৯৩)
৫৭৯৪. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম কী কাপড় পরবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুহরিম জামা, পায়জামা, টুপি এবং মোজা পরবে না। তবে যদি সে জুতা না পায়, তা হলে পায়ের গোড়ালির নীচে পর্যন্ত মোজা) পরতে পারবে। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৬)
মহান আল্লাহর বাণীঃ ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনাঃ ’তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও আর তা আমার পিতার মুখমণ্ডল
ে রাখ, তিনি দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন হয়ে উঠবেন।’ (সূরাহ ইউসুফ ১২:৯৩)
৫৭৯৪. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম কী কাপড় পরবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুহরিম জামা, পায়জামা, টুপি এবং মোজা পরবে না। তবে যদি সে জুতা না পায়, তা হলে পায়ের গোড়ালির নীচে পর্যন্ত মোজা) পরতে পারবে। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৬)
হাদিস নং: ৫৭৯৫
সহিহ (Sahih)
عبد الله بن عثمان اخبرنا ابن عيينة عن عمرو سمع جابر بن عبد الله قال اتى النبي صلى الله عليه وسلم عبد الله بن ابي بعد ما ادخل قبره“ فامر به„ فاخرج ووضع على ركبتيه ونفث عليه من ريقه„ والبسه“ قميصه“ فالله اعلم.
৫৭৯৫. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে কবরে রাখার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে এলেন। তিনি তার লাশ কবর থেকে উঠানোর নির্দেশ দিলেন। তখন লাশ কবর থেকে উঠান হল এবং তাঁর দু’হাঁটুর উপর রাখা হল। তিনি তার উপর থুথু প্রদান করলেন এবং তাকে নিজের জামা পরিয়ে দিলেন। আল্লাহই বেশি জানেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৭)
হাদিস নং: ৫৭৯৬
সহিহ (Sahih)
حدثنا صدقة، اخبرنا يحيى بن سعيد، عن عبيد الله، قال اخبرني نافع، عن عبد الله، قال لما توفي عبد الله بن ابى جاء ابنه الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله اعطني قميصك اكفنه فيه، وصل عليه، واستغفر له، فاعطاه قميصه، وقال " اذا فرغت فاذنا ". فلما فرغ اذنه، فجاء ليصلي عليه، فجذبه عمر فقال اليس قد نهاك الله ان تصلي على المنافقين فقال (استغفر لهم او لا تستغفر لهم ان تستغفر لهم سبعين مرة فلن يغفر الله لهم). فنزلت (ولا تصل على احد منهم مات ابدا) فترك الصلاة عليهم.
৫৭৯৬. ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসল। সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জামাটি আমাকে দিন। আমি এটা দিয়ে তাকে কাফন দিব। আর তার জানাযাহর সালাত আপনি আদায় করবেন এবং তার জন্য ইস্তিগফার করবেন। তিনি নিজের জামাটি তাকে দিয়ে দেন এবং বলেন যে, তুমি (কাফন পরানো) শেষ করে আমাকে খবর দিবে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযাহর সালাত আদায় করতে এলেন।
’উমার(রাঃ) তাঁকে টেনে ধরে বললেনঃ আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিকদের (জানাযাহর) সালাত আদায় করতে নিষেধ করেননি? তিনি এ আয়াতটি পড়লেনঃ ’তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর (উভয়ই সমান), তুমি তাদের জন্য সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ কক্ষনো তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।’- (সূরাহ আত্-তওবা ৯/৮০)। তখন অবতীর্ণ হয়ঃ ’তাদের কেউ মারা গেলে তুমি কক্ষনো তাদের জন্য (জানাযার) সালাত পড়বে না, আর তাদের কবরের পাশে দন্ডায়মান হবে না।’- (সূরাহ আত্-তওবা ৯/৮৪)। এরপর থেকে তিনি তাদের জানাযার সালাত আদায় করা বর্জন করেন। [১২৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৮)
’উমার(রাঃ) তাঁকে টেনে ধরে বললেনঃ আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিকদের (জানাযাহর) সালাত আদায় করতে নিষেধ করেননি? তিনি এ আয়াতটি পড়লেনঃ ’তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর (উভয়ই সমান), তুমি তাদের জন্য সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ কক্ষনো তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।’- (সূরাহ আত্-তওবা ৯/৮০)। তখন অবতীর্ণ হয়ঃ ’তাদের কেউ মারা গেলে তুমি কক্ষনো তাদের জন্য (জানাযার) সালাত পড়বে না, আর তাদের কবরের পাশে দন্ডায়মান হবে না।’- (সূরাহ আত্-তওবা ৯/৮৪)। এরপর থেকে তিনি তাদের জানাযার সালাত আদায় করা বর্জন করেন। [১২৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৮)
হাদিস নং: ৫৭৯৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا ابو عامر، حدثنا ابراهيم بن نافع، عن الحسن، عن طاوس، عن ابي هريرة، قال ضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل البخيل والمتصدق، كمثل رجلين عليهما جبتان من حديد، قد اضطرت ايديهما الى ثديهما وتراقيهما، فجعل المتصدق كلما تصدق بصدقة انبسطت عنه حتى تغشى انامله وتعفو اثره، وجعل البخيل كلما هم بصدقة قلصت، واخذت كل حلقة بمكانها. قال ابو هريرة فانا رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول باصبعه هكذا في جيبه، فلو رايته يوسعها ولا تتوسع. تابعه ابن طاوس عن ابيه وابو الزناد عن الاعرج في الجبتين. وقال حنظلة سمعت طاوسا سمعت ابا هريرة يقول جبتان. وقال جعفر عن الاعرج جبتان.
৫৭৯৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তিকে এমন দু’ব্যক্তির সাথে তুলনা করেন, যাদের পরনে লোহার দু’টি বর্ম আছে। তাদের দু’ হাতই বুক ও ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছে আছে। দানশীল ব্যক্তি যখন দান করে তখন তার বর্মটি এমনভাবে প্রশস্ত হয় যে, তার পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে এবং (প্রলম্বিত বর্মটি) পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ লোক যখন দান করতে ইচ্ছে করে, তখন তার বর্মটি শক্ত হয়ে যায় ও এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিশে থাকে এবং প্রতিটি অংশ আপন স্থানে থেকে যায়। আবূ হুরাইরাহ বলেনঃ আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কেতাঁর আঙ্গুল এভাবে বুকের দিক দিয়ে খোলা অংশের মধ্যে রেখে বলতে দেখেছি, তুমি যদি তা দেখতে যে, তিনি তা প্রশস্ত করতে চাইলেন কিন্তু প্রশস্ত হল না। [১৪৪৩]
ইবনু তাউস (রহঃ) তার পিতা থেকে এবং আবূ যিনাদ, আ’রাজ থেকে এভাবে جُبَّتَيْنِ বর্ণনা করেন। আর জা’ফর আ’রাজ এর সূত্রে جُبَّتَانِ বর্ণনা করেছেন। হানযালা (রহ.) বলেনঃ আমি তাউসকে আবূ হুরাইরাহ থেকে جُبَّتَانِ বলতে শুনেছি। আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৯)
ইবনু তাউস (রহঃ) তার পিতা থেকে এবং আবূ যিনাদ, আ’রাজ থেকে এভাবে جُبَّتَيْنِ বর্ণনা করেন। আর জা’ফর আ’রাজ এর সূত্রে جُبَّتَانِ বর্ণনা করেছেন। হানযালা (রহ.) বলেনঃ আমি তাউসকে আবূ হুরাইরাহ থেকে جُبَّتَانِ বলতে শুনেছি। আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৬৯)
হাদিস নং: ৫৭৯৮
সহিহ (Sahih)
قيس بن حفص حدثنا عبد الواحد حدثنا الاعمش قال حدثني ابو الضحى قال حدثني مسروق قال حدثني المغيرة بن شعبة قال انطلق النبي صلى الله عليه وسلم لحاجته„ ثم اقبل فتلقيته“ بماء فتوضا وعليه جبة شامية فمضمض واستنشق وغسل وجهه“ فذهب يخرج يديه من كميه فكانا ضيقين فاخرج يديه من تحت الجبة فغسلهما ومسح براسه„ وعلى خفيه.
৫৭৯৮. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে যান এবং তারপর ফিরে আসেন। আমি তাঁর নিকট পানি নিয়ে পৌঁছি। তিনি অযু করেন। তখন তাঁর পরনে শাম দেশীয় জুব্বা ছিল। তিনি কুলি করেন, নাক পরিষ্কার করেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল
ধৌত করেন। এরপর তিনি আস্তিন থেকে দু’হাত বের করতে থাকেন, কিন্তু আস্তিন দু’টি ছিল সরু, তাই তিনি হাত দু’টি জামার নীচ দিয়ে বের করে দু’ হাত ধৌত করেন। এরপর মাথা মাসেহ করেন এবং মোজার উপর মাসেহ করেন। [১৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭০)
ধৌত করেন। এরপর তিনি আস্তিন থেকে দু’হাত বের করতে থাকেন, কিন্তু আস্তিন দু’টি ছিল সরু, তাই তিনি হাত দু’টি জামার নীচ দিয়ে বের করে দু’ হাত ধৌত করেন। এরপর মাথা মাসেহ করেন এবং মোজার উপর মাসেহ করেন। [১৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭০)
হাদিস নং: ৫৭৯৯
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا زكرياء عن عامر عن عروة بن المغيرة عن ابيه قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة في سفر فقال امعك ماء قلت نعم فنزل عن راحلته„ فمشى حتى توار‘ى عني في سواد الليل ثم جاء فافرغت عليه الاداوة فغسل وجهه“ ويديه وعليه جبة من صوف فلم يستطع ان يخرج ذراعيه منها حتى اخرجهما من اسفل الجبة فغسل ذراعيه ثم مسح براسه„ ثم اهويت لانزع خفيه فقال دعهما فاني ادخلتهما طاهرتين فمسح عليهما.
৫৭৯৯. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফরে এক রাত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার সঙ্গে পানি আছে কি? আমি বললামঃ হাঁ। তখন তিনি বাহন থেকে নামলেন এবং হেঁটে যেতে লাগলেন। তিনি এতদূর গেলেন যে, রাতের অন্ধকারে আমার নিকট থেকে অদৃশ্য হয়ে পড়লেন। তারপর তিনি ফিরে এলেন। আমি পাত্র থেকে তাঁর (উযূর) পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি মুখমণ্ডল
ও দু’হাত ধুলেন। তিনি পশমের জামা পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তিনি তাত্থেকে হাত বের করতে পারলেন না, তাই জামার নীচ দিয়ে বের করে দু’হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাস্হ করলেন। তারপর আমি তাঁর মোজা দু’টি খুলতে ইচ্ছে করলাম। তিনি বললেনঃ ছেড়ে দাও। কেননা, আমি পবিত্র অবস্থায় ও দু’টি পরেছি। তারপর ও দু’টির উপর মাস্হ করলেন। [১৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭১)
ও দু’হাত ধুলেন। তিনি পশমের জামা পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তিনি তাত্থেকে হাত বের করতে পারলেন না, তাই জামার নীচ দিয়ে বের করে দু’হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাস্হ করলেন। তারপর আমি তাঁর মোজা দু’টি খুলতে ইচ্ছে করলাম। তিনি বললেনঃ ছেড়ে দাও। কেননা, আমি পবিত্র অবস্থায় ও দু’টি পরেছি। তারপর ও দু’টির উপর মাস্হ করলেন। [১৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭১)
হাদিস নং: ৫৮০০
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا الليث عن ابن ابي مليكة عن المسور بن مخرمة قال قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم اقبية ولم يعط مخرمة شيىا فقال مخرمة يا بني انطلق بنا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فانطلقت معه“ فقال ادخل فادعه“ لي قال فدعوته“ له“ فخرج اليه وعليه قباء منها فقال خبات هذا لك قال فنظر اليه فقال رضي مخرمة.
৫৮০০. মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকটি কাবা বণ্টন করেন, কিন্তু মাখরামাহকে কিছুই দিলেন না। মাখরামাহ বললঃ হে আমার প্রিয় পুত্র! আমার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে চল। আমি তাঁর সঙ্গে গেলাম। তিনি বললেনঃ ভিতরে যাও এবং আমার জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আবেদন জানাও। মিসওয়ার বলেনঃ আমি তাঁর জন্য আবেদন জানালে তিনি মাখরামাহর উদ্দেশে বের হয়ে আসলেন। তখন তাঁর পরনে ছিল রেশমী কাবা। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটি আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম। মিসওয়ার বলেনঃ এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং বললেনঃ মাখরামাহ খুশি হয়ে গেছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭২)
হাদিস নং: ৫৮০১
সহিহ (Sahih)
قتيبة بن سعيد حدثنا الليث عن يزيد بن ابي حبيب عن ابي الخير عن عقبة بن عامر انه“ قال اهدي لرسول الله صلى الله عليه وسلم فروج حرير فلبسه“ ثم صلى فيه ثم انصرف فنزعه“ نزعا شديدا كالكاره„ له“ ثم قال لا ينبغي هذا للمتقين تابعه“ عبد الله بن يوسف عن الليث وقال غيره“ فروج حرير.
৫৮০১. ’উকবাহ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি রেশমী কাবা হাদিয়া দেয়া হল। তিনি তা পরেন এবং তা পরে সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে তিনি তা খুব জোরে খুলে ফেললেন, যেন এটি তিনি অপছন্দ করছেন। এরপর বললেনঃ মুত্তাকীদের জন্য এটা সাজে না।
’আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ, লায়স থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। অন্যেরা বলেছেনঃ ’ফাররূজ হারীর’ হল ’রেশমী কাপড়’। [৩৭৫; মুসলিম ১/৯৪, হাঃ ২১৬, আহমাদ ৮০২২, ৮৬২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭৩)
’আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ, লায়স থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন। অন্যেরা বলেছেনঃ ’ফাররূজ হারীর’ হল ’রেশমী কাপড়’। [৩৭৫; মুসলিম ১/৯৪, হাঃ ২১৬, আহমাদ ৮০২২, ৮৬২২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭৩)
হাদিস নং: ৫৮০২
সহিহ (Sahih)
وقال لي مسدد حدثنا معتمر سمعت ابي قال رايت على انس برنسا اصفر من خز.
৫৮০২. মুসাদ্দাদ (রহ.) আমাকে বলেছেন যে, মু’তামির বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, তিনি আনাস (রাঃ) এর (মাথার) উপর হলুদ রেশমী টুপি দেখেছেন।
হাদিস নং: ৫৮০৩
সহিহ (Sahih)
اسماعيل قال حدثني مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان رجلا قال يا رسول الله ما يلبس المحرم من الثياب قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تلبسوا القمص ولا العماىم ولا السراويلات ولا البرانس ولا الخفاف الا احد لا يجد النعلين فليلبس خفين وليقطعهما اسفل من الكعبين ولا تلبسوا من الثياب شيىا مسه“ زعفران ولا الورس.
৫৮০৩. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! মুহরিম কী কী পোশাক পরবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যার জুতা নেই, সে শুধু মোজা পরতে পারবে, কিন্তু মোজা দু’টি পায়ের গোড়ালির নীচ থেকে কেটে ফেলবে। আর যা’ফরান ও ওয়ার্স রং লেগেছে, এমন কাপড় পরবে না। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭৪)
হাদিস নং: ৫৮০৪
সহিহ (Sahih)
ابو نعيم حدثنا سفيان عن عمرو عن جابر بن زيد عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من لم يجد ازارا فليلبس سراويل ومن لم يجد نعلين فليلبس خفين.
৫৮০৪. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোকের ইযার নেই, সে যেন পায়জামা পরে; আর যার জুতা নেই, সে যেন মোজা পরে। [১৭৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭৫)
হাদিস নং: ৫৮০৫
সহিহ (Sahih)
موسى بن اسماعيل حدثنا جويرية عن نافع عن عبد الله قال قام رجل فقال يا رسول الله ما تامرنا ان نلبس اذا احرمنا قال لا تلبسوا القميص والسراويل والعماىم والبرانس والخفاف الا ان يكون رجل ليس له“ نعلان فليلبس الخفين اسفل من الكعبين ولا تلبسوا شيىا من الثياب مسه“ زعفران ولا ورس.
৫৮০৫. ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যখন ইহরাম বাঁধি, তখন কী পোশাক পরতে আমাদেরকে নির্দেশ দেন? তিনি বললেনঃ তোমরা জামা, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যার জুতা নেই, সে পায়ের গোড়ালির নীচে পর্যন্ত মোজা পরবে। আর তোমরা এমন কোন কাপড়ই পরবে না, যাতে যা’ফরান বা ওয়ার্স রং লেগেছে। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭৬)
হাদিস নং: ৫৮০৬
সহিহ (Sahih)
علي بن عبد الله حدثنا سفيان قال سمعت الزهري قال اخبرني سالم عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا يلبس المحرم القميص ولا العمامة ولا السراويل ولا البرنس ولا ثوبا مسه“ زعفران ولا ورس ولا الخفين الا لمن لم يجد النعلين فان لم يجدهما فليقطعهما اسفل من الكعبين.
৫৮০৬. সালিমের পিতা হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুহরিম জামা, পাগড়ী, পায়জামা ও টুপি পরতে পারবে না। যা’ফরান ও ওয়ার্স রঞ্জিত কাপড়ও নয় এবং মোজাও নয়। তবে সে ব্যক্তি ছাড়া, যার জুতা নেই। যদি সে জুতা না পায় তাহলে দু’ মোজার পায়ের গোড়ালির নীচে থেকে কেটে নিবে। [১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭৭)
হাদিস নং: ৫৮০৭
সহিহ (Sahih)
حدثنا ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام، عن معمر، عن الزهري، عن عروة، عن عاىشة ـ رضى الله عنها ـ قالت هاجر الى الحبشة ناس من المسلمين، وتجهز ابو بكر مهاجرا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " على رسلك، فاني ارجو ان يوذن لي ". فقال ابو بكر او ترجوه بابي انت قال " نعم ". فحبس ابو بكر نفسه على النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لصحبته، وعلف راحلتين كانتا عنده ورق السمر اربعة اشهر. قال عروة قالت عاىشة فبينا نحن يوما جلوس في بيتنا في نحر الظهيرة فقال قاىل لابي بكر هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقبلا متقنعا، في ساعة لم يكن ياتينا فيها. قال ابو بكر فدا له بابي وامي، والله ان جاء به في هذه الساعة الا لامر. فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فاستاذن، فاذن له فدخل، فقال حين دخل لابي بكر " اخرج من عندك ". قال انما هم اهلك بابي انت يا رسول الله. قال " فاني قد اذن لي في الخروج ". قال فالصحبة بابي انت يا رسول الله. قال " نعم ". قال فخذ بابي انت يا رسول الله احدى راحلتى هاتين. قال النبي صلى الله عليه وسلم " بالثمن ". قالت فجهزناهما احث الجهاز، وضعنا لهما سفرة في جراب، فقطعت اسماء بنت ابي بكر قطعة من نطاقها، فاوكت به الجراب، ولذلك كانت تسمى ذات النطاق، ثم لحق النبي صلى الله عليه وسلم وابو بكر بغار في جبل يقال له ثور، فمكث فيه ثلاث ليال يبيت عندهما عبد الله بن ابي بكر، وهو غلام شاب لقن ثقف، فيرحل من عندهما سحرا، فيصبح مع قريش بمكة كباىت، فلا يسمع امرا يكادان به الا وعاه، حتى ياتيهما بخبر ذلك حين يختلط الظلام، ويرعى عليهما عامر بن فهيرة مولى ابي بكر منحة من غنم، فيريحها عليهما حين تذهب ساعة من العشاء، فيبيتان في رسلها حتى ينعق بها عامر بن فهيرة بغلس، يفعل ذلك كل ليلة من تلك الليالي الثلاث.
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ عِصَابَةٌ دَسْمَاءُ وَقَالَ أَنَسٌ عَصَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلٰى رَأْسِه„ حَاشِيَةَ بُرْدٍ.
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বাইরে আসলেন, তখন তাঁর মাথার) উপর কালো রুমাল ছিল। আনাস (রাঃ) বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ মাথা চাদরের এক পার্শ্ব দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন।
৫৮০৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতক মুসলিম হাবশায় হিজরত করেন। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) হিজরত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি একটু অপেক্ষা কর; কেননা মনে হয় আমাকেও (হিজরতের) হুকুম দেয়া হবে। আবূ বকর বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনিও কি এ আশা পোষণ করেন? তিনি বললেনঃ হাঁ। আবূ বকর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গ লাভের আশায় নিজেকে সংবরণ করে রাখেন এবং তাঁর অধীনস্থ দু’টি সাওয়ারীকে চার মাস যাবৎ সামূর গাছের পাতা খাওয়ান।
’উরওয়াহ রাহ.) বর্ণনা করেন, ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন যে, একদিন ঠিক দুপুরের সময় আমরা আমাদের ঘরে বসে আছি। এ সময় এক লোক আবূ বকর (রাঃ)-কে বলল, এই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখমণ্ডল
ঢেকে এগিয়ে আসছেন। এমন সময় তিনি এসেছেন, যে সময় তিনি সাধারণতঃ আমাদের কাছে আসেন না। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আমার মা-বাপ তাঁর উপর কুরবান হোক, আল্লাহর কসম! এমন সময় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই এসে থাকবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। তিনি অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেয়া হল। তিনি প্রবেশ করলেন।
প্রবেশের সময় আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেনঃ তোমার কাছে যারা আছে তাদের হটিয়ে দাও। তিনি বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, হে আল্লাহর রাসূল! এরা তো আপনারই পরিবারস্থ লোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে মক্কা থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আবূ বকর বললেনঃ তাহলে আমি কি আপনার সঙ্গী হব? হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। তিনি বললেনঃ হাঁ। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার এ দু’টি সাওয়ারীর একটি গ্রহণ করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মূল্যের বিনিময়ে (নিব)।
’আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ তাদের উভয়ের জন্যে সফরের জিনিসপত্র প্রস্তুত করলাম এবং সফরকালের নাস্তা তৈরী করে একটি চামড়ার থলের মধ্যে রাখলাম। আবূ বকর -এর কন্যা আসমা তাঁর উড়নার এক অংশ ছিঁড়ে থলের মুখ বেঁধে দিল। এ কারণে তাকে যাতুন্ নিতাক উড়না ওয়ালী) নামে ডাকা হত। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর ’সাওর’ নামক পর্বত গুহায় পৌঁছেন। সেখানে তিন রাত কাটান। আবূ বকর -এর পুত্র ’আবদুল্লাহ তাঁদের সঙ্গে রাত্রি কাটাতেন। তিনি ছিলেন সুচতুর বুদ্ধিসম্পন্ন যুবক। তিনি তাঁদের নিকট হতে রাতের শেষ ভাগে চলে আসতেন এবং ভোর বেলা কুরাইশদের সাথে মিশে যেতেন, যেন তাদের মধ্যেই তিনি রাত কাটিয়েছেন।
তিনি কারও থেকে পার্শ্ববর্তী স্থানে কিছু শুনলে তা মনে রাখতেন এবং রাতের আঁধার ছড়িয়ে পড়লে দিনের সব খবর নিয়ে তিনি তাদের দু’জনের কাছে পৌঁছে দিতেন। আবূ বকর -এর দাস ’আমির ইবনু ফুহাইরা তাঁদের আশে পাশে দুধওয়ালা বকরী চরাতেন, রাতের এক ঘণ্টা পার হলে সে তাঁদের নিকট ছাগল নিয়ে যেত (দুধ পান করাবার জন্যে)। তাঁরা দু’জনে (’আমির ও ’আবদুল্লাহ) গুহাতেই রাত কাটাতেন। ভোরে আঁধার থাকতেই ’আমির ইবনু ফুহাইরা ছাগল নিয়ে চলে আসতেন। ঐ তিন রাতের প্রতি রাতেই তিনি এমন করতেন। [৪৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭৮)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বাইরে আসলেন, তখন তাঁর মাথার) উপর কালো রুমাল ছিল। আনাস (রাঃ) বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ মাথা চাদরের এক পার্শ্ব দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন।
৫৮০৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতক মুসলিম হাবশায় হিজরত করেন। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) হিজরত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি একটু অপেক্ষা কর; কেননা মনে হয় আমাকেও (হিজরতের) হুকুম দেয়া হবে। আবূ বকর বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনিও কি এ আশা পোষণ করেন? তিনি বললেনঃ হাঁ। আবূ বকর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গ লাভের আশায় নিজেকে সংবরণ করে রাখেন এবং তাঁর অধীনস্থ দু’টি সাওয়ারীকে চার মাস যাবৎ সামূর গাছের পাতা খাওয়ান।
’উরওয়াহ রাহ.) বর্ণনা করেন, ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন যে, একদিন ঠিক দুপুরের সময় আমরা আমাদের ঘরে বসে আছি। এ সময় এক লোক আবূ বকর (রাঃ)-কে বলল, এই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখমণ্ডল
ঢেকে এগিয়ে আসছেন। এমন সময় তিনি এসেছেন, যে সময় তিনি সাধারণতঃ আমাদের কাছে আসেন না। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আমার মা-বাপ তাঁর উপর কুরবান হোক, আল্লাহর কসম! এমন সময় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই এসে থাকবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। তিনি অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেয়া হল। তিনি প্রবেশ করলেন।
প্রবেশের সময় আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেনঃ তোমার কাছে যারা আছে তাদের হটিয়ে দাও। তিনি বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, হে আল্লাহর রাসূল! এরা তো আপনারই পরিবারস্থ লোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে মক্কা থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আবূ বকর বললেনঃ তাহলে আমি কি আপনার সঙ্গী হব? হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। তিনি বললেনঃ হাঁ। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার এ দু’টি সাওয়ারীর একটি গ্রহণ করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মূল্যের বিনিময়ে (নিব)।
’আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ তাদের উভয়ের জন্যে সফরের জিনিসপত্র প্রস্তুত করলাম এবং সফরকালের নাস্তা তৈরী করে একটি চামড়ার থলের মধ্যে রাখলাম। আবূ বকর -এর কন্যা আসমা তাঁর উড়নার এক অংশ ছিঁড়ে থলের মুখ বেঁধে দিল। এ কারণে তাকে যাতুন্ নিতাক উড়না ওয়ালী) নামে ডাকা হত। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর ’সাওর’ নামক পর্বত গুহায় পৌঁছেন। সেখানে তিন রাত কাটান। আবূ বকর -এর পুত্র ’আবদুল্লাহ তাঁদের সঙ্গে রাত্রি কাটাতেন। তিনি ছিলেন সুচতুর বুদ্ধিসম্পন্ন যুবক। তিনি তাঁদের নিকট হতে রাতের শেষ ভাগে চলে আসতেন এবং ভোর বেলা কুরাইশদের সাথে মিশে যেতেন, যেন তাদের মধ্যেই তিনি রাত কাটিয়েছেন।
তিনি কারও থেকে পার্শ্ববর্তী স্থানে কিছু শুনলে তা মনে রাখতেন এবং রাতের আঁধার ছড়িয়ে পড়লে দিনের সব খবর নিয়ে তিনি তাদের দু’জনের কাছে পৌঁছে দিতেন। আবূ বকর -এর দাস ’আমির ইবনু ফুহাইরা তাঁদের আশে পাশে দুধওয়ালা বকরী চরাতেন, রাতের এক ঘণ্টা পার হলে সে তাঁদের নিকট ছাগল নিয়ে যেত (দুধ পান করাবার জন্যে)। তাঁরা দু’জনে (’আমির ও ’আবদুল্লাহ) গুহাতেই রাত কাটাতেন। ভোরে আঁধার থাকতেই ’আমির ইবনু ফুহাইরা ছাগল নিয়ে চলে আসতেন। ঐ তিন রাতের প্রতি রাতেই তিনি এমন করতেন। [৪৭৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭৮)
হাদিস নং: ৫৮০৮
সহিহ (Sahih)
ابو الوليد حدثنا مالك عن الزهري عن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم دخل مكة عام الفتح وعلى راسه المغفر.
৫৮০৮. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর মাথার উপর লৌহ শিরস্ত্রাণ ছিল। [১৮৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৭৯)
হাদিস নং: ৫৮০৯
সহিহ (Sahih)
اسماعيل بن عبد الله قال حدثني مالك عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة عن انس بن مالك قال كنت امشي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليه برد نجراني غليظ الحاشية فادركه“ اعرابي فجبذه“ برداىه„ جبذة شديدة حتى نظرت الى صفحة عاتق رسول الله صلى الله عليه وسلم قد اثرت بها حاشية البرد من شدة جبذته„ ثم قال يا محمد مر لي من مال الله الذي عندك فالتفت اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ضحك ثم امر له“ بعطاء.
وَقَالَ خَبَّابٌ شَكَوْنَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ بُرْدَةً لَهُ.
খাববাব বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অভিযোগ করছিলাম, তখন তিনি ডোরাওয়ালা চাদরে হেলান দিয়ে বসেছিলেন।
৫৮০৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে চলছিলাম। এ সময় তাঁর পরনে চওড়া পাড়ওয়ালা একটি নাজরানী ডোরাদার চাদর ছিল। একজন বেদুঈন তাঁর কাছে এলো। সে তাঁর চাদর ধরে খুব জোরে টান দিল। এমন কি আমি দেখতে পেলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ পড়ে গেছে। তারপর সে বললঃ হে মুহাম্মাদ! আপনার নিকট আল্লাহর যে সম্পদ আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দিতে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে তাকিয়ে হাসলেন এবং তাকে কিছু দান করার নির্দেশ দিলেন। [৩১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৮০)
খাববাব বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট অভিযোগ করছিলাম, তখন তিনি ডোরাওয়ালা চাদরে হেলান দিয়ে বসেছিলেন।
৫৮০৯. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে চলছিলাম। এ সময় তাঁর পরনে চওড়া পাড়ওয়ালা একটি নাজরানী ডোরাদার চাদর ছিল। একজন বেদুঈন তাঁর কাছে এলো। সে তাঁর চাদর ধরে খুব জোরে টান দিল। এমন কি আমি দেখতে পেলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ পড়ে গেছে। তারপর সে বললঃ হে মুহাম্মাদ! আপনার নিকট আল্লাহর যে সম্পদ আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দিতে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে তাকিয়ে হাসলেন এবং তাকে কিছু দান করার নির্দেশ দিলেন। [৩১৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২৮০)